সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর লিখন :

Updated: 2 weeks ago
উত্তরঃ

প্রার্থনা হলো ঈশ্বরের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন করা এবং তাঁর পবিত্র উপস্থিতি অনুভব করা। সাধারণ অর্থে প্রার্থনা বলতে ঈশ্বরের কাছে কিছু চাওয়া, মিনতি করা বা আবেদন জানানো বোঝায়। কিন্তু প্রকৃত অর্থে প্রার্থনা শুধু চাওয়া-পাওয়ার বিষয় নয়; বরং এটি ঈশ্বরের সঙ্গে ভালোবাসা, বিশ্বাস ও আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলার একটি মাধ্যম। প্রার্থনার মাধ্যমে মানুষ ঈশ্বরের প্রশংসা করে, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, নিজের প্রয়োজন জানায় এবং ক্ষমা প্রার্থনা করে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

প্রার্থনার প্রকৃত অর্থ হলো ঈশ্বরের উপস্থিতিতে বাস করা এবং তাঁর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক স্থাপন করা। এটি এমন একটি আত্মিক অভিজ্ঞতা, যার মাধ্যমে মানুষ ঈশ্বরের ভালোবাসা, শান্তি ও পবিত্রতা অনুভব করে। প্রার্থনা মানুষকে ঈশ্বরের আরও নিকটবর্তী করে এবং তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী জীবনযাপন করতে উদ্বুদ্ধ করে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

প্রার্থনা যদি শুধু কিছু পাওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়, তবে তা ভিক্ষার মতো হয়ে যায়। কিন্তু আমরা ঈশ্বরের সন্তান, ভিক্ষুক নই। তাই প্রার্থনার উদ্দেশ্য শুধু কিছু চাওয়া নয়; বরং ঈশ্বরের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলা, তাঁর মহিমার প্রশংসা করা, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং তাঁর ইচ্ছা অনুসারে জীবন পরিচালনা করা। এই কারণেই প্রার্থনা চাওয়া-পাওয়ার চেয়ে অনেক মহান।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

প্রার্থনার মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বরের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সম্পর্ক ভালোবাসা, বিশ্বাস ও আনুগত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত। নিয়মিত প্রার্থনার মাধ্যমে মানুষ ঈশ্বরের উপস্থিতি অনুভব করে, তাঁর নির্দেশনা লাভ করে এবং তাঁর প্রতি আরও বিশ্বস্ত হয়ে ওঠে। ফলে মানুষের আত্মিক জীবন সমৃদ্ধ হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

যদি মানুষ প্রার্থনার সময় শুধু নিজের প্রয়োজন পূরণের জন্য ঈশ্বরের কাছে কিছু চাইতে থাকে, তাহলে তার অবস্থা ভিক্ষুকের মতো হয়ে যায়। কারণ ভিক্ষুক সবসময় অন্যের কাছে কিছু পাওয়ার আশায় থাকে। কিন্তু ঈশ্বর চান আমরা তাঁর সঙ্গে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে তুলি। তাই শুধু চাওয়া নয়, বরং কৃতজ্ঞতা, প্রশংসা ও আত্মসমর্পণও প্রার্থনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

প্রার্থনার প্রধান উদ্দেশ্য হলো ঈশ্বরের সঙ্গে সুসম্পর্ক স্থাপন করা এবং তাঁর উপস্থিতি উপলব্ধি করা। প্রার্থনার মাধ্যমে মানুষ ঈশ্বরের প্রেম, শান্তি ও করুণা অনুভব করে। পাশাপাশি নিজের জীবনের ভুল-ত্রুটি সংশোধনের শক্তি লাভ করে এবং ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুযায়ী জীবন পরিচালনার অনুপ্রেরণা পায়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

মানুষ ঈশ্বরের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন, তাঁর আশীর্বাদ লাভ, আত্মিক শান্তি অর্জন এবং জীবনের বিভিন্ন প্রয়োজন তাঁর কাছে তুলে ধরার জন্য প্রার্থনা করে। এছাড়া মানুষ ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ, নিজের পাপের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা এবং সৎ জীবনযাপনের শক্তি লাভের উদ্দেশ্যেও প্রার্থনা করে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

যেমন শরীর সুস্থ রাখার জন্য খাদ্যের প্রয়োজন হয়, তেমনি আত্মাকে জীবিত ও শক্তিশালী রাখার জন্য প্রার্থনার প্রয়োজন হয়। প্রার্থনার মাধ্যমে মানুষ ঈশ্বরের কাছ থেকে আত্মিক শক্তি, শান্তি, আনন্দ ও সাহস লাভ করে। তাই প্রার্থনাকে আত্মার খাদ্য বলা হয়। এটি মানুষের আত্মার ক্ষুধা ও তৃষ্ণা দূর করে এবং তাকে নৈতিক ও আধ্যাত্মিকভাবে সমৃদ্ধ করে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

প্রার্থনা মানুষের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি মানুষকে ঈশ্বরের সঙ্গে যুক্ত করে। প্রার্থনার মাধ্যমে মানুষ আত্মিক শান্তি, আনন্দ ও সাহস লাভ করে। এটি মানুষের মনকে পবিত্র করে, নৈতিক চরিত্র গঠন করে এবং অন্যায় কাজ থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে। নিয়মিত প্রার্থনা মানুষকে সৎ, দয়ালু ও দায়িত্বশীল ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তোলে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

বিশ্বাসপূর্ণ প্রার্থনার মাধ্যমে মানুষ ঈশ্বরের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক স্থাপন করতে পারে। এতে মানুষ আত্মিক শান্তি, আনন্দ, সাহস ও মানসিক শক্তি লাভ করে। প্রার্থনা মানুষের বিশ্বাসকে দৃঢ় করে, নৈতিক জীবন গঠনে সহায়তা করে এবং জীবনের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলা করার শক্তি প্রদান করে। এছাড়া বিশ্বাসপূর্ণ প্রার্থনা মানুষকে ঈশ্বরের প্রেম ও করুণার আরও নিকটবর্তী করে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

যীশুর মতে, মানুষ শুধু দৈহিক খাদ্য বা রুটি খেয়ে বেঁচে থাকতে পারে না; বরং ঈশ্বরের মুখ থেকে বের হওয়া প্রতিটি বাণী গ্রহণ করেই প্রকৃত জীবন লাভ করে। দৈহিক খাদ্য শরীরকে শক্তি জোগায়, কিন্তু ঈশ্বরের বাণী মানুষের আত্মাকে জীবিত রাখে এবং নৈতিক ও আধ্যাত্মিক শক্তি প্রদান করে। তাই মানুষকে দেহের পাশাপাশি আত্মার খাদ্যের প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

মথি ৪:৪ পদে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে যে, মানুষ কেবল রুটি বা দৈহিক খাদ্যের উপর নির্ভর করে বেঁচে থাকতে পারে না। প্রকৃত জীবন লাভের জন্য ঈশ্বরের বাণী অনুসরণ করা এবং তাঁর ওপর বিশ্বাস রাখা প্রয়োজন। এই শিক্ষা আমাদের আত্মিক জীবনকে গুরুত্ব দিতে এবং ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুযায়ী চলতে উদ্বুদ্ধ করে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

ঈশ্বরকে প্রকৃত খাদ্য বলা হয়েছে, কারণ তিনি মানুষের দেহ, মন ও আত্মাকে জীবিত রাখেন। যেমন খাদ্য ছাড়া শরীর বাঁচতে পারে না, তেমনি ঈশ্বর ছাড়া মানুষের আত্মিক জীবনও বেঁচে থাকতে পারে না। প্রার্থনা, ঈশ্বরের বাণী এবং প্রভুর ভোজের মাধ্যমে মানুষ আত্মিক শক্তি লাভ করে এবং ঈশ্বরের সঙ্গে একাত্ম হয়। তাই ঈশ্বরই মানুষের প্রকৃত ও চিরন্তন খাদ্য।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

প্রার্থনা মানুষের মন ও আত্মাকে শান্তি, আনন্দ ও পবিত্রতায় পরিপূর্ণ করে। এটি দুশ্চিন্তা, ভয় ও হতাশা দূর করে এবং ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসকে দৃঢ় করে। নিয়মিত প্রার্থনার মাধ্যমে মানুষ নৈতিক শক্তি অর্জন করে, অন্যায় থেকে দূরে থাকে এবং সৎ ও সুন্দর জীবনযাপনে উৎসাহিত হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

পাঠ্যবইয়ে প্রার্থনাহীন জীবনকে মৃত ও নিষ্প্রাণ বলা হয়েছে। কারণ প্রার্থনা ছাড়া মানুষ ঈশ্বরের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে পারে না। ফলে তার আত্মিক জীবন দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সে সহজেই হতাশা, অশান্তি ও অনৈতিকতার দিকে ঝুঁকে পড়তে পারে। তাই প্রার্থনা মানুষের জীবনের অপরিহার্য চালিকাশক্তি।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

ঈশ্বরে বিশ্বাসহীন জীবন মানুষকে আত্মিকভাবে দুর্বল করে তোলে। এমন মানুষ প্রায়ই হতাশা, নিরাশা ও মানসিক অশান্তিতে ভোগে। অনেক সময় তারা অন্যায় ও অনৈতিক কাজে জড়িয়ে পড়ে। ফলে তাদের জীবনে প্রকৃত সুখ ও শান্তি আসে না। তাই ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস ও প্রার্থনা মানুষের জীবনকে সুন্দর ও অর্থবহ করে তোলে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

প্রার্থনাশীল মানুষের জীবন পবিত্র, শান্তিপূর্ণ ও ঈশ্বরকেন্দ্রিক হয়। তারা ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুসারে চলার চেষ্টা করে এবং অন্যদের প্রতি ভালোবাসা, দয়া ও ক্ষমাশীলতা প্রদর্শন করে। প্রার্থনা তাদের নৈতিক চরিত্র গঠন করে এবং জীবনের বিভিন্ন সমস্যার মধ্যেও ধৈর্য ও সাহসের সঙ্গে এগিয়ে চলার শক্তি দেয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

প্রার্থনার মাধ্যমে মানুষ ঈশ্বরের প্রেমময় উপস্থিতি উপলব্ধি করে। সে অনুভব করে যে ঈশ্বর সবসময় তার সঙ্গে আছেন এবং তাকে রক্ষা করছেন। এই উপলব্ধি মানুষের মনে শান্তি, সাহস ও আনন্দ এনে দেয় এবং ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

ঈশ্বরের উপস্থিতি বলতে বোঝায় যে ঈশ্বর সর্বদা মানুষের সঙ্গে আছেন এবং তাঁর জীবন, প্রেম ও করুণার মাধ্যমে মানুষকে পরিচালিত করছেন। যদিও আমরা সবসময় তা অনুভব করতে পারি না, তবে আন্তরিক প্রার্থনা ও ধ্যানের মাধ্যমে ঈশ্বরের উপস্থিতি স্পষ্টভাবে উপলব্ধি করা যায়। এই উপলব্ধি মানুষকে আত্মিকভাবে শক্তিশালী করে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

মাছ যেমন জল ছাড়া বাঁচতে পারে না, তেমনি মানুষও ঈশ্বর ছাড়া প্রকৃত অর্থে বেঁচে থাকতে পারে না। জল মাছের জীবনের জন্য যেমন অপরিহার্য, ঈশ্বরও মানুষের আত্মিক জীবনের জন্য তেমনি অপরিহার্য। এই উদাহরণের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, প্রার্থনার মাধ্যমে ঈশ্বরের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখাই মানুষের সত্যিকারের জীবন ও শান্তির উৎস।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

অক্সিজেনের উদাহরণের মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, যেমন মানুষ অক্সিজেন ছাড়া বেঁচে থাকতে পারে না, তেমনি ঈশ্বর ছাড়াও মানুষের প্রকৃত জীবন সম্ভব নয়। আমরা প্রতিনিয়ত অক্সিজেন গ্রহণ করলেও সবসময় তার গুরুত্ব অনুভব করি না। একইভাবে ঈশ্বর সবসময় আমাদের সঙ্গে থাকলেও আমরা তা উপলব্ধি করি না। কিন্তু প্রার্থনার মাধ্যমে আমরা তাঁর উপস্থিতি অনুভব করতে পারি এবং বুঝতে পারি যে ঈশ্বরই আমাদের জীবনের প্রকৃত উৎস।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

প্রার্থনার সময় মানুষ নীরবতা, ধ্যান এবং গভীর বিশ্বাসের মাধ্যমে ঈশ্বরের উপস্থিতি অনুভব করে। যখন মনকে পার্থিব চিন্তা থেকে মুক্ত করে ঈশ্বরের দিকে নিবিষ্ট করা হয়, তখন তাঁর প্রেম, শান্তি ও করুণার অনুভূতি হৃদয়ে জাগ্রত হয়। এই অনুভূতি মানুষকে আত্মিক শক্তি ও মানসিক প্রশান্তি প্রদান করে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

ঈশ্বরের উপস্থিতি উপলব্ধি করলে মানুষের জীবনে শান্তি, আনন্দ, সাহস ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়। সে ঈশ্বরের ভালোবাসা অনুভব করে এবং সৎ ও ন্যায়ের পথে চলতে অনুপ্রাণিত হয়। পাশাপাশি তার দুশ্চিন্তা ও ভয় কমে যায় এবং অন্যের প্রতি ভালোবাসা ও সহানুভূতি বৃদ্ধি পায়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

মাদার তেরেজা ১৯৪৮ সালে দার্জিলিংগামী ট্রেনে প্রার্থনা করার সময় ঈশ্বরের আহ্বান শুনেছিলেন। তিনি স্পষ্টভাবে অনুভব করেন যে ঈশ্বর তাঁকে লরেটো ধর্মসংঘ ছেড়ে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছেন। এই আহ্বান তাঁর জীবনের গতিপথ পরিবর্তন করে দেয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

মাদার তেরেজা প্রথম জীবনে লরেটো ধর্মসংঘের একজন সিস্টার ছিলেন। তিনি সেখানে শিক্ষকতা করতেন। পরে ঈশ্বরের বিশেষ আহ্বানে সাড়া দিয়ে ধর্মসংঘ ত্যাগ করেন এবং দরিদ্র, অসুস্থ ও অসহায় মানুষের সেবার জন্য নতুন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

ঈশ্বর মাদার তেরেজাকে সবকিছু ত্যাগ করে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি প্রার্থনার সময় বারবার "সবকিছু ছেড়ে আস" এই আহ্বান অনুভব করেন। ঈশ্বরের এই আহ্বান গ্রহণ করে তিনি মানবসেবাকে নিজের জীবনের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

সাধু পিতর একদিন বাড়ির ছাদে প্রার্থনা করার সময় এক অলৌকিক দর্শন লাভ করেছিলেন। তিনি দেখেন, চার কোণ ধরে একটি বড় চাদর নামানো হচ্ছে, যার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের প্রাণী রয়েছে। এই দর্শনের মাধ্যমে ঈশ্বর তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রদান করেন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

সাধু পিতরের দর্শনের মূল শিক্ষা হলো—যীশু কেবল ইহুদিদের জন্য নয়, বরং পৃথিবীর সকল মানুষের মুক্তিদাতা। ঈশ্বরের কাছে কোনো জাতি বা মানুষ অশুচি নয়। তিনি সব মানুষকে সমানভাবে ভালোবাসেন এবং সবাইকে মুক্তি দিতে চান।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

ঈশ্বর বিভিন্ন উপায়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। যেমন—নীরব প্রার্থনা ও ধ্যানের মাধ্যমে, পবিত্র শাস্ত্র পাঠের মাধ্যমে, সৎ বিবেকের মাধ্যমে, গুরুজন ও সৎ বন্ধুদের উপদেশের মাধ্যমে, জীবনের বিভিন্ন ঘটনার মাধ্যমে এবং মণ্ডলীর নেতৃবৃন্দের শিক্ষা ও পরামর্শের মাধ্যমে। এসবের মাধ্যমে মানুষ ঈশ্বরের ইচ্ছা ও নির্দেশনা জানতে পারে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

নীরব ধ্যান মানুষের মনকে শান্ত করে এবং ঈশ্বরের দিকে মনোনিবেশ করতে সাহায্য করে। ধ্যানের মাধ্যমে মানুষ নিজের অন্তরকে পরিশুদ্ধ করতে পারে এবং ঈশ্বরের উপস্থিতি ও কণ্ঠস্বর অনুভব করতে শেখে। নিয়মিত ধ্যান মানুষের বিশ্বাসকে দৃঢ় করে, মানসিক শান্তি বৃদ্ধি করে এবং আধ্যাত্মিক উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

পবিত্র শাস্ত্র পাঠের মাধ্যমে মানুষ ঈশ্বরের বাণী জানতে ও বুঝতে পারে। শাস্ত্র পাঠ মানুষের বিশ্বাসকে দৃঢ় করে, নৈতিক শিক্ষা প্রদান করে এবং সৎ জীবনযাপন করতে উদ্বুদ্ধ করে। এছাড়া শাস্ত্রের বাণী মানুষের জীবনের নানা সমস্যার সমাধানের পথ দেখায় এবং ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুযায়ী চলতে সাহায্য করে। তাই নিয়মিত পবিত্র শাস্ত্র পাঠ করা প্রত্যেক বিশ্বাসীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

সৎ বিবেককে ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর বলা হয়েছে। মানুষ যখন ভালো-মন্দ বিচার করে এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের চেষ্টা করে, তখন তার সৎ বিবেক তাকে সঠিক পথে পরিচালিত করে। অন্যায় কাজ করলে বিবেক তাকে অনুশোচনা অনুভব করায় এবং সৎ কাজে উৎসাহিত করে। তাই সৎ বিবেক ঈশ্বরের নির্দেশনা লাভের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

গুরুজনদের মাধ্যমে মানুষ মূল্যবান পরামর্শ, নৈতিক শিক্ষা ও জীবনের সঠিক দিকনির্দেশনা লাভ করে। শিক্ষক, অভিভাবক, ধর্মীয় নেতা ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের উপদেশ মানুষের জীবনকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল করে তোলে। পাঠ্যবই অনুযায়ী, গুরুজনদের মাধ্যমে ঈশ্বর মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং সৎ পথে চলার আহ্বান জানান।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

জীবনের বিভিন্ন ঘটনা ও পরিস্থিতির মাধ্যমে ঈশ্বর মানুষকে শিক্ষা দেন। যেমন—কোনো অসহায় মানুষের কষ্ট দেখে তাকে সাহায্য করার ইচ্ছা জাগা, দুর্ঘটনা দেখে সতর্ক হওয়া কিংবা অন্যের দুঃখে সহানুভূতিশীল হওয়া—এসবের মধ্য দিয়ে ঈশ্বর মানুষের অন্তরে কথা বলেন। এভাবে মানুষ অন্যের কল্যাণে কাজ করতে অনুপ্রাণিত হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

মণ্ডলীর নেতৃবৃন্দ যেমন পোপ, বিশপ, পালক, প্রচারক, পুরোহিত, ব্রাদার ও সিস্টারগণ মানুষের কাছে ঈশ্বরের বাণী প্রচার করেন। তারা পবিত্র শাস্ত্রের ব্যাখ্যা দেন, নৈতিক শিক্ষা প্রদান করেন এবং বিশ্বাসীদের সৎ ও ধর্মীয় জীবনযাপনে উৎসাহিত করেন। তাঁদের মাধ্যমে ঈশ্বর মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার আহ্বান জানান।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

এই কথার অর্থ হলো, ঈশ্বর সবসময় মানুষের সঙ্গে কথা বলেন; কিন্তু যারা আন্তরিকভাবে তাঁর কথা শুনতে চায় এবং তাঁর নির্দেশ মানতে আগ্রহী, তারাই সেই বাণী উপলব্ধি করতে পারে। অর্থাৎ, ঈশ্বরের বাণী শোনার জন্য মানুষের বিশ্বাস, মনোযোগ ও আন্তরিকতা থাকা প্রয়োজন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

ঈশ্বরের মহিমা, শক্তি, দয়া ও সৃষ্টির সৌন্দর্যের জন্য তাঁকে প্রশংসা করে যে প্রার্থনা করা হয়, তাকে প্রশংসামূলক প্রার্থনা বলে। এই প্রার্থনায় মানুষ কোনো কিছু চায় না; বরং ঈশ্বরের অসীম গৌরব ও মহত্ত্বের জন্য তাঁকে ধন্য ও মহিমান্বিত করে। সামসংগীতের অনেক প্রার্থনাই প্রশংসামূলক প্রার্থনার উদাহরণ।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

পাঠ্যবই অনুযায়ী সামসংগীত ১০০, ১১১, ১১৩, ১৪৫, ১৪৬, ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯ এবং ১৫০ প্রশংসামূলক প্রার্থনার উৎকৃষ্ট উদাহরণ। এসব সামসংগীতে ঈশ্বরের মহিমা, দয়া, শক্তি ও সৃষ্টিকর্মের জন্য তাঁর প্রশংসা করা হয়েছে এবং সবাইকে ঈশ্বরের গৌরব ঘোষণা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

ঈশ্বরের অসীম ভালোবাসা, করুণা, দয়া ও আশীর্বাদের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে যে প্রার্থনা করা হয়, তাকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদমূলক প্রার্থনা বলে। যেমন—রোগ থেকে সুস্থ হওয়া, পরীক্ষায় ভালো ফল করা, বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া বা জীবনের বিভিন্ন আশীর্বাদের জন্য মানুষ ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানায়। এই প্রার্থনা মানুষের হৃদয়ে বিনয় ও কৃতজ্ঞতার মনোভাব গড়ে তোলে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

সামসংগীত ১৩৮-এর মূল বিষয় হলো ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা, ধন্যবাদ এবং তাঁর বিশ্বস্ততার প্রশংসা। এতে গীতিকার ঈশ্বরের দয়া, করুণা, সাহায্য ও রক্ষার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। পাশাপাশি ঈশ্বরের বিশ্বস্ততা ও ভালোবাসার প্রশংসা করেছেন এবং তাঁর ওপর সম্পূর্ণ আস্থা প্রকাশ করেছেন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

অনুনয়মূলক বা আবেদনমূলক প্রার্থনা হলো এমন প্রার্থনা, যেখানে মানুষ নিজের প্রয়োজন, দুঃখ-কষ্ট, সমস্যা ও ইচ্ছার কথা ঈশ্বরের কাছে বিনয়ের সঙ্গে উপস্থাপন করে। অসুস্থতা থেকে সুস্থ হওয়া, বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া, পরীক্ষায় ভালো ফল করা, ভালো চাকরি পাওয়া কিংবা জীবনের বিভিন্ন প্রয়োজন পূরণের জন্য মানুষ ঈশ্বরের কাছে অনুনয় করে। তবে এই প্রার্থনায় ঈশ্বরের ইচ্ছার প্রতিও সম্পূর্ণ আস্থা ও নির্ভরশীলতা প্রকাশ করা হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

মানুষ ঈশ্বরের কাছে আবেদন করে, কারণ ঈশ্বর সর্বশক্তিমান, দয়ালু ও করুণাময়। তিনি মানুষের সব প্রয়োজন জানেন এবং যথাসময়ে সাহায্য করেন। মানুষ নিজের দুর্বলতা, অভাব, দুঃখ-কষ্ট ও বিভিন্ন প্রয়োজনের কথা ঈশ্বরের কাছে জানিয়ে তাঁর সাহায্য, আশীর্বাদ ও দিকনির্দেশনা প্রার্থনা করে। এতে মানুষের বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয় এবং ঈশ্বরের প্রতি নির্ভরশীলতা বৃদ্ধি পায়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

মথি ৭:৭–৮ পদে যীশু শিক্ষা দিয়েছেন, "চাও, তোমাদের দেওয়া হবে; খোঁজো, তোমরা খুঁজে পাবে; দরজায় কড়া নাড়ো, তোমাদের জন্য দরজা খুলে দেওয়া হবে।" এই শিক্ষার মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, মানুষ যদি বিশ্বাস ও আন্তরিকতার সঙ্গে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে, তবে ঈশ্বর তার প্রার্থনা শোনেন এবং যথাসময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী উত্তর দেন। তাই কখনো হতাশ না হয়ে বিশ্বাসের সঙ্গে প্রার্থনা করা উচিত।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

অনুতাপমূলক প্রার্থনা হলো নিজের পাপ, ভুল ও অপরাধের জন্য আন্তরিকভাবে অনুশোচনা করে ঈশ্বরের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা। মানুষ ইচ্ছায় বা অনিচ্ছায় অনেক ভুল করে থাকে। এসব ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়ে ঈশ্বরের করুণা ও ক্ষমা প্রার্থনা করলে তিনি ক্ষমা করেন এবং নতুনভাবে সৎ জীবনযাপনের শক্তি দান করেন। এই প্রার্থনা মানুষকে বিনয়ী ও পবিত্র হতে সাহায্য করে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

সামসংগীত ৫১ একটি অনুতাপমূলক প্রার্থনা। এতে গীতিকার নিজের পাপ স্বীকার করে ঈশ্বরের কাছে করুণা ও ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তিনি ঈশ্বরের কাছে তাঁর হৃদয়কে শুদ্ধ করার এবং নতুন জীবন দান করার আবেদন করেছেন। তাই এটি অনুতাপ ও ক্ষমা প্রার্থনার একটি আদর্শ প্রার্থনা হিসেবে বিবেচিত হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

মানুষ ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে নানা ভুল ও পাপ করে। এসব ভুলের জন্য ঈশ্বরের কাছে ক্ষমা চাওয়া, নিজের হৃদয়কে শুদ্ধ করা এবং ভবিষ্যতে সৎ জীবনযাপন করার শক্তি লাভের জন্য মানুষ অনুতাপমূলক প্রার্থনা করে। এই প্রার্থনা মানুষকে নিজের ভুল বুঝতে ও সংশোধন করতে সাহায্য করে এবং ঈশ্বরের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

প্রার্থনা মানুষের চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি মানুষকে সত্যবাদী, সৎ, বিনয়ী, দয়ালু, ক্ষমাশীল ও নৈতিক হতে সাহায্য করে। নিয়মিত প্রার্থনার মাধ্যমে মানুষ আত্মসংযম, ধৈর্য ও সহনশীলতা অর্জন করে। ফলে সে অন্যায় ও পাপ থেকে দূরে থেকে আদর্শ জীবনযাপন করতে পারে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

প্রার্থনার মাধ্যমে মানুষ ঈশ্বরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখে এবং তাঁর উপস্থিতি অনুভব করে। প্রার্থনার সময় মানুষ ঈশ্বরের প্রতি ভালোবাসা, কৃতজ্ঞতা, বিশ্বাস ও আনুগত্য প্রকাশ করে। এর ফলে ঈশ্বরের সঙ্গে তার আত্মিক সম্পর্ক গভীর হয় এবং সে তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী জীবনযাপন করতে উৎসাহিত হয়। এভাবেই মানুষ ঈশ্বরের আরও নিকটবর্তী হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

প্রার্থনার মাধ্যমে মানুষ ঈশ্বরের প্রেম, করুণা ও আশীর্বাদ অনুভব করে। এতে তার দুশ্চিন্তা, ভয় ও হতাশা দূর হয় এবং হৃদয়ে শান্তি ও আনন্দের জন্ম হয়। প্রার্থনা মানুষকে মানসিক শক্তি, সাহস ও আত্মবিশ্বাস প্রদান করে। ফলে জীবনের নানা প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সে ধৈর্য ও আশা নিয়ে এগিয়ে যেতে পারে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

নিয়মিত প্রার্থনা মানুষের আত্মিক জীবনের উন্নতি ঘটায় এবং ঈশ্বরের সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করে। এটি মানুষের বিশ্বাসকে শক্তিশালী করে, নৈতিক চরিত্র গঠন করে এবং জীবনে শান্তি, আনন্দ ও সাহস এনে দেয়। নিয়মিত প্রার্থনা মানুষকে পাপ থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করে, সৎ ও ন্যায়ের পথে চলতে উৎসাহিত করে এবং ঈশ্বরের আশীর্বাদ লাভের সুযোগ সৃষ্টি করে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
11

নবম অধ্যায়

পিতার সম্মুখে

 

আজকাল কোনো কোনো যুবক-যুবতী মনে করে: “প্রার্থনা করে কী লাভ?” “প্রার্থনা করা মানে সময় নষ্ট করা” “প্রার্থনা হলো কতগুলো বুলি আওড়ানো ।” তাই কেউ কেউ প্রার্থনা করতে কোনো আগ্রহ বোধ করে না, উপাসনালয়ে যেতে চায় না । কেউ কেউ আবার তাচ্ছিল্যের সাথে এমনটিও বলে: “সত্যিই কি ঈশ্বর আছেন?” “সত্যিই কি স্বর্গ-নরক আছে?” রাশিয়ার নভোচারী গ্যাগারিনও রকেটে আকাশ ঘুরে এসে বলেছিলেন; “কোথাও ঈশ্বর নেই ।” অনেক যুবক-যুবতী গির্জা-প্রার্থনায় না গিয়ে বরং বন্ধুদের সাথে গল্প- গুজব করতে এবং ঘুরে বেড়াতে ভালোবাসে ।

কিন্তু তারা যদি এই নিয়ে একটু গভীরভাবে চিন্তা করত: এই জীবনের উৎস কোথায়, কে আমাদের সৃষ্টি করেছেন, কোথায় আমরা যাব, কীভাবে সৃষ্টিকর্তাকে দেখা যায়, কোথায় তাঁকে পাওয়া যায় ইত্যাদি, তবে তাদের মন আলোকিত হতো । প্রার্থনার মধ্যেই এসব অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া যায়। বিশ্বাসপূর্ণ প্রার্থনা আমাদেরকে সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বরের কাছে নিয়ে যায়, তাঁর সাথে আমাদেরকে এক করে তোলে।

এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-

• প্রার্থনার ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব;

• প্রার্থনার মাধ্যমে ঈশ্বরের উপস্থিতি উপলব্ধি সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারব;

• ঈশ্বরের কথা শুনতে পাওয়ার উপায় বর্ণনা করতে পারব;

• প্রার্থনা করার বিভিন্ন পদ্ধতি বর্ণনা করতে পারব এবং

• নিয়মিত প্রার্থনায় অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ হবো ।

প্ৰাৰ্থনা

সাধারণ অর্থে প্রার্থনা হলো কিছু চাওয়া, যাচনা করা, মিনতি করা, ভিক্ষা করা, কোনো কিছুর জন্যে আবেদন করা বা আকুতি-মিনতি জানানো । আর আমরা প্রার্থনার সময় ঈশ্বরের কাছে অনেক কিছুই চেয়ে থাকি, যাচনা করি, তাঁর কাছে আবেদন জানাই । কিন্তু আমাদের প্রার্থনা শুধু এই 'যাচনা'-র পর্যায়ে সীমিত রাখা মোটেও ঠিক নয় । প্রার্থনার আরেকটি মহৎ দিক রয়েছে যা চাওয়া-পাওয়ার চেয়ে অনেক বড় । প্ৰাৰ্থনা যদি শুধু ঈশ্বরের কাছে চাওয়া এবং পাওয়ার ব্যাপার হয় তখন আমি নিজেকে ভিক্ষুকের সম-পর্যায়ে নিয়ে আসি, ভিক্ষুক ও আমার মধ্যে কোন পার্থক্য থাকে না । কেননা একজন ভিক্ষুক বেঁচে থাকার তাগিদে বিভিন্ন মানুষের কাছে শুধু ভিক্ষা চাইতে থাকে । ভিক্ষা পেলে সে খুশি হয়, কিন্তু যখন ভিক্ষা চেয়ে পায় না, তখন সে অসুখী হয় । ঈশ্বরের কাছে আমাদের প্রার্থনা এরূপ চাওয়া-পাওয়ার ব্যাপার হলে আমাদের আচরণও ভিক্ষুকের মতো হতে পারে । অর্থাৎ আমরা তুচ্ছ ভিক্ষুক হয়ে যেতে পারি ।

প্রার্থনা হলো ঈশ্বরের সাথে সু-সম্পর্ক স্থাপন, তাঁর পুণ্য উপস্থিতি অন্তরে অনুভব করা এবং বাস্তব জীবনে তাঁর প্রকাশ তুলে ধরা। অন্য কথায় বলা যেতে পারে, প্রার্থনা হলো ঈশ্বরের উপস্থিতিতে বাস করা বা

 

 

তাঁর উপস্থিতি জীবনে উপলব্ধি করা । তাই প্রার্থনা হলো ঈশ্বরের এক প্রেমময় সম্পর্কের ব্যাপার, যা চাওয়া-পাওয়ার চেয়ে অনেক ঊর্ধ্বে । আমরা ঈশ্বরের প্রিয় সন্তান, ভিক্ষুক নই । প্রার্থনার মাধ্যমে আমরা প্রেমময় ঈশ্বরের সাথে আমাদের প্রেমের সম্পর্ক গভীর করি । আর তাঁর সাথে আমাদের মধুর সম্পর্ক স্থাপনের মধ্য দিয়ে প্রার্থনায় আমরা তাঁর প্রতি প্রশংসা, ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি এবং আমাদের প্রয়োজনের কথা জ্ঞাপন করি ।

প্রার্থনার গুরুত্ব

“প্রার্থনা করে কী লাভ হয়?” এই প্রশ্নের সহজ উত্তর বোধ হয় আরও দুইটি প্রশ্নের মাধ্যমে এভাবে দেওয়া যেতে পারে: “খাবার খেলে কী লাভ হয়?” বা, “মানুষ খায় কেন?” এই দুইটি প্রশ্নের উত্তরে আমরা অবশ্যই বলব, মানুষকে বেঁচে থাকার তাগিদেই খাবার খেতে হয় । এর উত্তরে বলব, খাবার ছাড়া মানুষ বেঁচে থাকতে পারে না, তাই তাকে খেতে হয় ।

খাবার বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে । শরীরের বিভিন্ন রকম প্রয়োজনের জন্যে মানুষকে বিভিন্ন ধরনের খাবার খেতে হয় । কিন্তু মানুষের জীবনটা শুধু দেহ বা শরীর নিয়ে গঠিত নয়, দেহ ছাড়াও রয়েছে মন ও আত্মা বা হৃদয় । কাজেই দেহকে বাঁচিয়ে রাখার জন্যে খাবারের প্রয়োজন । কেননা শুধু দৈহিক খাবার খেয়ে হৃদয়- মনকে বাঁচিয়ে রাখা যায় না । অনেক মানুষ রয়েছে যারা পেট ভরে খাওয়া সত্ত্বেও অসুখী, মুখে হাসি নেই, মনোকষ্টে ভুগছে, দুশ্চিন্তা-হতাশায় ভুগছে । তাদেরই কেউ কেউ আবার চুরি-ডাকাতি করছে, ঘুষ খাচ্ছে, নানান অন্যায় কাজ করছে । কাজেই শুধু দৈহিক খাবার মানুষকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে না, তাকে প্রকৃত অর্থে সুখী করতে পারে না ।

ঈশ্বরই আমাদের প্রকৃত খাদ্য যিনি আমাদের দেহ, মন ও আত্মাকে বাঁচিয়ে রাখেন । তাঁকে ছাড়া আমরা বেঁচে থাকতে পারি না । তাই যীশু বলেন, “মানুষ কেবল রুটি (দৈহিক খাদ্য) খেয়েই বেঁচে থাকতে পারে না, বরং ঈশ্বরের বাণীকে খাদ্যরূপে গ্রহণ করেই সে বেঁচে থাকতে পারে” (মথি ৪:৮)। প্রার্থনা ও প্রভুর ভোজ গ্রহণ করার মধ্য দিয়ে আমাদের আত্মাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য ঈশ্বরকে সুস্বাদু খাদ্যরূপে গ্রহণ করি, তাঁর সাথে এক হই এবং তাঁর জীবনকে উপলব্ধি করি । প্রার্থনার মধ্য দিয়ে আমরা ঈশ্বরের মধ্যে প্রবেশ করি এবং তাঁকে আমাদের অন্তরে প্রবেশ করতে দেই ।

প্রার্থনার জীবন ছাড়া কোন মানুষ সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারে না । প্রার্থনা হলো জীবনের চালিকাশক্তি । বিশ্বাসপূর্ণ প্রার্থনা আমাদের ঈশ্বরের সাথে যুক্ত করে । কাজেই, প্রার্থনাবিহীন জীবন বা ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসহীন জীবন মৃত, নিষ্প্রাণ । যে সব মানুষ ঈশ্বরে বিশ্বাস করে না, তাঁকে ডাকে না, তাঁর কাছে প্রার্থনা করে না, তারা অনেক সময় অসুখী, তারা হতাশা-নিরাশায় ভোগে । অনেক সময় তারা অনৈতিক ও অসুন্দর জীবনযাপন করে নিজেকে কলুষিত করে । অন্য দিকে, প্রার্থনা মানুষের জীবনকে সুন্দর করে, জীবনকে পবিত্র করে । প্রার্থনাশীল জীবন মানুষকে ঈশ্বরের কাছে নিয়ে যায়, একেক জনকে সাধু-সাধ্বীর ন্যায় হতে সাহায্য করে ।

 

 

ঈশ্বরের উপস্থিতি

প্রার্থনার মধ্য দিয়ে আমরা ঈশ্বরের উপস্থিতি সম্বন্ধে সচেতন হই ও তাঁর সাক্ষাতে উপস্থিত হই । ঈশ্বর যদিও সবসময় আমাদের সঙ্গে সঙ্গে আছেন, আমরা কিন্তু তা সবসময় উপলব্ধি করি না। এটি যেন আমদের শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো । আমরা অক্সিজেন ছাড়া বাঁচতে পারি না, তাই প্রতিনিয়ত আমরা বাতাসের সাথে অক্সিজেন গ্রহণ করে চলছি । আমরা সব সময় এই বিষয়ে সচেতন থাকি না । বরং আমরা অবচেতন মনেই এই অক্সিজেন বা প্রাণবায়ু গ্রহণ করে চলছি ।

যখন একটু সচেতন হই, মাত্র তখনই আমরা উপলব্ধি করতে পারি যে, এই অক্সিজেন শ্বাসের সাথে গ্রহণ না করলে আমরা কিছুক্ষণের মধ্যে নির্ঘাত মারা যাবো । জলে বিচরণকারী মাছের দিকে তাকালে লক্ষ করা যায় যে, যখন মাছ ডাঙ্গায় তোলা হয় তখন সেগুলো বাঁচার তাগিদে জলে ঝাপিয়ে পড়ার জন্যে কী লাফালাফিই না করে । অথচ যখন জলের ভিতর ছিল, তখন এই জীবনদায়ী জলের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা হয়তোবা ততখানি উপলব্ধি করেনি ।

ঠিক তেমনিভাবে আমরাও ঐশ-জীবনের মধ্যে ডুবে আছি, তাঁর জীবন-জল পান করে বেঁচে আছি। কিন্তু আমরা তা সব সময় উপলব্ধি করি না । যখন আমরা শান্ত মন নিয়ে নিরবে বসি এবং প্রার্থনায় প্রবেশ করি, তখন আমরা গভীরভাবে উপলব্ধি করি যে, আমরা তাঁর প্রেমময় উপস্থিতির মধ্যে রয়েছি । ঈশ্বর যেন অসীম এক জীবন-সমুদ্র, আর আমরা সবাই, ধনী-গরিব, পাপী-ধার্মিক সবাই তাঁর জীবন-জল পান করে চলেছি আর বেঁচে রয়েছি। এই জীবন-সমুদ্রেই আমাদের জীবন, অর্থাৎ ঈশ্বরের মধ্যেই আমাদের জীবন । জলের বাইরে যেমন মাছ বাঁচতে পারে না, ঠিক তেমনিভাবে ঈশ্বরকে ছাড়া আমরা বাঁচতে পারি না । প্রার্থনার মধ্য দিয়েই আমরা ঈশ্বরের উপস্থিতি উপলব্ধি করি, তাঁর সাক্ষাতে উপস্থিত হই, তাঁর প্রেম, শান্তি ও পবিত্রতা উপলদ্ধি করি, যে ব্যক্তি প্রার্থনায় ও ধ্যানে যত বেশি তাঁর উপস্থিতি উপলব্ধি করে, সে তত বেশি তাঁর পবিত্রতা, প্রেম, শান্তি ও আনন্দ উপলব্ধি করে ।

ঈশ্বরের কথা শোনা

১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে মাদার তেরেজা (মাদার হওয়ার পূর্বে) যখন ট্রেনে চড়ে প্রার্থনা করতে করতে দার্জিলিং যাচ্ছিলেন, তখন তিনি স্পষ্ট শুনতে পেলেন একটি কন্ঠস্বর: “সব কিছু ছেড়ে আস।” কয়েকবার স্পষ্ট তা শুনতে পেলেন এই কন্ঠস্বর । হ্যাঁ, এ তো ঈশ্বরেরই কন্ঠস্বর । ঈশ্বর তাঁকে বলছেন তাঁর লরেটো ধর্ম-সংঘ ছেড়ে নতুন এক অজানা জীবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে । এ যেন আব্রাহামের মতো ঈশ্বরের আদেশে ঊর দেশ ছেড়ে এক অজানা নতুন এক দেশের দিকে যাত্রা । শুধু আব্রাহাম ও মাদার তেরেজা নন, ইতিহাসে আরো অনেক মানুষ খুঁজে পাব যারা নানাভাবে ঈশ্বরের কন্ঠস্বর শুনেছেন এবং সেই মতো সাড়াও দিয়েছেন। সাধু পিতর এক দিন ছাদে প্রার্থনা করার সময় এমনি এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখেছিলেন যে, একটা বড় চাদরের চার কোণ ধরে কারা যেন যত রকমের প্রাণী, যা ছিল ইহুদিদের কাছে ‘অশুচি,’ তা-ই তাঁর সামনে নামিয়ে দিচ্ছে আর বলছে, “পিতর, ওঠ, ওদের মেরে ফেল, আর খাও” (প্রেরিত ১০:১০-১৬)। এই অদ্ভুত দর্শনের মধ্য দিয়ে পিতরের কাছে প্রকাশ করা হয়েছিল যে, যীশু শুধু ইহুদি জাতির জন্যে নয়, বরং ইহুদিরা যাদেরকে

 

 

 

‘অশুচি’ মনে করে, সেই বিজাতি ও পৌত্তলিকদের জন্যেও যীশু এসেছেন । কেননা তিনি সকল জাতির

এবং সকল মানুষের মুক্তিদাতা; শুধু মাত্র ইহুদিদের জন্যে নন । কীভাবে ঈশ্বর আমাদের সঙ্গে কথা বলেন

আমরা বিভিন্নভাবে ঈশ্বরের কথা শুনতে পারি :

১. নীরবে প্রার্থনা ও ধ্যানে বসে আমরা তাঁর কথা শুনতে পাই । ২. পবিত্র শাস্ত্রের বাণী পাঠ ও ধ্যান করে তাঁর কথা শুনতে পাই ৷

৩. সৎ বিবেক হলো ঈশ্বরের কন্ঠস্বর । তাই আমাদের সুন্দর বিবেকের মধ্য দিয়ে আমরা তাঁর কথা

শুনতে পাই ।

৪. গুরুজন ও সৎ বন্ধুদের মধ্য দিয়ে ঈশ্বর আমাদের কাছে কথা বলেন । যখন আমি গুরুজনদের

সু-পরামর্শ শুনি, তখন আমি ঈশ্বরের কন্ঠ শুনতে পাই ।

৫. বিভিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়েও ঈশ্বর আমাদের কাছে কথা বলেন । ধরি, প্রতিবেশীর কোন ঘরে আগুন লাগল, বা কেউ গাড়ি চাপা পড়ে দুর্ঘটনায় পড়ল । তাদের জন্য কিছু একটা করার জন্যে আমি অন্তরে তাড়না অনুভব করি এবং সাহায্য করতে এগিয়ে যাই। এ তো ঈশ্বরেরই কন্ঠস্বর, যা আমাকে অন্যের বিপদে সাহায্য করতে তাড়না দিচ্ছে ।

৬. মণ্ডলীর নেতৃবর্গ যেমন পোপ, বিশপ, পালক, প্রচারক, পুরোহিত, ব্রাদার, সিস্টার, প্রমুখ ব্যক্তিবর্গের মধ্য দিয়েও ঈশ্বর আমাদের কাছে কথা বলেন, বিশেষভাবে তাঁরা যখন শাস্ত্র-বাণীর অর্থ আমাদের কাছে তুলে ধরেন এবং সুন্দর পরামর্শ দান করেন ।

যীশু বলেন, যার কান আছে সে শুনুক । এর অর্থ হচ্ছে, ঈশ্বর অবিরত আমাদের জন্য কথা বলছেন । যদি তাঁর কথা শোনার মতো আমাদের ইচ্ছা বা আগ্রহ থাকে তবেই আমরা তা শুনতে পাব ।

প্রার্থনার বিভিন্ন পদ্ধতি

আমরা যে-সব প্রার্থনা করি তা বিভিন্ন ধরনের হতে পারে । একই ব্যক্তি স্থান-কাল-অবস্থা ভেদে বিভিন্ন রকমের প্রার্থনা করতে পারে । নিম্নে বিভিন্ন ধরনের প্রার্থনা তুলে ধরা হলো ।

১. প্রশংসামূলক প্রার্থনা

সৃষ্টিকর্তা ঈশ্বরের অপূর্ব সৃষ্টি ধ্যান করে, তাঁর মহত্ত্ব ধ্যান করে আমরা এরূপ প্রার্থনা করতে পারি। ‘প্রভুর প্রার্থনা'-র প্রথম অংশে যীশু নিজে পিতা ঈশ্বরের প্রশংসা করেছেন, পিতার অপূর্ব প্রেমের জন্যে তাঁর মাহাত্ম ঘোষণা করেছেন । পবিত্র বাইবেলের সামসংগীতের অনেকগুলো প্রার্থনাই ঈশ্বরের প্রশংসামূলক কথা দ্বারা রচিত । সামসংগীত ১০০, ১১১, ১১৩, ১৪৫, ১৪৬, ১৪৭, ১৪৮, ১৪৯ ও ১৫০ আমরা পাঠ করতে পারি।

ঈশ্বরের প্রশংসা করে আমরা কখনো বা গান করি :

“জয় প্রভু তোমারি জয়

তুমি আমাদের ভালোবাস...... ॥”

 

 

২. কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদমূলক প্রার্থনা

আমরা ঈশ্বরের অসীম ভালোবাসা, দয়া ও নানা আশীর্বাদ পেয়ে তাঁকে আমাদের হৃদয়ের কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে প্রার্থনা করে থাকি । যেমন, রোগ থেকে সুস্থ হয়ে, বিপদ থেকে রক্ষা পেয়ে, পরীক্ষায় ভালো পাশ করে, ভালো চাকরি পেয়ে ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে থাকি এবং আনন্দে গান করি :

“সকল ধন্যবাদ, মহিমা, গৌরব তোমার, জয় হোক, জয় হোক যীশু, জয় হোক তোমার..... | দয়ার উপর দয়া কত পেয়েছি তোমার, জয় হোক, জয় হোক যীশু, জয় হোক তোমার..... । ।”

ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে পবিত্র বাইবেলের সামসঙ্গীতে এ ধরনের অনেক প্রার্থনা রয়েছে । আমরা সামসঙ্গীত ১৩৮ এক সঙ্গে পাঠ করতে পারি ।

ওগো ঈশ্বর, মনপ্রাণ দিয়ে গাইব তোমার স্তুতি : আমার মিনতি ফিরিয়ে দাওনি তুমি! সকল স্বর্গদূতের সামনে এই সামগান তোমায় শোনাব আমি । তোমার পুণ্য মন্দির পানে মাথা নিচু করে প্রণাম জানাব আমি, এবং তোমার বিশ্বস্ততা, তোমার দয়ার জন্যে গাইব তোমার নামেরই স্তুতিগান । তোমার নামটি, তোমার অঙ্গীকার করেছ মহান সব-কিছুর চেয়ে । যখনই ডেকেছি, তুমি তো দিয়েছ সাড়া; নতুন শক্তি দিয়েছ আমার প্রাণে ওগো ঈশ্বর, তোমার প্রতিটি অঙ্গীকারের জন্যে এই পৃথিবীর সমস্ত রাজা গাইবে তোমার স্তুতি । তারা তো তোমার কর্মনীতির গাইবেই গুণগান তারা তো বলবে: “আহা, ঈশ্বর কত না মহিমময় ঊর্ধ্বলোকেই যদিও তাঁর আসন বিনম্র দীন যত মানুষকে দেখেই থাকেন তিনি; অত দূর থেকে গর্বিতদের চিনেও ফেলেন তিনি । যখন আমায় পড়তেই হয় বাধাবিপদের মুখে, তুমিই তখন বাঁচাও আমার প্রাণ; আমার ক্রুদ্ধ শত্রুর গতি রুদ্ধ করতে তুমি তো বাড়াও হাত; নিজ বাহুবলে তুমিই তখন আমায় রক্ষা কর! জানি, ঈশ্বর আমার জন্যে যা-কিছু করতে চান, সবই তো তিনি করবেন সমাপন;

 

 

ওগো ঈশ্বর, তোমার করুণা চিরকালেরই করুণা । নিজের হাতেই সৃষ্টি করেছ যাকে, তাকে একা রেখে দূরে যেয়ো না কো তুমি!

৩. অনুনয়মূলক বা আবেদনমূলক প্রার্থনা

ঈশ্বরের কাছে আমাদের আবেদনের শেষ নেই। কত কিছুর জন্যে, কত কারণেই না আমরা তাঁর কাছে আমাদের নানান আবেদন, আমাদের চাওয়া-পাওয়ার কথা জানিয়ে থাকি । আমরা অসুস্থতাকালে সুস্থতা লাভের জন্য প্রার্থনা করি, বিপদে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করি । পরীক্ষায় ভালো ফল, ভালো চাকরি, ভালো স্বাস্থ্য, সুন্দর ভবিষ্যৎ ইত্যাদি কত কিছুর জন্যেই না আমরা ঈশ্বরের কাছে আবেদন জানিয়ে থাকি । প্রভুর প্রার্থনার দ্বিতীয় অংশে যীশু নিজেই আমাদের সমস্ত আবেদন পিতার কাছে তুলে ধরতে শিখিয়েছেন ।

কেউ কেউ প্রশ্ন করতে পারে, “ঈশ্বর তো আমাদের সব প্রয়োজনের কথা জানেন । তাহলে তাঁর কাছে চাওয়ার আবার কী প্রয়োজন রয়েছে?” হ্যাঁ, ঈশ্বর অবশ্যই আমাদের প্রয়োজনের কথা জানেন । কিন্তু আমি যে তা পেতে চাই, কোন কিছু যাচ্‌নার মধ্য দিয়ে তা-ই আমি তাঁর কাছে তুলে ধরি। যীশু নিজেই বলেছেন: “তোমরা চাও, তোমাদের দেওয়া হবে; খোঁজ, তোমরা খুঁজে পাবে; দরজায় ঘা দাও, তোমাদের জন্যে দরজাটি খুলে দেওয়া হবে । কেননা যে চায়, সে পায়; যে খোঁজে, সে খুঁজে পায়; যে দরজায় ঘা দেয়, তার জন্যে দরজাটি খুলে দেওয়া হয়” (মথি ৭:৭-৮)।

৪. অনুতাপমূলক প্রার্থনা

মানুষ হিসেবে আমরা সবাই দুর্বল। তাই ইচ্ছায়-অনিচ্ছায়, জ্ঞানে-অজ্ঞানে আমাদের নানা ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকে । ঈশ্বরের সাথে এবং অন্য মানুষের সাথে আমাদের ভালোবাসার সম্পর্ক রক্ষা করতে অনেক সময় ব্যর্থ হই । কাজেই, আমাদের নানা ভুল-ত্রুটির জন্যে আমরা অনুতপ্ত হই ও অনুশোচনা বোধ করি । সামসংগীত ৫১ অনুতাপের একটি সুন্দর আদর্শ প্রার্থনা । আমরা একসাথে সামসংগীতটির কিছু অংশ পাঠ করি:

আমার প্রতি সদয় হও, ওগো ঈশ্বর, তোমার করুণাগুণে;

তোমার অসীম কৃপায়, ওগো, মুছে ফেল তুমি আমার সকল দোষ । তুমি আমার সেই অপরাধ ধুয়ে ফেল নিঃশেষে; আমার পাপের কালিমা থেকে নির্মল কর আমায় । আমার দোষ, আমার ত্রুটি স্বীকার করি আমি; আমার সেই পাপের কথা স্মরণে আমার রয়েছে অনুক্ষণ । তোমারই কাছে পাপ করেছি আমি । তোমারই চোখে যা অন্যায়, তাই করেছি আমি । তুমিও তাই রায়বিধানে সত্যি ধর্মময়, দণ্ডবিধানে সত্যিই ত্রুটিহীন! তুমি তো জানোই, অপরাধ নিয়ে জন্মেছিলাম আমি; পাপ নিয়েই তো মায়ের গর্ভে সেদিন এসেছি আমি ।

 

 

 

ওগো, তুমি তো চাও, সত্যময় হয়ে উঠুক মানুষের অন্তর;

জ্ঞানের বাণী হৃদয়-গোপনে তাই তো শোনাও তুমি । ওগো, হিসোপ দিয়ে অভিসিঞ্চিত করে আমাকে এবার পাপমুক্তই কর: নির্মল হবো আমি । আমাকে ধৌত কর: তুষারের চেয়ে শুভ্র হবো যে আমি! আমার প্রাণে বাজতে দাও আবার সেই পুলক-ভরা আনন্দেরই সুর । তোমার হাতে চূর্ণ আমার দেহের অস্থিগুলি, আহা, নাচুক মহোল্লাসে! আমার কোন পাপের দিকে তাকিয়ে দেখো না আর: মুখ ফিরিয়েই নাও; ওগো, আমার সব অপরাধ মুছে দিয়ে যাও তুমি !

এক সঙ্গে ধ্যান করি

প্রার্থনা আমাদের আত্মার খাদ্য ও পানীয়; তা আমাদের প্রাণের ক্ষুধা ও তৃষ্ণা মিটায় । প্রার্থনা আমাদের প্রাণে আনে পরম প্রশান্তি ও হৃদয়ে জাগায় আনন্দ । আর এই শান্তি ও আনন্দ আসে স্বয়ং ঈশ্বরেরই কাছ থেকে । প্রার্থনাই আমাদেরকে ঈশ্বরের কাছে নিয়ে যায়; প্রার্থনার মধ্য দিয়েই আমরা তাঁকে দেখি ও তাঁর বাণী শুনি ।

কাজ: পাঁচ মিনিটের জন্য নীরব ধ্যানে বস এবং ঈশ্বরের উপস্থিতি তোমার জীবনে উপলব্ধি কর ।

 

 

অনুশীলনী

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

১. কোন সাম সংগীতে অনুতাপের কথা বলা হয়েছে ?

ক. সাম ৫১

খ. সাম ১৩৮

গ. সাম ১৪৮

ঘ. সাম ১৫0

প্রার্থনাকে আত্মার খাদ্য বলা হয়েছে, কারণ -

i. প্রাণের ক্ষুধাও তৃষ্ণা মিটায়

ii. প্রাণে আনে পরম শান্তি

iii. হৃদয়ে জাগায় আনন্দ

নিচের কোনটি সঠিক ?

খ. ii ও iii

ঘ. i, ii ও iii

ক. i ও ii

গ. i ও iii

নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৩ ও ৪নং প্রশ্নের উত্তর দাও :

একজন ভিক্ষুক প্রতিদিন অনলের কাছে টাকার জন্য হাত পাতে । অনল তাকে বলে, 'ভিক্ষা না করে ঈশ্বরকে ডাক ও কাজ কর, দেখবে মন ভালো থাকবে ও সুখী জীবন যাপন করতে পারবে ।' ভিক্ষুক প্রতিদিন ঈশ্বরকে স্মরণ করে, কাজ করে এবং তার জীবনে স্বস্তি ফিরে আসে । ফর্মা-১২, খ্রিষ্টধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা, ৯ম-১০ম শ্রেণি

 

৩. ভিক্ষুক তার জীবনে কিসের গুরুত্ব বুঝতে পেরেছে ?

ক. সুখের

খ. ধনের

গ. সম্মানের

ঘ. প্রার্থনার

৪. ভিক্ষুক তার কাজের ফলে লাভ করবে

i. স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ জীবন

ii. পবিত্র জীবন

iii. ধনাঢ্য জীবন

নিচের কোনটি সঠিক ?

ক. i ও ii

খ. ii ও iii

গ. i ও iii

ঘ. i, ii ও iii

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

১ . কীভাবে মানুষ প্রার্থনায় ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর শোনে ?

২. প্রার্থনা হলো ঈশ্বরের উপস্থিতিতে বসবাস – বর্ণনা কর ।

৩. প্রশংসামূলক প্রার্থনা বলতে কী বুঝ ?

৪ . মানুষের জীবনে প্রার্থনা গুরুত্বপূর্ণ কেন ?

৫. ঈশ্বর কীভাবে মানুষের সাথে কথা বলেন ?

সৃজনশীল প্রশ্ন – ১

দৃশ্যকল্প-১

আন্না এসএসসি পরীক্ষায় A+ পেয়েছে । আন্নার পরিবারের সবাই খুশি হয়ে প্রার্থনা সভার আয়োজন করে। তারা এত বেশি আনন্দ পেল যে এলাকার গরিব লোকদের জন্য ভোজের আয়োজন করল । পরিবারের সাথে একাত্ম হয়ে সবাই সৃষ্টিকর্তার গৌরব/মহিমা কীর্তন করতে লাগল ।

দৃশ্যকল্প-২

মৌসুমী সহপাঠীকে না বলে ব্যাগ থেকে সুন্দর একটি কলম নিয়ে যায়। বিষয়টি শ্রেণির শিক্ষককে জানানো হয় । শিক্ষক আসল দোষীকে ধরতে না পেরে সকল ছাত্রীদের শাস্তি দেন । মৌসুমী নীরব। সে মনে মনে দুঃখ পেল কিন্তু সত্য স্বীকার করতে পারেনি। তাই সে অন্তরে গভীর অনুশোচনা অনুভব করে এবং তার দোষ মুছে ফেলার জন্য ঈশ্বরের কাছে আকুল আবেদন জানায় ।

ক. মাদার তেরেজা প্রথম জীবনে কোন ধর্মসংঘের সিস্টার ছিলেন ?

        মানুষ কেন প্রার্থনা করে ?

গ. মৌসুমীর প্রার্থনা তোমার পাঠ্যপুস্তকের কোন্ প্রার্থনাটি প্রকাশ করে ব্যাখ্যা কর ?

ঘ.   আন্না ও মৌসুমীর প্রার্থনার তুলনামূলক বিশ্লেষণ কর ।

 

 

সৃজনশীল প্রশ্ন – ২

১ম বন্ধু : তোমার পড়াশুনা কেমন চলছে ?

২য় বন্ধু : মোটামুটি চালিয়ে যাচ্ছি । আশা করি আগামী পরীক্ষায় আরও ভালো করতে পারব ।

১ম বন্ধু : আচ্ছা বন্ধু ! তুমি কীভাবে পড়া মনে রাখ ? আমি তো শেখার সাথে সাথে ভুলে যাই ।

২য় বন্ধু : আমি প্রতিদিন সৃষ্টিকর্তার নাম স্মরণ করে বাইবেল থেকে একটি করে অধ্যায় পড়ি। তারপর আমার ক্লাসের পড়া আরম্ভ করি ।

১ম বন্ধু : তাই ! আমি তো কোনদিন সৃষ্টিকর্তার নাম স্মরণ করি না । টেবিলে গিয়েই পড়তে আরম্ভ করি। ২য় বন্ধু : বন্ধু, তুমি প্রতিদিন আমার মতো প্রার্থনা করে পড়তে বসবে, দেখবে পড়া তাড়াতাড়ি শেখা হবে। পরীক্ষার সময় সহজেই পড়া মনে পড়বে ।

ক. একদিন ছাদে প্রার্থনার সময় কে অদ্ভূত দৃশ্য দেখেছিল ?

খ. বিশ্বাসপূর্ণ প্রার্থনার ফল কী ? তা বর্ণনা দাও

গ. ২য় বন্ধু কোন শক্তির উপর বিশ্বাসী বলে তুমি মনে কর ? তা ব্যাখ্যা কর ।

ঘ     ১ম ও ২য় বন্ধুর মনোভাবের পার্থক্যের তুলনামূলক বিশ্লেষন কর।

Related Question

View All
উত্তরঃ

ঈশ্বরের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপন করা, তার উপস্থিতি জীবনে উপলদ্ধি করা এবং তার সাথে প্রেমময় সম্পর্ক স্থাপন করার জন্যই মানুষ প্রার্থনা করে। প্রার্থনার মধ্য দিয়ে আমরা ঈশ্বরের মধ্যে প্রবেশ করি এবং তাকে আমাদের অন্তরে প্রবেশ করতে দিই। তাই আমরা প্রার্থনা করি। প্রার্থনা ছাড়া কোনো মানুষ সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারে না। 

মূলকথা: প্রার্থনার মাধ্যমে ঈশ্বরকে পাওয়া যায়।

423
উত্তরঃ

উদ্দীপকের মৌসুমীর প্রার্থনাটি অনুতাপমূলক প্রার্থনা। মানুষ হিসেবে আমরা সবাই দুর্বল। তাই ইচ্ছায়-অনিচ্ছায়, জ্ঞানে-অজ্ঞানে আমাদের নানা ভুলত্রুটি হয়ে থাকে। ঈশ্বরের সাথে এবং অন্য মানুষের সাথে আমাদের ভালোবাসার সম্পর্ক সব সময় রক্ষা করতে ব্যর্থ হই। এরূপ ক্ষেত্রে আমরা ভুলের জন্য অনুতপ্ত হই ও অনুশোচনাবোধ করি। 

মৌসুমী কলম চুরি করে, যার কারণে শ্রেণিশিক্ষক সবাইকে শাস্তি দেন। মৌসুমী এ কারণে দুঃখ পায়। তাই সে অন্তরে গভীর অনুশোচনা অনুভব করে এবং দোষ মুছে ফেলার জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করে; সে ঈশ্বরের কাছে বলে, "হে প্রভু! আমরা যেন ভুল তুটির হাত থেকে মুক্ত হই, পাপ-অপরাধ মুছে আমি যেন পবিত্র হই।" সাম সংগীত ৫১ অনুতাপের একটি সুন্দর আদর্শ প্রার্থনা। সুতরাং মৌসুমীর প্রার্থনাটি পাঠ্যবইয়ের অনুতাপমূলক প্রার্থনা প্রকাশ করে। 

মূলকথা: মৌসুমীর প্রার্থনাটি পাঠ্যবইয়ের অনুতাপমূলক প্রার্থনা।

190
উত্তরঃ

উদ্দীপকের আন্না কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদমূলক প্রার্থনা করে এবং মৌসুমী অনুতাপমূলক প্রার্থনা করে। দুজনের প্রার্থনার উদ্দেশ্য দুই রকম। 

আমরা ঈশ্বরের অসীম ভালোবাসা, দয়া ও নানা আশীর্বাদ পেয়ে তাকে আমাদের হৃদয়ের কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে যে প্রার্থনা করি তা-ই কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদমূলক প্রার্থনা। আমরা রোগ থেকে সুস্থ হয়ে, বিপদ থেকে রক্ষা পেয়ে, পরীক্ষায় ভালোভাবে পাস করে, ভালো চাকরি পেয়ে ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রার্থনা করি। আন্না পরীক্ষায় ভালো ফল করে ধন্যবাদমূলক প্রার্থনা করে। "সব ধন্যবাদ, মহিমা, গৌরব তোমার, জয় হোক, জয় হোক যীশু, জয় হোক তোমার।"

মৌসুমীর কারণে শ্রেণিকক্ষে সবাই শাস্তি ভোগ করে। মৌসুমী লজ্জায় দোষ স্বীকার করতে পারেনি। এ ভুলের জন্য মৌসুমী অনুতাপমূলক প্রার্থনা করে। মানুষ হিসেবে আমরা সবাই দুর্বল। তাই ইচ্ছায়-অনিচ্ছায়, জ্ঞানে-অজ্ঞানে ভুল-ত্রুটি করে থাকি। আমাদের নানা ভুল-ত্রুটির জন্য অনুশোচনা হয়ে যে প্রার্থনা করি তা-ই অনুতাপমূলক প্রার্থনা। আর ক্ষমা প্রার্থনার মধ্য দিয়ে মৌসুমী ভুলের হাত থেকে রক্ষা পায় ও পবিত্র হয়। 

তাই বলা যায়, আন্না ও মৌসুমীর প্রার্থনার মধ্যে তুলনামূলক পার্থক্য রয়েছে। 

মূলকথা: আন্না ও মৌসুমীর প্রার্থনার উদ্দেশ্য ভিন্ন।

199
উত্তরঃ

প্রার্থনা ছাড়া কোনো মানুষ সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারে না। প্রার্থনা হলো জীবনের চালিকাশক্তি। বিশ্বাসপূর্ণ প্রার্থনা আমাদের ঈশ্বরের জীবনের সাথে যুক্ত করে। প্রার্থনা আমাদের জীবনকে সুন্দর ও পবিত্র করে। প্রার্থনাশীল জীবন আমাদের ঈশ্বরের কাছে নিয়ে যায় এবং সাধু-সাধ্বীতে পরিণত করে।

মূলকথা: বিশ্বাসপূর্ণ প্রার্থনা মানুষকে ঈশ্বরের কাছে যুক্ত করে।

267
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews