টুকটুক খুব আনন্দিত ছিল কারণ আগামীকাল থেকে গ্রীষ্মের ছুটি শুরু হতে চলেছে। এছাড়া দুদিন পর মামাতো ভাইবোনেরা তাদের বাড়িতে আসবে। তাই তার মনে আনন্দের জোয়ার বইছে।
টুকটুকের মামাতো ভাইবোনেরা দুদিন পর তাদের বাড়িতে আসবে। তারা আসলে গ্রীষ্মের ছুটিতে সবাই মিলে মজা করবে।
টুকটুক বাড়ির কাছাকাছি এসে হঠাৎ 'মিউ মিউ' শব্দ শুনল। সে কৌতূহলী হয়ে চারদিকে তাকাল। পরে সে শব্দের উৎস খুঁজতে এগিয়ে গেল।
রাগানের কোণে টুকটুক একটি বিড়ালছানা দেখল। ছানাটি ভয়ে কাঁপছিল এবং কাদামাটিতে মাখানো ছিল। মনে হচ্ছিল যে তার একটি পা কেটে গেছে।
বিড়ালছানাটির শরীর কাদামাটিতে মাখানো কঙ্কালসার ছিল। ছানাটি ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে কাঁপছিল। তার পা কেটে যাওয়ায় সে যেন কান্না করছিল।
মা বললেন, "রিড়ালের যত্ন নেওয়া কিন্তু কঠিন কাজ।" তিনি টুকটুককে সতর্ক করলেন যে, এটি সহজ কাজ নয়। কিন্তু টুকটুক মাকে আশ্বস্ত করল যে সে নিজে সবকিছু করবে, মা যেন তাকে একটু সাহায্য করেন। মা রাজি হলে টুকটুক বিড়ালছানাটির যত্ন নেওয়া শুরু করল।
দিন দিন চিকু সুস্থ ও হৃষ্টপুষ্ট হয়ে উঠল। সেটি টুকটুকের পাশে ঘুমাত এবং সারা দিন লম্ফঝম্প করত।
টুকটুকের মামাতো ভাইবোনেরা চড়ুইভাতির আয়োজন করল। তারা আনন্দে মেতে উঠল। চিকুও তাদের সঙ্গে মজা করল এবং খুশিতে অংশগ্রহণ করল।
টুকটুক দেখল কয়েকজন ছেলে একটি বিড়ালছানাকে তাড়া করছে। সে তাদের বোঝাল যে, ছোটো প্রাণীকে মারা বা তাড়া করা ঠিক নয়। টুকটুক তাদের জিজ্ঞেস করল যে, কেউ যদি তাদের তাড়া করে তাহলে কেমন লাগবে? তারা তার কথা শুনে শান্ত হয়ে গেল।
টুকটুক শিখল, প্রকৃত ভালোবাসা হলো বিপদে বন্ধুদের পাশে থাকা। সে শুধু বিড়াল নয়- সব প্রাণীর প্রতি যত্নবান হয়ে উঠল। এই অভিজ্ঞতা তাকে আরও দয়ালু ও দায়িত্বশীল করে তুলল।
চিকু টুকটুকের পেছন পেছন ঘুরত। রাতে বিছানায় এসে ঘুমাত। সারাদিন চলত তার লম্ফঝম্প। বাড়িতে চড়ুইভাতির আয়োজনে আনন্দ-উচ্ছ্বাসেও যোগ দেয় চিকু।
পরের দিন থেকে টুকটুকের স্কুলে গ্রীষ্মের ছুটি হবে এই আনন্দে টুকটুক গান গেয়ে উঠল।
টুকটুক বাগানের কোণে বিড়ালছানাটিকে দেখতে পেল।
বাগানের কোণে বিড়ালছানাটি ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে কাঁপছে। তার একটা পা কেটে গেছে। টুকটুক যখন বিড়ালছানাটির একদম কাছে গেল তখন বিড়ালছানাটি টুকটুকের দিকে তাকাল। টুকটুক দেখল বিড়ালছানাটির চোখে পানি। বিড়ালের এমন অবস্থা দেখে টুকটুকের মন বিড়ালছানার জন্য কেঁদে উঠল।
টুকটুক খুব ভালোবেসে বিড়ালছানাটির যত্ন নিল। টুকটুক নরম তোয়ালে দিয়ে বিড়ালছানাটির গা মুছিয়ে দিলো। পায়ের কাটা জায়গাটা পরিষ্কার করে ওষুধ লাগিয়ে দিলো। মা একটা ছোটো পাত্রে দুধ দিলেন। বিড়ালছানাটি ধীরে ধীরে দুধ খেল। একটু পর ছানাটি টুকটুকের কোলে ঘুমিয়ে পড়ল।
টুকটুক আশপাশের পশুপাখির প্রতি বেশ যত্নবান হয়ে ওঠে। পাখিদের জন্য সে প্রতিদিন জানালার ধারে এক মুঠো ভাত রেখে দিত। গ্রীষ্মের দাবদাহে বাটি ভরে পানি রেখে দিত, যেন পাখিরা পানি খেতে পারে।
টুকটুক পশুপাখিদের খুব ভালোবাসত। সে পশুপাখির প্রতি যত্নশীল আচরণ থেকেই মূলত সহপাঠীদের নিয়ে 'প্রাণীদের বন্ধু' নামে ক্লাব গড়ে তোলে। এভারেই 'প্রাণীদের বন্ধু' ক্লাবটি গঠিত হয়েছিল।
Related Question
View Allটুকটুক খুব আনন্দিত ছিল কারণ আগামীকাল থেকে গ্রীষ্মের ছুটি শুরু হতে চলেছে। এছাড়া দুদিন পর মামাতো ভাইবোনেরা তাদের বাড়িতে আসবে। তাই তার মনে আনন্দের জোয়ার বইছে।
টুকটুকের মামাতো ভাইবোনেরা দুদিন পর তাদের বাড়িতে আসবে। তারা আসলে গ্রীষ্মের ছুটিতে সবাই মিলে মজা করবে।
টুকটুক বাড়ির কাছাকাছি এসে হঠাৎ 'মিউ মিউ' শব্দ শুনল। সে কৌতূহলী হয়ে চারদিকে তাকাল। পরে সে শব্দের উৎস খুঁজতে এগিয়ে গেল।
রাগানের কোণে টুকটুক একটি বিড়ালছানা দেখল। ছানাটি ভয়ে কাঁপছিল এবং কাদামাটিতে মাখানো ছিল। মনে হচ্ছিল যে তার একটি পা কেটে গেছে।
বিড়ালছানাটির শরীর কাদামাটিতে মাখানো কঙ্কালসার ছিল। ছানাটি ভয়ে জড়োসড়ো হয়ে কাঁপছিল। তার পা কেটে যাওয়ায় সে যেন কান্না করছিল।
মা বললেন, "রিড়ালের যত্ন নেওয়া কিন্তু কঠিন কাজ।" তিনি টুকটুককে সতর্ক করলেন যে, এটি সহজ কাজ নয়। কিন্তু টুকটুক মাকে আশ্বস্ত করল যে সে নিজে সবকিছু করবে, মা যেন তাকে একটু সাহায্য করেন। মা রাজি হলে টুকটুক বিড়ালছানাটির যত্ন নেওয়া শুরু করল।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!