লেখক বিছানা গুটিয়ে হোল্ডল বন্ধ করতেও পারছিলেন না, কারণ তার গায়ে তখন শক্তি ছিল না। গরমে, ধুলোয়, কয়লার গুঁড়োয়, কাবাব-রুটিতে আর স্নানাভাবে তার গায়ে একরত্তি শক্তিও ছিল না। তিনি কষ্টকর দীর্ঘ ভ্রমণে প্রচণ্ড ক্লান্ত ছিলেন।
অতিথিকে বাড়িতে ডেকে নেওয়ার মতো আনন্দ পাঠান অন্য কোনো জিনিসে পায় না। আর সেই অতিথি যদি বিদেশি হয় তাহলে তো কথাই নেই। আসলে পাঠানরা খুবই আন্তরিক।
'পাঠান মুলুকে' রচনায় লেখক বলেছেন, পাঠানের সঙ্গে ভ্রমণ করাতে সুখ আছে। আর এই সুখের কারণ হলো তারা খুবই আন্তরিক। আমাদের কাছে যেটা কঠিন বলে মনে হয় পাঠানরা সেটা নিজে থেকেই করে দেয়।
চুল বাঁধা, দাড়ি সাজানো আর পাগড়ি বাঁধানো দেখলেই সর্দারজিকে চেনা যায়।
পাঠান মুলুকের পেশাওয়ার শহরের নিয়ম একটু অদ্ভুত। কেননা এ শহর দিনে থাকে ইংরেজের দখলে আর রাতের বেলায় থাকে পাঠানদের দখলে।
পাঠানরা খুবই অতিথিপরায়ণ। তাঁরা অতিথিকে বাড়িতে ডেকে নেওয়ার মতো আনন্দ অন্য কোনো কিছুতে পান না। অতিথিকে পাওয়া মাত্র তাকে জড়িয়ে ধরে কোলাকুলি করেন। পরম উৎসাহে খুবই আন্তরিকতার সঙ্গে রাঙার সুবিধা-অসুবিধার কথা জানতে চান। সবকিছু ঠিকঠাক আছে কিনা জিজ্ঞেস করেন। কোলে-পিঠে করে নিয়ে গিয়ে টাঙ্গায় বসান। এ রকমই নির্জলা আন্তরিক পাঠানদের অভ্যর্থনা।
পাঠান মুলুকে টালা বা গাড়ি চালাতে হয় পাঠানি কায়দায়। কেননা পথিক পাঠানরা কখনো কারও জন্য রাস্তা ছেড়ে দেয় না। তারা যে যেরকম খুশি চলে। গাড়িকেই এঁকে-বেঁকে রাস্তা কয়ে নিতে হয়। এতে ঘোড়ার লাথি খেয়ে কারও এক খাবল্য মাংস উড়ে গেলেও পাঠানরা গালাগালি, মারামারি বা পুলিশ ডাকাডাকি না. করে শ্রদ্ধা ও বিরক্তি সহকারে ঘাড় বাঁকিয়ে শুধু জিজ্ঞেস করে, 'দেখতে পাস না?' গাড়ির চালক গাড়োয়ানও একজন স্বাধীন পাঠান। তাই সেও ততোধিক অবজ্ঞা প্রকাশ করে বলে, 'তোর চোখ নেই?' বাস, ওখানেই মিটে গেল, আর যে যার পথে চলল।
Related Question
View Allস্নানাভাবে - স্নানের অভাবে, গোসল না করতে পারায়।
হোল্ডল - যে বোঁচকার ভেতরে বালিশ, বিছানা ভরে বেঁধে রাখা হয়।
ঠা-ঠা আলো - এত তেজি আলো যে চোখ মেলে তাকানো যায় না।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!