পৃথিবীতে বহু আগে অর্থাৎ প্রায় ছয়-সাত হাজার বছর আগে মানুষ লিখতে ও পড়তে জানত না। কারণ তখন বর্ণ বলে কিছুই ছিল না। কোনো ভাষারই বর্ণমালা, অক্ষর বা হরফ কিছুই ছিল না। তাই তখন মানুষ লিখতে ও পড়তে জানত না।
হাতে আঁকা রেখায় কথাকে বন্দি করা হলো। কথাকে রেখার বন্ধনে বন্দি করার জন্য মানুষ লিপি তৈরি করেছিল। শূন্যে মিলিয়ে যাওয়া কথাকে রেখার বন্ধনে অর্থাৎ লিপিতে বন্দি করে মানুষ।
প্রাচীন ব্রাহ্মী লিপি থেকে অশোক লিপি, অশোক লিপি থেকে কুটিল লিপি এবং কুটিল লিপি থেকে বঙ্গলিপি এসেছে বলে ধারণা করা হয়। আর পণ্ডিতদের ধারণা লিপির নানা ধাপ পেরিয়ে বঙ্গলিপি থেকেই বাংলা লিপি এসেছে।
মানুষের মুখের কথাকে লিখে রাখার জন্য যে চিহ্ন বা প্রতীক ব্যবহার করা হয় তাই লিপি। লিপি মানে হচ্ছে লিখন পদ্ধতি। শূন্যে মিলিয়ে যাওয়া কথাকে যে পদ্ধতিতে রেখার বন্ধনে আবন্ধ করা হয় তাই লিপি।
একসময় কোনো লিপি ছিল না বলে মানুষ তাদের কথা লিপিবন্ধ করতে পারতেন না। সেকালে দাদা-দাদি, বাবা-মা বাচ্চাদের গল্প বানিয়ে শোনাতেন কিন্তু বানিয়ে বানিয়ে গল্প বলতে গিয়ে যখন তারা ভুলে যেতেন তখন আর গল্প বলতে পারতেন না। নতুন করে আবার গল্প বানাতে হতো। আর সেই জন্যই ভুলে যাওয়ার বিপদ থেকে বাঁচার জন্য নিলি তৈরির চিন্তা মাথায় এলো।
প্রাগৈতিহাসিক কালে কে কখন কীভাবে লিপি আবিষ্কার করেছিলেন, তা কেউ ঠিকভাবে বলতে পারবে না। তবে আধুনিক কালে যাঁরা এ ধরনের কাজ করেছেন তাঁদের কারও কারও নাম জানা যায়। যেমন- কোরিয়ার রাজা সে জং এবং ইউরোপের এক ধর্মযাজক সত্ত সিরিল।
বাংলা লিপির প্রচলন কে করেছেন তা এখনও জানা যায়নি। তবে প্রাচীন ব্রাহ্মী লিপি থেকে অশোক লিপি, অশোক লিপি থেকে কুটিল লিপি এবং কুটিল লিপি থেকে বলালিপি। এমনি করে লিপির নানা ধাপ পেরিয়ে বঙ্গলিপি থেকে বাংলা লিপি এসেছে।
মানুষ একসময় শুধু বানিয়ে বানিয়ে কথা বলত ও গল্প করত। কিন্তু তা লিখিত বা লিপিবন্দ করে রাখতে পারত না।। পরবর্তীতে মানুষ তাদের কথাগুলো রেখার বন্ধনে আবস্থ করার। জন্য লিপি তৈরি করে। তারপর সেই লিপি দিয়ে মানুষ একদিন কথাকে বন্দি করে রাখতে শেখে। আর সেদিন থেকেই মানুষের সভ্যতার পথে নতুন যাত্রা শুরু হয়।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!