প্রতিটি মানুষের জীবনে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লক্ষ্য মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করে এবং জীবনে সফল হতে উৎসাহিত করে। লক্ষ্য থাকলে মানুষ পরিকল্পিতভাবে কাজ করে, পরিশ্রম করে এবং নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারে। লক্ষ্যহীন মানুষ সহজেই বিভ্রান্ত হয় এবং জীবনের উদ্দেশ্য হারিয়ে ফেলে। তাই অর্থবহ ও সফল জীবন গঠনের জন্য লক্ষ্য থাকা অপরিহার্য।
লক্ষ্যহীন জীবন অর্থহীন ও দিকহীন হয়ে পড়ে। যার জীবনে কোনো লক্ষ্য নেই, সে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে না এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অনিশ্চয়তায় ভোগে। ফলে হতাশা, ব্যর্থতা ও নিরাশা তাকে গ্রাস করে। তাই লক্ষ্যহীন জীবন ব্যক্তিগত ও সামাজিক উন্নতির পথে বড় বাধা সৃষ্টি করে।
খ্রিষ্টভক্ত হিসেবে আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো অনন্ত জীবন লাভ করা এবং স্বর্গে পিতা ঈশ্বরের সান্নিধ্যে চিরকাল সুখে থাকা। যীশু খ্রিষ্টের শিক্ষা অনুসরণ করে সত্য, প্রেম ও ন্যায়ের পথে চললে এই লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। তাই খ্রিষ্টভক্তের জীবনের সর্বোচ্চ উদ্দেশ্য হলো ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুযায়ী জীবনযাপন করা।
অনন্ত জীবন লাভের একমাত্র মাধ্যম হলেন যীশু খ্রিষ্ট। তিনি বলেছেন, "আমিই পথ, সত্য ও জীবন।" তাঁর প্রতি বিশ্বাস, তাঁর শিক্ষা অনুসরণ এবং তাঁর পথে চলার মাধ্যমে মানুষ মুক্তি ও অনন্ত জীবন লাভ করতে পারে। তাই খ্রিষ্টধর্মে যীশুকেই মুক্তির একমাত্র পথ হিসেবে বিশ্বাস করা হয়।
যীশু খ্রিষ্ট মানুষকে পাপ থেকে মুক্তি এবং ঈশ্বরের কাছে পৌঁছানোর পথ দেখিয়েছেন। তিনি তাঁর জীবন, শিক্ষা, মৃত্যু ও পুনরুত্থানের মাধ্যমে মানবজাতির মুক্তির ব্যবস্থা করেছেন। তাই তাঁকে মুক্তির পথ বলা হয়। তাঁর নির্দেশিত পথে চললে মানুষ অনন্ত জীবন লাভ করতে পারে।
যোহন ১৪:৬ পদে যীশু বলেছেন, "আমিই পথ, সত্য ও জীবন।" এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, তিনিই মানুষের মুক্তি, সত্য এবং অনন্ত জীবনের একমাত্র পথ। তাঁর মাধ্যমে মানুষ পিতা ঈশ্বরের কাছে পৌঁছাতে পারে।
অর্থবহ জীবন হলো এমন জীবন, যা সৎ উদ্দেশ্য, নৈতিকতা, সত্য, ভালোবাসা ও ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুযায়ী পরিচালিত হয়। যে ব্যক্তি সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ করে এবং সেই লক্ষ্য অর্জনে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে, তার জীবন অর্থবহ হয়। খ্রিষ্টীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, ঈশ্বরের পথে পরিচালিত জীবনই প্রকৃত অর্থবহ জীবন।
অর্থবহ লক্ষ্য হলো এমন লক্ষ্য, যা মানুষের ব্যক্তিগত উন্নতির পাশাপাশি অন্যের কল্যাণ ও ঈশ্বরের মহিমা প্রকাশে সহায়ক হয়। এই লক্ষ্য মানুষকে নৈতিক, দায়িত্বশীল ও সফল জীবন গড়তে সাহায্য করে। খ্রিষ্টভক্তদের জন্য সর্বোচ্চ অর্থবহ লক্ষ্য হলো অনন্ত জীবন লাভ করা।
লক্ষ্য নির্ধারণের আগে মানুষকে নিজের জীবনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে চিন্তা করা উচিত। যেমন— আমি কে, কেন পৃথিবীতে এসেছি, ভবিষ্যতে কী হতে চাই, আমার জীবনের উদ্দেশ্য কী, মৃত্যুর পর কী হবে এবং আমি সমাজের জন্য কী রেখে যেতে চাই। এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেলে সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা সহজ হয়।
মার্টিন লুথার কিং বলেছেন, "যার জীবনের লক্ষ্য নেই, তার বেঁচে থাকার অধিকারও নেই।" তাঁর এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি জীবনে লক্ষ্য নির্ধারণের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। লক্ষ্য মানুষকে সঠিক পথে পরিচালিত করে এবং সফল ও অর্থবহ জীবন গড়তে সাহায্য করে।
জীবনের সঠিক সময়ে সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ না করলে মানুষ দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে। সে নিজের যোগ্যতা ও সময়ের যথাযথ ব্যবহার করতে পারে না। ফলে জীবনে ব্যর্থতা, হতাশা ও নিরাশা দেখা দেয়। তাই সময়মতো সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা সফল জীবনের অন্যতম শর্ত।
লক্ষ্য পূরণের জন্য মানুষ কঠোর পরিশ্রম করে, নিয়মিত পড়াশোনা করে, জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করে এবং চরিত্র গঠনের চেষ্টা করে। এছাড়া অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরামর্শ গ্রহণ করে, অধ্যবসায়ের সঙ্গে কাজ করে এবং বাধা অতিক্রম করে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যায়।
চরিত্র মানুষের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। ভালো চরিত্র মানুষকে সৎ, ন্যায়পরায়ণ, দায়িত্বশীল ও বিশ্বস্ত হতে সাহায্য করে। জ্ঞান ও দক্ষতার পাশাপাশি চরিত্র গঠন না হলে প্রকৃত সফলতা অর্জন করা যায় না। তাই সুন্দর ও অর্থবহ জীবন গঠনের জন্য চরিত্র গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিবেক মানুষকে ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করে। এটি মানুষকে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে এবং অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে। বিবেকের নির্দেশ অনুসরণ করলে মানুষ সৎ ও নৈতিক জীবনযাপন করতে পারে।
মানুষ নিজের লক্ষ্য অর্জন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সত্যকে জানার জন্য জ্ঞানচর্চা করে। জ্ঞান মানুষের চিন্তাশক্তি ও বিচারবোধকে উন্নত করে। এর মাধ্যমে মানুষ সমস্যার সমাধান করতে পারে এবং সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়।
জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হলে মানুষ অভিজ্ঞ, জ্ঞানী ও দক্ষ ব্যক্তিদের কাছে পরামর্শ নিতে যায়। তারা পরিবার, শিক্ষক, গুরু বা অন্য কোনো অভিজ্ঞ ব্যক্তির সাহায্য গ্রহণ করে। সঠিক দিকনির্দেশনা মানুষকে বাধা অতিক্রম করে লক্ষ্যে পৌঁছাতে সহায়তা করে।
প্রকাশ কলেজ শেষ করার পর ভবিষ্যৎ নিয়ে দ্বিধায় পড়ে যায়। ছোটবেলা থেকে তার ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু তার বড় ভাই একজন ইঞ্জিনিয়ার হওয়ায় সেই পেশাও তার ভালো লাগত। তাই সে সিদ্ধান্ত নিতে পারছিল না যে ডাক্তার হবে নাকি ইঞ্জিনিয়ার।
প্রকাশকে তার কলেজের অধ্যক্ষ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করেছিলেন। প্রকাশ তার মনের দ্বিধার কথা অধ্যক্ষকে জানালে তিনি উপযুক্ত পরামর্শ দেন। প্রকাশ সেই পরামর্শ অনুসরণ করে ডাক্তারি পড়াশোনা করে এবং পরবর্তীতে একজন সফল চিকিৎসক হন।
অধ্যক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী প্রকাশ ডাক্তারি পড়াশোনা শুরু করে। কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সে একজন দক্ষ ও সফল চিকিৎসক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং একটি বড় হাসপাতালের বড় ডাক্তার হয়।
পূর্ণতার সন্ধানে মানুষ ব্যর্থ হয় যখন সে সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারে না, স্বার্থপর ও আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ে, বিবেকের নির্দেশ অনুসরণ করে না এবং ঈশ্বরের ওপর নির্ভর না করে নিজের ইচ্ছামতো চলতে থাকে। এসব কারণে মানুষ জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য থেকে দূরে সরে যায় এবং ব্যর্থতার সম্মুখীন হয়।
সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ মানুষকে জীবনের সঠিক পথে পরিচালিত করে। এটি মানুষকে পরিকল্পিতভাবে কাজ করতে, সময়ের সঠিক ব্যবহার করতে এবং নিজের যোগ্যতা ও দক্ষতা উন্নত করতে সাহায্য করে। সঠিক লক্ষ্য থাকলে মানুষ সফলতা অর্জন করতে পারে এবং জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়।
ঈশ্বর সর্বশক্তিমান ও সর্বজ্ঞ। তাঁর ওপর নির্ভর করলে মানুষ সঠিক দিকনির্দেশনা, সাহস ও শক্তি লাভ করে। জীবনের কঠিন পরিস্থিতিতে ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস মানুষকে আশা ও ধৈর্য ধরে রাখতে সাহায্য করে। তাই সফল ও অর্থবহ জীবন গঠনের জন্য ঈশ্বরের ওপর নির্ভর করা প্রয়োজন।
যীশু যুবকটিকে বলেছিলেন, যদি সে পূর্ণতা লাভ করতে চায়, তবে তার সমস্ত সম্পদ বিক্রি করে দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে। এরপর যীশুর কাছে এসে তাঁকে অনুসরণ করতে হবে। এর মাধ্যমে যীশু আত্মত্যাগ, দানশীলতা ও ঈশ্বরের প্রতি সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণের শিক্ষা দিয়েছেন।
ধনী যুবকের প্রধান বাধা ছিল তার ধনসম্পদের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি। সে তার সম্পদ ও সামাজিক মর্যাদা ত্যাগ করতে প্রস্তুত ছিল না। তাই যীশুর আহ্বান সত্ত্বেও সে পূর্ণতার পথে এগিয়ে যেতে পারেনি।
স্বার্থপরতা মানুষকে শুধু নিজের লাভের কথা ভাবতে শেখায়। এতে মানুষ অন্যের কল্যাণ ও ঈশ্বরের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করে। ফলে ভালোবাসা, ত্যাগ ও সেবার মনোভাব নষ্ট হয় এবং মানুষ পূর্ণতার পথ থেকে দূরে সরে যায়।
আত্মকেন্দ্রিকতা হলো এমন মানসিকতা, যেখানে একজন ব্যক্তি শুধু নিজের স্বার্থ, সুখ ও সুবিধার কথা চিন্তা করে। সে অন্যের প্রয়োজন বা কল্যাণকে গুরুত্ব দেয় না। এই মনোভাব মানুষের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক উন্নতির পথে বাধা সৃষ্টি করে।
স্বার্থপর মানুষ নিজের স্বার্থ রক্ষার জন্য অন্যায় কাজেও জড়িয়ে পড়তে পারে। ফলে সমাজে তার প্রতি মানুষের বিশ্বাস নষ্ট হয়, সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং জীবনে ব্যর্থতা ও অশান্তি দেখা দেয়। এভাবে সে পূর্ণতার পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে।
দুইজনের পারিবারিক ও সামাজিক পরিবেশ ভিন্ন ছিল। গার্মেন্টস শ্রমিকের জীবনে কষ্ট ও পারিবারিক ভাঙন ছিল, তাই তার ঈশ্বর সম্পর্কে ধারণা নেতিবাচক ছিল। অন্যদিকে কলেজছাত্রী ভালোবাসাপূর্ণ পরিবেশে বেড়ে ওঠায় তার ঈশ্বর সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা গড়ে উঠেছিল।
পারিবারিক পরিবেশ মানুষের চিন্তা, মূল্যবোধ, আচরণ ও দৃষ্টিভঙ্গি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি সুন্দর ও ভালোবাসাপূর্ণ পরিবেশ মানুষকে ইতিবাচক চিন্তা করতে শেখায়, আর অশান্ত পরিবেশ নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি করতে পারে।
অনুভূতি সবসময় বাস্তবতার প্রতিফলন নয়। শুধুমাত্র অনুভূতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিলে ভুল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বাস্তবতা, যুক্তি, বিবেক এবং ঈশ্বরের নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত।
বাস্তবতা মানুষের সঠিক চিন্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তি। শুধুমাত্র আবেগ বা অনুভূতির ওপর নির্ভর না করে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করলে ভুল সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা কমে যায়। বাস্তবতাকে উপলব্ধি করে কাজ করলে মানুষ জীবনের লক্ষ্য অর্জনে সফল হতে পারে এবং অর্থবহ জীবন গড়ে তুলতে সক্ষম হয়।
একজন ব্যবসায়ী কোনো প্রতিষ্ঠানে শুধু ভালো লাগার কারণে বিনিয়োগ করেন না। তিনি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা, লাভ-ক্ষতির সম্ভাবনা, ঝুঁকি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেন। এতে বোঝা যায় যে, সফলতার জন্য বাস্তবতা ও বিচক্ষণতার ওপর নির্ভর করা জরুরি।
একজন চিকিৎসক অপারেশনের আগে রোগীর শারীরিক অবস্থা, রোগের ধরন, পরীক্ষার ফলাফল এবং চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করেন। তিনি শুধুমাত্র নিজের অনুভূতির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেন না। এতে বোঝা যায়, বাস্তব তথ্য ও জ্ঞানই সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তি।
কার্ল ইয়ুং ছিলেন সুইজারল্যান্ডের একজন বিশ্বখ্যাত মনোবিজ্ঞানী ও মনোচিকিৎসক। তিনি মানুষের মানসিক সমস্যা, ব্যক্তিত্ব এবং ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা করেন। তাঁর মতে, মানুষের অনেক মানসিক সমস্যার সঙ্গে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক দিক জড়িত।
কার্ল ইয়ুং বলেছেন, মানুষের জীবনের গভীর সমস্যাগুলোর মূল কারণ প্রায়ই ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক শূন্যতা। তাই এসব সমস্যার সমাধানে ধর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাঁর মতে, মানুষের মানসিক সুস্থতার জন্য ধর্মীয় মূল্যবোধ অপরিহার্য।
ধর্ম মানুষের জীবনের মৌলিক প্রশ্নগুলোর উত্তর দিতে সাহায্য করে। যেমন—জীবনের উদ্দেশ্য কী, মানুষ কেন জন্মগ্রহণ করে, মৃত্যুর পরে কী হয়, ভালো-মন্দের পার্থক্য কী এবং ঈশ্বরের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক কেমন। এসব প্রশ্নের উত্তর মানুষ ধর্মীয় শিক্ষা থেকে পায়।
ভিক্টর ফ্র্যাঙ্কল ছিলেন অস্ট্রিয়ার একজন বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী ও মনোচিকিৎসক। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে বন্দী ছিলেন। জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি মানুষের জীবনের উদ্দেশ্যের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং লোগোথেরাপি নামে একটি চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ভিক্টর ফ্র্যাঙ্কল জার্মান নাৎসিদের কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে বন্দী ছিলেন। সেখানে তিনি চরম নির্যাতন, ক্ষুধা ও কষ্টের মধ্যে জীবন কাটিয়েছিলেন। এই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি উপলব্ধি করেন যে, জীবনের উদ্দেশ্য মানুষকে বেঁচে থাকার শক্তি জোগায়।
লোগোথেরাপি হলো ভিক্টর ফ্র্যাঙ্কল উদ্ভাবিত একটি মনোচিকিৎসা পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে মানুষের জীবনের উদ্দেশ্য ও অর্থ খুঁজে পেতে সাহায্য করা হয়। জীবনের লক্ষ্য ও অর্থ উপলব্ধি করতে পারলে মানুষ মানসিক সমস্যা ও হতাশা কাটিয়ে উঠতে পারে।
ভিক্টর ফ্র্যাঙ্কলের মতে, মানুষের বেঁচে থাকার মূল শক্তি হলো জীবনের উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য। যার জীবনে বেঁচে থাকার একটি অর্থপূর্ণ কারণ থাকে, সে কঠিন পরিস্থিতিতেও আশা হারায় না। জীবনের উদ্দেশ্য মানুষকে সাহস, ধৈর্য ও সংগ্রামের শক্তি দেয়।
এই উক্তিটি ভিক্টর ফ্র্যাঙ্কলের। এর অর্থ হলো, মানুষ যদি তার জীবনের উদ্দেশ্য বা ‘কেন’ প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পায়, তবে জীবনের যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলা করার উপায়ও খুঁজে পাবে। জীবনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য মানুষকে কষ্ট সহ্য করার শক্তি এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেয়।
ঈশ্বর মানুষের কাছে বিভিন্ন উপায়ে নিজেকে প্রকাশ করেন। তিনি প্রকৃতি, সৃষ্টি, মানুষের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা, নবী-প্রবক্তাদের শিক্ষা এবং সর্বোপরি তাঁর পুত্র যীশু খ্রিষ্টের মাধ্যমে নিজের ইচ্ছা ও পরিকল্পনা প্রকাশ করেছেন। এসবের মাধ্যমে মানুষ ঈশ্বরকে জানতে ও তাঁর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করতে পারে।
যীশু খ্রিষ্টকে সবচেয়ে বড় চিহ্ন বলা হয়, কারণ তিনি পৃথিবীতে এসে ঈশ্বরের ভালোবাসা, সত্য ও মুক্তির পরিকল্পনা মানুষের কাছে প্রকাশ করেছেন। তাঁর জীবন, শিক্ষা, মৃত্যু এবং পুনরুত্থানের মাধ্যমে মানুষ মুক্তির পথ জানতে পেরেছে। তাই তিনি ঈশ্বরের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রকাশ।
খ্রিষ্টানদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সত্য হলো—ঈশ্বর আমাদের প্রেমময় পিতা এবং আমরা তাঁর সন্তান। তিনি আমাদের ভালোবাসেন এবং আমাদের মুক্তি ও অনন্ত জীবনের জন্য যীশু খ্রিষ্টকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। এই বিশ্বাসই খ্রিষ্টীয় জীবনের ভিত্তি।
ঈশ্বর আমাদের তাঁর সন্তান হওয়ার জন্য আহ্বান করেছেন। তিনি চান আমরা তাঁর প্রতি বিশ্বাস রাখি, তাঁর আদেশ পালন করি এবং ভালোবাসা, সত্য, ন্যায় ও সেবার জীবন যাপন করি। এভাবেই আমরা ঈশ্বরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি।
হিব্রু ১:১–২ পদে বলা হয়েছে, প্রাচীনকালে ঈশ্বর নবী-প্রবক্তাদের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। কিন্তু শেষ যুগে তিনি তাঁর পুত্র যীশু খ্রিষ্টের মাধ্যমে মানুষের কাছে নিজের ইচ্ছা ও সত্য প্রকাশ করেছেন। অর্থাৎ যীশু খ্রিষ্টই ঈশ্বরের পূর্ণ প্রকাশ।
যোহন ১৪:৬ পদে যীশু বলেছেন, "আমিই পথ, সত্য ও জীবন; আমার মাধ্যমে ছাড়া কেউ পিতার কাছে যেতে পারে না।" এর মাধ্যমে তিনি ঘোষণা করেছেন যে, তিনিই মুক্তি, সত্য ও অনন্ত জীবনের একমাত্র পথ।
যীশুর দেখানো পথের মূল বৈশিষ্ট্য হলো ভালোবাসা, সত্য, ক্ষমা, ত্যাগ, সেবা, বিনয় এবং ঈশ্বরের প্রতি আনুগত্য। তিনি মানুষকে ঈশ্বরকে ভালোবাসতে এবং প্রতিবেশীকে নিজের মতো ভালোবাসতে শিক্ষা দিয়েছেন। এই পথ অনুসরণ করলে মানুষ পরিপূর্ণ জীবন লাভ করতে পারে।
যীশুকে অনুসরণ করলে মানুষ সঠিক জীবনপথের দিশা পায়। তার মধ্যে সত্য, ন্যায়, ভালোবাসা ও ক্ষমার গুণ বিকশিত হয়। পাশাপাশি সে ঈশ্বরের আশীর্বাদ, অন্তরের শান্তি, মুক্তি এবং অনন্ত জীবনের আশা লাভ করে।
খ্রিষ্টের দেখানো পথে চলার জন্য একজন শিক্ষার্থীর বিশ্বাস, সততা, সত্যবাদিতা, পরিশ্রম, বিনয়, আত্মনিয়ন্ত্রণ, দয়া, ক্ষমাশীলতা এবং সেবার মনোভাব থাকা উচিত। পাশাপাশি নিয়মিত প্রার্থনা করা, ঈশ্বরের বাক্য অনুসরণ করা এবং সকল মানুষের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করা প্রয়োজন। এসব গুণ একজন শিক্ষার্থীকে নৈতিক, আদর্শবান ও সফল মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
প্রতিটি মানুষের জীবনে কিছু নির্ধারিত লক্ষ্য থাকে । এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে তারা জীবন পথে এগিয়ে চলে। অনেকে লক্ষ্যচ্যুত বা লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও বেশিরভাগ মানুষই লক্ষ্যে পৌঁছতে সক্ষম হয়। যারা লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে না তাদের জীবন অর্থহীন হয়ে যায় কিন্তু যারা লক্ষ্যের সন্ধান পেতে পারে তাদের জীবন হয় অর্থবহ । খ্রিষ্টভক্ত হিসেবে আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো অনন্ত জীবন লাভ করা ও স্বর্গে চিরকাল সুখী হওয়া । অনন্তকাল সুখী হওয়ার একমাত্র মাধ্যম হলেন যীশু খ্রিষ্ট। প্রভু যীশুই আমাদের মুক্তির পথ ও জীবনের পূর্ণতা । কারণ তিনিই পথ, সত্য ও জীবন । তাঁর মধ্য দিয়ে গেলে অনন্ত মুক্তির স্বাদ লাভ করা যায় ও পিতা ঈশ্বরের শ্রীমুখ দর্শনে চিরকাল সুখী হওয়া যায় ।
এই অধ্যায় শেষে আমরা-
জীবনের অর্থবহ লক্ষ্য অর্জনের আকাঙ্ক্ষা বর্ণনা করতে পারব;
সব সময় অর্থপূর্ণ জীবনের সন্ধান না পাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে পারব;
খ্রিষ্টের দেখানো পথই আমাদের পথ, এ বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে পারব এবং
খ্রিষ্টের দেখানো পথে চলব ।
অর্থবহ লক্ষ্যের সন্ধানে
সন্তানদের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে পিতামাতা কথা ও ভাষা শিক্ষা দেন, ছড়া বা গান শিক্ষা দেন, বই কিনে দেন, ছবি আঁকতে শেখান, স্কুলে পাঠান । এসব কিছুর পিছনে কারণ কী? আমরাই বা কেন স্কুলে যাই ও পড়াশুনা করি? প্রথম দিকে হয়তো পিতামাতা আমাদেরকে স্কুলে পাঠিয়েছেন, তাই আমরা স্কুলে গিয়েছি । পরে আমরা বিভিন্ন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছি? তারই বা কারণ কী? হয়তো আমরা তা করেছি যেন ভালো ফল বা শ্রেণিকক্ষে ভালো স্থান পেতে পারি । এই পর্যায়ে এসে আমরা এখন কীভাবে এই কারণ বিশ্লেষণ করব? কেন আমরা স্কুলে যাই, পড়াশুনা করি, পরীক্ষা দেই এমনকি বিজ্ঞান, বাণিজ্য বা মানবিক শাখা বেছে নেই? এসব বিষয় আমাদের নিজেদেরই চিন্তা করে আবিষ্কার করা দরকার ।
আমেরিকার কৃষ্ণাঙ্গ নেতা মার্টিন লুথার কিং বলেছেন, যার জীবনের লক্ষ্য নেই, তার বেঁচে থাকার অধিকারও নেই । প্রতিটি মানুষের জীবনে লক্ষ্য থাকা দরকার । সেই লক্ষ্য অনুসারে জীবন পথে এগিয়ে যাওয়া দরকার । যদি লক্ষ্য না থাকে তবে জীবন সঠিকভাবে পরিচালিত হয় না। আবার জীবনের সঠিক সময়ে সঠিক লক্ষ্যটি নির্ধারণ করতে না পারলে জীবন হয় অর্থহীন । ফলে হতাশা এসে জীবনকে গ্রাস করবে ।
তাই জীবনে লক্ষ্য থাকা এবং সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা প্রত্যেকের দরকার । নিজেকে প্রশ্ন করা দরকার, জীবন কী? জীবন কেন? আমি কে? আমি কার জন্য? আমি এখন কী করছি এবং ভবিষ্যতে কী করতে চাই? জীবন যদি সত্য হয়, তবে তার চেয়েও সত্য আর কী আছে? মৃত্যু কী? মৃত্যু কেন আসে? আমি চলে গেলে, পেছনে আমি কী রেখে যাব? মৃত্যুর পরে আমি কোথায় যাব? ইত্যাদি । এসব প্রশ্নের উত্তর যখন স্পষ্টভাবে চোখের সামনে ভেসে উঠবে তখনই সহজ হবে লক্ষ্য নির্ধারণ করে সেই মতো এগিয়ে চলা ।
একটি ঘটনা
প্রকাশ সবে মাত্র কলেজ শেষ করেছে । সে খুব ভালো ছাত্র এবং খুব ভালো রেজাল্ট করেছে। জীবন পথের এই সন্ধিক্ষণে এসে সে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছে । সে ভাবছে, এখন সে কোন্ দিকে যাবে? কোন্ বিষয় নিয়ে পড়াশুনা করবে ? তার ছোট বেলা থেকে ইচ্ছা ছিল, সে ডাক্তার হবে। অন্যদিকে তার বড় ভাই একজন ইঞ্জিনিয়ার । দাদার পেশাও প্রকাশের ভালো লাগে । সে এখন কী করবে, মনস্থির করতে পারছে না ।
একদিন প্রকাশ খেলার মাঠে পায়চারী করছে এমন সময় পিছন থেকে এক ব্যক্তি তার কাঁধে হাত রাখল । ঘাড় ফিরিয়ে প্রকাশ দেখল, তার কলেজের অধ্যক্ষ । সে এই সুযোগটি গ্রহণ করল এবং তার মনের অস্থিরতা অধ্যক্ষকে জানালো । প্রকাশ শিক্ষকের পরামর্শ গ্রহণ করল এবং সেইভাবে কাজ করল । আজ প্রকাশ একটি বড় হাসপাতালের বড় ডাক্তার ।
জীবনের লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য মানুষ সময় ব্যয় করে, যেন যোগ্যতা ও দক্ষতাকে বৃদ্ধি করতে পারে । একইসাথে যেন চরিত্র ও বিবেককে গঠন করতে পারে । চরিত্র ও বিবেকের গঠন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । এর জন্য জ্ঞানচর্চা এবং সাধনা ও অনুশীলন করতে হয় । লক্ষ্য পূরণের জন্য বা লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য যা ভালো, মানুষ তারই সন্ধান করে, এই সন্ধান করার কাজ যতই কঠিন হোক না কেন । তাই সবাই স্কুলে যায়, পড়াশুনা করে, জ্ঞানচর্চা করে, পরীক্ষা লিখে এবং অজানাকে জানার অনুসন্ধান করে ।
এই অনুসন্ধানের পথে মানুষ যখন বাধার সম্মুখীন হয়, তখন যতক্ষণ এই বাধা উত্তরণের একটি সঠিক উত্তর খুঁজে না পায় ততক্ষণ তারা হতাশায় ভেঙ্গে পড়ে । দিশাহারা হয়ে যায় । জীবনের অর্থ হারিয়ে ফেলে । তারা প্রয়োজনে অন্যের কাছে যায় যেন নির্দেশনা পায় । যারা আরও অভিজ্ঞ, যোগ্য, দক্ষতা সম্পন্ন মানুষ তাদের কাছে যায় । এই যাওয়া হতে পারে পরিবারে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, কিংবা কোনো গুরু বা অভিজ্ঞ ব্যক্তির কাছে । এমনিভাবে জীবনের অর্থবহ লক্ষ্যের সবাই সন্ধান করে ।
কাজ: ১. তোমার নিজের আকাঙ্ক্ষা বা লক্ষ্য কী তা লেখ ।
কাজ: ২. এমন কী আকাঙ্ক্ষা আছে যা পূরণের মাধ্যমে চিরস্থায়ী সুখ ও আনন্দ পাওয়া যায়?
পূর্ণতার সন্ধানে ব্যর্থতার কারণ
জীবনের অনেক ক্ষেত্রে সকল প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় না । সকল অনুসন্ধান সার্থক হয় না । সকল সমস্যার সমাধান পাওয়া যায় না । অনেক সময় ব্যর্থতা এসে সামনে দাঁড়ায়। ফলে লক্ষ্যে পৌঁছানো আর হয় না । ব্যক্তিগত জীবনে কিংবা পারিবারিক জীবনে এমন কি প্রাতিষ্ঠানিক কিংবা রাষ্ট্রীয় জীবনেও পূর্ণতার সন্ধানে এরূপ ব্যর্থতা নেমে আসে । কোন একটি বিষয়ে যখন সাফল্য খুঁজে পাওয়া যায়, আমরা অনেক আনন্দ করি । মন তৃপ্তিতে ভরে যায় । পরক্ষণেই আরেকটি সাফল্যের চেষ্টা করি ।
আবার অনেক সময় আমাদের মুখের হাসি বিলীন হয়ে যায় । চোখে জল নেমে আসে । মন ভালো লাগে না । হতাশা নিরাশা দানা বাঁধে। পূর্ণতার সন্ধান ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয় । ফলে জীবন নিরর্থক হয় । এই ব্যর্থতার কারণগুলো হয়তো সহজভাবে বোঝা যায় না । কারণগুলো খোঁজার জন্য এই প্রশ্নগুলো করতে পারি: আমাদের জীবনের কি সঠিক লক্ষ্য ছিল? সেই লক্ষ্যমতে আমরা কি চলেছি? আমাদের চরিত্র ও বিবেকের
গঠন কি যথাযথ হয়েছে? আমরা কি বিবেকের কথা শুনে চলেছি? আমরা কি সঠিক সময়ে সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলাম? সর্বোপরি, আমরা কি সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের ওপর নির্ভর করেছিলাম? না কি নিজের শক্তির ওপরই নির্ভর করে চলেছিলাম?
পবিত্র বাইবেলে আমরা দেখি,
যীশু যুবকটিকে বললেন, “যদি পূর্ণতা লাভ করতে চাও, তাহলে এখন যাও; তোমার যা-কিছু আছে, সবই বিক্রি করে দাও; আর সেই টাকাটা গরিবদের দিয়ে দাও; তাহলে স্বর্গে তোমার জন্য প্রচুর মহা সম্পদ সঞ্চিত থাকবে । তারপর আমার কাছে এসো আর আমার সঙ্গে সঙ্গে চল । এই কথা শুনে যুবকটি কেমন যেন বিষণ্ন হয়েই ফিরে গেল; কেন না তার নিজের প্রচুর সম্পত্তি ছিল ” (মথি ১৯:২১-২২)। যীশু যাদেরকে পূর্ণতা লাভের জন্য আহ্বান জানান, তাদের কাছ থেকে পুরোপুরি আত্মসমর্পণ চান । কিন্তু মঙ্গলসমাচারের এই যুবকটির পূর্ণতার পথের বাধা ছিল তার নিজস্ব ধনসম্পদের প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণ । দ্বিতীয়ত, সমাজে ধনী হিসেবে তার একটা সামাজিক মর্যাদা ছিল । সম্পদ হারালে তার আর সেই মর্যাদা থাকবে না । এই আশংকা তার পথের বাধা হয়ে দাঁড়াল । যুবকটি যীশুর পরামর্শ চাইল ঠিকই, কিন্তু সেই পরামর্শ অনুসারে চলার মানসিকতা তার ছিল না । কাজেই পূর্ণতার পথে বাধা হতে পারে মানুষের স্বার্থপরতা এবং আত্মকেন্দ্রিকতা ।
আমরা জানি, স্বার্থপর ও আত্মকেন্দ্রিক মানুষ তার স্বার্থ উদ্ধারের জন্য নানাবিধ অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত হয় । এ ধরনের কাজের ফলে এই লোকদের জীবনে ব্যর্থতা অবশ্যই নেমে আসে । পূর্ণতার সন্ধানে তারা আর বেশিদূর অগ্রসর হতে পারে না । জীবনের সঠিক দিক নির্দেশনা খুঁজে পায় না ।
কাজঃ কোন্ আকাঙ্ক্ষা-পূরণ ইতিবাচক সুখের জন্ম দেয় ও কোন রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় না এবং কোন্ আকাঙ্ক্ষা-পূরণ নেতিবাচক সুখ অর্থাৎ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টিকারী সুখের জন্ম দেয় তা দুইটি সারণিতে লেখ।
খ্রিষ্টের দেখানো পথ
পূর্ণতা লাভের জন্য খ্রিষ্টের দেখানো পথই হলো সর্বোত্তম ।
একবার দুইজন মেয়ের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল । তাদের একজন ছিল গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিক ও অন্যজন ছিল কলেজ ছাত্রী । দুইজনকে পৃথকভাবে একই প্রশ্ন করা হয়েছিল। প্রশ্নটি ছিল: “ঈশ্বর যে আছেন তুমি কি তা বিশ্বাস কর”? দুইজনই উত্তর দিয়েছিল: “হ্যাঁ”। তাদের কাছে দ্বিতীয় প্রশ্ন ছিল “সৃষ্টিকর্তা দেখতে কেমন”? শ্রমিক মেয়েটির মনে তেমন উৎসাহের ভাব ছিল না। সেই মনোভাব নিয়েই সে উত্তর দিল, “আপনি হয়তো আমার উত্তরে সুখী হবেন না, কিন্তু আমি মনে করি ঈশ্বর মানুষকে খেলার সামগ্রী হিসেবে সৃষ্টি করেছেন ।” আর কলেজ পড়ুয়া মেয়েটি একটু সময় নিয়ে উত্তর দিল । সে বলল, “আমার মনে হয় ঈশ্বর খুবই মহৎ, তিনি এই পৃথিবী ও মানুষকে অতি সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন ।”
শ্রমিক মেয়েটি ছিল একটি ভগ্ন পরিবারের সন্তান। তার বাবা ও মা আলাদা হয়ে গিয়েছিল। আর কলেজ পড়ুয়া মেয়েটি বড় হয়েছে একটি ধনী ও সম্ভ্রান্ত পরিবারে তার পিতামাতা, বন্ধুবান্ধব ও শিক্ষকদের ভালোবাসার পরিমণ্ডলে । এই দুইজন মেয়ের দেওয়া উত্তরের মধ্যে পার্থক্যের কারণ কী? এর কারণ হলো, আমরা সবাই আমাদের পারিপার্শ্বিক বাস্তব অবস্থা দ্বারা পরিচালিত । আমরা যে যেই
পরিবার ও পরিবেশে বড় হই, সে সেই পরিস্থিতি দ্বারা গঠিত, পরিচালিত কিংবা সক্রমিত হই । আমাদের চিন্তা, বুদ্ধি ও দর্শন অনেক সময় সেই পরিবেশের আলোকেই সৃষ্টি হয়ে থাকে ।
এই দুইজন মেয়ের মতো আমরাও কখনো কখনো নিজেদের হতাশার অনুভূতিতে আবার কখনো কখনো সুখের অনুভূতিতে সবকিছু দেখে থাকি । কারণ এই অনুভূতিগুলো আমাদের মধ্যে এতই প্রবল যে, সেগুলো আমাদের চিন্তার সাথে রং মিশিয়ে দিতে পারে এবং দৃষ্টিভঙ্গিও প্রভাবিত করতে পারে ।
আমাদের মনে রাখতে হবে, আমরা শুধুমাত্র আমাদের অনুভূতি দ্বারা নিজেদেরকে পরিচালিত হতে দিতে পারি না । কারণ বাস্তব জগতে আমরা দেখি: এমন কোন ব্যবসায়ী নেই যিনি কোন একটি প্রতিষ্ঠানকে শুধু ভালো লাগে বলেই সেই প্রতিষ্ঠানে তার নিজের মূল্যবান টাকাপয়সা বিনিয়োগ করবেন । তেমনিভাবে এমন কোন ডাক্তার নেই যিনি এই মুহূর্তে তার অনুভূতি ভালো আছে বলেই একজন রোগীর দেহে অপারেশন করতে চাইবেন।
সত্যিকার অর্থে আমাদের প্রত্যেককেই বাস্তব অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পরিচালিত হতে হয়। শুধু মনের ভাবুকতা আর অনুভূতির দ্বারা আমাদের পরিচালিত হওয়া ঠিক নয় । উপরে উল্লিখিত ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা বা অন্য কোনো পেশার বেলায় যা প্রযোজ্য অন্যান্য সবকিছুর বেলায়ও সেই একই বিষয় প্রযোজ্য । অর্থাৎ ব্যবসায়ী ও চিকিৎসকের মতো করে আমাদেরও অনুভূতির দ্বারা পরিচালিত না হয়ে বাস্তব অবস্থার ওপর নির্ভর করতে হবে ।
আসলে আমরা জীবনে সফল ও সুখী হতে এবং পুর্ণতা লাভ করতে পারবো না, যদি আমরা ঘটনার সত্যতা ও বাস্তবতা খুঁজে না পাই । আমাদের সকল সফলতা ও ব্যর্থতা, উন্নতি ও অবনতি, উজ্জ্বল ও অন্ধকার ভবিষ্যৎ নির্ভর করে আমাদেরই ওপর । আমরা যে যেভাবে সত্যকে খুঁজি সে সেভাবেই পরিচালিত হই বাস্তবতা ও বিবেকের প্রয়োজনে ।
দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে মনোবিজ্ঞানী কার্ল ইয়ুং বলেছিলেন, “আমি আমার জীবনে যত মানুষের চিকিৎসা করেছি, তাদের মধ্যে একজনকেও খুঁজে পাইনি যার সব সমস্যার গোড়ায় ধর্মীয় সমস্যা ছিল না । . . .কাজেই তাদের চিকিৎসাও আমাকে ধর্মীয়ভাবেই করতে হয়েছে ।”
এই খ্যাতনামা মনোচিকিৎসক কেন ধর্মকে স্বাস্থ্যলাভের কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে প্রাধান্য দিয়েছেন ? কারণটা খুবই স্পষ্ট । প্রতিটি ব্যক্তির জীবনের গভীরতম তলদেশে অবস্থিত যেসব সমস্যা, সেগুলো হচ্ছে তার জীবন, মৃত্যু, তার ভালো ও মন্দ অভিজ্ঞতা, ভালোবাসা ও ঘৃণা, কষ্টভোগ কেন্দ্রিক সমস্যা । এসব সমস্যার অর্থপূর্ণ উত্তর পাওয়া যায় ধর্ম থেকে । মানসিকভাবে সুস্থ থাকার লক্ষ্যে যেসব সমস্যার উৎপত্তি হয় সেগুলোর যথাযথ উত্তর শুধু মনোচিকিৎসাবিদ্যার বেলায় সম্ভব নয়। এসবের উত্তর পাওয়ার জন্য মানুষকে আরও গভীরে প্রবেশ করতে হবে। অর্থাৎ তার অন্তরাত্মায় প্রবেশ করে সেখানে ধর্মীয় দিক থেকে উত্তর সংগ্রহ করতে হবে ।
ধর্ম আমাদেরকে একটি বিষয় বোঝার জ্ঞান দিয়ে থাকে যে, আমাদের চারপাশের পরিবর্তনশীল অবস্থাগুলো হচ্ছে বিভিন্ন চিহ্ন । এই চিহ্নগুলো আমাদেরকে ‘কেন’ এবং ‘কীভাবে' প্রশ্নের উত্তর পেতে সাহায্য করে । এগুলো আমাদের কাছে ঈশ্বরের উপস্থিতি আর পরিকল্পনার কথা বলতে চায় ।
বিশ্বের আরও একজন খ্যাতনামা মনোবিজ্ঞানীর নাম হলো ভিক্টর ফ্র্যাঙ্কল্ । তিনি ১৯০৫ খ্রিষ্টাব্দের ২৬শে মার্চ অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা শহরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দের ২রা সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন । তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানদের হাতে বন্দী হয়ে নাৎসী কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে বহু কষ্টকর জীবন কাটিয়েছিলেন । তাঁর মতে ঐ বন্দী অবস্থা তাঁর জন্য ছিল পৃথিবীতে একটা জীবন্ত নরক । কারণ ওখানে বন্দীদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হতো, তাদেরকে দিনের পর দিন না খাইয়ে রাখা হতো। এভাবে তাদের স্বাস্থ্য খুব খারাপ হয়ে গেলে একদিন তাদেরকে নিয়ে গ্যাসের চুলায় ঢুকিয়ে দেওয়া হতো । সেই জ্বলন্ত চুলার ভিতরেই ঐ অসহায় লোকগুলো নিশ্চিহ্ন হয়ে যেত । ভিক্টর ফ্র্যাঙ্কল্ বলেছেন, ঐ ক্যাম্পে যারা দৈহিকভাবে সুস্থ ছিল তারাই যে এই ভয়ানক যন্ত্রণাময় অবস্থা থেকে রেহাই পেত, তা নয় । বরং যাদের মনে বেঁচে থাকার কোন একটা উদ্দেশ্য থাকত, তারাই বেঁচে থাকতে পারত--সহজে রোগা হতো না আর তাদেরকে চুলার মধ্যে ঢুকিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হতো না । তাঁর এই ধারণা থেকেই তিনি পরবর্তীতে মানসিক চিকিৎসার জন্য একটা পদ্ধতি আবিষ্কার করতে পেরেছিলেন । এই পদ্ধতিটির নাম ছিল লোগোথেরাপি। এর মাধ্যমে মানসিক সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিদেরকে তাদের জীবনের উদ্দেশ্য নির্ধারণ করতে সাহায্য করার মাধ্যমে তাদের মানসিক রোগের চিকিৎসা করা হতো। তিনি বলতেন, যদি তোমার জীবনে ‘কেন’ কথার উত্তর পাও, তবে নিশ্চয়ই ‘কীভাবে’ প্রশ্নেরও উত্তর খুঁজে পাবে ।
সব জীবন ও সত্যের গভীরতম বাস্তবতা ও ভিত্তি হলেন স্বয়ং ঈশ্বর । তিনি আমাদেরকে সাহায্য করতে চান আমরা যেন সবকিছুর বাস্তব অবস্থা খুঁজে বের করতে পারি । তিনি এর জন্য বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করছেন। প্রতিদিন আমরা যে অভিজ্ঞতা করি আর যা কিছু দেখি সেগুলো শুধু জাগতিক অভিজ্ঞতাই নয় বরং সেগুলো আমাদেরকে স্বয়ং ঈশ্বরের উপস্থিতির কথা স্মরণ করিয়ে দেয় ।
সবচেয়ে বড় চিহ্ন হলেন যীশু খ্রিষ্ট যিনি পৃথিবীতে এসে আমাদের কাছে প্রতিদিনকার এসব চিহ্নের অর্থ ব্যাখ্যা করেছেন । এভাবে আমাদেরকে তিনি পথ দেখিয়ে ও পরিচালনা করে পিতার কাছে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন ।
খ্রিষ্টানুসারী হিসেবে আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সত্য বিষয়টি হলো এই যে, ঈশ্বর আমাদের প্রেমময় পিতা। আমাদেরকে তিনি আহ্বান করেছেন তাঁর সন্তান হতে । যখন আমরা খাঁটি অন্তরে এই আহ্বানে সাড়া দেই তখন আমরা জীবনের গভীরতম অর্থেরও সন্ধান পেতে পারি । পিতাকে আমরা কীভাবে জানতে পারি? তাঁকে না জেনে তো আমরা তাঁকে ভালোবাসতে পারি না ।
ঈশ্বর আমাদের পিতৃপুরুষদের মধ্য দিয়ে যুগ যুগ ধরে আমাদের কাছে জীবন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সত্য প্রকাশ করেছেন: “প্রাচীনকালে পরমেশ্বর আমাদের পিতৃপুরুষদের কাছে বহুবার বহুরূপে কথা বলেছিলেন প্রবক্তাদের মুখ দিয়ে, কিন্তু শেষ যুগের এই দিনগুলোতে আমাদের কাছে তিনি কথা বললেন আপন পুত্রেরই মুখ দিয়ে, সেই তাঁরই মুখ দিয়ে, যাঁকে তিনি দিয়েছেন নিখিল বিশ্বের ওপর তাঁর আপন অধিকার । তাঁর দ্বারাই তিনি রচনা করেছেন বিশ্বচরাচর” (হিব্রু ১:১-২)।
যীশু বলেন, “আমিই পথ, সত্য ও জীবন” (যোহন ১৪:৬)। আমাদের মনে যত রকমের প্রশ্ন জাগে, সেসবের উত্তর লাভ করে পিতার কাছে যাবার পথ আমাদের দেখান যীশু নিজে । তিনি এর প্রমাণ দিয়েছেন তাঁরই নিজ জীবনে । এই পথ হলো ভালোবাসার পথ, ঈশ্বর ও মানুষকে ভালোবাসার পথ । যীশু খ্রিষ্ট নিজে এই পথ অবলম্বন করেছেন । তিনি মুত্যুর মধ্য দিয়ে প্রবেশ করে পুনরুত্থান করেছেন, মানুষ হিসাবে তিনি পরিপূর্ণতা লাভ করেছেন, পিতার যোগ্য পুত্র হয়েছেন । তাঁকে অনুসরণ করলেই আমরা যে-কোন পথের মোড়ে এসে সঠিক পথের দিকনির্দেশনা পেতে পারব । কারণ তিনিই সত্যিকারের পথ ও জীবন ।
কাজ ১: জীবনকেন্দ্রিক যেসব প্রশ্নের উত্তর তুমি ধর্ম বিশ্বাস ও শিক্ষা থেকে পাও, সেগুলো তোমার জন্য কতখানি অর্থপূর্ণ হয় তা দলে সহভাগিতা কর ।
কাজ ২: একটি ছেলে স্কুল বাদ দিয়ে সিগারেট খায় ও এদিক সেদিক ঘোরাঘুরি করে । তাকে আবার স্কুলে ফিরিয়ে আনার জন্য দলের সকলে মিলে একটি পরিকল্পনা প্রস্তুত কর ।
অনুশীলনী
বহুনির্বাচনি প্রশ্ন
১. যারা লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারে না তাদের জীবন কেমন হয় ?
ক. অপূর্ণ
খ. সাৰ্থক
গ. বিশৃঙ্খল
ঘ. অর্থহীন
২. পূর্ণতার পথে বাধা হতে পারে
i. স্বার্থপরতা
ii. ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা
iii. দরিদ্রতা
নিচের কোনটি সঠিক ?
ক. i
গ. ii ও iii
খ. i ও ii
ঘ. i, ii ও iii
নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৩ ও ৪নং প্রশ্নের উত্তর দাও :
সকল ও রঞ্জন একই গ্রামে পাশাপাশি বসবাস করেন । সজল অবস্থাপন্ন, রঞ্জন তুলনামূলকভাবে অস্বচ্ছল । সজল জোর করে রঞ্জনের জায়গা দখল করে সেখানে ঘর তৈরি করেছেন । রঞ্জন গ্রামের চেয়ারম্যানের কাছে সুবিচার পাওয়ার জন্য বিচার দিলেন । এদিকে সজল ব্যাপারটা জানতে পেরে চেয়ারম্যানকে খুশি করার জন্য উপহার পাঠালেন । চেয়ারম্যান বিচারে সুকৌশলে সজলের পক্ষে কথা বললেন ।
৩. চেয়ারম্যানের আচরণে কী প্রকাশ পায় ?
ক. সততা
গ. দুর্নীতি
খ. স্বার্থপরতা
ঘ. স্বজনপ্রীতি
৪. চেয়ারম্যানের এরূপ আচরণের ফলে সমাজের পরিণতি কী হতে পারে ?
i. সম্পর্কের উন্নতি
ii. অরাজকতা
iii. বিশৃঙ্খলা
নিচের কোনটি সঠিক ?
ক. i
খ. i ও ii
গ. ii ও iii
ঘ. i, ii ও iii
সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন
১. লক্ষ্য পূরণের জন্য মানুষ কী করে ?
২. খ্রিষ্টভক্ত হিসেবে আমাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য কী হওয়া উচিত ? ব্যাখ্যা কর ।
৩. খ্রিষ্টের দেখানো পথই আমাদের পথ – বিষয়টি ব্যাখ্যা কর ।
৪. সবসময় অর্থপূর্ণ জীবনের সন্ধান না পাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা কর ।
৫. তুমি কীভাবে খ্রিষ্টের দেখানো পথে চলবে ? লেখ ।
সৃজনশীল প্রশ্ন
১. সীমা লেখাপড়া করছে । তার বাবা-মায়ের ইচ্ছা মেয়ে ডাক্তার হবে। কিন্তু সীমা লেখাপড়ায় মোটেও মনোযোগী নয় । বাবা-মা তাকে সবসময় বলেন মন দিয়ে লেখাপড়া করতে । ভালো রেজাল্ট করতে হলে এখন থেকেই মনোযোগী হয়ে পরিশ্রম করে পড়তে হবে। কিন্তু সীমা লেখাপড়ার ব্যাপারে একেবারে উদাসীন । ফলে তার রেজাল্টও খুব একটা ভালো হলো না । রেজাল্ট ভালো না হওয়ার কারণে সে মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারল না । এমনকি পরবর্তীতে সে ভালো কোনো প্রতিষ্ঠানেও ভর্তি হতে পারল না।
ক. পূর্ণতা লাভের জন্য কোন পথ সর্বোত্তম ?
খ. ‘লোগোথেরাপি' বলতে কী বুঝ ?
গ. সীমার জীবনের ব্যর্থতার কারণ কী ? ব্যাখ্যা কর ।
ঘ. জীবনে সফলতা লাভের জন্য সীমাকে কী কী করতে হবে তা বিশ্লেষণ কর ।
মনোবিজ্ঞানী ভিত্তর ঘষ্টের দেখানো পথই হলো সর্বোত্তম একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেন, যার নাম লোগোথেরাপি। এর মাধ্যমে মানসিক সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিদের তাদের জীবনের উদ্দেশ্য নির্ধারণ করতে সাহায্য করা এবং তাদের মানসিক রোগের চিকিৎসা করা হতো।
জীবনে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকলে জড়ির নাম লোগোথেরাপি বেশি থাকে। প্রতিটি মানুষের জীবনে কিছু নির্ধারিত লক্ষ্য থাকে। লক্ষ্য সামনে রেখেই জীবনপথে এগিয়ে চলতে হাতের মোক ক্ষেত্রে লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে বেশির ভাগ মানুষই লক্ষ্যে পৌছাতে পারে না।
সীমার জীবনে ব্যর্থতার কারণ লক্ষ্যচ্যুত বা লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়া। সীমা জীবনের শুরুতে লক্ষ্য স্থির করতে পারেনি। যার কারণে তার জীবন সঠিকভাবে পরিচালিত হয় না। জীবনে সঠিক সময়ে সঠিক লক্ষ্যটি নির্ধারণ করতে না পারায় সীমার জীবন হয় অর্থহীন। ফলে হতাশা তার জীবন গ্রাস করে। তাই জীবনে লক্ষ্য থাকা এবং সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা প্রত্যেকের দরকার। আমেরিকার কৃষ্ণাঙ্গ নেতা মার্টিন লুথার কিং বলেছেন, "যার জীবনের লক্ষ্য নেই, তার বেঁচে থাকার অধিকারও নেই।” কিন্তু সীমা লক্ষ্যে পৌছানোর জন্য মনোযোগী ছিল না। ফলে তার দক্ষতা সেভাবে গড়ে ওঠে না। পূর্ণতার সন্ধান ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। ফলে সীমার জীবন নিরর্থক হয়।
মূলকথা: সীমার মধ্যে জ্ঞানচর্চা এবং সাধনা ও অনুশীলন কম ছিল।
আমেরিকার কৃষ্ণাঙ্গ নেতা মার্টিন লুথার কিং বলেছেন, "যার জীবনের লক্ষ্য নেই, তার বেঁচে থাকার অধিকারও নেই।” প্রতিজন মানুষের জীবনে লক্ষ্য থাকা দরকার। সেই লক্ষ্য অনুসারে জীবনপথে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। যদি লক্ষ্য না থাকে তবে জীবন সঠিকভাবে পরিচালিত হয় না।
জীবনে সফলতা লাভের জন্য সীমার যা যা করা দরকার তা হলো- সঠিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা; জীবনে লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য সময় ব্যয় করা, যেন যোগ্যতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি করা যায়; চরিত্র ও বিবেকের যথাযথ গঠন নির্ধারণ করা; জ্ঞানচর্চা, সাধনা ও অনুশীলন করা; লক্ষ্য পূরণের জন্য বা লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য যা ভালো তা সাধনা করা। যারা আরও অভিজ্ঞ, যোগ্য, দক্ষতাসম্পন্ন মানুষ তাদের পরামর্শ নেওয়া এবং সে অনুযায়ী কাজ করা। উক্ত বিষয়গুলো অনুধাবন ও প্রয়োগের মাধ্যমে সীমা তার লক্ষ্যে পৌছাতে পারে।
মূলকথা: বিভিন্ন পন্থা অবলম্বনের মাধ্যমে সীমা জীবনে সফলতা লাভ করতে পারবে।
মনোবিজ্ঞানী ভিত্তর ঘষ্টের দেখানো পথই হলো সর্বোত্তম একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেন, যার নাম লোগোথেরাপি। এর মাধ্যমে মানসিক সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তিদের তাদের জীবনের উদ্দেশ্য নির্ধারণ করতে সাহায্য করা এবং তাদের মানসিক রোগের চিকিৎসা করা হতো।