১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় এবং সারা দেশ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। কেননা বাঙালিরা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল স্বাধীনতার মরণপণ যুদ্ধে।
বাঙালিরা প্রতিজ্ঞা করে যেভাবেই হোক পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে পরাজিত করে শত্রুমুক্ত করতে হবে প্রিয় মাতৃভূমিকে। তাই সব পেশার মানুষ যোগ দেয় মুক্তিযুদ্ধে। আর এভাবেই গঠিত হয় মুক্তিবাহিনী।
মুক্তিযোদ্ধারা সবাই জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন। তাঁরা দেশকে স্বাধীন করতে মরণপণ লড়াই করেছেন এবং অনেকেই শহিদ হয়েছেন।
যুদ্ধ করার সময় আকস্মিকভাবে পাকিজানি সেনাদের গুলি এসে তাঁর কপালে লাগে। তিনি মাটিতে পড়ে যান। আর এভাবেই ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর শহিদ হন।
ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ১৯৪৯ সালের ৭ই মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মস্থান বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার রহিমগঞ্জ গ্রামে।
ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরকে ৭ নম্বর সেক্টরে পাঠানো হয়। তিনি সেখান থেকে মালদহ জেলার মেহেদিপুর মুক্তিবাহিনী ক্যাম্পে যোগ দেন।
সাহস ও ক্ষিপ্রতার কারণে ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীরের আক্রমণের ধারা ভিন্ন ছিল। অনেক অপারেশনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি শত্রুসেনাদের খতম করেছেন।
মতিউর রহমান ছিলেন একজন বৈমানিক। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি করাচির মাসরুর বিমান ঘাঁটিতে কর্মরত ছিলেন। তিনি পাকিস্তান বিমানবাহিনীতে ছাত্রদের বিমান প্রশিক্ষণের দায়িত্ব পালন করতেন।
মতিউর রহমান পরিকল্পনা করেছিলেন যে, তাঁর ছাত্র মিনহাজ যেদিন বিমান নিয়ে আকাশে উড়বে, সেদিন তিনি মিনহাজের কাছ থেকে বিমানটি ছিনিয়ে নিয়ে ভারতে যাবেন ।
পরিকল্পনা অনুযায়ী অচেতন করে মিনহাজের কাছ থেকে বিমান হাইজ্যাক করে অনেকটা পথ আসার পর মিনহাজের জ্ঞান ফিরে আসে। তখন মিনহাজ বিমানটিকে ফেরানোর জন্য ধস্তাধস্তি শুরু করে। একপর্যায়ে বিমান পাকিস্তানের খাট্টায় বিধ্বস্ত হয়। এভাবেই মতিউর রহমান শহিদ হন।
২০০৬ সালে মতিউর রহমানের দেহাবশেষ দেশে ফিরিয়ে আনা হয় এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ঢাকার মিরপুরের শহিদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হয়।
মতিউর রহমান ১৯৪১ সালে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি পাকিস্তান বিমানবাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট পদে কর্মরত ছিলেন।
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান ১৯৫৩ সালের ২রা ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর থানার খর্দ খালিশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
সিপাহি হামিদুর রহমান ধলই সীমান্ত ফাঁড়ি দখলের নেতৃত্ব দেন। ১৯৭১ সালের ২৮শে অক্টোবর মুক্তিযোদ্ধারা মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ থানার ধলই সীমান্ত ফাঁড়ি দখল করার সিদ্ধান্ত নেন। সেখানে নেতৃত্ব দেন তরুণ সিপাহি হামিদুর রহমান।
পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে নির্ভয়ে যুদ্ধ করছিলেন সিপাহি হামিদুর রহমান। তিনি তাঁর হাতের দ্বিতীয় গ্রেনেডটা যখন ছুড়তে যাবেন তখনই শত্রুর মেশিনগানের গুলি এসে তাঁর গায়ে লাগে। এভাবেই শহিদ হন অকুতোভয় বীর সিপাহি হামিদুর রহমান।
সিপাহি হামিদুর রহমানকে প্রথমে ত্রিপুরার আমবাসা ইউনিয়নের হাতিমারাছড়া গ্রামে সমাহিত করা হয়। পরে ২০০৭সালের ১০ই ডিসেম্বর তাঁর দেহাবশেষ ফিরিয়ে আনা হয় বাংলাদেশে। পরদিন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মিরপুর শহিদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁকে পুনরায় সমাহিত করা হয়।
সাতজন বীর যোদ্ধাকে 'বীরশ্রেষ্ঠ' উপাধি দেওয়া হয়। তাঁরা হলেন- মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর, মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল, হামিদুর রহমান, মোহাম্মদ রুহুল আমিন, মতিউর রহমান, মুন্সী আবদুর রউফ এবং নূর মোহাম্মদ শেখ।
Related Question
View Allমুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য যাঁরা সর্বশ্রেষ্ঠ।
-স্বাধীনতা যুদ্ধে আত্মত্যাগের জন্য সাতজন 'বীরশ্রেষ্ঠ' খেতাব পেয়েছেন।
যুদ্ধের জন্য তৈরি করা মাটির গর্ত। যুদ্ধের সময় সৈনিকেরা এখানে আশ্রয় নিয়ে তাদের এলাকা পাহারা দেন এবং যুদ্ধ করেন।
-শত্রুসেনাদের আক্রমণ করার জন্য মুক্তিযোদ্ধারা অনেক বাঙ্কার তৈরি করেছিলেন।
বীরের গল্প।
-আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। যেন একটি বীরগাথা।
চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়া।
-গ্রেনেড ছুড়ে মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি ক্যাম্প ধূলিসাৎ করে দেন।
যুদ্ধের স্থান।
-১৯৭১ সালে এ দেশটি একটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
বাংলাদেশের মুক্তি ও স্বাধীনতার জন্য যাঁরা যুদ্ধ করেছেন তাঁদের বাহিনী।
-দেশকে শত্রুমুক্ত করার জন্য বাঙালিরা মুক্তিবাহিনী গঠন করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!