সংক্ষিপ্ত প্রশ্নের উত্তর লিখন :

Updated: 2 weeks ago
উত্তরঃ

বর্তমান সমাজে অন্যায়, দুর্নীতি, সহিংসতা, লোভ, স্বার্থপরতা ও মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষ অন্যের কষ্টের প্রতি উদাসীন হয়ে পড়ছে এবং বিবেকের পরিবর্তে ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দিচ্ছে। তাই বর্তমান সমাজকে অমানবিক বলা হয়েছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

মানুষ যখন অন্যায় ও অনৈতিক কাজ করেও অনুশোচনা বা অপরাধবোধ অনুভব করে না, তখন বলা হয় তার বিবেক পরাধীন হয়ে গেছে। অর্থ, লোভ ও ক্ষমতার মোহে মানুষ সত্য-মিথ্যার পার্থক্য ভুলে যাচ্ছে এবং নৈতিকতা থেকে বিচ্যুত হচ্ছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

সমাজে অরাজকতা সৃষ্টির প্রধান কারণ হলো অন্যায়, দুর্নীতি, লোভ, স্বার্থপরতা, নৈতিক শিক্ষার অভাব এবং আইনের প্রতি অবহেলা। এছাড়া সহিংসতা, বৈষম্য ও মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণেও সমাজে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

পরিবর্তিত বিশ্ব গঠনে শিক্ষার্থীদের সৎ, আদর্শবান, নৈতিক ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। তাদের সত্য, ন্যায়, ভালোবাসা, সহযোগিতা ও সেবার মনোভাব নিয়ে সমাজে কাজ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা ও সুন্দর চরিত্রই ভবিষ্যতের সুন্দর সমাজ গঠনের ভিত্তি।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

সমাজে মানুষের অধিকার হরণ, বৈষম্য, শোষণ, দুর্নীতি, অবিচার, সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো কর্মকাণ্ডকে সামাজিক অন্যায় বলা হয়। এসব অন্যায় মানুষের মধ্যে অশান্তি ও বৈরিতার সৃষ্টি করে এবং সমাজের স্বাভাবিক উন্নয়নে বাধা দেয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

তিলক প্রাতঃভ্রমণের সময় একটি পাঁচতারা হোটেলের ডাস্টবিনের পাশে একজন দরিদ্র মাকে তার ছোট শিশুসহ ডাস্টবিন থেকে খাবার সংগ্রহ করে খেতে দেখেন। একই ডাস্টবিনে একটি কুকুরও খাবার খাচ্ছিল। এই দৃশ্য দেখে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত হন এবং সমাজের বৈষম্য উপলব্ধি করেন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

ডাস্টবিনের ঘটনাটি সমাজের দারিদ্র্য, বৈষম্য, ক্ষুধা এবং মানবিক অবহেলার প্রতীক। একদিকে অপচয় হওয়া খাবার, অন্যদিকে মানুষের সেই খাবার খেতে বাধ্য হওয়া সমাজের চরম অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্যকে প্রকাশ করে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

সমাজে দারিদ্র্যের অন্যতম প্রধান কারণ হলো সম্পদের অসম বণ্টন। এছাড়া বেকারত্ব, দুর্নীতি, শিক্ষার অভাব, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণেও দারিদ্র্য বৃদ্ধি পায়। ফলে দরিদ্র মানুষের জীবন আরও কষ্টকর হয়ে ওঠে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

'দুই বিঘা জমি' কবিতায় ক্ষমতাবানদের লোভ এবং দরিদ্র মানুষের প্রতি অবিচারের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। কবি দেখিয়েছেন, লোভের কারণে ধনীরা গরিবের সামান্য সম্পদও দখল করতে চায়। কবিতাটি ন্যায়বিচার, মানবতা ও সহমর্মিতার শিক্ষা দেয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

এই উক্তির মাধ্যমে মানুষের সীমাহীন লোভের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। যার অনেক সম্পদ আছে, সে আরও বেশি সম্পদ অর্জনের চেষ্টা করে এবং অনেক সময় দরিদ্র মানুষের অধিকারও কেড়ে নেয়। উক্তিটি মানুষকে লোভ ত্যাগ করে ন্যায়, মানবতা ও সংযমের পথে চলার শিক্ষা দেয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

ভোগবাদ হলো এমন একটি মানসিকতা, যেখানে মানুষ ত্যাগ ও মানবিকতার পরিবর্তে ভোগ-বিলাস, সম্পদ ও জাগতিক সুখকে জীবনের প্রধান লক্ষ্য মনে করে। ভোগবাদ মানুষের মধ্যে লোভ, স্বার্থপরতা ও প্রতিযোগিতার মনোভাব সৃষ্টি করে এবং সমাজে বৈষম্য বৃদ্ধি করে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

সমাজে সম্পদের বৈষম্য তখনই প্রকাশ পায়, যখন অল্পসংখ্যক মানুষ অধিকাংশ সম্পদের মালিক হয় এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ মৌলিক চাহিদা থেকেও বঞ্চিত থাকে। এর ফলে ধনী আরও ধনী হয় এবং দরিদ্র আরও দরিদ্র হয়ে পড়ে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

ধনী-গরিব বৈষম্যের ফলে সমাজে অসন্তোষ, অপরাধ ও অশান্তি বৃদ্ধি পায়। এছাড়া দরিদ্র মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয় এবং সামাজিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

মানুষ অতিরিক্ত অর্থ, ক্ষমতা ও ব্যক্তিগত স্বার্থের পেছনে ছুটতে গিয়ে পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীর প্রতি দায়িত্ব ভুলে যাচ্ছে। ফলে তারা সমাজের পরিবর্তে নিজের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

স্বার্থপরতার কারণে মানুষের মধ্যে সহযোগিতা ও পারস্পরিক বিশ্বাস কমে যায়। এর ফলে দ্বন্দ্ব, হিংসা, মারামারি, দুর্নীতি, অন্যায় এবং সামাজিক অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়। সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতিও নষ্ট হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

সাম্প্রদায়িকতা হলো ধর্ম, বর্ণ বা সম্প্রদায়ের ভিত্তিতে মানুষে মানুষে বিভেদ সৃষ্টি করার মনোভাব। এটি সমাজে বিদ্বেষ, সংঘাত ও সহিংসতার জন্ম দেয় এবং জাতীয় ঐক্য ও শান্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

শ্রেণিভেদের কারণে সমাজে বৈষম্য ও বঞ্চনা সৃষ্টি হয়। ধনী-গরিব, উচ্চ-নিম্ন শ্রেণির মধ্যে দূরত্ব বাড়ে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতি নষ্ট হয়। এতে সমাজের সার্বিক উন্নয়ন ব্যাহত হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

দুর্নীতির ফলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা বাধাগ্রস্ত হয় এবং রাষ্ট্রের উন্নয়ন ব্যাহত হয়। এছাড়া মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়, অর্থনৈতিক বৈষম্য বৃদ্ধি পায় এবং জনগণের মধ্যে আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

ইভ টিজিং হলো নারী ও কিশোরীদের প্রতি অশোভন আচরণ, কটূক্তি, উত্যক্ত করা বা মানসিকভাবে হয়রানি করা। এটি একটি সামাজিক অপরাধ, যা নারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও স্বাধীন চলাফেরার জন্য বড় বাধা।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণে পরিবারে কলহ, মামলা-মোকদ্দমা ও সম্পর্কের অবনতি ঘটে। অনেক সময় সহিংসতা, হত্যা ও পারিবারিক বিচ্ছেদও ঘটে। ফলে সমাজে অশান্তি ও নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি পায়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

সমাজ বা রাষ্ট্রের পরিবর্তন আনার জন্য যখন অস্ত্র, হত্যা, রক্তপাত বা বলপ্রয়োগের পথ ব্যবহার করা হয়, তখন তাকে সহিংস বিপ্লব বলা হয়। এতে অনেক সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন হলেও মানুষের প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ ঘটে। তাই সহিংস বিপ্লব স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

মহাত্মা গান্ধীর অহিংস নীতির মূল বক্তব্য হলো—ঘৃণা ও প্রতিশোধ নয়, সত্য, ভালোবাসা ও শান্তির মাধ্যমে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করা। তিনি বিশ্বাস করতেন যে সহিংসতা নতুন সহিংসতার জন্ম দেয়, কিন্তু অহিংসা মানুষের হৃদয় জয় করতে পারে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

গান্ধীজী তাকে বলেছিলেন, যে মুসলিম শিশু মা-বাবা হারিয়েছে তাকে নিজের ঘরে এনে লালন-পালন করতে এবং মুসলিম হিসেবেই বড় হতে সাহায্য করতে। এই পরামর্শের মাধ্যমে তিনি প্রতিশোধের বদলে ভালোবাসা ও মানবতার শিক্ষা দিয়েছিলেন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

ফরাসি বিপ্লব ১৭৮৯ খ্রিষ্টাব্দে সংঘটিত হয়। এটি ছিল সামাজিক বৈষম্য, অত্যাচার ও শোষণের বিরুদ্ধে জনগণের একটি বড় আন্দোলন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ
  • ধনী ও দরিদ্রের মধ্যে চরম বৈষম্য ও শোষণ।

  • শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়া।

এছাড়া ধর্মীয় কঠোরতা ও রাজতান্ত্রিক অত্যাচারও বিপ্লবের গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ
  • অনেক মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

  • সম্পদ ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়।

এছাড়া সমাজে প্রতিহিংসা ও অস্থিরতা বৃদ্ধি পায় এবং শান্তি নষ্ট হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপানের হিরোসিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করা হয়েছিল। এতে লক্ষ লক্ষ মানুষ নিহত ও আহত হয় এবং দুটি শহর ধ্বংস হয়ে যায়। এই ঘটনা যুদ্ধের ভয়াবহতা ও সহিংসতার কুফলের এক মর্মান্তিক উদাহরণ।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

যুদ্ধের ফলে বন, নদী, কৃষিজমি ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস হয়। বোমা ও অস্ত্রের কারণে বায়ু, পানি ও মাটি দূষিত হয় এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। অনেক ক্ষতি দীর্ঘদিনেও পূরণ করা সম্ভব হয় না।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

সহিংসতা মানুষের মধ্যে ঘৃণা, প্রতিশোধ ও ভয়ের জন্ম দেয়। এক পক্ষের ক্ষতি অন্য পক্ষকে আবার প্রতিশোধ নিতে উৎসাহিত করে। ফলে সংঘাত চলতেই থাকে এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায় না।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

যীশু বলেছিলেন তিনি পুরাতন নিয়ম বাতিল করতে নয়, বরং তার পূর্ণতা দিতে এসেছেন। তিনি পুরাতন নিয়মের মূল শিক্ষা—ন্যায়, ভালোবাসা ও ঈশ্বরের প্রতি আনুগত্যকে আরও গভীরভাবে মানুষের জীবনে প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

যীশুর প্রথম আহ্বান ছিল, "তোমরা পাপ থেকে মন ফেরাও এবং মঙ্গলসমাচারে বিশ্বাস কর।" তিনি মানুষের বাহ্যিক পরিবর্তনের চেয়ে অন্তরের পরিবর্তনকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, মন ও হৃদয় পরিবর্তন হলেই ব্যক্তি, সমাজ ও বিশ্বে সত্যিকার পরিবর্তন আসবে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

যীশু তাঁর প্রচারকাজ শুরু করার আগে ৪০ দিন নির্জনে অবস্থান করেন। এই সময় তিনি ধ্যান, প্রার্থনা, উপবাস ও আত্মসংযমের মাধ্যমে নিজেকে প্রস্তুত করেন। এর মাধ্যমে তিনি মানুষের সামনে আদর্শ জীবনযাপনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

যীশু ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুযায়ী নিজেকে প্রস্তুত করার জন্য ৪০ দিন প্রার্থনা ও উপবাস করেছিলেন। তিনি দেখিয়েছেন যে, বড় কোনো দায়িত্ব গ্রহণের আগে আত্মিক প্রস্তুতি, ধৈর্য ও ঈশ্বরের ওপর নির্ভরশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

যীশু পাপহীন হওয়া সত্ত্বেও মানুষের জন্য আদর্শ স্থাপন করতে এবং ঈশ্বরের পরিকল্পনার প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করতে দীক্ষাস্নান গ্রহণ করেছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি নম্রতা, পবিত্রতা ও বাধ্যতার শিক্ষা দিয়েছেন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

যীশু বলেছেন, তিনি দরিদ্র, অসহায়, অত্যাচারিত, অবহেলিত, পাপী ও সমাজের চোখে ঘৃণিত মানুষের মুক্তি ও পরিত্রাণের জন্য এসেছেন। তিনি সকল মানুষের প্রতি সমান ভালোবাসা প্রদর্শন করেছেন এবং তাদের ঈশ্বরের পথে আহ্বান জানিয়েছেন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

যীশু মন্দিরকে প্রার্থনার পবিত্র স্থান হিসেবে গণ্য করতেন। কিন্তু সেখানে ব্যবসা-বাণিজ্য ও ধর্মের নামে অনৈতিক কাজ চলছিল। তাই তিনি ধর্মের অপব্যবহার ও অন্যায়ের প্রতিবাদ করে ব্যবসায়ীদের মন্দির থেকে বের করে দেন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

যীশু দরিদ্রদের "ধন্য" বলে সম্বোধন করেছেন। তিনি বলেছেন, স্বর্গরাজ্য তাদেরই। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে, যারা বিনয়ী, ঈশ্বরের ওপর নির্ভরশীল এবং সৎ জীবনযাপন করে, তারাই ঈশ্বরের আশীর্বাদ লাভ করবে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

যীশু শিক্ষা দিয়েছেন যে, সম্পদের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি মানুষকে ঈশ্বর থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। তাই ধনীদের উচিত দরিদ্রদের সাহায্য করা, নম্র হওয়া এবং সম্পদের অহংকার ত্যাগ করা। তিনি ন্যায়, দানশীলতা ও মানবসেবার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

যীশু অসুস্থ, দরিদ্র ও পাপীদের প্রতি বিশেষ সহানুভূতি দেখাতেন। তিনি তাদের সুস্থ করা, সান্ত্বনা দেওয়া এবং সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার জন্য তাদের কাছে যেতেন। এর মাধ্যমে তিনি ভালোবাসা, ক্ষমা ও মানবসেবার আদর্শ প্রতিষ্ঠা করেন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

এই উক্তির মাধ্যমে যীশু নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের শিক্ষা দিয়েছেন। প্রকৃত বন্ধু নিজের স্বার্থের চেয়ে অন্যের কল্যাণকে বেশি গুরুত্ব দেয়। যীশু নিজেও মানুষের মুক্তির জন্য ক্রুশে জীবন উৎসর্গ করে এই শিক্ষার বাস্তব উদাহরণ স্থাপন করেছেন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

যীশু মানবজাতির মুক্তি ও পরিত্রাণের জন্য ক্রুশবিদ্ধ হয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তিনি শত্রুদেরও ক্ষমা করেছিলেন এবং মানুষের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসার সর্বোচ্চ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তাঁর আত্মত্যাগ আমাদের ভালোবাসা, ক্ষমা ও ত্যাগের শিক্ষা দেয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

যীশুর মতে, প্রকৃত বড় হতে হলে সকলের সেবক হতে হবে। তিনি শিক্ষা দিয়েছেন যে, অহংকার নয় বরং নম্রতা, সেবা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে মানুষ প্রকৃত সম্মান অর্জন করে। তাই অন্যের সেবা করাই প্রকৃত নেতৃত্বের পরিচয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

যীশু নম্রতার শিক্ষা দিয়েছেন যাতে মানুষ অহংকার ত্যাগ করে একে অপরকে সম্মান করে এবং ভালোবাসার মাধ্যমে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে। তিনি নিজেই ঈশ্বর হয়েও মানুষের মাঝে সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করে নম্রতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

ক্রুশে বিদ্ধ অবস্থায়ও যীশু তাঁর শত্রুদের জন্য ঈশ্বরের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, "পিতা, এদের ক্ষমা করো; কারণ এরা জানে না এরা কী করছে।" এভাবে তিনি ক্ষমা ও ভালোবাসার সর্বোচ্চ উদাহরণ স্থাপন করেন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

যীশুর আন্দোলনের প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল ভালোবাসা, ক্ষমা, সত্য, সেবা, শান্তি ও আত্মত্যাগ। তিনি যুদ্ধ বা সহিংসতার মাধ্যমে নয়, বরং মানুষের হৃদয় পরিবর্তনের মাধ্যমে সমাজ পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাঁর আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল ন্যায়, শান্তি ও মানবকল্যাণ প্রতিষ্ঠা।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

যীশুর দেখানো পথের প্রধান গুণগুলো হলো—বিশ্বাস, ভালোবাসা, ক্ষমা, নম্রতা, পবিত্রতা, বন্ধুত্ব, সেবা, দরিদ্রতা, আত্মত্যাগ ও সত্যবাদিতা। এই গুণগুলো অনুসরণ করলে ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ই সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

আত্মত্যাগের মাধ্যমে মানুষ নিজের স্বার্থের চেয়ে সমাজের কল্যাণকে বেশি গুরুত্ব দেয়। এতে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়। যীশু নিজের জীবন উৎসর্গ করে আত্মত্যাগের সর্বোচ্চ আদর্শ স্থাপন করেছেন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

পুনর্মিলন বলতে বিরোধ, শত্রুতা বা ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে আবার শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করাকে বোঝায়। এটি সমাজে ঐক্য, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক বিশ্বাস গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

একজন খ্রিষ্টানের দায়িত্ব হলো যীশুর শিক্ষা অনুসারে সত্য, ন্যায়, ভালোবাসা, ক্ষমা ও সেবার আদর্শ অনুসরণ করা। পাশাপাশি দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা এবং সমাজে শান্তি ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় কাজ করা।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
উত্তরঃ

সত্য, সুন্দর ও শান্তিময় বিশ্ব প্রতিষ্ঠার জন্য ভালোবাসা, ক্ষমা, নম্রতা, ন্যায়পরায়ণতা, মানবতা, সহানুভূতি, সেবা, আত্মত্যাগ, সততা ও পারস্পরিক সহযোগিতার গুণাবলি প্রয়োজন। এসব গুণের চর্চার মাধ্যমে ব্যক্তি, সমাজ ও বিশ্বে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
2 weeks ago
156

চতুর্দশ অধ্যায়

পরিবর্তিত বিশ্ব চাই

বর্তমান জগতের বাস্তবতা দেখে আমাদের বুঝতে কষ্ট হয় না যে, সমাজ আজ অমানবিক কার্যকলাপে ভরপুর। মানুষের বিবেক যেন পরাধীন হয়ে গেছে । সেই কারণে অন্যায্য কার্যকলাপ করলেও মানুষের বিবেক বাধা দেয় না । ধর্মকর্মের চেয়ে খাওয়া-পরাই যেন মানুষের কাছে বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে । আধ্যাত্মিকতার চেয়ে জাগতিকতার মোহে মানুষ বেশি আবিষ্ট হয়ে আছে । ফলে অরাজকতা, অন্যায্যতা, অশান্তি চারিদিকে ছেয়ে আছে । আমরা এই পরিবর্তন করে সুস্থ ও সুন্দর বিশ্ব গড়তে চাই । আমরা আজ যারা শিক্ষার্থী, আমরা যদি পরিবর্তিত হই, তবেই বিশ্ব পরিবর্তিনের দিকে অগ্রসর হবে ।

এই অধ্যায় শেষে আমরা-

  • সমাজের অনাকাঙ্ক্ষিত অন্যায় কাঠামোর চিত্র বর্ণনা করতে পারব;
  • সমাজ পরিবর্তনে সহিংস বিপ্লবের কুফল ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • সমাজ পরিবর্তনে খ্রিষ্টের দেখানো পথের ব্যাখ্যা দিতে পারব এবং
  • সমাজ পরিবর্তনে সহিংসতা বর্জন করব ও খ্রিষ্টের দেখানো পথে চলব ।

সামাজিক অন্যায়ের চিত্র

তিলক একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তার রুটিনমাফিক প্রাতঃভ্রমণে বের হয়েছেন । একটা বড় পাঁচ তারা হোটেলের কাছে একটা ডাস্টবিন । সেখানে রাতের বেলায় হোটেলের উচ্ছিষ্ট কিছু খাবার ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছিল । একটা ময়লা ও তালি দেওয়া শাড়ি পরিহিতা একজন মা তার দুই বছরের শিশু পুত্রকে নিয়ে ঐ ডাস্টবিন থেকে খাবার নিয়ে একটু দূরে বসে খাচ্ছে। কাছেই একটা কুকুর এসে একই ডাস্টবিন থেকে খাবার খাচ্ছে । এত সকালে এমন একটা দৃশ্য দেখে তিলকের ভিতরে নাড়া দিয়ে উঠল

 

কাজ: কয়েকজন করে দলে গোল হয়ে বসো । উপরের অবস্থাটি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা কর:

ঘটনাটি শুনে তোমার কেমন লাগল?

ঘটনাটির জন্য কে বা কারা দায়ী ?

এর মানবিক ও আবেগীয় দিকগুলো তুমি কীভাবে বর্ণনা করবে?

 

তোমার অভিজ্ঞতা থেকে এরূপ আরো কোনো অমানবিক ঘটনা জানা থাকলে সহভাগিতা করতে পার । সবার অভিজ্ঞতা একের পর এক নিজেরাই বিশ্লেষণ কর । তোমাদের সহভাগিতা করা এসব অমানবিক ও অসামাজিক অবস্থাগুলোর কারণ কী কী হতে পারে বলে মনে কর? দলে বিভিন্ন ঘটনা বিশ্লেষণ করার পর সমাজ সম্পর্কে যেসব বিষয় বের হয়ে আসবে সেগুলো পোস্টারে বা ব্ল্যাকবোর্ডে লেখা হবে যেন সবাই দেখতে পায় ।

 

বর্তমান সমাজের এই চিত্র ভয়ানক। সারা দেশেই আজ মানুষের মনে নানা রকম ভয়-ভীতি, কুসংস্কার, মাদকাসক্তি, বোমাবাজি, ভণ্ডামী, ঘৃণাবিদ্বেষ, চুরি-ডাকাতি, স্বার্থপরতা ইত্যাদি বিরাজমান ।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর 'দুই বিঘা জমি' নামক একটি কবিতা লিখেছেন। তিনি সেখানে দেখিয়েছেন, কী করে এক রাজা তার গরিব প্রজার কাছ থেকে দুই বিঘা জমি দখল নিয়ে নিল । গরিব লোকটার দুর্দশার কথা রাজা চিন্তা করলেন না । কবিগুরু ঐ কবিতার এক জায়গায় বলেছেন:

“এ জগতে হায় সেই বেশি চায় আছে যার ভুরি ভুরি, রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙ্গালের ধন চুরি” ।

ভোগবাদী জগতে মানুষ ত্যাগে নয় বরং ভোগে বেশি সুখের অন্বেষণ করছে। যার প্রচুর আছে, সে আরও বেশি চায় । একটি অতৃপ্ত বাসনা মানুষকে তাড়া করে বেড়ায় আরও পাওয়ার জন্য । আর তাই একজন গরিব লোকের এক টুকরো সম্বল বিশাল রাজ্যের অধিকারী রাজার চোখ এড়াতে পারেনি । প্রায় নিঃস্ব লোকটির শেষ সম্বলটুকুও রাজার চাই ।

আমাদের দেশে প্রচুর সম্পদ আছে। কিন্তু সম্পদের সমবণ্টন হচ্ছে না। সমাজের শতকরা ২০ ভাগ মানুষ আজ দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করছে । আর ৮০% মানুষ ভোগ করছে মাত্র শতকরা ২০ ভাগ সম্পদ । আর শতকরা ২০ ভাগ মানুষ ভোগ করছে শতকরা ৮০ ভাগ সম্পদ । কেউ কেউ পাহাড়সম সম্পদ ভোগ করছে আর কেউ কেউ সর্বস্ব হারিয়ে ভিক্ষার ঝুলি কাঁধে নিয়ে রাস্তায় ভিক্ষা করছে । ধনী আরও ধনী হচ্ছে, গরিব আরও গরিব হচ্ছে। এভাবে দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার বৃদ্ধি পেয়েই চলছে । ধনীরা নিজেদেরকে সকল ক্ষেত্রে মহাশক্তিধর মনে করে । অর্থাৎ তারা মনে করে তারাই সকল ক্ষমতা ও সম্পদের অধিকারী । তারা বিলাসিতায় জীবন যাপন করে আর দরিদ্রদের অবহেলা করে । ফলে দরিদ্রতা প্রকট আকার ধারণ করছে ।

মানুষ রাজা হওয়ার পিছনে বা ক্ষমতা লাভের জন্য ছুটছে। সবাই পাওয়ার অতৃপ্ত বাসনায় ছুটে চলছে অজানা পথে । এই ছুটতে গিয়ে ভুলে যাচ্ছে আপন ভাইবোন, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীকে। হয়ে যাচ্ছে ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও স্বার্থপর । কেবল নিজের সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধির সন্ধান করছে । এতে অসৎ পথ বেছে নিতেও সে কুণ্ঠাবোধ করছে না । ফলে দেখা দিচ্ছে দ্বন্দ্ব, রেষারেষি, মারামারি, হানাহানি, রাহাজানি, ধর্ষণ ও খুন । সামাজিক অবকাঠামোর মধ্যেও একটি বৈষম্য দৃশ্যমান । কেউ কেউ সকল সুবিধা ভোগ করছে, আবার কেউ কেউ বঞ্চিত হচ্ছে । শ্রেণীভেদ, গোত্রভেদ, বর্ণবাদ ও ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিন্নতা মানুষের মাঝে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করে যা অনেক সময় যুদ্ধে পরিণত হয় । সাম্প্রদায়িকতার মনোভাব গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করছে । সমাজের সকল ক্ষেত্র দুর্নীতিতে ছেয়ে যাচ্ছে ।

চুরি, ডাকাতি, সন্ত্রাসী, জঙ্গীবাদ, যুদ্ধ, সাম্রাজ্যবাদ ও বোমাবাজি সারা বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতি । রাতে নারী, শিশু বা অন্য একাকী কেউ স্বাধীনভাবে চলাফেরা করতে পারে না। রাস্তাঘাটে কেউ নিরাপদ নয় । যে কোন সময় ছিনতাই হতে পারে টাকা-পয়সা, মোবাইল ফোন কিংবা হাতের ব্যাগ । এমন কি গুম হয়ে যেতে পারে যে কোনো মানুষ । বখাটেরা ভয়ঙ্কর ব্যক্তি । তাদের দ্বারা মহিলা ও যুবতী মেয়েরা নিগৃহীত ও ইভ টিজিং-এর শিকার হচ্ছে ।

 

 

সম্পত্তির উত্তরাধিকার সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করছে । সামান্য ব্যাপারে মামলা মোকদ্দমায় জড়িয়ে যাচ্ছে পরিবারের লোকজন । ভাড়াটে মাস্তান লেলিয়ে দিচ্ছে আপন ভাইয়ের বিরুদ্ধে । এসিডে দগ্ধ হচ্ছে মেয়েরা । কেউ কেউ ধর্ষিত হচ্ছে স্বামী বা পিতার সামনেই । প্রেমিকের হাতে টুকরো টুকরো হচ্ছে প্রেমিকার দেহ । ঘরবাড়ি, জায়গা-জমি তো আজ একটি বড় সমস্যা ও নিত্যদিনের প্রধান আলোচনার বিষয় ।

কাজ: সমাজের বিভিন্ন অন্যায্যতার তালিকা, এগুলোর কারণ ও বিভিন্ন কুফল পোস্টার পেপারের মাধ্যমে উপস্থাপন কর ।

সহিংস বিপ্লবের কুফল

একবার একজন হিন্দু ভদ্রলোক মহাত্মা গান্ধীর কাছে এসে বললেন যে, তিনি নরকে যাচ্ছেন । গান্ধীজী জিজ্ঞেস করলেন, কেন? লোকটি বললেন, ব্রিটিশরা ভারত থেকে চলে যাবার পর যে হিন্দু-মুসলিম যুদ্ধ শুরু হয়েছে, সে যুদ্ধে একজন মুসলিম একজন হিন্দুর পুত্র সন্তানকে হত্যা করেছে । হিন্দু লোকটি কষ্টে ও রাগে সেই মুসলিম লোকটির পুত্র সন্তানকেও পাথরে আঘাত করে হত্যা করেছেন। একথা শুনে গান্ধীজী বলেছেন, তুমি যাও, এই যুদ্ধে মা-বাবা হারিয়েছে এমন একজন মুসলিম ছেলেকে খুঁজে নিজের ঘরে লালনপালন কর এবং তাকে মুসলিম হিসেবেই বড় হতে সাহায্য কর। এই অহিংস পরামর্শ শুনে যে লোকটি অস্থিরতা নিয়ে গান্ধীজির কাছে এসেছিল, সে শান্তিপূর্ণ মন নিয়ে বাড়ি চলে গেল ।

সমাজ থেকে অন্যায্যতা, দুর্নীতি, সন্ত্রাস দূর করার জন্য এবং সমাজে শান্তি স্থাপনের জন্য অনেকেই ভিন্ন ভিন্ন ভাবে কাজ করেছেন । কেউ শান্তিপূর্ণভাবে আর কেউ বা সহিংস বিপ্লবের মাধ্যমে। ইতিহাসে এমন অনেক ঘটনার উদাহরণ রয়েছে । আমরা হয়তো ফরাসি বিপ্লবের কথা ইতিহাসে পড়েছি । এটি ঘটেছিল ১৭৮৯ খ্রিষ্টাব্দে । অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ করার জন্য, ধনীদের অত্যাচার থেকে দরিদ্রদের রক্ষার জন্য, ধর্মীয় অনুশাসন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবী আদায়ের জন্য ঐ সময় ফ্রান্সে বিপ্লব ঘটেছিল । তাছাড়া, সারা ইউরোপ-আমেরিকায়ও ঐ ধরনের বিপ্লব শুরু হয়েছিল । এতে যেমন অনেক সুফল ছিল, তেমনি অনেক কুফলও ছিল । অনেক মানুষ এতে প্রাণ হারিয়েছে। এসব বিপ্লব ধীরে ধীরে জাতিকে বিশ্বযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছিল । ফলে পৃথিবীতে পর পর দুইটি বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। আমরা নিশ্চয়ই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ঘটে যাওয়া জাপানের হিরোসিমা ও নাগাসাকির ঘটনার কথা শুনেছি । আমরা জানি সেখানে কীভাবে পারমাণবিক বোমায় দুইটি শহর ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল, আর কত মানুষ জীবন্ত দগ্ধ হয়ে গিয়েছিল ।

দাসত্ব থেকে মুক্তি, শ্রেণিভেদ দূর করা, জাতিগত দ্বন্দ্ব ও দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার বন্ধ করার জন্য জাতিতে জাতিতে দেশে দেশে এরূপ কত যে বিপ্লব ও যুদ্ধ হয়েছে তার হিসেবে নেই । প্রতিনিয়ত এক দেশ অন্য দেশের সাথে, এক জাতি অন্য জাতির সাথে এমন কি এক ধর্ম অন্য ধর্মের সাথে যুদ্ধ করছে ।

চীন, ভিয়েতনাম, যুগোস্লাভিয়া, আফ্রিকা, লিবিয়া, মিশর, মধ্য প্রাচ্য, আফগানিস্তান, ইরান, ইরাক ও কুয়েতের ভয়াবহ যুদ্ধের কথা নিশ্চয় আমাদের মনে আছে। দক্ষিণ আমেরিকা ও পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দরিদ্রতা, ধর্মান্ধতা, অন্ধবিশ্বাস, প্রাচীন পদ্ধতির রাজনীতি এবং মানব মুক্তির জন্য বিভিন্ন বিপ্লব ঘটেছে।

 

 

 

এসব যুদ্ধ-বিপ্লবে কত মানুষ যে প্রাণ হারিয়েছে তার হিসেব নেই, কত সম্পদ যে বিনষ্ট হয়েছে তার

পরিমাপ করা যাবে না। তাছাড়া ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রাকৃতিক সম্পদের ক্ষতিপূরণ করা সম্ভব হবে না । এসব যুদ্ধে সুফলের চাইতে কুফলই এসেছে বেশি । কারণ আমরা জানি, সহিংসতা দিয়ে কখনো শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায় না । মহাত্মা গান্ধী ভারত উপমহাদেশে উজ্জ্বল এক উদাহরণ । তিনি অহিংস আন্দোলনের মাধ্যমে রক্তপাত ছাড়া ভারতবর্ষকে ব্রিটিশদের হাত থেকে মুক্ত করেছিলেন । তিনি যুদ্ধ নয় বরং অহিংসা দিয়ে শুধু দেশই জয় করেননি বরং মানুষের হৃদয়কে জয় করেছেন । আজ তিনি চির অমর হয়ে আছেন ।

কাজ : রাজাবলির প্রথম গ্রন্থে উল্লিখিত নাবোথের আঙুর ক্ষেতের কাহিনীটি (১ রাজাবলি ২১তম অধ্যায়) অভিনয়ের মাধ্যমে দেখাও ।

সমাজ পরিবর্তনে খ্রিষ্টের পথ

“তোমরা শুনেছ, প্রাচীনকালের মানুষদের এই কথা বলা হয়েছিল: তোমার প্রতিবেশীকে ভালোবাসবে আর তোমার শত্রুকে ঘৃণা করবে! কিন্তু আমি তোমাদের বলছি: তোমরা তোমাদের শত্রুদেরও ভালোবাস” । প্রাচীনকালের প্রবর্তিত এই নিয়মটি হয়তো অপরাধকে দমিয়ে রাখার জন্য করা হয়েছিল । কারণ তখনকার সমাজে অনেক অনাচার, অত্যাচার ও অবিচার বিরাজ করছিল ।

নাবোথের আঙুর ক্ষেতের কাহিনীটি অভিনয় করে আমরা সামাজিক অন্যায্যতা সম্পর্কে একটি ধারণা লাভ করেছি । এই সমস্ত অনাচার থেকে রক্ষা পাবার জন্য তখন কঠিন কঠিন নিয়ম জনগণের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হতো । তার মধ্যে একটি নিয়ম ছিল কেউ একজনের ক্ষতি করলে তার সেই শত্রুর সমপরিমাণ ক্ষতি করে প্রতিশোধ নেওয়া । উদাহরণস্বরূপ, কেউ ঝগড়া করে একজনের একটা দাঁত ভেঙ্গে ফেললে, বিচারে সে-ও তার শত্রুর একটা দাঁত ভেঙ্গে দিতে পারত । এই নিয়ম তখন করা হয়েছিল এজন্য যে, নিজের সমপরিমাণ ক্ষতি করা হবে, এই ভয়ে যেন মানুষ অন্যের ক্ষতি না করে । এই নিয়ম থাকা সত্ত্বেও অপরাধ, অসামাজিকতা, অন্যায্যতা সমাজ থেকে দূর করা সম্ভব হয়নি ।

প্রাচীনকালের এইসব নিয়মের মধ্যে ক্ষমা ও ভালোবাসার কথা বলা হয়নি। বরং শত্রুতা বৃদ্ধি পেয়েছে, শত্রুর ক্ষতি করা হয়েছে এবং শত্রু-মিত্রের দ্বন্দ্ব সমাজে যুগ যুগ ধরে স্থায়ী হয়েছিল । এমন পরিস্থিতিতে ঈশ্বরের অদ্বিতীয় পুত্র আমাদের মুক্তিদাতা প্রভু যীশু খ্রিষ্ট এ জগতে আসেন । তিনি পুরাতন সব নিয়ম বাতিল বা পরিবর্তন করতে আসেননি বরং সেগুলোর পূর্ণতা দিতে এসেছেন । পূর্ণতার জন্য তিনি সর্বপ্রথমে মন পরিবর্তনের আহ্বান জানান “তোমরা পাপ থেকে মন ফেরাও আর মঙ্গলসমাচারে বিশ্বাস কর” ।

মন পরিবর্তনের এই বিপ্লব তিনি হঠাৎ করে শুরু করেননি । কেননা, কেউ হঠাৎ করে কোনো কিছু শুরু করলে সমাজে তার প্রতিক্রিয়া হয় । অনেক সময় তা গ্রহণযোগ্যতা হারায় । বিপ্লবকারী বা আন্দোলনকারীর পরিচয় নিয়ে তখন প্রশ্ন ওঠে । তাই যীশু তাঁর প্রচারকাজ শুরু করার পূর্বে ৪০ দিন নিজেকে প্রস্তুত করেছেন। পর্বতের উপর নির্জনে, একাকী তিনি দিনরাত প্রার্থনা করেছেন । ধ্যান-প্রার্থনা, উপবাস ও ত্যাগ স্বীকারের মাধ্যমে

 

 

 

নিজেকে প্রস্তুত করে তুলেছেন । শুধু তাই নয়, তিনি পাপী না হয়েও ৪০ দিন পর মরুপ্রান্তরে যাওয়ার পূর্বে তিনি দীক্ষাস্নান গ্রহণ করেছেন । জনসম্মুখে তাঁর শুচিতা ও পবিত্রতাকে প্রকাশ করেছেন। ঈশ্বর হয়েও তিনি নিজেকে নম্র করেছেন যেন তিনি সবাইকে নম্রতা ও পবিত্রতার পথে আহ্বান করতে পারেন ।

তিনি মন্দিরে গিয়ে সেই শান্ত্রাংশটি পাঠ করেছেন যেখানে তার নিজের সম্বন্ধে বলা আছে (লুক ৪:১৮-১৯)। তিনি এসেছেন বন্দীর কাছে মুক্তি আর অন্ধের দৃষ্টি খুলে দেওয়ার জন্য । তাঁর এ কথা সত্য হয়েছে তখনই যখন লোকেরা তাঁর মুখ থেকে তা শুনতে পেয়েছে (লুক ৪:২১)। এভাবে তাঁর নিজের পরিচয় মানুষের কাছে তুলে ধরে তিনি তাঁর মুক্তির কাজ শুরু করেছেন । যারা দরিদ্র, অভাবী, অত্যাচারিত, অবহেলিত, সমাজের চোখে ঘৃণিত, অবাঞ্ছিত তাদেরকে রক্ষা করতেই তিনি এসেছেন ।

ইহুদি সমাজে যেসব নিয়মের বাড়াবাড়ি ছিল যীশু তা চ্যালেঞ্জ করেছেন। যেসব অনাচার, অত্যাচার, অবিচার ছিল তিনি তার প্রতিবাদ করেছেন । মন্দির থেকে তিনি ব্যবসায়ীদের তাড়িয়ে দিয়েছেন । ধর্ম ব্যবসায়ীদের তিনি ধিক্কার দিয়েছেন । আর শিষ্যদের শিখিয়েছেন তারা যেন খ্রিষ্টের উপস্থিতিতে শান্তি ও মুক্তির আস্বাদ লাভ করে । কারণ তাঁর আগমন মুক্তির ও পরিত্রাণের জন্য । যারা বিশ্বাস করবে তারা মুক্তিলাভ করবে ও অনন্তকাল বেঁচে থাকবে ।

তিনি দরিদ্রদের ‘ধন্য' বলে সম্বোধন করেছেন, কারণ ‘স্বর্গরাজ্য' তাদেরই । তিনি এসেছেন স্বর্গরাজ্যের পথ দেখাতে । দরিদ্ররাই সে পথে সবার পূর্বে যেতে পারবে । তিনি বলেছেন, ধনীর পক্ষে স্বর্গে যাবার চেয়ে বরং সূচের ছিদ্র দিয়ে একটি উটের যাওয়া সহজ । তিনি আরও বলেছেন, সুস্থ-সবল যারা তাদের চিকিৎসকের প্রয়োজন নেই । দরকার শুধু তাদেরই যারা ব্যাধিগ্রস্ত । একদিকে তিনি দরিদ্রদের বন্ধু হয়েছেন অন্যদিকে যত অসুস্থ, বিকলাঙ্গ, ব্যাধিগ্রস্ত ও অপদূতে পাওয়া ব্যক্তিদের তিনি কাছে টেনে নিয়েছেন ।

যীশু বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে ঐশরাজ্যের বাণী প্রচার করতেন । তিনি দরিদ্র ও পাপীদের বাড়িতে যেতেন এমনকি তাদের সাথে খাওয়া-দাওয়াও করতেন । তাদেরকে তিনি বন্ধু হিসেবে দেখতেন । তিনি বলতেন, “বন্ধুদের জন্য প্রাণ দেওয়ার চেয়ে বড় ভালোবাসা মানুষের আর নেই” । তোমরা আমার বন্ধু, অবশ্য আমি তোমাদের যা করতে বলছি যদি তা-ই কর । আমি তোমাদের আর দাস বলছি না, কারণ প্রভু যে কী করছেন, দাসের তো তা জানার কথা নয় । তোমাদের আমি এই জন্যেই বন্ধু বলছি যে, আমার পিতার কাছ থেকে যা কিছু শুনেছি, সবই তোমাদের জানিয়েছি” (যোহন ১৫:১৩-১৫) । যীশু শুধু মুখেই এই শিক্ষা দেননি বরং নিজের জীবন দিয়ে তা বাস্তব করে তুলেছেন । ক্রুশের উপর নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে তিনি আমাদের প্রতি তাঁর চরম ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন ।

যীশু শুধু ধনী-দরিদ্রের সম্পর্ক উন্নয়নের কথাই বলেননি বরং প্রতিটি মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্য ও গুরুত্ব দিতে আহ্বান করেছেন। আমাদের প্রতি যীশুর আহ্বান “আমি যেমন তোমাদের ভালোবেসেছি, তেমনি তোমরাও পরস্পরকে ভালোবাস।” তিনি সেবা পেতে আসেননি বরং সেবা করতে এসেছেন । তিনি বলেছেন, বড় হতে হলে সকলের দাস হতে হবে, প্রধান হতে হলে সকলের সেবক হতে হবে (লুক ২২:২৬) । সামনের সম্মানিত আসনে বসতে চাইলে আগে পিছনের সারিতে বসতে হবে । এসব কথা বলার মধ্য দিয়ে তিনি আমাদের আহ্বান করেছেন যেন আমরা নিজেদের বড় মনে না করি । নিজেদেরকে অন্যদের চাইতে বেশি গুরুত্ব না দেই । সর্ব ক্ষেত্রে নিজেদেরকে যেন প্রধান না ভাবি। বরং অন্যকে যেন আগে

 

সুযোগ দেই, অন্যের জন্য চিন্তা করি, অন্যের সেবা করি, অন্যের সামনে নিজেদেরকে বিনীত করি ৷ তিনি তো ঈশ্বর ছিলেন । তাঁর সেই ঈশ্বরত্বকে তিনি ধরে রাখেননি বরং তিনি নমিত হলেন, মানুষের মাঝে বাস করতে আসলেন । তাঁর নম্রতার চরম প্রকাশ তিনি করেছেন কোনো প্রতিবাদ না করে ক্রুশের উপর থেকে শত্রুকে ক্ষমা করে দিয়ে ।

যীশু বিবেক ও মূল্যবোধের শিক্ষা দিয়েছেন, যার মধ্য দিয়ে তিনি নতুন পৃথিবী গড়ার আন্দোলন গড়ে তোলেন । তাঁর আন্দোলন ছিল অন্য সকল আন্দোলনের চেয়ে ভিন্ন । তাঁর কথা, কাজ ও শিক্ষায় গোটা পৃথিবীটাই যেন বদলে গিয়েছে, পরিবর্তিত হয়েছে, নতুন হয়ে উঠেছে। কারণ তাঁর আন্দোলন ছিল সত্য, সুন্দর, ক্ষমা, সেবা ও ভালোবাসার আন্দোলন । তাঁর এই আন্দোলনে তিনি যুদ্ধ করে জয়ী হননি বরং মানুষ ও জগতের জন্য পিতার ভালোবাসা প্রকাশের উদ্দেশ্যে নিজের জীবন উৎসর্গ করে জয়ী হয়েছেন। তিনি আমাদের আত্মত্যাগের পথ দেখিয়ে গেছেন ।

প্রভু যীশু চেয়েছেন যেন আমরা তাঁর দেখানো পথে চলি । আর তাঁর দেখানো পথ হলো বিশ্বাস, দরিদ্রতা, ভালোবাসা, ক্ষমা, বন্ধুত্ব, নম্রতা, সেবা, পবিত্রতা এবং সর্বোপরি আত্মত্যাগের পথ । তিনি বলেছেন, স্বর্গরাজ্যের জন্য যে নিজের জীবন হারাবে সে তার শতগুণ ফিরে পাবে । তিনি শুধু মন নয় বরং আমাদের হৃদয় পরিবর্তনের আহ্বান জানান । এরজন্য দরকার আত্মত্যাগ, সংলাপ, পুনর্মিলন, একতা ও ভালোবাসা। প্রতিজন খ্রিষ্টানের দায়িত্ব খ্রিষ্টের দেখানো পথে চলা । একই সাথে খ্রিষ্টের সৎ ও সাহসী সৈনিক হিসেবে অসামাজিকতা দূর করা এবং ন্যায্যতা ও শান্তি স্থাপনে কাজ করা । তবেই সত্য, সুন্দর, শৃঙ্খল ও মনোরম বিশ্ব প্রতিষ্ঠিত হবে ।

কাজ: ১. ‘যীজাস ক্রাইষ্ট সুপার স্টার' সিনেমাটি ক্লাসে দেখানো যায় যেখানে যীশুকে দেখা যাবে অভাবী ও অত্যাচারিত দরিদ্রদের মাঝে ।

কাজ: ২. খ্রিষ্টের শিক্ষা অনুসরণ করে কী কী ভাবে পরিবর্তিত বিশ্ব প্রতিষ্ঠা করা যায়? তার তালিকা প্রস্তুত করে শ্রেণিকক্ষে উপস্থাপন কর ।

 

অনুশীলনী

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

১. যীশু দরিদ্রদের কী বলে সম্বোধন করেছেন ?

ক. দয়ালু

খ. দীন

গ. পীড়িত

ঘ. ধন্য

 

 

২. কেন যীশু খ্রিষ্টের জন্ম হয়েছিল ?

ক.পুরাতন নিয়ম বাতিল করতে

খ. পুরাতন নিয়ম পরিবর্তন করতে

গ. পুরাতন নিয়মের পূর্ণতা দিতে

ঘ. ঈশ্বরের গৌরব করতে

নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ে ৩ ও ৪নং প্রশ্নের উত্তর দাও :

সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তি মি. জেমস এলাকার উন্নয়নে সর্বদা সচেষ্ট। এলাকার দরিদ্র ও অভাবগ্রস্ত পরিবারের লোকদের সবসময় খোঁজ খবর নেন, তাদের সাহায্য সহযোগিতায় এগিয়ে যান । গত বছর বড়দিন পুনর্মিলনী অনুষ্ঠান সবাই তাকে প্রথমেই খাবার খেয়ে নিতে বলল । কিন্তু তিনি প্রথমে খাবার না খেয়ে সবাই ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করল কি না তা লক্ষ করলেন । সবাইকে খাইয়ে তারপর তিনি খেলেন ।

৩. মি. জেমস এর মধ্যে কেমন মনোভাবের প্রকাশ ঘটেছে -

i. বিনয়ী

ii. নম্র

iii. আত্মত্যাগের

নিচের কোনটি সঠিক ?

ক. i

খ. i ও ii

গ. ii ও iii

ঘ. i, ii ও iii

৪. মি. জেমস এর এরূপ আচরণের ফলাফল কী হতে পারে

ক. শান্তি স্থাপন

খ. গর্ববোধ

গ. ক্ষমতা লাভ

ঘ. আত্মঅহংকার

সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন

১. সমাজে প্রচলিত ৩টি অন্যায্যতা উল্লেখ করে তার কুফল লেখ ।

২. সমাজ পরিবর্তনে সহিংস বিপ্লবের কুফল ব্যাখ্যা কর ।

৩. সমাজ পরিবর্তনে খ্রিষ্টের দেখানো পথ এক ব্যাখ্যা কর । 

 

 

৪ . খ্রিষ্টের শিক্ষা অনুসরণ করে কীভাবে পরিবর্তিত বিশ্ব প্রতিষ্ঠা করা যায় ?

৫. মহাত্মা গান্ধী অহিংসা দিয়ে শুধু দেশই জয় করেননি মানুষের হৃদয়কেও জয় করেছেন – কথাটি বুঝিয়ে লেখ ।

 

সৃজনশীল প্রশ্ন

১. জীবন ও সুজন একই শ্রেণিতে পড়ে। কিন্তু একে অন্যের সাথে কথা বলে না, একসাথে বসে না, কেউ কাউকে কোনো কাজে সাহায্য সহযোগিতা করে না । একদিন সামান্য একটা ব্যাপার নিয়ে দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে মারামারির পর্যায়ে চলে গেল । কিছুদিন পর হঠাৎ একদিন সুজন খবর পেল জীবন দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে । তখন সুজন জীবনকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে গেল । জীবন সুজনকে দেখে খুব খুশি হলো ।

ক. যীশু ক্রুশের উপর জীবন বিসর্জন দিয়ে মানুষের প্রতি কী প্রকাশ করেছেন ?

খ. প্রাচীনকালে অন্যায্যতাকে সমাজ থেকে দূর করা সম্ভব হয়নি কেন ?

গ. যীশুর কোন শিক্ষা সুজনকে প্রভাবিত করেছে ? ব্যাখ্যা কর ।

ঘ. সুজনের কর্মকাণ্ড সমাজে কী ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে ? মূল্যায়ন কর ।

 

২. শতাব্দী হোস্টেলে থেকে লেখাপড়া করে । প্রতিদিন সকালে সে গির্জায় যায়, হোস্টেলের নিয়মকানুন মনে চলে । একদিন সকালে গির্জায় যাবার সময় সে দেখতে পেল হোস্টেলের যে দিদি রান্না করে তার প্রচণ্ড জ্বর । তখন সে তার কাছে গিয়ে তাকে ঔষধ খাওয়ালো, মাথা ধুয়ে দিল । ধীরে ধীরে সে সুস্থ হয়ে উঠল ।

ক. যীশু বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে কী প্রচার করতেন ?

খ. সহিংসতার কুফল সম্পর্কে লেখ ।

গ. শতাব্দীর মধ্যে সমাজ পরিবর্তনে খ্রিষ্টের দেখানো কোন দিকটির প্রকাশ ঘটেছে ? ব্যাখ্যা কর ।

ঘ. শতাব্দীর আচরণে প্রকাশ পেয়েছে যীশুর পথ অনুসরণ – কথাটি বিশ্লেষণ কর ।

Related Question

View All
উত্তরঃ

যীশু ক্রুশের উপর নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে মানুষের প্রতি তার চরম ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন।

254
উত্তরঃ

প্রাচীনকালে সামাজিক অন্যায্যতা দূর করার জন্য কঠিন কঠিন নিয়ম জনগণের উপর চাপিয়ে দেওয়া হতো। এর মধ্যে একটি নিয়ম ছিল- কেউ একজনের ক্ষতি করলে তার সেই সমপরিমাণ ক্ষতি করে প্রতিশোধ নেওয়া। এসব নিয়মের কারণে প্রাচীনকালে সামাজিক অন্যায্যতা দূর করা সম্ভব হয়নি। 

মূলকথা: কঠিন কঠিন নিয়মের কারণে অন্যায্যতা দূর করা যায়নি।

259
উত্তরঃ

যীশু অবিচার ও অনাচারের প্রতিবাদ করেছিলেন। ধর্মব্যবসায়ীদের তিনি ধিক্কার দিলেন। ঈশ্বরের পুত্র প্রভু যীশুখ্রিষ্ট আমাদের মুক্তিদাতা। তিনি জগতের অনেক অনাচার ও অত্যাচার দূর করে মানুষকে পূর্ণতা দেওয়ার জন্য মানুষরূপে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি মানুষকে আহ্বান জানান, "তোমরা পাপ থেকে মন ফেরাও আর মঙ্গল সমাচারে বিশ্বাস কর।" তিনি ধ্যান, প্রার্থনা ও ত্যাগ স্বীকারের মাধ্যমে জগতে পূর্ণতা বয়ে আনেন।

শুধু তাই নয়, পাপী না হয়েও যীশু মরুপ্রান্তরে যাওয়ার পূর্বে দীক্ষাস্নান গ্রহণ করেন। তিনি দরিদ্র, অভাবী, অত্যাচারিত, অবহেলিত, অবাঞ্ছিতদের বিভিন্নভাবে রক্ষা করেছেন। যীশু শুধু ধনী-দরিদ্রের সম্পর্কের উন্নয়ন করেননি বরং প্রতিটি মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্য ও গুরুত্ব দিতে আহ্বান করেলেন। আমাদের প্রতি তার আহ্বান, "আমি যেমন তোমাদের ভালোবেসেছি, তেমান তোমরাও পাক ভারত্ব দিতে আহ্বান করেছেন। আমাদের প্রতিভাবিত হয়ে তা নিজের জীবনে প্রতিফলিত করেছে এবং তার দেখানো পথে চলেছে।

263
উত্তরঃ

প্রভু যীশু চেয়েছেন আমরা মন্যবোধের শিক্ষা সুজনকে প্রভাবিত করে শিক্ষায় প্রভাবিত। যীশু তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে নতুন পৃথিবী গাড়ার আ চেয়েছেন আমরা যেন তাঁর দেখানো পথে চলি। সুজন যীশুর শিক্ষায় চেয়ে ভিন্ন। কারণ তাঁর আন্দোলন ছিল সত্য, সুন্দর, ক্ষমা, সেবা ও ভালোবাসার মাতার তাঁর আন্দোলন ছিল অন্যা গতের জন্য পিতার ভালোবাসা প্রকাশের আন্দোলন।

যীশুর শিক্ষা স্বায়ালোবাসার। তার এ আন্দোলন মানুষ ও জগতের সঠিকভাবে গড়ে উঠলে পৃথিবী পরিবর্তিত হবে। সুজনের সাথে জীবনের বিভিন্ন বিভাবিত জন মনে করে, বিবেক ও মূল্যবোধ সঠির তাকে দেখতে যাওয়ার মাধ্যমে সুজার দ্রের বৈধমবা ও ভালোবাসার দৃষ্টান্ত স্থানে করে। থাকলেও জীবন দুর্ঘটনায় পড়ার পর সমস্যার সমাধান করতে পারে। ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য হ্রাস করতে পারে। পারস্পারিক মরে। সজনের এলে কাজ সমাজের মধ্যে বন্ধুত্ব, নম্রতা, সেবা ও পবিত্রতা বৃদ্ধি করতে পারে। এর ফলে দাসত্ব থেকে মুর্তিবিক বিশ্বাস সৃষ্টি করতে পারে। মানুষের মধ্যে বন্ধুর বলের অত্যাচার দূর হতে পারে। প্রতিনিয়ত এক দেশ অন্য দেশের সাথে, এক জাতি অয্যোবির জাতিগত মনাক দুর্বর্ণের্ম অন্য ধর্মের সাথে পারস্পরিক সম্পর্ক তৈরি করতে পারে। 

সর্বোপরি সুজনের কল্যাণমূলক কাজ দ্বারা অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ হতে পারে এবং একটি শান্তিপূর্ণ পৃথিবী তৈরি হতে পারে। 

মূলকথা: অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ হতে পারে।

209
উত্তরঃ

বর্তমান সমাজের চিত্র খুবই ভয়াবহ। সারাদেশেই দরিদ্রতা, কুসংস্কার, মাদকাসক্তি, ভণ্ডামি, ঘৃণা, চুরি, ডাকাতি, স্বার্থপরতা বিরাজমান। সমাজ থেকে এসব অন্যায্যতা দূর করার জন্য সহিংস বিপ্লব হয়। এ সহিংসতার কুফলও আছে। সহিংস বিপ্লব সমাজে পর পর দুটি বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত করে। সহিংসতা পুরো সমাজে রক্তপাত ঘটায়। তাই সহিংসতা কখনও শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারে মূলকথা: সহিংসতার কুফল ভয়াবহ।

260
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews