ইংরেজি 'Geography' শব্দটি থেকে ভূগোল শব্দ এসেছে। 'Geo' ও 'graphy' শব্দ দুটি মিলে হয়েছে 'Geography'। 'Geo' শব্দের অর্থ 'ভূ' বা 'পৃথিবী' এবং 'graphy' শব্দের অর্থ বর্ণনা। সুতরাং Geography শব্দের অর্থ পৃথিবীর বর্ণনা।
পৃথিবীপৃষ্ঠে প্রাকৃতিক পরিবেশের উপব্যবস্থাগুলো কীভাবে সংগঠিত এবং এসব প্রাকৃতিক বিষয় বা অবয়বের সঙ্গে মানুষ নিজেকে কীভাবে বিন্যস্ত করে তার ব্যাখ্যা খোঁজে ভূগোল।
প্রাকৃতিক ভূগোলের বিভিন্ন শাখার মধ্যে সমুদ্রবিদ্যা একটি শাখা। পৃথিবীর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ সমুদ্র। বিভিন্ন মহাদেশের মধ্যে সমুদ্রপথে যোগাযোগ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উত্থান, অবনমন, সমুদ্রের পানির রাসায়নিক গুণাগুণ ও লবণাক্ততা নির্ধারণ, সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা সমুদ্রবিদ্যার আলোচ্য বিষয়।
ভূগোলের যে শাখায় ভৌত পরিবেশ ও এর মধ্যে কার্যরত বিভিন্ন প্রক্রিয়া অন্তর্ভুক্ত থাকে তাকে প্রাকৃতিক ভূগোল বলে। পৃথিবীর ভূমিরূপ, এর গঠন প্রক্রিয়া, বায়ুমণ্ডল, বারিমণ্ডল, জলবায়ু ইত্যাদি। প্রাকৃতিক ভূগোলের আলোচ্য বিষয়
পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন পরিবেশে মানুষ কীভাবে বসবাস করে, কীভাবে জীবনযাত্রা নির্বাহ করছে তার কার্যকারণ অনুসন্ধান করাই মানব ভূগোল। মানব ভূগোলের আওতাভুক্ত বিষয়গুলো হলো অর্থনৈতিক ভূগোল, জনসংখ্যা ভূগোল, আঞ্চলিক ভূগোল, রাজনৈতিক ভূগোল, সংখ্যাতাত্ত্বিক ভূগোল, পরিবহন ভূগোল, নগর ভূগোল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি।
ভূগোলের যে শাখায় মানুষের অর্থনৈতিক কার্যাবলি সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় তাই অর্থনৈতিক ভূগোল। প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশের সাথে মানিয়ে নিয়ে পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য মানুষ যেসব অর্থনৈতিক কার্য সম্পন্ন করে তাই অর্থনৈতিক ভূগোলের আলোচ্য বিষয়।
মানুষ সামাজিক জীব। একেক অঞ্চলের সমাজব্যবস্থা একেক রকম। তাই একেক সমাজব্যবস্থার প্রেক্ষিতে মানুষের জীবন নির্বাহের ধরন, তার অর্থনৈতিক ও সামাজিক কার্যাবলি, আচার-আচরণ প্রভৃতি কার্যকারণ অনুসন্ধান করাই মানব ভূগোলের কাজ।
ভূগোলের যে শাখা পরিবহন ব্যবস্থা সম্পর্কিত বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করে থাকে তাকে পরিবহন ভূগোল বলে। পরিবহন ভূগোলে সরকারি, বেসরকারি, যাতায়াত ব্যবস্থা এবং মানুষ ও পণ্যের একস্থান থেকে অন্যস্থানে স্থানান্তর সম্পর্কে আলোচনা করে
মানুষ তার জ্ঞান, বুদ্ধি, শ্রম ও আধুনিক প্রযুক্তি, ব্যবহারের মাধ্যমে প্রাকৃতিক সম্পদকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করছে। পৃথিবীতে রয়েছে সামুদ্রিক ও খনিজ সম্পদসহ নানা প্রকার প্রাকৃতিক সম্পদ। একমাত্র বুদ্ধিমান প্রাণী হিসেবে মানুষ তার জ্ঞান, বুদ্ধি ও শ্রমকে কাজে লাগিয়ে আধুনিক প্রযুক্তি আবিষ্কারের মাধ্যমে এসব প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করছে
নগদ ভূগোল শাখায় নগরের উৎপত্তি ও বিকাশ, নগর ও শহরের শ্রেণিবিভাগ, নগর পরিবেশ, নগরের কেন্দ্রীয় এলাকা, নগরীর বস্তি ইত্যাদি বিষয় চর্চা করা হয়।
সমুদ্রবিদ্যায় আলোচিত হয় এমন তিনটি বিষয় হলো-
সমুদ্রপথে যোগাযোগ;
সমুদ্রের পানির রাসায়নিক গুণাগুণ ও লবণাক্ততা নির্ধারণ এবং
সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা।
পরিবেশ বলতে স্থান ও কালের কোনো নির্দিষ্ট বিন্দুতে মানুষকে ঘিরে থাকা সকল অবস্থার যোগফল বোঝায়। মানুষ যেখানেই বাস করুক তাকে ঘিরে একটি পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিরাজমান। প্রকৃতির সকল দান মিলেমিশে হয় পরিবেশ।
পরিবেশের উপাদান দুই প্রকার যেমন: জড় উপাদান ও জীব উপাদান। গাছপালা, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ, মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী হলো জীব। এরা পরিবেশের জীব উপাদান। মাটি, পানি, বায়ু, পাহাড়, পর্বত, নদী, সাগর, আলো, উষ্ণতা, আর্দ্রতা হলো পরিবেশের জড় উপাদান
পরিবেশের উপাদান দুই প্রকার যেমন: জড় উপাদান ও জীব উপাদান। যাদের জীবন আছে, যারা খাবার খায়, যাদের বৃদ্ধি আছে, জন্ম আছে, মৃত্যু আছে তাদের বলে জীব। গাছপালা, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ, মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী 'হলো জীব। এরা পরিবেশের জীব উপাদান। জীবদের নিয়ে গড়া পরিবেশ হলো জীব পরিবেশ। মাটি, পানি, বায়ু, পাহাড়, পর্বত, নদী, সাগর, আলো, উষ্ণতা, আর্দ্রতা হলো পরিবেশের জড় উপাদান। এই জড় উপাদান নিয়ে গড়া পরিবেশ হলো জড় পরিবেশ।
জীব উপাদান বলতে পরিবেশের ঐসব উপাদানকে বোঝায় যাদের জীবন আছে, যারা খাবার খায়, যাদের বৃদ্ধি আছে, জন্ম ও মৃত্যু আছে। মানুষ, পশুপাখি, গাছপালা ইত্যাদি পরিবেশের জীব উপাদান।
পরিবেশ বলতে স্থান ও কালের কোনো নির্দিষ্ট বিন্দুতে মানুষকে ঘিরে থাকা সকল অবস্থার যোগফল বোঝায়। গাছপালা, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ, মানুষ ও অন্যান্য প্রাণী হলো জীর উপাদান। আর মাটি, পানি, বায়ু, পাহাড়, পর্বত, নদী, সাগর, আলো, উষ্ণতা, আর্দ্রতা হলো পরিবেশের জড় উপাদান। জীব উপাদানগুলোর বেঁচে থাকা, বেড়ে ওঠার জন্য জড় উপাদানগুলোর প্রয়োজন। জড় উপাদান ব্যতীত জীব উপাদানের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। তাই বলা যায়, পরিবেশের উপাদানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক বিদ্যমান।
জড় উপাদান নিয়ে যে পরিবেশ গঠিত হয় তাকে জড় পরিবেশ বলে। যেমন- মাটি, পানি, বায়ু, পাহাড়, পর্বত, নদী, সাগর, আলো, উষ্ণতা, আর্দ্রতা।
স্থান ও কালের পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের কর্মকাণ্ড ও প্রাকৃতিক নিয়মে প্রকৃতি ও পরিবেশ প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। নদীনালা, খাল-বিল, সাগর, পাহাড়, গাছপালা প্রভৃতি প্রকৃতির নিয়মে পরিবর্তন হয়। এসব প্রাকৃতিক উপাদান কাজে লাগিয়ে মানুষ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড করে। যার মাধ্যমে প্রকৃতি ও পরিবেশ পরিবর্তিত হচ্ছে। সুতরাং কিছু প্রাকৃতিক নিয়ম এবং মানুষের কিছু কর্মকাণ্ডের ফলে প্রকৃতি ও পরিবেশ প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে।
মানুষ পৃথিবীতে বাস করে ও জীবনযাত্রা নির্বাহ করে। তার ক্রিয়াকলাপ পরিবেশে নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটায়।
ঘরবাড়ি, অফিস-আদালত, রাস্তাঘাট নির্মাণ প্রকৃতি ও পরিবেশকে বিভিন্নভাবে পরিবর্তিত করে। বনভূমি কেটে তৈরি হয় গ্রাম বা শহরের মতো লোকালয়। তাই বলা যায়, নিজ প্রয়োজনে মানুষের ক্রিয়াকলাপ পরিবেশকে প্রভাবিত করে।
মানুষ পৃথিবীতে বাস করে ও জীবনযাত্রা নির্বাহ করে। তার ক্রিয়াকলাপ পরিবেশে নানা ধরনের পরিবর্তন ঘটায়। ঘরবাড়ি, অফিস-আদালত, রাস্তাঘাট নির্মাণ প্রকৃতি ও পরিবেশকে বিভিন্নভাবে পরিবর্তিত করে। বনভূমি কেটে তৈরি হয় গ্রাম বা শহরের মতো লোকালয়। তাই বলা যায়, নিজ প্রয়োজনে মানুষের ক্রিয়াকলাপ পরিবেশকে প্রভাবিত করে।
প্রকৃতির জড় ও জীব উপাদান নিয়ে যে পরিবেশ, তাকে প্রাকৃতিক পরিবেশ বলে। এ পরিবেশে থাকে মাটি, পানি, বায়ু, পাহাড়, পর্বত, নদী, সাগর, আলো, গাছপালা, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ, মানুষ ও অন্যান্য ক্ষুদ্র প্রাণী।
নিচে প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশের মধ্যে দুটি পার্থক্য দেখানো হলো-
প্রাকৃতিক | সামাজিক |
১. প্রকৃতির জড় ও জীব উপাদান নিয়ে যে পরিবেশ, তাকে প্রাকৃতিক পরিবেশ বলে। | ১. মানুষের তৈরি পরিবেশ হলো সামাজিক পরিবেশ। |
২. এ পরিবেশে থাকে মাটি, পানি, বায়ু, পাহাড়, পর্বত, নদী, সাগ্র, আলো, গাছপালা, পশুপাখি, কীটপতঙ্গ, মানুষ ७অন্যান্য ক্ষুদ্র প্রাণী। | ২. মানুষের আচার-আচরণ, উৎসব-অনুষ্ঠান, রীতি-নীতি, শিক্ষা, মূল্যবোধ, অর্থনীতি, রাজনীতি ইত্যাদি নিয়ে যে পরিবেশ গড়ে ওঠে, তা হলো সামাজিক পরিবেশ। |
ভূগোল ও পরিবেশ বিষয়টি অধ্যয়নের মাধ্যমে জানা যায় এমন দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো- পাহাড়, পর্বত, নদী, সাগর, মালভূমি, সমভূমি ও মরুভূমি, এদের পঠনের কারণ ও বৈশিষ্ট্য। কৃষি, শিল্প, ব্যবসা, বাণিজ্য, পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির ফলে মানুষের সামাজিক পরিবেশের কী পরিবর্তন হয়েছে।
Related Question
View Allভূগোল শব্দটি সর্বপ্রথম ইরাটসথেনিস ব্যবহার করেছেন।
পৃথিবীর প্রায় চারভাগের তিনভাগই সমুদ্র। তাই সমুদ্রবিদ্যার বিষয়বস্তুও ব্যাপক।
সমুদ্রপথে যোগাযোগ, সমুদ্রপৃষ্ঠের উত্থান, অবনমন, সমুদ্রের পানির রাসায়নিক গুণাগুণ ও লবণাক্ততা নির্ধারণ, সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি সমুদ্রবিদ্যার বিষয়বস্তুর অন্তর্গত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!