আদিম যুগের মানুষ কৃষিকাজ জানত না। বনে বনে ঘুরে ফুলমূল সংগ্রহ করত। তা-ই ছিল তাদের খাদ্য। এরপর মানুষ পাথর ভেঙে ঘষে ঘষে ধারালো অস্ত্র তৈরি করতে শেখে। কৃষির প্রয়োজনে এ যুগে মানুষ নদীর তীরে বসবাস শুরু করে। ঘরবাড়ি নির্মাণ করতে শেখে। এভাবেই মানবসভ্যতার শুরু।
পাথর যুগের সময়কে তিনটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়। যথাক্রমে পুরানো পাথরের যুগ বা পুরোপলীয় যুগ, মধ্যপলীয় ও নবপলীয় যুগ। মূলত পাথর ভেঙে ধারালো অস্ত্র তৈরি করতে শেখার ওপর নির্ভর করে এ পর্যায়গুলো করা হয়।
মেসোপটেমিয়া' এসেছে গ্রিক শব্দ মেসোস (Mesos) তথা 'মধ্যবর্তী' এবং পটামোস (Potamos) অর্থাৎ 'নদী' থেকে। সহজ বাংলায় বলতে পারি 'মেসোপটেমিয়া' অর্থ 'দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি'।
অর্ধচন্দ্রাকার উর্বর ভূমি বলতে প্রাচীন মেসোপটেমীয় অঞ্চলকে বোঝায়। ইউফ্রেটিস ও টাইগ্রস নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল মেসোপটেমিয়া নামে পরিচিত। মূলত উর্বরতা ও অর্ধচন্দ্রের মতো আকৃতির কারণে আমেরিকান ভূগোলবিদ ব্রেস্টেড একে অর্ধচন্দ্রাকৃতি উর্বর ভূমি বলে আখ্যায়িত করেন।"
মূলত ইরাক, সিরিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিন আর জর্দান মিলেই এই ফার্টাইল ক্রিসেন্টের বিস্তার। অনেকে কুয়েতের উত্তরাংশ এবং তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বাংশের পাশাপাশি ইরানের পশ্চিম দিকের একাংশকে এই উর্বর অর্ধচন্দ্রাকৃতির ভূমিরূপ তথা ফার্টাইল ক্রিসেন্ট হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
মূলত সুমেরীয়, ব্যাবিলনীয়, এসেরীয় এবং ক্যালডীয় সভ্যতার সম্মিলিত রূপকেই আমরা জেনে থাকি মেসোপটেমীয় সভ্যতা হিসেবে। বর্তমান ইরাক থেকে শুরু করে ফার্টাইল ক্রিসেটের প্রায় পুরোটা ছিল এই সভ্যতার বিস্তার।
মেসোপটেমিয়া অঞ্চলে কৃষকরা কাঠের লাঙল ও পাথরের কুঠার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করত। তাদের প্রধান উৎপাদিত ফসল ছিল যব। এ অঞ্চলে মাটির দেয়াল বা খেজুর গাছের বেষ্টনী দিয়ে তার ভেতরে বাগান তৈরি করা হতো।
গণিতের উদ্ভাবন ও. উন্নয়নের মেসোপটেমিয়া সভ্যতার বিশেষ গুরুত্ব ছিল। তারা ১ ঘণ্টায় ৬০ মিনিট ও এক মিনিটে ঘাট সেকেন্ডের হিসাব শুরু করেছিল। বছরকে ১২ মাসে এবং এক মাসকে ৩০ দিনে ভাগ করে হিসাব করা শুরু করেছিল। তারা পৃথিবীকে ৩৬০ ডিগ্রিতে ভোগ করার পাশাপাশি রাশিচক্রের হিসেবে ব্রোঞ্জ ও কাচের ব্যবহার শুরু করেছিল।
মেসোপটেমিয়ার মানুষ সেমিটিক ভাষা ব্যবহার করত। তাদের এ ভাষায় ভাবের আদান-প্রদানের পাশাপাশি প্রশাসনিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ড চলত। এ ভাষার জন্য তারা কিছু অর্থবোধক ছবির মাধ্যমে | একটি আদিম লিখন পদ্ধতির উদ্ভাবন করেছিল।
নদীর তীরে অবস্থিত মেসোপটেমিয়ার সিংহভাগ শহরের কেন্দ্র ছিল দুর্গবেষ্টিত। দুর্গের দেয়াল ছিল রোদে শুকানো ইট দ্বারা নির্মিত। বিশেষত, ইউবুক শহরে ৬ মাইল দীর্ঘ দুর্গ ঘেরা একটি অঞ্চল আবিষ্কার করা সম্ভব হয়েছে। এ সময়ে নির্মিত বেশির ভাগ নগরে নগর-তোরণ ছিল।
দেশে আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দুষ্ট এবং অসৎ লোকদের ধ্বংস করে দুর্বলকে রক্ষা করার প্রয়োজনে তারা আইন প্রবর্তন করেছিল। তারা ২৮২টি ধারা সংবলিত আইন প্রণয়ন করেছিল।
প্রাচীন মেসোপটেমিয়া অঞ্চলের মানুষের প্রাথমিক ধর্মবিশ্বাস ছিল ঐহিক তথা পার্থিব। মৃত্যু-পরবর্তী জীবনের অস্তিত্ব সম্পর্কে তাদের তেমন ধারণা ছিল না। তারা পরকালের জীবনকে গুরুত্ব দেয়নি বলেই তাদের মৃতদেহের সমাধি প্রথা ছিল সাদামাটা।
সিন্ধু সভ্যতা বিশাল এলাকা জুড়ে এর বিস্তৃতি ছিল। পাকিস্তানের পাঞ্জাব, সিন্ধু প্রদেশ, ভারতের পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাটের বিভিন্ন জায়গায় এ সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গেছে। ঐতিহাসিকেরা মনে করেন, সিন্ধু সভ্যতা পাঞ্জাব থেকে আরব সাগর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছিল।
বাঙালি প্রত্নতত্ত্ববিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পুরাতত্ত্ব বিভাগের লোকেরা লারকানা জেলায় মহেঞ্জোদারো শহরে বৌদ্ধস্তূপের ধ্বংসাবশেষ আছে ড়েবে মাটি খুঁড়তে থাকেন। অপ্রত্যাশিতভাবে বেরিয়ে আসে তাম্রযুগের নিদর্শন। একই সময়ে দয়ারাম সাহানীর প্রচেষ্টায় পাঞ্জাবের পশ্চিম দিকে মন্টোগোমারি জেলার হরপ্পা নামক স্থানেও প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়।
মহেঞ্জোদারো শব্দের অর্থ মরা মানুষের ঢিবি। হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোতে সিন্ধু সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলায় মহেঞ্জোদারো শহরে উঁচু উঁচু মাটির ঢিবি ছিল। স্থানীয় লোকেরা মহেঞ্জোদারো মানে মরা মানুষের ঢিবি বোঝাত এবং একে মরা মানুষের ঢিবি বলত।
কেউ কেউ মনে করেন, ৩৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ১৫০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত এ সভ্যতার উত্থান-পতনের কাল। আবার কারো মতে, আর্য জাতির আক্রমণের ফলে খ্রিস্টপূর্বাব্দ ১৫০০ অথবা ১৪০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে সিন্ধুসভ্যতার অবসান ঘটে। তবে। মর্টিমার হুইলার মনে করেন, এই সভ্যতার সময়কাল হচ্ছে ২৫০০ থেকে ১৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত।
নগর পরিকল্পনা হলো কারিগরি ও নগরকেন্দ্রিক জীবনযাপনে নাগরিক পরিবেশ তৈরির নকশা প্রণয়ন সম্পর্কিত পরিকল্পনা। এ পরিকল্পনার মাঝে রয়েছে নগরের বায়ু, পানি, অবকাঠামো, পরিবহণ ব্যবস্থা ও পরিষেবা ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি। নগর পরিকল্পনার মাধ্যমে মানব বসতির সঠিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়।
সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীদের ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা করা সম্ভব নয়। কারণ সিন্ধু সভ্যতার কোনো মন্দির বা মঠের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। মন্দির বা উপাসনা গৃহের অস্তিত্ব না থাকলেও স্থানে স্থানে অসংখ্য পোড়ামাটির নারীমূর্তি পাওয়া গেছে'। ধারণা করা হয়, তারা ঐ ধরনের দেবীমূর্তির পূজা করত।
সিন্ধু সভ্যতার সমাজব্যবস্থা ছিল মাতৃতান্ত্রিক। সিন্ধু সভ্যতার যুগে মানুষ সমাজবদ্ধ পরিবেশে বসবাস করত। সেখানে একক পরিবার পদ্ধতি চালু ছিল। সিন্ধু সভ্যতার যুগে সমাজে শ্রেণিবিভাগ ছিল। সব লোক সমান সুযোগ-সুবিধা পেত না। সমাজ ধনী ও দরিদ্র দুই শ্রেণিতে বিভক্ত ছিল। কৃষকেরা গ্রামে বসবাস করত। শহরে ধনী এবং শ্রমিকদের জন্য আলাদা আলাদা বাসস্থানের নিদর্শন পাওয়া গেছে।
সিন্ধু সভ্যতায় কোনো মন্দির বা মঠের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে মন্দির বা উপাসনা গৃহের অস্তিত্ব না থাকলেও স্থানে স্থানে অসংখ্য পোড়ামাটির নারীমূর্তি পাওয়া গেছে। ধারণা করা হয়, তারা ওই ধরনের দেব-দেবী মূর্তির পুজা করত। এজন্য সিন্ধুবাসীর মধ্যে মাতৃপূজা খুব জনপ্রিয় ছিল। তাছাড়াও বৃক্ষ, পাথর, সাপ এবং পশুপাখির উপাসনাও করত।
সিন্ধু সভ্যতার অর্থনীতি ছিল মূলত কৃষিনির্ভর। পশুপালনও তাদের অর্থনীতির বড় একটি দিক ছিল। কৃষি ও পশুপালনের পাশাপাশি তারা মৃৎপাত্র নির্মাণ, ধাতু শিল্প, বয়ন শিল্প, অলংকার নির্মাণ, পাথরের কাজ প্রভৃতিতে যথেষ্ট উন্নতি লাভ করে। সিন্ধু সভ্যতার বণিকেরা মধ্য এশিয়া, পারস্য, দক্ষিণ ভারত, রাজপুতনা, গুজরাট প্রভৃতি দেশের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলে।
সিন্ধু সভ্যতার লোকেরা সর্বপ্রথম পরিমাপ পদ্ধতি আবিষ্কার করে। তারা বিভিন্ন দ্রব্য ওজনের জন্য নানা প্রকারের, মাপের আকৃতির বাটখারা ব্যবহার করত। দাগ কাটা স্কেল দিয়ে দৈর্ঘ্য মাপার পদ্ধতিও তাদের জানা ছিল।
সিন্ধু সভ্যতায় মোট ১৩টি ভাস্কর্য মূর্তি পাওয়া গেছে। চুনাপাথরে তৈরি একটি মূর্তির মাথা পাওয়া গেছে। মহেঞ্জোদারোতে পাওয়া গেছে নৃত্যরত একটি নারীমূর্তি। এছাড়া মাটির তৈরি ছোট ছোট মানুষ আর পশুমূর্তিও পাওয়া গেছে। এ সভ্যতায় ২৫০০টি সিল পাওয়া গেছে।
তিনটি মহাদেশ দ্বারা ঘিরে থাকা মিশরের ভৌগোলিক অবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মিশর এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপ মহাদেশ দ্বারা পরিবেষ্টিত ভূমধ্যসাগরের উপকূলে উপস্থিত।
মিশর এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপ মহাদেশ দ্বারা পরিবেষ্টিত ভূমধ্যসাগরের উপকূলে উপস্থিত। এর উত্তরে ভূমধ্যসাগর, পূর্বে লোহিত সাগর, পশ্চিমে সাহারা মরুভূমি, দক্ষিণে সুদান ও আফ্রিকার অন্যান্য দেশ। এর মোট আয়তন প্রায় চার লক্ষ বর্গমাইল।
মিশরীয় 'পের-ও' শব্দ থেকে ফারাও শব্দটির উৎপত্তি। ফারাও "ছিল মিশরের রাজাদের উপাধি। অর্থাৎ মিশরের রাজাদেরকে ফারাও বলে ডাকা হতো। ফারাও পদটি বংশানুক্রমিক অর্থাৎ ফারাওয়ের ছেলে | উত্তরাধিকার সূত্রে ফারাও হতো।
মিশরীয়দের মতো অন্য কোনো জাতি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধর্মীয় নিয়মকানুন এবং অনুশাসন দ্বারা প্রভাবিত ছিল না। এজন্য মানবসভ্যতার ধ্যানধারণা, রীতিনীতি, আচার-অনুষ্ঠানের জন্ম প্রাচীন মিশরে। মিশরীয়রা জড়বস্তু, মূর্তি, জীবজন্তু প্রভৃতি পূজা করত।
ফারাও চতুর্থ আমেনহোটেপ। ক্ষমতা গ্রহণ করার পর পুরোহিতদের মন্দির থেকে বের করে দেন। বহু দেবতার পরিবর্তে একমাত্র সূর্যদেবতার পূজা করার রীতি চালু করেন। সূর্যদেবতার নাম অনুযায়ী তিনি নিজের নাম রাখেন 'ইখনাটন'। ইখনাটন এ ধর্মীয় ব্যবস্থার মাধ্যমে পৃথিবীর মানুষের মধ্যে প্রথমবারের মতো ঈশ্বরের ধারণা জন্মে।
মিশরীয় সভ্যতা বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে মিশরীয় লিখন পদ্ধতির উদ্ভব ঘটে। পাঁচ হাজার বছর পূর্বে তারা সর্বপ্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করে। প্রথমদিকে ছবি এঁকে তারা মনের ভাব প্রকাশ করত। এ লিখন পদ্ধতির নাম ছিল চিত্রলিপি।
মিশরীয় চিত্রলিপিকে বলা হয় 'হায়ারোগ্লিফিক' বা পরিশ্র অক্ষর। মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম বৈশিষ্ট্যগুলো লিখনপদ্ধতির আবিষ্কার। নগর সভ্যতার বিকাশের সাথে সাথে মিশরীয় লিখনপদ্ধতিরও উদ্ভব ঘটে। মিশরীয়রা পাঁচ হাজার বছর পূর্বে ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করে। তাদের এ লিখনপদ্ধতির নাম চিত্রলিপি।
প্রাচীন মিশরীয় শাসক বা ফারাও রাজাদের মৃতদেহ মমি বা সংরক্ষণের জন্য তৈরি করা হতো। মিশরীয়রা মনে করত মৃত ব্যক্তি আবার একদিন বেঁচে উঠবে। সে কারণে দেহকে তাজা রাখার জন্য মমি করত। ফারাওরা প্রাচীন মিশরে ঈশ্বরের প্রতিনিধি হিসেবে দেশ শাসন করতেন। তাদের মৃতদেহ মমি বানিয়ে সেই মমি রক্ষা করার 'জন্য প্রাচীন মিশরীয়রা পিরামিড তৈরি করত।
কারুশিল্পেও প্রাচীন মিশরীয় শিল্পীরা অসাধারণ দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। আসবাবপত্র, মৃৎপাত্র, সোনা, রূপা, মূল্যবান পাথরের খচিত তৈজসপত্র, অলংকার, মমির মুখোশ, দৈনন্দিন ব্যবহার্য জিনিসপত্র, হাতির দাঁত ও ধাতুর দ্রব্যাদি মিশরীয় কারু শিল্পের দক্ষতার প্রমাণ বহন করে।
চিকিৎসাশাস্ত্রে প্রাচীন মিশরীয়রা বিশেষ অগ্রগতি লাভকরেছিল। তারা দাঁত, চোখ, পেটের রোগ নির্ণয় করতে জানত। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে চিকিৎসা করার বিদ্যাও তাদের জানা ছিল। তারা হাড় জোড়া লাগানো, হৃৎপিন্ডের গতি এবং নাড়ির স্পন্দন নির্ণয় করতে পারত।
মিশরীয়রা দর্শন ও সাহিত্যচর্চা করত। তাদের রচনায় দুঃখ-হতাশার কোনো প্রকাশ ছিল না। তারা আশাবাদী ছিল। তাদের লেখায় সব সময়ই আনন্দের প্রকাশ দেখা গেছে।
প্রাচীন চীনে তিনটি অঞ্চল ঘিরে চৈনিক সভ্যতা গড়ে উঠেছিল যার কেন্দ্র ছিল পশ্চিমের উচ্চভূমি হতে উৎপন্ন নদীসমূহ। প্রথম সভ্যতা গড়ে ওঠে হোয়াং হো তীরবর্তী অঞ্চলে, দ্বিতীয়টি ইয়াংজেকিয়াং তীরবর্তী অঞ্চলে এবং তৃতীয়টি দক্ষিণ চীনের সুবিস্তৃত ভূখন্ডে।
আদিম ধরনের কৃষিপদ্ধতি ও উপকরণ ব্যবহার করলেও চৈনিক অর্থনীতির মূলভিত্তিই ছিল কৃষি। গম ও যব প্রধান উৎপাদিত শস্য হলেও কিছু পরিমাণ ধান তারা চাষ করত। তারা শিকার ও পশুপালনের মাধ্যমে মাংসের চাহিদা পূরণ করত।
চৈনিক সভ্যতার সাধারণ মানুষ পশু হিসেবে কুকুর, শূকর, ছাগল, ভেড়া, ষাঁড়, ঘোড়া, হাঁস, মুরগি, মহিষ, বানর এবং হাতিও পালন করত। শূকরের মাংসের মতো তাদের খাদ্য-তালিকায় কুকুরের মাংসও বেশ জনপ্রিয় ছিল.।
চৈনিক সভ্যতার পুরোহিতরা ধর্মীয় দায়িত্ব ছাড়াও জ্যোতিষ শাস্ত্রের চর্চা করত। তারা ক্যালেন্ডার তৈরিতেও ভূমিকা রাখত। পুরোহিতরা অঙ্ক ও গণিতশাস্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। চৌদ্দ খ্রিষ্টপূর্বাব্দের শুরুতে চীনারা সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণের সময় নির্ধারণ করতে পেরেছিল।
দুই ভাগে বিভক্ত গ্রিক সভ্যতার এক ভাগ 'মিনিয়ন সভ্যতা' এর স্থায়িত্ব ধরা হয় খ্রিস্টপূর্ব ৩০০০ থেকে ১৪০০ অব্দ পর্যন্ত এবং অপর ভাগ 'মাইসিনিয় বা এজিয়ান সভ্যতা' এর স্থায়িত্ব ছিল খ্রিষ্টপূর্ব ১৬০০ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ১১০০ অব্দ পর্যন্ত।
গ্রিস দেশটি আড্রিয়াটিক সাগর, ভূমধ্যসাগর ও ইজিয়ান সাগর দ্বারা পরিবেষ্টিত। গ্রিক সভ্যতার সঙ্গে দুটি সংস্কৃতির নাম জড়িত। একটি 'হেলেনিক' অপরটি 'হেলেনিস্টিক'। গ্রিক উপদ্বীপের প্রধান শহর এথেন্সকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে 'হেলেনিক সংস্কৃতি'।
হেলেনিস্টিক সংস্কৃতি' বলতে প্রাচীন গ্রিসের দুটি প্রধান সংস্কৃতির একটিকে বোঝায়। গ্রিক বীর আলোকজান্ডারের নেতৃত্বে মিশরের আলেকজান্দ্রিয়াকে কেন্দ্র করে গ্রিক ও অগ্রিক সংস্কৃতির মিশ্রণে যে নব্য সংস্কৃতির জন্ম হয়েছিল, ইতিহাসে তাকে হেলেনিস্টিক সংস্কৃতি বলে।
স্পার্টানদের জীবন স্পার্টা রক্ষার জন্যই নিয়োজিত ছিল। স্পার্টার সমাজ তৈরি হয়েছিল যুদ্ধের প্রয়োজনকে ঘিরে। সরকারের মূল উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধের জন্য নাগরিকদের প্রস্তুত করা ও যুদ্ধ পরিচালনা করা। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা আর বিদ্রোহ দমন ছাড়া স্পার্টার। রাজাদের মাথায় আর কোনো চিন্তা ছিল না।
গ্রিসে চূড়ান্ত গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা হয় পেরিক্লিসের সময়। তিনি । নাগরিকদের সব রাজনৈতিক অধিকারের দাবি মেনে নেন। তিনি এ সময় প্রশাসন, আইন, বিচার বিভাগে নাগরিকদের অবাধ অংশগ্রহণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন। তাই পেরিক্লিসের সময়কে গ্রিক সভ্যতার স্বর্ণযুগ বলা হয়।
গ্রিক জ্ঞানী-গুণীরা নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন! স্বাধীন গ্রিকবাসীর ছেলেরা সাত বছর এবং ধনী ব্যক্তিদের ছেলেরা ১৮ বছর পর্যন্ত লেখাপড়া করত। কৃষকের ছেলেরা প্রাথমিক শিক্ষা পেত। দাসদের সন্তানের জন্য বিদ্যালয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ ছিল। মেয়েরা কোনো প্রতিষ্ঠানে গিয়ে লেখাপড়া করতে পারত না।
গ্রিক জ্ঞানী-গুণীরা নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। গ্রিকের শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য ছিল আনুগত্য ও শৃঙ্খলা শিক্ষা দেওয়া। স্বাধীন গ্রিকবাসীর ছেলেরা সাত বছর বয়স থেকে পাঠশালায় যাওয়া আসা করত।
সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রাচীন গ্রিসের সৃষ্টি আজও মানবসমাজে মূল্যবান সম্পদ। গ্রিক মহাকবি হোমারের 'ইলিয়ড' ও 'ওডিসি' মহাকাব্য তার অপূর্ব নিদর্শন। সাহিত্য ক্ষেত্রে চূড়ান্ত বিকাশ ঘটেছিল নাটক রচনায়। গ্রিসের শ্রেষ্ঠ নাট্যকার ছিলেন সোফোক্লিস। তিনি ১০০তিই বেশি নাটক রচনা করেন
প্রাচীন গ্রিকরা বারোটি দেব-দেবীর পূজা করত। বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তির পূজা ছাড়াও তারা বীরযোদ্ধাদের পূজা করত। জিউস ছিলেন দেবতাদের রাজা। অ্যাপোলো ছিলেন সূর্য দেবতা, পোসিডন ছিলেন সাগর দেবতা। এথেন্য ছিলেন জ্ঞানের দেবী।.
প্রাচীন গ্রিকদের উৎসবের দিনে গ্রিসে নানা ধরনের ক্রীড়া-প্রতিযোগিতা হতো। অলিম্পিক ক্রীড়া-প্রতিযোগিতায় গ্রিসের শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদরা অংশ নিত। তাতে দৌড়ঝাঁপ, মল্লযুদ্ধ, চাকা নিক্ষেপ, বর্শা ছোড়া ইত্যাদি বিষয় প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা থাকত।
শ্রেণিবিভক্ত এথেনীয় সমাজ দরিদ্র কৃষকসহ সাধারণ মানুষের জমির ওপর তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক অধিকার আদায় এবং ঋণ দাসত্ব বাতিলের দাবিতে সংঘটিত হওয়ার মুখে গৃহীত সংস্কারমূলক ও আইনমূলক পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে এথেনীয় গণতন্ত্রের বিকাশ পথ শুরু হয়। যার দ্বারা এথেনীয় জনগণের কল্যাণ সাধিত হয়। এথেন্সের জনগণের কল্যাণ সাধনে যেসব মনীষীর বিকাশ ঘটেছিল
ইতালির টাইবার নদীর তীরে গড়ে ওঠা সভ্যতাই হলো রোমান সভ্যতা। রোমকে কেন্দ্র করে গড়ে এ সভ্যতা রোমান সভ্যতা নামে পরিচিত। ইতালির মাঝামাঝি রোম নগরী অবস্থিত। ৭৫৩ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে রোম নগরী প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ৪৭৬ খ্রিষ্টাব্দে রোমান - সভ্যতার পতন ঘটে।
গুরুত্বপূর্ণ টাইবার নদীর উৎসমুখ থেকে প্রায় বারো-তেরো মাইল দূরে সাতটি পর্বতশ্রেণির ওপর রোম নগরী অবস্থিত। এজন্য একে সাতটি পর্বতের নগরীও বলা হয়।
লাতিন রাজা রোমিউলাস রোম নগরীর প্রতিষ্ঠা করেন। তার নাম অনুযায়ী নগরের নাম হয় রোম। গুরুত্বপূর্ণ টাইবার নদীর উৎসমুখ থেকে প্রায় বারো-তেরো মাইল দূরে সাতটি পর্বতশ্রেণির ওপর রোম শহর অবস্থিত।
রোমানরা ধর্মীয় ক্ষেত্রে গ্রিকদের দ্বারা প্রভাবিত ছিল। রোমানদের প্রধান দেবতার নাম জুপিটার। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দেব-দেবী হচ্ছে জুনো, নেপচুন, মারস ইত্যাদি। রোমানদের পরকালে বিশ্বাস ছিল না। সম্রাটকে ঈশ্বর হিসেবে পূজা করার নীতি ছিল।
রাজতন্ত্রের পতনের পর রোমের জনগণ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে, প্যাট্রিসিয়ান অর্থাৎ অভিজাত শ্রেণি, আর প্লিবিয়ান যারা সাধারণ নাগরিক। ক্ষুদ্র কৃষক, কারিগর, বণিকরা প্লিবিয়ান শ্রেণিভুক্ত ছিল।
বিশাল রোম সাম্রাজ্যকে তিন ভাগ করে শাসনের দায়িত্ব নেন অক্টোভিয়াস সিজার, মার্ক এন্টনিও লেপিডাস। ক্ষমতার দ্বন্দ্বের একপর্যায়ে সমঝোতার ভিত্তিতে তিনজন নেতা একযোগে ক্ষমতায় আসেন, যা ইতিহাসে ত্রয়ী শাসন নামে পরিচিত।
বিদেশি আক্রমণ, বিশেষ করে জার্মান বর্বর গোত্রগুলোর তীব্র আক্রমণ তাদের পতন ঘটায়। তাছাড়া অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার কোন্দলের কারণে রোমানদের শক্তি ক্ষয় হয়ে যেতে থাকে। রোমের শেষ সম্রাট রোমিউলাস অগাস্টুলাস জার্মান বর্বর গোত্রের তীব্র আক্রমণ প্রতিহত করতে ব্যর্থ হলে ৪৭৬ খ্রিস্টাব্দে রোমান সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।
পৃথিবীর প্রাচীন সভ্যতাগুলো মধ্যে অন্যতম মায়া সভ্যতা। আমেরিকার তিনটি সভ্যতা হচ্ছে মায়া, আজটেক ও ইনকা সভ্যতা। গুয়েতেমালা ও মেক্সিকোর পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত সমৃদ্ধ জনপদ ছিল মায়া সভ্যতা।
পান্ডুলিপি থেকে জানা গিয়েছে মায়া অঞ্চলের লোকেরা ভাবের আদান-প্রদান করার জন্যে একটি ভাষার ব্যবহার করত। তাদের এই ভাষার লিখিত রূপটি ছবি বা চিহ্ন ব্যবহার করায় অনেকটা হায়ারোগ্লিফিক ধাঁচের ছিল। প্রায় ৮০০টির বেশি ছবি ব্যবহার করে তারা এই লিপির প্রচলন ঘটিয়েছিল।
লাতিন আমেরিকার দেশ পেরুর সুউচ্চ সবুজ পাহাড় থেকে নেমে এসেছে উরুবামবা নদী। এই পাহাড়ি এলাকাতেই প্রাচীন ইনকাদের শহর। এখানেই ভূপৃষ্ঠ' থেকে প্রায় ২৪০০ ফুট উচ্চতায়-অবস্থিত লাতিন আমেরিকায় ইনকাদের হারানো শহর মাচুপিচু।
১৯১১ সালে মার্কিন ঐতিহাসিক হিরাম বিংহ্যাম ইনকা সভ্যতার নিদর্শন আবিষ্কার করেন। লাতিন আমেরিকার দেশ পেরুর উরুবামবা নদী তীরে পাহাড়ি এলাকাতেই প্রাচীন ইনকাদের শহর। এখানেই ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৪০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত লাতিন্ন আমেরিকায় ইনকাদের হারানো শহর মাচুপিচু।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উপরে অবস্থিত ইনকা শহর মাচুপিচুর। নির্মাণ শেষ হয় ১৪৫০ সালে। ধারণা করা হয় ইনকা সম্রাট পাচাকুটির নির্দেশে হয়েছিল এই নির্মাণ। তবে শত বছর না পেরোতেই পরিত্যক্ত হয়ে গিয়েছিল শহরটি।
কেউ কেউ দাবি করেন- ইউরোপীয়দের আগ্রাসনের সময় মহামারির কবলে পড়েছিল মাচুপিচু। ভয়াবহ মহামারির ফলে বেশিরভাগ মানুষ মারা গেলে পরিত্যক্ত হয়ে গিয়েছিল ইনকা নগরী মাচুপিচু। কারও মতে স্প্যানিশ আগ্রাসনকারীরা মাচুপিচু দখল করতে গিয়ে বেশিরভাগ অধিবাসীকে মেরে ফেলেছিল। ফলে মাচুপিচু শহর পরিত্যক্ত হয়।
ইনকা সভ্যতার লোকেরা গিনিপিগ ও লামার মাংসের পাশাপাশি সামুদ্রিক মাছ ধরতে পারলে সিদ্ধ করে কিংবা পুড়িয়ে খেত। পশ্চিমে প্রশান্ত সাগর আর সেই জগদ্বিখ্যাত টিটিকাকা হ্রদের মাছ ছিল তাদের খুব প্রিয়। সিংহভাগ ক্ষেত্রে নিরামিষভোজী হওয়ায় | গোল আলু ছিল ইনকাদের প্রধান খাদ্যশস্য।
ইনকা সভ্যতার লোকেরা পাহাড়ি পথে চলাচলের ক্ষেত্রে পায়ের সুরক্ষায় জুতা ও স্যান্ডেল পরত। ইনকা নারীরা লম্বা' একখন্ড কাপড় দিয়ে তৈরি বিশেষ পোশাক পরতেন। কাপড়টি কাঁধ থেকে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত পুরো শরীরকে ঢেকে রাখতো।
ইনকাদের রাজ্যে সব শহরে সূর্যদেবের মন্দির ছিল। মন্দিরের ভেতরে পূজা না হয়ে হতো বাইরের চত্বরে। ইনকা রাজ্যের সবচেয়ে বড় সূর্যমন্দির ছিল কুজকো শহরে। সব মন্দিরেই অনেকগুলো দালান থাকতো পুরোহিত ও মন্দিরের কর্মচারীদের থাকার জন্য।
স্প্যানিশ আক্রমণকারীরা ১৫১৯ সালের দিকে মধ্য মেক্সিকোতে আজটেক সভ্যতার এক সমৃদ্ধ নগরের সন্ধান পায়। তবে এর আগে মেক্সিকো অঞ্চলের জনশ্রুতি ও কিংবদন্তি থেকে আজটেক জাতির নাম শোনা যায়। তারা প্রথম বসতি গড়েছিল আজলটান অঞ্চলে। জায়গাটি ছিল মেক্সিকোর উত্তরে কিংবা উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কোথাও।
তেরো শতকে টেনোচকা নামে আরেকটি নহুয়া ভাষায় কথা বলা জাতিগোষ্ঠী এসে বসতি স্থাপন করেছিল আজটেকদের এলাকায়। ১৩২৫ সালে তারা তেনোচ্ছেৎলান নামে একটা শহরের পত্তন করে। ঠিক তার ধ্বংসাবশেষের উপরে গড়ে উঠেছে বর্তমান মেক্সিকোর রাজধানী শহর 'মেক্সিকো সিটি'।
আজটেকরা বিশেষ ধরনের ক্যালেন্ডার ও সুদৃশ্য ভাসমান বাগান তৈরি করেছিল। তারা প্রশস্ত রাস্তা তৈরির মাধ্যমে নিজেদের শহরগুলোকে সংযুক্ত করেছিল। আজটেকদের ওল্লামাকে বর্তমান বিশ্বের জনপ্রিয় খেল্লা ফুটবল তথা সকারের আদিরূপ হিসেবে মনে করা হয়।
মানুষের যাযাবর জীবনের অবসান ঘটিয়ে কৃষিভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানবসভ্যতার, শুর হয়।
পুরনো পাথরের যুগ শেষ হয়ে মানুষের যাযাবর জীবনের অবসান ঘটিয়ে কৃষিভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে যে যুগ সৃষ্টি তাকে বলা হয় নবোপলীয় যুগ।
পাথর যুগের প্রথম পর্যায় হলো পুরোপলীয় যুগ।
পাথর যুগের প্রথম পর্যায়কে বলা হতো পুরানো পাথরের যুগ বা পুরোপলীয় যুগ।
মেসোপটেমীয় সভ্যতা ফোরাত ও দজলা নদীর তীরে গড়ে ওঠে।
মেসোপটেমিয়ার অর্থ দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি।
টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস দুটি নদী।
মেসোপটেমীয় অঞ্চলে সুমেরীয় সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল
সুমেরীয় সভ্যতায় নগর রাষ্ট্রের প্রধানকে পাতেজি বলা হতো।
সুমেরীয়রা ৪০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মেসোপটেমিয়ায় বসতি গড়ে তোলে।
সুমেরীয় ধর্মমন্দিরকে 'জিগুরাত' 'বলা হতো।
'জিগুরাত' হলো সুমেরীয় সভ্যতার ধর্ম মন্দিরের নাম।
সুমেরীয়দের সূর্য দেবতার নাম শামাস।
এনলিল হচ্ছে বন্যা, বৃষ্টি ও বাতাসের দেবতা।
এনকি' সুমেরীয়দের পানির দেবতা।
প্রেম উর্বরতার দেবী ইশতার ও প্লেগ রোগের দেবতার নারগল।
কিউনিফর্ম সুমেরীয়দের আবিষ্কৃত লিখন পদ্ধতি.।
সুমেরীয়রা ৩৫০০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে লিখন পদ্ধতি আবিষ্কার করে।
গিলগামেশ সুমেরীয়দের মহাকাব্য।
সুমেরীয়দের বিখ্যাত মহাকাব্যের নাম গিলগামেশ।
বাব-ইল শব্দ থেকে ব্যাবিলন শব্দের উৎপত্তি। অনেকে বলেন ব্যবল শব্দ থেকে ব্যাবিলন শব্দের উৎপত্তি হয়েছে।
রাজা নেবুচাদনেজার ব্যাবিলনের শূন্য উদ্যান তৈরি করেন।
সুমেরীয়রা মেসোপটেমিয়ায় প্রথম সভ্যতা গড়ে তোলে।
উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতার নাম সিন্ধু সভ্যতা।
সিন্ধু সভ্যতা সিন্ধু নদের অববাহিকায় গড়ে উঠেছিল।
মহেঞ্জোদারো ও হরপ্পাতে সিন্ধু সভ্যতার নিদর্শন সবচেয়ে বেশি আবিষ্কৃত হয়েছে।
মহেঞ্জোদারো কথাটির অর্থ মরা মানুষের ঢিবি।
মহেঞ্জোদারোতে এক বিরাট স্নানাগার আবিষ্কৃত হয়েছে।
সিন্ধু সভ্যতার নগরের শাসনকর্তারা নগর দুর্গে বাস করতেন।
সিন্ধু সভ্যতার বৃহৎ মিলনায়তনটি ৮০ ফুট জায়গা জুড়ে তৈরি করা হয়।
সিন্ধু সভ্যতার সমাজব্যবস্থা ছিল মাতৃতান্ত্রিক।
সিন্ধু সভ্যতায় মোট ১৩টি ভাস্কর্য মূর্তি পাওয়া যায়।
সিন্ধু সভ্যতায় ২৫০০ সিল আবিষ্কৃত হয়েছে।
নগর পরিকল্পনা হলো একটি কারিগরি ও নগরকেন্দ্রিক জীবনযাপনে নাগরিক পরিবেশ তৈরির নকশা প্রণয়ন সম্পর্কিত পরিকল্পনা।
সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীরা দ্রব্যের ওজন পরিমাপ করতে শিখেছিল।
সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীরা দ্রব্যের ওজন পরিমাপ পদ্ধতির উদ্ভাবক ছিল।
মিশর তিনটি মহাদেশ দ্বারা পরিবেষ্টিত।
নীলনদের তীরে মিশরীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
নীল নদের উৎপত্তি স্থান আফ্রিকার লেক ভিক্টোরিয়া থেকে।
মেনেসের নেতৃত্বে মিশরীয় সভ্যতার গোড়াপত্তন হয়।
মিশরের মোট আয়তন প্রায় চার লক্ষ বর্গমাইল।
প্রাক-রাজবংশীয় যুগে মিশরের ছোট নগররাষ্ট্রগুলোই হচ্ছে নোম।
মিশরীয় চিত্রলিপিকে বলা হয় হায়ারোগ্লিফিক।
হায়ারোগ্লিফিক অর্থ পবিত্র লিপি
রসেটা স্টোন মিশরে আবিষ্কৃত একটি পাথর, যাতে হায়ারোগ্লিফিক ভাষায় মিশরের অনেক তথ্য পাওয়া যায়।
প্যাপিরাস' নলখাগড়া জাতীয় ঘাস বা মিশরীয়রা লেখার কাগজ হিসেবে ব্যবহার করত।
'স্ফিংকস' হচ্ছে এমন একটি মূর্তি, যার দেহ সিংহের মতো; কিন্তু মুখ মানুষের মতো।
মমি বলতে এমন একটি মৃতদেহকে বোঝায়, যা বিশেষ প্রক্রিয়ায় এমনভাবে সংরক্ষণ করে রাখা হয়, যাতে এটি পচে না যায় বা ক্ষয়প্রাপ্ত না হয়।
মিশরের অর্থনীতি মূলত কৃষির ওপর নির্ভরশীল।
মিশরীয়দের সর্বশ্রেষ্ঠ ভাস্কর্য হলো গিজার অতুলনীয় স্ফিংক্স।
খ্রিষ্টপূর্ব ৪০০০ অব্দে মিশরে প্রথম সাম্রাজ্যের উদ্ভব ঘটে।
মিশরীররা ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করেন।
মিশরীয়দের সর্বশ্রেষ্ঠ ভাস্কর্য হচ্ছে স্ফিংক্স।
স্ফিংকস ফারাওদের আভিজাত্য শক্তির প্রতীক ছিল।
মিশরের উদ্ভাবিত চিত্রলিপিকে বলা হয় হায়ারোগ্লিফিক বা পবিত্র অক্ষর।
প্রাচীন চীনা সভ্যতা ২টি রাজবংশের অর্জন। যথা- শাং ও চৌ রাজবংশ।
প্রাচীন চীনা সভ্যতা ২টি রাজবংশের অর্জন। যথা- শাং ও চৌ রাজবংশ
চীনের ৩টি অঞ্চল দিয়ে সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
হোয়াংহো নদীকে চীনের দুঃখ বলা হয়।
ইয়াং ও ইন এর মিলনে পৌরাণিক মানব পানকুর জন্ম হয়।
চীনা বিশ্বাসে পানকুর তিন জন সহকারী ছিল।
চৈনিক অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষি ছিল।
শাং জনগোষ্ঠী মাটির ঘর বা গর্তে বাস করত।
গ্রিক উপদ্বীপের প্রধান শহর এথেন্সকে কেন্দ্র করে যে সংস্কৃতি গড়ে ওঠে তাই হেলেনিক সংস্কৃতি।
মিশরে আলেকজান্দ্রিয়াকে কেন্দ্র করে গ্রিক ও অগ্রিক সংস্কৃতির মিশ্রণে' জন্ম নেয় নতুন এক সংস্কৃতি। নতুন এ সংস্কৃতিকে বলা হয় হেলেনিস্টিক সংস্কৃতি।
ইজিয়ান সাগরের দ্বীপপুঞ্জে এবং এশিয়ার মাইনরের পশ্চিম উপকূলে আবিষ্কৃত নগর সভ্যতাকে ইজিয়ান সভ্যতা বলে।
সোলন ছিলেন এথেনীয় গণতন্ত্রের জনক।
প্রাচীন গ্রিসে যে অসংখ্য নগররাষ্ট্র গড়ে উঠেছিল তার একটি ছিল স্পার্টা।
প্রাচীন এথেন্স ও মিত্র রাষ্ট্রদের নিয়ে গঠিত জোটের নাম হলো 1 ডেলিয়ান লীগ।
বিশ্ব সভ্যতায় আজটেকদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। - তারা বিশেষ ধরনের ক্যালেন্ডার তৈরি করেছিল। সুদৃশ্য ভাসমান বাগান তৈরির কৃতিত্বও তাদের। তারা প্রশস্ত রাস্তা তৈরির মাধ্যমে নিজেদের শহরগুলোকে সংযুক্ত করেছিল। আজটেকদের ওল্লামাকে বর্তমান বিশ্বের জনপ্রিয়তম খেলা ফুটবল তথা সকারের আদিরূপ - হিসেবে মনে করা হয়।
স্পার্টা সরকারের মূল উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধের জন্য নাগরিকদের প্রস্তুত করা ও যুদ্ধ পরিচালনা করা।
স্পার্টার পরাজিত স্থানীয় অধিবাসীদের হেলোট বা ভূমিদাস বলে।
হোমার বিশ্ব সাহিত্যের অমূল্য নিদর্শন 'ইলিয়ড' ও 'ওডিসি' মহাকাব্যের রচয়িতা।
'ইলিয়ড' মহাকাব্যের রচয়িতা হোমার।
'ইলিয়ড' ও 'ওডিসি' মহাকাব্যের রচয়িতা গ্রিক মহাকবি হোমার।
পৃথিবীর মানচিত্র প্রথম অঙ্কন করেন গ্রিকরা।
সক্রেটিসের শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য ছিল আদর্শ রাষ্ট্র ও সৎ নাগরিক গড়ে তোলা।
আনুগত্য ও শৃঙ্খলা শিক্ষা দেওয়াই ছিল প্রাচীন গ্রিসের শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য ছিল।
গ্রিসের শ্রেষ্ঠ নাট্যকার ছিলেন সোফোক্লিস।
মহাকবি হোমার গ্রিসের অধিবাসী ছিলেন।
গণতন্ত্রের সূচনা হয় এথেন্সে।
পার্থেনন হচ্ছে একটি মন্দির। এটি প্রাচীন গ্রিসের গণতন্ত্র এবং পাশ্চাত্য সভ্যতার প্রতীক।
এসকাইলাসকে প্রাচীন গ্রিসের বিয়োগান্ত নাটকের জনক বলা হয়।
গ্রিসে অলিম্পিক খেলা শুরু হয়।
৭৭৬ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে গ্রিসের অলিম্পিয়ায় অলিম্পিক খেলা শুরু হয়।
সক্রেটিসের শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য ছিল আদর্শ রাষ্ট্র ও সৎ নাগরিক গড়ে তোলা।
পেরিক্লিসের যুগে এথেন্স সর্বক্ষেত্রে উন্নতির চরম শিখরে আরোহণ করে।
বিয়োগান্তক নাটক রচনায় গ্রিকরা বিশেষ পারদর্শী ছিলেন।
: বিজ্ঞানসম্মত ইতিহাসের জনক ছিলেন থুকিডাইডিস।
রোম নগরীর প্রতিষ্ঠাতা রাজা রোমিউলাস।
টাইবার নদী' ইতালির রোমে অবস্থিত।
রোমান সভ্যতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল আইন প্রণয়ণের ক্ষেত্রে।
দাসরা স্পার্টাকাসের নেতৃত্বে বিদ্রোহ স্প্রেষণা করে।
মার্ক এন্টনি মিশরের রাজকন্যা ক্লিওপেট্রাকে বিয়ে করে তার শক্তি বৃদ্ধি করে।
রোমানদের অন্যতম প্রধান দেবতার নাম ছিল জুপিটার।
জাস্টিনিয়ান ছিলেন বাইজান্টাইনের সম্রাট।
রোমান সভ্যতার চূড়ান্ত পতন হয় ৪৭৬ খ্রিস্টাব্দে।
রোমান সভ্যতা প্রায় ৬০০ বছর স্থায়ী হয়েছিল।
মায়া সভ্যতা গুয়েতেমালা ও মেক্সিকোর পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত।
মায়ানরা গাছের বাকল থেকে তৈরি কাগজ দিয়ে কোডেক্স বই বানাতো
সম্প্রতি বেলিজের কিউল্লোতে মায়া সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গেছে।
বেলিজে খ্রিস্টপূর্ব ২৬০০ বছর আগের মায়া সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গেছে।
ইউরোপীয়রা মায়া সভ্যতার সোনার পাতে লেখা লুট করে।
মায়া সভ্যতার কেন্দ্র ছিল গুয়েতেমালা।
পেরুতে ইনকা সভ্যতা গড়ে উঠেছিল।
লাতিন আমেরিকায় ইনকাদের শহরের নাম মাচুপিচু।
মাচুপিচু ইনকা সভ্যতা নিদর্শন।
১৪৫০ সালে মাচুপিচুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়।
আতাহুয়ালপার শাসনামলে স্প্যানিয়ার্ড ডাকাতদল ইনকাদের শহর ধ্বংস করে।.
ইনকাদের প্রধান খাদ্য ছিল আলু।
ইনকা সভ্যতার পুরুষরা কানে বিশেষ গহনা পরত।
ইনকারা সূর্য দেবতার পূজা করত।
স্প্যানিশ আক্রমণকারীরা আজটেক সভ্যতা আবিষ্কার করে।
আজটেকরা আজলটান অঞ্চলে প্রথম বসতি স্থাপন করে।
কুলহুয়া জাতির লোকেরা মেক্সিকোতে আজটেক সভ্যতা গড়ে তোলে।
আজটেকরার ভাসমান বাগান তৈরি করেছিল।
আজটেকরা বর্তমান ফুটবল খেলার মতো ওল্লামা খেলা চালু করে
আদিম যুগের মানুষ কৃষিকাজ জানত না। বনে বনে ঘুরে ফলমূল সংগ্রহ করত। তা-ই ছিল তাদের খাদ্য। এরপর মানুষ পাথর ভেঙে ঘষে ঘষে ধারালো অস্ত্র তৈরি করতে শেখে। সে সময় পাথরই ছিল তাদের একমাত্র হাতিয়ার। এজন্য এ যুগকে পাথরের যুগ বলা হতো। পুরানো পাথরের যুগ শেষ হয় মানুষের যাযাবর জীবনের অবসান ঘটিয়ে কৃষিভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। এ যুগকে বলা হয় নতুন পাথরের যুগ বা নবোপলীয় যুগ। কৃষির প্রয়োজনে এ যুগে মানুষ 'নদীর তীরে বসবাস শুরু করে। ঘর-বাড়ি নির্মাণ করতে শেখে। এভাবেই মানবসভ্যতার শুরু।
আদিম যুগে মানুষ কৃষিকাজ জানত না। সে সময় তারা গাছের ফলমূল খেয়ে জীবনধারণ করত। এরপর মানুষ পাথর দিয়ে হাতিয়ার বানানো শিখল। সে সময় পাথরই ছিল তাদের একমাত্র হাতিয়ার। তাই এ যুগকে বলা হয় পাথরের যুগ। পাথর যুগের প্রথম পর্যায়কে বলা হয় পুরোপলীয় বা পুরানো পাথরের যুগ। এ যুগে মানুষ দলবদ্ধভাবে পাথরের হাতিয়ার দিয়ে পশু শিকার করত। এসময় তারা আগুনের ব্যবহার জানত না।
আদিম যুগের মানুষ যখন পাথর ভেঙে ঘষে ঘষে ধারালো অস্ত্র তৈরি করতে শেখে তখন তাদের একমাত্র হাতিয়ার পাথর হওয়ার কারণে এ যুগকে পাথরের যুগ বলা হয়। পাথরের যুগের প্রথম পর্যায়কে পুরানো পাথরের যুগ বলা হয়। পুরানো পাথরের যুগ শেষ হওয়ার পরবর্তী সময়ে নতুন পাথরের যাত্রা শুরু হয়। আর এ নতুন পাথরের যুগকে বলা হয় নবোপলীয় যুগ।
মেসোপটেমীয় অঞ্চলে বিশ্বের প্রাচীন সভ্যতাগুলোর বেশিরভাগ গড়ে উঠেছিল বিধায় একে সভ্যতার লীলাভূমি বলা হয়। আজ থেকে প্রায় সাত হাজার বছর পূর্বে প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতার সমকালীন টাইগ্রিস ও ইউফ্রেটিস নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চলে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন সভ্যতা গড়ে ওঠে, যার সম্মিলিত নাম মেসোপটেমীয় সভ্যতা। গ্রিক ঐতিহাসিকেরা সর্বপ্রথম এ অঞ্চলের নাম দেন মেসোপটেমিয়া। প্রাচীন বেশিরভাগ সভ্যতা এ অঞ্চলে গড়ে ওঠে বলে একে সভ্যতার লীলাভূমি বলা হয়।
অর্ধচন্দ্রাকার উর্বর ভূমি বলতে প্রাচীন মেসোপটেমীর অঞ্চলকে বোঝায়। 'মেসোপটেমিয়া' একটি গ্রিক শব্দ যর অর্থ দুই নদীর মধ্যবর্তী ভূমি। ইউফ্রেটিস ও টাইগ্রস নদীর মধ্যবর্তী অঞ্চল মেসোপটেমিয়া নামে পরিচিত। এ অঞ্চলটি নদীকেন্দ্রিক হওয়ায় উর্বর ছিল। মূলত উর্বরতা ও অর্ধচন্দ্রের মতো আকৃতির কারণে আমেরিকান ভূগোলবিদ ব্রেস্টেড Fertile Crescent বা অর্ধচন্দ্রাকৃতি উর্বর ভুমি বলে আখ্যায়িত করেন।
গণিতের উদ্ভাবন ও উন্নয়নের মেসোপটেমিয়া সভ্যতার বিশেষ গুরুত্ব ছিল। তারা ১ ঘণ্টায় ৬০ মিনিট ও এক মিনিটে ষাট সেকেন্ডের হিসাব শুরু করেছিল। বছরকে ১২ মাসে এবং এক মাসকে ৩০ দিনে ভাগ করে হিসাব করা শুরু করেছিল। পৃথিবীকে ৩৬০ ডিগ্রিতে ভাগ করার পাশাপাশি রাশিচক্রের হিসেবে তারাই শুরু করেছিল। ব্রোঞ্জ আবিষ্কারের পাশাপাশি আজ থেকে সাড়ে তিন হাজার বছর আগে। তারা কাচের ব্যবহার শুরু করেছিল।
প্রাচীন বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসে সুমেরীয়দের অবদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তারা একটি নতুন ধরনের লিখন প্রক্রিয়ার উদ্ভাবন করে। প্রথমদিকে, তারা মিশরীয়দের মতো চিত্রলিপি ধরনের লেখা শুরু করে। দ্রুত ভাব প্রকাশের জন্য আস্তে আস্তে লিখন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসে। এ লিপির নাম দেওয়া হয় 'কিউনিফর্ম'। কাদামাটির নরম স্লেটে নলখাগড়ার কলম দিয়ে এক রকম কৌণিক রেখা ফুটিয়ে তোলা হতো। খাঁজকাটা এ চিহ্নগুলো দেখতে অনেকটা তীরের মতো। কোনো কোনোটিকে আবার ইংরেজি অক্ষরের মতো মনে হয়। কিউনিফর্মকে বলা যায় অক্ষরভিত্তিক বর্ণলিপি।
নদীর তীরে অবস্থিত মেসোপটেমিয়ার সিংহভাগ শহরের কেন্দ্র ছিল দুর্গবেষ্টিত। দুর্গের দেওয়াল ছিল রোদে শুকানো ইট দ্বারা নির্মিত। এই ইটগুলো পোড়ানোর ক্ষমতা তখনও আয়ত্তে আসেনি তাদের। বিশেষত, ইউরুক শহরে ৬ মাইল দীর্ঘ দুর্গ ঘেরা একটি অঞ্চল আবিষ্কার করা সম্ভব হয়েছে। এ সময়ে নির্মিত বেশিরভাগ 1 নগরে নগর-তোরণ ছিল।
সিন্ধু উপমহাদেশের প্রাচীনতম সভ্যতা হলেও বিশাল এলাকা জুড়ে এর বিস্তৃতি ছিল। এ সভ্যতা শুধু মহেঞ্জোদারো ও হরোপ্পা এ শহর দুটির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। যদিও এ শহর দুটি সিন্ধু সভ্যতার সবচেয়ে বেশি নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়েছে। পাকিস্তানের পাঞ্জাব, সিন্ধু প্রদেশ, ভারতের পাঞ্জাব, রাজস্থান, গুজরাটের বিভিন্ন জায়গায় এ সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গেছে। ঐতিহাসিকেরা মনে করেন, সিন্ধু সভ্যতা পাঞ্জাব থেকে আরব সাগর পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে গড়ে উঠেছিল।
সিন্ধু সভ্যতার আবিষ্কার কাহিনি চমৎকার। পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলায় মহেঞ্জোদারো শহরে উঁচু উঁচু মাটির ঢিবি ছিল। স্থানীয় লোকেরা বলত মরা মানুষের ঢিবি। বাঙালি প্রত্নতত্ত্ববিদ রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পুরাতত্ত্ব বিভাগের লোকেরা ঐ স্থানে বৌদ্ধস্তূপের ধ্বংসাবশেষ আছে ভেবে মাটি খুঁড়তে থাকেন। অপ্রত্যাশিতভাবে বেরিয়ে আসে তাম্রযুগের নিদর্শন। একই সময়ে ১৯২২-২৩ খ্রিস্টাব্দে দয়ারাম সাহানীর প্রচেষ্টায় পাঞ্জাবের পশ্চিম দিকে মন্টোগোমারি জেলার হরপ্পা নামক স্থানেও প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন আবিষ্কৃত হয়। জন মার্শালের নেতৃত্বে পুরাতত্ত্ব বিভাগ অনুসন্ধান চালিয়ে আরও বহু নিদর্শন আবিষ্কার করে। এভাবে সিন্ধু সভ্যতা আবিষ্কৃত হয়।
মহেঞ্জোদারো শব্দের অর্থ মরা মানুষের ঢিবি। হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোতে সিন্ধু সভ্যতা গড়ে উঠেছিল। পাকিস্তানের সিন্ধু প্রদেশের লারকানা জেলায় মহেঞ্জোদারো শহরে উঁচু উঁচু মাটির ঢিবি ছিল। স্থানীয় লোকেরা মহেঞ্জোদারো মানে মরা মানুষের চিবি বোঝাত এবং একে মরা মানুষের চিবি বলত।
সিন্ধু সভ্যতার অধিবাসীদের ধর্মবিশ্বাস সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা করা সম্ভব নয়। কারণ সিন্ধু সভ্যতার কোনো মন্দির বা মঠের, চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে তাদের মধ্যে যে ধর্মবিশ্বাস ছিল, সে বিষয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। মন্দির বা উপাসনা গৃহের অস্তিত্ব না। থাকলেও স্থানে স্থানে অসংখ্য পোড়ামাটির নারীমূর্তি পাওয়া গেছে। ধারণা করা হয়, তারা ঐ ধরনের দেবীমূর্তির পূজা করত।
সিন্ধু সভ্যতার এলাকায় যেসব শহর আবিষ্কৃত হয়েছে তার মধ্যে হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো সবচেয়ে বড় শহর। ঘরবাড়ি সবই পোড়ামাটির বা রোদে পোড়ানো ইট দিয়ে তৈরি। হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারোর নগর পরিকল্পনা একই রকম ছিল। নগরীর ভেতর দিয়ে চলে গেছে পাকা রাস্তা, রাস্তাগুলো ছিল সোজা। প্রত্যেকটি বাড়িতে খোলা জায়গা, কূপ ও স্নানাগার ছিল। জল নিষ্কাশনের জন্য ছোট নর্দমাগুলো মূল নর্দমার সাথে সংযুক্ত করা হতো। রাস্তাঘাট পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা হতো। পথের ধারে ছিল সারিবদ্ধ ল্যাম্পপোস্ট।
সভ্যতার ইতিহাসে সিন্ধু সভ্যতা একটি পরিকল্পিত নগরীর ধারণা দিয়েছে। হরপ্পা ও মহেঞ্জোদারো শহর দুটো প্রায় একই পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্মিত হয়েছিল। এ সভ্যতার বেশিরভাগ কেন্দ্রই নগর। আধুনিক নগর পরিকল্পনা, উন্নত নাগরিক জীবনযাত্রা ও সাংস্কৃতিক, চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে সিন্ধু সভ্যতাকে নগরকেন্দ্রিক সভ্যতা বলে অভিহিত করা হয়.।
তিনটি মহাদেশ দ্বারা ঘিরে থাকা মিশরের ভৌগোলিক অবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মিশর এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপ মহাদেশ দ্বারা পরিবেষ্টিত ভূমধ্যসাগরের উপকূলে উপস্থিত। এর উত্তরে ভূমধ্যসাগর, পূর্বে লোহিত সাগর, পশ্চিমে সাহারা মরুভূমি, দক্ষিণে সুদান ও আফ্রিকার অন্যান্য দেশ। এর মোট আয়তন প্রায় চার লক্ষ বর্গমাইল।
মিশরীয় 'পের-ও' শব্দ থেকে ফারাও শব্দটির উৎপত্তি। ফারাও ছিল মিশরের রাজাদের উপাধি। অর্থাৎ মিশরের রাজাদেরকে' ফারাও বলে ডাকা হতো। মিশরের প্রথম ফারাও ছিলেন মেনেস বা নারমার। তিনি খন্ড খণ্ড মিশরকে একত্রিত করে একটি রাষ্ট্র গড়ে তোলেন। ফারাওরা অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল। তারা নিজেদের সূর্যদেবতার বংশধর বলে মনে করত। ফারাও পদটি বংশানুক্রমিক অর্থাৎ ফারাওয়ের ছেলে উত্তরাধিকার সূত্রে ফারাও হতো।
প্রাচীন মিসরের ইতিহাস জানার ক্ষেত্রে রসেটা স্টোনের ভূমিকা অপরিসীম। রসেটা স্টোন হলো অ্যানোডাইয়োরাইট পাথরে খোদাইকৃত একটি ফলক। ১৭৯৯ সালে আবিষ্কৃত এ প্রস্তর ফলকটি মূলত একটি রাজকীয় ফরমান বা ডিক্রি। এটি প্রাচীন মিশরের হায়ারোগ্লিফিক ভাষায় লেখা ছিল। এটি থেকে তৎকালীন মিশরের রাজনৈতিক ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায়।
মিশরীয় সভ্যতার উৎপত্তি হয়েছিল কৃষিকে কেন্দ্র করে। মিশরের নীল নদের উৎপত্তি আফ্রিকার লেক ভিক্টোরিয়া থেকে। সেখান থেকে নদটি নানা দেশ হয়ে মিশরের মধ্য, দিয়ে ভূমধ্যসাগরে এসে পড়েছে। ইতিহাসের জনক হেরোডোটাস যথার্থই বলেছেন, 'মিশর নীল নদের দান'। নীল নদ না থাকলে মিশর মরুভূমিতে পরিণত হতো। প্রাচীনকালে প্রতিবছর নীল নদে বন্যা হতো। বন্যার পর পানি সরে গেলে দুই তীরে পলিমাটি পড়ে জমি উর্বর হয়ে যেত। জমে থাকা পলিমাটিতে জন্মাত নানা ধরনের ফসল। তাই মিসরর অর্থনীতি ছিল কৃষির ওপর নির্ভরশীল।
নীলনদ লেক ভিক্টোরিয়া থেকে নানা দেশ হয়ে মিশরের মধ্য দিয়ে ভূমধ্যসাগরে এসে পড়েছে। নীলনদ না থাকলে মিশর মরুভূমিতে পরিণত হতো। প্রাচীনকালে প্রতিবছর নীলনদে বন্যা হতো। বন্যার পর পানি সরে গেলে দুই তীরে পলিমাটি পড়ে জমি উর্বর হতো। জমে থাকা পলিমাটিতে নানা ধরনের ফসল জন্মাত। তাই ইতিহাসের জনক হেরোডোটাস যথার্থই বলেছেন, 'মিশর নীলনদের দান'।
মিশরীয়দের মতো অন্য কোনো' জাতি জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধর্মীয় নিয়মকানুন এবং অনুশাসন দ্বারা প্রভাবিত ছিল না। এজন্য মানবসভ্যতার ধ্যানধারণা, রীতিনীতি, আচার-অনুষ্ঠানের জন্ম প্রাচীন মিশরে। মিশরীয় প্রধান দেবতা ছিল 'রে' বা 'আমন রে'। তাদের ধারণা ছিল সূর্যদেবতা 'রে' এবং প্রাকৃতিক শক্তি, শস্য ও নীল নদের দেবতা 'ওসিরিস' মিলিতভাবে পৃথিবী পরিচালনা করে। মিশরীয়রা জড়বস্তু, মূর্তি, জীবজন্তু প্রভৃতি পূজা করত।
বিশ্বসভ্যতায় ভাস্কর্য শিল্পে মিশরীয়রা বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল। ব্যাপকতা, বৈচিত্র্য এবং ধর্মীয় ভাবধারায় প্রভাবিত বিশাল আকারের পাথরের মূর্তিগুলো ভাস্কর্য শিল্পে মিশরীয়দের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ বহন করে। তাদের সর্বশ্রেষ্ঠ ভাস্কর্য হচ্ছে গিজার অতুলনীয় স্ফিংকস। এটা হচ্ছে এমন একটি মূর্তি যার দেহটা সিংহের মতো, কিন্তু মুখ মানুষের মতো। মিশরের সবচেয়ে বড় পিরামিডটি হচ্ছে ফারাও খুফুর পিরামিড। এটি তোরো একর জায়গার উপর গড়ে উঠেছিল। তাছাড়া তৎকালীন মিশরীয় মন্দিরগুলোতেও অপূর্ব সুন্দর ভাস্কর্যের নিদর্শন প্রতিফলিত হয়েছিল।
প্রাচীন মিশরীয় শাসক বা ফারাও রাজাদের মৃতদেহ মমি বা সংরক্ষণের জন্য তৈরি করা হতো। মিশরীয়রা মনে করত মৃত ব্যক্তি আবার একদিন বেঁচে উঠবে। সে কারণে দেহকে তাজা রাখার জন্য মমি করত। ফারাওরা প্রাচীন মিশরে ঈশ্বরের প্রতিনিধি হিসেবে দেশ শাসন করতেন। ।। তাদের মৃতদেহ মমি বানিয়ে সেই মমি রক্ষা করার জন্য প্রাচীন মিশরীয়রা পিরামিড তৈরি করত।
হায়ারোগ্লিফিক হলো প্রাচীন মিশরীয় চিত্রলিপি মিশরীয় সভ্যতার অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য ছিল এ হায়ারোগ্লিফিক বা চিত্রলিপির আবিষ্কার। প্রায় পাঁচ হাজার বছর পূর্বে সভ্যতার ইতিহাসে তাঁরাই সর্বপ্রথম ২৪টি ব্যঞ্জনবর্ণের বর্ণমালা আবিষ্কার করেন। তাই সভ্যতার ইতিহাসে লিখন পদ্ধতিতে হায়ারোগ্লিফিক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নাম।
মিশরীয়রা মূলত ধর্মের কারণেই বিজ্ঞানচর্চায় আগ্রহী হয়ে ওঠে। তারা পরজন্মে বিশ্বাস করত। তারা বিশ্বাস করত, ফারাওরা পরজন্মেও রাজা হবে। তবে ফারাওদের মৃত্যুদেহ তাজা রাখতে হবে। এ কারণে তারা ফারাওদের মৃতদেহ তাজা রাখার পদ্ধতি আবিষ্কার করে। এ কারণেই মমি তৈরি করা হয়। মিশরীয় বিজ্ঞানীরা রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন পদ্ধতিতে মৃতদেহের পচন রোধে সক্ষম হয়।
প্রাচীন চীনে তিনটি অঞ্চল ঘিরে সভ্যতাটি গড়ে উঠেছিল যার কেন্দ্র ছিল পশ্চিমের উচ্চভূমি হতে উৎপন্ন নদীসমূহ। প্রথম সভ্যতা গড়ে ওঠে হোয়াং হো তীরবর্তী অঞ্চলে, দ্বিতীয়টি ইয়াংজেকিয়াং তীরবর্তী অঞ্চলে এবং তৃতীয়টি দক্ষিণ চীনের সুবিস্তৃত ভূখণ্ডে।
চৈনিক সভ্যতার লোকেরা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে ব্যপক অবধান রাখতে সক্ষম হয়। পুরোহিতরা ধর্মীয় দায়িত্ব ছাড়াও জ্যোতিষ শাস্ত্রের চর্চা করত। তারা ক্যালেন্ডার তৈরিতেও ভূমিকা রাখত। পুরোহিতরা অঙ্ক ও গণিতশাস্ত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। চৌদ্দ খ্রিস্টপূর্বাব্দের শুরুতে চীনারা সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণের সময় নির্ধারণ করতে পেরেছিল।
গ্রিস দেশটি আড্রিয়াটিক সাগর, ভূমধ্যসাগর ও ঈজিয়ান সাগর দ্বারা পরিবেষ্টিত। ক্রিট দ্বীপ, গ্রিস উপদ্বীপের মূল ভূখণ্ড, এশিয়া মাইনরের পশ্চিম উপকূলে এবং ঈজিয়ান সাগরের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দ্বীপ নিয়ে গড়ে ওঠে প্রাচীন এ সভ্যতা। দুই ভাগে বিভক্ত এ সভ্যতার এক ভাগ 'মিনিয়ন সভ্যতা' এর স্থায়িত্ব ধরা হয় খ্রিষ্টপূর্ব ৩০০০ থেকে ১৪০০ অব্দ পর্যন্ত এবং অপর ভাগ 'মাইসিনিয় বা এজিয়ান সভ্যতা' এর স্থায়িত্ব ছিল খ্রিস্টপূর্ব ১৬০০ থেকে খ্রিষ্টপূর্ব ১১০০ অব্দ পর্যন্ত।
হেলেনিক' ও 'হেলেনিস্টিক' গ্রিক সভ্যতার অংশবিশেষ। গ্রিস দেশটি আড্রিয়াটিক সাগর, ভূমধ্যসাগর ও ইজিয়ান সাগর দ্বারা পরিবেষ্টিত। গ্রিক সভ্যতার সঙ্গে দুটি সংস্কৃতির নাম জড়িত। একটি 'হেলেনিক' অপরটি 'হেলেনিস্টিক'। গ্রিক উপদ্বীপের প্রধান শহর এথেন্সকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে 'হেলেনিক সংস্কৃতি'। অপরদিকে গ্রিক বীর আলেকজান্ডারের নেতৃত্বে মিশরের আলেকজান্দ্রিয়াকে কেন্দ্র করে গ্রিক ও অগ্রিক সংস্কৃতির মিশ্রণে জন্ম হয় নতুন এক সংস্কৃতির।
ইতিহাসে এ সংস্কৃতি 'হেলেনিস্টিক সংস্কৃতি' নামে পরিচিত।
হেলেনিস্টিক, সংস্কৃতি' বলতে প্রাচীন গ্রিসের দুটি প্রধান সংস্কৃতির একটিকে বোঝায়। প্রাচীন গ্রিক সভ্যতার সাথে দুটি সংস্কৃতির নাম জড়িত ছিল। একটি হেলেনিক, অপরটি 'হেলেনিস্টিক'। গ্রিক বীর আলোকজান্ডারের নেতৃত্বে মিশরের আলেকজান্দ্রিয়াকে কেন্দ্র করে গ্রিক ও অগ্রিক সংস্কৃতির মিশ্রণে যে নব্য সংস্কৃতির জন্ম হয়েছিল, ইতিহাসে তাই হেলেনিস্টিক সংস্কৃতি নামে পরিচিত।
নগররাষ্ট্র স্পার্টা ছিল সামরিক ছাউনি। স্পার্টানরা সমরতন্ত্র দ্বারা প্রভাবিত ছিল। মানুষের মানবিক উন্নতির দিকে নজর না দিয়ে সামরিক শক্তি সঞ্চয়ের দিকে তাদের দৃষ্টি ছিল বেশি। সরকারের মূল উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধের জন্য নাগরিকদের প্রস্তুত করা ও যুদ্ধ পরিচালনা করা। স্পার্টার সমাজ যুদ্ধের প্রয়োজনকে ঘিরেই গড়ে উঠেছিল। তাই বলা হয়, নগররাষ্ট্র স্পার্টা ছিল সামরিক ছাউনি।
স্পার্টা ছিল প্রাচীন গ্রিসের একটি নগররাষ্ট্র এবং সে নগররাষ্ট্র সমরতন্ত্র দ্বারা প্রভাবিত ছিল। স্পার্টার শাসকগোষ্ঠী সেখানকার সাধারণ মানুষদের ভূমিদাসে পরিণত করেছিল বলে তারা বিদ্রোহ ছিল তাদের অন্যতম কাজ। ফলে তারা তাদের নাগরিকদের যোদ্ধা হিসেবেই তৈরি করত। সামরিক বিষয়াদিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ায় তাদের অন্যান্য বিষয়াদি ছিল অবহেলিত।
স্পার্টানদের জীবন সমরতন্ত্র দ্বারা প্রভাবিত ছিল বলে তাদেরকে যোদ্ধা জাতি বলা হতো। স্পার্টানদের জীবন স্পার্টা রক্ষার জন্যই নিয়োজিত ছিল। স্পার্টার সমাজ তৈরি হয়েছিল যুদ্ধের প্রয়োজনকে ঘিরে। সরকারের মূল উদ্দেশ্য ছিল যুদ্ধের জন্য নাগরিকদের প্রস্তুত করা ও যুদ্ধ পরিচালনা করা। ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা আর বিদ্রোহ দমন ছাড়া স্পার্টার রাজাদের মাথায় আর কোনো চিন্তা ছিল না। এসব কারণে স্পার্টানদের যোদ্ধা জাতি বলা হয়।
সোলন প্রাচীন গ্রিক সভ্যতার। এথেন্সে জন্মগ্রহণ করেন। এথেন্সে অভিজাত সম্প্রদায় ছিল সকল সর্বেসর্বা। তারা সাধারণ জনগণকে শোষণ ও অত্যাচার করত। ফলে সাধারণ জনগণ ক্ষোভে ফুঁসে ওঠে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য সব শ্রেণির সর্বসম্মতভাবে কয়েকজনকে সংস্কারের জন্য আহ্বান জানায়। তার মধ্যে সবচেয়ে খ্যাতিমান ছিলেন সোলন। তিনি নতুন কিছু আইন প্রণয়ন করেন এবং গ্রিক আইনের কঠোরতা হ্রাস করেন। তিনি কৃষকদের মুক্ত করার জন্য আইন পাস করেন। তার সময়ে অনেক অর্থনৈতিক সংস্কার হয় বলে তাকে অর্থনৈতিক সংস্কারক বলা হয়।
সোলন প্রাচীন গ্রিক সভ্যতার এথেন্স জন্মগ্রহণ করেন। এথেন্সে অভিজাত সম্প্রদায় ছিল সর্বেসর্বা। তারা সাধারণ জনগণকে শোষণ ও অত্যাচার করত। ফলে সাধারণ জনগণ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য সব শ্রেণি সর্বসম্মতভাবে কয়েকজনকে সংস্কারের জন্য আহ্বান জানায়। তার মধ্যে সবচেয়ে খ্যাতিমান ছিলেন সোলন। তিনি কিছু নতুন আইন প্রণয়ন করেন এবং গ্রিক আইনের কঠোরতা হ্রাস করেন। তিনি কৃষকদের মুক্ত করার জন্য আইন পাস করেন। তার সময় অনেক অর্থনৈতিক সংস্কারও হয়।
৪৬০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে ক্ষমতায় এসে পেরিক্লিস ৩০ বছর রাজত্ব করেন। তিনি নাগরিকদের সব রাজনৈতিক অধিকারের দাবি মেনে নেন। তার সময়ে গ্রিসে চূড়ান্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় এবং জনগণ 1 শাসনের সকল ক্ষেত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ পায় বিধায় তার সময়কালকে গ্রিক সভ্যতার স্বর্ণযুগ বলা হয়।
সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রাচীন গ্রিসের সৃষ্টি আজও মানবসমাজে মূল্যবান সম্পদ। গ্রিক মহাকবি হোমারের 'ইলিয়ড' ও 'ওডিসি' মহাকাব্য তার অপূর্ব, নিদর্শন। সাহিত্য ক্ষেত্রে চূড়ান্ত বিকাশ ঘটেছিল নাটক রচনায়। গ্রিসের শ্রেষ্ঠ নাট্যকার ছিলেন সোফোক্লিস। তিনি ১০০টির বেশি নাটক রচনা করেন। ইতিহাস রচনায়ও গ্রিকরা কৃতিত্ব দেখিয়েছিল। ইতিহাসের জনক গ্রিক ঐতিহাসিক হোরোডোটাস।
প্রাচীন গ্রিকরা বারোটি দেব-দেবীর পূজা করত। বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তির পূজা ছাড়াও তারা বীরযোদ্ধাদের পূজা করত। জিউস ছিলেন দেবতাদের রাজা। অ্যাপোলো ছিলেন সূর্য দেবতা, পোসিডন ছিলেন সাগর দেবতা। এথেন্য ছিলেন জ্ঞানের দেবী। বারোজনের মধ্যে এ চারজন। ছিলেন শ্রেষ্ঠ। রাষ্ট্রের নির্দেশে পুরোহিতরা ধর্মীয় দায়িত্ব পালন করতেন। ডেলোস দ্বীপে অবস্থিত ডেলফির মন্দিরে বিভিন্ন নগররাষ্ট্রের মানুষ সমবেত হয়ে একসঙ্গে অ্যাপোলো দেবতার পূজা করত।
খেলাধূলার ক্ষেত্রে প্রাচীন গ্রিকদের অবদান ছিল অপরিসীম। শিশুদের খেলাধুলার প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া হতো গ্রিসে। বিদ্যালয়ে তাদের খেলাধুলার হাতে খড়ি হতো। উৎসবের দিনে গ্রিসে নানা ধরনের ক্রীড়া-প্রতিযোগিতা হতো। অলিম্পিক ক্রীড়া-প্রতিযোগিতায় গ্রিসের শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদরা অংশ নিত। তাতে দৌড়ঝাঁপ, মল্লযুদ্ধ, চাকা নিক্ষেপ, বর্শা ছোড়া ইত্যাদি বিষয় প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা থাকত, প্রতি চার বছর পরপর এ খেলা অনুষ্ঠিত হতো। এ খেলাকে ঘিরে গ্রিক নগর রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে শত্রুতার বদলে সৌহাদ্যপূর্ণ মনোভাব গড়ে ওঠে।
অলিম্পিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাকে ঘিরে প্রাচীন গ্রিক নগর রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সৌহার্দপূর্ণ মনোভাব গড়ে উঠেছিল।
অলিম্পিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ছিল প্রাচীন গ্রিসের সর্বশ্রেষ্ঠ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। এতে দৌড়ঝাঁপ, মল্লযুদ্ধ, চাকা নিক্ষেপ, বর্শা ছোড়া, মুষ্টিযুদ্ধ ইত্যাদি প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা থাকত। প্রতি চার বছর পরপর এ খেলা অনুষ্ঠিত হতো। এ প্রতিযোগিতায় গ্রিসের বিভিন্ন নগর রাষ্ট্রের ক্রীড়াবিদরা অংশ নিত। এ খেলাকে ঘিরে গ্রিক নগর রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে শত্রুতার বদলে সৌহার্দপূর্ণ মনোভাব গড়ে ওঠে।
অলিম্পিক ক্রীড়া হলো একটি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগ্নিতা। যেখানে বিভিন্ন দেশের ক্রীড়া প্রতিযোগীরা বিভিন্ন ধরনের খেলায় অংশগ্রহণ করে। প্রাচীন গ্রিসের অলিম্পিয়া থেকে শুরু হয় এই গেমস। অলিম্পিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় প্রাচীন গ্রিসের শ্রেষ্ঠ ক্রীড়াবিদরা অংশ নিত। এতে দৌড়ঝাঁপ, মল্লযুদ্ধ, চাকা নিক্ষেপ, বর্শা ছোড়া ইত্যাদি প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা থাকত। প্রতি চার বছর পর পর এই খেলা অনুষ্ঠিত হতো। এই খেলাকে ঘিরে নগররাষ্ট্রগুলোর মধ্যে শত্রুতার বদলে সৌহার্দপূর্ণ মনোভাব গড়ে ওঠে।
রোমের গণতন্ত্র একদিনে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ধাপে ধাপে নানা সংস্কার সংগ্রামের মধ্য দিয়ে রোমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। রোমে ৭৫৩-৫১০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত ছিল রাজতন্ত্রের যুগ। এ যুগে সাতজন সম্রাট দেশ শাসন করেন। এ যুগের সর্বশেষ সম্রাট টানকিউনিয়াস সুপারকাসকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর রোমে প্রজাতন্ত্রের সূত্রপাত হয়।
রোমানরা ধর্মীয় ক্ষেত্রে গ্রিকদের দ্বারা প্রভাবিত ছিল। রোমানদের প্রধান দেবতার নাম জুপিটার। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দেব-দেবী হচ্ছে জুনো, নেপচুন, মারস ইত্যাদি। রোমানদের পরকালে বিশ্বাস ছিল না। সম্রাটকে, ঈশ্বর হিসেবে পূজা করার নীতি ছিল। পরবর্তীকালে যিশুখ্রিস্টের জন্য হলে সম্রাট কনস্টান্টাইনের সময় খ্রিষ্টধর্ম সরকারি ধর্মে পরিণত হয়।
রোমান আইন ছিল ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনসমূহের সজ্জিত রূপ। রোমান আইনের দৃষ্টিতে সকল মানুষ সমান। রোমান আইন তিনটি শাখায় বিভক্ত ছিল। যথা- ১. বেসামরিক আইন: যা পালন করা রোমান নাগরিকদের জন্য বাধ্যতামূলক ছিল। এই আইন লিখিত ও অলিখিত দুই রকম ছিল। ২. জনগণের আইন যা সকল নাগরিকদের জন্য প্রযোজ্য ছিল। তাছাড়া ব্যক্তিগত অধিকার বিষয়টি এই আইনে ছিল। সিসেরো এ আইনের প্রণেতা। ৩. প্রাকৃতিক আইন: যেখানে মূলত নাগরিকদের মৌলিক অধিকার রক্ষার কথা বলা হতো।
বিশ্বসভ্যতার ইতিহাসে রোমানদের সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান হলো আইন প্রণয়ন। খ্রিস্টপূর্ব পাঁচ শতকের মাঝামাঝি সময়ে রোমানরা ফৌজদারি ও দেওয়ানি আইনগুলো সুষ্ঠুভাবে একসঙ্গে সাজাতে সক্ষম হন। প্রায় ৫৪০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে ১২টি ব্রোঞ্জপাতে সর্বপ্রথম আইনগুলো খোদাই করে লিখিত হয় এবং জনসম্মুখে ঝুলিয়ে রাখা হয়। রোমান আইন তিনটি শাখায় ভাগ ছিল। যথা- ১. বেসামরিক আইন, ২. জনগণের আইন ও
৩. প্রাকৃতিক আইন।
ধারণা করা হয় প্রায় ২০০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মায়া অঞ্চলের মানুষ চাষাবাদ 'করা শুরু করেছিল। প্রথমদিকে তাদের কৃষিনির্ভর গ্রামে সংস্কৃতির উৎপত্তি ঘটেছিল। আনুমানিক ১৮০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে প্রশান্ত মহাসাগর তীরবর্তী স্নোকোনুস্কো অঞ্চলে প্রথম মায়া জনবসতি প্রতিষ্ঠা পায়
১৯১১ সালে মার্কিন ঐতিহাসিক হিরাম বিংহ্যাম ইনকা সভ্যতার নিদর্শন আবিষ্কার করেন। লাতিন আমেরিকার দেশ পেরুর উরুবামবা নদী তীরে পাহাড়ি এলাকাতেই প্রাচীন ইনকাদের শহর। এখানেই ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২৪০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত লাতিন আমেরিকায় ইনকাদের হারানো-শহর মাচুপিচু।
কেউ কেউ দাবি করেন- ইউরোপীয়দের আগ্রাসনের সময় মহামারির কবলে পড়েছিল মাচুপিচু। ভয়াবহ মহামারির ফলে বেশির ভাগ মানুষ মারা গেলে পরিত্যক্ত হয়ে গিয়েছিল ইনকা নগরী মাচুপিচু। করও মনে স্প্যানিশ আগ্রাসনকারীরা মাচুপিচু দখল করতে গিয়ে: বেশিরভাগ অধিবাসীকে মেরে ফেলেছিল। ফলে মাচুপিচু শহর পরিত্যক্ত হয়।
স্প্যানিশ আক্রমণকারীরা ১৫১৯ সালের দিকে মধ্য মেক্সিকোতে আজটেক সভ্যতার এক সমৃদ্ধ নগরের সন্ধান পায়। তারা সমৃদ্ধ এই নগর থেকে বিভিন্ন সম্পদ লুটপাট করে। তাদের আক্রমণের অনেক আগে মেক্সিকো অঞ্চলের জনশ্রুতি ও কিংবদন্তি থেকে আজটেক জাতির নাম শোনা যায়। তারা প্রথম বসতি গড়েছিল আজলটান অঞ্চলে। জায়গাটি ছিল মেক্সিকোর উত্তরে কিংবা উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কোথাও।
Related Question
View Allলাতিন রাজা রোমিউলাস (Romulus) রোম নগরী প্রতিষ্ঠা করেন।
পারস্পরিক ক্ষমতার দ্বন্দ্বের কারণে রোমে তিনজনের শাসন টেকেনি।
রোমে অক্টেভিয়াস সিজার, মার্ক এন্টনি ও লেপিডাসের একত্রিত শাসন ব্যবস্থা 'ত্রয়ী শাসন' বা তিনজনের শাসন বলে পরিচিত। তবে এ শাসন বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। কারণ প্রত্যেকেরই আকাঙ্খা ছিল রোমের একচ্ছত্র অধিপতি বা সম্রাট হওয়ার। ফলে খুব শীঘ্রই ক্ষমতার দ্বন্দ্ব শুরু হয় এবং রোম সাম্রাজ্যের পতন ঘটে।
উদ্দীপকে বর্ণিত অবস্থার সাথে মিশরীয় সভ্যতার নীল নদের অববাহিকার মিল পাওয়া যায়।
প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতা নীল নদের অববাহিকায় গড়ে উঠেছিল। নীল নদ না থাকলে মিশর মরুভূমিতে পরিণত হতো। প্রাচীনকালে নীল নদে বন্যা হতো। বন্যার পর পানি সরে গেলে দুই তীরে পলিমাটি পড়ে জমি উর্বর হয়ে যেত। জমে থাকা পলিমাটিতে জন্মাতো নানা ধরনের ফসল।
উৎপাদিত ফসলের প্রাচুর্যের ওপর ভিত্তি করে মিশরে গড়ে উঠেছিল কৃষি নির্ভর অর্থনীতি। উদ্দীপকেও দেখা যায়, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ হওয়ায় প্রায় প্রতিবছরই বন্যায় নদী তীরবর্তী এলাকা প্লাবিত হয়। বন্যার পানি নেমে গেলে তীরবর্তী এলাকায় পলি জমে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়। এটি প্রচুর ফসল উৎপাদন এবং সমৃদ্ধি অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
উপরে বর্ণিত উভয় অঞ্চলের তুলনামূলক আলোচনায় সুস্পষ্ট যে, উদ্দীপকের বাংলাদেশের অবস্থার সাথে মিশরীয় সভ্যতার নীল নদের অববাহিকার মিল পাওয়া যায়।
পৃথিবীব্যাপী সভ্যতার বিকাশে উদ্দীপকে বর্ণিত অবস্থা তথা নদী অববাহিকা অঞ্চলে গড়ে ওঠা কৃষিনির্ভর অর্থনীতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
প্রাচীন সভ্যতাগুলোর বিকাশ ও সমৃদ্ধি অর্জনের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, প্রায় প্রতিটি সভ্যতাই নদী অববাহিকা অঞ্চলে গড়ে ওঠা কৃষির ওপর ভিত্তি করে বিকাশ লাভ করেছে। উদাহরণ হিসেবে মিশরীয় ও সিন্ধু সভ্যতার কথা বলা যায়। মিশরীয় সভ্যতা গড়ে উঠেছিল নীল নদের অববাহিকায়। প্রতিবছর নদী অববাহিকা অঞ্চলে বন্যার পানি সরে গেলে দুই তীরে পলি মাটি পড়ে জমি উর্বর হয়ে যেত। স্বাভাবিকভাবেই এ উর্বর জমিতে প্রচুর ফসল জন্মাতো। ফসলের এ প্রাচুর্য মিশরকে করেছিল অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী। আমরা জানি যে, অর্থনৈতিক শক্তিই সভ্যতার বিকাশে মূল ভূমিকা রাখে। মিশরীয় সভ্যতার মতোই সিন্ধু সভ্যতা গড়ে উঠেছিল সিন্ধু নদের অববাহিকা অঞ্চলে। আধুনিক প্রত্নতত্ত্ববিদরা এ বিষয়ে একমত যে, সিন্ধু সভ্যতার অগ্রগতির পিছনে মূল ভূমিকা রেখেছিল সিন্ধু নদ বিধৌত অঞ্চলের কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি। এসব সভ্যতার মতো উদ্দীপকে বর্ণিত বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও দেখা যায়, অঞ্চলটির সমৃদ্ধির পিছনে নদী বিধৌত অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন মুখ্য ভূমিকা রেখেছে।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে সুনিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, সভ্যতার বিকাশে নদী তীরবর্তী অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
স্টোইকবাদী দর্শন রোমে প্রথম প্রচার করেন প্যানেটিয়াস।
প্রাচীন পৃথিবীতে প্রথম গণতন্ত্রের সূচনা হয় এথেন্সে। তবে প্রথম দিকে এখানে ছিল রাজতন্ত্র। খ্রি. পূর্ব সপ্তম শতকে রাজতন্ত্রের পরিবর্তে এক ধরনের অভিজাততন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে চূড়ান্ত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন পেরিক্লিস। তিনি নাগরিকদের সব ধরনের রাজনৈতিক দাবি- দাওয়া মেনে নেন এবং এথেন্সে গণতন্ত্রের সূচনা করেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!