দুর্যোগ হচ্ছে এরূপ ঘটনা, যা সমাজের স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রচন্ডভাবে বিঘ্ন ঘটায় এবং জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের ব্যাপক। ক্ষতিসাধন করে। ক্ষতিগ্রস্ত সমাজের পক্ষে নিজস্ব সম্পদ দিয়ে এই ক্ষতি মোকাবিলা করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে।
নিচে দুর্যোগ ও বিপর্যয়ের মধ্যে দুটি পার্থক্য দেখানো হলো-
দুর্যোগ | বিপর্যয় |
১. দুর্যোগ হচ্ছে এরূপ ঘটনা, যা সমাজের স্বাভাবিক কাজকর্মে প্রচন্ডভাবে বিঘ্ন ঘটায় এবং জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। | ১. বিপর্যয় হচ্ছে কোনো এক আকস্মিক ও চরম প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট ঘটনা। |
২. দুর্যোগ কোনো স্থানের জনবসতিকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়। | ২. আকস্মিক ও চরম প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট ঘটনা জীবন, সম্পদ ইত্যাদির ওপর প্রতিকূলভাবে আঘাত করে। |
বাংলাদেশ একটি দুর্যোগপ্রবন দেশ। প্রতিবছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে এদেশের মানুষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। দুর্যোগের ফলে সমাজের স্বাভাবিক কর্মকান্ডের বিঘ্ন ঘটে এবং জীবন, সম্পদ ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। দুর্যোগ কোনো স্থানের জনবসতিকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেয়। দুর্যোগের এসব ক্ষতি থেকে বাঁচতে দেশের সকল নাগরিকের দুর্যোগ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখা দরকার।
বন্যার বহুবিধ প্রাকৃতিক কারণ রয়েছে। তন্মধ্যে চারটি কারণ নিচে দেখানো হলো-
- উজানে প্রচুর বৃষ্টি।
- মৌসুমি জলবায়ুর প্রভাব।
- ভৌগোলিক অবস্থান।
- নদীর গভীরতা কম।
নিচে বন্যার মানবসৃষ্ট চারটি কারণ উল্লেখ করা হলো-
- নদী অববাহিকায় ব্যাপক বৃক্ষ কর্তন।
- গঙ্গা নদীর উপর নির্মিত ফারাক্কা বাঁধ।
- অন্যান্য নদীতে নির্মিত বাঁধের প্রভাব।
- অপরিকল্পিত নগরায়ণ।
নিচে ছকাকারে বন্যায় শ্রেণিবিভাগ দেখানো হলো-

বন্যা নিয়ন্ত্রণের তিনটি সাধারণ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে নিচে লেখা হলো-
- সহজে স্থানান্তরযোগ্য বসতি তৈরি করা।
- নদীর দুতীরে ঘন জঙ্গল সৃষ্টি করা।
- নদীর শাসন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা।
দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে যে অবস্থা তাকে খরা বলে। অনেকদিন বৃষ্টিহীন অবস্থা থাকলে অথবা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে মাটির আর্দ্রতা কমে যায়। সেই সঙ্গে মাটি তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য বা কোমলতা হারিয়ে বুক্ষরূপ গ্রহণ করে খরায় পরিণত হয়।
অনাবৃষ্টি বা খরার তিনটি প্রভাব নিচে লেখা হলো-
- আমাদের দেশে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে খরার প্রভাবে কৃষিজ ফসলের উৎপাদন কমে যায়।
- খাদ্যদ্রব্যের অভাব হওয়ায় দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়।
- উপদ্রুত অঞ্চলে পানির অভাব দেখা দেয়।
ভূপৃষ্ঠের কোনো অংশে বায়ুমণ্ডল যদি অধিক উত্তপ্ত হয় তখন নিম্নচাপ কেন্দ্রের সৃষ্টি হয় এবং চাপের সমতা রক্ষার্থে চারদিকে উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে শীতল ও ভারী বায়ু প্রবল বেগে ঘুরতে ঘুরতে নিম্নচাপ কেন্দ্রে প্রবেশ করে; এই ঘূর্ণায়মান বায়ুপ্রবাহই ঘূর্ণিঝড়। বাংলাদেশে আশ্বিন-কার্তিক এবং চৈত্র-বৈশাখ মাসে এ ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়।
ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রমুখী ও ঊর্ধ্বমুখী বায়ুরূপে পরিচিত। এর কেন্দ্রস্থলে নিম্নচাপ ও চারপাশে উচ্চচাপ বিরাজ করে। বাংলাদেশে চৈত্র-বৈশাখ মাসে দেখা যায়, কোনো স্থানে হঠাৎ অধিক তাপের কারণে নিম্ন বায়ুচাপের সৃষ্টি হয়। ফলে চারপাশ থেকে বায়ু সেখানে প্রবাহিত হয় এবং ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি করে।
গত তিন দশকে বাংলাদেশের পূর্বাংশের যেসব এলাকায় ঘূর্ণিঝড় সংঘটিত হয়েছিল তা নিম্নরূপ-
- চট্টগ্রাম
- কক্সবাজার
- টেকনাফ
- সন্দ্বীপ
- হাতিয়া
- কুতুবদিয়া
- উরিরচর
- চর জব্বার
- চর আলোকজান্ডার
নিচে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে সংঘটিত কয়েকটি ঘূর্ণিঝড়ের সাল, নাম এবং মৃতের সংখ্যা ছক তৈরি করে দেখানো হলো-
সংঘটিত হওয়ার সাল | ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের নাম | মৃত মানুষের সংখ্যা |
১২ নভেম্বর, ১৯৭০ | ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় | প্রায় ৫,০০,০০০ জন |
২৯ নভেম্বর, ১৯৮৮ | ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় | প্রায় ১,০৮,০০০ জন |
২৯ এপ্রিল, ১৯৯১ | ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় | প্রায় ৫,৭০৮ জন |
নদীখাতে পানিপ্রবাহের কারণে পার্শ্ব ক্ষয়কে নদীভাঙন বলে। পলিমাটি গঠিত সমভূমি অধ্যুষিত বাংলাদেশে নদীভাঙনে প্রতি বছর প্রচুর ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট ধ্বংস হয়। অনেক মানুষের জীবনহানি ঘটে।
নিচে নদীভাঙনের চারটি কারণ লেখা হলো-
- জলবায়ু পরিবর্তন।
- নদীর প্রবাহপথ ও তীব্র গতিবেগ।
- নদীর গতিপথ পরিবর্তন।
- নদীগর্ভে শিলার উপাদান।
বর্ষাকালে পর্বত থেকে দ্রুত গতিতে নদীর পানি প্রবাহিত হয়। এই প্রবহমান পানির তীব্র গতিবেগ, নদীর গতিপথ পরিবর্তন, নদীগর্ভে ! শিলার গঠনের নমনীয়তা এবং বাহিত শিলার কঠিনতার কারণে নদীর দুই তীর ক্ষয় হয় এবং ফাটলের সৃষ্টি হয়। এর ফলে নদীভাঙন কম-বেশি দেখা যায়
বাংলাদেশের মানুষ নদীভাঙন নামক দুর্যোগের সঙ্গে কমবেশি জড়িত। এর মধ্যে প্রায় ১.৫ মিলিয়ন লোক প্রত্যক্ষভাবে নদীভাঙনের = দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এদের মধ্যে প্রায় তিন লক্ষ লোক আশ্রয় নেয় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তা এবং বাঁধের উপর। = অন্যদিকে বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় ২০০ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এছাড়া প্রতিবছর প্রায় ৮,৭০০ হেক্টর জমি নদীভাঙনে নিঃশেষ হয়ে যায়।
নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন পাঁচটি উপাদানের নাম নিচে উল্লেখ করা হলো-
- চাষযোগ্য জমি,
- গবাদি পশু
- ফসল, গাছপালা,
- সেচ প্রকল্প
- পারিবারিক অন্যান্য প্রতিষ্ঠান।
বর্ষাকালেই নদীভাঙন বেশি হয়। বিশেষত প্রায় প্রতিবছর বন্যা মৌসুম ও সন্নিহিত সময়ে প্রায় ৪০টি ছোট-বড় নদীতে নদীভাঙন দেখা যায়। অনেক সময় নদী-তীরে খরাজনিত ব্যাপক ফাটলের সৃষ্টি হলে তার প্রভাবেও নদীতে ভাঙন ধরে এবং ভূমির অংশবিশেষ নদীগর্ভে বিলীন হয়। এ প্রক্রিয়ায় প্রতিবছর নদীভাঙন চলতে থাকে বিধায় বাংলাদেশে নদীভাঙনকে একটি চলমান প্রক্রিয়া বলা হয়।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রে উপকেন্দ্রের সঙ্গে তিন ধরনের পরিমাপ সম্পর্কযুক্ত। যথা-
- অগভীর কেন্দ্র (০-৭০ কিলোমিটার),
- মধ্য পর্যায়ের কেন্দ্র (৭০ ৩০০ কিলোমিটার) এবং
- গভীর কেন্দ্র (১,৩০০ কিলোমিটার)।
নিচে বাংলাদেশে সংঘটিত কয়েকটি ভূমিকম্পের সাল, মাত্রা এবং ক্ষয়ক্ষতি ছকে দেখানো হলো-
সাল | রিখটার স্কেলে | ক্ষয়ক্ষতি |
১২ জুন, ১৮৯৭ | ৮.৭ মাত্রায় | ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ পরিবর্তন |
২২ নভেম্বর, ১৯৯৭ | ৬.০ মাত্রায় | চট্টগ্রাম শহরে সামান্য ক্ষয়ক্ষতি হয় |
২৭ জুলাই, ২০০৮ | ৫.১ মাত্রায় | ক্ষয়ক্ষতি না হলেও আতঙ্কের সৃষ্টি হয় |
১৯৯৩ সালে সমগ্র বাংলাদেশকে তিনটি ভূকম্পনীয় সংঘটিত অঞ্চলে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা- অঞ্চল ১ (মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ, রিখটার স্কেল মাত্রা ৭); অঞ্চল ২ (মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ, রিখটার স্কেল মাত্রা ৬); অঞ্চল ৩ (কম ঝুঁকিপূর্ণ, রিখটার স্কেল মাত্রা ৫)। এ তিনটি অঞ্চলের অধীনে রয়েছে যথাক্রমে উত্তর ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চল, মধ্য অঞ্চল এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল।
ভূমিকম্পের সময় করণীয় তিন বিষয় হলো-
- বাড়িতে থাকাকালীন বৈদ্যুতিক সংযোগ বিছিন্ন করতে হবে। গ্যাসের চুলা বন্ধ করতে হবে। তাড়াতাড়ি বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে হবে
- ট্রেনে বা গাড়ির ভেতর থাকাকালীন যদি ভূমিকম্প হয় তবে কোনো জিনিস ধরে স্থিরভাবে দাঁড়িয়ে থাকা উচিত।
- বাড়ির বাইরে থাকাকালীন বড় দালান-কোঠার নিচে না দাঁড়িয়ে খোলা মাঠে বা স্থানে দাঁড়াতে হবে।
ভূমিকম্পের পূর্ব প্রস্তুতিমূলক প্রয়োজনীয় দুটি পদক্ষেপ নিচে উল্লেখ করা হলো-
- ভূমিকম্প সম্পর্কে গণসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ব্যাপক প্রচার প্রয়োজন।
- সারাদেশে ভবন নির্মাণে জাতীয় 'বিল্ডিং কোড', এবং কোডের কাঠামোগত অনুসরণ বাধ্যতামূলক হবে।
বাংলাদেশকে সরাসরি সামুদ্রিক ভূমিকম্পপ্রবন অঞ্চল বলা যায় না। বাংলাদেশের অবস্থান মহাসাগরগুলো থেকে অনেকটা দূরে। যেসব অঞ্চল মহাসাগর দ্বারা বেষ্টিত সেসব অঞ্চল ভূমিকম্পের জন্য অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। যেমন: জাপান। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এটি সরাসরি মহাসাগরের সাথে সংযুক্ত নয়। এজন্য বাংলাদেশকে সামুদ্রিক ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না।
ভূমিকম্পের সঙ্গে সুনামি সংঘটনের সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশে ১৭৬২ সালের ২রা এপ্রিল কক্সবাজার এবং সন্নিহিত অঞ্চলে সুনামির প্রভাব দেখা যায়। মিয়ানমারে আরাকান উপকূলে ৭.৫ রিখটার স্কেল মাত্রার ভূমিকম্প সংঘটনের ফলে সুনামির আগমন হয়। ১৯৪১ সালে আন্দামান সাগরে ভূমিকম্পের ফলে বঙ্গোপসাগরে - সুনামি সংঘটিত হয়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা হচ্ছে এরূপ একটি ব্যবহারিক বিজ্ঞান যার আওতায় পড়ে যথাযথ পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্যোগ প্রতিরোধ, দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং দুর্যোগে সাড়াদান ও পুনরুদ্ধার ইত্যাদি কার্যক্রম।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রধান উদ্দেশ্য হলো তিনটি। যথা-
(ক) দুর্যোগের সময় জীবন, সম্পদ এবং পরিবেশের যে ক্ষতি হয়ে থাকে তা এড়ানো বা ক্ষতির পরিমাণ হ্রাস করা।
(খ) প্রয়োজন অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের মধ্যে অল্প সময়ে সকল প্রকার ত্রাণ পৌছানো ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং
(গ) দুর্যোগ পরবর্তী পুনরুদ্ধার কাজ ভালোভাবে সম্পন্ন করা।
উপকূলীয় অঞ্চল প্রাকৃতিক দুর্যোগ দ্বারা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়। উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড়, সুনামি, ভূমিকম্পের প্রভাব ব্যাপক। এসব দুর্যোগের ফলে প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এজন্য উপকূলীয় অঞ্চলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ধাপগুলো বাস্তবায়ন জরুরি। সে সাথে এসব এলাকার মানুষদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখা অত্যাবশ্যক।
পূর্ব থেকে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল ও জনগোষ্ঠীকে চিহ্নিতকরণ দুর্যোগসংক্রান্ত পরিকল্পনা প্রণয়ন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, জরুরি অবস্থা মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদের ব্যবস্থা চিহ্নিতকরণ, ড্রিল বা ভূমিকা অভিনয় এবং রাস্তাঘাট, যানবাহন, বেতার যন্ত্র ইত্যাদি দুর্যোগের পূর্বে প্রস্তুত রাখা দুর্যোগপূর্ব প্রস্তুতির অন্তর্ভুক্ত।
নিচে চিত্রের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা চক্রটি দেখানো হলো-

দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়ী হ্রাস এবং দুর্যোগপূর্ণ প্রস্তুতিকেই দুর্যোগ প্রশমন বলে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রশমন দুর্যোগের পূর্বপ্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মজবুত পাকা ভবন নির্মাণ, শস্য বহুমুখীকরণ, ভূমি ব্যবহারে বিপর্যয় হ্রাসের কৌশল নির্ধারণ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শক্ত অবকাঠামো নির্মাণ, কম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লোক স্থানান্তর, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠন ইত্যাদি কার্যক্রম দুর্যোগ প্রশমনের আওতাভুক্ত।
প্রতিরোধ ও প্রশমনের মধ্যে দুটি মূল পার্থক্য নিচে উপস্থাপন করা হলো-
প্রতিরোধ | প্রশমন |
১. প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর ব্যাপারে যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়, তাকে প্রতিরোধ বলে। | ১. দুর্যোগের দীর্ঘস্থায়ী হ্রাস এবং দুর্যোগ পূর্বপ্রস্তুতিকেই দুর্যোগ প্রশমন বলে। |
২. দুর্যোগে প্রতিরোধের কাঠামোগত এবং অকাঠামোগত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। | ২. পাকা ভবন নির্মাণ। শস্য বহুমুখীকরণ অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গঠন ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। |
Related Question
View Allনদীভাঙন এক ধরনের মারাত্মক প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
দুর্যোগ ও বিপর্যয় পরস্পর সম্পর্কযুক্ত হলেও বিষয় দুটি এক নয়।
তাদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। যেমন: দুর্যোগ হচ্ছে এমন ঘটনা যা সমাজের বাস্তবিক কাজকর্মে প্রচণ্ডভাবে বিঘ্ন ঘটায় এবং জীবন সম্পদ ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। অপরদিকে বিপর্যয় হচ্ছে এমন একটি আকস্মিক ও চরম প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট ঘটনা যা জীবন, সম্পদ ইত্যাদির উপর আঘাত করে দুর্যোগের সৃষ্টি করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!