কোনটা ভালো কোনটা মন্দ, কোনটা উচিত কোনটা অনুচিত এ সংক্রান্ত মানুষের বোধ বা উপলব্ধিকেই মূল্যবোধ রলে। মূল্যবোধ মনোভাব থেকে সৃষ্টি। মূল্যবোধ মানুষের জীবন ইতিবাচক, মঙ্গলময় ও কল্যাণময় দিকের নির্দেশনা দেয়। অন্যায় থেকে ন্যায়, অধর্ম থেকে ধর্মকে আলাদা করতে এটি জ্ঞানবোধ জাগ্রত করে। ভালো-মন্দ বা ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে মূল্যবোধ মানুষকে সাহায্য করে থাকে।
ব্যবসায় পরিচালনাগত বিষয়ে ব্যবসায়ীর স্থায়িভাবে লালন করা বিশ্বাস, ধ্যান-ধারণা, মতামত প্রভৃতি হলো ব্যবসায় মূল্যবোধ। সমাজকে ঘিরেই ব্যবসায়ীদের সব কাজ পরিচালিত হয়। ব্যবসায় মূল্যবোধ রক্ষার মাধ্যমে একজন ব্যবসায়ী সমাজের মানুষের আস্থা অর্জন করে। ব্যবসায়ী গ্রাহকের আস্থা যত অর্জন করতে পারে সে তত সফল হতে পারে। এভাবে একজন ব্যবসায়ী মূল্যবোধ অনুসরণের মাধ্যমে ব্যবসায়ে সফল হতে পারে।
ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে কোনটা ভালো, কোনটা মন্দ, কোনটা উচিত, কোনটা অনুচিত এ সংক্রান্ত মানুষের বোধ বা উপলব্ধিকেই ব্যবসায় মূল্যবোধ বলে। মূল্যবোধ মনোভাব থেকে সৃষ্টি। মূল্যবোধ ব্যবসায়িকে সৎ, ন্যায়পরায়ণ, বিশ্বাসী ও আত্মপ্রত্যয়ী করে তোলে। মুনাফা অর্জনে মূল্যবোধ ব্যবসায়ীকে অসৎ ব্যবসায়িক আচরণ থেকে বিরত রাখে।
উচিত-অনুচিত মেনে চলা বা ভালোকে গ্রহণ ও মন্দকে বর্জন করে চলাকেই নৈতিকতা বলে। নৈতিকতা মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মের সাথে জড়িত। যেমন: একজন শিক্ষকের প্রধান কাজ হলো ছাত্র-ছাত্রীদের সুষ্ঠু পাঠদান করা যা নৈতিকতার আওতাভুক্ত।
ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে উচিত-অনুচিত মেনে চলা বা ভালোকে গ্রহণ ও মন্দকে বর্জন করে চলাকেই ব্যবসায়ের নৈতিকতা বলে। মানসম্মত পণ্য ও সেবা উৎপাদন, সময়মতো সরবরাহ, ন্যায্যমূল্যে সরবরাহ, সঠিক ওজন ও মানে পণ্যদ্রব্য সরবরাহ, সত্যকে প্রতিষ্ঠা করা, সততার সাথে ব্যবসায় পরিচালনা করা প্রভৃতি ব্যবসায় নৈতিকতার আওতাভুক্ত।
ব্যবসায় মূল্যবোধ ও নৈতিকতা দ্বারা সমর্থনযোগ্য নয় এমন কিছু করাকে অনৈতিক কাজ বলে। ঔষধে ভেজাল দেওয়া, ওজনে কম দেওয়া, নিম্ন মানসম্পন্ন পণ্য বিক্রি করা প্রভৃতি ব্যবসায়ের অনৈতিক কাজ। এসব কাজ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। আর ব্যবসায়ী অনৈতিক কাজে জড়িত থাকলে শুরুতে বেশি মুনাফা অর্জিত হলেও পরবর্তীতে ঐ ব্যবসায়ে গ্রাহকের আস্থা থাকে না। ফলে ব্যবসায়ীকে লোকসানের সম্মুখীন হতে হয়।
নৈতিক আচরণবিধি অনুসরণের ফলে ব্যবসায়ী ন্যায়-অন্যায়, সত্য-অসত্য প্রভৃতি বিষয় মেনে চলে। আর এসব বিষয় বিবেচনা করে নেওয়া সিদ্ধান্ত একটি সুখী ও সুন্দর সমাজ গঠনে সহায়তা করে। এতে ভোক্তা ন্যায্যমূল্যে মানসম্পন্ন পণ্য পেতে পারে। ফলে জীবনযাত্রার মান উন্নত হয় এবং তা দেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনে।
ব্যবসায়ের ৪টি নৈতিকতা হলো: সততা বজায় রাখা;ক্ষতিকর পণ্য উৎপাদন ও বিক্রয় না করা; গ্রাহকদের সাথে প্রতারণা না করা সর্বোপরি জনকল্যাণে অবদান রাখা।
মানুষের কাছ থেকে ব্যবসায়ীরা যে সকল সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করে তার বিপরীতে সমাজের মানুষের প্রতি ব্যবসায়ীদের যে দায়ের সৃষ্টি হয় তাকে ব্যবসায়ের সামাজিক দায়বদ্ধতা বলে। ব্যবসায় একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান। সমাজের মানুষের বিভিন্ন বস্তুগত ও অবস্তুগত চাহিদা পূরণের মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করাই ব্যবসায়ীর কাজ। যে ব্যবসায় এরূপ অভাব পূরণে ব্যর্থ হয়, সেই ব্যবসায়ীর পক্ষে সাফল্য অর্জন করা সম্ভব নয়।
জনহিতকর কাজ বলতে সমাজ ও সমাজের জন্য মঙ্গলজনক সব কিছুকে বোঝায়। ব্যবসায়ের জনহিতকর কাজ হলো সামাজিক দায়িত্ব পালন করা। জনগণের সুবিধার্থে রাস্তা-ঘাট, স্কুল-কলেজ,পাঠাগার নির্মাণ, মানসম্মত পণ্য সরবরাহ, পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখা প্রভৃতি হলো ব্যবসায়ের জনহিতকর কাজ। ব্যবসায়কে সমাজের উন্নয়নের জন্য জনহিতকর কাজ করতে হয়।
একটি ব্যবসায়ের ধারণা চিহ্নিত করা থেকে শুরু করে এটি সফলভাবে পরিচালনার সাথে অনেক কাজ জড়িত। ব্যবসায়ের প্রধান লক্ষ্য এসব কাজ সম্পাদনের মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করা হলেও সমাজে জনগণের বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস এবং অন্যান্য দ্রব্যের চাহিদা মেটানোর জন্য একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের জন্ম হয় ও চলমান থাকে। তাছাড়া সমাজ থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেই ব্যবসায়ের উন্নতি সমৃদ্ধি ঘটে। তাই ব্যবসায়কে সামাজিক প্রতিষ্ঠান বলা হয়।
ব্যবসায় গঠন, পরিচালনা ও নিরাপদে টিকে থাকতে সরকার 1 ব্যবসায়ীদের যে আইনগত সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে থাকে তার বিপরীতে সরকারের প্রতি ব্যবসায়ীদের যে দায়দায়িত্ব পালন করতে হয় তাকে রাষ্ট্রের প্রতি ব্যবসায়ীদের দায়বদ্ধতা বলে। রাষ্ট্রের সহযোগিতা ছাড়া ব্যবসায়-বাণিজ্য পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তাই রাষ্ট্রের প্রতি ব্যবসায়ীরা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে রাষ্ট্রকে যথারীতি কর ও রাজস্ব প্রদান, রাষ্ট্রের নীতিমালা ও আইন অনুসরণ এবং রাষ্ট্রকে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করে থাকে।
ব্যবসায়ে সমাজ ও সমাজের মানুষগুলো যে সহযোগিতা করে থাকে তার বিপরীতে সমাজের প্রতি ব্যবসায়ীদের যে দায়দায়িত্ব পালন করতে হয় তাকে সাধারণ সম্প্রদায়ের প্রতি ব্যবসায়ীদের দায়বদ্ধতা বলে। এই সমাজ হতে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেই ব্যবসায় সমৃদ্ধি লাভ করে। তাই সমাজের প্রতি ব্যবসায়ীরা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাদের রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করে, এলাকার পরিবেশ যাতে দূষিত না হয় সেদিকে নজর রাখে, জাতীয় দুর্যোগে তাদের পাশে দাঁড়ায়, এলাকায় হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য কল্যাণধর্মী - কাজে অংশগ্রহণ করে।
ব্যবসায়ের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হলো সরকার। ব্যবসায় কাজ সঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য সরকার বিভিন্নভাবে ব্যবসায়ীদেরকে সহযোগিতা করে। তাই ব্যবসায়ীকে সরকারের কাছে নির্ধারিত হারে নিয়মিত কর দিতে হয়। এর মাধ্যমে ব্যবসায় সরকারের প্রতি দায়িত্ব পালন করে।
বেশি মুনাফার আশায় পণ্যদ্রব্য অবৈধভাবে গুদামজাত করে রাখাকে পণ্যের মজুতদারি বলা হয়। ব্যবসায়ে মজুতদারিকে অবৈধ এবং নৈতিকতা বিরোধী কাজ বলা হয়। কারণ, মজুতদারির মাধ্যমে পণ্যের কৃত্রিম চাহিদা তৈরি করে বেশি মুনাফা অর্জন করা হয়। এর ফলে বাজারে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হয় এবং পণ্যের দাম বেড়ে যায়।
ব্যবসায়ের সফলতা নির্ভর করে ভোক্তাদের আস্থা ও সহযোগিতার ওপর। এ নিয়মিত মানসম্মত পণ্য সরবরাহ করলে ভোক্তারা সহজে ব্যবসায়ী এবং সরবরাহকৃত পণ্যটির প্রতি আকৃষ্ট হবে। ফলে ক্রেতারা স্থায়ী ক্রেতায় পরিণত হবে এবং ব্যবসায়ে সফলতা আসবে। তাই ভোক্তাদের আস্থা ও সহযোগিতা অর্জনের জন্য মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহ করা উচিত।
ব্যবসায় হতে ক্রেতা ও ভোক্তারা পণ্যসামগ্রী কেনার ফলে তাদের প্রতি ব্যবসায়ীদের যে দায়দায়িত্ব পালন করতে হয় তাকে ক্রেতা ও ভোক্তাদের প্রতি ব্যবসায়ীদের দায়বদ্ধতা বলে। ক্রেতাদের কেন্দ্র করে ব্যবসায়ের সব কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তাই ক্রেতাদের সন্তুষ্ট রাখার স্বার্থে ব্যবসায়ীদের ক্রেতাদের চাহিদামতো পণ্যসামগ্রী ও সেবা সরবরাহ, ন্যায্যমূল্যে পণ্য সরবরাহ, পণ্যের গুণগত মান উন্নয়ন এবং সংরক্ষণ করে ক্রেতাদের সর্বোচ্চ তৃপ্তি দানের চেষ্টা করতে হয়।
ব্যবসায়ে শ্রমিক কর্মচারীরা যে শ্রম দিয়ে থাকে তার বিপরীতে শ্রমিকদের প্রতি ব্যবসায়ীদের যে দায়দায়িত্ব পালন করতে হয় তাকে শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রতি ব্যবসায়ীদের দায়বদ্ধতা বলে। ব্যবসায়ের অন্যতম উপাদান শ্রমিক ও কর্মীবৃন্দ। তাদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ ছাড়া ব্যবসায় পরিচালনা করা সম্পূর্ণ অসম্ভব। তাই সমাজে বসবাসরত অন্যান্যদের চেয়ে সহায়ক শক্তি হিসেবে শ্রমিক-কর্মীদের সন্তুষ্ট ও কর্ম সচল রাখতে ব্যবসায়ীরা তাদের উপযুক্ত পারিশ্রমিক প্রদান, নিরাপদ কাজের পরিবেশ সৃষ্টি, ভালো ব্যবহার এবং চাকরির নিরাপত্তা বিধান নিশ্চিত করে থাকে।
শ্রমিক-কর্মচারীদের অব্যাহত প্রচেষ্টার ফলে ব্যবসায়ে মুনাফা অর্জিত হয়। তাই তাদের স্বার্থকে অবহেলা করে ব্যবসায় পরিচালনা করা যায় না। ব্যবসায় উন্নতির সাথে তাদের অবস্থার উন্নতির চেষ্টাও। করা উচিত। আর চাকরির নিরাপত্তা বিধান করার মাধ্যমে শ্রমিক-কর্মচারিদের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হয় বিধায় চাকরির নিরাপত্তা বিধান করা হলো শ্রমিক-কর্মচারীদের প্রতি দায়বদ্ধতার অন্তর্গত।
অবশ্য করণীয় কর্তব্যের বাইরে কর্পোরেট বা বড় কোম্পানিসমূহ সমাজ ও সমাজসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের প্রতি যে সকল দায়িত্ব রয়েছে বলে মনে করে তাকেই কর্পোরেট সামাজিক দায়িত্ব বলে। বড় বা কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানসমূহ গড়ে ওঠার পিছনে সমাজসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের অবদান থাকে। এ সকল প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সামর্থ্য বেশি থাকায় তারা সমাজের বিভিন্ন পক্ষের প্রতি নানানভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারে। যার সবই কর্পোরেট সামাজিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।
ব্যবসায়ের সামাজিক দায়িত্ব বহুযুগ ধরে অবহেলিত হয়ে আসলেও বর্তমানে দেশে বিদেশে অনেক প্রতিষ্ঠান সামাজিক কার্যক্রমে এগিয়ে এসেছে। বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল কোম্পানি তাদের সাধারণ ব্যবসায় কার্যক্রমের সাথে বিভিন্ন সামাজিক দায়িত্ব পালন করছে। ডাচ-বাংলা ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, ইসলামী ব্যাংক ও বিভিন্ন মোবাইল ফোন কোম্পানি যেমন- টেলিটক, গ্রামীণ ফোন, রবি, বাংলা লিংক, সিটিসেল, এয়ারটেল প্রভৃতি দারিদ্রদ্র্য বিমোচন, মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশুনার খরচ বহন, বৃত্তি প্রদান ও খেলাধুলার উন্নয়নে আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করে সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক কার্যক্রমে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।
পরিবেশ দূষণ শিল্পোন্নয়নের সবচেয়ে বড় সমস্যা। বিভিন্ন খারাপ উপাদান মিশে পরিবেশের স্বাভাবিকতা নষ্ট হওয়াকে পরিবেশ দূষণ বলে। সুস্থতার জন্য দূষণমুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও বিস্তারের ফলে বিভিন্নভাবে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। দূষিত পরিবেশ মানুষের জীবনযাত্রায় মারাত্মক প্রভাববিস্তার করে।
নতুন নতুন শিল্প কারখানাস্থাপনের ফলে শিল্পবর্জ্যের পরিমাণ বেড়ে যায়। এসব বর্জ্য নদী-নালায় পড়ে পানি দূষণ করে। আবার কলকারখানার কালো ধোঁয়া বায়ু দূষণ করে। এছাড়া কারখানার মেশিনের বিকট আওয়াজ শব্দ দূষণ করে। এভাবে শিল্পকারখানা পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানকে দূষিত করার মাধ্যমে পরিবেশ দূষণ ঘটাচ্ছে।
শিল্পবর্জ্য নদীতে ফেললে পানির দূষণ ঘটে। পানিতে ক্ষতিকারক উপাদান মিশে পানি ব্যবহার, অনুপযোগী ও ক্ষতিকর হওয়াকে পানি দূষণ বলে। শিল্পবর্জ্য, তরল ময়লা নদীতে মিশে পানিকে দূষিত করে। ফলে এ পানি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পানির দূষণ ঘটায়। বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদীর পানির রং এবং দুর্গন্ধ দেখে যা সহজেই অনুমান করা যায়।
অবাধে গাছ কেটে নতুন নতুন শিল্প স্থাপন করা হয়। গাছ কাটার ফলে জীবজন্তুরা তাদের প্রয়োজনীয় আবাসন সংকটে পড়ে। আবার এ কারণে জীবজন্তুর প্রয়োজনীয় খাদ্যেরও অভাব হয়। এ কাজ চলমান থাকলে এক সময় পরিবেশ জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকিস্বরূপ হয়ে যাবে।
কলকারখানার কালো ধোঁয়া ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে নির্গত বিষাক্ত বায়ু বাতাসে মিশ্রণের ফলে বায়ু দূষণ সৃষ্টি হয়। বর্তমান সময়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কলকারখানা বায়ু দূষণের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। ইট ভাটা, চামড়া শিল্প, সিরামিক শিল্প প্রভৃতি থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া বায়ু দূষণ করছে। এতে পরিবেশের স্বাভাবিক অবস্থা নষ্ট হয়।
পানিতে বিভিন্ন খারাপ উপাদান মিশে পানির স্বাভাবিকতা নষ্ট করাকে পানি দূষণ বলে। শিল্পকারখানা ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান বিভিন্নভাবে পানিকে দূষিত করে। খনিজ পদার্থ, কারখানার বর্জ্য, সালফার, তামা, সীসা, নাইট্রেট, ফসফেট, মানুষের বর্জ্য ও ময়লা পানি নদী ও সমুদ্রের তলদেশে ভরাট প্রভৃতি কারণে পানি দূষিত হয়। কৃষিকাজে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে তা বৃষ্টির পানিতে মিশে খালবিল ও নদীর পানিকে দূষিত করে।
বায়ুতে বিভিন্ন খারাপ উপাদান মিশে বায়ুর স্বাভাবিকতা নষ্ট করাকে বায়ুদূষণ বলে। মানুষ ও প্রাণিজগতের সুস্থ ও স্বাভাবিক বেঁচে থাকার জন্য নির্মল বায়ু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গাছপালাও তার প্রয়োজনীয় উপাদান নিচ্ছে বায়ু থেকে। কিন্তু ব্যবসায় আজ এই নির্মল বায়ু থেকে মানুষকে বঞ্চিত করছে। শিল্পকারখানার ধোয়া, ধুলাবালি, পরিবহনের ধোয়া থেকে নির্গত সিসা ইত্যাদি বায়ুদূষণ করছে।
শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশে যে অস্বাভাবিকতার জন্ম নেয় তাকে শব্দ দূষণ বলে। শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশ মানুষসহ সকল সৃষ্টিকুলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসায়ের উন্নয়ন এবং বাজার ও শহর সৃষ্টি শব্দ দূষণের অন্যতম কারণ। এরূপ দূষণের ফলে মানুষের শ্রবণ শক্তি, চিন্তা ও অনুভূতি শক্তি হ্রাস পাচ্ছে, মানসিক চাপ বাড়ছে, সুস্থ চিন্তা-ভাবনায় বাধার সৃষ্টি হচ্ছে।
শান্ত ও নিরিবিলি পরিবেশ মানুষসহ সকল সৃষ্টিকুলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে শিল্পকারখানা ও ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে স্থাপিত হালকা ও ভারী যন্ত্রপাতি পরিচালনার ফলে সৃষ্ট বিকট শব্দ, উচ্চৈঃস্বরে মাইক ও ডিভিডি চালানো, শিল্প ও ব্যবসায় পরিচালনার ক্ষেত্রে লোডশেডিংয়ের কারণে পরিচালিত জেনারেটরের শব্দ, যানবাহন তথা এয়ারক্রাফট, হেলিকপ্টার, বাস, ট্রেন, ট্রাক, মোটর গাড়ি, মোটর সাইকেল ইত্যাদির বিকট শব্দের কারণে শব্দ দূষণ হয়ে থাকে।
মাটিতে বিভিন্ন খারাপ উপাদান মিশে মাটির স্বাভাবিকতা নষ্ট হওয়াকে মাটি দূষণ বলে। বিন্তু এই মাটিও আজকে ব্যবসায় কর্মকান্ডের কারণে দূষণের অসহায় শিকার। কৃষি ফার্মগুলো অতিরিক্ত সার আর কীটনাশক ব্যবহার করে মাটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। শিল্পবর্জ্য জমিতে ফেলে মাটির ক্ষতি করা হচ্ছে। ইটের ভাটার টুকরো ইট মাটির সাথে মিশে মাটির উর্বরতা শক্তি নষ্ট করছে।
পরিবেশ দূষণের কারণে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। বসবাস ও ব্যবসায়ের জন্য বিনিয়োগ অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। কিন্তু এক্ষেত্রে বড় বাধার সৃষ্টি করে পরিবেশ দূষণ। কারণ বিভিন্ন শিল্পবর্জ্য পদার্থ পানিতে নিক্ষেপের ফলে তা পানি দূষিত করে। আবার যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা নিক্ষেপ ও যানবাহনের কালো ধোঁয়া বায়ু দূষিত করে। অনেক সময় বসবাসের জন্য নির্বিচারে বন উজাড় করা হয়। এছাড়া ত্রুটিপূর্ণ পয়নিষ্কাশন ব্যবস্থাও এ পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী। আর এ দূষণের ফলে মানুষের স্বাস্থ্যহানি হচ্ছে এবং মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়ছে জীববৈচিত্র্য।
শিল্প-কারখানার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবে বায়ু, পানি, শব্দ ও মাটি দূষণের মাধ্যমে শিল্প-কারখানা পরিবেশ দূষণ করে। শিল্পের কালো ধোঁয়া একদিকে যেমন বায়ুদূষণ করছে অন্যদিকে শিল্পের বর্জ্য নদনদীতে মিশে পানি দূষিত করছে। তাছাড়া পলিথিন জাতীয় শিল্পদ্রব্য ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরাশক্তি হ্রাস পাচ্ছে। এছাড়া শিল্প স্থাপনের জন্য গাছ ও পাহাড় কেটে পরিবেশকে দূষিত করা হচ্ছে।
খাদ্য সংরক্ষণের রাসায়নিক ব্যবহারের বিভিন্ন ক্ষতিকারক দিক রয়েছে। খাদ্য সংরক্ষণের জন্য রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করলে খাদ্যের গুণগত মান নষ্ট হয়। খাদ্য দীর্ঘদিন স্থায়ী থাকে। ফলে খাদ্যের পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়। এসব খাদ্য গ্রহণ করলে বিভিন্ন ধরনের মারাত্মক রোগ সৃষ্টি হয়। যেমন- ক্যান্সার, হৃদরোগ প্রভৃতি।
একজন ব্যবসায়ীর উচিত পরিবেশের কোনো ক্ষতি না করে প্রতিষ্ঠানের কাজ চালিয়ে যাওয়া। কিন্তু কলকারখানার বর্জ্য, ধোঁয়া ও শব্দ মারাত্মকভাবে পরিবেশ দূষণ করে। এক্ষেত্রে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বর্জ্য শোধনাগারের ব্যবস্থা করা পরিবেশ দূষণরোধে ব্যবসায়ীদের দায়বদ্ধতা।
পরিবেশে বিভিন্ন খারাপ উপাদান মিশে মাটি, পানি, বায়ু ও শব্দ দূষিত হয়। এর ফলে মানুষের মধ্যে বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক রোগের আবির্ভাব দেখা দেয়। কিন্তু মানুষের সুস্থতার জন্য প্রয়োজন দূষণমুক্ত পরিবেশ। তাছাড়া পরিবেশ দূষণের কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং নানা রকম প্রাকৃতিক দুর্যোগের সৃষ্টি হয় যা মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ব্যাহত করে। সুতরাং দূষিত পরিবেশ মানুষের জীবনযাত্রায় ও ব্যবসায়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাববিস্তার করে বিধায় পরিবেশ দূষণরোধ গুরুত্বপূর্ণ।
সুস্থতার জন্য দূষণমুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন। কিন্তু অপরিকল্পিতভাবে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও বিস্তারের ফলে | বিভিন্নভাবে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। দূষিত পরিবেশ মানুষের জীবনযাত্রায় মারাত্মক প্রভাববিস্তার করে। তাই পরিবেশ দূষণরোধে শিল্পকারখানাগুলোর উচিত কোনো অবস্থাতেই কারখানার বর্জ্য নদী, খাল-বিল বা জলাশয়ে না ফেলা। প্রয়োজনে কারখানার মালিক বা ব্যবসায়ীদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং তা প্রতিটি কারখানায় বাধ্যতামূলক করা
পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট না করে পরিবেশকে স্বাভাবিক অবস্থায় রাখা হলো পরিবেশ সংরক্ষণ। সুষ্ঠু পরিবেশ ছাড়া ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে উন্নতি লাভ করা যায় না। বিভিন্ন কারণে (ময়লা আবর্জনা, অতিরিক্ত গাড়ির হর্ন বাজানো, বিষাক্ত কেমিক্যাল পানিতে ফেলানো, - ধোয়া প্রভৃতি) পরিবেশ দূষিত হতে পারে। এগুলোর যথাযথ নিয়ন্ত্রণ পরিবেশ সংরক্ষণে সহায়তা করে। আর দূষণ থেকে পরিবেশকে রক্ষা করা ব্যবসায়ী ও সরকারের দায়িত্ব।
পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট না করে পরিবেশকে স্বাভাবিক অবস্থায় রাখা হলো পরিবেশ সংরক্ষণ। বিভিন্ন কারণে যেমন- ময়লা আবর্জনা, অতিরিক্ত গাড়ির হর্ন বাজানো, বিষাক্ত কেমিক্যাল পানিতে ফেলানো, ধোঁয়া প্রভৃতির। ফলে পরিবেশ দূষিত হতে পারে। এগুলোর যথাযথ নিয়ন্ত্রণ, সচেতনতা, আইনের যথাযথ প্রয়োগই পারে পরিবেশ সংরক্ষণ করতে।
পরিবেশ দূষণের ফলে মানুষ, জীববৈচিত্র্যের হুমকির পাশাপাশি ব্যবসায়ও প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়। এক্ষেত্রে এ দূষণ রোধে ব্যবসায়ীদের সচেতন হওয়া উচিত। এজন্য যত্রতত্র ময়লা ফেলা যাবে না। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নতিকরণ করতে হয়। এছাড়া প্রচার-প্রচারণার মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা জনগণকে পরিবেশ দূষণরোধে উৎসাহিত করতে পারে।
Related Question
View Allইথস শব্দের অর্থ মানব আচরণের মানদণ্ড।
পণ্যের মজুতদারি না করা সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা।
ব্যবসায় একটি সামাজিক প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে প্রতিযোগিতামূলক ব্যবসায় জগতে ব্যবসায়ীকে মুনাফা বাড়ানোর জন্য অর্থ উপার্জনের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্ব পালন করতে হয়। সমাজ থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়েই ব্যবসায়ের উন্নতি ও প্রবৃদ্ধি হয়। তাই মজুতদারি না করে সমাজে সঠিকভাবে পণ্য বণ্টন করা উচিত।
উদ্দীপকে ব্যবসায় নৈতিকতার কারণে সাহিদ মানসিক প্রশান্তিতে আছে। ব্যবসায় নৈতিকতা ব্যবসায় জগতে ব্যবসায়ীর আচরণকে সঠিকপথে পরিচালিত করে। একটি ব্যবসায়ের ধারণা চিহ্নিত করা থেকে শুরু করে এটি সফলভাবে পরিচালনার সাথে অনেক কাজ জড়িত থাকে। এসব কাজ সুন্দর, সুষ্ঠু ও সঠিকভাবে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে নৈতিকতা দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করে।
উদ্দীপকে সাহিদ ও নাদিম দুজনই ব্যবসায়ী। সাহিদ স্বচ্ছতার সাথে ব্যবসায় করে সীমিত মুনাফা অর্জন করেন। তিনি ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ করেন না। আর নাদিম চাকচিক্যের আড়ালে ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করে প্রচুর মুনাফা অর্জন করেন। কম মুনাফা অর্জন করলেও সাহিদ জানে তার ব্যবসায়ের সুনামহানি হবে না। ভালো মানের পণ্য সরবরাহের কারণে সাহিদ মানসিকভাবে অনেক সুখী। আর সৎ ভাবে ব্যবসায় পরিচালনা করায় তার কাজে নৈতিকতারই প্রতিফলন হচ্ছে।
নাদিম বর্তমানে প্রচুর মুনাফা করলেও ভবিষ্যতে এ ব্যবসায়ে টিকে থাকতে পারবে না বলে আমি মনে করি।
নৈতিকতা ব্যবসায়ের অপরিহার্য উপাদান। যেকোনো ব্যবসায়ের সাফল্য লাভে নৈতিকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নৈতিকতা মেনে না চললে ব্যবসায়ে টিকে থাকা যায় না।
উদ্দীপকে নাদিম বর্তমানে প্রচুর মুনাফা করলেও তার ব্যবসায়ের স্থায়িত্ব কম হবে। কারণ অনৈতিকভাবে ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য ক্রেতা বা ভোক্তারা বারবার কেনে না। ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্যের মাধ্যমে মানুষ কঠিন ও জটিল রোগে আক্রান্ত হলে ঐ পণ্য মানুষ আর কিনবে না।
তাছাড়া বাইরের চাকচিক্য বজায় রেখে ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য বিক্রি করলে ক্রেতা বা ভোক্তারা একসময় তা জানতে পারবে এবং ঐ প্রতিষ্ঠানের পণ্য প্রত্যাখ্যান করবে। তাই বলা যায়, নাদিম অনৈতিকতা ও ভেজাল মিশ্রণ করে ব্যবসায় পরিচালনা করার জন্য ভবিষ্যতে তার ব্যবসায় টিকে থাকার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
কল-কারখানা থেকে নির্গত কালো ধোঁয়া পরিবেশের বায়ু দূষণ করে।
ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে ভালো ব্যবস্থাকে নেওয়া ও মন্দটিকে এড়িয়ে চলা হলো ব্যবসায় নৈতিকতা।
ব্যবসায়ের নীতি বা আদর্শ মেনে (করণীয় ও বর্জনীয়) ব্যবসায় পরিচালনা করা অপরিহার্য। সঠিক মাপে পণ্য দেওয়া, ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করা, ক্রেতাদের সাথে উত্তম আচরণ করা প্রভৃতি ব্যবসায় নৈতিকতার আওতায় পড়ে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
