গৃহ ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য হলো কর্মমুখী আচরণ দ্বারা পরিবার তথা দেশের কল্যাণ সাধন করা। পরিকল্পনা প্রণয়ন, নিয়ন্ত্রণ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে সকল সম্পদ ব্যবহারে পারদর্শিতা অর্জন করা গৃহ ব্যবস্থাপনার অন্যতম উদ্দেশ্য। গৃহ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গৃহ ও গৃহের বাইরে একটি সুষ্ঠু বাসোপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলা হয়। সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তা বাস্তবায়নের ক্ষমতা বৃদ্ধি করাও গৃহ ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্য।
গৃহ ব্যবস্থাপনার শিক্ষা শিক্ষার্থীদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্য পরিবারের সার্বিক কল্যাণ ও উন্নয়ন সাধনের যাবতীয় গুণাবলি অর্জন করতে সহায়তা করে। গৃহ ও কর্মক্ষেত্রে বাস্তব পরিস্থিতি ও সমস্যা অনুধাবন করে কীভাবে এর সাথে অভিযোজন করা যায় এ বিষয়ে গৃহ ব্যবস্থাপনা সাহায্য করে।
গৃহ ব্যবস্থাপনা হলো একটি ধারাবাহিক গতিশীল প্রক্রিয়া, যার জন্য প্রয়োজন সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং যা কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ অর্জনের প্রচেষ্টাকে কেন্দ্র করে সম্পন্ন করা হয়। গৃহ ব্যবস্থাপনার ধারণাকে বিশ্লেষণ করলে তিনটি বিষয় লক্ষ করা যায়। যথা-
১. কাঙ্ক্ষিত লক্ষা'বা উদ্দেশ্য নির্ধারণ।
২. সম্পদের সঠিক ব্যবহার।
৩. সম্পদ ব্যবহারে ধারাবাহিক 'কর্মপন্থা- পরিকল্পনা, সংগঠন, নিয়ন্ত্রণ ও মূল্যায়ন।
লক্ষ্য হচ্ছে একটি কাম্য উদ্দেশ্য, যার সুনির্দিষ্ট পরিধি আছে এবং যা ব্যস্তির কার্যাবলিকে নির্দেশ দান করে। লক্ষ্যের নির্দিষ্ট পরিধি থাকতে হবে এ জন্য যে, কাম্য লক্ষ্যাটি ব্যবস্থাপকের কাছে সুস্পষ্ট না হলে তা অর্জন করা সম্ভব নয়। লক্ষ্য নির্দিষ্ট হলেই তা অর্জনের কার্যাবলিও সঠিকভাবে সম্পাদিত হবে। অর্থাৎ লক্ষ্য ব্যবস্থাপনাকে সহজতর করে এবং তাকে সাফল্যের সাথে কার্যকর করতে সাহায্য করে। যখন সম্মিলিতভাবে কোনো কাজ স্থির করা হয় তখন দ্বন্দ্ব কম হয় এবং লক্ষ্য অর্জনও সহজতর হবে।
লক্ষ্যকে কেন্দ্র করেই আমাদের সকল কর্মকান্ড আবর্তিত হয়।। পরিবারে প্রত্যেকেরই নিজস্ব কিছু লক্ষ্য থাকে। যখন সম্মিলিতভাবে কোনো কাজ স্থির করা হয়, তখন দ্বন্দ্ব কম হয়। ফলে লক্ষ্য অর্জনও সহজতর হয়। লক্ষ্য নির্দিষ্ট হলে তা অর্জনের কার্যাবলিও সঠিকভাবে সম্পাদিত হবে।
নিকেল ও ডরসি লক্ষ্যকে তিন ভাগে ভাগ করেছেন। যথা-১. দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য, ২. মধ্যবর্তীকালীন লক্ষ্য ও ৩. তাৎক্ষণিক লক্ষ্য। দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যকে স্থায়ী লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ধরনের লক্ষ্য অর্জনের জন্য মধ্যবর্তীকালীন বা স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। তাৎক্ষণিক লক্ষ্য হলো ছোট ছোট লক্ষ্য।
দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যকে স্থায়ী লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ লক্ষ্য সময়সাপেক্ষে এবং এটা সর্বদা মনের মধ্যে বিরাজমান থাকে। দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যকে বাস্তবায়নের জন্য মধ্যমেয়াদি এবং তাৎক্ষণিক লক্ষ্য স্থির করা হয় বলে এর গুরুত্ব অনেক বেশি।
প্রত্যেকটি পরিবার ছোটবড় নানারকম লক্ষ্য পোষণ করে।
যেমন- কোনো পরিবার অর্থ উপার্জনকে বেশি প্রাধান্য দেয়। কেউ সম্পত্তি বাড়াতে চায়। আবার কেউ তার সদস্যদের উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে চায়। আর তাই মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে আমাদের লক্ষ্য স্থির হয়।
পরিবার তার দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রায়াই মধ্যবর্তীকালীন বা স্বল্প মেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ করে থাকে। এ লক্ষ্যগুলো দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের তুলনায় অধিক স্পষ্ট। সে জন্য এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য অনেক বেশি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। তাই বলা যায়, মধ্যবর্তীকালীন লক্ষ্যের গুরুত্ব জাতীয় জীবনে অপরিসীম।
এ লক্ষ্য হলো ছোট ছোট লক্ষ্য। যার মধ্যে খুব বেশি একটা কাজের প্রয়োজন হয় না। অল্প কাজ করলেই অনেক সময় লক্ষ্যটি অর্জন করা যায়। অর্থাৎ লক্ষ্য নির্ধারণের সাথে সাথেই তা অর্জন করা যায়। তাৎক্ষণিক লক্ষ্য, দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যের চেয়ে, ভিন্ন।
গৃহ ব্যবস্থাপনার দুটি উদ্দেশ্য হলো-
১. পরিবার প্রণয়ন ও সংগঠন নিয়ন্ত্রণ ও মূল্যায়নের মাধ্যমে সম্পদ ব্যবহারে পারদর্শিতা অর্জন।
২. ব্যক্তিগত ও পারিবারিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে লক্ষ্য স্থির করা ও তা বিশ্লেষণ করা।
গৃহ ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে নিয়ন্ত্রণ করা। নিয়ন্ত্রণ বলতে বোঝায় পরিবারের সকল ব্যক্তি শৃঙ্খলভাবে পারিবারিক লক্ষ্য অর্জনের কাজে নিয়োজিত কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা। পরিকল্পিত কর্মসূচি ও পূর্বনির্ধারিত মান অনুসারে কার্য সম্পাদিত হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা ও প্রয়োজবোধে উপযুক্ত সংশোধনীয় ব্যবস্থা করা এ পর্যায়ের কাজ।
লক্ষ্য হচ্ছে একটি কাম্য উদ্দেশ্য, যার সুনির্দিষ্ট পরিধি আছে এবং যা ব্যক্তির কার্যাবলিকে নির্দেশ দান করে। লক্ষ্য স্থির হলেই তা অর্জনের কার্যাবলি সঠিকভাবে সম্পাদিত হয়। অর্থাৎ লক্ষ্য ব্যবস্থাপনাকে সহজ করে এবং তাকে সাফল্যের সাথে কার্যকর করতে সাহায্য করে। এ জন্য গৃহ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্য স্থির করা খুবই সহজ।
গৃহ ব্যবস্থাপনা পারিবারিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য কতকগুলো ধারাবাহিক কর্মপদ্ধতির সমষ্টিমাত্র। এ পদ্ধতিগুলো ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করতে হয় বলে এগুলোকে গৃহ ব্যবস্থাপনার পদ্ধতি বা পর্যায় বলা হয়। পদ্ধতিগুলো হলো- পরিকল্পনা, সংগঠন, নিয়ন্ত্রণ ও মূল্যায়ন। প্রতিদিনের কাজে সচেতনভাবে এই ধাপগুলো আমাদের অনুসরণ করতে হয়।
গৃহ ব্যবস্থাপনার প্রথম ধাপ পরিকল্পনা করা। লক্ষ্য অর্জনের ক্ষেত্রে যেসব কর্মপন্থা অবলম্বন করা হয় তার পূর্বে কাজটি কীভাবে করতে হবে, কেন করা হবে ইত্যাদি সম্বন্ধে চিন্তাভাবনা করার নাম | পরিকল্পনা। অর্থাৎ পরিকল্পনা পূর্ব থেকে স্থির করা কার্যক্রম।
বিভিন্ন কার্যকলাপে সফলতা লাভ করতে হলে সদস্যদের দক্ষতা, ক্ষমতা, অভিজ্ঞতা, কাজ করার ইচ্ছা-অনিচ্ছা ইত্যাদি পরিকল্পনার বিবেচ্য বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে। সুতরাং সঠিক পরিকল্পনা করতে হলে বিভিন্ন সদস্যের মধ্যে অবশ্যই ভালো সম্পর্ক থাকতে হবে। সম্পর্ক ভালো থাকলে পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন হয়।
গৃহীত পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিবারের বিভিন্ন কাজের মধ্যে সংযোগ সাধন করার নাম সংগঠন। সংগঠনের পর্যায়ে কোন কাজ কোথায় ও কীভাবে করা হবে তা স্থির করা হয়। সংগঠনের পর্যায়ে পরিবারের বিভিন্ন সম্পদ সম্পর্কে বিশদভাবে খুঁটিনাটি চিন্তা করে কোথায় কী সম্পদ ব্যবহার করা হবে তা স্থির করা হয়ে থাকে।
সংগঠনের তিনটি পর্যায় আছে। সংগঠনের দুটি পর্যায় আলোচনা করা হলো-
প্রথম পর্যায়: ব্যক্তি তার করণীয় কাজের বিভিন্ন অংশের একটি ধারাবাহিক বিন্যাস রচনা করে।
দ্বিতীয় পর্যায়: ব্যক্তি তার কোন কাজ আগে এবং কোন কাজ পরে হবে তার ধারাবাহিকতা রচনা করে।
গৃহ ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে নিয়ন্ত্রণ। নিয়ন্ত্রণ বলতে বোঝায় পরিবারের সকল ব্যক্তি শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে পারিবারিক লক্ষ্য অর্জনের কাজে নিয়োজিত কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা। পরিকল্পিত কর্মসূচি ও পূর্ব নির্ধারিত মান অনুসারে কার্য সম্পাদিত হচ্ছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা ও প্রয়োজনবোধে সংশোধনীর মাধ্যমে এ পর্যায়ের কাজ সম্পন্ন হয়।
নিয়ন্ত্রণে পদ্ধতির তৃতীয় স্তরে পরিস্থিতির সাথে খাপ খাওয়াতে হয় অথবা কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা মোকাবিলা করতে হয়। প্রয়োজন অনুসারে গৃহীত পরিকল্পনায় কিছুটা রদবদল করে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করাই হচ্ছে অভিযোজন বা খাপ খাওয়ানো।
গৃহ ব্যবস্থাপনায় সর্বশেষ পর্যায় হলো মূল্যায়ন। কাজের ফলাফল বিচার বা যাচাই করা হচ্ছে মূল্যায়ন। পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণের ওপর কাজের ফলাফল নির্ভর করে। কাজটি করার পিছনে যে লক্ষ্য ছিল তা অর্জনে পূর্ববর্তী পর্যায়গুলোর অবদান পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে মূল্যায়ন করতে হবে। মূল্যায়ন ছাড়া কাজের সফলতা ও বিফলতা নিরূপণ করা যায় না। কাজের উদ্দেশ্য বা লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে ফলাফল যাচাই করতে হয়।
গৃহ ব্যবস্থাপনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ এর প্রতিটি স্তরে ছোট-বড় নানা ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। গ্রস ও ক্যান্ডেলের মতে, সিদ্ধান্ত গ্রহণের মূল কথা হলো সমস্যা সমাধানে একাধিক কার্যক্রম বা পন্থা থেকে একটি বিশেষ কার্যক্রম পছন্দ করা। পরিবার যেকোনো সময় পরিবর্তিত অবস্থার বা সমস্যার সম্মুখীন হয়। এই অবস্থা মোকাবিলা করার জন্য বিভিন্ন বিকল্প পন্থা থেকে সবচেয়ে উত্তম পন্থাটি বেছে নেওয়াটাই হচ্ছে সিদ্ধান্ত গ্রহণ।
যেকোনো সিন্ধান্ত গ্রহণের কতকগুলো ধারাবাহিক পর্যায় রয়েছে। একজন সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীকে পর্যায়ক্রমে এগুলো অনুসরণ করতে হয়। এ পর্যায়গুলো হলো-
১. সমস্যার স্বরূপ উপলব্ধি;
২. বিকল্প অনুসন্ধান;
৩. বিকল্পসমূহ সম্পর্কে চিন্তা;
৪. একটি সমাধান গ্রহণ;
৫. গৃহীত সিদ্ধান্তের জন্য দায়িত্ব গ্রহণ।
সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রথম পর্যায়ে যে সমস্যা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে, তার প্রকৃতি নির্ণয় করা হয়। সমস্যার স্বরূপ অবগত না হলে সুষ্ঠু সমাধান আশা করা যায় না। সমস্যা কখনো সাধারণ আবার কখনো কঠিন বা জটিল হতে পারে। সাধারণ ছোটখাটো সমস্যা এককভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে সমাধান করা যায়। কিন্তু কঠিন সমস্যা নিয়ে অনেক কিছু চিন্তাভাবনা করে সিদ্ধান্তে পৌছাতে হয়।
যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হলো তার ফলাফল জেনে দায়িত্ব গ্রহণ করাই হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণের সর্বশেষ পর্যায়। গৃহীত সিদ্ধান্তটির দায়িত্ব গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। নতুবা পূর্ববর্তী পর্যায়গুলোর সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যাবে। সুতরাং বিকল্প বাছাইকরণের পর যে সমাধান গ্রহণ করা হলো তা কার্যকর করার জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে। পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়িত্ব তিনিই বহন করবেন যার সাথে পরিবারের সকলের সুসম্পর্ক বিদ্যমান এবং যথেষ্ট দায়িত্ব ও কর্তব্য সচেতন।
Related Question
View Allগৃহ ব্যবস্থাপনার মূল চাবিকাঠি হলো লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য।
লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য হলো গৃহ ব্যবস্থাপনার মূল চাবিকাঠি। কারণ লক্ষ্যকে কেন্দ্র আমাদের সকল কর্মকাণ্ড আবর্তিত হয়। প্রত্যেক মানুষের জীবনেই লক্ষ্য থাকে।
গৃহ ব্যবস্থাপনার মূল চাবিকাঠি হলো লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য।
লক্ষ্যকে কেন্দ্র করেই আমাদের সকল কর্মকাণ্ড আবর্তিত হয়। পরিবারে প্রত্যেকেরই নিজস্ব কিছু লক্ষ্য থাকে। যখন সম্মিলিতভাবে কোনো কাজ স্থির করা হয়, তখন দ্বন্দ্ব কম হয়। ফলে লক্ষ্য অর্জনও সহজতর হয়। লক্ষ্য নির্দিষ্ট হলেই তা অর্জনের কার্যাবলিও সঠিকভাবে সম্পাদিত হবে।
সায়হামের কার্যকলাপে তাৎক্ষণিক লক্ষ্যের ঘাটতি রয়েছে।
তাৎক্ষণিক লক্ষ্য হলো ছোট ছোট লক্ষ্য যার মধ্যে খুব বেশি কাজের প্রয়োজন হয় না। অল্প কাজ করলেই অনেক সময় লক্ষ্যটি অর্জন করা যায়। সায়হাম ভবিষ্যতে চিকিৎসক হতে চায়। এটা তার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য। এই দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য অর্জনের জন্য তার মধ্যবর্তীকালীন লক্ষ্যগুলো হলো- বিজ্ঞান বিভাগে পড়ালেখা করা, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হওয়া এবং মেডিকেল কলেজে ভর্তির জন্য দক্ষতা অর্জন করা। এ সকল লক্ষ্য অর্জনের জন্য সায়হামকে নিয়মিত স্কুলে যাওয়া, মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করা, শ্রেণির কাজ ঠিকমতো সম্পন্ন করা ইত্যাদির প্রতি মনোনিবেশ করতে হবে। এগুলোই তার তাৎক্ষণিক লক্ষ্যের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু সায়হামের পড়াশোনায় তেমন আগ্রহ নেই। অর্থাৎ তার তাৎক্ষণিক লক্ষ্যের ঘাটতি রয়েছে।
সায়হামের পরিবারের সদস্যরা সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রতিটি পরিবারকে লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাজটি কীভাবে করতে হবে এবং কেন করতে হবে তার পরিকল্পনা করতে হবে। আবার কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রথম পর্যায়ে সমস্যার প্রকৃতি জানতে হবে। সমস্যা সমাধানে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সায়হামের লক্ষ্য চিকিৎসক হওয়া। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজন বেশি বেশি পড়াশোনা করা। সায়হামের মূল সমস্যা হলো পড়ালেখার প্রতি তার আগ্রহ অনেক কম। এমতাবস্থায় সর্বাপেক্ষা কার্যকরী ব্যবস্থা হলো তার মানসিকতার পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া। তার বর্তমান পরিস্থিতির উন্নতির জন্য এবং লক্ষ্য অর্জনে সহায়তার উদ্দেশ্যে পরিবারের সকল সদস্য আলোচনার মাধ্যমে সায়হামের মাকে তার লেখাপড়ার প্রতি বিশেষ দায়িত্ব পালনের ভার দিয়েছে। যেহেতু মা তার সার্বক্ষণিক সঙ্গী, তাই এ কাজটি তার জন্য সহজতর। তিনিই আদর দিয়ে, বুঝিয়ে এবং প্রয়োজনে শাসন করে সায়হামের মানসিকতার পরিবর্তন করতে পারবেন। এ সকল কারণেই সায়হামের পরিবারের সদস্যদের গৃহীত পদক্ষেপটি অত্যন্ত যথার্থ বলে আমি মনে করি।
গৃহ ব্যবস্থাপনার প্রথম ধাপ পরিকল্পনা করা।
খাদিজা খাতুন তার ছোট মেয়ের জন্মদিন পালনে গৃহ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন ধাপ অনুসরণ করেছেন। কিন্তু তিনি কাজ ও কর্মীর মধ্যে সমন্বয় সাধনে ব্যর্থ হয়েছেন। অর্থাৎ তিনি তার পরিকল্পনাকে সঠিকভাবে সংগঠিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন। গৃহের প্রতিটি কাজ সঠিকভাবে সম্পাদনের জন্য গৃহ ব্যবস্থাপনার প্রত্যেকটি ধাপ পর্যায়ক্রমে অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে কোনো একটি ধাপ সঠিক নিয়মে অনুসরণ না করলে কাজে সফলতা অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়ে।
খাদিজা খাতুন বাজারের দায়িত্ব দিয়েছেন তার স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে। এ বয়সী ছেলের বাজারদর ও প্রয়োজনীয় জিনিস সম্পর্কে ধারণা না থাকাই স্বাভাবিক। ফলে সে অনেক প্রয়োজনীয় জিনিসই বাজার থেকে আনতে ভুলে যাবে। অন্যদিকে অতিথি আপ্যায়নের দায়িত্ব দিয়েছেন ঘরকুনো স্বভাবের বড় মেয়েকে। যে মেয়ে অতিথিদের সামনে যেতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না, তার কাছে ভালো আপ্যায়ন আশা করা যায় না। সুতরাং, সম্পূর্ণ অনুষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে কর্মী সংগঠনেই খাদিজা খাতুনের ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!