১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে ভারত উপমহাদেশ ভাগ হয়ে পাকিস্তান (১৪ আগস্ট, ১৯৪৭) এবং ভারত (১৫ আগস্ট, ১৯৪৭) নামে দুটি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। তৎকালীন পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় পরবর্তীকালে এর নাম হয় পূর্ব পাকিস্তান।
পাকিস্তানের মোট জনগোষ্ঠীর ৫৬.৪০% মানুষের মুখের ভাষা ছিল বাংলা। কিন্তু পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী সংখ্যালঘিষ্ঠ মাত্র ৩.২৭% মানুষের মুখের ভাষা উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্র ভাষা করার ঘোষণা। দেয়। এ ঘোষণার বিরুদ্ধে প্রথমে বাঙালি বুদ্ধিজীবী সমাজ প্রতিবাদ মুখর হয়ে ওঠে। আর এর মাধ্যমেই সূত্রপাত ঘটে ভাষা আন্দোলনের।
১৯৪৭ সালে পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের একটি অংশে পরিণত হয়। পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে ইতিহাস, ঐতিহ্য, ভাষা, সংস্কৃতি। কোনো কিছুর মিল না থাকলেও ধর্মের ওপর ভিত্তি করে দুই খণ্ডকে। একত্রিত করা হয়। ফলে পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী বাঙালিকে শোষণ করার কৌশল হিসেবে প্রথমে বাংলা ভাষার ওপর আঘাত হানে
তমদ্দুন মজলিস ছিল ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন। পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি হওয়ার পর পরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে। ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন গঠিত হয় তমদ্দুন মজলিস ১৯৪৭ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু' প্রকাশ করে।
বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ১৯৪৭ সালে তমদ্দুন মজলিস গঠিত হয়। পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা কি হবে এ নিয়ে যখন দেশে তুমুল আলোচনা, চলছিল তখন বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে এটি গড়ে ওঠে।
তমদ্দুন মজলিসের উদ্যোগে ভাষা আন্দোলনকে রাজনৈতিক রূপদানের জন্য ১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে গঠিত হয় প্রথম 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ', যার আহ্বায়ক মনোনীত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নূরুল হক ভূইয়া।
১৯৪৮ পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে ইংরেজির পাশাপাশি উর্দুতে কার্যক্রম শুরু হলে পূর্ব বাংলা কংগ্রেস পার্টির সদস্য কুমিল্লার ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত এর পতিবাদ করেন কিন্তু মুসলিম লীগের সকল সদস্য এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে। ফলে ঢকার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট পালিত হয় এবং ২রা মার্চ শিক্ষার্থী বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতিতে দ্বিতীয় বারের মতো রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
১৯৪৮ সালের ২১ শে মার্চ গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ রমনার তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এবং ২৪শে মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি বক্তব্য রাখেন। দুটি বক্তব্যেই তিনি রাষ্ট্র ভাষা হিসেবে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা দেন। সমাবর্তন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, 'উর্দু এবং একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা'।
১৯৪৮ সালে করাচিতে অনুষ্ঠিত নিখিল পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলনে বাংলা ভাষা আরবি হরফে লেখার একটি অদ্ভুত প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। আরবি হরফে বাংলা লেখার ষড়যন্ত্রের প্রচেষ্টাকে বাস্তবরূপ দেওয়ার জন্য বাংলা ভাষা সংস্কারের নামে ১৯৪৯ সালের মার্চ মাসে 'পূর্ব বাংলা ভাষা কমিটি' গঠন করা হয়।
অষ্য আন্দোলনে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ অন্যতম ভূমিকা রেখেছিল। এ পরিষদের প্রথম দাবি ছিল বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম, রাষ্ট্রভাষা এবং বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের সরকারি ভাষা হিসেবে ঘোষণা করার দি
মওলানা ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় ২১শে ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী হরতাল, জনসভা ও বিক্ষোভ মিছিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তে পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী নূরুল আমিন শঙ্কিত হয়ে পড়ে। তিনি হরতাল, জনসভা ও বিক্ষোভ মিছিল বানচাল করার সিদ্ধান্ত নেন। এ কারণে তিনি ১৪৪ ধারা জারি করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ ৩০শে জানুয়ারি সভা ও ছাত্র ধর্মঘটের আহ্বান করে। ৩১শে জানুয়ারি আওয়ামী মুসলিম লীগ সভাপতি মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সর্বদলীয় সভায় 'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
২১ শে ফেব্রুয়ারি বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা বর্তমান ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে সমবেত হয়ে গণপরিষদের দিকে অগ্রসর হতে থাকলে মিছিলে পুলিশ গুলি চালায়। পুলিশের গুলিতে আবুল বরকত, রফিকউদ্দিন আহমেদ, আবদুল জব্বার ঘটনাস্থলে শহিদ হন। আব্দুস সালাম ঐদিন গুলিবিদ্ধ হয়ে ৭ই এপ্রিল শহিদ হন।
শহিদ মিনার স্থাপনের প্রধান কারণ ছিল ভাষাশহিদদের স্মৃতি রক্ষা। ৫২'র ভাষা আন্দোলনে যারা শহিদ হন তাদের স্মৃতিকে অমর করে রাখা এবং ৫২'র ভাষা আন্দোলনের চেতনা ধারণ করার জন্য শহিদ মিনার নির্মাণ করা হয়। শহিদ মিনার ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি ও বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার প্রতীক হিসেবে সমুন্নত।
ভাষা আন্দোলনে নারী সমাজের ভূমিকা ছিল সক্রিয় এবং প্রতিবাদী। বায়ান্ন সালের ভাষা আন্দোলনে তৎকালীন এদেশের নারী সমাজের প্রত্যক্ষ এবং সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। মিছিল, মিটিং, স্লোগান, সভা-সমিতিতে তারাও পুরুষের পাশাপাশি সংগ্রাম করেছেন। এদের মধ্যে হামিদা রহমান, রহিমা খাতুন, সালেহা খাতুন অন্যতম।
১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন বাংলার ইতিহাসে এক অনন্যসাধারণ ঘটনা। পাকিস্তান রাষ্ট্রের বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে এটি ছিল বাঙালি জাতির প্রথম প্রতিবাদ ও বিদ্রোহ, বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম প্রেরণা। মাতৃভাষা বাংলার প্রতি অবমাননা বাঙালির মনকে প্রবল নাড়া দিয়েছিল। তারা বুঝতে পেরেছিল পাকিস্তানিদের হাতে তাদের ভাষা, সংস্কৃতি, অর্থনীতি কিছুই নিরাপদ নয়। যার চূড়ান্ত পরিণতিতে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ নামক স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
জাতিসংঘের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান UNESCO ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। বাংলা ভাষার প্রতি বাঙালি জনগণের গভীর মমত্ববোধ ও আত্মত্যাগকে সম্মান জানানো ও স্মরণীয় করে রাখার জন্য UNESCO ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা দেয়।
পৃথিবীর প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষা সংরক্ষণকে নিশ্চিত করতে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। যার মাধ্যমে একুশে ফেব্রুয়ারি আত্মত্যাগকারী শহিদদের শ্রদ্ধা ও সম্মানকে প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৯৯ সালে জাতিসংঘ একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে।
মাতৃভাষা সংরক্ষণের গুরুত্ব প্রদান করে কানাডায় বসবাসরত 'Mother Language Lover of the World' নামের ভাষাপ্রেমী গ্রুপ জাতিসংঘে একটি আবেদন করে। যেখানে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে বিশ্বের প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষা ব্যবহারের অধিকারকে রক্ষা করার দাবি জানানো হয়। এরই ফলশ্রুতিতে একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মর্যাদা লাভ করে
ভাষার জন্য রক্ত দিয়ে বাঙালিরা ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। বাঙালিরাই একমাত্র জাতি যারা মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য অকাতরে নিজেদের জীবন বিলিয়ে দিয়েছে। বাঙালিদের এই আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান দেখানোর জন্য ইউনেস্কো ভাষা আন্দোলনকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেব ঘোষণা করেছে।
দেশ ভাগের পর থেকেই মুসলিম লীগ উর্দুভাষী পশ্চিম পাকিস্তানি নেতাদের পকেট দলে পরিণত হয়। পাকিস্তান সৃষ্টির আন্দোলনে বাঙালি নেতাদের প্রচেষ্টা, উদ্যোগ, আত্মত্যাগ ভুলে গিয়ে শাসকগোষ্ঠী তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ শুরু করে। এ কারণেই মুসলিম লীগের ত্যাগী বাঙালি নেতারা উপেক্ষিত হন।
মুসলিম লীগ অভ্যন্তরীন জড়িয়ে দ্বিমুখী ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়ে। এর একটি ধারায় ছিল পাকিস্তানের আজ্ঞাবহ রক্ষণশীল নেতারা এবং অন্যটিতে পূর্ব বাংলার উদার ও সংস্কারপন্থি নেতারা। মূলত - মুসলিম লীগের নেতাদের চিন্তাধারার পার্থক্যের কারণে মুসলিম লীগ - দ্বিমুখী ধারায় বিভক্ত হয়ে যায়।
১৯৫৫ সালের মার্চ মাসে গভর্নর জেনারেল পাকিস্তানের সংবিধান প্রণয়নের উদ্যোগ নেন। পশ্চিম ও পূর্ব অংশের নেতারা একটি সমঝোতায় আসতে সক্ষম হন। তারই ভিত্তিতে ১৯৫৬ সালের সংবিধান রচিত হয়। এই সংবিধান দুই বছর পর্যন্ত কার্যকর ছিল।
নানা ঘটনার প্রেক্ষিতে ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের সংবিধান প্রণীত হয়। এ সংবিধান বহু প্রতিক্ষিত ছিল। কিন্তু ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত এ সংবিধান বহাল ছিল। ১৯৫৮ সালে প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইস্কান্দার মির্জা সামরিক শাসন জারি করলে সংবিধান স্থগিত করা হয়। ফলে সংবিধান কার্যকর থাকেনি।
পাকিস্তান রাষ্ট্রটি সৃষ্টি হয়েছিল ১৯৪৭ সালে।
১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্ট পাকিস্তান রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের ব্যবধান প্রায় ১১০০ মাইল।
ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালির সাংস্কৃতিক স্বাধিকার আন্দোলন।
বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা বিকাশের প্রথম পদক্ষেপ ছিল ভাষা আন্দোলন।
পাকিস্তানের ৫৬.৪০ ভাগ মানুষের মুখের ভাষা ছিল বাংলা।
"উর্দু এবং একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা" -উক্তিটি গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর।
ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠনের নাম তমদ্দুন মজলিস।
বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার সংগ্রামে গঠিত প্রথম সংগঠন হচ্ছে তমদ্দুন মজলিস।
ভাষা আন্দোলনের প্রথম পুস্তিকা "পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা না উর্দু।"
ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তমদ্দুন মজলিস গঠিত হয়।
ভাষা আন্দোলনের প্রথম সংগঠন 'তমদ্দুন মজলিস' গঠনে নেতৃত্ব দেন অধ্যাপক আবুল কাশেম।
১৯৪৮ সালের ২৪শে মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, 'উর্দু এবং একমাত্র উর্দুই হবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা।'
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে তমদ্দুন মজলিস গঠিত হয়।
ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত পূর্ব বাংলা কংগ্রেস পার্টির সদস্য ছিলেন।
১৯৪৮ সালের ১৯শে মার্চ পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় আসেন।
১৯৫০ সালের ১১ই মার্চ আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান নিহত হলে খাজা নাজিমুদ্দীন প্রধানমন্ত্রী হন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান ১৯৫১ সালে নিহত হন।
মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর সভাপতিত্বে 'সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়।
২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় ছাত্রদের সভা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
রেসকোর্স ময়দানের বর্তমান নাম সোহরাওয়ার্দী উদ্যান।
পূর্ব বাংলার মুখ্যমন্ত্রী নূরুল আমিন ঢাকা শহরে ১৪৪ ধারা জারি করেন।
বরকত ছিলেন একজন শহিদ ভাষা সৈনিক।
কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের নকশাকার হলেন হামিদুর রহমান।
ছাত্ররা ১৯৫২ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি শহিদ মিনার নির্মাণ করেন।
পাকিস্তান গণপরিষদ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দেয় ১৯৫৪ সালে।
১৯৫৬ সালের সংবিধানে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, হলো- মাতৃভাষাকে শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানোর জন্য বিশেষ দিবস যা ২১ ফেব্রুয়ারি পালিত হয়।
২০০০ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি তারিখ থেকে দিনটি সারাবিশ্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।
ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করে।
নিখিল ভারত মুসলিম লীগের নতুন নামকরণ হয় পাকিস্তান মুসলিম লীগ।
মুসলিম লীগের চরম ভ্রান্ত নীতির কারণে দেশে মারাত্মক সংকট সৃষ্টি হয়।
মুসলিম লীগ সরকার পূর্ব বাংলার উন্নতির দিকে সামান্যতম দৃষ্টিপাত করত না।
বাংলার মুসলিম লীগের সংস্কারপন্থি নেতারা আওয়ামী মুসলিম লীগ গড়ে তোলেন।
বাংলার ইতিহাসে আওয়ামী মুসলিম লীগ প্রথম সফল বিরোধী দল।
'নিখিল ভারত মুসলিম লীগ' হলো পাকিস্তান মুসলিম লীগের পূর্ববর্তী নাম।
১৯৫৫ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দেওয়া হয়।
মুসলিম লীগকে পরাজিত করার কৌশল হিসেবে পূর্ব বাংলার দলগুলো জোটবদ্ধ হয়ে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর যে নির্বাচনি জোট গঠন করে তাকে যুক্তফ্রন্ট বলে
১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
২১ দফার কর্মসূচির মুখ্য রচয়িতা ছিলেন আবুল মনসুর আহমদ।
১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট ২১শে দফা নির্বাচনি কর্মসূচি ঘোষণা করে। এর মধ্যে দুটি দফা হলো-
১. বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত ও ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে উদ্বৃত্ত জমি বিতরণ করা।
২১ দফার প্রথম দফাটি হলো- বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে জনগণ মুসলিম লীগের অন্যায়, অবিচার ও শোষণের বিরুদ্ধে রায় দেয় বিধায় একে ব্যালট বিপ্লব বলা হয়।
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল নৌকা।
১৯৫৪ সালের ৮ই মার্চ পূর্ব বাংলায় প্রথম অবাধ ও সর্বজনীন নির্বাচন হয়।
পাকিস্তান গণপরিষদ বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দেয় ১৯৫৪ সালে।
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী মুসলিম লীগের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের পর থেকে পূর্ববঙ্গ মুসলিম লীগ একটি নাম সর্বস্ব দলে পরিণত হয়।
যুক্তফ্রন্টের মন্ত্রিসভা এ. কে ফজলুল হকের নেতৃত্বে গঠিত হয়।
যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা ছিল ১৪ জন।
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট নিরঙ্কুশ জয় লাভ করে।
যুক্তফ্রন্ট পাঁচটি বিরোধী রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে গঠিত হয়।
নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের প্রতীক ছিল নৌকা।
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আসন লাভ করে।
১৯৫৪ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে পূর্ব বাংলার রাজনীতিতে ধর্মনিরপেক্ষ ধারার সৃষ্টি হয়।
মুসলিম লীগ সরকার শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হককে। রাষ্ট্রদ্রোহী বলে ঘোষণা দেয়।
৫৬ দিনের শাসনের পর যুক্তফ্রন্ট মন্ত্রিসভার অবসান হয়।
মাত্র চার বছরে সাত মন্ত্রিসভার পতন হয়।
১৯৫৬ সালের সংবিধান দুই বছর কার্যকর ছিল।
সংবিধানের মাধ্যমে একটি রাষ্ট্রীয় শাসনকার্য পরিচালিত হয়।
১৯৫৬ সালের সংবিধান দু'বছর চালু ছিল।
১৯৫৮ সালে ইস্কান্দার মির্জা সামরিক শাসন জারি করেন।
১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে ভারত উপমহাদেশ ভাগ হয়ে পাকিস্তান (১৪ আগস্ট, ১৯৪৭) এবং ভারত (১৫ আগস্ট, ১৯৪৭) নামে দুটি নতুন স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। তৎকালীন পূর্ব-বাংলা পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় পরবর্তীকালে এর নাম হয় পূর্ব-পাকিস্তান । পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকালে দেশটির মোট জনগোষ্ঠীর ৫৬% বাংলা ভাষী এবং ৩.২৭% ছিল উর্দু ভাষী। তবুও শাসকগোষ্ঠী উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। বাঙালি বুদ্ধিজীবী সমাজ প্ৰথমেই প্রতিবাদমূখর হয়ে ওঠেন। তাঁরা এই অন্যায় ও বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান। তরুণনেতা শেখ মুজিবসহ অন্যান্য ছাত্র ও যুব নেতৃবৃন্দ এর প্রতিবাদ জানান। এভাবেই পূর্ব-বাংলায় ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত। ১৯৫২ সালে এ আন্দোলন চূড়ান্ত রূপ লাভ করে। ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই স্বাধীন পাকিস্তানে প্রথম গ্রেফতার হয়েছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। এই সময়ে আরও গ্রেফতার হয়েছিলেন শামসুল হক, , অলি আহাদ, কাজী গোলাম মাহবুবসহ অনেকে। ভাষার জন্য প্রতিবাদী আন্দোলনে পৃথিবীতে প্রথম শহিদ হন সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার, শফিউরসহ অনেকেই। ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ – এই দীর্ঘ সময়ে বাঙালি জাতির স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পটভূমি রচনা করেছিল ভাষা আন্দোলন। ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার মন্ত্রে দীক্ষিত করে। যার প্রেরণায় দীর্ঘ সংগ্রাম ও ত্যাগের বিনিময়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।
এই অধ্যায় শেষে আমরা-
- ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে পারব;
- একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষার স্বীকৃতির প্রেক্ষাপট এবং এর মর্যাদা বর্ণনা করতে পারব;
- নতুন রাজনৈতিক সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করতে পারব;
- যুক্তফ্রন্ট গঠন এবং পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ মূল্যায়ন করতে পারব;
- ভাষা আন্দোলনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনে আগ্রহী হব;
- রাজনৈতিক আন্দোলন সম্পর্কে ভাব বিনিময়ে উৎসাহী হব এবং অপরকেও উৎসাহী করব।
Related Question
View Allআওয়ামী মুসলিম লীগের প্রথম সভাপতি ছিলেন মওলানা ভাসানী।
মুসলিম লীগের অগণতান্ত্রিক আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে সংস্কারপন্থীরা আওয়ামী মুসলিম লীগ গড়ে তোলেন।
দীর্ঘদিন ধরে মুসলিম লীগের এক অংশ যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, সংস্কারপন্থি ছিল তাদের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানি মদদপুষ্ট প্রতিক্রিয়াশীল অপর অংশ নানাভাবে দমন-নিপীড়ন চালাতে থাকে। ফলে সংস্কারবাদীরা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে স্বীকৃতি, সংবিধান প্রণয়ন, সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন ইত্যাদি দাবি নিয়ে গড়ে তোলেন আওয়ামী মুসলিম লীগ।
উদ্দীপকে সবুজনগর অঞ্চলে ছোট দলগুলো স্বাধীনতাপূর্ব ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচন থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে একতাবদ্ধ হয়।
১৯৫৪ সালের নির্বাচন ও যুক্তফ্রন্ট গঠন ছিল বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পূর্ব বাংলায় ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের শাসনের চরম ব্যর্থতার ফলে আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি, নেজামে ইসলামী মিলে যুক্তফ্রন্ট গঠন করা হয় ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর। তারা জনগণের অশা- আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৫৮ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ৩০৯টি আসনের মধ্যে ২২৩টি আসন লাভ করে নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করে। আর ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ পায় মাত্র ৯টি আসন।
উদ্দীপকে দেখা যায়, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য সবুজনগর অঞ্চলের ছোট দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিজয়ী হয়। এই নির্বাচন প্রক্রিয়া ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের শিক্ষারই প্রতিফলন।
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের মাধ্যমে "ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালী হলেই নির্বাচনে জয়ী হওয়া যায় না" এ বিষয়টি প্রমাণিত হয়।
১৯৫৪ সালের নির্বাচন ছিল মুসলিম লীগের অন্যায় ও বৈষম্যমূলক, ব্যর্থ শাসনের বিরুদ্ধে বাঙালির ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ। বাঙালি জাতি এ নির্বাচনের মাধ্যমে মুসলিম লীগকে বুঝিয়ে দেয় যে, তারা পূর্ব বাংলার মুসলিম লীগকে আর চায় না। তারা যুক্তফ্রন্টের তরুণ নেতৃত্বের প্রতি ঝুঁকে পড়ে। তারা ক্ষমতাসীন অত্যাচারীদের প্রতি ধিক্কার জানিয়েছিল তাদের ভোটের মাধ্যমে। তারা বুঝতে পারে পশ্চিম পাকিস্তানি ও তাদের এদেশীয় দোসরদের দ্বারা বাঙালির প্রকৃত মুক্ত সম্ভব নয়। ফলে বাঙালি জাতীয়তাবাদী আদর্শের ভিত্তিতে পূর্ব বাংলার জনগণ স্বায়ত্তশাসনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে।
মুসলিম লীগ ক্ষমতাশীল ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল হয়েও ১৯৫৪ 'সালের নির্বাচনে পরাজিত হয়। তাই বলা যায়, ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালী হলেই নির্বাচনে জয়ী হওয়া যায় না, এ বিষয়টি ১৯৫৪ সালের নির্বাচনের দ্বারা প্রমাণিত হয়।
১৯৪৮ সালের ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণা দেন।
১৯৪৮ সালে করাচিতে অনুষ্ঠিত নিখিল পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলনে বাংলা ভাষা আরবি হরফে লেখার প্রস্তাব দেওয়া হয়। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ-এর প্রতিবাদ করেন। পরবর্তীতে আরবি হরফে বাংলা লেখার ষড়যন্ত্রের জাল হিসেবে বাংলা ভাষা সংস্কারের নামে ১৯৪৯ সালের মার্চে 'পূর্ব বাংলা ভাষা কমিটি' গঠন করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!