বনের ৫টি বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:
১. বৃহদাকার বৃক্ষরাজি থাকবে।
২. ঝোপ-ঝাড় থাকবে।
৩. এলাকা আয়তনে অনেক বড় হবে।
৪. লতানো গাছ থাকবে।
৫. বন্যপ্রাণী থাকবে।
বনভূমির অবস্থান ও বিস্তৃতি অনুসারে বাংলাদেশের বনাঞ্চলকে প্রধানত ছয় ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ভাগগুলো হলো-
১. পাহাড়ি বন,
২. সমতলভূমির বন,
৩. ম্যানগ্রোভ বন,
৪. গ্রামীণ বন,
৫. সামাজিক বন ও
৬. কৃষি বন।
বাংলাদেশের পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে পাহাড়ি বন অবস্থিত। বাংলাদেশের বন এলাকার অর্ধেকের বেশি এলাকা জুড়ে রয়েছে পাহাড়ি বন। কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান, সিলেট, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে এ বন ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এ বনের পরিমাণ ১৩.১৬ লক্ষ হেক্টর।
পাহাড়ি বনের ৪টি গাছ হলো-
১. গর্জন, ২. রাজকড়ই, ৩. তেলসুর ও ৪. গামার।
চারটি বাঁশের জাত হলো-
১. বরাক, ২. মুলী, ৩. তল্লা ও ৪. উরা।
শাল কাঠের দুটি ব্যবহার নিম্নরূপ-
১. গৃহ নির্মাণ ও
২. আসবাবপত্র তৈরি।
সমতলভূমির বন বাংলাদেশের বৃহত্তর ঢাকা, টাঙ্গাইল, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী ও কুমিল্লা অঞ্চলে বিস্তৃত। এ বনের বন্যপ্রাণী প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে। বর্তমানে কোথাও কোথাও অল্পসংখ্যক নেকড়ে, হরিণ, বানর, সাপ, ঘুঘু, দোয়েল ও শালিক দেখা যায়।
বৃহত্তর ঢাকা, টাঙ্গাইল, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী ও কুমিল্লা অঞ্চলের বনকে সমতল ভূমির বন বলে। এ বনের প্রধান প্রধান বৃক্ষ শাল ও গজারি, এছাড়া কড়ই, রেইনট্রি, জারুল ইত্যাদি বৃক্ষও এ বনে জন্মে থাকে। সমতলভূমির প্রাকৃতিক বনের কাছাকাছি বসতি থাকায় এ বনের উপর মানুষের চাপ বেড়ে যাচ্ছে। ফলে প্রাকৃতিক বনের পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক স্থান বনশূন্য হয়ে পড়েছে।
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অবস্থিত খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার দক্ষিণের বিস্তৃত এলাকা ম্যানগ্রোভ বনের অন্তর্ভুক্ত। এ বনের প্রধান বৃক্ষ সুন্দরি। এ বনের অধিকাংশ উদ্ভিদের ঊর্ধ্বমুখী বায়বীয় মূল রয়েছে। এ বনের গুরুত্বপূর্ণ বৃক্ষগুলো হলো-গেওয়া, গরান, পশুর, কেওয়া, বাইন, কাঁকড়া, গোলপাতা ও মোটা বেত। বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার এ বনে বাস করে। চিতাবাঘ, হরিণ, অজগর বিচিত্র রকমের পাখি ও কীটপতঙ্গ এ বনে বাস করে। এ বনের মোট আয়তন ৬০০০ বর্গকিলোমিটার।
ম্যানগ্রোভ বন বলতে বুঝায় সেই বন যেই বনভূমি সাধারণভাবে জোয়ার ভাটায় প্লাবিত হয়। সুন্দরবনকে ম্যানগ্রোভ বন বলার কারণ হলো সুন্দরবনও প্রাত্যহিক জোয়ার ভাটায় লবণাক্ত পানি দ্বারা প্লাবিত হয়। সুন্দরি বৃক্ষের নামানুসারে বাংলাদেশের এই ম্যানগ্রোভ বনের নামকরণ করা হয়েছে সুন্দরবন। এটি পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা বড় ও সম্পদশালী ম্যানগ্রোভ বন।
ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের ২টি বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:
১. মূল ডানাবৎ লবণাক্ত মাটির জন্য এদের শিকড় মাটির খুব গভীরে প্রবেশ করে না। তাই ঝড় ঝাপটা থেকে রক্ষা পাবার জন্য অনেক গাছের (যেমন- সুন্দরি) মূল ডানাবৎ ছড়ানো হয়।
২. শ্বাসমূল: অধিকাংশ গাছের ঊর্ধ্বমুখী শ্বাসমূল রয়েছে। এর সাহায্যে উদ্ভিদ শ্বসন ক্রিয়ায় অক্সিজেন গ্রহণ করে।
পাহাড়ি ও ম্যানগ্রোভ বনের মধ্যে দুটি পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো:
ম্যানগ্রোভ বন | পাহাড়ি বন |
১. ম্যানগ্রোভ বন প্রত্যেহ সামুদ্রিক জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়। | ১. পাহাড়ি বন সামুদ্রিক জোয়ারের পানি দ্বারা প্লাবিত হয় না। |
২. এ বনের অধিকাংশ উদ্ভিদের উর্ধ্বমুখী বায়বীয় মূল রয়েছে। | ২. পাহাড়ি বনের উদ্ভিদের বায়বীয় মূল নেই। |
বাংলাদেশের ৩টি জায়গায় ম্যানগ্রোভ বনভূমি রয়েছে। যথা-১. চকোরিয়া সুন্দরবন, ২. টেকনাফ উপকূল ও ৩. বৃহত্তর খুলনার সুন্দরবন।
সামাজিক বানয়নের দুটি উদ্দেশ্য হলো-
১. দারিদ্র্য বিমোচন
২. প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা।
সামাজিক বনায়নের দুটি প্রয়োজনীয়তা নিম্নরূপ-
১. গৃহনির্মাণ ও আসবাবপত্রের জন্য কাঠের জোগান দান ও জ্বালানি কাঠের ঘাটতি পূরণ।
২. দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগানো এবং দারিদ্র্য বিমোচন।
কৃষি বন তথা কৃষি বনায়ন হলো কোনো জমি থেকে একই সময়ে বা পর্যায়ক্রমিকভাবে বিভিন্ন গাছ, ফসল ও পশুপাখি উৎপাদন ব্যবস্থা। সাধারণভাবে কৃষি বনায়ন হচ্ছে এক ধরনের সমন্বিত ভূমি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি। এতে কৃষি ফসল, পশু, মৎস্য এবং অন্যান্য কৃষি ব্যবস্থা সহযোগে বহু বর্ষজীবী কাষ্ঠল উদ্ভিদ জন্মানোর ব্যবস্থা করা হয়। পরিবেশ বাঁচানো, জ্বালানি সরবরাহ, কাঠ ও শিল্পের কাঁচামাল সরবরাহ বাড়াবার জন্য বিশ্বব্যাপী কৃষিবনের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে।
কৃষি বনায়নের বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:
১. একই জমি বারবার ব্যবহার করে অধিক উৎপাদনের ব্যবস্থা করা যায়।
২. খামারের উৎপাদন স্থায়িত্বশীল হয় ফলে কর্মসংস্থান বাড়ে।
৩. সামাজিক ও পরিবেশগত গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে।
৪. প্রান্তিক ভূমিজ সম্পদ ও স্থানীয় উপকরণ ব্যবহার করা সম্ভব হয়।
কৃষি বনের ৪টি প্রয়োজনীয়তা নিম্নরূপ-
১. কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি করা।
২. খাদ্যের চাহিদা পূরণ ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা।
৩. ফসলি জমির বহুবিধ ব্যবহার করে উৎপাদন ঝুঁকি কমিয়ে আনা।
৪. উন্নত কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার করা।
কৃষি বনায়ন হলো কোনো জমি থেকে একই সময়ে বা পর্যায়ক্রমিকভাবে বিভিন্ন গাছ, ফসল ও পশুপাখি উৎপাদন ব্যবস্থা। অর্থাৎ এতে কৃষি ফসল, পশু, মৎস্য এবং অন্যান্য কৃষি ব্যবস্থা সহযোগে বহুবর্ষজীবী কাষ্ঠল উদ্ভিদ জন্মানোর ব্যবস্থা করা হয়। এ কারণে কৃষি বনায়নকে সমন্বিত ভূমি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি বলা হয়।
কৃষি বনায়ন একই জমিতে বিভিন্ন গাছ, ফসল, মৎস্য ও পশুপাখি উৎপাদন ব্যবস্থার সমন্বয়। এসব কৃষিপণ্য একই সময়ে বা পর্যায়ক্রমিকভাবে উৎপাদিত হয়। যদি কোনো কারণে এদের একটি উপাদান ক্ষতিগ্রস্ত হয় তাহলে তা অন্য উপাদানগুলোর মাধ্যমে পুষিয়ে নেওয়া যায়। এভাবেই কৃষি বনায়ন বৈচিত্র্যময় উদ্ভিদ ও ফসলের সমাহার ঘটিয়ে উৎপাদন ঝুঁকি কমায়।
বন আইন লঙ্ঘনের বিভিন্ন ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে। উপরোক্ত আইন ভঙ্গের জন্য ন্যূনতম ছয় মাসের জেলসহ পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা এবং সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জেলসহ পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। এসব অপরাধের বিধান প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হয়ে থাকে।
একটি দেশের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য তথা দেশের বন ও বনজ সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণে বন আইন জানা প্রয়োজন। কোনো অঞ্চলে নতুন বনাঞ্চল সৃষ্টি বা সরকারি বনাঞ্চল থেকে গাছ কাটা, অপসারণ ইত্যাদি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বন আইন রয়েছে। বন আইন জানা থাকলে শাস্তির ভয়ে কেউ বিনা অনুমতিতে বনের গাছ-পালা কাটবে না বা গাছ তথা কাঠ চুরি করবে না। ফলে বনের তথা পরিবেশের ভারসাম্য বজায় থাকবে।
বাংলাদেশের বনাঞ্চল হ্রাসের প্রধান কারণ হচ্ছে বৃক্ষ কর্তন। প্রাত্যহিক চাহিদা মেটানোর জন্য মানুষ বৃক্ষরাজি ও বন্যপ্রাণী উজাড় করছে। বনের গাছপালা কেটে বসতবাড়ি স্থাপন করা হচ্ছে এবং বনজ সম্পদ পাচার করা হচ্ছে। এছাড়া জ্বালানি, আসবাবপত্রসহ অন্যান্য চাহিদা মেটানোর জন্য প্রতিনিয়ত গাছ কাটা হচ্ছে যার ফলে বাংলাদেশের বনাঞ্চল হ্রাস পাচ্ছে।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের জন্য বাংলাদেশ সরকার ১৯৭৩ সনে একটি আইন প্রণয়ন করেন যা বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) অধ্যাদেশ ১৯৭৩ নামে অভিহিত হয়। এ আইন বলে বিনা অনুমতিতে যেকোনো উপায়ে বনাঞ্চলে বন্যপ্রাণী শিকার বা হত্যা করা, বন্যপ্রাণী প্রজননে বিঘ্ন সৃষ্টি, জাতীয় উদ্যানের সীমানার এক মাইলের মধ্যে কোনো প্রাণী শিকার, বিদেশি প্রাণী আমদানি বা বিদেশে রপ্তানি করা প্রভৃতির ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এ আইন লঙ্ঘন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
বাংলাদেশের বনাঞ্চল হ্রাসের প্রধান একটি কারণ হলো জনসংখ্যা বৃদ্ধি।
বাংলাদেশে আয়তনের তুলনায় জনসংখ্যার ঘনত্ব অত্যন্ত বেশি। এ অধিক জনসংখ্যার মৌলিক চাহিদা মেটানোর জন্য সীমিত বনজ সম্পদের উপর বিশাল চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ফলে খাদ্য, বাসস্থান থেকে শুরু করে প্রাত্যহিক নানা চাহিদা মেটানোর জন্য মানুষ বনের বৃক্ষরাজি ও বন্যপ্রাণী উজাড় করছে। ফলাফল হিসেবে বনাঞ্চল দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।
বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে নার্সারির অবদান। অপরিসীম। নার্সারিতে বনজ, ফলজ ও ঔষধি উদ্ভিদের চারা উৎপাদন করে জনসাধারণের নিকট বিক্রয় করা হয়। এর ফলে বৃক্ষায়ন বৃদ্ধি পায়। নার্সারিতে কাজ করে অনেকে জীবিকা নির্বাহ করে। উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী তৈরিতে নার্সারিতে উৎপন্ন চারা রোপণ করা হয়।
নার্সারি স্থাপনের গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রয়োজনীয়তা হলো সময়মতো উন্নতমানের ও সুস্থ সবল চারা উৎপাদন করা। প্রত্যেক বৃক্ষ রোপণের একটি নির্দিষ্ট সময় আছে এবং রোপিত বৃক্ষের যথাযথ বৃদ্ধি নির্ভর করে সুস্থ সবল চারা লাগানোর ওপর। আর এ প্রয়োজনটি পূরণে নার্সারির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
অর্থনৈতিক ভিত্তিতে নার্সারি দুই ধরনের। যেমন-
১. গার্হস্থ্য নার্সারি: পারিবারিক প্রয়োজন অনুযায়ী ফুল, ফল ও কাঠের চারা উত্তোলন করা হয়।
২. ব্যবসায়িক নার্সারি এ নার্সারিতে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ফল,
সবজি, ফুল, কাঠ ও ঔষধি উদ্ভিদের চারা উত্তোলন করে বিক্রয় ও সরবরাহ করা হয়।
যে নার্সারিতে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে ফল, সবজি, ফুল, কাঠ ও ঔষধি উদ্ভিদের চারা উত্তোলন করে বিক্রয় ও সরবরাহ করা হয় তাকে ব্যবসায়িক নার্সারি বলা হয়।
স্থায়ী নার্সারিতে বছরের পর বছর চারা উত্তোলন করার সুযোগ থাকে। স্থায়ী নার্সারির সুবিধা হলো নার্সারির জন্য সঠিক স্থান নির্বাচন করা যায়। গ্রিন হাউজ ও বীজাগার নির্মাণ করা যায়। কিন্তু এ নার্সারির অসুবিধা হলো মূলধনের প্রয়োজন বেশি হয়, চারার পরিবহন খরচ বেশি হয়।
উদ্ভিদের বা গাছের ভালো চারা পেতে হলে প্রয়োজন ভালো বীজ। আর ভালো বীজের গুণাগুণ নির্ভর করে মাতৃগাছের উপর। মাতৃগাছ যদি উন্নত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন হয় তাহলে সেই মাতৃগাছ থেকে প্রাপ্ত বীজও হবে উন্নত বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন। এজন্য মধ্যবয়সী, সুস্থসবল, রোগমুক্ত এবং অধিক ফল উৎপাদনকারী গাছকে মাতৃগাছ হিসেবে নির্বাচন করা হয়।
সাধারণত দুইভাবে গাছ থেকে বীজ সংগ্রহ করা হয়। যথা-
১. ভূমি হতে বীজ সংগ্রহ: এ পদ্ধতিতে বীজ পাকার পর যখন কিছু বীজ মাটিতে পড়ে তখন বীজ সংগ্রহ করা হয়।
২. গাছ থেকে ফল ও বীজ সংগ্রহ: এ পদ্ধতিতে যখন ফল পরিপক্ক হবে তখন দা বা ছুরি দিয়ে গাছের ছোট ছোট ডাল কেটে সরাসরি গাছ হতে বীজ সংগ্রহ করা হয়।
যেসব গাছের ফল পেকে ফাটে না এবং বীজ ছড়িয়ে পড়ে না সেসব বীজ ভূমি হতে সংগ্রহ করা হয়। সেগুন, গর্জন, শাল, কদম, পিতরাজ, তেলসুর প্রভৃতি উদ্ভিদের বীজ ভূমি থেকে সংগ্রহ করা যায়। বীজ পাকার মধ্যবর্তী সময়ে এ বীজ সংগ্রহ করতে হয়।
পড় জাতীয় বৃক্ষের বীজ অনেক ছোট হওয়ার কারণে মাটিতে পড়লে অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়। তাই মাটি হতে সরাসরি সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না। এ কারণে এ ধরনের বীজ ফল পরিপক্ক হলে সরাসরি গাছ থেকে সংগ্রহ করা হয়।
বীজ নিষ্কাশনের তিনটি পদ্ধতির নাম হলো-
১. বাছাই পদ্ধতি,
২. শুকনো পদ্ধতি ও
৩. পচন পদ্ধতি।
যেসব গাছের অঙ্কুরোদগমকাল সংক্ষিপ্ত অর্থাৎ ৪৭ দিন, সেসব ক্ষেত্রে বাছাই পদ্ধতি ব্যবহার হয়। যেমন- নারিকেল, গর্জন, শাল, সেগুন বীজ। এসব গাছের গোটা ফলই বীজ হিসেবে বপন করা হয়।
সঠিক পদ্ধতিতে বীজ সংরক্ষণ না করলে বীজের গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে বীজের মানের অবনতি হয়। কিছু বনজ গাছ যেমন- গর্জন, শাল, সেগুন, চাপালিশ ইত্যাদি গাছের বীজ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বপন করতে হবে। অন্যথায় অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা হ্রাস পায় তাই বনজ উদ্ভিদের বীজ সঠিকভাবে সংরক্ষণ করতে হবে।
বীজ খুবই অনুভূতিপ্রবণ। একটু অসতর্কতার কারণে বিপুল পরিমাণ বীজ নষ্ট হয়। বীজ ভালোভাবে না শুকিয়ে সংরক্ষণ করলে বীজের জীবনীশক্তি হ্রাস পায়, অঙ্কুরোদগমের হার কমে যায়। এছাড়া বীজ সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে পোকামাকড় আক্রমণ করে। ফলে বীজের গুণগত মান নষ্ট হয়ে যায়। এজন্যই সঠিক পদ্ধতিতে উদ্ভিদের বীজ সংরক্ষণ করা প্রয়োজন।
তুলার বীজ শুকনো পদ্ধতিতে নিষ্কাশন করা হয়। প্রথমে গাছ থেকে তুলা ফল পেড়ে ভালো করে রোদে শুকাতে হয়। এরপর ফল ফেটে যখন বীজ বেরিয়ে আসে, তখন মাড়াই করে তুলার বীজ নিষ্কাশন করা হয়।
গাছ থেকে বীজ সংগ্রহের পর পরবর্তী বপন পর্যন্ত বীজ সংরক্ষণ করা হয়। সঠিক পদ্ধতিতে বীজ সংরক্ষণ না করলে বীজের গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। তবে সেগুন গাছের বীজ গুদামজাত করে সংরক্ষণ করলে এর অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা হ্রাস পায়। এ কারণেই সেগুনের বীজ সংগ্রহের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বপন করতে হয়।
স্থায়ী নার্সারি স্থাপনের ৪টি বিবেচ্য বিষয় হলো-
১. স্থান নির্বাচন,
২. নার্সারির জায়গার পরিমাণ নির্ণয়,
৩. বেড়া নির্মাণ ও
৪. ভূমি উন্নয়ন।
স্থায়ী নার্সারি স্থাপনের নির্বাচিত স্থান আলো-বাতাসপূর্ণ খোলামেলা উঁচু হতে হবে। বর্ষার পানি ওঠে না এবং জলাবদ্ধতা হয় না এমন জায়গা নির্বাচন করতে হবে। মাটি উর্বর বেলে দোআঁশ বা দোআঁশ সম্পন্ন হতে হবে। উন্নত যোগাযোগ ও পানির সুষ্ঠু ব্যবস্থা রাখতে হবে। এমনকি পর্যাপ্ত জমি ও শ্রমিক পাওয়া যায় এমন জায়গা নির্বাচন করতে হবে।
পলিব্যাগ নার্সারি এবং বেড নার্সারি এ দুটি পদ্ধতির মধ্যে পলি ব্যাগ নার্সারিতে চারা উৎপাদন বেশি সুবিধাজনক। কারণ পলিব্যাগে চারা রোপণ, চারার পরিচর্যা, চারা পরিবহন যেমন- সহজ তেমনি চারার মরে যাবার সম্ভাবনাও কম।
নার্সারির স্থান নির্বাচনের পরপরই ভূমি উন্নয়নের কাজ করতে হয়। এক্ষেত্রে নার্সারি বেড তৈরির স্থান উত্তমরূপে পরিষ্কার করতে হবে। মাটি তৈরির সময় বৃষ্টির বা সেচের পানি যাতে দাঁড়াতে না পারে সেজন্য মাটি ঢালু ও ড্রেন করতে হবে।
নার্সারিতে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ ও জাতের চারা উৎপন্ন করা হয়। এসব চারাগাছ গরু, ছাগল প্রভৃতি জীবজন্তু ও পথচারীদের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য নার্সারির চারদিকে বেড়া দিতে হয়। তাছাড়া বেড়া নার্সারি কিংবা বাগানের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও সহায়ক হয়ে থাকে।
নার্সারি বেড সাধারণত দুই রকম হতে পারে। যথা-
১. সরাসির বীজ বপন করে চারা উত্তোলনের জন্য বেড।
২. পলিব্যাগে চারা উত্তোলনের জন্য বেড।
বৃক্ষের চারা রোপণ থেকে শুরু করে যে সময়ে বৃক্ষের বৃদ্ধি সর্বাধিক হয় এবং গাছ পরিপক্বতা লাভ করে ব্যবহার উপযোগী হয়, সে সুনির্দিষ্ট সময়কালকে আবর্তনকাল বলে। এ আবর্তনকাল অনুযায়ী কদম ও শিমুল স্বল্প আবর্তনকালের উদ্ভিদ। সাধারণত ১০-২০ বছর আবর্তনকালে এসব বৃক্ষ কর্তন করা হয়।
বৃক্ষের চারা রোপণ থেকে শুরু করে যে সময়ে বৃক্ষের বৃদ্ধি সর্বাধিক হয় এবং গাছ পরিপক্বতা লাভ করে ব্যবহার উপযোগী হয়, সে সুনির্দিষ্ট সময়কালকে আবর্তনকাল বলে।
বন ব্যবস্থাপনায় বৃক্ষের আবর্তনকালকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়ে থাকে। যথা-
১. স্বল্প আবর্তনকাল,
২. মাঝারি আবর্তনকাল ও
৩. দীর্ঘ আবর্তনকাল।
গাছ যতটা সম্ভব মাটির কাছাকাছি কাটতে হয়। কারণ, গাছের গোড়ার অংশটা বেশি মোটা হয় এবং এ অংশে কাঠের মানও ভালো থাকে। সাধারণত মাটির ১০ সেমি উপরে গাছ কাটলে সর্বোচ্চ পরিমাণ কাঠ পাওয়া যায়।
যে কারণেই গাছ কাটা হোক না কেন নির্দিষ্ট নিয়মকানুন মেনে কাটতে হবে। গাছ সঠিক নিয়মে কর্তন এবং খণ্ডিতকরণের মাধ্যমে অপচয় রোধ করা যায়। আর ব্যবহারের আগে বিজ্ঞানসম্মত সংরক্ষণ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এগুলোকে দীর্ঘস্থায়ী করা.।
গাছ লাগানো ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচর্যার মাধ্যমে সেগুলো বড় করে তোলার পিছনে নানা উদ্দেশ্য থাকে। তবে যে উদ্দেশ্যেই গাছ লাগানো হোক না কেন সুনির্দিষ্ট আবর্তনকাল শেষে পরিপক্বতা লাভকরলে গাছ কর্তন করাই শ্রেয়। কারণ নির্দিষ্ট সময় পরে গাছের কাঠের মান নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাছাড়া অনেক সময় গাছের বাকল ফেটে বা রোগাক্রান্ত হয়ে ধীরে ধীরে কান্ডের অভ্যন্তর ভাগকে ক্ষতিগ্রস্ত করে থাকে। এ কারণে গাছ কর্তনের ক্ষেত্রে বৃক্ষের আবর্তনকাল বিবেচনা করা হয়।
স্বল্প আবর্তনকাল ও দীর্ঘ আবর্তনকালের মধ্যে ২টি পার্থক্য নিম্নরূপ-
স্বল্প আবর্তনকাল | আবর্তনকাল |
১. আবর্তনকাল ১০ – ২০ বছর। | ১. আবর্তনকাল ৪০-৫০ বছর। |
২. নরম কাঠ উৎপাদনকারী গাছের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। | ২. শক্তজাতীয় কাঠ উৎপাদনকারী উদ্ভিদে ব্যবহৃত হয়। |
বৃক্ষের লগ ও তক্তার মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে- কাটা গাছ মাটিতে পড়ার পর খণ্ডিত করা হয়। তবে কী কাজে কাঠ ব্যবহার করা হবে তার ভিত্তিতে পরিমাপ নির্ধারণ করা হয়। যুণ্ডিত গোল অংশকে বলা হয় লগ। আর এ লগ করাত দিয়ে কেটে ব্যবহার উপযোগী চেরাই কাঠে পরিণত করা হয়। এ চেরাই কাঠের প্রস্থ ১৫ সে.মি. এর বেশি হলে এবং দূরত্ব ৪ সে.মি. হলে তাকে বলা হয় তক্তা।
গোল কাঠের ভলিউম নির্ণয়ে নিউটনের সূত্রটি হলো-

এখানে,
বেড় ১ = চিকন প্রান্তের বেড়
বেড় ২ = লগের মাঝখানের বেড়
বেড় ৩ = মোট প্রান্তের বেড়
দৈর্ঘ্য ও বেড় মিটারে মাপা হলে ভলিউম হবে ঘনমিটার।
ব্যবহার উপযোগী কাঠ পরিমাপে হপ্লাস-এর সূত্রটি হলো-

ভলিউম = দৈর্ঘ্য প্রস্থ পুরুত্ব
কাঠ সিজনিং এর ২টি পদ্ধতি হলো-১. এয়ার ড্রাইং ও ২. কিলন পদ্ধতি
কাঠ সিজনিং মানে হলো নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে কাঠ থেকে পানি বের করে নেওয়া কাঠ সিজনিং করা হয় কাঠের গুণগত মান উন্নয়ন করে কাঠকে বেশি দিন টিকানোর জন্য। জীবন্ত অবস্থায় বৃক্ষের জন্য পানি অপরিহার্য হলেও কাটার পর কর্তিত বৃক্ষে পানির পরিমাণ যত কম থাকবে কাঠ ততো বেশি দিন টিকবে। পানির পরিমাণ যদি কাঠ ওজনের ১২% এ নামিয়ে আনা যায় তাহলে ধরে নিতে হবে কাঠের গুণগতমান সর্বোত্তম হবে।
কাঠ ট্রিটমেন্টের মূলনীতি হলো দ্রবণাকারে রাসায়নিক দ্রব্য কাঠ ও বাঁশের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া।
কাঠ ট্রিটমেন্টের সুফল নিম্নরূপ-
১. কাঠ কোমল পচন প্রতিরোধ করতে পারে।
২. উইপোকা আক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারে।
৩. এ কাঠ আসবাবপত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হতে পারে।
৪. কাঠের মান ও মূল্য বৃদ্ধি পায়।
৫. কাঠের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।
৬. কাঠের স্থায়িত্ব বৃদ্ধি পায়।
গাছ কেটে চিরাই করার পর বাতাসে কাঠ শুকানোকে এয়ার ড্রাইং বলা হয়। তবে হালকা পাতলা চেরাই করা কাঠ প্রখর রোদে শুকালে কাঠ ফেটে বা বেঁকে যেতে পারে। তাই এগুলোকে মাটি থেকে ৩০-৪০ সে.মি. উঁচুতে ছায়ায় স্তরে স্তরে শুকাতে হয়। এমনভাবে সাজাতে হবে যেন প্রতিটি টুকরার চারপাশ দিয়ে সমভাবে বাতাস চলাচল করতে পারে। এ পদ্ধতিতে কাঠ সিজনিং হতে কমপক্ষে এক মৌসুম লাগে এবং আর্দ্রতার পরিমাণ ২০% এর কাছাকাছি থাকে।
এয়ার ড্রাইং সুবিধাজনক কারণ এয়ার ড্রাইং এর ক্ষেত্রে কাঠ খোলা বাতাসে রেখে শুকানো হয়, ফলে জ্বালানি কাঠ বা তৈল পোড়ানোর প্রয়োজন হয় না। আর এয়ার ড্রাইং এ কিল্প ড্রাইং এর মতো কোনো চেম্বার বা অন্য কিছুর প্রয়োজন নেই। এমনকি এয়ার ড্রাইং সাশ্রয়ী।
কাঠ ট্রিটমেন্টের মূলনীতি হলো দ্রবণাকারে রাসায়নিক দ্রব্য বা সংরক্ষণী কাঠ বা বাঁশের মধ্যে ঢুকিয়ে দেওয়া। সিসিএ নামক সংরক্ষণীটি আমাদের দেশে বেশি ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে রয়েছে ক্রোমিক অক্সাইড ৪৭.৫%, কপার অক্সাইড ১৮.৫%, আর্সেনিক পেন্টা অক্সাইড ৩৪.০%। সিসিএ উপাদানগুলো পৃথক পৃথকভাবে ক্রয় করে এবং আনুপাতিক হারে মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করা যায়। পানিতে মিশ্রণটির ২.৫% দ্রবণ তৈরি করা হয়। দ্রবণটি বিশেষ চাপ পদ্ধতিতে কাঠের মধ্যে ঢুকানো হয়। এতে প্রতি ঘনফুট কাঠে ০.৪ পাউন্ড সংরক্ষণী প্রয়োগ করতে হয়।
সিসিএ (CCA) সংরক্ষণীটি তিনটি উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত। এর মধ্যে রয়েছে ক্রোমিক অক্সাইড ৪৭.৫%, কপার অক্সাইড ১৮.৫%, আর্সেনিক পেন্টা অক্সাইড ৩৪%।
উপাদানগুলো পৃথক পৃথকভাবে কিনে ও আনুপাতিক হারে মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করা যায়।
সিসিএ (CCA) নামের রাসায়নিক দ্রব্যটি সংরক্ষণী হিসেবে আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়। এ সংরক্ষণী দিয়ে সংরক্ষিত কাঠ পচন প্রতিরোধ করতে পারে। এমনকি উইপোকার। আক্রমণও প্রতিরোধ করতে সক্ষম। যার ফলে কাঠের গুণগত মান অক্ষুণ্ণ থাকে।
বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলসমূহে লবণাক্ততা ও উপর্যুপরি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে প্রাকৃতিক বন রক্ষা ও সৃষ্টি হুমকির মুখে পতিত হয়েছে। এজন্য বিস্তীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা রোধী, জলোচ্ছ্বাস ও ঘূর্ণিঝড়ে টিকে থাকতে পারে এমন বৃক্ষ প্রজাতি রোপণ এবং লবণাক্ততা সহ্যকারী ফসলের চাষ করে উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী সৃষ্টি করা আবশ্যক।
লোনা মাটির অঞ্চলের মধ্যে বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, বরিশালের সমুদ্র তীরবর্তী এলাকা ও তৎসংলগ্ন জেগে ওঠা অঞ্চলসমূহ অন্তর্ভুক্ত।
উপকূলীয় অঞ্চলের প্রধান বৃক্ষ প্রজাতির মধ্যে ঝাউ ও দেবদারু গাছ উল্লেখযোগ্য। এসব উদ্ভিদের মরুজ বৈশিষ্ট্য থাকায় লবণাক্ততা সহ্য করে উপকূলীয় আবহাওয়ার সাথে সহজে খাপ খাইয়ে নেয়। আর এভাবেই ঝাউ ও দেবদারু উপকূলীয় অঞ্চলে অভিযোজিত হয়ে বেঁচে তাকে।
উপকূলীয় উদ্ভিদের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. পাতার কিউটিকল স্তর খুব পুরু হয়।
২. লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে।
ঝাউ গাছের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. ঝাউ বৃহদাকার চিরসবুজ বৃক্ষ।
২. বাকল বাদামি ও মসৃণ।
ঝাউ গাছের বীজ সংগ্রহের ক্ষেত্রে প্রথমে ফল সরাসরি গাছ থেকে পাড়তে হয়। ডালের গোড়ার ফল ভালো পরিপক্ক হয় তাই এ ফল সংগ্রহ করা উত্তম। সংগৃহীত ফল ২ – ৩ দিন রোদে শুকিয়ে লাঠি দিয়ে মাড়াই করে বীজ থেকে খোসা আলাদা করা হয়। এরপর বীজ রোদে শুকিয়ে বায়ুরোধক পাত্রে ৫-৭ মাস সংরক্ষণ করা যায়।
ঝাউ গাছের দুটি ব্যবহার নিম্নরূপ-
১. ঝাউগাছ কোণাকৃতি বিশিষ্ট হওয়ায় সৌন্দর্যের জন্য সড়ক, মহাসড়কের পাশে রোপণ করা হয়।
২. কাঠ খুব শক্ত হওয়ায় খুঁটি ও খড়িকাঠ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
দেবদারু গাছের দুটি বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ-
১. চিরহরিৎ বৃক্ষ, কাণ্ড মোটা, সোজা ও অতি উঁচু হয়।
২. পাতাগুলো গাঢ় সবুজ, যৌগিক, দেখতে অনেকটা বর্শার মতো কিন্তু কিনারা ঢেউ খেলানো।
দেবদারুর পাকা ফল কালো রঙের হয়। ফল পাকলে গাছ থেকে বা গাছতলা থেকে সংগ্রহ করা হয়। এরপর তা বস্তায় রেখে পচিয়ে পানিতে ধুয়ে বীজ সংগ্রহ করতে হয়। দেবদারু বীজ সংরক্ষণ করা যায় না বলে সংগ্রহ করার সাথে সাথে তা বীজতলায় বা পলিব্যাগে বপন করতে হয়।
দেবদারু গাছের ২টি ব্যবহার নিম্নরূপ-
১. টিনের ধারের ফ্রেম, পাটাতন, দেশলাই ও প্যাকিং বক্স তৈরিতে দেবদারু কাঠ ব্যবহার করা হয়।
২. কাগজের মন্ড তৈরিতে দেবদারু কাঠ ব্যবহৃত হয়
উপকূলীয় বনায়নের ফলে যে নির্মল সবুজ বেষ্টনী তৈরি হয়। তার নান্দনিক সৌন্দর্য অভূতপূর্ব। এ সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হয়ে দেশ-বিদেশের বহু ভ্রমণবিলাসী মানুষের সমাগম ঘটে। হরেক রকম পশুপাখির আবাসস্থল তৈরি হয়, যা পরিবেশের অসীম উপকার সাধন করে এবং নান্দনিকতায় নবতর সংযোজন ঘটায়।
উপকূলীয় বনাঞ্চলের ২টি পরিবেশগত উপযোগিতা নিম্নরূপ-
১. ভূমির লবণাক্ততা হ্রাস করে পরিবেশ জীবকুলের বাসউপযোগী করতে সাহায্য করে।
২. পরিবেশের অক্সিজেন ও কার্বন ডাইঅক্সাইডের ভারসাম্য বজায় রাখে, উত্তাপ সৃষ্টি রোধ করে এবং বাতাস পরিশোধন করে।
উপকূল বরাবর বৃক্ষরোপণ এবং বনায়ন কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে উপকূলীয় ভাঙন প্রতিরোধ এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ হ্রাসের লক্ষ্যে গৃহীত ব্যবস্থাকে উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী বলা হয়। এর মাধ্যমে উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষা, ভূমির উর্বরতা বৃদ্ধি, ঘূর্ণিঝড় ও টর্নেডোর প্রকোপ থেকে উপকূলীয় অঞ্চলকে রক্ষা করা যায়।
উপকূলীয় বনায়নের মাধ্যমে সবুজ বেষ্টনী তৈরি ও তা সংরক্ষণ করা গেলে বহুবিধ উপকার সাধিত হবে। এ বনাঞ্চলের বৃক্ষরাজি উপকূল অঞ্চলের ভূমিক্ষয় রোধ করে। ভূমির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। ভূনিম্নস্তর পানির স্তর বৃদ্ধি করে। এ বনাঞ্চল মানুষ, পাখি, জীবজন্তু ও পোকামাকড়ের নিরাপদ আবাস তৈরি ও রক্ষা করে এবং খাদ্যের যোগান দেয়। ফলে এ এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় থাকে। এছাড়া এ বনাঞ্চলে ভ্রমণকারী দেশি-বিদেশি পর্যটকদের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের পথ সম্প্রসারিত হয়। যার ফলে জাতীয় অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসে।
Related Question
View Allযে স্থানে গাছের চারা উৎপন্ন করে রোপণের পূর্ব পর্যন্ত পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় তাকে নার্সারি বলে।
সুস্থসবল ও সুন্দর চারা পাওয়ার আদর্শ স্থান হলো নার্সারি।
বিরল প্রজাতির চারা উৎপাদনে ও বিলুপ্তি রোধে নার্সারি একান্ত অপরিহার্য। এমন অনেক বীজ রয়েছে যেগুলো গাছ থেকে ঝরে পড়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রোপণ করতে হয়। তা না হলে অঙ্কুরোদগমের হার কমতে থাকে। যেমন-গর্জন, শাল, রাবার, তেলসুর প্রভৃতি। এসকল গাছের সুস্থ-সবল চারা নার্সারি থেকে আমরা সহজে পেতে পারি।
উদ্দীপকে উল্লিখিত জামান সাহেবের চারা উৎপাদনের জায়গার পরিমাণ ৪ শতক এবং ব্যবহৃত পলিব্যাগের আকার ১৫ সেমি × ১০ সেমি।
আমরা জানি,
১ একর = ৪০৪৬.২৪ বর্গমিটার
আবার, ১০০ শতক = ১ একর
সুতরাং, ১০০ শতক = ৪০৪৬.২৪ বর্গমিটার
∴ ১ "
∴ ১ "
= ১৬১.৮৫ বর্গমিটার
= ১৬২ বর্গমিটার (প্রায়)
১৫ সেমি × ১০ সেমি আকারের পলিব্যাগের জন্য-
১ বর্গমিটারে প্রয়োজনীয় চারার সংখ্যা = ৬৫টি
∴ ১৬২ বর্গমিটারে প্রয়োজনীয় চারার সংখ্যা = (৬৫×১৬২) টি
= ১০,৫৩০টি
অতএব, জামান সাহেবের নার্সারির চারার সংখ্যা ১০,৫৩০টি।
জামান সাহেব তার বাড়ির দক্ষিণ দিকে পুকুর পাড়ে উঁচু ৪ শতক জমিতে মেনজিয়াম বীজ রোপণ করেন।
কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শমতো তিনি নার্সারি তৈরির সকল কৌশল অবলম্বন, সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়ন ও এর বাস্তবায়ন করতে পেরেছিলেন।
নার্সারি সাধারণত আলো-বাতাসযুক্ত উঁচু স্থানে করতে হয়। স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনি বাড়ির দক্ষিণ দিকে পুকুর পাড়ের উঁচু জমি নির্বাচন করেছিলেন যাতে বর্ষার পানি না উঠে বা জলাবদ্ধতা না হয়। চারা উৎপাদনের জন্য পলিব্যাগ ব্যবহার করেন। পলিব্যাগে চারা উৎপাদন সহজ, ব্যয় কম, রোগবালাই কম হয়, স্থানান্তর ও পরিবহন সহজ হয়। এছাড়াও তিনি সঠিকভাবে বেড তৈরি, মাটি প্রস্তুত, সার প্রয়োগ, সেচ প্রদান, আগাছা পরিষ্কার, পোকামাকড় ও রোগ দমন করেন।
অর্থাৎ, যথাযথ পরিকল্পনা, উপযুক্ত পরামর্শ গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন জামান সাহেবের সফলতার কারণ।
কাঠের স্থায়ীত্ব দীর্ঘায়িত করার জন্য নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে কাঠ থেকে পানি বের করে নেওয়ার পদ্ধতিকে বলে কাঠ সিজনিং।
বৃক্ষের চারা রোপণ থেকে শুরু করে বৃক্ষের সর্বাধিক বৃদ্ধি ও পরিপক্বতা লাভ করে ব্যবহার উপযোগী হওয়ার সময়কালকে আবর্তনকাল বলে।
গামার ও শিশু মাঝারি আবর্তনকালের উদ্ভিদ। কারণ, এদের কাঠ আংশিক শক্ত। খুঁটি ও কাঠ উৎপাদনের জন্য এদের ২০-৩০ বছর আবর্তনকালে কাটা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!