ঐতিহাসিকগণ মনে করেন খ্রিষ্টপূর্ব পাঁচ শতক থেকে খ্রিস্টীয় তেরো শতক পর্যন্ত সময়কালকে বাংলার ইতিহাসের প্রাচীন যুগ বলে। আবার কেউ কেউ খ্রিষ্টপূর্ব পাঁচ শতক থেকে খ্রিস্টীয় ছয় শতক পর্যন্ত সময়কালকে আদি ঐতিহাসিক যুগ এবং খ্রিষ্টীয় সাত শতক থেকে তেরো শতক পর্যন্ত সময়কালকে প্রাক-মধ্যযুগ বলেও যুগ বিভাজন করে থাকেন।
বাংলাদেশের উত্তরে রয়েছে বিশাল হিমালয় পর্বতমালা দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের বিশাল নীল জলরাশি। দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমার ছাড়া সমগ্র দেশটির বাকি সীমারেখা ঘিরে রেখেছে ভারত। এর অধিকাংশ অঞ্চলই সমভূমি। অসংখ্য নদ-নদী আর খাল-বিল ছড়িয়ে আছে এদেশের বুকজুড়ে।
ভৌগোলিক পরিবেশ জনজীবনকে নানাভাবে প্রভাবিত করে।। কোনো দেশের মানুষের জীবনধারা ও ইতিহাসের ওপর সে দেশের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের প্রভাব অপরিসীম। এজন্য পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের জীবনধারা, আচার-আচরণে নানা বৈচিত্র্য লক্ষ করা যায়।
মানুষের জীবনাচরণ ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়।। বাংলার মানুষ ভৌগোলিক পরিবেশের কারণে শান্ত স্বভাবের হলেও। ঋতুবৈচিত্র্যের কারণে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের সাথে যুদ্ধ করতে হয় সর্বদা। অস্তিত্ব রক্ষার জন্য যুগ যুগ ধরে তারা সংগ্রাম করেছে। মূলত এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করতে গিয়ে বাঙালিরা সংগ্রামী হয়ে ওঠে।
বাংলার অধিবাসীদের খাদ্য তালিকা, পোশাক, ঘর-বাড়ি সবকিছুই এদের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। বৈচিত্র্যময় এই প্রাকৃতিক অবস্থান প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রেও বাংলার মানুষতে কিছুটা বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। তাই নদ-নদী এ দেশকে বহুকাল আড়াল করে রেখেছিল বিদেশি শক্তির লোভাতুর দৃষ্টি থেকে।
প্রাচীন যুগে বাংলা এখনকার বাংলাদেশের মতো কোনো একক ও অখণ্ড ছিল না। বাংলার বিভিন্ন অংশ তখন ছোট ছোট অঞ্চলে বিভক্ত ছিল। আর প্রতিটি অঞ্চল স্থানীয়ভাবে শাসিত হতো। প্রাচীন বাংলার কৃষিনির্ভর এই ছেটে ছোট জনবসতিগুলোকে 'জনপদ' বলা হতো।
প্রাচীনকালে বাংলার কৃষিনির্ভর ছোট ছোট জনবসতিগুলোকে জনপদ বলা হয়। প্রাচীন বাংলায় মোট কতটি জনপদ ছিল তা সঠিকভাবে জনা যায় না। তবে পুরুত্বপূর্ণ জনপদগুলোর মধ্যে ছিল-গৌড়, বঙ্গ, পুন্ড্র, হরিকেল, সমতট, বরেন্দ্র, তাম্রলিপ্ত, চন্দ্রদ্বীপ, উত্তর রাঢ়, দক্ষিণ রাঢ়, দন্ডভূক্তি প্রভৃতি।
গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ। বর্তমান মুর্শিদাবাদ জেলায় ছিল এর অবস্থান। বাংলার মুসলমানদের বিজয়ের কিছু আগে মালদহ জেলার লক্ষণাবতীকে গৌড় বলা হতো। সপ্তম শতকে শশাঙ্ককে গৌড়রাজ বলা হতো।
বঙ্গ একটি অতি প্রাচীন জনপদ। বর্তমান বাংলাদেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বদিকে বঙ্গ জনপদ নামে একটি অঞ্চল গড়ে উঠেছিল। অনুমান করা হয়, এখানে 'বঙ্গ' বলে একটি জাতি বাস করত। প্রাচীন বঙ্গ জনপদ ছিল খুব শক্তিশালী অঞ্চল। 'বঙ্গ' থেকে 'বাঙালি' জাতির উৎপত্তি ঘটেছিল।
বঙ্গ একটি অতি প্রাচীন জনপদ। প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়- একটি 'বিক্রমপুর' আর অন্যটি 'নাব্য'। বর্তমান নাব্য বলে কোনো জায়গার অস্তিত্ব নেই। ধারণা করা হয় ফরিদপুর, বাখেরগঞ্জ, পটুয়াখালীর নিচু জলাভূমি এ নাব্য অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
বঙ্গ একটি অতি প্রাচীন জনপদ। বর্তমান বাংলাদেশ পূর্ব ও দক্ষিণপূর্ব দিকে বঙ্গ জনপদ নামে একটি অঞ্চল গড়ে উঠেছিল। অনুমান করা হয়, এখানে বঙ্গ বলে একটি জাতি বাস করত। তাই এ জনপদটি থেকেই বঙ্গ নামের উৎপত্তি হয়।
বঙ্গ রাজ্যে পাঁচজন রাজার নাম পাওয়া যায়। তারা হলেন-ধর্মাদীপ্ত, দ্বাদশাদীপ্ত, সুধন্যাদীপ্ত, গোপচন্দ্র এবং সমাচার দেব। বঙ্গ | একটি অতি প্রাচীন জনপদ। বর্তমান বাংলাদেশ পূর্ব ও দক্ষিণপূর্ব দিকে বঙ্গ জনপদ নামে একটি অঞ্চল গড়ে উঠেছিল।
বাংলা শব্দটির সাথে বাঙালি শব্দটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। প্রাচীনকালে বাংলা কোনো একক রাষ্ট্র ছিল না। বাংলার বিভিন্ন জনপদের মধ্যে অতিপ্রাচীন হলো বঙ্গ। ধারণা করা হয় এ বঙ্গ থেকেই বাঙালি জাতির উৎপত্তি ঘটে।
প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর মধ্যে পুন্ড্র হলো অন্যতম। বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর অঞ্চল নিয়ে এ পুণ্ড জনপদটি গঠিত হয়েছিল। পুন্ডদের রাজ্যের রাজধানীর নাম ছিল পুণ্ড্রনগর। প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ডই ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ।
প্রাচীন বাংলার প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন ও নগর সভ্যতার হিসেবে পুণ্ড জনপদের গুরুত্ব ব্যাপক। পরবর্তীকালে এর নাম হয় মহাস্থানগড়। প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ডই ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ। পাথরের চাকতিতে খোদাই করা লিপি এখানে পাওয়া যায়।
বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর অঞ্চল নিয়ে এ পুণ্ড জনপদটি গঠিত হয়েছিল। পুন্ড্রদের রাজ্যের রাজধানীর নাম ছিল পুন্ড্রনগর। পরবর্তীকালে এর নাম হয় মহাস্থানগড়। প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শনের দিক দিয়ে পুণ্ড্রই ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ।
হরিকেল জনপদের অবস্থান নিয়ে কিছুটা মতভেদ লক্ষ করা যায়। চীনা ভ্রমণকারী ইৎসিং বলেছেন, হরিকেল পূর্ব ভারতের শেষ সীমায় ছিল। আবার কোনো কোনো শিলালিপিতে হরিকেলের পরিচয়ে চট্টগ্রামের অংশও পাওয়া যায়। তাই বলা যায়, পূর্বে সিলেট থেকে - চট্টগ্রামের অংশ বিশেষ হরিকেল জনপদ বিস্তৃত ছিল।
পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় বঙ্গের পাশাপাশি সমতটের অবস্থান। সমতটের রাজধানী বড় কামতা এবং দেবপর্বত কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে অবস্থিত। কুমিল্লার ময়নামতিতে কয়েকটি প্রাচীন নিদর্শনের সন্ধান পাওয়া গেছে। শালবন বিহার এদের অন্যতম।
পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় বঙ্গের পাশাপাশি সমতটের অবস্থান। গঙ্গা-ভাগীরথীর পূর্ব তীর থেকে শুরু করে মেঘনার মোহনা পর্যন্ত সমুদ্রকূলবর্তী এলাকা এবং বর্তমান ভারতের ত্রিপুরার প্রাচীন অংশই সমতট। কুমিল্লার ময়নামতিতে কয়েকটি প্রাচীন নিদর্শনের সন্ধান পাওয়া গেছে।
বরেন্দ্র বা বরেন্দ্রভূমি নামে প্রাচীন বাংলার একটি জনপদের কথা জানা যায়। এটি উত্তরবঙ্গের এটি জনপদ। অনুমান করা হয় পুণ্ড্রের একটি অংশ জুড়ে বরেন্দ্রের অবস্থান ছিল। বগুড়া, দিনাজপুর, রাজশাহী জেলার অনেক অঞ্চল এবং সম্ভবত পাবনা জেলা জুড়ে বরেন্দ্র অঞ্চল বিস্তৃত ছিল।
বরেন্দ্রী; বরেন্দ্র বা বরেন্দ্রভূমি নামে প্রাচীন বাংলায় অপর একটি জনপদের কথা জানা যায়। এটিও উত্তরবঙ্গের একটি জনপদ। অনুমান করা হয়, পুন্ডের একটি অংশ জুড়ে বরেন্দ্রর অবস্থান ছিল। বগুড়া, দিনাজপুর ও রাজশাহী জেলার অনেক এলাকা এবং সম্ভবত পাবনা জেলাজুড়ে বরেন্দ্র বিস্তৃত ছিল।
হরিকেলের দক্ষিণে ছিল তাম্রলিপ্ত জনপদ। বর্তমান মেদিনীপুর জেলার তমুলকই ছিল তাম্রলিপ্তের প্রাণকেন্দ্র। সাত শতক থেকে এটি দণ্ডভুক্তি নামে পরিচিত হতে থাকে। আট শতকের পর হতেই তাম্রলিপ্ত বন্দরের সমৃদ্ধি নষ্ট হয়ে যায়।
প্রাচীন বাংলার চন্দ্রদ্বীপ জনপদটি বা বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল। নৌ চলাচলের জন্য জায়গাটি খুবই উত্তম। বর্তমান বরিশাল জেলাই ছিল চন্দ্রদ্বীপের মূল ভূখণ্ড ও প্রাণকেন্দ্র।
তাম্রলিপ্ত অঞ্চল ছিল খুবই নিচু, আর্দ্র এবং নদীবিধৌত। তাই নৌ চলাচলের জন্য এ অঞ্চলটি ছিল অত্যন্ত উপযুক্ত। এ কারণেই তাম্রলিপ্ত জনপদ্দ নৌবাণিজ্যের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এ জনপদের প্রাণকেন্দ্র ছিল বর্তমান মেদিনীপুর জেলার তমলুক।
প্রাচীন বাংলার একটি ক্ষুদ্র জনপদ হলো চন্দ্রদ্বীপ। বর্তমান বরিশাল জেলাই ছিল প্রাচীন চন্দ্রদ্বীপের মূল ভূখণ্ড ও প্রাণকেন্দ্র। প্রাচীন এ জনপদটি বর্তমান বালেশ্বর ও মেঘনা নদীর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল।
প্রাচীন বাংলার জনপদ আমাদের তখনকার বাংলার ভৌগোলিক অবয়ব, সীমারেখা, রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্য ইত্যাদি সম্পর্কে ধারণা দেয়। প্রাচীন বাংলায় তখন কোনো রাজনৈতিক ঐক্য ছিল না। শক্তিশালী শাসকগণ তাদের আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে একাধিক জনপদের শাসন ক্ষমতা লাভ করতেন।
বাংলার ভিন্ন ভিন্ন জনপদে ভিন্ন ভিন্ন শাসনকর্তা শাসন করতেন। তারা তাদের আধিপত্য বিস্তারের জন্য একাধিক জনপদ অধিকার করে শাসনক্ষমতা লাভ করতেন। এর মাধ্যমে বিভিন্ন জনপদের মানুষের মাঝে একটি রাজনৈতিক চেতনার জন্ম হতে থাকে, যার মাধ্যমে বাংলায় রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে ওঠে।
প্রাচীনকালে বাংলা বর্তমান বাংলাদেশের মতো একক রাষ্ট্র বা রাজ্য ছিল না। এ সময় বাংলা ছোট ছোট অঞ্চলে বিভক্ত ছিল। এ সর অঞ্চলকে শাসন করত ভিন্ন ভিন্ন শাসনকর্তা। এসব শাসনকর্তার চিন্তাচেতনা, রাজনৈতিক ধারণা ছিল ভিন্ন ভিন্ন। এ কারণেই প্রাচীন বাংলায় কোনো রাজনৈতিক ঐক্য ছিল না।
ইতিহাস বিষয়ক আলোচনায় যুগের বিভাজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে যুগ বিভাজন নির্ণয় করা হয়।
খ্রিস্টপূর্ব পাঁচ শতক থেকে খ্রিস্টীয় ছয় শতক পর্যন্ত সময়কালকে আদি ঐতিহাসিক যুগ বলা হয়।
খ্রিষ্টীয় তেরো শতকের পূর্ব পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় দুই হাজার বছরের সময়কে বাংলার প্রাচীন যুগ বলা হয়।
খ্রিষ্টপূর্ব পাঁচ শতক থেকে খ্রিষ্টপূর্ব তেরো শতক পর্যন্ত সময়কালকে ইতিহাসের প্রাচীন যুগ বলা হয়।
ঐতিহাসিকগণ খ্রিস্টপূর্ব পাঁচ শতক থেকে খ্রিস্টপূর্ব, তেরো শতক পর্যন্ত সময়কালকে ইতিহাসের প্রাচীন যুগ বলা হয়।
খ্রিষ্টীয় সাত শতক থেকে তেরো শতক পর্যন্ত সময়কাল হচ্ছে প্রাক-মধ্যযুগ।
বাংলাদেশের আয়তন ১ লক্ষ ৪৭ হাজার ৫৭০ বর্গকিলোমিটার।
এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণে বাংলাদেশের অবস্থান।
ইংরেজরা ভারতবর্ষ থেকে চলে যাওয়ার পর ১৯৪৭ সালে বাংলা দুই ভাগে বিভক্ত হয়।
মিয়ানমার বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থিত।
বাংলাদেশের মূল নদ-নদীগুলোর নাম হলো- পদ্মা, যমুনা, ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা, তিস্তা ও করতোয়া।
বিদেশি আক্রমণ থেকে দেশকে রক্ষার জন্য নৌযুদ্ধে পারদর্শী হয়ে ওঠে বাংলার সৈন্যরা।
প্রাচীন যুগে বাংলা এখনকার মতো কোনো একক ও অখণ্ড রাষ্ট্র ছিল না। বাংলার বিভিন্ন অংশ তখন ছোট ছোট 'অঞ্চলে বিভক্ত ছিল। জনবসতিপূর্ণ কৃষিনির্ভর ছোট ছোট বাংলার এ অঞ্চলগুলোকে বলা হতো জনপদ।
বাংলার অঞ্চলগুলোকে তখন সমষ্টিগতভাবে 'জনপদ' নাম দেওয়া হয়।
প্রাচীন বাংলার জনপদ কৃষিনির্ভর জনবসতিপূর্ণ ছিল।
গৌড়ের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
গৌড়রাজ শশাঙ্কের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
মুর্শিদাবাদ প্রাচীনকালে গৌড় জনপদের অন্তর্ভুক্ত ছিল।
উত্তর: স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন শশাঙ্ক।
সপ্তম শতকে শশাঙ্ককে গৌড়রাজ বলা হয়।
মুসলমান যুগের শুরুতে মালদহ জেলার লক্ষণাবতী গৌড় নামে অভিহিত হতো।
গৌড়ের রাজা শশাঙ্ক মুর্শিদাবাদ হতে উৎকল পর্যন্ত সমগ্র এলাকাকে সংঘবদ্ধ করেন।
বঙ্গ একটি অতি প্রাচীন জনপদ।
বর্তমান বাংলাদেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে বঙ্গ নামে একটি জনপদ গড়ে উঠেছিল।
গঙ্গা ও ভাগীরথীর মাঝখানের অঞ্চলকে বঙ্গ বলা হতো।
বঙ্গ জনপদ থেকে বাঙালি জাতির উদ্ভব ঘটেছিল
বঙ্গ নামক একটি জাতি বঙ্গ জনপদ গড়ে তুলেছিল।
বঙ্গ থেকে বাঙালি জাতির উৎপত্তি ঘটেছিল।
প্রাচীন শিলালিপিতে বঙ্গের দুইটি অঞ্চলের নাম পাওয়া যায়।
প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হলো পুণ্ড্র।
পুন্ড্র জাতি পুণ্ড্র জনপদ গড়ে তুলেছিল।
বর্তমান বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী ও দিনাজপুর অঞ্চল নিয়ে পন্ড জনপদটির সৃষ্টি হয়েছিল।
মহাস্থানগড় বর্তমান বগুড়া শহর থেকে সাত মাইল দূরে অবস্থিত ছিল।
পরবর্তীকালে পুণ্ড্রনগরের নাম হয় মহাস্থানগড়।
প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ পুণ্ড।
পুন্ডদের রাজ্যের রাজধানীর নাম পুন্ড্রনগর।
বগুড়া হতে সাত মাইল দূরে মহাস্থানগড় অবস্থিত।
পাথরের চাকতিতে খোদাই করা লিপিই হলো বাংলাদেশে প্রাপ্ত প্রাচীনতম শিলালিপি
হরিকেলের দক্ষিণে অবস্থিত ছিল তাম্রলিপ্ত জনপদ।
সপ্তম শতকের লেখকরা হরিকেল নামে অপর একটি জনপদের বর্ণনা করেছেন।
বর্তমান কুমিল্লার প্রাচীন নাম সমতট
শালবন বিহার 'সমতট' জনপদের নিদর্শন।
বড় কামতা নামক স্থানটি কুমিল্লা শহরের ১২ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত।
সাত শতকে বড় কামতা নামক স্থানটি ছিল সমতট জনপদের রাজধানী।
বরেন্দ্র উত্তরবঙ্গের জনপদ।
বরেন্দ্র রাজশাহী, বগুড়া, দিনাজপুর ও পাবনা জেলা জুড়ে বিস্তৃত।
তাম্রলিপ্ত জনপদ হরিকেলের দক্ষিণে বর্তমান ভারতের মেদিনীপুর জেলার তমলুকে।
বর্তমান মেদিনীপুর জেলার তমলুকই ছিল তাম্রলিপ্তের প্রাণকেন্দ্র।
সপ্তম শতক হতে তাম্রলিপ্ত দণ্ডভুক্তি নামে পরিচিত হতে থাকে।
চন্দ্রদ্বীপ জনপদটি বালেশ্বর ও মেঘনার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ছিল।
চন্দ্রদ্বীপের বর্তমান নাম বরিশাল।
বর্তমান বরিশাল জেলাই ছিল চন্দ্রদ্বীপের মূল ভূখন্ড ও প্রাণকেন্দ্র।
Related Question
View Allপ্রাচীনকালে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অঞ্চলে বিভক্ত হওয়া বাংলার অঞ্চলগুলোর সমষ্টিকে জনপদ বলা হয়।
গৌড়রাজ শশাংকের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
সপ্তম শতকের চৈনিক পরিব্রাজক হিউয়েন সাং-এর ভ্রমণ বৃত্তান্ততে এর উল্লেখ পাওয়া যায়। ১৯৬০- এর দশকে প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধানে প্রাপ্ত রাজবাড়িডাঙ্গার (পশ্চিম বাংলার মুর্শিদাবাদ জেলার যদুপুর গ্রাম) মঠের সাথে লো-তো-মি-ছি (রক্তমৃত্তিকা)-এর ফলে এখন যথার্থভাবেই বলা যায় যে, খননকৃত প্রত্নস্থলের নিকটে ছিল কর্ণসুবর্ণ। রাক্ষসীডাঙ্গার ধ্বংসস্তূপ খননে আনুমানিক সপ্তম শতকের বৌদ্ধ বিহারের ভিত্তিচিহ্ন পাওয়া গেছে, স্থানীয় ভাবে এটি রাজা কর্ণ-এর প্রাসাদ নামে পরিচিত। তবে নদীপ্রবাহ বা ভাঙ্গনের ফলে অনেক চিহ্ন এখন মুছে গেছে।
উদ্দীপকে উল্লিখিত নিদর্শনটি প্রাচীন সমতট জনপদে অবস্থিত।
পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার প্রতিবেশী জনপদ হিসেবে ছিল সমতটের অবস্থান। এ অঞ্চলটি ছিল আর্দ্র নিম্নভূমি। কেউ কেউ মনে করেন, সমতট বর্তমান কুমিল্লার প্রাচীন নাম। আবার কেউ মনে করেন, কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল নিয়ে সমতট গঠিত হয়েছিল। তবে সাত শতক থেকে বারো শতক পর্যন্ত বর্তমান ত্রিপুরা জেলা ছিল সমতটের অন্যতম অংশ।
উদ্দীপকে আমরা শালবন বিহারের চিত্র দেখি, যা কুমিল্লা শহর থেকে ৯ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে বা লালমাই-ময়নামতি পাহাড়শ্রেণির প্রায় মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত। কুমিল্লা যেহেতু প্রাচীনকালে সমতট নামে পরিচিত ছিল তাই এই বিহারটি সমতট জনপদে অবস্থিত।
না, উক্ত জনপদ অর্থাৎ সমতট জনপদটি প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে উন্নত জনপদ ছিল বলে আমি মনে করি না। প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে উন্নত জনপদ ছিল পুণ্ড।
সমতট জনপদটি কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল নিয়ে গঠিত ছিল। এ জনপদে দেব রাজবংশের রাজারা বিভিন্ন ধরনের স্থাপত্য, নির্মাণশৈলী, শিল্পকলা ইত্যাদিতে অবদান রেখেছেন। এছাড়াও এ জনপদের অন্তর্ভুক্ত ময়নামতি অঞ্চল তখনকার সময়ে বৌদ্ধ সংস্কৃতির অন্যতম চর্চাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছিল। এর নিদর্শনস্বরূপ রয়েছে অনেকগুলো বৌদ্ধ বিহার। যেমন- আনন্দ বিহার, ভোজ বিহার ইত্যাদি। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা এ অঞ্চলে এসে তাদের ধর্মীয় শিক্ষার প্রসার ঘটিয়েছিলেন। তাছাড়া গঙ্গা- ভাগীরথীর পূর্ব তীর থেকে মেঘনা নদীর মোহনা পর্যন্ত এ অঞ্চলের বিস্তৃতি বিধায় এ জনপদ নৌ-বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
প্রাচীন বাংলার জনপদগুলোর মধ্যে পুণ্ড অন্যতম। পুণ্ড নামে একটি জাতি এ জনপদ গড়ে তুলেছিল। পুণ্ডদের রাজ্যের রাজধানীর নাম ছিল পুণ্ড্রনগর। পরবর্তীতে এর নাম হয় মহাস্থানগড়। মহাস্থানগড় কয়েক শতাব্দীকাল পরাক্রমশালী মৌর্য, গুপ্ত, পাল ও সেন রাজবংশের প্রাদেশিক রাজধানী ছিল। বর্তমান বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর ও রাজশাহী জেলা জুড়ে ছিল বিস্তৃত ছিল এ পুণ্ড জনপদ। বগুড়া থেকে সাত মাইল দূরে মহাস্থানগড় প্রাচীন পুণ্ড্র নগরীর ধ্বংসাবশেষ বলে পণ্ডিতেরা ধারণা করে থাকেন। সভ্যতার নিদর্শনের দিক থেকে অপরাপর জনপদ অপেক্ষা পুণ্ডই ছিল প্রাচীন বাংলার সবচেয়ে সমৃদ্ধ জনপদ। পাথরের চাকতিতে খোদাই করা বাংলাদেশের প্রাচীনতম শিলালিপি এখানে পাওয়া গেছে। করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত পুন্ড্রনগরের সাথে জল ও স্থলপথে বাংলার অন্যান্য অংশের বেশ ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল এবং প্রাচীন যুগে জনপদটি ব্যবসা-বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে বিখ্যাত ছিল। চীনের সঙ্গে মগধের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলের ওপর পুণ্ড্রবর্ধনের উপস্থিতি এ গুরুত্ব আরো বাড়িয়ে দেয়। চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং এর বিবরণীও এ অঞ্চলের সমৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
উপরের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে তাই বলা যায়, সমতট নয় পুণ্ড ছিল বাংলার সবচেয়ে উন্নত জনপদ।
জনপদ হলো প্রাচীন ছোট ছোট খণ্ডরাজ্য যার প্রতিটি অঞ্চলের শাসক তার রাজ্যটিকে নিজের মতো করে শাসন করতেন। প্রাচীন যুগে বাংলা এখনকার বাংলাদেশের মতো কোনো একক ও অখণ্ড রাষ্ট্র বা রাজ্য ছিল না। বাংলার বিভিন্ন অংশ তখন অনেকগুলো ছোট ছোট অঞ্চলে বিভক্ত ছিল। আর প্রতিটি অঞ্চলের শাসক যার যার মতো শাসন করতেন। বাংলার এ অঞ্চলগুলোকে এক-একটি জনপদ হিসেবে নাম দেওয়া হয়। ইতিহাসে বিখ্যাত বাংলার কয়েকটি প্রাচীন জনপদ হলো পুণ্ড, গৌড়, বঙ্গ, হরিকেল, সমতট ইত্যাদি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!