বয়স বাড়ার সাথে সাথে প্রতিটি শিশু ধীরে ধীরে কিছু ক্ষমতা অর্জন করে। যা তার আচরণের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায়। এসবই শিশুর বিকাশ। বিকাশ হলো গুণগত পরিবর্তন। যা ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে। জীবনের শুরু থেকে মৃত্যু পর্যন্ত বিকাশ কখনো থেমে থাকে না।
বিকাশ হলো গুণগত পরিবর্তন যা ধারাবাহিকভাবে চলতেই থাকে। বিকাশ একটি জটিল প্রক্রিয়া। পরিপক্ষ ও অভিজ্ঞতার ফলে বিকাশজনীত পরিবর্তন হতে থাকে। বিকাশ বৃদ্ধি ও ব্যয় এ দুটোই ক্রিয়াশীল থাকে। জীবনের শুরুতে ক্ষয়ের চেয়ে বৃদ্ধি এবং জীবনের শেষ দিকে বৃদ্ধির চেয়ে ক্ষয় বেশি হতে থাকে।
বর্ধন ও বিকাশের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো:
(১) বর্ধন হলো দৈহিক আকার ও আয়তন। বিকাশ আচরণ, দক্ষতা ও কার্যক্ষমতার পরিবর্তন।
(২) বর্ধন হলো পরিমাণগত পরিবর্তন। বিকাশ হলো গুণগত পরিবর্তন। তবে পরিমাণগত পরিবর্তনের সাথেও এটি। সম্পর্কযুক্ত।
খুঁশি হলে হাসা, ব্যথা পেলে কাঁদা, বিকট শব্দে ভয় পাওয়া, কিছু চেয়ে না পেলে রেগে যাওয়া ইত্যাদি শিশুর আবেগের প্রকাশ। এভাবে ভালো লাগা, খারাপ লাগা আবেগ সঠিকভাবে প্রকাশ করা এবং প্রয়োজনে নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা অর্জন এসবগুলোই আবেগীয় বিকাশ।
জন্মের পর থেকে বয়স অনুযায়ী মা-বাবা, ভাইবোনসহ অন্যদের সাথে মিলতে পারার ক্ষমতা এবং ধীরে ধীরে পরিবার ও সমাজের রীতিনীতি নিয়ম অনুযায়ী খাপ খাইয়ে চলতে পারার ক্ষমতার বিকাশ হলো সামাজিক বিকাশ। যেমন- অন্যকে সাহায্য করা, দয়া প্রদার্শন, সৌজন্যবোধ, সহমর্মিতা, বন্ধুত্ব।
সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিনীতির উপর ভিত্তি করে ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়বোধ গড়ে উঠে। অন্যায়ের জন্য অনুশোচনা করা, ন্যায় কাজের জন্য তৃপ্তি পাওয়াই নৈতিক বিকাশ। মিথ্যা বলা, প্রতারণা করা, অন্যের ক্ষতি করা ইত্যাদি নৈতিকতাবিরোধী কাজ।
জীবনের সূচনা হয় মাতৃগর্ভ থেকে। নয় মাস গর্ভে থাকার পর শিশুর জন্ম হয়। জন্মের পর শৈশব, কৈশোর, প্রাপ্ত বয়স পার হয়ে একজন ব্যক্তি বৃদ্ধ বয়সে উপনীত হয়। জীবন প্রসারের সম্পূর্ণ সময়কে কয়েকটি স্তর বিভক্ত করা হয়েছে। এগুলো বিকাশের স্তর নামে পরিচিত।
জন্মপূর্ব কালের অংশের ব্যাপ্তি হলো জীবনের সূচনা থেকে জন্মগ্রহণ পর্যন্ত সময়কাল। সবচেয়ে দ্রুত পরিবর্তনের সময়কাল হলো মাতৃগর্ভের এই সময়কাল। এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে একটি এককোষী জীব একটি পূর্ণাঙ্গ মানবশিশুতে পরিণত হয়। জন্মগ্রহণের পর মাতৃগর্ভের বাইরের পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য স্তূপ শিশুর বিশাল পরিবর্তন ঘটে।
জন্ম মুহূর্ত থেকে দুই সপ্তাহ সময়কালে নবজাতকাল। এসময়ে সবজাতককে নতুন পরিবেশের সাথে খাপ-খাওয়াতে হয়। শ্বাস-প্রশাস, খাদ্যগ্রহণ ও শরীরের বর্জ্য নিষ্কাশনে তার গ্রন্থি সক্রিয় হয়। মাতৃগর্ভে গরম পরিবেশ ( ফারেনহাইট) থেকে কম তাপমাত্রার পরিবেশের সাথে তাকে সঙ্কঙ্গতি বিধান করতে হয়।
দুই সপ্তাহ থেকে ২ বছর পর্যন্ত সময়কাল হলো এই অংশের বিস্তৃতি। কিছুদিন পূর্বেও যে শিশুটি বড় অসহায় ছিল সে এখন বসতে পারে, হাঁটতে পারে, কথা বলতে পারে। এই বয়সের মধ্যে তার অন্যের সাথে অন্তরঙ্গতা তৈরি হয়। প্রথম বৎসর হলো অতিশৈশবকাল, দ্বিতীয় বৎসর হলো টডলারহুড।
শিশুর প্রারম্ভিক শৈশবের ব্যাপ্তি ২-৬ বছর। এ সময়ে শিশু লম্বা ও ক্ষীণকায় হয় এবং হাঁটা, দৌড়ানো, আরোহণ করা, ধরা ইত্যাদি আরও বেশি দক্ষতা অর্জন করে। তারা অনেক বেশি নিজের কাজগুলো করতে পারে। নিজের খাওয়া, নিজে নিজের পোশাক পরা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হওয়া ইত্যাদি। এই বয়সে তারা কৌতূহলী হয় এবং অনেক প্রশ্ন করে।
শিশুর ৬-১১ বছর পর্যন্ত সময়কাল মধ্য শৈশব। এই বয়সে ছেলেমেয়েরা তাদের পরিবেশ সম্পর্কে অনেক কিছু জানে এবং নতুন নতুন দায়িত্ব পালনে দক্ষ হয়। খেলাধুলায় দক্ষ হয়, নিয়মসমৃদ্ধ খেলায় অংশ নেয়। তারা যুক্তিপূর্ণ চিন্তা, ভাষার দক্ষতা অর্জন করে এবং ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় সম্পর্কে তাদের ধারণা আরও স্পষ্ট হয়। তারা বন্ধুত্ব তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখে।
শিশুর ১১-১৮ বছর হলো বয়:সন্ধিকাল। তাই শিশু থেকে প্রাপ্ত বয়সে যাওয়ার সময় কাল। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ১০-১৯ বছর বয়স এই সময়টা হলো কৈশরকাল। বয়:সন্ধিক্ষণে প্রাপ্ত বয়স্কদের মতো দেহের আকার আকৃতি ও যৌন বৈশিষ্ট্য অর্জিত হয়। যৌন ক্ষমতার পূর্ণ বিকাশে তারা প্রজনন ক্ষমতা অর্জন করে। এসময় নিজ চেহারার প্রতি তাদের মনযোগ বাড়ে।
প্রারম্ভিক বয়ঃপ্রান্তিকালের ব্যাপ্তি ১৮-২৫ বছর পর্যন্ত। পেশা ও সঙ্গী নির্বাচনের প্রস্তুতি ও সময়ের অন্যতম কাজ। এবয়স বিয়ে ও পরিবার গঠনের আগ্রহ তৈরি হয়। অনেকে পেশা সম্পর্কে স্থির সিদ্ধান্ত আসে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণি উত্তরণের পর ব্যাস্তবমুখী পেশা নির্বাচনের পথ স্থির হয়।
যার সময়কাল ২৫-৪০ বছর। বয়ঃপ্রাপ্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো মা-বাবা হিসেবে পরিবারের দায়িত্ব গ্রহন। এসময় বিয়ের পর দুইটি ভিন্ন পরিবেশ থেকে আসা দুজনের মধ্যে খাপ খাওয়ানো শিখত হয়। সন্তান লালন-পালন একটি নতুন কাজ, যা তাদের অবশ্যই পালন করতে হয়।
৪০-৬৫ বয়স সময়কাল মধ্যবয়স। কাজ থেকে অবসর 1 গ্রহণের সময় পর্যন্ত এই বয়সের ব্যক্তি। এটা প্রাপ্ত বয়স থেকে বার্ধক্য - অবতীর্ণ সময়। কর্মক্ষেত্রে সফলতা বা নেতৃত্ব দান এই বয়সেই হয়ে থাকে। মধ্যবয়সে প্রধান শারীরিক লক্ষণগুলো হলো: ওজন বৃদ্ধি, চুল - পাকা, কুচকানো ত্বক, দৃষ্টি শক্তির সমস্যা ইত্যাদি।
বার্ধক্য হলো ৬৫-মৃত্যু পর্যন্ত এর সময়কাল। এটি মানব বিকাশের সর্বশেষ স্তর। বার্ধক্য ক্ষয়ের সূচনা করে। এ সময়ে শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ধারাবাহিক অবনতি দেখা যায়। তাদের কাজ করার শক্তি হ্রাস পায়। বৃদ্ধরা তাদের নিজেদেরকে অপ্রয়োজনীয় মনে করে। তারা খুব কম গঠনমূলক কাজ করতে পারে।
বিকাশ ধারাবাহিকভাবে চলে। এটা কখনো থেকে থাকে না। জীবনের প্রতিটি স্তরে বিকাশ সম্পর্কে সমাজের নির্দিস্ট প্রত্যাশা থাকে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক সম্পর্কে সমাজের প্রত্যাশা এমন থাকে যে সে উপার্জন করবে, পরিবার ও সমাজের বিভিন্ন দায়িত্ব গ্রহণ করবে।। এই কাজকেই বিকাশমূলক কার্যক্রম বলে।
বিকাশমূলক কার্যক্রমগুলো হলো নিম্নরূপ:
(১) জীবনের নির্দিষ্ট স্তরে করণীয় কিছু কাজ যা সমাজ প্রত্যাশা করে।
(২) একাজের সফলতা পরবর্তী স্তরে সফল উত্তরণে সহায়তা করে সুখী জীবনকে করে।
(৩) এ কাজের ব্যর্থতা পরবর্তী স্তরের উত্তরণে আনে বাধা, জীবনে আনে অশান্তি।
বিকাশমূলক দুটি কাজ হলো:
(১) বিকাশমূলক কাজের মধ্যে থাকে শারীরিক পরিপক্কতা অনুযায়ী কাজ- হাটতে শেখা, খেলাধুলা ইত্যাদি।
(২) নিজের আগ্রহ, মূল্যবোধ অনুযায়ী কাজ- নিজের আগ্রহ, মূল্যবোধ ব্যক্তির ব্যক্তিত্বের একটি অংশ।
বিকাশমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণার সুবিধাগুলো হলো:
(১) বিকাশমূলক কার্যক্রম জানলে বয়স অনুযায়ী সঠিক আচরণ করা সহজ হয়।
(২) বাবা-মা বা শিশুর পরিচালককারী বয়সানুসারে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশ জানতে পারেন।
(৩) বিকাশমূলক কার্যক্রম সামাজিক প্রত্যাশা অনুযায়ী আচরণ করতে পূর্বপ্রস্তুতি ও প্রেরণা দেয়।
অতি শৈশব ও প্রারম্ভিক শৈশবের কয়েকটি বিকাশমূলক কাজ হলো-
(১) হাঁটতে শেখা ১২-১৫ মাসের মধ্যে শিশু হাঁটতে পারার শারীরিক যোগ্যতা অর্জন করে।
(২) কথা বলতে শেখা- শিশু ৬ মাসেসর মধ্যে অর্থহীন শব্দ করে। ৩ বছরে দুই বা তিন শব্দের বাক্য বলে এবং ৫ বছরের মধ্যে বহু শব্দের ব্যবহার পূর্ণ বাক্য বলে।
(১) সমবয়সীদের সাথে মিশে তারা সামাজিক আদান প্রদান ও ভালো কাজের প্রতিযোগিতা করতে শেখে।
(২) সাধারণত খেলাধুলার প্রয়োজনীয় শারীরিক দক্ষতা শেখা, ধরতে পারা, লাথি মারা ইত্যাদি কৌশলগুলো শেখার শারীরিক যোগ্যতা অর্জন করা।
বয়:সন্ধি বা কৈশোরের দুটি বিকাশমূলক কাজ হলো-
(১) উভয়লিঙ্গের সমবয়সীদের সাথে পরিণত আচরণ করতে পারা।
(২) বাবা-মা বা অন্যের উপর থেকে আবেগীয় নির্ভরশীলতা কমানো শৈশবের নির্ভরশীলতা বয়ঃসন্ধি কাল থেকেই কমতে থাকে। তারা আত্মনির্ভরশীল হয়। তাদের মধ্যে স্বাধীনতার চাহিদা থাকে।
শিশু জন্মসূত্রে তার বাবা-মা কিংবা পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে যে বৈশিষ্ট্য পেয়ে থাকে সেটাই বংশগতি। বংশগতি দিয়ে শিশু তার জীবন শুরু করে। বংশগতির কারণে মানুষের সন্তান মানুষের মতো দেখতে হয়, অন্যকোনো প্রাণীর মতো দেখতে হয় না।
বংশগতির সূচনা হয় মাতৃগর্ভ থেকে। বাবার শুক্রাণু ও মায়ের' ডিম্বানু নিষ্ক্রিয় হয়ে ভ্রূণ বা জীবকোষ তৈরি হয়। জীবকোষের প্রধান তিনটি অংশ হচ্ছে কোষপ্রাচীর, প্রটোপ্লাজম এবং নিউক্লিয়াস নিউক্লিয়াস হলো জীবকোষের প্রাণকেন্দ্র। প্রতিটি নিউক্লিয়াসে ২৩০০ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে।
জমজ শিশু দুই ধরনের হয়। সমকোষী জমজ এবং ভিন্নকোষী জমজ। যখন একটি জীবকোষ বা জাইগেট ভেঙে দুটি ভ্রুণে পরিণত হয়, তখন তারা একই লিঙ্গের হয় এবং একইরকম বৈশিষ্ট্যে অধিকারী হয়। এরাই সমকোষী জমজ।
অনেক সময় দেখা যায় মায়ের একাধিক ডিম্বাণু পরিপক্ক থাকে। এরূপক্ষেত্রে একাধিক শুক্রাণু একাধিক ডিম্বাণুর সাথে মিলিত - হয়ে জাইগোট গঠন করে এ ধরনের দুজনেই ছেলে বা দুজনেই মেয়ে-বা একটি ছেলে বা একটি মেয়ে হতে পারে। দুইয়ে বেশি জাইগোট তৈরি হলে সন্তান সংখ্যাও দুইয়ে অধিক হয়।
শিশুর বিকাশে জন্মপূর্ব পরিবেশ ও জন্ম পরবর্তী পরিবেশ দুটোই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মাতৃগর্ভে শিশু যে ৪০৯৯ সপ্তাহকাল অবস্থান করে সেটিই জন্মপূর্ব পরিবেশ। ভ্রুণ অবস্থায় মায়ের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার উপর শিশুর স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক গঠন ও বিকাশ নির্ভর করে। গর্ভবতী মায়ের পুষ্টিহীনতায় ভ্রুণ মস্তিষ্কের বৃদ্ধি ও বিকাশ ব্যাহত হয়।
জন্ম পরবর্তী পরিবেশ দুই ধরনের হয় প্রাকৃতিক ও সামাজিক পরিবেশ। আবহাওয়া, জলবায়ু নদনদী ইত্যাদি প্রাকৃতিক পরিবেশ। সমতল ভূমির একটি ছেলের চেয়ে পাহাড়ি এলাকার একটি ছেলের পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। সমতলের তুলনায় পাহাড়ি অঞ্চলের জীবন্ ধারণ করা অনেক কষ্টসাধ্য বলে ওই অঞ্চলের ছেলে মেয়েরা হয় কর্মঠ ও পরিশ্রমী।
সামাজিক পরিবেশের মধ্যে আছে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সংস্কৃতি ইত্যাদি। পরিবারের সদস্যদের স্নেহ-মমতা সঠিক পরিচালনা পদ্ধতি তার সুষ্ঠ বিকাশে সহায়তা করে। সহপাঠী, খেলার মাঠ, খেলার সাথি, প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন, সবার সহায়তায় শিশুব্ধ বিকাশের জন্য সহায়ক সামাজিক পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
শিশুর বিকাশে বংশগতি প্রভাব বেশি। শিশুর বিকাশ সম্পূর্ণরূপে বংশগতির উপর নির্ভরশীল। বংশগতিকে যারা গুরুত্ব দিয়ে.. থাকেন তাদের মতে, শিশু যে পরিবেশেই জন্মগ্রহণ করুক না কেন একমাত্র উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত বৈশিষ্ট্যবলি তার বিকাশকে প্রভাবিত করে। বুদ্ধিমান মা বাবার সন্তানেরা বেশিরভাগ বুদ্ধিমান হয়।
বংশগতি যাই হোক না কেন, যদি উপযুক্ত পরিবেশে রেখেও যথাযথ প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, তবে ব্যক্তির কাঙ্ক্ষিত বিকাশ সম্ভব। গ্ল্যাডিস ও হেলেন নামে দুজন যমজকে ১৮ মাস বয়সে ভিন্ন পরিবেশে পাঠানো হয়। হেলেন পড়াশোনার সুযোগ পেল অন্যজন পায়নি। ৩৫। বছর বয়সে তাদের গঠন, বেহারা, আচরণ মানসিক শক্তি বুদ্ধিমত্তা: - হেলেন গ্ল্যাডিস চেয়ে অনেক উন্নত।
Related Question
View Allপঁচিশ বছর বয়স পর্যন্ত মানবদেহে বর্ধন চলে।
সাধারণত মানব বিকাশের ৬৫ বছর থেকে মৃত্যু পর্যন্ত সময়কে বার্ধক্য বলে।
বার্ধক্যে ক্ষয়ের সূচনা হয়। শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতি হয়। ফলে আগের মতো শারীরিক ও মানসিক শক্তি থাকে না। এজন্য বার্ধক্যে ব্যক্তির কাজ করার ক্ষমতা কমে যায়।
রাফি বিকাশের বয়ঃসন্ধি বা কৈশোরকালে অবস্থান করছে। বয়ঃসন্ধিকাল (১১-১৮ বছর পর্যন্ত) হলো শৈশব থেকে প্রাপ্ত বয়সে যাওয়ার সময়। বয়ঃসন্ধিকালে প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তির মতো দেহের আকৃতি ও যৌন বৈশিষ্ট্য অর্জিত হয়। এ সময়ে মা-বাবা ও অন্যের ওপর থেকে ছেলেমেয়েদের নির্ভরশীলতা কমে আসে। এ সময় তারা প্রজনন ক্ষমতা অর্জন করে। তারা বিমূর্ত বিষয় (যে বিষয়গুলো দেখা যায় না। যেমন- সততা, স্নেহ-ভালোবাসা ইত্যাদি) নিয়ে চিন্তা করতে পারে। ভবিষ্যতে কে কোন পেশায় যাবে সে অনুযায়ী তারা পড়াশোনা করে। বয়ঃসন্ধিক্ষণে নিজস্ব লক্ষ্য ও মূল্যবোধ তৈরি হয়। এ বয়সে ছেলেমেয়েরা বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ অনুভব করে। এ সময় তারা নিজ চেহারার প্রতি মনোযোগী হয়। এছাড়া এ বয়সের একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো নৈতিকতা অর্জন (ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায় বোঝা) ও সামাজিক দায়িত্বপূর্ণ আচরণ (এলাকায় গাছ লাগানো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি ইত্যাদি) গ্রহণের আগ্রহ তৈরি হওয়া।
আমি মনে করি রাফি পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হয়ে উঠবে না। রাফি বৈমানিক হতে চায়। বৈমানিক হতে হলে বিজ্ঞানের ওপর দক্ষতা থাকা জরুরি। কিন্তু তার মা তাকে পছন্দমতো পড়তে দেন না। এছাড়া বেঁধে দেওয়া সময় অনুযায়ী তাকে খেলতে দেন। যা তার বিকাশে বাধা হয়ে উঠতে পারে।
কৈশোরকালীন সময়ে ছেলেমেয়েরা আত্মনির্ভরশীল হতে পছন্দ করে এবং এটি হলো পরিপূর্ণ বিকাশের সময়। তাদের মধ্যে স্বাধীনভাবে কাজ করার চাহিদা থাকে। তারা বন্ধুদের সাথে মিশে সংঘবদ্ধভাবে কাজ করতে চায়। পরিবার ও সমাজের প্রেক্ষিতে তারা ভালো-মন্দ, ন্যায়- অন্যায় বোঝা শুরু করে এবং তাদের নিজস্ব লক্ষ্য ও মূল্যবোধ তৈরি হয়। তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী পেশার চিন্তা করে ও সে অনুযায়ী পড়াশোনা করে। কিন্তু এ সময় পিতামাতা বাধা দিলে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। অনেক সময় পরিবার থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করে খারাপ বন্ধুদের সাথে মেশার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। ফলে শারীরিক, সামাজিক, মানসিক ও নৈতিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়।
তাই আমি মনে করি, এরূপ পরিবেশে থাকলে রাফির পরিপূর্ণ বিকাশ হবে না।
জনমানব জীবকোষের নিউক্লিয়াসে ২৩ জোড়া বা ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকে।
বিকাশ মূলত শিশুর গুণগত পরিবর্তন।
শিশুর বিকাশ বলতে দৈহিক আকার-আয়তনসহ আচরণ, দক্ষতা ও কার্যক্ষমতার পরিবর্তনকে বোঝায়। শিশুর মধ্যে এ পরিবর্তন অভিজ্ঞতা ও পরিপক্বতার মাধ্যমে অর্জিত হয়। বিকাশ মৃত্যু পর্যন্ত চলমান।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!