ব্যবসায় ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের প্রতিচ্ছবি হলো পরিকল্পনা। এতে ব্যবসায়ের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য, প্রকৃতি, ব্যবস্থাপনার ধারা, অর্থায়নের উপায়, বর্তমান অবস্থা ও ভবষ্যৎ উন্নয়নে সম্পূর্ণ চিত্র তুলে ধরা হয়। ব্যবসায় কোন দিকে সম্প্রসারিত হবে ও কীভাবে ব্যবসায়ে সাফল্য অর্জন করা। যাবে তার সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ব্যবসায় পরিকল্পনায় পাওয়া যায়। তাই পরিকল্পনাকে ব্যবসায়ের ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের প্রতিচ্ছবি বলা হয়
ব্যবসায় পরিকল্পনা হলো ভবিষ্যৎ পালনীয় কর্মপন্থার একটি মানসিক প্রতিচ্ছবি। এটি একটি লিখিত দলিল যার মধ্যে ব্যবসায়ের লক্ষ্য, প্রকৃতি, ব্যবস্থাপনার ধারা, অর্থায়নের উপায়, বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের সম্পূর্ণ চিত্র তুলে ধরা হয়। কোন ব্যবসায় কোন দিকে অগ্রসর হবে ও কীভাবে ব্যবসায়ের সাফল্য অর্জন করা যাবে তার সুনির্দিষ্ট দিক-নির্দেশনা ব্যবসায় পরিকল্পনায় পাওয়া যায়। ব্যবসায় পরিকল্পনা একজন ব্যবসায়ীকে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে।
পরিকল্পনায় ব্যবসায়ের লক্ষ্য, প্রকৃতি, ব্যবস্থাপনার ধারা, অর্থায়ন উপায় বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য উন্নয়নের সম্পূর্ণ চিত্র তুলে ধরা হয়। যা ব্যবসায় কোন দিকে সম্প্রসারিত হবে এবং কীভাবে ব্যবসায়ে সাফল্য অর্জন করা যাবে তার দিকনির্দেশনা পরিকল্পনায় থাকে। এ দিকনির্দেশনা ব্যবসায়ীকে কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌছাতে সাহায্য করে।
প্রতিটি ব্যবসায়ে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকে। এর ওপর ভিত্তি করে ব্যবসায় কাজ পরিচালনা করা হয়। আর লক্ষ্য অর্জনের প্রয়োজনে। পরিকল্পনা অনুসারে ব্যবসায়ের কাজ করা হয়। এজন্য প্রথমেই ব্যবসায়ের লক্ষ্যে নির্ধারণ করতে হয়।
এটি একটি লিখিত দলিল। এ দলিলে ব্যবসায়ের ভবিষ্যৎ লক্ষ্য, প্রকৃতি, অর্থায়নের উপায়, বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের সম্পূর্ণ চিত্র তুলে ধরা হয়। ব্যবসায় কোন দিকে সম্প্রসারিত হবে ও কীভাবে ব্যবসায়ে সাফল্য আসবে, তার সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ব্যবসায় পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত থাকে। এজন্য ব্যবসায় পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
কোনো একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রণীত পরিকল্পিত ও সুচিন্তিত কর্ম পদ্ধতিকে প্রকল্প বলে। ব্যবসায়ের সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করে সঠিক প্রকল্প নির্বাচনের উপর। প্রকল্প একটি নির্দিষ্ট সময়ে শুরু হয়ে পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পরিসমাপ্ত হয়। একটি প্রকল্প হতে পারে সম্পূর্ণ নতুন বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত অথবা পুরাতন ব্যবসায়ের সম্প্রসারণ।
একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোনো লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য নেওয়া কার্যপদ্ধতি হলো প্রকল্প। প্রকল্পের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো- (১) নির্দিষ্ট লক্ষ্য, (২) বাস্তবায়নের সময়, (৩) সম্ভাব্যতা যাচাই, (৪) সুনির্দিষ্ট নিয়ম-নীতি, (৫) চলমান প্রক্রিয়া ও (৬) উপকরণের সমন্বয়।
একজন সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তার প্রকল্প চিহ্নিতকরণ প্রক্রিয়ার সূত্রপাত হয় তার প্রকল্প ধারণা অনুভব করার সময় থেকেই। প্রকল্প ধারণা চিহ্নিত করার সময় উদ্যোক্তার নিজের শখ বা আগ্রহ আছে এমন পণ্য, প্রকৃত চাহিদা আছে এমন পণ্য, বিদ্যমান পণ্যের অসুবিধা, নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ ইত্যাদি দিকে দৃষ্টি রাখা প্রয়োজন। নতুন প্রকল্প ধারণাগুলোর উৎসসমূহ হলো সাধারণত নিজের কল্পনা, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রকাশনা, অর্থনৈতিক ও শিল্প জরিপ প্রতিবেদন, গবেষণামূলক প্রতিবেদন ইত্যাদি।
প্রকল্প ধারণার একাধিক উৎস রয়েছে, তন্মধ্যে দুটি উৎস নিচে আলোচনা করা হলো-
১. উৎপাদন ও ব্যবসায় তথ্য: আমদানি ও রপ্তানি হল বিদ্যমান শিল্পের উৎপাদন ক্ষমতা ও তার ব্যবহার সংক্রান্ত পরিসংখ্যান আমদানি ও রপ্তানি বিভিন্ন শিল্পের লাভজনক তথ্য, বর্তমান শিল্পের উৎপাদন ক্ষমতা ব্যবহার, বহুবিভাজনের সম্ভাব্যতা, ব্যাকওয়ার্ড ও ফরওয়ার্ড লিংকেজ ইত্যাদি সংক্রান্ত পরিসংখ্যান নতুন প্রকল্পের সম্ভাব্যতা নির্দেশ করতে পারে।
২. দাম তথ্য: কোনো উৎপাদিত দ্রব্যের দাম বিরামহীনভাবে বৃদ্ধির প্রধান কারণ হতে পারে যে ঐ দ্রব্যের যোগানের তুলনায় চাহিদার পরিমাণ বেশি।
একটি নির্দিষ্ট সময় কোনো লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য নেওয়া কার্যপদ্ধতি হলো প্রকল্প। প্রকল্প বাছাইয়ের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করেন। এরপর কয়েকটি সম্ভাব্য ধারণা চিহ্নিত করে তিনি একটি তালিকা তৈরি করেন। এ তালিকাবদ্ধ ধারণাগুলো বিভিন্ন পদ্ধতির মাধ্যমে মূল্যায়ন করে উদ্যোক্তা ব্যবসায় প্রকল্প নির্বাচন করেন।
সুষ্ঠু পরিকল্পনার ওপর প্রকল্পের বাস্তবায়ন নির্ভর করে। একটি প্রকল্প প্রণয়নের সময় কার্যকরভাবে পরিকল্পনা নিতে হয়। এটি অনুযায়ী ধারাবাহিকভাবে প্রয়োজনীয় কাজ এগিয়ে নেওয়া গেলে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন সহজ হয়। ফলে সঠিক সময়ে সঠিক পরিকল্পনা নেওয়ার ওপর প্রকল্পের বাস্তবায়ন নির্ভর করে।
ব্যবসায় প্রকল্প প্রণয়নের প্রথম পদক্ষেপ হলো 'প্রকল্প ধারণা চিহ্নিতকরণ'। সাধারণত পণ্য বা সেবাসামগ্রীর চাহিদা থেকে প্রকল্প ধারণার সৃষ্টি হয়। উদ্যোক্তা তার পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে পণ্য বা সেবার চাহিদা সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন। প্রকল্প ধারণা | চিহ্নিত করার সময় উদ্যোক্তার আগ্রহ আছে এমন পণ্য নির্বাচন করতে | হয়। এছাড়া প্রকৃত চাহিদা আছে এমন পণ্য, বিদ্যমান পণ্যের অসুবিধা প্রভৃতি বিবেচনা করতে হয়।
আনুমানিক লাভ ব্যষ্টিক নির্বাচনের বাণিজ্যিক দিকে আলোচিত হয়। কোনো প্রকল্প ধারণা নির্বাচনের আগে এর বাণিজ্যিক দিক যাচাই করতে হয়। এক্ষেত্রে পণ্য উৎপাদন খরচ, বিক্রয়মূল্য, আনুমানিক লাভপ্রভৃতি বাণিজ্যিক দিক সতর্কতার সাথে বিবেচনা করতে হয়। আর উৎপাদন খরচ বা বিক্রয়মূল্য প্রতিযোগী পণ্যের চেয়ে বেশি হলে অথবা আনুমানিক লাভ কম হলে প্রকল্পটি বাদ দেওয়া হয়।
একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রণীত, পরিকল্পিত ও সুচিন্তিত কর্মপদ্ধতি হলো প্রকল্প। আর্থিক দিক যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকল্পের ব্যয় নিরূপণ ও অর্থায়নের উপায় সম্পর্কে জানা যায়। এছাড়া মূলধন বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত সম্ভাব্য লাভও আর্থিক দিক যাচাইয়ের মাধ্যমে জানা সহজ হয়। এসব কারণে প্রকল্পের আর্থিক দিক যাচাই করা হয়।
সঠিক প্রকল্প নির্বাচনের উদ্দেশ্যে প্রকল্পে বাজারজাতকরণ দিক যাচাই করা হয়। উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা না থাকেল কোনো প্রকল্পই সফল হয় না। তাই বাজার জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে কোনো পণ্যের চাহিদা আছে কি না, বাজারে প্রতিযোগীদের সংখ্যা, পণ্য বিতরণের সুযোগ-সুবিধা প্রভৃতি যাচাই করা হয়।
সঠিক প্রকল্প নির্বাচনের উদ্দেশ্যে প্রকল্পে বাজারজাতকরণ দিক যাচাই করা হয়। উৎপাদিত পণ্যের চাহিদা না থাকেল কোনো প্রকল্পই সফল হয় না। তাই বাজার জরিপ পরিচালনার মাধ্যমে কোনো পণ্যের চাহিদা আছে কি না, বাজারে প্রতিযোগীদের সংখ্যা, পণ্য বিতরণের সুযোগ-সুবিধা প্রভৃতি যাচাই করা হয়।
ব্যবসায়ের যান্ত্রিক দিক বলতে মূলত কারিগরি দিককে বোঝায়। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কীরূপ যন্ত্র ব্যবহার করা হবে, কী ধরনের প্রযুক্তি নির্ধারণ করা হবে ও তার ব্যয় কেমন হবে প্রভৃতি বিষয় নিয়ে ব্যবসায়ের যান্ত্রিক দিক আলোচনা করে। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সঠিকভাবে যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা গেলে প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজ হয়।
পণ্য বা সেবাসামগ্রীর চাহিদা প্রকল্প ধারণার জন্ম দেয়। পণ্যের ধারণা থেকেই প্রকল্পের সূত্রপাত হয়। এজন্য প্রকল্প ধারণা চিহ্নিতকরণের সময় উদ্যোক্তাকে বেশ কিছু বিষয় বিবেচনা করতে হয়। যেমন: উদ্যোক্তার নিজের শখ বা আগ্রহ আছে এমন পণ্য, প্রকৃত চাহিদা আছে এমন পণ্য, বিদ্যমান পণ্যের অসুবিধা, নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ ইত্যাদি বিষয় উদ্যোক্তাকে বিবেচনা করতে হয়। নতুন প্রকল্প ধারণার উৎসগুলো হলো: নিজের কল্পনা, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রকাশনা, অর্থনৈতিক ও শিল্প জরিপ প্রতিবেদন, গবেষণামূলক প্রতিবেদন ইত্যাদি।
নতুন পণ্য সরবরাহের উদ্দেশ্যে একজন উদ্যোক্তার নেওয়া ব্যবসায় প্রকল্প হলো পণ্য ধারণা। এ পণ্য ধারণা ব্যবসায়িক পরিবেশের ওপর নির্ভরশীল। উদ্যোক্তা তার পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে কোনো পণ্য বা সেবার চাহিদা সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারেন। এ চাহিদার ওপর নির্ভর করে তিনি প্রকল্প নির্বাচন করেন।
ম্যাক্রোস্ক্রিনিং হলো এমন একটি পদ্ধতি যা কতকগুলো প্রভাবক বা উপাদানের ভিত্তিতে ব্যবসায়ের ধারণাগুলো মূল্যায়ন করে একটি প্রকল্প ধারণা নির্বাচন করতে সহায়তা করে। এসকল উপাদানগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো জনসংখ্যা, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও আইনগত পরিবেশ। উক্ত উপাদানগুলো ব্যবসায়ের কার্যক্রম পরিচালনায় কম-বেশি প্রভাববিস্তার করে থাকে।
ম্যাক্রো পরিবেশের উপাদানগুলোর মধ্যে সংক্ষেপে দুটি উপাদান তুলে ধরা হলো-
জনসংখ্যা বিষয়ক: একটি ব্যবসায় কত ভালোভাবে চলবে তা অনেকাংশে নির্ভর করে ঐ দেশের বা ঐ বাজার এলাকার জনগোষ্ঠীর ওপর।
অর্থনৈতিক পরিবেশ একটি এলাকার অর্থনৈতিক পরিবেশ বিশ্লেষণ
করে ঐ এলাকার অর্থনৈতিক অবস্থা বর্তমান ও ভবিষ্যতে কী হতে পারে তা নিরূপণ করতে হবে।
ম্যাক্রোস্ক্রিনিং-এর প্রভাবকগুলো নিম্নরূপ:
- জনসংখ্যা
- অর্থনৈতিক পরিবেশ
- প্রাকৃতিক পরিবেশ
- রাজনৈতিক পরিবেশ
- সাংস্কৃতিক পরিবেশ এবং
- আইনগত পরিবেশ।
যে পদ্ধতির মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে প্রকল্প নির্বাচন করা হয় তাকে মাইক্রোস্ক্রিনিং বলে। মাইক্রোস্ক্রিনিং হলো বাজার চাহিদা, কারিগরি,-বাণিজ্যিক ও আর্থিক দিক এবং জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান ইত্যাদি দিক বিবেচনা করে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই করার একটি বিস্তারিত প্রক্রিয়া। ব্যবসায়ের স্বার্থে এ সকল বিষয়গুলো খুব সতর্কতার সাথে বিবেচনা করতে হয়।
ম্যাক্রোস্ক্রিনিং ও মাইক্রোস্ক্রিনিং এর মধ্যে দুটি পার্থক্য নিম্নে উল্লেখ করা হলো
পার্থক্যের বিষয় | ম্যাক্রোস্ক্রিনিং | মাইক্রোস্ক্রিনিং |
সংজ্ঞা | ব্যবসায়ের ধারণাগুলো মূল্যায়ন করে প্রকল্প ধারণা নির্বাচন করার প্রক্রিয়াকে ম্যাক্রোস্ক্রিনিং বলে। | যে পদ্ধতির মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে প্রকল্প নির্বাচন করা হয় তাকে মাইক্রোস্ক্রিনিং বলে। |
নির্বাচন প্রকল্প | ম্যাক্রোস্ক্রিনিং প্রকল্প নির্বাচনের প্রাথমিক পদক্ষেপ। | ম্যাক্রোস্ক্রিনিং প্রকল্প নির্বাচনের প্রাথমিক পদক্ষেপ। |
মাইক্রোস্ক্রিনিং-এর প্রভাবকগুলো নিম্নরূপ:
- বাজার চাহিদা
- কারিগরি দিক
- বাণিজ্যিক দিক.
- আর্থিক দিক এবং
- জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান।
প্রকল্পের কারিগরি দিক যাচাই মাইক্রোস্ক্রিনিং-এর অন্যতয়, উপাদান। প্রকল্পের কারিগরি দিক যাচাই করা হয় প্রযুক্তিগত ও যান্ত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে। এ ধরনের কাজের মধ্যে রয়েছে উৎপাদন প্রক্রিয়া, প্রযুক্তি নির্ধারণ, যন্ত্রপাতি নির্বাচন, প্রয়োজনীয় কাঁচামালের প্রাপ্যতা, দক্ষ শ্রমিকের সহজলভ্যতা, প্রকল্প বাস্তবায়নের সহজসাধ্যতা প্রভৃতি পরীক্ষা করা।
নিচে পণ্য নির্বাচন ও প্রকল্প নির্বাচনের মধ্যকার দুটি পার্থক্য, দেওয়া হলো-
নির্বাচন | প্রকল্প নির্বাচন |
বাজার জরিপের মাধ্যমে পণ্য নির্বাচন করা হয়। | সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকে মাইক্রোস্ক্রিনিং-এর মাধ্যমে প্রকল্প নির্বাচন করা হয়। |
পণ্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে বাজার জরিপ সাধারণত ভোক্তার বা গ্রাহকের পণ্যের চাহিদার ওপর করা হয়।। | প্রকল্প নির্বাচনের ক্ষেত্রে উদ্যোক্তা সম্ভাব্য প্রকল্পের একটি তালিকা প্রস্তুত করে তা থেকে নির্বাচন করেন। |
প্রকল্প প্রতিবেদন বলতে প্রকল্প সম্পর্কিত বিবরণী পেশ করাকে বোঝায়। এতে নির্বাচিত প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের তথ্য থেকে শুরু করে সব বিষয় লিখিতভাবে উপস্থাপন করা হয়। প্রকল্প - প্রতিবেদন থেকে প্রকল্প সম্পর্কিত আর্থিক ও অনার্থিক বিষয় জানা যায়।
পরিকল্পনা হলো ভবিষ্যতে কী করতে হবে তার আগাম কর্মসূচি। পরিকল্পনা করার সময় মনে রাখতে হবে তা যেন বাস্তবসম্মত হয়। এতে কোনো অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা তুলে ধরা যাবে না। ব্যবসায় পরিকল্পনা সংক্ষিপ্ত হলে কর্মীরা তা বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে।
পরিকল্পনা তৈরির সময় সঠিক তথ্য লিপিবদ্ধ করতে হয়। কারন, তথ্য অস্পষ্ট হলে পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই পরিকল্পনা প্রণয়নের সময় স্পষ্ট তথ্য লিখতে হবে। এতে কর্মীরা পরিকল্পনার বিষয় সহজে অনুসরণ করে কাজে সফলতা আনতে পারে।
পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে দিক-নির্দেশনা পাওয়া যায়। কিন্তু পরিকল্পনা সঠিক ও দক্ষ না হলে তা লক্ষ্য অর্জনকে ব্যাহত করতে পারে। কতিপয় সীমাবদ্ধতা পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে প্রভাব সৃষ্টি করে। পরিকল্পনার তথ্যাবলি সঠিক ও নির্ভুল না হলে সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন সম্ভব হয় না। পরিকল্পনা 'সঠিক পূর্বাভাসের ওপর নির্ভরশীল। পূর্বাভাস সবসময় ঠিক হয় না বলে পরিকল্পনাও সঠিক হয় না। তাছাড়া অনিশ্চয়তা, সময়সাপেক্ষ, ব্যয়সাপেক্ষ, দক্ষতার অভাব, অনমনীয়তা, সংশোধনে সমস্যা প্রভৃতি পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতা হিসেবে গণ্য হয়।
যে বিবরণীতে নির্দিষ্ট সময়ে কী পরিমাণ নগদ অর্থ আসছে এবং কী পরিমাণ নগদ অর্থ ব্যয় হচ্ছে তা সংরক্ষণ করা হয় তাকে প্রাক্কলিত নগদ প্রবাহ বিবরণী বলে। সুষ্ঠুভাবে ব্যবসায় পরিচালনা করার জন্য উদ্যোক্তার নগদান প্রবাহ বিবরণী প্রাক্কলন করা প্রয়োজন। এই বিবরণী দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক ভিত্তিতে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। এই বিবরণীর মাধ্যমে উদ্যোক্তা তার ব্যবস্ময়ের নগদের প্রকৃত অবস্থা জানতে পারে।
প্রাক্কলিত আর্থিক বিবরণীর সংযুক্তিগুলো নিম্নরূপ:
১. মোট প্রকল্প ব্যয়
২. প্রাক্কলিত আয়
৩. প্রাক্কলিত ব্যয়সমূহ
৪. প্রাক্কলিত আয়-ব্যয় বিবরণী
৫. প্রাক্কলিত উদ্বৃত্তপত্র
৬. প্রাক্কলিত নগদান প্রবাহ বিবরণী
৭. সম-আয়-ব্যয় বিবরণী
ব্যবসায়ের দৈনন্দিন কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য যে মূলধনের প্রয়োজন হয় তাকে চলতি মূলধন বলে। চলতি মূলধনের মেয়াদ সাধারণত এক বছর হয়ে থাকে। এ ধরনের মূলধনের দ্বারা কোনো ধরনের স্থায়ী সম্পত্তি অর্জন বা ক্রয় করা যায় না। সাধারণত ব্যবসায়িক দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য এ ধরনের মূলধনের প্রয়োজন হয়। কাঁচামাল ক্রয়, মজুরি প্রদান, ভাড়া ও পরিবহন খরচ, বিদ্যুৎ খরচ, কর্মচারীর বেতন প্রভৃতি চলতি মূলধনের উদাহরণ।
স্থায়ী ব্যয় নির্বাহের জন্য ব্যবসায়ে যে মূলধনের প্রয়োজন হয় তাকে স্থায়ী মূলধন বলে। যেমন: মেশিন ক্রয়, ব্যবসায়ের দালানকোঠা নির্মাণ ইত্যাদির জন্য প্রয়োজন হয় স্থায়ী মূলধন।
মুনাফা অর্জনের জন্য প্রত্যেক ব্যবসায়ীর উচিত তার ব্যবসায়ের জন্য একটি মুনাফা পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নের সর্বাত্মক চেষ্টা করা। পরিকল্পনাবিহীনভাবে ব্যবসায় চালালে ব্যবসায়ের কাঙ্ক্ষিত মুনাফা অর্জন সম্ভব হতে পারে আবার নাও হতে পারে। তাই ব্যবসায়ের অভীষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য মুনাফা পরিকল্পনা প্রণয়নের গুরুত্ব অপরিসীম।
যে বিন্দুতে পণ্য বিক্রয় করলে আয়-ব্যয় সমান হয় তাকে সমআয়-ব্যয় বিন্দু বলে। একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান কী পরিমাণ পণ্য বিক্রি করলে লাভ-লোকসান হবে না, তা সম আয়-ব্যয় বিন্দু নির্ণয়ের সাহায্যে জানা যায়। সমআয়-ব্যয় বিন্দু জানা থাকলে কাঙ্ক্ষিত মুনাফা অর্জনের আশায় পণ্যের সঠিক মূল্য নির্ধারণ, বিক্রয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি, মুনাফা পরিকল্পনা প্রণয়ন ও মুনাফা বৃদ্ধির কার্যক্রম গ্রহণ করা যায়। এজন্যই ব্যবসায়ে সমআয়-ব্যয় বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
ব্যবসায় সক্ষমতা যাচাই একটি জটিল বিষয়। যেকোনো ব্যক্তির ব্যবসায় শুরু করার পূর্বে তার ব্যবসা করার সক্ষমতা আছে কিনা যাচাই করা প্রয়োজন। এর প্রধান কারণ হলো ব্যবসায়ে সাফল্য লাভ যা অকৃতকার্য হওয়ার ঝুঁকি আছে। ফলে ব্যবসায় শুরু করার পূর্বে সক্ষমতা যাচাই করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। ব্যবসায়ের সক্ষমতা যাচাই করলে একজন নতুন উদ্যোক্তা অনুধাবন করতে পারবে তার মধ্যে উদ্যোক্তা হওয়ার গুণাবলি আছে কিনা।
উদ্যোক্তার নিজের সক্ষমতা যাচাই করার জন্য ব্যবহৃত পদ্ধতি হলো আত্মবিশ্লেষণ। ব্যবসায়ে সাফল্য লাভ বা অকৃতকার্য হওয়ার সাথে ঝুঁকি জড়িত। তাই উদ্যোক্তা নিজেকে বিভিন্ন প্রশ্নের মাধ্যমে উদ্যোগ নিতে কতটা সক্ষম তা যাচাই করতে পারেন। নিজেকে বিশ্লেষণের এ পদ্ধতির নাম আত্মবিশ্লেষণ পদ্ধতি
ব্যবসায় শুরু করার ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তি বা উদ্যোক্তার নিজ সক্ষমতা যাচাই করার পদ্ধতি হলো আত্মবিশ্লেষণ। ব্যবসায়ের সাফল্য নির্ভর করে সঠিক প্রকল্প নির্বাচনের ওপর। এজন্য প্রথমেই উদ্যোক্তার সক্ষমতা যাচাই করতে হয়। এক্ষেত্রে উদ্যোক্তা সম্পর্কিত কতগুলো প্রশ্ন নির্ধারণ করা হয়। উদ্যোক্তা, হাঁ-না এর মাধ্যমে প্রশ্নের উত্তর দেন। এতে প্রকল্প নির্বাচনে উদ্যোক্তার মানসিক অবস্থা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
ব্যবসায় উদ্যোক্তার সক্ষমতা, গুণ বা কর্মদক্ষতা যাচাইয়ের প্রকিয়া হলো আত্মবিশ্লেষণ পদ্ধতি। আত্মবিশ্লেষণের জন্য উদ্যোক্তা সম্পর্কিত কতগুলো প্রশ্ন নির্ধারণ করা হয়। উদ্যোক্তা হ্যাঁ-না এর মাধ্যমে প্রশ্নগুলোর উত্তর দেন। এর মাধ্যমে উদ্যোক্তার মানসিক প্রস্তুতি সম্পর্কে জানা যায়। এজন্য ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে আত্মবিশ্লেষণ পদ্ধতির প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
ব্যবসায়ের প্রধান উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবসায় কার্যক্রম পরিচালনা করলে সাফল্য সহজতর হয় এবং ব্যর্থ হবার সম্ভাবনা কমে আসে। অনেকে উৎসাহের সাথে ব্যবসায় শুরু করলেও সুষ্ঠু ব্যবসায় পরিকল্পনার অভাবে অনেক সময় সফল হতে পারে না। এ অধ্যায়ে আমরা মূলত ব্যবসায় পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করব।

এ অধ্যায় শেষে আমরা-
- ব্যবসায় পরিকল্পনার ধারণা ও গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব।
- ব্যবসায় পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে পারব।
- প্রকল্প পরিকল্পনার ধারণা ও গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব।
- প্রকল্প প্রণয়নের ধাপগুলো বর্ণনা করতে পারব।
- ব্যবসায় উদ্যোগ গ্রহণের বাছাই পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে সঠিক ব্যবসায়টি নির্বাচন করতে পারব।
- প্রকল্প পরিকল্পনার কাঠামো ছক তৈরি করতে পারব।
- আত্ম-বিশ্লেষণের ধারণা ও প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- আত্ম-বিশ্লেষণ পদ্ধতিটি ধারাবাহিকভাবে বর্ণনা করতে পারব।
Related Question
View Allপণ্যের বাজার চাহিদা জানার উপায়কে বাজার জরিপ বলে।
ব্যবসায়ের যান্ত্রিক দিক বলতে মূলত কারিগরি দিককে বোঝায়।
প্রযুক্তিগত ও যান্ত্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রকল্পের কারিগরি দিক যাচাই করা হয়। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় কীরূপ যন্ত্র ব্যবহার করা হবে, কী ধরনের প্রযুক্তি নির্ধারণ করা হবে ও তার ব্যয় কেমন হবে প্রভৃতি বিষয় নিয়ে ব্যবসায়ের যান্ত্রিক দিক আলোচনা করে। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সঠিকভাবে যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা গেলে প্রকল্প বাস্তবায়ন সহজ হয়।
জনাব আরিফদের প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থায়ী ও চলতি মূলধন সংগ্রহ করা প্রয়োজন।
স্থায়ীভাবে বা দীর্ঘদিন কোনো সম্পত্তি ব্যবহার করার জন্য স্থায়ী মূলধনের প্রয়োজন হয়। এ জাতীয় খরচ ব্যবসায় শুরুর সময়ে করতে হয়। আর চলতি মূলধনের মাধ্যমে ব্যবসায়ের দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা করা হয়।
প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য উভয় ধরনের মূলধন আবশ্যক।
উদ্দীপকের জনাব আরিফ কয়েকজন বন্ধুকে সাথে নিয়ে একটি সিমেন্ট ফ্যাক্টরি স্থাপনের প্রকল্প নেন। প্রাথমিক ব্যয় নির্বাহের জন্য যথেষ্ট অর্থ
না থাকায় তারা মূলধন সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নেন। সাধারণত জমি, দালান, আসবাবপত্র কেনার জন্য প্রাথমিক ব্যয় নির্বাহ করতে হয়। প্রকল্প প্রণয়নের শুরুতেই এই ব্যয় নির্বাহ করতে হয়। আবার প্রকল্প চালু
হওয়ার পর উৎপাদন কাজ চালু রাখার জন্য প্রতিনিয়ত কাঁচামাল ক্রয়, অফিস পরিচালনা ও শ্রমিকদের মজুরি দেওয়ার জন্যও অর্থের প্রয়োজন। এই ব্যয়গুলোর জন্য চলতি মূলধনের প্রয়োজন হয়। তাই বলা যায়, প্রকল্প বাস্তবায়নে জনাব আরিফদের স্থায়ী ও চলতি দুই ধরনের মূলধনই প্রয়োজন।
জনাব আরিফ ও তার বন্ধুরা ব্যবসায়ের প্রকল্প প্রণয়নে যথার্থ পথ অনুসরণ করেছেন-এ বিষয়ে আমি একমত।
একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো প্রকল্পের লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পিত ও সুচিন্তিত পদ্ধতিতে কাজ করা হয়। ব্যবসায় প্রকল্প নেওয়ার প্রথমে পণ্য বা সেবা সামগ্রীর চাহিদা নির্ধারণ করতে হয়। এরপর এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি, লাভ-ক্ষতির দিক নির্ণয় করতে হয়।
উদ্দীপকের জনাব আরিফ ও তার বন্ধুরা নির্মাণ ও হাউজিং শিল্পের ব্যাপক চাহিদা বিবেচনা করে একটি সিমেন্ট ফ্যাক্টরি স্থাপনের প্রকল্প নেন। তারা প্রকল্প নেওয়ার আগে পুরো কর্মকাণ্ডের দীর্ঘমেয়াদি একটি ছক তৈরি করেন। ছকে তারা প্রকল্পের পণ্যের বাজার চাহিদা, বাণিজ্যিক ও আর্থিক দিক প্রভৃতি তুলে ধরেন। ছকটির মাধ্যমে পুরো প্রকল্পটির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা যায়। তাই আমি মনে করি, জনাব আরিফ ও তার বন্ধুরা প্রকল্প প্রণয়নে যথাযথ পথ অনুসরণ করেছেন।
শিল্পের কাঁচামাল প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে আসে।
ব্যবসায়ের দৈনন্দিন কাজ সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় মূলধন হলো চলতি মূলধন।
এ ধরনের মূলধনের মেয়াদ এক বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে। এ মূলধনের সাহায্যে কোনো স্থায়ী সম্পত্তি অর্জন করা বা কেনা যায় না। সাধারণত ব্যবসায়িক কাজ চালু রাখার জন্য এ মূলধনের প্রয়োজন হয়। কাঁচামাল কেনা, মজুবি দেওয়া, ভাড়া ও পরিবহন খরচ প্রভৃতি হলো চলতি মূলধনের উদাহরণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!