পলাশি যুদ্ধের এক'শ বছর পর ভারতের উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে প্রধান সিপাহিদের নেতৃত্বে ১৮৫৭ সালে যে সশস্ত্র বিদ্রোহ সংঘটিত হয়, তাকেই ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়। ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শোষণের বিরুদ্ধে এটি ছিল ভারতের প্রথম স্বাধীনতার সংগ্রাম।
ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কর্তৃক দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক শোষণ, সামরিক বৈষম্য, সামাজিকভাবে হেয় করা, সর্বোপরি ভারতীয় সৈনিকদের প্রতি বৈষম্যলুক আচরণ এসবই ১৮৫৭ সালের সংগ্রামের প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শোষণের বিরুদ্ধে এটি ছিল ভারতের প্রথম স্বাধীনতার সংগ্রাম।
পলাশি যুদ্ধের পর থেকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির রাজ্য বিস্তার, একের পর এক ভারতের রাজ্যগুলো দখল, দেশীয় রাজন্যবর্গের মধ্যে ভীতি, অসন্তোষ ও তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়। লর্ড ডালহৌসি স্বত্ববিলোপ নীতি প্রয়োগ করে সাতারা, ঝাঁসি, নাগপুর, সম্বলপুর, ভগৎ, উদয়পুর, করাউলি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করেন। যা ভারতের তৎকালীন দেশীয় রাজন্যবর্গকে ক্ষুব্ধ করে।
ইংরেজ কোম্পানি কর্তৃক অপুত্রক রাজার রাজত্বের উত্তরাধিকারী। নির্বাচনের প্রথা বাতিল হলো স্বত্ববিলোপ নীতি। স্বত্ববিলোপ নীতির প্রবা হচ্ছেন লর্ড ডালহৌসি। স্বত্ববিলোপ নীতি অনুযায়ী দত্তকপুত্র কোনো শাসকের ক্ষমতা ও সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতে পারতো না।
স্বত্ববিলোপ নীতি অনুযায়ী দত্তকপুত্র কোনো শাসকের ক্ষমতা ও সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হতে পারতো না। এ নীতির প্রয়োগ করে ডালহৌসি সাতারা, ঝাঁসি, নাগপুর, সম্বলপুর, ভগৎ, উদয়পুর ও করাউলী ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করেন। ব্রিটিশদের অনুগত মিত্র অযোধ্যার নবাবও এ আগ্রাসান থেকে রক্ষা পাননি।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন প্রতিষ্ঠার পর শুরু হয় চরম অর্থনৈতিক শোষণ বঞ্চনা। কোম্পানি রাজনৈতিক ক্ষমতা অধিকারের আগেই এতদঞ্চলের শিল্প ধ্বংস করেছিল। ক্ষমতা দখলের পর ভূমি রাজস্ব নীতির নামে ধ্বংস করা হয় দরিদ্র কৃষকের অর্থনৈতিক মেরুদন্ড। আইন প্রয়োগের ফলে অনেক জমিদারও সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে - ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
ভারতীয় উপমহাদেশের জনগণের ক্ষোভের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ ছিল সামাজিক। ইংরেজরা তাদের জমিদারি প্রথায় আগের মতোই সিংহভাগ উচ্চ বর্ণের হিন্দুদেরই সম্পৃক্ত করে। মুসলমান. ও নিম্ন বর্ণের হিন্দুরা অমানবিক বৃঞ্চনার অভিজ্ঞতা থেকে হিন্দু জমিদারদের প্রতি যেমন, তেমনি ইংরেজদের সম্বন্ধেও বৈরিতা অনুভব করে।
সিপাহি বিদ্রোহের প্রত্যক্ষ কারণ ছিল ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত। হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের সিপাহিদের ব্যবহারের জন্য 'এনফিল্ড' রাইফেলের প্রচলন করা হয়। এই রাইফেলের টোটা দাঁত দিয়ে কেটে বন্দুকে প্রবেশ করাতে হতো। সৈন্যদের মধ্যে ব্যাপকভাবে এ কথা ছড়িয়ে পড়ল যে, এই টোটায় গরু ও শূকরের চর্বি মিশ্রিত আছে। ফলে উভয়ই ধর্মনাশের কথা ভেবে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে।
সামরিক বাহিনীতে ইংরেজ ও ভারতীয় সৈন্যদের মধ্যকার বৈষম্য বিদ্রোহের অন্যতম কারণ। ইংরেজ সৈন্য ও ভারতীয় সিপাহিদের মধ্যে পদবি এবং বেতন-ভাতার মধ্যে বিরাট বৈষম্য ছিল। ভারতীয়দের সুযোগ-সুবিধাও কম ছিল। হিন্দু সিপাহিদের সমুদ্র পাড়ি দিয়ে ভারতের, বাইরে যেতে বাধ্য করা হয়। তাছাড়া হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের সিপাহিদের ব্যবহারের জন্য 'এনফিল্ড' রাইফেলের প্রচলন হলে বিদ্রোহ সংখা
তৎকালীন সময়ে ব্রিটিশ অফিসাররা হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের সিপাহিদের, ব্যবহারের জন্য 'এনফিল্ড' রাইফেলের প্রচলন করে। এ রাইফেলের টোটা দাঁত দিয়ে কেটে বন্দুকে প্রবেশ করাতে হতো। সৈন্যদের মধ্যে ব্যাপকভাবে এ কথা ছড়িয়ে পড়ল যে এ টোটায় গরু ও শূকরের চর্বি মিশ্রিত আছে। ফলে উভয়ই ধর্মনাশের কথা ভেবে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে।
সিপাহি বিদ্রোহের আগুন প্রথমে জ্বলে ওঠে পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে। ১৮৫৭ সালের ২৯ শে মার্চ বন্দুকের গুলি ছুড়ে বিদ্রোহের সূচনা করেন মঙ্গল পান্ডে নামে এক সিপাহি। দ্রুত এই বিদ্রোহ মিরাট, কানপুর, পাঞ্জাব, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, বিহারসহ সমগ্র ভারতে ছড়িয়ে পড়ে।
সিপাহি বিদ্রোহের আগুন প্রথমে জ্বলে ওঠে পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুরে। ১৮৫৭ সালের ২৯ শে মার্চ সিপাহি বিদ্রোহ শুরু হয় এবং তা সমগ্র ভারতে ছড়িয়ে পড়ে। বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, যশোর, সিলেট, কুমিল্লা, পাবনা, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী এই বিদ্রোহ সংঘটিত হয়।
ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বা সিপাহি বিদ্রোহের কারণে ভারতীয় উপমহাদেশে কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটে। ব্রিটিশ সরকার ভারতের শাসনভার নিজ হাতে তুলে নেয়। মহারানি ভিক্টোরিয়া স্বত্ববিলোপ নীতি বাতিল করেন এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তাসহ যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি ক্ষমা ঘোষণা করেন।
বিদ্রোহীরা দিল্লি দখল করে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে ভারতবর্ষের বাদশা বলে ঘোষণা করে। এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন নানা সাহেব, ঝাঁসির রানি লক্ষ্মীবাঈ, অযোদ্ধার বেগম হজরত মহল, মৌলভি আহমদ উল্লাহসহ ক্ষুব্ধ বঞ্চিত দেশীয় রাজন্যবর্গ।
মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে রেঙ্গুনে (মিয়ানমার) নির্বাসিত করা হয়। রানি লক্ষ্মীবাঈ যুদ্ধে নিহত হন। নানা সাহেব পরাজিত হয়ে অন্তর্ধান করেন। সাধারণ সৈনিক বিদ্রোহীদের ওপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন। ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে ঝুলিয়ে রাখা হয় অনেক সৈনিকের লাশ। এর মাধ্যমেই শেষ হয় ভারতের ১৮৫৮ সালের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম।
ঐক্যবদ্ধ হিন্দু ও মুসলমান সম্মিলিত শক্তি ব্রিটিশ প্রশাসনের জন্য বিপজ্জনক মনে করে লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের মাধ্যমে বাংলায় বিভেদ ও শাসননীতি প্রয়োগ করেন। কংগ্রেস নেতারা কোলকাতা থেকেই সারা ভারতের আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতেন। কোলকাতাকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থামিয়ে দেওয়া, বাঙালি শক্তিকে দুর্বল করা এবং ব্রিটিশ শক্তিকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থেই | লর্ড কার্জন বাংলা ভাগ করেন। যা ইংরেজদের বিভেদ ও শাসননীতি হিসেবে পরিচিত।
ভারতের বড় লাট লর্ড কার্জন ১৯০৫ সালের ১৬ই অক্টোবর বাংলা ভাগ করেন। এই বিভক্তি ইতিহাসে বঙ্গভঙ্গ নামে পরিচিত। এই পরিকল্পনায় বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী এবং ভারতের আসাম, জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা ও মালদহ নিয়ে গঠিত হয় পূর্ব বাংলা ও আসাম নামে নতুন প্রদেশ। প্রদেশের রাজধানী হয় ঢাকা। - অপরপক্ষে পশ্চিম বাংলা, বিহার, উড়িষ্যা নিয়ে গঠিত হয় পশ্চিম বাংলা প্রদেশ, যার রাজধানী হয় কোলকাতা।
১৯০৫ সালের জুলাই মাসে বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়। সে বছর অক্টোবরে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়। এই পরিকল্পনায় বর্তমান বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী এবং ভারতের আসাম, জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা ও মালদহ নিয়ে গঠিত হয় পূর্ব বাংলা ও -আসাম নামে নতুন প্রদেশ। এ প্রদেশের রাজধানী হয় ঢাকা।
: উপমহাদেশের এক-তৃতীয়াংশ লোকের বসবাস ছিল বাংলা প্রেসিডেন্সিতে। কোলকাতা থেকে বাংলার পূর্বাংশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও শাসনকার্য সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা ছিল কঠিন কাজ। যে কারণে লর্ড কার্জন গোটা বাংলা অঞ্চলকে একটি প্রশাসনিক ইউনিটে রাখা যুক্তিসংঘত মনে করেননি। তাই ১৯০৩ সালে বাংলা প্রদেশকে ভাগ করার পরিকল্পনা করেন এবং ১৯০৫ সালে তা কার্যকর হয়।
তখন কোলকাতা হয়ে উঠেছিল আর্থ-সামাজিক কর্মকান্ডের প্রাণকেন্দ্র। শিল্প, কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সবকিছুই প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কোলকাতাকে ঘিরে। যা কিছু উন্নতি, অগ্রগতি সবই ছিল কোলকাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ। ফলে পূর্ব বাংলার উন্নতি ব্যাহত হয়। অথচ এখান থেকে যে কাঁচামাল সরবরাহ করা হতো তার জন্যও সুষ্ঠু যোগাযোগব্যবস্থা ছিল না। ফলে পূর্ব বাংলার অর্থনেতিক অবস্থা ক্রমে খারাপ হতে থাকে।
বঙ্গভঙ্গের সামাজিক কারণ ছিল অন্যতম। উপযুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অভাবে শিক্ষা, উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে না পারায় এলাকার লোকজন অশিক্ষিত থেকে যায়। কর্মহীনের সংখ্যা দিন দিন বেড়ে যেতে থাকে। এ অবস্থার কথা বিবেচনা করে বঙ্গভঙ্গের প্রয়োজন ছিল বলে অনেকেই মনে করেন।
কোলকাতাকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থামিয়ে দেওয়া ছিল বঙ্গভঙ্গের মূল উদ্দেশ্য। হিন্দু ও মুসলমান সম্মিলিত শক্তির - ঐক্যবদ্ধ বাংলা ছিল ব্রিটিশ প্রশাসনের জন্য বিপজ্জনক। ফলে বাংলা ভাগ করে একদিকে বাঙালির শক্তিকে দুর্বল করা হলো, অপরদিকে পূর্ব বাংলার উন্নয়নের নামে অভিজাত মুসলমান সম্প্রদায়কে খুশি করা হলো।
পূর্ব বাংলার মুসলমানরা নবাব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে বঙ্গভঙ্গকে স্বাগত জানায়। মুসলিম পত্র-পত্রিকাগুলো রঙ্গভঙ্গের ফলে, সন্তোষ প্রকাশ করে একে স্বাগত জানায়।। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পূর্ব বাংলার পিছিয়ে পড়া মানুষেরা শিক্ষা-দীক্ষা এবং প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা লাভের আশায় বঙ্গভঙ্গের প্রতি অকুন্ঠ সমর্থন প্রদান করেন।
বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ করা যায় উচ্চবর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে। এ পেছনের কারণ সম্পর্কে কোনো কোনো ঐতিহাসিক বলেছেন উঁচুতলার মানুষ অর্থাৎ পুঁজিপতি, শিক্ষিত মধ্যবিত্ত, জমিদার, আইনজীবী, সংবাদপত্রের মালিক, রাজনীতিবিদদের স্বার্থে আঘাত লাগার কারণে এরা বঙ্গভঙ্গের ঘোর বিরোধিতা শুরু করে।
বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি, বিপিনচন্দ্র পাল, অরবিন্দ ঘোষ, অশ্বিনীকুমার দত্ত, বালগঙ্গাধর তিলকসহ গোখলের মতো উদারপন্থি নেতাও অংশ নেন। সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জি বঙ্গভঙ্গকে জাতীয় দুর্যোগ বলে আখ্যায়িত করেন।
হিন্দু সম্প্রদায় কংগ্রেসের নেতৃত্বে বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে। এ আন্দোলন ক্রমে স্বদেশি আন্দোলনের রূপ নেয়। চরমপন্থী নেতাদের আগ্রাসী মনোভাবের কারণে এ আন্দোলনে সশস্ত্র কর্মকাণ্ডও যুক্ত হয়। এ আন্দোলন এতোটাই অপ্রতিরোদ্ধ হয়ে ওঠে যে ব্রিটিশ সরকার আন্দোলনকারীদের দমন করতে না পেরে বঙ্গভঙ্গ রদ করতে বাধ্য হয়।
ব্রিটিশ সরকারের বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন ব্যর্থ হবার পর বিপ্লবী তৎপরতার মাধ্যমে যে আন্দোলন গড়ে ওঠে, তাকেই স্বদেশি আন্দোলন বলা হয়। এ আন্দোলনের মূল কর্মসূচি ছিল দুইটি- বয়কট ও স্বদেশি।
বয়কট আন্দোলন বলতে বিলেতি পণ্য বর্জন করাকে বোঝায়। পরবর্তীতে বয়কট শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহার হতে থাকে। বয়কট শুধু বিলেতি পণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, বিলেতি শিক্ষা বর্জনও। কর্মসূচিতে যুক্ত হয়। বিভিন্ন স্থানে সমিতির মাধ্যমে বিলেতি পণ্য বর্জন ও দেশীয় পণ্য ব্যবহারের শপথ নেওয়া হয়।
বয়কট আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিলেতি পণ্য বর্জন। ক্রমে ক্রমে 'বয়কট' শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহার হতে থাকে। বয়কট শুধু বিলেতি পণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, বিলেতি শিক্ষা বর্জনও। কর্মসূচিতে যুক্ত হয়। ফলে স্বদেশি আন্দোলন শিক্ষাক্ষেত্রে জাতীয় শিক্ষা আন্দোলনে রূপ নেয়।
বয়কট' আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিলেতি পণ্য বর্জন। ক্রমে ক্রমে 'বয়কট' শব্দটি ব্যাপক অর্থে ব্যবহার হতে থাকে। বয়কট শুধু বিলেতি পণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, বিলেতি শিক্ষা বর্জনও কর্মসূচিতে যুক্ত হয়। ফলে স্বদেশি আন্দোলন শিক্ষাক্ষেত্রে জাতীয় শিক্ষা আন্দোলনে রূপ নেয়।
স্বদেশি আন্দোলনে তাৎক্ষণিক সফলতা না এলেও এর ফলাফল ছিল সুদূরপ্রসারী। এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গণসচেতনতার জন্ম হয়। এ আন্দোলন উপমহাদেশে ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের সূচনা করে। আন্দোলনের সঙ্গে ছাত্রসমাজ যুক্ত হওয়ার কারণে গুরুত্ব যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনই জনগণ রাজনীতি সচেতন হয়ে ওঠে।
মুসলমান সমাজ, কোলকাতার মাড়ওয়ারী ব্যবসায়ী এবং বাংলার গ্রামগঞ্জের ব্যবসায়ীরা এ আন্দোলনে যোগ দেয় নি। সর্বোপরি স্বদেশি আন্দোলন গোপন সশস্ত্র সংগ্রামের পথে অগ্রসর হলে এ থেকে জনগণের দূরে সরে যাওয়া, সাধারণ মানুষ এ আন্দোলনের মর্ম বোঝার চেষ্টা না করা এবং ইংরেজ সরকারের চরম দমননীতি ও পুলিশী অত্যাচারের কারণে স্বদেশি আন্দোলন ব্যর্থ হয়।
স্বদেশি আন্দোলনের কারণে হিন্দু-মুসলমানের হাজার বছরের সম্পর্কের অবনতি ঘটে। নানা ঘটনার মাধ্যমে এই তিক্ততা ক্রমশ বাড়তে থাকে। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে ভাঙন শুরু হয় স্বদেশি আন্দোলনের মাধ্যমে তা আরও তিক্ত হয়। ফলে সম্পর্কের এই ভাঙন এতদঞ্চলের রাজনীতি, সমাজ ও জাতীয় কর্মকান্ডের সকল ক্ষেত্রে সর্বাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে থাকে
স্বদেশি আন্দোলন মুসলমানদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বঙ্গভঙ্গের বিরোধী আন্দোলন হওয়ায় মুসলমানরা তাতে সমর্থন দেয়নি। তাছাড়া স্বদেশি আন্দোলনের সাথে হিন্দুধর্মের আদর্শ-আচার অনুষ্ঠানের প্রভাব থাকার কারণে মুসলমান সমাজ এ আন্দোলনে সমর্থন দেয়নি।
তুরস্কের খলিফার মর্যাদা ও তুরস্কের অখন্ডতা রক্ষার জন্য ভারতীয় মুসলিম সমাজ যে আন্দোলন গড়ে তোলে তাকে খিলাফত আন্দোলন বলা হয়। ১৯২০ সালে ব্রিটিশ সরকার সেভার্স চুক্তির মাধ্যমে তুরস্ককে ভাংতে চাইলে ভারতের মুসলমানরা খলিফার মর্যাদা রক্ষায় এ আন্দোলন গড়ে তোলে।
১৯২০ সালে সেভার্সের চুক্তি অনুযায়ী শাস্তিস্বরূপ তুরস্ককে খন্ডবিখণ্ডিত করার পরিকল্পনা করা হয়। এতে ভারতীয় মুসলমানরা মর্মাহত হয় এবং ভারতীয় মুসলমানরা খলিফার মর্যাদা ও' তুরস্কের অখণ্ডতা রক্ষার জন্য তুমুল আন্দোলন গড়ে তোলে। মূলত তুরস্কের খলিফার মর্যাদা রক্ষা করাই ছিল খিলাফত আন্দোলনের কারণ।
১৯২০ সালে মহাত্মা গান্ধী অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। ১৯১৯ সালে সরকার রাওলাট আইন পাস করে। এই সংস্কার আইন ভারতবাসীর আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়। আইনে যেকোনো ব্যক্তিকে পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেফতার এবং সাক্ষ্য প্রমার্থ ছাড়াই আদালতে দণ্ড দেওয়ার ক্ষমতা পুলিশকে দেওয়া হয়। যার ফলে গান্ধী সরকারকে অসহযোগিতা করার যে নীতি গ্রহণ করে
ব্রিটিশ সরকার ভারতবাসীর আন্দোলন দমনের জন্য একটি কুখ্যাত আইন পাস করে যা রাওলাট আইন নামে পরিচিত। ১৯১৯ 1 সালে এ আইন পাস করা হয়। এ আইন বলে যেকোনো ব্যক্তিকে পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেফতার ও সাক্ষ্য প্রমাণ ছাড়াই দণ্ড দেওয়ার ক্ষমতা পুলিশকে দেওয়া হয়। এ আইন ভারতবাসীকে বিক্ষুদ্ধ করে তোলে।
ব্রিটিশ সরকার ১৯১৯ সালে রাওলাট আইন পাস করে। ফলে ভারতে এ নিপীড়নমূলক আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলন গড়ে ওঠে এবং মানুষ বিক্ষুদ্ধ হয়। ১৯১৯ সালের রাওলাট আইনের বিরুদ্ধে পাঞ্জাবে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে উঠলে অমৃতসরে এক জনসভায় জেনারেল ডায়ারের নির্দেশে গুলি করে বহু নিরস্ত্র নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়।
১৯১৯ সালে ব্রিটিশ সরকার রাওলাট আইন পাস করলে এর বিরুদ্ধে সর্বত্র আন্দোলন গড়ে ওঠে। এ আইনের বিরুদ্ধে অন্যান্য স্থানের মতো পাঞ্জাবেও আন্দোলন গড়ে ওঠে। পাঞ্জাবের অমৃতসরে এক সভায় জেনারেল ডায়ারের নির্দেশে বহু নিরস্ত্র মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ইতিহাসে এ হত্যাকান্ড জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকান্ড নামে পরিচিত। এ নৃশংস হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ তার 'নাইট' উপাধি বর্জন করেন।
১৯২২ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে উত্তেজিত জনতা চৌরিচৌরা থানায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এ আগুনে ২১ জন পুলিশ পুড়ে মারা যায়। এ খবর শুনে গান্ধীজি ব্যথিত হন। তিনি বুঝতে পারেন যে অহিংস আন্দোলন আর চালানো সম্ভব নয়। কারণ এ আন্দোলন হিংসাত্মক রূপ ধারণ করা শুরু করেছে। তাই তিনি অহিংস আন্দোলন প্রত্যাহার করেন।
গান্ধীজির অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহারের ফলে খিলাফত আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে। কৃষক শ্রমিকরা এ আন্দোলনের মর্ম বুঝতে ব্যর্থ হয়। তাছাড়া তুরস্কের জাতীয়তাবাদী নেতা মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক ক্ষমতায় এসে সালতানাতের অবসান ঘটিয়ে তুরস্কে প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করলে খিলাফত আন্দোলনের আর প্রয়োজন থাকে না। আর এ কারণেই খিলাফত আন্দোলনের পরিসমাপ্তি ঘটে।
স্বদেশি আন্দোলনের ব্যর্থতা বাংলার স্বাধীনতাকামী যুব সমাজকে সশস্ত্র বিপ্লবের পথে ঠেলে দেয়। সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে বাংলা স্বাধীন করার যে গোপন তৎপরতার সূত্রপাত ঘটে, তাকেই বাংলার সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলন বলা হয়ে থাকে। এই আন্দোলন ধীরে ধীরে বিভিন্ন এলাকায় অতর্কিত বোমা হামলা, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মচারী হত্যা, গেরিলা পদ্ধতিতে খণ্ডযুদ্ধ ইত্যাদি ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রকাশ্যে চলে আসতে থাকে।
একজন দুঃসাহসী বিপ্লবী ছিলেন চট্টগ্রামের মাস্টারদা, যার আসল নাম সূর্যসেন (১৮৯৪-১৯৩৪)। কলেজ জীবনে তিনি বিপ্লবীদের সংস্পর্শে আসেন। তিনি মাস্টারদা নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন। চট্টগ্রামকে ব্রিটিশ শাসনমুক্ত করার জন্য গঠন করেন চট্টগ্রাম বিপ্লবী বাহিনী।'স্বাধীন চিটাগাং সরকার'-এর ঘোষণা দেওয়া হয়। ব্রিটিশ সরকার ১৯৩৪ সালে তাকে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করে।
ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যে সকল বাঙালি তরুণরা শসন্ত্র আন্দোলন গড়ে তোলেন তাদের মধ্যে অন্যতম দুঃসাহসী বিপ্লবী ছিলেন চট্টগ্রামের মাস্টারদা, তার আসল নাম সূর্যসেন। তিনি চট্টগ্রামকে ব্রিটিশমুক্ত করার জন্য চিটাগাং রিপাবলিকান আমি গঠন করেন। যারা ব্রিটিশ সরকারের অস্ত্রাগার লুণ্ঠন করে এবং ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে। তাই সূর্যসেনকে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নায়ক বলা হয়।
'চিটাগাং রিপাবলিকান আর্মি'র মূলত একটি আত্মঘাতী বাহিনীর নাম। চট্টগ্রামকে ব্রিটিশ শাসনমুক্ত করার উদ্দেশ্যে বিপ্লবী, মাস্টারদা সূর্যসেন চট্টগ্রাম বিপ্লবী বাহিনী গঠন করেন। পরে এ বাহিনীর নাম পরিবর্তন করে 'চিটাগাং রিপাবলিকান আর্মি' নামকরণ করা হয়। এ বাহিনী সরকারি অস্ত্রাগার লুট করে 'স্বাধীন চিটাগাং সরকার'-এর ঘোষণা দেওয়া হয়।
সূর্য সেনের বিপ্লবী বাহিনীতে নারী যোদ্ধাও ছিলেন। তার মধ্যে অন্যতম ছিলেন ও প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার। অসাধারণ মেধাবী ছাত্রী প্রীতিলতা ১৯০০ সালে ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং ডিসটিঙ্কশন নিয়ে বি.এ. পাস করেন। ইতোমধ্যে তিনি বিপ্লবী কর্মকান্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন এবং সূর্য সেনের দলের সঙ্গে যুক্ত হন। প্রীতিলতাকে তার যোগ্যতার জন্য চট্টগ্রাম 'পাহাড়তলী ইউরোফিয়ান ক্লাব' আক্রমণের নেতৃত্ব দেওয়া হয়। সফল অভিযান শেষে তিনি তার সঙ্গী বিপ্লবীদের নিরাপদে স্থান ত্যাগ করতে সহায়তা করেন।
ইংরেজ সরকার বিপ্লবী রাসবিহারী বসুকে ধরার জন্য এক লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে। রাসবিহারী বসু ছিলেন একজন সশস্ত্র বিপ্লবী। তার পরিকল্পনায় ১৯১২ সালের শেষের দিকে দিল্লিতে লর্ড হার্ডিংকে হত্যার জন্য বোমা হামলা চালানো হয়। কিন্তু হার্ডিং বেঁচে যান। এজন্য রাসবিহারীকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ইংরেজ সরকার পুরস্কার ঘোষণা করে।
বাংলার সমস্ত বিপ্লবী আন্দোলন ছিল গণবিচ্ছিন্ন। সাধারণ মানুষের কাছে সশস্ত্র আক্রমণ, বোমাবাজি, হত্যাকান্ড আতঙ্কের বিষয় ছিল। ফলে সাধারণ জনগণ এ আন্দোলন থেকে দূরে ছিল। দ্বিতীয়ত, এ আন্দোলনের কোনো নেতৃত্ব ছিল না। ফলে সমন্বয়ের অভাবে সাংগঠনিক দুর্বলতা দেখা দেয়। পরিশেষে সরকারের কঠোর দমননীতির কারণে এ আন্দোলন ব্যর্থ হয়।
১৯২২ সালে মহাত্মা গান্ধী অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করে নিলে কংগ্রেসের অনেক নেতা কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন। এ সময় মুক্তিপ্রাপ্ত নেতা চিত্তরঞ্জন দাস (সি.আর. দাস) ও মতিলাল নেহরুর সঙ্গে কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ আন্দোলনের কর্মপন্থা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেয়। এই অবস্থা পরিপ্রেক্ষিতে ১৯২২ সালে কংগ্রেসের একাংশের সমর্থনে সি.আর. দাসের নেতৃত্বে গঠিত হয় স্বরাজ পার্টি। সি.আর. দাস হন এ দলের সভাপতি।
স্বরাজদলের দুটি কর্মসূচি হলো- ১. আইনসভায় প্রবেশ করে সরকারি কর্মকান্ডের বিরোধিতা করা এবং ১৯১৯ সালে প্রণীত সংস্কার আইন অকার্যকর করে দেওয়া; ২. সরকারি বাজেট প্রত্যাখ্যান করা এবং মন্ত্রিসভার পতন ঘটানো।
স্বরাজ দলের নেতা চিত্তরঞ্জন দাস উপমহাদেশের রাজনীতিতে হিন্দু-মুসলিম সমস্যা গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। এ কারণে তিনি হিন্দু-মুসলিম সমস্যা দূর করার জন্য এক দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছিলেন। তার প্রচেষ্টায় হিন্দু-মুসলিমদের ১৯২৩ সালে যে চুক্তি সম্পাদিত হয় তা ইতিহাসে বেঙ্গল প্যাক্ট বা বাংলা চুক্তি নামে খ্যাত।
উপমহাদেশের রাজনীতিতে হিন্দু-মুসলমান সমস্যা গভীরভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছিলেন স্বরাজ দলের নেতা চিত্তরঞ্জন দাস। ফলে বাংলার হিন্দু-মুসলিম সমস্যা দূর করার জন্য এই দূরদর্শী বাস্তববাদী নেতা ১৯২৩ সালে যে চুক্তি সম্পাদন করে তাই বাংলা চুক্তি নামে খ্যাত। - নিঃসন্দেহে তার এ প্রচেষ্টা হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের পথ প্রশস্ত করেছিল।
১৯২৩ সালে চিত্তরঞ্জন দাসের নেতৃত্বে বাংলা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তির দুটি প্রধান শর্ত হলো-
১. স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠিত হলে বাংলার প্রত্যেক সম্প্রদায় নিজ নিজ অধিকার পাবে। লোকসংখ্যার অনুপাতে এ স্বতন্ত্র নির্বাচন প্রথায় বাংলাদেশ ব্যবস্থাপক পরিষদে প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা হবে।
২. সরকারি দপ্তরে মুসলমানদের জন্য শতকরা ৫৫ ভাগ চাকরি সংরক্ষিত থাকবে।
বেঙ্গল প্যাক্ট সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দলিল হলেও রক্ষণশীল হিন্দু সমাজ কংগ্রেস দল, স্বরাজ দল, বিরোধী হিন্দুরা বেঙ্গল প্যাক্ট এর বিরোধিতা করে। অপরদিকে হিন্দু মহাসভার 'শুদ্ধি' ও 'সংগঠন' আন্দোলন এবং মুসলমানদের 'তাবলীগ' ও 'তানজীম' আন্দোলন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে। তাছাড়া চিত্তরঞ্জন দাসের অকাল মৃত্যুর কারণেই বেঙ্গল প্যাক্টের অবসান ঘটে।
১৯৩৯ সালে জিন্নাহ দ্বিজাতি তত্ত্ব ঘোষণা করার পর ১৯৪০ সালের ২৩ মার্চ মুসলিম লীগের অধিবেশনে এ প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে এ প্রস্তাব গৃহীত হয় বলে একে লাহোর প্রস্তাব বলা হয়। লাহোর প্রস্তাবের মূল বিষয় ছিল ভারতের উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব ভাগের মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন।
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বুঝতে পারেন যে, হিন্দু নেতৃবৃন্দের শাসনাধীনে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তব রূপলাভ করবে না। তাই তিনি মুসলমানদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে দ্বিজাতি তত্ত্বের ঘোষণা দেন। দ্বিজাতি তত্ত্ব হলো ভারতবর্ষের দুটি জাতি তথা হিন্দু-মুসলিমদের জন্য আলাদা জাতি হিসেবে চিহ্নিত। করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
লাহোর প্রস্তাবের মূল বিষয় ছিল ভারতের উত্তর-পশ্চিম ও পূর্ব ভূভাগের মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল নিয়ে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন। ১৯৩৯ সালে জিন্নাহ দ্বিজাতিতত্ত্ব ঘোষণা করেন। ১৯৪০ সালে ২৩ মার্চ। মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে এ. কে. ফজলুল হক এ প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। মুসলিম লীগের লাহোর অধিবেশনে এ প্রস্তাব গৃহিত হয় বলে একে লাহোর প্রস্তাব বলা হয়।
লাহোর প্রস্তাবের দুটি ধারা হলো- ১. ভারতের উত্তর-পশ্চিম এবং পূর্ব ভূ-ভাগের মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকাগুলোকে নিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্রসমূহ গঠন করতে হবে। ২. এসব স্বাধীন রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট অঙ্গ রাষ্ট্রগুলো স্বায়ত্তশাসিত ও সার্বভৌম হবে।
১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের ধারাসমূহের কোথাও পাকিস্তান শব্দটির উল্লেখ নেই। কিন্তু তৎকালীন বিভিন্ন পত্রিকায় এটিকে 'পাকিস্তান প্রস্তাব' বলে প্রচার হতে থাকে। ফলে দ্রুত এ প্রস্তাব 'পাকিস্তান প্রস্তাব' হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে থাকে।
ভারতের বড়লাট ওয়েভেল মুসলিম লীগ ও কংগ্রেসকে অন্তবর্তীকালীন সরকারে যোগদানের আহ্বান জানান। মুসলিম লীগ কংগ্রেসের সভাপতি নেহেরুর মুসলিম লীগের স্বার্থবিরোধী বক্তব্যের কারণে সরকার যোগদানের পূর্ব সিদ্ধান্ত বাতিল করে। কিন্তু নেহেরু বড়লাটের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সরকার গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এর প্রতিবাদে মুসলিম লীগ 'প্রত্যক্ষ সংগ্রাম দিবস' ঘোষণা করে।
১৯৪৭ সালে হিন্দু-মুসলিম সম্পর্ক রক্তক্ষয়ী দাঙ্গায় রূপ নেয়। এমন পরিস্থিতিতে ব্রিটিশ সরকার ভারতীয়দের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করার ইচ্ছা প্রকাশ করে, তখন বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী যুক্ত বাংলার প্রস্তাব করেন। তার এ প্রস্তাবকে শরৎচন্দ্র বসু দৃঢ়ভাবে সমর্থন করেন। উপমহাদেশের ইতিহাসে এ প্রস্তাবটি 'বসু-সোহরাওয়ার্দী প্রস্তাব' নামে খ্যাত।
১৯৪৭ সালে হিন্দুি-মুসলমান সম্পর্ক এর রক্তক্ষয়ী দাঙ্গায় রূপ নেয়। এরকম চরম জটিল পরিস্থিতি মোকাবেলায় ব্যর্থ ব্রিটিশ যরকার ভারতীয়দের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের ইচ্ছা ঘোষণা করে। ঠিক এই রকম পরিস্থিতিতে বাংলার তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী যুক্ত বাংলার প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
বসু-সোহরাওয়ার্দী চুক্তির দুটি ধারা হলো- ১. বাংলা হবে স্বাধীন ও সার্বভোম রাষ্ট্র। ভারতের বাকি অংশের সঙ্গে এ রাষ্ট্রের সম্পর্ক কী হবে তা সে নিজেই ঠিক করবে। ২. হিন্দু ও মুসলমানের সংখ্যা অনুপাতে আসন সংখ্যা বণ্টন করে প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে আইন সভায় নির্বাচনের ব্যবস্থা থাকবে।
মুসলিম লীগের রক্ষণশীল নেতারা প্রথমে অখন্ড বাংলা প্রস্তাবের সমর্থক হলেও পরে তারা অখন্ড বাংলাকে পাকিস্তানের অংশ করার দাবি করতে থাকেন। অপরদিকে, কংগ্রেস কোলকাতাকে হাতছাড়া করতে রাজি ছিল না। তাছাড়া তারা মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ অখন্ড বাংলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিয়ে শংকিত হয়ে পড়ে। ফলে অখন্ড বাংলা প্রস্তাব মুসলিম লীগ ও কংগ্রেস উভয় দলের সমর্থন হারায়। এ কারণে অখন্ড বাংলা প্রস্তার ব্যর্থ হয়।
আজাদ হিন্দু ফৌজ' ছিল ইংরেজদের উপমহাদেশ থেকে বিতাড়নের উদ্দেশ্যে বাঙালিদের নেতৃত্বে দেশের বাইরে তৈরি এক বাহিনী। এ বাহিনীর নেতা ছিলেন সুভাষ চন্দ্র বসু। বিপ্লবী রাসবিহারী বসু তাকে এ বাহিনী গঠনে সহযোগিতা করেন। এ সেনাবাহিনী বিভিন্ন রণাঙ্গনে ইংরেজদের বিরুদ্ধে । বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করে। সুভাষচন্দ্র বসুর নেতৃত্বে আজাদ হিন্দ ফৌজ। ভারতে ইংরেজ সরকারের ভিত কাঁপিয়ে দিতে সক্ষম হয়।
আজাদ হিন্দু ফৌজ' ছিল ইংরেজদের উপমহাদেশ থেকে বিতাড়নের উদ্দেশ্যে বাঙালিদের নেতৃত্বে দেশের বাইরে তৈরি এক বাহিনী। এ বাহিনীর নেতা ছিলেন সুভাষ চন্দ্র বসু। বিপ্লবী রাসবিহারী বসু তাকে এ বাহিনী গঠনে সহযোগিতা করেন। আজাদ হিন্দ ফৌজ ভারতে ইংরেজ সরকারের ভিত কাঁপিয়ে দিতে সক্ষম হয়।
মন্ত্রী মিশন বা ক্যাবিনেট মিশন প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় তিন স্তরবিশিস্ট যুক্তরাষ্ট্র গঠনের বিষয় উল্লেখ করা হয়। যথা- ১. কেন্দ্রে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা। ২. ব্রিটিশ ভারত ও দেশীয় রাজ্যগুলোকে নিয়ে একটি স্বায়ত্তশাসিত ভারত ইউনিয়ন গঠন করা। ৩. হিন্দুপ্রধান গ্রুপ, মুসলমানপ্রধান গ্রুপ এবং বাংলা ও আসাম গ্রুপ-এ তিন ভাগে ভাগ করা।
১৯৪৭ সালে ১৮ই জুলাই 'ভারত স্বাধীনতা আইন' প্রণয়ন করা হয়, যার ভিত্তিতে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে। ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ই আগস্ট ভারত নামে দুইটি রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহকে প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়।
ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম সংঘটিত হয় ১৮৫৭ সালে।
স্বত্ববিলোপ নীতি ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের সাথে জড়িত
১৮৫৭ সালে সংঘটিত হওয়া বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম বলা হয়।
কোম্পানি রাজনৈতিক ক্ষমতা দখলের আগে এদেশের শিল্প ধ্বংস করেছিল।
হিন্দু-মুসলমান উভয় সিপাহিদের ব্যবহারের জন্য 'এনফিল্ড রাইফেলের' প্রচলন করা হয়।
সিপাহি বিদ্রোহের সূচনা করেন মঙ্গলপান্ডে নামক এক সিপাহি।
১৮৫৭ সালে ২৯ শে মার্চ সিপাহি বিদ্রোহের সূচনা হয়।
ব্যারাকপুরে সিপাহি বিদ্রোহ শুরু হয়।
ইংরেজরা এনফিল্ড রাইফেল চালু করে
মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে রেঙ্গুনে নির্বাসিত করা হয়।
১৯০৫ সালে লর্ড কার্জন বাংলাকে ভেঙ্গ পশ্চিম বাংলা এবং পূর্ব বাংলা ও আসাম প্রদেশ নামে যে দুই ভাগে ভাগ করেন তাকে বঙ্গভঙ্গ বলে।
বঙ্গভঙ্গ ১৯০৫ সালের ১৬ই অক্টোবর হয়েছিল।
বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা অনুযায়ী বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, আসাম, জলপাইগুড়ি, পার্বত্য ত্রিপুরা ও মালদহ দিয়ে গঠিত হয় 'পূর্ববাংলা ও আসাম' প্রদেশ।
১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হয়।
১৯০৫ খ্রিস্টাব্দে বঙ্গভঙ্গ আইন পাস হয়।
ভারতের বড় লাট লর্ড কার্জন বাংলা ভাগ করেন।
হিন্দু-মুসলমান সম্প্রদায়ের সম্প্রীতি চিরতরে নষ্ট হয়ে যায় ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের পর থেকে
পূর্ব বাংলার মুসলমানগণ নওয়াব সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে বঙ্গভঙ্গকে স্বাগত জানায়।
সুখেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী বঙ্গভঙ্গকে জাতীয় দুর্যোগ বলে আখ্যায়িত করেন।
মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯০৬ সালে।
১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়।
ব্রিটিশ সরকারের বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন ব্যর্থ হলে কংগ্রেসের উগ্রপন্থি অংশের নেতৃত্বে যে আন্দোলন গড়ে ওঠে, তাকেই স্বদেশি আন্দোলন বলে।
ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে কংগ্রেসের উগ্রপন্থিদের নেতৃত্বে ব্রিটিশ পণ্য বর্জনের যে আন্দোলন শুরু হয় তাকে বয়কট আন্দোলন বলে।
বয়কট আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিলেতি পণ্য বর্জন।
স্বদেশি আন্দোলনের মূল কর্মসূচি ২টি।
বিখ্যাত টাটা কোম্পানি ১৯১০ সালে টাটা কারখানা স্থাপন করে।
খিলাফত আন্দোলন ভারতে হয়েছিল।
ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন মহাত্মা গান্ধী।
মহাত্মা গান্ধী অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন।
১৯১৯ সালে সরকার রাওলাট আইন পাস করে।
মহাত্মা গান্ধী ব্রিটিশ শাসনামলে ভারতে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন।
১৯১৯ সালের ব্রিটিশদের জালিওয়ানবাজার হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নাইট উপাধি বর্জন করেন।
বয়কট আন্দোলনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বিলেতি পণ্য বর্জন।
জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার 'নাইট উপাধি' বর্জন করেন।
জালিয়ানওয়ালাবাগের হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর 'নাইট' উপাধি বর্জন করেন।
চৌরিচৌরা থানায় আগুন দিলে ২১ জন পুলিশ পুড়ে মারা যায়।
সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করার যে গোপন তৎপরতার সূত্রপাত ঘটে, তাকেই সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলন বলা হয়।
মাস্টারদা নামে সূর্যসেন পরিচিত ছিলেন।
চট্টগ্রামকে ব্রিটিশ শাসনমুক্ত করার জন্য মাস্টারদা সূর্য সেন চট্টগ্রাম বিপ্লবী বাহিনী গঠন করেন। পরে এই আত্মঘাতী বাহিনীর নাম হয় চিটাগাং রিপাবলিকান আর্মি।
প্রীতিলতা চট্টগ্রামের 'পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব' আক্রমণের নেতৃত্ব দেন।
মাস্টার দা সূর্যসেনের আত্মঘাতী বাহিনীর নাম ছিল 'চিটাগাং রিপাবলিকান আর্মি'।
পুলিন বিহারী দাস ছিলেন ঢাকার অনুশীলন সমিতির প্রধান সংগঠক।
ক্ষুদিরাম ইংরেজ ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডকে হত্যার জন্য বোমা হামলা চালান
পুলিন বিহারী দাশ ঢাকার অনুশীলন সমিতির প্রধান সংগঠক ছিলেন।
বিপ্লবী রাসবিহারী বসুর পরিকল্পনায় লর্ড হার্ডিংকে হত্যার জন্য বোমা হামলা চালানো হয়।
১৯৩০ সালে ডালহৌসি স্কোয়ারে চার্লস টেগার্টকে হত্যার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়।
মহাত্মা গান্ধী ১৯৩০ সালে আইন অমান্য আন্দোলন শুরু করেন।
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারকে 'পাহাড়তলী ইউরোপিয়ান ক্লাব' আক্রমণের নেতৃত্ব দেওয়া হয়।
প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার বাংলার সমস্ত বিপ্লবী আন্দোলনের - ইতিহাসে এক কিংবদন্তি হয়ে আছেন।
সূর্যসেনকে ১২ জানুয়ারি মেরে ফেলা হয়।
১৯৩৩ সালে মাস্টারদা সূর্যসেন গ্রেফতার হন।
১৯৩৪ সালে সূর্যসেনকে ফাঁসি দেওয়া হয়।
সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলন ব্যর্থতর অন্যতম কারণ হচ্ছে গণবিচ্ছিন্নতা।
সশস্ত্র বিপ্লবী আন্দোলনের সময় কাল ১৯১১-১৯৩০ সাল
বাংলায় হিন্দু-মুসলমান সমস্যা দূর করার জন্য চিত্তরঞ্জন দাস কর্তৃক যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল তা বেঙ্গল প্যাক্ট বা বাংলা চুক্তি নামে পরিচিত।
১৯২৩ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বেঙ্গল প্যাক্ট চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চিত্তরঞ্জন দাসের নেতৃত্বে স্বরাজ পার্টি গঠিত হয়।
চিত্তরঞ্জন দাস ১৯২৫ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
দ্বিজাতি তত্ত্বের ঘোষক ছিলেন মোহম্মদ আলী জিন্নাহ
১৯৪০ সালে লাহোর প্রস্তাব উপস্থাপিত হয়
শেরে বাংলা এ. কে ফজলুল হক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন
১৯৩০ সালে সাইমন কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশিত হয়।
১৯৩০ সালে সাইমন কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশিত হয়।
লর্ড ডালহৌসি দিল্লির মুঘল সম্রাটের পদ বিলুপ্ত করেন।
১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষে ৩০ লক্ষাধিক লোক মৃত্যুবরণ করে বলে ধারণা করা হয়।
হিন্দু মহাসভার শ্যামাপ্রসাদ যুক্তবাংলার চরম বিরোধী ছিলেন।
আবুল হাশিম বৃহত্তর বাংলা রাষ্ট্রের রূপরেখা প্রণয়ন করে।
শরৎচন্দ্র বসু বাংলাকে সোস্যালিস্ট রিপাবলিক হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান
ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রতিষ্ঠাতা সুভাস চন্দ্র বসু।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অবসানের পর ইংল্যান্ডের সাধারণ নির্বাচনে শ্রমিক দল জয়লাভ করে
গান্ধীজির ডাকে 'ভারত ছাড়' আন্দোলনে জনগণ ঝাঁপিয়ে পড়ে।
INA-এর পূর্ণরূপ Indian National Army.
নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু 'Indian National Army'র নেতৃত্বে ছিলেন।
৩ই জুন মাউন্টব্যাটেন সুস্পষ্টভাবে ভারত বিভাগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন।
১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীনতা আইন প্রণয়ন করা হয়।
১৯৪৭ খ্রিস্টন্টব্দে উপমহাদেশ ভাগ হয়।
১৯৪৭ সালে ভারতীয় উপমহাদেশ বিভক্ত হয়।
১৯৪৭ সালে ইংরেজ শাসনের অবসান হয়।
১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্ট পাকিস্তান নামে এক মুসলিম রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
Related Question
View Allমুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে রেঙ্গুনে নির্বাসিত করা হয়।
স্বত্ববিলোপ নীতি লর্ড ডালহৌসি কর্তৃক প্রবর্তিত এক প্রকার নীতি, যাতে দত্তক পুত্র সম্পত্তির উত্তরাধিকার হতে পারে না।
লর্ড ডালহৌসি স্বত্ববিলোপ নীতি প্রয়োগ করে সাতারা, ঝাঁসি, নাগপুর, সম্বলপুর, ভগৎ, উদয়পুর, করাউলি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করেন। স্বত্ববিলোপ নীতি অনুযায়ী দত্তক পুত্র সম্পত্তির উত্তরাধিকার হতে পারে না। তাছাড়া এ নীতির প্রয়োগ করে নানা সাহেবের ভাতা বন্ধ করে দেওয়া হয়। অপশাসনের অজুহাতে অযোধ্যাকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করা হয়।
উদ্দীপকে বঙ্গভঙ্গের প্রশাসনিক কারণটি ফুটে উঠেছে।
লর্ড কার্জনের শাসনামলে বঙ্গভঙ্গ ছিল একটি প্রশাসনিক সংস্কার। উপমহাদেশের এক-তৃতীয়াংশ লোক বাস করত বাংলা প্রেসিডেন্সিতে । কলকাতা থেকে পূর্বাঞ্চলের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও শাসনকার্য সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা ছিল কঠিন কাজ। যে কারণে লর্ড কার্জন এত বড় অঞ্চলকে একটিমাত্র প্রশাসনিক ইউনিটে রাখা যুক্তিসংগত মনে করেন নি। তাই ১৯০৩ সালে বাংলা প্রদেশকে দুভাগ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেন এবং ১৯০৫ সালে তা কার্যকর হয়।
উদ্দীপকের সালেহপুর ইউনিয়ন আয়তনে অনেক বড় হওয়ার কারণে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছিল। তাই এটিকে দুটি আলাদা ইউনিটে ভাগ করা হয়। সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকে বঙ্গভঙ্গের প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনের কারণটি ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকটি বঙ্গভঙ্গের প্রশাসনিক কারণের ইঙ্গিত বহন করে। এটি ছাড়াও বঙ্গভঙ্গের পেছনে আরও কারণ ছিল বলে আমি মনে করি।
বঙ্গভঙ্গের অন্যতম কারণ ছিল আর্থ-সামাজিক। তৎকালীন সময়ে শিল্প- কারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সবকিছুই কোলকাতাকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল। উন্নত সবকিছুই কোলকাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ফলে পূর্ব বাংলার উন্নতি ব্যাহত হয়। এ অবস্থা বিবেচনা করে লর্ড কার্জন বঙ্গভঙ্গ করেন।
লর্ড কার্জন ছিলেন রাজনৈতিক বিষয় সম্পর্কে সতর্ক। বাঙালি মধ্যবিত্ত বুদ্ধিজীবী শ্রেণি ক্রমশ জাতীয়তাবাদ ও রাজনীতি সচেতন হয়ে উঠেছিল, যা তার দৃষ্টি এড়ায়নি। তাই কোলকাতাকেন্দ্রিক ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনকে থামিয়ে দেওয়া ছিল বঙ্গভঙ্গের অন্যতম কারণ। ব্রিটিশদের Divide and rule policy (বিভেদ ও শাসন নীতি) প্রয়োগ করে ব্রিটিশ স্বার্থকে টিকিয়ে রাখাও বঙ্গভঙ্গের অন্যতম কারণ ছিল।
পরিশেষে বলা যায়, শুধু প্রশাসনিক কারণেই নয়, উল্লিখিত বিষয়গুলোও বঙ্গভঙ্গের জন্য দায়ী ছিল।
লর্ড ডালহৌসি দিল্লির মুঘল সম্রাটের পদ বিলুপ্ত করেন।
হিন্দু-মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের সিপাহিদের ব্যবহারের জন্য 'এনফিল্ড' রাইফেলের প্রচলন করা হয়। এ রাইফেলের টোটা দাঁত দিয়ে কেটে বন্দুকে প্রবেশ করাতে হতো। সৈন্যদের মাঝে ব্যাপকভাবে এ গুজব ছড়িয়ে পড়ল যে, এই টোটায় গরু ও শূকরের চর্বি মিশ্রিত আছে। ফলে উভয়ই ধর্মনাশের কথা ভেবে বিদ্রোহী হয়ে ওঠে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!