বাণিজ্যিক ব্যাংক বিনিময়ের মাধ্যম হিসেবে সাধারণত ব্যাংক চেক, বিনিময় বিল, প্রতায়পত্র, ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড ইত্যাদির প্রচলন করে থাকে। আর্থিক লেনদেন ও দেনা-পাওনা নিষ্পত্তিতে এসব মাধ্যম ব্যবহৃত হয়ে থাকে।
ব্যাংক গ্রাহকের অর্থ জমা রাখার মাধ্যমে অর্থের নিরাপত্তা দিয়ে থাকে। এছাড়া ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতার আর্থিক সচ্ছলতা, সততা এবং ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত জামানত সংগ্রহ করে ব্যাংক গ্রাহকের অর্থের নিরাপত্তা দিয়ে থাকে।
বাণিজ্যিক ব্যাংক জনগণের মাঝে সঞ্চয়ের প্রবণতা সৃষ্টি করে। বাণিজ্যিক ব্যাংক জনগণের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় একত্রিত করে মূলধন গঠন করে। যা পরবর্তীতে ব্যবসায় ও শিল্প-বাণিজ্যে বিনিয়োগের মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করে থাকে।
মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে যে প্রতিষ্ঠান অর্থ ও অর্থের মূল্যে পরিমাপযোগ্য সেবা লেনদেন করে থাকে, তাকে বাণিজ্যিক ব্যাংক বলা হয়। এ ব্যাংক আমানত গ্রহণ, ঋণদান ও অন্যান্য ব্যাংকিং সেবা প্রদান করে থাকে।
বাণিজ্যিক ব্যাংক প্রধানত জনগণের প্রয়োজনের অতিরিক্ত সঞ্চিত অর্থ সংগ্রহ করে। সঞ্চিত অর্থ থেকে আবার ঋণ গ্রাহকদের ধার দিয়ে থাকে। এ ধরনের কার্যের মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংক মুনাফা অর্জন করে থাকে।
বাণিজ্যিক ব্যাংকের তহবিলের মূল উৎস হলো গ্রাহকের নিকট হতে সংগৃহীত আমানত। উক্ত আমানতের অধিকাংশই চাহিবামাত্র ব্যাংক গ্রাহকদের ফেরত দিতে বাধ্য থাকে। যার ফলে ব্যাংককে সবসময় তারল্য বজায় রাখতে হয়। তাই বাণিজ্যিক ব্যাংক দীর্ঘমেয়াদি ঋণ দিতে পারে না। যে কারণে এ ব্যাংককে স্বল্পমেয়াদি ঋণ দিয়ে থাকে।
ব্যাংক গ্রাহকের অর্থ আমানত হিসেবে গ্রহণ করে এবং গ্রাহকদের ঋণদান করে থাকে। প্রদত্ত ঋণ বাবদ ব্যাংক গ্রাহকের নিকট হতে সুদ গ্রহণ করে যা ব্যাংকের প্রধান আয় ব্যাংক ঋণের। মাধ্যমে আমানতের সৃষ্টি করে। এসকল কারণে ব্যাংককে ঋণের ব্যবসায়ী বলা হয়।
বাণিজ্যিক ব্যাংক শিল্প, বাণিজ্য, পরিবহন, যোগাযোগ, গৃহনির্মাণ, শিক্ষার ব্যাপক অগ্রগতি তথা দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক 'উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাণিজ্যিক ব্যাংক জনগণকে বিভিন্ন প্রকার হিসাব খোলার সুযোগ দেয়। উক্ত হিসাবের মাধ্যমে ব্যাংক, গ্রাহকদের সঞ্চিত অর্থ আমানত হিসেবে গ্রহণ করে বিনিয়োগের জন্য পুঁজি বা মূলধন গঠনে সাহায্য করে।
ব্যাংক গ্রাহকের পক্ষে দেনা পরিশোধ ও পাওনা আদায়ের মাধ্যমে গ্রাহকের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে থাকে। যেমন- চেক বা বিলের অর্থ আদায় বা পরিশোধ ইত্যাদি। এসব কাজের জন্য ব্যাংক কমিশন পেয়ে থাকে। তাই ব্যাংককে গ্রাহকের প্রতিনিধি বলা হয়।
ব্যাংক লকার জনগণের সম্পদের নিরাপত্তা বিধান করে জনগণকে সাহায্য করে। জনগণ তার মূল্যবান সম্পদের দলিলপত্র, অলংকারাদি লকার সেবার মাধ্যমে ব্যাংকের কাছে জমা রাখে। ফলে জনগণের সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। এ সেবার বিনিময়ে ব্যাংক গ্রাহক থেকে সার্ভিস চার্জ আদায় করে থাকে।
বাজীরে ঋণ সরবরাহ কাম্যমাত্রায় বজায় রাখাকে ঋণ নিয়ন্ত্রণ বলা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ নিয়ন্ত্রণে মুখ্য ভূমিকা পালন করলেও বাণিজ্যিক ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণ নীতির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে এবং ঋণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে থাকে
যেকোনো দেশের ঋণ নিয়ন্ত্রণের একক অধিকার থাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের। বাণিজ্যিক ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণনীতি ও ঋণ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ঋণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমেই তার ঋণনীতি আর্থিক বাজারে প্রয়োগ করে। এভাবে বাণিজ্যিক ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
বাণিজ্যিক ব্যাংক তার বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনীতির সব খাতকে সমানভাবে উন্নত করার চেষ্টা করে। এতে সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত হয়। আবার, বাণিজ্যিক ব্যাংক আমানত গ্রহণ ও ঋণদানে সকল শ্রেণির জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে। ফলে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য হ্রাস পায়।
সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করাও বাণিজ্যিক ব্যাংকের একটি উদ্দেশ্য। এর জন্য ব্যাংক সময়ের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন অর্থনৈতিক সেবা দেয়। আধুনিক ব্যাংকের প্রতিটি সেবাই গ্রাহকের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সহায়ক। ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, মোবাইল ব্যাংকিং ইত্যাদি এ ধরনের সেবার অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ, ডেবিট কার্ড ও ক্রেডিট কার্ড ইস্যুর মাধ্যমে বাণিজ্যিক ব্যাংক জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের উদ্দেশ্য অর্জন করে।
বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান কাজটি হলো আমানত গ্রহণ। এ ব্যাংক আমানতকারীদের নিকট হতে তাদের সঞ্চয় চলতি, সঞ্চয়ী ও স্থায়ী আমানত হিসেবে গ্রহণ করে।
বাণিজ্যিক ব্যাংক জনগণকে বিভিন্ন প্রকার হিসাব খোলার সুযোগ দেয়। উক্ত হিসাবের মাধ্যমে ব্যাংক গ্রাহকদের সঞ্চিত অর্থ আমানত হিসেবে গ্রহণ করে বিনিয়োগের জন্য পুঁজি বা মূলধন গঠন করে থাকে।
বাণিজ্যিক ব্যাংক আমানতকারীদের সুদ প্রদান করে থাকে। আবার, ঋণগ্রহীতাদের নিকট থেকে তার অধিকতর হারে সুদ আদায় করে। উভয় সুদের পার্থক্যই হলো বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রকৃত সুদ বা নিট সুদ, যা ব্যাংকের কার্য পরিচালনাগত আয়ের একটি অংশ।
বাণিজ্যিক ব্যাংক সৃষ্ট বিনিময়ের মাধ্যমগুলো হলো চেক, প্রত্যয়পত্র, ব্যাংক ড্রাফট, পে-অর্ডার, ডেবিট কার্ড, ক্রেডিট কার্ড ইত্যাদি।
ব্যাংকের যে সেবা গ্রহণ করে গ্রাহক তার মূল্যবান সম্পদের দলিলপত্র, অলংকারাদি ব্যাংকের নিকট নিরাপদে সংরক্ষণ করতে পারে, তাকে ব্যাংকের লকার সেবা বলা হয়। এ সেবার বিপরীতে ব্যাংক সার্ভিস চার্জ আদায় করে থাকে।
ঋণ প্রদান করা ব্যাংকের একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কারণ ঋণগ্রহীতাদের ঋণ দিয়ে ব্যাংক একদিকে উৎপাদনমুখী কাজে সহায়তা করে। অন্যদিকে, ঋণের ওপর, আদায়কৃত সুদ ব্যাংকের আয়ের প্রধান উৎস হিসেবে কাজ করে।
শিল্পোন্নয়ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিশেষ ও অন্যান্য কাজের অন্তর্ভুক্ত। এ ব্যাংক বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানকে দীর্ঘমেয়াদে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে শিল্পোন্নয়নে সাহায্য করে থাকে।
কৃষি উন্নয়ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিশেষ ও অন্যান্য কাজের অন্তর্ভুক্ত। এ ব্যাংক কৃষিক্ষেত্রে ঋণ ও অন্যান্য সহযোগিতা প্রদানের মাধ্যম কৃষি উন্নয়ন ত্বরান্বিত করছে।
বিনিময়ের প্রধান মাধ্যম মুদ্রা বা অর্থ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নোট ইস্যু ও প্রচলন করলেও বাণিজ্যিক ব্যাংক পরোক্ষভাবে নোট ইস্যু করে থাকে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায় সোনালী ব্যাংকে কোনো ব্যক্তির সঞ্চয়ী হিসাবে ১ লক্ষ টাকা জমা আছে। তিনি ৬০ হাজার টাকায় কম্পিউটার ক্রয় করে তার অ্যাকাউন্টের চেকে তিনি টাকা পরিশোধ করতে পারেন। এভাবে ব্যাংক চেক বিনিময় মাধ্যম তথা নোট হিসেবে কাজ করে। অর্থাৎ বাণিজ্যিক ব্যাংক পরোক্ষভাবে নোট ইস্যু করে।
ব্যাংক বিশেষত বাণিজ্যিক ব্যাংক মঞ্জুরিকৃত ঋণের অর্থ ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে প্রদান করে ঋণ আমানত সৃষ্টি করে। ঋণ গ্রহণের সময় ঋণগ্রহীতাকে ব্যাংকের সাথে একটি হিসাব খুলতে হয়। ঋণের অর্থ সেই হিসাবে জমা বা ক্রেডিট করা হয়। এরপর ঋণগ্রহীতা যত পরিমাণ টাকা সেই হিসাব থেকে উত্তোলন করে, তা ঐ হিসাবে ডেবিট করা হয়। এভাবে ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে আমানতের সৃষ্টি করে
প্রত্যয়পত্র হলো আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে ব্যবহৃত একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। প্রত্যয়পত্রের মাধ্যমে ব্যাংক বৈদেশিক বাণিজ্যে রপ্তানিকারককে আমদানিকারকের পক্ষ থেকে অগ্রিম অর্থ প্রদানের ব্যবস্থা করে। এটি এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে আমদানি ও রপ্তানিকারকের মধ্যে আর্থিক এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক স্থাপনের ক্ষেত্রে ব্যাপক ভূমিকা রাখে।
বাণিজ্যিক ব্যাংক একাধিক শাখা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যক্রম সম্পাদন করে থাকে। বিভিন্ন অঞ্চলে এ ব্যাংকের শাখা প্রতিষ্ঠা করায় গ্রাহকরা ব্যাংকিং সেবা গ্রহণের সুযোগ পায়। যার ফলে আঞ্চলিক উন্নয়ন হয়ে থাকে।
বাণিজ্যিক ব্যাংকের তহবিলের অভ্যন্তরীণ উৎসগুলো হলো পরিশোধিত মূলধন এবং সংরক্ষিত তহবিল। ব্যাংকের প্রাথমিক তহবিল হলো পরিশোধিত মূলধন। অন্যদিকে, ভবিষ্যৎ সমস্যা মোকাবিলার জন্য সংরক্ষিত তহবিল গঠন করা হয়। ব্যাংকের জন্য উভয় তহবিলই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বাণিজ্যিক ব্যাংকের তহবিলের প্রধান উৎসটি হচ্ছে পরিশোধিত মূলধন। ব্যাংক শেয়ার বিক্রি করে যে মূলধন সংগ্রহ করে তাকে পরিশোধিত মূলধন বলে। ব্যাংক যদি অংশীদারি কারবারি প্রতিষ্ঠান হয় তবে মালিকগণ নিজেরা মূলধন সরবরাহ করে এবং যৌথমূলধনি প্রতিষ্ঠান হলে শেয়ার ইস্যু করে মূলধন গঠন করা হয়।
সংরক্ষিত তহবিল হলো বাণিজ্যিক ব্যাংকের তহবিল সংগ্রহের একটি অভ্যন্তরীণ উৎস। বাণিজ্যিক ব্যাংক প্রত্যেক বছর মুনাফার একটি অংশ শেয়ারহোল্ডার বা মালিকগণের নিকট বণ্টন না করে ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করে রাখার যে ব্যবস্থা গ্রহণ করে, তাকেই মূলত সংরক্ষিত তহবিল বলে। এই অর্থ ভবিষ্যতে মূলধন হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
মুনাফার যে অংশ শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে বণ্টন না করে ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করে রাখা হয় তাকে সংরক্ষিত তহবিল বলে। আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষিত তহবিলের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ সংরক্ষিত তহবিল প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে মূলধন হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। ফলে বাধ্যতামূলক কোনো মূলধন ব্যয় সৃষ্টি হয় না।
বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো হতে যে ঋণ নেয় তাকে 'ধার গ্রহণ' বলে। আবার সিকিউরিটি বা ঋণপত্র বিক্রয় করেও মুদ্রাবাজার হতে তহবিল সংগ্রহ করে, যা 'ধার গ্রহণ' হিসেবে বিবেচিত হয়।
বাণিজ্যিক ব্যাংকের আয়ের উৎস হলো- খঋণের সুদ, বিনিয়োগ বিল বাট্টাকরণ, লকার ভাড়া, বৈদেশিক বিনিময়, প্রত্যয়পত্র ইত্যাদি।
বাণিজ্যিক ব্যাংকের আয়ের প্রধান উৎস হলো ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত ঋণের বিপরীতে প্রাপ্য সুদ। এ ব্যাংক কম সুদের বিনিময়ে জনগণের সঞ্চিত অর্থ আমানত হিসেবে নেয়। আবার, উক্ত অর্থ বেশি সুদের বিনিময়ে বিভিন্ন খাতে ঋণ হিসেবে দেয়। উভয় সুদের পার্থক্যের ফলে অর্জিত হয় এ মুনাফা। তাই ঋণের সুদকে বাণিজ্যিক ব্যাংকের আয়ের প্রধান উৎস বলা হয়।
বিদেশে ভ্রমণের জন্য ট্রাভেলারস চেক ইস্যু করা হয়। এর মাধ্যমে গ্রাহক বিদেশে নির্দেশিত এক বা একাধিক শাখা থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে পারে। শুধু ভ্রমণকারী নিজেই এ অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে। তবে এ দলিলের মাধ্যমে গ্রাহক কোনো ব্যবসায়িক লেনদেন করতে পারে না। ট্রাভেলারস চেক ইস্যু করে ব্যাংক কমিশন আদায় করে থাকে।
বাণিজ্যিক ব্যাংক একটি মুনাফা অর্জনকারী প্রতিষ্ঠান। এ ব্যাংক বিভিন্ন লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করে মুনাফা অর্জন করে থাকে। এ ব্যাংক শেয়ার, ঋণপত্র, সরকারি সিকিউরিটি ইত্যাদি লাভজনক খাতে বিনিয়োগ করে থাকে।
একদেশের মুদ্রাকে অন্যদেশের মুদ্রায় রূপান্তর করাই হলো বৈদেশিক বিনিময়। বৈদেশিক বিনিময়ে সহায়তার উদ্দেশ্যে বাণিজ্যিক ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়-বিক্রয় করে এবং এর মাধ্যমে মুনাফা অর্জন করে থাকে।
বিনিময় বিল মেয়াদপূর্তির পূর্বে ভাঙিয়ে অর্থ সংগ্রহ করাকে বিনিময় বিল বাট্টাকরণ বলে। বাণিজ্যিক ব্যাংক ব্যবসায়ীদের বিনিময় বিল মেয়াদপূর্তির পূর্বে বাট্টা করে। বাট্টাকৃত বিনিময় বিলখানির মেয়াদ পূর্ণ হলে ব্যাংক তা সংশ্লিষ্ট স্বীকৃতিকারীর নিকট উপস্থাপন করে তার সম্পূর্ণ মূল্য আদায় করে। এক্ষেত্রে বিনিময় বিলের সম্পূর্ণ মূল্য ও বাট্টাকৃত মূল্যের পার্থক্যই ব্যাংকের আয়।
বাণিজ্যিক ব্যাংকের আয়ের পাশাপাশি অনেক ব্যয় সংগঠিত হয়। এ ব্যাংকের কয়েকটি র্যয়ের খাত হলো- আমানতকারীর আমানতের ওপর সুদ, কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রদত্ত ঋণের ওপর সুদ, নিরীক্ষকের বিল; শুল্ক ও কর, বিজ্ঞাপন খরচ, কর্মীদের প্রশিক্ষণ খরচ ইত্যাদি।
যোগাযোগ খরচ' বাণিজ্যিক ব্যাংকের একটি ব্যয়ের খাত। বাণিজ্যিক ব্যাংক ডাক, তার, টেলিফোন, টেলেক্স, ফ্যাক্স, সুইফট বাবদ যে খরচ করে তা হলো বাণিজ্যিক ব্যাংকের 'যোগাযোগ খরচ'।
এই অধ্যায় পাঠের মাধ্যমে শিক্ষার্থীৱা বৰ্তমান বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রধান ভূমিকা পালনকারী বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক সম্পর্কে ধারণা লাভ করতে পারবে। তাছাড়া বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রধান ও বিশেষ কার্যাবলি, উদ্দেশ্য, সমাজ গঠনে তার ভূমিকা, আমদানি-রপ্তানিতে তার সহায়তা, অর্ণ হাসার, কৃষি ও উন্নয়নে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ভূমিকা সম্পর্কে ধারণা লাভ করা যাবে। এছাড়া বাণিজ্যিক ব্যাংকের তহবিলের উৎস, তহবিল বিনিয়োগ এবং তার আয়-ব্যয়ের ক্ষেত্র সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা ধারণা লাভ করতে পারবে।

এই অন্যার পাঠ শেষে আমরা -
- বাণিজ্যিক ব্যাংকের ধারণা ও পরিচিত্তি ব্যাখ্যা করতে পারব।
- বাণিজ্যিক ব্যাংকের উদ্দেশ্য মূল্যায়ন করতে পারব।
- বাণিজ্যিক ব্যাংকের কার্যাবলি বিশ্লেষণ করতে পারব।
- বাণিজ্যিক ব্যাংকের আর ও ব্যরের খাত সমূহ চিহ্নিত করতে পারব।
Related Question
View Allবাণিজ্যিক ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে আমানত সৃষ্টি করে
ব্যাংক যখন কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ঋণ দেয় তখন সরাসরি নগদ অর্থ না দিয়ে তার হিসাবের জমা বা ক্রেডিট করে। ফলে তা পুনরায় ব্যাংকে আমানত হিসেবে জমা হয়। এরপর ঋণগ্রহীতা চেকের মাধ্যমে আমানত হিসাব থেকে উও্লন করে । এভাবে বাণিজ্যিক ব্যাংক ঋণের আমানত সৃষ্টি করে
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!