প্রাচীন বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় মৌর্য, শুঙ্গ, কুষাণ গুপ্ত, পাল ও সেন আমলের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হয়েছিল। জন ইতিহাসের পাঠ এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। প্রাচীনকালের জন্য ইতিহাসের উপাদান বিস্তৃত। থাকে তার চিত্রকলা, ভাষ্কর্য, সাহিত্য ও লোকাচার সূত্রের মধ্যে।
মৌর্য শাসনের পূর্বে বাংলার অধিবাসীদের মধ্যে তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে ওঠেনি। কেননা এ সময়ে সমাজ বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত ছিল। আর্যপূর্ব কিছু কিছু ধর্মচিন্তা বা দর্শন পরবর্তী সময়ে বাংলার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জীবনে ছড়িয়ে পড়ে। আর্যভাষী ব্রাহ্মণ্য সমাজে জাতিভেদ প্রথা অত্যন্ত ব্যাপক ছিল।
হিন্দু সমাজে জাতিভেদ প্রথা প্রচলন ছিল। বিভিন্ন পেশাকে - ভিত্তি করেই বর্ণের সৃষ্টি। ব্রাহ্মণ, কায়স্থ, বৈশ্য ও শূদ্র এ চারটি। উল্লেখযোগ্য বর্ণ ছিল সমাজে। বর্ণপ্রথা কঠোরভাবে পালিত হতো। ফলে এ বর্ণের সাথে অন্য বর্ণের বিবাহ আদান-প্রদান নিষিদ্ধ ছিল।
প্রাচীন বাংলার হিন্দু সমাজে জাতিভেদ প্রথা প্রচলন ছিল। তখন হিন্দুদের মধ্যে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র এ চারটি বর্ণের বিভাজন ছিল। তাদের প্রত্যেকের নির্দিষ্ট পেশা ছিল। অধ্যয়ন, অধ্যাপনা ও পূজা-পার্বণ করা এগুলো ছিল ব্রাহ্মণদের নির্দিষ্ট কর্ম। তারা সমাজে সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা লাভ করতো। ব্রাহ্মণ ছাড়া বাকি সব বর্ণের মানুষ একে অন্যের সাথে মেলামেশা করত।
প্রাচীন বাংলার হিন্দু সমাজে জাতিভেদ প্রথা প্রচলন ছিল। তখন হিন্দুদের মধ্যে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র এ চারটি বর্ণের বিভাজন ছিল। তাদের প্রত্যেকের নির্দিষ্ট পেশা ছিল। ক্ষত্রিয়দের পেশা ছিল যুদ্ধ করা। তারা যুদ্ধবিগ্রহ ও রাজকার্য পরিচালনা করত।
প্রাচীন বাংলার হিন্দু সমাজে জাতিভেদ প্রথা প্রচলন ছিল। তখন হিন্দুদের মধ্যে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র এ চারটি বর্ণের বিভাজন ছিল। তাদের প্রত্যেকের নির্দিষ্ট পেশা ছিল। বৈশ্যদের কাজ ছিল ব্যবসায় বাণিজ্য করা। তারা সামাজিক দিক দিয়ে নিম্ন মর্যাদার ছিল।
প্রাচীন বাংলার হিন্দু সমাজে জাতিভেদ প্রথা প্রচলন ছিল। তখন হিন্দুদের মধ্যে ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র এ চারটি বর্ণের বিভাজন ছিল। তাদের প্রত্যেকের নির্দিষ্ট পেশা ছিল। সবচেয়ে নীচু শ্রেণির শূদ্ররা সাধারণত কৃষি কাজ, মাছ-শিকার ও অন্যান্য ছোটখাটো কাজ করত। তাদের ধর্মীয় বাণী শোনাও নিষেধ ছিল।
প্রাচীন বাংলায় মেয়েরা লেখাপড়া শিখত। সে যুগে অবরোধ বা পর্দাপ্রথা ছিল না। তবে বাংলার মেয়েদের কোনো প্রকার স্বাধীনতা ছিল না। একটি বিবাহ ছিল সম্রাজের নিয়ম। পুরুষেরা বহু স্ত্রী রাখতে পারত। বিধবাকে নিরামিষ আহার করে সব ধরনের বিলাসিতা ত্যাগ করতে হতো। স্বামীর মৃত্যু হলে স্ত্রীকেও মৃত স্বামীর চিতায় সহমরণে যেতে হতো। ধন-সম্পত্তিতে নারীদের কোনো অধিকার ছিল না।
সতীদাহ প্রথা মৃত স্বামীর চিতার সঙ্গে বিধবা স্ত্রীকেও জীবন্ত দাহ করার এক হিন্দুধর্মীয় প্রথা। স্বামীর মৃত্যু হলে স্ত্রীকেও মৃত স্বামীর চিতায় সহমরণে যেতে হতো। এ প্রথাকে বলা হতো 'সতীদাহ প্রথা'।
প্রাচীন বাংলার অধিবাসীদের ভাত, মাছ, মাংস, শাকসবজি, ক্ষীর প্রধান খাদ্য ছিল। চাল থেকে তৈরি করা পিঠাও জনপ্রিয় মুখরোচক খাবার ছিল। ফলের মধ্যে আম, কাঁঠাল, কলা, তাল, পেঁপে, নারকেল, ইক্ষু পাওয়া যেত। খাওয়া শেষে মসলাযুক্ত পান খাওয়ার রীতি ছিল।
প্রাচীন বাংলায় রাজা মহারাজা ও ধনীদের বাদ দিলে পোশাকের ব্যাপারে তেমন আড়ম্বর ছিল না। নরনারীরা যথাক্রমে ধুতি ও শাড়ি পরত। বিশেষ উৎসব-অনুষ্ঠানে নারী-পুরুষ উভয়ে অলংকার ব্যবহার করত। পুরুষেরা মাঝে মাঝে কাঠের খড়ম বা চামড়ার চটিজুতা ব্যবহার করত। এসময় ছাতার প্রচলন ছিল।
প্রাচীন বাংলার সমাজে নাচ-গান ও অভিনয়ের প্রচলন ছিল খুব বেশি। বীণা, বাঁশি, মৃদঙ্গ, ঢাক, ঢোল, খোল, করতাল ইত্যাদি তো ছিলই, এমনকি মাটির পাত্রকেও বাদ্যযন্ত্ররূপে ব্যবহার করা হতো।
প্রাচীন বাংলার সমাজে নানা রকম খেলাধুলার ব্যবস্থা ছিল। কুস্তি, শিকার, ব্যায়াম, নৌকাবাইচ ও বাজিকরের খেলা পুরুষদের খুব পছন্দ ছিল। নারীদের মধ্যে উদ্যান রচনা, জলক্রীড়া ইত্যাদি আমোদ-ও প্রমোদের প্রচলন ছিল।
প্রাচীন বাংলার মানুষের যাতায়াতের প্রধান বাহন ছিল গরুর গাড়ি ও নৌকা। খাল-বিলে চলাচলের জন্য ভেলা ও ডোঙ্গা ব্যবহার করা হতো। মানুষ ছোট ছোট খাল পার হতো সাঁকো দিয়ে। ধনী লোকেরা হাতি, ঘোড়া, ঘোড়ার গাড়ি প্রভৃতি যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করত। তাদের স্ত্রী-পরিজনেরা নৌকা ও পালকিতে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে আসা-যাওয়া করত।
বাংলা চিরকালই কৃষিপ্রধান দেশ। কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবে বাংলার অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বাস করে। এদেশের অধিকাংশ জনগোষ্ঠী কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। এ কারণে প্রাচীন বাংলার অধিবাসীদের অধিকাংশই গ্রামে বাস করত।
বাংলা চিরকালই কৃষিপ্রধান দেশ। প্রাচীনকালে অধিকাংশ মানুষই গ্রামে বাস করত আর গ্রামের আশপাশের ভূমি চাষ করে সংসার চালাত। তাই এদেশের অর্থনীতি গড়ে উঠেছে কৃষির ওপর নির্ভর করে।
ধান ছিল বাংলার প্রধান ফসল। এ ছাড়া, পাট, ইক্ষু, তুলা, নীল, সরিষা ও পান চাষের জন্য বাংলার খ্যাতি ছিল। ফলবান বৃক্ষের মধ্যে ছিল আম, কাঁঠাল, নারকেল, সুপারি, ডালিম, কলা, লেবু, ডুমুর, খেজুর ইত্যাদি। এলাচি, লবঙ্গ প্রভৃতি মসলাও বাংলায় উৎপন্ন হতো
স্থল ও জলপথে ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে বাংলার পণ্য বিনিময় চলতো। এ কারণে বাংলার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় নগর ও বাণিজ্য বন্দর গড়ে উঠেছিল। এগুলো হলো- নব্যাবশিকা, কোটীবর্ষ, পুণ্ড্রবর্ধন, তাম্রলিপ্তি, কর্ণসুবর্ণ, সপ্তগ্রাম ইত্যাদি। অবশ্য শহরে ছাড়া গ্রামের হাটবাজারেও কিছু কিছু ব্যবসায় বাণিজ্য চলতো।
প্রাচীন বাংলায় সমুদ্রপথে বিভিন্ন দেশের সাথে বাণিজ্য হতো। এ সময় সমুদ্রপথে সিংহল, ব্রহ্মদেশ, চম্পা, কম্বোজ, যবদ্বীপ, মালয়, শ্যাম, সুমাত্রা, চীন প্রভৃতি দেশের সঙ্গে বাংলার পণ্য বিনিময় চলতো। স্থলপথে চীন, নেপাল, ভুটান, তিব্বত ও মধ্য এশিয়া প্রভৃতি দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ ছিল।
বিনিময় প্রথা হলো একটি দ্রব্য বা পণ্যের বিনিময়ে আরেকটি পণ্যের লেনদেন। শিল্পের উন্নতি ও ব্যবসায় বাণিজ্যের প্রসারের ফলে বাংলার ধন-সম্পদ ও ঐশ্বর্য প্রচুর বৃদ্ধি পেয়েছিল। প্রাচীনকালে হয়ত ক্রয়-বিক্রয় এবং ব্যবসায় বাণিজ্যের জন্য 'বিনিময় প্রথা' প্রচলিত ছিল। সম্ভবত খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতকের পূর্বে বাংলায় মুদ্রার প্রচলন আরম্ভ হয়।
প্রাচীন বাংলার কুটির শিল্পে অত্যন্ত সমৃদ্ধ ছিল। মাটির তৈরি জিনিসপত্রের মধ্যে ছিল কলস, ঘটি-বাটি, হাঁড়ি-পাতিল, বাসনপত্র ইত্যাদি। লোহার তৈরি জিনিসপত্রের মধ্যে ছিল দা, কুড়াল, কোদাল, খুন্তা, খুরপি, লাঙল ইত্যাদি। এছাড়া জলের 'পাত্র, তীর, বর্শা, তলোয়ার প্রভৃতি যুদ্ধের অস্ত্রশস্ত্র তৈরি হতো।
বস্ত্র শিল্পের জন্য বাংলা প্রাচীনকাল থেকেই বিখ্যাত হয়ে উঠেছিল। বিশ্বখ্যাত মসলিন কাপড় বাংলায় তৈরি করা হতো। এ. কাপড়! এতই সূক্ষ্ম ছিল যে, ২০ গজ মসলিন কাপড় একটি নস্যের কৌটায় ভরা যেত। তখনকার দিনের রাজারানীরা এ কাপড় পরিধান করত।
প্রাচীন বাংলার প্রত্নস্থান হিসেবে প্রাথমিক যুগের স্থাপত্য নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে চন্দ্রকেতুগড়, বানগড়, মঙ্গলকোট, তামলিপ্তি, মহাস্থানগড় কিংবা উয়ারী-বটেশ্বর থেকে। তবে উপযুক্ত তথ্যের অভাবে সেখানে প্রাপ্ত নিদর্শনের স্থাপত্যিক-পরিকল্পনা, নির্মাণ-পদ্ধতি ও কাঁচামাল সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা মেলেনি।
প্রাচীন বাংলার স্থাপত্যের মধ্যে কুমিল্লা জেলার লালমাই-ময়নামতি, নওগাঁ জেলার পাহাড়পুর, বগুড়া জেলার মহাস্থানগড় অঞ্চল, দিনাজপুর, রাজশাহী, যশোরের ভরত ভায়না, ঢাকার সাভার, পশ্চিমবঙ্গের জগজ্জীবনপুর, বিহারের নালন্দা এবং নরসিংদীর জেলার উয়ারী-বটেশ্বর প্রভৃতি অঞ্চলে স্থাপত্য আবিষ্কৃত হয়েছে।
বৌদ্ধ-স্থাপত্যের সর্বপ্রাচীন নিদর্শন হিসেবে প্রাপ্ত স্তূপগুলোর উৎপত্তি-কাল অনির্ধারিত। এই স্তূপগুলোর বেশির ভাগ পাওয়া গিয়েছে বৌদ্ধ বিহার সন্নিহিত এলাকায়। প্রাথমিক দিকের নিদর্শন হিসেবে কুমিল্লার কুটিলামুড়া, ইটাখোলা মুড়া, ভোজবিহার, রূপবান মুড়ার পাশাপাশি নওগাঁ জেলার বদলগাছি থানার পাহাড়পুর বিহারের পূর্বে অবস্থিত সত্যপীর ভিটার কথা বলা যায়।
ধর্মীয় পরিব্রাজক তথা সংসারত্যাগী বৌদ্ধ ভিক্ষুদের আবাসস্থল হিসেবে বিহার বিখ্যাত। রৌদ্ধগ্রন্থ বিনয় পিটক অনুযায়ী ভিক্ষুন্দর বসবাসের জন্য বৃহৎ স্থাপত্যিক অবকাঠামো এবং একটি সুসংগঠিত আশ্রমকে বিহার বলা হয়। বাংলাদেশের নানা স্থান থেকে অনেকগুলো বিহার স্থাপত্য আবিষ্কৃত হয়েছে।
প্রাচীন বাংলার ইতিহাসে পাল রাজাদের অসংখ্য বৌদ্ধ বিহার নির্মাণের উল্লেখ পাওয়া যায়। রাজা ধর্মপাল সোমপুর বিহার, বিক্রমশীল বিহার ও ওদন্তপুর বিহার নির্মাণ করেন। এছাড়া পাল আমলে মালদহের 'জগদুল বিহার', 'দেবীকোট বিহার', চট্টগ্রামের 'পণ্ডিত বিহার', ত্রিপুরার 'কনকস্তূপ' প্রভৃতি বিহার নির্মিত হয়।
কুমিল্লা জেলার কোটবাড়ি-সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত শালবন বিহার বাংলাদেশের বিহার স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন। রাজা ভবদেব আনুমানিক সাত শতকের শেষভাগে ১১৫টি কক্ষবিশিস্ট এই বিহার নির্মাণ করেছিলেন।
পালবংশের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা ধর্মপাল নওগাঁ জেলার বদলগাছি। থানার পাহাড়পুর নামক স্থানে এক বিশাল বিহার প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ইতিহাসে পাহাড়পুর বা সোমপুর বিহার নামে পরিচিত। আট শতকে এ রিহার নির্মিত হয়। এ বিহারে ১৭৭ কক্ষের সন্ধান পাওয়া যায়।
রাজা ধর্মপাল আট শতকে নওগাঁ জেলার পাহাড়পুর নামক স্থানে এক বিশাল বিহার প্রতিষ্ঠা করেন। এটি ইতিহাসে পাহাড়পুর বা সোমপুর বিহার নামে পরিচিত। এ বিহারটি জাতিসংঘের ইউনিসেফ কর্তৃক বিশ্বসভ্যতার নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে।
বাংলাদেশে স্থাপত্য শিল্পের ইতিহাসে পাহাড়পুরের মন্দির এক অনন্য কীর্তি। কারণ উপমহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নির্মিত স্থাপত্য শিল্পকে এটি গভীরভাবে প্রভাবিত করে। এমন কি বার্মা ও জাভার বহুপ্রাচীন মন্দির এ মন্দিরের অনুকরণে তৈরি করা হয়েছিল। এ কারণেই উপমহাদেশের ইতিহাসে পাহাড়পুরের মন্দিরের গুরুত্ব অপরিসীম।
বাংলাদেশের নানা স্থান থেকে আবিষ্কৃত অন্য বিহারের মধ্যে ভাসুবিহার বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ থানায় অবস্থিত। মহাস্থানগড়ের পশ্চিমে অবস্থিত এ বিহারে প্রায় ২৬টি ভিক্ষুকৃক্ষ রয়েছে যার নির্মাণ-উপাদান হিসেবে ইট ও মর্টার হিসেবে কাদা-মাটি ব্যবহৃত হয়েছে।
প্রাচীন বাংলার শিল্পকলার নিদর্শন হিসেবে বিভিন্ন মৃৎপাত্রের অলংকরণ, টেরাকোটা নিদর্শন ও ভাস্কর্যের কথা বলা যেতে পারে। বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রত্নস্থান খননে এই ধরণের নানাবিধ প্রত্ননিদর্শন 'আবিষ্কার করা সম্ভব হয়েছে। অনেক সময় বিভিন্ন এলাকার পুর খুঁড়তে গিয়েও এমন উপকরণের দেখা মিলেছে।
প্রাচীন বাংলার খোদিত ভাস্কর্য ছাড়াও বিভিন্ন পোড়ামাটির শিল্প খুবই উন্নত ছিল। এসময় কুমিল্লার ময়নামতি ও লালমাই পাহাড়ে বেশ কিছু পোড়ামাটির ফলক ও মূর্তি আবিষ্কৃত হয়েছে। এ পোড়ামাটির ফলক ও মূর্তি তৎকালীন সময়ের শিল্পের উৎকর্ষতা প্রমাণ করে।
মানুষ যা করে তাই তার সংস্কৃতি। জীবন বাঁচানোর জন্য মানুষের প্রথমত তিনটি জিনিসের প্রয়োজন। যথা- খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থান। এরপর জীবন মানবজীবনকে সুন্দরভাবে এগিয়ে নিতে শিক্ষা, বিজ্ঞান, শিল্পকলা প্রভৃতি উন্নয়নে কাজ করে। সমাজ জীবন বিকাশে মানুষের এসব কাজকর্মের একত্রিত রূপই হচ্ছে তার সংস্কৃতি।
অস্ট্রিক ছিল বাংলার আদি অধিবাসীদের ভাষা। আর্যদের ভাষার নাম প্রাচীন বৈদিক ভাষা। পরবর্তীকালে এ ভাষাকে সংস্কার করা হয় বলে এর নাম হয়, সংস্কৃত ভাষা। সংস্কৃত হতে প্রাকৃত এবং প্রাকৃত হতে অপভ্রংশ ভাষার উৎপত্তি হয়। অপভ্রংশ ভাষা হতে অষ্টম বা নবম শতকে বাংলা ভাষার সৃষ্টি হয়।
বৈদিক যুগের শেষ দিকে আর্যরা বাংলায় আগমন শুরু করে। তাদের ভাষ্য ছিল প্রাচীন বৈদিক ভাষা। পরবর্তীকালে তাদের ভাষা সংস্কার করা হয়। পুরনো এ ভাষা সংস্কার করা হয় বলে এ ভাষার নাম হয় সংস্কৃত ভাষা। এভাবে সংস্কৃত ভাষার সৃষ্টি হয়।
চর্যাপদ হলো বাংলা ভাষায় প্রাচীনতম নিদর্শন। এটি সংগ্রহ করেন হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। এর পদসংখ্যা ৫১টি, তবে এখন পর্যন্ত ৪৭টি পদ পাওয়া গেছে। চর্যাপদ নেপালের রাজপ্রাসাদ থেকে সংরক্ষণ করা হয়। এ চর্যাপদের মাধ্যমেই বাংলা সাহিত্যের জন্ম হয়।
বাংলা ভাষার এরূপ প্রাচীনতম নিদর্শন পাওয়া যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কর্তৃক নেপাল থেকে সংগৃহীত চর্যাপদে। তিনি এ চর্যাপদ ১৯০৭সালে সংগ্রহ করেন। চর্যাপদগুলোর মধ্যেই বাংলা সাহিত্যের জন্ম হয়। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে চর্যাপদগুলোর মূল্য অপরিসীম।
প্রাচীন বাংলায় আর্যদের আগমনের পূর্বে কোনো ধর্ম প্রচলিত ছিল তা সঠিকভাবে বলা যায় না। প্রাচীন বাংলায় বৈদিক, পৌরাণিক, জৈন, বৌদ্ধ ও অন্যান্য ধর্ম প্রচলিত ছিল। তবে এক ধর্মের মানুষের সাথে অন্য ধর্মের মানুষের কলহ ও হিংসা-দ্বেষ ছিল না। তারা মিলেমিশে পাশাপাশি বসবাস করত।
বৈদিক ও ব্রাহ্মণ্য ধর্ম বাংলার বুকে দ্রুত প্রসার লাভ করলেও কালক্রমে এর মধ্যে বিবর্তন দেখা দেয়। এ যুগে পূর্বের দেব-দেবীর পরিবর্তে নতুন নতুন দেব-দেবীর পূজা শুরু হয়। এ নতুন দেব-দেবীরা | ছিলেন মূলত পূরাণ ও মহাকাব্য বর্ণিত দেব-দেবী। তাই এ ধর্মকে পৌরাণিক ধর্ম বলা হয়।
সর্বাপেক্ষা উল্লেখযোগ্য। সূর্য দেবতাকে সকল রোগের আরোগ্য দেবতা বলে পূজা করা হতো। সেন যুগে এ ধর্ম খুব প্রতিপত্তি লাভকরে। তবে সেন-বর্মন যুগের পর সূর্য দেবতার পূজা আর বেশিদিন চলেনি।
প্রাচীন বাংলায় পূজা-পার্বণ ও আমোদ-প্রমোদের প্রচুর ব্যবস্থা ছিল। বর্তমানের সুপরিচিত অনুষ্ঠানগুলো যেমন- ভ্রাতৃদ্বিতীয়া, দশহরা, জন্মাষ্টমী, গঙ্গস্নান, মহাষ্টমী সেকালে প্রচলিত ছিল। এ সময় শাবোরৎসব নামে নৃত্যগীতের অনুষ্ঠান ও হোলাকা বা হলি উৎসব পালন করা হতো।
প্রাচীন বাংলায় পূজা-পার্বণ ও আমোদ-প্রমোদের প্রচুর ব্যবস্থা ছিল। শিশুর জন্মের পূর্বে তার মঙ্গলের জন্য গর্ভাধান, পুংসবন, সীমন্তোন্নয়ন ও শোষ্যন্তীহোম এবং জন্মের পর জাতকর্ম, নামকরণ, অন্নপ্রাশন, পৌষ্টিককর্ম প্রভৃতি অনুষ্ঠান পালন করা হতো।
বাংলার প্রাচীন ধর্মশাস্ত্রে একদিকে সত্য, শৌচ, দয়া, দান প্রভৃতি সর্ববিধ গুণের মহিমা কীর্তন করা হয়েছে এবং অপরদিকে ব্রহ্মহত্যা, সুরা পান, চুরি করা, পরদার গমন (পরস্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক) ইত্যাদিকে মহাপাতকের কাজ বলে গণ্য করে তার জন্য কঠোর শাস্তি ও গুরুতর প্রায়শ্চিত্তের ব্যবস্থা উল্লেখ ছিল।
মানুষের স্বভাব সমাজবদ্ধ হয়ে বসবাস করা।
জীবন বাঁচাতে খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান-এ তিনটি জিনিস প্রথম প্রয়োজন।
জাতি হিসেবে আর্যদের আগমনের পূর্বের বাংলার প্রাচীন মানুষদেরকে নিষাদ বলা হতো।
বাঙালি জনপ্রকৃতিতে বিভিন্ন মানবগোষ্ঠীর ধারা এসে মিলিত হয়েছে, যা তাদের সংকরজন হিসেবে পরিচিতি দান করেছে।
ব্রহ্মদেশ বর্তমানে মিয়ানমার।
মৌর্য শাসনের পূর্বে বাংলায় কোনো রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে ওঠেনি। এ সময় সমাজ বিভিন্ন গোত্রে বিভক্ত ছিল যাকে কৌম সমাজ বলা হতো
প্রাচীন বাংলায় ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্য ও শূদ্র এ চার ধরনের বর্ণপ্রথা প্রচলিত ছিল।
জাতিভেদ প্রথা আর্য সমাজের অত্যন্ত প্রয়োজনীয় অঙ্গ ছিল।
প্রাচীনকালে বাংলায় চার প্রকার বর্ণ ছিল।
স্বামীর চিতায় স্ত্রীকে পুড়িয়ে মারাকে 'সতীদাহ প্রথা' বলা হতো।
সতীদাহ একটি হিন্দু সমাজের ধর্মীয় প্রথা যেখানে স্ত্রীকে মৃত স্বামীর জ্বলন্ত চিতায় দগ্ধ হতে হতো।
প্রাচীনকালে বাংলায় সাধারণ পুরুষদের পোশাক ছিল ধুতি।
বাংলার প্রাচীন ধর্মশাস্ত্রে বাঙালির উন্নত চরিত্রের কথা জানা যায়।
পূর্ববঙ্গে ইলিশ ও শুঁটকি মাছ খুব প্রিয় খাবার ছিল।
পুরুষ-নারী উভয়ের মধ্যে অলঙ্কার ব্যবহারের রীতি প্রচলিত ছিল।
বারো মাসে তেরো পার্বণ অনুষ্ঠিত হতো।
সেন বংশের শাসনামলে বৌদ্ধ সমাজ ও সংস্কৃতিতে দুর্দশা নেমে আসে।
বিধবাকে নিরামিষ আহার করে সব ধরনের বিলাস বর্জন ও কৃষ্ণ সাধন করতে হতো
এদেশের অর্থনীতি কৃষির ওপর নির্ভর করে গড়ে ওঠে।
চাষ করা যায় এমন উর্বর জমিকে ক্ষেত্র বলা হতো।
ঘরবাড়ি তৈরি করে থাকার জন্য উপযুক্ত জমিকে বাস্তু বলা হতো।
খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতকের পূর্বে বাংলায় মুদ্রার প্রচলন শুরু হয়
প্রাচীনকাল হতে বাংলা মসলিন কাপড়ের জন্য বিখ্যাত ছিল।
বিশ্ববিখ্যাত মসলিন কাপড় বাংলায় তৈরি হতো।
কুটির শিল্পে প্রাচীন বাংলা অত্যন্ত সমৃদ্ধ ছিল।
ভারত উপমহাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন স্থাপত্যের নিদর্শন হলো স্তূপ।
ঢাকা জেলার আশরাফপুর প্রামে রাজা দেব খড়গের একটি স্তূপ পাওয়া গেছে।
বৌদ্ধ ভিক্ষুরা যে স্থানে বসে জ্ঞান চর্চা করত সে স্থানকে বিহার বলা হয়।
কুমিল্লা জেলার ময়নামতিতে শালবন বিহার অবস্থিত।
পাহাড়পুরের বিশাল বৌদ্ধ বিহারটি ধর্মপাল অষ্টম রা নবম শতকে নির্মাণ করেন।
রাজশাহীর পাহাড়পুরে আবিষ্কৃত বৌদ্ধ বিহার প্রাচীন বাংলাব স্থাপত্য শিল্পের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন।
বাংলাদেশের স্থাপত্য শিল্পের ইতিহাসে পাহাড়পুরের মন্দির অমর সৃষ্টি।
মহাপণ্ডিতাচার্য বোধিভদ্র সোমপুর বিহারে বাস করতেন।
ধর্মপাল সোমপুর বিহার নির্মাণ করেন।
ফা-হিয়েন চীনের পর্যটক।
কুমিল্লার ময়নামতি ও লালমাই পাহাড়ে পোড়ামাটির ফলক' ও মূর্তি আবিষ্কৃত হয়েছে।
রাজা রামপালের রাজত্বকালে রচিত হয় 'অষ্টসাহসিকা প্রজ্ঞাপারমিতা' পুঁথি।
প্রাচীন বাংলার শিল্পকলার জন্য-পাল, যুগ স্মরণীয়।
প্রাচীন বাংলার মানুষের ভাষা ছিল অস্ট্রিক।
প্রাচীন বাংলার মানুষের ভাষা ছিল অস্ট্রিক।
আর্যদের ভাষার নাম প্রাচীন বৈদিক ভাষা।
দ্রাবিড় গোষ্ঠীর বিভিন্ন শাখার লোকেরা ছিল সুসভ্য জাতির মানুষ।
খ্রিষ্টীয় প্রথম শতকের মধ্যে আর্যরা এদেশে বসতি স্থাপন শেষ করেছিল।
অপভ্রংশ ভাষা হতে বাংলা ভাষার সৃষ্টি হয়।
মাগধী অপভ্রংশের স্থানীয় গৌড়-বঙ্গীয় রূপকে প্রাচীনতম বাংলা ভাষা বলা যায়।
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর দ্বারা নেপাল থেকে চারটি প্রাচীন বৌদ্ধ পুঁথি সংগৃহীত হয়।
মোট ৪৭টি চর্যাপদ পাওয়া গেছে।
বৌদ্ধধর্মের প্রবর্তক ছিলেন গৌতম বুদ্ধ।
প্রাচীন বাংলায় পুরাণ ও মহাকাব্যে বর্ণিত দেব-দেবীর পূজা। শুরু হয় বিধায় একে পৌরাণিক ধর্ম বলা হয়।
ঋজ পূজা, কৌমের লোকদের নিকট ঐক্যের প্রতীক ছিল।
বর্ম ও সেন এ দুই বংশের রাজা মহারাজারা সকলেই ব্রাহ্মণ্য ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন।
পুরোহিতরা ধর্মকর্ম পালন করার সঠিক দায়িত্ব লাভ করেন।
বৈষ্ণবধর্মের সঙ্গে কৃষ্ণলীলা ও রামায়ণ কাহিনী ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
রাজা লক্ষণ সেনের সময় হতে শিবের পরিবর্তে বিষ্ণুর স্তরের প্রচলন হয়।
আর্যাবর্তে পাশুপত ধর্মাবলম্বীরা সবচেয়ে প্রাচীন শৈব সম্প্রদায়।
জৈন সম্প্রদায়ের লোকেরা 'নিগ্রহন্ত' নামে পরিচিত হতো।
প্রাচীন বাংলায়
উমার উপলক্ষে বরেন্দ্রে বিপুল উৎসব হতো।
Related Question
View Allআর্যদের পূর্বে বাংলার ভাষার নাম অস্ট্রিক।
আর্যদের বৈদিক ভাষা থেকেই কালক্রমে বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়। মূলত প্রাচীন যুগে আর্যরা যে ভাষা ব্যবহার করত এবং যে ভাষায় বৈদিক গ্রন্থ রচিত হয় তা সংস্কার করা হয়। সংস্কারের পর এ ভাষা সংস্কৃত নামে অভিহিত হয়। সংস্কৃত হতে প্রাকৃত এবং প্রাকৃত হতে অপভ্রংশ ভাষার উৎপত্তি হয়। অপভ্রংশ ভাষা হতে অষ্টম বা নবম শতকে বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়।
উদ্দীপকে বর্ণিত খাদ্য ও পোশাক পরিচ্ছদের সাথে বাংলার প্রাচীন আমলের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
প্রাচীনকালেও বর্তমান সময়ের মতো বাঙালির প্রধান খাদ্য ছিল ভাত, মাছ, মাংস, শাক-সবজি, দুধ, ক্ষীর ইত্যাদি। খাওয়া-দাওয়া শেষে মসলাযুক্ত পান খাওয়ার রীতি ছিল। চাউল হতে প্রস্তুত নানা প্রকার পিঠা তখন জনপ্রিয় মুখরোচক খাবার ছিল। তাছাড়া নানা জাতের মাছ পাওয়া যেত। পূর্ববঙ্গে ইলিশ ও শুঁটকি মাছ খুব প্রিয় খাবার ছিল। তরকারির মধ্যে বেগুন, লাউ, কুমড়া, ঝিংগে, কাকরোল, কচু উৎপন্ন হতো। ফলের মধ্যে আম, কাঁঠাল, কলা, নারকেল, পেঁপে পাওয়া যেতো। দরকারি বিভিন্ন জিনিস গ্রামেই তৈরি হতো।
আর পোশাক পরিচ্ছদের ক্ষেত্রে প্রাচীন যুগে রাজা মহারাজা ও ধনীদের বাদ দিলে তেমন বিশেষ আড়ম্বর ছিল না। প্রাচীন বাংলার নারী-পুরুষ উভয়েই অলংকার পরতো। তারা কানে কুণ্ডল, গলায় হার, আঙুলে আংটি, হাতে বালা ও পায়ে মল পরিধান করতো। মেয়েদের সাজসজ্জায় আলতা, সিঁদুর ও কুমকুমের ব্যবহার প্রচলিত ছিল।
উদ্দীপকে দেখা যায়, টিনা নীলার বিয়েতে গ্রামের বাড়ি বেড়াতে গিয়ে প্রাচীন বাংলার খাবারের সাথে টিনার বিয়ের আয়োজনে খাদ্যতালিকার মিল দেখতে পায়। সাজসজ্জার ক্ষেত্রেও প্রাচীন যুগের সাথে সাদৃশ্য খুঁজে পায় টিনা। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে টিনা তার বান্ধবী নীলার গ্রামের বাড়িতে যা কিছু প্রত্যক্ষ করেছে সেগুলোর সাথে বাংলার প্রাচীন আমলের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
নীলাদের গ্রামের আর্থিক কাঠামোর মাঝে প্রাচীন বাংলার প্রতিচ্ছবি ফুটে উঠেছে বলে আমি মনে করি।
প্রাচীনকাল থেকেই বাংলা কৃষির জন্য সুখ্যাত ছিল। এ অঞ্চলে পাট, ইক্ষু, তুলা, নারকেল, সুপারি, এলাচ, লবঙ্গ ইত্যাদি উৎপন্ন হতো। এছাড়াও কুটিরশিল্পের মধ্যে মাটির তৈরি কলস, ঘটি-বাটি, বাসনপত্র ইত্যাদি ছিল। আর লোহার তৈরি জিনিসপত্রের মধ্যে ছিল দা, কুড়াল, কোদাল ইত্যাদি। বস্ত্রশিল্পের জন্য বাংলা প্রাচীনকালেই বিখ্যাত হয়ে উঠেছিল। বিশ্বখ্যাত মসলিন কাপড় প্রাচীন কাল থেকেই বাংলায় তৈরি হতো। আর কার্পাস তুলা ও রেশমের তৈরি উন্নতমানের সূক্ষ্ম বস্ত্রের জন্যও বঙ্গ প্রসিদ্ধ ছিল।
বঙ্গে স্থল ও জলপথেই বাণিজ্যের আদান-প্রদান চলত। দেশের ভেতরে বাণিজ্য ছাড়াও সে সময় বাংলার বৈদেশিক বাণিজ্য বেশ উন্নত ছিল। তাছাড়াও প্রাচীন বাংলায় পূজা-পার্বণ ও আমোদ-প্রমোদের ব্যবস্থা ছিল। দুর্গার অর্চনা উপলক্ষে বরেন্দ্রে বিপুল উৎসব হতো। ভ্রাতৃ দ্বিতীয়া, আকাশপ্রদীপ, জন্মাষ্টমী, দশহরা, গঙ্গাস্নান ইত্যাদি অনুষ্ঠান হতো বঙ্গে। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লিখিত গ্রামের আর্থিক কাঠামোর মাঝে প্রাচীন বাংলার চিত্র ফুটে উঠেছে।
সম্ভবত খ্রিষ্টপূর্ব চার শতকের পূর্বে বাংলায় মুদ্রার প্রচলন আরম্ভ হয়।
প্রাচীন বাংলার মানুষের অবস্থা মোটামুটি উন্নত ছিল।
প্রাচীন বাংলার সমাজ জীবনে নানা ধরনের প্রথা বিদ্যমান ছিল। আর প্রাচীন বাংলার অর্থনৈতিক জীবনের মূলভিত্তি ছিল কৃষি। এছাড়াও কুটিরশিল্প গড়ে উঠেছিল বঙ্গে। আর প্রাচীন বাংলায় স্থাপত্য, ভাস্কর্য ও চিত্রশিল্পের বহু নিদর্শন ছিল। তাছাড়াও তৎকালীন বাংলায় বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হতো।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!