জীববিজ্ঞান হলো এক ধরনের প্রাকৃতিক বিজ্ঞান, যা জীব এবং জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা করে। এটি জীবের গঠন, কার্যকলাপ, বৃদ্ধি, বিবর্তন, বিস্তার, পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্ক ইত্যাদি অধ্যয়ন করে। জীববিজ্ঞানকে ইংরেজিতে Biology বলা হয়, যা গ্রিক শব্দ bios (জীবন) এবং logos (জ্ঞান) থেকে এসেছে। জীববিজ্ঞানের শাখাগুলোকে ভৌত জীববিজ্ঞান এবং ফলিত জীববিজ্ঞান এ দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে।
জীবনের ভিত্তিমূলে কাজ করে পদার্থবিজ্ঞান এবং রসায়নের একই ধরনের নিয়ম, যা জড় জগতকেও নিয়ন্ত্রণ করে। এজন্য জীবজগতকে বুঝতে হলে পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের তথা ভৌতবিজ্ঞানের জ্ঞান থাকা জরুরি। অর্থাৎ, জীববিজ্ঞানের জন্য ভৌতবিজ্ঞানের জ্ঞান সহায়ক হিসেবে কাজ করে।
জীবনের ভিত্তিমূলে কাজ করে পদার্থবিজ্ঞান এবং রসায়নের একই ধরনের নিয়ম, যা জড় জগতকেও নিয়ন্ত্রণ করে। তাই জীবজগতকে বুঝতে হলে পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের তথা ভৌত বিজ্ঞানের জ্ঞান থাকা জরুরি।
জীববিজ্ঞানের ভৌত শাখা বলতে সেসব শাখা বোঝানো হয়, যেখানে তার তাত্ত্বিক ভিত্তি অনুসন্ধান করাটা প্রয়োগ-সংক্রান্ত দিকের তুলনায় বেশি গুরুত্ব পায়। যেমন- অঙ্গসংস্থান, শারীরবিদ্যা ইত্যাদি।
অঙ্গসংস্থান (Morphology) হলো ভৌত জীববিজ্ঞানের একটি শাখা। এ শাখায় জীবের সার্বিক অঙ্গসংস্থানিক বা দৈহিক বর্ণনা করা হয়। অঙ্গসংস্থান দুই প্রকার হতে পারে। যথা-বহিঃঅঙ্গসংস্থান ও অন্তঃঅঙ্গসংস্থান। দেহের বাহ্যিক বর্ণনার বিষয়কে বহিঃঅঙ্গসংস্থান এবং দেহের অভ্যন্তরীণ বর্ণনার বিষয়কে অন্তঃঅঙ্গসংস্থান বলা হয়।
জীববিজ্ঞানের যে শাখায় তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাকে ভৌত জীববিজ্ঞান বলে। অঙ্গসংস্থান শাখায় জীবের সার্বিক অঙ্গসংস্থানিক বা দৈহিক গঠন বর্ণনা করা হয়। দেহের বাহ্যিক বর্ণনার বিষয়কে বহিঃঅঙ্গসংস্থান এবং দেহের অভ্যন্তরীণ বর্ণনার বিষয়কে অন্তঃঅঙ্গসংস্থান বলে। এ কারণেই অঙ্গসংস্থানকে জীববিজ্ঞানের ভৌত শাখা বলা হয়।
শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা (Taxonomy) ভৌত জীববিজ্ঞানের একটি শাখা। এ শাখায় জীবের নামকরণ, শ্রেণিবিন্যাস এবং তার রীতিনীতিগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়। জীবের শ্রেণিবিন্যাসের স্তরগুলো হলো রাজ্য, পর্ব, শ্রেণি, বর্গ, গোত্র, গণ ও প্রজাতি।
জীবদেহের নানা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের জৈবরাসায়নিক কার্যাদি; যেমন- শ্বসন, রেচন, সালোকসংশ্লেষণ ইত্যাদি বিষয় নিয়ে ভৌত জীববিজ্ঞানের যে শাখায় আলোচনা করা হয় তাকে শারীরবিদ্যা বলা হয়। এছাড়াও এ শাখায় জীবের যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় কাজের বিবরণ নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বাস্তুবিদ্যা বলতে জীব ও তাদের বাসস্থান, সম্পর্কিত জ্ঞানকে বোঝায়। প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক বিষয়ক - জ্ঞানই হলো বাস্তুবিদ্যা। যেহেতু বাস্তুবিদ্যায় তত্ত্বীয় বিষয়ে আলোচনা - করা হয়। তাই বাস্তুবিদ্যাকে জীববিজ্ঞানের ভৌত শাখা বলা হয়।
হিস্টোলজি ভৌত জীববিজ্ঞানের একটি শাখা। এই শাখাতে টিস্যু সম্পর্কিত তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ শাখায় জীবদেহের টিস্যুসমূহের বিন্যাস, গঠন এবং কার্যাবলি নিয়ে গবেষণার পাশাপাশি গবেষণা করা হয়।
ভূণবিদ্যা হলো ভৌত জীববিজ্ঞানের একটি শাখা। এ শাখায় জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগোট থেকে ভূণের সৃষ্টি, এ শাখায় গঠন, পরিস্ফুটন, বিকাশ প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বংশগতিবিদ্যা হলো ভৌত জীববিজ্ঞানের একটি শাখা। এ শাখায় জিন ও জীবের বংশগতিধারা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। বংশগতিবিদ্যার মূল বিষয়বস্তু হলো- জিন, ডিএনএ, বংশগতির নীতি, বৈচিত্র্য ইত্যাদি। গ্রেগর জোহান মেন্ডেলকে বংশগতির জনক বলা হয়।
বিবর্তনবিদ্যা (Evolution) হলো ভৌত জীববিজ্ঞানের একটি শাখা। এ শাখায় পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ, জীবের বিবর্তন এবং ক্রমবিকাশের তথ্যসমূহের বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। চার্লস ডারউইনকে বিবর্তন বিদ্যার জনক বলা হয়।
জীবভূগোল হলো জীবের ভৌগোলিক বিস্তারের সাথে ভূমণ্ডলের শ্রেণিবিভাগ সম্পর্কিত বিদ্যা। এ শাখায় পৃথিবীর বিভিন্ন ভৌগোলিক সীমারেখায় জীবের বিস্তৃতি এবং অভিযোজন সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
জীববিজ্ঞানের ফলিত শাখা বলতে সেসব শাখাকে বোঝানো হয়, যেখানে তার জীবন সংশ্লিষ্ট প্রায়োগিক বিষয়গুলো তত্ত্বীয় বিষয় থেকে বেশি গুরুত্ব পায়। যেমন- জীবাশ্মবিজ্ঞান, পরজীবীবিদ্যা ইত্যাদি।
জীবাশ্মবিজ্ঞান হলো ফলিত জীববিজ্ঞানের একটি শাখা। এ শাখায় প্রাচীন যুগের জীবের বিবরণ এবং জীবাশ্ম (ফসিল) সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। এ শাখা পৃথিবীর ভূতাত্ত্বিক ইতিহাস এবং জীববৈচিত্র্যের বিবর্তন বুঝার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জীবাশ্মবিজ্ঞানের শাখাগুলো জীবাশ্ম উদ্ভিদবিজ্ঞান, জীবাশ্ম প্রাণিবিজ্ঞান ও জীবাশ্ম অণুজীববিজ্ঞান।
পরজীবীবিদ্যা হলো ফলিত জীববিজ্ঞানের একটি শাখা। এ শাখায় পরজীবিতা, পরজীবী জীবের জীবপ্রণালী এবং য়োগ নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরজীবীবিদ্যা পরজীবীদের গঠন, জীবনচক্র, পোষকদেহের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক এবং রোগ সৃষ্টি প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ করে।
কীটতত্ত্ব হলো ফলিত জীববিজ্ঞানের একটি শাখা। এ শাখায় কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়ক্ষতি, দমন ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। কীটতত্ত্ব বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যেমন- কৃষি, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ইত্যাদি।
জীববিজ্ঞানের কীটতত্ত্ব শাখায় কীটপতঙ্গের জীবন, উপকারিতা, অপকারিতা, ক্ষয়-ক্ষতি, দমন ইত্যাদি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। যেহেতু কীটতত্ত্বে তত্ত্বীয় বিষয় আলোচনা না করে কীটপতঙ্গ সম্পর্কিত প্রায়োগিক বিষয় আলোচনা করা হয়, সেহেতু কীটতত্ত্বকে জীববিজ্ঞানের ফলিত শাখা বলা হয়।
অণুজীববিজ্ঞান হলো ফলিত জীববিজ্ঞানের একটি শাখা। এ শাখায় ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র জীব (অণুজীব) নিয়ে আলোচনা করা হয়। অণুজীবগুলোর মধ্যে রয়েছে ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, আণুবীক্ষণিক ছত্রাক, প্রোটোজোয়া ইত্যাদি। এই জীবগুলো খালি চোখে দেখা যায় না। এগুলো দেখার জন্য অণুবীক্ষণযন্ত্রের প্রয়োজন হয়।
ভাইরাসকে অকোষীয় বলা হয় কারণ ভাইরাস শুধুমাত্র প্রোটিন ও নিউক্লিয়িক এসিডের সমন্বয়ে গঠিত এবং এর কোষীয় কোনো অঙ্গাণু নেই। শুধুমাত্র জীবন্ত পোষক কোষে এরা সংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারে। জীবদেহের বাইরে এরা নির্জীব। এজন্য এরা আন্তঃকোষীয় বাধ্যতামূলক পরজীবী হিসেবে কাজ করে।
ফলিত জীববিজ্ঞান শাখায় রয়েছে জীবন-সংশ্লিষ্ট প্রয়োগিক বিষয়গুলো। চিকিৎসাবিজ্ঞান হলো মানবদেহ, রোগ, চিকিৎসা ইত্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান যা প্রয়োগিক বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত। যেহেতু চিকিৎসাবিজ্ঞান প্রায়োগিক বিষয়বস্তুর অন্তর্ভুক্ত তাই চিকিৎসাবিজ্ঞানকে জীববিজ্ঞানের ফলিত শাখায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানে সমুদ্র ও সমুদ্রের জীব সম্পদ সংরক্ষণ ও মানুষের কল্যাণে ব্যবহার 'সম্পর্কিত প্রায়োগিক বিষয় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। তত্ত্বীয় বিষয়ের উপরে ব্যবহারিক পর্যায়ে জীবন সংশ্লিষ্ট প্রায়োগিক বিষয় আলোচনা করা হয় বলে সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানকে জীববিজ্ঞানের ফলিত শাখা বলা হয়।
জীবপ্রযুক্তি হলো ফলিত জীববিজ্ঞানের একটি শাখা। এ শাখায় জীববিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সমন্বয়ে জীব, জীবকণা অথবা জৈব প্রক্রিয়াকে ব্যবহার করে মানুষের জন্য উপকারী পণ্য তৈরি করা হয়। এটি জীবের জিনগত, উপাদান, কোষ প্রোটিন বা এনজাইমের মতো প্রাকৃতিক উপাদানগুলোর ব্যবহার এবং পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন প্রযুক্তি বা পণ্য উদ্ভাবনের একটি প্রযুক্তি।
জীবপ্রযুক্তি জীববিজ্ঞানের ফলিত শাখা কারণ- এখানে জীবের তত্ত্বীয় কোনো বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয় না, বরং জীবপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে জীব সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রায়োগিক বিষয় নিয়ে আলোচিত হয়। রিকম্বিনেন্ট DNA. প্রযুক্তি জীবপ্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ফলিত শাখার একটি দিক।
পারস্পরিক সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের উপর ভিত্তি করে জীবকে বিভিন্ন দলে বিভক্তকরণকে শ্রেণিবিন্যাস বলা হয়। এর মাধ্যমে: বিশাল ও বৈচিত্র্যময় জীবজগৎকে সহজভাবে অল্প পরিশ্রমে এবং অল্প সময়ে সঠিকভাবে জানা সম্ভব হয়।
শ্রেণিবিন্যাসের উদ্দেশ্য হলো-
১. প্রতিটি জীবের দল ও উপদল সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণ করা।
২. জীবজগতের ভিন্নতার দিকে আলোকপাত করে আহরিত জ্ঞানকে সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা।
৩. পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানকে সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা এবং প্রতিটি জীবকে শনাক্ত করে তার নামকরণের ব্যবস্থা করা।
৪. সর্বোপরি জীবজগৎ এবং মানবকল্যাণে প্রয়োজনীয় জীবগুলোকে শনাক্ত করে তাদের সংরক্ষণে সচেতন হওয়া।
বিশাল এবং বৈচিত্র্যময় জীবজগতকে সহজভাবে 'অল্প পরিশ্রমে এবং অল্প সময় সঠিকভাবে যে বিদ্যার মাধ্যমে জানা যায় তাই হলো শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা। এখন পর্যন্ত উদ্ভিদের প্রায় চার লক্ষ ও প্রাণীর প্রায় তের লক্ষ প্রজাতির নামকরণ ও বর্ণনা করা হয়েছে। অনেক প্রকৃতিবিদগণ এই বিস্তৃত জীবজগতকে একটি স্বাভাবিক নিয়মে শ্রেণিবিন্যাস করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন। যার ফলে শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা নামক স্বতন্ত্র শাখা গড়ে উঠেছে
নিম্নোক্ত বষয়গুলোর উপর ভিত্তি করে জীবজগৎকে পাঁচটি রাজ্যে ভাগ করা হয়-
১. কোষের DNA ও RNA-এর প্রকারভেদ,
২. জীবদেহে কোষের বৈশিষ্ট্য,
৩. কোষের সংখ্যা ও
৪. খাদ্যাভাস।
মরগুলিস ১৯৭৪ সালে হুইটেকার এর শ্রেণিবিন্যাসের পরিবর্তিত ও বিস্তারিত রূপ দেন। তিনি সমস্ত জীবজগৎকে দুটি সুপার কিংডমে ভাগ করেন। যথা-
সুপার কিংডম-১: প্রোক্যারিওটা (Prokaryota)
সুপার কিংডম-২: ইউক্যারিওটা (Eukaryota)
কোষের বৈশিষ্ট্য, সংখ্যা, খাদ্যাভ্যাস ইত্যাদির উপর ভিত্তি করে আর.এইচ, হুইটেকার ১৯৬৯ সালে জীবজগতকে পাঁচটি কিংডমে ভাগ করার প্রস্তাব করেন। কিংডমগুলো হলো- মনেরা, প্রোটিস্টা, ফানজাই, প্লানটি এবং অ্যানিমেলিয়া। এই পাঁচটি কিংডমকেই "Five Kingdom" বলা হয়।
প্রোক্যারিওটা ও ইউক্যারিওটার দুটি পার্থক্য নিম্নরূপ-
প্রোক্যারিওটা | ইউক্যারিওটা |
১. এ ধরনের কোষে কোনো সুগঠিত নিউক্লিয়াস থাকে না। | ১. এ ধরনের 'কোষের নিউক্লিওয়াস সুগঠিত। |
২. প্রোক্যারিওটা কোষের নিউক্লিয়াস কোনো পর্দা দ্বারা বেষ্টিত থাকে না। | ২. ইউক্যারিওটা কোষের নিউক্লিয়াস নিউক্লিয়ার ঝিল্লি দ্বারা পরিবেষ্টিত থাকে। |
আর, এইচ হুইটেকার প্রদত্ত রাজ্যগুলোর নাম হলো-
রাজ্য-১: মনেরা (Monera)
রাজ্য-২: প্রোটিস্টা (Protista)
রাজ্য-৩: ফানজাই (Fungi)
রাজ্য-৪: প্লানটি (Plantac)
রাজ্য-৫: অ্যানিমেলিয়া (Animalia
মনেরা রাজ্যের বৈশিষ্ট্যগুলো হলো- এরা এককোষী, ফিলামেন্টাস, কলোনিয়াল বা মাইসেলিয়াল। কোষে ক্রোমাটিন বস্তু থাকে কিন্তু নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার পর্দা নেই। এদের কোষে প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা ইত্যাদি নাই, কিন্তু রাইবোজোম আছে। কোষ বিভাজন দ্বিবিভাজন প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। প্রধানত শোষণ পদ্ধতিতে খাদ্যগ্রহণ করে। তবে কেউ কেউ ফটোসিনথেটিক বা কেমোসিনথেটিক (রাসায়নিক সংশ্লেষ) পদ্ধতিতে খাদ্য প্রস্তুত করে।
মনেরা রাজ্যের জীবদের কোষ বিভাজন দ্বিবিভাজন প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। এ রাজ্যের জীব প্রধান শোষণ পদ্ধতিতে খাদ্য গ্রহণ করে। তবে কেউ কেউ ফটোসিনথেসিস বা সালোকসংশ্লেষণ পদ্ধতিতে খাদ্য প্রস্তুত করে। যেমন- নীলাভ সবুজ শৈবাল, ব্যাকটেরিয়া ইত্যাদি মনেরা রাজ্যের জীব।
ব্যাকটেরিয়াকে মনেরা জগতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে কারণ, ব্যাকটেরিয়া এককোষী, প্রাককেন্দ্রিক অর্থাৎ এদের সুগঠিত নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার পর্দা নেই। ব্যাকটেরিয়া কোষে প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া, ER ইত্যাদি নেই। তাছাড়া এদের কোষ বিভাজন দ্বি-বিভাজন প্রক্রিয়ায় হয়ে থাকে এবং কিছু সংখ্যক ব্যাকটেরিয়া কেমোসিনথেটিক প্রকৃতির।
নীলাভ সবুজ শৈবাল মনেরা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। কারণ এরা এককোষী, ফিলামেন্টাস, কলোনিয়াল। এদের কোষে ক্রোমাটিন বস্তু থাকে কিন্তু নিউক্লিওলাস ও নিউক্লিয়ার পর্দা নেই। এদের কোষে প্লাস্টিড, মাইটোকন্ড্রিয়া, এন্ডোপ্লাজমিক জালিকা ইত্যাদি নেই। কিন্তু রাইবোজোম আছে। এসব বৈশিষ্ট্যের কারণে নীলাভ সবুজ শৈবালকে মনেরা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে প্রোটিস্টা রাজ্যের জীবদের অযৌন প্রজনন ঘটে এবং কনজুগেশনের মাধ্যমে যৌন প্রজনন ঘটে। কোনো ভ্রূণ গঠিত হয় না।
প্রোটিস্টা রাজ্যটি এককোষী বা সরল বহুকোষী ইউক্যারিওটিক জীব নিয়ে গঠিত। এ রাজ্যের চারটি জীব হলো-
১. অ্যামিবা,
২.ডায়াটম,
৩. প্যারামেসিয়াম ও
৪. ইউপ্লিনা
ডায়াটম এককোষী, একক, সুগঠিত নিউক্লিয়াস বিশিষ্ট, কোষে সকল ধরনের অঙ্গাণু থাকে। মাইটোসিস কোষ বিভাজনের মাধ্যমে অযৌন প্রজনন ঘটে এবং কনজুগেশনের মাধ্যমে যৌন জনন ঘটে। কোনো ভূণ গঠিত হয় না। ডায়াটমের এ সকল বৈশিষ্ট্যের সাথে প্রোটিস্টা রাজ্যের বৈশিষ্ট্যের মিল থাকায় একে প্রোটিস্টা রাজ্যে স্থান দেওয়া হয়েছে।
প্রোটিস্টা রাজ্যের কিছু বৈশিষ্ট্য ধারণ করায় অ্যামিবা প্রোটিস্টা রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত জীব। কারণ-
১. অ্যামিবা এককোষী, কিন্তু সুগঠিত নিউক্লিয়াসবিশিষ্ট।
২. খাদ্য গ্রহণ শোষণ, গ্রহণ বা ফটোসিনথেটিক পদ্ধতি ঘটে।
৩. কোনো ভ্রুণ গঠিত হয় না।
শৈবাল এক প্রকার জলজ উদ্ভিদ। এর দেহে ক্লোরোফিল উপস্থিত। জলজ উদ্ভিদ হওয়ার কারণে শৈবাল পানি থেকে গ্রহণ করে। এরা সূর্যালোকের উপস্থিতিতে এবং পানি থেকে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় শর্করা জাতীয় খাদ্য প্রস্তুত করে। উৎপাদিত শর্করার কিছু অংশ শৈবাল তার প্রয়োজনীয় বিপাকীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে ব্যবহার করে। আর এভাবেই শৈবাল খাদ্য উৎপাদন করে থাকে।
ফানজাই হলো এক ধরনের জীব, যা উদ্ভিদ ও প্রাণী থেকে ভিন্ন। এটি জীববিজ্ঞানের একটি স্বতন্ত্র রাজ্য হিসেবে বিবেচিত। রাজ্যের অধিকাংশ জীবই স্থলজ, মৃতজীবী বা পরজীবী। এদের দেহ এককোষী অথবা মাইসেলিয়াম দিয়ে গঠিত।
ফানজাই রাজ্যের জীব এককোষী বা পরজীবী। এদের দেহ এককোষী অথবা মাইসেলিয়াম দিয়ে গঠিত। এ রাজ্যের চারটি জীব হলো- ১. ইস্ট, ২. পেনিসিলিয়াম, ৩. মাশরুম ও ৪. অ্যাসপারজিলাস।
ফানজাই রাজ্যের চারটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. এদের দেহ এককোষী অথবা মাইসেলিয়াম দিয়ে গঠিত।
২. কোষপ্রাচীর কাইটিন বস্তু দিয়ে গঠিত।
৩. খাদ্যগ্রহণ শোষণ পদ্ধতিতে ঘটে।
৪. হ্যাপ্লয়েড স্পোর দিয়ে বংশবৃদ্ধি ঘটে।
মাশরুম এক ধরনের ছত্রাক। এটি সাধারণত পচা কাঠ বা বস্তু বা মৃত জীবদেহ থেকে খনিজ লবণ, পানি অথবা পুষ্টি পদার্থ শোষণ করে নিজের খাদ্য সংগ্রহ করে বা পুষ্টি সাধন করে। যেহেতু মাশরুম মৃত জীব থেকেই খাদ্য সংগ্রহ করে বেঁচে থাকে এজন্য মাশরুমকে - মৃতজীবী বলা হয়।
যেসব উদ্ভিদ নিজের খাদ্য নিজে, তৈরি করতে পারে তাদেরকে স্বভোজী বলা হয়। স্বভোজী উদ্ভিদে ক্লোরোপ্লাস্ট উপস্থিত থাকে। কিন্তু ইস্টে ক্লোরোপ্লাস্ট না থাকায় নিজের খাদ্য তৈরি করতে পারে না। খাদ্যের জন্য অন্য জীবের উপর নির্ভর করতে হয়। তাই ইস্ট স্বভোজী নয় অর্থাৎ পরভোজী।
আমরা জানি, যেসব কোষের নিউক্লিয়াস সুগঠিত অর্থাৎ নিউক্লিয়ার ঝিল্লি দ্বারা নিউক্লিও-বস্তু পরিবেষ্টিত ও সুসংগঠিত তাদেরকে প্রকৃত কোষ বলে। প্রকৃত কোষের ক্রোমোজোমের DNA, প্রোটিন, হিস্টোন, ও অন্যান্য সকল অঙ্গাণু বা উপাদান থাকে। Penicillium এক ধরনের ছত্রাক যার মধ্যে প্রকৃত কোষের সকল বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। এ জন্য Penicillium কে প্রকৃতকোষী বলা হয়।
সবুজ উদ্ভিদে ক্লোরোফিল নামক রঞ্জক পদার্থ থাকায় এরা নিজেদের খাদ্য নিজেরাই তৈরি করতে পারে। ছত্রাক এক ধরনের মৃতজীবী উদ্ভিদ, যার দেহে সালোকসংশ্লেষী বর্ণকণিকা অর্থাৎ ক্লোরোফিল থাকে না। এ কারণে ছত্রাক নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না। তাই খাদ্যের জন্য ছত্রাক অন্যের ওপর নির্ভরশীল।
প্লানটি রাজ্যের দুইটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. এরা প্রকৃত নিউক্লিয়াসযুক্ত সালোকসংশ্লেষণকারী উদ্ভিদ।
২. এদের দেহে টিস্যুতন্ত্র বিদ্যমান।
প্লানটি রাজ্যের জীবদের হেটারোট্রোফিক বলা হয় না কারণ এদের কোষে কোষপ্রাচীর, প্লাস্টিড এবং কোষগহ্বর আছে। প্লাস্টিড থাকার কারণে এরা স্বভোজী এবং খাদ্য গলাধঃকরণ করে না। তাই প্লানটি রাজ্যের জীবদের হেটারোট্রোফিক বলা হয় না।
যেসকল উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে সেগুলো হলো অটোট্রোফিক অর্থাৎ স্বভোজী। সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার জন্য ক্লোরোফিল অত্যাবশ্যক। মানুষের দেহে ক্লোরোফিল নেই তাই সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজের খাদ্য তৈরি করতে পারে না। এ কারণে মানুষকে হেটারোট্রোফিক বা পরভোজী বলা হয়।
প্লানটির বিভাগগুলো ছকের মাধ্যমে দেখানো হলো-

যে যৌন জনন প্রক্রিয়ায় আকার, আকৃতি অথবা শারীরবৃত্তীয় পার্থক্য বিশিষ্ট ভিন্নধর্মী দুটি গ্যামিটের মিলনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় তাই অ্যানাইসোগ্যামাস। এই প্রক্রিয়াটি প্রজননে বৈচিত্র্য আনতে এবং জীবের অভিযোজন ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। যেমন- শৈবাল (ইউলোথ্রিক্স), ছত্রাক ইত্যাদিতে অ্যানাইসোগ্যামাস ধরনের যৌগ জনন দেখা যায়।
অ্যানিমেলিয়া রাজ্যের জীবদের দুইটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. এরা সুকেন্দ্রিক ও বহুকোষী প্রাণী।
২. প্লাস্টিড না থাকায় এরা হেটারোট্রোফিক অর্থাৎ পরভোজী।
অ্যানিমেলিয়া রাজ্যের প্রাণীরা প্রধানত যৌন জননের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি করে। পরিণত ডিপ্লয়েড পুরুষের ও স্ত্রী প্রাণীর জননাঙ্গ থেকে হ্যাপ্লয়েড গ্যামেট উৎপন্ন হয়। ভ্রূণ বিকাশকালীন সময়ে স্পীয় স্তর সৃষ্টি হয়।
টমাস কেভলিয়ার-স্মিথ জীবজগতের প্রোটিস্টাকে প্রোটোজোয়া ও ক্লোমিস্টা নামে দুটি ভাগে ভাগ করেন। তিনি জীবজগৎকে মোট ছয়টি রাজ্যে বিভক্ত করেন। রাজ্যগুলো হলো-
রাজ্য-১: মনেরা/ব্যাকটেরিয়া রাজ্য
রাজ্য-২: প্রোটোজোয়া
রাজ্য-৩: ক্রোমিস্টা
রাজ্য-৪: ফানজাই
রাজ্য-৫: প্লানটি
রাজ্য-৬: অ্যানিমেলিয়া
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের টমাস কেভলিয়ার-স্মিথ জীবজগতের প্রোটিস্টা রাজ্যকে প্রোটোজোয়া ও ক্রোমিস্টা নামে দুইটি ভাগে ভাগ করেন এবং মনেরাকে ব্যাকটেরিয়া রাজ্য হিসেবে পুন:নামকরণ করেন। এভাবে তিনি জীবজগতকে মোট ছয়টি রাজ্যে ভাগ করেছেন। যা ছয় জগৎ নামে পরিচিত।
একটি জীবকে প্রজাতি পর্যায়ে বিন্যাসে সাতটি ধাপ আছে। এই ধাপগুলোর উপরের ধাপ বড় সেট এবং তার নিচের ধাপ হলো উপসেট। যেমন- রাজ্যের উপসেট পর্ব, পর্বের উপসেট শ্রেণি, শ্রেণির উপসেট বর্গ ইত্যাদি। শ্রেণিবিন্যাসের এই পদ্ধতিকে বলে নেস্টেড হায়ারার্কি।
মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম হলো Homo sapiens. নিচে মানুষের বৈজ্ঞানিক শ্রেণিবিন্যাস দেখানো হলো-
রাজ্য (Kingdom); Animalia
পর্ব (Phylum): Chordata
শ্রেণি (Class): Mammalia
বর্গ (Order): Primate
গোত্র (Family): Hominidae
গণ (Genus): Homo
প্রজাতি (Species): Homo sapiens
মানুষের শ্রেণি Mammalia। কারণ এরা বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ায় এবং দেহে লোম থাকে। স্তন্যপায়ী প্রাণীরা সাধারণত উষ্ণ রক্তের হয় এবং টিস্যুর জটিল 'সংগঠন থাকে। মানুষের ক্ষেত্রে এ বৈশিষ্ট্যগুলো স্পষ্টভাবে বিদ্যমান। এ শ্রেণি মানুষকে অন্যান্য স্তন্যপায়ী প্রাণীর সঙ্গে যুক্ত করে।
Primate বর্গের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এদের আঁকড়ে ধরার উপযোগী হাত এবং ঘ্রাণ অপেক্ষা দৃষ্টিশক্তি বেশি উন্নত হয়। আর এ বৈশিষ্ট্যগুলো মানুষের মধ্যে বিদ্যমান থাকার কারণেই মানুষকে Primate বর্গের প্রাণী বলা হয়।
মানুষের প্রজাতি sapiens বলার কারণ ব্যাখ্যা করা হলো-মানুষের কপাল চওড়া এবং খাড়া, খুলির হাড় Homo গণের অন্য প্রজাতির তুলনায় পাতলা এবং বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে উন্নত হওয়ার কারণে মানুষের প্রজাতি sapiens.
জীবের নামকরণের আন্তর্জাতিক নিয়মানুযায়ী গণ ও প্রজাতি নামের দুটি পদ ব্যবহার করে জীবের যে নামকরণ হয় তাকে দ্বিপদ নামকরণ বলে। এভাবে সৃষ্ট নামকে জীবের বৈজ্ঞানিক নামও বলে। দ্বিপদ নামকরণের নিয়মানুযায়ী মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম- Homo sapiens
দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতির লক্ষ্য প্রতিটি জীবের দল ও উপদল সম্বন্ধে জ্ঞান আহরণ করা। পূর্ণাঙ্গ জ্ঞানকে সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা, প্রতিটি জীবকে শনাক্ত করে। তার নামকরণের ব্যবস্থা করা। সর্বোপরি জীবজগৎ ও মানব কল্যাণে প্রয়োজনীয় জীবসমূহকে শনাক্ত করে তাদের সংরক্ষণ করা।
Binomial Nomenclature জীবের বৈজ্ঞানিক নামকরণের জন্য পরিচিত। এই নামকরণে জীবের বৈজ্ঞানিক নামে দুটি অংশ বা পদ থাকে। এদের প্রথম অংশটি হলো গণের নাম এবং দ্বিতীয়টি প্রজাতির নাম। দুটি পদ নিয়ে গঠিত নামকরণের প্রক্রিয়াই Binomial Nomenclature |
Species Plantarum হলো সুইডিস বিজ্ঞানী ক্যারোলাস লিনিয়াসের রচিত একটি বই। ১৭৫৩ সালে তিনি এই বইটি রচনা করেন। এই বইটি প্রকাশনার মাধ্যমে তিনি দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতির প্রবর্তন করেন এবং গণ ও প্রজাতির সংজ্ঞা দেন। তিনিই প্রথম এই গ্রন্থে জীরের শ্রেণি, বর্গ, গণ এবং প্রজাতি ধাপগুলো ব্যবহার করেন।
Species Plantarum হলো ক্যারোলাস লিনিয়াসের লেখা বই। বইটি জীববিজ্ঞানের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ কেননা এর প্রকাশনার মাধ্যমে তিনি দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতির প্রবর্তন করেন এবং গণ ও প্রজাতির সংজ্ঞা দেন। এ গ্রন্থে প্রথম জীবের শ্রেণি, বর্গ, গণ ও প্রজাতি ধাপগুলো লিপিবদ্ধ করা হয়
ICZN: International Code of Zoological Nomenclature.
ICBN: International Code of Botanical Nomenclature.
গণ ও প্রজাতির মধ্যে দুটি পার্থক্য হলো-
| গণ | প্রজাতি |
| ১. গণ হলো দ্বিপদ নামের প্রথম অংশ। | ১. প্রজাতি হলো দ্বিপদ নামের দ্বিতীয় অংশ। |
| ২. গণ অংশের প্রথম অক্ষর বড় হাতের অক্ষর হয়, বাকিগুলো ছোট অক্ষর হয়। | ২. প্রজাতি অংশের নাম ছোট হাতের অক্ষর দিয়ে লিখতে হয়। |
পৃথিবীব্যাপী বিস্তৃত অসংখ্য জীবকে জানতে জীবের দ্বিপদ নামকরণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বৈচিত্র্যময় জীবজগতের প্রতিটি সদস্যকে আলাদা আলাদা ভাবে জানতে দ্বিপদ নামকরণ অত্যাবশ্যক। দ্বিপদ নামকরণ ল্যাটিন শব্দে হওয়ায় কোনো জীবের বৈজ্ঞানিক নাম সারা বিশ্বে একই নামে পরিচিত হয়, ফলে বিশ্বের সকল ভাষার লোকের কাছে যেকোনো জীবের শনাক্তকরণ সহজতর হয়
দুটি পদ অর্থাৎ গণ ও প্রজাতি দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দ্বিপদ নামকরণই হলো জীবের বৈজ্ঞানিক নামকরণ। এক্ষেত্রে প্রথম অংশটি জীবের গণ নাম ও দ্বিতীয় অংশ প্রজাতিক নাম হয়। জীবের নামকরণের ক্ষেত্রে ICBN ও ICZN এর স্বীকৃত নিয়ম অনুসরণ করা হয় যাতে করে সারা বিশ্বে একই নামে জীবটি পরিচিতি পায়।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভাষা বিভিন্নরকম। কোনো একটি জীব ভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন নামে পরিচিত। বৈজ্ঞানিক নামের মাধ্যমে যেকোনো প্রজাতি একটি নির্দিষ্ট নামে সারা বিশ্বে পরিচিত হয়। তাই জীবের নামকরণের ক্ষেত্রে বৈজ্ঞানিক নাম খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
দ্বিপদ নামকরণ চালুর কারণ হলো-
১. অসংখ্য উদ্ভিদের মধ্যে প্রয়োজনীয় উদ্ভিদকে সহজে শনাক্ত করার জন্য।
২. তালিকাভুক্ত উদ্ভিদগুলোর সঠিক নাম ও পরিচয় জানার জন্য।
৩. একটি উদ্ভিদের অন্য উদ্ভিদ বা উদ্ভিদ গোষ্ঠীর পারস্পরিক সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্য নির্ণয় করার জন্য।
৪. উপকারী ও অপকারী উদ্ভিদ এবং উদ্ভিদের অর্থনৈতিক গুরুত্ব সহজেই জানার জন্য।
শাপলা ও কাঁঠালের বৈজ্ঞানিক নাম হলো-
সাধারণ নাম | বৈজ্ঞানিক নাম |
১. শাপলা | Nymphaea nouchali |
২. কাঁঠাল | Artocarpus heterophyllus |
ইলিশ মাছ ও দোয়েল পাখির বৈজ্ঞানিক নাম ছকে লেখা
হলো-
সাধারণ নাম | বৈজ্ঞানিক নাম |
১. ইলিশ মাছ | Tenualosa ilisha |
২. দোয়েল | Copsychus saularis |
গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টটল হলো জীববিজ্ঞানের জনক।
জীববিজ্ঞানকে ইংরেজিতে Biology বলে
Biology ইংরেজী শব্দ। এটি গঠিত হয়েছে গ্রিক শব্দ bios (জীবন) এবং logos (জ্ঞান) শব্দ দুটির সংযোগের মাধ্যমে।
ভৌত বিজ্ঞানের যে শাখায় জনন কোষের উৎপত্তি, নিষিক্ত জাইগোট থেকে ভ্রূণের সৃষ্টি, গঠন, পরিস্ফুটন, বিকাশ প্রভৃতি নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে ভূণবিদ্যা বলে।
বিজ্ঞানের যে শাখায় পৃথিবীতে প্রাণের বিকাশ, জীবের বিবর্তন এবং ক্রমবিকাশের তথ্যসমূহ আলোচনা করা হয় তাকে বিবর্তনবিদ্যা বলে
ভৌত বিজ্ঞানের যে শাখায় প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে জীবের আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে বাস্তুবিদ্যা বলা হয়।
জীববিজ্ঞানের যে শাখায় বিভিন্ন তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়, তাই ভৌত জীববিজ্ঞান।.
জীববিজ্ঞানের যে শাখায় জীবের যাবতীয় শারীরবৃত্তীয় কাজের বিবরণ নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে শারীরবিদ্যা বলে।
জীববিজ্ঞানের যে শাখায় জীবদেহের বিভিন্ন টিস্যুসমূহের গঠন, বিন্যাস ও কার্যাবলি নিয়ে আলোচনা করা হয় তাই হিস্টোলজি।
ভৌত জবিবিজ্ঞানের যে শাখায় জীবদেহে হরমোনের কার্যকারিতা বিষয়ক আলোচনা করা হয় তাই এন্ডোক্রাইনোলজি।
ফলিত জীববিজ্ঞান জীববিজ্ঞানের শাখা যা জীবন-সংশ্লিষ্ট প্রায়োগিক বিষয়সমূহ নিয়ে আলোচনা করে।
প্রাগৈতিহাসিক জীবের বিবরণ এবং জীবাশ্ম সম্পর্কিত বিজ্ঞানই হলো প্রত্নতত্ত্ববিদ্যা বা জীবাশ্মা বিজ্ঞান।
বায়োইনফরমেটিকস হলো কম্পিউটার প্রযুক্তিনির্ভর জীববিজ্ঞান ভিত্তিক তথ্য, যেমন- ক্যান্সার বিশ্লেষণ বিষয়ক বিজ্ঞান।
পারস্পরিক সাদৃশ্য ও বৈসাদৃশ্যের ওপর ভিত্তি করে জীবকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করাকে শ্রেণিবিন্যাস বলে।
শ্রেণিবিন্যাসের লক্ষ্য হচ্ছে এই বিশাল ও বৈচিত্র্যময় জীবজগৎকে সহজভাবে অল্প পরিশ্রমে এবং অল্প সময়ে সঠিকভাবে জানা।
ডায়াটম হলো প্রোটিস্টা রাজ্যের অন্তর্গত এককোষী শৈবাল।
স্ত্রী উদ্ভিদের স্ত্রীজনন অঙ্গকে বলা হয় আর্কিগোনিয়াম বা আর্কিগোনিয়া।
যেসব জীব নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না এবং খাদ্যের জন্য অন্যের উপর নির্ভরশীল সেসব হেটারোট্রোফিক বা পরভোজী। জীবই হলো
জৈবনিকভাবে ভিন্ন কিন্তু গঠনগতভাবে এক, এরূপ দুটি গ্যামেটের মিলনের মাধ্যমে সে যৌন জনন ঘটে তাই কনজুগেশন।
শ্রেণিবিন্যাসের সর্বনিম্ন ও মৌলিক একককে প্রজাতি বলে।
শ্রেণিবিন্যাসে ব্যবহৃত প্রতিটি ধাপ বা স্তরের জনগোষ্ঠী একেকটি ট্যাক্সন।
একটি জীবের বৈজ্ঞানিক নাম দুটি অংশ বা পদ নিয়ে গঠিত, এরূপ দুটি পদ নিয়ে গঠিত জীবের নামকে দ্বিপদ নাম এবং নামকরণের প্রক্রিয়াকে দ্বিপদ নামকরণ পদ্ধতি বলে।
IC'BN এর নীতিমালা অনুসারে কোনো গণ নামের শেষে একটি প্রজাতিক নাম যুক্ত করে দুটি পদের মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির জন্য একটি নির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক নাম প্রদান করাকে বলা হয় দ্বিপদ নামকরণ।
ICZN এর পূর্ণরূপ হলো International Code of Zoological Nomenclature |
জবা ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম হলো Hibiscus rosa-sinensis.
ICBN-এর পূর্ণরূপ হলো- International Code of Botanical Nomenclature.
কাঁঠার এর বৈজ্ঞানকি নাম হলো- Artocarpus heterophyllus.
জাতীয় ফুল হলো শাপলা। শাপলার বৈজ্ঞানিক নাম Nymphaea nouchali.
দোয়েল পাখির বৈজ্ঞানিক নাম হলো Copsychus saularis
Related Question
View Allজীবের শ্রেণিবিন্যাসের প্রতিটি ধাপই শ্রেণিবিন্যাসের একক।
বংশগতিবিদ্যায় তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়ে থাকে। তত্ত্বীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হলো জীববিজ্ঞানের ভৌত শাখার প্রধান বৈশিষ্ট্য।
এ কারণেই বংশগতিবিদ্যাকে জীববিজ্ঞানের ভৌত শাখা বলা হয়।
চিত্র-২ এর উদ্ভিদটির নামকরণের ক্ষেত্রে যেভাবে ধারাবাহিকতা বজায় রাখবো-
i.উদ্ভিদটির নামকরণে অবশ্যই ল্যাটিন শব্দ ব্যবহার করব।
ii. বৈজ্ঞানিক নামের দুটি অংশ। প্রথমটি হবে গণের এবং দ্বিতীয়টি হবে প্রজাতির।
iii.উদ্ভিদটির নামকরণে বৈজ্ঞানিক নামের প্রথম অংশের প্রথম অক্ষরটি বড় অক্ষরে, এবং বাকি অক্ষরগুলো ছোট অক্ষরে লিখবো আর দ্বিতীয় অংশটির নাম ছোট অক্ষর দিয়ে লিখবো।
iv. উদ্ভিদটির নাম মুদ্রণের সময় অবশ্যই ইটালিক অক্ষরে লিখবো।
V.উদ্ভিদটির বৈজ্ঞানিক নাম হাতে লেখার সময় গণ ও প্রজাতি নামের নিচে আলাদা আলাদা দাগ দিবো।
vi. যিনি উদ্ভিদটির নাম সর্বপ্রথম দিয়েছিলেন তাঁর নামের সংক্ষিপ্তরূপ বৈজ্ঞানিক নামের শেষে যোগ করবো। যেমন- লিনিয়াসের সংক্ষিপ্ত রূপ হলো- L ।
চিত্র-১ হলো মাশরুম এবং চিত্র-২ হলো দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ। উদ্দীপকের জীব দুটির মধ্যে চিত্র-২ এর জীবটি বা দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ অধিক উন্নত। নিচে এর কারণগুলো বিশ্লেষণ করা হলো-
i. মাশরুম অপুষ্পক, কিন্তু দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদটি সপুষ্পক। সপুষ্পক উদ্ভিদ সর্বদাই অপুষ্পক উদ্ভিদ অপেক্ষা উন্নত।
ii. মাশরুম নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না। কিন্তু দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদটি সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে।
iii. মাশরুম স্পোরের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি ঘটায়। কিন্তু দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদটি যৌন জননের মাধ্যমে বংশবৃদ্ধি ঘটায় যা উন্নত উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য।
iv. মাশরুমকে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না, কিন্তু দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদটিকে মূল, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায়।
V.পরিবহণ কলাগুচ্ছ উন্নত উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য। এই পরিবহণ কলাগুচ্ছ মাশরুমে অনুপস্থিত, কিন্তু দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদে উপস্থিত।
vi. মাশরুমের দেহ নরম, কিন্তু দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদদেহ বেশ শক্ত। শক্ত উদ্ভিদদেহ উন্নত উদ্ভিদেরই বৈশিষ্ট্য বহন করে।
পৃথিবীর বিশাল ও বৈচিত্র্যময় জীবজগৎকে সহজভাবে অল্প পরিশ্রমে ও অল্প সময়ে সঠিকভাবে জানার উদ্দেশ্যে সুষ্ঠুভাবে বিন্যাস করার জন্য জীববিজ্ঞানের স্বতন্ত্র শাখাই হলো শ্রেণিবিন্যাসবিদ্যা।
অঙ্গসংস্থান ভৌত জীববিজ্ঞানের একটি শাখা। এর উদ্দেশ্য হলো জীবের সার্বিক অঙ্গসংস্থানিক বা দৈহিক গঠন বর্ণনা করা। জীবদেহের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উভয়ই বর্ণনা করে অঙ্গসংস্থান। দেহের বাহ্যিক বর্ণনার বিষয়কে বহিঃঅঙ্গসংস্থান এবং দেহের অভ্যন্তরীণ বর্ণনার বিষয়কে অন্তঃঅঙ্গসংস্থান বলে। জীবের দৈহিক গঠনের বর্ণনা জেনে ঐ জীবকে সহজেই চিহ্নিত করা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!