প্রাচীন বাংলায় বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য রাজবংশের কথা জানা যায়। প্রথম উল্লেখযোগ্য রাজবংশ হলো মৌর্যবংশ। এরপর ধারাবাহিকভাবে শুঙ্গ, কুশান, গুপ্তরা শাসন করে। গুপ্ত রাজাদের দুর্বলতার সুযোগে বাংলায় অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যের উত্থান ঘটে।
গুপ্ত যুগের পূর্বে বাংলার ধারাবাহিক ইতিহাস রচনার জন্য তেমন কোনো উপাদান পাওয়া যায়নি। কারণ তখন মানুষ ইতিহাস রচনায় অভ্যস্ত ছিল না। ভারতীয় ও বিদেশি সাহিত্যে এ সময়কার ইতিহাসের অল্প কিছু বিক্ষিপ্ত উপাদান পাওয়া যায়। এ কারণেই গুপ্ত যুগের পূর্বে প্রাচীন বাংলার ধারাবাহিক ইতিহাস নেই।
গ্রিক লেখকদের লেখনীতে গঙ্গারিডই নামে এক শক্তিশালী রাজ্যের কথা জানা যায়। গঙ্গা নদীর যে দুটি স্রোত এখন ভাগীরথী ও পদ্মা বলে, পরিচিত-এর মধ্যবর্তী অঞ্চলেই গঙ্গারিডই জাতি বাস করত। তারা এ অঞ্চলে গঙ্গারিডই রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেছিলেন
ভারতে সাম্রাজ্যবাদী গুপ্তদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় ৩২০ খ্রিস্টাব্দে। গুপ্ত সম্রাট প্রথম চন্দ্রগুপ্তের রাজত্বকালে বাংলার উত্তরাংশের কিছু অংশ ও সমুদ্রগুপ্তের রাজত্বকালে সমগ্র বাংলা অধিকৃত হলেও সমতট একটি করদ রাজ্য ছিল। ষষ্ঠ শতকের প্রথমার্ধেই বিভিন্ন যোদ্ধা জাতির সঙ্গে সংঘাত ও সংঘর্ষের মধ্যদিয়ে গুপ্ত শাসনের অবসান ঘটে।
গুপ্ত সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগে বঙ্গ জনপদে একটি স্বাধীন রাজ্যের উদ্ভব ঘটে। তাম শাসন থেকে জানা যায় যে, গোপচন্দ্র, ধর্মাদীপ্ত, সমাচার দেব, সুধন্যাদীপ্ত এবং দ্বাদশাদীপ্ত নামে পাঁচজন রাজা স্বাধীন বঙ্গরাজ্য শাসন করতেন।
কারও কারও মতে, দাক্ষিণাত্যের চালুক্য বংশের রাজা কীর্তি বর্মণের হাতে স্বাধীন বঙ্গ রাজ্যের অবসান ঘটেছিল। কেউ কেউ তাদের পতনে, স্বাধীন গৌড় রাজ্যের উত্থানকেও দায়ী করেন। আবার স্বাধীন বঙ্গ রাজ্যের পতনের পিছনে কিছু সামন্ত রাজার উত্থানকেও. দায়ী করা হয়।
মৌখরি ও গুপ্ত বংশীয় রাজাদের মধ্যে প্রায় পঞ্চাশ বছর পুরুষানুক্রমিক সংঘর্ষ লেগেছিল। মৌখরি ও চালুক্য রাজাদের আক্রমণের ফলে বাংলার গুপ্ত রাজাগণ দুর্বল হয়ে পড়েন। গুপ্তবংশের রাজাদের দূর্বলতার সুযোগে শশাংক গৌড় অঞ্চলের ক্ষমতা দখল করে স্বাধীন গৌড় রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেন।
শশাংক গৌড়ে অধিকার স্থাপন করে দণ্ডভুক্তি (মেদিনীপুর), উড়িষ্যার উৎকল (উত্তর উড়িষ্যা) ও কঙ্গোদ (দক্ষিণ উড়িষ্যা) এবং বিহারের মগধ ও পশ্চিমে বারানসী পর্যন্ত জয় করে তার রাজ্যসীমা বৃদ্ধি করেন।
শশাংকের রাজত্বকালে থানেশ্বরের রাজা প্রভাকর বর্ধনের কন্যা রাজ্যশ্রীর সঙ্গে কনৌজের মৌখরি রাজার গ্রহবর্মণের বিয়ে হলে কনৌজ-থানেশ্বর জোট গড়ে উঠে। এতে বাংলার নিরাপত্তা বিপন্ন হয়ে পড়ে। তাই পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে শশাংক ও মালবরাজ দেবগুপ্তের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করে স্বীয়গক্তি বৃদ্ধি করে।
সাধারণ অর্থে পুকুরে বড় মাছ ছোট মাছকে ধরে গিলে ফেলার মতো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে বলে 'মাৎস্যন্যায়'। ঐতিহাসিক দৃস্টিকোণ থেকে 'মাৎসান্যায়' বলতে একটি বিশেষ সময়কালকে বোঝায়। শশাঙ্কের মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন বাংলায় বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা দেখা দেয়। এ অরাজকতার সময়কালকে 'মাৎস্যন্যায়' বলা হয়।
রাজা শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলায় এক দুর্যোগপূর্ণ অন্ধকারময় যুগের সূচনা হয়। এ সময় বাংলায় কোনো যোগ্য শাসনকর্তা ছিলেন না। ভূস্বামীরা প্রত্যেকে বাংলার রাজা হওয়ার আশায় একে অন্যের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সারা বাংলা জুড়ে এক বিশৃঙ্খলাপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি হয়। এ অরাজকতার কারণে একে মাৎস্যন্যায় বলা হয়।
গোপাল ছিলেন পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা শাসক। গোপালের পিতার নাম বপ্যট। তার পিতামহ ছিলেন দয়িতবিষ্ণু। পিতা ও পিতামহের নামের আগে কোনো রাজকীয় উপাধি দেখা যায়নি। গোপাল ৭৫০ থেকে ৭৮১ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত রাজ্য শাসন করেন।
দীর্ঘদিনের অরাজকতায় বাংলায় অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি ছিল। এ অবস্থা থেকে মুক্তি' লাভের জন্য নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ জনগণের মতমতের প্রেক্ষিতে মনোনয়ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গোপালকে রাজা হিসেবে নির্বাচিত করেন।
পাল বংশের রাজত্বকালে উত্তর ভারতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তিনটি রাজবংশের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছিল। একটি বাংলার পাল, অন্যটি রাজপুতনার গুর্জর-প্রতিহার এবং তৃতীয়টি দাক্ষিণাত্যের রাষ্ট্রক্ট। ইতিহাসে আধিপত্য বিস্তারের এই যুদ্ধ ত্রিশক্তির সংঘর্ষ নামে পরিচিত।
ধর্মপাল ছিলেন বাংলার পাল বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ শাসক। তিনি গোপালের পরে বাংলার ক্ষমতা গ্রহণ করেন। পাল রাজাদের মধ্যে তিনিই সর্বোচ্চ সার্বভৌম উপাধি মহারাজাধিরাজ উপাধি ধারণ করেছিলেন।
ধর্মপাল ভাগলপুরের পূর্ব দিকে একটি বৌদ্ধ বিহার বা মঠ নির্মাণ করেন। ধর্মপালের উপাধি অনুসারে বিহারটি 'বিক্রমশীল বিহার' নামে খ্যাত ছিল। নওগাঁ জেলার পাহাড়পুর নামক স্থানেও ধর্মপাল - এক বিশাল বিহার প্রতিষ্ঠা করেন। এটি সোমপুর মহাবিহার নামে পরিচিত। ওদন্তপুরীতেও তিনি একটি বিহার নির্মাণ করেন।
পাল বংশের সর্বশ্রেষ্ঠ রাজা ধর্মপাল নওগাঁ জেলার পাহাড়পুর নামক স্থানে এক বিশাল বিহার প্রতিষ্ঠা করেন। ইতিহাসে এটি সোমপুর বিহার নামে পরিচিত। এ বিহারটি জাতিসংঘের ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্বসভ্যতার নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। এটি দক্সিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বিহার।
রাজা ধর্মপাল বৌদ্ধ হলেও তিনি পরধর্ম সহিষ্ণু ছিলেন। খুব সম্ভবত তিনি বিশ্বাস করতেন যে, রাজার ব্যক্তিগত ধর্মের সঙ্গে রাজ্য শাসনের কোনো সম্পর্ক নেই। তাই তিনি নিজে শাস্ত্রের নিয়ম মেনে চলতেন এবং প্রতিটি ধর্মের লোক যেন নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারে, সেদিকে খেয়াল রাখতেন।
পাল রাজা দেবপাল উত্তর ভারতে প্রতিহার ও রাষ্ট্রকূট রাজাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছিলেন। উত্তর ভারতের কিছু স্থান তার অধিকারে এসেছিল। তাছাড়া উড়িষ্যা ও কামরূপের উপরও তিনি আধিপত্য বিস্তারে সক্ষম হয়েছিলেন।
দেবপালের পৃষ্ঠপোষকতায় নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় তখন বর্তমান এশিয়ার ভৌগোলিক সীমানায় বৌদ্ধ সংস্কৃতির প্রধান প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করেই দেবপালের শাসনকালে উত্তর-ভারতে প্রায় হারিয়ে যাওয়া বৌদ্ধধর্ম পুনরুজ্জীবিত হয়ে ওঠে।
রাজা মহীপাল ক্ষমতা গ্রহণ করে রাজ্য বিজয়ে মনোযোগ দেন। তার সাম্রাজ্য বারাণসী এবং মিথিলা পর্যন্ত বিস্তার লাভ করেছিল। সে সময়ে ভারতের প্রবল কয়েকটি রাজশক্তির বিরুদ্ধে তিনি নিজ আধিপত্য বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন।
মহীপাল একজন প্রজাদরদি শাসক ছিলেন। তিনি বাংলায় অসংখ্য শহর প্রতিষ্ঠা ও দিঘি খনন করেন। বাংলার অনেক নগর এখনও তার নামের সাথে জড়িত হয়ে আছে। যেমন- রংপুরের মাহীগঞ্জ, বগুড়ার মাহীপুর, নওগাঁর মাহীসন্তোষ ও মুর্শিদাবাদ জেলার মহীপাল নগরী।
মহীপাল জনকল্যাণকর কাজের প্রতি খুবই মনোযোগী ছিলেন। তিনি বাংলায় অসংখ্য শহর প্রতিষ্ঠা ও দিঘি খনন করেন। যেমন-রংপুরের মাহীগঞ্জ, বগুড়ার মাহীপুর, নওগাঁর মাহীসন্তোষ ও মুর্শিদাবাদ জেলার মহীপাল নগরী। তাছাড়া দিনাজপুরের মহীপাল দিঘি, মুর্শিদাবাদের মহীপাল সাগর দিঘি তিনি খনন করেন।
দ্বিতীয় মহীপালের সময় বাংল্যর উত্তরাংশের বরেন্দ্র এলাকার সামন্তবর্গ প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। ইতিহাসে এ বিদ্রোহ কৈবর্ত বিদ্রোহ' নামে পরিচিত। এ বিদ্রোহের নেতা ছিলেন কৈবর্ত বা মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের নেতা দিব্যোক বা দিব্য।
কৈবর্ত অর্থ মৎস্যজীবী সম্প্রদায়। দ্বিতীয় মহীপালের সময় বাংলার উত্তরাংশের বরেন্দ্র এলাকার সামন্তবর্গ প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। ইতিহাসে এ বিদ্রোহ 'কৈবর্ত বিদ্রোহ' নামে পরিচিত। বাংলার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে সংঘটিত এ বিদ্রোহে দ্বিতীয় মহীপালকে হত্যা করে বরেন্দ্র দখল করে নেওয়া হয়।
পাল যুগের অধিকাংশ সময়েই দক্ষিণ-পূর্ব বাংলা-স্বাধীন ছিল। অষ্টম শতকের মাঝামাঝি দক্ষিণ পূর্ব বাংলায় খড়গ, দেব, চন্দ্র, বর্ম, নাস, রাড নামক রাজবংশের উত্থান ঘটে। তারা স্বাধীনভাবে রাজ্য পরিচালনা করতেন।
অষ্টম শতকের শুরুতে বৌদ্ধধর্মালম্বী দেব বংশের, উত্থান ঘটে। এ বংশের চারজন রাজার নাম পাওয়া যায়। এরা হলেন শ্রী শান্তিদেব, শ্রী আনন্দদেব ও শ্রী ভবদেব। তাদের রাজধানী ছিল দেবপর্বতে।
দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় হরিকেল জনপদে নবম শতকে একটি স্বাধীন রাজ্যের উদ্ভব ঘটে। এ রাজ্যের রাজা ছিলেন কান্তিদেব। দেব রাজবংশের সঙ্গে কান্তিদেবের কোনো সম্পর্ক ছিল কি না তা জানা যায় না। বর্তমান সিলেট কান্তিদেবের রাজ্যভুক্ত ছিল। তার রাজধানীর নাম ছিল বর্ধমানপুর। বর্তমানে এ নামে কোনো রাজ্যের অস্তিত্ব নেই।
দক্ষিণ-পূর্ব বাংলার একটি স্বাধীন রাজবংশ ছিল চন্দ্র বংশ। দশম শতকের শুরু থেকে এগারো শতকের মধ্যভাগ পর্যন্ত দেড়শ বছর এ বংশের রাজারা শাসন করেন। চন্দ্র বংশের প্রথম নৃপতি পূর্ণচন্দ্র ও তার পুত্র সুবর্ণচন্দ্র রোহিতগিরির ভূস্বামী ছিলেন। এ বংশের শ্রেষ্ঠ
শাধক ছিলেন ত্রৈলোক্যচন্দ্র।.
সুবর্ণচন্দ্রের পুত্র ত্রৈলোক্যচন্দ্রই এ বংশের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রতিষ্ঠা করেন। তার উপাধি ছিল 'মহারাজাধিরাজ'। ত্রৈলোক্যচন্দ্র হরিকেল, চন্দ্রদ্বীপ, বঙ্গ ও সমতট অর্থাৎ সমগ্র পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় নিজ বংশের শাসন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি আনুমানিক ত্রিশ বছর রাজত্ব করেন।
এগারো শতকের শেষভাগে পাল রাজশক্তি দুর্বল হয়ে পড়লে দক্ষিণ-পূর্ব বাংলায় বর্ম উপাধিধারী এক, রাজবংশের প্রতিষ্ঠা হয়। এ বংশের ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করেন বজ্রবর্মার পুত্র জাতবর্মা। বর্মদের রাজধানী ছিল বর্তমান মুন্সিগঞ্জ জেলার বিক্রমপুর।
বাংলায় সেন বংশের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সামন্ত সেন। তিনি 'কোনো রাজ্য প্রতিষ্ঠা না করায় সেন বংশের প্রথম রাজার মর্যাদা দেওয়া হয় সামন্ত সেনের পুত্র হেমন্ত সেনকে। তিনি রামপালের অধীনে সামন্ত রাজা ছিলেন। হেমন্ত সেনের মৃত্যুর পর তার পুত্র বিজয় সেন সামন্ত রাজা হতে নিজেকে স্বাধীনরূপে প্রতিষ্ঠা করেন।
পাল বংশের পতনের পর দ্বাদশ শতকের দ্বিতীয় ভাগে প্রাচীন বাংলার শেষ রাজবংশ সেন রাজবংশের সূচনা হয়। সেন রাজাগণ এদেশে বহিরাগত। তাদের আদি নিবাস ছিল দক্ষিণাত্যের কর্ণাট। তারা ছিলেন ব্রহ্ম-ক্ষত্রিয়।
যে বংশের লোকেরা প্রথমে ব্রাহ্মণ থাকে এবং পরে পেশা পরিবর্তন করে ক্ষত্রিয় হয়, তাদের বলা হয় 'ব্রহ্মক্ষত্রিয়'। ধারণা করা হয় সেন বংশ এদেশে বহিরাগত। তারা প্রথমে ব্রহ্ম ছিল পরে পেশা পরিবর্তন করে ক্ষত্রিয় হয় রলে তাদের ব্রহ্মক্ষত্রিয় বলা হয়ে থাকে।
বিজয় সেন নিজের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে রাজধানী স্থাপনে মনোযোগ দেন। পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার ত্রিবেণীতে অবস্থিত বিজয়পুর ছিল বিজয় সেনের প্রথম রাজধানী। তার সময়ে দ্বিতীয় রাজধানী স্থাপন করা হয় বর্তমান মুন্সিগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরে।
কবি ও লেখক হিসেবে সংস্কৃত সাহিত্যে বল্লাল সেনের অবদান পরিসীম। তিনি 'দানসাগর' ও 'অদ্ভুতসাগর' নামে দুটি সংস্কৃত গ্রন্থ রচনা করেন। অবশ্য 'অদ্ভুতসাগর' গ্রন্থের অসমাপ্ত অংশ তার পুত্র লক্ষণ সেন সম্পূর্ণ করেছিলেন। তিনি বেদ, স্মৃতি, পুরান প্রভৃতি শাস্ত্র অধ্যায়ন করেছিলেন।
বল্লাল সেন হিন্দুধর্মকে নতুন করে গঠন করার উদ্দেশ্যে 'কৌলীন্য প্রথা' প্রবর্তন করেছিলেন। এর ফলে সামাজিক আচার-ব্যবহার, বিবাহ অনুষ্ঠান প্রভৃতি বিষয়ে কুলীন শ্রেণির লোকদিগকে কতকগুলো বিশেষ রীতিনীতি মেনে চলতে হতো।
কৌলিন্য প্রথা প্রবর্তনের কারণে সেন রাজবংশের শাসনামলে সমাজে উচ্চবর্ণের হিন্দুদের প্রাধান্য বৃদ্ধি পায়। সেন রাজা বল্লাল সেন ক্ষমতা গ্রহণ করে কৌলিন্য প্রথা প্রবর্তন করে। এতে সমাজে উচ্চ বর্ণের হিন্দুদের বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়। তাছাড়া ব্রাহ্মণ্য ধর্মের প্রতিপত্তি বৃদ্ধির কারণে অন্যান্য জাতের হিন্দুরা সময়ে মর্যাদা হারায়।
পণ্ডিত ও বিদ্যোৎসাহী লক্ষণ সেন পিতার অসমাপ্ত গ্রন্থ 'অদ্ভুতসাগর' সমাপ্ত করেছিলেন। লক্ষণ সেন রচিত কয়েকটি শ্লোকও পাওয়া গেছে। তার রাজসভায় ধই, শরণ, উমাপতি ধর, জয়দেব প্রমুখ পণ্ডিত ও জ্ঞানী ব্যক্তিদের সমাবেশ ঘটেছিল
তেরো শতকের প্রথমদিকে বখতিয়ার খলজি 'নদীয়া আক্রমণ করেন। তিনি প্রচলিত পথ দিয়ে না এসে হঠাৎ করে নদীয়া করে। অকস্মাৎ আক্রমণে চারদিকে হৈচৈ পড়ে যায়। ইতোমধ্যে বখতিয়ারের দ্বিতীয় দল নগরের মধ্যে 'এবং তৃতীয় দল তোরণ-দ্বারে এসে উপস্থিত হয়। এ অবস্থায় রাজা লক্ষণ সেন পরাজিত হয়।
সরাসরি গুপ্ত সম্রাটদের অধীনে বাংলা ভূখণ্ডের অংশগুলো কয়েকটি প্রশাসনিক প্রথা ভুক্তিতে বিভক্ত ছিল। প্রত্যেক 'ভুক্তি' আবার কয়েকটি বিষয়ে, প্রত্যেক বিষয় কয়েকটি মণ্ডলে, প্রত্যেক মণ্ডল কয়েকটি বীথিতে এবং প্রত্যেকটি বীথি কয়েকটি গ্রামে বিভক্ত ছিল।
গ্রামই ছিল সবচেয়ে ছোট শাসন বিভাগ.।
সরাসরি গুপ্ত সম্রাটদের অধীন বাংলা, ভূখণ্ডের অংশগুলো কয়েকটি প্রশাসনিক ভুক্তিতে বিভক্ত ছিল। বর্তমান সময়ের বিভাগের সঙ্গে তুলনীয় ভুক্তির শাসনকর্তা গুপ্ত রাজা নিজেই নিয়োগ করতেন। সেখানে রাজকুমার বা রাজপরিবার থেকে এই 'উপরিক' তথা ভুক্তিপতি নিয়োগে প্রাধান্য দেওয়া হতো।
কেন্দ্রীয় সরকারের আয়ের বিভিন্ন উৎস ছিল। এর মধ্যে নানা প্রকার কর ছিল প্রধান। উৎপন্ন শস্যের ওপর বিভিন্ন ধরনের কর ধার্য হতো। যেমন- ভাগ, ভোগ, হিরণ্য, উপরি কর ইত্যাদি। তাছাড়াও নানা প্রকার কর আদায়ের প্রমাণ পাওয়া যায়। এ কর আদায়ের আলাদা আলাদা কর্মচারী ছিল।
মৌর্য বংশ বাংলার প্রথম উল্লেখযোগ্য রাজবংশের নাম।
গুপ্ত যুগের পূর্বে বাংলার ধারাবাহিক ইতিহাস রচনার কোনো উপাদান পাওয়া যায় না।
সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে উত্তর বাংলায় মৌর্য শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
গঙ্গা নদীর যে দুটি স্রোত এখন ভাগীরথী ও পদ্মা বলে পরিচিত এ উভয়ের মধ্যবর্তী অঞ্চলেই গঙ্গারিডই জাতির বসবাস ছিল।
: আলেকজান্ডার খ্রিস্টপূর্ব ৩২৭-২৬ অব্দে ভারত আক্রমণ করেন
গঙ্গারিডই হলো প্রাচীন বাংলার একটি জনপদের নাম।
আলেকজান্ডার গ্রিক দেশীয় বীর ছিলেন।
মৌর্য ও গুপ্ত শাসনের অবসানের পর অস্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি হয়।
প্রাসিঅয় জাতির রাজধানীর নাম পালিবোথরা।
সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে উত্তর বাংলায় মৌর্য শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।
মৌর্য সাম্রাজ্যের পতনের পর শুঙ্গ ও কম্ব বংশের আবির্ভাব ঘটে।
৩২০ খ্রিষ্টাব্দে ভারতে গুপ্ত সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
গুপ্ত সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সুযোগে বঙ্গ জনপদে একটি স্বাধীন রাজ্যের উদ্ভব ঘটে
গুপ্ত রাজাদের অধীনে বড় কোনো অঞ্চলের শাসককে 'মহাসামন্ত' বলা হতো।
শশাংক ৬০৬ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে সিংহাসনে আরোহণ করেন।
প্রাচীন বাংলার প্রথম সার্বভৌম শাসক ছিলেন শশাঙ্ক।
গৌড় রাজ্যের অবস্থান ছিল বাংলার পশ্চিম ও উত্তর বাংলা নিয়ে।
গৌড়রাজ শশাঙ্কের রাজধানী ছিল কর্ণসুবর্ণ।
শশাংক ৫৯৪ খ্রিষ্টাব্দের গোড়ার দিকে গৌড়, অঞ্চলের ক্ষমতা দখল করে স্বাধীন গৌড় রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
শশাংক শৈব ধর্মের উপাসক ছিলেন।
রাজা শশাঙ্কের মৃত্যুর পর দীর্ঘকাল বাংলায় কোনো যোগ্য শাসক ছিল না।
রাজ্যবর্ধনের মৃত্যুর পর হর্ষবর্ধন কনৌজ ও থানেশ্বরের সিংহাসনে আরোহণ করেন।
হিউয়েন সাং শশাঙ্ককে বৌদ্ধধর্ম বিদ্বেষী বলে আখ্যায়িত করেছেন।
পুকুরে বড় মাছগুলো শক্তির দাপটে ছোট ছোট মাছ ধরে খেয়ে ফেলার মতো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিকে মাৎস্যন্যায় বলে।
শশাঙ্কের মৃত্যুর পর মাৎস্যন্যায় দেখা দেয়।
মাৎস্যন্যায়ের সময়কাল প্রায় ১০০ বছর।
পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপাল।
পাল রাজত্বের উত্থানের মধ্য দিয়ে মাৎস্যন্যায় যুগের অবসান ঘটে।
আট শতকের মাঝামাঝি সময়ে পাল বংশের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গে বঙ্গের নতুন যুগের শুরু হয়।
গোপালের সিংহাসনে আরোহণের মধ্য দিয়ে বাংলায় পাল রাজত্বের শুরু হয়।
গোপালের পিতার নাম ছিল বপ্যট।
পাল বংশের শ্রেষ্ঠ শাসক ছিলেন ধর্মপাল।
ধর্মপাল ৭৮১ সালে সিংহাসনে বসেন।
পাল বংশের রাজত্বকালে উত্তর ভারতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তিনটি রাজবংশের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছিল। ইতিহাসে আধিপত্য বিস্তারের এ যুদ্ধ ত্রিশক্তির সংঘর্ষ নামে পরিচিত।
পাল বংশের রাজত্বকালে উত্তর ভারতে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তিনটি রাজবংশের মধ্যে প্রতিযোগিতা চলছিল। ইতিহাসে আধিপত্য বিস্তারের এ যুদ্ধ ত্রিশক্তির সংঘর্ষ নামে পরিচিত।
পাল, গুর্জর-প্রতিহার ও রাষ্ট্রকূট রাজাদের মধ্যে ত্রিশক্তির সংঘর্ষ হয়েছিল।
ধর্মপাল সর্বোচ্চ সার্বভৌম উপাধি পরমেশ্বর, পরমভট্টারক, মহারাজাধিরাজ ধারণ করেছিলেন।
নওগাঁ জেলার পাহাড়পুর নামক স্থানে ধর্মপাল এক বিশাল বিহার প্রতিষ্ঠা করেন।
ধর্মপালের পুত্র দেবপালের সময়ে পাল সাম্রাজ্য সবচেয়ে বেশি বিস্তার লাভ করেছিল।
ধর্মপাল ৪০ বছর রাজত্ব করেন।
ধর্মপাল ৫০টি শিক্ষাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন
পাল রাজা দ্বিতীয় মহীপালের সময়ে বরেন্দ্র অঞ্চলের সামস্তবর্গ প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করে যাকে ইতিহাসে কৈবর্ত বিদ্রোহ বলা হয়।
রামচরিত' রচিত হয়েছে পাল বংশের সর্বশেষ রাজা রামপালের জীবনকাহিনি নিয়ে।
রামচরিত-এর রচয়িতা হলেন সন্ধ্যাকর নন্দী
পালবংশ প্রায় ৪০০ বছর রাজত্ব করে।
খড়গ বংশের রাজাদের রাজধানীর নাম ছিল কর্মান্তবসাক।
লালমাই পাহাড় ছিল চন্দ্র বংশের মূলকেন্দ্র।
খড়গ বংশের শাসনের পর দেব বংশের উত্থান ঘটে।
দেব বংশের রাজধানীর নাম দেবপর্বত।
খড়গ বংশের রাজাদের রাজধানীর নাম ছিল কর্মান্ত বাসক।
লালমাই পাহাড় প্রাচীনকালে রোহিতগিরি নামে পরিচিত ছিল।
বাংলার সেন বাংশের প্রতিষ্ঠাতা সামন্ত সেন।
সেন বংশের প্রথম রাজা হেমন্ত সেন।
সেন রাজত্বের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন হেমন্ত সেন।
যে বংশের লোকেরা প্রথমে ব্রাহ্মণ থাকে এবং পরে পেশা পরিবর্তন করে ক্ষত্রিয় হয়, তাদেরকে বলা হয় ব্রহ্ম-ক্ষত্রিয়।
সেন বংশের শাসকদের ব্রহ্ম-ক্ষত্রিয় বলা হয়
বিজয় সেন পাল সাম্রাজ্যের বিলুপ্তি ঘটিতে বাংলায় সেন বংশের প্রতিষ্ঠা করেন।
বিজয় সেনের প্রথম রাজধানী ছিল হুগলি জেলার ত্রিবেণীতে অবস্থিত বিজয়পুর।
বল্লাল সেনের নতুন রাজধানীর নাম রামাবতী।
বল্লাল সেন চালুক্য রাজকন্যা রমাদেবীকে বিয়ে করেন।
বল্লাল সেন হিন্দু সমাজকে নতুন করে গড়ার উদ্দেশ্যে 'কৌলীন্য প্রথা' প্রবর্তন করেছিলেন।
দান সাগর' গ্রন্থের রচয়িতা বল্লাল সেন।
লক্ষণ সেন পিতা ও পিতামহের উপাধির পরিবর্তে 'পরম বৈষ্ণব' উপাধি গ্রহণ করেন।
তেরো শতকের প্রথমদিকে মুসলিম সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দিন মোহাম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি নদীয়া আক্রমণ করেন।
বখতিয়ার খলজি তার খাটো গড়ন, লম্বা হাত ও কুৎসিত চেহারার জন্য সৈন্য বিভাগে চাকরি প্রার্থী হয়ে ব্যর্থ হন।
তেরো শতকের প্রথমদিকে মুসলিম সেনাপতি বখতিয়ার খলজি নদীয়া আক্রমণ করেন।
মুসলমান শক্তির হাতে সেন রাজত্বের অবসান ঘটে।
অস্ট্রিক গোষ্ঠীকে জাতি হিসেবে নিষাদ বলা হতো।
গুপ্ত রাজাদের অধীনে বড় কোনো অঞ্চলের-শাসককে বলা হতো মহাসামন্ত।
সমুদ্রগুপ্তের রাজত্বকাল থেকে ছয় শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত উত্তরবঙ্গ পুন্ড্র সাম্রাজ্যের অধীনস্থ প্রত্যেকটি প্রদেশকে ভুক্তি বলা হতো।
গুপ্ত সম্রাট নিজে ভুক্তির শাসনকর্তা নিযুক্ত করতেন।
ভুক্তিপতিকে বলা হতো 'উপরিক'।'
উপরিকর' হলো পাল আমলের উৎপন্ন শস্যের উপর ধার্যকৃত কর
গুপ্ত শাসন প্রতিষ্ঠার পূর্বে কৌম সমাজ ছিল সর্বেসর্বা।
শান্তি রক্ষা ও যুদ্ধবিগ্রহ বিষয়ের উচ্চপদস্থ রাজকর্মচারীকে বলা হতো 'মহাপ্রতিহার'।
Related Question
View Allখড়গ বংশের রাজধানীর নাম ছিল কর্মান্ত-বাসক।
সেনরা ব্রাহ্মণ থেকে পেশা পরিবর্তন করে ক্ষত্রিয় হওয়ায় তাদের ব্রহ্মক্ষত্রিয় বলা হয়। সেন বংশের লোকেরা প্রথমে ব্রাহ্মণ ছিল। কিন্তু কালক্রমে তারা পেশা পরিবর্তন করে ক্ষত্রিয় পেশা গ্রহণ করেন। ফলে কোনো কোনো ঐতিহাসিক তাদেরকে 'ব্রহ্মক্ষত্রিয়' বলেছেন।
উদ্দীপকে নবীনগরের শাসক অজয়ের কর্মকাণ্ডের সাথে সেন শাসক বিজয় সেনের কর্মকাণ্ডের মিল রয়েছে।
বিজয় সেনের পূর্বপুরুষদের আদি বাসস্থান ছিল সুদূর দক্ষিণাত্যের কর্ণাট। সেখান থেকে তারা বসতি স্থাপন করেন রায় অঞ্চলের গঙ্গা নদীর তীরে। বরেন্দ্র উদ্ধারে রামপালকে সাহায্য করার বিনিময়ে বিজয় সেন স্বাধীনতার স্বীকৃতি পান। এরপর তিনি তার সামরিক কৃতিত্ব দ্বারা রাজ্যসীমা বৃদ্ধি করেন এবং হুগলির ত্রিবেণীতে অবস্থিত বিজয়পুরে প্রথম রাজধানী স্থাপন করেন। ধর্মের দিক থেকে বিজয় সেন ছিলেন শৈব। অন্য ধর্মের প্রতি তার কোনো সহিষ্ণুতা ছিল না।
উদ্দীপকের অজয় তার পরিবারের-সাথে পুরোনো বাসস্থান ছেড়ে নবীনগরে নতুনভাবে বসবাস শুরু করেন। তিনি শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর এলাকার লোকজন ধর্মীয় বৈষম্যের শিকার হন। এ বিষয়গুলো বিজয় সেনের কর্মকাণ্ডের সাথেই সাদৃশ্যপূর্ণ।
বিজয় সেনের বংশধরেরা শিক্ষা ও সাহিত্য বিকাশে যথেষ্ট অবদান রেখেছেন বলে আমি মনে করি।
বিজয় সেন বৈদিক ধর্মের প্রতি বেশ শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। তিনি হিন্দুধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করতেন। পরবর্তীতে তার পুত্র বল্লাল সেন অত্যন্ত সুপণ্ডিত ছিলেন। বিদ্যা ও বিদ্বানের প্রতি তার যথেষ্ট অনুরাগ ছিল। তার একটি বিরাট গ্রন্থালয় ছিল। তিনি 'দানসাগর' ও 'অদ্ভুতসাগর' নামে দুটি গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি হিন্দুসমাজকে গঠন করার উদ্দেশ্যে- 'কৌলীন্য প্রথা' প্রবর্তন করেছিলেন। এর ফলে সামাজিক আচার-ব্যবহার, বিবাহ অনুষ্ঠান প্রভৃতি বিষয়ে কুলীন শ্রেণির লোকদিগকে কতকগুলো বিশেষ রীতিনীতি মেনে চলতে হতো। আর তার পুত্র লক্ষণ সেনও একজন সুপণ্ডিত ও বিদ্যোৎসাহী ছিলেন। পিতার অসমাপ্ত গ্রন্থ 'অদ্ভুতসাগর' তিনিই সমাপ্ত করেন। ধোয়ী, শরণ, জয়দেব, গোবর্ধন, উমাপতিধর প্রভৃতি প্রসিদ্ধ কবিগণ তার রাজসভা অলঙ্কৃত করতেন। ভারত প্রসিদ্ধ পণ্ডিত হলায়ুধ তার প্রধানমন্ত্রী ও ধর্মীয় প্রধান ছিলেন।
তাই বলা যায়, বিজয় সেনের বংশধরেরা যথার্থই শিক্ষা ও সাহিত্য বিকাশে অবদান রেখেছেন।
পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন গোপাল।
শশাংকের মৃত্যুর পর বাংলার ইতিহাসে যে দুর্যোগপূর্ণ অন্ধকারময় যুগের শুরু হয়েছিল তা মাৎস্যন্যায় হিসেবে অভিহিত। এ সময় বাংলায় কেন্দ্রীয় শাসন শক্ত হাতে ধরার মতো কেউ ছিলেন না। ফলে রাজ্যে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা দেখা দেয়। ভূস্বামীরা প্রত্যেকেই বাংলার রাজা হওয়ার কল্পনায় একে অন্যের সাথে সংঘাতে মেতে ওঠে। এ সময়কালকে আখ্যায়িত করা হয়েছে 'মাৎস্যন্যায়' বলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!