সূর্য, চাঁদ, গ্রহ, তারা, মহাকাশ, ছায়াপথ, গ্যালাক্সি ইত্যাদি দেখা না দেখা সবকিছুকে নিয়ে আমাদের মহাবিশ্ব। মহাবিশ্বের সকল কিছুকে বলা হয় নভোমণ্ডলীয় বস্তু।
পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর সাথে সাথেই মহাকাশে ঘুরছে। 'এজন্য বায়ুমণ্ডলকে পৃথিবীর অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মহাকাশের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।
অধিকাংশ বায়ুমণ্ডল পৃথিবীর বেশ কাছাকাছি। পৃথিবীপৃষ্ঠ থেকে দূরত্ব যত বাড়তে থাকে, বায়ুমণ্ডল তত হালকা হতে থাকে এবং ১৬০ কিলোমিটারের পর বায়ুমণ্ডল থাকে না বললেই চলে। অধিকাংশ বিজ্ঞানী মনে করেন, পৃথিবী থেকে ১৬০ কিলোমিটার উচ্চতায় বায়ুমন্ডলের শেষ এবং মহাকাশের শুরু।
মহাকাশে মাঝে মাঝে একপ্রকার জ্যোতিষ্কের আবির্ভাব ঘটে। এদের একটি মাথা ও একটি লেজ আছে। এসব জ্যোতিষ্ককে ধূমকেতু বলে। এটি আকাশের এক অতি বিস্ময়কর জ্যোতিষ্ক। সৌরজগতের মধ্যে ধূমকেতুর বস্বাস হলেও এরা কিছুদিনের জন্য উদয় হয়ে আবার অদৃশ্য হয়ে যায়।
ধূমকেতুর দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. এদের একটি মাথা ও একটি লেজ আছে।
২. সূর্যের চারদিকে অনেক দূর দিয়ে এরা পরিভ্রমণ করে
গ্যালাক্সির দুটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হলো-
১. গ্যালাক্সি হলো গ্রহ ও নক্ষত্রের একবৃহৎ দল।
২. গ্যালাক্সি মহাকাশে ঘুরে বেড়ায়।
মহাবিশ্বের যেসব জ্যোতিষ্কের নিজস্ব আলো আছে এবং যারা আয়তনে বৃহৎ ও মিটমিট করে জ্বলে তাদের নক্ষত্র বলা হয়। যেমন-সূর্য, ধ্রুবতারা ইত্যাদি।
নক্ষত্রের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. নক্ষত্রের নিজস্ব আলো ও তাপ আছে।
২. আয়তনে বৃহৎ ও মিটমিট করে জ্বলে।
মহাবিশ্বের নক্ষত্রগুলোকে তাদের আলোর তীব্রতা অনুসারে লাল, নীল, হলুদ ইত্যাদি বিভিন্ন বর্ণে ভাগ করা হয়েছে। অতিবৃহৎ আকারের নক্ষত্রের রং লাল, মাঝারি নক্ষত্রের রং হলুদ এবং ছোট নক্ষত্রের রং নীল হয়ে থাকে।
মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও বিকাশ সংক্রান্ত যেসব তত্ত্ব আছে তার মধ্যে বহুল প্রচলিত হলো 'বিগব্যাং তত্ত্ব'। বাংলায় একে বলা হয় 'মহাবিস্ফোরণ তত্ত্ব'। এই তত্ত্ব মতে, মহাবিশ্ব এক সময় অত্যন্ত উত্তপ্ত ও একক বিন্দুতে অসীম ঘনত্বের অবস্থায় ছিল। বিগব্যাং তত্ত্ব অনুসারে মহাবিশ্ব স্বতঃস্ফূর্তভাবে অতিদ্রুত প্রসারিত হয়ে যায়। দ্রুত প্রসারণের ফলে মহাবিশ্ব ঠান্ডা হয়ে যায় এবং বর্তমান প্রসারণশীল অবস্থায় পৌঁছায়।
সৌরজগতে গ্রহ সংখ্যা ৮টি। এদের নাম হলো- ১. বুধ, ২. শুক্র, ৩. পৃথিবী, ৪. মঙ্গল, ৫. বৃহস্পতি, ৬. শনি, ৭. ইউরেনাস ও ৮. নেপচুন।
যেসব বৃহৎ বস্তু সূর্যের চারদিকে ঘুরে তাদের বলা হয় গ্রহ। সূর্যকে ঘিরে আবর্তনশীল আটটি গ্রহ হলো বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুন।
গ্রহের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. সূর্যের চারপাশে একটি নির্দিষ্ট কক্ষপথের মধ্যে পরিভ্রমণ করে।
২. যথেষ্ট ভর আছে।
গ্রহ ও উপগ্রহের মধ্যে দুটি পার্থক্য হলো-
গ্রহ | উপগ্রহ |
১. গ্রহ সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরে। | ১. উপগ্রহ গ্রহকে কেন্দ্র করে ঘুরে। |
২. গ্রহগুলো আকারে বড় হয়। | ২. উপগ্রহগুলো আকারে ছোট হয়। |
চাঁদকে পৃথিবীর উপগ্রহ বলা হয় 'কারণ-
১. চাঁদ পৃথিবীর চারপাশে ঘুরে।
২. চাঁদ পৃথিবীর মহাকর্ষের দ্বারা আকর্ষিত হয়।
৩. চাঁদ পৃথিবীর সাথে একটি স্থিতিশীল কক্ষপথে রয়েছে।
৪. চাঁদের নিজস্ব আলো নেই, এটি পৃথিবী থেকে আলো গ্রহণ করে।
চাঁদ পৃথিবীর একটি অংশ নয়। কারণ এটি পৃথিবীর আকর্ষণীয় শক্তির দ্বারা আকর্ষিত হয় কিন্তু পৃথিবীর ভূত্বকের সাথে যুক্ত নয়। চাঁদ একটি স্বাধীন বস্তু যা পৃথিবীর চারদিকে ঘুরে।
চাঁদ পৃথিবীর একটি উপগ্রহ। হঠাৎ যদি চাঁদ পৃথিবী থেকে গায়েব হয়ে যায় তাহলে সমুদ্রের জোয়ার ভাটার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আসবে। পৃথিবী তার অক্ষের উপর বর্তমানের তুলনায় দ্রুত ঘুরবে। এর ফলে দিন-রাতের সময় কমে যাবে। শুধু তাই নয়, চাঁদ না থাকলে রাতের অন্ধকার হবে অনেক বেশি।
জোতির্বিজ্ঞানীদের ধারণা, গ্রহের জন্মের সময় কোনো নক্ষত্রকে ঘিরে কয়েকটি মহাজাগতিক মেঘ আবর্তিত হতো। এরা মহাকর্ষ বলের কারণে ঘনীভূত হয়ে অবশেষে জমাট বেঁধে গ্রহে রূপান্তরিত হয়। এভাবেই আবার গ্রহের চারপাশে জমা হয়ে উপগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
দুটি কৃত্রিম উপগ্রহের নাম হলো-
১. স্পুটনিক-১ ও ২. ভস্টক-১।
কৃত্রিম উপগ্রহের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. এদেরকে রকেটের সাহায্যে উৎক্ষেপণ করা হয়।
২. পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ বা অভিকর্ষ বলের প্রভাবে চাঁদের মতো এরা নিজস্ব কক্ষপথে ঘুরে।
কৃত্রিম উপগ্রহ হলো এমন একটি যন্ত্র বা বস্তু, যা মানুষের তৈরি এবং পৃথিবীর কক্ষপথে বা অন্য কোনো গ্রহের কক্ষপথে স্থাপন করা হয়। এটি সাধারণত পৃথিবী বা অন্য কোনো গ্রহের চারপাশে ঘুরতে থাকে এবং বিভিন্ন উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়, যেমন- যোগাযোগ, আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ, নেভিগেশন, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ইত্যাদি।
পৃথিবী পর্যবেক্ষণকারী উপগ্রহ পৃথিবীপৃষ্ঠের সুস্পষ্ট চিত্র দিতে পারে। কোন মাঠে ফসল ভালো হচ্ছে, কোনো ফসলে রোগবালাই বা পোকামাকড় আক্রমণ করেছে তার তথ্য ও ছবি এই উপগ্রহ পাঠাতে পারে। এছাড়াও সমুদ্রে কোন জাহাজ থেকে তেল চুইয়ে কোথায় পরিবেশ দূষণ করছে, কোন শহরের বায়ু দূষিত ও ময়লা তা এই উপগ্রহের সাহায্যে ছবি তুলে জানা যেতে পারে।
গোয়েন্দার কাজ করার জন্য সামরিক বাহিনীতে ব্যবহৃত উপগ্রহ গোয়েন্দা উপগ্রহ নামে পরিচিত। প্রতিপক্ষ যোদ্ধারা কোথায় লুকিয়ে আছে, গোপনে তারা কোথাও অনুপ্রবেশ ঘটাচ্ছে কি-না, কোনো গোপন আক্রমণ হচ্ছে কি না, ইত্যাদি তথ্য সংগ্রহের জন্য এই উপগ্রহ ব্যবহার করা হয়।
গ্রহ, নক্ষত্র, ছায়াপথ, গ্যালাক্সি ইত্যাদির মাঝখানে যে খালি জায়গা তাকে মহাকাশ বা মহাশূন্য বলে। মহাকাশের দিকে তাকালে আমরা যেসব বস্তু দেখতে পাই তা হলো পদার্থ, যেমন- আমাদের এ পৃথিবী। মহাকাশ বা মহাশূন্য বলতে পদার্থের অনুপস্থিতি বোঝায়। এটা হলো সে ফাঁকা জায়গা বা অঞ্চল যেখান দিয়ে পৃথিবী, চাঁদ, সূর্য ও তারা চলাচল করে। সুতরাং মহাকাশ ও মহাশূন্য একই। এদের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
ক্ষুদ্র পোকামাকড় ও ধূলিকণা থেকে শুরু করে আমাদের এ পৃথিবী, দূর-দূরান্তের গ্রহ-নক্ষত্র, ধূমকেতু, গ্যালাক্সি এবং দেখা না দেখা যা কিছু আছে তার সবকিছু নিয়েই মহাবিশ্ব। মানুষ প্রতিনিয়তই মহাবিশ্ব সম্পর্কে নতুন নতুন তথ্য আবিষ্কার করছে। মহাবিশ্বের কোনো কোনো অংশে বস্তু বা পদার্থের উপস্থিতি অন্য অংশের চেয়ে বেশি। যেসব অংশে পদার্থ বা বস্তু বেশি জড়ো বা ঘনীভূত হয়েছে তাদের গ্যালাক্সি বা নক্ষত্রজগৎ বলে। এরকম কোটি কোটি গ্যালাক্সি রয়েছে মহাবিশ্বে, যেখানে রয়েছে কোটি কোটি নক্ষত্র। আমরা জানি, আলো এক সেকেন্ডে প্রায় ৩ লক্ষ কিলোমিটার পথ যেতে পারে। পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্ব প্রায় ১৫ কোটি কিলোমিটার। সূর্য থেকে পৃথিবীতে আলো আসতে সময় লাগে প্রায় ৮ মিনিট ২০ সেকেন্ড। কিন্তু সূর্য থেকে এর সবচেয়ে নিকটবর্তী নক্ষত্রে আলো পৌছাতে সময় লাগে ৪ বছরের চেয়ে বেশি। এক দূরবর্তী নক্ষত্র থেকে অন্য দূরবর্তী নক্ষত্রে আলো পৌছাতে সময় লাগতে পারে কয়েক মিলিয়ন বছর। সুতরাং উপরের আলোচনা থেকে সীমাহীন মহাবিশ্বের বিশালতা অনুভব করা যায়।
মহাবিশ্বের যেসব অংশে পদার্থ বা বস্তু বেশি জড়ো বা ঘনীভূত হয়েছে তাদের বলা হয় গ্যালাক্সি বা নক্ষত্রজগৎ। গ্যালাক্সি হলো গ্রহ ও নক্ষত্রের এক বৃহৎ দল। আমাদের বাসভূমি পৃথিবী যে গ্যালাক্সিতে অবস্থিত তার নাম ছায়াপথ বা মিল্কিওয়ে
সূর্য এবং এর গ্রহ, উপগ্রহ, গ্রহাণুপুঞ্জ, ধূমকেতু, উল্কা নিয়ে সূর্যের যে পরিবার তাকে সৌরজগৎ বলে। সৌরজগতে রয়েছে সূর্য ও একে ঘিরে আবর্তনশীল ৮টি গ্রহ। যেসব বস্তু সূর্যের চারদিকে ঘুরে তাদের বলা হয় গ্রহ। সূর্যকে ঘিরে আবর্তনশীল আটটি গ্রহ হলো-বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুন।
পৃথিবীর চারদিকে ঘুরার জন্য কৃত্রিম উপগ্রহের কেন্দ্রমুখী বল বা টানের প্রয়োজন হয়। কৃত্রিম উপগ্রহের উপর পৃথিবীর আকর্ষণ বল বা অভিকর্ষ বলই এ কেন্দ্রমুখী বল যোগায়। তিনটি রকেটের সাহায্যে কৃত্রিম উপগ্রহকে নির্দিষ্ট উচ্চতায় তুলে পরে ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে বেগ দেওয়া হয়। এভাবেই কৃত্রিম উপগ্রহটি পৃথিবীর চারদিকে ঘুরতে থাকে।
যারা গ্রহকে কেন্দ্র করে ঘুরে তাদের বলা হয় উপগ্রহ। তেমনি মানুষের পাঠানো যেসব বস্তু বা মহাকাশযান পৃথিবীকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরে তাদের বলা হয় কৃত্রিম উপগ্রহ। এসব উপগ্রহ মানুষের নানা রকম কাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। যেমন-যোগাযোগ উপগ্রহের সাহায্যে ভিন্ন দেশের লোকের সাথে টেলিফোনে কথা বলা, রেডিও ও টেলিভিশনের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন তথ্য ও ছবি দেখা ও শোনা যায়। আবহাওয়া উপগ্রহের সাহায্যে প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংক্রান্ত আবহাওয়ার পূর্বাভাস পাওয়া যায়। পৃথিবীর মাটি, পানি ও বায়ু দূষণ নির্ণয়ের জন্য পৃথিবী, পর্যবেক্ষণকারী উপগ্রহ ব্যবহার করা হয়। গোয়েন্দার কাজ করার জন্য সামরিক বাহিনীতে সামরিক বা গোয়েন্দা উপগ্রহ ব্যবহার করা হয়। গাড়ি, সামুদ্রিক জাহাজ ও বিমান এদের অবস্থান সঠিকভাবে নির্ণয়ের জন্য নৌপরিবহন উপগ্রহ ব্যবহার করা হয়। এছাড়া জ্যোতির্বিদ্যাবিষয়ক উপগ্রহে রাখা টেলিস্কোপ বা দূরবীক্ষণযন্ত্র মহাবিশ্ব সম্পর্কে বিভিন্ন অজানা তথ্য জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের দিয়ে থাকে।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!