মালিকানার ভিত্তিতে ব্যবসায় সংগঠনগুলোকে ৫ ভাগে বিভক্ত করা যায়। যথা-
১. একমালিকানা ব্যবসায়
২. অংশীদারি ব্যবসায়
৩. যৌথ মূলধনী ব্যবসায় বা কোম্পানি সংগঠন
৪. সমবায় সমিতি
৫. রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়
একক মালিকানায় গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়কে একমালিকানা ব্যবসায় বলে। এই ধরনের ব্যবসায়ে মালিক একজন থাকে বিধায় তাকে ব্যবসায়ের সমস্ত মূলধন বিনিয়োগ করতে হয় এবং ব্যবসায় পরিচালনা করতে হয়। তবে ব্যবসায়ের সমস্ত লাভ যেমন তিনি একাই ভোগ করেন তেমনি লোকসান হলেও সমস্ত দায়ভার তাকে একাই বহন করতে হয়।
ব্যবসায় শুরু করার জন্য সরকারি অনুমতিপত্রই হলো ট্রেড লাইসেন্স। যেকোনো ব্যবসায় শুরু করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হয় বা-নিবন্ধন করতে হয়। আর এই অনুমোদন বা নিবন্ধন করাই হলো ট্রেড লাইসেন্স। এক মালিকানা ব্যবসায়ের অবস্থান পৌর এলাকায় হলে পৌর কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হয়। আবার এর অবস্থান যদি পৌর এলাকার বাইরে হয় তবে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হয়।
একক মালিকানায় গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায় হলো একমালিকানা সংগঠন। এ ব্যবসায় সহজে গঠন করা যায়। এতে কোনো আইনগত ঝামেলা নেই। স্বল্প পুঁজি নিয়ে যে কেউ' এ ব্যবসায় গড়ে তুলতে পারে। এজন্য একমালিকানা সংগঠনের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
নিচে একমালিকানা ব্যবসায়ের দুটি বৈশিষ্ট্য তুলো ধরা হলো:
১. একমালিকানা ব্যবসায়ের প্রধান বৈশিষ্ট্যই হচ্ছে একক মালিকানা। যিনি একাই মূলধনের যোগান দেন, ব্যবসায় গঠন ও পরিচালনা করেন।
২. একমালিকানা ব্যবসায় খুব সহজেই গঠন করা যায়। কারণ আইনের আনুষ্ঠানিকতা না থাকায় মালিক ইচ্ছা করলেই স্বল্প মূলধন নিয়ে এরূপ ব্যবসায় গঠন করতে পারেন।
একমালিকানা ব্যবসায়ে মালিকের দায় অসীম। ব্যবসায়ের লোকসান বা পাওনার জন্য তার ব্যবসায়ের বিনিয়োগ ছাড়াও ব্যক্তিগত সম্পত্তি দায়ী থাকে। ব্যবসায়ের লোকসান বা ঋণের পরিমাণ বেশি হলে এবং ব্যবসায়ের পুজি দিয়ে তা পরিশোধ করা সম্ভব না হলে মালিক তার ব্যক্তিগত সম্পদ বিক্রয় করে অর্থ পরিশোধ করবে। অর্থাৎ - তার দায়ের কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই।
একমালিকানা ব্যবসায় একক ব্যক্তির প্রচেস্টায় গড়ে ওঠে। এ ব্যবসায়ের স্থায়িত্ব মালিকের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভর করে। মালিকের মৃত্যু, শারীরিক অক্ষমতা, দেউলিয়াত্ব প্রভৃতি কারণে এ ব্যবসায় যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই এ ব্যবসায় সহজেই বিলোপ্সাধন হয়।
একক মালিকানা ব্যবসায়ের মালিক একক দায়িত্বে মূলধন জোগাড় করে, এককভাবে দায় বহন করে এবং এককভাবেই মুনাফা ভোগ করে। তিনি নিজেই ব্যবসায় পরিচালনা করেন। ব্যবসায়ের যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে তিনি কারো সাথে কোনোরূপ শেয়ার করতে বাধ্য থাকেন না। তিনি ইচ্ছা করলেই যেকোনো সময় ব্যবসায় বিলোপও করতে পারেন। এই সকল কারণেই একমালিকানা ব্যবসায় অন্যান্য ব্যবসায়ের তুলনায় জনপ্রিয় হয়ে থাকে
একমালিকানা ব্যবসায় গড়ে তোলার উপযুক্ত ক্ষেত্রগুলো হলো- স্বল্প পুঁজির ব্যবসায়, সীমিত চাহিদার পণ্য, খুচরা পণ্য, পচনশীল পণ্য, পেশাদারি ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠান, ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়, প্রত্যক্ষ সম্পর্কের ব্যবসায় ইত্যাদি।
যৌথমালিকানা ব্যবসায় একাধিক মালিক থাকায় পচনশীল পণ্যের জন্য দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব নয়। ফলে পণ্য পচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। কিন্তু একমালিকানা ব্যবসায়ের মালিক একজন ব্যক্তি হওয়ায় তিনি তার পণ্যের সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিক্রয়ের জন্য দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। তাই পচনশীল পণ্যের জন্য একমালিকানা ব্যবসায় সর্বোত্তম।
বিউটি পার্লার ব্যবসায় সাধারণত একক ব্যক্তির মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়। মালিক সরাসরি গ্রাহকদের সেবা দিয়ে থাকে। সেবা পেয়ে সন্তুষ্ট হলে তারা আকৃষ্ট হয়। এজন্য মালিক ব্যক্তিগত নৈপুণ্য | দিয়ে গ্রাহকদের সেবা দেয়। এতে ব্যবসায়ে সফলতা আসে এজন্য বিউটি পার্লার ব্যবসায়ে প্রত্যক্ষ সম্পর্ক জরুরি।
দুই বা ততোধিক ব্যক্তি মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে চুক্তির ভিত্তিতে যে ব্যবসায় গড়ে তোলে তাকে অংশীদারি ব্যবসায় বলে। অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি চুক্তি। চুক্তি মৌখিক, লিখিত এবং লিখিত ও নিবন্ধিত যেকোনো ধরনের হতে পারে। তবে ভবিষ্যৎ ভুল বোঝাবুঝি দূর করার জন্য চুক্তি লিখিত হওয়াই উত্তম। অংশীদারদের মধ্যে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী লাভ-লোকসান বণ্টন করা হয়। তবে চুক্তির অবর্তমানে অংশীদাররা সমহারে মুনাফা পেয়ে থাকে।
দুই বা ততোধিক ব্যক্তি চুক্তির ভিত্তিতে কোনো ব্যবসায় গঠন ও পরিচালনা করলে তাকে অংশীদারি ব্যবসায় বলে। সাধারণ অংশীদারি ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে সদস্য সংখ্যা ২-২০ জন। তবে ব্যাংকিং ব্যবসায়ের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সদস্য সংখ্যা ১০ জন হতে পারে। এক্ষেত্রে সদস্যরা ব্যবসায় পরিচালনার জন্য চুক্তি করে। এতে অংশীদারদের লাভ-লোকসান বণ্টন, দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে উল্লেখ থাকে।
চুক্তির মাধ্যমে অংশীদারদের মধ্যে যে সম্পর্কের সৃষ্টি হয় তাকে চুক্তিবদ্ধ সম্পর্ক বলে। এরূপ সম্পর্কের আলোকেই অংশীদারি ব্যবসায় গঠিত ও পরিচালিত হয়। অংশীদারদের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকলেও চুক্তি ছাড়া সেই সম্পর্ক বিবেচিত হয় না। এরূপ চুক্তি মৌখিক, লিখিত এবং লিখিত ও নিবন্ধিত যে কোনো ধরনের হতে পারে। তবে ভবিষ্যৎ ভুল বোঝাবুঝি দূর করার জন্য চুক্তি লিখিত হওয়াই উত্তম।
নিচে একমালিকানা ও অংশীদারি ব্যবসায়ের দুটি পার্থক্য উল্লেখ করা হলো:
পার্থক্যের বিষয় | একমালিকানা ব্যবসায় | অংশীদারি ব্যবসায় |
সংজ্ঞা | একক মালিকানায় গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়কে একমালিকানা ব্যবসায় বলে। | দুই বা ততোধিক ব্যক্তি মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে চুক্তির ভিত্তিতে যে ব্যবসায় গড়ে তোলে তাকে অংশীদারি ব্যবসায় বলে। |
ঝুঁকি বণ্টন | মালিক একজন থাকায় ঝুঁকি বণ্টনের সুযোগ নেই। | একাধিক মালিক থাকায় ঝুঁকি বণ্টনের সুযোগ রয়েছে। |
বাংলাদেশে বিদ্যমান ১৯৩২ সালের অংশীদারি আইনের ৭ধারায় উল্লেখ রয়েছে যে, কোনো অংশীদারি চুক্তিপত্রে অংশীদারগণ ব্যবসায়ের স্থায়িত্বকাল বা মেয়াদের সীমানা নির্ধারণ না করলে তাকে ঐচ্ছিক অংশীদারি ব্যবসায় বলে। ঐচ্ছিক অংশীদারি ব্যবসায় কোনো অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য গঠিত হয়, অথবা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য গঠিত হলেও উক্ত সময় শেষ হওয়ার পরও ব্যবসায় চলতে থাকে অথবা কোনো নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদনের জন্য গঠিত হলেও উক্ত কার্য সমাপ্ত হওয়ার পরও ব্যবসায় চলতে থাকে।
১৯৩২ সালের অংশীদারি আইন অনুযায়ী অংশীদারি প্রতিষ্ঠান গঠিত হয়। দুই বা ততোধিক ব্যক্তির মধ্যে ব্যবসায় গঠন করতে হলে ব্যবসায়িক চুক্তিপত্র করতে হয়। আর চুক্তি থেকে ব্যবসায়ের যে মূল ভিত্তি রচিত হয় তা-ই অংশীদারিত্ব।
চুক্তির মাধ্যমে অংশীদারদের মধ্যে যে সম্পর্কের সৃষ্টি হয় তাকে চুক্তিবদ্ধ সম্পর্ক বলে। চুক্তিই অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি। অর্থাৎ ব্যবসায় পরিচালনাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চুক্তিই এখানে গুরুত্বপূর্ণ। এরূপ সম্পর্কের আলোকেই অংশীদারি ব্যবসায় গঠিত ও পরিচালিত হয়। অংশীদারদের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকলেও চুক্তি ছাড়া সেই সম্পর্ক বিবেচিত হয় না। তাই অংশীদারি আইনের ৫ ধারায় বলা হয়েছে, অংশীদারি সম্পর্ক সৃষ্টি হয় চুক্তি হতে, মর্যাদা থেকে নয়।
চূড়ান্ত সন্ধিশ্বাস অংশীদারি ব্যবসায়ের উপাদান। অংশীদারদের পারস্পরিক বিশ্বাসের ওপরই অংশীদারি ব্যবসায় টিকে থাকে। বিশ্বাসের ভিত্তিতে সদস্যরা একে অন্যের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। চূড়ান্ত সম্বিশ্বাসের কারণে যেমন এ ব্যবসায় টিকে থাকে, তেমনি এ বিশ্বাসের ঘাটতি হলে ব্যবসায়ের বিলোপ হতে পারে।
অংশীদারি ব্যবসায়ের দুটি বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ :
১.অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি চুক্তি। চুক্তি মৌখিক, লিখিত এবং লিখিত ও নিবন্ধিত যে কোনো ধরনের হতে পারে। তবে ভবিষ্যৎ ভুল বোঝাবুঝি দূর করার জন্য চুক্তি লিখিত হওয়াই উত্তম।
২. অংশীদারি ব্যবসায়ের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক নয়। তবে অনিবন্ধিত অংশীদারি ব্যবসায়ের তুলনায় নিবন্ধিত অংশীদারি ব্যবসায় অধিক সুবিধা পায় বলে নিবন্ধন করাটাই উত্তম।
অংশীদারদের অসীম দায় বলতে বিনিয়োজিত মূলধনের বাইরেও তাদের ব্যক্তিগত দায় সৃষ্টি হওয়াকে বোঝায়। অংশীদারি আইন অনুযায়ী অংশীদারি ব্যবসায়ের যেকোনো দেনার জন্য প্রত্যেক অংশীদারকে এককভাবে ও যৌথভাবে দায়ী থাকতে হয়। অর্থাৎ কোনো পাওনাদার ব্যবসায় থেকে তার সম্পূর্ণ ঋণের টাকা বুঝে না পেলে প্রাথমিকভাবে ব্যবসায়ের সম্পত্তি ও সম্পদ ব্যবহার করা হয়। তাতেও দেনা পরিশোধ না হলে অংশীদারদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হতে তা পরিশোধ করতে হয়। এসকল কারণেই অংশীদারি ব্যবসায়ের দায় অসীম হয়।
ব্যবসায়ে নিয়োজিত মূলধনের বাইরেও মালিকের ব্যক্তিগত দায় সৃষ্টি হলে তাকে অসীম দায় বলে। দায়ের মাত্রা বুঝে ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের সতর্ক হয়ে চলার যে সুবিধা তাকেই অসীম দায়ের পরোক্ষ সুবিধা বলে। একমালিকানা ব্যবসায়ে মালিকের দায় অসীম হওয়ায় মালিক সতর্কতার সাথে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। অংশীদারি ব্যবসায়েও এ কারণে অংশীদারগণ অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ব্যবসায় পরিচালনার চেষ্টা করে। ফলে অপ্রয়োজনীয় ব্যয়সহ আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস পায়।
অংশীদারদের চুক্তি সম্পাদনে আইনগত যোগ্যতা থাকাকে অংশীদারদের যোগ্যতা বলে। অংশীদারি আইন অনুযায়ী সকল ব্যক্তিই অংশীদারি ব্যবসায়ের অংশীদার হতে পারে না। এক্ষেত্রে অংশীদারকে কিছু যোগ্যতার অধিকারী হতে হয়। যেসকল যোগ্যতা থাকলে একজন ব্যক্তি অংশীদার হতে পারে, সেগুলো হচ্ছে: চুক্তি সম্পাদনের যোগ্যতা, ব্যক্তির সততা ও বিশ্বাস, ব্যবসায় কার্যক্রম পরিচালনা করার যোগ্যতা, আর্থিক সচ্ছলতা, চুক্তির শর্তাবলির প্রতি আনুগত্য থাকা ইত্যাদি।
অংশীদারদের মধ্যকার চুক্তির বিষয়বস্তু দলিলে লিপিবদ্ধ করাকে অংশীদারি চুক্তিপত্র বলে। অংশীদারি চুক্তিপত্রে অংশীদারের অধিকার ও দায়-দায়িত্ব উল্লেখ থাকে। এটি ব্যবসায় পরিচালনার ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করে। এর বিষয়বস্তু এমনভাবে ঠিক করা হয়, যেন যেকোনো সমস্যার সমাধান পাওয়া যায়।
সাধারণত চুক্তির ওপর ভিত্তি করে অংশীদারি ব্যবসায় গঠিত হয়। এতে অংশীদারদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক নির্ধারণ, ব্যবসায় সম্পর্কিত যাবতীয় নিয়ম লিপিবদ্ধ থাকে। এছাড়াও অংশীদারি ব্যবসায়ের বিলোপসাধন, বিবাদ মীমাংসাসহ বিভিন্ন বিষয় চুক্তিতে। বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়। তাই চুক্তিকে অংশীদারি ব্যবসায়ের মূল ভিত্তি বলা হয়। .
অংশীদারি ব্যবসায়ের চুক্তি লিখিত হওয়া উত্তম। অংশীদারি চুক্তি লিখিত হলে সদস্যদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কা থাকে না। লিখিত চুক্তি আদালতে প্রামাণ্য দলিল হিসেবে উপসথাপন করা যায়। এজন্য ভবিষ্যৎ সমস্যা সমাধানে চুক্তি লিখিত হওয়া উত্তম।
চুক্তিপত্র অংশীদারি ব্যবসায়ের দিক-নির্দেশক হিসেবে কাজ করে। ভবিষ্যতে অংশীদারদের মধ্যে যাতে কোনো বিভেদ বা মতবিরোধ সৃষ্টি না হয় এবং ব্যবসায় পরিচালনায় কোনো জটিলতা না ঘটে সেজন্য চুক্তিপত্রে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ থাকে। এগুলোর মধ্যে অংশীদারি ব্যবসায়ের নাম ও ঠিকানা, ব্যবসায়ের প্রকৃতি, উদ্দেশ্য ও আওতা, অংশীদারদের নাম, ঠিকানা ও পেশা, ব্যবসায়ের মূলধনের পরিমাণ ও লাভ-লোকসান বণ্টন পদ্ধতি, অংশীদারদের দায়িত্ব, ক্ষমতা ও অধিকার, বিরোধ মীমাংসা এবং বিলোপসাধনের পদ্ধতিসহ আরও অন্যান্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অংশীদারি চুক্তিপত্রে উল্লেখ করা হয়।
অংশীদারি ব্যবসায়ের নিবন্ধন বলতে নিবন্ধকের অফিসে ব্যবসায়ের নাম তালিকাভুক্তকরণ করাকে বোঝায়। অংশীদারি আইন অনুযায়ী অংশীদারি ব্যবসায়ের নিবন্ধনকে বাধ্যতামূলক করা হয়নি। এক্ষেত্রে ব্যবসায়ের নিবন্ধন না করলে চুক্তিজাত অধিকার আদায়ে অপর অংশীদারির বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে না, তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে না, পাওনা আদায়ে মামলা করা যাবে না। কিন্তু অংশীদারি ব্যবসায়টি নিবন্ধিত হলে উক্ত সুবিধাগুলো ভোগ করতে পারে। এসকল কারণেই নিবন্ধিত অংশীদারি ব্যবসায় উত্তম।
নিবন্ধিত অংশীদারি ব্যবসায় বেশকিছু ক্ষেত্রে অনিবন্ধিত অংশীদারি ব্যবসায়ের চেয়ে বেশি সুবিধা ভোগ করে। যেমন- নিবন্ধিত অংশীদারি ব্যবসায় অপর অংশীদারের বিরুদ্ধে অধিকার আদায়ের জন্য মামলা করতে পারে। এ ব্যবসায় তৃতীয় পক্ষের বিরুদ্ধেও মামলা করতে পারে। এছাড়া, পাওনা আদায়ের নিবন্ধিত অংশীদারি ব্যবসায় সুবিধা পায়। তাই নিবন্ধিত অংশীদারি ব্যবসায় উত্তম।
যে অংশীদার ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করে এবং সক্রিয়ভাবে ব্যবসায় পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে তাকে সাধারণ অংশীদার বলে। এরূপ অংশীদার ব্যবসায় গঠন ও পরিচালনায় মুখ্য ভূমিকা রাখে। এদেরকে অসীম দায় বহন করতে হয়। সব কাজে ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে তারা কার্যকর ভূমিকা রাখে। চুক্তিতে উল্লেখ থাকলে এ ধরনের অংশীদার ব্যবসায় পরিচালনার জন্য পারিশ্রমিক পায়।
যে অংশীদার ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করে, লাভ-ক্ষতিতে অংশগ্রহণ করে কিন্তু অধিকার থাকা সত্ত্বেও ব্যবসায় পরিচালনায়অংশগ্রহণ করে না, তাকে ঘুমন্ত বা নিষ্ক্রিয় অংশীদার বলে। এমন অনেক ব্যক্তি আছে যাদের ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করার মতো সামর্থ্য রয়েছে কিন্তু ব্যবসায়ে শ্রম দেওয়ার মতো সময় বা যোগ্যতা নেই তারাই ঘুমন্ত বা নিষ্ক্রিয় অংশীদার হিসেবে ব্যবসায়ে যোগদান করে। তবে এরূপ অংশীদারের দায় সক্রিয় অংশীদারের ন্যায় অসীম।
যে ব্যক্তি অর্থের বিনিময়ে নামের সুনাম বিক্রয় করে তাকে নামমাত্র অংশীদার বলে। এরা ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করে না এবং ব্যবসায় পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে না কিন্তু ব্যবসায়ের স্বার্থে নিজের খ্যাতি বা সুনাম ব্যবহার করার অনুমতি দেয়। নামমাত্র অংশীদার ব্যবসায়ের কোনো অংশীদার নন। এরূপ অংশীদার সাধারণ অংশীদারের ন্যায় অসীম দায় বহন করে না।
যে অংশীদার ব্যবসায় হতে অবসর গ্রহণ করার পরও মূলধন উত্তোলন না করে ঋণ হিসেবে ব্যবসায়ে রেখে দেন তাকে আপাতদৃষ্টিতে অংশীদার বলে। প্রকৃতপক্ষে এরূপ ব্যক্তিগণ কোনো অংশীদার নয়, এরা পাওনাদার বা ঋণদাতা। এক্ষেত্রে কোনো সাধারণ অংশীদার গণবিজ্ঞপ্তি না দিয়ে ব্যবসায় হতে চলে গেলে তৃতীয় পক্ষের নিকট দায়ী হবে।
চুক্তি অনুযায়ী কোনো অংশীদারের দায় সীমাবদ্ধ হলে বা আইন অনুযায়ী সকল অংশীদারের সম্মতিতে কোনো নাবালককে সুবিধা প্রদানের জন্য অংশীদার করা হলে তাকে সীমিত অংশীদার বলে। সাধারণত সীমিত অংশীদারদের দায় তাদের ব্যবসায়ে নিয়োজিত মূলধনের পরিমাণ দ্বারা সীমাবদ্ধ থাকে। তবে তারা ব্যবসায় পরিচালনায় অংশগ্রহণ করতে পারেন না।
যদি কোনো ব্যক্তি ব্যবসায়ের অংশীদার না হয়েও মৌখিক কথাবার্তা, লেখা বা অন্য কোনো আচরণের দ্বারা নিজেকে ব্যবসায়ের অংশীদার বলে পরিচয় দেয় তবে তাকে আচরণে অনুমিত অংশীদার বলে। এরূপ অংশীদার ব্যবসায়ে মূলধন বিনিয়োগ করে না। ব্যবসায় পরিচালনায় অংশগ্রহণ করে না। এমনকি ব্যবসায় হতে মুনাফাও গ্রহণ করে না। তবে ব্যবসায় থেকে তার কাজের জন্য কমিশন লাভ করে থাকে।
অংশীদারি ব্যবসায়ের বিলোপসাধন বলতে অংশীদারদের মধ্যকার চুক্তির সম্পর্কের অবসায়নকেই বোঝায়। অংশীদারি ব্যবসায়ের সৃষ্টি হয় চুক্তি হতে। তাই কোনো কারণে অংশীদারদের মধ্যকার চুক্তিবদ্ধ সম্পর্কের অবসায়ন, ব্যবসায়ের যাবতীয় বিষয়-সম্পত্তি ও দেনা-পাওনার নিষ্পত্তি ঘটলে অংশীদারি ব্যবসায়ের বিলোপসাধন ঘটে। অংশীদারি সম্পর্কের বিলুপ্তির সাথে প্রতিষ্ঠানের বিলুপ্তি ঘটবে এমনটি সকল ক্ষেত্রে নাও ঘটতে পারে। কারণ একমাত্র | অংশীদার সম্পর্ক ছিন্ন করলে অন্য অংশীদাররা পূর্বের সম্পর্ক পুনর্গঠিত করে ব্যবসায় চালাতে পারে।
ব্যবসায়ের সকল অংশীদার বা যেকোনো একজন ব্যতীত অন্য সকল অংশীদার আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত হলে এবং ঘটনাক্রমে যদি ব্যবসায়ের কার্যকলাপ অবৈধ হয়ে পড়ে তাকে বাধ্যতামূলক বিলোপসাধন বলে। রাষ্ট্রীয়ভাবে কোনো নতুন আইন প্রণয়নের ফলে । যদি এমন কিছু ঘটে যার ফলে অংশীদারি ব্যবসায়ের কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হয় তখন বাধ্যতামূলক বিলোপসাধন ঘটে। সাধারণত ১৪১ ধারা অনুযায়ী এ ধরনের বিলোপসাধন হয়ে থাকে।
কোনো অংশীদারের মস্তিষ্ক বিকৃত হলে আদালতের নির্দেশে বিলোপসাধন হবে। অংশীদারি আইনের ৪৪ ধারা অনুযায়ী এ ধরনের বিলোপসাধন হয়। কোনো অংশীদারের মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটলে তিনি কোনো মতামত কিংবা সিদ্ধান্ত দিতে পারেন না। তাই আদালত ব্যবসায়ের বিলোপসাধনের নির্দেশ দেয়।
কোনো অংশীদারি ব্যবসায় অবৈধ হয়ে পড়লে এই ব্যবসায়ের বাধ্যতামূলক বিলোপসাধন হয়। অংশীদারি আইনের ৪১ ধারা অনুযায়ী ব্যবসায়ের বাধ্যতামূলক বিলোপসাধন হয়ে থাকে। ব্যবসায়ের কোনো কাজ দেশের প্রচলিত আইনের বাইরে হলে ব্যবসায়টি অবৈধ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে ব্যবসায়টির বাধ্যতামূলক বিলোপসাধন হয়ে থাকে।
অংশীদারি আইনের ৪২ ধারা অনুযায়ী বিশেষ ঘটনাসাপেক্ষে অংশীদারি ব্যবসায়ের বিলোপসাধন হয়। ব্যবসায়ের নির্দিষ্ট সময় শেষ হয়ে গেলে বা নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য অর্জিত হলে অংশীদারি ব্যবসায়ের এ ধরনের বিলোপসাধন হয়। এছাড়া কোনো অংশীদারের মৃত্যু হলে বিশেষ ঘটনাসাপেক্ষে বিলোপসাধন হয়। আবার আদালত কর্তৃক কোনো অংশীদার দেউলিয়া ঘোষিত হলে এ ধরনের বিলোপসাধন হয়ে। থাকে।
কোম্পানি আইনের অধীনে গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত সংগঠনকে যৌথমূলধনী কোম্পানি বলে। কোম্পানি সংগঠন আইনের অধীনে গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয় বিধায় এ ব্যবসায় সহজে ভাঙে না এবং চিরন্তন অস্তিত্বের অধিকারী। এটি নিজ নামে পরিচিত ও পরিচালিত হয় বিধায় ব্যক্তিক স্বার্থ ও কর্তৃত্ব এখানে মুখ্য হতে পারে না। সদস্য সংখ্যা বেশি হওয়ায় এক্ষেত্রে পর্যাপ্ত মূলধন সংগ্রহ ও বৃহদায়তন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা সহজ হয়।
একমালিকানা ব্যবসায়ের মাধ্যমে বিশ্বের বুকে ব্যবসায়ের যে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছিল কালক্রমে তা আর একমালিকানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। একমালিকানা ব্যবসায়ের বেশকিছু সীমাবদ্ধতা বিশেষ করে মূলধনের স্বল্পতা ও একক পরিচালনা ও ক্ষুদ্র আয়তনের জন্য অংশীদারি ব্যবসায়ের উৎপত্তি হয়। কিন্তু অংশীদারি ব্যবসায়ও মূলধনের সীমাবদ্ধতা, আইনগত সীমাবদ্ধতা, স্থায়িত্বহীনতা ও অসীম দায়ের ভার থেকে মুক্ত হতে পারেনি। একসময় মানুষের চাহিদা, প্রয়োজনীয়তা ও ব্যবসায়ের আওতা আরও বৃদ্ধি পেতে থাকে। ফলশ্রুতিতে আইনের ভিত্তিতে সৃষ্টি হয় অধিক মূলধন ও বৃহদায়তনের যৌথমূলধনী ব্যবসায় যা কোম্পানি সংগঠন নামেও পরিচিত।
কয়েকজন ব্যক্তি মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে যৌথভাবে মূলধন বিনিয়োগ করে আইনসম্মতভাবে যে ব্যবসায় গঠন করে, তাকে যৌথমূলধনি কোম্পানি বলে। যেকোনো সদস্য ইচ্ছা করলে শেয়ার হস্তান্তর করে সহজে এ ব্যবসায় ছেড়ে যেতে পারে। আবার, কেউ ইচ্ছা করলে শেয়ার কেনার মাধ্যমে এ ব্যবসায়ের সদস্য পদ পেতে পারে। তাই যৌথমূলধনি কোম্পানিকে স্বেচ্ছামূলক সংগঠন বলা হয়।
যৌথমূলধনি কোম্পানি শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রির মাধ্যমে পুঁজি গঠন করে। কোম্পানির শেয়ার কেনার মাধ্যমে বিনিয়োজিত অর্থ মূলধনে পরিণত হয়। এছাড়া মানুষ ঝুঁকি ছাড়াই নির্দিষ্ট হারে সুদ প্রাপ্তির আশায় যৌথমূলধনি কোম্পানির ঋণপত্রে বিনিয়োগ করে। এভাবে যৌথমূলধনি কোম্পানি পুঁজি গঠন করে।
ব্যক্তি না হয়েও কোনো কিছু ব্যক্তির ন্যায় অধিকার ও মর্যাদা লাভ করাকে কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা বলে। নির্দিষ্ট আইনের আওতায় সৃষ্টি হয় বলে আইন কোম্পানিকে রক্তমাংসে গড়া মানুষের ন্যায় একটি কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা প্রদান করেছে। যদিও একে দেখা যায় না বা ছোঁয়া যায় না অথবা মানুষের ন্যায় এর কোনো ভোটাধিকার থাকে না। ফলে এরূপ প্রতিষ্ঠান নিজ নামে অন্যের সাথে চুক্তি করতে, লেনদেন করতে এবং প্রয়োজনে মামলা দায়ের করতে পারে। অন্যরাও একইভাবে কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের মামলা করতে পারে।
সহজে বিলুপ্ত হয় না এমন অস্তিত্বকে চিরন্তন অস্তিত্ব বলে। আইনের দেওয়া কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা কোম্পানিকে চিরন্তন অস্তিত্বের অধিকারী করেছে। ফলে কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা বলে এর ক্রমাগত উত্তরাধিকার সত্তা বজায় থাকে। তাই যে কেউ ইচ্ছা করলেই আইনের বিধান ছাড়া এর অস্তিত্ব বিলোপ করতে পারে না। এমনকি এর সকল সদস্যদের মৃত্যু ঘটলেও সংগঠন টিকে থাকে।
কোম্পানি ব্যবসায়ের সদস্যদের দায় সীমিত। সাধারণত একমালিকানা ও অংশীদারি ব্যবসায়ের মতো কোম্পানি ব্যবসায়ের সদস্যদের দায় অসীম নয়। এখানে সদস্যদের দায় তাদের ক্রীত শেয়ারমূল্য ও প্রতিশ্রুতি দ্বারা সীমাবদ্ধ। শেয়ারমূল্য দ্বারা সীমাবদ্ধ বলতে বোঝায়, একজন শেয়ারমালিক যে পরিমাণ শেয়ার ক্রয় করেন তিনি শুধু সে পরিমাণ অর্থের জন্য দায়ী। অর্থাৎ যদি কোনো শেয়ারমালিক কোনো কোম্পানির ১০০ টাকা মূল্যের ১০০টি শেয়ার ক্রয় করেন তাহলে তার দায় শুধু ১০,০০০ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।
যে কোম্পানির সদস্যসংখ্যা কমপক্ষে ২ জন এবং সর্বোচ্চ ৫০ জন, যার শেয়ার অবাধে হস্তান্তরযোগ্য নয় তাকে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি বলে। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি ঘরোয়া পরিবেশে পরিচিতজনদের নিয়ে তুলনামূলকভাবে কম মূলধন নিয়ে গঠিত হয়। এরূপ কোম্পানির সদস্যগণই প্রয়োজনীয় মূলধনের যোগান দিয়ে থাকে। এছাড়াও কোম্পানি বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয়স্বজনের নিকট হতে প্রয়োজনীয় মূলধন সংগ্রহ করে। কারণ এই কোম্পানি জনগণের উদ্দেশ্যে শেয়ার বা ঋণপত্র ইস্যু করতে পারে না। এটি আইনসৃষ্ট কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তার অধিকারী চিরন্তন অস্তিত্ববিশিষ্ট ব্যবসায় সংগঠন।
যে কোম্পানির সদস্যসংখ্যা সর্বনিম্ন ৭ জন ও সর্বোচ্চ সদস্যসংখ্যা কোম্পানির স্মারকলিপিতে উল্লিখিত শেয়ারসংখ্যা দ্বারা সীমাবদ্ধ এবং শেয়ার ও ঋণপত্র জনগণের নিকট বিক্রি করা যায় এবং শেয়ার অবাধে হস্তান্তরযোগ্য তাকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি বলে। পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি প্রয়োজনে স্মারকলিপিতে সংশোধনী এনে শেয়ারসংখ্যা বাড়িয়ে সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি করতে পারে। আইন অনুযায়ী পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির ন্যূনতম ৩ জন পরিচালক থাকতে হবে।
নিচে প্রাইভেট ও পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির মধ্যে দুটি পার্থক্য তুলে ধরা হলো:
পার্থক্যের বিষয় | প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি | পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি |
১. সংজ্ঞা | যে কোম্পানির সদস্য সংখ্যা কমপক্ষে ২ জন এবং সর্বোচ্চ ৫০ জনে সীমাবদ্ধ তাকে প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি বলে। | যে কোম্পানির সদস্য সংখ্যা কমপক্ষে ৭জন এবং সর্বোচ্চ শেয়ার সংখ্যা দ্বারা সীমাবদ্ধ, তাকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি বলে। |
২. শেয়ার হস্তান্তরযোগ্যতা | প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির শেয়ার হস্তান্তরযোগ্য নয়।. | পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির শেয়ার হস্তান্তরযোগ্য। |
শেয়ার ও ঋণপত্রের দুটি পার্থক্য দেওয়া হলো:
শেয়ার | ঋণপত্র |
শেয়ার কোম্পানির মূলধনের অংশ। | ঋণপত্র ব্যবসায়ের ঋণের অংশ। |
শেয়ারমালিকগণ কোম্পানিতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে থাকেন। | ঋণপত্রের মালিকগণের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ নেই। |
নিবন্ধনপত্র সংগ্রহ পর্যায়ে কোম্পানি নিবন্ধনের জন্য নিবন্ধকের অফিস থেকে ফি দিয়ে আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে হয়।.। আবেদনপত্র যথাযথভাবে পূরণ করে নির্ধারিত ফি ও প্রয়োজনীয় দলিলপত্র নিবন্ধকের নিকট জমা দিতে হয়। নিবন্ধক নির্ধারিত আবেদনপত্র, সকল দলিলপত্র ও ফি পাওয়ার পর যদি সকল বিষয়ে সন্তুষ্ট হন তবে নিবন্ধন বইতে কোম্পানির নাম তালিকাভুক্ত করেন এবং নিবন্ধনপত্র প্রদান করেন। এ পত্র পাওয়ার পর প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি কাজ শুরু করতে পারে তবে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিকে কাজ শুরু করার জন্য নিবন্ধকের নিকট থেকে। কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র সংগ্রহ করতে হয়।
যে দলিলে কোম্পানির নাম, ঠিকানা, উদ্দেশ্য, মূলধনের পরিমাণ, সদস্যদের দায়ের প্রকৃতি, সম্মতির বিষয় উল্লেখ থাকে তাকে স্মারকলিপি বলে। এটি কোম্পানির মূল দলিল, সনদ বা সংবিধান। এতে কোম্পানির মূল বিষয়াবলি, কর্মপরিধি ও ক্ষমতার সীমা নির্দেশ করা হয়।
স্মারকলিপি হলো কোম্পানির মূল দলিল, গঠনতন্ত্র বা সনদ। এই দলিলে কোম্পানির নাম, ঠিকানা, উদ্দেশ্য, দায়, মূলধন ও সম্মতি বিষয়ে লিপিবদ্ধ থাকে। এটি ছাড়া কোম্পানি গঠন করা যায় না। এছাড়া এটি কোম্পানির কাজের ক্ষেত্র ও ক্ষমতার সীমা নির্ধারণ করে। এজন্য স্মারকলিপিকে কোম্পানির সংবিধান বলা হয়।
যে. দলিলের মধ্যে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ কার্য পরিচালনার নিয়মাবলি লেখা থাকে তাকে পরিমেল নিয়মাবলি বলে। এটি কোম্পানির এমন একটি দলিল যাতে কোম্পানির অভ্যন্তরীণপরিচালনার সকল নিয়ম উল্লেখ থাকে। এতে উল্লেখ নেই এমন কোনো কাজ করতে হলে কোম্পানিকে প্রথমে স্মারকলিপিতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে এটি তৈরি বাধ্যতামূলক। তবে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি এটি তৈরি না করেও ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনে বর্ণিত তফসিল-১ ব্যবহার করতে পারে।
কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র সংগ্রহের পর পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি কাজ শুরু করতে পারে। এরূপ পত্র নিবন্ধক কর্তৃক পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে প্রদান করা হয়। কার্যারম্ভের অনুমতিপত্র পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দলিল। এই দলিল সংগৃহীত না হওয়া পর্যন্ত কোম্পানি তার কার্য শুরু করতে পারে না। নিবন্ধনপত্র পাওয়ার পর পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিকে এই পত্র সংগ্রহ করতে হয়। এরূপ পত্র পাওয়ার জন্য কোম্পানিকে প্রয়োজনীয় দলিলপত্রসহ নিবন্ধকের নিকট আবেদন করতে হয়।
কতিপয় ব্যক্তি নিজেদের অর্থনৈতিক কল্যাণের উদ্দেশ্যে সমবায় আইনের অধীনে যে সমিতি গঠন করে তাকে সমবায় সমিতি বলে। এর শাব্দিক অর্থ হলো সম্মিলিত কর্মপ্রচেষ্টা। অর্থাৎ কোনো সাধারণ উদ্দেশ্য অর্জনের জন্যে সকলে মিলেমিশে সমান অধিকারের ভিত্তিতে স্বেচ্ছায় কাজ করাকে সমবায় বলে। সমবায়ের মূলমন্ত্র হলো 'সকলের তরে সকলে আমারা প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।' সাধারণত নিম্ন আয়ের একই শ্রেণির মানুষ, যারা প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করে বৃহদায়তন ব্যবসায় গঠন করতে পারে না তারাই স্বেচ্ছায় সমবায় সমিতি গঠন করে।
কমপক্ষে ১০টি কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির সমন্বয়ে যে সমিতি গঠিত হয়, তাকে জাতীয় সমবায় সমিতি বলে। এরূপ সমিতি দেশের সর্বোচ্চ স্তরের সমবায় প্রতিষ্ঠান, যা দেশের অভ্যন্তরে কার্যরত বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির সমন্বয়ে গঠিত হয়। এতে কোনো ব্যক্তি সদস্য থাকতে পারে না। কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি থেকে নির্বাচিত প্রতিনিধি সমন্বয়ে এরূপ সমিতির নির্বাহী কমিটি গঠিত ও পরিচালিত হয়। জাতীয় মৎস্যজীবী সমিতি, জাতীয় সমবায় ব্যাংক, জাতীয় তাঁতি সমিতি এরূপ সমিতির উদাহরণ।
সমবায় সমিতি সমবায় আইনে গঠিত হয় বিধায় এর কাজের একটি ধারাবাহিকতা রয়েছে। তাছাড়া উদ্দেশ্য পূরণে যেকোনো ধরনের সম্পদ অর্জন, ধারণ, হস্তান্তর এবং চুক্তি করার অধিকার সংরক্ষণ করে। সমিতির নামে একটি সাধারণ সিলমোহর থাকে। প্রয়োজনবোধে সমিতি নিজ নামে মামলা দায়ের করতে পারে এবং অন্য কেউ দাবি আদায়ের জন্য সমিতির নামেও মামলা দায়ের করতে পারে। তাই বলা যায়, সমবায় সমিতি আইনের দৃষ্টিতে একটি কৃত্রিম ও স্বতন্ত্র সত্তাবিশিষ্ট সংগঠন।
২০০১ সালের আইনে তিন ধরনের সমবায় সমিতির কথা বলা হয়েছে। তিন প্রকার সমবায় সমিতি হলো-
(১) প্রাথমিক সমবায় সমিতি (২) কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি (৩) জাতীয় সমবায় সমিতি।
কমপক্ষে ১০টি প্রাথমিক সমবায় সমিতির সমন্বয়ে গঠিত সংগঠনকে কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি বলে। এরূপ সমিতিতে কোনো ব্যক্তি সদস্য থাকতে পারে না। প্রাথমিক সমবায় সমিতির নির্বাহী কমিটির সদস্যদের মধ্য হতে নির্বাচিত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে এরূপ সমিতি পরিচালিত হয়। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, গ্রামীণ কৃষক সমবায় সমিতিসমূহ মিলে ইউনিয়ন বা থানা পর্যায়ে কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি গঠিত হয়।
একাধিক উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য কোনো সমবায় সমিতি গঠিত হলে তাকে বহুমুখী সমবায় সমিতি বলে। বহুমুখী সমবায় সমিতি উৎপাদন, ক্রয়-বিক্রয়, ঋণদান ইত্যাদি বিভিন্ন উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য গঠিত হতে পারে। কারণ এ ধরনের সমবায় সমিতির উদ্দেশ্য সীমিত নয়। যেকোনো বৈধ উপায়ে সদস্যদের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করাই বহুমুখী সমবায়ের কাজ।
যে দলিলে সমবায় সমিতির অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত নিয়ম-নীতি লেখা থাকে তাকে সমবায় উপবিধি বলে। সমবায় সমিতির উপবিধিকে সমিতির গঠনতন্ত্র বা সমিতির মূল দলিলও বলা হয়। এর ওপর ভিত্তি করে সমবায় সমিতি গঠিত ও পরিচালিত হয়। সমবায় সমিতি তার উপবিধিতে লিপিবদ্ধ নিয়ম-নীতির বাইরে কোনো কাজ সম্পাদন করতে পারে না। তাই এই দলিল তৈরি করার সময় খুব সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়।
সমবায়ীদের একত্রে মিলেমিশে চলার নীতিকেই একতাই বল নীতি বলে। সমবায়ের মূলমন্ত্রই একতাই বল। যা ঐক্যের শক্তিকে প্রাধান্য দেয় এবং বিচ্ছিন্নতা পরিহার করে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রয়াস চালায়। দরিদ্র ও সমমনা ব্যক্তিগণ একটি সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় নিজেদের সীমিত সামর্থ্যকে একত্রিত করে যেমনি সমবায় গঠন করে, তেমনি সফলতা লাভে সকল অবস্থায় সদস্যদের ঐকবদ্ধ থাকতে হয়।
সমবায় সমিতির সদস্যদের পরিচয় যাই হোক না কেন সকল সদস্যই সমান মর্যাদার অধিকারী এরূপ নীতিকেই সাম্যের নীতি বলে। সমবায় সমিতি সাম্যের আদর্শে অনুপ্রাণিত। যেকোনো সমবায়ের ক্ষেত্রে সাম্যের নীতি অতীব জরুরি। সাম্যের নীতি পরিহার করলে কোনো সমবায়ই উন্নতি করতে পারবে না। এর সদস্যরা সামাজিক, অর্থনৈতিক বা পারিবারিকভাবে যে যেমনই হোক না কেন সবাই এখানে সমান মর্যাদার অধিকারী। সমবায়ে যে যেই পরিমাণে শেয়ার মূলধনের মালিক হোক না কেন সবাই এক ভোটের অধিকারী।
নিচে সমবায় সমিতির দুইটি মূলনীতি তুলে ধরা হলো:
১. একতাই বল: সমবায় সমিতির সকল সদস্য একভাবে, একমনে ও একত্রে চলার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে কাজ করে, যা সমবায় সমিতির একতাই বল 'নীতি। । এ নীতির ওপর ভিত্তি করেই সমবায় সমিতি প্রতিষ্ঠিত হয়।
২. সাম্য: সমবায় সমিতির সকল সদস্যের অধিকার সমান। তাই সমিতির সদস্যরা যেকোনো সিদ্ধান্তে মত প্রকাশ করতে পারে, যা সমিতির সাম্য নীতি বলে বিবেচিত হয়, এ নীতির আদর্শেই সমিতিটি পরিচালিত হয়।
সমবায়ে সদস্যদের সমভোটাধিকার সাম্যের নীতির সমার্থক। সাম্য বলতে সংঘবদ্ধ সকলের পারস্পরিক অধিকারে সমতা প্রতিষ্ঠাকে বোঝায়। সমবায়ের সদস্যরা সামাজিক, অর্থনৈতিক বা পারিবারিকভাবে যে যেমনই হোক না কেন সবাই এখানে সমান মর্যাদা ভোগ করে। সমবায়ে যার যে পরিমাণ মূলধনই থাকুক না কেন সবাই এক ভোটের অধিকারী। যা সাম্যের আদর্শে অনুপ্রাণিত।
আমাদের কৃষিক্ষেত্রে কর্মরত কৃষকদের অধিকাংশই দরিদ্র।। তাই ন্যায্যমূল্যে দ্রব্যাদি সরবরাহ, অসৎ ব্যবসায়ীদের কবল থেকে কৃষকদের 'রক্ষা, মধ্যস্বত্বভোগীদের উৎখাত, কর্মসংস্থান, পানিসেচের বন্দোবস্ত, সহজে কৃষিঋণ প্রাপ্তি, সস্তায় সার, বীজ ও ডিজেল ক্রয়ের সুবিধা লাভ, পরিবহন ও প্রচার সুবিধা লাভ, গুদামজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের ক্ষেত্রে সমবায়ের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
রাষ্ট্রীয় মালিকানায় গঠিত, পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত ব্যবসায়কেই - রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় বলে। মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গঠন করা হয় না। জনগণের কল্যাণসাধনে এ ধরনের ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গঠন করা হয়। সাধারণত দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, সম্পদের সুষম বণ্টন ও ব্যবহার নিশ্চিত করা, জনস্বার্থ রক্ষা করা, একচেটিয়া ব্যবসায় পরিহার করা ইত্যাদি উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় গঠন করা হয়।
রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়ের অন্যতম দুটি বৈশিষ্ট্য হলো এর গঠন ও মালিকানাগত বৈশিষ্ট্য। রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় সাধারণত রাষ্ট্রপ্রধানের অধ্যাদেশ বা জাতীয় সংসদে বিল পাসের মাধ্যমে হয়। তাছাড়া সরকারি অধ্যাদেশের মাধ্যমে কোনো প্রতিষ্ঠানকে জাতীয়করণের মাধ্যমেও এরূপ প্রতিষ্ঠান গঠন করা যায়। অপরদিকে, রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়ের মালিকানা সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রের ওপর ন্যস্ত থাকে এবং সকল মূলধন সরকারই সরবরাহ করে।
সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বা PPP ব্যবসায়, হলো দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারি ব্যবসায়, যেখানে জনগণকে সেবা দেওয়ার উদ্দেশ্যে বেসরকারি খাত সরকারের সাথে চুক্তি করে যৌথভাবে মূলধন বিনিয়োগ করে। PPP ব্যবসায় গঠন করার ফলে সরকারি ও বেসরকারি সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটে। জনগণ বিভিন্ন দিক থেকে সুবিধা লাভ করে। অন্যদিকে বেসরকারি বিনিয়োগকারীরাও লাভবান হয়। কারণ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান একত্রিত হয়ে বিভিন্ন শর্তসাপেক্ষে চুক্তির মাধ্যমে সেতু, সড়ক, মহাসড়ক, বন্দর, অবকাঠামো, হাসপাতাল ইত্যাদি ক্ষেত্রে অর্থায়ন, ডিজাইন, নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করে।
আমরা ইতোমধ্যে জেনেছি ব্যবসায় হলো প্রধানত মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন প্রকার পণ্য-দ্রব্য ও সেবাকর্মের উৎপাদন, বণ্টন এবং এদের সহায়ক যাবতীয় বৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমষ্টি। ভোক্তাদের বিভিন্নমুখী চাহিদা, মালিকানা, ব্যবসায়ীদের নিজস্ব মনোভাব ও আকার ও বৈশিষ্ট্যের জন্য বিভিন্ন প্রকার ব্যবসায় সংগঠনের সৃষ্টি হয়। আমরা এ অধ্যায়ে মালিকানার ভিত্তিতে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায় সংগঠন এবং এগুলোর বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারব।

এ অধ্যায় শেষে আমরা-
- ব্যবসায়ের বিভিন্ন প্রকারভেদ ও আইনগত বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে পারব।
- একমালিকানা ব্যবসায়ের সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা-অসুবিধা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- একমালিকানা ব্যবসায়ের উপযুক্ত ক্ষেত্রসমূহ ও জনপ্রিয়তার কারণগুলো ব্যাখ্যা করতে পারব।
- অংশীদারি ব্যবসায়ের ধারণা, বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা-অসুবিধা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- অংশীদারি ব্যবসায়ের গঠন প্রণালি ব্যাখ্যা করতে পারব।
- অংশীদারি ব্যবসায়ের চুক্তিপত্রের বিষয়বস্তু ব্যাখ্যা করতে পারব।
- অংশীদারি ব্যবসায়ের নিবন্ধন ও এর সুবিধা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- অংশীদারদের প্রকারভেদ উল্লেখ করতে পারব ।
- অংশীদারি ব্যবসায় ভেঙে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে পারব।
- যৌথ মূলধনী ব্যবসায়ের সংজ্ঞা, বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা-অসুবিধা বর্ণনা করতে পারব ।
- যৌথ মূলধনী ব্যবসায়ের গঠন প্রণালি ব্যাখ্যা করতে পারব।
- পাবলিক ও প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির মধ্যে পার্থক্য ব্যাখ্যা করতে পারব।
- সমবায় সমিতির ধারণা ও বৈশিষ্ট্যগুলো ব্যাখ্যা করতে পারব।
- সমবায় সমিতির গঠন ও নীতিমালা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে সমবায় সমিতির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব।
- রাষ্ট্রীয় ব্যবসায়ের ধারণা, বৈশিষ্ট্যে ও বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ব্যবসায় বর্ণনা করতে পারব।
Related Question
View Allএকমালিকানা ব্যবসায়ের প্রধান উদ্দেশ্য হলো মুনাফা অর্জন করা।
একমালিকানা ও অংশীদারি ব্যবসায়ের একটি পার্থক্য হলো:
এ ব্যবসায়ের মালিক একাই ব্যবসায় পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে নিয়োজিত থাকেন। অপরদিকে, অংশীদারি ব্যবসায়ের অংশীদারগণ যৌথভাবে ব্যবসায় পরিচালনা করে থাকেন।
আবিরের ব্যবসায়টি একমালিকানা সংগঠন হওয়ায় এর স্থায়িত্বের কোনো নিশ্চয়তা নেই।
এ ব্যবসায় একক ব্যক্তির মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত হয়। মালিক কোনো কারণে ব্যবসায় পরিচালনায় ব্যর্থ হলে এ ব্যবসায়ের বিলোপ ঘটে। এজন্য এ ব্যবসায়ের স্থায়িত্ব সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হয়।
উদ্দীপকের আবির কালীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের কাছে ছোট একটি চায়ের দোকান খুলে কর্মজীবন শুরু করেন। দোকানটি তিনি নিজেই পরিচালনা করেন। কোনো অংশীদার কিংবা কর্মচারী না থাকায় সব কিছু তাকেই তত্ত্বাবধান করতে হয়। কোনো কারণে দোকান খুলতে না পারলে সেদিন তাকে ব্যবসায় বন্ধ রাখতে হয়। দোকানটি খোলা কিংবা বন্ধ রাখা তার ব্যক্তিগত সুবিধা-অসুবিধার ওপর নির্ভরশীল। তাই আবিরের চায়ের দোকানের স্থায়িত্ব সবসময়ই অনিশ্চিত থাকে।
সাংগঠনিক ধরন বিবেচনায় আবিরের ব্যবসায়টি একমালিকানা ব্যবসায়; যা কম ঝুঁকিপূর্ণ অথচ অসীম দায়সম্পন্ন।
এ ব্যবসায় স্বল্প পুঁজি ও দৈনন্দিন চাহিদা আছে এমন পণ্য নিয়ে সহজেই গঠন করা যায়। তাই এ ব্যবসায় কম ঝুঁকিপূর্ণ। তবে এ ব্যবসায়ের লাভ হলে মালিক সম্পূর্ণ মুনাফা পায়। আবার লোকসান হলেও সম্পূর্ণটাই তাকে বহন করতে হয়। এজন্য এ ব্যবসায়ের ঝুঁকি কম হলেও মালিকের দায় অসীম হয়।
উদ্দীপকের আবিরের চায়ের দোকানটি একটি একমালিকানা ব্যবসায়। এ ব্যবসায়টি কম ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ ব্যবসায়টির পুঁজি স্বল্প। ব্যবসায়ের সব লাভ তিনি একাই ভোগ করেন। তবে লোকসান হলে সব দায়- দায়িত্ব তাকেই বহন করতে হবে। কারণ ব্যবসায়ে লাভ-লোকসান যা-ই হোক তার কারণেই হয়।
ব্যবসায়ে ক্ষতি হলে প্রয়োজনে আবিরকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করে হলেও দায় পরিশোধ করতে হবে। এ কারণেই ব্যবসায়ের ধরন বিবেচনায় আবিরের চায়ের দোকানে ঝুঁকি কম থাকলেও দায় অসীম হয়।
ব্যবসায় সংগঠন পাঁচ প্রকার।
একক ব্যক্তির মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত ব্যবসায়ই হলো একমালিকানা ব্যবসায়।
একমালিকানা ব্যবসায়ের মালিক নিজেই এর নিয়ন্ত্রক। ব্যবসায়ে অন্য কোনো অংশীদার না থাকায় যাবতীয় দায়-দেনার জন্য মালিক ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকে। প্রয়োজনে ব্যক্তিগত সম্পত্তি বিক্রি করে হলেও তাকে ব্যবসায়ের দায়-দেনা পরিশোধ করতে হয়। এ জন্যই বলা হয়, একমালিকানা ব্যবসায়ে মালিকের দায় অসীম।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!