জন্ম থেকে শুরু করে জীবনের প্রথম পাঁচ বছর একটি শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশের ক্ষেত্রে মূলভিত্তি রচনা করে। এ সময়ে দ্রুতগতিতে শারীরিক বৃদ্ধির পাশাপাশি তার আচরণগত পরিবর্তন ঘটাতে থাকে। এ সময়ে। পরিবারের ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ, উষ্ণ সাড়া শিশুকে নতুন নতুন। দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে। এ সময়ে সহায়ক পরিবেশ পেলে শিশু অন্যদের চেয়ে বেশি বুদ্ধিমান, সামাজিক ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয়
শিশুর সাথে বন্ধন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে মা-ই হচ্ছেন প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। বুকের দুধ খাওয়ানো এবং বিভিন্ন মাতৃ পরিচর্যা হলো শিশুর শরীর ও মন বিকাশের ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠ অবদান। মা ও নবজাতকের মধ্যে মধ্যে জন্মের এক ঘণ্টা ও প্রথম কয়েকদিনের সান্নিধ্যে উভয়ের মাঝে গভীর বন্ধন গড়ে তোলে এবং তা ক্রমেই | বিকশিত হতে থাকে।
শিশুর সাথে মায়ের বন্ধনের কয়েকটি পদক্ষেপ হলো:
(১) শিশুর জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যেই মায়ের দুধ দেওয়া।
(২) শিশুর কান্নায় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সাড়া দেওয়া।
(৩) শিশুকে কাছে নিয়ে ঘুমানো।
(৪) শিশুকে পর্যান্ত সময় দেওয়া
মায়ের দুধের, পরিবর্তে কৃত্রিম দুধ শিশুর জন্য সোনার পরিবর্তে ব্রোঞ্জের মতোই মূল্যহীন। জন্মের এক ঘণ্টার মধ্যেই শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ানো শিশুর জীবনে শ্রেষ্ঠ সূচনা। জন্মের পরপরই সুস্থ নবজাতককে উষ্ণ রাখার জন্য মায়ের পেটে এবং বুকে রাখা হয়। শিশু মায়ের দুধ খেতে শুরু করে। এতে শিশুর প্রতি মায়ের ভালোবাসা বৃদ্ধি পায়।
শিশুর প্রথম খাবার হিসেবে শালদুধ (মায়ের বুকের প্রথম দুধকে শালদুধ বা কলোস্ট্রাম বলা হয়) শিশুর প্রথম টিকা হিসেবে। কাজ করে। শালদুধ নানা রকম প্রতিরোধমূলক সক্রিয় কোষ এন্টিবডি। ও অন্যান্য প্রতিরক্ষামূলক প্রোটিন সমৃদ্ধ হওয়ায় শিশুর বহুরোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ করে।
শিশু জন্মের প্রথম ৫দিন শালদুধ অল্পমাত্রায় আসে। তবে এই পরিমাণই নবজাতকের শারীরিক সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট। শালদুধ শিশুর পরিপাচক অস্ত্রসমূহকে উদ্দীপন করে। যার ফলে অন্ত থেকে দ্রুত মিকোনিয়াম (শিশুর প্রথম মল) পরিষ্কার হয়। এ অবস্থায় জন্ডিস সৃষ্টিকারী জীবাণু শরীর থেকে বের হয়ে যেতে সাহায্য করে।
মায়ের সাথে বাবার সহযোগিতা নানাভাবে শিশুর বিকাশে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। যেমন-
(১) মায়ের পুষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় খাবারের ব্যবস্থা করে।
(২) মা ও শিশুকে বেশি সময় একত্রে রাখার সুযোগ সৃষ্টি করে।
(৩) গৃহস্থালির প্রয়োজনীয় কাজে মাকে সাহায্য করে।
(৪) স্তন্যদানকারী মায়ের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়।
ভাষা বিকাশের আগে সাধারণত শিশুরা কান্না দিয়ে তাদের চাহিদা ও অসুবিধা প্রকাশ করে। অতি শৈশবের শিশু সাধারণত দুইটি কারণে কাঁদে। ক্ষুধার কারণে এবং যেকোনো ধরনের শারীরিক অসুবিধার কারণে। ক্ষুধায় শিশুকে খাবার দেওয়া এবং শারীরিক অসুবিধা দূর করার জন্য শিশুর কান্নায় সাড়া দেওয়া দরকার।
দিনের বেলায় মতো রাতেও শিশুর বিভিন্ন ধরনের চাহিদা পূরণ করতে হয়। রাতে মা বাবা শিশুকে ঘুম পারিয়ে দেওয়া এই চাহিদাগুলোর মধ্যে অন্যতম। জীবনের কয়েকটি বছর শিশুকে নিয়ে ঘুমানো জরুরী। এতে মা রাতে শিশুর চাহিদা ভালোভাবে বুঝতে পারেন এবং মায়ের দুধ খাওয়ানো সহজ হয়।
শিশুর বিকাশে শিশুকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া প্রয়োজন। কাজে বাবার সহায়ক ভূমিকা থাকলে শিশুর মায়ের উপর নির্ভরশীলতা কমে এবং বাবার সাথে তার আসক্তি তৈরি হয়। শিশুর সাথে খেলা করা, গান করা, ছড়া, গল্প বলা যা শিশুর সামাজিক ও বুদ্ধিবৃত্তীয় বিকাশ ঘটে।
শিশুকে সমাজের উপযুক্ত করে গড়ে তোলা পরিবারের অন্যতম একটি কাজ। জন্মগ্রহণের পর শিশুর সাথে পরিবারের একটি সম্পর্ক গড়ে উঠে। ৭/৮ মাস বয়সের মধ্যে শিশুরা মা বাবা কিংবা তাদের যত্ন নেয় তাদের সাথে সম্পর্ক তৈরি করে। এ বয়সের শিশুরা মা বাবার মনযোগ পাওয়ার জন্য বিশেষ চেস্টা করে।
গবেষণায় দেখা গেছে বাবার সাথে শিশুর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক শিশুর ইতিবাচক বিকাশে ভূমিকা রাখে। শিশুর লালনপালনে বাবার অংশগ্রহণ মায়ের তুলনায় কোনো অংশই কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। কখনো কখনো শিশুর বুদ্ধিবৃত্তিক সামাজিক ও আবেগীয় বিকাশে ভূমিকা রাখার ক্ষেত্রে বাবা তার মায়ের চেয়েও বেশি শক্তিশালী অবদান রাখে। তাই বাবার সাথে শিশুর সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু সন্তানের সাথে মা-বাবার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি করলেই হবে | না, মা-বাবা নিজেদের মধ্যেও স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সম্পর্ক সুখের হতে ! হবে। কারণ সুখী মা-বাবার সন্তানেরাও সুখী থাকে। মা-বাবার সান্নিধ্যে | শিশুরা অনেক বেশি নিরাপদ মনে করে এবং আনন্দ পায়। তাই শিশুর সঠিক বিকাশে মা-বাবার মধ্যে সুসম্পর্ক ইতিবাচক প্রভাব ফেলে
ভাই-বোনের সাথে পারস্পরিক শিথিল সম্পর্ক একটি শিশুর আত্মধারণাকে বিঘ্নিত করে। ভাই-বোন শিশুটিকে যেভাবে মূল্যায়ন করে অর্থাৎ ভালোমন্দ বলে, নিজের প্রতি শিশুটির সে ধারণাই প্রতিষ্ঠিত হয়। বড় ভাই-বোনকে অনুসরণ করে শিশু ভালো বা খারাপ আচরণ শেখে। ভাই-বোনের সান্নিধ্যে শিশু নিরাপত্তা পায় এবং ভবিষ্যৎ জীবনে দলগতভাবে মেলামেশার অভিজ্ঞতা অর্জন করে।
শিশুর ভাই বা বোন হিসেবে যেসব আচরণ শিশুর সাথে ভালো সম্পর্ক তা শিশুর বিকাশে সহায়তা করে। ছোট ভাই বা বোনের যত্নে সহযোগিতা করা, কোনো জিনিস ভাগাভাগি করা, পরস্পরকে সাহায্য করা, তাদের সঙ্গ দেওয়া, খেলাধুলা করা, সবাই মিলেমিশে থাকা। তাদের সাথে স্নেহের সম্পর্ক তৈরি করা ইত্যাদি।
যে আচরণ পারিবারিক সম্পর্ক উন্নয়নে ক্ষতিকর হয় এবং শিশুর বিকাশে বাধা সৃষ্টি করে। তা হলো- ১. ছোট ভাই বা বোনকে - সঙ্গ বা সময় না দেওয়া, ২. নিজের স্বার্থ বড় করে দেখা, ৩. ঈর্ষা 1 করা, ৪, ভাই ও বোনের সহচর্য এড়িয়ে চলা, ৫. ঝগড়া করা, মারামারি করা, অবহেলা করা এবং নিজেকে বড় মনে করা।
আমাদের দেশে যৌথ পরবার প্রথায় একটি পরিবারে মা-বাবা, ভাই-বোন ছাড়াও আরও অনেক সদস্য থাকেন। যারা শিশুর লালনপালনে বাবা-মাকে সহযোগিতা করে থাকেন। কর্মজীবী মায়ের ক্ষেত্রে শিশুর যত্নে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ভূমিকা থাকে অনেক বেশি। শিশুর কথা শোনা, তার সাথে খেলা করা শিশুর সাথে সদস্যের নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলে।
পরিবারে দাদা-দাদি, নানা-নানি শিশুর সাথে গল্প করেন। শিশুকে তাদের জীবনের অনেক ঘটনা শোনান। তারা শিশুদের অসুবিধার কথা শোনেনা। শিশুকে আদর ভালোবাসা দেন। এভাবে শিশুর সাথে পরিবারের সকলের সুসম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করে এবং ভবিষ্যতে শিশু তার মা-বাবা, ভাই-বোন, পরিবারে অন্যান্য সদস্যকে বন্ধু হিসেবে ভাবতে শেখে।
পরিবারে বাবা কিংবা মায়ের মৃত্যু পরিবারের শিশুর জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি হয়। সাধারণত পরিবারে বাবা উপার্জন করেন। এ কারণে বাবার মৃত্যুতে পরিবারে আর্থিকসংকট প্রকট হয়। মায়ের মৃত্যুতে সন্তানেরা দিশেহারা হয়। তাদের পড়াশোনা, যত্ন পরিচর্যায় অবহেলা হয়। বাবা কিংবা মা যেকোনো একজনের মৃত্যুতে সন্তান স্নেহ বঞ্চিত হয়।
পরিবারে মা বাবার হঠাৎ কোনো গুরুতর অসুস্থতা ধরা পড়লে পরিবারের উপর বিপর্যয় নেমে আসে। মা কিংবা বাবার দীর্ঘদিনের অসুস্থতা পরিবারে আর্থিক সংকট সৃষ্টি করে। এছাড়া মা-বাবার সুস্থ সঙ্গ থেকে শিশুরা বঞ্চিত হয়। মা বাবার অসুস্থতায় তারা মা বাবাকে হারানোর ভয়ে ভীত, হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে।
শিশুর অসুবিধাগুলো সময়মতো দূর করা না হলে কিংবা শিশু কোনো কারণে আরাম না পেলে তার মধ্যে অবিশ্বাস ও অনাস্থার অনুভূতি জন্মাতে থাকে। তাছাড়া মা-বাবার আদর, যত্ন, স্নেহ-ভালোবাসার অভাবেও শিশুর মধ্যে অনাস্থা দেখা দেয়। এ অনাস্থা থেকে সে নিরাপত্তার অভাববোধ করে। আর এভাবে শিশুর মনে হতাশার জন্ম দেয়।
স্বামী-স্ত্রীর মতের অমিল, পরস্পরের সমঝোতার অভাব, দ্বিতীয় বিয়ে ইত্যাদি পারিবারিক ভাঙনের অন্যতম কারণ। বেশির। ভাগ ক্ষেত্রে সন্তানেরা ছোট অবস্থায় পরিবার ভাঙনের আশঙ্কা বেশি। করে থাকে। মা-বাবার বিবাহ বিচ্ছেদ বা পৃথকভাবে অবস্থানে ছেলেমেয়েদের মনে হতাশা, দ্বন্দ্ব, পড়াশোনায় মনোযোগের অভাব প্রভৃতি মানসিক সমস্যা দেখা দেয়।
পরিবারে বিভিন্ন বয়সের শিশু থাকলে তাদের ভরণ-পোষণ ও লেখাপড়ার জন্য অর্থের প্রয়োজন। এ প্রয়োজন বাবাই মিটিয়ে থাকেন। কেননা পরিবারে সাধারণত বাবাই উপার্জন করেন। বাবার মৃত্যু হলে উপার্জনের সুযোগ থাকে না। তাই বাবার মৃত্যুতে পরিবারে আর্থিক সংকট প্রকট হয়।
পারিবারিক বিপর্যয়ে পরিবারের সদস্যদের একত্র হয়ে সংকট মোকাবিলা করলে সমস্যা অনেক কমে যায়। পারিবারিক বিপর্যয়ে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে প্রধান সমস্যা হয় আর্থিক সংকট। পরিবারের আর্থিক সমস্যা দূর করতে ছোট শিশুদের বিকাশজনিত চাহিদা পূরণে পরিবারের কিশোর বয়সের সন্তানেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কিশোর বয়সের শিশুরা যেভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে
তা হলো-
(১) আর্থিক আয় বাড়ানোর চেষ্টা করে,
(২) অপ্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমায়
(৩) শিশুদের পর্যাপ্ত আদর স্নেহ করা যেন তারা নিজেকে স্নেহবঞ্চিত মনে না করা
(৪) মানসিক চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করা ইত্যাদি।
জন্মের মুহূর্তে শিশুকে সাদা কাগজের তুলনা করা হয়। সাদা কাগজে যেভাবে ছকি আঁকা হয় ছবিটি সেভাবে রূপ লাভ করে। তেমনি নবজাতক শিশুর জীবনে কোনো অভিজ্ঞতা থাকে না। সে তার চারপাশের পরিবেশ থেকে যে ধনের অভিজ্ঞতা পায় সেভাবেই আচরণ করতে শেখে। সুষ্ঠু পরিচালনার মাধ্যমে শিশুর উপযুক্তভাবে গড়ে তোলা যায়। তাই শিশুকে যেভাবে পরিচালনা করা হয় তাকে শিশু পরিচালনার নীতি বলা হয়।
শিশুরা অনুকরণ করে। যারা তাদের কাছাকাছি থাকে তাদের আচরণ অনুকরণ করে। শিশুদের যা যা করতে বলা হয় যা যা করতে নিষেধ করা হয় তার চেয়ে বড় সদস্যরা যা যা করেন সেগুলোই তারা অনুকরণ করে। এজন্য শিশুদের সামনে ভালো আচরণ উপস্থাপন করা দরকার।
প্রশংসা শিশুদের ক্ষমতাকে বাড়ায়, সাফল্যের অভিজ্ঞতা দেয়। কীভাবে অন্যদের প্রশংসা করতে হয় তা শেখায়। শিশুর কাজের ভালো দিকগুলো যদি তুলে ধরা হয় তবে তার আত্মবিশ্বাস বাড়ে। নিজ সম্পর্কে তার ভালো ধারণা হয়। সে বুঝতে পারে যে, সে অনেক কিছু করার ক্ষমতা রাখে। তাই শিশুর মধ্যে ভালো গুণাবলি খুঁজে তার জন্য তাকে প্রশংসা করতে হবে।
শিশুর কাজের জন্য শাস্তি দিলে তা শিশুর উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। শাস্তি দুই ধরনের হয়। শারীরিক শাস্তি ও মানসিক শাস্তি। শারীরিকভাবে আঘাত করা, মারা, খেতে না দেওয়া শারীরিক শাস্তি। শিশুকে নিয়ে খারাপ মন্তব্য করা, বকাবকি করা, লজ্জা দেওয়া ইত্যাদি মানসিক শাস্তি। শিশুকে যেকোনো ধরনের শাস্তি দেওয়া হোক না কেন তা শিশুর আত্মবিশ্বাস কমায়।
অনেকে মনে করে শিশুকে হ্যাঁ বলা অর্থ সে যেসকল কাজ করতে চায় বা যা কিছু চায় সবকিছু করার অনুমতি দেওয়া বা তাকে সবকিছু দেওয়া। কিন্তু এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। এর অর্থ শিশুতে ইতিবাচকভাবে পরিচালনা করা। শিশুদের প্রতি যেকোনো আদেশ অথবা নির্দেশ সবসময় ইতিবাচকভাবে বললে তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
শিশুকে ইতিবাচকভাবে কথা বলার কয়েকটি উদাহরণ হলো:
(১) 'টেবিলে কাঠের টুকরা রেখনা' না বলে বলতে হবে 'কাঠের টুকরাগুলো মাটিতে রাখ'।
(২) এখন খেলার সময় নয়- না বলে বলতে হবে 'এখন খেয়ে নাও পরে খেলবে'।
(৩) তোমাকে দিয়ে কিছু হবে না-না বলে বলতে হবে 'চেষ্টা করলেই তুমি পারবে'।
শিশুর সাথে কথা বলার সময় গলার স্বর আস্তে ও নরম এবং ভাষা সহজ হতে হয়। জোরে কথা বললে শিশু ভয় পায়, তাকে এড়িয়ে চলে। শিশুর সাথে কথা বলার সময় শিশুর মনের ভাব বুঝতে চোখে চোখ রেখে বন্ধুর মতো কথা বলতে হয়। তাহলে শিশুকে বোঝা সহজ হয়। শিশুর সাথে কথা বলতে একজন ভালো শ্রোতা | হতে হয়।
শিশু পরিচালনার অন্যতম একটি দিক হলো শিশুকে উপযুক্ত পরিবেশ দেওয়া। উপযুক্ত পরিবেশ পেলে শিশু কম বিরক্ত করে এবং সে তার সময়গুলো আনন্দে কাটায়। স্কুলে যাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত খেলাধুলাই শিশুর প্রধান কাজ। গৃহে শিশুর জন্য নিরাপদ খেলার স্থান। ও খেলার সরঞ্জামের ব্যবস্থা থাকতে হয়।
শিশু পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিশুর মনস্তাত্ত্বিক চাহিদা পূরণ করা ও শিশুকে সুখী করা। প্রত্যেক শিশুর মধ্যেই মনস্তাত্ত্বিক চাহিদা থাকে যেগুলোকে ইংরেজীতে Three A's for happiness এবং বাংলায় ৩টি 'স' দিয়ে বোঝানো হয়।
সকল শিশুর চেহারা, বৈশিষ্ট্য, গুণাবলি একরকম হয় না। কেউ যদি দেখতে সুন্দর হয় তবে সকলে তাকে সাদরে গ্রহণ করে। এখানে স্বীকৃতি অর্থ শিশু যেভাবে আছে সেভাবেই তাকে গ্রহণ করা বোঝায়। শিশুটি দেখতে ভালো বা খারাপ, বুদ্ধি কমবেশি যেভাবেই থাকুক সাদরে গ্রহণ করতে হবে। তার গুণাবলিকে স্বীকৃতি দেওয়া ও সেভাবে উৎসাহ দিলে শিশু সুখী থাকে।
প্রত্যেক শিশুর মধ্যে স্নেহ, মমতা, ভালোবাসার চাহিদা থাকে। শিশুর যত্ন, পরিচর্যা, তাকে সময় দেওয়া, কিছু শেখানো ইত্যাদি সবকিছুই যদি আদরের সাথে হয়, তাহলে শিশুর মধ্যে আস্থা ও নিরাপত্তার অনুমতি আসে। তখন সে তার পরিবেশকে ভয় পায় না।
সাফল্য হলো কোন কাজ সঠিকভাবে করতে পারা। প্রত্যেক শিশু সফলতা চায়। সে কোনো কাজ নিজে করতে পারলে সে খুশি হয়। এ জন্য শিশুর ভালো কাজ বা ভালোকাজের দিকগুলো তুলে ধরা হলে সে নিজের শক্তিশালী বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করতে পারে বা বুঝাতে পারে যে সে কি পারে। এই উৎসাহ তাকে সফলতার অভিজ্ঞতা দেয় এবং শিশুটি পরিতৃপ্ত ও সুখী থাকে।
Related Question
View Allনবজাতক শিশুর জীবনে কোনো অভিজ্ঞতা থাকে না।
শিশুকে হ্যাঁ বলার অর্থ হলো তাকে ইতিবাচক ভাবে পরিচালনা করা। শিশুদের নেতিবাচক নির্দেশ দেওয়া উচিত না। তাদের প্রতি যেকোনো আদেশ, নির্দেশ, মন্তব্য ইতিবাচকভাবে বলতে হবে। আমরা সবসময় শিশু সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করি বা নির্দেশ দেই। কিন্তু নির্দেশগুলো হ্যাঁ বোধকভাবে প্রকাশ করতে হবে। যেমন- 'তোমাকে দিয়ে কিছু হবে না' এটা না বলে, 'চেষ্টা করলেই তুমি পারবে' এভাবে বলা।
জাবাবার আচরণ সেজানের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সেজানের পড়ার প্রতি আগ্রহ ও নিজের কাজ নিজে করতে দেখে তার বাবা তাকে ধন্যবাদ জানান। সেজানের বাবা যে কাজটি করলেন তা হলো প্রশংসা করা।
প্রশংসা সেজানের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে। শিশুদের কাছে তাদের ভালো দিকগুলো তুলে ধরলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং তারা অন্যকে প্রশংসা করতে শেখে। প্রশংসার ফলে সেজানের নিজের সম্পর্কে ভালো ধারণা হবে। সেজান বুঝতে পাররে যে সে অনেক কিছু করতে পারে। কারণ প্রশংসা শিশুর দক্ষতাকে বাড়ায় ও এবং সে কাজে সফল হয়। বাবার এ আচরণে সেজান বুঝতে পারবে সে কী পারে এবং তার মধ্যে কী কী গুণ আছে। ফলে পরবর্তীতে সেজান ভালো কাজ করার জন্য উৎসাহী হবে। এভাবেই বাবার আচরণ সেজানের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সেজানের বাবা মা তাকে সঠিকভাবে পরিচালনা করছেন বলে আমি মনে করি।
শিশুকে সঠিকভাবে পরিচালনার জন্য কতগুলো নীতি রয়েছে। এগুলো হলো- শিশুর সামনে আদর্শ আচরণ উপস্থাপন, তাদের প্রশংসা করা, শাস্তি না দেওয়া, শিশুর জন্য 'হ্যাঁ' বলা, ভাববিনিময়, তাদের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি এবং মনস্তাত্ত্বিক চাহিদা পূরণ করা।
প্রশংসা করলে শিশু ভালো কাজ করার জন্য উৎসাহী হয়। সেজানের বাবা তার ভালো কাজের জন্য প্রশংসা করছেন। সেজানের বাবা-মা কারো সাথে উঁচু স্বরে কথা বলেন না বা অন্যের প্রতি অশ্রদ্ধাপূর্ণ আচরণ করেন না। অর্থাৎ তারা শিশু পরিচালনার নীতিগুলো সঠিকভাবে পালন করেন। শিশুর সাথে ভাব বিনিময় করলে তাদের সুবিধা-অসুবিধাগুলো জানা যায়। মা সেজানের বন্ধুদের সাথে ঝগড়ার কারণ সম্পর্কে জেনে পুনরায় তাকে মিলেমিশে থাকার জন্য পরামর্শ দিলেন। যা তাকে সামাজিক হতে সাহায্য করবে। সেজানের সামনে আদর্শ আচরণগুলো করলে সে এগুলো করতে অভ্যস্ত হবে। কারণ শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। সুষ্ঠু পরিচালনার মাধ্যমে শিশুকে উপযুক্ত করে গড়ে তোলা যায়। আর সঠিক তত্ত্বাবধানেই শিশুর মধ্যে ভালো আচরণ গড়ে ওঠে। এ দুটি বিষয়েই সেজানের বাবা-মা বেশ সচেতন।
তাই আমি মনে করি সেজানকে তার বাবা-মা সঠিকভাবেই পরিচালিত করছেন।
শিশুর সুস্থতা ও বেঁচে থাকার জন্য মায়ের বুকের দুধ গুরুত্বপূর্ণ।
শালদুধ শিশুর প্রথম টীকা হিসেবে কাজ করে।
মায়ের বুকের প্রথম দুধকে শালদুধ বা Colostrum বলে। শালদুধ নানা রকম প্রতিরোধমূলক সক্রিয় কোষ, এন্টিবডি ও অন্যান্য প্রতিরক্ষামূলক প্রোটিন সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি শিশুর রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ করে। শালদুধ পরিপাচক অন্ত্রসমূহকে উদ্দীপ্ত করে। ফলে অন্ত্র দ্রুত Meconium (শিশুর প্রথম মল) পরিষ্কার করে ও জন্ডিস প্রতিরোধে সাহায্য করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!