খাদ্য লবণ, যা সাধারণত সোডিয়াম ক্লোরাইড (NaCl) হিসেবে পরিচিত, একটি সাদা, দানাদার খনিজ পদার্থ। এটি প্রধানত সমুদ্রের পানি থেকে আহরণ করা হয়। তবে মাটির তলদেশে খনিজ পদার্থ হিসেবেও একে পাওয়া যায়। খাদ্য লবণ খাবারের স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি খাবার সংরক্ষণেও ব্যবহৃত হয়।
সল্ট হারভেস্টিং হলো সমুদ্রের পানি থেকে লবণ উৎপাদনের একটি প্রক্রিয়া। এই পদ্ধতিতে সমুদ্রের পানিকে জলাধারে জমিয়ে রাখা হয় এবং সূর্য্যের তাপে পানি বাষ্পীভূত হয়ে গেলে লবণের স্ফটিক জমে। এই স্ফটিকগুলোকে পরে পরিশোধন করে খাদ্য উপযোগী লবণ তৈরি করা হয়।
হারভেস্টিং এর পর লবণকে বিশুদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। সাধারণত, হারভেস্টিং করে পাওয়া লবণে মৃত্তিকা, বালি এবং অন্যান্য অশুদ্ধি থাকে। এই অশুদ্ধি দূর করতে লবণকে পানিতে দ্রবীভূত করা হয় এবং ফিল্টারের মাধ্যমে পরিষ্কার করা হয়। এরপর, দ্রবণকে বাষ্পীভূত করে শুদ্ধ লবণের স্ফটিক পাওয়া যায়। কখনো কখনো, রাসায়নিক পদ্ধতি ব্যবহার করেও লরণকে বিশুদ্ধ করা হয়।
খাদ্য লবণ তথা NaCl অনেক কাজে ব্যবহার করা হয়। যেমন-
(i) রান্নার সময় তরকারিতে NaCl লবণ ব্যবহার করা হয়।
(ii) শিল্পকারখানায় NaOH যৌগ প্রস্তুত করার জন্য NaCl ব্যবহৃত হয়।
(iii) ডায়রিয়া বা পানিশূন্যতা পূরণের জন্য ওষুধ শিল্পে স্যালাইনের তৈরিতে NaCl প্রয়োজন হয়।
বেকিং পাউডার হল একটি রাসায়নিক মিশ্রণ, যা কেক রুটি তৈরির সময় ফুলাতে এবং নরম করতে ব্যবহৃত হয়। বেকিং পাউডারে সাধারণত সোডিয়াম বাইকার্বনেট (বেকিং সোডা), একটি অ্যাসিড (টারটারিক এসিড) এবং একটি স্টার্চ থাকে। যখন বেকিং পাউডারকে তরলের সাথে মিশ্রিত করা হয় এবং তাপ দেওয়া হয়, তখন রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটে এবং কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন হয়, যা কেক ফুলে উঠতে সাহায্য করে।
বেকিং পাউডারের প্রধান উপাদান সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট একত্রিত হয়ে প্রথমে অ্যামোনিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট করে। এরপর অ্যামোনিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট সোডিয়াম ক্লোরাইড-এর সাথে বিক্রিয়া করে সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট উৎপন্ন করে। প্রাপ্ত যৌগের সাথে টারটারিক এসিড মেশানো হলে বেকিং সোডা প্রস্তুত হয়।
বিক্রিয়া:
কেক প্রস্তুতির সময় ময়দার মধ্যে বেকিং পাউডার মিশিয়ে তাপ দেওয়া হয়। বেকিং পাউডার হচ্ছে টারটারিক এসিডেরমিশ্রণ। তাপের প্রভাবে , ও টারটারিক এসিড পরস্পরের সাথে বিক্রিয়া করে সোডিয়াম টারটারেট, ('), গ্যাস এবং পানি উৎপন্ন করে। উৎপন্ন গ্যাসের জন্যই কেক ফুলে ওঠে।
বিক্রিয়া +
সোডিয়াম বাইকার্বনেট টারটারিক এসিড
সোডিয়াম টারটারেট
বদ হজম নিরসনে বেকিং পাউডার ব্যবহার করা হয়। বদ হজমের প্রধান কারণ পাকস্থলীতে অতিরিক্ত হাইড্রোক্লোরিক এসিড (HCI) উৎপন্ন হওয়া। বেকিং পাউডার ক্ষার জাতীয় হওয়ায় তা অম্ল জাতীয় HCI কে প্রশমিত করে বদ হজম সমস্যার সমাধান ঘটায়।
বিক্রিয়া
আস্ল ক্ষার লবণ পানি
রুটি ফোলানোর জন্য ইস্ট নামক ছত্রাক ব্যবহার করা হয়। রুটির ময়দার এই ফোলার কারণ ইস্টের স্ববাত শ্বসন। ইস্ট বাতাসের অক্সিজেনসহ শ্বসন ক্রিয়া সম্পন্ন করার সময় কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন করে, যা রুটিকে ফোলাতে সাহায্য করে।
পাউরুটি ফোলানোর জন্য ইস্ট নামক ছত্রাক ব্যবহার করা হয়।
পাউরুটির ময়দার এই ফোলার কারণ ইস্টের স্ববাত শ্বসন। ইস্ট বাতাসের অক্সিজেনসহ শ্বসন ক্রিয়া সম্পন্ন করার সময় কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস উৎপন্ন করে, যা পাউরুটিকে ফোলাতে সাহায্য করে। পাউরুটি পরিমিত পরিমাণে ফোলার পর উত্তাপে ঈস্ট মরে যায়, ফলে রুটির ফোলা বন্ধ হয়ে যায়।
তাপশক্তি এ কারণে পাউরুটি ফোলানোর জন্য ইস্ট ব্যবহৃত হয়।
বেকিং পাউডারের প্রধান উপাদান হল সোডিয়াম বাইকার্বনেট। এটি অম্লতাকে নিরপেক্ষ করতে পারলেও, দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে এটি পেটের অভ্যন্তরীণ pH বৃদ্ধি করে এবং অ্যাসিডিটির সমস্যা আরও জটিল করে তুলতে পারে। এছাড়া, বেকিং পাউডারের অতিরিক্ত ব্যবহার শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে যা উচ্চ রক্তচাপ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার কারণ হতে পারে।
ইথানয়িক এসিডের 4%-10% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলা হয়। ভিনেগার সাধারণত বিভিন্ন ফল বা শস্যের নির্যাসকে গাঁজিয়ে তৈরি করা হয়। এটি রান্নায় স্বাদ বাড়াতে এবং খাবার সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়। ভিনেগারের স্বাদ ঝাঁঝালো হয় এবং এটিতে একটি তীব্র গন্ধ থাকে।
25 °C-35 °C' তাপমাত্রায় রাখা একটি স্টিলের পাত্রে ইথানল এবং অ্যাসিটোব্যাকটর নিয়ে এর মধ্যে অক্সিজেন গ্যাসের বুদবুদ প্রবাহিত করলে ভিনেগার বা অ্যাসিটিক এসিড বা ইথানয়িক এসিড প্রস্তুত হয়। অ্যাসিটোব্যাকটর ব্যাকটেরিয়া এমন এক ধরনের এনজাইম নিঃসৃত করে যা ইথানলকে অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করতে সাহায্য করে।
ভিনেগার তথা ইথানয়িক এসিড জলীয় দ্রবণে আংশিক বিয়োজিত হয়। ফলে জলীয় দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়ন উৎপন্ন হয়। খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণের জন্য ভিনেগার ব্যবহার করলে তা খাদ্যদ্রব্য পচার জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া ও ফ্যাটকে আর্দ্র বিশ্লেষিত করে। ফলে ব্যাকটেরিয়া মরে যায়। এতে করে খাদ্যদ্রব্য পচনের হাত থেকে রক্ষা পায়।
ভিনেগার তথা ইথানয়িক এসিড জলীয় দ্রবণে আংশিক বিয়োজিত হয়। ফলে জলীয় দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়ন উৎপন্ন হয়। খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণের জন্য ভিনেগার ব্যবহার করলে তা খাদ্যদ্রব্য পচার জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া ও ফ্যাটকে আর্দ্র বিশ্লেষিত করে। ফলে ব্যাকটেরিয়া মরে যায়। এতে করে খাদ্যদ্রব্য পচনের হাত থেকে রক্ষা পায়।
আচার সংরক্ষণের জন্য ভিনেগার ব্যবহার করা হয়। কারণ আচার পচে যাওয়ার জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া। ভিনেগার বা ইথানয়িক এসিডের H' আয়ন ব্যাকটেরিয়ার প্রোটিন ও ফ্যাটকে আর্দ্রবিশ্লেষিত করে। ফলে ব্যাকটেরিয়া মরে যায়। এতে আচার পচনের হাত থেকে রক্ষা পায়।'
ভিনেগার তথা ইথানয়িক এসিড জলীয় দ্রবণে আংশিক বিয়োজিত হয়। ফলে জলীয় দ্রবণে হাইড্রোজেন আয়ন উৎপন্ন হয়। খাদ্যদ্রব্য সংরক্ষণের জন্য ভিনেগার ব্যবহার করলে তা খাদ্যদ্রব্য পচার জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া ও ফ্যাটকে আর্দ্র বিশ্লেষিত করে। ফলে ব্যাকটেরিয়া মরে যায়। এতে করে খাদ্যদ্রব্য পচনের হাত থেকে রক্ষা পায়। ভিনেগার যোগ করার ফলে প্রোটিন অণুর সহজেই বিয়োজন ঘটে। ফলে খাদ্যদ্রব্য নরম ও সুস্বাদু হয়।
কোমল পানীয় হলো পানিতে কার্বন ডাইঅক্সাইডের দ্রবণ। এতে অতিরিক্ত পরিমাণে চিনি দ্রবীভূত থাকে। ঠাণ্ডা অবস্থায় ও উচ্চচাপে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস দ্রবীভূত করা হয়। কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস পানিতে দ্রবীভূত হয়ে কার্বনিক এসিডে পরিণত হয়।
ঠান্ডা অবস্থায় ও উচ্চ চাপে পানিতে কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস দ্রবীভূত করে কোমল পানীয় তৈরি করা হয়। কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাস পানিতে দ্রবীভূত হয়ে কার্বনিক এসিডে পরিণত হয়।
কোমল পানীয় হলো পানিতে কার্বন ডাইঅক্সাইডের দ্রবণ। কোমল পানীয়তে ঠান্ডা অবস্থায় ও উচ্চ চাপে পানিতে গ্যাস দ্রবীভূত করা হয়। তাপ বৃদ্ধি পেলে বা চাপ হ্রাস পেলে দ্রবণ থেকে বুদবুদ আকারে গ্যাস বেরিয়ে যেতে থাকে। এ কারণে কোমল পানীয়ের বোতলের মুখ খুললেই ফেনাসহ তরল ও গ্যাস বেরিয়ে আসতে থাকে।
কোমল পানীয়, বিশেষ করে চিনিযুক্ত কোমল পানীয়, আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য বেশ ক্ষতিকর। এতে প্রচুর পরিমাণে চিনি থাকে যা ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এছাড়া, কোমল পানীয়ে থাকা ফসফরিক এসিড দাঁতের এনামেলকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং হাড়কে দুর্বল করে। অতিরিক্ত কোমল পানীয় পান করলে কিডনি ও লিভারের সমস্যাও সৃষ্টি করতে পারে।
কাপড় কাচা সোডার রাসায়নিক নাম সোডিয়াম কার্বনেট ডেকা হাইড্রেট। তাই, একটি সাদা, গন্ধহীন পাউডার। এর রাসায়নিক সংকেত হল এটি কাপড় ধোয়া, কাঁচ তৈরি, সাবান তৈরি এবং অন্যান্য শিল্পে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। কাপড় কাচা সোডা পানিকে ক্ষারীয় করে তোলে এবং এটি ময়লাকে ভেঙে ফেলতে সাহায্য করে, ফলে কাপড় পরিষ্কার হয়।
টয়লেট ক্লিনারের মূল উপাদান হলো কস্টিক সোডা (NaOH) কস্টিক সোডার আয়নের ক্ষয়কারক ভূমিকার জন্য টয়লেট পরিষ্কার হয়। এই টয়লেট ক্লিনার তথা কস্টিক সোডা কাচে ব্যবহার করলে কস্টিক সোডা কাচকে ক্ষয় করে। ফলে কাচের উজ্জ্বলতা ও গুণাগুণ নষ্ট হয়ে যায়। এজন্য কাচ পরিষ্কারক হিসেবে টয়লেট ক্লিনার ব্যবহার করা হয় না।
কাপড় কাচার ক্ষেত্রে সোডা অ্যাস একটি অত্যন্ত কার্যকর উপাদান। এটি পানিকে ক্ষারীয় করে তোলে এবং এই ক্ষারীয় পরিবেশ ময়লা, তৈলাক্ত দাগ এবং কঠিন পানির খনিজ পদার্থকে ভেঙে ফেলতে সাহায্য করে। সোডা অ্যাস কাপড়ের তন্তুগুলোকে নরম করে এবং তাদের মধ্যে আটকে থাকা ময়লাকে দূদ্র করে। এছাড়াও, এটি কাপড়ের দুর্গন্ধ দূর করে এবং তাদের জীবাণুমুক্ত করতে সাহায্য করে।
টয়লেট ক্লিনার হলো তরল বা জেলের আকারের একটি পরিষ্কারক যা টয়লেট, বেসিন, বাথরুমের টাইলস ইত্যাদি পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহৃত হয়। টয়লেট ক্লিনারের মূল উপাদান হল কস্টিক সোডা (NaOH) এবং সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট (NaOCl)। কস্টিক সোডা তেল, চর্বি এবং অন্যান্য জৈব পদার্থকে ভেঙে ফেলতে সাহায্য করে, আর সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট জীবাণু ধ্বংস করে এবং দাগ সরিয়ে দেয়।
টয়লেট ক্লিনারের মূল উপাদান সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) এবং সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট (NaOCl) টয়লেটের ময়লা পরিষ্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। NaOH তেল, চর্বি এবং অন্যান্য জৈব পদার্থকে ভেঙে ফেলে, আর NaOCI পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইপোক্লোরাস এসিড তৈরি করে। এই এসিড থেকে জায়মান অক্সিজেন মুক্ত হয়, যা রঙিন পদার্থকে বর্ণহীন করে এবং জীবাণুকে ধ্বংস করে।
টয়লেট ক্লিনারে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) এর সাথে -সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইড (NaOCl) মেশানো হয়। NaOCl পানির সাথে বিক্রিয়া করে হাইপোক্লোরাস এসিডে (HOCI) পরিণত হয়, যা ভেঙে জায়মান অক্সিজেন উৎপন্ন করে। এই জায়মান অক্সিজেন টয়লেটের জীবাণু ধ্বংস করে। এজন্য NaOH এর সাথে NaOCl মেশানো হয়।
সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম বা পটাশিয়াম লবণ (R- COONa/RCOOK)। এটি সাধারণত চর্বি বা তেলকে ক্ষারের সাথে বিক্রিয়া করিয়ে তৈরি করা হয়। সাবানের প্রধান কাজ হলো ময়লাকে ভেঙে ফেলা এবং তা পানির সাথে মিশ্রিত করে দূর করা। সাবানের অণুতে একটি অংশ পানিতে দ্রাব্য এবং অন্য অংশ তেলে দ্রাব্য হওয়ায় এটি ময়লাকে ঘিরে ধরে এবং পানির সাথে মিশ্রিত করে দেয়, ফলে কাপড় পরিষ্কার হয়।
তেল ও চর্বিকে কস্টিক সোডা বা কস্টিক পটাশ সহযোগে আর্দ্র বিশ্লেষণ করে সোডিয়াম বা পটাসিয়াম সাবান তৈরি করা হয়। সাবান তৈরির এ প্রক্রিয়াকে বলা হয় সাবানায়ন।

সাবানায়নে খাদ্য লবণ (NaCl) যোগ করা হয়। এর কারণ খাদ্যলবণ (NaCl) যোগ করলে সাবানের Na' আয়ন ও খাদ্যলবণের Na' এর মধ্যে সমআয়ন সৃষ্টি হওয়ায় ঘনমাত্রা বৃদ্ধি পাবে। ফলে দ্রাব্যতা হ্রাস পাবে এবং সাবান উপরে ভেসে উঠবে। অর্থাৎ খাদ্যলবণ যোগ করা হয় মূলত সাবানের স্তর উপরে ভেসে উঠার জন্য।
সাবানায়ন বিক্রিয়ায় উৎপন্ন মিশ্রণে খাদ্য লবণ যোগ করলে সাবান উপরে ভেসে ওঠে। উৎপন্ন সাবানে সামান্য পরিমাণ NaCl, NaOH ও গ্লিসারল ইত্যাদি অপদ্রব্য মিশ্রিত থাকে। অশোধিত সাবানকে পানি যোগে ফুটালে অপদ্রব্যসমূহ দ্রবীভূত হয়। অতঃপর শীতল করে পানি ফেলে দিয়ে পুনরায় পানি যোগে ফুটিয়ে রেখে দিলে বিশুদ্ধ সাবান পাওয়া যায়।
সাবান তৈরির প্রক্রিয়ায় সাবান এবং গ্লিসারিন একসাথে তৈরি হয়। এই মিশ্রণে লবণ (NaCl) যোগ করলে গ্লিসারিন পাত্রের নিচে অবস্থান করে এবং সাবানের অণুগুলো লবণকে ঘিরে একত্রিত হয়ে পাত্রের উপরের দিকে কেকের আকারে ভেসে ওঠে। এই ভাসমান সাবানকেই সোপ কেক বলে। সোপ কেককে ছেঁকে পৃথক করে বিভিন্ন আকৃতির ছাঁচে ঢেলে বিভিন্ন আকৃতির সাবান তৈরি করা হয়।
সাবানের অণু দুটি ভাগে বিভক্ত (হাইড্রোফিলিক এবং হাইড্রোফোবিক)। সাবানের হাইড্রোফোবিক অংশ ময়লাকে আঁকড়ে ধরে এবং হাইড্রোফিলিক অংশ পানির সাথে মিশে যায়। ফলে ময়লা পানির সাথে মিশে গিয়ে ধুয়ে যায়। সহজ কথায়, সাবান ময়লার কণাগুলোকে ছোট ছোট টুকরো করে তোলে এবং সেগুলোকে পানির সাথে মিশিয়ে দেয়, যার ফলে ময়লা পরিষ্কার হয়।
সাবান মূলত দুই প্রকার: ত্বক পরিষ্কার করার জন্য যে সাবান ব্যবহার করা হয় তাকে বলা হয় প্রসাধনী সাবান। আবার কাপড়-চোপড় পরিষ্কার করার জন্য যে সাবান ব্যবহার করা হয় তাকে বলা হয় কাপড় কাচার সাবান বা লন্ড্রি সাবান। প্রসাধনী সাবান ত্বকের জন্য উপযোগী হয় এবং কাপড় কাচার সাবান কাপড় পরিষ্কার করার জন্য উপযোগী।
সাবান একটি পরিষ্কারক দ্রব্য। যেসব সাবান দ্বারা কাপড় পরিষ্কার করা হয়, তাদেরকে বলে লন্ড্রি সাবান। লন্ড্রি সাবানে কোনো জীবাণুনাশক এবং সুগন্ধিকারক পদার্থ যোগ করা হয় না। লন্ড্রি সাবানে ক্ষার বা অন্যান্য অপদ্রব্য তুলনামূলক বেশি থাকে।
সাবান তৈরির সময় সঠিক অনুপাতে তেল ও ক্ষার যোগ করা হয়। যদি তেল বেশি যোগ করা হয় তবে সাবানে বেশি তেল থেকে যায়। ফলে ঐ সাবানে তেমন কোনো ফেনা উৎপন্ন হয় না। আবার যদি বেশি ক্ষার যোগ করা হয় তবে উৎপাদিত সাবানে বেশি ক্ষার থেকে যায়। ফলে ঐ সাবান ব্যবহার করলে ত্বকের ক্ষতি হয়। তাই সাবান প্রস্তুতির সময় তেল ও ক্ষার সঠিক অনুপাতে মিশ্রিত করতে হয়।
স্টিয়ারিক এসিড হলো একটি উচ্চতর ফ্যাটি অ্যাসিড, যা অনেক প্রাণী ও উদ্ভিজ্জ চর্বিতে পাওয়া যায়। এটি একটি সাদা, গন্ধহীন এবং মোমের মতো পদার্থ। স্টিয়ারিক এসিডকে কসমেটিক্স, মোমবাতি তৈরি, এবং খাদ্য শিল্পে ব্যবহার করা হয়। স্টিয়ারিক এসিডের গঠন সরল, এতে একটি লম্বা হাইড্রোকার্বন চেইন এবং একটি কার্বক্সিলিক অ্যাসিড গ্রুপ থাকে।
প্রসাধনী সাবান এবং লন্ড্রি সাবানের মধ্যে মূল পার্থক্য হলো তাদের ব্যবহার ও উপাদান। প্রসাধনী সাবান ত্বকের জন্য উপযোগী করে তৈরি করা হয়, এতে বিভিন্ন ধরনের ময়েশ্চারাইজার এবং সুগন্ধি যোগ করা থাকে। অন্যদিকে, লন্ড্রি সাবান কাপড় কাচার জন্য ব্যবহৃত হয় এবং এটি সাধারণত কঠিন ধরনের দাগ দূর করার জন্য তৈরি করা হয়।
ডিটারজেন্ট হলো এমন একটি রাসায়নিক পদার্থ যা পানিতে দ্রবণীয় এবং ময়লা, তেল ও অন্যান্য দূষণকারী পদার্থকে ভেঙে ফেলতে সাহায্য করে। সাবানের মতোই ডিটারজেন্টও কাপড়-চোপড় এবং অন্যান্য পরিষ্কারকাজে ব্যবহৃত হয়। ডিটারজেন্টের অণুতে একটি অংশ জলে দ্রাব্য এবং অন্য অংশ তেলে দ্রাব্য হওয়ায় এটি ময়লাকে ঘিরে ধরে এবং পানির সাথে মিশ্রিত করে দেয়, ফলে কাপড়-চোপড় পরিষ্কার হয়।
সাবান বা ডিটারজেন্ট দ্রবীভূত অবস্থায় এরা ধনাত্মক ও ঋণাত্মক প্রান্ত সৃষ্টি হয়। ঋণাত্মক প্রান্ত ও ধনাত্মক প্রান্তকে যথাক্রমে হাইড্রোফিলিক ও হাইড্রোফোবিক বলা হয়।
ময়লা কাপড়কে যখন সাবান বা ডিটারজেন্টসহ পানিতে ভেজানো হয় তখন হাইড্রোফোবিক অংশ কাপড়ের ময়লার প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং দ্রবীভূত হয়। এই অবস্থায় কাপড়কে ঘষাঁ বা মোচড়ানো হলে কাপড় হতে ময়লা সরে যায় এবং কাপড় পরিষ্কার হয়।
হাইড্রোফিলিক যেসব যৌগের পানির তীব্র আকর্ষণ রয়েছে তাদেরকে হাইড্রোফিলিক পদার্থ বলে। যেমন সাবানের পোলার অংশটি হাইড্রোফিলিক অংশ।
হাইড্রোফোবিক: যেসব যৌগ পানি অণু দ্বারা বিকর্ষিত হয় তাদেরকে হাইড্রোফোবিক বলে। যেমন সাবানের লম্বা লেজ (হাইড্রোকার্বন) হলো হাইড্রোফোবিক।
তৈল ও চর্বি হলো গ্লিসারিন ও উচ্চতর ফ্যাটি অ্যাসিডের এস্টার। এদেরকে একত্রে লিপিড বলে। গ্লিসারিন ও উচ্চতর ফ্যাটি অ্যাসিডের যে মিশ্রণের গলনাঙ্ক 20 °C এর বেশি এবং যাতে অধিক পরিমাণ সম্পৃক্ত প্যাটি অ্যাসিডের গ্লিসারাইড থাকে তাকে চর্বি বলে। আর যে মিশ্রণের গলনাঙ্ক 20 °C এর কম এবং যাতে অধিক পরিমাণ অসম্পৃক্ত ফ্যাটি অ্যাসিডের গ্লিসারাইড থাকে তাকে তৈল বলে। সাধারণ তাপমাত্রায় চর্বি কঠিন এবং তৈল তরল থাকে।
খর পানিতে সাবানের ফেনা তৈরি হয় না। এর কারণ হলো খর পানিতে সাধারণত আয়ন থাকে। এসব আয়নের হাইড্রোজেন কার্বনেট, ক্লোরাইড ও সালফেট লবণ সাবানের সাথে বিক্রিয়া করে অদ্রবণীয় গাদ তৈরি করে। এ কারণেই মূলত সাবানের ফেনা হয় না।
বিক্রিয়া
সাবান
খর পানির উপাদান অদ্রবণীয় গাদ (ম্যাগনেসিয়াম অ্যাসিটেট)
সাবান সাধারণত খর পানিতে উপস্থিত আয়নের সাথে বিক্রিয়া করে অদ্রবণীয় সাবানরূপে পানিতে ভেসে উঠে। ফলে সাবানের অপচয় হয় এবং কাপড়ের আঁশের ক্ষতি হয়। অপরদিকে ডিটারজেন্ট খর পানির আয়নের সাথেও দ্রবণীয় লবণরূপে কার্যকরী থাকে। খর ও মৃদু উভয় পানিতে ডিটারজেন্ট সমানভাবে কার্যকর। তাই ময়লা কাপড় পরিষ্কারকরণে সাবান অপেক্ষা ডিটারজেন্ট উত্তম।
সাবান ও ডিটারজেন্টের মধ্যে ২টি পার্থক্য নিম্নরূপ-
| সাবান | ডিটারজেন্ট |
| ১. সাবান হলো দীর্ঘ কার্বন শিকলবিশিষ্ট ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম বা পটাসিয়াম লবণ। | ১. ডিটারজেন্ট হলো দীর্ঘ কার্বন শিকলবিশিষ্ট বেনজিন সালফোনিক এসিডের সোডিয়াম লবণ। |
| ২. ডিটারজেন্ট এর চেয়ে পরিষ্কারকরণের ক্ষমতা সাবানের কম। | ২. সাবানের চেয়ে পরিষ্কারকরণের ক্ষমতা ডিটারজেন্টের বেশি। |
সাবানের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে কাপড়ের রং ও বুনন নষ্ট হয় এবং ক্ষার হাতের ক্ষতি করে। আবার পুকুর বা জলাশয়ের ধারে কাপড় কাচা হলে সাবানের ফেনা পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। ফলে পানির মধ্যে বিদ্যমান জলজ উদ্ভিদ ও মাছ মারা যায়। এভাবেই অতিরিক্ত সাবান ব্যবহারে পানি দূষিত হয়।
সাবান ও ডিটারজেন্টের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে হাতের ত্বকে সমস্যা দেখা দেয়। ময়লা পরিষ্কারের ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য কোনো কোনো ডিটারজেন্টে ফসফেট ব্যবহার করা হয়। ফসফেট শৈবাল ও অন্যান্য জলজ উদ্ভিদের জন্য ভালো সার। এ সকল উদ্ভিদের পরিমাণ দ্রুত বেড়ে যায়। এই বর্ধিত জলজ উদ্ভিদের জীবনচক্র শেষে বিয়োজনের জন্য পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়। দ্রবীভূত অক্সিজেনের অভাবে জলজ প্রাণিকূল মারা যায়।
| রাসায়নিক যৌগ | সংকেত |
| (i) সোডিয়াম লরাইল সালফেট | |
| (ii) পটাশ অ্যালাম এর সংকেত |
ব্লিচিং পাউডার এর রাসায়নিক নাম ক্যালসিয়াম ক্লোরো হাইপোক্লোরাইট, [Ca(OCl)CI]। বলপেন এর কালি বা অন্য কোনো রং এর দাগ যেগুলো সাবান এবং ডিটারজেন্ট দিয়ে তোলা যায় না সেগুলোকে কাপড় থেকে উঠানোর জন্য ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করা হয়। এছাড়া মেঝে, কমোড, বেসিন ইত্যাদি জায়গা থেকে জীবাণু ধ্বংস করার কাজেও ব্লিচিং পাউডার ব্যবহার করা হয়।
ব্লিচিং পাউডারের সংকেত Ca(OCI) CI। ব্লিচিং পাউডার বায়ুমণ্ডলের এবং বা জলীয় বাষ্পের সাথে বিক্রিয়া করে হাইপোক্লোরাস (HCIO) এসিড উৎপন্ন করে। উৎপন্ন HCIO তাৎক্ষণিক বিযোজনে [O] উৎপন্ন করে। উৎপন্ন [O] জীবিত জীবাণুকে মেরে মৃত জীবাণুতে পরিণত করে। তাই ব্লিচিং পাউডার জীবাণুনাশক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
বিক্রিয়া:
[O] + জীবিত জীবাণু মৃত জীবাণু
ব্লিচিং পাউডার [Ca(OCl)CI] বায়ুর এবং পানির সাথে বিক্রিয়ায় হাইপোক্লোরাস এসিড (HCIO) উৎপন্ন করে। HCIO তাৎক্ষণিকভাবে বিযোজিত হয়ে জায়মান অক্সিজেন উৎপন্ন করে। এই জায়মান অক্সিজেনের জারণ ক্রিয়ায় কাপড়ের বিরঞ্জন ঘটে, অর্থাৎ দাগ দূর হয়।
বিক্রিয়া
রঙিন পদার্থ + [O] → বর্ণহীন পদার্থ
ব্লিচিং পাউডার কীভাবে প্রস্তুত করা হয়? শুষ্ক কলিচুনে ক্লোরিন গ্যাস চালনা করে ব্লিচিং পাউডার তৈরি করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় 40 °C তাপমাত্রায় কঠিন ক্যালসিয়াম হাইড্রোক্সাইড (কলিচুন) ক্লোরিন গ্যাসের সাথে বিক্রিয়া করে 1 ক্যালসিয়াম হাইপোক্লোরাইট উৎপন্ন করে, যা ব্লিচিং পাউডার হিসেবে পরিচিত। রাসায়নিকভাবে এই বিক্রিয়াকে নিম্নরূপে প্রকাশ করা হয়:
ব্লিচিং পাউডার বায়ুমন্ডলের কার্বন ডাইঅক্সাইড এবং পানির সাথে বিক্রিয়ায় হাইপোক্লোরাস এসিড উৎপন্ন করে। হাইপোক্লোরাস এসিড হতে উৎপন্ন জায়মান অক্সিজেনের জারণ ক্রিয়ায় কাপড়ের দাগ দূর হয়। যেমন,
ব্লিচিং পাউডার
2HCIO → HCI+ [O] রঙিন পদার্থ + [O]→ বর্ণহীন পদার্থ।
ব্লিচিং পাউডারের ব্যবহার অত্যন্ত ব্যাপক। ঘরোয়া পরিচ্ছন্নতায়, কাপড়ের দাগ উঠাতে, বাথরুম, রান্নাঘর পরিষ্কার করতে, জীবাণু নাশ করতে এটি ব্যবহৃত হয়। শিল্পক্ষেত্রে কাগজ শ্বেতকরণ, পানি শোধন এবং কিছু রাসায়নিক পদার্থ তৈরিতেও ব্লিচিং পাউডারের ব্যবহার করা হয়।
গ্লাস পরিষ্কার করার জন্য যে পরিষ্কারক দ্রব্য ব্যবহার করা হয় তাকে বলা হয় গ্লাস ক্লিনার। গ্লাস ক্লিনারের মূল উপাদান হিসেবে অ্যামোনিয়া ব্যবহার করা হয়। এছাড়া এতে থাকে অ্যামোনিয়া দ্রবণ , আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল সোডিয়াম লরাইল সালফেট, পারফিউম, রঞ্জক এবং পানি।
গ্লাস ক্লিনারের মূল উপাদান হিসেবে অ্যামোনিয়া ব্যবহার করা হয়। গ্লাস ক্লিনার সাধারণত অ্যামোনিয়া দ্রবণ এবং আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহলমিশিয়ে তৈরি করা হয়। এছাড়াও, সারফেকট্যান্ট এবং পানি যোগ করে গ্লাস ক্লিনারের কার্যকারিতা বাড়ানো হয়। এই উপাদানগুলোকে নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশিয়ে এবং ভালো করে নাড়াচাড়া করে গ্লাস ক্লিনার তৈরি করা হয়।
গ্লাস ক্লিনারের অ্যামোনিয়া দ্রবণ কাচের তলে লেগে থাকা তেল বা চর্বির সাথে বিক্রিয়া করে তাদেরকে ছোট ছোট কণা করে ভেঙে দেয়। ফলে এই তেল বা চর্বি পানিতে দ্রবীভূত হয়ে যায় এবং কাচ থেকে সহজেই ধুয়ে ফেলা যায়। এছাড়া, গ্লাস ক্লিনারে থাকা। আইসোপ্রোপাইল অ্যালকোহল কাচের পৃষ্ঠকে চকচকে করে তোলে
হেবার পদ্ধতি ব্যবহৃত হয় অ্যামোনিয়া উৎপাদনে, যা গ্লাস ক্লিনারের মূল উপাদান। বায়ুমণ্ডলীয় নাইট্রোজেন এবং হাইড্রোজেন গ্যাসকে উচ্চ তাপমাত্রা, উচ্চ চাপ এবং প্রভাবকের উপস্থিতিতে অ্যামোনিয়া উৎপাদন করা হয়।
বিক্রিয়া
পরীক্ষাগারে অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড এবং ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইড এর মিশ্রণকে উত্তপ্ত করে অ্যামোনিয়া গ্যাস তৈরি করা হয়। এই বিক্রিয়ায় অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড ক্যালসিয়াম হাইড্রক্সাইডের সাথে বিক্রিয়া করে অ্যামোনিয়া গ্যাস, ক্যালসিয়াম ক্লোরাইড এবং পানি উৎপন্ন করে।
চুনাপাথর তথা ক্যালসিয়াম কার্বনেটকে অধিক তাপমাত্র (600 °C) উত্তপ্ত করলে চুন ও কার্বন ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন করে।
চুনাপাথর চুন কার্বন ডাইঅক্সাইড
এসিডিক মাটি ও পানির pH মান বৃদ্ধির জন্য অর্থাৎ মাটি বা পানিকে ক্ষারীয় করার জন্য চুন ব্যবহার করা হয়। তাছাড়াও শিল্পক্ষেত্রে পানির খরতা দূরীকরণে এবং ব্লিচিং পাউডারের শিল্পোৎপাদনে ক্যালসিয়াম অক্সাইড ব্যবহৃত হয়।
ইউরিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক সার, যা কৃষিতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এর রাসায়নিক সংকেত উদ্ভিদের জন্য নাইট্রোজেনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস ইউরিয়া। এটি মাটিতে দ্রুত দ্রবীভূত হয় এবং উদ্ভিদ দ্বারা সহজে শোষিত হয়।
উচ্চ চাপ (প্রায় 200 atm) এবং উচ্চ তাপমাত্রায় (প্রায় 180-200 °C) গ্যাসন্বয় একত্রিত করলে প্রথমে অ্যামোনিয়াম কার্বামেট উৎপন্ন হয়। এরপর অ্যামোনিয়াম কার্বামেট উচ্চ তাপমাত্রায় পানি ত্যাগ করে ইউরিয়া তৈরি করে।
বিক্রিয়া
ইউরিয়ার দুটি প্রধান ব্যবহার নিম্নরূপ:
১. কৃষিক্ষেত্রে: ইউরিয়া হল একটি গুরুত্বপূর্ণ রাসায়নিক সার, যা উদ্ভিদের জন্য নাইট্রোজেনের একটি প্রধান উৎস।
২. শিল্পক্ষেত্রে: ইউরিয়া থেকে ম্যালামাইন পলিমার তৈরি করা হয়, যা বিভিন্ন শিল্পজাত পণ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
মাটিতে দ্রবীভূত অবস্থায় ইউরিয়া ইউরিয়েজ এনজাইমের প্রভাবে ধীরে ধীরে বিয়োজিত হয়ে অ্যামোনিয়া ও কার্বন ডাইঅক্সাইডে পরিণত হয়। অ্যামোনিয়া পানিতে দ্রবীভূত হয়ে অ্যামোনিয়াম হাইড্রোঅক্সাইডে পরিণত হয়। অ্যামোনিয়াম হাইড্রোঅক্সাইড NH₁ আয়ন ও OH আয়নে আংশিকভাবে বিয়োজিত অবস্থায় থাকে। উদ্ভিদ NII,' আয়ন পরিশোষণ করে এবং পুষ্টি লাভ করে।
ইউরিয়া মাটিতে উদ্ভিদের জন্য পুষ্টি সরবরাহে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উদ্ভিদের গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানগুলোর মধ্যে অন্যতম উপাদান হলো আয়ন। উদ্ভিদ সরাসরি পুষ্টি গ্রহণ করে না। তাই এই আয়ন শোষণ করে।
বিক্রিয়া

অ্যামোনিয়া গ্যাস এবং সালফিউরিক এসিড এর মধ্যে একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটিয়ে অ্যামোনিয়াম সালফেট (Ammonium Sulphate) তৈরি করা হয়।
বিক্রিয়া
অ্যামোনিয়াম সালফেট
অ্যামোনিয়াম সালফেট, অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাসায়নিক সার, যা কৃষিক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এটি উদ্ভিদের জন্য দুটি প্রধান পুষ্টি উপাদান নাইট্রোজেন এবং সালফার সরবরাহ করে। এছাড়াও, এটি মাটির pH স্তরকে সামঞ্জস্য রাখতে সহায়তা করে এবং মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।
ক্ষারীয় মাটিতে অ্যামোনিয়াম সালফেট যোগ করলে নিম্নরূপে বিক্রিয়া ঘটে:
বিক্রিয়া
এই বিক্রিয়ায় অ্যামোনিয়াম সালফেট [ সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড (NaOH) এর সাথে বিক্রিয়া করে অ্যামোনিয়া সোডিয়াম সালফেট এবং পানি উৎপন্ন করে। এই প্রক্রিয়ায় মাটির pH স্তর হ্রাস পায় এবং মাটির ক্ষারত্ব কমে যায়।
মাটির অম্লত্ব কমাতে চুনাপাথর প্রয়োগ করা হয়। কারণ চুনাপাথর মাটির pH মান বৃদ্ধি করে মাটির উর্বরতায় সহায়তা করে। চুনাপাথর বিয়োজিত হয়ে চুন (CaO) উৎপন্ন করে, পরে তা মাটির পানির সাথে বিক্রিয়া করে তৈরি করে। যার ফলে, মাটির pH মান বৃদ্ধি পায়।
এসিড বৃষ্টির ফলে চিংড়ি ঘেরের পানির pH মান কমে যায়। অর্থাৎ পানি এসিডিক হয়ে যায়। ফলে ঐ পানি চিংড়ি বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে।
চুন পানির অতিরিক্ত এসিডকে প্রশমিত করে। তাই চিংড়ি ঘেরে পানির pH মান বৃদ্ধির জন্য চুন দেওয়া হয়।
কৃয়িতে pH এর গুরুত্ব অপরিসীম। মাটির pH মান 3.0 এর কম অথবা 10 এর বেশি হলে মাটির উপকারী অণুজীব মারা যায়। মাটির pH মান কমে গেলে চুন (CaO) এবং pH মান বেড়ে গেলে সার প্রয়োগ করে মাটিকে উর্বর করা হয়।
কৃষিদ্রব্যে যাতে দুর্গন্ধ না হয় বা যাতে এগুলোতে পচন না ধরে সেজন্য বরফ, খাদ্য লবণ, ভিনেগার ইত্যাদি দ্বারা কৃষিদ্রব্য সংরক্ষণ করা হয়। টমেটো, কাঁচা আম ইত্যাদি কৌটাতে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করার জন্য ভিনেগার ব্যবহৃত হয়। খাদ্যের সাথে আমাদের শরীরে ভিনেগার প্রবেশ করলেও আমাদের কোনো সমস্যা হয় না। ফরমালিন দ্বারা খাদ্য সংরক্ষণ করা হয় না। কারণ ফরমালিন মানুষ এবং প্রাণী সকলের জন্য বিষাক্ত পদার্থ।
ফরমালিন একটি বিষাক্ত রাসায়নিক যা খাদ্যের সাথে মিশলে শরীরে প্রবেশ করে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এটি ক্যান্সার, যকৃতের ক্ষতি, কিডনির সমস্যা এবং অন্যান্য গুরুতর রোগের কারণ হতে পারে। ফরমালিন খাবারের স্বাদ ও গন্ধ নষ্ট করে এবং দীর্ঘমেয়াদীভাবে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই স্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে খাদ্য সংরক্ষণে ফরমালিন ব্যবহার করা উচিত নয়।
প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভ হল এমন কিছু পদার্থ যা খাবারকে দীর্ঘদিন ভালো রাখতে ব্যবহৃত হয় এবং এগুলো সম্পূর্ণরূপে প্রাকৃতিক উৎস থেকে আসে। উদাহরণস্বরূপ, লবণ, চিনি, ভিনেগার, মধু ইত্যাদি। এই প্রিজারভেটিভগুলো খাবারে ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের বৃদ্ধি রোধ করে এবং খাবারের স্বাদ ও গন্ধ ধরে রাখতে সাহায্য করে।
প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম প্রিজারভেটিভের মধ্যে প্রধান দুটি পার্থক্য
নিম্নরূপ :
| প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভ | কৃত্রিম প্রিজারভেটিভ |
| ১. প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভগুলো প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যায়, যেমন লবণ, চিনি, ভিনেগার ইত্যাদি। | ১. কৃত্রিম প্রিজারভেটিভগুলো ল্যাবরেটরিতে সাধারণত রাসায়নিক পদার্থ দিয়ে তৈরি করা হয়। |
| ২. সাধারণত প্রাকৃতিক প্রিজারভেটিভগুলো স্বাস্থ্যের জন্য তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। | ২. কৃত্রিম প্রিজারভেটিভগুলো অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা যেমন ক্যান্সার, লিভারের ক্ষতি করতে পারে। |
অতিরিক্ত ইথিলিন ব্যবহারের ২টি ক্ষতি নিম্নরূপ :
(১) মানুষের স্নায়ুতন্ত্রকে দুর্বল করে।
(২) চোখ, ত্বক, ফুসফুস ও মস্তিষ্কের ক্ষতি করে।
ফরমালডিহাইড সকল প্রাণীর জন্য অত্যন্ত বিষাক্ত পদার্থ। ইহা ক্যান্সার উৎপাদক হিসেবে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। অধিক মাত্রায় ফরমালডিহাইড শরীরে প্রবেশ করলে তীব্র পেট ব্যথা, বমি, কিডনি সমস্যা এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। ফরমালডিহাইড দিয়ে ফলমূল, মাছ-মাংস ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী সংরক্ষণ নিষিদ্ধ।
ক্যালসিয়াম কার্বাইডকে পানির সংস্পর্শে আনা হলে অ্যাসিটিলিন গ্যাস উৎপন্ন হয়।
এই গ্যাস ফল পাকানোর একটি প্রাকৃতিক হরমোন ইথিলিনের মতো কাজ করে। কাঁচা আমকে ক্যালসিয়াম কার্বাইড ও পানির মিশ্রণে ডুবিয়ে রাখলে অ্যাসিটিলিন গ্যাস আমের ভেতরে প্রবেশ করে এবং এটি দ্রুত পাকিয়ে ফেলে।
অনুমোদিত ফুড প্রিজারভেটিভ হলো এমন একটি রাসায়নিক পদার্থ, যা খাদ্যকে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে ব্যবহৃত হয় এবং স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়। এই প্রিজারভেটিভগুলো খাদ্যে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক এবং ইস্টের বৃদ্ধি রোধ করে, ফলে খাদ্য দীর্ঘদিন ভালো থাকে। উদাহরণ: সোডিয়াম বেনজোয়েট, সরবিক এসিড, চিনি, লবণ ইত্যাদি প্রিজারভেটিভ। এসব দ্রব্য বিভিন্ন খাদ্য যেমন সফ্ট ড্রিঙ্ক, আচার, সস ইত্যাদিতে ব্যবহৃত হয়।
অননুমোদিত প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা অত্যন্ত ক্ষতিকর।। এই ধরনের প্রিজারভেটিভে বিভিন্ন ধরনের বিষাক্ত রাসায়নিক থাকতে পারে, যা শরীরে প্রবেশ করলে গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এগুলো ক্যান্সার, লিভারের ক্ষতি, কিডনির সমস্যা এবং অন্যান্য দীর্ঘস্থায়ী রোগের কারণ হতে পারে। এছাড়া, অননুমোদিত প্রিজারভেটিভ খাবারের গুণগত মান কমিয়ে দেয়।
যে সকল পদার্থ অণুজীব দ্বারা আক্রান্ত হয়ে বিয়োজিত হয়, সেসব পদার্থই হচ্ছে বায়োডিগ্রেডেবল পদার্থ। মাছ, মাংস বায়োডিগ্রেডেবল পদার্থ। কারণ, মাছ, মাংস বিভির অণুজীব দ্বারা আক্রান্ত হলে, তাদের বর্ণ, গন্ধ ও আকৃতির পরিবর্তন ঘটে, যাকে সাধারণভাবে আমরা পচন বলি। যেহেতু মাছ, মাংস অণুজীব দ্বারা আক্রান্ত হয়ে বিযোজিত হওয়ায় এরা বায়োডিগ্রেডেবল পদার্থ।
বেকিং পাউডারের সংকেত হলো-
অনার্দ্র সোডিয়াম কার্বনেটকে সোডা অ্যাস বলে।
ইথানয়িক এসিডের 4-10% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বলে।
ইথানয়িক এসিডের 4-10% জলীয় দ্রবণকে ভিনেগার বা সিরকা বলে।
বেকিং পাউডারের মূল উপাদান হলো সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট
সাধারণ লবণে NaCl এর সাথে মিশ্রিত অবস্থায় থাকে।
পাউরুটি ফোলাতে ইস্ট নামক ছত্রাক ব্যবহার করা হয়।
সোডা অ্যাসের সংকেত
টয়লেট ক্লিনারের মূল উপাদান হলো কস্টিক সোডা (NaOH)।
তেল বা চর্বির সাথে সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH) বা পটাশিয়াম হাইড্রোক্সাইড বিক্রিয়ার মাধ্যমে সাবান এবং গ্লিসারিন তৈরির প্রক্রিয়াকে সাবানায়ন বলে।
ব্লিচ এর আণবিক সংকেত হলো- Ca(OCl)Cl।
সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম লবণ (R-COONa) বা উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের পটাশিয়াম লবণ (R-COOK)।
চর্বি হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারিনের ট্রাই এস্টার যা কঠিন অবস্থায় থাকে।
কাপড় কাচা সোডার রাসায়নিক নাম সোডিয়াম কার্বনেট ডেকা হাইড্রেট
গ্লাস পরিষ্কার করার জন্য যে পরিষ্কারক দ্রব্য ব্যবহার করা হয় | তাকে গ্লাস ক্লিনার বলা হয়।
গ্লাস ক্লিনারের মূল উপাদান অ্যামোনিয়া
পানিতে প্রয়োজনীয় পরিমাণ ব্লিচিং পাউডার যোগ করলে উৎপন্ন ক্লোরিন জারিত করার মাধ্যমে জীবাণুকে ধ্বংস করে; জীবাণু মারার এ প্রক্রিয়াকে ক্লোরিনেশন বলে।
সাবানে দুটি অংশ একটি হাইড্রোফিলিক এবং একটি হাইড্রোফোবিক থাকে।
উচ্চতর ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারিনের ট্রাই এস্টার, যা তরল অবস্থায় থাকলে তাকে তেল বলা হয়।
কাপড়-চোপড় পরিষ্কার করার জন্য আমরা যেসব সাবান ব্যবহার করি তাদেরকে কাপড় কাচা সাবান বা লন্ড্রি সারান বলে
আমাদের ত্বককে পরিষ্কার করার জন্য যেসব সাবান ব্যবহার করি তাদেরকে প্রসাধনী সাবান বলে।
জলপাই থেকে যে তেল পাওয়া যায় তাকে অলিভ অয়েল বলে।
সোডিয়াম লরাইল সালফেট কে ডিটারজেন্ট বলা হয়, যা পরিষ্কারক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
অ্যামোনিয়া হলো গ্লাস ক্লিনার পরিষ্কারকের মূল উপাদান।
ইউরিয়ার একটি পলিমার হলো মেলামাইন।
যে প্রক্রিয়ায় কোনো রাসায়নিক পদার্থের মাধ্যমে কোনো কৃষিজাত দ্রব্যকে দীর্ঘদিন ভালো রাখা বা পচনের হাত থেকে রক্ষা করা হয় সেই প্রক্রিয়াকে কৃষিদ্রব্য প্রক্রিয়াকরণ বলা হয়।
যেসব রাসায়নিক দ্রব্য খাদ্যসামগ্রীতে দিলে খাদ্যসামগ্রীতে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে না, দুর্গন্ধ হয় না, পচন হয় না সেসব রাসায়নিক দ্রব্যকে ফুড প্রিজারভেটিভ বলে।
সমুদ্র উৎসে অধিক পরিমাণে খাদ্য লবণ থাকে
সোডিয়াম ক্লোরাইডের উৎস সমুদ্রের পানি
জোয়ারের পানি আটকে রেখে লবণ চাষ করার পদ্ধতিকে সল্ট হারভেস্টিং বলে
সল্ট হারভেস্টিং এর মাধ্যমে পাওয়া লবণে বালু মিশ্রিত থাকে
শরীরের যাবতীয় কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হবার জন্য ইত্যাদি আয়ন খুবই দরকার ইত্যাদি
শিল্পকারখানায় NaOH যৌগ প্রস্তুতিতে NaC ব্যবহৃত হয়
বেকিং সোডার রাসায়নিক নাম সোডিয়াম হাইড্রোজেন কার্বনেট
যৌগের মিশ্রণে বেকিং পাউডার তৈরি করা হয়
টারটারিক এসিডের সংকেত
বেকিং পাউডার ফুলানোর জন্য কেক তৈরিতে কোনটি ব্যবহার করা হয় l
বেকিং সোডা ও টারটারিক এসিডের মিশ্রণে সোডিয়াম টারটারেট যৌগটি তৈরি হয় l
বেকারিতে পাউরুটি ফুলানোর জন্য ইস্ট নামক ছত্রাক ব্যবহার করা হয়
ইস্টের সবাত শ্বসনে কার্বন ডাইঅক্সাইড উৎপন্ন হয় l
ভিনেগার মূলত ইথানয়িক এসিড এসিডের জলীয় দ্রবণ l
ইথানল থেকে ভিনেগার তৈরিতে 25-35 ডিগ্রি সেন্ট্রিগ্রেড তাপমাত্রা প্রয়োজন l
ইথানয়িক এসিড প্রস্তুতিতে ইথানলকে অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করতে সাহায্য করে অ্যাসিটোব্যাক্টর নিঃসৃত এনজাইম l
কার্বনিক এসিড পানীয়তে কোন এসিড উৎপন্ন হয় l
কোমল পানীয় পান করা হয় খাদ্য পরিপাক বা হজম হবার জন্য
স্বাস্থ্য বলতে সুস্থ দেহের সুস্থ মন বুঝায় l
সোডা অ্যাস সোডিয়াম কার্বনেট (NaCO₃)
সোডিয়াম কার্বনেট ডেকা হাইড্রেট
টয়লেট ক্লিনারের মূল উপাদান সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NaOH)
টয়লেট ক্লিনারে NaOH এর সাথে অন্য কোনো যৌগ মিশ্রিত থাকে NaOCl (সোডিয়াম হাইপোক্লোরাইট)
রঙিন পদার্থকে বর্ণহীন করে জায়মান অক্সিজেন [O]l
সাবানের রাসায়নিক সংকেত R-COONa/R-COOK
R-COONa তে R এর সাধারণ সংকেত এর মান 12-18)
সোডিয়াম স্টিয়ারেট বা সাবানের সংকেত
সাবানায়ন প্রক্রিয়ায় সাবান ও গ্লিসারিন উৎপন্ন হয়l
ব্যবহারের ভিত্তিতে সাবান দুই প্রকার প্রকার l
কাপড় পরিষ্কার করার জন্য লন্ড্রি সাবান সাবান ব্যবহার করা হয় l
ফ্যাটি এসিড অ্যালকোহল বা গ্লিসারিনের সাথে বিক্রিয়ায় এস্টার উৎপন্ন করেl
উচ্চতর ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারিনের ট্রাই এস্টারের তরল রূপ তেল
উচ্চতর ফ্যাটি এসিড ও গ্লিসারিনের ট্রাই এস্টারের কঠিন রূপ চর্বি l
প্রাণিদেহের ফ্যাট থেকে প্রাপ্ত সম্পৃক্ত ফ্যাটি এসিড স্টিয়ারিক এসিড
অলিভ ওয়েল থেকে অলিক এসিড পাওয়া যায়
প্রসাধনী সাবানে অতিরিক্ত সুগন্ধিকারক পদার্থ ও জীবাণুনাশক যোগ করা হয় l
ডিটারজেন্ট পাউডার ও তরল ভৌত অবস্থায় পাওয়া যায় l
লরাইল অ্যালকোহলের সংকেত l
ডিটারজেন্টের রাসায়নিক নাম ও সংকেত সোডিয়াম লরাইল সালফেট
ডিটারজেন্টকে পাউডার আকৃতির করার জন্য এর সাথে সোডিয়াম সালফেট যোগ করা হয় l
সাবান বা ডিটারজেন্ট এর ঋণাত্মক প্রান্তকে হাইড্রোফিলিক বলে l
ডিটারজেন্টের হাইড্রোফোবিক প্রান্ত তেল বা গ্রিজের দিকে দিকে আকর্ষিত হয় l
দীর্ঘ কার্বন শিকলবিশিষ্ট বেনজিন সালফোনিক এসিডের সোডিয়াম লবণকে ডিটারজেন্ট বলে l
ডিটারজেন্টের ট্রাইসোডিয়াম ফসফেট উপাদান জলজ উদ্ভিদের সার হিসেবে কাজ করে l
ত্বকের প্রসাধনীর pH মাত্রা pH = 4.8 থেকে 5.5 হওয়া প্রয়োজন l
ব্লিচিং পাউডার এর রাসায়নিক নাম ও সংকেত ক্যালসিয়াম ক্লোরো হাইপোক্লোরাইট Ca(OCI)CI ।
এবং এর বিক্রিয়ায় ব্লিচিং পাউডার তৈরিতে 40 °C তাপমাত্রা প্রয়োজন
হাইপোক্লোরাস এসিড বিয়োজিত হয়ে ও [O] উৎপাদন করে?
হাইপোক্লোরাস এসিড বিয়োজিত হয়ে HCI ও [O] উৎপাদন করে
অ্যামোনিয়া দ্রবণ মূলত অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইড (NH4OH)
গ্লাস ক্লিনারের মূল উপাদান অ্যামোনিয়া
কাচের উপাদান সোডিয়াম বা ক্যালসিয়াম সিলিকেট
গ্লাস ক্লিনারের উপাদান তেল বা চর্বিকে দ্রবীভূত করে
অ্যামোনিয়াম হাইড্রোক্সাইডের সাথে আইসো প্রোপাইল অ্যালকোহল যৌগটি মিশিয়ে গ্লাস ক্লিনার প্রস্তুত করা হয় l
পরীক্ষাগারে যৌগের বিক্রিয়ায় অ্যামোনিয়া উৎপন্ন করা হয় l
যেকোনো অ্যামোনিয়াম লবণকে ক্ষার সহযোগে তাপ দিলে অ্যামোনিয়া উৎপন্ন হয় l
অ্যামোনিয়াম লবণের সাথে চুনের বিক্রিয়ায় গ্যাস উৎপন্ন হয়l
হেবার বস প্রণালিতে এর শিল্পোৎপাদন করা হয়l
হেবার পদ্ধতিতে অ্যামোনিয়া প্রস্তুতিতে প্রভাবক হিসেবে আয়রন (Fe) ধাতু ব্যবহার করা হয় l
হেবার পদ্ধতিতে অ্যামোনিয়া প্রস্তুতিতে অত্যানুকূল তাপমাত্রা 450-550 °C l
হেবার প্রণালিতে উৎপাদনে দুটি প্রয়োজন
হেবার পদ্ধতিতে অ্যামোনিয়া প্রস্তুতিতে নাইট্রোজেন ও হাইড্রোজেন 1 :3 অনুপাতে মিশ্রিত করা হয় l
হেবার প্রণালিতে উৎপাদনে অত্যানুকূল চাপ 200-250 atm
এর বিক্রিয়ায় ইউরিয়া প্রস্তুতিতে প্রয়োজনীয় তাপমাত্রা
অ্যামোনিয়াম কার্বামেট এর সংকেত
ইউরিয়ার সংকেত
ম্যালামাইন পলিমারের মনোমার যৌগ ইউরিয়া
কৃষিক্ষেত্রের ইউরিয়ায় ব্যবহার সার হিসেবে l
মাটিতে ইউরিয়েজ এনজাইম এনজাইমের উপস্থিতিতে ইউরিয়া পানির সাথে বিক্রিয়া করে l
উদ্ভিদ আয়ন থেকে নাইট্রোজেন শোষণ করে
মাটির ক্ষারকত্ব প্রশমনে অ্যামোনিয়াম সালফেট সার ব্যবহার করা হয়l
অ্যামোনিয়াম সালফেট থেকে উদ্ভিদ নাইট্রোজেন ও সালফার গ্রহণ করেl
ফলমূল, শাকসবজি, মাছ ইত্যাদিকে কৃষি দ্রব্য বলা হয়
কাঁচা আমের উপর ক্যালসিয়াম কার্বাইড রাসায়নিক দ্রব্য প্রয়োগে আম পেকে যায়
ক্যালসিয়াম কার্বাইড এর সংকেত l
ফরমালিনে শতকরা 40 ভাগ ফরমালডিহাইড থাকেl
ইথিলিন গ্যাস প্রয়োগে কাঁচা আম পাকানো হয়l
বরফ দ্বারা সাধারণত মাছ কৃষিদ্রব্য সংরক্ষণ করা হয়l
টমেটো, কাঁচা আম কৌটাতে দীর্ঘদিন সংরক্ষণে ভিনেগার রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হয়l
বর্তমানে খাদ্য সংরক্ষণে ব্যবহৃত ফরমালিন রাসায়নিক দ্রব্যটি বিভিন্ন জটিল রোগের কারণl
ফুড প্রিজারভেটিভ প্রয়োগের উপকারিতা খাদ্যে ব্যাকটেরিয়া জন্মায় না l
দুটি অনুমোদিত ফুড প্রিজারভেটিভ এর নাম সোডিয়াম বেনজোয়েট, বেনজয়িক এসিড ।
দুটি অননুমোদিত ফুড প্রিজারভেটিভ এর নাম ইথিলিন, অ্যাসিটিলিন
সাবান ও ডিটারজেন্ট কারখানায় NaOH উপাদান পানির ক্ষারকত্ব বৃদ্ধি করছে l
লবণের দ্রবণ, ভিনেগার অনুমোদিত ধরনের ফুড প্রিজারভেটিভ
4টি ভারী ধাতুর প্রতীক Cr, Pb, Hg, Cd ।
ভারী ধাতুসমূহ কীভাবে মানব শরীরে প্রবেশ করে খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে
ভারী ধাতুসমূহ শরীরের কিডনি ও লিভার অংশ বেশি ক্ষতি করেl
সোডিয়াম বেনজোয়েটের গ্রহণযোগ্য মাত্রা 0.1% l
বেনজয়িক এসিড কত pH মান পর্যন্ত কার্যকর
Related Question
View Allউচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম বা পটাসিয়াম লবণকে সাবান বলে।
গ্লাস ক্লিনার হলো এক ধরনের তরল পরিষ্কারক যা দ্বারা কাচ জাতীয় বিভিন্ন মসৃণ সামগ্রী পরিষ্কার করা হয়। গ্লাস ক্লিনারের মূল উপাদান হিসেবে NH3 ব্যবহার করা হয়। কারণ NH3 পানির সাথে বিক্রিয়ায় NH4OH উৎপন্ন করে। উৎপন্ন NH4OH এর OH- আয়ন কাচের কোনোরূপ ক্ষতি করে না বরং ময়লা পরিষ্কার করতে সহায়তা করে। গ্লাসে ময়লা হিসাবে সাধারণত ধুলাবালির কণা এর পৃষ্ঠতলের উপর জমা হয়। আর ধুলাবালির এই কণাসমূহ বিভিন্ন ধাতুর অক্সাইড হিসাবে থাকে যা অ্যামোনিয়ার সাথে বিক্রিয়ায় গ্লাসের পৃষ্ঠতল থেকে অপসারিত হয়।
শাওন প্রথমে যে পদার্থ দিয়ে কাপড় পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছিল তা হলো সাবান। সাবানের ময়লা পরিষ্কার করার কৌশল হলো-
কাপড়ের সুতায় তৈল ও গ্রীজ দ্বারা ময়লা আটকে থাকে। তাই ময়লা দূর করতে হলে আটকে থাকা তৈল ও গ্রীজের পাতলা স্তরকে কাপড় থেকে আলাদা করতে হয়। সাবানের অণুতে পোলার ও অপোলার এ দুটি অংশ আছে। সাবানের এক প্রান্তের পোলার কার্বক্সিলেট আয়ন হলো হাইড্রোফিলিক (পানিতে দ্রবণীয়) ও লিপোফোবিক (তৈল ও চর্বিতে অদ্রবণীয়)। অপর অংশ হলো সমযোজী বন্ধনে আবদ্ধ দীর্ঘ হাইড্রোকার্বন শিকল, যা হলো হাইড্রোফোবিক (পানিতে অদ্রবণীয়) ও লিপোফিলিক (তৈল ও চবির্তে দ্রবণীয়)

যখন পানিতে সাবান গলে যায়, তখন সাবানের হাইড্রোফিলিক কার্বক্সিলেট আয়ন পানিতে দ্রবীভূত হয়; কিন্তু হাইড্রোফোবিক দীর্ঘ হাইড্রোকার্বন শিকল পানিতে অদ্রবীভূত থাকে। এর ফলে পানির উপরি তলে সাবানের এক অণু বিশিষ্ট একটি অতি সূক্ষ্ম স্তর সৃষ্টি করে। সাবানের জলীয় দ্রবণে ময়লা কাপড় যখন ডুবানো হয় তখন কাপড়ের ময়লাযুক্ত তৈলাক্ত স্তরে সাবানের দীর্ঘ হাইড্রোকার্বন শিকলটি দ্রবীভূত হয় এবং সাবানের পোলার কার্বক্সিলেট আয়ন পানিতে দ্রবীভূত হয়ে থাকে। সাবানের আয়নসমূহ তৈলের সূক্ষ্ম কণাকে ঘেরাও করে এবং তৈলের বলয়ের মধ্যে সাবানের লেজ ঢুকে পড়ে [চিত্র দ্রষ্টব্য)। কাপড়কে যখন আছড়ানো হয় বা পানিতে আলোড়িত করা হয়, কাপড়ের সূতা থেকে তৈলের সূক্ষ্ম কণাগুলো আলাদা হয়ে পানিতে ভেসে উঠে। ফলে কাপড় পরিষ্কার হয়।

প্রদত্ত উদ্দীপকে রিয়াদ কাপড় পরিষ্কার করার জন্য শাওনকে ডিটারজেন্ট ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছিল। এর যৌক্তিক করণ নিম্নোক্তভাবে আলোচনা করা যায়-
সাবান হলো উচ্চতর ফ্যাটি এসিডের সোডিয়াম বা পটাসিয়াম লবণ।
খর পানিতে ম্যাগনেসিয়াম ও ক্যালসিয়ামের কার্বনেট ও সালফেট বিদ্যমান থাকে। ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম আয়ন সাবানের সাথে বিক্রিয়ায় অদ্রবণীয় ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের কার্বোক্সিলেট লবণ উৎপন্ন করে যা পানির উপর পাতলা সরের মতো ভাসতে থাকে। ফলে সাবান ময়লা পরিষ্কার করতে পারে না, এভাবে সাবানের অপচয় ঘটে।

অপরদিকে ডিটারজেন্ট হলো সোডিয়াম লরাইল সালফোনেট যা পানিতে দ্রবণীয়। ফলে ডিটারজেন্ট দিয়ে খর পানিতে কাপড় কাঁচতে কোন সমস্যা হয় না।
CH3 (CH2)10-CH2OSO3Na + Ca2+ (CH3- (CH3) CH2OSO3), Ca + Na+
পানিতে দ্রবণীয়
উপরোক্ত আলোচনা হতে বলা যায়, শাওন কাপড় পরিষ্কার কার্যে খর পানি ব্যবহার করেছিল। সাবান খর পানিতে ভালো কাজ করে না। কাজেই এ ক্ষেত্রে রিয়াদের পরামর্শ মতে ডিটারজেন্টের ব্যবহার যৌক্তিযুক্ত।
মাস ক্লিনারের মূল উপাদান হলো অ্যামোনিয়া (NH3)।
আমরা জানি, বাতাসে পাঁচ ভাগের চারভাগই নাইট্রোজেন (N2)। তাই বাতাসকে শীতল করে তরলে পরিণত করার পর আংশিক পাতন প্রণালীর মাধ্যমে তরল N2 কে পৃথক করা হয়।
এভাবে প্রাপ্ত N2 কে H2 এর সহিত 1 : 3 অনুপাতে মিশ্রিত করে মিশ্রণকে 200-250atm চাপে ও 450-550°C তাপমাত্রায় আয়রন (Fe) প্রভাবকের উপর দিয়ে চালনা করলে অ্যামোনিয়া (NH3) গ্যাস উৎপন্ন হয়, যা হেবার বস প্রণালী নামে পরিচিত।
বিক্রিয়াটি হলো : N2 + 3H2 2NH3
বাতাসে পাঁচ ভাগের চার ভাগ N2 রয়েছে, যা ব্যবহার করে NH3 উৎপাদন করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!