'বস্ত্র ধৌতকরণের মূল উদ্দেশ্য হলো-
১. কাপড়ের ময়লা পরিষ্কার করা।
২. পরিষ্কার কাপড়ে আনুষঙ্গিক দ্রব্য ব্যবহার করে স্বাভাবিক সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা।
সাবান একটি সহজলভ্য উত্তম পরিষ্কারক উপকরণ। বাড়ির বেশির ভাগ কাপড়ই সাবান দিয়ে কাচা হয়। বাজারে বিভিন্ন প্রকার সাবান পাওয়া যায়। সাবানে কস্টিক সোডার পরিমাণ বেশি থাকলে সেই সাবান বস্ত্র পরিষ্কার করার জন্য উপযোগী নয়।
বস্ত্র পরিষ্কারক সাবানের কয়েকটা গুণ অবশ্যই থাকতে হবে।
যেমন- সাবান দেখতে হলদে বা গাঢ় রঙের হবে না; সাবান এমন শক্ত হবে যাতে আঙুলের সাহায্যে চাপ দিলে গর্ভ হবে না; সাবানের গা মসৃণ হবে।
বোরাক্স জলীয় দ্রবণ ক্ষারীয়। তাই কাপড়ে কাঠিন্য এবং ঔজ্জ্বল্য সৃষ্টি করতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই দ্রব্যটি অনেক সময় কাপড়ের দাগ তুলতেও ব্যবহার করা হয়।
বেশি ময়লা তৈলাক্ত কাপড় সোডা দিয়ে সহজে পরিষ্কার করা যায়। বেশি ময়লা এবং তৈলাক্ত সুতি ও লিনেন কাপড় সিদ্ধ করা, জীবাণুমুক্ত করা ও দুর্গন্ধমুক্ত করার জন্য সোডা ব্যবহার করা হয়।
বর্তমানে আমাদের দেশে গুঁড়া সাবানের বহুল ব্যবহার দেখা যায়। পাত্রে পরিমাণমতো পানি নিয়ে গুঁড়া সাবান দিয়ে সহজে অনেক কাপড় কাচা যায়। গুঁড়া সাবানে বার জাতীয় উপাদান থাকে বলে কাপড়ের ধরন বুঝে ব্যবহার করতে হয়।
তুষের জল দিয়ে সিনটজ এবং কিটোন জাতীয় ছাপা ও রঙিন বস্ত্রাদি পরিষ্কার করা হয়। তুষকে একটা ন্যাকড়ায় জড়িয়ে পানিতে ভিজিয়ে রেখে যখন পানি বাদামি বর্ণ ধারণ করবে, তখনই তুষের পানি ব্যবহার উপযোগী হবে।
প্রাচীনকাল থেকেই রিঠা ফল রেশম, পশমের বস্ত্রাদি পরিষ্কার করার জন্য ব্যবহৃত হয়ে আসছে। রিঠার খোসার মধ্যে স্যাপোনিন নামে একটা পদার্থ আছে। এই স্যাপোনিনই কাপড়ের ময়লা পরিষ্কার করে। এতে কাপড়ের উজ্জ্বলতা, কোমলতা বাড়ায় ও রং ভালো থাকে।
ডিটারজেন্ট এক ধরনের বারবিহীন পরিষ্কারক উপকরণ। রেশম, পশম ইত্যাদি মূল্যবান বস্ত্রাদি ডিটারজেন্টের সাহায্যে নির্ভয়ে পরিষ্কার করা যায়। ডিটারজেন্টে রঙিন বস্ত্রাদির রং চটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না।
চাল, আলু, ভুট্টা ইত্যাদি থেকে স্টার্চ প্রস্তুত করা হয়। স্টার্চ ব্যবহারে কাপড়ের স্বাভাবিক কাঠিন্য এবং ধবধবে ভাব ফিরে আসে। স্টার্চ ব্যবহারের ফলে কাপড়গ সহজে ময়লা হয় না।
কাপড় পরিষ্কার করার সময় সাবান ব্যবহারের ফলে কাপড়ে হলদে ভাবের সৃষ্টি হয়। একমাত্র নীল ব্যবহারের ফলে হলদে ভাব কেটে নীলাভ শুভ্রতা দেখা দেয়। কাপড়ে ব্যবহারের জন্য নীল তরল ও পাউডার দুই ভাবেই বাজারে কিনতে পাওয়া যায়।
কোনো সংক্রামক রোগ থেকে আরোগ্য লাভ করার পর ব্যবহৃত জামাকাপড় জীবাণুমুক্ত করার জন্য জীবাণুনাশক উপকরণ দিয়ে ধোয়া হয়। যেমন- ক্লোরিন, ব্লিচিং।
বস্ত্র পরিষ্কারক দ্রব্য ভিনিগারকে কাপড়ের অতিরিক্ত নীল দূর করার জন্য ব্যবহার করা হয়। তাছাড়া রঙিন কাপড়ের রং চটে গেলে পানিতে সামান্য ভিনিগার মিশিয়ে ওই পানিতে কিছুক্ষণ রাখলে রং ফিরে আসে।
নতুন রঙিন কাপড়ের কাঁচা রং পাকা করার জন্য লবণের বহুল ব্যবহার দেখা যায়। রঙিন বস্ত্রাদি পরিষ্কার করার সময় সাবান পানিতে সামান্য পরিমাণে লবণ গুলে নিলে কাপড়ের রং নষ্ট হয় না। কাপড়ের দাগ তুলতেও লবণ ব্যবহার করা হয়।
পরিষ্কার করার সুবিধার জন্য ময়লার তারতম্য অনুসারে জামাকাপড়, বিছানার চাদর, নিত্যব্যবহার্য কাপড়, ছোট ছোট কাপড় ভিন্ন ভিন্ন ভাগে ভাগ করে নিলে সুবিধা হয়। তবে কাজেই বস্ত্র ধৌতকরণের পূর্বে তন্তু, রং, আকার ও ময়লা অনুযায়ী বস্ত্র বাছাই করতে হবে।
ধৌত করার পূর্বে পোশাকের বা বস্ত্রের প্রয়োজনীয় মেরামত করে নিতে হয়। তা না হলে ধৌত করার সময় আরও বেশি ছিঁড়ে যেতে পারে। এই ছেঁড়া বড় হলে পোশাক পরার অযোগ্য হযে পড়ে
পোশাকের কোনো স্থানে খোঁচা লেগে ছিঁড়ে গেলে বা ফেঁসে গেলে ছেঁড়া স্থান সুতা দিয়ে সূক্ষ্ম ও নিপুণভাবে সুচের সাহায্যে ভরে দেওয়াকে রিফু বলা হয়। এজন্য বস্ত্রের সুতা অনুযায়ী সুচ ও সুতার প্রয়োজন। তাছাড়া রিফু করার সুতা ও কাপড়ের রং এক হতে হয়।
রিফু করার সময় ছেঁড়া অংশের চারদিকে প্রথমে পেনসিলের দাগ দিয়ে নিতে হয়। দাগের উপর দিয়ে ছোট করে রান ফোঁড় দিয়ে সেলাই করলে কাপড়ের সুতা খুলে আসবে না। এরপর এক একটি সুতার ভিতর দিয়ে সুচ দিয়ে সুতার অংশ পরিপূণ করতে হয়। ছেঁড়া অংশের সম্পূর্ণটা টানা সুতায় ভরে তুলে সুতার উপর ও নিচ দিয়ে সেলাই করে পূরণ করতে হয়।
বস্ত্র ও পোশাকের কোনো অংশ ছিঁড়ে গেলে এক পরতা কাপড়ের উপর আরেক পরতা কাপড় রেখে সেলাই করে আটকানোকেই তালি দেওয়া বলা হয়। পোশাক-পরিচ্ছদের কোনো অংশ ছিদ্র হলে, পুড়ে গেলে বা পোকায় কাটলে তালি দেওয়ার প্রয়োজন হয়।
তালি দুই প্রকারের হয়ে থাকে। যথা- ১. সাধারণ তালি ও ২. নকশা তালি।
নানা কারণে জামাকাপড়ে দাগ লাগে এবং ব্যবহারের অনুপযোগী হয়। দেখতেও খারাপ লাগে। তাই সম্পূর্ণ কাপড়টি ধোয়ার আগে দাগযুক্ত স্থানটির দাগের উৎস, তন্তুর প্রকৃতি জানতে হবে। কেননা রং অন্যান্য পরিষ্কারক দ্রব্যের সংস্পর্শে এসে দাগটি স্থায়ীভাবে বসে যেতে পারে।
বেশি ময়লা কাপড় (মশারি, পর্দা, টেবিল ক্লথ ইত্যাদি) সাবান পানিতে দেওয়ার আগে ঠান্ডা বা ঈষদুষ্ণ পানিতে আধঘণ্টা বা একঘণ্টা ভিজিয়ে রাখলে কাপড়ের ময়লা আলগা হয়। এরপর সাবান পানি দিয়ে ধুলে কাপড় ভালো পরিষ্কার হয় এবং সাবানও কম খরচ হয়
কাপড়ের ময়লা পরিষ্কার করার পর বড় বালতি বা গামলায় বেশি করে পানি নিয়ে কাপড় বারবার ধুয়ে ময়লা ও সাবান ছাড়াতে হয়। ময়লা ও সাবান ছাড়ানোর জন্য বারবার পানি বদলানোর প্রক্রিয়াকেই প্রক্ষালন বলা হয়।
সাধারণত সুতি ও লিনেনের কাপড়ে মাড় দেওয়ার প্রয়োজন হয়। কতটা ঘন মাড় দেওয়া হবে তা নির্ভর করে কাপড়ের প্রকৃতির ওপর। মোটা কাপড়ে পাতলা মাড় দেওয়া হয়।
রেশমি বস্ত্র বেশি উত্তাপ, ক্ষার ও ঘর্ষণ সহ্য করতে পারে না। ঘাম, ময়লাযুক্ত রেশমি বস্ত্র দ্রুত ধোয়া উচিত। কারণ ঘামের এসিড রেশমকে দুর্বল করে।
ধোয়ার সময় সাদা ও রঙিন রেশমি বস্ত্র আলাদা করে নিতে হয়। রঙিন রেশমি বস্ত্র ভিজিয়ে রাখলে রং ওঠে এবং সাদা রেশমি বস্ত্রের সাথে একত্রে ধুলে সাদা বস্ত্রে রং লেগে যেতে পারে। তাই সাদা ও রঙিন বস্ত্র আলাদা ধোয়া উচিত।
রেশমি বস্ত্র কিছুটা আর্দ্র অবস্থায় ইস্ত্রি করতে হয়। সুতা কাপড়ের মতো রেশমি বস্ত্রে পানি ছিটানো বা স্প্রে করতে হয় না।। এতে কাপড়ে পানির ফোঁটার দাগ বসে যায়। রেশমি কাপড় উল্টা পিঠে মৃদু তাপে ইস্ত্রি করলে উজ্জ্বলতা ঠিক থাকে। ইস্ত্রি শেষে কাপড়ের জলীয় বাষ্প শুকিয়ে গেলে যথাস্থানে সংরক্ষণ করতে হয়।
পশমের সাদা কাপড় তিন-চারবার ঈষদুষ্ণ পানি দিয়ে ভালোভাবে ধোয়া উচিত। পশমের সাদা জামাকাপড় শেষবার পানি দিয়ে ধোয়ার সময় পানির মধ্যে কয়েক ফোঁটা সাইট্রিক এসিড বা লেবুর রস মিশিয়ে নিলে কাপড়ের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি পায়।
রঙিন পশমি কাপড় ধোয়ার সময় পানিতে ভিনিগার মিশিয়ে নিলে কাপড়ের রং 'ভালো থাকে। ধোয়ার পর একটি মোটা বড় পরিষ্কার তোয়ালের মধ্যে ভেজা কাপড়টিকে জড়িয়ে দুই হাতে চেপে চেপে পানি বের করতে হয়। কাপড় কখনোই মুচড়িয়ে নিংড়াতে হয় না। এতে কাপড়ের ক্ষতি হয়।
পশমি বস্ত্র মৃদু সূর্যকিরণ অথবা আলো-বাতাসপূর্ণ ছায়াযুক্ত স্থানে শুকাতে হয়। মেশিনে তৈরি পশমি বস্ত্র সমতল স্থানে পাটি, মাদুর, কাঁথা প্রভৃতি মেলে তার ওপর ভেজা কাপড়গুলো বিছিয়ে শুকাতে হয়। মাঝে মাঝে কাপড়গুলো এপিঠ-ওপিঠ করে নেড়ে দিলে তাড়াতাড়ি শুকায়।
পশমি বস্ত্র কিছুটা আর্দ্র অবস্থায় উল্টা দিক দিয়ে মৃদু তাপে এবং হালকা চাপে ইস্ত্রি করতে হয়। ইস্ত্রি করার সময় একটা পাতলা ভেজা কাপড় উপরে বিছিয়ে নিয়ে তার উপর ইস্ত্রি চালাতে হয়। এতে তন্তুর ক্ষতি হয় না এবং উজ্জ্বলতা বজায় থাকে। কাপড় ইস্ত্রি করার পর কিছুক্ষণ বাতাসে রেখে উত্তমরূপ জলীয় বাষ্প দূর করে নিতে হয়।
পানি ব্যবহার না করে বিশেষ ধরনের কিছু রাসায়নিক পরিষ্কারক দ্রব্য ব্যবহার করে কাপড় পরিষ্কার করাকেই শুষ্ক ধৌতকরণ বলা হয়। এই পদ্ধতিতে কাপড় ধোয়া হলে কাপড়ের আকার, আকৃতি ও উজ্জ্বলতা বজায় থাকে।
শুষ্ক ধোলাইয়ের জন্য অনেক প্রকার রাসায়নিক দ্রাবক ব্যবহৃত হয়। এসব তরল পদার্থ সম্পূর্ণ পানিশূন্য থাকে। আর তাতে কিছুটা পানি থাকলেও তা তুলা বা কোনো প্রকার শোষক দিয়ে পানিশূন্য করা হয়। কেননা, এ জাতীয় তরলে পানি থাকলে তা দিয়ে কাপড়ের ময়লা পরিষ্কার করা যায় না।
শুষ্ক ধৌতিতে ব্যবহৃত পরিষ্কারক দ্রব্যাদি বা তরল পদার্থের মধ্যে পেট্রোলিয়াম ইথার, টারপেনটাইন কার্বন টেট্রাক্লোরাইড, বেনজল, বেনজিন ও পেট্রোল উল্লেখযোগ্য। এসব পরিষ্কারক দ্রব্যের মধ্যে পেট্রোলই বেশি ব্যবহৃত হয়। কারণ পেট্রোল অপেক্ষাকৃত সম্ভা ও সহজলভ্য।
সংরক্ষণ, বলতে সঠিক নিয়মে রেখে দেওয়াকে বোঝায়। এখানে ব্যবহৃত বস্ত্রাদি ধোয়া ও ইস্ত্রি করার পর যথাযথ স্থানে স্বল্পমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি সময়ের জন্য রেখে দেওয়ার কথা বোঝানো হয়েছে।
কাপড় সংরক্ষণে লক্ষণীয় অন্যতম দুটি বিষয় হলো-
১. দামি কাপড়, সাধারণ কাপড় ভাগ ভাগ করে রাখলে সুবিধা হয়।
২. বড় কাপড়, ছোট ছোট কাপড় ভাগে ভাগে সংরক্ষণ করা হলে প্রয়োজনের সময় সহজে খুঁজে পাওয়া যায়।
পশমের সবচেয়ে বড় শত্রু মথ। ময়লা পশমি কাপড়ে এদের আরও বেশি উপদ্রব হয়। মথ পোকার হাত থেকে রক্ষা করতে হলে কাপড় সংরক্ষণের আগেই সঠিক নিয়মে ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে।
ইস্ত্রি করা রেশমি বস্ত্রের জলীয়বাষ্প উত্তমরূপে দূরীভূত করতে হবে। তা না হলে ফাঙ্গাস সৃষ্টি হয়ে বস্ত্রের তত্ত্ব দুর্বল হয়ে যায় এবং ব্যবহারের সময় ফেঁসে যায়
কোনো ব্যক্তির সাজসজ্জার পারিপাট্য বলতে ব্যক্তির দেহের সাথে মানানসই পোশাক-পরিচ্ছদ ও আনুষঙ্গিক প্রসাধন কার্যের মিলিত অবস্থাকে বোঝায়। শারীরিক সৌন্দর্য তখনই উদ্ভাসিত হয়, যখন শরীর সুস্থ থাকে। সুস্থ দেহে সুস্থ মনে থাকে। সুস্থ মনই শৈল্পিকভাবে পারিপাটি থাকতে তাগিদ সৃষ্টি করে।
পারিপাট্য বজায় রাখার জন্য করণীয় দুটি বিষয় হলো-
১. পারিপাট্যের জন্য পোশাক-পরিচ্ছদের নিয়মিত যত্ন তথা ধোয়া, ইস্ত্রি ও মেরামত প্রয়োজন।
২. সময়োপযোগী পোশাক নির্বাচন ও পরিধান করা পারিপাট্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
সুস্বাস্থ্য গঠনের জন্য প্রয়োজন দেহের পরিচ্ছন্নতা ও যত্ন। বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নিয়ে মানবদেহে গঠিত। যেমন- হাত, পা, দাঁত, চোখ, নখ, কান, নাক, গলা, চুল, ত্বক ইত্যাদি। এই অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোর পরিচ্ছন্নতার সার্বিক রূপই হলো দৈহিক পরিচ্ছন্নতা।
অঙ্গপ্রত্যঙ্গের যত্নের মাধ্যমে দাঁত, ত্বক, চুল তথা সমগ্র দেহাবয়ব মোহনীয় হয়ে উঠলে মানসিক জড়তা দূর হয়ে ব্যক্তিত্বের দৃঢ়তা ফুটে ওঠে। নিজেকে ব্যক্তিত্বসম্পন্নভাবে সবার সামনে প্রকাশ করতে কোনো সংকোচ থাকে না।
হাতের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য যেসব বিষয় লক্ষ রাখা প্রয়োজন সেগুলো হলো- কোনো কাজ করার পর হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। হাতে বিভিন্ন তরকারির কষের দাগ কিংবা রান্নার মসলার দাগ লাগলে লেবু দিয়ে ঘষলে হাত দাগমুক্ত হয়ে যায়। হাতের নখ কেটে ছোট করতে হবে।
দাঁতের যত্নে লক্ষণীয় বিষয়গুলো হলো- প্রতিদিন মানসম্মত পেস্ট বা দাঁতের মাজন ব্যবহার করতে হবে। খাওয়ার পর দাঁত পরিষ্কার করে নিতে হবে। দাঁত মাজার জন্য ছাই, কয়লা পোড়ামাটি স্বাস্থ্যসম্মত নয়।
প্রতিদিন ভোরে চোখ পরিষ্কার করে ঠান্ডা পানির ঝাপটা দিতে হবে। কাজের প্রকৃতি অনুযায়ী পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। চোখের সুস্থতার জন্য ভিটামিন 'এ' সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করতে হয় প্রভৃতি।
পোশাকের পরিচ্ছন্নতা সাথে দেহের সুস্থতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কারণ পোশাক মানুষের দেহের সাথে সংলগ্ন থাকে এবং দেহের পরিচ্ছন্নতাকে সংরক্ষণ করে। অপরিচ্ছন্ন পোশাক দৈহিক পরিচ্ছন্নতাকে বাধাপ্রাপ্ত করে। এই অপরিচ্ছন্ন পোশাক পারিপাট্যেৱ অন্তরায়। এ জন্য দৈহিক পরিচ্ছন্নতাকে নিশ্চিত করার জন্য পোশাক-পরিচ্ছদের পরিচ্ছন্নতা অপরিহার্য।
ব্যক্তিত্ব শব্দটির মনোবৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ হলো 'সামাজিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য বিধানের জন্য ব্যক্তির গঠন, আচরণের ধরন, আগ্রহ, ভাবভঙ্গি, সামর্থ্য এবং প্রবণতার সংহতি এবং ঐক্য।' অর্থাৎ ব্যক্তিত্ব দেহ ও মনের জীবন্ত ঐক্য বিশেষ।
দেহের ত্বক, চুল, চোখের রঙের সাথে মানানসই পোশাকের রং নির্বাচন করে দেহের ক্ষীণতা ও স্থূলতা ঢাকা যায়। নীল, সবুজ, নীলাভ সবুজ ইত্যাদি স্নিগ্ধ রঙের পোশাকগুলো স্থূল দেহের ব্যক্তিদের আপাতভাবে হালকা দেখায়।
পরিবেশ অনুযায়ী সঠিক পোশাক না হলে মনে অস্বস্থি সৃষ্টি হয় এবং জড়তা তৈরি হয়। ফলে শরীর, মন আড়ষ্ট হয়ে ব্যক্তিত্বের বহিঃপ্রকাশে বাধা সৃষ্টি হয়। নিজেকে আড়াল করার প্রবণতা দেখা যায়।
কম নকশাযুক্ত ছোট ছোট ছাপা এবং হালকা জমিনের বস্ত্রের তৈরি পোশাক খর্বকায় ও স্থূল দেহাকৃতির ব্যক্তিদের জন্য উপযোগী।
পুরোনো বস্ত্র, শাড়ি, বিছানার চাদর, পর্দা ইত্যাদির রং চটে গেলে, সামান্য ছিঁড়ে গেলে ফেলে রাখা হয়। পুরোনো কাপড়ের সাহায্যে গ্রামের মেয়েরা সুন্দর করে নকশি কাঁথা বানায়। পুরোনো কাপড়ের কাঁথায় নানা ধরনের লতাপাতা, দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়। এভাবে তৈরি হয় নকশি কাঁথা।
পুরানো চাদর দিয়ে পা মোছার পাপোশ তৈরি করা যায়। প্রথমে চাদরের একমাথায় গিট দিয়ে নিতে হবে। এবার চারদিকে লম্বালম্বিভাবে তিন ভাগে ভাগ করে নিতে হবে। তারপর চাদরটিকে কোথাও ঝুলিয়ে নিয়ে লম্বালম্বি করে শক্তভাবে বেণি করে নিতে হবে। এখন কাপড়ের বেণিটাকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে একটার সাথে অন্যটা সূচ সুতা দিয়ে আটকিয়ে ফেলতে হবে।
বাড়িতে কাপড় সেলাইয়ের কাজ করার পর বিভিন্ন টুকরা কাপড় অপ্রয়োজনীয় অংশ হিসেবে বের হয়। বড় টুকরাগুলোকে একত্র করে একই মাপ ও একই আকৃতিতে কেটে সব কাপড় পরপর মেশিনে জোড়া লাগিয়ে চারপাশে কাপড়ের পাড় বা অন্য কাপড়ের বর্ডার দিয়ে বেড কভার, টেবিল কভার ইত্যাদি তৈরি করা যায়।
Related Question
View Allকরেশম বস্ত্রের কাঠিন্য ঠিক করতে গঁদ অথবা এরারুটের তৈরি মাড় ব্যবহার করা হয়।
পোশাককে পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করে তোলার জন্য রিফু করা হয়।
পোশাকের কোনো স্থানে খোঁচা লেগে ছিঁড়ে বা ফেঁসে গেলে, ছেঁড়া স্থানে পড়েন সুতা সূক্ষ্ম ও নিপুনভাবে সুঁচের সাহায্যে ভরে দেওয়াকে রিফু বলে। রিফু করে ছেঁড়া বা ফেঁসে যাওয়া পোশাকটি পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করে তোলা যায়।
নাইলন ও পলিয়েস্টার কৃত্রিম তন্তু বলে নষ্ট হয়নি। যেসব তত্ত্ব প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট নয়, মানুষ বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্যাদির সংমিশ্রণ ঘটিয়ে তৈরি করেছে সেগুলোকে কৃত্রিম তন্তু বলে। যেমন- নাইলন, পলিয়েস্টার ইত্যাদি।
রূপা কাপড় ধোয়ার সময় কমলা রঙের রেশমি কাপড়ের সাথে সাদা রঙের ব্লাউজ এবং পলিয়েস্টার, নাইলনের কিছু কাপড় একসাথে ধৌত করেন। ধোয়ার পর তিনি দেখলেন সাদা ব্লাউজটি সংকুচিত হয়ে গেছে। আবার কমলা রঙের রেশমি কাপড়ের রং উঠে গেছে। কিন্তু নাইলন, পলিয়েস্টারের কাপড়গুলো নষ্ট হয়নি। কারণ এগুলো কৃত্রিম তন্তুর কাপড়। এসব সিনথেটিক তন্তুর বস্ত্রাদি পানিতে ভিজিয়ে রাখলে সহজে নষ্ট হয় না এবং রংও উঠে না। রেশমি, পশমি বা সুতির কাপড় ধোয়ার সময় যেমন সাবধানতা বা নিয়ম মেনে পরিষ্কার করতে হয়, নাইলন ও পলিয়েস্টার কাপড় ধোয়ার জন্য তেমন প্রয়োজন হয় না। এই সমস্ত বস্ত্রাদি বেশি ময়লা হলে ইষদুষ্ণ সাবান পানিতে ভিজিয়ে রাখলে সহজে পরিষ্কার করা যায়।
সুতরাং, নাইলন ও পলিয়েস্টার কাপড়ের রং সহজে উঠে না এবং ইষদুষ্ণ পানিতে কুঞ্চন হয় না বিধায় রূপার কাপড়গুলো নষ্ট হয়নি।
রূপার রঙিন রেশমি বস্তুটি যথাযথ নিয়মে ধোয়াটাই যুক্তিযুক্ত ছিল- আমি এর সাথে একমত।
রেশমি কাপড় দুই ভাবে ধোয়া যায়; পানি দিয়ে এবং শুষ্ক পদ্ধতিতে যে পদ্ধতিতেই রেশমি কাপড় ধোয়া হোক না কেন তা যথাযথ বা উপযুক্ত নিয়মে করা উচিত। তাহলে কাপড়ের কোনো ক্ষতি হয় না।
রেশমি কাপড় বেশ দামি। এ কাপড়ে রং লেগে বা উঠে নষ্ট হয়ে গেলে তা পরার অযোগ্য হয়ে পড়ে। তাই রেশমি বস্ত্র ধোয়ার আগেই তার ময়লার ধরন, রং, আকার-আকৃতি ও আয়তন বিবেচনা করে ধোয়া উচিত। ধোয়ার সময় সাদা ও রঙিন রেশমি বস্ত্র আলাদা করে নিতে হয়। রূপা তার রেশমি বস্তুটি আলাদা করে মৃদু গরম পানি এবং কম ক্ষারযুক্ত সাবান দিয়ে ধুতে পারতেন। যেহেতু তার রেশমি বস্তুটি থেকে রং উঠেছে, তাই ময়লা ও সাবান দূর করার পর ঠান্ডা পানিতে প্রতি গ্যালনে বড় এক চামচ লবণ ও সমপরিমাণ ভিনেগার মিশিয়ে নিতে পারতেন। এতে রেশমি বস্ত্রটির উজ্জ্বলতা বজায় থাকত।
অর্থাৎ, উপরিউক্ত নিয়মে রূপা তার রেশমি কাপড়টি ধৌত করলে তা ভালো থাকত।
আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অন্যতম শর্ত হচ্ছে সুস্বাস্থ্য।
পোশাকের পরিচ্ছন্নতার সাথে দেহের সুস্থতা ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
পোশাক মানুষের দেহের সাথে সংলগ্ন থাকে এবং পরিচ্ছন্নতাকে সংরক্ষণ করে। অপরিচ্ছন্ন পোশাক দৈহিক পরিচ্ছন্নতাকে বাধাগ্রস্ত করে। তাই দেহের পরিচ্ছন্নতার জন্য পোশাক-পরিচ্ছদের পরিচ্ছন্নতা প্রয়োজন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!