বাংলার চারদিক জুড়ে জালের মতো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল অসংখ্য নদীনালা। এসব নদীনালা দিয়ে দেশের আনাচে-কানাচে পণ্য আনা-নেওয়া করা যেত। নদীপথে বিশেষ সুবিধার কারণে বিদেশের সাথে বাংলার বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। মূলত নদীপথে চলাচল ও মালামাল বহন সহজ ছিল বলে প্রাচীন বাংলায় অনেকেই বাণিজ্য করতে এসেছিল
প্রাচীনকাল থেকে বাংলা অঞ্চল ছিল ধনসম্পদে পূর্ণ একটি দেশ। এ অঞ্চলের স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রামে মানুষের জীবনযাপনের জন্য যা কিছু প্রয়োজন সবই তখন পাওয়া যেত। এই স্বয়ংসম্পূর্ণ গ্রামের কৃষকের 'ক্ষেতভরা ফসল, গোলাভরা ধান, পুকুরভরা মাছ থাকত। কুটির শিল্পেও গ্রাম ছিল সমৃদ্ধ।
সাত শতক থেকে ইউরোপীয়রা বাণিজ্য করত মূলত, সমুদ্রপথে। ১৪৫৩ সালে কনস্টান্টিনোপল অটোমান তুর্কিরা দখল করে নেয়। ফলে উপমহাদেশের সাথে জলপথে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়। মূলত এ কারণেই ইউরোপীয়রা ভারতে আসার জলপথ আবিষ্কার করে
পর্তুগিজদের মধ্যে যে দুঃসাহসী নাবিক প্রথম সমুদ্রপথে এদেশে আসেন, তার নাম ভাস্কো-ডা-গামা। তিনি ১৪৯৮ সালের ২৭শে মে ভারতের পশ্চিম-উপকূলের কালিকট বন্দরে এসে উপস্থিত হন। তার আগমনের মধ্য দিয়ে ভারতে ইউরোপীয়দের আগমনের পথ খুলে য়ায়।
পর্তুগিজরা ব্যবসায় বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে আসলেও সাম্রাজ্য বিস্তারের চেষ্টা করে। স্বল্প সময়ের মধ্যে তারা উপমহাদেশের পশ্চিম উপকূলের কালিকট, চৌল, বোম্বাই, সালসেটি, বেসিন, কোচিন, গোয়া, দমন, দিউ প্রভৃতি বন্দরে কুঠি স্থাপন করতে সক্ষম হয়।
পর্তুগিজরা বাংলায় এসেছিল ব্যবসায় বাণিজ্য করার জন্য। 'কিন্তু তাদের বিভিন্ন অপকর্ম ও দস্যুতার কারণে বাংলার সুবাদার শায়েস্তা খান ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাই তিনি পর্তুগিজদের চট্টগ্রাম ও সন্দ্বীপের ঘাঁটি দখল করে বাংলা থেকে বিতাড়ন করেন।
হল্যান্ডের অধিবাসীরা ওলন্দাজ বা ডাচ নামে পরিচিত। তারা 'ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠন করে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ১৬০২ সালে এই উপমহাদেশে আসে। ভারতবর্ষে তারা কোম্পানির সনদ অনুযায়ী কালিকট, নাগাপট্টাম, বাংলার চুঁচুড়া ও বাঁকুড়ায় বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
ওলন্দাজ ও অপর ইউরোপীয় শক্তি ইংরেজদের মধ্যে ব্যবসায় বাণিজ্য নিয়ে বিরোধ শুরু হয় এবং একই সঙ্গে তারা শাসকদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে। ১৭৫৯ সালে সংঘটিত বিদারার যুদ্ধে তারা ইংরেজদের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়। ১৮০৫ সালে তারা সকল বাণিজ্য কেন্দ্র গুটিয়ে ভারতবর্ষ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।
দিনেমার হলো ডেনমার্কের অধিবাসী। বাণিজ্য করার উদ্দেশ্যে একদল দিনেমার বণিক ডেনিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠন করেন। ১৬২০ সালে তারা দক্ষিণ ভারতের তাঞ্জোর জেলায় ত্রিবাঙ্কুর এবং ১৬৭৬ সালে বাংলার শ্রীরামপুরে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
দিনেমার বা ডেনমার্কের অধিবাসী একদল বণিক বাণিজ্য করার উদ্দেশ্য 'ডেনিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠন করেন। ১৬২০ সালে তারা দক্ষিণ ভারতের তাজোর জেলায় ত্রিবাঙ্কুর এবং ১৬৭৬ সালে বাংলার শ্রীরামপুরে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
দিনেমাররা, ১৬২০ সালে দক্ষিণ ভারতের তাঞ্জোর জেলায় ত্রিবাঙ্কুর এবং ১৬৭৬ সালে বাংলার শ্রীরামপুরে বাণিজ কুঠি স্থাপন করে। কিন্তু এদেশে তারা লাভজনক ব্যবসা করতে ব্যর্থ হয়। ১৮৪৫ সালে ইংরেজদের কাছে বাণিজ্য কুঠি বিক্রি করে কোনো রকম বাণিজ্যিক সাফল্য ছাড়াই দিনেমাররা এদেশ ত্যাগ করে।
সমুদ্রপথে ইউরোপীয় বণিকদের সাফল্য প্রাচ্যের ধনসম্পদের প্রাচুর্য, ইংরেজ বণিকদেরকেও বাংলায় ব্যবসায় বাণিজ্যে উৎসাহিত করে। তাই তারা ব্যবসায়িক সাফল্য অর্জন করার জন্য অন্যান্য কোম্পানির মতো উপমহাদেশে আগমন করে।
ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ১৬১২ সালে সুরাটে প্রথম বাণিজ্য, কুঠি স্থাপন করে। তারপর তারা আগ্রা, আহমেদাবাদে কুঠি স্থাপন করে। কোম্পানি দ্বিতীয় বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে মসলিপট্টমে। এরপর বাংলার বালাসোরে আরেকটি বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে। তারা হুগলি, কাশিমবাজার, ঢাকা, মালদহেও কুঠি স্থাপন করে।
১৬৯০ সালে জব চার্নক নামে একজন ইংরেজ ১২০০ টাকার বিনিময়ে কোলকাতা, সুতানটির ও গোবিন্দপুর নামে তিনটি গ্রামের জমিদারি স্বত্ব লাভ করেন। ভাগীরথী নদীর তীরে অবস্থিত এ তিনটি গ্রামকে কেন্দ্র করে কোলকাতা নগরীর জন্ম হয়।
সম্রাট ফাররুখ শিয়ার ইংরেজ কোম্পানিকে বাংলা, বোম্বাই ও মাদ্রাজে বিনা শুল্কে বাণিজ্যের অধিকার প্রদান করেন। ফলে ইংরেজ কোম্পানির ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পায়। এর উপর ভিত্তি করে কোম্পানি তাদের প্রতিনিধিদের দস্তক প্রদান করত। সম্রাটের এই ফরমানকে কোম্পানির মহাসনদ বা ম্যাগনা কার্টা বলে উল্লেখ করা হয়।
দস্তক হলো এমন একটি প্রথা যার মধ্যে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলায় বিনা শুল্কে বাণিজ্যে করার অধিকার লাভ করে। এ দস্তকটি দেখানো হলে সরকারের কেউ তাদের কাছ থেকে কোনো শুল্ক নিত না। ফলে তারা বিনা শুল্কে বাংলায় ব্যবসায় করার অধিকার লাভ করে।
ভারতীয় উপমহাদেশে সর্বশেষে আগত ইউরোপীয় বণিকদের কোম্পানি হচ্ছে ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। ১৬৬৪ সালে এই বাণিজ্যিক কোম্পানি গঠিত হয়। তারা অন্যান্য ইউরোপীয় কোম্পানির মতো বাণিজ্য করার জন্য ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠন করে।
১৬৬৮ সালে ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি সর্বপ্রথম সুরাট এবং পরের বছর মসলিপট্টমে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে। ১৬৭৩ সালে পন্ডিচেরিতে ফরাসি উপনিবেশ গড়ে ওঠে। তারা চন্দননগরে একটি শক্তিশালী সুরক্ষিত ফরাসি বাণিজ্য কুঠি গড়ে তুলতে সক্ষম হয়।
ফরাসি রণিকরা যখন এদেশে আসে তখন ইংরেজরা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে দৃঢ় অবস্থানে ছিল। ফলে তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা ফরাসিদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তাছাড়া তারা অন্যান্য ইউরোপীয় শক্তির মতো এদেশে সাম্রাজ্য স্থাপনের স্বপ্ন দেখতে থাকে। এ কারণে ইংরেজ ও ফরাসিদের মধ্যে সংঘর্ষ অনিবার্য হয়ে ওঠে।
ইংরেজদের ষড়যন্ত্র, কূটকৌশল, উন্নত রণকৌশলের কাছে ফরাসিরা পরাজিত হয়। পলাশির যুদ্ধে ফরাসিরা বাংলার নবাবকে সমর্থন দিলেও নবাব পরাজিত হলে তাদের কুঠিগুলো ইংরেজদের দখলে চলে যায়। তাছাড়া দাক্ষিণাত্যের কর্ণাটকের যুদ্ধসমূহে ফরাসি কোম্পানি পরাজিত হলে তারা এদেশ থেকে বিদায় নেয়।
নবাব আলিবর্দী খান মৃত্যুর আগে তার কনিষ্ঠ কন্যা আমেনা বেগমের পুত্র সিরাজউদ্দৌলাকে বাংলার সিংহাসনের উত্তরাধিকার মনোনীত করে যান। ১৭৫৬ সালে আলীবর্দি খানের মৃত্যু হলে তার প্রিয় দৌহিত্র সিরাজউদ্দৌলা মাত্র ২২ বছর বয়সে বাংলার নবাবের ক্ষমতা গ্রহণ করেন।
আলিবর্দী খানের পর আমেনা বেগমের পুত্র সিরাজউদ্দৌলা ও ঘষেটি বেগমের পুত্র শওকত জঙ্গ বাংলার নবাবি পদের উত্তরাধিকার দাবিদার ছিলেন। কিন্তু সিরাজউদ্দৌলা সিংহাসনে বসলে খালা ঘষেটি বেগম তা স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারেননি। এ কারণে তিনি সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হন।
নবাবের বিরুদ্ধে তার খালা ঘসেটি বেগম প্রথম ষড়যন্ত্রের লিপ্ত হন। এদের সঙ্গে যোগ দেন ঘসেটি বেগমের দেওয়ান রাজা রাজবল্লভ, পূর্ণিয়ার শাসনকর্তা সিরাজের খালাতো ভাই শওকত জঙ্গ, উর্মিচাদ, জগৎশেঠ, রায়দুর্লভ আর ষড়যন্ত্রের মূলে ছিলেন রবার্ট ক্লাইভ।
আলীনগর সন্ধিতে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার পর ক্লাইভের উচ্চাকাঙ্ক্ষা আরও বৃদ্ধি পায়। নবাবের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে ইংরেজরা ফরাসিদের চন্দনগর কুঠি দখল করে নেয়। নবাব এ অবস্থায় ফরাসিদের সঙ্গে মৈত্রী স্থাপন করে ইংরেজদের শায়েস্তা করার ব্যবস্থা নিলে ক্লাইভ নবাবকে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্রে যোগ দেয়।
নবাবের পদ না পেয়ে সিরাজউদ্দৌলার খালাত ভাই শওকত জঙ্গ তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে। নবাব সিরাজউদ্দৌলা ঘষেটি বেগমকে নজরবন্দি করেন। পূর্ণিয়ার শাসনকর্তা শওকত জঙ্গ বিদ্রেহী হয়ে উঠলে নবাব তাকে এক যুদ্ধে পরাজিত ও নিহত করে পূর্ণিয়া দখল করেন।
ইংরেজ কোম্পানি দম্ভকের অপব্যবহার করলে দেশীয় বণিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকেন। নবাব বাংলার ব্যবসায়ীদের বাঁচাতে দস্তকের অপব্যবহার করতে নিষেধ করেন এবং বাণিজ্যিক শর্ত মেনে চলার আদেশ দেন। কোম্পানি নবাবের সে আদেশও অগ্রাহ্য করে।
অন্ধকূপ হত্যা' হচ্ছে নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে হেয় করতে হলওয়েল কর্তৃক প্রচারিত একটি মিথ্যা প্রচারণা। এতে বলা হয় ১৮ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৪.১০ ফুট প্রস্থ একটি ছোট ঘরে ১৪৬ জন ইংরেজকে বন্দি করে রাখা হয়। যার ফলে প্রচন্ড গরমে শ্বাসরুদ্ধ হয় ১২৩ জন ইংরেজ সেনার মৃত্যু হয়।
ইংরেজদের একের পর এক ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে নবাব কোলকাতা দখল করেন। পরবর্তীতে ইংরেজরা নবাবের সেনাপতি মানিকচাঁদকে পরাজিত করে কোলকাতা পুনরায় দখল করে নেয়। . নবাব তার চারদিকে ষড়যন্ত্র ও শত্রু পরিবেষ্টিত হয়ে ইংরেজদের সঙ্গে নতজানু ও অপমানজনক সন্ধি করতে বাধ্য হন। এ. সন্ধি ইতিহাসে আলীনগর সন্ধি নামে খ্যাত।
১৭৫৭ সালে সংঘটিত পলাশির যুদ্ধে নবাবের পক্ষে দেশপ্রেমিক মীর মদন, মোহন লাল এবং ফরাসি সেনাপতি সিন ফ্রে প্রাণপণ যুদ্ধ করেন। যুদ্ধে মীর মদন নিহত হন। নবাব নিজ সেনাপতি মীর জাফরের ষড়যন্ত্রের যুদ্ধ বিজয়ী হতে পারেননি।
পলাশির যুদ্ধে নবাবের সেনাপতি মীর জাফর যুদ্ধক্ষেত্রে সম্পূর্ণ অসহযোগিতা করে নীরব দর্শকের ভূমিকায় ছিল। নবাব কোরআন স্পর্শ করিয়ে শপথ নেয়ালেও মীর জাফরের ষড়যন্ত্র থামেনি। নবাবের সৈন্যরা যখন বিশ্রাম নিচ্ছে, সেই সময় মীর জাফরের ইঙ্গিতে ইংরেজ সৈন্যরা তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। যার অনিবার্য পরিণতি ছিল নবাবের পরাজয়।
পলাশি' যুদ্ধের নবাবের পতনের দুটি কারণ হলো-১. নবাবের সেনাপতি মীর জাফর ও তার সহযোগীদের যুদ্ধক্ষেত্রে অসহযোগিতা ও বিশ্বাসঘাতকতা; ২. নবাবের সেনাপতি থেকে সভাসদ অধিকাংশই দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে, ব্যক্তিস্বার্থকে বড় করে দেখা।
পলাশি যুদ্ধের দুটি ফলাফল হলো- ১. পলাশি যুদ্ধের ফলে ইংরেজরা বাংলায় একচেটিয়া ব্যবসা-বাণিজ্য করার অধিকার লাভ করে এবং ফরাসিরা এদেশ থেকে বিদায় নিতে বাধ্য হয়; ২. পলাশি যুদ্ধের সুদূরপ্রসারী ফলাফল ছিল উপমহাদেশে কোম্পানি শাসন প্রতিষ্ঠা এবং এভাবেই এ যুদ্ধের ফলে বাংলা তথা ভারতের স্বাধীনতা অস্তমিত হয়।
নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে হঠিয়ে ইংরেজরা মীর জাফরকে যে আশায় সিংহাসনে বসায় তা পূর্ণ হয়নি। মীর জাফর কোম্পানির প্রাপ্য অর্থ দিতে ব্যর্থ হয়। ফলে অযোগ্যতা, অতিরিক্ত অর্থ প্রদানে অক্ষমতা ও ওলন্দাজদের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগে ইংরেজরা মীর জাফরকে ক্ষমতাচ্যুত করে।
ইংরেজরা মীরজাফরকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে মীর কাশিমকে সিংহাসনে বসায়। মীর কাশিম ছিলেন সুদক্ষ শাসক এবং স্বাধীনচেতা। তিনি ক্ষমতা গ্রহণ করে স্বাধীনভাবে শাসন করতে চাইলে ইংরেজরা ক্ষুব্ধ হয়। এ কারণে মীর কাশিমের সাথে ইংরেজদের যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে।
মীর কাশিম তার ক্ষমতা ফিরে পেতে ইংরেজদের মোকাবেলার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে থাকেন। এ সময় তিনি অযোধ্যার নবাব। সুজাউদ্দৌলা এবং মুঘল সম্রাট শাহ আলমের সঙ্গে মৈত্রীজোট গঠন করতে সক্ষম হন। অতঃপর ১৭৬৪ সালে বিহারের বক্সার নামক স্থানে ইংরেজদের বিরুদ্ধে শক্তি পরীক্ষায় অবতীর্ণ হন।
বক্সারের যুদ্ধর দুটি কারণ হলো- ১. মীর কাশিম প্রথমে ইংরেজদের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে প্রশাসনকে মুক্ত রাখার জন্য রাজধানী মুঙ্গেরে স্থানান্তর করেন এবং দূর্গ ও পরিখা খনন করে একে নিরাপদ করেন ২. অন্যের ওপর নির্ভরতা কমাতে রাজধানীতে কামান, বন্দুক ইত্যাদি তৈরির ব্যবস্থা করেন।
বক্সারের যুদ্ধর 'দুটি ফলাফল হলো- ১. এ যুদ্ধের ফলে মীর কাশিমের স্বাধীনতা রক্ষার শেষ চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং ইংরেজদের প্রতিপত্তি ও মর্যাদা বৃদ্ধি পায়। ২. ইংরেজরা নবাবের কাছ থেকে কারা - ও এলাহাবাদ হস্তগত করতে সক্ষম হয়।
দেওয়ানি হলো মুঘল সম্রাটের কাছ থেকে প্রাপ্ত বাংলার রাজস্ব বা খাজনা ও কর আদায়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব। যা কোম্পানি ১৭৬৫ সালে লাভ করে। ১৭৬৫ সালে দেওয়ানি লাভের পর ইংরেজরাই বাংলার সত্যিকার শাসকরূপে আত্মপ্রকাশ করে।।
দেওয়ানি লাভ কোম্পানির শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও বিশাল বিজয়। এর ফলে সম্রাট ও নবাব উভয়েই ক্ষমতাহীন শাসকে পরিণত হন। প্রকৃতপক্ষে তারা হয়ে যান কোম্পানির পেনশনভোগী কর্মচারী। ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে দেশীয় বণিকশ্রেণি, সাধারণ - মানুষ। এতে বাংলার অর্থনৈতিক মেরুদন্ড সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়ে।
১৭৬৫ সালে রবার্ট ক্লাইভ উপমহাদেশে যে শাসনব্যবস্থা প্রবর্তন করে তাই দ্বৈতশাসন ব্যবস্থা। দিল্লি কর্তৃক বিদেশি বণিক কোম্পানিকে দেওয়ানি প্রদানের পর সৃষ্টি হয় এ দ্বৈতশাসন। এর ফলে কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা ও নবাব ক্ষমতাহীন দায়িত্ব পেয়ে পরিণত হন নামমাত্র শাসকে।
দ্বৈতশাসনের ফলে কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা ও নবাব পরিণত হন ক্ষমতাহীন শাসকে। ফলে বাংলায় এক অভূতপূর্ব প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়, যার চরম মাসুল দিতে হয় এদেশের সাধারণ জনগোষ্ঠীকে। ১৭৭০ সালে (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) দেখা দেয় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ, যা ইতিহাসে ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে পরিচিত।
১১৭৬ বঙ্গাব্দ অর্থাৎ ১৭৭০ সালে বাংলায় এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ও মহামারী দেখা দেয়। এ দুর্ভিক্ষ 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' নামে পরিচিত। এ দুর্ভিক্ষের খাদ্যের অভাবে বাংলার মোট জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মৃত্যুমুখে পতিত হয়। বাংলার এ ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের ধ্বংসলীলা ছিল। মূলত ইংরেজ কোম্পানির দেওয়ানি লাভ ও দ্বৈতশাসনের পরিণাম।
লর্ড কর্নওয়ালিস প্রবর্তিত দশসনা বন্দোবস্ত পরবর্তীকালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত হিসেবে রূপলাভ করে। এ ব্যবস্থায় জমিদারদের বছরের রাজস্ব নির্দিষ্ট করে জমি চিরস্থায়ী মেয়াদের জন্য বন্দোবস্ত। দেওয়া হয়। ফলে জমির উপরে জমিদারদের মালিকানা, ক্ষমতা ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত জমিদারদের জমির স্থায়ী মালিকে পরিণত করে এবং জমিদাররা জমির মালিকানা স্বত্ব লাভ করে। এতে জমির উপর কৃষকের কোনো অধিকার ছিল না। জমিদারগণ ইচ্ছে করলেই তাদেরকে জমি থেকে উচ্ছেদ করতে পারত। তবে এ ব্যবস্থায় জমির ওপর কৃষকের কোনো মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
চিরস্থায়ী ব্যবস্থার ফলে সরকার তার আয়ের পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়। যে কারণে বাজেট প্রণয়ন, বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সহজ হয়। এর ফলে সৃষ্ট জমিদার শ্রেণি কোম্পানির একনিষ্ঠ সমর্থক হয়ে ওঠে। অনেক জমিদার জনকল্যাণমূলক কাজে ব্রতী হয় এবং জঙ্গলাকীর্ণ জমি চাষের ব্যবস্থা হলে দেশের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়।
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে জমিদারের স্বার্থ সুরক্ষিত হলেও কৃষকদের অধিকার ছিল না। ফলে জমিদার ইচ্ছে করলেই যেকোনো | সময় তাদের জমি থেকে উচ্ছেদ করতে পারত। জমিদারি আয় ও স্বত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে জমিদাররা নায়েব-গোমস্তার ওপর দায়িত্ব দিয়ে শহরে বসবাস শুরু করে। ফলে কৃষকরা সরাসরি জমিদার কর্তৃক শোষিত হতে থাকে।
লর্ড কর্নওয়ালিসের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ব্যবস্থায় রাজস্ব কিস্তি নির্দিষ্ট দিনে পরিশোধ করতে হতো। কোনো জমিদার নির্দিষ্ট দিনে রাজস্ব দিতে ব্যর্থ হলে তার জমি নিলামে বিক্রি করে রাজস্ব আদায় - করা হতো। নির্দিষ্ট দিনে সূর্যাস্তের পূর্বে রাজস্ব পরিশোধের বিধান ছিল
বলে এ আইন 'সূর্যাস্ত আইন' নামে পরিচিত।
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তনের ফলে জমির ওপর জমিদারদের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়। তারা ধনী শ্রেণিতে পরিণত হয়। জমির ওপর থেকে কৃষকদের পুরানো স্বত্ব বিলুপ্ত হয়। ফলে জমিদার ইচ্ছা করলেই যেকোনো সময় প্রজাদের জমি থেকে উচ্ছেদ করতে পারত। এ কারণেই প্রজাদের ভাগ্য জমিদারদের দয়ার ওপর নির্ভর করত।
উপমহাদেশে জমি ছিল আভিজাত্যের প্রতীক। ফলে অনেক নিম্নবর্ণের মানুষ বা সাধারণ মানুষ কোম্পানির সাথে ব্যবসায় বাণিজ্য করে প্রচুর অর্থের মালিক হয়ে জমিদারি কিনে আভিজাত্যের লড়াইয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এ কারণে দেশীয় পুঁজি, দেশীয় শিল্প গড়ে ওঠার সম্ভাবনা ধ্বংস হতে থাকে।
১৪৫৩ সালে কনস্টান্টিনোপল অটোমান তুর্কিরা দখল করে নেয়।
১৪৫৩ খ্রিস্টাব্দে অটোমান তুর্কিরা কনস্টান্টিনোপল দখল করে নেয়। ফলে ভারতের সাথে জলপথে ইউরোপের ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যায়।
তাই নতুন জলপথে ভারতে আসার জন্য তারা অভিযান শুরু করে
ভাস্কো-দা-গামা পর্তুগালের নাবিক ছিলেন।
পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো-ডা-গামা প্রথম সমুদ্রপথে এদেশে আসেন।
১৫৭৯ সালে পর্তুগিজরা হুগলি নামক স্থানে উপনিবেশ গড়ে তোলে
১৫৩৮ সালে পর্তুগিজরা চট্টগ্রাম ও সাতগাঁওয়ে শুল্কঘাঁটি নির্মাণের অনুমতি লাভ করে।
হল্যান্ডের অধিবাসীদের নাম ওলন্দাজ বা ডাচ।
ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' হল্যান্ডের।
১৬০২ সালে ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতীয় উপমহাদেশে আসে
বিদারার যুদ্ধে ওলন্দাজরা ইংরেজদের কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়।
দিনেমার বা ডেনমার্কের অধিবাসী একদল বণিক 'ডেনিস ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি' গঠন করে।
দিনেমাররা ১৬৭৬ সালে বাংলার শ্রীরামপুরে বাণিজ্য কুঠি স্থাপন করে।
দিনেমাররা ইংরেজদের কাছে বাণিজ্য কুঠি বিক্রি করে।
১৬০০ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয়।
ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি উপমহাদেশে ব্যবসায় বাণিজ্য করতে এসেছিল।
ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লস বিয়ের যৌতুক হিসেবে লাভকরেন বোম্বাই (বর্তমানে মুম্বাই) শহর।
ভাগীরথী নদীর তীরে অবস্থিত কোলকাতা, সুতানটি ও গোবিন্দপুর নামে তিনটি গ্রামকে কেন্দ্র করে কোলকাতা নগরীর জন্ম হয়।
ইউরোপে সংঘটিত সপ্তবর্ষব্যাপী যুদ্ধের অজুহাতে ইংরেজরা ফরাসিদের 'চন্দননগর' দখল করে।
রানির সুপারিশ নিয়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মুঘল সম্রাট আকবরের সাথে সাক্ষাৎ করেন।
ক্যাপ্টেন হকিন্স ১৬০৮ সালে সম্রাট জাহাঙ্গীরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
ইংল্যান্ডের রাজা দ্বিতীয় চার্লস বিয়ের যৌতুক হিসেবে বোম্বাই শহর লাভ করেন।
চার্লস পঞ্চাশ হাজার পাউন্ডের বিনিময়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে বোম্বাই শহর বিক্রি করে দেয়।
চার্লস পঞ্চাশ হাজার পাউন্ডের বিনিময়ে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কাছে বোম্বাই শহর বিক্রি করে দেয়।
ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গের নামকরণ ইংল্যান্ডের রাজা তৃতীয় উইলিয়ামের নাম অনুসারে হয়।
ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি গঠিত হয় ১৬৬৪ সালে।
উপমহাদেশে সর্বশেষে আগত ইউরোপীয় বণিক কোম্পানি হচ্ছে ফরাসি ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি।
১৬৭৩ সালে পন্ডিচেরীতে ফরাসি উপনিবেশ গড়ে ওঠে।
ফরাসি ইন্টস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি চন্দননগরে শক্তিশালী দুর্গ স্থাপন করতে সক্ষম হয়!
ইংরেজদের ষড়যন্ত্র, কূটকৌশল ও উন্নত রণকৌশলের কাছে ফরাসিরা পরাজিত হয়েছিল।
ইংরেজদের যড়যন্ত্র, কূটকৌশল, উন্নত রণকৌশলের কারণে ফরাসিরা পরাজিত হয়।
সিরাজউদ্দৌলার মায়ের নাম আমেনা বেগম।
ঘষেটি বেগম ছিলেন নবাব আলীবর্দি খানের জ্যেষ্ঠ কন্যা।
১৭৫৬ সালে নবাব সিরাজউদ্দৌলা কোলকাতা দখল করে নেন।
হলওয়েলের মিথ্যা কাহিনী 'অন্ধকূপ হত্যা' নামে পরিচিত?
'অন্ধকূপ হত্যা' নামে মিথ্যা প্রচারণা চালায় হলওয়েল নামক এক ইংরেজ।
নবাব সিরাজউদ্দৌলার সাথে ইংরেজদের সন্ধি আলীনগর সন্ধি নামে খ্যাত।
দস্তক হলো বিনা শুল্কে ব্যবসায় করার ছাড়পত্র।
পলাশির যুদ্ধ সংঘটিত হয় ১৭৫৭ সালে।
ভাগীরথী নদীর তীরে পলাশির যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
ইংরেজ গভর্নর ভান্সিটার্ট মীরজাফরকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে মীর কাশিমকে সিংহাসনে বসান।
১৭৫৭ সালে বাংলার স্বাধীনতা ইংরেজদের হাতে চলে যায়।
১৭৬৪ সালে বক্সার যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
বক্সারের যুদ্ধে পরাজিত হয়ে অযোধ্যার নবাব রোহিলাখন্ডে পালিয়ে যান।
১৭৭৭ সালে মীর কাশিমের মৃত্যু হয়।
বক্সারের যুদ্ধের পর বাংলায় ইংরেজ শাসনের পথ সুগম হয়।
অযোধ্যার নবাবের কাছ থেকে যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ হিসেবে পঞ্চাশ লক্ষ টাকা আদায় করা হয়।
১৭৭০ সালের (১১৭৬ বঙ্গাব্দ) গ্রীষ্মকালে বাংলায় ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয় যাকে ইতিহাসে ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বলা হয়।
ছিয়াত্তরের মন্বন্তর বাংলা ১১৭৬ সালে সংঘটিত হয়।
ওয়ারেন হেস্টিংস দ্বৈত শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটান।
ওয়ারেন হেস্টিংস ১৭৭২ সালে পাঁচসালা বন্দোবস্ত চালু করেন।
১৭৮৪ সালে পিটের ইন্ডিয়া অ্যাক্ট পার্লামেন্টে গৃহীত হয়।
চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের প্রবর্তক লর্ড কর্নওয়ালিশ
১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করা হয়। কিসের ফলে জমিদারদের স্বার্থ সুরক্ষিত হয়?
Related Question
View Allভাস্কো-ডা-গামা পর্তুগালের নাবিক ছিলেন।
প্রাচীনকালে বাংলা সম্পদে সমৃদ্ধ ও স্বয়সম্পূর্ণ ছিল বলে অনেকেই বাণিজ্য করতে এসছিল।
প্রাচীন বাংলার গ্রামের স্বয়ংসম্পূর্ণ কৃষকদের ক্ষেত ভরা ফসল, গোলাভরা ধান, পুকুরভরা মাছ থাকত। এদেশের তাঁতিদের হাতে বোনা কাপড় ইউরোপের কাপড়ের চেয়েও উন্নতমানের ছিল। এ অঞ্চলের নানা ধরনের বাণিজ্যিক পণ্য ও মসলার বেশ খ্যাতি ছিল। এসব পণ্যের আকর্ষণেই এদেশের সঙ্গে বাণিজ্য করতে এসেছে অনেকেই।
উদ্দীপকের ক্ষমতা ভাগাভাগির সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের দ্বৈত শাসনের মিল খুঁজে পাওয়া যায়।
রবার্ট ক্লাইভ ১৭৬৫ সালের দেওয়ানি সনদের নামে বাংলার সম্পদ লুণ্ঠনের একচেটিয়া ক্ষমতা লাভ করে। দিল্লি কর্তৃক বিদেশি বণিক কোম্পানিকে এই অভাবনীয় ক্ষমতা প্রদানে সৃষ্টি হয় দ্বৈত শাসনের। এর মাধ্যমে কোম্পানি লাভ করে দায়িত্বহীন ক্ষমতা, আর নবাব পরিণত হয় ক্ষমতাহীন শাসকে। অথচ নবাবের দায়িত্ব থেকে যায় ষোলআনা। ফলে বাংলায় এক অভূতপূর্ব প্রশাসনিক জটিলতার সৃষ্টি হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মামুন ও কামালের মাঝে পারিবারিক গার্মেন্টস ও সংসারের দায়িত্ব বণ্টন হয়। এতে মামুন কামালকে উপযুক্ত অর্থ প্রদান না করায় সংসারে জটিলতা দেখা দেয়। এই বিষয়টির সাথে দ্বৈত শাসনের মিল রয়েছে।
হ্যাঁ, আমি মনে করি, উক্ত ঘটনা বাংলার অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছিল।
দ্বৈত শাসনের ফলে বাংলার সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক দিক দিয়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার দ্বারা প্রশাসনে চরম দুর্নীতি শুরু হয়েছিল। নামে বেনামে অর্থ ইংল্যান্ডে পাচার হয়েছিল। ফলে বাংলার রাজকোষ শূন্য হয়ে পড়ে। এর ফলে জনগণের ওপর অতিরিক্ত করারোপ করা হয়। এছাড়াও অনাবৃষ্টির কারণে ঐ সময় (১৭৭০ সাল) দেখা দেয় দুর্ভিক্ষ যা ইতিহাসে 'ছিয়াত্তরের মন্বন্তর' নামে পরিচিত। এই দুর্ভিক্ষে বাংলার জনসংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ মৃত্যুমুখে পতিত হয়। এই দুর্ভিক্ষের ভয়াবহতা এমন ছিল যে, মানুষ মৃত মানুষের মাংস খেতে বাধ্য হয়েছিল। আর এই দুর্ভিক্ষেও রাজস্ব না কমিয়ে তা অব্যাহত রাখা হয়। ফলে চরম শোষণ-নির্যাতনে বাংলার মানুষ হতদরিদ্র ও অসহায় হয়ে পড়ে। তাছাড়াও কোম্পানির কর্মচারীদের দুর্নীতি বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশীয় বণিকশ্রেণি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তাই বলা যায় যে, দ্বৈত শাসনের ফলে বাংলার অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ভেঙে পড়েছিল।
ভাগিরথী নদীর তীরে পলাশির যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল।
ইংরেজ বন্দি হলওয়েল বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে নবাবকে হেয় করার জন্য এক মিথ্যা কাহিনীর প্রচারণা চালায় যা ইতিহাসে অন্ধকূপ হত্যা নামে পরিচিত।
এতে বলা হয় যে, ১৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৪.১০ ফুট প্রশস্ত ছোট একটি ঘরে ১৪৬ জন ইংরেজকে বন্দি করে রাখা হয়। এতে প্রচণ্ড গরমে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে ১২৩ জনের মৃত্যু হয়। এই মিথ্যা প্রচার মাদ্রাজ পর্যন্ত পৌঁছে যায়। আর এই মিথ্যা প্রচারই হলো 'অন্ধকূপ হত্যা'।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!