প্রত্যাশার বাইরে কোনোকিছু ঘটার সম্ভাবনাকে ঝুঁকি বলে। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঝুঁকির সৃষ্টি হয়। এ সকল ঝুঁকি ব্যবসায় সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় এবং প্রত্যাশিত লক্ষ্য অর্জনে বাধা সৃষ্টি করে।
আদর্শ বিচ্যুতি হচ্ছে বুঝুঁকি পরিমাপের একটি পরিসংখ্যানিক পদ্ধতি। এর মাধ্যমে প্রত্যাশিত আয় থেকে সম্ভাব্য মানসমূহের গড় বিচ্যুতি বের করা হয়। আদর্শ বিচ্যুতির বড় মান অধিক বুঝুঁকি এবং ছোট মান কম ঝুঁকি নির্দেশ করে।
খারাপ কোনো ঘটনা ঘটার আশঙ্কাকে ঝুঁকি বলা হয়। অপরদিকে, খারাপ কোনো ঘটনা ঘটার আশঙ্কা কেমন তা যদি জানা না থাকে, তবে তাকে অনিশ্চয়তা বলা হয়।
অনিশ্চয়তা থেকে ঝুঁকি সৃষ্টি হয়। অনিশ্চয়তার যে অংশ পরিমাপ করা যায় তাই ঝুঁকি। ঝুঁকি পরিমাপ করা যায় বিধায় তা কমানো যায়। আর এ লক্ষ্যেই ঝুঁকি পরিমাপ করা হয়।
প্রত্যাশিত ফলাফল ও প্রকৃত ফলাফলের পার্থক্যই হলো বিচ্যুতি। যেমন, কোম্পানি আশা করছে' আগামী বছর ২০% নিট মুনাফা অর্জন করবে কিন্তু প্রকৃত লাভ হলো ১৫%। এখানে বিচ্যুতি হলো = ৫%। বিচ্যুতি থেকে ঝুঁকির সৃষ্টি হয়।
কোনো বিনিয়োগকারীর প্রত্যাশিত আয় থেকে প্রকৃত আয় বেশি হলেও ঝুঁকিও সৃষ্টি হতে পারে। অর্থাৎ কোনো বিনিয়োগকারী প্রতি শেয়ারে যখন ১৫ টাকা লভ্যাংশ প্রত্যাশা করে বছর শেষে ২০ টাকা লভ্যাংশ পায়, তখনো এই ৫ টাকা বিচ্যুতি ঝুঁকির উৎস। কারণ এই অবস্থায় প্রকৃত আয় কেন প্রত্যাশিত আয় থেকে বেশি হলো সেই কারণ বিনিয়োগকারীর কাছে অজানা, এ কারণে সেটাও ঝুঁকি।
প্রকৃত ফলাফল প্রত্যাশিত ফলাফল থেকে ভিন্ন হওয়ার সম্ভাবনাকেই ব্যবসায় অর্থায়নে ঝুঁকি বলা হয়। ঝুঁকি পরিমাপ করা যায়। তাই ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ঝুঁকি হ্রাস করা সম্ভব হয়।
খারাপ কোনো ঘটনা ঘটার আশঙ্কা কেমন তা যদি জানা না থাকে তবে তাকে অনিশ্চয়তা বলা হয়। অনিশ্চয়তা পরিমাপ করা যায় না। উদাহরণস্বরূপ: একটি কোম্পানির প্রধান কর্মকর্তার মৃত্যু হতে পারে, এটি একটা অনিশ্চয়তা। তবে এই অনিশ্চয়তাকে পরিহার করা যায় না।
অনিশ্চয়তা থেকে ঝুঁকির সৃষ্টি হয়। তবে সব অনিশ্চয়তা ঝুঁকি নয়। অনিশ্চয়তার যে অংশটুকু পরিমাপ করা যায় তাকে ঝুঁকি হিসেবে পণ্য করা হয়। যদি কোনো ঘটনা ঘটার আশঙ্কা অজানা থাকে, তবে সেই অনিশ্চয়তাকে ঝুঁকি বলা যায় না। কৌশল অবলম্বন করে ঝুঁকি কমানো যায়, কিন্তু অনিশ্চয়তা কমানো বা পরিহার করা যায় না। তাই সব অনিশ্চয়তা ঝুঁকি নয়।
ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দুটি পার্থক্য নিম্নরূপ:
ঝুঁকি | অনিশ্চয়তা |
১. ঝুঁকি পরিমাপ করা যায়। | ১. অনিশ্চয়তা পরিমাপ করা যায় না। |
২. বিভিন্ন কৌশল প্রয়োগ করে ঝুঁকি হ্রাস করা যায় | ২. অনিশ্চয়তা হ্রাস বা পরিহার করা যায় না। |
ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য ঝুঁকির উৎস খোঁজা গুরুত্বপূর্ণ। ঝুঁকি কমানোর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সফলতা নিশ্চিত করতে যেসব কৌশল নেওয়া হয় তাকে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বলে। ঝুঁকির কারণে অনেক সময় | প্রতিষ্ঠানের প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জিত হয় না। ফলে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে এসব ঝুঁকি যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা করতে হয়। আর এসব ঝুঁকির সঠিক ব্যবস্থাপনা করতে ঝুঁকির উৎস ও শ্রেণি খুঁজে বের করা গুরুত্বপূর্ণ।
পরিচালনা খরচ পরিশোধের অক্ষমতা থেকে সৃষ্ট ঝুঁকিকে ব্যবসায়িক ঝুঁকি বলে। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সফলভাবে চালানোর জন্য বিভিন্ন রকম পরিচালনা ব্যয়ের সৃষ্টি হয়। বিক্রয়মূল্য পরিবর্তন, বিক্রয়ের পরিমাণ পরিবর্তন, অতিরিক্ত স্থায়ী খরচের প্রবণতা ইত্যাদি কারণে পরিচালনা ব্যয় পরিশোধ করতে না পারলে ব্যবসায়িক ঝুঁকির সৃষ্টি হয়।
দায় পরিশোধের অক্ষমতা থেকে সৃষ্ট ঝুঁকিটি হলো আর্থিক ঝুঁকি। একটি প্রতিষ্ঠান ঋণকৃত মূলধন বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত নগদ প্রবাহ দিয়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করে থাকে। প্রাপ্ত নগদ প্রবাহ দ্বারা ঋণের কিস্তি পরিশোধে প্রতিষ্ঠান অসমর্থ হলে সেক্ষেত্রে আর্থিক ঝুঁকির সৃষ্টি হয়।
শেয়ার, বন্ড, ডিবেঞ্চার ইত্যাদিতে বিনিয়োগের ফলে প্রয়োজনে তা দ্রুত নগদায়ন করতে না পারার সম্ভাবনাকে তারল্য ঝুঁকি বলে। বিনিয়োগকারী যদি সহজে ও যুক্তিসংগত মূল্যে বিনিয়োগ বিক্রয় করতে না পারে তখন তারল্য ঝুঁকির সৃষ্টি হয়।
মূলধনি বাজারে শেয়ারের ক্রেতা সহজে পাওয়া যায় বিধায় শেয়ারে তারল্য ঝুঁকি কম থাকে। এ ঝুঁকি বাজারের আকার এবং কাঠামোর ওপর নির্ভর করে। কোম্পানির শেয়ার যেকোনো সময় ইচ্ছামতো সেকেন্ডারি বাজারে বিক্রি করে নগদ টাকা পাওয়া যায়।
তাই কোম্পানির শেয়ারে তারল্য ঝুঁকি কম হয়।
সুদের হারের পরিবর্তনের কারণে বিনিয়োগের মূল্য কমার আশঙ্কাকেই সুদ হারের ঝুঁকি বলা হয়। যেসব বিনিয়োগকারী বন্ড, ডিবেঞ্চার ইত্যাদি ক্রয় করে তাদেরকে সুদ হারের ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হয়। কারণ বাজারে সুদের হারের পরিবর্তনের সাথে সাথে তাদের বিনিয়োগের মূল্য ওঠানামা করে। সুদের হার বাড়লে বন্ড বা ডিবেঞ্চারের বাজারমূল্য কমে আবার সুদের হার কমলে এসব বিনিয়োগের বাজারমূল্য বাড়ে।
একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় যে খরচ সংঘটিত হয় তাকে পরিচালন খরচ বলে। উদাহরণস্বরূপ: কাঁচামাল ক্রয়, শ্রমিদের বেতন, অফিস ভাড়া, বিমা খরচ ইত্যাদি।
কোনো কোম্পানির পরিচালন ব্যয় মেটানের সক্ষমতা নির্ভর করে বিক্রয় থেকে আয়ের স্থিতিশীলতার ওপর। পাশাপাশি পরিচালন খরচের মিশ্রণ অর্থাৎ স্থায়ী এবং চলতি খরচের ওপর।
যেসকল ব্যয় উৎপাদনকার্য চলমান থাকুক বা না থাকুক প্রতিষ্ঠানকে বহন করতে হয়, তাকে পরিচালন ব্যয়ে স্থায়ী খরচ বলা হয়। যেমন: অফিস ভাড়া, বিমা খরচ ইত্যাদি।
ব্যবসায়িক ঝুঁকির উৎসগুলো হলো- বিক্রয়মূল্য পরিবর্তন, বিক্রয়ের পরিমাণ পরিবর্তন, উৎপাদনের উপকরণের মূল্য পরিবর্তন, অতিরিক্ত স্থায়ী খরচের প্রবণতা ইত্যাদি।
ব্যবসায়ের পরিচালনা ব্যয় পরিশোধের অক্ষমতা থেকে ব্যবসায়িক ঝুঁকির সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানের ঋণকৃত মূলধন থেকে অর্থায়ন করলে আর্থিক ঝুঁকির সৃষ্টি হয়। অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে তহবিল সংগ্রহ করলে ব্যবসায়িক ঝুঁকি দেখা দেয়। পক্ষান্তরে বহিস্থ উৎস থেকে তহবিল সংগ্রহ করলে আর্থিক ঝুঁকি দেখা যায়। এসব কারণেই ব্যবসায়িক ঝুঁকি, আর্থিক ঝুঁকি থেকে পৃথক।
কোনো প্রতিষ্ঠান ঋণ মূলধন ব্যবহার করলে সেক্ষেত্রে ঋণের কিস্তি (সুদ ও আসল) পরিশোধ বাধ্যতামূলক। এক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ঋণের কিস্তি তথা দায় পরিশোধ করতে না পারলে ঋণদাতা, প্রতিষ্ঠান কোম্পানির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়। ফলে প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
কোম্পানি সাধারণত ঋণকৃত মূলধন বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত নগদ প্রবাহ দিয়ে ঋণকৃত মূলধনের দায় পরিশোধ করে। কোনো কারণে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগকৃত অর্থ থেকে পর্যাপ্ত নগদ প্রবাহ না পেলে দায় পরিশোধের অক্ষমতা সৃষ্টি হয়।
সুদ হারের ঝুঁকি ও তারলা ঝুঁকির মধ্যে দুটি পার্থক্য নিম্নরূপ:
সুদ হারের ঝুঁকি | তারল্য ঝুঁকি |
১. বন্ড ও ডিবেঞ্চারে বিনিয়োগকারীদের সুদ হারের ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হয়। | ১. শেয়ার, বন্ড ও ডিবেঞ্চারে বিনিয়োগকারীদের তারল্য ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হয়। |
২. সুদের হারের পরিবর্তনের কারণে বিনিয়োগের মূল্য হ্রাসের আশঙ্কাই 'হলো সুদ হারের ঝুঁকি। | ২. বিনিয়োগকে দ্রুত নগদায়ন করতে না পারার আশঙ্কাই হলো তারল্য ঝুঁকি। |
কোনো কোম্পানি ঋণ মূলধন ব্যবহার করলে ঋণের কিস্তি যথাসময়ে পরিশোধ করতে হয়। এক্ষেত্রে ঋণ মূলধন ব্যবহারের ফলে আর্থিক ঝুঁকি সৃষ্টি হয়। সেক্ষেত্রে ঋণ মূলধনের ব্যবহার পরিহার করে - আর্থিক ঝুঁকি পরিহার করা সম্ভব।
বহিস্থ অর্থায়ন বলতে ঋণের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ করাকে বোঝায়। ঋণকৃত তহবিল ব্যবহারের ফলে উক্ত ঋণ পরিশোধের দায় সৃষ্টি হয়। দায় পরিশোধে কোম্পানি অপারগ হলে সেক্ষেত্রে আর্থিক ঝুঁকির সৃষ্টি হয় এবং কোম্পানি দেউলিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই বহিস্থ অর্থায়নে ঝুঁকি বেশি।
ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণে ঝুঁকির তাৎপর্য রয়েছে। ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা প্রণয়নের সময়েই ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ঘটনাসমূহ বিচার-বিশ্লেষণ করে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করলে অপ্রত্যাশিত ক্ষতি থেকে বাঁচা যায়। এছাড়া ব্যবসায় শুরু করার আগেই প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের বাজার চাহিদা সম্পর্কিত বিচার-বিশ্লেষণ করে বাস্তবসম্মত চাহিদার অনুমান করে সেই অনুযায়ী ব্যবসায় পরিচালনা ও বাস্তবায়ন করলে ঝুঁকি হ্রাস পায়।
ঝুঁকি হ্রাসের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সফলতা নিশ্চিতকরণে যে সকল কৌশল গ্রহণ করা হয় তাকে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বলা হয়। যেমন: আগামী বছর কোম্পানির বিক্রয় কমে যাওয়ার আশঙ্কা একটি ঝুঁকি। † এক্ষেত্রে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার কৌশল হিসেবে কোম্পানি অগ্রিম বিক্রির কৌশল গ্রহণ করতে পারে। এতে ঝুঁকি হ্রাস পাবে।
যেসব বিনিয়োগের প্রকৃত আয় সবসময় প্রত্যাশিত আয়ের সমান হয় তাকে ঝুঁকিমুক্ত আয় বলে। দেশের সরকার কর্তৃক ইস্যুকৃত ট্রেজারি বিল ও ট্রেজারি বন্ড থেকে প্রাপ্ত আয় ঝুঁকিমুক্ত আয় হিসেবে গণ্য হয়। ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত আয় নির্দিষ্ট থাকে।
বন্ডে সুদের হার পূর্ব থেকে নির্দিষ্ট থাকে। অর্থাৎ বন্ডে বিনিয়োগকারীদের নির্দিষ্ট হারে সুদ দেওয়া হয়। ফলে বন্ডে বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশিত আয় ও প্রাপ্ত আয় সমান হয়ে থাকে। তাই বন্ড থেকে প্রাপ্ত আয়ুকে ঝুঁকিমুক্ত আয় বলা হয়।
যেসব আয়ের সাথে ঝুঁকি জড়িত থাকে তাকে ঝুঁকিবহুল আয় বলে। একজন বিনিয়োগকারী কোনো কোম্পানির সাধারণ শেয়ার ক্রয় করলে ভবিষ্যতে লভ্যাংশ প্রাপ্তি তার প্রত্যাশিত লভ্যাংশের সমান হবে এরকম কোনো নিশ্চয়তা থাকে না। অতএব, বিনিয়োগকারীর জন্য উক্ত শেয়ার থেকে আয় একটি ঝুঁকিবহুল আয় হিসেবে পরিগণিত হবে।
ঝুঁকিমুক্ত আয় ও ঝুঁকিবহুল আয়ের মধ্যে পার্থক্য নিম্নরূপ:
ঝুঁকিমুক্ত আয় | ঝুঁকিবহুল আয় |
১. ঝুঁকিমুক্ত আয়ের ক্ষেত্রে আয়ের হার নির্দিষ্ট থাকে। | ১. ঝুঁকিবহুল আয়ের ক্ষেত্রে আয়ের হার নির্দিষ্ট থাকে না। |
২. ট্রেজারি বিল, ট্রেজারি বন্ড থেকে প্রাপ্ত আয় ঝুঁকিমুক্ত আয়। | ২. শেয়ারে বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত আয় হলো ঝুঁকিবহুল আয়। |
সাধারণ শেয়ারে আয় নির্দিষ্ট নয়, তাই প্রত্যাশিত আয় ও প্রকৃত আয়ের মধ্যে পার্থক্য থাকে। কারণ সাধারণ শেয়ার ক্রয় করলে ভবিষ্যতে কোম্পানি কী পরিমাণ লভ্যাংশ দেবে সেটা নির্ভর করে ভবিষ্যতে কোম্পানির অর্জিত মুনাফা ও অন্যান্য বিষয়ের ওপর। তাই সাধারণ শেয়ার ঝুঁকিমুক্ত আয় নয়।
এমন কিছু সরকারি সিকিউরিটি আছে যেমন- ট্রেজারি বিল, ট্রেজারি বন্ড ইত্যাদি যেখানে প্রত্যাশিত আয় প্রকৃত আয়ের সমান হয় বিধায় ঝুঁকি থাকে না। তাছাড়া সরকার দেউলিয়া হয় না বিধায় এ ধরনের সিকিউরিটি ঝুঁকিমুক্ত। কিন্তু এ সকল সিকিউরিটিতে বিনিয়োগকারীরা মুনাফা পায়। এ দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, ঝুঁকি গ্রহণ ছাড়া মুনাফা অর্জন সম্ভব।
পদ্ধতি"- ব্যাখ্যা কর। আদর্শ বিচ্যুতি হচ্ছে ঝুঁকি পরিমাপের একটি পরিসংখ্যানিক পদ্ধতি। এ পদ্ধতি ব্যবহার করে অতীতে অর্জিত আয়ের বিচ্যুতি থেকে ঝুঁকি পরিমাপ করা হয়। আদর্শ বিচ্যুতির বড় মান অধিক ঝুঁকি 1 এবং ছোট মান কম ঝুঁকি নির্দেশ করে।
Related Question
View Allঅতীতে অর্জিত আয়ের বিচ্যুতি থেকে ব্যবসায়ের ঝুঁকি পরিমাপ করা হয়।
ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার কারণে ব্যবসায় ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ফলের চাইতে প্রকৃত ফল কম হয়।
ব্যবসায় সংশ্লিষ্ট ভবিষ্যতের প্রতিটি বিষয় অনিশ্চিত। এ কারণে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত ফলাফল প্রত্যাশিত ফলের চেয়ে কম-বেশি হয়। ব্যবসায়ে আশানুরূপ বিক্রি না হওয়া, বেশি মূল্যে কাঁচামাল ক্রয়, প্রতিটি ক্ষেত্রে ঝুঁকি বিদ্যমান থাকা, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত মুনাফা অর্জনে ব্যর্থতা, আয়ের উত্থান-পতন ইত্যাদি কারণে ব্যবসায়ে প্রত্যাশিত ফলের চেয়ে প্রকৃত ফল কম হয়।
উদ্দীপকে আধুনিক বাজারজাতকরণ সম্পর্কিত জ্ঞানের অভাবে রোমানার ব্যবসায়ে কম সাফল্য হয়।
পণ্যদ্রব্য উৎপাদন থেকে শুরু করে ভোক্তার কাছে বিক্রি করা পর্যন্ত সমুদয় কাজকে বাজারজাতকরণ বলে। একজন সফল ব্যবসায়ীর মধ্যে বাজারজাতকরণের জ্ঞান ও দক্ষতা থাকা জরুরি। কেননা পণ্যদ্রব্য শুধু উৎপাদন বা কিনলে বিক্রয় বৃদ্ধি বা মুনাফা অর্জন হয় না। উক্ত পণ্যটির বাজারজাতকরণ বা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পর্যাপ্ত কৌশল গ্রহণ করতে হয়। উদ্দীপকের রোমানা টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট থেকে পাশ করে মনিপুরী তাঁত বস্ত্রের বিভিন্ন পোশাক সামগ্রীর ব্যবসায় শুরু করেন। তিনি শুধু সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চলকে নির্বাচন করে ব্যবসায় গড়ে তোলেন। এক্ষেত্রে একটি
স্থান নির্বাচন করায় তার পণ্যের বিক্রির পরিমাণ কম। সিলেট ছাড়াও যদি ঢাকা, কুমিল্লা বা অন্য শহরে তার ব্যবসায় স্থাপন করতেন তবে রায়না হকের মতো তিনিও সফল হতেন। এছাড়া তার তাঁত বস্ত্রের চাহিদা রয়েছে সিলেটের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে। তিনি যদি সামগ্রিক বাজার চাহিদা বিশ্লেষণ করে সুষ্ঠু ব্যবসায় পরিকল্পনা গ্রহণ করতেন তাহলে ব্যবসায়ে বিক্রি বাড়ানোর মাধ্যমে আয়ের স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে পারতেন। মূলত এসব কারণেই রোমানা তার ব্যবসায়ে কম সাফল্য অর্জন করেন।
উদ্দীপকে রায়না ও রোমানার ব্যবসায়িক চিত্রানুযায়ী রায়না হকের প্রতিষ্ঠানে মুনাফার হার বেশি এবং রোমানার প্রতিষ্ঠানে মুনাফার হার কম।
ব্যবসায় শুরু করার আগে প্রতিটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের বাজার চাহিদা বিচার-বিশ্লেষণ করে সেই অনুযায়ী কার্য বাস্তবায়ন করতে হয়। তাহলে ব্যবসায়ের কাঙ্ক্ষিত মুনাফার্জন সম্ভব হয়।
উদ্দীপকে রোমানা সিলেটের বিভিন্ন অঞ্চলে মনিপুরী তাঁত বস্ত্রের ব্যবসায় করে। এর চাহিদা ঐ অঞ্চলে তৈরি হয় না। কারণ তারা নিজেরাই তাদের পোশাক তৈরি করে। অন্যদিকে রায়না ঢাকা ও কুমিল্লায় চাহিদা অনুযায়ী তার ফ্যাশন হাউজ প্রতিষ্ঠা করে লাভবান হয়।
চিত্রে দেখা যায়, রায়না হকের মুনাফা প্রতিবছর ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
রোমানার মুনাফার হারে প্রতিবছর হ্রাস-বৃদ্ধি হয়েছে। শেষ বছরে রায়না রোমানার চেয়ে ৬ ধাপ বেশি মুনাফা অর্জন করে। আর রোমানার ব্যবসায়ে উত্থান-পতন বেশি বলে তার ব্যবসায়ের ভবিষ্যৎ ভালো নয়। তাই বলা যায়, চিত্রানুযায়ী রোমানার চেয়ে রায়নার ব্যবসায়ের অবস্থান
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
