উত্তরঃ

উৎপাদনের উপাদানসমূহ হচ্ছে জমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন। আর এ চারটি উপাদানের আয় হচ্ছে যথাক্রমে খাজনা, মজুরি, সুদ ও মুনাফা। তাই উৎপাদনের উপাদানসমূহের মোট আয় নির্ণয় করতে হলে খাজনা, মজুরি, সুদ ও মুনাফাকে যোগ করতে হয়। আর এভাবেই উৎপাদনের উপাদানসমূহের মোট আয় নির্ণয় করতে হয়।

উত্তরঃ

মোট জাতীয় উৎপাদন নির্ণয়ের সূত্রটি হচ্ছে-
GNP = GDP + (X-M)
এখানে, GNP = Gross National Product

GDP = Gross Domestic Product এবং

'X' দ্বারা বিদেশে অবস্থানরত দেশি জনগণের আয় ও 'M' দ্বারা দেশে অবস্থানরত বিদেশিদের আয় বোঝায়।

উত্তরঃ

বাংলাদেশের অর্থনীতি কৃষিপ্রধান অর্থনীতি হিসেবে পরিগণিত। দেশের শ্রমশক্তির মোট ৪৩.৬ শতাংশ কৃষিখাতে নিয়োজিত। দেশের রপ্তানি আয়েও কৃষিখাতের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। আমাদের খাদ্যশস্য কৃষিখাতের অন্যতম প্রধান উৎপন্ন দ্রব্য। তাছাড়া আমাদের অনেক শিল্পের কাঁচামালের যোগান দেয় কৃষিখাত। আর তাই কৃষি খাত বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচিত।

উত্তরঃ

দেশের মোট জাতীয় উৎপাদন, মোট অভ্যন্তরীণ বা দেশজ উৎপাদন ও জনগণের মাথাপিছু আয়কে একত্রে অর্থনৈতিক নির্দেশক বলা হয়। অর্থনৈতিক নির্দেশক দেশের অর্থনীতির অবস্থা নির্দেশ। করে। দেশের অর্থনীতি পূর্ববর্তী অবস্থার তুলনায় এগিয়ে যাচ্ছে, পিছিয়ে যাচ্ছে, নাকি একই অবস্থায় আছে তা অর্থনৈতিক নির্দেশকসমূহের মান দ্বারা বোঝা যায়।

উত্তরঃ

কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণত এক বছরে কোনো দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ বা ভূমির ওপর সে দেশের মোট শ্রম ও মূলধন নিয়োগ করে যে পরিমাণ বস্তুগত ও অবস্তুগত দ্রব্য ও সেবা উৎপাদিত হয়, তার আর্থিক মূল্যকে ওই দেশের মোট জাতীয় উৎপাদন বলে।

উত্তরঃ

মোট জাতীয় উৎপাদনকে তিনটি দিক থেকে বিবেচনা করে পরিমাপ করা যায়। যথা-
১. উৎপাদিত দ্রব্যসামগ্রী ও সেবা;
২. উৎপাদনের উপকরণের অর্জিত আয়;
৩. সমাজের মোট আয়।

মোট জাতীয় উৎপাদন নির্ণয় করতে দেশের নাগরিকদের আয় বিবেচনা করা হয়।

উত্তরঃ

অর্থনীতিতে সেবা বলতে কোনো অবস্তুগত দ্রব্যকে বোঝায় যার উপযোগ এবং বিনিময় মূল্য আছে। সেবার মূল উদ্দেশ্য হলো অন্যের উপকার করা এবং শান্তি ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠা করা। শিক্ষকের। পাঠদান, চিকিৎসকের চিকিৎসা প্রদান, ব্যাংকারের অর্থ সংক্রান্ত বিষয়ে। সচেতনতা দান ইত্যাদি সেবা হিসেবে বিবেচিত।

উত্তরঃ

উৎপাদনের পর যেসব দ্রব্য সরাসরি ভোগ করা যায় সেই সব দ্রব্যকে চূড়ান্ত দ্রব্য বলে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, তৈরি পোশাক, টেবিল, চেয়ার ইত্যাদি। এসব দ্রব্য তৈরির পর সরাসরি ভোগ করা যায়। তাই এসব দ্রব্যকে চূড়ান্ত দ্রব্য হিসেবে গণ্য করা হয়।

উত্তরঃ

অনেক দ্রব্যই চূড়ান্ত পর্যায়ে বাজারে আসার আগে প্রাথমিক দ্রব্য ও মাধ্যমিক দ্রব্য হিসেবে একাধিকবার' ক্রয়-বিক্রয় করা হয়। এই ক্রয়-বিক্রয় হয় উৎপাদনকারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে। চূড়ান্ত পর্যায়ে ভোগকারী এটি ক্রয় ও ভোগ করে। তাই প্রতিটি ধাপে দ্রব্য গণনা না করে শুধু ভোক্তা পর্যায় অর্থাৎ চূড়ান্ত পর্যায়েই দ্রব্য গণনা করা হয়।

উত্তরঃ

উৎপাদনের উপকরণের অর্জিত আয় হলো মোট জাতীয়। উৎপাদন পরিমাপের একটি পদ্ধতি। এই পদ্ধতিতে মোট জাতীয় উৎপাদন পরিমাপ করতে হলে উৎপাদনের উপাদানসমূহের মোট আয়ের সমষ্টি নির্ণয় করতে হয়। ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন-উৎপাদনের এই চারটি উপাদানের আয় যথাক্রমে খাজনা, মজুরি, সুদ ও মুনাফা। এক বছরে কোনো দেশের জাতীয় আয় হলো ঐ বছরে উৎপাদনের উপাদানসমূহের অর্জিত মোট খাজনা, মজুরি, সুদ ও মুনাফার সমষ্টি।

উত্তরঃ

সমাজের মোট ব্যয়ের ভিত্তিতে মোট জাতীয় উৎপাদন নির্ণয় করা যায়। এই পদ্ধতি অনুসারে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে দেশের সব ধরনের ব্যয় যোগ করলে মোট জাতীয় উৎপাদনের আর্থিক মূল্য পাওয়া যায়। কোনো দেশের মোট আয় দুইভাবে ব্যয়িত হয়। যথা- ১. ভোগ্য দ্রব্য ও সেবা কেনার জন্য এবং ২. বিনিয়োগ করার জন্য।

উত্তরঃ

উৎপাদনের প্রাথমিক স্তরের দ্রব্যকে প্রাথমিক দ্রব্য বলে। উৎপাদনের মোট দ্রব্যকে তিনভাগে ভাগ করা যায়। যথা- প্রাথমিক দ্রব্য, মাধ্যমিক দ্রব্য ও চূড়ান্ত দ্রব্য। এর মধ্যে প্রাথমিক দ্রব্যের ক্ষেত্রে আমরা বলতে পারি- একটি শার্ট উৎপাদন করলে প্রথমে তুলা থেকে সুতা, সুতা থেকে কাপড় এবং কাপড় থেকে শার্ট তৈরি করা হয়। এখানে প্রাথমিক দ্রব্য হচ্ছে তুলা।

উত্তরঃ

মোট জাতীয় আয় বলতে নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছরে) একটি দেশের অভ্যন্তরে এবং দেশের বাইরে বসবাসরত নাগরিকদের দ্বারা উৎপাদিত চূড়ান্ত দ্রব্য ও সেবার আর্থিক মূল্যের সমষ্টিকে বোঝায়। একটি দেশের জনগণের চাহিদা অনুযায়ী সময়ভেদে বিভিন্ন দ্রব্য ও সেবা উৎপন্ন হয়। এক্ষেত্রে এক বছরে কোনো দেশে বিভিন্ন দ্রব্য, সেবা, বিদেশে কর্মরত প্রবাসী আয় থেকে দেশে কর্মরত বিদেশিদের আয়কে বাদ দিলেই মোট জাতীয় আয় নির্ণয় করা যায়।

উত্তরঃ

মোট দেশজ উৎপাদন হচ্ছে- কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণত এক বছরে কোনো দেশের অভ্যন্তরে বা ভৌগোলিক সীমানার ভিতরে বসবাসকারী সকল জনগণ কর্তৃক উৎপাদিত চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্রব্যসামগ্রহী ও সেবাকর্মের অর্থমূল্যের সমষ্টি। এতে উক্ত সীমানার মধ্যে বসবাসকারী দেশের সকল নাগরিক ও বিদেশি ব্যক্তি, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্রব্যসামগ্রী ও সেবাকর্মের মূল্য অন্তর্ভুক্ত হবে। তবে বিদেশে অবস্থানকারী ও কর্মরত দেশের নাগরিক বা সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের আয় অন্তর্ভুক্ত হবে না।

উত্তরঃ

মাথাপিছু আয় হলো কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দেশের নাগরিকদের গড় আয়। মাথাপিছু আয় দুটি পৃথক মান দ্বারা নির্ধারিত। হয়। ১. মোট জাতীয় আয় এবং ২. মোট জনসংখ্যা। কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দেশের মোট জাতীয় আয়কে সে দেশের মোট জনসংখ্যা দ্বারা ভাগ করলে মাথাপিছু জাতীয় পাওয়া যায়।

উত্তরঃ

মাথাপিছু আয় দুটি পৃথক মান দ্বারা নির্ধারিত হয়। যথা- ১. মোট জাতীয় আয় এবং ২. মোট জনসংখ্যা। কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দেশের মোট জাতীয় আয়কে সে দেশের মোট জনসংখ্যা দ্বারা ভাগ করলে মাথাপিছু আয় পাওয়া যায়। মাথাপিছু আয়কে নিম্নলিখিতভাবে প্রকাশ করা যায়:

মাথাপিছু আয় = মোট জাতীয় আয়/মোট জনসংখ্যা

উত্তরঃ

উচ্চ মাথাপিছু আয় ব্যক্তির উন্নত জীবনমান নির্ধারণ করে এবং নিম্ন মাথাপিছু আয় ব্যক্তির নিম্ন জীবনমান নির্ধারণ করে। তবে জীবনমান নির্ধারণের জন্য উচ্চ মাথাপিছু আয়ের সাথে দ্রব্যমূল্যের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। দ্রব্যসামগ্রীর মূল্য অপরিবর্তিত থেকে মাথাপিছু আয় বাড়লে জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পাবে এবং মাথাপিছু আয় কমলে জীবনযাত্রার মান হ্রাস পাবে।

উত্তরঃ

আমরা জানি, মাথাপিছু আয় = মোট জাতীয় আয়/মোট জনসংখ্যা

∴ ২০১০ সালে 'X' দেশের মাথাপিছু আয় ছিল = ৯৬০০ কোটি মার্কিন ডলার/১৬ কোটি

= ৬০০ মার্কিন ডলার।

উত্তরঃ

এখানে, GDP = ২৫০০০ কোটি মার্কিন ডলার। X = ৫০০০ কোটি মার্কিন ডলার। M= ২৪৮০ কোটি মার্কিন ডলার।

আমরা জানি, GNP = GDP + (X-M)

= {২৫,০০০ + (৫,০০০ ২৪৮০)} কোটি মার্কিন ডলার

= ২৭,৫২০ কোটি মার্কিন ডলার

উত্তরঃ

আমরা জানি, মাথাপিছু আয় = মোট জাতীয় আয়/মোট জনসংখ্যা

= ৮০০০ কোটি ইউএস ডলার/ ১৬ কোটি

= ১৬০০ কোটি

উত্তরঃ

অর্থনীতির খাত বলতে বোঝায় অর্থনীতির বিভিন্ন অংশ, বিভাগ ও শাখা। বিশ্বের যেকোনো অর্থনীতিকে প্রধান তিনটি খাতে ভাগ করা হয়। যথা- কৃষি, শিল্প ও সেবা খাত। ভূমি থেকে উৎপন্ন সবকিছু শস্য ও ফলমূল, শাকসবজি, বনজ সম্পদ, পশু ও মৎস্যসম্পদ প্রভৃতি কৃষিখাতের অন্তর্গত। বৃহদায়তন ও ক্ষুদ্রায়তন শিল্প, সবধরনের নির্মাণ ও খনিজ প্রভৃতি শিল্পখাতের অন্তর্গত। অবশিষ্ট সকল ক্ষেত্রে যেমন- শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যাংক, ডাক, পরিবহন প্রভৃতি সেবা খাতের আওতাধীন।

উত্তরঃ

বাংলাদেশের অর্থনীতিকে মোট ১৯টি প্রধান খাতে ভাগ করা হয়। এর মধ্যে ৪টি খাত হলো-
১. কৃষি, বনজ ও মৎস্য সম্পদ;
২. খনিজ ও বনন;
৩. শিল্প (ম্যানুফ্যাকচারিং)
৪. বিদ্যু, গ্যাস, বাম্প ও শীততাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায়;

উত্তরঃ

বাংলাদেশের ১৯টি খাতকে ৩টি বৃহত্তর খাতে সমন্বিত করা যায়। যেমন- কৃষি, শিল্প ও সেবা খাত। কৃষিখাতে রয়েছে কৃষি ও বনজ। বৃহত্তর অর্থে মৎস্যসম্পদও কৃষিখাতের অন্তর্গত। শিল্পখাতের মধ্যে রয়েছে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্প। তবে বৃহত্তর অর্থে খনিজ, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও প্রভৃতিও শিল্পখাতের অন্তর্ভুক্ত হয়। আর হোটেল, পরিবহন, ব্যাংক ইত্যাদি সেবাখাতের অন্তর্ভুক্ত।

উত্তরঃ

মোট দেশজ উৎপাদনে সেবাখাতের অবদান সর্বাধিক।

হোটেল ও রেস্তোরা, পরিবহন, ব্যাংক, বিমা প্রভৃতি সেবাখাতের অন্তর্ভুক্ত। লোকপ্রশাসন ও প্রতিরক্ষা, স্বাথ্য প্রভৃতিও সেবা খাতের আওতাভুক্ত, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪ অনুযায়ী, ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনে সেবাখাতের অবদান ৫১.০৫ শতাংশ, যা অন্য যেকোনো খাতের তুলনায় অনেক বেশি।

উত্তরঃ

মাথাপিছু জাতীয় আয়ের ভিত্তিতে পৃথিবীর দেশগুলোকে বিশ্বব্যাংক তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করেছেন। যথা-
১. উচ্চ আয়ের দেশ;
২. মধ্য আয়ের দেশ,
৩. নিম্ন আয়ের দেশ।

উত্তরঃ

উচ্চ আয়ের দেশসমূহ উন্নত দেশ হিসেবে স্বীকৃত। চারটি উচ্চ আয়ের দেশ হলো-
১. যুক্তরাষ্ট্র;
২. কানাড়া;
৩. যুক্তরাজ্য;
৪. নরওয়ে।

উত্তরঃ

উচ্চ আয়ের দেশ বলতে উন্নত দেশসমূহকে বোঝায়। উন্নয়ন প্রক্রিয়ার শীর্ষ পর্যায়ে পৌছানো রাষ্ট্রগুলো উচ্চ আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জন করেছে। এসব দেশের মাথাপিছু আয় এমন যে, জনগণের সকল মৌলিক চাহিদা পূরণের পরও প্রচুর অর্থ উদ্বৃত্ত থাকে, যা সঞ্চয় ও মূলধন গঠনে ব্যয় হয়। এসব দেশ উদ্বৃত্ত অর্থ দিয়ে অধিকতর উন্নয়ন কার্যক্রম চালায় এবং উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে সহায়তা করে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা প্রভৃতি উচ্চ আয়ের দেশের অন্তর্গত।

উত্তরঃ

কৃষিখাত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি প্রধান গুরুত্বপূর্ণ খাত। এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত্তিস্বরূপ। তবে উৎপাদন প্রণালিতে এই খাত এখনও আধুনিক হয়ে ওঠেনি। এদেশের কৃষি এখনও প্রকৃতি নির্ভর। যথাসময়ে প্রয়োজনীয় পরিমাণ বৃষ্টিপাত না হলে বা অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হলে উৎপাদন বিপুল পরিমাণে কমে যায়।

উত্তরঃ

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে শিল্পখাতের গুরুত্ব ও অবদান ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১৯৮০-৮১ অর্থবছরে স্থির মূল্যে জিডিপিতে শিল্পখাতের অবদান ছিল ১৭.৩১ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই খাতের অবদান ৩৭.৬৫ শতাংশের বেশি। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, বৃহৎ শিল্প, খনিজ, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানি সরবরাহ প্রভৃতির সমন্বয়ে শিল্পখাত গড়ে উঠেছে।

উত্তরঃ

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর জনসংখ্যাধিক্য। বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যা প্রায় ১৬,৯৮,২৮.৯১১ জন। ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১১৭১ জন বাস করে। বাংলাদেশ জনসংখ্যাধিক্যের দেশ হলেও জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ক্রমহ্রাসমান।

উত্তরঃ

বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রধানত স্বল্পমূল্যের কৃষিজাত পণ্য- চা, কাঁচাপাট, তৈরি পোশাক, সিরামিক, শ্রমিক রপ্তানি করে। বাংলাদেশের আমদানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে উচ্চমূল্যের মূলধনসামগ্রী, জ্বালানি, পেট্রোলিয়াম ইত্যাদি। বাংলাদেশে দীর্ঘসময় ধরেই রপ্তানি আয় আমদানি আয়ের চেয়ে কম। ফলে বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধরে ঘাটতি অব্যাহত রয়েছে।

উত্তরঃ

যথাযথ শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও - দক্ষতা এবং সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি জনগোষ্ঠী মানবসম্পদে রূপান্তরিত হয়। কারণ যথাযথ শিক্ষা পেলে মানুষ বিভিন্ন উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে। এছাড়া প্রযুক্তি, জ্ঞান এবং কারিগরি শিক্ষায় দক্ষ ব্যক্তিরা নতুন নতুন পেশায় যুক্ত হতে পারে, যা দেশের বেকারত্ব সমস্যা দূর করে। মানুষকে সম্পদে পরিণত করে।

উত্তরঃ

মুসলিম শাসনামল ছিল বাংলার স্বর্ণযুগ। কারণ এই সময়ে কৃষি, শিল্প, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সকল ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ সমৃদ্ধির শিখরে আরোহণ করেছিল। বাংলার শিল্পজাত বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী বিশেষত বস্ত্র পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে বিশেষ সমাদৃত ছিল। যার ফলে ওই সময় বাংলার অর্থনীতি বেশ সমৃদ্ধ ছিল। মূলত এসব কারণেই। মুসলিম শাসনামুলকে বাংলার স্বর্ণযুগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

উত্তরঃ

কৃষিক্ষেত্রে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে জমিদারি প্রথা ও বাধ্যতামূলক নীলচাষ প্রবর্তনের ফলে ইংরেজ আমলে বাংলার কৃষি ও কৃষকসমাজ বিপুলভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মুসলিম শাসনামলে, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্য ছিল। এই সময় বিভিন্ন কৃষিপণ্য বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হতো। কিন্তু ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের পরে বাংলার শাসনভার ইংরেজরা গ্রহণ করেই তারা কৃষকদের নীল চাষে বাধ্য করে। এছাড়া ১৭৯৩ সালে প্রণীত চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে জমিদারি প্রথা প্রবর্তন করলে বাংলাদেশের কৃষকসমাজ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

উত্তরঃ

১৭৫৭ সালে পলাশির যুদ্ধের পর ইংরেজরা নীল চাষ ও চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষকদের ব্যাপক ক্ষতি করে। এছাড়া ইংল্যান্ডের শিল্পকলে কম খরচে উৎপাদিত বস্ত্র দিয়ে বাংলাদেশের বাজার দখল করলে বস্ত্র ও অন্যান্য শিল্প ধ্বংস হয়ে যায়। আবার ১৯৪৭-১৯৭১ সাল পাকিস্তানিরা একচেটিয়াভাবে চাকরি, বাজেট, বৈদেশিক সাহায্য লাভ করে। অর্থাৎ ইংল্যান্ড ও পাকিস্তানের বৈষম্যমূলক নীতির কারণেই মূলত বাংলার অর্থনীতির ভিত্তি ধ্বংস হয়ে যায়।

উত্তরঃ

বাংলাদেশের কৃষিপ্রধান অর্থনীতিতে কৃষি জমির পরিমাণ ক্রমশ কমে আসছে। কৃষিকাজে উন্নত বীজ, সার, সেচ সুবিধা এবং আধুনিক চাষপ্রণালি প্রয়োগ করা হচ্ছে। তবে কৃষিকাজের সাথে সংশ্লিষ্ট জনগণের একটি অংশের কাছে কৃষি সুবিধাগুলো এখনও পৌঁছেনি। এছাড়া অপর্যাপ্ত কৃষিঋণ, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, পণ্য, বাজারজাতকরণে মধ্যস্বত্বভোগীদের আধিপত্যের ফলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়।

উত্তরঃ

দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক পরিস্থিতি তথা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা শিল্পখাতের উন্নয়নের জন্য অনুকূল নয়। রাজনৈতিক কর্মসূচি যেমন- হরতাল, বিক্ষোভ, অবরোধ ইত্যাদি শিল্পখাতের উৎপাদনশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ফলে উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং পণ্যের দাম বেড়ে যায়। এতে শিল্প মালিকদের-আয় কমে যায় এবং নতুন উদ্যোগ ও বিনিয়োগ করার প্রবণতাও হ্রাস পায়।

উত্তরঃ

উন্নয়ন বলতে বোঝায় বিদ্যমান অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন। উন্নয়ন হলো সমৃদ্ধি বা সার্বিক মানোন্নয়ন। দেশের সম্পদ ও সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে আর্থসামাজিক সমৃদ্ধি ও বিকাশ সাধনকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বলা যায়। সম্পদ বলতে দেশের প্রাকৃতিক ও মানবসম্পদ উভয়কে বোঝায়। উন্নয়ন অর্জনের প্রক্রিয়ায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাহায্য, সহযোগিতা ও সমর্থনেরও প্রয়োজন হয়।

উত্তরঃ

কোনো দেশের মোট জাতীয় উৎপাদন বা আয় বৃদ্ধির সাথে দীর্ঘসময় ধরে মাথাপিছু প্রকৃত আয়ের বৃদ্ধিকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বলে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন তখনই সম্ভব যখন কোনো দেশের অর্থনীতির কাঠামোগত এবং প্রকৃতিগত পরিবর্তন ঘটে। এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধির হারের সাথে জনসংখ্যা ও দ্রব্যমূল্যস্তর বিবেচনায় নিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়ন নির্ধারণ করা হয়। এখানে প্রকৃত মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি বিষয়টিই বিবেচনায় নেওয়া হয়।

উত্তরঃ

অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তন বলতে ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ঋণদান কার্যক্রম সম্প্রসারণ, পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, উৎপাদনে উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার প্রভৃতিকে বোঝায়। অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তনের ফলে শ্রমিকের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পেয়ে উৎপাদনের পরিমাণ বেড়ে যায়। উৎপাদিত সম্পদ বা জাতীয় আয় বণ্টনে বৈষম্য হ্রাস পায়। এতে জনগণের সার্বিক কল্যাণ বৃদ্ধি পায়।

উত্তরঃ

অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটেছে এবং উন্নয়ন দীর্ঘমেয়াদে অব্যাহত আছে এমন দেশকে বলে উন্নত দেশ। উন্নত দেশগুলোর জনগণের মাথাপিছু আয় বেশি। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির হারও-বেশি এবং সে কারণে জীবনযাত্রা অত্যন্ত উন্নত। উন্নত দেশের আর্থসামাজিক অবকাঠামো অত্যন্ত উন্নত, শিল্পখাত সম্প্রসারিত, পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অর্থনীতির অনুকূল। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, নরওয়ে উন্নত দেশের অন্তর্ভুক্ত।

উত্তরঃ

উন্নত দেশসমূহের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এসব দেশের উন্নত আর্থসামাজিক অবাকাঠামো। এর মধ্যে রয়েছে-
১. উন্নত ব্যাংক ও ঋণদান ব্যবস্থাপনা;
২. উন্নত পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা;
৩. জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও বেকারত্বের অত্যন্ত নিম্নহার;
৪. বিদ্যুৎ, পানি ও জ্বালানির পর্যাপ্ততা;

উত্তরঃ

উন্নত দেশসমূহে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রয়েছে। এখানে প্রশাসনযন্ত্র স্বচ্ছতার সাথে কাজ করে। রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহ স্থিতিশীল ও উন্নত। ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সহায়ক পরিবেশ গড়ে ওঠে ও তা বজায় থাকে।

উত্তরঃ

যেসব দেশের জনগণের মাথাপিছু আয় উন্নত দেশ তথা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ফ্রান্স, প্রভৃতি দেশসমূহের জনগণের মাথাপিছু আয়ের তুলনায় অনেক কম, সেসব দেশকে অনুন্নত দেশ বলা হয়। তবে শুধু মাথাপিছু প্রকৃত আয়ের ভিত্তিতে একটি দেশকে অনুন্নত বলা ঠিক নয়। অনুন্নত দেশ বলতে সম্পদের পূর্ণ ব্যবহার করতে সক্ষম নয়, এমন দেশকেও বোঝায়। এসব দেশে প্রাথমিক পেশার প্রাধান্য, পুঁজির স্বল্পতা ও ব্যাপক বেকারত্ব বিদ্যমান।

উত্তরঃ

বিশ্বের উন্নত ও অনুন্নত দেশসমূহের মধ্য পর্যায়ে আরেক ধরনের দেশ আছে যেগুলোকে বলা হয় উন্নয়নশীল দেশ। উন্নয়নশীল দেশে মাথাপিছু প্রকৃত আয় উন্নত দেশসমূহের তুলনায় অনেক কম। এসব দেশে অনুন্নত অর্থনীতির অধিকাংশ বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। এগুলোর মধ্যে রয়েছে কৃষিখাতের প্রাধান্য, শিল্পের অনগ্রসরতা, ব্যাপক বেকারত্ব, শিক্ষার নিম্নহার, নিম্ন মাথাপিছু আয়, জনসংখ্যা বৃদ্ধি উচ্চহার ইত্যাদি।

উত্তরঃ

উন্নয়নশীল দেশের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো কৃষিখাতের প্রাধান্য। উন্নয়নশীল দেশসমূহে কৃষির আধুনিকায়ন করা হয়। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ, কৃষির অবকাঠামো উন্নয়ন, উন্নতমানের বীজ, সার ও সেচসুবিধা ইত্যাদির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ফলে কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়ে। কৃষিতে ক্রমোন্নতির সূচনা হয়।

উত্তরঃ

উন্নয়ন তহবিল সংগ্রহের জন্য বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যান্য দেশ ও সংস্থা থেকে ঋণ সহায়তা ও অনুদান গ্রহণ করে। বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ এরং উন্নয়নের জন্য পরিকল্পিত উন্নয়ন কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য প্রচুর অর্থ দরকার হয়। এই অর্থের সবটা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে জোগান দেওয়া সম্ভব হয় না। তাই বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা থেকে ঋণ সহায়তা ও অনুদান করে উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক প্রভৃতি সংস্থা থেকে বাংলাদেশ ঋণ ও অনুদান গ্রহণ করে।

উত্তরঃ

বাণিজ্যের দুটি দিক আছে রপ্তানি ও আমদানি। রপ্তানি হচ্ছে কোনো দেশের আয়ের উৎস আর আমদানি ব্যয়ের খাত। বাংলাদেশের রপ্তানি আর দীর্ঘসময় ধরেই আমদানি ব্যয়ের চেয়ে কম। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের লেনদেনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সবসময়ই একটি ঘাটতির দেশ। তবে সাম্প্রতিককালে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি, প্রবাসীদের আয়প্রবাহ বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে ঘাটতি হ্রাস পাচ্ছে।

উত্তরঃ

সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য বেশ সমৃদ্ধ। দেশভিত্তিক রপ্তানি বাণিজ্যের পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিগত এক দশক যাবত বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের সবচেয়ে বড় বাজার হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পরের অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে জার্মানি, যুক্তরাজ্য ইত্যাদি দেশ।

অর্থাৎ বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য প্রধানত উন্নত দেশগুলোতেই বিস্তৃত। । এছাড়া বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে প্রচুর জনশক্তি রপ্তানি করে।

উত্তরঃ

কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণত এক বছরে কোনো দেশের অভ্যন্তরে বা ভৌগোলিক সীমানার ভেতরে বসবাসকারী সকল জনগণ কর্তৃক উৎপাদিত চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্রব্যসামগ্রী ও সেবাকর্মের অর্থ মূল্যের সমষ্টিকে মোট দেশজ উৎপাদন বা Gross Domestic Product (GDP) বলে।

উত্তরঃ

কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণত এক বছরে কোনো দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ 'বা ভূমির উপর সে দেশের মোট শ্রম ও মূলধন বিনিয়োগ করে যে পরিমাণ বস্তুগত ও অবস্তুগত দ্রব্য ও সেবা উৎপাদিত হয় তার আর্থিক মূল্যকে ঐ দেশের মোট জাতীয় উৎপাদন বলে।

উত্তরঃ

মাথাপিছু আয় হলো কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দেশের নাগরিকদের গড় আয়।

উত্তরঃ

GNP-এর ইংরেজি পূর্ণরূপ Gross National Product.

উত্তরঃ

যেসব দ্রব্য ও সেবা অন্য দ্রব্য ও সেবার কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয় না, তাকে চূড়ান্ত দ্রব্য বলে।

উত্তরঃ

কোনো দেশের মোট আয় দুইভাবে ব্যয়িত হয়।

উত্তরঃ

কোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান সূচক হলো মাথাপিছু আয়।

উত্তরঃ

ব্যক্তির জীবনযাত্রার মান নির্ধারণ করে মাথাপিছু আয়।

উত্তরঃ

অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি হচ্ছে মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় বৃদ্ধি।

উত্তরঃ

মানুষের অভাব পূরণের জন্য কোনো দ্রব্যের উপযোগ ব্যবহার করার প্রক্রিয়াকে/ক্ষমতাকে ভোগ বলে।

উত্তরঃ

উৎপাদনের উপাদান ৪টি। ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন।

উত্তরঃ

যেকোনো দেশের অর্থনীতি জনগণের প্রয়োজনের ভিত্তিতে নানাবিধ দ্রব্যসামগ্রী ও সেবা উৎপাদন করা হয়।

উত্তরঃ

উৎপাদিত দ্রব্যের বিভিন্নতার কারণে যোগ করে এগুলোর মোট পরিমাণ নির্ণয় করা যায় না।

উত্তরঃ

দ্রব্যটি চূড়ান্ত পর্যায়ে ভোগকারী ক্রয় ও ভোগ করে।

উত্তরঃ

তুলা থেকে সুতা তৈরি করা হয়।

উত্তরঃ

জমির আয় হলো খাজনা।

উত্তরঃ

মূলধনের আয় হলো সুদ।

উত্তরঃ

মুনাফা হলো সংগঠনের আয়।

উত্তরঃ

সমাজের মোট ব্যয়ের ভিত্তিতে মোট জাতীয় উৎপাদন নির্ণয় করা যায়।

উত্তরঃ

মোট দেশজ উৎপাদন বুঝতে হলে মোট জাতীয় উৎপাদন ধারণাটি মনে রাখতে হবে।

উত্তরঃ

GNP ও GDP সমান হয় না।

উত্তরঃ

মাথাপিছু আয় মোট জাতীয় আয় ও মোট জনসংখ্যা দ্বারা নির্ধারিত হয়।

উত্তরঃ

মাথাপিছু আয় নির্ণয়ের সূত্র, মাথাপিছু আয় = মোট জাতীয় আয়/মোট জনসংখ্যা

উত্তরঃ

বাংলাদেশের জনগণের মাথাপিছু আয় বার্ষিক ২৭৪৯ মার্কিন ডলার।

উত্তরঃ

যেকোনো অবস্থাগত দ্রব্য যার উপযোগ এবং বিনিময় মূল্য আছে, তাই সেবা।

উত্তরঃ

বাংলাদেশের অর্থনীতিকে মোট ১৯টি প্রধান খাতে ভাগ করা হয়।

উত্তরঃ

অর্থনীতির খাত হলো অর্থনীতির বিভিন্ন অংশ বা বিভাগ।

উত্তরঃ

বিশ্বের যেকোনো অর্থনীতিকে প্রধান তিনটি খাতে ভাগ করা হয়।

উত্তরঃ

রিয়েল এটেস্ট কার্যক্রম শিল্পখাতের অর্ন্তগত।

উত্তরঃ

সেবাখাতের অবদান ৫১.০৫ শতাংশ। (বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২৪)

উত্তরঃ

মধ্যম আয়ের দেশের মাথাপিছু আয় (১১৩৬-১৩৮৪৫) ডলার।

উত্তরঃ

বিশ্বব্যাংক মাথাপিছু মোট জাতীয় আয়ের ভিত্তিতে পৃথিবীর দেশগুলোকে তিনটি প্রধান ভাগে ভাগ করেছে।

উত্তরঃ

মধ্য আয়ের দেশগুলোকে দু'ভাগে ভাগ করা যায়।

উত্তরঃ

নিম্ন আয়ের দেশের মাথাপিছু আয় ১১৩৫ ডলার অথবা তার কম।

উত্তরঃ

উচ্চ আয়ের দেশসমূহ উন্নত দেশ হিসেবে স্বীকৃত।

উত্তরঃ

২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১১১৯ জন লোক বাস করে।

উত্তরঃ

এদেশের শ্রমশক্তির মোট ৪৫.০০ শতাংশ কৃষি খাতে নিয়োজিত।

উত্তরঃ

বাণিজ্যের দুটি দিক রয়েছে। যথা- আমদানি ও রপ্তানি।

উত্তরঃ

বাংলাদেশের কৃষিখাতের অবদান শতকরা ১১.৩০ ভাগ।

উত্তরঃ

বাংলাদেশের জিডিপিতে শিল্পখাতের অবদান ৩৭.৬৫ শতাংশ

উত্তরঃ

বাংলাদেশে জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১১৭১ জন।

উত্তরঃ

বাংলাদেশের জনসংখ্যাধিক্যের দেশ হলেও জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ক্রমহ্রাসমান।

উত্তরঃ

বাংলাদেশে মোট 'জনসংখ্যায় এক-পঞ্চমাংশ জনগণের অবস্থান দারিদ্র্যসীমার নিচে।

উত্তরঃ

বাংলাদেশকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের উচ্চমাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ দেশ বলা হয়।

উত্তরঃ

বাংলাদেশে প্রায় দুইশ বছরব্যাপী ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসন ছিল।

উত্তরঃ

মুসলিম শাসনামল বাংলার স্বর্ণযুগ ছিল।

উত্তরঃ

১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের পর বাংলায় ইংরেজদের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

উত্তরঃ

আর্থসামাজিক প্রতিবন্ধকতাসমূহের মধ্যে অন্যতম প্রধান প্রতিবন্ধক জনসংখ্যাধিক্য ও এর থেকে সৃষ্ট অন্যান্য সমস্যা।

উত্তরঃ

প্রাকৃতিক দুর্যোগগুলো দেশের কৃষিখাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

উত্তরঃ

কোনো দেশের জাতীয় আয়ের বার্ষিক বৃদ্ধির হারকে প্রবৃদ্ধির হার বলা হয়।

উত্তরঃ

কোনো দেশের জাতীয় আয়ের বার্ষিক বৃদ্ধির অরকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বলে।

উত্তরঃ

অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল লক্ষ্য হলো দেশের সকল জনগণের সর্বাধিক কল্যাণ সাধন করা।

উত্তরঃ

দেশের সম্পদ ও সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে সার্বিক আর্থসামাজিক সমৃদ্ধি ও বিকাশ সাধনকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বলা হয়।

উত্তরঃ

অনুন্নত দেশে কৃষিভিত্তিক ও শ্রমনিবিড় শিল্পের প্রাধান্য দেখা যায়।

উত্তরঃ

উন্নত দেশগুলোর অর্থনীতি শিল্পনির্ভর।

উত্তরঃ

অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটেছে এবং উন্নয়ন দীর্ঘমেয়াদে অব্যাহত আছে এমন দেশকে বলা হয় উন্নত দেশ।

উত্তরঃ

অধ্যাপক র‍্যাগনার মার্কস বলেন, অনুন্নত দেশ হচ্ছে সেসব দেশ, যেগুলোতে জনসংখ্যা ও প্রাকৃতিক সম্পদের তুলনায় পুঁজি বা মূলধন কম।

উত্তরঃ

জাপান এশীয় দেশগুলোর মধ্যে সাহায্যদাতা দেশ হিসেবে উল্লেখযোগ্য।

উত্তরঃ

এডিবি (ADB)-এর পূর্ণরূপ হলো এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (Asian Development Bank)

উত্তরঃ

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের দেশগুলোর অধিকাংশই উন্নত দেশের শ্রেণিভুক্ত।

উত্তরঃ

বিগত এক দশক যাবত বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের সবচেয়ে বড়ো বাজার যুক্তরাষ্ট্র।

উত্তরঃ

SAARC-এর পূর্ণরূপ হলো- South Asian Association for Regional Cooperation.

উত্তরঃ

মোট দেশজ উৎপাদন (GDP) হলো কোনো দেশের ভৌগোলিক সীমার মধ্যে এক বছরে উৎপাদিত মোট দ্রব্য ও সেবার অর্থমূল্যের সমষ্টি। GDP হিসাব করা হয় দেশে বসবাসকারী সকল ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার মোট উৎপাদিত সেবা ও দ্রব্যমূল্যের হিসাবে, যেখানে দেশে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের অবদানও অন্তর্ভুক্ত থাকে। কিন্তু এতে প্রবাসী নাগরিকদের আয় ধরা হয় না।

উত্তরঃ

মূল্যস্তর অপরিবর্তিত থেকে মাথাপিছু আয় বাড়লে জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পায়। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির কারণে ভোগব্যয় করার পরও জনগণের কাছে উদ্বৃত্ত আয় থাকে যা সথায় হিসেবে জমা হয়। এ সঞ্চয় মূলধন গঠন করে এবং তা বিনিয়োগের ফলে উৎপাদনের পরিমাণ ক্রমাগত বৃদ্ধি পায় এবং জনগণ দারিদ্রতা থেকে বের হয়ে আসে। এভাবেই মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি দরিদ্র্য দূর করে।

উত্তরঃ

যেসব দ্রব্য অন্য দ্রব্যের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয় না তাকে চূড়ান্ত দ্রব্য বলে।

চূড়ান্ত দ্রব্য হলো দ্রব্যের সেই রূপ যা সরাসরি ভোগের জন্য উপযোগী। দ্রব্যের চূড়ান্ত পর্যায়ে ভোক্তা তা ক্রয় করে ও ভোগ করে থাকে। উৎপাদনের উদ্দেশ্য হলো এই চূড়ান্ত দ্রব্য তৈরি, যাতে এক বা একাধিক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক দ্রব্যের সংমিশ্রণ ঘটে থাকে।

উত্তরঃ

মাথাপিছু আয় হলো কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দেশের নাগরিকদের গড় আয়। মাথাপিছু আয় দুটি পৃথক মান দ্বারা নির্ধারিত হয়- মোট জাতীয় আয় এবং মোট জনসংখ্যা। কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দেশের মোট আয়কে (জিএনআই) সে দেশের মোট জনসংখ্যা দ্বারা ভাগ করলে মাথাপিছু জাতীয় আয় বা মাথাপিছু আয় পাওয়া যায়। মাথাপিছু আয়কে নিম্নলিখিতভাবে প্রকাশ করা যায়-

মাথাপিছু আয় = মোট জাতীয় আয়/মোট জনসংখ্যা

উত্তরঃ

GDP বলতে শুধু দেশের সীমানার ভিতরের মোট উৎপাদনকে বোঝায়। এটা দেশের নাগরিক বা বিদেশি ব্যক্তি যাদের দ্বারাই উৎপাদিত হোক না কেন, এক্ষেত্রে দেশের ভৌগোলিক সীমানার বিষয়টিই গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে GNP শুধু দেশের নাগরিকদের উৎপাদন হিসেবে গণনা করে। এক্ষেত্রে দেশের নাগরিক বিবেচ্য বিষয়। তাই বলা যায়, যখন কোনো দেশের নাগরিক অন্য কোনো দেশে উৎপাদন করে না এবং অন্য কোনো দেশের নাগরিক বিবেচ্য দেশে উৎপাদন করে না তখন GDP ও GNP সমান হয়।

উত্তরঃ

কোনো দেশের জনসাধারণের অর্থনৈতিক কার্যাবলির ফলে প্রতি বছর যে বিভিন্ন প্রকার দ্রব্যসামগ্রী ও সেবাকার্য উৎপাদিত হয় তার আর্থিক মূল্যকে সাধারণভাবে জাতীয় আয় বলে।

একটি দেশে এক বছর কালের মধ্যে উৎপাদিত চাল, ডাল, যন্ত্রপাতি, দালানকোঠা ইত্যাদি দ্রব্যের আর্থিক মূল্য এবং চিকিৎসা, শিক্ষকতা ইত্যাদি সেবার আর্থিক মূল্য একত্রে যোগ করে, জাতীয় আয় পাওয়া যায়।

উত্তরঃ

মোট জাতীয় উৎপাদন (GNP) শুধু দেশের নাগরিকদের উৎপাদন গণনা করে। এ নাগরিকেরা দেশে অথবা বিদেশে যেখানেই অবস্থান করুক না কেন, এক্ষেত্রে নাগরিকই গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে মোট দেশজ উৎপাদন বা GDP বলতে শুধু দেশের সীমানার ভেতর মোট উৎপাদিত পণ্য ও সেবার মানকে বোঝায়। এক্ষেত্রে নাগরিক নয় বরং ভৌগোলিক সীমারেখাই গুরুত্বপূর্ণ।

উত্তরঃ

মোট ব্যয় পদ্ধতি অনুসারে কোনো নির্দিষ্ট সময়ে দেশের সব ধরনের ব্যয় যোগ করলে মোট জাতীয় উৎপাদনের আর্থিক মূল্য পাওয়া যায়। কোনো দেশের মোট আয় দুভাবে ব্যয়িত হয়। যথা- ১. "ভোগ দ্রব্য ও সেবা কেনার জন্য এবং ২. বিনিয়োগ করার জন্য। ব্যয়কারীদের প্রধানত তিন শ্রেণিতে বিন্যাস করা যায়। দেশের সরকার, বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং জনগণ। কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সাধারণ এক বছরে সরকারি, প্রাতিষ্ঠানিক এবং বেসরকারি ভোগ ব্যয় ও বিনিয়োগ ব্যয়ের সমষ্টি ওই সময়ে ওই দেশের মোট জাতীয় উৎপাদন।

উত্তরঃ

চূড়ান্ত দ্রব্যের মধ্যে মাধ্যমিক ও প্রাথমিক দ্রব্যের দাম অন্তর্ভুক্ত থাকে বলে মোট জাতীয় উৎপাদনের ক্ষেত্রে শুধু চূড়ান্ত দ্রব্য হিসাব করা হয়।

অনেক দ্রব্যই চূড়ান্ত পর্যায়ে বাজারে আসার আগে প্রাথমিক দ্রব্য ও মাধ্যমিক দ্রব্য হিসেবে একাধিকবার ক্রয়-বিক্রয় হয়। ভোগকারীর ক্রয়ের পর দ্রব্যটি আর ক্রয়-বিক্রয় হয় না। মোট জাতীয় উৎপাদন নির্ণয়ের জন্য প্রত্যেক ধাপেই দ্রব্যটির হিসাব করা হলে জাতীয় উৎপাদনের পরিমাণ সঠিক হবে না। তাই মোট জাতীয় উৎপাদন নির্ণয়ের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্রব্যটিই হিসাব করতে হবে।

উত্তরঃ

কোনো নির্দিষ্ট সময়ে, সাধারণত এক বছরে সরকারি, প্রাতিষ্ঠানিক এবং বেসরকারি ভোগ ব্যয় ও বিনিয়োগ ব্যয়ের সমষ্টি ঐ সময়ে ঐ দেশের মোট জাতীয় উৎপাদন।

যেকোনো সরল অর্থনীতিতে মোট জাতীয় উৎপাদন ও মোট জাতীয় আয় একই হতে পারে। তাই কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দেশে উৎপাদিত মোট দ্রব্যসামগ্রী ও সেবার আর্থিক মূল্যের সমষ্টিকে মোট জাতীয় উৎপাদন বলে।

উত্তরঃ

মাথাপিছু আয় হলো কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দেশের নাগরিকদের গড় আয়।
মাথাপিছু আয় দুটি পৃথক মান দ্বারা নির্ধারিত হয়। যথা- মোট জাতীয় আয় এবং মোট জনসংখ্যা। কোনো নির্দিষ্ট সময়ে কোনো দেশের মোট জাতীয় আয়কে সে দেশের মোট জনসংখ্যার দ্বারা ভাগ করলে মাথাপিছু জাতীয় আয় বা মাথাপিছু আয় পাওয়া যায়।

উত্তরঃ

যেকোনো দেশের অর্থনীতিতে জনগণের প্রয়োজনের ভিত্তিতে নানাবিধ দ্রব্যসামগ্রী ও সেবা উৎপাদন করা হয়। উৎপাদিত দ্রব্যের বিভিন্নতার কারণে যোগ করে এগুলোর মোট পরিমাণ নির্ণয় করা যায় না। তাই মোট জাতীয় উৎপাদনের পরিমাণ নির্ণয় করতে হলে প্রতিটি দ্রব্য ও সেবার মোট উৎপাদনের পরিমাণকে তার বাজার দাম দিয়ে গুণ করতে হয়। এভাবে প্রাপ্ত প্রতিটি দ্রব্য ও সেবার আর্থিক মূল্যের সমষ্টিকে মোট জাতীয় উৎপাদন বলে। এ পদ্ধতিতে মোট জাতীয় 'উৎপাদন নির্ণয় করতে হলে শুধুমাত্র চূড়ান্ত দ্রব্যই গণনা করতে হবে। অনেক দ্রব্যই চূড়ান্ত পর্যায়ে বাজারে আসার আগে প্রাথমিক দ্রব্য ও মাধ্যমিক দ্রব্য হিসেবে একাধিকবার ক্রয়-বিক্রয় হয়। দ্রব্যটি উৎপাদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে এটি ভোগকারীরা ক্রয় ও ভোগ করে। ভোগকারীর ক্রয়ের পর এটি আর ক্রয়-বিক্রয় হয় না। মোট জাতীয় উৎপাদন নির্ণয়ের জন্য প্রত্যেক ধাপেই দ্রব্যটি হিসাব করা হলে জাতীয় উৎপাদনের পরিমাণ সঠিক হবে না। তাই মোট জাতীয় উৎপাদন নির্ণয়ের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র চূড়ান্ত পর্যায়ের দ্রব্যটিই হিসাব করতে হবে।

উত্তরঃ

এ পদ্ধতিতে মোট জাতীয় উৎপাদন পরিমাপ করতে হলে উৎপাদনের উপাদানসমূহের মোট আয়ের সমষ্টি নির্ণয় করা হয়। জমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন উৎপাদনের এ চারটি উপাদানের আয় যথাক্রমে খাজনা, মজুরি, সুদ ও মুনাফা। এক বছরে কোনো দেশের জাতীয় আয় ঐ বছরে উৎপাদনের উপাদানসমূহের অর্জিত মোট খাজনা, মজুরি/বেতন, সুদ ও মুনাফার সমষ্টি।

উত্তরঃ

দরিদ্র দেশের লোকদের আয় কম বলে বাজারে পণ্যের চাহিদা কম, বাজারে পণ্যের চাহিদা কম বলে বিনিয়োগের পরিমাণ কম। আবার দেশে বিনিয়োগের পরিমাণ কম হওয়ার কারণে কর্মসংস্থান কম হয়, যা থেকে লোকদের আয়ের স্বল্পতা দেখা যায়। এভাবে. এটি চক্রাকারে চলতে থাকে। এ চক্রকেই 'দারিদ্র্যের দুষ্টচক্র' বলা হয়।

উত্তরঃ

দারিদ্র্যের দুষ্টচক্রের ধারণা দেন র‍্যাগনার নার্কস। বাংলাদেশও এ দুষ্টচক্রে আবদ্ধ। বাংলাদেশের মানুষের উৎপাদন কম এজন্য আয়ও কম। আয় কম হওয়ার ফলে সঞ্চয়ের ইচ্ছা বাঁ প্রবণতা কম থাকে। সঞ্চয়ের প্রবণতা কম বলে বিনিয়োগ কম হয়। কম বিনিয়োগের ফলে কম মূলধন গঠন হয়। এভাবে চক্রাকারে দুষ্টচক্রটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ঘুরতে থাকে।

উত্তরঃ

প্রাকৃতিক সম্পদ প্রকৃতির দান। এর যথাযথ ও উপযুক্ত ব্যবহারের মাধ্যমে কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব। এর অপরিকল্পিত ব্যবহার, 'যথাযথ ব্যবহার না করা এবং অপচয় হলো অপূর্ণ ব্যবহার। প্রাকৃতিক সম্পদের অপূর্ণ ব্যবহারের ফলে কাঙ্ক্ষিত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটে না।

উত্তরঃ

অতি প্রাচীনকালে থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থনীতি কৃষিপ্রধান অর্থনীতি হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে।
কৃষি খাত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ খাত। এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত্তিস্বরূপ। দেশের শ্রমশক্তির মোট ৪৫.০০ শতাংশ কৃষি খাতে নিয়োজিত। তাছাড়া রপ্তানি আয়েও কৃষি খাতের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। তাই এদেশের অর্থনীতি অনেকাংশে কৃষির ওপর নির্ভরশীল।

উত্তরঃ

অতি প্রাচীনকাল থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থনীতি কৃষিপ্রধান অর্থনীতি হিসেবে পরিগণিত হয়ে আসছে। যদিও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশের অর্থনীতিতে শিল্প খাতের গুরুত্ব ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনে মৎস্য খাতসহ কৃষি খাতের অবদান প্রায় ১১.৩০ শতাংশ। দেশের শ্রমশক্তির মোট ৪৫.০০ শতাংশ কৃষি খাতে নিয়োজিত। দেশের রপ্তানি আয়েও কৃষিখাতের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। খাদ্যশস্য কৃষিখাতের অন্যতম প্রধান উৎপন্ন দ্রব্য। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে খাদ্য উৎপাদন ক্রমবর্ধমান এবং দেশটি ক্রমশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে উঠছে। এছাড়া আমাদের শিল্প খাতের অনেক শিল্পের কাঁচামালের যোগান দেয় আমাদের কৃষি খাত। যেমন পাটশিল্প, চা ও চামড়াশিল্প ইত্যাদি। এসব কারণেই কৃষি খাত এখন পর্যন্ত দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে বিবেচিত।

উত্তরঃ

কৃষি খাত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে একটি প্রধান ও গুরুত্বপূর্ন খাত। এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত্তিস্বরূপ। তবে এত গুরুত্বপূ হলেও কৃষি উৎপাদন প্রণালি এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ আধুনিক হয়ে ওঠে নি। চাষাবাদের আওতাধীন জমির বৃহদংশে এখন পর্যন্ত সনাতন পদ্ধতির চাষাবাদ চলছে। এর ফলে কৃষিজমির উৎপাদনশীলতাও কম। এছাড়া এদেশের কৃষি প্রকৃতিনির্ভর। বৃষ্টিপাতের সময় ও পরিমাণ কৃষি উৎপাদনের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে। যথাসময়ে প্রয়োজনীয় পরিমাণ বৃষ্টিপাত না হলে বা অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত হলে উৎপাদন বিপুল পরিমাণে কমে যায়। কৃষি খাতের আরেকটি বড় ত্রুটি হলো কৃষক বা কৃষি মজুরদের ন্যায্য মজুরি দেওয়া সবক্ষেত্রে নিশ্চিত করা যায় না। এছাড়া পরিবহন সুবিধার অপ্রতুলতা ও বাজার ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে প্রকৃত উৎপাদকেরা অনেক ক্ষেত্রেই উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পায় না। এ বিষয়টি দেশের সমগ্র কৃষিক্ষেত্রে একটি বিরূপ প্রভাব ফেলে।

উত্তরঃ

মোট দেশজ উৎপাদনে শিল্প খাতের অবদান ক্রমবর্ধমান হলেও আমাদের শিল্পখাতে মৌলিক ও ভারী শিল্পের (Basic and Heavy Industries) অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। সার কারখানা, চিনি ও খাদ্যশিল্প, বস্ত্রশিল্প, পাটশিল্প, চামড়াশিল্প, তৈরি পোশাক শিল্প দেশের প্রধান প্রধান শিল্পের অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু অর্থনীতির উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে - হলে দ্রুত শিল্পায়ন প্রয়োজন। এজন্য ভারী বা মৌলিক শিল্প যেমন লৌহ. ও ইস্পাত শিল্প, অবকাঠামোর জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন, জ্বালানি শিল্প ইত্যাদি অত্যাবশ্যক। দেশে ভারী যানবাহন সংযোজন, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ও জলযান নির্মাণ এবং মেরামত এসব শিল্প রয়েছে- কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় এগুলোও অপ্রতুল।

উত্তরঃ

মজুরির নিম্নহার, ব্যাপক বেকারত্ব ও অর্ধ-বেকারত্বের ফলে জনগণের গড় আয় অর্থাৎ মাথাপিছু আয় কম। বর্তমানে (২০২২-২০২৩) মাথাপিছু আয় (বার্ষিক) ২৭৪৯ মার্কিন ডলার। এ আয় এমনকি প্রতিবেশী দেশগুলোর চেয়েও কম। নিম্ন মাথাপিছু আয়ের কারণে জীবনযাত্রার মানও নিম্ন দেশের ১৮.৭ শতাংশ জনগণ দ্রারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে।

উত্তরঃ

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও প্রতিকূল পরিবেশ বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদনকে ব্যাহত করে থাকে। বন্যা, খরা, ভূমিক্ষয়, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, ঝড়-বৃষ্টি এবং বৈরি আবহাওয়ার কারণে কৃষি উৎপাদন ব‍্যাহত হয়। প্রাকৃতিক এসব প্রতিকূলতার কারণে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হয়।

উত্তরঃ

শিল্প ও সেবা খাতের অগ্রগতির সাথে দেশে বিদ্যমান শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির সম্পর্ক রয়েছে। ফলে সুশাসনের অভাব শিল্প ও সেবা খাতের অগ্রগতির অন্তরায় হিসেবে কাজ করে।

সুশাসনের অভাব দেশে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের ইচ্ছাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। তাছাড়া সুশাসনের অভাব দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মনে ভয়ভীতি এনে দেয়। সার্বিকভাবে সুশাসনের অভাব অর্থনীতিতে ঝুঁকি বৃদ্ধি করে যা শিল্প ও সেবা খাতের অগ্রগতিতে অন্তরায় হিসেবে কাজ করে।

উত্তরঃ

রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও নাগরিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করার জন্য আমাদের অর্থনৈতিক সমস্যাগুলোর সমাধান করা উচিত।

অর্থনৈতিক সমস্যা বলতে অর্থনৈতিক অনগ্রসরতাকে বোঝায়। অশিক্ষা, দক্ষ জনবলের অভাব, প্রাকৃতিক সম্পদের যথাযথ ব্যবহারে অক্ষমতা, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, দুর্নীতি ইত্যাদি একটি দেশের অর্থনৈতিক সমস্যাকে নির্দেশ করে। অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান না হলে কোনো দেশ সামনে এগোতে পারে না এবং জনগণের জীবনযাত্রার মান নিম্ন হয়। এ কারণে অবশ্যই অর্থনৈতিক সমস্যাগুলোর সমাধান করা উচিত।

উত্তরঃ

সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনব্যবস্থা একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য আবশ্যক একটি উপাদান। সুশাসন না থাকলে বিনিয়োগ, বণ্টন, উৎপাদন, ব্যবসায় বাণিজ্য সবকিছুই ব্যাহত হয়। আর দুর্নীতির কারণে অর্থ আত্মসাৎ, ব্যাংক ঋণ খেলাপি ইত্যাদি ঘটনা ঘটে। এরূপ ব্যবসায় বাণিজ্য, শিল্প, সঞ্চয়, বিনিয়োগ সবকিছুকেই ব্যাহত করে। ফলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ব্যাহত হয়।

উত্তরঃ

আয়ের যে অংশ বর্তমানে ভোগে ব্যয় না করে ভবিষ্যতের জন্য জমা রাখা হয় তাকে সঞ্চয় বলে। একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোনো ব্যক্তি যে আয় করে তার সবটুকুই যে বর্তমানে ভোগের জন্য ব্যয় না করে একটি অংশ ভবিষ্যতে ব্যয় করার জন্য জমা রাখে। কিন্তু বাংলাদেশের জনগণের মাথাপিছু আয় নিম্ন হওয়ায় জনগণ ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চয় করতে পারে না। এ কারণে বাংলাদেশে সঞ্চয়ের হার কম।

উত্তরঃ

বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের অন্তর্ভুক্ত। কেননা অব্যাহত উন্নয়ন প্রচেস্টা ও কার্যক্রম এবং আর্থসামাজিক কিছু সূচকের যেমন-| শিক্ষায় জেন্ডার সমতা, শিশু ও মাতৃ মৃত্যুর হার হ্রাস, প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তির হারে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি প্রভৃতি উচ্চমানের কারণে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের পর্যায়ভুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা যায়। দ্রুত শিল্পায়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, নগরায়ণ ইত্যাদি এর সাক্ষ্য বহন করে।

উত্তরঃ

উন্নত দেশের পাঁচটি বৈশিষ্ট্য নিচে উল্লেখ করা হলো-
১. উন্নত দেশসমূহের প্রধান লক্ষণ হলো এসব দেশের জনগণের মাথাপিছু আয় অত্যন্ত বেশি এবং তাদের জীবনযাত্রার মানও অত্যন্ত উন্নত।
২. উন্নত দেশগুলোর অর্থনীতি মূলত শিল্পনির্ভর।
৩. উন্নত দেশসমূহের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এসব দেশের আর্থসামাজিক অবকাঠামো অত্যন্ত উন্নত।
৪. উন্নত দেশসমূহের সঞ্চয়, মূলধন গঠন ও বিনিয়োগের হার উচ্চ।
৫. উন্নত দেশসমূহের উৎপাদন পদ্ধতি ও বণ্টন প্রক্রিয়া খুবই উন্নত।

উত্তরঃ

প্রধানত মাথাপিছু প্রকৃত আয়ের নিরিখে একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। যেসব দেশের জনগণের মাথাপিছু প্রকৃত আয় উন্নত দেশ তথা যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং পশ্চিম ইউরোপীয় দেশসমূহের জনগণের মাথাপিছু আয়ের তুলনায় অনেক কম, সেসব দেশকে অনুন্নত দেশ বলা হয়। তবে শুধু মাথাপিছু প্রকৃত আয়ের ভিত্তিতে একটি দেশকে অনুন্নত বলা ঠিক নয়। অনুন্নত দেশ বলতে সম্পদের পূর্ণ ব্যবহার করতে সক্ষম নয়, এমন দেশকেও বোঝায়। অনেক অর্থনীতিবিদের মতে, যেসব দেশে অব্যবহৃত জনশক্তি এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সহাবস্থান, সেসব অনুন্নত দেশ। অধ্যাপক র‍্যাগনার নার্কস বলেন, অনুন্নত দেশ হচ্ছে সেসব দেশ যেগুলোতে জনসংখ্যা ও প্রাকৃতিক সম্পদের তুলনায় পুঁজি বা মূলধন কম।

উত্তরঃ

কোনো দেশের জাতীয় আয়ের বার্ষিক বৃদ্ধির হারকে প্রবৃদ্ধির হার বলে। অর্থাৎ, প্রবৃদ্ধির হার হচ্ছে জাতীয় আয়ের পরিবর্তনের হার।

সুতরাং কোনো দেশের প্রবৃদ্ধির হার ২% বলতে বোঝায়, দেশটির জাতীয় আয় বার্ষিক ২% বৃদ্ধি পেয়েছে।

উত্তরঃ

অর্থনীতিতে প্রকৃতিগত পরিবর্তন বলতে অর্থনৈতিক কাঠামোর রূপান্তরকে বোঝায়। এছাড়া প্রকৃতিগত পরিবর্তন বলতে কৃষিপ্রধান অবস্থা থেকে শিল্পপ্রধান অর্থনীতিতে পরিণত হওয়াকেও বোঝায়।
এর ফলে দেশ গ্রামীণ অর্থনীতি থেকে শহরভিত্তিক 'অর্থনীতি ও সমাজ ব্যবস্থায় রূপান্তরিত হয়। সঞ্চয় ও মূলধন গঠনের হার ও বিনিয়োগও বৃদ্ধি পায়। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায়, বেকারত্ব হ্রাস এবং উৎপাদন বৃদ্ধি পায়। যার ফলে জীবনযাত্রার মান ক্রমাগত উন্নত হতে থাকে।

উত্তরঃ

অর্থনৈতিক উন্নয়ন বলতে বোঝায় অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন।

অর্থনৈতিক উন্নয়ন হলো সমৃদ্ধি বা সার্বিক মানোন্নয়ন। দেশের সম্পদ ও সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে আর্থসামাজিক সমৃদ্ধি ও বিকাশ সাধনকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন বলা যায়। জাতীয় আয়ের বিবেচনায় অর্থনৈতিক উন্নয়ন নির্ধারণ করা হয়। অর্থনৈতিক উন্নয়ন অর্জনের প্রক্রিয়ায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের সাহায্য-সহযোগিতা ও সমর্থনেরও প্রয়োজন হয়।

উত্তরঃ

বিশ্বের উন্নত ও অনুন্নত দেশসমূহের মধ্যপর্যায়ে আরেক ধরনের দেশ আছে- যেগুলোকে বলা হয় উন্নয়নশীল দেশ। এসব দেশে মাথাপিছু প্রকৃত আয় উন্নত দেশসমূহের তুলনায় অনেক কম। উন্নয়নশীল দেশসমূহে অনুন্নত অর্থনীতির অধিকাংশ বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। এগুলোর মধ্যে রয়েছে কৃষিখাতের প্রাধান্য, শিল্পখাতের অনগ্রসরতা, ব্যাপক বেকারত্ব, পরিবহন, যোগাযোগ ও বিদ্যুতের অপর্যাপ্ততা, শিক্ষার নিম্নহার, মূলধন গঠন ও বিনিয়োগের নিম্নহার, নিম্ন মাথাপিছু আয় ও দারিদ্র্য, জনসংখ্যা বৃদ্ধির উচ্চহার ইত্যাদি।

উত্তরঃ

দুই বা ততোধিক দেশের মধ্যে সংঘটিত বাণিজ্যকে বৈদেশিক বাণিজ্য বলা হয়।

পৃথিবীর কোনো দেশই সবদিক থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। তাই প্রত্যেক দেশকেই অন্য দেশ থেকে কিছু আমদানি করতে হয়; আবার কোনো দেশ তার নিজের চাহিদা মিটিয়ে কোনো না কোনো পণ্য অন্য দেশে রপ্তানিও করে থাকে। এভাবে বিভিন্ন দেশের মধ্যে যে বাণিজ্য গড়ে ওঠে তাই বৈদেশিক বাণিজ্য।

উত্তরঃ

বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রধানত স্বল্পমূল্যের কৃষিপণ্য, চা, কাঁচাপাট, শিল্পপণ্যের মধ্যে তৈরি পোশাক ও নিটওয়‍্যার, চামড়া, পাটজাত দ্রব্য, সিরামিক দ্রব্যাদি এবং শ্রমিক রপ্তানি করে। কিন্তু বাংলাদেশের আমদানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে সব উচ্চ মূল্যের মূলধনসামগ্রী। পেট্রোলিয়াম এবং খাদ্য ও বিলাসদ্রব্য। ফলে রপ্তানি আয় আমদানি ব্যয়ের তুলনায় অনেক কম হয়ে থাকে। এসব কারণে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে ঘাটতি রয়েছে।

উত্তরঃ

বৈদেশিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ. প্রধানত স্বল্পমূল্যের কৃষিজাত পণ্য, শিল্পপণ্যের মধ্যে তৈরি পোশাক ও নিটওয়্যার, সিরামিক দ্রব্যদি, ঔষধ এবং শ্রমিক রপ্তানি করে। কিন্তু বাংলাদেশের আমদানি পণ্যের মধ্যে রয়েছে উচ্চমূল্যের সামগ্রী। যেমন যন্ত্রপাতি, গাড়ি, খাদ্য ও বিলাসদ্রব্য ইত্যাদি। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আমদানির কারণে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য প্রতিকূল। বাংলাদেশের বৈদেশিক আমদানির ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রতিকূল অবস্থা অব্যাহত রয়েছে।

উত্তরঃ

মোট জাতীয় উৎপাদনকে ৩টি দিক থেকে বিবেচনা করে পরিমাপ করা যায় ।

উত্তরঃ

উৎপাদনের উপাদান ৪টি ।

উত্তরঃ

খাজনা

উত্তরঃ

মুনাফা

উত্তরঃ

কোনো দেশের মোট আয় ২ ভাগে ব্যয় করা হয়

উত্তরঃ

অর্থনীতিতে ব্যয়কারীদের প্রধানত ৩ শ্রেণিতে ভাগ করা যায়

উত্তরঃ

উৎপাদিত দ্রব্যসামগ্রী × দ্রব্যের আর্থিক মূল্য = মোট জাতীয় উৎপাদন

উত্তরঃ

উৎপাদনের উপাদান ৪টি

উত্তরঃ

GNP = GDP + (X-M)

উত্তরঃ

পৃথিবীর যেকোনো দেশের অর্থনীতিকে ৩টি খাতে ভাগ করা হয়

উত্তরঃ

'বনজ সম্পদ' কৃষি খাতের অন্তর্ভুক্ত ।

উত্তরঃ

ব্যাংক-বিমা অর্থনীতির সেবা খাতের অন্তর্গত

উত্তরঃ

বাংলাদেশের অর্থনীতিকে প্রধানত ১৯টি খাতে ভাগ করা যায়

উত্তরঃ

মৎস্য কৃষি খাতের অন্তর্ভুক্ত

উত্তরঃ

বিশ্বব্যাংক মাথাপিছু মোট জাতীয় আয়ের ভিত্তিতে পৃথিবীর দেশগুলোকে ৩ ভাগে ভাগ করেছে

উত্তরঃ

২০২৪ সালের তথ্য অনুযায়ী, লুক্সেমবার্গ হলো পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মাথাপিছু আয় সম্পন্ন দেশ।

উত্তরঃ

নিম্ন আয়ের দেশের সর্বোচ্চ মাথাপিছু আয় ১১৩৫ মার্কিন ডলার

উত্তরঃ

মধ্য আয়ের দেশগুলোকে ২ভাগে ভাগ করা যায়

উত্তরঃ

প্রাচীনকাল থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতি কৃষিপ্রধান

উত্তরঃ

ইংল্যান্ডে

উত্তরঃ

১৯৪৭ সালে

উত্তরঃ

উন্নয়নের মাত্রার ওপর ভিত্তি করে বিশ্বের দেশসমূহকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়েছে

উত্তরঃ

নগরায়ণের হার বৃদ্ধি

উত্তরঃ

সর্বাধিক বাংলাদেশী জনশক্তি রপ্তানি করা হয় সৌদি আরবে।

প্রবাসী বাংলাদেশী তাদেরকে বলা হয় যারা বাংলাদেশে জন্ম গ্রহণ করার পর অন্য কোনো দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। ভালো পরিবেশে বসবাস করা এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন ও পরিবারকে অর্থনৈতিক ভাবে সাবলম্বী করার আশায় বাংলাদেশীরা প্রবাসে পাড়ি জমায়।

উত্তরঃ

SAARC এর পূর্ণ রূপ South Asian Association for Regional Cooperation

উত্তরঃ

বাংলাদেশকে সবচেয়ে বেশি ঋণ দেয় জাপান দেশ হিসেবে, যদিও সংস্থা হিসেবে বিশ্বব্যাংক বা এডিবি বেশি ঋণ দেয়।

33
**'Provide valuable content and get rewarded! 🏆✨**
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Content

Related Question

View All

অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি কী? (জ্ঞানমূলক)

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি হচ্ছে মাথাপিছু মোট জাতীয় আয় বৃদ্ধি।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
1.2k

বৈদেশিক বাণিজ্য বলতে কী বোঝায়? (অনুধাবন)

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

সাধারণত দুই বা ততোধিক দেশের মধ্যে সংঘটিত বাণিজ্যকে বৈদেশিক বাণিজ্য বলা হয়।

পৃথিবীর কোনো দেশই সর্বদিক থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। তাই প্রত্যেক দেশকেই অন্য দেশ থেকে কিছু আমদানি করতে হয়; আবার কোনো দেশ তার নিজের চাহিদা মিটিয়ে কোনো না কোনো পণ্য অন্য দেশে রপ্তানিও করে থাকে। এভাবে বিভিন্ন দেশের মধ্যে যে বাণিজ্য গড়ে ওঠে তাই হচ্ছে বৈদেশিক বাণিজ্য।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
2.6k

অনিমা ও তার পরিবার কুয়াকাটা যাওয়ার পথে দেশের কোন ধরনের অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়? ব্যাখ্যা কর। (প্রয়োগ)

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

অনিমা ও তার বাবা কুয়াকাটা যাওয়ার পথে যে ধরনের অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয় তা হচ্ছে প্রকৃতিসৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা অর্থাৎ প্রাকৃতিক দুর্যোগ।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাংলাদেশে একটি সাধারণ ঘটনা। বলা হয়, বাংলাদেশ একটি দুর্যোগ কবলিত দেশ। প্রধান প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে রয়েছে বন্যা, খরা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড়, টর্নেডো ও নদীভাঙন। এ দুর্যোগগুলো প্রধানত দেশের কৃষিখাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এছাড়া বাড়িঘর, পথঘাট ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়। বিশেষত প্রতিবছর বন্যা ও নদীভাঙনে সীমিত কৃষি জমির এদেশের বিপুল পরিমাণ জমি নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। মানুষের প্রাণহানির পাশাপাশি গবাদি পশু, মৎস্য ও পাখি সম্পদেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। এ ক্ষতিপূরণ করেই প্রতিবছর আবার উৎপাদন কাজ শুরু করতে হয়। উদ্দীপকে অনিমা লক্ষ করে মহীপুরের ফেরিপার হতে গিয়ে ব্যাপক জলোচ্ছ্বাসের কারণে ফেরি সংলগ্ন পল্টুনের তিন-চতুর্থাংশ পানির নিচে ডুবে গেছে। এক্ষেত্রে জলোচ্ছ্বাস হচ্ছে একটি প্রকৃতি সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা।

তাই বলা যায়, অনিমা ও তার পরিবার কুয়াকাটা যাওয়ার পথে দেশের প্রকৃতি সৃষ্ট অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
422

অণিমার বাবার জানা প্রকল্পটি কি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক হবে? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও। (উচ্চতর দক্ষতা)

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

অনিমার বাবার জানা প্রকল্পটি হচ্ছে 'কম্প্রিহেনসিভ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম' বা সংক্ষেপে সিডিএমপি যা এদেশে প্রকৃতিসৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা দূর করার জন্য কাজ করছে। প্রকল্পটি অবশ্যই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়ক হবে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য দেশে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠেছে। সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ বিভাগ, এর অধীনস্থ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ব্যুরো ও আবহাওয়া অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড ইত্যাদি সংস্থা বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বাভাস প্রদান করে থাকে। বহুসংখ্যক এনজিও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় কাজ করছে। ত্রাণ ও পুনর্বাসন, খাদ্য, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরসমূহ, পানিসম্পদ পরিকল্পনা সংস্থা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার সাথে জড়িত। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ বিভাগ 'কম্প্রিহেনসিভ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রাম' শীর্ষক প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায় ২০১০-১৪ মেয়াদে বাস্তবায়ন করছে। এর আওতায় দুর্যোগ সম্পর্কে আগাম সতর্কীকরণ, দুর্যোগের জন্য পূর্বপ্রস্তুতি, ঝুঁকি হ্রাস, দুর্যোগ মোকাবিলায় জনগণের সক্ষমতা বৃদ্ধি ইত্যাদি পদক্ষেপ গৃহীত ও বাস্তবায়িত হচ্ছে। উদ্দীপকে অনিমা তার পরিবারের সদস্যদের সাথে কুয়াকাটায় বেড়াতে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে জলোচ্ছ্বাসের কারণে তাদের যাত্রাতে বিঘ্ন ঘটে। যা প্রকৃতসৃষ্ট প্রতিবন্ধকতাকে নির্দেশ করে। অনিমার বাবা সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে কথা বলে জানতে পারে, সরকার এ প্রতিবন্ধকতা দূর করতে একটি বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। সরকারের এ প্রকল্প কম্প্রিহেনসিভ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট প্রোগ্রামকে নির্দেশ করে। এ প্রোগ্রামের মাধ্যমে প্রাকৃতিক এসব দুর্যোগ মোকাবিলা করা সম্ভব হবে ফলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এ প্রোগ্রাম বিশেষভাবে অবদান রাখবে বলে আমি মনে করি।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
399

সেবা কী? (জ্ঞানমূলক)

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

যেকোনো অবস্তুগত দ্রব্য যার উপযোগ এবং বিনিময় মূল্য আছে, তাই সেবা।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
348

সুশাসনের অভাব দেশের শিল্প ও সেবা খাতের অগ্রগতিতে কেন অন্তরায় হিসেবে কাজ করে? (অনুধাবন)

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

শিল্প ও সেবা খাতের অগ্রগতির সাথে দেশে বিদ্যমান শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতির সম্পর্ক রয়েছে। ফলে সুশাসনের অভাব শিল্প ও সেবা খাতের অগ্রগতির অন্তরায় হিসেবে কাজ করে।

সুশাসনের অভাব দেশে বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগের ইচ্ছাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। তাছাড়া সুশাসনের অভাব দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মনে ভয়ভীতি এনে দেয়। সার্বিকভাবে সুশাসনের অভাব অর্থনীতিতে ঝুঁকি বৃদ্ধি করে যা শিল্প ও সেবা খাতের অগ্রগতিতে অন্তরায় হিসেবে কাজ করে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
378
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews