সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

Updated: 8 months ago
উত্তরঃ

সিদ্ধার্থের জন্মের সাত দিন পর তাঁর মাতা রানি মহামায়া মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর দায়িত্ব নেন রানি মহাপ্রজাপতি গৌতমী। বিমাতা মহাপ্রজাপতি গৌতমী কর্তৃক লালিত-পালিত হয়েছিলেন বলে সিদ্ধার্থের অপর নাম হয় গৌতম।

উত্তরঃ

সিদ্ধার্থ গৌতম চৌষট্টি রকমের লিপি, শাস্ত্রবিদ্যা, অশ্বারোহণ, রথচালনা, অসি-চালনা, যুদ্ধকৌশল এবং অন্যান্য, বিদ্যা শিক্ষালাভকরেন।

উত্তরঃ

বুদ্ধ সারনাথের ঋষিপতন মৃগদাবে তাঁর পঞ্চবর্গীয় শিষ্যদের কাছে ধর্মচক্র প্রবর্তন সূত্র দেশনা করেন।

উত্তরঃ

গৌতম বুদ্ধ খ্রিষ্টপূর্ব ৬২৩ অব্দে লুম্বিনী কাননে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম শুদ্ধোদন ও মাতা মহামায়া। তিনি ছিলেন বৌদ্ধধর্মের প্রবর্তক। তাঁর বাল্য নাম ছিল সিদ্ধার্থ। বুদ্ধত্ব লাভ করে তিনি হন গৌতম বুদ্ধ। আশি বছর বয়সে তিনি মহানির্বাণ লাভ করেন।

উত্তরঃ

সিদ্ধার্থ বা গৌতম বুদ্ধের জন্মের পর অনেক জ্যোতিষী আগমন করেন। তাঁরা শিশু সিদ্ধার্থের মধ্যে বত্রিশটি সুলক্ষণ দেখতে পান এবং ভবিষ্যদ্বাণী করেন- 'এই রাজকুমার গৃহে থাকলে রাজচক্রবর্তী রাজা হবেন, সন্ন্যাস জীবন ধারণ করলে মহাজ্ঞানী বুদ্ধ হবেন।'

উত্তরঃ

রাজকুমার সিদ্ধার্থ নগর ভ্রমণে বের হলে প্রথমদিন এক জরাজীর্ণ দুর্বল বৃদ্ধ লোককে দেখেন, দ্বিতীয় দিন, ব্যাধিগ্রস্ত যন্ত্রণাকাতর এক লোককে দেখেন তৃতীয় দিন এক মৃত ব্যক্তিতে, দেখেন এবং এই জরা, ব্যাধি, মৃত্যুকে দর্শন করে সিদ্ধার্থ বিষণ্ণ হয়েছিলেন।

উত্তরঃ

গৃহত্যাগের পর সিদ্ধার্থ নৈরঞ্জনা নদীর তীরে একটি অশ্বথ গাছের নিচে শুরু করেন কঠোর ধ্যান-সাধন। ছয় বছর ধ্যান-সাধনার পরে বৈশাখী পূর্ণিমা তিথিতে লাভ করেন বুদ্ধত্ব ও ধর্মপ্রচারে ব্রতী হন। তখন থেকেই তিনি গৌতম বুদ্ধ নামে পরিচিত হন।

উত্তরঃ

বাল্যকাল থেকেই সিদ্ধার্থ গৌতম রাজকীয় ভোগ-বিলাসের প্রতি উদাসীন ছিলেন। প্রায়ই তিনি একাকী নির্জনে ধ্যানমগ্ন হয়ে থাকতেন। নগর' ভ্রমণে বেরিয়ে এক গৃহত্যাগী সন্ন্যাসীকে দেখে জানতে পারেন- তিনি সংসার ত্যাগী বন্ধনহীন মুক্ত পুরুষ। ভোগ-বিলাস বিসর্জন দিয়ে শান্তি খুঁজছেন। তাই শান্তি অন্বেষণে গৌতম গৃহত্যাগ করেছিলেন।

উত্তরঃ

গৌতম বুদ্ধের জীবন জীবপ্রেমে সিক্ত। শুধু মানুষ নয়, ছোট-বড় সকল জীবের প্রতি বুদ্ধের অপরিসীম মমত্ববোধ ছিল। গৌতম বুদ্ধ বলেছিলেন 'সকল প্রাণী সুখী হোক এবং পঞ্চশীলে তিনি বলেছেন, 'প্রাণি হত্যা হতে বিরত থাকব, এই শিক্ষাপদ গ্রহণ করছি।' অর্থাৎ, জীবপ্রেমের অমীয় আহ্বান।

উত্তরঃ

সিদ্ধার্থ দেবদত্তকে বলেছিলেন, যে প্রাণ রক্ষা করে প্রাণীর ওপর তারই অধিকার। যে প্রাণ হননে উদ্যত হয়, প্রাণীর ওপর তার অধিকার থাকতে পারে না। হাঁসটি মৃত নয়, আহত। আমিই সেবা দিয়ে হাঁসটির জীবন 'রক্ষা করেছি। তাই হাঁসটি আমার- বলে আকাশে উড়িয়ে দিয়েছিলেন হাঁসটিকে।

উত্তরঃ

পালি 'মেত্তা' শব্দের অর্থ হচ্ছে 'মৈত্রী'; যার সমার্থক শব্দ হচ্ছে মিত্রতা, বুদ্ধত্ব, প্রেম, ভালোবাসা, হিতচিন্তা, পরোপকারিতা, শুভেচ্ছা, সৌহার্দ সৌজন্যবোধ ইত্যাদি। মৈত্রী হচ্ছে হিংসা-বিদ্বেষের বিপরীত দিক। এই মৈত্রী মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি বা সংস্কার।

উত্তরঃ

বুদ্ধদেব বলেছেন, মৈত্রী মানুষের মনকে উদার করে, শান্ত ও ঈর্ষামুক্ত রাখে। মৈত্রী মন থেকে ক্রোধ, হিংসা, হীন-প্রবৃত্তি দূরীভূত করে এবং অপরের প্রতি প্রেম, ভালোবাসা, মমত্ববোধ জাগ্রত করে। তিনি আরও বলেছেন, 'মা যেমন তাঁর একমাত্র পুত্রকে নিজের জীবন দিয়ে রক্ষা করে' তেমনি সকল প্রাণীর প্রতি মৈত্রী প্রদর্শন করবে।'

উত্তরঃ

বিম্বিসার রাজা পুত্রসন্তান লাভের আশায় সহস্র ছাগশিশু বলিদানের মাধ্যমে যজ্ঞ করতে চান। তখন সিদ্ধার্থ গৌতম ছাগশিশুর প্রাণভিক্ষা চেয়ে বলেন, মহারাজ আমি আপনার যজ্ঞ নষ্ট করতে চাই না। বিনা রক্তে যদি আপনার দেবতা তুষ্ট না হন, তবে ছাগশিশুর পরিবর্তে আমাকে বলি দিন।

উত্তরঃ

অহিংসা শব্দের সাধারণ অর্থ হলো হিংসা না করা। কিন্তু বৌদ্ধধর্ম শাস্ত্রে অহিংসা শব্দের অর্থ হিংসা না করা, কায়-মনো বাক্যে হিংসা বর্জন করা, কারও অনিষ্ট না করা, প্রাণী হত্যা হতে বিরত থাকা, সকল জীবের রক্ষা করা, মানবতা, কোমলতা ও দয়া প্রভৃতি প্রদর্শন করা।

উত্তরঃ

বুদ্ধদেব অহিংসাবাদী ছিলেন। তিনি বলেছেন, 'শুদ্ধ নিজেকে ভালোবাসলে হবে না, ভালোবাসতে হবে সকল জীবকে।' সকল জীবকে রক্ষা করতে হবে, মানবতা, কোমলতা, দয়া ও করুণা প্রদর্শন করতে হবে। যাতে কায়মন ও বাক্য দ্বারা কেউ কষ্ট না পায়। একজন্যই বৌদ্ধধর্মকে অহিংসার ধর্ম বলা হয়।

উত্তরঃ

সিদ্ধার্থ গৌতমকে তাঁর বিমাতা মহাপ্রজাপতি গৌতমী লালন-পালন করেন।

উত্তরঃ

সিদ্ধার্থ গৌতম ৪ দিন নগর ভ্রমণে বের হন।

উত্তরঃ

মানুষের অসম্ভাবী পরিণতি হলো জরা, ব্যাধি ও মৃত্যু।

উত্তরঃ

সিদ্ধার্থ গৌতম তৃতীয় দিন নগর ভ্রমণে বের হয়ে এক মৃত লোক দেখলেন।

উত্তরঃ

সিদ্ধার্থ গৌতম আষাঢ়ী পূর্ণিমার দিন গৃহত্যাগ করবেন বলে সংকল্প গ্রহণ করেন।

উত্তরঃ

বৌদ্ধ পরিভাষায় সিদ্ধার্থের গৃহত্যাগকে 'মহাভিনিষ্ক্রমণ' বলা হয়।

উত্তরঃ

সিদ্ধার্থ পায়ে হেঁটে বৈশালী নগরে পৌছলেন।

উত্তরঃ

অশ্বত্থ গাছের নিচে বসে সিদ্ধার্থ কঠোর সাধনা শুরু করেন।

উত্তরঃ

সিদ্ধার্থ গৌতম ছয় বছর ধ্যান সাধনা করেন।

উত্তরঃ

সিদ্ধার্থ বৈশাখী পূর্ণিমায় বুদ্ধত্ব লাভ করেন।

উত্তরঃ

বুদ্ধত্ব লাভের পর গৌতম সারনাথের ঋষিপতন মৃগদাবে পঞ্চবর্গীয় শিষ্যদের নিকট প্রথম ধর্ম প্রচার করেন।

উত্তরঃ

বৌদ্ধধর্মে জীবপ্রেমকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

উত্তরঃ

মৈত্রী মানুষের মনকে উদার, শান্ত এবং ঈর্ষামুক্ত করে।

উত্তরঃ

রাজা বিম্বিসার পুত্রসন্তান কামনায় মহাযজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

উত্তরঃ

গৌতম সিদ্ধার্থের বাল্যজীবনের অনেক ঘটনাই রয়েছে। তার মধ্যে একটি ঘটনা নিচে বর্ণনা করা হলো-

একদিন রাজা শুদ্ধোদন সিদ্ধার্থ গৌতমকে সাথে নিয়ে হাল কর্ষণ উৎসবে যান। হাল চাষের কারণে মাটির নিচে থেকে অনেক পোকামাকড় উঠছিল এবং ব্যাঙেরা সে পোকামাকড় ধরে খাচ্ছিল। এ দৃশ্য দেখে নিরীহ প্রাণীর প্রতি দুঃখে তাঁর মন ভরে গেল। মনে করুণা হলো। তখন রাজকুমার সিদ্ধার্থ জম্বুবৃক্ষের নিচে বসে জীবের দুঃখের কথা ভাবতে লাগলেন।

85

আজ থেকে আড়াই হাজার বছরেরও আগে গৌতম বুদ্ধ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন বৌদ্ধধর্মের প্রবর্তক।
তাঁর ধর্মের অনুসারীদের বৌদ্ধ বলা হয়। আমরা বৌদ্ধধর্মের অনুসারী। গৌতম বুদ্ধের বাল্য নাম ছিল সিদ্ধার্থ গৌতম। বুদ্ধত্ব লাভ করে তিনি গৌতম বুদ্ধ নামে খ্যাত হন। ছোটবেলা থেকেই জীবের প্রতি ছিল তাঁর অপরিসীম মমত্ববোধ। ছোট-বড় সকল প্রাণীকে তিনি সমানভাবে ভালোবাসতেন। তাঁর সেবায় ও আদরে অনেক প্রাণী সুস্থ হয়েছে এবং মৃত্যুর কবল থেকে রক্ষা পেয়েছে। ত্রিপিটকের গ্রন্থসমূহে গৌতম বুদ্ধের জীবপ্রেমের অনেক কাহিনি পাওয়া যায়। এ অধ্যায়ে আমরা গৌতম বুদ্ধের জীবপ্রেম সম্পর্কে পড়ব।

এ অধ্যায় শেষে আমরা

  • বুদ্ধের জীবপ্রেম ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • গৌতম বুদ্ধের জীবপ্রেমের কাহিনি বর্ণনা করতে পারব।

Related Question

View All
উত্তরঃ

সিদ্ধার্থের জন্মের সাত দিন পর তাঁর মাতা রানি মহামায়া মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর দায়িত্ব নেন রানি মহাপ্রজাপতি গৌতমী। বিমাতা মহাপ্রজাপতি গৌতমী কর্তৃক লালিত-পালিত হয়েছিলেন বলে সিদ্ধার্থের অপর নাম হয় গৌতম।

130
উত্তরঃ

সিদ্ধার্থ গৌতম চৌষট্টি রকমের লিপি, শাস্ত্রবিদ্যা, অশ্বারোহণ, রথচালনা, অসি-চালনা, যুদ্ধকৌশল এবং অন্যান্য, বিদ্যা শিক্ষালাভকরেন।

144
উত্তরঃ

বুদ্ধ সারনাথের ঋষিপতন মৃগদাবে তাঁর পঞ্চবর্গীয় শিষ্যদের কাছে ধর্মচক্র প্রবর্তন সূত্র দেশনা করেন।

149
উত্তরঃ

গৌতম বুদ্ধ খ্রিষ্টপূর্ব ৬২৩ অব্দে লুম্বিনী কাননে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম শুদ্ধোদন ও মাতা মহামায়া। তিনি ছিলেন বৌদ্ধধর্মের প্রবর্তক। তাঁর বাল্য নাম ছিল সিদ্ধার্থ। বুদ্ধত্ব লাভ করে তিনি হন গৌতম বুদ্ধ। আশি বছর বয়সে তিনি মহানির্বাণ লাভ করেন।

254
উত্তরঃ

সিদ্ধার্থ বা গৌতম বুদ্ধের জন্মের পর অনেক জ্যোতিষী আগমন করেন। তাঁরা শিশু সিদ্ধার্থের মধ্যে বত্রিশটি সুলক্ষণ দেখতে পান এবং ভবিষ্যদ্বাণী করেন- 'এই রাজকুমার গৃহে থাকলে রাজচক্রবর্তী রাজা হবেন, সন্ন্যাস জীবন ধারণ করলে মহাজ্ঞানী বুদ্ধ হবেন।'

98
উত্তরঃ

রাজকুমার সিদ্ধার্থ নগর ভ্রমণে বের হলে প্রথমদিন এক জরাজীর্ণ দুর্বল বৃদ্ধ লোককে দেখেন, দ্বিতীয় দিন, ব্যাধিগ্রস্ত যন্ত্রণাকাতর এক লোককে দেখেন তৃতীয় দিন এক মৃত ব্যক্তিতে, দেখেন এবং এই জরা, ব্যাধি, মৃত্যুকে দর্শন করে সিদ্ধার্থ বিষণ্ণ হয়েছিলেন।

97
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews