প্রকৃতির মূল উপাদান চারটি। প্রকৃতির চারটি মূল উপাদান হলো- মাটি, পানি, বায়ু এবং আলো।
পৃথিবীতে আলো ও তাপের প্রধান উৎস হলো সূর্য। মাটির উপর জন্মানো গাছপালা পানি, বায়ু, তাপ ও আলোর সাহায্যে বেড়ে উঠে। এসবের উপর নির্ভর করেই এ পৃথিবীতে মানুষের বসতি সম্ভব হয়েছে।
মানুষ ও পরিবেশের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। পরিবেশের প্রাকৃতিক উপাদান দ্বারা মানুষ প্রভাবিত হয়। অর্থাৎ পরিবেশের উপর নির্ভর করেই পৃথিবীতে মানুষের বসতি সম্ভব হয়েছে। তবে সভ্যতার ধারাবাহিক পরিবর্তনে মানুষ ও পরিবেশের সম্পর্কের মধ্যেও পরিবর্তন এসেছে।
সৃষ্টির শুরু থেকেই মানুষ প্রকৃতির উপর বেশি নির্ভরশীল। জীবনধারণের জন্য প্রকৃতি থেকেই মানুষ সবকিছু সংগ্রহ করে।
এমনকি ঘরবাড়ি তৈরিতে প্রকৃতি থেকে প্রয়োজনীয় উপাদান নির্বাচন করছে। এজন্য বলা হয়, মানুষ প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল।
মানুষ যখন থেকে চাষবাস করে স্থিতিবস্থায় এসেছে, তখন থেকেই প্রকৃতিকে জয় করার চেষ্টা চালিয়েছে। বনবাদাড় সাফ করে বড় এলাকা জুড়ে ফসলের ক্ষেত করেছে। আবার নিজের প্রয়োজনে মানুষ গাছপালা রোপণ করেছে। যা তাদের প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করেছে।
উদ্ভিদ, প্রাণী ও মানুষের সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য যে পারিপার্শ্বিক অবস্থার দরকার হয়, তাকে পরিবেশ বলে। 'এককথায় বলা যায়, আমাদের চারপাশে যে জিনিসগুলো রয়েছে সবগুলো মিলেই আমাদের পরিবশে।
প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়মে এক বা একাধিক উপাদানে গঠিত বা সামান্য পরিবর্তিত যেসব রাসায়নিক প্রক্রিয়াজাত যৌগিক পদার্থ শিলাস্তরে দেখতে পাওয়া যায়, তাকে খনিজ সম্পদ বলে। যেমন-প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা ও চুনাপাথর ইত্যাদি।
প্রাকৃতিক কোনো দুর্ঘটনা বা বিপর্যয় যখন কোনো জনপদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তোলে তখন তাকে আমরা বলি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। (যেমন- বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, টর্নেডো, ভূমিকম্প ইত্যাদি।)
মানুষ বাড়তে থাকায় পরিবেশের উপর চাপ বাড়ছে। ফলে মাটি, পানি, বায়ু ও তাপের সাথে মানুষের জীবনযাপনের যে ভারসাম্য থাকা দরকার ছিল তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে পরিবেশও তার ডারসাম্য হারাচ্ছে।
ধীরে ধীরে বেড়ে যাওয়া জনসংখ্যার চাপ দেশের নগরগুলোতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে নগরের বস্তির সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বসতি ও শিল্প কারখানা স্থাপনের প্রয়োজনে দেশের অনেক জলাভূমি তা ব্যবহারে ধ্বংস হয়ে যায়। এছাড়া অনেক সময় পাহাড়ের পাদদেশে ঘরবাড়ি নির্মাণে, ইটের ভাটার জন্য পাহাড় কাটা হয়। এগুলো সবই পরিবেশগত সমস্যার কারণ।
শব্দ দূষণের দুটি কারণ হলো-
১. বড় বড় কলকারাখানার সৃষ্ট শব্দ এবং
২. গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহন হর্ণ।
শব্দ দূষণ মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। শব্দদূষণের কারণে ঢাকা শহরের অনেক শিশু শ্বাসকষ্টে ভুগছে। তাছাড়া হৃদরোগ, ক্যান্সার, চর্মরোগ, নানাধরনের এলার্জি বাড়ছে।
ধীরে ধীরে বেড়ে যাওয়া জনসংখ্যার চাপ দেশের নগরগুলোতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। নগর প্রয়োজনের অতিরিক্ত জনসংখ্যার বাসস্থানসহ অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করতে পারে না। ফলে নগরে বস্তির সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জলজ জীববৈচিত্র্য বিলুপ্তের অন্যতম প্রধান কারণ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া। শিল্প কারখানার বর্জ্য নদীর পানিতে মিশ্রিত হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এছাড়া বসতি ও শিল্প-কারখানা স্থাপনের জন্য দেশের অনেক জলাভূমি ধ্বংস হয়ে জলজ জীববৈচিত্র্য বিলুপ্ত হচ্ছে।
বায়ুমণ্ডলের মধ্যে যখন দূষিত ধোঁয়া, গ্যাস, গন্ধ, বাষ্প প্রভৃতি ক্ষতিকর উপাদানের সমাবেশ ঘটে এবং যার ফলে মানুষ জীবজন্তু ও উদ্ভিদ জগতের ক্ষতি সাধিত হয়, তখন তাকে বায়ু দূষণ বলে।
পানি দূষণ বা জল দূষণ হলো জলাশয়ের দূষণ। জলাশয়গুলোর মধ্যে রয়েছে নদী, সাগর, মহাসাগর, জলাধার এবং ভূগর্ভস্থ জল। অর্থাৎ পানি বা জলের সাথে বিভিন্ন রোগজীবাণু, ময়লা-আবর্জনা বা বিষাক্ত পদার্থ মিশ্রিত হয়ে ব্যবহারের অনুপযুক্ত হয়ে পড়াকেই পানিদূষণ বলে।
শব্দ দূষণ বলতে মানুষের' বা কোনো প্রাণীর শ্রুতিসীমা অতিক্রমকারী কোনো শব্দ সৃষ্টির কারণে শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে বোঝায়। যানজট, কলকারখানা থেকে দূষণ সৃষ্টিকারী এমন তীব্র শব্দের উৎপত্তি হয়।
মানুষের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে উজাড় হয়ে যাচ্ছে অক্সিজেনের অফুরন্ত উৎস গাছপালা। নির্বিচারে বন-জঙ্গল ধ্বংস করার ফলে প্রতিনিয়ত কমে যাচ্ছে বাতাসে প্রত্যাশিত অক্সিজেনের পরিমাণ। ঝুঁকিতে পড়ে যাচ্ছে প্রয়োজনীয় খাদ্য, ঔষধ, জ্বালানি ইত্যাদির জোগান।
বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখছেন যে, পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ছে। পৃথিবীর তাপমাত্রা এভাবে বেড়ে যাওয়াকে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বলে। বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে আবহাওয়ার বিভিন্ন উপাদানের পরিবর্তন ঘটেছে।
একই জমি বারবার চাষ হওয়ার ফলে জমির স্বাভাবিক উর্বরা শক্তি কমে যাচ্ছে। এখন মানুষ ভূমিতে জৈব সার ছাড়াও রাসায়নিক সার দিচ্ছে। উর্বরা শক্তি কমে যাওয়ার ফলে ফসল উৎপাদন যেমন কমছে তেমনি প্রকৃতি বা পরিবেশেরও সর্বনাশ ডেকে আনছে।
ওজোন স্তর হচ্ছে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের একটি স্তর যেখানে তুলনামূলকভাবে বেশি মাত্রায় ওজোন গ্যাস থাকে। এই স্তর পৃষ্ঠ থেকে কমবেশি ২০-৩০ কি.মি. উপরে অবস্থিত। ওজোন স্তর আমাদের পৃথিবীকে সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে সুরক্ষা দেয়।
ক্রমাগত পৃথিবীর তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে দুই মেরুর। বরফ গলে সমুদ্রের উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে। তাতে সমুদ্রের তীরবর্তী দেশগুলোর নিম্নাঞ্চল ডুবে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর আরও অনেক দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
বাংলাদেশের পরিবেশগত সমস্যায় প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে তিনটি করণীয় পদক্ষেপ হলো-
১. অযথা গাছ কাটব না।
২. যেখানে সেখানে ময়লা ফেলব না।
৩. পাহাড় কার্টব না।
বাংলাদেশে পানি দূষণের তিনটি কারণ হলো-
১. গৃহস্থালির বর্জ্য,
২. রাসায়নিক ও কীটনাশক সার এবং
৩. কলকারখানার বর্জ্য।
বায়ু দূষণ প্রতিরোধে দুটি করণীয় হলো-
১. যেসব গাড়ি থেকে কালোধোঁয়া বের হয় সেগুলো চলাচল বন্ধ করতে হবে।
২. গাছ লাগাব ও গাছের যত্ন নেব।
পানি দষণ নিয়ন্ত্রণে দুটি করণীয় হলো-
১. নদী, খাল, জলাধারে বা সমুদ্রে ময়লা ফেলব না এবং
২. শিল্পবর্জ্য পানিতে ফেলব না।
Related Question
View Allআলো ও তাপের প্রধান উৎস হলো সূর্য।
মানুষ অত্যন্ত বুদ্ধিমান প্রাণী। বুদ্ধি খাটিয়ে নদীতে বাঁধ দিয়ে জমিতে সেচের ব্যবস্থা করছে। পানির শক্তি কাজে লাগিয়ে বড় বড় কলকারখানা চালাচ্ছে, শহর গড়ছে, গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহন চালাচ্ছে। শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বানিয়ে নিজেদের আরাম বাড়িয়েছে। এভাবে ক্রমেই মানুষ তার প্রয়োজনমতো প্রকৃতির ওপর আধিপত্য বাড়িয়েছে।
চিত্রে পরিবেশগত সমস্যা তথা পরিবেশ দূষণের চিত্র ফুটে উঠেছে।
আমরা জীবনের জন্য পানি পান করি এবং শ্বাস-প্রশ্বাস নিই। এ দুটি উপাদান দূষিত হওয়ার কারণে মানুষ বিভিন্ন রোগবালাইয়ে ভুগছে এবং অকালে মৃত্যুবরণ করছে। ক্রমবর্ধমান মানুষের চাহিদা মেটাতে উৎপাদন বাড়াতে হয়। যার ফলে গড়ে উঠেছে অনেক কলকারখানা। এসব কলকারখানার বেশির ভাগ গড়ে ওঠে নদীর উপকূলে। ফলে এর দূষিত বর্জ্য পানিতে মিশে নদীর পানি দূষিত করে। অপরদিকে কলকারখানার কালো ধোঁয়া বাতাসে কার্বন ডাইঅক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি করে। এভাবে অপরিকল্পিত শিল্পায়ন একটি দেশের পানি ও বায়ু দূষিত করে পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতার সৃষ্টি করে। উদ্দীপকের চিত্রে দেখা যাচ্ছে, কারখানার বিষাক্ত কালো ধোঁয়া বাতাসে মিশে বায়ুদূষণ করছে। এতে কারখানার বর্জ্য পানিতে মিশে পানি দূষিত করছে। দৃশ্যমান চিত্রে পানি ও বায়ু এ দুটি মৌলিক উপাদান দূষিত হচ্ছে।
উক্ত সমস্যা অর্থাৎ পরিবেশ দূষণ থেকে উত্তরণের জন্য আমার মতো অনেক শিশুর বেশকিছু করণীয় আছে বলে মনে করি।
পরিবেশ আমাদের সবার। তাই এর যথাযথ ব্যবহার ও সংরক্ষণের জন্য সবাইকে নিজ নিজ জায়গা হতে সচেতন হয়ে ভূমিকা পালন করতে হবে। যেমন আমরা অযথা গাছ কাটব না। যেখানে সেখানে মলমূত্র ত্যাগ করব না। যেখানে সেখানে ময়লা ফেলব না। বাড়ির বর্জ্য যথাস্থানে ফেলব। কোনো জলাধারে নোংরা ফেলব না। গাছ লাগাব ও গাছের যত্ন নেব। প্রকৃতির কাছাকাছি থাকব। মানুষের সৃষ্ট পরিবেশ দূষণের কারণগুলো জানব ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সচেতন হব। নিজের খাবার, পোশাক ও. অন্যান্য জিনিস নির্বাচন ও ব্যবহারে পরিবেশের ভারসাম্যের কথা বিবেচনা করব। যেসব গাড়ি কালো ধোঁয়া ছাড়ে, সেগুলো বন্ধ করতে শিক্ষক ও বড়দের সহায়তায় কার্যকর পদক্ষেপ নেব।
অতএব বলা যায়, আমি বা আমার মতো শিশুর উল্লিখিত পদক্ষেপগুলো নিজ অবস্থান হতে গ্রহণের মাধ্যমে পরিবেশগত সমস্যা সমাধানে ভূমিকা রাখব।
কমানুষ যখন থেকে চাষবাস করে স্থিতিবস্থায় এসেছে, তখন থেকেই প্রকৃতিকে জয় করার চেষ্টা চালিয়েছে।
প্রকৃতির চারটি মূল উপাদান হলো- মাটি, পানি, বায়ু এবং আলো। মানুষ মাটিকে উৎপাদনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে। মাটির উপর জম্মানো গাছপালা, পানি, বায়ু, তাপ ও আলোর সাহায্যে বেড়ে ওঠে। পানি, বাতাস ও তাপের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটলে মানুষের পক্ষে বেঁচে থাকা কঠিন হয়। অতএব বলা যায়, প্রকৃতির মূল উপাদানসমূহ মানুষের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
