সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

Updated: 6 months ago
উত্তরঃ

পদার্থের কিছু সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য আছে। যেমন-
১. পদার্থ জায়গা দখল করে।
২. পদার্থ বল প্রয়োগে বাধার সৃষ্টি করে।
৩. পদার্থের নির্দিষ্ট ওজন আছে।
৪. তাপ দিলে পদার্থের অবস্থার পরিবর্তন হয়।
৫. পদার্থ একাধিক অবস্থায় থাকতে পারে।

উদাহরণ: পানি একটি পদার্থ। কারণ পানির ওজন আছে, বল প্রয়োগে বাধার সৃষ্টি করে। তাপ প্রয়োগ করে পানির কঠিন অবস্থা বরফ থেকে তরলে পরিণত করা যায় এবং অধিক পরিমাণে তাপ দিলে তা বাষ্পে পরিণত হয়। আবার তাপ অপসারণ করে তরল পানিকে কঠিন বরফে পরিণত করা যায়।

উত্তরঃ

আলো এক ধরনের পদার্থ, এটা মিথ্যা।

উত্তরের পক্ষে যুক্তি: আমরা জানি, পদার্থের ওজন আছে, আয়তন আছে, বল প্রয়োগে বাধা সৃষ্টি করে। কিন্তু আলোর ক্ষেত্রে এ বৈশিষ্ট্যগুলো দেখা যায় না। তাই আলো এক প্রকার শক্তি, পদার্থ নয়।

কঠিন, তরল ও বায়বীয় পদার্থের মধ্যে মূল পার্থক্য নিচের ছকে দেওয়া হলো-

কঠিন

তরল

বায়বীয়

১. কঠিন পদার্থের। নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন আছে।১. তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু আকার নেই।১. বায়বীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন কোনোটিই নেই।
২. অণুগুলো পরস্পর নিকটে থাকে।২. অণুগুলো কঠিনের তুলনায় একটু দূরে থাকে।২. অণুগুলোর মধ্যে দূরত্ব অনেক বেশি।
৩. দৃঢ়তা আছে।৩. দৃঢ়তা নেই।৩. দৃঢ়তা নেই।
৪. নির্দিষ্ট আকৃতি আছে।৪. নির্দিষ্ট কোনো আকৃতি নেই।৪. নির্দিষ্ট কোনো আকৃতি নেই।
৫. আকার সহজে পরিবর্তন হয় না।৫. আকার ইচ্ছেমতো পরিবর্তন করা যায়।৫. কোনো আকার নেই।
উত্তরঃ

আমরা জানি, বৈদ্যুতিক তারে সবসময় সুপরিবাহী পদার্থ ব্যবহার করতে হয়। যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ খুব সহজে চলাচল করতে পারে তাদের বিদ্যুৎ সুপরিবাহী পদার্থ বলে। তামার মধ্য দিয়ে খুব সহজেই বিদ্যুৎ পরিবাহিত হয় বলে তামা একটি উত্তম পরিবাহী। তাই বৈদ্যুতিক তারে তামা ব্যবহার করা হয়।

উত্তরঃ

যে নির্দিস্ট তাপমাত্রায় কোনো কঠিন পদার্থ গলে তরলে পরিণত হয় তাকে ঐ পদার্থটির গলনাঙ্ক বলে।

যেমন, মোমের গলনাঙ্ক ৫৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ ৫৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় কঠিন মোম গলে তরলে রূপান্তরিত হয়।

আবার, যে নির্দিস্ট তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থ ফুটতে শুরু করে এবং বাষ্পে রূপান্তরিত হয়, তাকে ঐ তরল পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক বলে। যেমন, পানির স্ফুটনাঙ্ক ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানি ফুটতে শুরু করে এবং বাষ্পে রূপান্তরিত হয়।

উত্তরঃ

পদার্থের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. পদার্থ জায়গা দখল করে।
২. প্রত্যেক পদার্থের ভর আছে।

উত্তরঃ

ভৌত অবস্থার উপর ভিত্তি করে পদার্থ ৩ প্রকার। যথা:
১. কঠিন: লোহা, তামা, সোনা ইত্যাদি।
২. তরল: পানি, তেল, মধু ইত্যাদি।
৩. বায়বীয়: জলীয় বাষ্প, বাতাস, ধোঁয়া ইত্যাদি।

উত্তরঃ

কঠিন পদার্থের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকৃতি আছে।
২. সকল কঠিন বস্তুই জায়গা দখল করে, তাই সকল কঠিন বস্তুরই আয়তন আছে।

উত্তরঃ

তরল পদার্থের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. তরল পদার্থের নির্দিষ্ট কোনো আকৃতি, নেই। এটি যে পাত্রে রাখা হয় ঐ পাত্রের আকৃতি ধারণ করে।
২. তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন আছে। কারণ কঠিন পদার্থের মতো এরাও জায়গা দখল করে।'

উত্তরঃ

তরল পদার্থ কঠিন পদার্থের মতো দৃঢ় নয়। অর্থাৎ তরল পদার্থের, দৃঢ়তা নেই। তাই যে পাত্রে 'তরলকে রাখা হয়, সেই পাত্রের আকার অনুযায়ী তরল তার আকার পরিবর্তন করে। উদাহরণস্বরূপ, পানি একটি প্লাসে রাখলে গ্লাসের আকার ধারণ করে এবং একই পানি যদি একটি বোতলে রাখা হয়, তাহলে বোতলের আকার ধারণ করে।

উত্তরঃ

গ্যাসীয় পদার্থের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো নিম্নরূপ-
১. গ্যাসের কোনো নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন থাকে না, এরা যে পাত্রে থাকে সেই পাত্রের পুরোটাই ভরে ফেলে।
২. গ্যাসের অণুগুলোর মধ্যে আকর্ষণ বল খুবই কম; তাই এরা সহজেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে পারে।

উত্তরঃ

কঠিন ও তরল পদার্থের মধ্যে দুটি পার্থক্য নিম্নরূপ:
১. কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার থাকে। তবে তরল পদার্থের কোন নির্দিষ্ট আকার নেই, এটি যে পাত্রে রাখা হয় সেই পাত্রের আকার ধারণ করে।
২. 'চাপ প্রয়োগে কঠিন পদার্থের আকার সহজে পরিবর্তন করা যায় না। তরল পদার্থের উপর চাপের প্রভাব তুলনামূলক বেশি।

উত্তরঃ

বায়বীয় ও তরল পদার্থের মূল পার্থক্য হলো বায়বীয় পদার্থের কোনো নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন নেই, এরা যে পাত্রে থাকে সেই পাত্রের পুরোটাই ভরে ফেলে। তবে তরল পদার্থের একটি নির্দিষ্ট আয়তন থাকে, কিন্তু নির্দিষ্ট কোনো আকার থাকে না। এরা যে পাত্রে থাকে সেই পাত্রের নিচের দিকে পূর্ণ করে।

উত্তরঃ

গ্যাসের আয়তন পরিবর্তনশীল এবং এটি যে পাত্রে রাখা হবে সেই পাত্রের আকারের উপর নির্ভর করবে। গ্যাসের অণুগুলো যে পাত্রে থাকে সেই পাত্রের পুরোটাই ভরে ফেলে.। উদাহরণস্বরূপ, একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ হাইড্রোজেন গ্যাসকে একটি ছোট ফ্লাস্কে রাখলে ফ্লাস্কের সম্পূর্ণ আয়তন দখল করবে এবং একই গ্যাসকে একটি বড় ফ্লাস্কে রাখলে ফ্লাস্কের সম্পূর্ণ আয়তন দখল করবে। একারণে গ্যসীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন নেই।

উত্তরঃ

কঠিন ও গ্যাসীয় পদার্থের মধ্যে দুটি পার্থক্য নিম্নরূপ:

কঠিন পদার্থ

গ্যাসীয় পদার্থ

১. কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন থাকে।১. গ্যাসীয় পদার্থের কোনো নির্দিষ্ট আয়তন নেই, এটি যে পাত্রে রাখা হয় সেই পাত্রের সম্পূর্ণ স্থান দখল করে।
২. চাপ প্রয়োগে কঠিন পদার্থের আকার ও আয়তন সহজে: পরিবর্তন করা যায় না।২. চাপের প্রভাবে গ্যাসীয় পদার্থের আয়তন ব্যাপকভাবে পরিবর্তন হয়।
উত্তরঃ

মূলত পদার্থের ভৌত অবস্থার উপর ভিত্তি করে পদার্থের শ্রেণিবিভাগ করা হয়। এ ছাড়া পদার্থকে যেসব বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে শ্রেণিকরণ করা যায় তা হলো ঘনত্ব, কাঠিন্য, নমনীয়তা, তাপ পরিবাহিতা ও বিদ্যুৎ পরিবাহিতা।

উত্তরঃ

কঠিন প্লাস্টিকের নির্দিষ্ট আকৃতি আছে ও জায়গা দখল করে। তাই প্লাস্টিকের আয়তন আছে। প্লাস্টিকের আয়তন ও আকার সহজে পরিবর্তন করা যায় না। এরা যথেষ্ট দৃঢ় অর্থাৎ এদের দৃঢ়তা আছে।

উত্তরঃ

তেলের নির্দিষ্ট কোনো আকৃতি নেই। এটি যে পাত্রে রাখা হয় ঐ - পাত্রের আকৃতি ধারণ করে। তেলের নির্দিষ্ট আয়তন আছে। কারণ কঠিন পদার্থের মতো তেলেও জায়গা দখল করে। তেলের নির্দিষ্ট কোনো আকৃতি নেই। এদের আকৃতি পরিবর্তনশীল। তেলের দৃঢ়তা নেই।

উত্তরঃ

অক্সিজেনের নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন থাকে না, এরা যে পাত্রে থাকে সেই পাত্রের পুরোটাই ভরে ফেলে। অক্সিজেনের অণুগুলোর মধ্যে আকর্ষণ বল খুবই কম, তাই এরা সহজেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। অক্সিজেনের গ্যাসীয় পদার্থ হওয়ায় এর ঘনত্ব খুবই কম।

উত্তরঃ

ধাতু এবং অধাতুর দুটি উদাহরণ হলো-
১. বহুল পরিচিত দুটি ধাতু হলো: লোহা ও তামা।
২. বহুল পরিচিত দুটি অধাতু হলো: কার্বন ও সিলিকন।

উত্তরঃ

অধাতুর দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. অধাতু সাধারণত তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী হয় না।
২. অধাতু সাধারণত চকচকে হয় না। ধাতুর মতো এদের পৃষ্ঠতল মসৃণ ও চকচকে হয় না।

উত্তরঃ

সোনা একটি ধাতব পদার্থ। ধাতুর প্রধান বৈশিষ্ট্য এর উজ্জ্বলতা। সোনার পৃষ্ঠতল সাধারণত মসৃণ হয়। এ মসৃণ পৃষ্ঠে আলোর প্রতিফলনের দরুণ, ধাতব পৃষ্ঠকে উজ্জ্বল দেখায়। তাই অলোকিত স্থানে সোনা চকচক করে।

উত্তরঃ

লোহা একটি উত্তম তাপ পরিবাহী। যখন লোহার চামচের এক প্রান্ত গরম করা হয়, তখন সেই প্রান্তের কণাগুলো তাপ শক্তি শোষণ করে কম্পিত হতে শুরু করে। এই কম্পন শক্তি ক্রমান্বয়ে চামচের অন্যান্য পরমাণুতে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে চামচের এক প্রান্ত গরম হলে অন্য প্রান্তও অল্প সময়ের মধ্যে গরম হয়ে যায়।

উত্তরঃ

বৈদ্যুতিক তারে তামা ব্যবহার করা হয় এর উচ্চতর তাপীয় ও বৈদ্যুতিক পরিবাহিতার কারণে। তামা অন্যান্য ধাতুর তুলনায় বিদ্যুৎকে অনেক বেশি দ্রুত প্রবাহিত করে। অর্থাৎ, তামা বিদ্যুতের একটি খুব ভাল পরিবাহী। এছাড়াও, তামা খুব নমনীয়, যার ফলে এটি সহজে বিভিন্ন, আকারে ঢালাই করা যায়। এ কারণে বৈদ্যুতিক তারে তামা ব্যবহার করা হয়।

উত্তরঃ

সিলিকন একটি অধাতু। এটি ধাতুর ন্যায় তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবহনও করে না। তাই একে তাপ ও বিদ্যুৎ কুপরিবাহী বা অপরিবাহী পদার্থ বলা হয়।

উত্তরঃ

মোম-এর গলনাঙ্ক ৫৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ কঠিন মোমকে তাপ দিয়ে ৫৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় নেওয়া হলে তা গলতে শুরু করে। এরপর গলিত মোমের তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। যেহেতু ৫৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের পর মোম তরল অবস্থা প্রাপ্ত হয়, তাই ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় মোমকে কঠিন অবস্থায় পাওয়া যায় না।

উত্তরঃ

গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক দুটি ভিন্ন তাপমাত্রা, যা কোনো পদার্থের অবস্থার পরিবর্তন নির্দেশ করে। গলনাঙ্কের তাপমাত্রায় কোনো কঠিন পদার্থ গলে তরলে পরিণত 'হয়। অন্যদিকে, স্ফুটনাঙ্কের তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থ বাষ্পে পরিণত হয়। অর্থাৎ, গলনাঙ্ক কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় পরিবর্তনের সূচক, আর স্ফুটনাঙ্ক তরল অবস্থা থেকে বাষ্প অবস্থায় পরিবর্তনের সূচক।

উত্তরঃ

বরফের গলনাঙ্ক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বলতে বোঝায়, ঠিক এই তাপমাত্রায় বরফ গলে পানিতে পরিণত হতে শুরু করে। তখন তার অণুগুলোর কম্পন বৃদ্ধি পেয়ে একে অপর থেকে দূরে সরে যেতে শুরু করে। অর্থাৎ কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থায় পরিণত হয়।

উত্তরঃ

পানির স্ফুটনাঙ্ক ১০০° C বলতে বোঝায়, সাধারণ বায়ুমণ্ডলীয় চাপে যখন পানিকে ১০০° C তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করা হয়, তখন তা তরল অবস্থা থেকে বাম্প অবস্থায় পরিণত হতে শুরু করে। অর্থাৎ, এই তাপমাত্রায় পানির অণুগুলো এত বেশি গতিশক্তি লাভ করে যে তারা একে অপরের আকর্ষণকে ছাড়িয়ে বাষ্পে পরিণত হয়।

উত্তরঃ

কার্বন একটি অধাতু। অধাতুর আঘাত সহনীয়তা কম। অর্থাৎ অধাতুসমূহ ভঙ্গুর হয়। তাই কার্বন দণ্ডে আঘাত করা হলে তা সহজেই ভেঙে যায়।

উত্তরঃ

লোহা একটি ধাতু। ধাতুর প্লেট দণ্ডকে আঘাত করা হলে ঝন্ ঝন্ শব্দ হয় কিন্তু ভাঙে না। অর্থাৎ ধাতুর আঘাত সহনীয়তা বেশি। লোহা ধাতু হওয়ায় এর দণ্ড বা প্লেটে আঘাত করা হলে তা সহজে ভাঙে না। অর্থাৎ ভঙ্গুর নয়।

উত্তরঃ

জানা আছে, গলনাঙ্কের তাপমাত্রায় কঠিন পদার্থ গলে তরলে পরিণত হয়। অন্যদিকে, হিমাঙ্কের তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থ জমে কঠিনে পরিণত হয়। এই দুই প্রক্রিয়া পরস্পর বিপরীত হলেও, একই পদার্থের ক্ষেত্রে এই দুই তাপমাত্রায় কোনো পরিবর্তন হয় না।

অর্থাৎ, যে তাপমাত্রায় কোনো পদার্থ গলে, সেই একই তাপমাত্রায় তা জমেও।

উত্তরঃ

কোনো একটি তরল বস্তুর তাপমাত্রা যদি হিমাঙ্কের উপরে থাকে এবং হিমাঙ্ক যদি পারিপার্শ্বিক তাপমাত্রার চেয়ে বেশি হয়, তবে পারিপার্শ্বিক তাপমাত্রায় বস্তুটিকে রেখে দিলে তা ধীরে ধীরে তাপ হারাতে থাকে। ফলে এর তাপমাত্রা কমতে থাকে এবং যখন তাপমাত্রা হিমাঙ্কে চলে আসে, তখন এটি কঠিনে পরিণত হয়।

উত্তরঃ

যা জায়গা দখল করে এবং যার ভর আছে তাকেই পদার্থ বলে।

উত্তরঃ

পদার্থের তিন অবস্থা। যথা- কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় বা বায়বীয়।

উত্তরঃ

যে পদার্থের নির্দিষ্ট আকার নেই কিন্তু আয়তন আছে, তাই তরল পদার্থ।

উত্তরঃ

কোনো পদার্থ যতটুকু জায়গা দখল করে, সেটিকে ঐ পদার্থের আয়তন বলে।

উত্তরঃ

বল প্রয়োগে কোনো বস্তুর আকার পরিবর্তন না হওয়ার ধর্মকে দৃঢ়তা বলে।

উত্তরঃ

কঠিন পদার্থের নির্দিষ্ট আকার, আয়তন ও দৃঢ়তা রয়েছে।

উত্তরঃ

তরল পদার্থের নির্দিষ্ট কোনো আকৃতি নেই তবে নির্দিষ্ট আয়তন আছে।

উত্তরঃ

বায়বীয় পদার্থের নির্দিষ্ট আকার, আয়তন ও দৃঢ়তা কোনোটিই নেই।

উত্তরঃ

কোনো বস্তুর তাপ পরিবহনের ক্ষমতাকে ঐ বস্তুর তাপ পরিবাহিতা বলে।

উত্তরঃ

যে ধর্মের কারণে কোনো পদার্থের মধ্যে দিয়ে বিদ্যুৎ পরিবাহিত হয় তাকে বিদ্যুৎ পরিবাহিতা বলে।

উত্তরঃ

ধাতু তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী।

উত্তরঃ

অধাতু তাপ ও বিদ্যুৎ কুপরিবাহী।

উত্তরঃ

যে তাপমাত্রায় কোনো কঠিন পদার্থ গলে তরলে রূপান্তরিত হয়, ঐ তাপমাত্রাকে ঐ পদার্থের গলনাঙ্ক বলে।

উত্তরঃ

যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থ ফুটতে শুরু করে এবং বাষ্পে রূপান্তরিত হয়। সে তাপমাত্রাকে ঐ তরল পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক বলে।

উত্তরঃ

মোয়ের গলনাঙ্ক ৫৭° C।

উত্তরঃ

মোমের হিমাঙ্ক ৫৭° C।

উত্তরঃ

সাধারণ লবণের গলনাঙ্ক ৮০১° সেলসিয়াস।

উত্তরঃ

যেসব কঠিন পদার্থকে তাপ দিলে তা তরলে পরিণত না হয়ে সরাসরি বাষ্পে পরিণত হয়, সেগুলোকে উদ্বায়ী পদার্থ বলা হয়।

উত্তরঃ

যে তাপমাত্রায় তরল পদার্থ জমে কঠিন হয়ে যায় তাকে এর হিমাঙ্ক বলে।

উত্তরঃ

তরল পদার্থ থেকে কঠিন পদার্থ হওয়ার প্রক্রিয়া হলো কঠিনীভবন।

উত্তরঃ

কোনো বস্তুকে তখনই পদার্থ বলা যাবে যখন তার মধ্যে নিম্নের বৈশিষ্ট্যগুলো লক্ষ করা যাবে-
১. স্থান দখল করার ক্ষমতা,
২. ভর ও ওজন থাকবে,
৩. বল প্রয়োগে বাধার সৃষ্টি করবে,
৪. দৃঢ়তা থাকতে পারে আবার নাও থাকতে পারে।

উত্তরঃ

কঠিন পদার্থের অণুর সজ্জা নিম্নরূপ-
১. অণুগুলো পরস্পর খুব কাছাকাছি থাকে; কারণ এদের আন্তঃআণবিক শক্তি সবচেয়ে বেশি।
২. অণুসমূহের মধ্যে বিশেষ কোনো ফাঁক থাকে না।

উত্তরঃ

পদার্থগুলো প্রকৃতিতে কঠিন, তরল ও গ্যাসীয় অবস্থায় থাকতে পারে। তাপের প্রভাবে পদার্থের অবস্থার পরিবর্তন ঘটে। স্বাভাবিক তাপমাত্রায় কোনো পদার্থ কঠিন অবস্থায় থাকলে তাকে তাপ দিলে তরলে এবং আরও তাপ প্রয়োগে গ্যাসীয়' অবস্থায় পরিবর্তিত হয়। আবার গ্যাসীয় পদার্থকে তাপ কমিয়ে তরলে এবং আরও কমিয়ে কঠিন অবস্থায় পরিণত করা যায়।

উত্তরঃ

আমরা জানি, তরল পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার নেই। তরল পদার্থের নির্দিষ্ট কোনো আকার না থাকার কারণে যখন যে পাত্রে রাখা হয় সে পাত্রের আকার ধারণ করে।

উত্তরঃ

কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্যাসীয় পদার্থ। এর নির্দিষ্ট কোনো আকৃতি নেই। একে যে পাত্রে রাখা হয় সে পাত্রের আয়তনই এ গ্যাসের আয়তন। অর্থাৎ, গ্যাসীয় পদার্থ কার্বন ডাইঅক্সাইড এর নির্দিষ্ট আকৃতি ও আয়তন নেই। আর দৃঢ়তা তো নেই-ই।

উত্তরঃ

ধাতুর দু'টি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. ধাতব পদার্থসমূহ দেখতে চকচকে।
২. এরা তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী।

উত্তরঃ

আমরা জানি, বৈদ্যুতিক তারে সবসময় সুপরিবাহী পদার্থ ব্যবহার করতে হয়। যেসব পদার্থের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ খুব সহজে চলাচল করতে পারে তাদের বিদ্যুৎ সুপরিবাহী পদার্থ বলে। তামার মধ্য দিয়ে খুব সহজেই বিদ্যুৎ পরিবাহিত হয় বলে তামা একটি উত্তম পরিবাহী। তাই বৈদ্যুতিক তারে তামা ব্যবহার করা হয়।

উত্তরঃ

তামা বা কপার ধাতু হওয়ায় তাপ সুপরিবাহী। সকল ধাতুর মতো কপার তাপ পরিবহন করে। জানা আছে, যে সকল ধাতু ভালোভাবে তাপ পরিবহন করে তাদেরকে তাপ সুপরিবাহী বলা হয়। যেমন- কপার/তামার তারের একপ্রান্ত মোমবাতির শিখায় গরম করলে তারের অপর প্রান্ত গরম হওয়ায় তা তারের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় অপর প্রান্তে পৌঁছায়। ফলে গরম অনুভব করি। এজন্যই বলা যায়, কপার বা তামা ধাতু তাপ সুপরিবাহী।

উত্তরঃ

যেসব পদার্থ তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবহন করে, চকচকে, ঘাতসহ, প্রসারণশীল, নমনীয় সেসব পদার্থকে ধাতু বলে। অ্যালুমিনিয়াম (i) তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী, (ii) চকচকে, (iii) ঘাতসহ, (iv) আঘাতে প্রসারণশীল ও. (v) নমনীয়। তাই ধাতুর বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী অ্যালুমিনিয়াম একটি ধাতু।

উত্তরঃ

নিচে ধাতু ও অধাতুর মধ্যে পার্থক্য দেওয়া হলো-

ধাতু

অধাতু

১. তাপ ও বিদ্যুৎ সুপরিবাহী।১. তাপ ও বিদ্যুৎ কুপরিবাহী।
২. ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি।২. ঘনত্ব কম হয়।
৩. আঘাতে ঝনঝন শব্দ করে।৩. আঘাতে ঝনঝন শব্দ করে না।
৪. দেখতে চকচকে কিন্তু ভঙ্গুর নয়।৪. দেখতে অনুজ্জ্বল ও ভঙ্গুর প্রকৃতির।
উত্তরঃ

যে তাপমাত্রায় কোনো কঠিন পদার্থ গলে তরলে রূপান্তরিত হয়, ঐ তাপমাত্রাকে, ঐ পদার্থের গলনাঙ্ক বলে। মোমের গলনাঙ্ক ৫৭° সেলসিয়াস বলতে বুঝায়, ৫৭° C তাপমাত্রায় কঠিন মোম তার দৃঢ়তা হারিয়ে গলে তরলে পরিণত হয়।

উত্তরঃ

কোনো বস্তুর তরল অবস্থা থেকে কঠিন অবস্থার বস্তুতে পরিণত হওয়ার প্রক্রিয়াকে কঠিনীভবন বলে। যেমন- তরল মোম থেকে কঠিন মোম হওয়ার প্রক্রিয়া হলো কঠিনীভবন। মোমের ন্যায় প্রতিটি তরল পদার্থের ক্ষেত্রেই এমনটি হতে পারে।

138

লোহা, তামা, রবার, কাঠ ইত্যাদি হাজারো রকমের পদার্থ আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ভিন্ন ভিন্ন পদার্থের বৈশিষ্ট্য ভিন্ন ভিন্ন বলেই এদের একেকটি একেক কাজে ব্যবহৃত হয়।

এই অধ্যায় শেষে আমরা
• পদার্থের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা করতে পারব।
• বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের উপর ভিত্তি করে পদার্থের শ্রেণিবিন্যাস করতে পারব।
• তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহিতা ব্যাখ্যা করতে পারব।
• ধাতু এবং অধাতুর কল্যাণকর দিক উপলব্ধি করব এবং এদের ব্যবহার ও সংরক্ষণে যত্নশীল হব।
• পরীক্ষণের সাহায্যে ধাতু এবং অধাতুর তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহিতা নির্ণয় করতে পারব।
• গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক ব্যাখ্যা করতে পারব।
• পরীক্ষণের সাহায্যে পদার্থের গলনাঙ্ক এবং স্ফুটনাঙ্ক নির্ণয় করতে পারব।
• থামা ঘড়ি ও থার্মোমিটার সুনিপুণভাবে ব্যবহারে সক্ষম হব।
• শীতলীকরণ ব্যাখ্যা করতে পারব।
• আঘাতে ধাতু এবং অধাতুর পরিবর্তন ব্যাখ্যা করতে পারব।
• পরীক্ষণ কার্যক্রম চলাকালে পর্যাপ্ত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণে উদ্যোগী হব এবং অন্যদের সচেতন করব।

Related Question

View All
140
উত্তরঃ

যেসব মৌলিক পদার্থ বিদ্যুৎ ও তাপ সুপরিবাহী নয়, তাদেরকে অধাতু বলে। অধাতুকে আঘাত করলে ঝনঝন শব্দ করে না। এদেরকে সরু তারে ও পাতে পরিণত করা যায় না। এরা নিম্ন গলনাঙ্ক ও স্ফুটনাঙ্ক বিশিষ্ট। যেমন- কার্বন, নাইট্রোজেন, সালফার প্রভৃতি অধাতু।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
10 months ago
193
উত্তরঃ

ফজলুল হক সাহেবের স্ত্রীর ব্যবহৃত পাত্রটির উপাদান হচ্ছে এলুমিনিয়াম। এটি একটি হালকা নীলাভ সাদা ধাতু। এ ধাতুটির ব্যবহারের দিক থেকে অনেক গুরুত্ব রয়েছে। যেমন-

১. এলুমিনিয়াম ধাতু তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী।

২. ধাতুটি খুব হালকা এবং ভারবহনের ক্ষমতা আছে বলে এর ধাতু সংকরসমূহ উড়োজাহাজ, রেলগাড়ি, মটরগাড়ি, ট্রাম প্রভৃতির অংশ নির্মাণ করতে ব্যবহৃত হয়।

৩. বিদ্যুৎ সুপরিবাহী এবং কপারের তুলনায় সস্তা বলে বৈদ্যুতিক কেবল হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়।

৪. হালকা বহনক্ষম সিড়ি নির্মাণে, বাসনপত্র, চেয়ার, বাক্স প্রভৃতি তৈরিতে এ ধাতু প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়।

৫. এলুমিনিয়ামের পাতলা পাত দিয়ে সিগারেট, চকলেট ও অনেক খাদ্য দ্রব্যের মোড়ক তৈরি করা হয়।

৬. চকচকে বার্নিশ তৈরিতে এলুমিনিয়াম চূর্ণ ব্যবহৃত হয়।

অতএব উপরোক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি যে, ফজলুল হক সাহেবের স্ত্রীর ব্যবহৃত পাত্রটির উপাদানের গুরুত্ব অপরিসীম।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
10 months ago
152
উত্তরঃ

রান্নার ক্ষেত্রে ফজলুল হক সাহেবের স্ত্রী বেশি সুবিধা পায়।

বিশ্লেষণ: উদ্দীপকে আমরা পাই, ফজলুল হক সাহেবের মা মাটির চুলায় মাটির পাতিলে রান্না করেন। অপরদিকে তার স্ত্রী গ্যাসের চুলায়এলুমিনিয়ামের পাত্রে রান্না করেন। ফজলুল হক সাহেবের মা মাটির চুলায় রান্না করার কারণে তিনি কম সুবিধা পান। কারণ, মাটি তাপ কুপরিবাহী বলে এর মধ্য দিয়ে তাপ চলাচল করে ধীরগতিতে। যার ফলে মাটির চুলায় মাটির পাতিলে রান্না করলে সহজে তাপ পাতিলের জিনিসকে সিদ্ধ করে না। এতে তার অনেক বেশি জ্বালানি খরচ করতে হয়। তাছাড়া মাটির চুলায় তিনি জ্বালানি হিসেবে যে কাঠ খড়ি ব্যবহার করেন আমরা জানি যে, তার প্রায় ৮৫ ভাগ নষ্ট হয়ে যায়। অন্যদিকে এলুমিনিয়ামের তাপ পরিবাহকত্ব মাটির তুলনায় অনেক বেশি। ফলে এলুমিনিয়ামের তৈরি পাত্রে রান্না করলে পাতিলের জিনিস তাড়াতাড়ি সিদ্ধ হয়। তাছাড়া এতে গ্যাস ব্যবহারের কারণে জ্বালানিও বেশি খরচ হয় না। ফজলুল হক সাহেবের স্ত্রী এ সুবিধাগুলো পেয়ে থাকেন, যা তার মা পায় না। তাই বলা যায়, রান্নার ক্ষেত্রে ফজলুল হক সাহেবের স্ত্রী তার মায়ের চেয়ে বেশি সুবিধা পায়।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
10 months ago
137
উত্তরঃ

যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় কোনো তরল পদার্থ ফুটতে শুরু করে এবং বাষ্পে রূপান্তরিত হয়, তাই ঐ তরল পদার্থের স্ফুটনাঙ্ক।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
10 months ago
137
উত্তরঃ

কোনো বস্তুর তাপ পরিবহনের ক্ষমতাকে ঐ বস্তুর তাপ পরিবাহিতা বলে। যেমন, কাচের চেয়ে লোহা দ্রুত তাপ পরিবহন করে। তাই লোহার তাপ পরিবাহিতা বেশি, কাচের তাপ পরিবাহিতা লোহার চেয়ে কম।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
10 months ago
271
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews