বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, কোটি কোটি বছর পূর্বে ছোট অথচ ভীষণ ভারি ও গরম একটা বস্তুপিণ্ড বিস্ফোরিত হয়ে সকল দিকে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এ বিস্ফোরণকে মহাবিস্ফোরণ বলা হয়। মহাবিশ্বের সকল শক্তি, পদার্থ, মহাকাশ সব কিছু এই বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্টি হয়েছে।
মহাবিস্ফোরণের পর অতি ক্ষুদ্র পদার্থ কণা প্রথমে ছোট ছোট কণায় পরিণত হয়। তারপর ছোট ছোট কণাগুলো কিছুটা ঠান্ডা ও একত্রিত হয়ে জ্যোতিষ্কে পরিণত হয়। এভাবে সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্র সৃষ্টি হয়।
ধারণা করা হয় সূর্য যখন সৃষ্টি হয় তখন তার কিছু অবশিষ্ট অংশ মহাকাশে ধূলিকণার মতো ভেসে বেড়িয়েছে। তারপর এখন থেকে প্রায় সাড়ে চার বিলিয়ন বছর পূর্বে এই ধূলিকণা একত্রিত হয়ে পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে।
সূর্য মূলত গ্যাসের একটি পিন্ড। এই গ্যাসের পিন্ডে হাইড্রোজেন ও অন্যান্য গ্যাস মহাকর্ষ বলের সাহায্যে একত্র হয়ে থাকে। হাইড্রোজেন গ্যাস পরস্পরের সাথে যুক্ত হওয়ার সময় প্রচুর তাপ ও আলো উৎপন্ন হয়।
আমাদের মিল্কিওয়ে ছায়াপথের একটি নক্ষত্র সূর্য।
সূর্যের অভ্যন্তরে হাইড্রোজেন গ্যাস পরস্পরের সাথে যুক্ত হওয়ার সময় প্রচুর তাপ ও আলো উৎপন্ন হয়। সূর্যের নিজস্ব আলো থাকায় একে নক্ষত্র বলা হয়।
সূর্য পৃথিবীকে আলোকিত করে।
সূর্যের মধ্যে হাইড্রোজেন ও অন্যান্য গ্যাস মহাকর্ষ বলের সাহায্যে একত্র হয়ে থাকে। হাইড্রোজেন গ্যাস পরস্পরের সাথে যুক্ত হওয়ার সময় প্রচুর তাপ ও আলো উৎপন্ন হয়। এরপর সেই তাপ ও আলো সবদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তা থেকে কিছু পরিমাণ তাপ ও আলো আমাদের পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়।
সূর্যকে কেন্দ্র করে কতগুলো জ্যোতিষ্ক ঘুরছে। সূর্য এবং একে কেন্দ্র করে ঘূর্ণায়মান সকল জ্যোতিষ্ক ও ফাঁকা জায়গা নিয়ে আমাদের সৌরজগত গঠিত। সৌরজগতের বেশির ভাগ জায়গাই ফাঁকা। সূর্যকে কেন্দ্র করে গ্রহ, উপগ্রহ, ধূমকেতু, জ্যোতিষ্ক ইত্যাদি ঘুরছে।
পৃথিবীতে বিভিন্ন গ্যাসীয় পদার্থ রয়েছে। কিন্তু পৃথিবী সূর্যের মতো তাপ ও আলো উৎপাদন করতে পারে না। সূর্য থেকে উৎপন্ন তাপ ও আলো পৃথিবীতে আসে। তাই আলো ও তাপের জন্য পৃথিবীকে সূর্যের উপর নির্ভরশীল হতে হয়।
সূর্যের আলোকে ব্যবহার করে উদ্ভিদ খাদ্য তৈরি করে।
উদ্ভিদের তৈরি খাদ্যের উপর নির্ভর করে প্রাণীরা বেঁচে আছে। সূর্য থেকে তাপ আসে বলে পৃথিবী খুব ঠান্ডা হয়ে যায় না। এভাবে সূর্যের আলো ও তাপ পৃথিবীতে জীবদেরকে বাঁচিয়ে রেখেছে।
চাঁদ পৃথিবীর আয়তনের পঞ্চাশ ভাগের একভাগ। অন্যদিকে সূর্য পৃথিবীর চেয়ে তের লক্ষ গুণ বড়। সূর্য যদি একটা ফুটবলের মতো হয়, তাহলে পৃথিবী হবে একটা বালুকণার সমান।
চাঁদ এবং সূর্যের মধ্যে দুইটি পার্থক্য নিচে উল্লেখ করা হলো-
চাঁদ | সূর্য |
| ১. চাঁদের নিজস্ব কোনো আলো নেই। | ১. সূর্যের নিজস্ব তাপ ও আলো আছে। |
| ২. চাঁদ পৃথিবীর আয়তনের পঞ্চাশ ভাগের একভাগ। | ২. সূর্য পৃথিবীর চেয়ে তের লক্ষ গুণ বড়। |
পৃথিবীতে জীবের উপযোগী পরিবেশের বিকাশের প্রবাহচিত্র নিচে উল্লেখ করা হলো-

পৃথিবীতে বারবীয় পদার্থ যেমন কার্বন ডাইঅক্সাইড, জলীয়বাষ্প, মিথেন, কার্বন মনোক্সাইড ইত্যাদি বায়ুমণ্ডল গঠন করেছে। এরপর জলীয়বাষ্প তরল পানি হয়ে সমুদ্র তৈরি করেছে। বায়ুমন্ডলে অক্সিজেন ও নাইট্রোজেনের পরিমাণ বেড়েছে। এসব উপাদান পৃথিবীতে তৈরি হওয়ায় পৃথিবীতে জীবনের সৃষ্টি হয়েছে ও. জীব টিকে থাকতে পারছে।
পৃথিবী তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত।
১. বাইরের দিকের অংশ যাকে বলা হয় বায়ুমণ্ডল।
২. পৃথিবী পৃষ্ঠ বা ভূপৃষ্ঠ
৩. পৃথিবীয় ভেতরের অংশ।
বায়ুমণ্ডল মূলত নাইট্রোজেন ও অক্সিজেন দিয়ে তৈরি। এছাড়াও জলীয়বাষ্প, ধূলিকণা, আর্গন, কার্বন ডাইঅক্সাইড এবং আরও কিছু গ্যাস বায়ুমণ্ডলে রয়েছে।
পৃথিবী সকল কিছুকে তার নিজের দিকে টানে। সেই টানের ফলে বায়ুমন্ডলের গ্যাসগুলো পৃথিবীর পৃষ্ঠের কাছাকাছি থাকে। তাই ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি বায়ুমণ্ডল ঘন হয়ে থাকে।
ভূপৃষ্ঠ থেকে যত উপরের দিকে যাওয়া হয় বায়ুমণ্ডল তত হালকা বা পাতলা হতে থাকে। অর্থাৎ বায়ুতে অক্সিজেনের পরিমাণ কমতে থাকে। তাই পর্বতের চূড়ায় উঠতে শ্বাস নেওয়ার জন্য অক্সিজেন সাথে নিয়ে যেতে হয়।
বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ার সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে আমাদের রক্ষা করে। এই স্তর ভূ-পৃষ্ঠ থেকে পঞ্চাশ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এই স্তরে রয়েছে ওজোন নামের একটি গ্যাস। এই গ্যাস সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মিা শোষণ করে।
বায়ুমন্ডলের পর কিছুটা ভারি পদার্থ দিয়ে তৈরি হয়েছে পৃথিবীর পৃষ্ঠ বা ভূপৃষ্ঠ। এর চারভাগের প্রায় তিনভাগ জল আর একভাগ স্থল। ভূপৃষ্ঠের বেশির ভাগ অংশ জুড়ে আছে বিশাল বিশাল সাগর ও মহাসাগর। এছাড়া আছে লেক বা হ্রদ, নদী, খাল-বিল ইত্যাদি।
চারটি মহাসাগরের নাম নিচে উল্লেখ করা হলো-
১. প্রশান্ত মহাসাগর,
২. আটলান্টিক মহাসাগর,
৩. উত্তর মহাসাগর ও
৪. দক্ষিণ মহাসাগর।
বরফ গলা পানি ও বৃষ্টির পানি গড়িয়ে নামতে নামতে নদীর সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের দেশের উত্তরে হিমালয় পর্বতমালা অবস্থিত। এই পর্বতমালার চূড়ায় অনেক বরফ জমা আছে। এই বরফগলা পানি যখন পর্বতের গা বেয়ে নেমে আসে তখন সরু নদীর সৃষ্টি হয়।
সরু নদীর সাথে বৃষ্টির পানি যোগ হয়ে নদী বড় হতে থাকে। আমাদের দেশে বেশ বৃষ্টি হয়। হিমালয় পর্বতমালায় সৃষ্টি হওয়া নদীগুলো এই বৃষ্টির পানি বহন করে। তাই পদ্মা, যমুনা ও মেঘনা এই নদীগুলো বেশ বড়।
পৃথিবীর ভেতরের অংশ তিনটি ভাগে বিভক্ত। যেমন-
১. শিলামণ্ডল,
২. গুরুমন্ডল ও
৩. কেন্দ্রমন্ডল।
পৃথিবী সৃষ্টির পর বাইরের অংশ অর্থাৎ ভূপৃষ্ঠ থেকে তাপ চলে যাওয়ায় ভূপৃষ্ঠ ঠান্ডা হয়েছে। কিন্তু কেন্দ্রের দিক থেকে তাপ বেরিয়ে আসতে পারেনি। তাই কেন্দ্রমণ্ডল ও গুরুমণ্ডল বেশ উত্তপ্ত।
পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দু থেকে প্রায় ২৯০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের গোলকাকার জায়গা হলো কেন্দ্রমণ্ডল। কেন্দ্রমণ্ডলে নিকেল, লোহা, সীসা ইত্যাদি ধাতু উত্তপ্ত অবস্থায় আছে। কেন্দ্রমন্ডলের ভেতরের অংশে এরা কঠিন কিন্তু বাইরের দিকে গলিত অবস্থায় আছে।
কেন্দ্রমন্ডল ও শিলামন্ডলের মাঝে রয়েছে গুরুমণ্ডল। গুরুমন্ডলের বেশির ভাগই কঠিন। কিন্তু এর কিছু অংশ আধা-গলিত অবস্থায় থাকে।
প্লেট টেকটোনিক তত্ত্বের মূল ধারণা হলো, ভূপৃষ্ঠের নিচে পৃথিবীর শিলামণ্ডল কতগুলো অংশে বা খণ্ডে বিভক্ত। এগুলোকে প্লেট বলা হয়। এই প্লেটগুলো গুরুমণ্ডলের আংশিক তরল অংশের উপরে ভাসমান অবস্থায় আছে। এই প্লেটগুলো প্রতিবছরে কোনো একদিকে কয়েক সেন্টিমিটার সরে যায়। প্লেটগুলো কখনও একটি থেকে আরেকটি দূরে সরে যায়। আবার কখনও কখনও একে অন্যের দিকে আসে। কখনো কখনো প্লেটগুলো বছরে কয়েক মিলিমিটার উপরে ওঠে বা নিচে নামে।
প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব অনুসার, ভূপৃষ্ঠের নিচে পৃথিবীর শিলামণ্ডল কতগুলো অংশে বা খণ্ডে বিভক্ত। এগুলোকে প্লেট বলা হয়। এই প্লেটগুলো গুরুমণ্ডলের আংশিক তরল অংশের উপরে ভাসমান অবস্থায় আছে। প্লেটগুলো একটি অন্যটির সাথে ধাক্কা খেলে পৃথিবী কেঁপে ওঠে। একেই ভূমিকম্প বলে।
প্লেট টেকটোনিক তত্ত্ব অনুসার, ভূপৃষ্ঠের নিচে পৃথিবীর শিলামণ্ডল কতগুলো অংশে বা খণ্ডে বিভক্ত। এগুলোকে প্লেট বলা হয়। প্লেটগুলো একটি আরেকটির সাথে ঘষা বা ধাক্কা খেলে সেখানে প্রচুর তাপ সৃষ্টি হয়। তাপে ভূ-অভ্যন্তরের পদার্থ গলে যায়। এ, গলিত পদার্থ চাপের ফলে নিচ থেকে ভূপৃষ্ঠ ভেদ করে বেরিয়ে আসে। একেই আগ্নেয়গিরির উদগীরণ বলে।
শিলামণ্ডলের উপরের দিকের অংশ ভূ-ত্বক নামে পরিচিত। এ অংশের উপরে আমরা বাস করি। মাটিতে প্রয়োজনীয় খাদ্য, উৎপাদন করি। এছাড়াও এ অংশে রয়েছে খনিজ পদার্থ যা আমরা বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করি। তাই ভূত্বরু মানুষের জন্য পৃথিবীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
শিলামণ্ডলের উপরের দিকের অংশ ভূত্বক নামে পরিচিত। ভূ-ত্বক হয় পানি নয়তো মাটি দ্বারা আবৃত। ভূ-ত্বকের বেশির ভাগ পানি দ্বারা আবৃত। বাকি অংশটি গুড়ো বা ভাঙা পাথুরে পদার্থ দ্বারা আবৃত। এছাড়াও এর সাথে মিশে থাকে মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহের অংশ।
শিলা থেকে মাটি তৈরির প্রথম পর্যায়ে কঠিন শিলা দীর্ঘদিন' ধরে রোদ, বৃষ্টি, ঝড়, ভূমিকম্প ইত্যাদি কারণে ভেঙে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে পরিণত হয়। এছাড়া বায়ু, ররফ বা পানির প্রবাহ ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে অন্য জায়গা থেকে ক্ষুদ্র শিলাকণা এসে একটি স্থানে জমা হয়।
মাটি তৈরির প্রথম পর্যায়ে ক্ষুদ্র শিলা তৈরি হয়। তারপর শেষ পর্যায়ে ক্ষুদ্র শিলাকণার সাথে পানি, বায়ু, ক্ষুদ্র জীব যেমন ব্যাকটেরিয়া, পচা ও মৃত জীবের দেহাবশেষ যোগ হয়ে মাটি তৈরি হয়।
বিভিন্ন স্থানের মাটি বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় গঠিত হয়েছে। যেমন মাটির উপরিভাগে হিউমাস বেশি থাকলে মাটি কালো বা অনুজ্জ্বল দেখায়। দ্বিতীয় স্তরে হিউমাস কম থাকায় মাটি কিছুটা উজ্জ্বল এবং তৃতীয় স্তর ক্ষুদ্র শিলাকণা দ্বারা গঠিত হওয়ায় মাটি উজ্জ্বল হয়। এরূপ গঠন ভিন্নতার কারণেই বিভিন্ন স্থানের মাটি দেখতে বিভিন্ন রকম হয়।
পচা ও মৃত জীবদেহ মিশে তৈরি কালো বা অনুজ্জ্বল উপাদানকে হিউমাস বলে। মাটির উপরের দিকে হিউমাস বেশি থাকে। এই হিউমাস থেকে উদ্ভিদ তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পায়। মাটিতে হিউমাস না থাকলে উদ্ভিদ তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান পাবে না। তাই মাটিতে হিউমাস থাকা প্রয়োজন।
মাটির গঠনের দুটি উপাদানের নাম হলো-
১. হিউমাস ও
২. শিলাখণ্ড।
বাংলাদেশে নদীর কাছাকাছি স্থানে বন্যা হয়। বন্যার পানি পলিমাটি বয়ে আনে। নদীর কাছাকাছি এসব স্থানের মাটির উপরিভাগ পলিমাটি দ্বারা গঠিত। এসব স্থানের মাটির উপরের স্তর সেজন্য খুব পুরনো হয় না। এ মাটি ফসল চাষের জন্য খুব উপযোগী।
মাটিতে পাওয়া যায় এমন দুটি খনিজ পদার্থের নাম হলো-
১. চুনাপাথর ও
২. অ্যালুমিনিয়াম।
খনিজ পদার্থের দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. খনিজ পদার্থ তাজৈব পদার্থের সাথে মিশ্রিত অবস্থায় না থেকে আলাদা থাকে।
২. মানুষ তৈরি করে না, এদের প্রকৃতিতে পাওয়া যায়।
দুটি জীবাশ্ম জ্বালানির নাম হলো-
১. কয়লা ও
২. পেট্রোলিয়াম।
কয়লা, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মাটির নিচে পাওয়া গেলেও এদেরকে খনিজ পদার্থ বলা হয় না। কারণ এরা জীবদেহ থেকে তৈরি, এরা অজৈব নয়। জীবদেহ থেকে তৈরি এবং জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয় বলে এদেরকে জীবাশ্ম জ্বালানি বলা হয়।
পেট্রোলিয়াম মাটির নিচে পাওয়া গেলেও একে খনিজ পদার্থ বলা হয় না। কারণ এটি জীবদেহ থেকে তৈরি, অজৈব নয়। বড় বড় গাছ মাটির নিচে চাপা পড়ে দীর্ঘ সময়ে এটি পেট্রোলিয়ামে পরিণত হয়েছে।
প্রাকৃতিক গ্যাসের দুটি ব্যবহার হলো-
১. রান্নার কাজে ও ২. ইউরিয়া সার তৈরিতে।
রাতের বেলায় আকাশে যে অসংখ্য আলোকবিন্দু মিটমিট করে জ্বলতে দেখা যায় সেগুলোই জ্যোতিষ্ক।
পৃথিবী পৃষ্ঠের নিচে পৃথিবীর অভ্যন্তরকে ঘিরে যে শক্ত স্তর রয়েছে তাই শিলামণ্ডল।
পৃথিবীর শিলামন্ডলের প্লেটগুলো একটি অন্যটির সাথে ধাক্কা থেকে পৃথিবী কেঁপে ওঠে। একেই ভূমিকম্প বলে।
ভূত্বকের যে অংশটি নরম ও জৈব পদার্থ দ্বারা গঠিত তাকে মাটি বলে।
পৃথিবীর উপরিভাগের কঠিন আবরণই হলো ভূত্বক।
ভূপৃষ্ঠ থেকে বারো কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলকে ট্রপোস্ফিয়ার বলে।
ওজোন হলো বায়ুমণ্ডলের স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার স্তরে থাকা এক ধরনের গ্যাস যা সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে আমাদেরকে রক্ষা করে।
মাধ্যাকর্ষণ শক্তির দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে পৃথিবী, নির্দিষ্ট পথে সূর্যের চারদিকে এবং নিজ অক্ষে সর্বদা আবর্তন করাই পৃথিবীর আবর্তন।
ভূত্বক গঠনকারী যে অজৈব উপাদান মিশ্রিত অবস্থায় না থেকে আলাদা থাকে তাদেরকে খনিজ পদার্থ বলে।
মাটির উপরিভাগে পচা ও মৃত জীবদেহ মিশে তৈরি কালো বা অনুজ্জ্বল উপাদানই হিউমাস।
বিজ্ঞানীদের ধারণা অনুযায়ী প্রায় ১৩৭০ কোটি বা ১৩.৭বিলিয়ন বছর পূর্বে মহাবিশ্ব একটি অসীম ঘনত্বের ও প্রচণ্ড উত্তপ্ত বিন্দুভরে ঘণীভূত ছিল যা বিস্ফোরিত হয়ে সকল দিকে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। এ বিস্ফোরণকে মহাবিস্ফোরণ বলে। মহাবিস্ফোরণের পর অতিক্ষুদ্র পদার্থকণা প্রথমে ছোট ছোট কণায় পরিণত হয়। ছোট কণাগুলো কিছুটা ঠান্ডা ও একত্রিত হয়ে জ্যোতিষ্কে পরিণত হয়। এভাবে মহাবিস্ফোরণের মাধ্যমে সূর্য ও অন্যান্য নক্ষত্র সৃষ্টি হয়।
সূর্য অনেক পরিমাণে তাপ ও আলো উৎপন্ন করে। তা থেকে কিছু পরিমাণে তাপ ও আলো আমাদের পৃথিবীতে এসে পৌঁছায়। সূর্যের আলোকে ব্যবহার করে উদ্ভিদ খাদ্য তৈরি করে। উদ্ভিদের তৈরি খাদ্যের উপর নির্ভর করে প্রাণীরা বেঁচে আছে। সূর্য থেকে তাপ আসে বলে পৃথিবী খুব ঠাণ্ডা হয়ে যায় না। এভাবে সূর্যের আলো ও তাপ পৃথিবীতে জীবদেরকে বাঁচিয়ে রেখেছে। পৃথিবীতে বিভিন্ন গ্যাসীয় পদার্থ রয়েছে। কিন্তু পৃথিবী সূর্যের মতো তাপ ও আলো উৎপাদন করতে পারে না। তাই আলো ও তাপের জন্য পৃথিবী সূর্যের উপর নির্ভর করে।
বায়ুমণ্ডলের দুটি স্তর ট্রপোস্ফিয়ার ও স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার। ভূপৃষ্ঠ থেকে বারো কিলোমিটার পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলকে বলা হয় ট্রপোস্ফিয়ার। এ স্তরে বায়ুমণ্ডলের বেশির ভাগ গ্যাস ও মেঘ থাকে। ট্রপোস্ফিয়ারের ঠিক উপরেই শুরু হয়েছে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার। এ স্তর ভূপৃষ্ঠ থেকে পঞ্চাশ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এ স্তরে রয়েছে ওজোন গ্যাস। এ গ্যাস সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকে আমাদের রক্ষা করে।
নদীর কাছাকাছি স্থানে বন্যা হয়। বন্যার পানি পলি মাটি বয়ে আনে। তাই নদীর কাছাকাছি এসব স্থানের মাটির উপরিভাগ পলিমাটি দ্বারা গঠিত হয়। নদীর কাছাকাছি পলিমাটি সৃষ্ট মাটিতে পচা ও মৃত জীবদেহ মিশে থাকে। এ ধরনের মাটি ফসল চাষের জন্য উপযোগী। এ জন্যই নদীর কাছাকাছি মাটিতে ফসল ভালো হয়।
ভূত্বক বিভিন্ন পদার্থ দ্বারা গঠিত। এর কিছু অংশ জৈব পদার্থ দিয়ে গড়া। আরও আছে অজৈব পদার্থ। অজৈব অংশের মধ্যে অনেক সময় একাধিক পদার্থ মিশ্রিত অবস্থায় থাকে। কখনও একটি অজৈব পদার্থ মিশ্রিত অবস্থায় না থেকে আলাদা থাকে। এরূপ অজৈব পদার্থকে খনিজ পদার্থ বলে। খনিজ পদার্থের উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এদেরকে মানুষ তৈরি করে না, এদেরকে প্রকৃতিতেই পাওয়া যায়।
Related Question
View Allপৃথিবীর উপরিভাগের কঠিন বহিরাবরণই হলো ভূ-ত্বক।
পৃথিবীর শিলামণ্ডল কতকগুলো প্লেট দ্বারা গঠিত। প্লেটগুলো কখনো একটি থেকে আরেকটি সরে যায় বা ধাক্কা খায়। প্লেটগুলোর পরস্পরের সাথে ধাক্কার সময় প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়। এ তাপে ভূ-ত্বকের অভ্যন্তরের পদার্থ গলে যায়। এ গলিত পদার্থ ভূ-অভ্যন্তরের চাপের ফলে নিচ থেকে ভূপৃষ্ঠের ফাটল ভেদ করে বেরিয়ে আসে। একেই আগ্নেয়গিরির উদগীরণ বলে।
উদ্দীপকের চিত্রে R হচ্ছে কেন্দ্রমণ্ডল।
বর্ণনা: কেন্দ্রমণ্ডল পৃথিবীর অভ্যন্তরের তিনটি মূল ভাগের একটি। এটি পৃথিবীর কেন্দ্রের দিকের অংশ। পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দু থেকে প্রায় ৩৫০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের গোলাকার জায়গা নিয়ে কেন্দ্রমণ্ডলের বিস্তৃতি। পৃথিবী সৃষ্টির সময় কেন্দ্রের দিকের তাপ বের হতে পারেনি। তাই কেন্দ্রমণ্ডল অত্যন্ত উত্তপ্ত। এখানে নিকেল, লোহা, সীসা ইত্যাদি ধাতু আছে। এ ধাতুগুলোও উত্তপ্ত অবস্থায় আছে। কেন্দ্রমণ্ডলের ভেতরের অংশে এরা কঠিন কিন্তু বাইরের দিকে গলিত অবস্থায় আছে। এর অর্থ, ধাতুগুলোর মধ্যে যেগুলো এখনো গলেনি, কঠিন আছে সেসব ভারী পদার্থগুলো কেন্দ্রে আছে। আর যেগুলো গলে গেছে সেসব তরল পদার্থগুলো কিছুটা উপরে চলে এসেছে। এভাবে বিভিন্ন উত্তপ্ত গলিত ও কঠিন পদার্থের সমন্বয়ে পৃথিবীর কেন্দ্রমণ্ডল গঠিত।
উদ্দীপকের চিত্রের P ও Q স্তরের মধ্যে স্তরটি মাটি গঠন করে। এটি পৃথিবীর শিলামণ্ডল।
বিশ্লেষণ: শিলামন্ডল পৃথিবীর অভ্যন্তরের তিনটি মূল ভাগের উপরের স্তর।-এর উপরের দিকের অংশ হচ্ছে ভূ-ত্বক। ভূ-ত্বকের বেশির ভাগই পাথর, নুড়ি, কাঁকড়, বালি ইত্যাদি কঠিন পদার্থ যা শিলা নামে পরিচিত। এ কঠিন শিলা থেকে নরম মাটি তৈরি হয় সাধারণত দুটি পর্যায়ে-
প্রথম পর্যায়: কঠিন শিলা দীর্ঘদিন ধরে রোদ, বৃষ্টি, ঝড়, ভূমিকম্প এগুলোর কারণে ভেঙে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে পরিণত হয়। এছাড়া বায়ু, বরফ বা পানির প্রবাহ, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ইত্যাদি কারণে অন্য জায়গা থেকে ক্ষুদ্র শিলাকণা এসে একটি স্থানে জমা হয়।
দ্বিতীয় পর্যায়: ক্ষুদ্র শিলাকণার সাথে পানি, বায়ু, ক্ষুদ্র জীব যেমন- ব্যাকটেরিয়া, পচা ও মৃত জীবের দেহাবশেষ যোগ হয়। এভাবে মাটি তৈরি হয়। জৈব পদার্থের মিশ্রণে তৈরি হয় বলে মাটি নরম হয়। তবে বিভিন্ন স্থানের মাটি বিভিন্ন রকম হতে পারে। যতই ভিন্ন হোক মাটি গঠন হয় মূলত শিলামন্ডলের কঠিন শিলার সাথে জৈব পদার্থের মিশ্রণে।
অতএব, বুঝা গেল, পৃথিবীর অভ্যন্তরের উপরের শিলামণ্ডল স্তরটি কেবলমাত্র মাটি গঠন করে।
পৃথিবীর ভিতরের অংশ ৩টি ভাগে বিভক্ত।
পৃথিবী সকল কিছুকে তার নিজের দিকে টানে। সেই টানের ফলে বায়ুমন্ডলের গ্যাসগুলো পৃথিবীর পৃষ্ঠের কাছাকাছি থাকে। তাই ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি বায়ুমণ্ডল ঘন হয়ে থাকে। ভূপৃষ্ঠ থেকে যত উপরের দিকে যাওয়া যায় বায়ুমণ্ডল তত হালকা বা পাতলা হবে। তাই পর্বতারোহীরা পর্বত আরোহণের সময় শ্বাস নেওয়ার জন্য অক্সিজেন সাথে নিয়ে যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!