ইবাদত তিন প্রকার। প্রত্যেক প্রকার ইবাদতের সংক্ষিপ্ত পরিচয় নিচে দেওয়া হলো-
১. ইবাদতে বাদানি: শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের সাহায্যে যে ইবাদত করা হয় তাকে বলা হয় ইবাদতে বাদানি বা শারীরিক ইবাদত। যেমন- নামায, রোযা ইত্যাদি।
২.ইবাদতে মালি: অর্থের দ্বারা যে ইবাদত করতে হয় সেগুলোকে বলা হয় ইবাদতে মালি বা আর্থিক ইবাদত। যেমন- যাকাত দেওয়া, দান-সদকা করা ইত্যাদি।
৩. ইবাদতে মালি ও বাদানি: এমন কিছু ইবাদত আছে যা করতে শরীর ও অর্থ উভয়ের প্রয়োজন হয়। যেমন- হজ করা, জিহাদ করা ইত্যাদি।
তায়াম্মুম আরবি শব্দ। এর অর্থ ইচ্ছে করা। ইসলামি পরিভাষায় পবিত্র মাটি বা খাটি জাতীয় পবিত্র বস্তু যেমন- পাথর, চুনা, বালি দ্বারা পবিত্র হওয়ার নিয়তে মুখমণ্ডল ও উভয় হাত কনুইসহ মাসেহ করাকে তায়াম্মুম বলে। তায়াম্মুমের ফরজ তিনটি। যথা-
১. পবিত্রতা অর্জনের নিয়ত করা।
২. পবিত্র মাটি দিয়ে সমস্ত মুখমণ্ডল মাসেহ করা।
৩. উভয় হাত পবিত্র মাটি দিয়ে কনুইসহ মাসেহ করা।
আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের অন্যতম উপায় হলো একাগ্রতার সাথে সালাত আদায় করা। একাগ্রতা হচ্ছে অন্তরকে স্থির রাখা, অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনোকিছুর কল্পনাকে অন্তরে ইচ্ছাকৃতভাবে উপস্থিত না করা, অনর্থক নড়াচড়া না করা। নামায অবস্থায় বান্দার মন এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করে অথচ নামাযি টেরও পায় না। কারণ মানব মন কল্পনার রাজ্যে বিচরণ করতে অভ্যস্ত। এজন্যই বান্দাকে বিনয়, সহিষ্ণুতা ও মনের স্থিরতার সাথে নামায আদায় করতে হবে। যেমন- পবিত্র কুরআনে আছে, "মুমিনগণ অবশ্যই সফলকাম হয়েছে। যারা নিজেদের নামাযে বিনয়ী।" (সূরা মুমিনুন: ১-২)
ইবাদত আরবি শব্দ। এর অর্থ আনুগত্য করা। আল্লাহর দাসত্ব ও আনুগত্যই হলো ইবাদত। ইসলামি পরিভাষায় আল্লাহর সকল আদেশ-নিষেধ মেনে চলাকে ইবাদত বলে।
আল্লাহর দাসত্ব ও আনুগত্য হলো ইবাদত। ইসলামি পরিভাষায় আল্লাহর সকল আদেশ-নিষেধ মেনে চলার নামই ইবাদত। কারণ মহান আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন। তিনি অফুরন্ত নিয়ামত দান করেছেন। আল্লাহর দেওয়া অফুরন্ত নিয়ামত ভোগ করার পর এর শুকরিয়া (কৃতজ্ঞতা) আদায় করতে হবে। নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে আল্লাহর দেওয়া বিধানমতো চলার নামই ইবাদত।
মহানবি (স.) ইবাদত সম্পর্কে বলেছেন, 'যেখানেই থাকো আল্লাহকে ভয় করে চল। আর কখনো কোনো মন্দ কাজ হয়ে গেলে তখনি একটি ভালো কাজ করে ফেল। তাহলে এ কাজটি পূর্ববর্তী মন্দ কাজকে মিটিয়ে দেবে। আর মানুষের সাথে উত্তম আচরণ কর।' (তিরমিযি)
ইবাদতকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়- ১. ইবাদতে বাদানি বা শারীরিক ইবাদত, ২. ইবাদতে মালি বা আর্থিক ইবাদত, ৩. ইবাদতে মালি ও বাদানি বা শরীর ও অর্থ উভয়ের সংমিশ্রণে ইবাদত।
শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাহায্যে যে ইবাদত করা হয় তাকে বলা হয় ইবাদতে বাদানি বা শারীরিক ইবাদত। যথা- দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা ও রমযান মাসে রোযা রাখা। ইবাদতের মধ্যে শারীরিক ইবাদত সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থের ঘাঁরা যে ইবাদত করতে হয় সেগুলোকে বলা হয় ইবাদতে মালি বা আর্থিক ইবাদত। যেমন- যাকাত দেওয়া, সাদকা ও দান-খয়রাত করা ইত্যাদি।
শারীরিক ইবাদত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ শারীরিক ইবাদতের মাধ্যমে বান্দা তার 'আনুগত্য প্রকাশ করে, যা সকলের দৃষ্টিগোচর হয়। যেমন দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত। পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায়ের মাধ্যমে ব্যক্তি অন্যান্য সবাইকে জানিয়ে দেয় যে, সে একমাত্র আল্লাহর গোলামি করে। অন্য কারও না, যা আর্থিক ইবাদতের মাধ্যমে প্রকাশ করা যায় না।
'নাজাসাত আরবি শব্দ। এর অর্থ অপবিত্রতা। এটি তাহারাত বা পবিত্রতার বিপরীত। শরীর থেকে যেসব জিনিস বের হওয়ার কারণে শরীর অপবিত্র হয়ে যায় অথবা যেসব দ্রব্য কোনো পবিত্র বস্তুতে লাগলে তা অপবিত্র হয়ে যায়, তাকে নাজাসাত বা অপবিত্রতা বলা হয়।
নাজাসাত দুই প্রকার। যথা-
১. নাজাসাতে হাকিকি বা প্রকৃত অপবিত্রতা।
২. নাজাসাতে হুকমি বা অপ্রকৃত অপবিত্রতা।
নাজাতে হাকিকি বলতে ঐ সকল অপবিত্র বস্তুকে বোঝায় যেগুলো প্রকৃতিগতভাবেই অপবিত্র এবং ইসলামি শরিয়ত সেগুলোকে অপবিত্র ঘোষণা করে। ঐ সকল অপবিত্র বস্তুকে মানুষ অপছন্দ করে।
যেমন- প্রসাব, পায়খানা, রক্ত ইত্যাদি।
নাজাসাতে হুঁকমি হচ্ছে ঐ সকল অপবিত্রতা যা দেখা যায় না কিন্তু ইসলামি বিধানে তা নাজাসাত বা অপবিত্র বলে গণ্য। যেমন-ওযু ভঙ্গ হওয়া, গোসলের প্রয়োজন হওয়া ইত্যাদি।
আল্লাহ তায়ালা নিজে পবিত্র, তাই তিনি পবিত্রতা অর্জনকারী -ব্যক্তি ও পবিত্র বস্তুকে পছন্দ করেন। বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ উভয় প্রকার পবিত্রতা অর্জন করা জরুরি। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী পবিত্রতা অর্জনের উপায়গুলো হলো ওযু, গোসল, তায়াম্মুম।
শরীর পবিত্র করার নিয়তে পাক-পবিত্র পানি দিয়ে শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী মুখমণ্ডল, দুই হাত (কনুইসহ) ও দুই পা (টাখনুসহ) ধৌত করা এবং মাথা মাসেহ করার নাম ওযু।
পবিত্র পানি দিয়ে নির্দিষ্ট নিয়মে পুরো শরীর ধৌত করাকে গোসল বলে। গোসলের মাধ্যমে পুরো শরীর পবিত্র হয়ে যায়।
পবিত্র পানি দিয়ে নির্দিষ্ট নিয়মে পুরো শরীর ধৌত করাকে গোসল বলে। গোসলের মাধ্যমে পুরো শরীর পবিত্র হয়ে যায়।
পবিত্রতার আরবি প্রতিশব্দ 'তাহারাতুন'। ওযু, গোসল ইত্যাদির মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জন করা যায়। ইবাদতের জন্য পবিত্র থাকা একান্ত প্রয়োজন। পবিত্র না হয়ে নামায আদায় করা যায় না। মহানবি (স.) বলেন, 'পবিত্রতা ব্যতীত নামায কবুল হয় না এবং আত্মসাতের মাল দ্বারা সাদকা (দান) হয় না।' (মুসলিম)
পবিত্রতা দুই প্রকার যথা-
১. অভ্যন্তরীণ পবিত্রতা: হৃদয়কে যাবতীয় শিরক, রিয়া, গিবত ইত্যাদি থেকে মুক্ত রাখার নাম অভ্যন্তরীণ পবিত্রতা।
২. বাহ্যিক পবিত্রতা: শরিয়তের বিধি মোতাবেক ওযু, গোসল ইত্যাদির মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জনকে বাহ্যিক পবিত্রতা বলে।
পবিত্রতা ও অপবিত্রতার মানদণ্ড হচ্ছে শরিয়ত। নিজের জ্ঞান-বুদ্ধি বা অভিরুচি অনুযায়ী এ বিষয়ে কিছু কমবেশি করার কারও অধিকার নেই। কেবল সেসব বস্তুই পবিত্র যাকে শরিয়ত পবিত্র বলেছে। আর সেসব বস্তু অপবিত্র যাকে শরিয়ত অপবিত্র বলেছে।
পবিত্র থাকলে শরীর সুস্থ থাকে। মন প্রফুল্ল থাকে। লেখাপড়া ও কাজকর্মে মন বসে। আত্মিক প্রশান্তি লাভ হয়। সর্বোপরি আল্লাহর ভালোবাসা লাভ করা যায়। এজন্য আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, "আর উত্তমরূপে 'পবিত্রতা সম্পাদনকারীদের আল্লাহ তায়ালা ভালোবাসেন।" (সূরা আত-তাওবা: ১০৮) তাছাড়া পবিত্রতা ইমানের অংশ। রাসুল (স.) বলেছেন, "পবিত্রতা ইমানের অংশ।" (মুসলিম)
ইবাদতের জন্য পবিত্রতা প্রয়োজন। পবিত্র না হয়ে নামায আদায় করা যায় না। এমনকি ইবাদতও কবুল হয় না। এ প্রসঙ্গে মহানবি (স.) বলেন, "পবিত্রতা ব্যতীত নামায কবুল হয় না এবং আত্মসাতের মাল সাদাকা (দান) হয় না।" (মুসলিম)
ওযু আরবি শব্দ। এর অর্থ পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা, উজ্জ্বলতা। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায়- শরীর পবিত্র করার নিয়তে পবিত্র পানি দিয়ে শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ধোয়ার নামই ওযু।
ওযুর গুরুত্ব বর্ণনা করে পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে-
"যারা ইমান এনেছ জেনে রেখো, যখন তোমরা নামাযের জন্য দাঁড়াবে তার আগে নিজেদের মুখমণ্ডল ধুয়ে নেবে, তোমাদের দুই হাত কনুই পর্যন্ত ধুয়ে নেবে, মাথা মাসেহ করবে এবং উভয় পা গিরাসহ ধুয়ে নেবে।" (সূরা আল-মায়িদা: ৬)
ওযুর ফরজ চারটি। এ চারটির মধ্যে কোনো একটি বাদ পড়লে ওযু হবে না।
১. মুখমণ্ডল একবার ধৌত করা।
২. উভয় হাত কনুইসহ একবার ধোয়া।
৩. মাথার এক-চতুর্থাংশ একবার মাসেহ করা।
৪. উভয় পা গিরাসহ একবার ধোয়া।
ওযু ভঙ্গের অনেকগুলো কারণ রয়েছে। তার মধ্যে চারটি কারণ লেখা হলো-
১. প্রস্রাব-পায়খানার রাস্তা দিয়ে কোনো কিছু বের হলে।
২. থুথুর সাথে বেশি পরিমাণ রক্ত এলে।
৩. বেহুঁশ হলে।
৪. পাগল হলে।
যখন পানি পাওয়া না যায় অথবা পাওয়া গেলেও ব্যবহারে রোগ বৃদ্ধি বা প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকে; এসব অবস্থায় আল্লাহ তায়ালা তায়াম্মুম করতে বলেছেন। তায়াম্মুম করার মাধ্যমে পবিত্র হওয়া যায়। আল্লাহ তায়ালা মাটি দিয়ে পবিত্রতা অর্জনের অনুমতি দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "তোমরা যদি পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করবে।"
তায়াম্মুমের ফরজ তিনটি। যথা-
১. পবিত্রতা অর্জনের নিয়ত করা।
২. পবিত্র মাটি দিয়ে সমস্ত মুখমণ্ডল মাসেহ করা।
৩. উভয় হাত পবিত্র মাটি দিয়ে কনুইসহ মাসেহ করা।
তায়াম্মুম করার নিয়ম হলো- প্রথমে নিয়ত করে 'বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম' পড়তে হবে। দুই হাতের তালু একটু প্রসারিত করে পবিত্র মাটি বা ঐ জাতীয় পবিত্র বস্তু যেমন- পাথর, চুনাপাথর, বালি ইত্যাদি দুই হাত লাগিয়ে সমস্ত মুখমন্ডল একবার মাসেহ করবে। পুনরায় দুই হাত মাটিতে লাগিয়ে উভয় হাত কনুইসহ মাসেহ করবে।
যেসব কারণে ওযু ভঙ্গ হয় সেসব কারণে তায়াম্মুমও ভঙ্গ হয়। যেসব কারণে গোসল ওয়াজিব হয়, সেসব কারণে তায়াম্মুম ভঙ্গ হয়ে যায়। পানি পাওয়ার সাথে সাথে তায়াম্মুম ভেঙে যায়। কোনো রোগের কারণে তায়াম্মুম করা হলে, সে রোগ দূর হওয়ার সাথে সাথে তায়াম্মুম ভেঙে যায়।
গোসলের ফরজ তিনটি। যথা-
১. গড়গড়া করে কুলি করা।
২. নাকের নরম জায়গা পর্যন্ত পানি পৌছানো।
৩. সমস্ত শরীর পানি দিয়ে ধোয়া।
গোসলের অনেকগুলো নিয়ম রয়েছে। তার মধ্যে চারটি নিয়ম লেখা হলো- প্রথমে ডান হাতে পানি নিয়ে দুই হাত কব্জি পর্যন্ত ভালো করে ধৌত করতে হবে। শরীরের কোথায় অপবিত্র বস্তু লেগে থাকলে তা পরিষ্কার করতে হবে। ভালোভাবে ওযু করতে হবে। ওযুর পর মাথায় এমনভাবে পানি ঢালতে হবে যেন চুলের গোড়া পর্যন্ত পানি পৌঁছে যায়। সবশেষে পা ধুতে হবে।
'সালাত' আরবি শব্দ। এর আভিধানিক অর্থ দোয়া, রহমত ও ক্ষমা প্রার্থনা ইত্যাদি। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় আরকান আহকামসহ বিশেষ নিয়ম ও নির্দিষ্ট সময়ে আল্লাহর ইবাদতের নাম সালাত বা নামায।
ইসলামের পাঁচটি রুকন বা স্তম্ভ আছে। হাদিসে আছে, ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত এ কথার সাক্ষ্য দেওয়া যে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং হযরত মুহাম্মদ (স.) তার (আল্লাহ তায়ালার) বান্দা ও রাসুল, নামায প্রতিষ্ঠা করা, যাকাত আদায় করা, হজ করা এবং রমযান মাসে রোযা রাখা।" (বুখারি ও তিরমিযি)
নামায মানুষকে অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে। আল্লাহ তায়ালার বলেন, "নিশ্চয়ই নামায মানুষকে অশ্লীল ও খারাপ কাজ থেকে বিরত রাখে।" (সূরা আল-আনকাবুত : ৪৫) নামায আদায়কারী দুনিয়াতে মর্যাদা পাবে, আখিরাতে পাবে জান্নাত।
কারও হাতে কোনো ঘরের চাবি থাকলে অতি সহজেই ঘরে প্রবেশ করতে পারে। তেমনি যে ব্যক্তি নামায কায়েম করে সে অতি সহজেই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে। নামায অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। যা মুমিনের গুনাহ মাফের মাধ্যম। রাসুল (স.) বললেন, “যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করবে তার যাবতীয় গুনাহ মাফ হয়ে যাবে।"
ওযু করার ফলে উম্মতের মুখমণ্ডল এবং হাত-পা কিয়ামতের দিন উজ্জ্বলতায় ঝকঝক করবে। আর তা দেখে রাসুল (স.) তাঁর উম্মতদের চিনতে পারবেন।
ওযু করার ফলে উম্মতের মুখমণ্ডল এবং হাত-পা কিয়ামতের 'দিন উজ্জ্বলতায় ঝকঝক করবে। আর তা দেখে রাসুল (স.) তাঁর উম্মতদের চিনতে পারবেন।
ইমানের পরেই নামায ইসলামের দ্বিতীয় রুকন। দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা প্রত্যেক মুমিন নরনারীর ওপর ফরজ। অতএব গুরুত্ব বিবেচনায় প্রত্যেক মুসলমানের নিয়মিত নামায আদায় করা অবশ্য কর্তব্য।
যথাসময়ে নামায আদায় করা আল্লাহর আদেশ। সময়মতো নামায আদায় করা ফরজ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "নির্ধারিত সময়ে সালাত কায়েম করা মুমিনদের জন্য অবশ্য কর্তব্য।" (সূরা আন-নিসা: ১০৩)
ফজরের সালাতের সময় আরম্ভ হয় সুবহে সাদিক হওয়ার সাথে সাথে এবং ফজরের সালাতের সময় শেষ হয় সূর্য উদয়ের পূর্ব পর্যন্ত। আকাশের পূর্ব দিগন্তে লম্বমান যে আলোর রেখা দেখা দেয় তাকেই বলে সুবহে সাদিক। আলো ক্রমশ বৃদ্ধি পায় এবং শেষে সূর্যোদয় ঘটে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন, "সুবহে সাদিকের পর হতে সূর্যোদয় না হওয়া পর্যন্ত ফজর সালাতের সময়।" (মুসলিম)
যোহরের সময় শেষ হলেই আসরের সময় শুরু হয় এবং সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত থাকে। তবে সূর্যের বর্ণ হলুদ রং ধারণ করলে আসরের নামায আদায় করা মাকরুহ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "তোমরা নামাযসমূহ সংরক্ষণ কর বিশেষ করে মধ্যবর্তী (আসর) নামায।" (সূরা আল-বাকারা: ২৩৮)
সূর্যাস্তের পর থেকে মাগরিবের সময় শুরু হয় এবং পশ্চিম আকাশে যতক্ষণ লালিমা থাকে ততক্ষণ সময় থাকে। মাগরিবের সময় খুবই কম। তাই সময় হওয়ার সাথে সাথেই নামায আদায় করে নেওয়া উত্তম।
মাগরিবের সময় শেষ হওয়ার পর এশার নামাযের সময় শুরু হয় এবং সুবহে সাদিকের পূর্ব পর্যন্ত থাকে। তবে রাতের প্রথম প্রহরের মধ্যে এশার নামায আদায় করা উত্তম। রাত দ্বিপ্রহরের পর আদায় করা মাকরুহ। (তিরমিযি)
প্রতিটি কাজেরই একটি নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। নিয়মমতো কাজ করলে সুফল পাওয়া যায়। নামায একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। নামায মহানবি (স.) প্রদর্শিত পন্থায় আদায় করা অত্যন্ত জরুরি। এ প্রসঙ্গে মহানবি (স.) বললেন, 'তোমরা নামায আদায় কর যেমনিভাবে আমাকে আদায় করতে দেখেছ।' (বুখারি)
তিন রাকআত বিশিষ্ট ফরজ নামাযে দ্বিতীয় রাকআতের পর বসা অবস্থায় শুধু তাশাহহুদ পড়ব। তারপর তাকবির বলে সোজা হয়ে দাঁড়াব। এরপর 'বিস্মিল্লাহির রাহমানির রাহিম' বলে শুধু সূরা ফাতিহা পড়ব। অন্য কোনো সূরা পড়ব না। এরপর পূর্বের মতো বুকু, সিজদাহ্ পর সোজা হয়ে বসে তাশাহহুদ দরুদ ও দোয়া মাসূরা পড়ে ডানে বামে সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করব।
নামাযের আহকাম সাতটি। তার মধ্যে কয়েকটি আহকাম লেখা হলো-
১. শরীর পবিত্র হওয়া।
২. পরিধানের কাপড় পবিত্র হওয়া।
৩. নামাযের স্থান পবিত্র হওয়া।
৪. সতর ঢাকা।
নামাযের আরকান মোট ছয়টি। তার মধ্যে কয়েকটি আরকান লেখা হলো-
১. তাকবিরের তাহরিমা বা আল্লাহ আকবর বলে নামায আরম্ভ করা।
২. দাঁড়িয়ে নামায আদায় করা।
৩. সূরা বা আয়াত তিলাওয়াত করা।
৪. রুকু করা।
নামাযের পূর্বপ্রস্তুতিমূলক ফরজ ৭টি, যা নামাযের আহকাম বা শর্ত নামে পরিচিত। নামাযের পূর্বপ্রস্তুতিমূলক অন্যতম প্রধান ফরজ হলো শরীর পাক হওয়া। শরীরের কোথাও অপবিত্র বস্তু লেগে থাকলে তা ধুয়ে/মুছে ফেলতে হবে। অন্যথায় নামায হবে না।
নামাযের ওয়াজিব বলতে এমন সব জরুরি বিষয় বোঝায় যার কোনো একটি ভুলবশত ছুটে গেলে সিজদায়ে সাহু দ্বারা নামায শুদ্ধ করতে হয়। কিন্তু ইচ্ছাকৃত ছেড়ে দিলে নামায ভঙ্গ (ফাসিদ) হয়ে যায় এবং পুনরায় নামায আদায় করতে হয়।
নামাযের ওয়াজিব চৌদ্দটি। তার মধ্যে দুটি ওয়াজিব লেখা হলো-
১. প্রত্যেক রাকআতে সূরা ফাতিহা পড়া।
২. সূরা ফাতিহার সাথে কোনো একটি সূরা বা সূরার অংশবিশেষ পাঠ করা। অর্থাৎ আয়াত ছোট হলে কমপক্ষে তিনটি আয়াত এবং বড় হলে কমপক্ষে একটি আয়াত পাঠ করা।
ভুলবশত নামাযে ওয়াজিব বাদ পড়ার কারণে যে সিজদাহ দিতে হয় তাকে সিজদায়ে সাহু বলে। নামায সংশোধনের জন্য সিজদায়ে সাহু প্রয়োজন। নামাযের শেষ বৈঠকে দুটি সিজদা দিতে হয়।
কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে সিজদায়ে তিলাওয়াতের নিয়ত করে 'আল্লাহু আকবার' বলে সিজদাহ্ করতে হয়। সিজদা করার পর 'আল্লাহ্ আকবার' বলে উঠে দাঁড়াতে হয়। তাশাহ্হুদ পড়া ও সালাম ফিরানোর প্রয়োজন নেই। সিজদায়ে তিলাওয়াতে একটি সিজদা করলেই চলবে।
রাসুলুল্লাহ (স.) নামাযের মধ্যে ফরজ, ওয়াজিব ছাড়াও কিছু আমল বা কাজ করেছেন কিন্তু এগুলো আদায়ের ব্যাপারে ফরজ, ওয়াজিবের ন্যায় তাগিদ করেননি। এগুলোকে বলা হয় সালাতের সুন্নত।
নবি কারিম (স.) সালাতের মধ্যে ফরজ, ওয়াজিব ছাড়াও কিছু আমল করেছেন কিন্তু এগুলো আদায়ের ব্যাপারে ফরজ, ওয়াজিবের - ন্যায় তাগিদ করেননি। এগুলোকে বলা হয় সুন্নাত। যদিও এগুলো ছুটে গেলে সালাত নষ্ট হয় না কিংবা সাহু সিজদাহ্ দিতে হয় না, তথাপি এগুলো, মেনে চলা উচিত। কারণ নবি কারিম (স.) এভাবে সালাত আদায় করেছেন এবং অন্যকেও আদায় করতে বলেছেন।
নামাযে এমন কিছু কাজ আছে যা মেনে চললে সাওয়াব পাওয়া যায়, কিন্তু ছেড়ে দিলে গুনাহ হয় না। এগুলোকে বলা হয় মুস্তাহাব। যেমন- নামাযে দাঁড়ানো অবস্থায় সিজদাহ্র স্থানে দৃষ্টি রাখা, মাগরিবের নামাযে ছোট সূরা পাঠ করা ইত্যাদি।
নামায ভঙ্গের কয়েকটি কারণ লেখা হলো-
১. নামাযের মধ্যে কাউকে সালাম দিলে এবং সালামের উত্তর দিলে।
২. নামাযের মধ্যে কথা বললে।
৩. কিছু খেলে।
৪. কিছু পান করলে।
এমন কিছু কাজ আছে যা করলে নামায নষ্ট না হলেও সাওয়াব কম হয়, সেগুলো সালাতের মাকরুহ কাজ। নামাযের কয়েকটি মাকরুহ লেখা হলো-
১. নামাযের বিনা কারণে আঙ্গুল মটকানো।
২. আলসেমি করে খালি মাথায় নামায আদায় করা।
৩. কাপড় ধুলাবালি থেকে বাঁচানোর জন্য গুটিয়ে নেওয়া।
৪. পরনের কাপড়, বোতাম, দাড়ি ইত্যাদি অহেতুক নাড়াচাড়া করা।
তিন সময় নামায পড়া নিষিদ্ধ। যথা-
১. ঠিক সূর্যোদয়ের সময়।
২. ঠিক দ্বিপ্রহরের সময়।
৩. সূর্যাস্তের সময়, তবে কোনো কারণে ঐ দিনের আসরের নামায আদায় না করা হলে তা ঐ সময় আদায় করা যাবে কিন্তু মাকরুহ হবে।
'সিজদাহ্' আরবি শব্দ। এর অর্থ মাথা অবনতকরণ। ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য বান্দা তার কপাল জমিনে রাখাকে সিজদাহ্ বলে।
সিজদাহ্ চার প্রকার। যথা-
১. ফরজ সিজদাহ্;
২. ওয়াজিব সিজদাহ্;
৩. মুস্তাহাব সিজদাহ্ ও
৪. সিজদায়ে সাহু।
ভুলবশত নামাযে কোনো ওয়াজিব ছুটে গেলে এবং সিজদাহ্র আয়াত তিলাওয়াত করলে যে সিজদাহ্ দিতে হয় তাকে ওয়াজিব 'সিজদাহ্ বলে।
সিজদায়ে সাহু অর্থ ভুলের জন্য সিজদাহ্। ভুলবশত নামাযে ওয়াজিব বাদ পড়লে, তা সংশোধনের জন্য নামাযের শেষ বৈঠকে দুটি সিজদাহ্ করা হয়, একেই সিজদায়ে সাহু বলে।
সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হওয়ার কয়েকটি কারণ আছে। তার মধ্যে দুটি কারণ লেখ হলো-
১. ভুলবশত নামাযের কোনো ওয়াজিব ছুটে গেলে।
২. নামাযের কাজগুলো পরপর আদায় করতে বিলম্ব করলে (যেমন- সূরা ফাতিহা পড়ার পর চুপ করে থাকলে, কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর কোনো সূরা পড়লে।)
কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে সিজদায়ে তিলাওয়াতের নিয়ত করে 'আল্লাহু আকবর' বলে সিজদাহ্ করতে হয়। সিজদাহ্ করার পর 'আল্লাহু আকবার' বলে উঠে দাঁড়াতে হয়। তাশাহ্হ্রদ পড়া ও সালাম ফেরানোর প্রয়োজন নেই। সিজদায়ে তিলাওয়াতে একটি সিজদাহ্ করলেই চলবে।
সিজদায়ে তিলাওয়াতে শর্ত চারটি। যথা-
১. তহারাত অর্থাৎ পবিত্র হওয়া।
২. সতর ঢাকা।
৩. কিবলামুখী হওয়া।
৪. সিজদায়ে তিলাওয়াতের নিয়ত করা।
সালাত (নামায) ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এর সাথে নৈতিকতা বিষয়টি বিশেষভাবে জড়িত। ইসলামি বিধান অনুযায়ী নামায আদায় করলে একে তো আল্লাহর বিধান পালন করা হয়, অপরদিকে বান্দার পার্থিব জীবনেও নৈতিকতার উন্নতি ঘটে। আর কোনো মানুষের নৈতিকতার উন্নতি ঘটলে, দুনিয়াতে যেমনি পাবে সম্মান ও মর্যাদা তেমনি পরকালেও পাবে সুখ-শান্তি।
পবিত্রতা অর্জন করার কারণ হলো-
নামায আদায়কারীকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র থাকতে হয়। সকালে ঘুম থেকে উঠে একজন মুমিন যখন নামায আদায় করবে তখন তাকে অবশ্যই ওযু করতে হয়। আর নামাযের পূর্বশর্তসমূহের একটি হলো পবিত্রতা অর্জন করা। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "যদি তোমরা অপবিত্র হও তবে পরিত্রতা অর্জন কর"। (সূরা আল-মায়িদা; ৬)
নামায নিয়ানুবর্তিতা ও সময়নিষ্ঠা শিক্ষা দেয়। একজন মুমিন ব্যক্তিকে দৈনিক পাঁচবার নির্ধারিত সময়ে নামায আদায় করতে-হয়। এতে সে সময়ের প্রতি সচেতন হয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, "নিশ্চয়ই নির্ধারিত সময়ে সালাত কায়েম করা মুমিনদের জন্য
অবশ্য কর্তব্য।" (সূরা আন-নিসা: ১০৩)
নামায মানুষকে নিয়মানুবর্তিতার প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। এ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানুষ যা অর্জন করতে পারে তা হলো-
১. মানুষ তার প্রভুর কর্তব্য পালনে অভ্যস্ত হয়।
২. সমাজে কে অনুগত আর কে বিদ্রোহী নামায তা নির্ধারণ করে দেয়।
৩. এটি বান্দার চারিত্রিক শক্তিকে আরও দৃঢ় করে।
৪. মানুষকে ইসলামের পরিপূর্ণ আদর্শ মানব হিসেবে গড়ে তোলে এবং তাকে ইসলামের উপর সুদৃঢ় থাকতে সাহায্য করে।
ইবাদত অর্থ আনুগত্য করা।
আল্লাহর দাসত্ব ও আনুগত্যই হলো ইবাদত।
ইবাদতকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সাহায্যে যে ইবাদত করা হয় তাকে বলা হয় ইবাদতে বাদানি বা শারীরিক ইবাদত।
অর্থের দ্বারা যে ইবাদত করতে হয় সেগুলোকে বলা হয় ইবাদতে মালি বা আর্থিক ইবাদত।
নাজাসাতে হুকমি হচ্ছে ঐ সকল অপবিত্রতা যা দেখা যায় না কিন্তু ইসলামি বিধানে তা নাজাসাত বা অপবিত্র বলে গণ্য।
হৃদয়কে যাবতীয় শিরক, আকিদা, রিয়া, গিবত ইত্যাদি থেকে মুক্ত রাখার নাম অভ্যন্তরীণ পবিত্রতা।
শরিয়তের বিধি মোতাবেক ওযু, গোসল ইত্যাদির মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জনকে বাহ্যিক পবিত্রতা বলে।
ওযু অর্থ পবিত্রতা, পরিচ্ছন্নতা, উজ্জ্বলতা।
যে ইবাদতে শরীর ও অর্থ উভয়ের প্রয়োজন হয়। তাকে ইবাদতে মালি ও বাদানি বলে।
ওযুর ফরজ চারটি।
পবিত্র মাটি বা ঐ জাতীয় পবিত্র বস্তু দ্বারা পবিত্র হওয়ার নিয়তে মুখমণ্ডল ও উভয় হাত কনুইসহ মাসেহ করাকে তায়াম্মুম বলে।
তায়াম্মুম-এর ফরজ তিনটি।
পবিত্রতা অর্জন ও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে পবিত্র পানি দ্বারা সমস্ত শরীর ধোয়াকে গোসল বলে।
গোসলের ফরজ হলো তিনটি।
সালাত-এর আভিধানিক অর্থ হলো- দোয়া, রহমত ও ক্ষমা প্রার্থনা ইত্যাদি।
আরকান আহকামসহ বিশেষ নিয়ম ও নির্দিষ্ট সময়ে আল্লাহর ইবাদতের নাম সালাত বা নামায।
ইসলামের পাঁচটি রুকন বা স্তম্ভ রয়েছে।
আকাশের পূর্ব দিগন্তে লম্বমান যে আলোর রেখা দেখা দেয় তাকেই বলে সুবেহ সাদিক।
দ্বিপ্রহরের পর সূর্য পশ্চিম আকাশে হেলে পড়লেই যোহরের সময় শুরু হয়।
কোনো বস্তুর ঠিক দুপুরের সময়ে যে একটু ছায়া থাকে তাকেই 'ছায়া আসলি' বা আসল ছায়া বলে।
নামাযের সময় 'আল্লাহু আকবার' বলে নাভির উপরে হাত বাঁধতে হয়। তবে স্ত্রীলোকগণ বুকের ওপর হাত বাঁধবে।
রুকুতে গিয়ে 'সুবহানা রাব্বিয়াল আযিম' বলতে হয়।
নামাযের আহকাম ৭টি।
নামাযের আরকান ৬টি।
নামাযের ওয়াজিব চৌদ্দটি।
নামাযের সুন্নাত একুশটি।
এমন কিছু কাজ আছে যা করলে নামায নষ্ট না হলেও সাওয়াব কম হয়। সেগুলোকে মাকরুহ বলে।
মোট তিনটি সময় সালাত পড়া নিষিদ্ধ।
সিজদায়ে সাহু অর্থ ভুলের জন্য সিজদাহ্।
ভুলবশত নামাযে ওয়াজিব বাদ পড়লে, তা সংশোধনের জন্য নামাযের শেষ বৈঠকে দুটি সিজদা করা হয়। একেই সিজদায়ে সাহু বলে।
শরীর থেকে যেসব জিনিস বের হওয়ার কারণে শরীর অপবিত্র হয়ে যায়' অথরা যে সব দ্রব্য কোনো বস্তুতে লাগলে অপবিত্র হয়ে যায়, তাকে নাজাসাত বলে।
নাজাসাত দুই প্রকার।
পবিত্রতার আরবি প্রতিশব্দ হলো তাহারাতুন।
ওযু হলো শরীর পবিত্র করার নিয়তে পবিত্র পানি দিয়ে শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ধোয়া।
'নাজাসাতুন' এর বিপরীত শব্দ হলো 'তাহারাতুন'।
ইবাদতের দুটি অর্থ হলো- ১. দাসত্ব ও ২. আনুগত্য।
নাজাসাত শব্দের অর্থ অপবিত্রতা বা পবিত্রতার বিপরীত অবস্থা।
যখন পানি পাওয়া না যায় অথবা পাওয়া গেলেও ব্যবহারে রোগ বৃদ্ধি বা প্রাণনাশের আশঙ্কা থাকে। এসব অবস্থায় আল্লাহ তায়ালা তায়াম্মুম করতে বলেছেন। তায়াম্মুম করার মাধ্যমে পবিত্র হওয়া যায়। আল্লাহ তায়ালা মাটি দিয়ে পবিত্রতা অর্জনের অনুমতি দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "তোমরা যদি পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করবে।"
কারও হাতে কোনো ঘরের চাবি থাকলে অতি সহজেই ঘরে প্রবেশ করতে পারে। তেমনি যে ব্যক্তি নামায কায়েম করে সে অতি সহজেই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে। নামায অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। যা মুমিনের গুনাহ মাফের মাধ্যম। রাসুল (স.) বললেন, “যে ব্যক্তি পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করবে তার যাবতীয় গুনাহ মাফ হয়ে যাবে।"
যোহরের সময় শেষ হলেই আসরের সময় শুরু হয় এবং সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত থাকে। তবে সূর্যের বর্ণ হলুদ রং ধারণ করলে আসরের নামায আদায় করা মাকরুহ। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "তোমরা নামাযসমূহ সংরক্ষণ কর বিশেষ করে মধ্যবর্তী (আসর) নামায।" (সূরা আল-বাকারা: ২৩৮)
ভুলবশত নামাযে ওয়াজিব বাদ পড়ার কারণে সিজদায়ে সাহু দিতে হয়। কারণ নামায সংশোধনের জন্য তা প্রয়োজন। তাই নামাযের শেষ বৈঠকে দুটি সিজদা দিতে হয়।
কিবলামুখী হয়ে দাঁড়িয়ে সিজদায়ে তিলাওয়াতের নিয়ত করে 'আল্লাহু আকবার' বলে সিজদাহ্ করতে হয়। সিজদা করার পর 'আল্লাহু আকবার' বলে উঠে দাঁড়াতে হয়। তাশাহহুদ পড়া ও সালাম ফিরানোর প্রয়োজন নেই। সিজদায়ে তিলাওয়াতে একটি সিজদা করলেই চলবে।
ওযু করার ফলে উম্মতের মুখমণ্ডল এবং হাত-পা কিয়ামতের দিন উজ্জ্বলতায় ঝকঝক করবে। আর তা দেখে রাসুল (স.) তাঁর উম্মতদের চিনতে পারবেন।
পবিত্র থাকার উপকারিতা অনেক। পবিত্র থাকলে শরীর সুস্থ থাকে। মন প্রফুল্ল থাকে। লেখাপড়া ও কাজকর্মে মন বসে। আত্মিক প্রশান্তি লাভ হয়। সর্বোপরি আল্লাহর ভালোবাসা লাভ করা যায়। এজন্য আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, "আর উত্তমরূপে পবিত্রতা সম্পাদনকারীদের আল্লাহ তায়ালা ভালোবাসেন।" (সূরা আত্-তাওবা: ১০৮) তাছাড়া পবিত্রতা ইমানের অংশ। রাসুল (স.) বলেছেন, "পবিত্রতা ইমানের অংশ।" (মুসলিম)
আল্লাহর দাসত্ব ও আনুগত্য হলো ইবাদত। ইসলামি পরিভাষায় আল্লাহর সকল আদেশ-নিষেধ মেনে চলার নামই ইবাদত।
কারণ মহান আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন। তিনি আসমান, জমিন, চাঁদ-সুরুজ, ফল-ফুল, নদীনালা সব মানবজাতির জন্য সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর দেওয়া এসব অফুরন্ত নিয়ামত ভোগ করার পর এর শুকরিয়া (কৃতজ্ঞতা) আদায় করতে হবে। নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে আল্লাহর দেওয়া বিধানমতো চলার নামই ইবাদত।
তায়াম্মুম হলো পবিত্রতা অর্জনের বিকল্প পদ্ধতি। ওযু ও গোসলের পরিবর্তে তায়াম্মুম করতে হয়। তায়াম্মুম আমাদের জন্য আল্লাহর এক বিশেষ অনুগ্রহ। পানি পাওয়া না গেলে তায়াম্মুম করতে হয়। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, "আর তোমরা যদি পানি না পাও, তাহলে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করবে এবং তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত মাসেহ করবে।” (সূরা মায়িদা: ৬)
যেসব কারণে ওযু ভঙ্গ হয় সেসব কারণে তায়াম্মুমও ভঙ্গ হয়। যেসব কারণে গোসল ওয়াজিব হয়, সেসব কারণে তায়াম্মুম ভঙ্গ হয়ে যায়। পানি পাওয়ার সাথে সাথে তায়াম্মুম ভঙ্গ হয়ে যায়। কোনো রোগের কারণে তায়াম্মুম করা হলে, সে রোগ দূর হওয়ার সাথে সাথে তায়াম্মুম ভঙ্গ হয়ে যায়।
ইবাদতের জন্য তাহারাত তথা পবিত্রতা প্রয়োজন। পবিত্র না হয়ে নামায আদায় করা যায় না। এমনকি ইবাদতও কবুল হয় না। এ প্রসঙ্গে মহানবি (স.) বলেন, "পবিত্রতা ব্যতীত নামায কবুল হয় না এবং আত্মসাতের মাল সাদাকা (দান) হয় না।" (মুসলিম)
আল্লাহ তায়ালার দাসত্ব স্বীকার করাকে ইবাদত বলে। আল্লাহর সকল আদেশ-নিষেধ, বিধিবিধান মেনে চলার নামই ইবাদত। পরকালের শান্তির জন্য মানুষ সালাত, সাওম ইত্যাদি পালন করে থাকে। দুনিয়ার প্রত্যেকটি কাজ বিসমিল্লাহ বলে শুরু করাও ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত।
এ অধ্যায় শেষে আমরা-
- ইবাদতের ধারণা, তাৎপর্য ও প্রকারভেদ বর্ণনা করতে পারব।
- পবিত্রতা ও অপবিত্রতার ধারণা ও পবিত্র থাকার প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করতে পারব।
- পবিত্র হওয়ার উপায় বর্ণনা করতে পারব।
- সালাত (নামায) আদায়ের নিয়মকানুন, সময়সূচি ও সালাতের ফরজ, ওয়াজিব ইত্যাদি সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারব।
- সালাত (নামায) ভঙ্গের কারণ বর্ণনা করতে পারব।
- সিজদাহ্ সাহু ও সিজদাহ্ তিলাওয়াতের ধারণা ও প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করতে পারব।
- বাস্তব জীবনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সময়ানুবর্তিতা, শৃঙ্খলাবোধ, নিয়মানুবর্তিতা ও সাম্যের শিক্ষা অর্জনে সালাতের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করতে পারব।
Related Question
View Allআমাদের পবিত্র থাকা প্রয়োজন। কেননা আল্লাহ তায়ালা পবিত্র ব্যক্তিকে ভালোবাসেন। আল্লাহ তায়ালা এ মর্মে বলেন, "আর উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জনকারীদের আল্লাহ তায়ালা ভালোবাসেন” (সূরা আত-তাওবা : ১০৮)। সালাত ও তিলাওয়াতের জন্য পবিত্রতা প্রয়োজন। এছাড়া পবিত্রতা ইমানের অঙ্গস্বরূপ। তাই আমাদের পবিত্র থাকা প্রয়োজন।
শরীফ পাঁচ ওয়াক্ত নামাযসহ সকল প্রকার ইবাদত করার চেষ্টা. করে। সে তার বন্ধু আরিফকেও সালাতের জন্য আহ্বান করে। এসব কাজের দ্বারা বোঝা যায়, শরীফ একজন মুমিন মুসলমান।
মহান আল্লাহ তায়ালা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তার ইবাদত-বন্দেগি করার জন্য। আল্লাহ তায়ালা এ মর্মে বলেন, “আর আমি জিন ও মানবজাতিকে শুধু আমার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি” (সূরা আয যারিআত : ৫৬)। এজন্য কোনো মানুষ ইমান আনার সাথে সাথে সালাত আদায়ের মাধ্যমে আল্লাহর আনুগত্য প্রকাশ করে।
এছাড়া সে ইসলামের অন্যান্য মৌলিক বিধান যথা: সাওম, যাকাত, হজ ইত্যাদি পালন করে। ব্যক্তিজীবনে সততা অবলম্বন করে, অন্যায় ও পাপাচার থেকে বিরত থাকে। সবার কল্যাণে কাজ করে। এগুলোই মুমিনের বৈশিষ্ট্য। উদ্দীপকের শরীফের মাঝে এসব বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান। বস্তুত সে নামায আদায়সহ অন্যান্য ইবাদত করার চেষ্টা করে বিধায় তাকে মুমিন হিসেবে গণ্য করা হবে।
আরিফ বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে নামায পড়া হতে বিরত থাকে, সে আরও বলে- শুধু যে আমি একা ইবাদত করি না তাতো নয়। অনেকেই তো আছে যারা কোনো প্রকার ইবাদত করে না। তাদের যা হবে আমারও তাই হবে। আরিফের এরূপ আচরণ ও কর্মকাণ্ডের পরিণতি অত্যন্ত ভয়াবহ।
ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত পরিত্যাগ করা কুফরি। রাসুল (স.) বলেছেন, "মুমিন ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হলো- সালাত পরিত্যাগ করা।” তিনি আরও বলেছেন, যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত ত্যাগ করল, সে কুফরি করল।" আর কুফরির পরিণাম জাহান্নাম। আরিফ শুধু নামাযই পরিত্যাগ করেনি, সে তার কথায় আল্লাহর প্রতি চরম ঔদ্ধত্যও প্রকাশ করেছে। এ ধরনের ঔদ্ধত্য প্রকাশের জন্যও সে জাহান্নামে যাবে। কারণ ইবলিশ ঔদ্ধত্য প্রকাশ করার কারণে আল্লাহর অভিশাপে নিপতিত হয় এবং চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামি হয়। মানুষকে সৃষ্টির একমাত্র উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর ইবাদত করা। কেউ যদি ইবাদত না করে ভুল স্বীকার করে আল্লাহর দরবারে অনুতপ্ত হয়ে তওবা করে, তাহলে আল্লাহ তায়ালা তাকে ক্ষমা করে দিতে পারেন। কিন্তু কেউ যদি ইবাদত না করে এবং বলে অন্যদের যা হবে আমারও তা হবে, তাহলে আল্লাহর শাস্তি হতে সে রেহাই পাবে না। কারণ আল্লাহ বলেছেন, যদি তোমরা কুফরি কর, তাহলে জেনে রাখ আমার শাস্তি অত্যন্ত কঠিন।
সালাত আদায়ের অন্যতম কারণ হলো- এটি ইসলামের দ্বিতীয় রুকন। এজন্য আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেক মুমিনকে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত সালাত আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, 'এবং তোমরা নামায কায়েম কর ও যাকাত আদায় কর' (সূরা আল বাকারা : ৪৩)। তাছাড়া সালাত মানুষকে অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরতি রাখে। এ মর্মে আল্লাহ বলেন, “নিশ্চয়ই সালাত মানুষকে অশ্লীল ও অন্যায় কাজ হতে বিরত রাখে। (সূরা আনকাবুত : ৩৫)
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!