সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

Updated: 8 months ago
উত্তরঃ

যে গ্রন্থে অতি প্রাকৃতিক সত্তা ভগবান, ঈশ্বর ইত্যাদি ও কল্যাণকর জীবন যাপন সম্পর্কে আলোচনা উপদেশ ও উপাখ্যান লেখা থাকে তাকে ধর্মগ্রন্থ বলে। বেদ, পুরাণ, উপনিষদ, রামায়ণ, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, মহাভারত, শ্রীশ্রীচণ্ডী, প্রভৃতি হিন্দুধর্মের উল্লেখযোগ্য ধর্মগ্রন্থ।

উত্তরঃ

কুরুক্ষেত্রের ময়দানে কৌরব ও পান্ডবদের মধ্যে ভীষণ এক যুদ্ধের প্রস্তুতি চলছে। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ধর্মকে রক্ষা করার জন্য অর্জুনের রথের সারথী হলেন। যুদ্ধের ময়দানে অর্জুন যখন দেখতে পেলেন বিপক্ষে সব নিকট আত্মীয়স্বজন। তখন তিনি যুদ্ধ করতে চাইলেন না। কারণ যুদ্ধ করলে নিকট আত্মীয়দের মারতে হবে। ধর্মকে রক্ষার জন্য তখন শ্রীকৃষ্ণ তাকে কর্ম সম্পর্কিত নির্দেশ দেন। শ্রীকৃষ্ণের নির্দেশে অর্জুন যুদ্ধ করলেন এবং জয়ী হলেন। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের অর্জুনকে উপদেশ দেওয়ার কারণ ছিল মূলত ধর্মকে রক্ষা করা।

উত্তরঃ

আত্মারূপে ঈশ্বর জীবদেহে সর্বাবস্তায় বিদ্যমান, মৃত্যুর মাধ্যমে দেহের ধ্বংস হলেও আত্মার কখনও ধ্বংস হয় না। আত্মা সনাতন, অবিনশ্বর। শুধু আত্মা স্থানান্তর হয়। আত্মা রহিত, নিত্য শ্বাশ্বত এবং পুরাণ।

উত্তরঃ

বেদের চারটি ভাগের একটি ভাগ হচ্ছে অথর্ববেদ। চিকিৎসাবিজ্ঞান, বাস্তুকলা, বাড়ি বানানোসহ জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রের জ্ঞান নিয়ে সংকলিত হয়েছে অথর্ববেদ। এখানে প্রায় ৬০০০টি মন্ত্র রয়েছে। এসব মন্ত্রের মাধ্যমে মূলত ঈশ্বরের মহিমা বর্ণিত হয়েছে।

উত্তরঃ

যে গ্রন্থে অতি প্রাকৃতিক সত্তা (ভগবান, ঈশ্বর ইত্যাদি) ও কল্যাণকর জীবনযাপন সম্পর্কে আলোচনা, উপদেশ ও উপাখ্যান লেখা থাকে, তাকে ধর্মগ্রন্থ বলে। বেদ, উপনিষদ, রামায়ণ, মহাভারত, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা প্রভৃতি আমাদের ধর্মগ্রন্থ।

উত্তরঃ

ধর্মগ্রন্থে থাকে ঈশ্বরের বাণী ও মাহাত্ম্যের বর্ণনা। থাকে সৎ ও পরিশুদ্ধ জীবনযাপনের বিধিবিধান। এছাড়াও আমাদের মঙ্গল হয়-এমন উপদেশ থাকে এবং এ সম্পর্কিত নানা উপাখ্যান থাকে, যার মাধ্যমে আমরা নৈতিক শিক্ষা লাভ করি।

উত্তরঃ

মানবজীবনে ধর্মগ্রন্থের ভূমিকা অপরিসীম। ধর্মগ্রন্থে যেমন ঈশ্বরের বাণী ও মাহাত্ম্য বর্ণিত হয়েছে তেমনি রয়েছে বিভিন্ন আখ্যান-উপাখ্যানের সমষ্টি। যেগুলোতে আমাদের মঙ্গল হয়। এছাড়া বিভিন্ন উপদেশ, সৎ ও পরিশুদ্ধ জীবন বিধান মেনে আমরা নৈতিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার শিক্ষা পাই।

উত্তরঃ

বেদ হিন্দুধর্মের আদি এবং প্রধান ধর্মগ্রন্থ। বেদ শব্দের অর্থ 'জানা' বা জ্ঞান। বেদ একটি অখণ্ড জ্ঞানরাশি, যা দ্বারা মানবজাতি ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ আদি চতুবর্গের সন্ধান লাভ করে। বেদের এ জ্ঞান পবিত্র, বিচিত্র ও সুন্দর।

উত্তরঃ

গভীর চিন্তায় ডুবে যাওয়া বা নিমগ্ন হওয়াকে বলে ধ্যান। আর ধ্যানের মাধ্যমে সত্যকে উপলব্ধি করা যায়। সত্য চিরন্তন, সনাতন। আর যা সনাতন, তার অন্ত নেই। তাই সত্যেরও অন্ত নেই। সত্য সৃষ্টি করা যায় না, গভীর ধ্যানের আলোকে দর্শন করা যায়।

উত্তরঃ

প্রাচীনকালে যাঁরা সত্য বা জ্ঞান এবং স্রষ্টার মাহাত্ম দর্শন বা উপলব্ধি করতে পারতেন, তাঁদের ঋষি বলা হয়। ঋষিগণ ধ্যানের মাধ্যমে সত্য দর্শন করে থাকেন এবং তাকে ভাবের আবেগে প্রকাশ করেন জগতের হিত কামনায়।

উত্তরঃ

'বেদ সৃষ্ট নয় দৃষ্ট'- অর্থাৎ, বেদ কেউ সৃষ্টি করেননি, বেদকে উপলব্ধি করেছেন মাত্র। বেদ হচ্ছে ঋষিদের ধ্যানলব্ধ পবিত্র জ্ঞান। - ধ্যানের মাধ্যমে ঋষিগণ সেই সত্যকে দর্শন করে তা ভাবের আবেগে প্রকাশ করেছেন। এ কারণেই বেদকে দৃষ্ট বলা হচ্ছে।

উত্তরঃ

বেদ হিন্দুধর্মের আদি ধর্মগ্রন্থ। কেননা, বিশ্বের প্রাচীন ইতিহাস জানতে হলে বেদই একমাত্র নির্ভরযোগ্য সহায়ক গ্রন্থ। বেদ এক বিশাল জ্ঞানভান্ডার যা দ্বারা মানবজাতি ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ এই চতুবর্গের সন্ধান লাভ করে। তাই বেদকে প্রধান ধর্মগ্রন্থ বলা হয়।

উত্তরঃ

বেদে বহু দেব-দেবীর বর্ণনা রয়েছে। যেমন-অগ্নি, সূর্য, বরুণ, রুদ্র, যম, উষা, সরস্বতী প্রভৃতি। তবে বেদে বলা হয়েছে, একই পরমাত্মা থেকে সকল দেব-দেবীর উদ্ভব। প্রত্যেকের গুণ ও শক্তিভেদে তাঁরা ভিন্ন ভিন্ন দেব-দেবীরূপে প্রকাশিত।

উত্তরঃ

ঋষিগণ দেব-দেবীর মাহাত্ম্য তুলে ধরে তাদের স্তুতি বা প্রশংসা করেছেন এবং অসাধারণ শক্তি ও প্রভাবসম্পন্ন দেব-দেবীর কাছে ধন-সম্পদ, সুখ-শান্তি প্রার্থনা করেছেন। তাঁরা দেবতাদের তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করেছেন। যথা- ১. স্বর্গের দেবতা, ২. অন্তরীক্ষের দেবতা ও.৩. মর্ত্যের দেবতা।

উত্তরঃ

স্বর্গের দেবতা যাঁরা তাদের শুধু ক্ষমতাই বোঝা যায়, তাঁরা পৃথিবীতে নেমে আসেন না। যেমন সূর্য, যম। কিন্তু যাঁরা অন্তরীক্ষের দেবতা তাঁদের ক্ষমতা বোঝাও যায় দেখাও যায়। তাঁরা পৃথিবীতে নেমে আসেন। যেমন- ইন্দ্র, রায়ু প্রভৃতি।

উত্তরঃ

যে সকল দেবতা মর্ত্যে বা পৃথিবীতে আসেন এবং অস্থান করেন তাঁদের বলা হয় মর্ত্যের দেবতা। যেমন- অগ্নি দেবতা। ডাগ্নিকে আমরা পৃথিবীতে দেখতে পাই এবং তাঁর নিকট ভালো জিনিস উৎসর্গ করে প্রার্থনা জানানো হয়।

উত্তরঃ

অগ্নিকে আমরা পৃথিবীতে দেখতে পাই এবং তাঁর কাছে ভালো জিনিস উৎসর্গ করে তাঁরই মাধ্যমে অন্যান্য দেবতাদের নিকট প্রার্থনা জানানো হয়। এভাবে আগুন জ্বেলে বেদের মন্ত্র উচ্চারণ করে দেবতাদের আহ্বান জানানো এবং প্রার্থনা করাকে যজ্ঞ বলা হয়।

উত্তরঃ

বেদের ছন্দোবদ্ধ বাক্যকে বলা হয় মন্ত্র। ঋষিরা বেদ থেকে এই মন্ত্রগুলো উচ্চারণ করে ধর্মানুষ্ঠান, যাগযজ্ঞ ও উপাসনা করে ঈশ্বরের নিকট প্রার্থনা জানাত ও অভীষ্ট ফল লাভ করত। বেদের মন্ত্রগুলো ছিল রহস্যময়।

উত্তরঃ

বৈদিক উপাসনা ছিল যজ্ঞ বা হোম করা। তবে যাগযজ্ঞের অনুশীলন করে আর্যগণ দুটি বস্তুর প্রতি প্রার্থনা জানাতেন। যথা- শ্রী এবং ধী। শ্রী অর্থাৎ ধন-ধান্য, বল-বিক্রম যশ ইত্যাদি পার্থিব কাম্যবস্তু। ধী হচ্ছে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা।

উত্তরঃ

মহর্ষি কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস বেদকে চারটি শ্রেণিতে বিভক্ত করেছেন। এগুলো হলো-
১। ঋগ্বেদ;
২। সামবেদ;
৩। যজুর্বেদ;
৪। অথর্ববেদ।

উত্তরঃ

ঋক্ মানে মন্ত্র। ঋগ্বেদে রয়েছে স্তুতি ও প্রার্থনামূলক মন্ত্র। ভুতি মানে প্রশংসা আর প্রার্থনা মানে কোনো কিছু চাওয়া। প্রার্থনা করে এক এক দেবতার কাছে এক এক বিষয় চাওয়া হয়। এখানে ১০৪৭২ টি মন্ত্র রয়েছে। এগুলো পদ্যে বা ছন্দে রচিত যা এক ধরনের কবিতা।

উত্তরঃ

বিষয়বস্তু ও রচনারীতির পার্থক্য সামনে রেখে বেদের শ্রেণিবিভাগ করেছেন মহষি কৃষ্ণদ্বৈপায়ন। বেদকে তিনি বিভক্ত করেছেন বলে তাঁকে বলা হয় বেদব্যাস বা ব্যাসদেব। তিনি বেদকে ৪টি শ্রেণিতে ভাগ করেছেন।

উত্তরঃ

'সাম' মানে গান। সামবেদে সংগৃহীত হয়েছে এই গানগুলো। যজ্ঞ করার সময় কোনো কোনো ঋক বা মন্ত্র আবৃত্তি না করে সুর করে গাওয়া হতো। যজ্ঞে দেবতাদের উদ্দেশ্যে এই গানগুলো গাওয়া হয়। সামবেদে ১৮১০টি মন্ত্র বা গান রয়েছে।

উত্তরঃ

যজুঃ মানে যজ্ঞ। যজুর্বেদে রয়েছে এমন কিছু মন্ত্র যেগুলো যজ্ঞ করার সময় উচ্চারিত হয়। এখানে যজ্ঞের নিয়ম পদ্ধতিও বর্ণিত হয়েছে। এটি কৃষ্ণ যজুর্বেদ ও শুক্ল যজুর্বেদ নামে দুভাগে বিভক্ত। দুটিতে মোট ৪০৯৯টি মন্ত্র রয়েছে।

উত্তরঃ

বেদের যে চারটি ভাগ, তার একেকটি ভাগকে বলা হয় সংহিতা। যেমন- ঋগ্বেদ সংহিতা, সামবেদ সংহিতা, যজুর্বেদ সংহিতা এবং অথর্ববেদ সংহিতা। সংহিতা হচ্ছে মন্ত্রের সমষ্টি। বৈদিক গ্রন্থসমূহের ৪টি ভাগের প্রথম ভাগ হলো মন্ত্র বা সংহিতা।

উত্তরঃ

অথর্ববেদ হচ্ছে চিকিৎসা বিজ্ঞানের মূল। এখানে নানা প্রকার রোগব্যাধি এবং সেগুলোর প্রতিকারের উপায়স্বরূপ নানা প্রকার লতা, গুল্ম বৃক্ষাদির বর্ণনা করা হয়েছে। আয়ুর্বেদ নামক চিকিৎসাশাস্ত্রের আদি উৎসও এই অর্থববেদ।

উত্তরঃ

ঋগ্বের সংহিতা পাঠের মাধ্যমে আমরা বিভিন্ন দেব-দেবীর সম্পর্কে জানতে পারি এবং তাঁদের স্তুতি বা প্রশংসা করতে শিখি। অগ্নি, ইন্দ্র, উষা, বায়ু প্রভৃতি প্রাকৃতিক শক্তির মাধ্যমে ঈশ্বরের অসীম ক্ষমতা উপলব্ধি করা যায়।

উত্তরঃ

যজ্ঞের মন্ত্রের সংগ্রহ হচ্ছে যজুর্বেদ। এ যজুর্বেদ অনুসারে যজ্ঞানুষ্ঠানের মাধ্যমে বর্ষপঞ্জি ও ঋতু সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। যজুর্বেদে যজ্ঞের বেদি নির্মাণের কৌশল থেকেই জ্যামিতি রা ভূমি পরিমাপ বিদ্যার আবির্ভাব ঘটেছে।

উত্তরঃ

বেদ পাঠের মাধ্যমে পরমাত্মা, বৈদিক দেব-দেবী, যজ্ঞ, সংগীত, চিকিৎসাসহ নানা বিষয়ে জ্ঞান লাভ করে জীবনকে সুন্দর, সুস্থ ও পরিপাটি করে তোলা যায়। আর এজন্যই বেদ পাঠ করা আমাদের অবশ্য কর্তব্য।

উত্তরঃ

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের প্রাক্কালে অর্জুন যখন যুদ্ধ করতে অসম্মতি। প্রকাশ করেন, তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে যেসব উপদেশ দিয়েছিলেন, তারই গ্রন্থস্বরূপ হলো শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা। এ গ্রন্থে সর্বমোট ৭০০টি শ্লোক রয়েছে। এজন্য এ গ্রন্থের অপর নাম সপ্তশতী।

উত্তরঃ

মহাভারত আমাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ। এর আঠারোটি পর্বের মধ্যে ভীষ্মপর্ব একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব। মহাভারতের ভীষ্মপর্বের অন্তর্গত ২৫ থেকে ৪২ পর্যন্ত অধ্যায়ে হাস্তিনাপুর রাজ্যে সংগঠিত কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধের কাহিনি প্রকাশিত হয়েছে।

উত্তরঃ

রথ যখন দুই পক্ষের সৈন্যদের মাঝখানে রাখা হলো তখন অর্জুন স্বপক্ষ ও বিপক্ষ দলের নিকট আত্মীয়স্বজনদের দেখে মুষড়ে পড়লেন এবং আগত অনেক আত্মীয়স্বজনদের মৃত্যুর শঙ্কা করে তিনি যুদ্ধ করতে চাইলেন না।

উত্তরঃ

ধৃতরাষ্ট্র ও পাণ্ডু দুই ভাই। ধৃতরাষ্ট্র বড়, পাণ্ডু ছোট। ধৃতরাষ্ট্রের একশত 'ছেলে ও এক মেয়ে। কুরুবংশের নাম অনুসারে তাদের বলা হয় কৌরব। আর পাণ্ডুর পাঁচ পুত্র। যুধিষ্ঠির, ভীম, অর্জুন, নকুল ও সহদেব। পাণ্ডুর নাম অনুসারে তাঁদের বলা হতো পাণ্ডব।

উত্তরঃ

গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে কর্ম জ্ঞান ও ভক্তি সম্পর্কে উপদেশ দিয়েছেন। এছাড়া তিনি কর্মফলের প্রতি আসক্ত না হয়ে কর্তব্যকর্ম করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। গীতায় উপলক্ষ্য অর্জুন হলেও ভগবান যে উপদেশ দিয়েছেন তা সকল কালের মানুষের জন্য প্রযোজ্য।

উত্তরঃ

কোনো রকম ফলের বাসনা না করে অর্থাৎ কামনা-বাসনা মুক্ত হয়ে যে কর্ম করা হয় তাকে নিষ্কম কর্ম বলে। গীতায় ঈশ্বরের কাছে নিজেকে সমর্পণ করে এবং ফলের আশা না করে নিজের কাজ করতে বলা হয়েছে। কর্মই 'বড়, ফল যা-ই হোক।

উত্তরঃ

আমাদের জন্ম ও মৃত্যু ঈশ্বরের হাতে। কেননা ঈশ্বর যতক্ষণ আমাদের দেহে বর্তমান থাকেন ততক্ষণ জীবদেহ সচল থাকে বা জীবিত' থাকে। আর আত্মা দেহ থেকে নির্গত হলে জীবের মৃত্যু হয়। আমরা কেউই জানি না, কখন আমাদের মৃত্যু হতে পারে।

উত্তরঃ

আত্মা প্রসঙ্গে গীতায় বলা হয়েছে- আত্মার কখনো জন্ম বা মৃত্যু হয় না, অথবা পুনঃপুন তাঁর উৎপত্তি বা বৃদ্ধি হয় না। আত্মা জন্মরহিত, নিত্য; শাশ্বত এবং পুরাণ। শরীর নষ্ট হলেও আত্মা অবিনশ্বর। স্থানান্তর হয় শুধু দেহের।

উত্তরঃ

নিষ্কাম কর্ম সম্বন্ধে গীতায় বলা হয়েছে, কর্মেই তোমার অধিকার, কর্মফলে কখনো তোমার অধিকার নেই। কর্মফলের প্রতি আসক্ত হয়ে যেন নিজ কর্তব্যের প্রতি অবহেলা না করো। কেননা, কর্মফলের প্রতি চিন্তা থাকলে কাজে একাগ্রতা আসে না।

উত্তরঃ

ভক্ত চার প্রকারের হয়ে থাকে। যিনি বিপদে পড়ে ঈশ্বরকে ডাকেন, তিনি আর্তভক্ত। যিনি কোনো প্রার্থনা পূরণের জন্য ডাকেন তিনি অর্থার্থী ভক্ত। যিনি জ্ঞানের দ্বারা ঈশ্বরকে জানতে চায় তিনি জিজ্ঞাসু ভক্ত। আর যিনি কোনো কিছু না চেয়ে ঈশ্বরকে ভক্তি করেন তিনি জ্ঞানী ভক্ত।

উত্তরঃ

গীতামাহাত্ম্যে বলা হয়েছে, উপনিষদ যেন গাভীস্বরূপ, আর দুগ্ধ হচ্ছে গীতা। গোবৎস যেমন একটু আঘাত করে দুধ বের করে, অর্জুনও তেমনি প্রশ্ন করে আঘাত করছেন। আর গীতারূপ দুধ দোহন করছেন অর্থাৎ গীতার জ্ঞানের কথা স্বয়ং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মুখ থেকে - শ্রবণ করছে ।

উত্তরঃ

সমস্ত উপনিষদের সারবস্তু হলো গীতা। এখানে ঈশ্বর বা ব্রহ্ম সম্পর্কিত ধারণা এক জায়গায় সমন্বিতরূপে প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া কর্মযোগ, জ্ঞানযোগ ও ভক্তিযোগের দ্বারা ঈশ্বরকে লাভের পথ দেখানো হয়েছে।

উত্তরঃ

গীতায় বলা হয়েছে-
১। শ্রদ্ধাবান ও সংযমীই জ্ঞানলাভে সমর্থ হয়।
২। অনাসক্ত কর্মযোগী মোক্ষলাভ করেন।
৩। জ্ঞানীভক্ত ঈশ্বরকে হৃদয়ে অনুভব করেন।
৪। এ বিশ্বের সকল কিছুই ঈশ্বরের মধ্যে বিদ্যমান।

উত্তরঃ

গীতায় ভগবান নিজে ৪র্থ অধ্যায়ে বলেছেন- যখনই পৃথিবীতে ধর্মের অধঃপতন হয় এবং অধর্মের অভ্যুত্থান হয়, তখনই সাধুদের পরিত্রাণ, দুষ্টলোকদের বিনাশ এবং ধর্ম সংস্থাপনের জন্য ভগবান পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন।

উত্তরঃ

গীতা স্বয়ং ভগবানের মুখনিঃসৃত বাণী। এখানে জ্ঞানের কথা বলা হয়েছে। একই সাথে বাস্তব জীবনে কীভাবে চলতে হয় সেই পথও দেখানো হয়েছে। গীতায় ভগবান আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শিক্ষাও প্রদান করেছেন। তাই সব দিক থেকে হিন্দুধর্মে অন্যতম ধর্মগ্রন্থ হিসেবে গীতার গুরুত্ব অপরিসীম।

উত্তরঃ

গভীর চিন্তায় ডুবে যাওয়া বা নিমগ্ন হওয়াকে ধ্যান বলে।

উত্তরঃ

য়ে গ্রন্থে ধর্মের কথা থাকে তাকে ধর্মগ্রন্থ বলে।

উত্তরঃ

হিন্দুদের আদি ও প্রধান ধর্মগ্রন্থের নাম হলো 'বেদ'।

উত্তরঃ

'বেদ' শব্দের অর্থ হলো জ্ঞান।

উত্তরঃ

ঋষিগণ বেদের দেবতাদের ভাগ করেছেন।

উত্তরঃ

ঋষিরা বেদ থেকে মন্ত্র উচ্চারণ করে ধর্মানুষ্ঠান বা উপাসনা করেছেন।

উত্তরঃ

ঋক্ মানে মন্ত্র।

উত্তরঃ

ঋবেদে মন্ত্রের সংখ্যা ১০,৪৭২টি।

উত্তরঃ

যজুর্বেদে ৪০৯৯টি মন্ত্র রয়েছে।

উত্তরঃ

অথর্ববেদে মন্ত্রের সংখ্যা ৬০০০টি।

উত্তরঃ

বেদের একেকটি ভাগকে সংহিতা বলে।

উত্তরঃ

ঋষিদের গভীর ধ্যানের বাণী বা কবিতাগুলো ঈগরের কাছ থেকে পাওয়া। তাই ঋষিরা বলেছেন তাঁরা বেদ দর্শন করেছেন কোনো পুরুষ তা সৃষ্টি করেনি। সেজন্য বেদকে বলা হয় অপৌরুষেয়।

উত্তরঃ

যে গ্রন্থে ধর্মের কথা থাকে তাকে ধর্মগ্রন্থ বলা হয়। আর ধর্মগ্রন্থে থাকে-
ক. ঈশ্বরের বাণী ও মাহাত্ম্যের বর্ণনা।
খ. সৎ ও পরিশুদ্ধ জীবনযাপনের বিধি-বিধান।
গ. আমাদের মঙ্গল হয় এমন উপদেশ ইত্যাদি।

উত্তরঃ

'বেদ' হিন্দুদের আদি ও প্রধান ধর্মগ্রন্থ। 'বেদ' শব্দের অর্থ 'জ্ঞান'। তবে এ জ্ঞান পবিত্র। এ জ্ঞান বিচিত্র সুন্দর প্রকৃতি এবং স্রষ্টা সম্পর্কিত জ্ঞান। এ জ্ঞান চারপাশের মানুষ ও জীবন সম্পর্কে জ্ঞান। আর এ জ্ঞান অর্জনের জন্য চেষ্টা করতে হয়, সাধনা করতে হয়।

উত্তরঃ

যে সকল দেবতা মর্ত্যে নেমে আসেন; কিন্তু এখানে অবস্থান করেন না, তাঁদেরকে বলা হয় অন্তরিক্ষের দেবতা। তাঁদের ক্ষমতাও সহজে বোঝা যায়। যেমন- ইন্দ্র, বায়ু প্রভৃতি হলেন অন্তরিক্ষের দেবতা।

উত্তরঃ

যে সকল দেবতা পৃথিবীতে আসেন এবং অবস্থানও করেন তাঁদেরকে বলা হয় মর্ত্যের দেবতা। যেমন- অগ্নি দেবতা। এ অগ্নি দেবতাকে আমরা পৃথিবীতে দেখতে পাই।

62

যে গ্রন্থে অতি প্রাকৃতিক সত্তা (ভগবান, ঈশ্বর ইত্যাদি) ও কল্যাণকর জীবন যাপন সম্পর্কে আলোচনা, উপদেশ ও উপাখ্যান লেখা থাকে, তাকে ধর্মগ্রন্থ বলে। বেদ, উপনিষদ, পুরাণ, রামায়ণ, মহাভারত, শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, শ্রীচন্ডী, প্রভৃতি ধর্মগ্রন্থ। আমরা জানি, বেদ হিন্দুদের আদি ধর্মগ্রন্থ। এ অধ্যায়ে সংক্ষেপে বেদ ও শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

এ অধ্যায় শেষে আমরা-

  • ধর্মগ্রন্থের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব
  • ধর্মগ্রন্থ হিসেবে বেদ ও শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার সাধারণ পরিচয় ব্যাখ্যা করতে পারব
  • জীবনাচরণে বেদের শিক্ষা বর্ণনা করতে পারব
  • শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় বর্ণিত শ্রীকৃষ্ণের কয়েকটি বাণী ব্যাখ্যা করতে পারব
  • শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব
  • বেদ ও শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পারব।

Related Question

View All

ধ্যান কাকে বলে? (জ্ঞানমূলক)

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

গভীর চিন্তায় ডুবে যাওয়া বা নিমগ্ন হওয়াকে ধ্যান বলে। ধ্যানে সত্যকে উপলব্ধি করা যায়।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
10 months ago
146

প্রাচীনকালের ঋষিদের বেদের দ্রষ্টা বলা হয় কেন? ব্যাখ্যা কর। (অনুধাবন)

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

প্রাচীনকালে যারা সত্য বা জ্ঞান এবং স্রষ্টার মাহাত্ম্য দর্শন বা উপলব্ধি করতে পারতেন, তাঁদের বলা হতো ঋষি। বেদ হচ্ছে এ ঋষিদের ধ্যানলব্ধ পবিত্র জ্ঞান। ধ্যানের মাধ্যমে ঋষিগণ সেই সত্য দর্শন করে তাকে ভাবের আবেগে প্রকাশ করেছেন। এজন্যই বলা হয়, বেদ সৃষ্ট, নয়, দৃষ্ট। অর্থাৎ বেদ কেউ সৃষ্টি করেন নি, উপলব্ধি করেছেন মাত্র।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
10 months ago
174

রমেশ বাবু বেদের কোন ভাগের জ্ঞানের আলোকে জনসাধারণের চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন? ব্যাখ্যা কর। (প্রয়োগ)

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের রমেশ বাবু বেদ শাস্ত্র অধ্যয়ন করে জনসাধারণের চিকিৎসা সেবা দিয়ে থাকেন। সে বেদের যে অংশ থেকে জ্ঞান নিয়ে এ কাজটি করেন সেই অংশটি হচ্ছে অথর্ববেদ। এ অথর্ববেদে প্রাচীনকালের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আছে। এ আলোচনা অধ্যয়ন করলে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে জনসাধারণের সেবা প্রদান করা যায়।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
10 months ago
192

রমেশ বাবুর অধ্যয়নকৃত গ্রন্থের জ্ঞানের আলোকে কি পরিশুদ্ধ জীবনযাপন সম্ভব? উত্তরের সপক্ষে যুক্তি প্রদর্শন কর। (উচ্চতর দক্ষতা)

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

রমেশ বাবু যে গ্রন্থ অধ্যয়ন করে সে গ্রন্থখানা হচ্ছে বেদ। বেদ পাঠ করলে স্রষ্টা, বিশ্ব প্রকৃতি ও জীবন সম্পর্কে জ্ঞানলাভ হয়।

প্রত্যেকটি বেদের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। আমরা ঋগ্বেদের মধ্য দিয়ে দেব-দেবীর স্তুতি বা প্রশংসা করতে শিখি। যজুর্বেদের যজ্ঞের মন্ত্রের সংগ্রহ। এ থেকে জানতে পারি সেকালের উপাসনা পদ্ধতি কেমন ছিল। যজুর্বেদ অনুসরণে বিভিন্ন সময়ে যজ্ঞানুষ্ঠানের মাধ্যমে বর্ষপঞ্জি বা ঋতু সম্পর্কে ধারণা জন্মে। বিভিন্নভাবে এবং বিভিন্ন সময়ব্যাপী যজ্ঞানুষ্ঠান করা হতো। যজ্ঞের বেদী নির্মাণের কৌশল থেকেই জ্যামিতি বা ভূমি পরিমাপ বিদ্যার উদ্ভব ঘটেছে। সামবেদ থেকে সেকালের গান ও রীতি সম্পর্কে জানতে পারি। অথর্ববেদ হচ্ছে চিকিৎসা বিজ্ঞানের মূল। এ বেদ থেকে আমরা নানা রকমের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা লাভ করে থাকি। সুতরাং বেদের সমস্ত অংশ অধ্যয়নের মাধ্যমে পরমাত্মা, বৈদিক দেব-দেবী, যজ্ঞ, সংগীত, চিকিৎসাসহ নানা বিষয়ের জ্ঞানলাভ করে জীবনকে সুন্দর, সুস্থ ও পরিপাটি করে তোলা সম্ভব। এ বিষয়টির সাথে আমি একমত।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
10 months ago
126

বেদ কী? (জ্ঞানমূলক)

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

বেদ হচ্ছে প্রাচীনকালের ঋষিদের ধ্যানে পাওয়া পবিত্র জ্ঞান।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
10 months ago
240

বেদকে অপৌরুষেয় বলা হয়েছে কেন? (অনুধাবন)

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

ঋষিদের গভীর ধ্যানের বাণী বা কবিতাগুলো ঈশ্বরের কাছ থেকে পাওয়া। তাই ঋষিরা বলেছেন তাঁরা বেদ দর্শন করেছেন কোনো পুরুষ তা সৃষ্টি করে নি। সেজন্য বেদকে বলা হয় অপৌরুষেয়।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
10 months ago
115
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews