খাদ্য তালিকায় লৌহের উপকারিতা অপরিসীম। আমাদের দেহের জন্য আমিষের পরেই খনিজ লবণ যেমন- লৌহ, আয়োডিন, দস্তা প্রভৃতি দরকার। এরা দেহ কোষ ও দেহ তরলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। লৌহ হাড় ও এনজাইম গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, রক্তের লোহিত রক্ত কণিকা উৎপাদন করে দেহের রক্ত স্বল্পতা দূর করে। এর অভাবে দেহে মারাত্মক সমস্যা দেখা দেয়। তাই আমাদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় লৌহ জাতীয় খাদ্য থাকা অত্যাবশ্যক।
পরিশ্রম করার পর আমরা ক্লান্ত হয়ে পড়ি এবং আমাদের ক্ষুধা পায়। তখন আমরা খাবার খাই। এছাড়াও আমাদের দৈহিক গঠন, বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ, রক্ষণাবেক্ষণ, কাজের ক্ষমতা অর্জন, শারীরিক সুস্থতার জন্য খাদ্য প্রয়োজন। কারণ খাদ্য আমাদের শক্তি যোগায়, ক্ষয়পূরণ করে, বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এসব কারণেই আমরা খাবার খাই।
মানুষের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদানগুলোর মধ্যে ভাত একটি। ভাত শর্করা জাতীয় খাদ্য। অতএব, ভাত খেলে আমাদের শরীরে শুধুমাত্র শর্করার চাহিদা মেটে। আমরা জানি আমাদের শরীরের জন্য আমিষ, শর্করা, স্নেহ, খনিজ লবণ, ভিটামিন ও পানি এ ছয় প্রকারের খাদ্য উপাদান প্রয়োজন। প্রত্যেকটি উপাদানই পৃথক পৃথকভাবে মানবদেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এদের যেকোনো একটির অভাবে দেহে মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। তাই এসব চাহিদা মেটাবার জন্য সব রকমের খাবার খেতে হবে, যা শুধুমাত্র ভাত খেয়ে সম্ভব নয়। তাই মানুষ শুধু ভাত খেয়ে বাঁচতে পারে না।
আয়োডিন একটি খনিজ লবণ জাতীয় খাদ্য। মানবদেহের জন্য এর গুরুত্ব অপরিসীম। দেহে আয়োডিনের অভাবে গলগন্ড রোগ হয়। খাবার লবণের সাথে আয়োডিন মিশিয়ে আয়োডাইড লবণ তৈরি করা হয়। গলগণ্ড রোগে আয়োডিনযুক্ত লবণ খাওয়া উচিত।
সুস্থ ও সুন্দর দেহ নিয়ে বাঁচতে হলে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় নির্দিষ্ট পরিমাণ ভিটামিন থাকা প্রয়োজন। আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যে প্রয়োজনীয় ভিটামিন না থাকলে বিভিন্ন রোগের উপসর্গ দেখা দেয়। ভিটামিন এ-এর অভাবে দেহের বৃদ্ধি ঘটে না, দৃষ্টিশক্তি হ্রাস পায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পায়। ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের অভাবে হৃৎপিণ্ড, স্নায়ু ও পরিপাক ব্যবস্থার সুষ্ঠু কাজ সম্পাদিত হয় না, চামড়ার স্বাস্থ্য নষ্ট হয়। ভিটামিন সি এর অভাবে সুস্থ-সরল হাড়, দাঁত, দাঁতের মাড়ি ও মুখের ক্ষয় ঘটে। ভিটামিন ডি এর অভাবে হাড় ও দাঁত দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই দৈনন্দিন খাদ্যে প্রয়োজনীয় ভিটামিন না থাকলে উপরোক্ত রোগগুলো প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে না.।
দেহের কাজকর্ম সুষ্ঠুরূপে পরিচালিত করে, দেহকে সুস্থ ও কাজের উপযোগী রাখার জন্য যে সকল উপাদান প্রয়োজন, সেসব উপাদান বিশিষ্ট বস্তুই খাদ্য। খাদ্য আমাদের শক্তি জোগায়, ক্ষয়পূরণ করে ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। আমরা বেঁচে থাকার জন্য খাবার খাই।
খাদ্য দেহের গঠন, বৃদ্ধিসাধন, ক্ষয়পূরণ, রক্ষণাবেক্ষণ করে। খাদ্য দেহে তাপ উৎপাদন করে, কর্মশক্তি প্রদান করে। তাছাড়া রোগ প্রতিরোধ করতে, দেহকে সুস্থ, সবল এবং কর্মক্ষম রাখতে, আমাদের শক্তি যোগাতে খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম।
পুষ্টির ইংরেজী শব্দ Nutrition. দেহের চাহিদা অনুযায়ী আমরা যেসব খাবার খাই সেসব খাবার সরাসরি আমাদের দেহ গ্রহণ করতে পারে না। এই খাবারগুলো আমাদের পৌষ্টিকতন্ত্রে পরিপাক হয়ে দেহে গ্রহণের জন্য শোষণ উপযোগী সরল উপাদানে পরিণত হয়। সেই পরিশোষিত ও দেহকোষে জমাকৃত খাদ্য উপাদান দেহের বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ, শক্তি উৎপাদন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে তাই পুষ্টি।
স্বাদ ও গুণাগুণ বিচারে খাদ্য উপাদানকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা: ১. শর্করা; ২. প্রোটিন বা আমিষ ও ৩. স্নেহ জাতীয় খাদ্য। দেহগঠন, 'ক্ষয়পূরণ ও বৃদ্ধিসাধন অনুযায়ী খাদ্য উপাদান তিন প্রকার।
যথা: ১. খনিজ লবণ; ২. ভিটামিন ও ৩. পানি।
সুষম খাদ্য বলতে সেই সকল খাবারকে বুঝায় যাতে প্রয়োজনীয় সকল উপাদান পরিমাণমতো থাকে। অর্থাৎ প্রোটিন, শর্করা, চর্বি, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি দেহের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক পরিমাণে থাকে।
যেসব খাবারে 'শর্করার পরিমাণ বেশি থাকে তাকে শর্করা জাতীয় খাদ্য বলে। যেমন চাল, আটা, ময়দা, ভুট্টা, চিনি, গুড় ইত্যাদি। কেবলমাত্র উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে আমরা শর্করা পেয়ে থাকি। শর্করা আয়োডিন দ্রবণের রঙের পরিবর্তন করে।
শর্করা জাতীয় খাদ্যের কাজ হলো-
১. শর্করা সহজে হজম হয়, দেহে কাজ করার শক্তি যোগায় ও তাপ উৎপন্ন করে।
২. শর্করায় বিদ্যমান সেলুলোজ কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
৩. কিটোসিস নামক রোগ হতে রক্ষা করে।
শর্করার অভাবজনিত লক্ষণ হলো-
১. শরীর দূর্বল হয়ে পড়ে।
২. ওজন হ্রাস পেতে থাকে।
৩. কাজ করার ক্ষমতা কমে যায়।
৪. ক্ষুধা বাড়ে ও বমির ভাব হয়।
প্রোটিন হলো জটিল জৈবিক অণু যা অ্যামিনো এসিড দ্বারা গঠিত এবং জীবের শরীরের বিভিন্ন গঠনমূলক ও কার্যকরী কাজ সম্পন্ন করে। উৎসের উপর ভিত্তি করে প্রোটিনকে উদ্ভিজ এবং প্রাণিজ প্রোটিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়। যেমন: মাছ, মাংস, ডিম, ডাল, বাদাম ইত্যাদি।
প্রোটিনের দুটি কাজ হলো-
১. প্রোটিনের প্রধান কাজ হচ্ছে দেহ বৃদ্ধির জন্য কোষ গঠন করা।
২. দেহে শক্তি উৎপন্ন করা।
প্রোটিনের অভাবজনিত লক্ষণ হলো-
১. শিশুদের শরীর ঠিকমতো বাড়ে না।
২. 'মাংসপেশি শুকিয়ে যায়।
৩. পানি জমে শরীর ফুলে যায়।
৪. শিশুদের কোয়াশিয়রকর রোগ হয়।
যেসব খাদ্যে তেল বা চর্বি জাতীয় উপাদান বেশি থাকে, সেসব খাদ্যকে স্নেহ জাতীয় খাদ্য বলে। স্নেহ জাতীয় খাদ্য দুই প্রকার। মাছের তেল, মাংসের চর্বি, ঘি, মাখন ইত্যাদি প্রাণী থেকে পাই, এগুলো প্রাণিজ স্নেহ। সয়াবিন, বাদাম, জলপাই, সরিষা, তিল ইত্যাদির তেল উদ্ভিজ স্নেহ।
স্নেহ জাতীয় খাদ্যের কাজ হলো-
১. দেহের তাপ ও কর্মশক্তি বাড়ায়।
২. দেহের প্রোটিনকে ক্ষয় থেকে রক্ষা করে।
৩. দেহে ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে-এর যোগান দেয়।
স্নেহ জাতীয় পদার্থ বা চর্বি শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। এটি শরীরে শক্তি সরবরাহ করা ছাড়াও কোষঝিল্লি গঠন করে। চর্বি থেকে স্টেরয়েড হরমোন ও ভিটামিন ডি উৎপন্ন হয়। দেহের উষ্ণতা বজায় রাখে। সুতরাং স্নেহ জাতীয় পদার্থ শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
১ গ্রাম পানির উষ্ণতা ১০ সেলসিয়াস বাড়াতে যে তাপের প্রয়োজন তাকে ক্যালরি বলে। ১০০০ ক্যালরি ১ কিলোক্যালরি। খাদ্যের তাপশক্তি মাপার একক হলো কিলোক্যালরি।
কয়েকটি উচ্চ ও নিম্ন ক্যালরিযুক্ত খাদ্যের তালিকা দেওয়া হলো-
উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাদ্য: ভোজ্যতেল, ঘি, মাখন, মাছের তেল, চিনি, মধু, সয়াবিন, শিমের বিচি ইত্যাদি।
নিম্ন ক্যালরিযুক্ত খাদ্য: বাধাকপি, ঝিঙা, শালগম, টমেটো, লাউ, মূলা, পটল, ডাঁটা, পালংশাক ইত্যাদি।
খাদ্যে অতি সামান্য মাত্রায় এক প্রকার জৈব পদার্থ আছে, যা প্রাণীর স্বাস্থ্যরক্ষার জন্য অতি প্রয়োজনীয়। এই প্রয়োজনীয় জৈব পদার্থ গুলোকে খাদ্যপ্রাণ বা ভিটামিন বলে। আমরা প্রতিদিন যেসব খাদ্য যেমন- চাল, আটা, বাদাম, ডাল, শাকসবজি, ফলমূল খাই এর মধ্যেই ভিটামিন থাকে।
কলিজা, ডিম, মাখন, পনির, মাছ, টাটকা সবুজ শাকসবজি, গাজর, কাঁঠাল, আম, পাকা পেঁপে ইত্যাদিতে ভিটামিন-এ পাওয়া যায়। লেবু, কমলা, পেয়ারা, আমলকী, কলমিশাক, কচুশাক, টমেটো, জাম্বুরা ইত্যাদি খাদ্যে ভিটামিন সি আছে।
আমাদের দেহে ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের গুরুত্ব অপরিসীম। দেহের বৃদ্ধি, হৃৎপিন্ড, স্নায়ু এবং পরিপাক ব্যবস্থার সুষ্ঠ কাজ সম্পাদনে, চামড়ার স্বাস্থ্য রক্ষায় ভিটামিন বি কমপ্লেক্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, ত্বক ও চুল ভালো রাখতে, সুস্থ-সবল হাড় গঠনে, দাঁত ও দাঁতের মাড়ির ক্ষত-সারাতে, শরীরের কেটে যাওয়া ক্ষত দ্রুত ভালো করতে এবং মুখের ঘা শুকাতে ভিটামিন সি এর প্রয়োজনীয়তা অনেক।
ভিটামিন ডি-এর অভাবজনিত সমস্যাগুলো হলো-
১. শিশুদের হাড় নরম ও দুর্বল হয়ে রিকেটস রোগ দেখা দেয়।
২. পেশি দুর্বল হয়ে ব্যথা হয়।
৩. সব সময় ক্লান্তি অনুভব হয়।
আলোতে চোখের সমস্যা হয়। রাতকানা মূলত ভিটামিন এ এর অভাবে হয়ে থাকে। তাছাড়া চোখের রেটিনায় সমস্যা হলে রাতকানা রোগ হয়।
আমরা মূলত খাবারের মাধ্যমে খনিজ লবণ পাই। উদ্ভিদ মাটি থেকে সরাসরি খনিজ লবণ শোষণ করে। আমরা প্রতিদিন যে শাকসবজি, ফলমূল খাই সেসব খাদ্য হলো খনিজ লবণের উৎস। তাছাড়া প্রাকৃতিক পানিতে খনিজ লবণ থাকে।
খনিজ লবণ দেহের জন্য প্রয়োজন। কারণ দেহকোষ ও দেহের তরল উপাদানের জন্য খনিজ লবণ খুবই দরকারি। দেহ গঠন ও দেহের অভ্যন্তরীণ কাজ যেমন- পেশি সংকোচন, স্নায়ু উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। হাড়, এনজাইম ও হরমোন গঠনের জন্য এটি একটি অপরিহার্য উপাদান।
আয়োডিনের অভাবে গলগন্ড রোগ হয়। আয়োডিন একটি 'খনিজ লবণ জাতীয় খাদ্য। মানবদেহের জন্য এর গুরুত্ব অপরিসীম। খাবার লবণের সাথে আয়োডিন মিশিয়ে আয়োডাইড লবণ তৈরি করা হয়। গলগণ্ড রোগ প্রতিরোধে আয়োডিনযুক্ত খাবার খাওয়া উচিত।
দেহের অধিকাংশ কোষে এবং দেহরসের জন্য এর স্বল্পতা দেহে আড়ষ্ট ভাব আনে। তাছাড়া শরীরের কোষের পানির ভারসাম্য রক্ষা করে। পেশি সঠিকভাবে কাজ করতে সাহায্য করে। সোডিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে। তাই খাদ্য তালিকায় এর উপকারিতা অপরিসীম।
ক্যালসিয়ামের কাজ হলো-
১. দাঁত ও হাড়ের সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
২. রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্য করে।
৩. স্নায়ু ব্যবস্থার সুষ্ঠু কাজ সম্পাদনে সহায়তা করে।
তিনটি খনিজ লবণের নাম ও তাদের খাদ্যের উৎস ছকে লেখা হলো-
খনিজ লবণ | খাদ্যের উৎস |
| ১. ফসফরাস লবণ | দুধ, মাংস, ডিম, ডাল ও সবুজ শাকসবজি ইত্যাদি। |
| ২. লোহা | মাংস, ফল ও সবুজ শাকসবজি ইত্যাদি। |
| ৩. পটাসিয়াম | মাছ, দুধ, ডাল; আখের গুড় ও শাকসবজি ইত্যাদি। |
জীবন রক্ষার কাজে অক্সিজেনের পর পানির স্থান। পানি দেহের গঠন, অভ্যন্তরীণ কাজ নিয়ন্ত্রণ করে। পানির কারণে রক্ত তরল থাকে। পানি দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখে। পানি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং মলমূত্রের সাথে ক্ষতিকর পদার্থ অপসারণ করে। তাই পানি খাদ্যের একটি অপরিহার্য উপাদান।
শস্যদানা, ফল ও সবজির কিছু অংশ যা হজম বা পরিপাক হয় না এমন অন্তময় বা আঁশযুক্ত অংশ রাফেজ নামে পরিচিত। ফল ও সবজির রাফেজ সেলুলোজ নির্মিত কোষ প্রাচীর ছাড়া আর কিছুই নয়। রাফেজ হজম হয় না। রাফেজ পরিপাকের পর অপরিবর্তিত থাকে এবং মানবদেহে মল তৈরিতে সাহায্য করে।
দেহের পরিপুষ্টির জন্য ছয় উপাদানবিশিষ্ট খাদ্যকে সুষম খাদ্য বলে। সুস্থ, সবল ও উন্নত জীবনযাপনের জন্য সুষম খাদ্যের কোনো বিকল্প নেই। সুষম খাদ্যে একজন মানুষের বিপাকের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদনের সামর্থ্য থাকতে হবে।
খাদ্য তালিকায় ছয়টি উপাদানের যেকোনো একটি কম থাকলে বা না থাকলে তাকে অসুষম খাদ্য বা অসম খাদ্য বলে। আমাদের দেশে বেশির ভাগ লোকের খাদ্যই অসম। খাদ্যে প্রোটিন, শর্করা, খনিজ লবণ এবং ভিটামিন পরিমাণের চেয়ে কম থাকলে দেহে পুষ্টির অভাব ঘটে যা অপুষ্টির সৃষ্টি করে।
স্বাস্থ্যকর সুষম খাদ্য খাওয়ার জন্য নিচের বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখা প্রয়োজন-
১. শর্করা জাতীয় খাদ্য বেশি খেতে হবে।
২. যতেষ্ট পরিমাণ শাকসবজি খেতে হবে।
৩. মিষ্টি, তেল বা চর্বি ও লবণ কম খেতে হবে।
৪. মাছ বেশি খেতে হবে।
দেহের কাজকর্ম সুষ্ঠুরূপে পরিচালিত করে দেহকে সুস্থ ও কাজের উপযোগী রাখার জন্য যেসব উপাদান প্রয়োজন, সেসব উপাদান বিশিষ্ট বস্তুই খাদ্য।
যে বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় জীবদেহে প্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান শোষিত হয়ে দেহের বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ, শক্তি উৎপাদন ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে তাই পুষ্টি।
খাদ্যের উপাদান ৬টি।
শিশুদের খাদ্যে প্রোটিনের অভাব হলে কোয়াশিয়রকর রোগ হয়।
১ গ্রাম পানির তাপমাত্রা ১° সেলসিয়াস বাড়াতে প্রয়োজনীয় তাপ হচ্ছে ১ ক্যালরি।
আমাদের খাদ্যে এমন কিছু জৈব পদার্থ আছে যা স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য অতীব প্রয়োজনীয়। এ প্রয়োজনীয় জৈব পদার্থগুলোকে ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ বলে।
পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন হলো ভিটামিন 'সি'।
ভিটামিন 'ই'-এর অভাবে রক্তশূন্যতা দেখা দেয়।
তেল বা চর্বি জাতীয় খাবারে ক্যালরির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি থাকে।
আয়োডিনের অভাবে গলগন্ড রোগ হয়।
মানবদেহের গঠন, বৃদ্ধি, ক্ষয়পূরণ রক্ষণাবেক্ষণ, কাজের ক্ষমতা অর্জন এবং শারীরিক সুস্থতার জন্য খাদ্য প্রয়োজন। খাদ্য আমাদের শক্তি দেয় এবং কাজ করার ক্ষমতা যোগায়। খাদ্য না খেলে আমরা রোগাক্রান্ত এবং দুর্বল হয়ে পড়ি। এ অবস্থা চলতে থাকলে আমরা অচিরেই মারা যাব। অতএব বলা যায়, দেহের কাজকর্ম সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত করার জন্য এবং দেহকে সুস্থ ও কাজের উপযোগী রাখার জন্য আমাদের খাদ্য খেতে হবে।
ভিটামিনসমূহ প্রত্যক্ষভাবে দেহ গঠনে অংশগ্রহণ না করলেও এদের অভাবে দেহের ক্ষয়পূরণ, বৃদ্ধি সাধন বা দেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদন ইত্যাদি বিভিন্ন ক্রিয়াগুলো সুসম্পন্ন হতে পারে না। জীবদেহের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ক্রিয়াকলাপ এদের সাহায্যে নিয়ন্ত্রিত হয় বলে ভিটামিনসমূহকে জৈবিক প্রভাবক বলে।
সুষম খাদ্য বলতে সেই সকল খাবারকে বুঝায় যাতে প্রয়োজনীয় সকল উপাদান পরিমাণমতো থাকে। অর্থাৎ প্রোটিন, শর্করা, চর্বি, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি দেহের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক পরিমাণে থাকে।
সুষম খাদ্য বলতে সেই সকল খাবারকে বোঝায় যাতে শর্করা, প্রোটিন বা আমিষ, স্নেহজাতীয় পদার্থ বা চর্বি, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও পানি পরিমাণমতো থাকে। দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি, কর্মশক্তি উৎপাদন ও শরীরকে রোগমুক্ত রাখার জন্য নিয়মিত সুষম খাদ্য খাওয়া উচিত। সুষম খাদ্য না খেলে দেহে প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাব দেখা দেয়। ফলে দ্রুত রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া কর্মশক্তি হ্রাস পায় এবং দেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। এজন্য সুষম খাদ্য খাওয়া উচিত।
শস্যদানা জাতীয় খাদ্য শর্করার অন্যতম উৎস। শর্করাজাতীয় খাদ্য দেহে প্রয়োজনীয় শক্তি যোগায়। খেলাধুলায় অংশগ্রহণের জন্য বেশি শক্তির দরকার হয়। তাই ক্রীড়াবিদরা খেলতে যাওয়ার আগে প্রচুর দানাদার জাতীয় খাবার খায়।
আমরা পৃথিবীতে বিভিন্ন প্রকার খাদ্যবস্তু দেখতে পাই। এই খাদ্য বস্তুগুলোকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা-অজৈব ও জৈববস্তু। শর্করা, প্রোটিন, চর্বি বা স্নেহ ইত্যাদি আমরা জীব থেকে পাই। এগুলো জৈববস্তু। এ বস্তুগুলো আমরা খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করি। খাদ্য ও পুষ্টির সাথে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। পুষ্টি হচ্ছে প্রতিদিনের একটি প্রক্রিয়া, যা জটিল খাদ্যকে ভেঙে সরল উপাদানে পরিণত হয়ে দেহের গ্রহণ উপযোগী হয়। এ অধ্যায়ে আমরা খাদ্য ও পুষ্টি সম্পর্কে বিশদ জানতে পারব।

এই অধ্যায় শেষে আমরা
- খাদ্য ও পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- বিভিন্ন খাদ্য উপাদানের কাজ বর্ণনা করতে পারব।
- সুষম খাদ্যের তালিকা প্রস্তুত করতে পারব।
Related Question
View Allদেহের কাজকর্ম সুষ্ঠুরূপে পরিচালিত করে দেহকে সুস্থ ও কাজের উপযোগী রাখার জন্য যেসব উপাদান প্রয়োজন, সেসব উপাদান বিশিষ্ট বস্তুকে খাদ্য বলে।
উদ্দীপকের 'A' চিহ্নিত খাদ্য উপাদানটি পেয়ারা, যা ভিটামিন 'সি' সমৃদ্ধ খাবার। ভিটামিন 'সি' সুস্থ-সবল হাড়, দাঁত, দাঁতের মাড়ি ও মুখের ক্ষত সারাতে প্রধান ভূমিকা পালন করে। তাই দেহের হাড়, দাঁত, দাঁতের মাড়ি ও মুখের ক্ষত দূর করতে পেয়ারা খাওয়া প্রয়োজন।
উদ্দীপকের 'D' চিহ্নিত খাদ্যটি ভাত, যা শর্করাজাতীয় খাদ্য। সব ধরনের শর্করাই কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন এ তিনটি 'মৌলিক উপাদানের সমন্বয়ে গঠিত। এ উপাদানগুলো স্নেহ জাতীয় পদার্থের দহনে সহায়তা করে; দেহে অন্যান্য খাদ্য উপাদান আমিষ, ভিটামিন ও খনিজ লবণ গ্রহণে সহায়তা করে। অতিরিক্ত শর্করা দেহে গ্লাইকোজেন রূপে সঞ্চিত থেকে দেহে কর্মশক্তি যোগায় এবং তাপ উৎপন্ন করে। মোটকথা এ খাদ্যটি অন্যান্য খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে শরীরে কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি করে। আর কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি মানেই দেহের আকার ও ওজন বৃদ্ধি। এভাবেই D চিহ্নিত খাদ্যটি দেহের ওজন বাড়ায়।
সুষম খাদ্য বলতে আমরা সেসব খাবারকে বুঝি, যাতে প্রয়োজনীয় পরিমাণে সকল খাদ্য উপাদান থাকে। অর্থাৎ সুষম খাদ্যে প্রোটিন, শর্করা, চর্বি, ভিটামিন, লবণ ও পানি দেহের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক পরিমাণে থাকে। উদ্দীপকের চিত্রে পেয়ারা, মাছ, সবজি ও ভাতের ছবি দেওয়া আছে। এসব খাদ্যে নিম্নলিখিতব উপাদানগুলো রয়েছে-
১. ভাতে প্রচুর পরিমাণে শর্করা বা শ্বেতসার রয়েছে।
২. মাছ প্রোটিন ও আমিষের চাহিদা পূরণ করে। এছাড়াও এতে তেল বা চর্বি জাতীয় খাদ্য উপাদানও রয়েছে।
৩. পেয়ারাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে।
৪. টাটকা শাকসবজিতে ভিটামিন ও খনিজ লবণ রয়েছে।
অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে, উদ্দীপকের খাদ্যগুলো পানি ব্যতীত সুষম খাদ্যের সবগুলো উপাদানের চাহিদাই পূরণ করতে পারবে। তাই চিত্রের খাদ্যগুলোকে সুষম খাদ্যের উপযোগী বলা যায়।
দেহে প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাবই অপুষ্টি বা পুষ্টিহীনতা।
মরিয়ম শাকসবজি না খাওয়ায় তার ভিটামিন 'এ'-এর অভাব দেখা দিয়েছে। আমরা জানি, ভিটামিন এ-এর অভাবে রাতকানা রোগ হয়। রাতকানা রোগ হলে রাতে ভালোভাবে দেখা সম্ভব হয় না। উদ্দীপক অনুসারে কয়েক দিন ধরে মরিয়মও রাতের বেলা ভালো দেখতে পায় না। অতএব বলা যায়, মরিয়মের রাতকানা রোগ হয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!