কোনো গতিশীল বস্তু যদি একই দিক থেকে একই পথ বারবার অতিক্রম করে তাহলে সে গতিকে পর্যাবৃত্ত গতি বলে। উদাহরণ-বৈদ্যুতিক পাখার গতি, পৃথিবীর নিজ অক্ষের উপর আবর্তন গতি।
ঘূর্ণন গতি ও ঘূর্ণন চলন গতির পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো-
ঘূর্ণন গতি | ঘূর্ণন চলন গতি |
| ১. যখন কোনো বস্তু একটি নির্দিষ্ট বিন্দুর চারদিকে চক্রাকারে ঘুরে তখন তার গতিকে ঘূর্ণন গতি বলে। | ১. যখন কোনো বস্তুর একই সাথে চলনগতি ও ঘূর্ণন গতি উভয়ই থাকে তখন তাকে ঘূর্ণন চলন গতি বলে। |
| ২. এক্ষেত্রে একটি মাত্র গতি থাকে। | ২. এক্ষেত্রে দুটি গতি থাকে। |
| ৩. এ গতি তেমন জটিল নয়। | ৩. এ গতিকে জটিল গতি বা মিশ্র গতি বলা হয়। |
| ৪. বৈদ্যুতিক পাখার গতি, ঘড়ির কাঁটার গতি প্রভৃতি ঘূর্ণন গতির উদাহরণ। | ৪. গড়িয়ে চলা ফুটবলের গতি, সাইকেলের চাকার গতি প্রভৃতি ঘূর্ণন চলন গতির উদাহরণ। |
কোনো বস্তুর অবস্থানের প্রথম স্থান থেকে বস্তুটির অবস্থানের শেষ স্থান পর্যন্ত সরলরৈখিক দূরত্বকে সরণ বলে।
চিত্রসহ ব্যাখ্যা: কোনো বস্তুর সরণ হলো বস্তুটির আদি অবস্থান ও শেষ অবস্থানের মধ্যবর্তী দূরত্ব। মনে করি, মিসেস রাশিদা বেগম A অবস্থান থেকে সামনের দিকে ৭ কিলোমিটার হেঁটে B অবস্থানে পৌছালেন। এরপর বাঁক নিয়ে পেছনের দিকে ৫ কিলোমিটার হেঁটে C অবস্থানে আসলেন।

তাহলে মিসেস রাশিদা বেগমের সরণ
= সোজাপথে প্রথম থেকে শেষ বিন্দু পর্যন্ত দূরত্ব = ৭ কিলোমিটার - ৫ কিলোমিটার
= ২ কিলোমিটার
দ্রুতি ও বেগের মধ্যে পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো-
দ্রুতি | বেগ |
| ১. সময়ের সাথে বস্তুর দূরত্বের পরিবর্তনের হারই দ্রুতি। | ১. সময়ের সাথে বস্তুর সরণের পরিবর্তনের হারই বেগ। |
| ২. দ্রুতির শুধু মান আছে। | ২. বেগের মান ও দিক উভয়ই আছে। |
| ৩. শুধু মানের পরিবর্তন হলে দ্রুতির পরিবর্তন হয়। | ৩. মান ও দিক যেকোনো একটির পরিবর্তন হলেই বেগের পরিবর্তন হয়। |
মন্দন ও ত্বরণের মধ্যে পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো-
মন্দন | ত্বরণ |
| ১. সময়ের সাথে বস্তুর বেগ হ্রাসের হারকে মন্দন বলে। | ১. সময়ের সাথে বস্তুর বেগ বৃদ্ধির হারকে ত্বরণ বলে। |
| ২. বস্তুর গতির দিকে বল প্রয়োগ করলে মন্দন কমে। | ২. বস্তুর গতির দিকে বল প্রয়োগ করলে ত্বরণ বাড়ে। |
| ৩. বস্তুর গতির বিপরীত দিকে বল প্রয়োগ করলে মন্দন বাড়ে। | ৩. বস্তুর গতির বিপরীত দিকে বল প্রয়োগ করলে ত্বরণ কমে। |
| ৪. মন্দন সর্বদা ঋণাত্মক। | ৪. ত্বরণ সর্বদা ধনাত্মক। |
স্থিতি হলো বস্তুর একটি স্থির অবস্থা। অর্থাৎ কোনো বস্তু যখন একজন পর্যবেক্ষকের সাপেক্ষে সময়ের সাথে অবস্থার পরিবর্তন করে না তখন বস্তুর ঐ অবস্থাকে স্থিতি বলে এবং বস্তুটিকে পর্যবেক্ষণের সাপেক্ষে স্থির বলা হয়। যেমন- ঘরবাড়ি। কোনো বস্তু যখন পর্যবেক্ষকের সাপেক্ষে অবস্থার পরিবর্তন করে বা গতিশীল তখন বস্তুর এই অবস্থাকে গতি বলে। যেমন- চলমান বাস।
আমার সাপেক্ষে স্থির বস্তুর চারটি উদাহরণ নিম্নরূপ-১. ঘর-বাড়ি, ২. গাছ, ৩. রাস্তার পাশের ল্যাম্পপোস্ট এবং ৪. স্কুল।
সময়ের সাথে পর্যবেক্ষকের সাপেক্ষে কোনো বস্তুর অবস্থান পরিবর্তন করা হলো গতি। যেমন- চলমান একটি গাড়ি রাস্তায় চলছে। এটি আমার সাপেক্ষে সময়ের সাথে গাড়িটি দূরে চলে যাচ্ছে। অর্থাৎ গাড়িটির অবস্থার পরিবর্তন হচ্ছে। গাড়ির এই অবস্থাকে বলে গতি।
স্থিতি ও গতির ২টি করে পার্থক্য নিম্নরূপ-
স্থিতি | গতি |
| ১. সময়ের সাথে পর্যবেক্ষকের সাপেক্ষে কোনো বস্তুর অবস্থান পরিবর্তন না করা হলো স্থিতি। | ১. সময়ের সাথে পর্যবেক্ষকের সাপেক্ষে কোনো বস্তুর অবস্থান পরিবর্তন করা হলো গতি। |
| ২. বস্তুর সরণ হয় না। যেমন-ল্যাম্পপোস্ট। | ২. বস্তুর সরণ ঘটে। যেমন-চলন্ত ট্রেন। |
রাস্তার পাশে দাড়িয়ে থাকা ল্যাম্পপোস্টটি স্থির বস্তু। কারণ এটি আমাদের সাপেক্ষে সময়ের সাথে অবস্থান পরিবর্তন করে না। যখন কোনো বস্তু পর্যবেক্ষকের সাপেক্ষে সময়ের সাথে অবস্থান পরিবর্তন না করে তখন তাকে স্থির বস্তু বলা হয়।
চারটি গতিশীল বস্তুর উদাহরণ নিম্নরূপ-
১. ব্যক্তির দৌড়ে চলা।
২. পাখির উড়ে যাওয়া।
৩. চলন্ত বাস।
৪. গাছ থেকে ফল পড়া।
পৃথিবীর কোনো গতিই পরম স্থির বা পরম গতিশীল নয়। প্রসঙ্গ কাঠামোর সাপেক্ষে সময়ের সাথে বস্তুটি হয় স্থির না হয় গতিশীল। কিন্তু পৃথিবী নিজেও নিজ অক্ষে সূর্যকে কেন্দ্র করে ঘুরছে বা গতিশীল। তাই পৃথিবীর সকল গতিই আপেক্ষিক।
যে পর্যবেক্ষকের সাপেক্ষে গতি বা স্থিতি পরিমাপ করা হয় তাকে বলা হয় প্রসঙ্গ কাঠামো। অর্থাৎ প্রসঙ্গ কাঠামো একটি সুনির্দিষ্ট বস্তু বা বিন্দু যার সাপেক্ষে বস্তুর গতি বা স্থিতি নির্ণয় করা হয়। যেমন- পৃথিবীর সাপেক্ষে চাঁদের বেগ জানতে চাইলে পৃথিবী হবে প্রসঙ্গ কাঠামো।
চলমান ট্রেন গতিশীল হলেও ট্রেনের ভিতরে বসা মুখোমুখি বসা দুজন ব্যক্তি একজনের সাপেক্ষে অন্য জনের অবস্থানের পরিবর্তন হয় না। তাই তারা পরস্পরের সাপেক্ষে নিজেদের স্থির মনে করে।
চলন্ত বাসের মধ্যে বসা একজন ব্যক্তি দাড়ানো গাছকে পেছনে সরে যেতে দেখে। কারণ চলন্ত বাসে বসা ব্যক্তি সাপেক্ষে রাস্তায় দাড়ানো গাছটি গতিশীল হয়। গাছের অবস্থানের পরিবর্তন হয় বলে-ঐ ব্যক্তি গাছকে পেছনে সরে যেতে বা গতিশীল দেখে।
চলন গতি হলো সেই গতি, যেখানে কোনো বস্তু এমনভাবে চলে যে এর সকল কণা বা বিন্দু একই সময়ে একই দিকে সমান দূরত্ব অতিক্রম করে। যেমন- লেখার সময় হাতের গতি হলো চলন গতি।
টেবিলের ড্রয়ারের গতি হলো চলন গতি। কারণ একই সময়ে একই দিকে ড্রয়ারের সকল কণা সমান দূরত্ব অতিক্রম করে!
সরল গতি: যখন কোনো বস্তুর গতি একটি সরলরেখা বরাবর হয় তখন সেই গতিকে সরল গতি বলে। একটি সোজা রাস্তা দিয়ে ট্রাকের গতি।
বক্র গতি: কোনো বস্তু যখন বক্রপথে চলে তখন এর গতিকে বক্র গতি বলে। পাহাড়ি রাস্তায় বাসের গতি।
কোনো বস্তুর যখন বৃত্তাকার পথে চলে তখন ঐ গতিকে ঘূর্ণন গতি বলে। বৈদ্যুতিক পাখা বা দেয়াল ঘড়ি হলো ঘূর্ণন গতির উদাহরণ। এই গতিতে বস্তুর সকল বিন্দু একই পথে চলে না বরং প্রতিটি বিন্দু কেন্দ্রের চারদিকে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাসার্ধের বৃত্তাকার পথে চলে।
চলমান বাসের চাকার গতি হলো ঘূর্ণন চলন বা জটিল গতি। চলমান বাসের চাকাটি যেমন বৃত্তাকার পথে ঘোরে তেমন এটি চলন গতিতেও চলে। তাই চলমান বাসের চাকার গতি হলো ঘূর্ণন চলন গতি।
কোনো গতিশীল বস্তু যদি নির্দিষ্ট সময় পরপর একই পথ বার বার অতিক্রম করে তাহলে সে গতিকে পর্যাবৃত্ত গতি বলে। যেমন- ঘড়ির কাঁটার গতি, বৈদ্যুতিক পাখার গতি হলো পর্যাবৃত্ত গতির উদাহরণ।
ঘড়ির কাঁটার গতি হলো পর্যাবৃত্ত গতি। কারণ ঘড়ির সেকেন্ডের কাঁটাটি নির্দিষ্ট সময় পরপর একই পথ বারবার অতিক্রম করে। তাই ঘড়ির কাঁটার গতিকে পর্যাবৃত্ত গতি বলা হয়।
চলন গতি ও ঘূর্ণন গতির পার্থক্য নিম্নরূপ-
চলন গতি | ঘূর্ণন গতি |
| ১. কোন গতিশীল বস্তুর সকল কণা একই সময়ে একই দিকে সমান দূরত্ব অতিক্রম করে। | ১. বস্তুর সকল বিন্দু একই পথে চলে না বরং কেন্দ্রের চারদিকে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাসার্ধের বৃত্তাকার পথে চলে। |
| ২. ড্রয়ারের গতি। | ২. বৈদ্যুতিক পাখার গতি। |
দোলন গতি হলো সেই পর্যাবৃত্ত গতি যেখানে কোনো বস্তু পর্যায়কালের অর্ধেক সময় একদিকে এবং বাকী অর্ধেক সময় অন্যদিকে চলে। যেমন সরল দোলকের গতি।
দোলনার গতিকে স্পন্দন গতি বলা হয়। কারণ দোলনা পর্যায়কালের অর্ধেক সময় এক পাশে এবং বাকী অর্ধেক সময় আরেক পাশে থাকে। তাই দোলনার গতিকে স্পন্দন বা দোলন গতি বলা হয়।
সরণ হলো নির্দিষ্ট দিকে সোজাসুজি বা সরলরেখায় বস্তুর অতিক্রান্ত দূরত্ব। অর্থাৎ সরণ হলো বস্তুর ১ম অবস্থান হতে শেষ অবস্থান পর্যন্ত সরলরৈখিক দূরত্ব। যেমন- একটি বস্তু নির্দিষ্ট বিন্দু হতে ১০ মিটার দক্ষিণে গেল এবং উল্টাদিকে ৪ মিটার উত্তরে গেল।
তবে সরণ হবে (১০-৪) = ৬ মিটার।
সরণ ও দূরত্বের মধ্যে ২টি পার্থক্য নিম্নরূপ-
দূরত্ব | সরণ |
| ১. নির্দিষ্ট বিন্দু হতে অতিক্রান্ত মোট দূরত্ব। | ২. নির্দিষ্ট দিকে সোজাসুজি বা সরলরেখায় অতিক্রান্ত দূরত্ব। |
| ২. দিকের উপর নির্ভর করে না। | ২. দিকের উপর নির্ভর করে। |
আমরা জানি,
সরণ = সোজাপথে প্রথম হতে শেষ বিন্দু পর্যন্ত দূরত্ব = ২০ – ৩ মিটার
= ১৭ মিটার
সরণ = AB-BC
=7-3
= 4 m
সময়ের সাথে কোনো বস্তুর সরণের পরিবর্তনের হারকে বেগ বলে।
∴ বেগ = সরণ/সময়
বেগের মান ও দিক উভয় আছে।
আমরা জানি,
দ্রুতি = মোট দূরত্ব/মোট সময়
= ১০০ মিটার/মিনিট
∴ রেদোয়ান ১ মিনিটে ১০০ মিটার পথ অতিক্রম করে।
একটি গাড়ি 15 মিটার/সেকেন্ড বেগে পূর্ব দিকে গেল বলতে গাড়িটি পূর্ব দিকে 1 সেকেন্ডে 15 মিটার সরণ বা পথ অতিক্রম করে।
বেগ = সরণ/সময় = = ৩ মিটার/সেকেন্ড উত্তর দিকে।'
বেগ ও সরণের পার্থক্য নিম্নরূপ:
বেগ | সরণ |
| ১. সময়ের সাথে বস্তুর সরণের পরিবর্তনের হারকে বেগ বলে। | ২. নির্দিষ্ট দিকে পারিপার্শ্বিকের সাপেক্ষে কোনো বস্তুর অবস্থান পরিবর্তন বা অতিক্রান্ত দূরত্ব হচ্ছে সরণ। |
| ২. বেগের একক মিটার/সেকেন্ড। | ২. সরণের একক মিটার। |
আমরা জানি,
বেগ = সরণ/সময়
সরণ = বেগ × সময় = 3 × 5 = 15 মিটার
5 সেকেন্ড পর গাড়ির বেগ হবে 15 মিটার।
আমরা জানি,
দ্রুতি = মোট দূরত্ব/সময়
বা, সময় = মোট দূরত্ব/দ্রুতি = ৩ সেকেন্ড।
একক সময়ে বেগ হ্রাসের হারকে মন্দন বলে। অর্থাৎ সময়ের সাথে বেগের হ্রাস পাওয়ার হারকে মন্দন বলে। যেমন- ব্রেক চাপলে গাড়ি থেমে যায় মন্দনের কারণে। মন্দন গাড়ির বেগকে হ্রাস করে দেয়।
ত্বরণ ৫ মি./সে.২ বলতে প্রতি সেকেন্ডে বেগ ৫ মি./সে. বৃদ্ধি পায় বোঝায়।
আমরা জানি,
ত্বরণ = শেষ বেগ – আদি বেগ/ সময়
= ৫ মি./সে২.।
মন্দন = আদি বেগ – শেষ বেগ/সময়
= ৫ মি./সে২.।
জীবন হচ্ছে মহামূল্যবান। সবকিছুর বিনিময়ে কেউ জীবন দিতে পারবে না। এটি শুধুমাত্র সৃষ্টিকর্তা দিতে পারেন। রাস্তাঘাটে অনেক 'দূর্ঘটনা ঘটে। রাস্তায় অতিরিক্ত গতি সীমায় গাড়ি চালালে দূর্ঘটনা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই দূর্ঘটনা এড়াতে রাস্তায় নির্দিষ্ট গতিসীমা ব্যবহার করা হয়। এতে জীবনের ঝুঁকি কমে।
সময়ের সাথে বেগ বৃদ্ধির হারকে ত্বরণ বলে।
∴ ত্বরণ = শেষ বেগ - আদি বেগ/ সময়
বেগের বৃদ্ধি হলেই কেবল ত্বরণ হবে। যদি বেগ হ্রাস পায় তবে মন্দন ঘটে। একই বেগে চললে ত্বরণ থাকে না।
সময়ের সাথে পর্যবেক্ষকের সাপেক্ষে কোনো বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তন না হলে ঐ অবস্থাকে স্থিতি বলে।
সময়ের পরিবর্তনের সাথে পারিপার্শ্বিকের সাপেক্ষে কোনো বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তন ঘটাকে গতি বলে।
প্রসঙ্গ কাঠামো হতে পারে কোনো ব্যক্তি, কোনো বস্তু বা যেকোনো স্থান।
কোনো বস্তুর গতি যদি এমন হয় যে এটি তার গতিকালের অর্ধেক সময় যেকোনো একদিকে এবং বাকী অর্ধেক সময় পূর্ব গতির বিপরীত দিকে চলে তবে তার গতিকে দোলন গতি বলে।
যখন একই সাথে কোনো বস্তুর চলন ও ঘূর্ণন গতি থাকে তখন ঐ বস্তুটির গতিকে ঘূর্ণন চলন গতি বলে।
সরণের একক মিটার।
সময়ের সাথে বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তনের হারই দ্রুতি।
সময়ের সাথে বেগ বৃদ্ধির হারকে ত্বরণ বলে।
ত্বরণের একক মিটার/সেকেন্ড২।
কোনো বস্তুর বেগ প্রতি সেকেন্ডে যে পরিমাণ কমে তাকে মন্দন বলে।
মন্দন হলো ঋণাত্মক ত্বরণ।
আমরা সাধারণত কোনো প্রসঙ্গ বস্তুর সাপেক্ষে অন্য বস্তুকে স্থিতিশীল বা গতিশীল বলে থাকি। কিন্তু এ মহাবিশ্বে এমন কোনো প্রসঙ্গ বস্তু পাওয়া সম্ভব নয় যা প্রকৃতপক্ষে স্থির রয়েছে। কারণ পৃথিবী প্রতিনিয়ত সূর্যের চারদিকে ঘুরছে। সূর্য ও তার গ্রহ উপগ্রহ, নিয়ে নভোমণ্ডলের চারদিকে ঘুরছে। কাজেই আমরা, যখন কোনো বস্তুকে স্থিতিশীল বা গতিশীল বলি তা আমরা কোনো আপাত স্থিতিশীল বস্তুর সাপেক্ষে বলে থাকি। এজন্যই পরম স্থিতি ও পরম গতি পাওয়া সম্ভব নয়।
যদি কোনো গতিশীল; বস্তু তার গতিপথের কোনো বিন্দুকে একটি নির্দিষ্ট সময় পরপর একই দিক থেকে অতিক্রম করে তখন তার গতিকে পর্যাবৃত্ত গতি বলে। এক্ষেত্রে বস্তুটির প্রতিটি ঘূর্ণনের জন্য সমান সময় লাগে। ঘড়ির কাঁটার গতি, বৈদ্যুতিক পাখার গতি, সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর গতি প্রভৃতি পর্যাবৃত্ত গতির উদাহরণ।
সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর গতি পর্যাবৃত্ত গতি।
কোনো গতিশীল বস্তুকণার গতি যদি এমন হয় যে, এটি এর গতিপথের কোনো নির্দিষ্ট বিন্দুকে নির্দিষ্ট সময় পরপর একই দিক থেকে অতিক্রম করে, তাহলে সেই গতিকে পর্যাবৃত্ত গতি বলে। পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘুরার সময় কোনো নির্দিষ্ট বিন্দুকে নির্দিষ্ট সময় পরপর একই দিক্ থেকে অতিক্রম করে। তাই সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর গতি পর্যাবৃত্ত গতি।
দ্রুতি ও সরণের মধ্যে দুটি পার্থক্য উল্লেখ করা হলো-
দ্রুতি | সরণ |
| ১. কোনো গতিশীল বস্তুর একক সময়ের অতিক্রান্ত দূরত্বকে দ্রুতি বলে। | ১. নির্দিষ্ট বিন্দু থেকে নির্দিষ্ট দিকে অতিক্রম করা সোজাসুজি দূরত্বকে সরণ বলে। |
| ২. দুতির কোনো নির্দিষ্ট দিক. নেই। | ২. সরণের নির্দিষ্ট দিক রয়েছে। |
পর্যাবৃত্ত গতির ক্ষেত্রে বস্তু নির্দিষ্ট সময় পরপর একই পথে অতিক্রম করতে থাকে। অর্থাৎ, গতিপথের কোনো বিন্দুকে শুধুমাত্র একই দিক থেকে অতিক্রম করে। অপরদিকে স্পন্দনগতির ক্ষেত্রে বস্তু গতিপথের কোনো বিন্দুকে নির্দিষ্ট সময় পরপর উভয় দিক থেকে অতিক্রম করে।
দ্রুতি ও বেগের মধ্যে পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো-
দ্রুতি | বেগ |
| ১. একক সময়ে অতিক্রান্ত দূরত্বকে দ্রুতি বলে। | ১. নির্দিষ্ট দিকে একক সময়ে অতিক্রান্ত দূরত্বকে বেগ বলে । |
| ২. দ্রুতি দ্বারা অবস্থানের পরিবর্তনের হার কোনদিকে ঘটেছে তা জানা যায় না। | ২. বেগ দ্বারা বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তনের হার কোনদিকে ঘটেছে তা জানা যায়। |
স্থিতি ও গতি আমাদের প্রতিদিনের অভিজ্ঞতার বিষয়। এ বিশ্বে কোনো বস্তু স্থির আবার কোনো বস্তু গতিশীল। প্রতিদিন আমাদের আশেপাশে নানা রকম স্থিতি ও গতি দেখতে পাই। বাড়িঘর, দালান- কোঠা, রাস্তার ল্যাম্পপোস্ট, রাস্তার পাশে গাছ সব সময়ই দাঁড়িয়ে আছে-এরা স্থিতিতে আছে বা স্থির। চলমান বাস, চলন্ত গাড়ি, চলন্ত রিক্সা, চলন্ত ট্রেন এমনকি আমাদেরও হাঁটা-চলা হলো গতির উদাহরণ। এ অধ্যায়ে আমরা স্থিতি ও গতি নিয়ে আলোচনা করব।
এই অধ্যায় শেষে আমরা
- স্থিতি ও গতির পার্থক্য করতে পারব।
- সকল গতিই আপেক্ষিক তা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- বিভিন্ন প্রকার গতির বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে পারব।
- গতি সম্পর্কিত রাশিসমূহের গাণিতিক হিসাব করতে পারব।
- গতি সম্পর্কিত রাশি পরিমাপ করতে পারব।
- দূরত্ব ও দ্রুতি নির্ণয় করতে পারব।
- দ্রুতি পরিমাপে স্টপ-ওয়াচ (থামা-ঘড়ি) সুনিপুণভাবে ব্যবহার করতে পারব।
- অতিরিক্ত গতি কীভাবে জীবনের জন্য ঝুঁকি বয়ে আনে তা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- ভ্রমণকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যাখ্যা করতে পারব।
- ভ্রমণকালে সঠিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণে নিজে সচেতন হব এবং অন্যদেরকে সচেতন করব।
Related Question
View Allকোনো গতিশীল বস্তু যদি একই দিক থেকে একই পথ বারবার অতিক্রম করে তাহলে সে গতিকে পর্যাবৃত্ত গতি বলে।
দেয়াল ঘড়ির দোলকের গতি দোলন বা স্পন্দন গতি।
ব্যাখ্যা: আমরা জানি, যখন কোনো গতিশীল বস্তু একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর বিপরীতমুখী হয় তখন তার গতিকে দোলনগতি বলে। অন্যভাবে আমরা বলতে পারি যে, পর্যাবৃত্ত গতি সম্পন্ন কোনো বস্তুর গতি যদি এমন হয় যে, পর্যায়কালের অর্ধেক সময় কোনো একদিকে এবং বাকি অর্ধেক সময় পূর্ব গতির বিপরীত দিকে চলে, তবে ঐ বস্তুর গতিকে দোলন গতি বলে। দেয়াল ঘড়ির দোলকটির ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, নির্দিষ্ট সময় পরপর দোলকটি এদিক-ওদিক চলে, যা দোলনগতির উদাহরণ। অতএব, দেয়াল ঘড়ির দোলকের 'গতি দোলন বা স্পন্দন গতি।
খুশবুর বাড়ি থেকে স্কুলের দূরত্ব ১৫০০ মিটার। খুশবুর স্কুলে পৌছাতে সময় লাগে ১৫ মিনিট।
আমরা জানি, দ্রুতি = অতিক্রান্ত দূরত্ব/সময়
=১৫০০ মিটার =১০০ মিটার/মিনিট
১৫ মিনিট
খুশবুর দ্রুতি ১০০ মিটার/মিনিট।
হৃদিতার বাড়ি থেকে স্কুলের দূরত্ব, ১৮০০ মিটার এবং হৃদিতার স্কুলে পৌঁছতে সময় লাগে'২০ মিনিট।
আমরা জানি, দ্রুতি = অতিক্রান্ত দূরত্ব/সময়
= ১৮০০ মিটার/২০ মিনিট/= ৯০ মিটার/মিনিট
হৃদিতার দ্রুতি ৯০ মিটার/মিনিট।
আবার, সদিচ্ছার বাড়ি থেকে স্কুলের দূরত্ব ২১০০ মিটার। সদিচ্ছার স্কুলে পৌঁছাতে সময় লাগে ৩০ মিনিট।
দ্রুতি =২১০০ মিটার/৩০ মিনিট/= ৭০ মিটার/মিনিট
সদিচ্ছার দ্রুতি ৭০ মিটার/মিনিট।
অতএব, গাণিতিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে আমরা পাই যে, হৃদিতার দ্রুতি বেশি।
সময়ের সাথে পর্যবেক্ষকের সাপেক্ষে কোনো বস্তুর অবস্থানের পরিবর্তন না হলে ঐ অবস্থাকে স্থিতি বলে।
যে পর্যবেক্ষকের সাপেক্ষে গতি বা স্থিতি পরিমাপ করা হয় তাকে বলা হয় প্রসঙ্গ কাঠামো। সুতরাং, প্রসঙ্গ কাঠামো হলো এমন কোনো সুনির্দিষ্ট বস্তু বা বিন্দু যার সাপেক্ষে বস্তুর স্থিতি বা গতি নির্ণয় করা হয়। প্রসঙ্গ কাঠামো হতে পারে যেকোনো ব্যক্তি, যেকোনো বস্তু, যেকোনো স্থান। কিন্তু সব ক্ষেত্রেই এদের সুনির্দিষ্ট হতে হবে। আমরা যদি বাড়ি - থেকে স্কুলের দূরত্ব মাপতে চাই, সেক্ষেত্রে বাড়ি হবে প্রসঙ্গ কাঠামো। পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্ব জানতে চাইলে পৃথিবী হবে প্রসঙ্গ কাঠামো।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
