আমি ঘরের ভেতরের জিনিস দেখতে পাব না, কিন্তু ঘরের বাইরের জিনিস দেখতে পাব। কারণ; আমরা কোনো বস্তুকে তখনই দেখতে পাই, যখন ঐ বস্তু থেকে আলো এসে আমাদের চোখে পড়ে। যেহেতু ঘরের ভেতরে আলো নেই, সেহেতু ঘরের ভেতরের জিনিস থেকে আলো আমার চোখে আসবে না। তাই আমি ঘরের ভেতরের জিনিস দেখতে পাব না। কিন্তু ঘরের বাইরে আলো থাকার কারণে সেখানকার বস্তু থেকে আলো প্রতিফলিত হয়ে আমার চোখে আসবে তাই আমি ঘরের বাইরের জিনিস দেখতে পাব।
নিয়মিত ও বিক্ষিপ্ত প্রতিফলনের পার্থক্য নিচে দেওয়া হলো-
নিয়মিত প্রতিফলন | বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন |
| ১. কোনো সমান্তরাল আলোক রশ্মি গুচ্ছ প্রতিফলনের পর সমান্তরাল থাকলে, তাকে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন বলে।. | ১. সমান্তরাল আলোক রশ্মিগুচ্ছ প্রতিফলনের পর যদি আর সমান্তরাল না থাকে তাকে বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন বলে। |
| ২. প্রতিফলক পৃষ্ঠ মসৃণ হলে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে। | ২. প্রতিফলক পৃষ্ঠ মসৃণ না হলে, আলোর বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন ঘটে। |
| ৩. নিয়মিত প্রতিফলনে আপতন কোণ ও প্রতিফলন কোণ সর্বদা সমান থাকে। | ৩. বিক্ষিপ্ত প্রতিফলনে আপতন কোণ ও প্রতিফলন কোণ সমান থাকে না। |
পেরিস্কোপ তৈরি হয় একটি লম্বা টিউব এবং দুটি ক্ষুদ্র সমতল দর্পণ দিয়ে। টিউবের দুই প্রান্তে দর্পণ দুটিকে টিউবের দেয়ালের সাথে ৪৫° কোণে স্থাপন করা হয়, যা চিত্রে দেখানো হয়েছে। দর্পণগুলো পরস্পর সমান্তরাল থাকে।
চিত্রে দেখানো একটি বস্তুর একটি বিন্দু O থেকে আলোকরশ্মি এসে পেরিস্কোপের A প্রান্ত দিয়ে প্রবেশ করে প্রথম দর্পণ M-এ আপতিত হয় এবং সেখানে প্রতিফলনের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণ N-এ আপতিত হয়। দ্বিতীয় দর্পণে পুনরায় প্রতিফলিত হয়ে সেই রশ্মি পেরিস্কোপের B প্রান্ত দিয়ে নির্গত হয়। সেখানে আমাদের চোখে যদি এই রশ্মি আপতিত হয় তাহলে চোখ দেখে যা NB বরাবর আলো আসছে, সুতরাং O বিন্দুর একটি বিম্ব চোখ দেখতে পায় এই রেখা বরাবর। বিন্দুতে। চোখের সামনে যদি কোনো বাধা থাকে (চিত্রে PQ), তাহলে বাধার অন্য পাশের বস্তু বা ঘটনা দেখার জন্য অনেক সময় পেরিস্কোপ ব্যবহার করা হয়। স্টেডিয়ামে ভীড়ের মধ্যে খেলা দেখার জন্য পেরিস্কোপ ব্যবহার করা যায়। সমুদ্রপৃষ্ঠে কী আছে তা ডুবোজাহাজ থেকে দেখার জন্যও এর ব্যবহার বেশ প্রচলিত।

নিচে নিয়মিত ও বিক্ষিপ্ত প্রতিফলকগুলোকে চিহ্নিত করা হলো-
(ক) মার্বেলের মেঝেতে আলোর বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন ঘটে।
(খ) ছড়ানো আটায় আলোর বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন ঘটে।
(গ) জুতার বাক্সে আলোর বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন ঘটে।
(ঘ) সমতল দর্পণে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে।
(ঙ) পালিশ করা দরজায় আলোর নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে।
(চ) নতুন স্টিলের থালায় আলোর নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে।
মনে করি, দর্পণে আপতিত রশ্মি AO, প্রতিফলিত রশ্মি OM, আপতন কোণ ∠AON এবং প্রতিফলন কোণ ∠NOM।
এখানে, ON অভিলম্ব হওয়ায়,
∠ PON = ৯০°
বা, ∠POA + ∠AON = ৯০°
বা, ৪৫° + ∠AON = ৯০°
বা, ∠AON = ৯০° - ৪৫°
∴ ∠AON = ৪৫°

আবার, আপতন কোণ = প্রতিফলন কোণ
বা, ∠AON = ∠NOM
∴ ∠NOM= ৪৫°
তাহলে, ∠AOM= ∠AON+∠NOM = ৪৫°+৪৫° = ৯০°
আবার, ∠NOQ = ৯০°
বা, ∠NOM+ ∠MOQ = ৯০°
বা, ∠MOQ = ৯০° - ∴ ∠MOQ = ৪৫°
আলো হচ্ছে শক্তি যা দর্শনের অনুভূতি জন্মায়। আলো ছাড়া আমরা কোন কিছু দেখতে পারি না। আলো অত্যন্ত দ্রুত রেগে চলে। সকল আলোর উৎস হচ্ছে সূর্য।
আলোর দুটি বৈশিষ্ট্য হলো-
১. আলো সরলরেখায় চলে।
২. আলোর প্রতিফলন হয়।
৩. আলোর শোষণ হয়।
আলো হচ্ছে এক ধরনের শক্তি যা আমাদের দর্শনের অনুভূতি জন্মায়। আলো বক্রপথে চলে না। আলো সরলরেখায় চলে। আলোর এই সরলরৈখিক পথকে আলোকরশ্মি বলে।
অন্ধকারে, কোনো বস্তু হতে আলো আমাদের চোখে পড়ে না বিধায় আমরা দেখতে পাই না। অনুজ্জ্বল বস্তু আলো শোষণ করে বিধায় ঐ বস্তুর আলোর প্রতিফলন ঘটে না। তাই আমরা অন্ধকারে দেখতে পাই না।
যে বস্তুর নিজস্ব আলো আছে তাদের উজ্জ্বল বস্তু বলে। যেমন-জোনাকি পোকা, মোমবাতি, সূর্য, তারা ইত্যাদি। 'এই বস্তুগুলোর নিজস্ব আলো রয়েছে এবং এদের আলো আমাদের চোখে পড়ে তাই তাদের দেখা যায়। এগুলো আলোর উৎস হিসেবেও কাজ করে।
যে বস্তুর নিজের কোনো আলো নেই, অন্য বস্তুর আলো প্রতিফলিত করে তাদের বলা হয় অনুজ্জ্বল বস্তু। অনুজ্জ্বল বস্তুতে আলো পড়লে তা প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে এসে পড়ে। ফলে বস্তুটিকে দেখা যায়। যেমন: পৃথিবীর অধিকাংশ রস্তুই অনুজ্জ্বল বস্তু।
উজ্জ্বল বস্তু ও অনুজ্জ্বল বস্তুর ২টি পার্থক্য নিম্নরূপ-
উজ্জ্বল বস্তু | অনুজ্জ্বল বস্তু |
| ১. নিজস্ব আলো আছে। | ১. নিজস্ব আলো নেই। |
| ২. নিজস্ব বস্তুর নিজস্ব আলো আমাদের চোখে পড়ে এবং ঐ বস্তুটিকে দেখতে পাই। যেমন- সূর্য, তারা। | ২. অনুজ্জ্বল বস্তু হতে প্রতিফলিত আলো আমাদের চোখে পড়ে তখন ঐ বস্তুটিকে দেখতে পাই। যেমন-পৃথিবীর অধিকাংশ বস্তু। |
কালো লেখা বা কালো বস্তু কোন উৎস হতে আসা আলো বেশি শোষণ করে এবং কম প্রতিফলিত করে। কিন্তু সাদা পৃষ্ঠা থেকে আলো বেশি প্রতিফলিত হয়। ফলে সাদা পৃষ্ঠায় কালো লেখা আমরা দেখতে পাই।
যে বস্তু উৎস হতে প্রাপ্ত সমস্ত আলো শোষণ করে তাদের কালো বস্তু বা কৃষ্ণবস্তু বলে। এরা সমস্ত আলো শোষণ করে বিধায় এদের কালো দেখায়।
কোনো বস্তুতে আলো পড়লে তা বাঁধা পেয়ে ফিরে আসার ঘটনাকে আলোর প্রতিফলন বলে। যেমন- আলো একটি দর্পণে পড়লে তা ফিরে এসে আমাদের চোখে পড়ে বিধায় আমরা আয়নায় নিজেকে দেখতে পাই।
আলোর প্রতিফলন দুই ধরনের। যথা-
১. নিয়মিত প্রতিফলন।
২. অনিয়মিত বা বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন।
দর্পণে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে। আলোর নিয়মিত প্রতিফলনে পৃষ্ঠ মসৃণ হওয়ায় আপাতন কোণ ও প্রতিসরণ কোণ সমান হয়। আপতিত রশ্মি অভিলম্বের সাথে যে কোণ করে ঠিক সেই কোণেই প্রতিফলিত হয়। তাই দর্পণে আপাতন কোণ ও প্রতিফলন কোণ সমান হয়।
নিয়মিত প্রতিফলন ও ব্যাপ্ত প্রতিফলের ২টি পার্থক্য নিম্নরূপ-
নিয়মিত প্রতিফলন | ব্যাপ্ত প্রতিফলন |
| ১. এই প্রতিফলনে পৃষ্ঠ মসৃণ হয়। | ১. এই প্রতিফলনে পৃষ্ঠ অমসৃণ হয়। |
| ২. প্রতিফলিত আলো উজ্জ্বল হয়। | ২. প্রতিফলিত আলো কম উজ্জ্বল হয়। |
আমরা জানি, যে পৃষ্ঠ যত বেশি মসৃণ বা চকচকে তা ততো বেশি আলো প্রতিফলিত করে। প্লাস্টিকের থালা স্টিলের থালার চেয়ে কম মসৃণ ও কম চকচকে। তাই স্টিলের থালায় বেশি আলো প্রতিফলিত হয় বিধায় প্লাস্টিকের থালার তুলনায় বেশি চকচক করে।
দর্পণ পৃষ্ঠ মসৃণ হওয়ায় দর্পণে আলো পড়লে তা ফিরে আসে। আলোর এই ঘটনাকে আলোর প্রতিফলন বলে। দর্পণে আলোর যে রশ্মি পড়ে তাকে আপতিত রশ্মি বলে এবং যে রশ্মি ফিরে যায় তাকে প্রতিফলিত রশ্মি বলে। দর্পণে আলোর নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে বিধায় আপাতন কোণ ও প্রতিফলন কোণ সমান হয়।
কোনো পৃষ্ঠে আলো পড়লে তা বাঁধা পেয়ে ফিরে আসার ঘটনাকে আলোর প্রতিফলন বলে। কোনো বস্তুতে আলো পড়লে যদি ঐ বস্তু আলো শোষণ করে আলো ফিরে না আসে তবে আলোর এই ঘটনাকে শোষণ বলে।

কোনো বস্তু হতে আলো প্রতিফলিত হয়ে কোনো মসৃণ বা চকচকে পৃষ্ঠে পড়লে ঐ পৃষ্ঠে বস্তুটির ছায়া তৈরি হয়। এই ছায়াকে বলে প্রতিবিম্ব। দর্পণে আমাদের মুখ হতে আলো প্রতিফলিত হয়ে পড়ে বিম্ব তৈরি হয় বলে আমরা নিজেকে দেখতে পারি।
দর্পণে সৃষ্ট বিম্বের বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ-
১. দর্পণে সৃষ্ট বিস্ব লক্ষ্যবস্তুর সমান আকৃতির হবে।
২. দর্পণ হতে লক্ষ্যবস্তুর দূরত্ব ও প্রতিবিম্বের দূরত্ব সমান হয়।
৩. প্রতিবিম্ব পার্শ্ব পরিবর্তন করে। লক্ষ্যবস্তু তাদের বাম ও ডান দিক অবস্থান বিনিময় করে।
আমরা জানি, দর্পণ হতে লক্ষ্যবস্তুর দূরত্ব ও বিম্বের দূরত্ব সমান হয়। যেহেতু দর্পণ হতে লক্ষ্যবস্তু 5 মিটার দূরে আছে তাই বিম্বের দূরত্ব হবে ১ মিটার।
দর্পণে সৃষ্ট প্রতিবিম্ব পার্শ্বপরিবর্তন করে। কারণ আলো সমতল দর্পণে পড়লে তা প্রতিসরিত হয়। প্রতিফলিত রশ্মিকে পেছনে বর্ধিত করলে তা কোনো বিন্দুতে মিলিত হয়। যার জন্য লক্ষ্যবস্তুর বাম ও ডান অংশের স্থান বিনিময় হয়। এজন্য বাম হাত নাড়লে বিম্বে ডান হাত নড়ে।
পেরিস্কোপ হলো এক ধরনের যন্ত্র যার মাধ্যমে চোখের সামনে বাধাপ্রাপ্ত বস্তুটিকে দেখা যায়। এই যন্ত্র একটি লম্বা টিউব ও দুটি ক্ষুদ্র সমতল দর্পণ দিয়ে তৈরি। টিউবের দুই প্রান্তে দর্পণ দুটিকে ৪৫° কোণে স্থাপন করা হয়। ডুবোজাহাজ হতে সমুদ্রপৃষ্ঠে কী আছে তা দেখার জন্য পেরিস্কোপ ব্যবহার করা হয়।
আলো এক প্রকার শক্তি যা আমাদের দর্শনের অনুভূতি জন্মায়।
আলোর সরলরৈখিক পথই আলোকরশ্মি।
যেসব বস্তুর নিজের আলো আছে তাদেরকে উজ্জ্বল বস্তু বলে।
যেসব বস্তুর নিজের আলো নেই, অন্য বস্তুর আলো প্রতিফলিত করে, তাদেরকে অনুজ্জ্বল বস্তু বলে।
দর্পণ হলো একটি মসৃণ তল যেখানে আলোকের নিয়মিত প্রতিফলন ঘটে।
কোনো বস্তুতে আলো পড়ে যদি তা বাধা পেয়ে ফিরে আসে, তা হলে তাকে প্রতিফলন বলে।
যে পৃষ্ঠ থেকে বাধা পেয়ে আলোক রশ্মি প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসে তাই প্রতিফলক পৃষ্ঠ।
আলো যে কোণে দর্পণে পড়ে তাকে আপতন কোণ বলে।
কোনো বস্তুতে আলো পড়ে তা যদি ফিরে না আসে তাহলে তাকে শোষণ বলে।
রংধনু সৃষ্টির কারণ আলোর বিক্ষিপ্ত প্রতিফলন।
সমতল দর্পণে গঠিত কোনো বস্তুর সমগ্র প্রতিবিম্বটি বস্তুর সাপেক্ষে পাশের দিকে উল্টে যাওয়ার ঘটনাই পার্শ্ব বা পার্শ্বীয় পরিবর্তন।
পেরিস্কোপে দর্পণকে টিউবের সাথে ৪৫° কোণে স্থাপন করা হয়।
জানা আছে, কোনো বস্তু থেকে আলো এসে যখন স্বাভাবিক চোখে পড়ে, তখনই বস্তুটি দেখা যায়। বইয়ের পৃষ্ঠায় কালো লেখাগুলো কোনো উৎস থেকে আসা আলো বেশি শোষণ করে। কিন্তু সাদা পৃষ্ঠা থেকে প্রতিফলিত আলো আমাদের চোখ গ্রহণ করে। ফলে কাগজে ছাপা কালো অক্ষরগুলো আমরা দেখতে পাই।
আলো কোনো স্বচ্ছ মাধ্যমের মধ্যদিয়ে যেতে অন্য কোনো মাধ্যমে বাধা প্রাপ্ত হলে সেই আলোর কিছু অংশ মাধ্যম দুটির বিভেদ তলে অর্থাৎ প্রতিফলক পুষ্ঠে বাধা পেয়ে আবার প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসে। এভাবে আলোকরশ্মি কোনো তুলে বাধা পেয়ে ফিরে আসাকেই আলোর প্রতিফলন বলে।
নিদীপকের দর্পপটি একটি সমতুল দর্পণ। নিয়ে এ দর্পণে সৃষ্ট প্রতিবিদের বৈশিষ্ট্য দেওয়া হলো-
১. দর্পণ থেকে বস্তুর দূরত্ব যত, দর্পণ থেকে বিম্বের দূরত্ব তত।
২. বস্তু ও বিশ্ব যে সরলরেখায় অবস্থিত, সেটি দর্পণকে লম্বভাবে ছেদ করে।
৩. বিম্বের পার্শ্ব পরিবর্তন ঘটে।
৪. বিম্বের আকার বস্তুর আকারের সমান হয়।
পেরিস্কোপের বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ:
১. আলোর প্রতিফলনকে কাজে লাগিয়ে পেরিস্কোপ তৈরি হয়।
২. পেরিস্কোপে দুটি সমতল দর্পণ ব্যবহৃত হয়।
৩. একটি সরু টিউবের দুই প্রান্তে সমতল দর্পণ দুটিকে ৪৫° কোণে স্থাপন করা হয়।
৪. সমতল দর্পণ দুটি পরস্পর সমান্তরালে থাকে।
৫. আলোর প্রতিফলন দুইবার ঘটে।
Related Question
View Allকোনো বস্তুতে আলো পড়ে যদি তা বাধা পেয়ে ফিরে আসে, তা হলে তাকে আলোর প্রতিফলন বলে।
কোনো বিন্দু থেকে নিঃসৃত আলোক রশ্মিগুচ্ছ প্রতিফলিত বা প্রতিসরিত হয়ে যদি দ্বিতীয় কোনো বিন্দুতে মিলিত হয় বা দ্বিতীয় কোনো বিন্দু থেকে অপসৃত হচ্ছে বলে মনে হয়, তাহলে ঐ বিন্দুকে প্রথম বিন্দুর প্রতিবিম্ব বলে।
আমরা জানি, কোনো বস্তু থেকে আলো এসে আমাদের চোখে পড়লে আমরা বস্তুটি দেখতে পাই। আবার কোনো বস্তু থেকে কোনো মসৃণ তলে আলো প্রতিফলিত হয়ে অন্য কোনো মসৃণ বা চকচকে পৃষ্ঠে পড়লে ঐ পৃষ্ঠে বস্তুটির প্রতিবিম্ব সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার কারণে আমরা কোনো দর্পণের সামনে দাঁড়ালে আমাদের প্রতিবিম্ব দেখতে পাই। সমতল দর্পণ বা আয়নার ক্ষেত্রে অসদ ও সোজা প্রতিবিম্ব গঠিত হয়। এক্ষেত্রে দর্পণের যত সামনে বস্তু, থাকে, দর্পণের ঠিক ততটুকু পেছনে বস্তুটির প্রতিবিম্ব দেখা যায় এবং বিম্বের আকার বস্তুর আকারের সমান হয়। এ কারণে সামিন বেসিনের আয়নার সামনের দিকে যেতে থাকলে, আয়নায় তার প্রতিচ্ছবিও সামনের দিকে আসে এবং দূরে যাওয়ার সাথে সাথে প্রতিচ্ছবি দূরে সরে যায়।
সামিনের বাসায় প্রস্তুতকৃত পেরিস্কোপ দিয়ে স্কুলের অনুরূপ বাইরের দৃশ্য দেখা সম্ভব হবে না।
উত্তরের সপক্ষে যুক্তি: পেরিস্কোপে সাধারণত দর্পণ দুটিকে দর্পণের দেয়ালের সাথে ৪৫° কোণ করে রাখা হয়। এতে আলো প্রথম দর্পণে প্রতিফলিত হয়ে দ্বিতীয় দর্পণে পড়ে। দ্বিতীয় দর্পণ থেকে আলো প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে পড়লে আমরা বস্তুটি দেখি। পেরিস্কোপের দর্পণদ্বয় সমান্তরালে থাকে এবং ৯০° কোণে আলোর বিসরণ ঘটায়। সামিন যে পেরিস্কোপটি তৈরি করেছে তাতে সে দর্পণকে ৩০° কোণে রেখেছে এতে বস্তু থেকে আলো এসে ১ম দর্পণে পড়লে তাতে আপতন কোণ হবে ৬০°। এর ফলে আলো দ্বিতীয় দর্পণে পৌছাতে পারবে না। কারণ এক্ষেত্রে আপতন কোণ ও প্রতিফলন কোণ সমান হবে না। দ্বিতীয় দর্পণে আলো না পৌছালে তা আর আমাদের চোখে পৌঁছাবে না। তাই সামিনের তৈরি পেরিস্কোপ দিয়ে স্কুলের অনুরূপ বাইরের দৃশ্য দেখা যাবে না।
কোনো মসৃণ পৃষ্ঠে আলো পড়ে বাধা পেয়ে ফিরে আসাকে প্রতিফলন বলে।
আলোর প্রতিফলনের দুটি নিয়ম রয়েছে।'
১. আপতিত রশ্মি, প্রতিফলিত রশ্মি এবং আপতন বিন্দুতে প্রতিফলকের উপর অঙ্কিত অভিলম্ব একই সমতলে থাকে।
২. আপতন কোণ সর্বদা প্রতিফলন কোণের সমান হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

