সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর

Updated: 8 months ago
উত্তরঃ

কুরআন শব্দটি আরবি। যা কারউন মূল ধাতু থেকে উৎকলিত। যার অর্থ একত্র করা, সন্নিবেশ করা, জমা করা ইত্যাদি। আর এর সম্প্রসারিত অর্থ- অধ্যয়ন করা, আবৃত্তি করা ও পাঠ করা। এ গ্রন্থটি সর্বাধিক পঠিত বলে একে কুরআন বলা হয়। পরিভাষায় কুরআন হচ্ছে এমন এক গ্রন্থ, যা রাসুল (স.)-এর ওপর নাযিলকৃত। সহিফাসমূহে লিপিবদ্ধ এবং সন্দেহমুক্ত প্রক্রিয়ায় ধারাবাহিকভাবে বর্ণিত। কুরআন হলো সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব।

উত্তরঃ

পবিত্র কুরআন আরবি ভাষায় রচিত। আরবি ভাষায় রয়েছে ২৯টি হরফ বা বর্ণ। প্রত্যেকটি হরফ বা বর্ণ নির্দিষ্ট স্থান থেকে উচ্চারিত হয়। আরবি বর্ণ উচ্চারিত হওয়ার স্থানকে মাখরাজ বলে। মাখরাজগুলো মুখের ৫টি স্থানে অবস্থিত। এগুলোর মধ্যে হলক বা কণ্ঠনালি অন্যতম।

উত্তরঃ

হাদিস (الحَدِيثُ) শব্দটি আরবি। এর আভিধানিক অর্থ- কথা, বাণী ইত্যাদি। পরিভাষায়, মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর বাণী, কাজ ও অনুমোদনকে হাদিস বলা হয়। অর্থাৎ মহানবি (স.) যা কিছু বলতেন তাই হাদিস। তিনি যেসব কাজ করেছেন তাও হাদিস। আর যেসব কাজ সাহাবিগণ তাঁর সামনে করেছেন কিন্তু তিনি তাদের নিষেধ করেননি বরং ওই সমস্ত কাজে মৌনসম্মতি দিয়েছেন এগুলোও হাদিস। হাদিসের অপর নাম হলো সুন্নাহ।

উত্তরঃ

পবিত্র কুরআন সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ আসমানি কিতাব। অন্যান্য আসমানি কিতাব কোনো নির্দিষ্ট এলাকা ও বিশেষ মানবগোষ্ঠীর জন্য অবতীর্ণ হয়েছিল। নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হওয়ার পর তার কার্যকারিতা রহিত হয়ে যায়। কিন্তু কুরআন মজিদ অবতীর্ণ হয়েছে সমগ্র বিশ্বের সর্বকালের মানুষের জন্য। সকল যুগের সকল মানুষের সার্বিক কল্যাণ ও মঙ্গলের সঠিক দিক নির্দেশনা রয়েছে পবিত্র কুরআনে।

উত্তরঃ

মাক্কি সূরাগুলোতে সাধারণত তাওহিদ, রিসালাত, কিয়ামত, আখিরাত, হিসাব-নিকাশ, বেহেশত-দোযখ ইত্যাদি বিষয়ের উল্লেখ আছে। আর মাদানি সূরাগুলোতে সাধারণত ইবাদত, হালাল-হারাম, সালাত, সাওম, হজ, যাকাত, সমরনীতি, রাষ্ট্রনীতি ইত্যাদি বিষয় উল্লেখ রয়েছে।

উত্তরঃ

তিলাওয়াত আরবি শব্দ। এর অর্থ পাঠ করা, পড়া, আবৃত্তি করা। পবিত্র কুরআন পাঠ করাকে কুরআন তিলাওয়াত বলা হয়। আল-কুরআন আরবি ভাষায় নাজিল হয়েছে। আরবিতে সুন্দর করে স্পষ্ট উচ্চারণে আল-কুরআন পাঠ করাকে কুরআন তিলাওয়াত বলে।

উত্তরঃ

কুরআন মজিদ তিলাওয়াতের গুরুত্ব অনেক। এটি আমাদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ। এতে মানুষের কল্যাণের দিক নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। কুরআন তিলাওয়াত করলে আমরা আল্লাহ তায়ালার আদেশ-নিষেধ জানতে পারব। কুরআন তিলাওয়াত ছাড়া সালাত শুদ্ধ হয় না। সুতরাং আমরা গুরুত্ব সহকারে শুদ্ধরূপে কুরআন শিখব ও প্রতিদিন তিলাওয়াত করব।

উত্তরঃ

কুরআন তিলাওয়াতের ফজিলত (মাহাত্ম্য) অনেক বেশি। কুরআন মজিদ তিলাওয়াত করা হলো নফল ইবাদতের মধ্যে সর্বোত্তম ইবাদত। কুরআন তিলাওয়াত করলে আল্লাহ তায়ালা খুশি হন। যে ঘরে কুরআন পড়া হয় সে ঘরে আল্লাহ পাকের রহমত নাজিল হয়। মহানবি (স.)-এর হাদিসে আছে, পবিত্র কুরআনের প্রতিটি হরফের পরিবর্তে দশটি করে নেকি লেখা হয়।

উত্তরঃ

পবিত্র কুরআন মজিদ সুদীর্ঘ তেইশ বছরে অল্প অল্প করে অবতীর্ণ করা হয়। কারণ মানুষ যাতে পবিত্র কুরআনকে পুরাপুরি অনুধাবন করতে পারে। আল্লাহ বলেন, "আর আমি খন্ড খন্ডভাবে কুরআন নাজিল করেছি যাতে আপনি তা মানুষের নিকট ক্রমে ক্রমে পাঠ করতে পারেন। আর আমি তা ক্রমশ নাজিল করেছি।

উত্তরঃ

তাজবিদ শব্দের অর্থ উত্তম বা সুন্দর করা। আল-কুরআনের আয়াতসমূহকে উত্তমরূপে বা সুন্দর ও শুদ্ধ করে পড়াকে তাজবিদ বলা হয়। অর্থাৎ আল-কুরআনের প্রতিটি হরফকে মাখরাজ ও সিফাত অনুসারে বিশুদ্ধভাবে তিলাওয়াত করাকে তাজবিদ বলে।

উত্তরঃ

অর্থ: "তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তি উত্তম যে নিজে কুরআন শিক্ষা করে এবং অপরকে তা শিক্ষা দেয়।" (বুখারি)

উত্তরঃ

আরবি ভাষায় রয়েছে ২৯টি হরফ বা বর্ণ। প্রত্যেকটি হরফ বা বর্ণ নির্দিষ্ট স্থান থেকে উচ্চারিত হয়। আরবি বর্ণ উচ্চারিত হওয়ার স্থানকে মাখরাজ বলে। মাখরাজগুলো মুখের ৫টি স্থানে অবস্থিত। এগুলোর মধ্যে হলক বা কণ্ঠনালি অন্যতম।

উত্তরঃ

মাখরাজ মুখের পাঁচ স্থানে অবস্থিত। যথা-
১. মুখের খালি জায়গা বা জাওফ;
২. কণ্ঠনালি বা হলক;
৩. জিহ্বা;
৪. উভয় ঠোঁট এবং
৫. নাসিকামূল।

উত্তরঃ

প্রথম মাখরাজ জাওফ। জাওফ হলো মুখের ভিতরে খালি জায়গা। এ স্থান থেকে তিনটি হরফ উচ্চারিত হয়।

১.আলিফ যখন এর পূর্বের হরফে যবর থাকে ।

২. জযম বিশিষ্ট ওয়াও যখন এর পূর্বের হরফে পেশ হয়।

৩. জযম বিশিষ্ট ইয়া যখন এর পূর্বের হরফে যের হয়।

উত্তরঃ

শেষ মাখরাজ হলো নাসিকামূল। এখান থেকে গুন্নাহসমূহ উচ্চারিত হয়। যেমন: জযমযুক্ত নুনকে কখনো গোপন করে নাসিকামূল থেকে উচ্চারণ করা হয়। তাশদিদযুক্ত নুনের মাখরাজও এটিই। যেমন : إِنَّ مِنْشَرٍ ।  

উত্তরঃ

আরবি বর্ণসমূহের উপরে, নিচে' বা মধ্যে ব্যবহৃত বিন্দু বা ফোঁটাকে নুকতা বলে।

উত্তরঃ

মু'জিযা অর্থ হলো অলৌকিক ঘটনা বা বস্তু। নবি-রাসুলগণের দ্বারা প্রকাশিত অলৌকিক ঘটনা ও বস্তুকে মু'জিযা বলা হয়।

উত্তরঃ

হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর সাথিগণ। যাঁরা মহানবি (স.)-কে ইমানসহ দেখেছেন এবং ইমানের সাথে মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁরা হলেন সাহাবা।

উত্তরঃ

আল-কুরআনের সর্বপ্রথম সূরা হলো আল-ফাতিহা। ফাতিহা শব্দের অর্থ ভূমিকা, মুখবন্ধ, দ্বার উন্মোচনকারী ইত্যাদি। যেহেতু এ সূরার মাধ্যমে কুরআনুল কারিম শুরু হয়, সেজন্য এ সূরার নাম আল-ফাতিহা। একে ফাতিহাতুল কিতাব বা ফাতিহাতুল কুরআনও বলা হয়। অর্থাৎ কিতাব বা কুরআনের ভূমিকা।

উত্তরঃ

সূরা আল-ফাতিহাটি মাক্কি সূরা। অর্থাৎ রাসুল (স.)-এর হিজরতের পূর্বে এ সূরাটি মক্কা নগরীতে অবতীর্ণ হয়। পূর্ণাঙ্গ সূরা হিসেবে এ সূরাই প্রথম অবতীর্ণ হয়েছে। এর আয়াত সংখ্যা সর্বমোট ৭টি। সূরা আল-ফাতিহা কুরআনের সর্বপ্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূরা।

উত্তরঃ

সূরা আল-ফাতিহা কুরআনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূরা। এর বহু নাম রয়েছে। তার মধ্যে কয়েকটি নাম লেখা হলো-
১. সূরাতুল হামদ (প্রশংসার সূরা)।
২. উম্মুল কুরআন (কুরআনের জননী)।
৩. সূরাতুস সালাত (সালাতের সূরা)।
৪. সূরাতুশ শিফা (রোগমুক্তির সূরা)।

উত্তরঃ

আল্লাহ তায়ালা একক, অদ্বিতীয় ও সকল কিছুর মালিক। বিশ্বজগতের সকল প্রশংসা তাঁরই প্রাপ্য। আমরা সকাল-সন্ধ্যায় তার প্রশংসা করব। সবসময় তাঁর ইবাদত করব। আর আমাদের সকল সঠিক পথের সন্ধান দানের জন্য তার নিকটই প্রার্থনা জানাব। সাথে সাথে পথভ্রষ্ট ও অন্যায়কারীদের আচরণ অনুসরণ থেকে আমরা বিরত থাকব।

উত্তরঃ

আল-কুরআনে সর্বশেষ সূরা হচ্ছে সূরা আন-নাস। এটি পবিত্র কুরআনের ১১৪তম সূরা। এ সূরাটি মদিনায় অবতীর্ণ হয়। এর আয়াত সংখ্যা ৬টি। এ সূরায় আন-নাস শব্দটি মোট পাঁচবার ব্যবহৃত হয়েছে। সূরায় ব্যবহৃত শব্দ থেকেই এ সূরার নামকরণ করা হয়েছে।

উত্তরঃ

সূরা আন-নাসের প্রথম তিন আয়াতে মহান আল্লাহর তিনটি গুণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হলো রব, মালিক, ও ইলাহ। অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালাই মানুষের রব, মালিক ও ইলাহ। তিনি ব্যতীত আর কেউ এ তিনটি গুণের অধিকারী নয়।

উত্তরঃ

আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রতিপালক তিনি আমাদের মাবুদ। তার আদেশ-নিষেধ আমরা সবসময় মেনে চলব। আর শয়তনের কুমন্ত্রণা থেকে বেঁচে থাকব। কেননা, শয়তান মানুষকে অন্যায়, অনৈতিক ও অশ্লীল কাজের দিকে পরিচালনা করে। ফলে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বেঁচে থাকতে পারলে অনৈতিক কাজ থেকেও বেঁচে থাকা যাবে।

উত্তরঃ

সূরা আল-ফালাক্ব আল-কুরআনের ১১৩তম 'সূরা। এটি মদিনায় অবতীর্ণ হয়েছে। এ সূরার আয়াত সংখ্যা ৫টি। এ সূরার প্রথম আয়াতের শেষ শব্দ হলো (ফালাক্ব)। এ শব্দ থেকেই এ সূরার নাম সূরা আল-ফালাক্ব রাখা হয়েছে ।

উত্তরঃ

আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রভু। তিনিই সকল কিছুর উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান। সুতরাং সকল বিপদে-আপদে আমরা তাঁরই নিকট সাহায্য চাইব। সব ধরনের অনিষ্ট থেকে তার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করব। সাথে সাথে হিংসা, যাদু-টোনা, অপরের ক্ষতিসাধন ইত্যাদি কাজ থেকে আমরা নিজেরা বিরত থাকব।

উত্তরঃ

সূরা ফালাকে কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ অনিষ্টকর বস্তু থেকে মহান আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাওয়া হয়েছে। এসব অনিষ্টকর বস্তুগুলো হলো- (১) সকল সৃষ্টির অনিষ্ট, (২) গভীর রাতে আধারের অনিষ্ট, (৩) যাদুকর নারীদের অনিষ্ট এবং (৪) হিংসুকের হিংসার অনিষ্ট। এগুলো থেকে মানুষ আল্লাহর সাহায্য ব্যতীত রক্ষা পেতে পারে না।

উত্তরঃ

সূরা আল-হুমাযাহ আল-কুরআনের ১৪তম সূরা। এ সূরাটি পবিত্র মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। এর আয়াত সংখ্যা ৯টি। এ সূরার প্রথম আয়াতে ব্যবহৃত শব্দ হুমাযাহ অনুসারে এ সূরার নামকরণ করা হয়েছে।

উত্তরঃ

উমাইয়া ইবনু খালফ, ওলীদ ইবনু মুগিরা ও আখনাস ইবনু শুরায়ক মহানবি (স.) ও মুমিনদের গিবত করত এবং তাদের অর্থলিপ্সা ছিল প্রবল। তাদের এই অপকর্মের ভয়াবহ পরিণতির কথা উল্লেখ করে মহান আল্লাহর এই সূরা অবতীর্ণ করেন।

উত্তরঃ

সূরা আল-হুমাযাহ তিনটি জঘন্য গুনাহের পরিচয় তুলে ধরেছে। তার মধ্যে গিবত একটি। পশ্চাতে বা গোপনে কারও নিন্দা করা। একে গিবতও বলা হয়। এটি অত্যন্ত খারাপ কাজ। আল্লাহ তায়ালা আল-কুরআনের অন্য আয়াতে গিবত কারা মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সমান বলে উল্লেখ করেছেন।

উত্তরঃ

অর্থলোভী বলতে সেসব ব্যক্তিদের বোঝানো হয়েছে যারা পরের হক আদায় করে না। গরিব-দুঃখীর পাওনা দেয় না। কৃপণতার কারণে সে বারবার অর্থের হিসাব করতে থাকে। আর ধারণা করে এ -অর্থ তাকে অমর করে রাখবে। অর্থাৎ অর্থলোভী বলতে এখানে অর্থের প্রতি অধিক মোহবিষ্ট ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে।

উত্তরঃ

সূরা আল-আসর আল-কুরআনের ১০৩তম সূরা। এটি মক্কা শরিফে অবতীর্ণ। এর আয়াত সংখ্যা মাত্র ৩টি। এ সূরার প্রথমে আল্লাহ তায়ালা আসর বা মহাকালের শপথ করেছেন। এজন্য এ সূরার নাম রাখা হয়েছে আল-আসর।

উত্তরঃ

ওলীদ ইবনু মুগিরা, আস ইবনু ওয়াইল, আসওয়াদ ইবনু মুত্তালিব প্রমুখ মুশরিক বলত যে, মুহাম্মদ (স.) অবশ্যই ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিত (তাদের কথার অসারতা প্রমাণ করে) আল্লাহ তায়ালা সূরাটি নাজিল করেন।

উত্তরঃ

সূরা আল-আসরের প্রথম আয়াতেই আল্লাহ তায়ালা সময় বা মহাকালের শপথ করেছেন। মানুষের জীবনে সময় অত্যন্ত মূল্যবান। কেননা, দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী। এ সময়ের মধ্যেই মানুষকে আখিরাতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হয়। সুতরাং সময়ের সদ্ব্যবহার করতে হবে।

উত্তরঃ

সূরা আসরে 'মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত' আল্লাহ পাক বোঝাতে চেয়েছেন যে, মানুষ সৎপথ ভুলে গিয়ে বিপথে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে মানুষকে কিয়ামতের দিন কঠিন শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। এখানে সেসব ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কথা বলা হয়েছে যারা মহান আল্লাহ পাকের প্রতি ইমান আনেনি এবং যারা সৎকর্ম করে না, একে অপরকে সত্যের উপদেশ দেয় না ও ধৈর্যের উপদেশ দান করে না।

উত্তরঃ

সূরা আল-আসরের নৈতিক শিক্ষা হলো-
১. আমরা আল্লাহর প্রতি ইমান আনব এবং নেক কাজ করব।
২. আমরা আমাদের বন্ধু-বান্ধব, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী সবাইকে সত্য ও সুন্দরের দিকে আহ্বান করব!
৩. 'সবাইকে উত্তম চরিত্রবান ও নীতিবান হতে উৎসাহ দেব।

উত্তরঃ

সূরা আসরে উল্লিখিত চারটি সৎ কাজের মধ্যে প্রথম দুটি কাজ আত্মসংশোধনমূলক। এ দুটির প্রথমটি হলো ইমান। আল্লাহকে এক, অদ্বিতীয় এবং হযরত মুহাম্মদ (স.)-কে রাসুল বলে স্বীকার করার নাম ইমান। ইমানের পর নেক কাজ মানুষকে ক্ষতি থেকে বাঁচাতে পারে। নেক আমল ব্যতীত শুধু ইমান মানুষকে ধ্বংস থেকে বাঁচাতে পারে না।

উত্তরঃ

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

অর্থ: "হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দুনিয়াতে এবং আখিরাতে কল্যাণ দাও। আর আমাদের আগুনের শাস্তি থেকে রক্ষা কর।" (সূরা আল-বাকারা: ২০১)

উত্তরঃ

رَبِّ ارْحَمْهُمَا كَمَا رَبَّيَانِي صَغِيرًا

অর্থ: "হে আমার প্রতিপালক! তুমি তাদের প্রতি দয়া কর। যেভাবে শৈশবে তাঁরা আমাকে লালন-পালন করেছেন।" (সূরা বনি ইসরাইল: ২৪)

উত্তরঃ

এ আয়াতে জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য আল্লাহর দরবারে মুনাজাত করার কথা বলা হয়েছে। কেননা শিক্ষা ও জ্ঞানের মাধ্যমে আমরা আল্লাহ তায়ালাকে চিনতে পারি। তার বিধান জানতে পারি। সুতরাং আমরা ভালো করে লেখাপড়া শিখব। জ্ঞানার্জনে কোনোরূপ অবহেলা করব না। আর সাথে সাথে আমাদের জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য আল্লাহর নিকট মুনাজাত করব। কেননা মহান আল্লাহই সবকিছুর মালিক।

উত্তরঃ

হাদিস আরবি শব্দ। এর অর্থ কথা, বাণী ইত্যাদি। মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর বাণী, কাজ ও অনুমোদনকে হাদিস বলা হয়। অর্থাৎ আমাদের প্রিয় নবি (স.) যা কিছু বলতেন তা-ই হাদিস।

উত্তরঃ

ইসলামে হাদিসের স্থান অত্যন্ত ঊর্ধ্বে। ইসলামি জীবনব্যস্থার দ্বিতীয় উৎস হলো হাদিস। ইসলামে আল-কুরআনের পরই হাদিসের স্থান। হাদিস হলো আল-কুরআনের ব্যাখ্যাস্বরূপ। পবিত্র হাদিসে এর গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কে মহান আল্লাহ বলেছেন, "রাসুল তোমাদের যা দেন তা তোমরা গ্রহণ কর। আর যা নিষেধ করেন তা থেকে বিরত থাকো।" (সূরা আল-হাশর: ৭)

উত্তরঃ

নৈতিক গুণাবলি বিষয়ক প্রথম হাদিসটি হলো-

لَا دِينَ لِمَنْ لَّا عَهْدَ لَهُ

অর্থ: "যে ব্যক্তি অঙ্গীকার পালন করে না তার কোনো দীন নেই অর্থাৎ সে প্রকৃত দীনদার নয়।" (শুয়াবুল ইমান)

উত্তরঃ

অঙ্গীকার পালন করা নীতি-নৈতিকতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আমরা নানা সময় নানারূপ ওয়াদা ও অঙ্গীকার করে থাকি। এসব অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। সামাজিক শান্তির জন্য অঙ্গীকার রক্ষা করা আবশ্যক। ইসলামে অঙ্গীকার রক্ষা করার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

উত্তরঃ

নৈতিক গুণাবলির দ্বিতীয় হাদিসটি হলো- "তোমরা মিথ্যা থেথে বেঁচে থাকো। কেননা, মিথ্যা (মানুষকে) পাপের দিকে নিয়ে যায়। আর পাপ জাহান্নাম পর্যন্ত পৌঁছে দেয়।" (বুখারি ও মুসলিম)

উত্তরঃ

মিথ্যা হলো সত্যের বিপরীত। মিথ্যা হলো সকল পাপের মূল। মিথ্যা মানুষকে পাপের দিকে নিয়ে যায়। কোনো পাপ কাজ করে মিথ্যা বললে অনেক সময় তা ধরা যায় না। ফলে মানুষ পুনরায় পাপ করতে থাকে।

উত্তরঃ

মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.) ছিলেন মানবজাতির মহান শিক্ষক। তিনি মানুষকে সবধরনের কল্যাণের পথে পরিচালনা করতেন। মানুষ কীভাবে চললে দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ লাভ করবে তাও তিনি দেখিয়ে গেছে। উম্মতের কল্যাণের জন্য তিনি বহু মুনাজাত শিক্ষা দিয়েছেন। এসব মুনাজাত হাদিস শরিফে লিপিবদ্ধ রয়েছে।

উত্তরঃ

اللهُمَّ اغْفِرْ ذُكوبي وخطيني و عمدی (طبرانی)

অর্থ: "হে আল্লাহ! আমার পাপসমূহ, ভুলত্রুটিগুলো এবং ইচ্ছাকৃত অপরাধসমূহ ক্ষমা করে দাও।” (তাবারানি)

উত্তরঃ

ইসলামে হালাল ও পবিত্র খাদ্য গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছে। হালাল ও পবিত্র খাদ্য গ্রহণের মুনাজাত হলো-

اللهُمَّ إِنِّي اسْتَلكَ عِلْمًا تايعا ورزقا طيبا (ابن ماجة )

অর্থ: "হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট উপকারী বিদ্যা এবং পবিত্র (হালাল) রিজিক চাই।' (ইবনু মাজাহ)

উত্তরঃ

জীবনের সকল ক্ষেত্রে মনুষ্যত্ব ও নীতি-আদর্শের শিক্ষাকে ধরে রাখার চেষ্টা ও চেতনাই হলো নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ। আদর্শ সমাজ গঠনের জন্য এ মূল্যবোধের প্রয়োজন অত্যন্ত বেশি। নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ মানুষকে উত্তম চরিত্রবান করে গড়ে তোলে। ফলে মানুষ সমাজে সম্মান ও মর্যাদা লাভ করে। সকলে এ আদর্শ অনুশীলন করলে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়।

উত্তরঃ

সমাজে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ না থাকলে সমাজে শান্তি থাকে না। দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, প্রতারণা ইত্যাদি ছড়িয়ে পড়ে। মানুষের মধ্যে দয়া, মায়া, ঐক্য, ভালোবাসা ইত্যাদি সদ্‌গুণাবলির চর্চা থাকে না। মানুষ পরস্পরকে অবিশ্বাস ও সন্দেহ করে। ফলে সমাজে নানা অরাজকতা ও অশান্তির সৃষ্টি হয়।

উত্তরঃ

মহানবি (স.) ছিলেন সর্বোত্তম মানুষ। তিনি সবসময় নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি অনুসরণ করতেন। মহানবি (স.)-এর উপাধি ছিল আল-আমিন। এর অর্থ বিশ্বাসী। তিনি সবসময় সত্য কথা বলতেন। কথা ও কাজে সততা এ অবলম্বন করতেন। তিনি কখনো মিথ্যা বলতেন না, ওয়াদা ভঙ্গ করতেন না। ফলে তাঁর শত্রুরাও তাঁকে আল-আমিন বা বিশ্বাসী নামে ডাকতেন।

উত্তরঃ

মহানবি হযরত মুহাম্মদ-এর বাণী, কাজ ও অনুমোদনকে বলা হয় হাদিস।

উত্তরঃ

সর্বপ্রথম লাওহে মাহফুযে কুরআন সংরক্ষিত ছিল।

উত্তরঃ

হযরত মুহাম্মদ (স.) আরবদেশের মক্কা নগরে জন্মগ্রহণ করেন।

উত্তরঃ

হযরত মুহাম্মদ (স.) হেরাগুহায় ধ্যানমগ্ন থাকতেন।

উত্তরঃ

চল্লিশ বছর বয়সে হযরত মুহাম্মদ (স.) নবুয়তপ্রাপ্ত হন।

উত্তরঃ

সর্বমোট আসমানি কিতাব ১০৪ খানা।

উত্তরঃ

তিলাওয়াত অর্থ পাঠ করা, পড়া, আবৃত্তি করা ইত্যাদি।

উত্তরঃ

কুরআন শব্দের মূল অর্থ পঠিত।

উত্তরঃ

আল-কুরআনের আয়াতসমূহকে উত্তমভাবে বা সুন্দর ও শুদ্ধ করে পড়াকে তাজবিদ বলে।

উত্তরঃ

মাখরাজ শব্দের অর্থ বের হওয়ার স্থান, উচ্চারণের স্থান।

উত্তরঃ

আরবি হরফসমূহ মুখের যে স্থান থেকে উচ্চারিত হয় সে স্থানকে মাখরাজ বলে।

উত্তরঃ

আল-কুরআনের সর্বপ্রথম সূরা হলো আল-ফাতিহা।

উত্তরঃ

পূর্ণাঙ্গ সূরা হিসেবে প্রথম অবতীর্ণ হয়েছে সূরা ফাতিহা।

উত্তরঃ

উম্মুল কুরআন অর্থ কুরআনের জননী।

উত্তরঃ

اَلنَّاسُ (আন নাস) অর্থ মানুষ, মানবজাতি।

উত্তরঃ

সূরা আন নাস-এর প্রথম তিন আয়াতে আল্লাহর তিনটি গুণের কথা বলা হয়েছে।

উত্তরঃ

সূরা আন নাস-এর দ্বিতীয় অংশে শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বেঁচে থাকার জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়েছে।

উত্তরঃ

রাসুল (স.)-এর ওপর জাদু করেন লাবিদ ইবনে আসিম।

উত্তরঃ

نار অর্থ আগুন।

উত্তরঃ

আল-কুরআনে গিবত করাকে মৃত ভাইয়ের সাথে তুলনা করা হয়েছে।.

উত্তরঃ

الْمَصْرُ (আসর) শব্দের অর্থ সময়, যুগ, কাল, মহাকাল।

উত্তরঃ

الصَّبْرُ (সবর) অর্থ ধৈর্য।

উত্তরঃ

কোনোকিছুর জন্য আল্লাহর নিকট প্রার্থনা করাকে মুনাজাত বলে।

উত্তরঃ

হাদিস অর্থ কথা, বাণী।

উত্তরঃ

আল-কুরআনের ব্যাখ্যাস্বরূপ হলো- আল হাদিস।

উত্তরঃ

নীতি হলো কথায় ও কাজে সৎ, সুন্দর ও মার্জিত ব্যবহার করা।

উত্তরঃ

হযরত মুহাম্মদ (স.) সদাসর্বদা নীতি ও আদর্শের অনুশীলন করতেন।

উত্তরঃ

আল আমিন উপাধি ছিল হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর।

উত্তরঃ

আল আমিন অর্থ বিশ্বাসী, সত্যবাদী।

উত্তরঃ

লাওহে মাহফুজ অর্থ সংরক্ষিত ফলক। যেখানে পবিত্র কুরআন শরিফকে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এটি আল্লাহর এক বিশেষ কুদরতি স্থান।

উত্তরঃ

আল-কুরআন দেখে দেখে পড়াকে নাযিরা তিলাওয়াত বলে।

উত্তরঃ

তাজবিদ শব্দের অর্থ হলো সুন্দর করা।

উত্তরঃ

কুরআন মাজিদ লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত আছে।

উত্তরঃ

মাখরাজ ১৭টি।

উত্তরঃ

ফাতিহা শব্দের অর্থ হলো -ভূমিকা, মুখবন্ধ, উন্মোচনকারী ইত্যাদি।

উত্তরঃ

সিরাত শব্দের অর্থ হলো রাস্তা, পথ ইত্যাদি।

উত্তরঃ

তাজবিদ অনুযায়ী কুরআন না পড়ার পরিণাম খুবই ভয়াবহ। তাজবিদ অনুসারে কুরআন না পড়লে গুনাহ হয়। এতে অনেক সময় আল-কুরআনের অর্থ পরিবর্তন হয়ে যায়। আর অশুদ্ধ তিলাওয়াতের ফলে সালাতও পূর্ণাঙ্গ হয় না। এছাড়া কুরআনের অর্থের বিকৃতি ঘটে। যা কোনোভাবেই জায়েয নেই।

উত্তরঃ

মাখরাজ শব্দের অর্থ বের হওয়ার স্থান, উচ্চারণের স্থান। আরবি হরফসমূহ মুখের যে স্থান থেকে উচ্চারিত হয় সে স্থানকে মাখরাজ বলা হয়।

উত্তরঃ

সূরা ফাতিহা আল-কুরআনের সর্বপ্রথম সূরা। ফাতিহা শব্দের অর্থ ভূমিকা, মুখবন্ধ, দ্বার উন্মোচনকারী ইত্যাদি। তাই একে ফাতিহাতুল কিতাব বা ফাতিহাতুল কুরআন বলা হয়। অর্থাৎ কিতাব বা কুরআনের ভূমিকা।

উত্তরঃ

সূরা হুমাযাহ-এর নৈতিক শিক্ষা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখানে তিনটি মারাত্মক গুনাহের বা পাপ কাজের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলো হলো গিবত তথা পশ্চাৎ বা গোপনে কারও নিন্দা করা, সামনাসামনি নিন্দা করা ও অর্থলিপ্সা। এ তিনটিই নীতিহীন কাজ, অনৈতিক কাজ। উত্তম চরিত্রবান লোক এসব কাজ করতে পারে না। বরং নীতিবান হতে হলে এসব দোষ থেকে মুক্ত থাকতে হবে।

উত্তরঃ

সূরা আসর-এর প্রথম আয়াতে আল্লাহ তায়ালা সময় বা মহাকালের শপথ করেছেন। মানুষের জীবনে সময় অত্যন্ত মূল্যবান। কেননা দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী। এসময়ের মধ্যেই মানুষকে আখিরাতের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হয়। সুতরাং সময়ের সদ্ব্যবহার করতে হবে। যারা দুনিয়াতে সময়ের সদ্ব্যবহার করবে এবং নেক আমল করবে, পরকালে তারাই সফলতা লাভ করবে। তাই সময়ের শপথ করে মহান আল্লাহ মানবজাতিকে সতর্ক করে দিয়েছেন।

উত্তরঃ

জ্ঞানার্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরজ। কেননা শিক্ষা ও জ্ঞানের মাধ্যমে আমরা আল্লাহ তায়ালাকে চিনতে পারি। তাঁর বিধান ও বাণী জানতে পারি। জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে আমরা মানুষের মত মানুষ হই। তাই বলা যায়, জীবনে উন্নতি লাভের জন্য প্রয়োজন জ্ঞানার্জন।

উত্তরঃ

নীতি হলো কথায় ও কাজে সৎ, সুন্দর ও মার্জিত ব্যবহার করা। কোনোরূপ অন্যায় অত্যাচার ও অশালীন কাজকর্ম না করা। নীতিহীন মানুষ পশুর সমান। যে ব্যক্তি চলাফেরা ও কথাবার্তায় নীতির অনুসরণ করে না, সমাজের সকলে তাকে ঘৃণা করে। অন্যদিকে নীতিবান মানুষকে সবাই ভালোবাসে।

উত্তরঃ

কুরআন মুমিন মুত্তাকির জন্য হিদায়াত স্বরূপ। প্রকৃত হিদায়াত লাভের জন্য আমরা কুরআন তিলাওয়াত করব। কুরআন তিলাওয়াত না করলে আমরা আল্লাহর বিধানগুলো জানতে পারব না, তাঁর আদেশ নিষেধ সম্পর্কে অজ্ঞাত থাকব। ফলে আমরা ভুল পথে পরিচালিত হব। তাই আমরা হিদায়াতের ওপরে থাকার জন্য এবং বিপথগামী না হওয়ার জন্য কুরআন তিলাওয়াত করব।

উত্তরঃ

তাজবিদ শব্দের অর্থ উত্তম বা সুন্দর করা। আল-কুরআনের আয়াতসমূহকে উত্তমভাবে বা সুন্দর ও শুদ্ধ করে পড়াকে তাজবিদ বলা হয়। অর্থাৎ আল-কুরআনের প্রতিটি হরফকে মাখরাজ ও সিফাত অনুসারে বিশুদ্ধভাবে তিলাওয়াত করাকে তাজবিদ বলে।

47

কুরআন মজিদ হলো মহান আল্লাহর পবিত্র বাণী। আর মহানবি হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর বাণী, কর্ম ও মৌনসম্মতিকে বলা হয় হাদিস। কুরআন মজিদ ও হাদিস শরিফ হলো ইসলামের প্রধান দুটি উৎস। মহানবি (স.) বলেছেন, আমি তোমাদের নিকট দুটি জিনিস রেখে যাচ্ছি যা আঁকড়ে ধরলে (মেনে চললে) তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট হবে না। এ দুটি হলো আল্লাহর কিতাব (আল-কুরআন) ও তাঁর রাসুলের সুন্নত (মুসলিম)।

এ অধ্যায় শেষে আমরা-

  • আল-কুরআনের পরিচয় ও গুরুত্ব বর্ণনা করতে পারব।
  • আল-কুরআন তিলাওয়াতের গুরুত্ব ও ফজিলত ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • তাজবিদ-এর গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব ও মাখরাজ আয়ত্ত করে বিশুদ্ধভাবে কুরআন পাঠ করতে সক্ষম হবো।
  • কুরআনের নির্ধারিত পাঁচটি সূরা অর্থসহ মুখস্থ বলতে ও মূল বক্তব্য ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • নির্ধারিত পাঁচটি সূরার পটভূমি (শানে নুযুল) ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • মুনাজাতমূলক (প্রার্থনামূলক) তিনটি আয়াত অর্থসহ বলতে পারব।
  • হাদিসের পরিচয় ও গুরুত্ব এবং নৈতিক গুণাবলি বিষয়ক দুটি হাদিসের অর্থসহ শিক্ষা বর্ণনা করতে পারব।
  • মুনাজাতমূলক দুটি হাদিস অর্থসহ পড়তে, বলতে ও ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • হাদিসের আলোকে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের পরিচয় ও গুরুত্ব বর্ণনা করতে পারব।

Related Question

View All
উত্তরঃ

আল্লাহর বাণী- হে আমার প্রতিপালক। আমাকে জ্ঞানে সমৃদ্ধ কর। এটি কুরআনের সূরা ত্বহার ১১৪নং আয়াত। এখানে জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য আল্লাহর দরবারে মুনাজাত করার কথা বলা হয়েছে। জ্ঞানার্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরয। কেননা শিক্ষা ও জ্ঞানের মাধ্যমে আমরা আল্লাহ তায়ালাকে চিনতে পারি। তার বিধান জানতে পারি। সুতরাং আমরা ভালো করে লেখাপড়া শিখব। জ্ঞানার্জনে কোনোরূপ অবহেলা করব না। আর সাথে সাথে আমাদের জ্ঞান বৃদ্ধির জন্য আল্লাহর নিকট মুনাজাত করব। কেননা মহান আল্লাহই সবকিছুর মালিক।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
10 months ago
495
উত্তরঃ

উদ্দীপকের আব্দুর রহিম কুরআন তিলাওয়াতে (শরিয়তের) তাজবিদ সহকারে কুরআন পড়ার বিধানটি পালন হয়নি। কারণ তাজবিদসহ কুরআন তিলাওয়াত করা আল্লাহর নির্দেশ। তাই এটি ওয়াজিবও।

তাজবিদ শব্দের অর্থ উত্তম বা সুন্দর করা। আল-কুরআনের আয়াতসমূহকে উত্তমভাবে বা সুন্দর ও শুদ্ধ করে পড়াকে তাজবিদ বলা হয়। অর্থাৎ আল-কুরআনের প্রতিটি হরফকে মাখরাজ ও সিফাত অনুসারে বিশুদ্ধভাবে তিলাওয়াত করাকে তাজবিদ বলে।

আব্দুর রহিমের কুরআন তিলাওয়াত ছিল সুমধুর। কিন্তু তা ছিল অশুদ্ধ। যা আল্লাহর বিধানের পরিপন্থী। কেননা তাজবিদ অনুযায়ী কুরআন পড়া আল্লাহ পাকের নির্দেশ। আর শুদ্ধরূপে কুরআন শিক্ষার মাহাত্ম্য অনেক। রাসুল (স.) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি উত্তম যে নিজে কুরআন শিক্ষা করে এবং অপরকে তা শিক্ষা দেয়। সুতরাং আমরা তাজবিদ সহকারে নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করব।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
10 months ago
184
উত্তরঃ

প্রদত্ত উদ্দীপকের আব্দুল করিমের কুরআন তিলাওয়াতের পদ্ধতিটি ছিল আল্লাহর নির্দেশের যথাযথ অনুসরণ।

তাজবিদ সহকারে কুরআন পড়া আল্লাহ তায়ালার নির্দেশ। আর শুদ্ধরূপে কুরআন শিক্ষার ফজিলত অনেক। এ প্রসঙ্গে রাসুল (স.) ইরশাদ করেন- “তোমাদের মধ্যে সে ব্যক্তি উত্তম যে নিজে কুরআন শিক্ষা করে এবং অপরকে তা শিক্ষা দেয়।

উদ্দীপকের আব্দুল করিমের কণ্ঠস্বর সুমধুর নয়। কিন্তু তিনি দেখে ধীরে ধীরে ও সুস্পষ্টভাবে কুরআন তিলাওয়াত করার আপ্রাণ চেষ্টা করতেন। কেননা তাজবিদ অনুসারী কুরআন পড়া ওয়াজিব, আর না পড়লে গুনাহ হয়। এতে অনেক সময় কুরআনের অর্থ পরিবর্তন হয়ে যায়। যেমন- সূরা ইখলাসে এসেছে (قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ) বলুন (হে নবি) তিনি আল্লাহ একক ও অদ্বিতীয়। এখানে (قُلْ)শব্দের অর্থ বলুন। আর যদি ও (কাফ)-কে ভুল মাখরাজ থেকে উচ্চারণ করে বলা হয় کُن তাহলে অর্থ বিকৃত হয়ে যায়। কেননা ১৮ শব্দের অর্থ– খাও বা ভক্ষণ কর। ফলে আল কুরআনের অর্থের বিকৃতি ঘটে। যা কোনোভাবেই জায়েয নয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
10 months ago
175
উত্তরঃ

হাদিস (اَلْحَدِيثُ)শব্দটি আরবি। এর অর্থ- কথা, বাণী ইত্যাদি।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
10 months ago
292
উত্তরঃ

পবিত্র কুরআন মজিদ আরবি ভাষায় রচিত। আরবি ভাষায় রয়েছে ২৯টি হরফ বা বর্ণ। প্রত্যেকটি হরফ বা বর্ণ নির্দিষ্ট স্থান থেকে উচ্চারিত হয়। আরবি বর্ণ উচ্চারিত হওয়ার স্থানকে মাখরাজ বলে। মাখরাজগুলো মুখের ৫টি স্থানে অবস্থিত। এগুলোর মধ্যে হলক বা কণ্ঠনালি অন্যতম।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
10 months ago
277
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews