১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট ভারতবর্ষ ব্রিটিশ শাসনের কবল থেকে মুক্ত হয়। জন্ম নেয় ভারত ও পাকিস্তান নামের দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র। তৎকালীন ভারতবর্ষের বাংলা ভাষাভাষী তথা বাঙালি সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল- পূর্ব বাংলা ও পশ্চিমবঙ্গ একই ভূখণ্ডে অবস্থিত ছিল। তন্মধ্যে পূর্ব বাংলা (বর্তমান বাংলাদেশ) মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় পূর্ব পাকিস্তান হিসেবে পাকিস্তানের একটি প্রদেশে পরিণত হয় এবং পশ্চিমবঙ্গ হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায়' ভারত রাষ্ট্রের একটি অংশে পরিণত হয়।
২১ ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' বলা হয়। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারির রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ১৯৫৩ সাল থেকে প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি তারিখটি 'ভাষা দিবস' বা 'শহিদ দিবস' হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিবেচনায় জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর দিবসটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। ফলে প্রতিবছর গোটা বিশ্বে ২১ ফেব্রুয়ারি দিবসটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসান হয়। জন্ম নেয় ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র। ১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্ট পাকিস্তান এবং ১৫ই আগস্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করে।
১৯৪৭ সালের ১৭ই মে চৌধুরী খলীকুজ্জামান এবং জুলাই মাসে ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব দেন। তাদের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে আব্দুল হক, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, আবুল মনসুর আহমদ, ড. এনামুল হকসহ বেশ কজন বুদ্ধিজীবী প্রবন্ধ লিখে প্রতিবাদ জানান।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ২রা সেপ্টেম্বর ১৯৪৭ তমদ্দুন মজলিস নামক একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। ৬-৭ই সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত উক্ত সংগঠনের যুবকর্মী সম্মেলনে 'বাংলাকে শিক্ষা ও আইন আদালতের বাহন' করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর তমদ্দুন মজলিস নামক একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। এ প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে প্রতিষ্ঠিত করা। এ সংগঠনের যুবকর্মী সম্মেলনে বাংলাভাষাকে শিক্ষা ও আইন আদালতের বাহন করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।
১৯৪৮ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদ সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত গণপরিষদের ভাষা, হিসেবে উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ব্যবহারের দাবি জানান। তাঁর দাবি অগ্রাহ্য হলে ২৬ ও ২৯শে ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ধর্মঘট পালিত হয় এবং ২রা মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা 'সংগ্রাম পরিষদ' পুনর্গঠিত হয়।
পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন ১৫ই মার্চ ৮ দফা চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। এর অন্যতম ২টি দফা হলো-
১. বাংলা ভাষার প্রশ্নে গ্রেপ্তারকৃত সকলকে অবিলম্বে মুক্তি দান করা হবে।
২. পুলিশি অত্যাচারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং তদন্ত করে একটি বিবৃতি প্রদান করবেন।
১৯৪৮ সালের ১৯শে মার্চ পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় আসেন। ২১শে মার্চ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) অনুষ্ঠিত জনসভায় তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, 'উর্দু এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা'।
১৯৫২ সালের ২৬শে জানুয়ারি খাজা নাজিমুদ্দিন উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার নতুন ঘোষণা প্রদান করেন। এর প্রতিবাদে ছাত্রসমাজ ৩০শে জানুয়ারি ধর্মঘট পালন করে। আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' গঠিত হয়। ৩১শে জানুয়ারি কাজী গোলাম মাহবুবকে আহ্বায়ক করে নতুনভাবে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করা হয়।
ভাষা আন্দোলনে ছাত্রীদের ভূমিকা ছিল অগ্রগামী। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের দিক থেকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল এগিয়ে চলে মিছিলের সাথে ছিলেন ইডেন কলেজ, কামরুন্নেসা গার্লস স্কুল ও বাংলবাজার গার্লস স্কুলের ছাত্রীগণ।
১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি তিনজন ভাষা শহিদের নাম হলো- ১. রফিক, ২. বরকত, ৩. জব্বার, ৪. শফিউর।
১৯৫২ সালের ২১শে ও ২২শে ফেব্রুয়ারি নিহত শহিদদের স্মৃতি অমর করে রাখার জন্য ২৩শে ফেব্রুয়ারি ছাত্র-জনতা ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে একটি শহিদ মিনার নির্মাণ করে এবং শফিউর রহমানের পিতাকে দিয়ে ওই দিনই তা উদ্বোধন করা হয়। ২৪ তারিখ পুলিশ উক্ত শহিদ মিনার ভেঙে ফেলে।
ভাষা আন্দোলন সম্পর্কিত ২টি গ্রন্থ হলো-
১. মুনীর চৌধুরীর রচিত 'কবর' এবং
২. জহির রায়হান রচিত 'আরেক ফাল্গুন'।
১৯৪৭ সালে সূচিত রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ১৯৪৮ থেকে ১৯৫২ সালে প্রতিবাদ ও রক্তক্ষয়ী সংগ্রামে রূপ লাভ করে। ফলে পাকিস্তান সরকার বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়। ১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের সংবিধানে বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
ভাষা আন্দোলন পরবর্তীকালে সকল রাজনৈতিক আন্দোলনের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল এবং এ আন্দোলন এ দেশের মানুষকে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলে। এজন্য ভাষা আন্দোলনকে জাতীয় মুক্তির প্রথম আন্দোলন বলা হয়।
পশ্চিম পাকিস্তানে পাঞ্জাবি শক্তির বিপরীতে পূর্ব পাকিস্তানের জাতীয় সংহতির জন্য জাতীয়তাবাদের ধারণা জরুরি হয়ে পড়ে। যেহেতু হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে আমাদের বেশির ভাগ মানুষ বাঙালি: কাজেই বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশে ভাষা আন্দোলন সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে।
ভাষা আন্দোলন বাঙালিদের আত্মপরিচয়ে রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা, সংস্কৃতি গড়ে তোলার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে থাকে। ভাষাকেন্দ্রিক এই ঐক্যই জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি রচনা করে, যা পরবর্তী সময়ে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
জাতীয় আদর্শের ভিত্তিতে যে স্বজাত্যবোধ গড়ে ওঠে তাই জাতীয়তাবোধ। অর্থাৎ যখন একটি অঞ্চল বা সমাজের মানুষ ভাষা, ইতিহাস, সাংস্কৃতিক পরিচয়, নৃতাত্ত্বিক পরিচয় কিংবা ধর্মের ভিত্তিতে নিজেদেরকে অন্যদের থেকে আলাদা ভাবতে থাকে এবং নিজেদের মধ্যে ঐক্য অনুভব করে, তখন তাকে জাতীয়তাবোধ বলে। জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ সমাজ জাতি সৃষ্টি করে এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করে বা করতে চায়।
ভাষা আন্দোলন বাঙালি জাতির জীবনে একটি অবিস্মরণীয় ঘটনা। বাঙালি জাতির জীবনে এ আন্দোলনের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ এ আন্দোলনের সিঁড়ি বেয়ে বাঙালির জীবনে আসে ৫৪-এর নির্বাচন, ৬৬-এর ছয় দফা, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান সর্বোপরি আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ। এ আন্দোলন বাঙালিদের এক নবজাগরণে দীক্ষিত করে এবং পরবর্তী সকল আন্দোলনের অনুপ্রেরণা যোগায়। পাকিস্তান সৃষ্টির পর এ আন্দোলনই সর্বপ্রথম বাঙালি জনগোষ্ঠীকে একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসে।
বাংলা ভাষা আমাদের মাতৃভাষা, আমাদের ভাব প্রকাশের প্রধান মাধ্যম। এই বাংলা ভাষা আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং আত্মপ্রত্যয়ের প্রতীক। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করার জন্য আমরা আমাদের ভাষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হব।
২১শে ফেব্রুয়ারিকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' বলা হয়। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারির রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ১৯৫৩ সাল থেকে প্রতিবছর ২১শে ফেব্রুয়ারি তারিখটি 'ভাষা দিবস' বা 'শহিদ দিবস' হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। দিবসটির গুরুত্ব ও তাৎপর্য বিবেচনায় জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইউনেস্কো (UNESCO) ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর দিবসটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। প্রতিবছর গোটা বিশ্বে ২১শে ফেব্রুয়ারি দিবসটি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
১৯৫৩ সাল থেকে ২১শে ফেব্রুয়ারি 'শহিদ দিবস' হিসেবে দেশব্যাপী পালিত হয়ে আসছে। আর ১৯৯৯ সালের ১৭ই নভেম্বর জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইউনেস্কো বাংলাদেশের ২১শে ফেব্রুয়ারির শহিদ দিবসকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর কেন্দ্রীয় সরকার ও কেন্দ্রীয় মুসলিম লীগে বাঙালিদের প্রতি বৈষম্য শুরু হয়। তাই পূর্ববাংলার প্রগতিশীল ও গণমানুষের নেতৃত্বে বাঙালিদের অধিকার আদায়ের জন্য আওয়ামী মুসলিম লীগের জন্ম হয়।
পূর্বপাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের প্রতিষ্ঠাকালীন দুইজন সাংগঠনিক নেতার নাম হলো- সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করেন মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী এবং সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক।
১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর মুসলিম লীগকে শোচনীয়ভাবে পরাজিত করতে যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে মুসলিম লীগ পরাজয়ের দুটি কারণ হলো-
১. পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর মুসলিম লীগ নির্বাচনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার গঠনের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।
২. প্রাদেশিক সরকার নিয়ে মুসলিম লীগের টালবাহানা পূর্ব বাংলার জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়।
যুক্তফ্রন্ট হচ্ছে একটি নির্বাচনি জোট। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর মুসলিম লীগ দীর্ঘদিন নির্বাচনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার গঠনের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। এছাড়া প্রাদেশিক সরকার নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের টালবাহানা পূর্ব বাংলার জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এমতাবস্থায় পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে মুসলিম লীগের শোচনীয় পরাজয় ঘটানোর লক্ষ্যে ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর আওয়ামী মুসলিম লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দল এবং খেলাফতে রাব্বানি একত্র হয়ে নির্বাচনি জোট যুক্তফ্রন্ট গঠন করে।
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর শাসক দল মুসলিম লীগ দীর্ঘদিন নির্বাচনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার গঠনের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। পরবর্তীতে নির্বাচনের উদ্যোগ নিলে পূর্ববাংলার প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে মুসলিম লীগের শোচনীয় পরাজয় ঘটানোর লক্ষ্যে ১৯৫৩ সালের ১৪ই নভেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
পাঁচটি দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। যথা- ১. আওয়ামী মুসলিম লীগ; ২. কৃষক-শ্রমিক পার্টি: ৩. নেজামে ইসলাম; ৪. খেলাফতে রাব্বানী: ৫. গণতন্ত্রী দল।
১৯৫৪ সালের পূর্ববাংলার প্রাদেশিক পরিষদের ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি আর মুসলিম লীগ মাত্র ৯টি আসন লাভ করে। বাকি আসন অন্যরা পায়।
যুক্তফ্রন্টের ২টি দফা হলো-
১. বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা হবে।
২. বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ, সকল প্রকার মধ্যস্বত্ব ও সার্টিফিকেট প্রথা বাতিল করা হবে।
১৯৫৪ সালের ৩রা এপ্রিল যুক্তফ্রন্টভুক্ত কৃষক শ্রমিক পার্টির নেতা এ.কে. ফজলুল হক মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। যুক্তফ্রন্ট সরকার মাত্র ৫৬ দিন ক্ষমতায় ছিল। পাকিস্তান সরকার পূর্ববাংলার যুক্তফ্রন্ট সরকারকে মনেপ্রাণে গ্রহণ করতে পারেনি।
১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভকরে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। কিন্তু পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের ষড়যন্ত্রের কারণে যুক্তফ্রন্টকে ৫৬ দিন ক্ষমতায় থাকার পর ক্ষমতা ছাড়তে হয়। কারণ, পাকিস্তান সরকার পূর্ব বাংলার যুক্তফ্রন্ট সরকারকে মনেপ্রাণে গ্রহণ করতে পারে নি। তাই তারা ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নিয়েছিল। আর এরই ধারাবাহিকতায় আদমজী পাটকল ও কর্ণফুলীতে বাঙালি-অবাঙালি দাঙ্গাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়ে কেন্দ্রীয় সরকার যুক্তফ্রন্ট সরকারকে বরখাস্ত করে।
আদমজী পাটকল ও কর্ণফুলি কাগজের কলে বাঙালি-অবাঙালি দাঙ্গাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়ে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ ১৯৫৪ সালের ৩০ মে যুক্তফ্রন্ট সরকারকে বরখাস্ত করে।
পাকিস্তান সরকারের ইন্ধনে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার কারণে শেরে বাংলা এ.কে. ফজলুল হককে গৃহবন্দি করা হয়। এছাড়া এই অজুহাতে আরও বহু নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়।
পূর্ববাংলার প্রাদেশিক পরিষদে পরস্পবিরোধী এমএলএদের মধ্যে মারামারির কারণে ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলী গুরুতর আহত হয়ে পরে হাসপাতালে মারা যান। এরই সুযোগ নিয়ে ১৯৫৮ সালের ৭ই অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মীর্জা সামরিক আইন জারি করেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর সামরিক শাসক ইস্কান্দার মির্জার গৃহীত পদক্ষেপগুলো হলো- ১. ১৯৫৬ সালের সংবিধান বাতিল, ২. কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ ভেঙে দেওয়া, ৩. রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা, ৪. বেশ কজন রাজনৈতিক নেতাকে জেলে প্রেরণ ও ৫. সকল মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া।
১৯৫৮ সালের ২৭শে অক্টোবর জেনারেল আইয়ুব খান ইস্কান্দার মীর্জাকে উৎখাত ও দেশত্যাগে বাধ্য করে ক্ষমতা দখল করেন এবং তিনি নিজেকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেন।
১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান নিজের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে যে পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি চালু করেন, তা-ই মৌলিক গণতন্ত্র নামে পরিচিত। মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থায় পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান থেকে মোট ৮০ হাজার নির্বাচিত ইউনিয়ন কাউন্সিল সদস্য নিয়ে নির্বাচকমণ্ডলী গঠন করার কথা বলা হয়। তাদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বিধান রাখা হয়। এটি ছিল পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতিমূলক ব্যবস্থা।
সামরিক শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে আইয়ুব খান মৌলিক গণতন্ত্র নামে একটি ব্যবস্থা চালু করেন। এটি নির্বাচন পদ্ধতি। ১৯৬৫ সালে আইয়ুব খান মৌলিক গণতন্ত্রের মাধমে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন।
১৯৫৫-১৯৫৬ থেকে ১৯৫৯-১৯৬০ অর্থবছর পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান লাভ করেছিল মোট বাজেট বরাদ্দের মাত্র ১১৩ কোটি ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা, অপরদিকে পশ্চিম পাকিস্তান পেয়েছিল ৫০০ কোটি টাকা।
পূর্ব পাকিস্তানের পাট, চা, চামড়া প্রভৃতি বিদেশে রপ্তানি করে যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হতো, তার সিংহভাগ পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে ব্যয় হতো। ফলে ব্যবসায়-বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন, কৃষিসহ অর্থনীতির সকল ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তানের চাইতে কয়েকগুণ পিছিয়ে পড়ে।
১৯৫৬ সালের দৈনিক ডন পত্রিকা অনুযায়ী নৌবাহনী অফিসারদের মধ্যে পশ্চিম পাকিস্তানের ছিল ৫৯৩ জন। অন্যদিকে, পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালি অফিসার ছিল মাত্র ৭ জন।
পাকিস্তান সৃষ্টির আগে পূর্ববাংলা পশ্চিম পাকিস্তানের চেয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় এগিয়ে ছিল। পাকিস্তান সৃষ্টির পর শিক্ষাখাতে বাজেট বরাদ্দে পশ্চিম পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তানের দ্বিগুণেরও বেশি বরাদ্দ লাভ করতে থাকে। ফলে পশ্চিম পাকিস্তানে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার জন্য নতুন নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।
পাকিস্তানের বৈষম্যমূলক নীতির কারণে পূর্ব পাকিস্তানে মধ্যবিত্তের বিকাশ মন্থর হয়ে পড়ে। বাঙালিরা অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হতে থাকে। ফলে উভয় অঞ্চলের মধ্যে বৈষম্য বৃদ্ধি পায়।
সাংবিধানিক শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এনডিএফ) গঠিত হয়। এই সংগঠন আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলে।
বাঙালিদের মুক্তির সনদ ছিল ৬ দফা। আইয়ুব খানের নির্যাতন-নিপীড়নের পটভূমিতে শেখ মুজিবুর রহমান ৬ দফা দাবি উপস্থাপন করেন। এটি ছিল মূলত ছাত্রদের ১১ দফা ও ২১ দফারই সারসংক্ষেপ।
১৯৬৬ সালের ৫-৬ই ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলসমূহের এক সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের অধিকার রক্ষার জন্যে ৬ দফা দাবি তুলে ধরেন।
ছয় দফার প্রথম দফাটি হলো- পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাধীনে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার হবে। সর্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে প্রাপ্ত বয়স্কদের ভোটে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
৬ দফা পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিকসহ সকল অধিকারের কথা তুলে ধরে। এতে প্রত্যক্ষভাবে স্বাধীনতার কথা বলা না হলেও এ ৬ দফা কর্মসূচি বাঙালিদের স্বায়ত্তশাসনের মন্ত্রে গভীরভাবে উজ্জীবিত করে।
পাকিস্তান সরকার ১৯৬৮ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে। শাসকগোষ্ঠী এটিকে ষড়যন্ত্র মামলা হিসেবে আখ্যায়িত করে। এ মামলায় রাজনীতিবিদ, বেসামরিক সরকারি কর্মকর্তা, সামরিক ও প্রাক্তন সামরিক কর্মকর্তা এবং অন্যান্য বেসামরিক ব্যক্তিবর্গসহ মোট ৩৫জনকে আসামি করা হয়।
পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ডাংশগ্রহণে ১৯৬৯ সালে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন সংঘটিত হয়। ইতিহাসে এটি উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান নামে পরিচিত। '৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম কারণ ছিল আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে অগণতান্ত্রিক কর্মকান্ড থেকে মুক্তি এবং গণতান্ত্রিক শাসন কায়েম করা যেসব গণতান্ত্রিক দল, পেশাজীবী সংগঠন ও মানুষ যার যার অবস্থান থেকে এই আন্দোলনে যুক্ত হয় বলে একে গণঅভ্যুত্থান বলা হয়।
পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ১৯৬৯ সালে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন সংঘটিত হয়। ইতিহাসে এটি উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান নামে পরিচিত।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে দুইজন শহিদ হলেন-
১. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদুজ্জামান আসাদ।
২. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহা।
মওলানা ভাসানী সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে নিয়ে দুর্বার 'আন্দোলন গড়ে তুললে পাকিস্তান সরকার ১৯৬৯ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি আইয়ুব খান শেখ মুজিবুর রহমানকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।
২৩শে ফেব্রুয়ারি রেসকোর্স ময়দানে ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সেখানে তাঁকে 'বঙ্গবন্ধু' উপাধিতে ভূষিত করা হয়। তদানীন্তন ডাকসুর ভিপি ছাত্রনেতা জনাব তোফায়েল আহমেদ এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফলে পাকিস্তানের সামরিক শাসক আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। উল্লেখ্য যে, পদত্যাগের পূর্বে তিনি আগরতলা মামলা তুলে নেন।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফলে সামরিক শাসক আইয়ুব খান পদত্যাগ, করলে জেনারেল ইয়াহিয়া খান ক্ষমতায় বসেন। ক্ষমতায় বসে তিনি ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দেন।
১৯৬৯ সালে আইয়ুব খানের পতনের পর ক্ষমতায় বসেন ইয়াহিয়া খান। তিনি সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দিলে ১৯৭০ সালের ৭ই ডিসেম্বর সর্বপ্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, ন্যাপ (ওয়ালী), মুসলিম লীগ (কাইয়ুম), মুসলিম লীগ (কনভেনশন), পাকিস্তান পিপল্স পার্টি, ডেমোক্রেটিক পার্টি, জামায়াতে ইসলামী প্রভৃতি দল অংশগ্রহণ করে।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদের ৩০০ আসনের মধ্যে পূর্ববাংলার জন্য নির্ধারিত ১৬২টি আসনের ১৬০টি আসন লাভ করে। সংরক্ষিত মহিলা আসন ৭টিসহ আওয়ামী লীগ মোট ১৬৭টি আসন লাভ করে।
১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তানে প্রাদেশিক পরিষদের সংরক্ষিত ১০টি মহিলা আসনসহ মোট ৩১০টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৯৮টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট
২টি; পাকিস্তান ও ভারত
রাষ্ট্র ভাষা বাংলা রক্ষা করা
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ
১৯৪৭ সালে
ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ
অধ্যাপক আবুল কাশেম
সাংস্কৃতিক
ডিসেম্বর, ১৯৪৭
১৯৪৮
২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৮
খাজা নাজিমুদ্দীন
বাংলা
২৬ জানুয়ারি, ১৯৫২
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায়
১০ জন
২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২
শফিউর
ভাষা শহিদদের স্মৃতি রক্ষা
২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৫২
শহিদ রফিকের বাবা
কাঁদতে আসিনি, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি কবিতাটি ভাষা আন্দোলন নিয়ে লিখিত প্রথম কবিতা। এই জন্য কবিতাটিকে একুশের প্রথম কবিতাও বলা হয়। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি কবিতাটি রচনা করেন ভাষাসৈনিক মাহবুব উল আলম চৌধুরী।
'স্মৃতির মিনার' কবিতাটির রচয়িতা হলেন কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ মিনার ভেঙে ফেলার ঘটনার প্রতিবাদে তিনি এই কবিতাটি রচনা করেন এবং ১৯৫৩ সালে হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত 'একুশে ফেব্রুয়ারি' সংকলনে এটি প্রকাশিত হয়েছিল।
'স্মৃতির মিনার' কবিতাটির রচয়িতা হলেন কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ মিনার ভেঙে ফেলার ঘটনার প্রতিবাদে তিনি এই কবিতাটি রচনা করেন এবং ১৯৫৩ সালে হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত 'একুশে ফেব্রুয়ারি' সংকলনে এটি প্রকাশিত হয়েছিল।
'স্মৃতির মিনার' কবিতাটির রচয়িতা হলেন কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ মিনার ভেঙে ফেলার ঘটনার প্রতিবাদে তিনি এই কবিতাটি রচনা করেন এবং ১৯৫৩ সালে হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত 'একুশে ফেব্রুয়ারি' সংকলনে এটি প্রকাশিত হয়েছিল।
আবদুল গাফফার চৌধুরী
আবদুল গাফফার চৌধুরী
আবদুল লতিফ
মুনীর চৌধুরী
মুনীর চৌধুরী জেলে বসে 'কবর' নাটক রচনা করেন ।
জহির রায়হান
১৯৫৬ সালে পাকিস্তানের সংবিধানে বাংলা ভাষাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় ।
বাঙালি জাতীয়তাবাদ
ভাষাকেন্দ্রিক ঐক্য।
১৯৫৩ সাল থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে
১৯৯৯: ইউনেস্কো ২১শে ফেব্রুয়ারি (একুশে ফেব্রুয়ারি) কে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
ইউনেস্কো
জাতিসংঘ
শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক
বর্তমান পৃথিবীতে প্রায় ৭১৬৮ টি ভাষার অস্তিত্ব আছে, তারমধ্যে ২৩টি প্রধান ভাষায় অধিকাংশ লোক কথা বলে।
৫৬ শতাংশ
১৯৪৯ সালে
২৩ জুন
ঢাকার রোজ গার্ডেনে
এ. কে ফজলুল হক
শামসুল হক
৫টি
১৯৫৩ সালে
১৯৫৪ সালে
২১ দফা
২৩৭টি
২২৩টি
৯টি
বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা
পাট
৯ নম্বর
স্বার্থ রক্ষার সনদ
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
৩ এপ্রিল ১৯৫৪
৩০ মে ১৯৫৪
গোলাম মোহাম্মদ
শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক কে
ইস্কান্দার মীর্জা
১৯৫৮ সালের ৭ই অক্টোবর
স্বৈরতান্ত্রিক
১৯৫৮ সালে ।
২৭ অক্টোবর ১৯৫৮ সালে
সামরিক শাসন দীর্ঘস্থায়ী করা
আইয়ুব খান
মৌলিক গণতন্ত্রে 'নির্বাচকমণ্ডলীর' সংখ্যা ছিল ৮০,০০০ ।
১৯৬৫ সালের ৬ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ১৭ দিন অব্যাহত ছিল ।
১৯৬৫ সালে
১৯৬১ সালে
১৯৬২ সালে
৬ সেপ্টেম্বর ১৯৬৫
রবীন্দ্র সংগীত
হিন্দুয়ানির
শেখ মুজিবুর রহমান
জনগণের অধিকার রক্ষা
প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকার
বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মসূচি
আইয়ুব খান
রাষ্ট্র বনাম শেখ মুজিবুর রহমান এবং অন্যান্য
তৎকালীন পাকিস্তান সরকার আওয়ামী লীগ নেতা ও পরবর্তীকালে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমানসহ ৩৫জন বিশিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই মামলা দায়ের করেছিল। ১৯৬৮ সালের প্রথম ভাগে দায়ের করা এই মামলায় অভিযোগ করা হয় যে, শেখ মুজিব ও অন্যান্যরা ভারতের সাথে মিলে পাকিস্তানের অখণ্ডতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।
ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট
১৯৬৮
১৯৬৯ সালে
২৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ সালে ।
তোফায়েল আহমেদ
আইয়ুব খান
১৯৭০ সালে
২৫ মার্চ ১৯৬৯
ইয়াহিয়া খান
৭ ডিসেম্বর
১৬৭টি
১০ টি ।
১৯৪৭ সালে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে।
'স্মৃতির মিনার' কবিতাটি রচনা করেন কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ।
২১ মার্চ ১৯৪৮ সালে রেসকোর্স ময়দানে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা দেন, "উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।"
অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে 'তমদ্দুন মজলিস' গঠিত হয়েছিল।
১৯৩৭ সালে মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার বিরোধিতা করেন শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক।
১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ঘটেছিল।
ভাষা সংগ্রাম পরিষদ' নতুনভাবে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ নামে গঠিত হয়।
তমদ্দুন মজলিস একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান।
১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় (ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে) সভা অনুষ্ঠিত হয়।
কামরুদ্দীন আহম্মদের নেতৃত্বে গণআজাদী লীগ গঠিত হয়।
মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করেন মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ।
'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি'- গানটির রচয়িতা আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী।
তমদ্দুন মজলিস ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর গঠিত হয়।
পাকিস্তানের সংবিধানে বাংলা ভাষাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় ১৯৫৬ সালে।
'ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়'- এর রচয়িতা সংগীতশিল্পী আবদুল লতিফ।
ভাষা সৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ১৯৪৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের গণপরিষদের উর্দু ও ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবি জানান।
পাকিস্তান সৃষ্টির আগেই রাষ্ট্রভাষা কী হবে তা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ উর্দু ভাষার প্রস্তাব করেন।
মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর উর্দু ভাষায় প্রস্তাবে শেরে বাংলা এ. কে ফজলুল হক বিরোধিতা করেন।
১৯৪৭ সালের ১৭ মে চৌধুরী পাকিস্তানের 'খালীকুজ্জামান রাষ্ট্রভাষা উর্দু করার প্রস্তাব দেন।
ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ উর্দু ভাষার বিপক্ষে প্রবন্ধ লিখে প্রতিবাদ জানান।
যুবকর্মী সম্মেলনে বাংলাকে শিক্ষা ও আইন-আদালতের বাহন করার প্রস্তাব করা হয়।
১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
পাকিস্তান সরকার ১৪৪ ধারা জারির মাধ্যমে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।
গণপরিষদের সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ভাষা ব্যবহারের দাবি জানান।
১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ পুনঃগঠিত হয়।
১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ 'বাংলা ভাষা দাবি দিবস' পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
১৯৪৮ সালে পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন খাজা নাজিমুদ্দিন।
পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন ১৫ মার্চ সংগ্রাম পরিষদের সঙ্গে ৮ দফা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
১৯৪৮ সালের ১৯ মার্চ পাকিস্তানের গভর্নর মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকায় আসেন।
পাকিস্তানের গভর্নর রেসকোর্স ময়দানে ঘোষণা দেন "উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা।"
আবদুল মতিনকে আহ্বায়ক করে 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' নতুনভাবে গঠিত হয়।
১৯৫২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ছাত্র বিক্ষোভ প্রদর্শিত হয়।
১৯৫২ সালের ২২শে ফেব্রুয়ারি ভাষা শহিদ শফিউর শহিদ হন।
২৩ ফেব্রুয়ারি ভাষা শহিদ শফিউরের পিতাকে দিয়ে প্রথম শহিদ মিনার উদ্বোধন করা হয়।
ভাষা আন্দোলন পূর্ব বাংলায় জাতীয়তাবাদের ভাবাদর্শ ছড়িয়ে দেয়।
জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি রচনা করে ভাষাকেন্দ্রিক ঐক্য।
পঞ্চাবি শক্তির বিপরীতে পূর্ব পাকিস্তানের জাতীয় সংহতির জন্য জাতীয়তাবাদের ধারণা জরুরী হয়ে পড়ে।
ভাষাকেন্দ্রিক বাঙালিদের মধ্যে যে ঐক্য তৈরি হয় তা জাতীয়তাবাদের মূল ভিত্তি রচনা করে, যা পরবর্তীতে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারি খালি পায়ে হেঁটে শহিদ মিনারে ফুল অর্পণ করে আমরা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।
জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিবিষয়ক অঙ্গ প্রতিষ্ঠান 'ইউনেস্কো' বাংলাদেশের ২১শে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবসকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে।
পৃথিবীতে প্রায় ৭০০০ এর বেশি ভাষা রয়েছে।
১৯৫৩ সাল থেকে ২১ ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে।
নির্দিষ্ট জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে নিজস্ব ভাষা, ইতিহাস, ধর্ম, সংস্কৃতি প্রভৃতির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ যে স্বাতন্ত্র্যবোধ তাই জাতীয়তাবাদ।
পাকিস্তানের মোট জনসংখ্যার ৫৬ শতাংশ বাঙালি ছিল।
রাজনৈতিক তৎপরতার মধ্য দিয়ে মানুষ বঞ্চনার ব্যাপারে সচেতন হতে থাকে।
রাষ্ট্র পরিচালনা, প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার ভোগসহ সর্বক্ষেত্রে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী কর্তৃত্ব শুরু করে।
১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী মুসলিম লীগ দলটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি ছিলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী।
১৯৫৫ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে মুসলিম শব্দটি বাদ দেওয়া হয়।
পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন টাঙ্গাইলের শামসুল হক।
পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগের পূর্বের নাম ছিল পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ।
২১-দফা দাবির প্রথম দাবিটি ছিল বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা।
পাঁচটি দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল।
যুক্তফ্রন্টের একুশ দফার একুশতম দফা ছিল- 'পর পর তিনটি উপনির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট পরাজিত হলে মন্ত্রিসভা স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবে।'
এ. কে ফজলুল হক ১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।
পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ ১৯৫৪ সালের ৩০ মে যুক্তফ্রন্ট সরকারকে বরখাস্ত করে।
যুক্তফ্রন্ট সরকার ৫৬ দিন ক্ষমতায় ছিল।
পাকিস্তানে প্রথম সামরিক আইন জারি করেন ইস্কান্দার মির্জা।
১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মীর্জা সামরিক আইন জারি করেন।
১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান নিজের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে যে পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি চালু করেন, তা-ই মৌলিক গণতন্ত্র নামে পরিচিত।
সামরিক শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে আইয়ুব খান মৌলিক গণতন্ত্র নামে একটি ব্যবস্থা চালু করেন।
১৯৬২ সালের 'প্রস্তাবিত শাসনতন্ত্রের বিরুদ্ধে ছাত্রসমাজ ১৫ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছিল।
আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে ১৯৬১ সালে পূর্ব বাংলায় আন্দোলন শুরু হয়।
১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর জেনারেল আইয়ুব খান ক্ষমতা দখল করেন।
১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ১৭ দিন অব্যাহত ছিল।
১৯৬৬ সালের ছয় দফা কর্মসূচিকে আইয়ুব সরকার 'বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মসূচি' বলে আখ্যায়িত করেন।
ছয় দফা ছিল মূলত ছাত্রদের ১১ দফা ও ২১ দফারই সারসংক্ষেপ।
১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলসমূহের এক সম্মেলনে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা দাবি উপস্থাপন করেন।।
ছয় দফার প্রবক্তা ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান।
পাকিস্তান সরকারের ঐতিহাসিক আগরতলা মামলার এক নম্বর আসামি ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান।
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় মোট আসামির সংখ্যা ছিল ৩৫ জন।
পাকিস্তান সরকার ১৯৬৮ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।
পাকিস্তান সরকার আসামিদের বিরুদ্ধে পাকিস্তান দণ্ডবিধির ১২১ (ক) ও ১৩১ ধারায় আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করে।-
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার শুনানি শুরু হয় ঢাকা ক্যান্টমেন্টে প্রতিষ্ঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে।
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার শুনানি শুরু হয় ১৯৬৮ সালের ১৯ জুন।
৬ দফা ও ১১ দফা আন্দোলনের ফলে যে গণজাগরণ সৃষ্টি হয় তারই ধারাবাহিকতায় ঐতিহাসিক আগরতলা মামলা বাঙালিদের স্বাধীনতার দিকে ধাবিত করে।
পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ১৯৬৯ সালে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে অভ্যুত্থান ঘটেছিল তাকে উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান বলে।
১৯৬৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আইয়ুব খান শেখ মুজিবুর রহমানকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে বাধ্য হন।
বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭০ সালে।
১৯৬৯ সালের ২৫ মার্চ আইয়ুব খান প্রেসিডেন্ট পদ থেকে ইস্তফা দেন।
১৯৭০ সালের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানের ভোটার ছিল ৩ কোটি ২২ লাখ।
১৯৭০ সালে ৭ ডিসেম্বর সর্বপ্রথম 'এক ব্যক্তির এক ভোটের ভিত্তিতে' সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগ পূর্ব পাকিস্তনে প্রাদেশিক পরিষদে ২৯৮টি আসন অর্জন করে।
১৯৭০ সালের নির্বাচন পাকিস্তান সরকার ও স্বার্থন্বেষী মহলের জন্য একটি বিরাট পরাজয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেমের নেতৃত্বে ১৯৪৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর তমদ্দুন মজলিস নামক একটি সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। এ প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য ছিল রাষ্ট্রভাষা হিসেবে বাংলাকে প্রতিষ্ঠিত করা। এ সংগঠনের যুবকর্মী সম্মেলনে বাংলাকে শিক্ষা ও আইন আদালতের বাহন করার প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।
তমদ্দুন মজলিস কর্তৃক গঠিত সংগ্রাম পরিষদ ভাষা আন্দোলনের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। ১৯৪৭ সালে ডিসেম্বর। মাসে করাচিতে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা করার প্রতিবাদে সারাদেশে সভা, মিছিল, ধর্মঘট পালিত হয়। তখন তমদ্দুন মজলিস কর্তৃক গঠিত 'সংগ্রাম পরিষদ' রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ নামে রূপান্তরিত হয়। এ সংগ্রাম পরিষদ ৮ দফা দাবিতে স্বাক্ষর করতে খাজা নাজিমুদ্দীনকে বাধ্য করে। এতে বলা হয় যে, পূর্ব বাংলার ইংরেজির স্থলে বাংলাকে সরকারি ভাষা ও শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা হবে। যার প্রেক্ষিতে বাংলা ভাষা জাতীয় ভাষার মর্যাদা পায়।
১৯৪৮ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ পুনর্গঠিত হয়। এ সংগঠন ১১ মার্চ 'বাংলা ভাষা দাবি দিবস' পালনের ঘোষণা দেয় এবং ওই দিন সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়। 'রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই' স্লোগানসহ মিছিল ও পিকেটিং করা অবস্থায় উনসত্তর জনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার ও নির্যাতনের প্রতিবাদে ঢাকায় ১২-১৫ মার্চ ধর্মঘট পালিত হয়। বাধ্য হয়ে পূর্ব পাকিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী খাজা নাজিমুদ্দিন ১৫ মার্চ রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সঙ্গে ৮ দফা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। উক্ত চুক্তির ১ম দফাটি হলো বাংলা ভাষার প্রশ্নে গ্রেফতারকৃত সকলকে অবিলম্বে মুক্তি দান করা হবে।
পাকিস্তান সৃষ্টির আগেই ভাষা কী হবে তা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। ১৯৩৭ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ মুসলিম লীগের দাপ্তরিক ভাষা উর্দু করার প্রস্তাব করলে এ. কে ফজলুল হক এর বিরোধিতা করেন। ১৯৪৭ সালের এপ্রিল মাসে পাকিস্তান নামক একটি রাষ্ট্রের জন্ম প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায় তখনই বিতর্কটি পুনরায় শুরু হয়। ১৯৪৭সালের ১৭ মে তারিখ চৌধুরী খলীকুজ্জামান এবং জুলাই মাসে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব দেন।
১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাসে করাচিতে অনুষ্ঠিত এক শিক্ষা সম্মেলনে উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে পূর্ব বাংলায় তীব্র প্রতিবাদ শুরু হয়। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি ওঠে, লেখালেখি শুরু হয় এবং ডিসেম্বর মাসেই 'রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' নতুনভাবে গঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সচিবালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সভাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পাকিস্তান সরকার ১৪৪ ধারা জারিসহ সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ছাত্র-জনতা মিছিল করে এবং তাঁদের বুকের তাজা রক্তে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি পায় বাংলা ভাষা।
১৯৪৮ সালের ২৫শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদ সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ গণপরিষদের ভাষা হিসেবে উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলার ব্যবহারের দাবি জানান। তার দাবি অগ্রাহ্য হলে ২৬ ও ২৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ধর্মঘট পালিত হয়। ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে 'সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ' পুনঃগঠিত হয়। ১১ মার্চ 'বাংলা ভাষা দাবি দিবস' পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। ঐদিন সাধারণ ধর্মঘট পালিত হয়। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম লীগ এ কর্মসূচি পালনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। পিকেটিং অবস্থায় ৬৯ জনকে গ্রেফতার করলে ঢাকায় ১৩-১৫ মার্চ ধর্মঘট পালিত হয়।
২০ ফেব্রুয়ারি সরকারি এক ঘোষণায় ২১শে ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪৪ ধারা জারিসহ সভাসমাবেশ মিছিল এক মাসের জন্য নিষিদ্ধ করে। আন্দোলনে নেতৃবৃন্দ ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করা নিয়ে অনেক আলোচনা শেষে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। ২১শে ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, ১০ জন করে মিছিল শুরু করা হবে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের দিক থেকে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল এগিয়ে চলে।
ছাত্রজনতা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করলে পুলিশ প্রথমে কয়েকজনকে গ্রেফতার করে, মিছিলে লাঠিচার্জ ও কাঁদুনে গ্যাস নিক্ষেপ করে। এক পর্যায়ে গুলিবর্ষণ শুরু করলে আবুল বরকত, জব্বার, রফিক, সালামসহ আরও অনেকে শহিদ হন, অনেকে আহত হন। ঢাকায় ছাত্র হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে ২২ ফেব্রুয়ারি বিশাল র্যালি বের হয় এবং পুলিশের হামলায় শফিউর মারা যায়। শহিদদের স্মৃতি অমর করে রাখার জন্য ঢাকায় ২২ ফেব্রুয়ারি ছাত্রজনতা মেডিকেল কলেজের সামনে একটি শহিদ মিনার নির্মাণ করে। ২৩ ফেব্রুয়ারি শফিউরের পিতাকে দিয়ে প্রথম শহিদ মিনার উদ্বোধন করা হয়।
আবদুল গাফফার চৌধুরী রচনা করেন 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো ২১শে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি।' সংগীতশিল্পী আবদুল লতিফ রচনা ও সুর করেন, 'ওরা আমার মুখের ভাষা কাইড়া নিতে চায়, 'তোরা ঢাকা শহর রক্তে ভাসাইলি।' মুনীর চৌধুরী জেলে বসে রচনা করেন, 'কবর' নাটক, জহির রায়হান রচনা করেন 'আরেক ফাল্গুন' উপন্যাসটি। ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পূর্ব বাংলায় শিল্প-সাহিত্য সংস্কৃতিচর্চায় পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে।
পৃথিবীতে ৭০০০-এর অধিক ভাষা রয়েছে। আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলা অধিকার আদায় করতে গিয়ে আমাদের পূর্বসূরিগর্ণ আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। আন্দোলন করতে গিয়ে ১৯৫২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারি তাদের অনেকেই জীবন উৎসর্গ করেছেন, রক্ত ঝরিয়েছেন। মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকার আদায়ের জন্য জীবনদানের এরূপ দৃষ্টান্ত পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। এজন্য এ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
মাতৃভাষা রক্ষা আন্দোলনে ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি আবুল বরকত, জব্বার, রফিক, সালামসহ আরও অনেকে শহিদ হন।। মাতৃভাষার জন্য এরূপ জীবনদান পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল। এ কারণে জাতিসংঘের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইউনেস্কো বাংলাদেশের ২১শে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবসকে 'আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস' ঘোষণার মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষাকে বিশ্বদরবারে এক অনন্য মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছে।
বাংলা ভাষা আমাদের মাতৃভাষা, আমাদের ভাব প্রকাশের প্রধান মাধ্যম। এই বাংলা ভাষা আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি এবং আত্মপ্রত্যয়ের প্রতীক। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা করার জন্য আমরা আমাদের ভাষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হব।
শহিদ মিনারের রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। শহিদ মিনার বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস ও জাতীয় চেতনার গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।
বাংলা ভাষার অধিকার রক্ষার প্রেক্ষাপটে ছাত্রজনতা ১৯৫২ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি ঢাকা মেডিকেল কলেজের সামনে শহিদ মিনার নির্মাণ করে। এই ভাষা আন্দোলনই বাঙালির পরবর্তী সকল আন্দোলনে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছিল। স্বাধীনতার চেতনা জাগিয়ে তোলে এ স্তম্ভটি এবং এই চেতনার মাধ্যমেই ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয় এবং বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। এছাড়া প্রতিবছর ২১শে ফেব্রুয়ারি শহিদ মিনারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন আমাদের রাজনৈতিক ঐক্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়।
মুসলিম লীগের অগণতান্ত্রিক আচরণে ক্ষুদ্ধ হয়ে সংস্কারপন্থিরা আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন করে।
পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর মুসলিম লীগের পশ্চিম পাকিস্তানি মদদপুষ্ট প্রতিক্রিয়াশীল অংশ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী ও সংস্কারপন্থি অংশটির ওপর নানাভাবে দমনপীড়ন চালাতে থাকে। ফলে সংস্কারপন্থিরা মুসলিম লীগের দ্বিজাতি তত্ত্বের ধ্যানধারণা থেকে বের হয়ে অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন করে।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর মুসলিম লীগ শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তারা নির্বাচনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার গঠনের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। এছাড়া প্রাদেশিক সরকার নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের টালবাহানা পূর্ব বাংলার জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফলে ১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে শাসক দল মুসলিম লীগের শোচনীয় পরাজয় ঘটানোর লক্ষ্যে ১৯৫৩ সালের ৪ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ সমমনা পাঁচটি দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর মুসলিম লীগ শাসনক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তারা নির্বাচনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক সরকার গঠনের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। এছাড়া প্রাদেশিক সরকার নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের টালবাহানা পূর্ব বাংলার জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ফলে ১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে শাসক দল মুসলিম লীগের শোচনীয় পরাজয় ঘটানোর লক্ষ্যে ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর পাঁচটি দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠন করে।
পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক নির্বাচনে মুসলিম লীগের শোচনীয় পরাজয় ঘটানোর লক্ষ্যে ১৯৫৩ সালের ১৪ নভেম্বর যুক্তফ্রন্ট গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। ২১ দফা প্রণয়ন শেষে পাঁচটি দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। দল পাঁচটি ছিল আওয়ামী লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলামী ও গণতান্ত্রিক দল এবং খেলাফতে রাব্বানি ১৯৫৪ সালের মার্চ মাসে প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে জনগণ যুক্তফ্রন্টের ২১ দফাকে তাদের স্বার্থরক্ষার সনদ বলে বিবেচনা করে। পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পরিষদের ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে যুক্তফ্রন্ট ২২৩টি মুসলিম লীগ মাত্র ৯টি আসন লাভ করে। বাকি আসন অন্যরা পায়।
১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের দেওয়া ২১ দফার ৪টি দফা হলো-১. বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা হবে; ২. শাসন বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ পৃথক করা হবে; ৩. সকল প্রকার দুর্নীতি নির্মূল করা হবে; ৪. বাস্তুহারাদের পুনর্বাসন করা হবে।
১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট নামে একটি নির্বাচনি জোট গঠন করা হয়েছিল। পাঁচটি দল নিয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। দল পাঁচটি হলো- আওয়ামী লীগ, কৃষক শ্রমিক পার্টি, নেজামে ইসলাম ও গণতন্ত্রী দল এবং খেলাফতে রাব্বানি পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পরিষদ নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট জয়লাভ করে সরকার গঠন করে।
১৯৫৪ সালে পূর্ববাংলা প্রাদেশিক আইনসভার নির্বাচন পাকিস্তানের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্ববহ ও তাৎপর্যপূর্ণ। এ নির্বাচন সমগ্র পাকিস্তানে ব্যাপক প্রভাব ফেলে। ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগের পরাজয়ের ফলে তারা জনগণের কাছে জনপ্রিয়তা হারিয়ে ফেলে। এ নির্বাচনে বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাঙালিদের মধ্যে সংগ্রামের নতুন প্রেরণা জোগায়। তাই ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অত্যধিক।
১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের লক্ষ্যে গঠিত যুক্তফ্রন্ট তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে ২১ দফা দাবি উত্থাপন করেন। যুক্তফ্রন্ট গণমানুষের প্রত্যাশা ও স্বপ্নের প্রতিফলন ঘটাতে যে ২১ দফা দাবি উত্থাপন করেছিল তা পূর্ব বাংলার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক হয়ে ওঠে। যুক্তফ্রন্টের দফাগুলো সাধারণ মানুষের প্রতিটি দিককে ছুঁয়ে গিয়েছিল। এটি শুধু একটি ইশতেহার ছিল না, বরং জনগণের স্বাধীনতা, স্বায়ত্তশাসন ও অধিকারের প্রতিনিধিত্ব করে।
১৯৫৪ সালের নির্বানে যুক্তফ্রন্ট একচেটিয়া ভোট পেয়ে বিজয় অর্জন করে। এ কারণে এটিকে 'ব্যালট বিপ্লব' বলা হয়। প্রাদেশিক আইনসভা নির্বাচনে যুক্তফ্রন্ট ২৩৭টি মুসলিম আসনের মধ্যে ২২৩টি আসনেই বিজয় লাভ করে।
আর ক্ষমতাসীন মুসলিম লীগ মাত্র ৯টি আসন লাভ করে। মুসলিম লীগের কুশাসন ও শোষণে জর্জরিত পূর্ব বাংলার জনগণের পুঞ্জীভূত বেদনা ও আক্রোশের বহিঃপ্রকাশ ছিল যুক্তফ্রন্টের এ বিশাল বিজয়। এ কারণেই যুক্তফ্রন্টের বিজয়কে 'ব্যালট বিপ্লব' বলে আখ্যায়িত করা হয়।
১৯৫৪ সালের ৩ এপ্রিল যুক্তফ্রন্টভুক্ত কৃষক-শ্রমিক পার্টির নেতা এ. কে ফজলুল মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। যুক্তফ্রন্ট সরকার মাত্র ৫৬ দিন ক্ষমতায় ছিল। পাকিস্তান সরকার পূর্ব বাংলার যুক্তফ্রন্ট সরকারকে মনেপ্রাণে গ্রহণ করতে পারেননি। তারা ষড়যন্ত্রের পথ বেছে নেয়। আদমজী পাটকল ও কর্ণফুলিতে বাঙালি-অবাঙালি দাঙ্গাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করিয়ে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল গোলাম মোহাম্মদ ১৯৫৪ সালের ৩০ মে যুক্তফ্রন্ট সরকারকে বরখাস্ত করে। শেরে বাংলাকে গৃহবন্দী করা হয়, বহু নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়।
১৯৪৭ সালে পাকিস্তান স্বাধীন হওয়ার পরে পাকিস্তানে শক্তিশালী কোনো রাজনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। কেন্দ্র ও প্রাদেশিক কাঠামোতে দুর্বল সম্পর্ক, ঘন ঘন সরকার পরিবর্তন, সামরিক-বেসামরিক ষড়যন্ত্র এবং সংসদের অ-কার্যকারিতা সরকারকে দুর্বল করে তোলে। এরই মধ্যে সাংসদদের মারামারিতে স্পিকার শাহেদ আলী আঘাত পেয়ে নিহত হয়। এমতাবস্থায় ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মীর্জা সামরিক শাসন আইন জারি করেন।
পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে নস্যাৎ করার জন্য পশ্চিম পাকিস্তানভিত্তিক সামরিক-বেসামরিক শাসনগোষ্ঠী তৎপরতা চালিয়ে যেতে থাকে। ফলে সংসদ ও সরকার কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। কেন্দ্রে এবং প্রদেশে ঘন ঘন সরকারের পরিবর্তন ঘটতে থাকে। ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠী ক্ষমতা দখলের জন্য অপেক্ষায় ছিল। পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক পরিষদের পরস্পরবিরোধী এমএল এদের মধ্যে মারামারির মতো এক অপ্রীতিকর ঘটনায় ডেপুটি স্পিকার শাহেদ আলী গুরুতর আহত হয়ে পরবর্তীতে হাসপাতালে মারা যান। এ সুযোগে ১৯৫৮ সালের ৭ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ইস্কান্দার মীর্জা সামরিক আইন জারি করেন।
১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের ক্ষমতা দখলের পর প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান নিজের ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার লক্ষ্যে যে পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি চালু করেন, তা-ই মৌলিক গণতন্ত্র নামে পরিচিত। মৌলিক গণতন্ত্র ব্যবস্থায় পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান থেকে মোট ৮০ হাজার নির্বাচিত ইউনিয়ন কাউন্সিল সদস্য নিয়ে নির্বাচকমণ্ডলী গঠন করার কথা বলা হয়। তাদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বিধান রাখা হয়। এটি ছিল পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতিমূলক ব্যবস্থা।
১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর জেনারেল আইয়ুব খান ইস্কান্দার মীর্জাকে উৎখাত ও দেশত্যাগে বাধ্য করে ক্ষমতা দখল এবং নিজেকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত করেন। তিনি উক্ত পদে বসে যেসব পদক্ষেপ নেন তা হলো- ১. নিজেকে প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ঘোষণা; ২. পূর্ব ঘোষিত ১৯৫৯ সালে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচন স্থগিত করা; ৩. দুর্নীতি ও চোরাচালানি দূর করার অঙ্গীকার ব্যস্ত ও ৪. রাজনৈতিক দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা।
না, আইয়ুব খানের মৌলিক গণতন্ত্র সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছিল না। বরং তার সামরিক শাসনকে দীর্ঘস্থায়ী করতে এটি ছিল একটি অভিনব ব্যবস্থা। এ ব্যবস্থায় পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান থেকে মোট ৮০ হাজার নির্বাচিত ইউনিয়ন কাউন্সিল সদস্য নিয়ে নির্বাচকমণ্ডলী গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তাদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি, জাতীয় পরিষদ ও প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার বিধান রাখা হয়। এটি কখনই একটি সত্যিকারের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছিল না, বরং ছিল একটি পরোক্ষ নির্বাচন পদ্ধতি।
পাকিস্তানের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় পূর্ব পাকিস্তানের ভূমিকা নগণ্য ছিল। কারণ পাকিস্তান আমলে বাঙালিদের প্রতি প্রশাসনিক বৈষম্য ছিল ব্যাপক। যার দরুন পূর্ব পাকিস্তানি বাঙালিরা পাকিস্তানের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে সক্ষম হয়নি।
| খাত | সচিবালয় | দেশরক্ষা | তথ্য | স্বাস্থ্য | আইন |
| বাঙালি | ১৯% | ৮.১% | ২০.১% | ১৯% | ৩৫% |
| পাকিস্তানি | ৮১% | ৯১.৯% | ৭৯.৯% | ৮১% | ৬৫% |
পশ্চিম পাকিস্তান কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তান নানাভাবে অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকার হতো। পাকিস্তান সরকারের বৈষম্যমূলক নীতির কারণে পূর্ব বাংলার চেয়ে পশ্চিম পাকিস্তান অনেক বেশি সুবিধাজনক অবস্থান ছিল। ১৯৬০-৬১ থেকে ১৯৬৪-৬৫ সাল পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ছিল ৬৪৮ কোটি টাকা আর পশ্চিম পাকিস্তানের ক্ষেত্রে তা ছিল ২২,২৩০ কোটি টাকা। ফলে ব্যবসায় বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন, কৃষিসহ অর্থনীতির সকল ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তানের চেয়ে কয়েকগুণ পিছিয়ে ছিল।
পাকিস্তানের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় পূর্ব পাকিস্তানের ভূমিকা ছিল অতি নগণ্য। প্রশাসনিক ক্ষেত্রে বৈষম্য ছিল ব্যাপক। ১৯৬৬ সালে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের গেজেটেড কর্মকর্তা ছিল যথাক্রমে ১,৩৩৮ ও ৩,৭০৮ জন এরং নন-গেজেটেড কর্মকর্তা ছিল যথাক্রমে ২৬,৩১০ এবং ৮২,৯৪৪ জন। ১৯৬২ সালে ফরেন সার্ভিসে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব ছিল মাত্র ২০.৮%। বিদেশে ৬৯ জন রাষ্ট্রদূতের মধ্যে ৬০ জনই ছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানের।
পাকিস্তানি শাসনামলে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রেও অনেক বৈষম্য পরিক্ষিত হয়। পাকিস্তান সৃষ্টির আগে পূর্ব বাংলা পশ্চিম পাকিস্তানের চাইতে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় এগিয়ে ছিল। পাকিস্তান সৃষ্টির পর শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দে পশ্চিম পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তানের দ্বিগুণের বেশি লাভ করতে থাকে। ফলে পশ্চিম পাকিস্তানে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষার জন্য নতুন নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে। এভাবেই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী শিক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্যের সৃষ্টি করে।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীতে বাঙালিদের নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য বিরাজ করেছিল। মোট অফিসারেয় মাত্র ৫%, সাধারণ সৈনিকদের মাত্র ৪%, নৌবাহিনীর উচ্চপদে ১৯%, নিম্নপদে ৯%, বিমান বাহিনীর পাইলটদের ১১%, টেকনিশিয়ানদের ১.৭% ছিলেন বাঙালি।
ছয় দফা দাবিনামায় পূর্ব বাংলার জনগণের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিকসহ সকল অধিকারের কথা তুলে ধরা হয়। 'আইয়ুব সরকার একে। বিচ্ছিন্নতাবাদী কর্মসূচী হিসেবে আখ্যায়িত করে। ফলে ছয় দফা কর্মসূচি বাঙালির জাতীয় চেতনামূলে বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে প্রত্যক্ষভাবে স্বাধীনতার কথা বলা না হলেও এ ছয় দফা কর্মসূচি বাঙালিদের স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে।
পূর্ব বাংলার জনগণের প্রতি পাকিস্তান রাষ্ট্রের চরম বৈষম্যমূলক আচরণ ও অবহেলার বিরুদ্ধে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম সুস্পষ্ট রূপলাভ করে ছয় দফার স্বায়ত্তশাসনের দাবিনামায়। ১৯৬৬ সালের ৫-৬ ফেব্রুয়ারি লাহোরে অনুষ্ঠিত বিরোধী দলসমূহের এক সম্মেলনে যোগদান করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিবুর রহমান। সেখানে তিনি সাংবাদিক সম্মেলন করে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের অধিকার রক্ষার জন্য ছয় দফা তুলে ধরেন।
১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে পাকিস্তান সরকারকে আগরতলা মামলা প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়। শেখ মুজিবুর রহমানকে এক নম্বর আসামি করে মোট ৩৫ জনের বিরুদ্ধে আগরতলা মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণে পরিচালিত গণঅভ্যুত্থানের মুখে পাকিস্তান সরকার আগরতলা মামলা প্রত্যাহারে বাধ্য হয়।
পাকিস্তান সরকার ১৯৬৮ সালের জানুয়ারিতে শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করে মোট ৩৫ জন সামরিক ও বেসামরিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মিথ্যা মামলা দায়ের করে। এ মামলাটি ইতিহাসে আগরতলা মামলা বলে পরিচিতি লাভ করে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল যে, তারা সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে পাকিস্তান রাষ্ট্র থেকে পূর্ব পাকিস্তানকে বিচ্ছিন্ন করে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য ভারতের আগরতলায় ষড়যন্ত্র করেছিলেন। এ মামলায় বিচারকার্যের জন্য একটি স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়।
'৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম কারণ ছিল আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে গণতান্ত্রিক শাসন কায়েম করা। ১৯৫৮ সালের ২৭ অক্টোবর জেনারেল আইয়ুব খান ইস্কান্দার মীর্জাকে উৎখাত ও দেশত্যাগে বাধ্য করে ক্ষমতা দখল এবং নিজেকে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট পদে অধিষ্ঠিত করেন। তিনি পূর্ব ঘোষিত ১৯৫৯ সালে অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচন স্থগিত করেন। পূর্ব পাকিস্তানসহ সর্বস্তরের জনগণকে দমিয়ে রাখার জন্য নানা ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করেন। এসব অগণতান্ত্রিক কর্মকান্ড থেকে মুক্তির জন্য এদেশবাসী ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে যোগ দেয়।
পাকিস্তানি শাসনামলে পূর্ব বাংলার সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে সবচেয়ে বড় আন্দোলন ছিল উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান। এ অভ্যুত্থানের ফলে পাকিস্তান সরকার আগরতলা মামলা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। শেখ মুজিবুর রহমানকে মুক্তি দেয়। এর ফলে সরকারের ওপর যে মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি হয় তা ৭০-এর নির্বাচনকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে। আইয়ুব খান পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এ আন্দোলনের ফলেই। শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে ভূষিত করা হয় এসময়েই। তাই ইতিহাসে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের গুরুত্ব অনেক বেশি।
১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভকরে। ফলে ৬ দফা ও ১১ দফার প্রতি জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বাঙালি জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক বিজয় ঘটে। অন্যদিকে, পাকিস্তান সরকার ও স্বার্থান্বেষী মহলের জন্য এটি ছিল বিরাট পরাজয়। ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের পিছনে এ নির্বাচনের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এ নির্বাচন বাঙালি জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রাকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে বিশাল ভূমিকা রাখে। যার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।
বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পিছনে ১৯৭০ সালের নির্বাচনের গুরুত্ব সর্বাধিক। ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভকরে। ফলে ৬ দফা ও ১১ দফার প্রতি জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বাঙালি জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক বিজয় ঘটে। অন্যদিকে, পাকিস্তান সরকার ও স্বার্থান্বেষী মহলের জন্য এটি ছিল বিরাট পরাজয়। ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের পিছনে এ নির্বাচনের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এ নির্বাচন বাঙালি জাতীয়তাবাদের রাজনৈতিক অগ্রযাত্রাকে. মুক্তিযুদ্ধের চরিত্র দানে বিশাল ভূমিকা রাখে। পরিণতিতে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে।
Related Question
View Allপাকিস্তানি শাসন আমলে বাঙালিদের জাতীয় মুক্তির প্রথম আন্দোলনের নাম ছিল 'ভাষা আন্দোলন'।
৬ দফা দাবিনামায় পূর্ব বাংলার জনগণের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিকসহ সকল অধিকারের কথা তুলে ধরা হয় বলে একে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বলা হয়।
ছয় দফা কর্মসূচি বাঙালির জাতীয় চেতনামূলে বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে প্রত্যক্ষভাবে স্বাধীনতার কথা বলা না হলেও এ ৬ দফা কর্মসূচি বাঙালিদের স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে। এ ছয় দফা দাবির পথ ধরে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করি। এ কারণে ছয় দফাকে বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ বলা হয়।
সারণি-ক থেকে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠেছে।
পাকিস্তান সৃষ্টির আগে পূর্ব বাংলা অর্থনৈতিক, সামাজিক ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পশ্চিম পাকিস্তানের চেয়ে অগ্রসর ছিল। কিন্তু ১৯৪৭ সালে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসনশোষণ প্রতিষ্ঠার ফলে পূর্ব পাকিস্তান দ্রুত পিছিয়ে যেতে থাকে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৃদ্ধি পেতে থাকে দুই অঞ্চলের মধ্যকার বৈষম্য। এসব ক্ষেত্রের মধ্যে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্র অন্যতম। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর স্থল, নৌ ও বিমানবাহিনীতে বাঙালিদের নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য বিরাজ করছিল। মোট অফিসারের মাত্র ৫%, সাধারণ সৈনিকদের 'মাত্র ৪%, নৌবাহিনীর উচ্চপদে ১৯%, নিম্নপদে ৯%, বিমানবাহিনীর পাইলটদের ১১% এবং টেকনিশিয়ানদের ১.৭% ছিল বাঙালি।
উদ্দীপকের সারণি-ক থেকে উপরোল্লিখিত প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের বৈষম্যের চিত্রই দেখতে পাই। অতএব বলা যায়, সারণি-ক থেকে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠীর প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের বৈষম্য ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকে সারণি-খ এ প্রদর্শিত বৈষম্যের পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রকৃত অবস্থা ছিল ভয়াবহ বৈষম্যমূলক।
পাকিস্তান সরকারের বৈষম্যমূলক নীতির কারণে পূর্ব বাংলার চেয়ে পশ্চিম পাকিস্তান অনেক বেশি অর্থনৈতিক সুবিধা লাভ করেছিল। ১৯৫৫-৫৬ থেকে ১৯৫৯-৬০ অর্থবছর পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তান লাভ করেছিল মোট বাজেটের বরাদ্দের মাত্র ১১৩ কোটি ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা, অপরদিকে পশ্চিম পাকিস্তান পেয়েছিল ৫০০ কোটি টাকা। একইভাবে ১৯৬০-৬১ থেকে ১৯৬৪-৬৫ অর্থবছর পর্যন্ত পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দ ছিল ৬৪৮০ মিলিয়ন টাকা আর পশ্চিম পাকিস্তানের ক্ষেত্রে তা ছিল ২২,২৩০ মিলিয়ন টাকা। পূর্ব বাংলার পাট, চা, চামড়া প্রভৃতি বিদেশে রপ্তানি করে যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হতো, তার সিংহভাগ পশ্চিম পাকিস্তানের উন্নয়নে ব্যয় হতো। ফলে ব্যবসায় বাণিজ্য, শিল্প উৎপাদন, কৃষিসহ অর্থনীতির সকল ক্ষেত্রে পূর্ব পাকিস্তান পশ্চিম পাকিস্তানের চাইতে কয়েকগুণ পিছিয়ে পড়ে।
পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে প্রদর্শিত সারণি-খ এর মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যকার অর্থনৈতিক বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠেছে। এ বৈষম্য ছিল ভয়াবহ ও হতাশাব্যঞ্জক।
১৯৫৩ সালে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়।
বাংলা ভাষা-সাহিত্য, ইতিহাস-ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বাঙালির জাতিগত পরিচয়ে যে জাতীয় ঐক্য গড়ে ওঠে, সে জাতীয় ঐক্যকে বলা হয় বাঙালি জাতীয়তাবাদ। মূলত ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আমাদের মধ্যে যে জাতীয় চেতনার জন্ম হয়, তাই বাঙালি জাতীয়তাবাদ। বাঙালি জাতীয়তাবাদ হচ্ছে বাঙালি জাতির ঐক্যের প্রতীক।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!