দেশের জনগণের জন্য সরকারকে বিভিন্ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করতে হয়। কিন্তু এমন অনেক বিষয় আছে, যা কোনো সরকারের পক্ষেই এককভাবে করা সম্ভব হয় না। প্রয়োজন হয় অন্য কোনো দেশ বা সংস্থার সহযোগিতা। এ প্রয়োজনীয়তা থেকেই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ধারণাটি উদ্ভব হয়।
পৃথিবীর স্বাধীন দেশগুলো অনেকক্ষেত্রেই আত্মনির্ভরশীল নয়। দেশগুলোর নানা সমস্যা সমাধানে পারস্পরিক নির্ভরশীলতার ভিত্তিতে অন্য দেশ বা সংস্থার সাথে যে সম্পর্ক গড়ে উঠে তাই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা।
বর্তমান বিশ্বে পারস্পরিক নির্ভরশীলতার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই। তাই দেশগুলো নিজের সমস্যা সমাধানে দ্বি-পাক্ষিক চুক্তি বা আন্তর্জাতিক সংস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে একে অন্যকে সহযোগিতা করছে। একারণেই বর্তমান যুগকে পরস্পর নির্ভরশীলতার যুগ বলা হয়।
বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে মাত্র ২৫ বছরের ব্যবধানে পৃথিবীতে দুটি বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়। প্রথমটি হয় ১৯১৪ সালে এবং দ্বিতীয়টি শুরু হয় ১৯৩৯ সালে।
১৯১৪ সালে বিশ্বব্যাপী যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে শান্তি স্থাপনের প্রচেষ্টা চলতে থাকে। ফলশ্রুতিতে ১৯২০ সালে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যে সংস্থাটি গড়ে উঠে তা হলো সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ বা লীগ অব নেশনস।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসলীলা দেখে বিশ্ববাসী শঙ্কিত ও হতবাক হয়ে যায়। মানবকল্যাণের জন্য যুদ্ধকে পরিহার করে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষায় বিশ্ব নেতৃবৃন্দ প্রচেষ্টা হাতে নয়। ফলশ্রুর্তিতে ১৯৪৫ সালের ২৪শে অক্টোবর জন্ম নেয় নতুন একটি সংস্থা, বিশ্বব্যাপী যা জাতিসংঘ নামে পরিচিত।
জাতিসংঘের প্রধান শাখা ৬টি। যথা- ক. সাধারণ পরিষদ; খ. সচিবালয়; গ. অছি পরিষদ ঘ. আন্তর্জাতিক আদালত; ঙ. অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ; চ. নিরাপত্তা পরিষদ।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদকে বলা হয় বিতর্ক সভা। এই পরিষদে বিভিন্ন সদস্য শাখায় নির্বাচন, বিশ্বের বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আলোচনা ইত্যাদি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হয়। প্রতিবছরে অন্তত একবার অধিবেশন হয় এবং একজন সভাপতি নির্বাচিত হন।
সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সীমানাসহ যেকোনো বিরোধ মীমাংসা করা আন্তর্জাতিক আদালত এর কাজ। এর সদর দপ্তর নেদারল্যান্ডের হেগ শহরে অবস্থিত।
সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সীমানাসহ যেকোনো বিরোধ মীমাংসায় আন্তর্জাতিক আদালত কাজ করে থাকে। যেমন-বঙ্গোপসাগরের সমুদ্রসীমা নিয়ে মায়ানমারের 'সাথে বাংলাদেশের বিরোধে এ শাখা ভূমিকা রাখে।
জাতিসংঘের যে শাখাটি বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার দায়িত্ব পালন করে তাই নিরাপত্তা পরিষদ। এর পাঁচটি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র হলো যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, ফ্রান্স ও গণচীন। এছাড়াও অস্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র রয়েছে দশটি।
জাতিসংঘের পতাকাটি হালকা নীল রঙের। মাঝখানে সাদার ভিতরে বিশ্বের বৃত্তাকার মানচিত্র রয়েছে। এর দুইপাশ দুটি জলপাই পাতার, ঝাড় দিয়ে বেষ্টিত।
জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা ছয়টি। এগুলো হলো- আরবি, 'চাইনিজ, ইংরেজি, ফরাসি, রাশিয়ান ও স্পেনিশ। তবে ইংরেজি ভাষার ওপর বেশি গুরুত্বারোপ করা হয়ে থাকে।
জাতিসংঘ গঠনের দুটি উদ্দেশ্য হলো-
১. শান্তির প্রতি হুমকি ও আক্রমণাত্মক কার্যকলাপ প্রতিরোধ করে বিশ্ব শান্তি, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা;
২. জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ভাষা ও নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলের স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকারের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তোলা।
জাতিসংঘের মৌলিক নীতি সাতটি। প্রত্যেক সদস্য রাষ্ট্রকে এসব শর্তগুলো মেনে চলার শর্তে জাতিসংঘের সদস্যপদ দেওয়া হয়। যেমন একটি নীতি হলো- সকল সদস্য রাষ্ট্র সমান মর্যাদা ও সমান সার্বভৌমত্বের অধিকারী হবে।
জাতিসংঘের দুটি কাজ হলো-
ক. আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
খ. শান্তি প্রতিষ্ঠা ও যুদ্ধ বন্ধের জন্য শান্তিরক্ষা বাহিনী মোতায়েন করা।
জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিল বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা করা। জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিশ্বে আজ পর্যন্ত কোনো বিশ্বযুদ্ধ সংঘটিত হয়নি। এটিই জাতিসংঘের বড় সফলতা।
আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রয়োজনে নিরাপত্তা পরিষদকে যেকোনো সম্মিলিত ব্যবস্থা গ্রহণে ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। ফলে বিশ্বের কোথাও আন্তর্জাতিক শান্তিবিরোধী কোনো কাজ সংঘটিত হলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্ঠা চালায়। এভাবে জাতিসংঘ বিশ্বশান্তি রক্ষায় ভূমিকা রাখে।
১৯৭৪ সালে জাতিসংঘ সদস্যপদ লাভ করার পর থেকেই বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। বাংলাদেশ সর্বপ্রথম ১৯৮৮ সালে শান্তিরক্ষা বাহিনীতে সশস্ত্রবাহিনীর সদস্য প্রেরণ করে, যা আজও বিদ্যমান রয়েছে।
যে সমস্ত দেশে বাংলাদেশ শান্তিরক্ষা বাহিনী কাজ করছে সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি দেশের নাম হলো-কংগো, হাইতি, আইভেরিকোস্ট, পূর্বতিমুর, ইরাক, কুয়েত, নামিবিয়া, সুদান, সিয়েরালিয়ন, পশ্চিম সাহারা, মোজাম্বিক, রুয়ান্ডা, কম্বোডিয়া, সোমালিয়া, উগান্ডা, জর্জিয়া, লিবিয়া, লাইবেরিয়া, আফগানিস্তান প্রভৃতি।
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বাহিনীতে বাংলাদেশের অবস্থান সুনাম ও কৃতিত্বের। সংখ্যার দিক থেকে এক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রথম স্থান দখল করে আছে।
বাংলাদেশ ২০১৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীতে ১,৫৭,০৫০ জন সদস্য পাঠিয়েছে।
বর্তমান যুগ পরস্পর নির্ভরশীলতার যুগ। আর পারস্পরিক নির্ভরশীলতা এ যুগে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কোনো বিকল্প নেই। বর্তমানে একটি দেশ সরাসরি বা দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সাক্ষরের মাধ্যমে অন্য দেশকে সাহায্য করে। আবার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমেও সহযোগিতা করে থাকে। আবার এমন অনেক সমস্যা আছে যেগুলো বিভিন্ন দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ছাড়া সমস্যার সমাধান সম্ভব হয় না। এজন্য বর্তমান বিশ্বে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার উপর যথেস্ট গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ জাতিসংঘের একটি অঙ্গ সংস্থা। এর সদস্যসংখ্যা ৫৪ জন। বছরে কমপক্ষে দুবার নিউইয়র্ক বা জেনেভায় এর অধিবেশন বসে। প্রত্যেক সদস্যের একটি করে ভোট আছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে যেকোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এ পরিষদের কাজ হলো সদস্য দেশগুলোর মানুষের জীবনযাত্রার মান্নোনয়ন, বেকার সমস্যার সমাধান, শিক্ষার প্রসার, মানবাধিকার কার্যকর করা প্রভৃতি।
বিশ্বের প্রত্যেক রাষ্ট্রই নিজেদের কল্যাণে বা স্বার্থে বৈদেশিক নীতি প্রণয়ন করে। সকল বৈদেশিক নীতির মূলে রয়েছে পারস্পরিক নির্ভরশীলতার মাধ্যমে নিজ দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ করা। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক; সামরিক ইত্যাদি ক্ষেত্রে এক রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলে।
নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য ও নির্বাচিত অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে অছি পরিষদ গঠিত। অছি পরিষদ জাতিসংঘের হয়ে বিশ্বের অনুন্নত অঞ্চলসমূহের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালন করে।
বর্তমানে আধুনিক যুগে কোনো রাষ্ট্রই এককভাবে তাদের। প্রয়োজন সম্পন্ন করতে পারে না। এ প্রয়োজনীয়তা থেকেই আঞ্চলিক সহযোগিতার ধারণা সৃষ্টি হয়েছে। গড়ে উঠেছে বিভিন্ন সহযোগিতা সংস্থা। যেমন- সার্ক, আসিয়ান, ইইউ ইত্যাদি।
বিশ্বের প্রত্যেকটি দেশই পারস্পরিক নির্ভরশীলতার মাধ্যমে নিজ দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ করে থাকে। দেশগুলো স্বাধীন ও সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হলেও সম্পূর্ণ আত্মনির্ভরশীল নয়। এছাড়াও এসব দেশগুলোর সমস্যা দূর করার জন্য প্রয়োজন হয় অন্য দেশ ও সংস্থার সহযোগিতা। এভাবে বিশ্বের কোনো রাষ্ট্রই অন্য রাষ্ট্রের সাহায্য ছাড়া চলতে পারে না। তাই বলা যায়, বিশ্বের দেশগুলো পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সুন্দরভাবে টিকে আছে।
বিশ্বের সকল স্বাধীন রাষ্ট্রই সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। প্রতিটি দেশের সরকারের দায়িত্ব হলো দেশকে সুন্দর ও সঠিকভাবে পরিচালনার মাধ্যমে দেশ ও জনগণের কল্যাণ, সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন সাধন করা। এজন্য বিভিন্ন দেশের সরকার বিভিন্নমুখী কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করে। কিন্তু এমন অনেক বিষয় রয়েছে যা কোনো সরকারের পক্ষে এককভাবে করা সম্ভব হয় না। প্রয়োজন হয় অন্য কোনো দেশ বা সংস্থার সহযোগিতা। এ প্রয়োজনীয়তা থেকেই আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ধারণার উদ্ভব হয়েছে। গড়ে উঠেছে বিভিন্ন সহযোগিতা সংস্থা। এদের মধ্যে অন্যতম হলো জাতিসংঘ। এ অধ্যায়ে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তাসহ জাতিসংঘের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
এ অধ্যায় শেষে আমরা-
১. আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ধারণা ও গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব;
২. জাতিসংঘের গঠন বর্ণনা করতে পারব;
৩. জাতিসংঘ গঠনের উদ্দেশ্য বর্ণনা করতে পারব;
৪. জাতিসংঘের মৌলিক নীতিসমূহ বর্ণনা করতে পারব;
৫. জাতিসংঘের বিভিন্ন শাখার উল্লেখযোগ্য কার্যক্রম বর্ণনা করতে পারব;
৬. বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের ভূমিকা বর্ণনা করতে পারব;
৭. বিশ্ব শান্তিরক্ষা বাহিনীতে বাংলাদেশের ভূমিকা বর্ণনা করতে পারব।
Related Question
View All১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভ করে।
জাতিসংঘের একটি মৌলিক নীতি হলো- জাতিসংঘের সকল দিস্য রাষ্ট্র সমান মর্যাদা ও সমান সার্বভৌমত্বের অধিকারী হবে।
প্রতিসংঘের সদস্যভুক্ত কোনো রাষ্ট্র অন্যান্য রাষ্ট্রের তুলনায় অধিক মর্যাদার ধিকারী হবে না বা বঞ্চিত হবে না এবং সার্বভৌমত্বের ক্ষেত্রেও সকলের ধিকার সমান হবে। কোনো রাষ্ট্র অন্য রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ রতে পারবে না।
উদ্দীপকের দুই ইউনিয়নের বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়াটি জাতিসংঘের যে নীতির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ তা হলো, সকল সদস্য রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ মীমাংসা করতে হবে।
বিশ্বশান্তি ও সহযোগিতার মহান লক্ষ্য নিয়ে ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য জাতিসংঘ সাতটি মৌলিক নীতি ঘোষণা করেছে। এগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি নীতি হলো- সকল সদস্য রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ মীমাংসা করতে হবে।
উদ্দীপকের 'ক' উপজেলার অন্তর্গত সকল ইউনিয়নের শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ২০১২ সালে 'ক' উপজেলার চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে কিছু নীতিমালা করা হয়। এর ফলে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি এলাকার মানুষ নিরাপদ জীবনযাপন করতে সক্ষম হয়। কিন্তু দুটি ইউনিয়নের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে 'ক' উপজেলা চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে তা সমাধান হয়, যা জাতিসংঘের অন্যতম নীতি তথা 'সকল সদস্য রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ মীমাংসা করতে হবে'- এর সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
'ক' উপজেলার শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা জাতিসংঘের বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠা করার প্রচেষ্টার অনুরূপ-উক্তিটি যথার্থ।
জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার একটি প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা। সূচনালগ্ন থেকেই বিশ্বশান্তি রক্ষার প্রধান দায়িত্ব জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের উপর ন্যস্ত। ফলে বিশ্বের কোথাও আন্তর্জাতিক শান্তি বিরোধী কোনো কাজ সংঘটিত হলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এভাবে জাতিসংঘ বিশ্বশান্তি রক্ষায় ভূমিকা পালন করে থাকে। দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে দক্ষিণ সুদানের স্বাধীনতা অর্জন এর অন্যতম উদাহরণ।
উদ্দীপকের 'ক' উপজেলার ক্ষেত্রে দেখা যায়, উপজেলার সব ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা একত্রিত হয়ে উপজেলার চেয়ারম্যানকে পরিষদের সভাপতি করে প্রত্যেকটি ইউনিয়নের শান্তি-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কিছু নীতিমালা করেন। একইসাথে প্রতিটি ইউনিয়নের বিরোধ মীমাংসা, উন্নয়ন এবং এলাকার মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার জন্য কাজ শুরু করেন। ফলে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি এলাকার মানুষ নিরাপদ জীবনযাপন করতে সক্ষম হয়।
উপরের আলোচনায় এটি সুস্পষ্ট যে, জাতিসংঘের বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার সাথে 'ক' উপজেলার শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা সাদৃশ্যপূর্ণ।
জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিবের নাম অ্যান্টনিও গুতেরেস।
জাতিসংঘের অন্যতম কাজ হলো আঞ্চলিক সংস্থাসমূহের সহযোগিতা গ্রহণ করা।
নিজেদের জন্য উন্নয়ন ও শান্তিময় বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সংস্থার পাশাপাশি পৃথিবীতে বিভিন্ন আঞ্চলিক সংস্থাও গড়ে উঠেছে। এসব সংস্থার মধ্যে রয়েছে সার্ক, আসিয়ান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, আফ্রিকান ইউনিয়ন প্রভৃতি। জাতিসংঘ এসব সংস্থার সহযোগিতা গ্রহণ করে বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!