আবহাওয়া প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হওয়ার যে একটি নির্দিষ্ট ধারা রয়েছে, তাকে জলবায়ু বলে। এক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট স্থানের সুদীর্ঘ সময়ের সাধারণত ৩০-৩৫ বছরের আবহাওয়ার গড় বা সামগ্রিক অবস্থার হিসাবকে জলবায়ু হিসেবে গণ্য করা হয়।
মানুষের অপরিকল্পিত শিল্পায়ন বদলে দিয়েছে প্রকৃতিকে। তার ফলে মানুষের কর্মকাণ্ড বাড়াচ্ছে বৈশ্বিক উষ্ণতা, বদলে যাচ্ছে জলবায়ু। আর তাতে মানুষের জীবন প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই হুমকির মুখে পড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে পৃথিবীর তাপমাত্রা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাবে। ফলে পৃথিবীতে মানুষের টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়বে
পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে নানা প্রকার দুর্যোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেমন- অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা, খরা, জলোচ্ছ্বাস, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি।
জলবায়ু পরিবর্তনের মানবসৃষ্ট কারণগুলো হলো- মাত্রাতিরিক্ত যানবাহনের ব্যবহার, গাছ কেটে বন উজাড়, অতিরিক্ত কৃষি কার্যক্রম, গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন, নগরায়ণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রভৃতি।
ঈশ্বর দেখলেন পৃথিবীতে মানুষের সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে তাদের চিন্তা ও বাসনা সর্বদা পাপের দিকে যাচ্ছে। মানুষ সৃষ্টি করেছেন বলে ঈশ্বরের অনুতাপ হলো। যেসব মানুষ অবাধ্য হয়ে পাপে লিপ্ত আছে, তাদের তিনি ধ্বংস করবেন। মানুষের পাপে জগৎ ছেয়ে গেছে। এজন্য তিনি পৃথিবী ধ্বংস করতে চেয়েছিলেন।
ঈশ্বর যখন জীব ধ্বংসের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তখন নোহর জাহাজে তাঁর গোটা পরিবার এবং এক জোড়া করে সকল প্রাণী তোলা হলো। এছাড়া তাঁর পরিবার ও প্রাণীদের জন্য সব রকমের খাদ্য জাহাজে তোলা হয়।
মানুষের দায়িত্ব হলো সৃষ্টির প্রতিটি বিষয় সঠিক উপায় বা পন্থায় ব্যবহার করা। অথচ মানুষের আর্থসামাজিক কর্মকাণ্ডে পরিবর্তিত জলবায়ুর ক্রমাগত বিরূপ প্রভাব পড়ছে। মানুষ নিজের ক্ষমতা ও আধিপত্যের চিন্তায় অন্য প্রাণী ও পরিবেশের প্রতি অবহেলা করে, যা জলবায়ু পরিবর্তন এবং জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করে। তাছাড়া স্বার্থপরতা ও লোভের কারণে মানুষ সৃষ্টির প্রতি নিজের দায়িত্ব ভুলে যাচ্ছে।
দীর্ঘদিন বৃষ্টিহীন অবস্থা থাকলে অথবা অপর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হলে মাটির আর্দ্রতা কমে যায়। মাটি তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য বা কোমলতা হারিয়ে রুক্ষরূপ ধারণ করে। ফলে কৃষিজ ফসলের উৎপাদন কমে যায়। উপদ্রুত অঞ্চলে পানির অভাব দেখা দেয়। প্রবল উত্তাপে বিভিন্ন ধরনের অসুখের প্রাদুর্ভাব ঘটে। এতে পরিবেশ রুক্ষ হয়ে ওঠে।
প্রভু ঈশ্বর যখন আকাশ ও পৃথিবী গড়ে তুললেন, তখন পৃথিবীর কোনো জমিতে না ছিল ঝোপঝাড়, না জন্মে ছিল কোনো - উদ্ভিদ। এক. সময় প্রভু ঈশ্বর মাটি থেকে ধুলো নিয়ে তা দিয়ে মানুষকে গড়ে তুললেন এবং তার নাকে ফুঁ দিয়ে তার মধ্যে প্রাণের নিঃশ্বাস জাগিয়ে তুললেন। মানুষ তখন হয়ে উঠল সজীব এক প্রাণী।
প্রভু ঈশ্বর পুব দিকে এদেন নামে একটি স্থানে গাছপালা পুঁতে একটি উদ্যান তৈরি করলেন। তাঁর গড়া সেই মানুষকে তিনি সেখানেই রাখলেন। প্রভু ঈশ্বর সেই উদ্যানের মাটি থেকে এমন সব গাছের জন্ম ঘটালেন, যেসব গাছ দেখতে চমৎকার, যেগুলোর ফল খাদ্য হিসেবে ভালো। উদ্যানটির মাঝখানে তখন বেড়ে উঠল জীবনবৃক্ষ আর সেই সঙ্গে ভালোমন্দ জ্ঞানের বৃক্ষ।
পোপ ফ্রান্সিস তার 'লাউদাতো সি' প্রেরণাপত্রে বলেন, 'এত সুন্দর সৃষ্টির জন্য সব প্রশংসা ঈশ্বরের।' প্রশংসার পাশাপাশি বলেন, আমরা সবাই যেন ঈশ্বরের সৃষ্টির যত্ন করি।' আমাদের অভিন্ন বসতবাটির প্রতি যেন আমরা যত্নশীল হই।
পৃথিবীকে মানুষ নিজের প্রয়োজনে ধ্বংস করছে। মানুষ মূলত বন উজাড়, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো এবং দূষণের মতো কার্যকলাপের মাধ্যমে পৃথিবীকে ধ্বংস করছে।
বৃক্ষরোপণ হলো পরিকল্পিতভাবে গাছ রোপণ করা। এটি পরিবেশকে সবুজ ও সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। গাছ আমাদের. পরিচ্ছন্ন বাতাস, ছায়া এবং প্রাণীদের আশ্রয় দেয়। বেশি করে গাছ লাগালে প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় থাকে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ বার বার ঘটে কারণ পৃথিবীর জলবায়ু ও পরিবেশ পরিবর্তন হচ্ছে। তাপমাত্রা বাড়লে আবহাওয়ার ধরন বদলে যায় এবং ঝড়, বন্যা ও খরার মতো ঘটনাগুলো বাড়ে। মানুষের বনভূমি নষ্ট হয় এবং দূষণ ও প্রকৃতির 'ভারসাম্য নষ্ট হয়। এসব মিলেই প্রাকৃতিক দুর্যোগ আগের চেয়ে বেশি হয়।
Related Question
View Allঅতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি এবংখরার কারণে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে।
শিল্পায়নের ফলে মানবসভ্যতার উন্নয়ন হয়েছে।
মানুষের অপরিকল্পিত শিল্পায়ন বদলে দিয়েছে প্রকৃতিকে।
ঈশ্বর সৃষ্ট পৃথিবীতে মানুষের বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা বাড়ছে।
পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে নানা প্রকারের দুর্যোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!