বয়ঃসন্ধিক্ষণে দেহের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য অতিরিক্ত খাদ্যশক্তির প্রয়োজন হয়। পুষ্টিমানসম্পন্ন পর্যাপ্ত খাদ্যের অভাবে পুষ্টিহীনতা দেখা দিতে পারে। সহজেই ক্লান্তি বোধ হয়। এ জন্য এ সময় সব রকম পুষ্টিমান খাবার পরিমাণমতো খেতে হবে। মেয়েদের এ বয়সে রক্তাল্পতা - হতে পারে। লৌহজাতীয় খাবার রক্তাল্পতা দূর করতে সাহায্যে করে। তাই বয়ঃসন্ধিক্ষণে পুষ্টিমান খাদ্যের অনেক প্রয়োজন।
কৈশোর কালে শারীরিক পরিবর্তন বা ঋতুস্রাব শুরুর প্রথমদিকে অনেকের পেটে ব্যথা, মাথা ধরা, পিঠে ব্যথা ইত্যাদি বিভিন্ন অসুবিধা দেখা দিতে পারে। এগুলো খুব স্বাভাবিক। তবে অতিরিক্ত অসুবিধা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এ সময়ে ভারী জিনিস তোলা, বহন করা বা অতিরিক্ত পরিশ্রমের কাজ করার সময় সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার।
স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য আমাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা বিশেষ জরুরি। শারীরিক পরিচ্ছন্নতায় মনও প্রফুল্ল থাকে। বয়সঃসন্ধিক্ষণে ত্বকের নিচে বগলের গ্রন্থি থেকে বেশি ঘাম নিঃসরণ হয়। এজন্য নিয়মিত গোসল করা, পরিষ্কার পোশাক পরা উচিত। এতে আমাদের শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকে।
মেয়েদের ঋতুস্রাবের সময় করণীয় কাজগুলো হলো-
১. পরিষ্কার কাপড় বা স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করা।
২. কাপড় ব্যবহার করলে সেটা ভালোভাবে পরিষ্কার করে রোদে শুকানো।
সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য দরকার নিরাপদ পরিবেশ। আর এই নিরাপদ পরিবেশের অভাবে প্রায়ই আমরা বিপদের সম্মুখীন হয়। আর আমরা একটু সতর্ক থাকলেই এসব বিপদ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারব। তাই সুস্থ থাকতে নিজের নিরাপত্তা রক্ষা করতে শেখা অনেক জরুরি।
অনেক সময় বাবা-মাকে বিদেশে ভালো চাকরির বা অর্থের লোভ দেখিয়ে কিশোর-কিশোরীকে পাচার করে ফেলে। পরিবার থেকে তারা হয় চিরবিচ্ছিন্ন। এটা অত্যন্ত বিপজ্জনক। তাই আমাদের মা-বাবা, প্রতিবেশী, ছোট ভাইবোন এবং বন্ধুরা যেন এসব বিষয়ে সজাগ থাকে, সে জন্য আমরা তাদেরকে সতর্ক করব।
নিজেকে নিরাপদ রাখার কিছু উপায়
১. ভিড়ের মধ্যে গেলে সচেতন থাকা ও সাবধানতা অবলম্বন করা।
২. পরিচিত ও অপরিচিত পরিবেশে একা না যাওয়া।
৩. বাড়িতে একা থাকলে সাবধানে থাকা।
মেয়েদের বিপদে পড়ার সাধারণ কারণ হলো ভিড় বা একা থাকাকালে খারাপ স্পর্শের শিকার হওয়া। অপরিচিত ব্যক্তি বা পাড়ার বড়দের খারাপ আচরণও কারণ হতে পারে। এগুলো সম্পর্কে সচেতন না থাকলে মেয়েরা বিপদের মুখোমুখি হয়।
খারাপ স্পর্শের শিকার হলে চুপ করে থাকা উচিত নয়। মাকে, পরিবারের বিশ্বস্ত কাউকে বা শিক্ষকদের বিষয়টি জানানো প্রয়োজন। সমস্যাটি প্রকাশ করলে সমাধানের পথ বের হতে পারে। নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসা জরুরি।
মেয়েরা অনেক সময় লজ্জা, ভয় এবং সমাজের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার ভয়ে সমস্যার কথা প্রকাশ করে না। তারা মনে করে। এসব তাদের দোষ। এই ধারণা ভুল এবং সমস্যাগুলো প্রকাশ করলে সমাধান সহজ হয়।
নিরাপত্তার জন্য খারাপ বন্ধুবান্ধব এড়িয়ে চলা জরুরি। কারণ তারা নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করে। তারা খারাপ কাজের দিকে প্ররোচিত করতে পারে। তাদের থেকে দূরে থাকলে নিজের নিরাপত্তা এবং মানসিক শান্তি বজায় থাকে।
বিপদে পড়লে মনের অস্থিরতা দূর করতে মাকে, বাবাকে বা শিক্ষকদের সাথে কথা বলা উচিত। সমস্যাগুলো শেয়ার করলে সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া সহজ হয়। এতে মানসিক চাপ কমে এবং আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়।
Related Question
View Allবয়ঃসন্ধিক্ষণে দেহ দ্রুত বৃদ্ধি পায়। আর তাই অতিরিক্ত খাদ্যশক্তির প্রয়োজন হয়।
পুষ্টিমানসম্পন্ন পর্যাপ্ত খাদ্যের অভাবে পুষ্টিহীনতা দেখা দিতে পারে। এসময় সহজেই ক্লান্তিবোধ হয়। বয়ঃসন্ধিকালে মেয়েদের রক্তস্বল্পতা হতে পারে। আর এ থেকে সুরক্ষা পেতে গেলে অবশ্যই পুষ্টিমানসম্পন্ন খাবার খেতে হবে। এ সময় শারীরিক ক্লান্তি দূর করার জন্য ঘন ঘন এবং বেশি বেশি খাবার খেতে হবে। রক্তস্বল্পতা দূর করার জন্য লৌহ জাতীয় খাবার খেতে হবে। উক্ত খাবার রক্তস্বল্পতা দূর করতে সাহায্য করে।
বয়ঃসন্ধিকালে মেয়েদের শরীরে নানা পরিবর্তন দেখা দেয়। এ কারণেই নীলার মধ্যে আচরণের ভিন্নতা লক্ষ করা যায়। শারীরিক পরিবর্তন বা ঋতুস্রাব শুরুর প্রথমদিকে তার পেটে ব্যথা, মাথা ধরা পিঠে ব্যথা ইত্যাদি বিভিন্ন অসুবিধা দেখা দেয়। এর ফলে হঠাৎ হাসিখুশি মেয়েটি কেমন যেন চুপচাপ হয়ে যায়। খাবারের প্রতিও তার তেমন আগ্রহ নেই। তার দৈহিক বৈশিষ্ট্য অন্যরা দেখে বিরূপ মন্তব্য করবে এ ভয়ে থাকে। কিন্তু সে লজ্জায় এসব কথা কাউকে বলতে পারছিল না। কেমন একটা দ্বিধা সংকোচ তার মধ্যে কাজ করে। এ সকল পরিবর্তনের ফলে তার মধ্যে এ ধরনের আচরণ লক্ষ করা যায়।
বয়ঃসন্ধিকালে শরীরের নানা পরিবর্তন আসলে নীলাকে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত করে। খাবারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। দুশ্চিন্তার কারণে হাসিখুশি নীলা হঠাৎ চুপচাপ হয়ে যায়। এমতাবস্থায় তার মা বিষয়টি বুঝতে পেরে নীলাকে ডেকে বয়ঃসন্ধিকালের এ পরিবর্তন সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তার মা তাকে বয়ঃসন্ধিকালের সাধারণ সমস্যাগুলো তাকে সহজভাবে বুঝিয়ে দিলে উক্ত পরিবর্তন সম্পর্কে তার মনের ভয় ও দ্বিধা দূর হয়। সে আবার স্বাভাবিক হয়ে যায়। এসময় স্বাভাবিক হওয়ার জন্য তার মায়ের ভূমিকাই সবচেয়ে বেশি ছিল। কারণ মেয়েরা এসব কথা আর অন্য কারও সাথে সহজভাবে আলোচনা করতে পারে না। তাই নীলা মায়ের সাথে এসব বিষয় নিয়ে প্রথমে কথা বলতে সংকোচ,
লজ্জাবোধ করলেও পরে তার মায়ের ব্যবহারে সেসব কথা খুলে বলে। মায়ের সাথে সবকিছু নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করার মাধ্যমে নীলার বয়ঃসন্ধিকালীন সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়। সুতরাং বলা যায়, নীলার মায়ের ভূমিকা নীলাকে স্বাভাবিক আচরণে অভ্যস্ত করবে।.
সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য দরকার নিরাপদ পরিবেশ।
কৈশোরে ত্বকের নিচে বগলের গ্রন্থি থেকে বেশি ঘাম নিঃসরণ হয়। এজন্য নিয়মিত গোসল করা, পরিষ্কার পোশাক পরা উচিত। বয়ঃসন্ধিক্ষণে ছেলেদের বীর্যপাত হলে গোসল করে পরিচ্ছন্ন হতে হয়। মেয়েদের ঋতুস্রাবের সময় পরিষ্কার কাপড়ের ন্যাপকিন বা প্যাড ব্যবহার করা উচিত। এসব পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাকে কৈশোরের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!