ঈশ্বর নিজ সাদৃশ্যে পরম মমতা ও ভালোবাসা দিয়ে মানুষ সৃষ্টি করলেন। মানুষকে ঈশ্বর তাঁর নিজস্ব প্রতিমূর্তিতে অর্থাৎ জ্ঞান, 'বুদ্ধি, ন্যায়বোধ ও আত্মা দিয়েছিলেন। তিনি মানুষকে সর্বশ্রেষ্ঠ জীবরূপে সৃষ্টি করলেন, যেন মানুষ সকল সৃষ্টির যত্ন নিতে পারে।
যোহন ছিলেন ঈশ্বর প্রেরিত একজন মানুষ। তিনি খ্রীষ্টীয় বিশ্বাসে একজন গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ছিলেন ঈশ্বরের বার্তাবাহক, যীশুর আগমনকে প্রস্তুতকারী। তিনি এসেছিলেন যীশুর বিষয়েই সাক্ষ্য দিতে।
যীশু তাঁর কথা, কাজ, প্রার্থনা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে ঈশ্বরের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেছিলেন। ঈশ্বরের প্রতি চরম আনুগত্য দেখিয়ে তিনি মৃত্যু, এমনকি ক্রুশেই মৃত্যু মেনে নিয়েছিলেন।
মানুষকে পাপের দাসত্ব থেকে মুক্ত করতে এবং সহযোগিতা করতে যীশু পৃথিবীতে এসেছিলেন। তিনি সাধারণ মানুষের মতো জীবনযাপন করতেন যেন মানুষের পাশে থেকে সেবা করতে পারেন। একই সাথে মানুষকে পাপ থেকে যেন পরিত্রাণের পথ দেখাতে পারেন সেই কাজ করেছেন। তাই যীশু ঈশ্বর হয়েও ঈশ্বরের সঙ্গে নিজের সমতুল্যতাকে আঁকড়ে থাকতে চাইলেন না।
যীশুর কথা ছিল সত্য, প্রেম, ন্যায় ও করুণায় পূর্ণ। তিনি সবসময় মমতা ও দয়ার সাথে কথা বলতেন। আবার ঈশ্বরের বিষয়ে কথা বলতেন প্রত্যক্ষ ও অন্তরঙ্গভাবে। তিনি কথা বলতেন, একজন অধিকারপ্রাপ্ত ব্যক্তির মতো।
জগতের প্রতি ঈশ্বরের ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে যীশুখ্রীষ্টের মাধ্যমে। এ জগতে তিনি এলেন যেন মানুষ পাপ থেকে পরিত্রাণ লাভকরতে পারে। মানুষ পাপ করলেও ঈশ্বর তাদের ত্যাগ করেননি; বরং-ক্ষমা ও দয়ার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এছাড়া রোগীদের সুস্থ করা, সাগরকে শান্ত করা ইত্যাদি কাজের মাধ্যমে জগতের প্রতি ঈশ্বরের ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে।
আমি প্রতিদিন বাড়ির বিভিন্ন কাজে পিতা-মাতাকে সাহায্য করি। সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজের বিছানা গুছিয়ে রাখি। পড়াশোনার সময় নিজের পড়ার টেবিল গুছিয়ে রাখি এবং ছোটো ভাই-বোনদের পড়াতেও সাহায্য করি। মাকে রান্নার কাজে সাহায্য করি। বাবা অফিসে যাওয়ার সময় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এনে দিই।
যীশুর বারো বছর পূর্ণ হলে পর পর্বের সময়ে পিতা-মাতার সাথে যিরুশালেমে গিয়েছিলেন। তিনি ঈশ্বরের বিষয় নিয়ে গভীরভাবে চিন্তাশীল ছিলেন। তিনি যিরূশালেমে বসে শাস্ত্রগুরুদের কথা শুনছিলেন এবং তাঁদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছিলেন। এতে যীশু খুব আনন্দ পাচ্ছিলেন। তাই তিনি নিস্তারপর্বের পর যিরুশালেমে থেকে গেলেন।
নিস্তারপর্ব হলো খ্রীষ্টান ধর্মাবলম্বীদের একটি ধর্মীয় উৎসব। এটি মূলত যীশুখ্রীষ্টের মৃত্যুর পর তাঁর পুনরুত্থান এবং মানুষের পাপ থেকে মুক্তি দেওয়ার কর্মের প্রতি স্মরণ। নিস্তারপর্ব পালনের মাধ্যমে খ্রীষ্টানেরা তাদের বিশ্বাসকে দৃঢ় করে এবং ঈশ্বরের অনন্ত করুণার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে।
যীশুর শিষ্যরা যখন তাঁর সাথে নৌকায় ছিলেন তখন তারা ভয় পেয়েছিলেন। কেননা হঠাৎ প্রচন্ড ঘূর্ণিঝড় ওঠেছিল এবং ঢেউ নৌকার উপর আছড়ে পড়েছিল। শিষ্যরা ভেবেছিলেন যে, তারা ডুবে যাবেন।
যীশুর শিষ্যরা নৌকায় থাকাকালীন প্রচণ্ড ঘূর্ণিঝড় এবং ঢেউ দেখে ডুবে যাওয়ার অশিঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। তখন যীশু তাদের দেখে ভেবেছেন ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস দৃঢ় হয়নি। তাই যীশু শিষ্যদের তিরস্কার করে দেখিয়েছিলেন ভয়কে অতিক্রম করতে ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস অপরিহার্য।
যখন যীশু জলের উপর দিয়ে হাঁটছিলেন, পিতরও তাঁর আহ্বানে জলের উপর দিয়ে হেঁটে যীশুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তিনি বাতাসের জোর দেখে মাঝপথে ভয় পেয়ে যান এবং জলে ডুবতে থাকেন। তখন তিনি চিৎকার করে উঠলেন।
যখন পিতর জলে ডুবে যাচ্ছিলেন ও চিৎকার দিয়ে বললেন, 'প্রভু আমাকে বাঁচান,' তখন যীশু তাকে হাত বাড়িয়ে ধরে ফেললেন। তারপর বললেন 'এত অল্প তোমার বিশ্বাস! কেনই বা সন্দেহ করলে তুমি?' এভাবে যীশু তাঁর উপস্থিত সাহস ও বিশ্বাসের বাণী দিয়ে পিতরের ভয় দূর করলেন।
পিতর পানির মধ্যে ডুবে যাচ্ছিলেন। কারণ তিনি ভয় পেয়েছিলেন এবং যীশুর দিকে 'মনোযোগ হারিয়ে ছিল। তিনি যখন জলের উপর হেঁটে গিয়েছিলেন, তখন বাতাস ও ঢেউ দেখে তিনি ভীত হলেন। তার ভয় ও সন্দেহের কারণে তিনি ডুবতে শুরু করেছিলেন। তখন যীশু তাকে রক্ষা করেন।
যীশু ঈশ্বর হিসেবে থাকাটা ছেড়ে দেননি; বরং ইচ্ছা নিয়ে নিজেকে বিনম্র করেছিলেন। তিনি ঈশ্বরের রূপে থাকলেও ঐশরিক সুবিধা ধরে রাখেননি। পরিবর্তে, তিনি একজন দাসের রূপ নেন এবং মৃত্যুর জন্যও অনুগত থাকেন। যীশুর লক্ষ্য মানুষকে উদ্ধার করা।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
Related Question
View Allযীশুখ্রীষ্ট ঈশ্বর -ছিলেন।
জীবন মানুষের আলো ছিল।
জগৎ তার দ্বারা অস্তিত্ব পেয়েছিল।
সবাইকে তিনি ঈশ্বর সন্তান হওয়ার অধিকার l
যীশু পিতা-মাতাকে সাহায্য করতেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!