হিন্দুধর্মশাস্ত্রে 'যোগ' মানে মিলন ।
আত্মাকে পরমাত্মার সঙ্গে যুক্ত করা হয় সংযমপূর্বক সাধনার মাধ্যমে ।
আত্মাকে পরমাত্মার সাথে যুক্ত করে সমাধি লাভকে যোগ বলা হয় ।
যোগের মাধ্যমে ঈশ্বর আরাধনার প্রক্রিয়াকে যোগসাধনা বলে ।
পুরাকালে মুনিঋষিগণের শরীর সুস্থ রাখার মাধ্যম ছিল যোগসাধনা ।
যোগের আটটি ধাপ নির্দেশ করেছেন মহর্ষি পতঞ্জলি ।
আধ্যাত্মিক কামধেনু যোগ ।
'যোগই হলো আধ্যাত্মিক কামধেনু'- বলেছেন ডক্টর সম্পূর্ণানন্দ ।
পরমাত্মার সঙ্গে সংযোগের প্রথম সোপান হটযোগ ।
জীবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার সংযোগকে বলে যোগসাধনা ।
ব্রহ্মের সাথে সংযোগের প্রচেষ্টাকে বলে যোগসাধনা ।
মুক্তিলাভের জন্য প্রথমে আত্মোপলব্ধি প্রয়োজন ।
এক হয়েও বহু ব্রহ্ম ।
যোগসাধনা মুক্তির বিশেষ উপায় ।
পাচনতন্ত্র সম্পূর্ণরূপে সুস্থ হয়ে ওঠে যোগ দ্বারা ।
যৌগিক ক্রিয়া দ্বারা মেদের পাচন হয় ।
অষ্টাঙ্গ যোগের প্রবর্তক মহর্ষি পতঞ্জলি।
শ্বাস গ্রহণ ও শ্বাস ত্যাগ প্রক্রিয়া প্রাণায়াম যোগের অন্তর্গত ।
যোগদর্শনে পদ্মাসন সাধন প্রক্রিয়ায় আসন প্রক্রিয়ার অন্তর্গত ।
অষ্টাঙ্গযোগের প্রথম ধাপ যম ।
ঈশ্বরের প্রতি সম্পূর্ণ চিত্ত সমর্পণ করাকে সমাধি বলে ।
অপরের জিনিস না বলে নেওয়াকে বলে স্তেয় ।
অষ্টাঙ্গ যোগের দ্বিতীয় ধাপের পাঁচটি নিয়মের উল্লেখ করেছেন মহর্ষি পতঞ্জলি মুণি ।
স্থির হয়ে সুখে অধিষ্ঠিত থাকাকে আসন বলে ।
'অস্তেয়' শব্দটির দ্বারা চুরি না করা বোঝায় ।
মনকে কোনো বিশেষ বিষয়ে আবদ্ধ রাখার নাম ধারণা ।
শ্বাস গ্রহণকে পূরক বলে ।
মহর্ষি পতঞ্জলি মানুষের আত্মানুসন্ধানে যোগের আটটি ধাপ নির্দেশ করেছেন ।
যম পাঁচ প্রকার ।
অষ্টাঙ্গযোগের দ্বিতীয় আধার নিয়ম ।
নিয়ম পাঁচ প্রকার ।
শৌচ দুই প্রকার ।
আয়াম শব্দের অর্থ বিস্তার ।
শ্বাস-প্রশ্বাসের বিজ্ঞান বলা হয় প্রাণায়ামকে ।
ধ্যানের স্বর্ণ শিখরে ওঠে সাধক সমাধি লাভ করে ।
অষ্টাঙ্গ যোগের প্রভাবে মন শান্ত হয় ।
অষ্টাঙ্গযোগ পালন না করে যোগী হওয়া যায় না ।
মানুষের মন শান্ত হয় অষ্টাঙ্গযোগ অনুসরণে ।
অষ্টাঙ্গযোগের আধার যম ও নিয়ম ।
বৃক্ষাসন আসনে যাঁদের হাত-পা কাঁপে, পা দুর্বল -তাদের খুব উপকার হয় ।
পায়ের পেশির দৃঢ়তা ও স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি পায় বৃক্ষাসনে ।
কোমর ও মেরুদন্ডের শক্তি বৃদ্ধি পায় বৃক্ষাসনে ।
বৃক্ষাসনে দাঁড়ানোর জন্য দুই পা জোড়া করে সোজা হয়ে পা রাখতে হবে ।
বৃক্ষাসনের সময় ডান পা হাঁটুতে ভেঙে গোড়ালি বা উরুমূলে রাখতে হবে ।
বৃক্ষাসনে বসার সময় পায়ের আঙুলগুলো নিচের দিকে থাকবে ।
বৃক্ষাসনের সময় শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে নিশ্চল থাকতে হয় ১০ সেকেন্ড ।
শবাসন করতে হয় তিনবার ।
হজম শক্তি বাড়ে অর্ধকূর্মাসনকে ।
অর্ধকূর্মাসন করলে মস্তিষ্কের শান্ত হয় ।
অর্ধকূর্মাসনে বসতে হয় হাঁটু গেড়ে ।
অর্ধকূর্মাসনে বসলে মেরুদণ্ড সোজা থাকবে ।
অর্ধকূর্মাসন করলে পেটের ও নিতম্বের চর্বি কমে ।
'গরুড়' শব্দটি ঈগল পাখি অর্থে প্রয়োগ করা হয় ।
গরুড়াসনে ডান পা দিয়ে বাম পা দিয়ে পেঁচিয়ে রাখতে হবে ।
গরুড়াসনে ৩০ সেকেন্ড থাকতে হবে ।
হল শব্দের অর্থ লাঙ্গল ।
হলাসন অবস্থায় ৩০ সেকেন্ড থাকতে হয় ।
হলাসন অনুশীলনে নিতম্বের মেদ কমে ।
কাঁধ ভালো থাকে হলাসনে .
দেহভঙ্গি হলের মতো দেখায় হলাসনে ।
হলাসনে পা সোজা করে রাখতে হবে ।
হলাসন অনুশীলন করতে হয় তিনবার ।
'যোগ' শব্দটি সাধারণত মিলনকেই নির্দেশ করে। একের সঙ্গে অপরের মিলন বা একত্রিত হওয়া বা তাদের একত্রিত করাকে যোগ বলা হয়। কিন্তু সাধন ক্ষেত্রে এর অর্থ আরো গভীরে নিহিত। জীবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার সংযোগই হলো যোগসাধনা। যোগসাধনা মুক্তিলাভের একটি বিশেষ উপায়।
'যোগ' শব্দটি সাধারণত মিলনকেই নির্দেশ করে। একের সঙ্গে অপরের মিলন বা একত্রিত হওয়া বা তাদের একত্রিত করাকে যোগ বলা হয়। কিন্তু সাধন ক্ষেত্রে এর অর্থ আরো গভীরে নিহিত। জীবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার সংযোগই হলো যোগসাধনা। যোগসাধনা মুক্তিলাভের একটি বিশেষ উপায়।
যোগের মাধ্যমে ব্রহ্ম বা ঈশ্বরের আরাধনার প্রক্রিয়াকে বলা হয় যোগসাধনা। মুক্তি লাভের জন্য প্রয়োজন আত্মোপলব্ধির। আর এই আত্মোপলব্ধির জন্য প্রয়োজন শুদ্ধ, স্থির ও প্রশান্ত মন। এজন্য শরীর ও মনকে উপযুক্ত করতে হয়। বিশেষভাবে একে হটযোগ বলে। যা পরমাত্মার সঙ্গে সংযোগের বা মুক্তি লাভের প্রথম সোপান।
দেহকে সুস্থ ও মনকে শান্ত রাখতে এবং ধর্মসাধনার ক্ষেত্রে যোগের গুরুত্ব অপরিসীম। যোগ দ্বারা পাচনতন্ত্র সম্পূর্ণরূপে সুস্থ হয়ে ওঠে, যার ফলে শরীর সুস্থ, হালকা এবং স্ফূর্তিদায়ক হয়ে ওঠে। যোগ দ্বারা ইন্দ্রিয় এবং মনের নিগ্রহ হয়। পুরাকালে মুণিঋষিগণ যোগসাধনার বলেই শরীরকে সুস্থ সবল রাখতেন। যোগ সাধনার মাধ্যমে নিরোগ থাকা যায় এবং দুশ্চিন্তাহীন মনের অধিকারী হওয়া যায়। তাই যোগসাধনার যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে।
মহর্ষি পত্রঞ্জলি মানুষের আত্মানুসন্ধানের জন্য যোগের আটটি ধাপ নির্দেশ করেছেন। তিনি বলেছেন, যম, নিয়ম, আসন, প্রাণায়াম, প্রত্যাহার, ধারণা, ধ্যান ও সমাধি এ আটটি যোগের অঙ্গ। এগুলোকে একত্রে অষ্টাঙ্গ যোগ বলা হয়। যার মাধ্যমে নিজেদের জীবন সুখ-শান্তি ও আনন্দে কাটাতে পারবে এবং দেহাবসানে মোক্ষ লাভ সম্ভব হবে।
অষ্টাঙ্গ যোগের প্রথম ধাপ হচ্ছে যম। যম অর্থ সংযম, ইন্দ্রিয় ও মনকে অহিংসা, অশুভভাব ইত্যাদি থেকে সরিয়ে আত্মকেন্দ্রিক করা। মুক্তিলাভের জন্য সাধক দৈনন্দিন জীবনে আচার-আচরণে সংযমী হবেন। অহিংসা, সত্য, অন্তেয়, ব্রহ্মচর্য এবং অপরিগ্রহ- এই পাঁচ প্রকার যমের ধারণা দেওয়া হয়েছে।
অষ্টাঙ্গ যোগের প্রথম ধাপ হচ্ছে যম। যম অর্থ সংযম, ইন্দ্রিয় ও মনকে অহিংসা, অশুভভাব ইত্যাদি থেকে সরিয়ে আত্মকেন্দ্রিক করা। মুক্তিলাভের জন্য সাধক দৈনন্দিন জীবনে আচার-আচরণে সংযমী হবেন। অহিংসা, সত্য, অন্তেয়, ব্রহ্মচর্য এবং অপরিগ্রহ- এই পাঁচ প্রকার যমের ধারণা দেওয়া হয়েছে।
অহিংসা শব্দটির অর্থ হচ্ছে কোনো প্রাণীকে মন, কথা এবং কর্ম দ্বারা কষ্ট না দেওয়া। মনে মনেও কারও অনিষ্ট না ভাবা, কাউকে কটু কথা ইত্যাদি দ্বারা কষ্ট না দেয়া এবং কর্ম দ্বারা কোনো অবস্থাতে কারও প্রতি হিংসা ভাব প্রদর্শন না করা। এককথায়, নিখিল বিশ্বের প্রতিটি বস্তুর প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করাই অহিংসা।
অপরিগ্রহ মানে 'গ্রহণ না করা'। অপ্রয়োজনীয় বস্তু গ্রহণ না করা যেমন, তেমনি প্রয়োজনের অতিরিক্ত বস্তুও গ্রহণ করা যাবে না। জীবনে বেঁচে থাকার জন্য ন্যূনতম ধন, বস্তু ইত্যাদি পদার্থ গ্রহণ করে এবং গৃহে সন্তুষ্ট থেকে জীবনের মুখ্য লক্ষ্য ঈশ্বর আরাধনাই হচ্ছে অপরিগ্রহ।
প্রণিধান অর্থ অর্পণ। সমস্ত কর্ম ও ইচ্ছা ঈশ্বরে অর্পণ করার নাম ঈশ্বর প্রণিধান। ঈশ্বরে সবকিছু অর্পণ করলে অহংকার আসে না, ঈশ্বরে বিশ্বাসের ফলে জীবনে হতাশা আসে না। জীবন তেজে ভরে ওঠে। যোগীরা তার সমস্ত কর্ম ঈশ্বরে অর্পণ করেন। যার ফলে তাঁদের সমস্ত কর্মে ভেতরকার দেবত্ব ফুটে ওঠে।
প্রাণায়াম অর্থ হলো প্রাণের আয়াম। অর্থাৎ শ্বাস-প্রশ্বাসের বিস্তার। প্রাণ হলো শ্বাসরূপে গৃহীত বায়ু আর আয়াম হলো বিস্তার। মানুষের আয়ু দিনগণনায় স্থির হয় না। স্থির হয় শ্বাস গণনায়। যত বেশি শ্বাস গ্রহণ করবেন তত আয়ু ক্ষয় হবে। এজন্য ধীরে ধীরে - গভীর ও ছন্দোবদ্ধভাবে শ্বাস গ্রহণ করতে হয়। যা আমরা প্রাণায়ামের 1. জ্ঞান থেকে জানতে পারি।
প্রাণায়াম অর্থ হলো প্রাণের আয়াম। অর্থাৎ শ্বাস-প্রশ্বাসের বিস্তার। প্রাণ হলো শ্বাসরূপে গৃহীত বায়ু আর আয়াম হলো বিস্তার। মানুষের আয়ু দিনগণনায় স্থির হয় না। স্থির হয় শ্বাস গণনায়। যত। বেশি শ্বাস গ্রহণ করবেন তত আয়ু ক্ষয় হবে। এজন্য ধীরে ধীরে গভীর ও ছন্দোবদ্ধভাবে শ্বাস গ্রহণ করতে হয়। যা আমরা প্রাণায়ামের জ্ঞান থেকে জানতে পারি।
সন্তোষ অর্থ সম্যক তৃপ্তি। মনে সন্তোষ না থাকলে কোনো কিছুর প্রতি মনোনিবেশ করা যায় না। এই সন্তোষ হঠাৎ আসে না, একটু একটু করে তাকে মনের মধ্যে জাগাতে হয়। যারা যোগী তাদের অভাববোধ থাকে না। তাই তার মনে কোনো অসন্তোষও থাকে না। মনে সন্তোষ থাকলে স্বর্গসুখ অনুভূত হয়।
ব্রহ্মচর্য শব্দের আভিধানিক অর্থ বেদাদি শাস্ত্রানুশীলন এবং পবিত্র সংযত জীবনযাপন। জীবনে ব্রহ্মচর্য প্রতিষ্ঠা করলে দেহে শক্তি পাওয়া যায়, মনে সাহস পাওয়া যায়, বুদ্ধি বিকশিত হয়। ব্রহ্মচর্যে যোগীর জীবনে জ্ঞানের আলো জ্বলে ওঠে; তখন ঈশ্বর দর্শন সহজ হয়।
'শৌচ' অর্থ হলো শুচিতা। শুদ্ধতা ও পবিত্রাকেও শৌচ বলা হয়। এই শৌচ দুই প্রকারের হয় এক বাহ্য এবং দ্বিতীয় অভ্যন্তরীণ। সাধকের প্রতিদিন জল দ্বারা শরীরের শুদ্ধি। সত্যাচরণ দ্বারা মনের শুদ্ধি বিদ্যা আর তপ দ্বারা আত্মার শুদ্ধি এবং জ্ঞান দ্বারা বুদ্ধির শুদ্ধি করা উচিত।
প্রাণায়াম তিন প্রকার। যথা- রেচক, পূরক ও কুম্ভক। শ্বাস ত্যাগ করে সেটি বাইরে স্থির রাখার নাম রেচক। শ্বাস গ্রহণকে বলা হয় পূরক এবং নিয়মিত গতিরোধ করে শ্বাস ভেতরে ধরে রাখার নাম হলো কুন্ডক। প্রাণায়াম যোগের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। সাধারণত অভিজ্ঞ গুরুর নিকট প্রাণায়াম শিক্ষা গ্রহণ করতে হয়।
দেহমনকে সুস্থ ও স্থির রাখার উদ্দেশ্যে যে বিভিন্ন দেহভঙ্গি বা দেহাবস্থান তাকে আসন বলে। আসনে শরীরে দৃঢ়তা আসে, শরীর নীরোগ ও লঘুভার হয়। আসনে শরীর ও মনের সমন্বয় ঘটে। যোগী আসনে দেহকে জয় করে তাকে আত্মার বাহন হিসেবে গড়ে তোলে। যোগসাধনায় আসন অনুশীলন একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।
প্রত্যাহার অর্থ ফিরিয়ে নেওয়া। বাহ্যিক বিষয়বস্তু থেকে ইন্দ্রিয়সমূহকে ভেতরের দিকে ফিরিয়ে নেওয়াকে যোগে প্রত্যাহার বলে। দৃঢ় সংকল্প ও অভ্যাসের দ্বারা ইন্দ্রিয়গুলোকে অন্তর্মুখী করা যায়। ইন্দ্রিয়গুলো অন্তর্মুখী হলে চিত্তে বিষয় আসক্তি নষ্ট হয়। এমতাবস্থায় চিত্ত আরাধ্য বস্তুতে নিবিষ্ট হতে পারে।
মনকে বিশেষ কোনো বিষয়ে স্থির করা বা আবদ্ধ রাখার নাম ধারণা। ধারণা অর্থ একাগ্রতা। একাগ্রতা ছাড়া জগতে কোনো কিছুই আয়ত্ত করা যায় না। ঈশ্বরলাভ করতে গেলেও ঈশ্বরে একাগ্রচিত্ত হতে হয়। আর একাগ্রচিত্ত হতে হলে এক-তত্ত্ব অভ্যাস করতে হয়। আর দীর্ঘ অভ্যাসের ফলে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌছানো সম্ভব হয়। ধারণা হচ্ছে ধ্যানের ভিত্তিস্বরূপ।
যোগ সাধনা সর্বোচ্চ স্তর হলো সমাধি। সমাধি অর্থ সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরে চিত্ত সমর্পণ। সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরে চিত্ত সমর্পণ করতে পারলে পরমাত্মায় জীবাত্মার নিবেশ ঘটে, সাধকের অন্বেষণের শেষ হয়। তখন তিনি মনশূন্য, বুদ্ধিশূন্য, অহংশূন্য নিরাময় অবস্থা প্রাপ্ত হন এবং পরমাত্মার সঙ্গে মিলন ঘটে। সাধক প্রকৃত যোগ লাভ করেন।
ধ্যান অর্থ নিববচ্ছিন্ন গভীর চিন্তা। ধ্যানে যোগীর দেহ শ্বাস-প্রশ্বাস, ইন্দ্রিয়, মন, বিচার শক্তি অহংকার সবকিছু ঈশ্বরে লীন হয়ে যায় এবং তিনি এমন এক সচেতন অতিন্দ্রীয় অবস্থায় চলে যান যা ব্যাখ্যা করা যায় না। তখন পরম আনন্দ ছাড়া তাঁর অন্য অনুভূতি হয় না। তিনি তাঁর অন্তরের আপন আলোও দেখতে পান ধ্যানের মাধ্যমে।
অষ্টাঙ্গযোগ অনুশীলন না করে কোনো ব্যক্তিই যোগী হতে পারে না। যম আর নিয়মে সাধকের ভাব-আবেগ নিয়ন্ত্রিত হয়। আসনে দেহ ও মন সুস্থ, সবল ও সতেজ হয়। প্রাণায়াম ও প্রত্যাহার সাধকের শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করে মানকে বশে আনে। ধারণা, ধ্যান ও সমাধি সাধককে তাঁর আত্মার অন্তরতম প্রদেশে নিয়ে যায়। অবশেষে সাধক মোক্ষলাভ করেন।
অষ্টাঙ্গযোগ ধর্ম, অধ্যাত্ম, মানবতা, বিজ্ঞানের প্রতি ক্ষেত্রেই নিজেকে প্রয়োজনীয়রূপে প্রমাণ করেছে। পৃথিবী থেকে খুন, সংঘর্ষ যদি কোনো উপায়ে বন্ধ করতে হয়, তাহলে সেটা অষ্টাঙ্গযোগের মাধ্যমেই সম্ভব। যদি কোনো ব্যক্তি নিজের অস্তিত্বের খোঁজ করে এবং জীবনের পূর্ণ সত্যের সঙ্গে পরিচিত হতে চায় তবে তার অষ্টাঙ্গযোগ পালন অবশ্যই উচিত। তাই বর্তমানেও অষ্টাঙ্গযোগের গুরুত্ব অপরিসীম।
এই আসনে অনুশীলনকারীর দেহ বৃক্ষের ন্যায় হয় বলে একে বৃক্ষাসন বলে। বৃক্ষাসন অনুশীলনের ৪টি প্রভাব হলো-
১. শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতা বাড়ে।
২. কোমরের ও মেরুদন্ডের শক্তি বৃদ্ধি পায়।
৩. যাদের হাত-পা কাঁপে, পা দুর্বল, তাদের খুব উপকার হয়।
৪. হাত ও পায়ের গঠন সুষ্ঠু ও সুন্দর হয়।
অর্ধকূর্মাসন নিয়মিত অনুশীলন করলে-
১. শরীর শিথিল ও মেরুদণ্ড সতেজ হয়।
২. মস্তিষ্ক শান্ত হয়।
৩. যকৃৎ ভালো থাকে ও হজমশক্তি বাড়ে।
৪. হাঁপানি আর ডায়াবেটিসে উপকার হয়।
৫. ভাবাবেগ, ভয়ভীতি আর ক্রোধ আলগা হয়।
এই আসনে দেহভঙ্গি গরুড়-এর মতো হয় বলে একে গরুড়াসন বলে। এ আসনে দুই পা সোজা করে দাঁড়িয়ে ডান হাত কনুইয়ের কাছে ভেঙে বাঁ কনুইয়ের নিচ দিয়ে নিয়ে ডান হাতের তালু বাঁ হাতের তালুতে নমস্কারের ভঙ্গিতে রাখতে হয়। এ অবস্থানে ৩০ সেকেন্ড থাকতে হয়। হাত-পা বদল করে আসনটি ৪ বার অভ্যেস করতে হয়।
গরুড়াসন নিয়মিত অনুশীলনের ফলে-
১. পায়ের ও হাতের গঠন সুন্দর হয়।
২. বাঁকা মেরুদন্ড সোজা হয়।
৩. ব্রহ্মচর্য রক্ষা করা সহজ হয়।
৪. দেহ লম্বা হয় ও দেহের ভারসাম্য ঠিক থাকে।
হল শব্দের অর্থ লাঙ্গল। এই আসনে দেহভঙ্গি অনেকটা হলের অর্থাৎ লাঙ্গলের মতো দেখায় বলে একে হলাসন বলে। নিয়মিত হলাসন অনুশীলন করলে বিভিন্ন রোগের থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তবে যাদের আমাশয়, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ আছে এবং যাদের প্লীহা, যকৃৎ অস্বাভাবিক বড় তাদের আসনটি করা উচিত নয়।
নিয়মিত হলাসন অনুশীলন করলে বিভিন্ন উপকার পাওয়া যায়। যেমন- মেরুদণ্ড সুস্থ ও নমনীয় হয়। থাইরয়েড, প্যারা থাইরয়েড, টনসিল প্রভৃতি গ্রন্থি সবল ও সক্রিয় হয়। পিঠে ব্যথা থাকলে দূর হয়। কোষ্ঠবদ্ধতা, অজীর্ণ, পেট ফাঁপা প্রভৃতি রোগ দূর হয়। ডায়াবেটিস, বাত, সায়টিকা হতে পারে না ইত্যাদিসহ নানা সুফল পাওয়া যায়।
হিন্দুধর্ম শাস্ত্রে 'যোগ' মানে মিলন।
যোগের মাধ্যমে ব্রহ্ম বা ঈশ্বরের আরাধনার প্রক্রিয়াকে যোগ সাধনা বলে।
যোগসূত্রের প্রণেতা হচ্ছেন মহর্ষি পতঞ্জলি।
যোগাসন অভ্যাস করার জন্য যেভাবে রাখলে শরীর স্থির থাকে অথচ কোনো কষ্টের কারণ ঘটে না তাকে যোগাসন বলে।
যোগই হলো আধ্যাত্মিক কামধেনু- উক্তিটি ডক্টর সম্পূর্ণানন্দের।
'যোগই হলো এক অর্থে সমাধি'- বলেছেন ব্যাসদেব।
যোগের মাধ্যমে ঈশ্বর আরাধনার প্রক্রিয়াকে যোগসাধনা বলে।
হিন্দুধর্মশাস্ত্রে 'যোগ' মানে মিলন। সংযমপূর্বক সাধনার মাধ্যমে আত্মাকে পরমাত্মার সঙ্গে যুক্ত করে সমাধির লাভকে যোগ বলা হয়।
ব্যাসদেবের মতে 'যোগ হচ্ছে সমাধি'।
আত্মোপলব্ধির জন্য প্রয়োজন শুদ্ধ, স্থির ও প্রশান্ত মন ।
মহর্ষি পতঞ্জলি' মানুষের আত্মানুসন্ধানে যোগের আটটি ধাপ নির্দেশ করেছেন।
শ্বাস গ্রহণকে বলা হয় পূরক ।
অপরের জিনিস না বলে অধিকার করাকে স্তেয় বা চুরি বলে।
তপ হচ্ছে কোনো সংকল্পসিদ্ধির উদ্দেশ্যে কঠোর সাধনা।
কোনো প্রাণীকে মন, কথা এবং কর্ম দ্বারা কষ্ট না দেওয়াকে অহিংসা বলে।
দেহ এবং মনকে সুদ্ধ ও স্থির রাখার উদ্দেশ্যে যে বিভিন্ন দেহভঙ্গি বা দেহাবস্থান তাকে বলে আসন।
মহর্ষি পতঞ্জলি মানুষের আত্মানুসন্ধানে যোগের আটটি ধাপ নির্দেশ করেছেন। এগুলোকে একত্রে অষ্টাঙ্গ যোগ বলে।
আসন অর্থ স্থির হয় সুখে অধিষ্ঠিত থাকা।
'যম' অর্থ হচ্ছে সংযম। অর্থাৎ ইন্দ্রিয় এবং মনকে হিংসা, অশুভভাব ইত্যাদি থেকে সরিয়ে আত্মকেন্দ্রিক করা।
ঈশ্বর প্রণিধান হচ্ছে সমস্ত কর্ম ও ইচ্ছা ঈশ্বরে অপর্ণ করা।
প্রত্যাহার অর্থ হচ্ছে ফিরিয়ে নেওয়া।
শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিক গতিকে নিয়ন্ত্রণ এবং নিজ আয়ত্তে আনাকে প্রাণায়াম বলে।
ধ্যান শব্দের অর্থ হলো নিরবচ্ছিন্ন গভীর চিন্তা।
হঠযোগ হচ্ছে পরমাত্মার সাথে সংযোগের প্রথম সোপান।
ব্রহ্মচর্য শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে বেদাদি শাস্ত্রানুশীলন এবং পবিত্র সংযম জীবনযাপন।
অষ্টাঙ্গ যোগের প্রথম ধাপ হচ্ছে যম।
অস্তেয় অর্থ চুরি না করা।
অপরিগ্রহ অর্থ গ্রহণ না করা।
জীবনে বেঁচে থাকার জন্য ন্যূনতম ধন, বস্ত্র ইত্যাদি পদার্থ এবং গৃহে সন্তুষ্ট থেকে জীবনের মুখ্য লক্ষ্য ঈশ্বর আরাধনা করাকে অপরিগ্রহ বলে।
শুদ্ধি বা পবিত্রতাকে শৌচ বলে।
সন্তোষ অর্থ সম্যক তৃপ্তি।
'ঘ' অর্থ স্বয়ং আর অধ্যায় অর্থ অধ্যয়ন। সুতরাং স্বাধ্যায় অর্থ নিজেকে জানা।
প্রণিধান অর্থ অর্পণ।
ঈশ্বরে সব অর্পণ করলে অহংকার নাশ হয়।
প্রাণায়াম অর্থ প্রাণের আয়াম।
শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিক গতিকে নিয়ন্ত্রণ এবং নিজ আয়ত্তে আনাকে প্রাণায়াম বলে।
বাহ্যিক বিষয়বস্তু থেকে ইন্দ্রিয়সমূহকে ভিতরের দিকে ফিরিয়ে নেওয়াকে প্রত্যাহার বলে।
ধারণা অর্থ একাগ্রতা ।
মনকে বিশেষ কোনো বিষয়ে স্থির করা বা আবদ্ধ রাখাকে ধারণা বলে।
সমাধি অর্থ সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরে চিত্তসমর্পণ ।
অষ্টাঙ্গযোগের অনুসরণ ও অনুশীলনে মানুষের অশান্ত মন শান্ত হয় ও তার আত্মশক্তি বৃদ্ধি পায়।
কোনো ব্যক্তিকে যোগী হতে হলে অষ্টাঙ্গযোগ পালন করতে হবে।
যে আসনে আসনকারীর দেহ বৃক্ষের ন্যায় হয়, তাকে বৃক্ষাসন বলে।
বৃক্ষাসন অনুশীলন করলে দেহকে বৃক্ষের ন্যায় দেখায়।
বৃক্ষাসন অনুশীলনের ফলে শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতা বাড়ে।
যে আসনে আসনকারীর দেহ দেখতে অনেকটা কচ্ছপের পিঠের ন্যয় হয়, তাকে অর্ধকূর্মাসন বলে।
কৃর্ম অর্থ কচ্ছপ।
অর্ধকূর্মাসনটি দেখতে অনেকটা কচ্ছপের পিঠের মতো।
অর্ধকূর্মাসন অনুশীলনের ফলে শরীর অনেক শিথিল হয়।
'গরুড়' অর্থ হলো ঈগল পাখি।
যে আসনে দেহভঙ্গি গরুড়-এর মতো হয়, তাকে গরুড়াসন বলে।
গরুড়াসনে দেহভঙ্গি দেখতে গরুড় এর মতো হয়।
'হল' শব্দের অর্থ লাঙল।
যে আসনে দেহভঙ্গি অনেকটা হল বা লাঙলের মতো দেখায় তাকে হলাসন বলে।
হলাসন অনুশীলনের সময় দেহভঙ্গি লাঙ্গলের মতো হয়।
যোগ সাধনায় আসন অনুশীলন গুরুত্বপূর্ণ। কেননা দেহকে সুস্থ ও মনকে শান্ত রাখতে এবং ধর্ম সাধনার ক্ষেত্রে যোগের গুরুত্ব অপরিসীম। যোগের মাধ্যমে পাচনতন্ত্র সম্পূর্ণরূপে সুস্থ হয়ে ওঠে, যার ফলে শরীর সুস্থ, হালকা এবং স্ফূর্তিদায়ক হয়ে ওঠে। যোগ সাধনার দ্বারা হৃদ্রোগ, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট, এলার্জি ইত্যাদির হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। যৌগিক ক্রিয়ার দ্বারা মেদের পচন হয়ে শরীরের ওজন কমে এবং সুস্থ ও সুন্দর হয়।
ধর্ম সাধনার ক্ষেত্রে যোগের গুরুত্ব অপরিসীম। ড. সম্পূর্ণানন্দ বলেছেন, 'যোগই হলো আধ্যাত্মিক কামধেনু'। যোগ সাধনার মাধ্যমে যা চাওয়া যায় তাই পাওয়া যায়। একমাত্র যোগ সাধনাই পারে সকল আসক্তি ত্যাগ করে মোক্ষলাভে পরিপূর্ণরূপে পরমব্রহ্মে বিলীন হতে।
'যোগ' শব্দটি সাধারণভাবে মিলনের অর্থই ব্যক্ত করে। একের সঙ্গে অপরের মিলন বা একত্রিত হওয়া বা তাদের একত্রিত করাকে যোগ বলা হয়। কিন্তু সাধনক্ষেত্রে এর অর্থ আরও গভীরে নিহিত। জীবাত্মার সাথে পরমাত্মার সংযোগই যোগসাধনা।
অহিংসা শব্দটির অর্থ হচ্ছে কোনো প্রাণীকে মন, কথা এবং কর্ম দ্বারা কষ্ট না দেওয়া। মনে মনে কারও অনিষ্ট না ভাবা, কাউকে কটু কথা ইত্যাদি দ্বারা কষ্ট না দেওয়া এবং কর্ম দ্বারা কোনো অবস্থাতেই কোনো স্থানে কোনো দিন কোনো প্রাণীর প্রতি হিংসা ভাব প্রদর্শন না করা। এককথায় হলো ভালোবাসা। শুধু জীবের প্রতি ভালোবাসা নয়, এ বিশ্বের প্রতিটি বস্তুর প্রতি ভালোবাসাই হচ্ছে অহিংসা। আমাদের সকলের এই গুণটির অনুশীলন করা উচিত।
অপরিগ্রহ মানে গ্রহণ না করা। অপ্রয়োজনীয় বস্তু গ্রহণ না করা যেমন, তেমনি প্রয়োজনের অতিরিক্ত বস্তুও গ্রহণ না করা। জীবনে বেঁচে থাকার জন্য ন্যূনতম ধন, বস্ত্র ইত্যাদি পদার্থ গ্রহণ করে এবং গৃহে সন্তুষ্ট থেকে জীবনের মুখ্য লক্ষ্য ঈশ্বর আরাধনা করাই হচ্ছে অপরিগ্রহ।
প্রত্যাহার অর্থ ফিরিয়ে নেওয়া। বাহ্যিক বিষয়বস্তু থেকে হন্দ্রিয়সমূহকে ভিতরের দিকে ফিরিয়ে নেওয়াকে যোগে প্রত্যাহার বলে। দৃঢ় সংকল্প ও অভ্যাসের দ্বারা ইন্দ্রিয়গুলোকে অন্তর্মুখী করা যায়। ইন্দ্রিয়গুলো অন্তর্মুখী হলে চিত্তে বিষয় আসক্তি নষ্ট হয়। এমতাবস্তায় চিত্ত আরাধ্য বস্তুতে নিবিষ্ট হতে পারে।
শ্বাস-প্রশ্বাস সম্পর্কিত বিজ্ঞান হচ্ছে প্রাণায়াম। প্রাণায়াম অর্থ প্রাণের আয়াম। প্রাণ হলো শ্বাসরূপে গৃহীত বায়ু আর আয়াম হলো বিস্তার। সুতরাং প্রাণায়াম বলতে বোঝায় শ্বাস-প্রশ্বাসের বিস্তার। এককথায়, শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিক গতিকে নিয়ন্ত্রণ করে নিজের আয়ত্তে আনাই প্রাণায়াম। প্রাণায়ামের মাধ্যমে শ্বাস-প্রশ্বাস দীর্ঘতর হয়, শ্বসনতন্ত্র বলিষ্ঠ হয় এবং স্নায়ুতন্ত্র শান্ত থাকে। তাই প্রাণায়ামকে শ্বাস-প্রশ্বাসের বিজ্ঞান বলা হয়।
ধ্যানের উত্যুঙ্গ শিখরে উঠে সাধক সমাধি লাভ করেন। সমাধি অর্থ সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরের চিত্তসমর্পণ। সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরে চিত্ত সমর্পণ করতে পারলে পরমাত্মার মধ্যে জীবাত্মার নিবেশ ঘটে। সাধকের অন্বেষণের শেষ হয়। সমাধি লাভ করলে তখন একজন 1 মনশূন্য, বুদ্ধিশূন্য, অহংশূন্য নিরাময় অবস্থা প্রাপ্ত হন। তখন পরমাত্মার সঙ্গে তার মিলন ঘটে। তখন তার 'আমি' বা 'আমার'। জ্ঞান থাকে না। কারণ তার দেহ, মন ও বুদ্ধি স্তব্ধ থাকে। সাধক। তখন প্রকৃত যোগ লাভ করেন।
অষ্টাঙ্গযোগের সর্বশেষ স্তর হচ্ছে সমাধি। এ সমাধির মাধ্যমে সাধক নিজের মনকে সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরে সঁপে দিতে পারে। 'ধারণা' মনকে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর সুযোগ করে দেয়, আর 'ধ্যানে' সে সুযোগ অবিচ্ছিন্ন থাকে। সমাধিতে এসে যোগীর ধ্যানলব্ধ চিত্তে স্থিরতা আরো গভীর হয়। সমাধিতে যোগীর চিত্ত আরাধ্য বস্তুকে সম্পূর্ণভাবে লীন হয়ে যায়। সে সময় যোগীর চিত্তটি স্থির নিষ্ক্রিয় অবস্থায় উন্নীত হয়। তখন ধ্যান -কর্তা, ধ্যানের বিষয় এবং ধ্যান প্রক্রিয়া এই তিনটি মিশ্রিত হয়ে একাকার হয়ে যায়। এই একাকার অবস্থায় সাধক নিজেকে সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরে সঁপে দেন।
সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরে চিত্তসমর্পণ করাকে সমাধি বলে।
সমাধি অষ্টাঙ্গযোগের শেষ স্তর। সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বর চিত্ত সমর্পণ করতে পারলে পরমাত্মার মধ্যে জীবাত্মার বিকাশ ঘটে। এ অবস্থায় সাধকের অন্বেষণের শেষ হয়। ধ্যানের সর্বোচ্চ শিখরে ওঠে সাধক সমাধি লাভকরেন। তখন তিনি মন, বুদ্ধি ও অহংশূন্য নিরাময় অবস্থা প্রাপ্ত হন
প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্রহণ না করাকে বলে অপরিগ্রহ। অর্থাৎ, অপ্রয়োজনীয় বস্তু গ্রহণ না করা যেমন তেমনি প্রয়োজনের অতিরিক্ত বস্তুও গ্রহণ না করাই হলো অপরিগ্রহ। জীবনে বেঁচে থাকার জন্য নূন্যতম ধন, বস্ত্র ইত্যাদি পদার্থ গ্রহণ করে এবং গৃহে সন্তুষ্ট থেকে জীবনের মূখ্য লক্ষ্য ঈশ্বর লাভ করাই হচ্ছে অপরিগ্রহের মূল কাজ।
সমাজের প্রথম স্তর হচ্ছে পরিবার। আদিকালে প্রথমে মানুষ দলবদ্ধভাবে বসবাস করত। ক্রমান্বয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিবারে বিভক্ত হয়।
পরিবার সর্বাপেক্ষা আদিম প্রতিষ্ঠান, একটি স্থায়ী সামাজিক সংগঠন। এ সংগঠন থেকেই মানবজাতির বিকাশ লাভ হয়েছে এবং সাথে সাথে সমাজের অগ্রগতি ও পরিবারের রূপ-কাঠামো পরিবর্তন হয়েছে।
ধ্যান অর্থ নিরবচ্ছিন্ন গভীর চিন্তা। মন যদি নিরবচ্ছিভাবে ঈশ্বরের চিন্তা করে তাহলে দীর্ঘ চিন্তনের পর অন্তিমে ঈশ্বরোপম হতে পারে। ধ্যানে যোগীর দেহ শ্বাস-প্রশ্বাস ইন্দ্রিয় মন বিচারশক্তি অহংকার সবকিছু ঈশ্বরে লীন হয়ে যায় এবং তিনি এমন এক সচেতন অতিন্দ্রীয় অবস্থায় চলে যান যা ব্যাখ্যা করা যায় না। তখন পরম আনন্দ ছাড়া তার কোনো অনুভূতি হয় না। তিনি তার আপন অন্তরের আলোও দেখতে পান।
প্রাণায়ম অনুশীলনের মাধ্যমে মনকে ঈশ্বরের চিন্তায় নিবিষ্ট করা যায়। এজন্য প্রত্যেকের প্রাণায়াম অনুশীলন করা একান্ত প্রয়োজন। প্রাণায়াম অর্থ প্রাণ বা শ্বাস-প্রশ্বাসের আয়াম বা নিয়ন্ত্রণ। শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিক গতিকে নিয়ন্ত্রণ করে নিজের আয়ত্তে আনাই প্রাণায়াম। প্রাণায়াম অনুশীলনের মধ্য দিয়ে যোগী পুরুষ নিজের দেহ এবং মনকে ঈশ্বরের চিন্তায় নিয়োজিত করতে পারেন। প্রাণায়ামের মাধ্যমে মনের ভারসাম্য রক্ষা করা যায়। এসব দিক উপলব্ধি করে প্রাণায়ম অনুশীলন করা উচিত।
শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করার পদ্ধতিটি হচ্ছে প্রাণায়ম। প্রাণায়াম বলতে শ্বাস-প্রশ্বাসের বিস্তার বোঝায়। শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিক গতিকে নিয়ন্ত্রণ এবং নিজ আয়ত্তে নিয়ে আসাই হচ্ছে প্রাণায়াম। প্রাণায়ামে শ্বাস-প্রশ্বাস দীর্ঘতর করা হয়। প্রাণায়ামকে শ্বাস-প্রশ্বাসের বিজ্ঞান বলা যেতে পারে।
নিরবচ্ছিন্ন গভীর চিন্তার প্রক্রিয়াটি হচ্ছে ধ্যান।
ধ্যান অর্থ নিরবচ্ছিন্ন গভীর চিন্তা। মন যদি নিরবচ্ছিন্নভাবে ঈশ্বরের চিন্তা করে তাহলে দীর্ঘ চিন্তনের পর অন্তিমে ঈশ্বরোপম হতে পারে। ধ্যানে যোগীর দেহ শ্বাস-প্রশ্বাস ইন্দ্রিয় মন বিচারশক্তি অহংকার সবকিছু ঈশ্বরে লীন হয়ে যায় এবং তিনি এমন এক সচেতন অতিন্দ্রীয় অবস্থায় চলে যান যা ব্যাখ্যা করা যায় না। তখন পরম আনন্দ ছাড়া তার আর কোনো অনুভূতি হয় না। তিনি তার আপন অন্তরের আলোও দেখতে পান।
যোগের প্রত্যাহার অঙ্গের মাধ্যমে মনের ইচ্ছাকে আয়ত্তে আনা হয়। 'প্রত্যাহার' অর্থ ফিরিয়ে নেওয়া। বাহ্যিক বিষয়বস্তু থেকে ইন্দ্রিয়সমূহকে ভিতরের দিকে ফিরিয়ে নেওয়াকে যোগে প্রত্যাহার বলে। দৃঢ় সংকল্প ও অভ্যাসের দ্বারা ইন্দ্রিয়গুলোকে অন্তর্মুখী করা যায়। ইন্দ্রিয়গুলো অন্তর্মুখী হলে চিত্তে বিষয় আসক্তি নষ্ট হয় এবং মনের ইচ্ছাকে আয়ত্তে আনা যায়।
নিয়মের একটি প্রকাশ হচ্ছে তপ। তপ হচ্ছে কোনো সংকল্প সিদ্ধির উদ্দেশ্যে কঠোর সাধনা। সেই সাধনায় প্রয়োজন আত্মশুদ্ধি। আত্মশাসন ও আত্মসংযম। যোগে তপ বলতে বোঝায় ঈশ্বরের সঙ্গে অন্তিম মিলনের জন্য সচেতন চেষ্টা।
অষ্টাঙ্গযোগের প্রথম ধাপটি হলো যম। মহর্ষি পতঞ্জলি মানুষের আত্মানুসন্ধানে যোগের যে আটটি ধাপ নির্দেশ করেছেন সেগুলোই অষ্টাঙ্গযোগ বলে পরিচিত। এর মধ্যে প্রথম ধাপ যম যার অর্থ সংযম, ইন্দ্রিয় এবং মনকে হিংসা, অশুভভাব ইত্যাদি থেকে সরিয়ে আত্মকেন্দ্রিক করা। অহিংসা, সত্য, অস্তেয়, ব্রহ্মচর্য এবং অপরিগ্রহ-এই পাঁচ প্রকার যম রয়েছে।
সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বর চিত্ত সমর্পণই সমাধি।
এটি অষ্টাঙ্গযোগের শেষ স্তর। সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বর চিত্ত সমর্পণ করতে পারলে পরমাত্মার মধ্যে জীবাত্মার বিকাশ ঘটে। এ অবস্থায় সাধকের অন্বেষণের শেষ হয়। ধ্যানের সর্বোচ্চ শিখরে ওঠে সাধক সমাধি লাভকরেন। তখন তিনি মন, বুদ্ধি ও অহংশূন্য নিরাময় অবস্থা প্রাপ্ত হন।
মহর্ষি পতঞ্জলি মানুষের আত্মানুসন্ধানে যোগের আটটি ধাপ নির্দেশ করেছেন। তিনি বলেছেন, যম, নিয়ম, আসন, প্রাণায়াম, প্রত্যাহার, ধারণা, ধ্যান, সমাধি এ আটটি হচ্ছে যোগের অঙ্গ। এগুলোকে একত্রে অষ্টাঙ্গ যোগ নামে পরিচিত।
আসন অর্থ স্থির হয়ে সুখে অধিষ্ঠিত থাকা স্থির মুখমাসনম্। দেহমনকে সুস্থ ও স্থির রাখার উদ্দেশ্যে যে বিভিন্ন দেহভঙ্গি বা দেহাবস্থান তাকে আসন বলে। আসন নানা প্রকার। যেমন- পদ্মাসন, সুখাসন, গোমুখাসন, হলাসন ইত্যাদি। আসন অনুশীলনের মধ্য দিয়ে যোগীপুরুষ নিজ দেহ ও মনকে ঈশ্বর চিন্তায় নিবিষ্ট করার যোগ্যতা অর্জন করে।
প্রাণায়াম বলতে শ্বাস-প্রশ্বাসের বিস্তার বোঝায়। শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিক গতিকে নিয়ন্ত্রণ এবং নিজ আয়ত্তে আসাই হচ্ছে প্রাণায়াম। প্রাণায়ামে শ্বাস-প্রশ্বাস দীর্ঘতর করা হয়। প্রাণায়ামকে শ্বাস-প্রশ্বাসের বিজ্ঞান বলা যেতে পারে।
ধারণা অর্থ হলো একাগ্রতা। একাগ্রতা ছাড়া জগতে কিছুই আয়ত্ত করা যায় না। একাগ্রতার মাধ্যমে মনকে বিশেষ কোনো বিষয়ে স্থির করা বা আবদ্ধ রাখার নাম ধারণা। একাগ্রচিত্ত হতে হলে নাভি, নাকের অগ্রভাগ বা ভূযুগলের মধ্যস্থানে বা কোনো দেবমূর্তি বা যেকোনো বস্তুতে নির্বিষ্ট হতে হবে। এভাবে মনকে দীর্ঘ সময় নির্দিষ্ট। রাখার অভ্যাস করে যোগীকে অভীষ্ট লক্ষ্যে প্রবেশের যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। তাই বলা যায়, একাগ্রতা বা ধারণা হচ্ছে ধ্যানের ভিত্তিস্বরূপ।
প্রতিটি মানুষই নিজ জীবনে সুখ চায়। আসন অর্থ স্থির হয়ে সুখে অধিষ্ঠিত থাকা। স্থির সুখমআসনম। যোগাসন অনুশীলনের মাধ্যমে মানুষ সুখে থাকতে পারে।
প্রতিটি মানুষই নিজ জীবনে সুখ চায়। এ সুখ প্রাপ্তির জন্যই মহর্ষি পতঞ্জলি প্রতিপাদিত অষ্টাঙ্গযোগের পথ অনুসরণ করতে হয়। যম, নিয়ম, আসন, প্রাণায়াম, প্রত্যাহার, ধারণা, ধ্যান, সমাধি- এ অষ্টাঙ্গযোগ অনুসরণ ও অনুশীলনে মানুষের অশান্ত মন শান্ত হয় ও তার আত্মশক্তি বৃদ্ধি পায়। আর অষ্টাঙ্গযোগ পালন করে অশান্ত মনকে বশে আনা যায় বলে শান্তির পথ সৃষ্টি হয়। এর ফলে আত্মোন্নয়নে অপরিমেয় শক্তি লাভ করা যায়। অষ্টাঙ্গযোগ কেবলমাত্র যোগীদের জন্যই নয়, বরং এ যোগ যেকোনো ব্যক্তির জীবনে পূর্ণ সুখ আনতে পারে।
বৃক্ষাসন শরীরে ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতা বাড়ায়। পাশাপাশি উরুর সংযোগস্থলের স্পিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। কোমরের ও মেরুদন্ডের শক্তি বৃদ্ধি করে। নিয়মিত বৃক্ষাসন অনুশীলনী করলে হাতের ও পায়ের গঠন সুষ্ঠু ও সুন্দর হয়। হাঁটু, কনুই, বগলসহ সমস্ত স্নায়ুতন্ত্রীতে রক্ত সঞ্চালন ও গ্রন্থি সবল, নমনীয় হয়।
'কূর্ম' অর্থ কচ্ছপ। এ আসনে আসনকারীর দেহ দেখতে অনেকটা কচ্ছপের পিঠের ন্যায় হয় বলে তাকে অর্ধকূর্মাসন বলে। উচ্চরক্তচাপ রোগীদের এ আসন নিষেধ করা হয়েছে। কাজেই অর্ধকূর্মাসন যোগটি অনুশীলন উচ্চরক্তচাপ রোগীদের জন্য সমস্যা হতে পারে।
গরুড়াসনের ৪টি সুবিধা হলো-
১. শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতা বাড়ে।
২. পায়ের পেশির দৃঢ়তা ও স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি পায়।
৩. পায়ে বাত হতে পারে না।
৪. কিডনি ভালো থাকে।
আসন অর্থ স্থির হয়ে সুখে অধিষ্ঠিত থাকা। 'হল' শব্দের অর্থ লাঙল। এই আসন অনুশীলন করলে দেহভঙ্গি অনেকটা হলের অর্থাৎ লাঙলের মতো দেখায় বলে একে হলাসন বলে। এই আসন অনুশীলন করলে মেরুদন্ডের স্থিতিস্থাপকতা বজায় থাকে।
হলাসন অনুশীলন করলে পেটের পীড়ার সমস্যা দূর হয়। হলাসন অনুশীলনের সময় দেহভঙ্গি লাঙ্গলের মতো দেখায়। এই আসন অনুশীলনের সময় মাটিতে শুয়ে দেহটিকে উল্টো দিকে ঘুরিয়ে নিতে হয়। এতে পেটে ভাঁজ পড়ে। যার ফলে পেটের ব্যায়াম হয় এবং পেটে ব্যথা থাকলে তা দূর হয়।
নিয়মিত হলাসন অনুশীলন করলে-
১. মেরুদন্ডের স্থিতিস্থাপকতা বজায় থাকে।
২. মেরুদণ্ডকে সুদ্ধ ও নমনীয় করে তোলে।
৩. মেরুদণ্ড সংলগ্ন স্নায়ুকেন্দ্র ও মেরুদন্ডের দুপাশের পেশি সতেজ ও সক্রিয় হয়।
৪. হলাসন অনুশীলনের মাধ্যমে কোষ্ঠবদ্ধতা, অজীর্ণ, পেট ফাঁপা প্রভৃতি পেটের যাবতীয় রোগ দূর হয়।
৫. প্লীহা, যকৃৎ, মূত্রাশয় প্রভৃতির কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
Related Question
View Allযোগের মাধ্যমে ঈশ্বর আরাধনার প্রক্রিয়াকে যোগসাধনা বলে।
অষ্টাঙ্গযোগের একটি ধাপ হলো যম। 'যম' অর্থ সংযত। সংযম হলো ইন্দ্রিয় এবং মনকে হিংসা, অশুভভাব ইত্যাদি থেকে সরিয়ে আত্মকেন্দ্রিক করা। যম পাঁচ প্রকার। যেমন- অহিংসা, সত্য, অস্তেয়, ব্রহ্মচর্য এবং অপরিগ্রহ।
চিত্রে প্রদত্ত যোগাসনটি অর্ধকূর্মাসন। 'কূর্ম' অর্থ কচ্ছপ। এ আসনে আসনকারীর দেহ দেখতে অনেকটা কচ্ছপের পিঠের ন্যায়। হয় বলে তাকে অর্ধকূর্মাসন বলে।
প্রদত্ত অর্ধকূর্মাসনের ত্রুটি হলো- নমস্কার করা হাত দুটো দু কানের সাথে লেগে থাকার কথা। আবার প্রণাম করার মতো ভঙ্গিতে কপাল মাটিতে ঠেকাতে হবে। কিন্তু চিত্রানুযায়ী নমস্কার করা হাত দুটোর উপরে মাথা খাড়া অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া প্রণাম করার মতো ভঙ্গিতে কপাল মাটিতে ঠেকানো নেই। ফলে যোগাসনটি ত্রুটিপূর্ণ।
চিত্রের আসনটির নাম অর্ধকূর্মাসন। মানসিক শান্তি এবং শারীরিক সুস্থতা আনয়নে অর্ধকূর্মাসন অনুশীলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অর্ধকূর্মাসন নিয়মিত অনুশীলন করলে যেসব উপকারিতা পাওয়া যায় তা হলো-
১. শরীর অনেক শিথিল হয়।
২. মেরুদণ্ড সতেজ হয়।
৩. পেটের অভ্যন্তরীণ অংশ সবল ও সক্রিয় হয়।
৪. আসনকারী অনেক বেশি প্রাণশক্তি ও সুস্বাস্থ্য লাভ করে।
৫. মস্তিষ্ক শান্ত হয়। ৬. যকৃৎ ভালো থাকে।
৭. অজীর্ণ, অম্বল, অক্ষুধা, কোষ্ঠকাঠিন্য, আমাশয় ইত্যাদি দূর হয়।
৮. হজমশক্তি বাড়ে।
৯. পেটে বায়ু থাকলে তার প্রকোপ কমে।
১০. হাঁপানি আর ডায়াবেটিসে উপকার হয়।
১১. পায়ের পেশির ব্যথা ও হাড়ের বাত সারে।
১২. কাঁধের পেশির ব্যথা ভালো হয়।
১৩. পেট ও নিতম্বের চর্বি কমে।
১৪. পেট ও উরুর পেশি সবল হয়।
১৫. মন অনেক ধীর, স্থির ও শান্ত হয় এবং সুখ-দুঃখ সমানভাবে নিতে পারে।
১৬. মনের ওপর ভাবাবেগ, ভয়ভীতি আর ক্রোধ আলগা হয়।
১৭. আসনকারীকে আস্তে আস্তে দুঃখ-যন্ত্রণা থেকে মুক্ত করে, ভোগবিলাসের প্রতি উদাসীন করে।
১৮. যোগীকে তাঁর যোগসাধনায় মনোনিবেশের জন্য প্রস্তুত করে।
তাই বলা যায়, মানসিক শান্তি ও শারীরিক সুস্থতা আনয়নে অর্ধকূর্মাসন সঠিকভাবে অনুশীলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অপরের জিনিস না বলে অধিকার করাকে স্তেয় বা চুরি বলে।
যোগের প্রত্যাহার অঙ্গের মাধ্যমে মনের ইচ্ছাকে আয়ত্তে আনা হয়। 'প্রত্যাহার' অর্থ ফিরিয়ে নেওয়া। বাহ্যিক বিষয়বস্তু থেকে ইন্দ্রিয়সমূহকে ভিতরের দিকে ফিরিয়ে নেওয়াকে যোগে প্রত্যাহার বলে। দৃঢ় সংকল্প ও অভ্যাসের দ্বারা ইন্দ্রিয়গুলোকে অন্তর্মুখী করা যায়। ইন্দ্রিয়গুলো অন্তর্মুখী হলে চিত্তে বিষয় আসক্তি নষ্ট হয় এবং মনের ইচ্ছাকে আয়ত্তে আনা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!