সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন ও উত্তর

Updated: 6 months ago
উত্তরঃ

হিন্দুধর্মশাস্ত্রে 'যোগ' মানে মিলন ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

আত্মাকে পরমাত্মার সঙ্গে যুক্ত করা হয় সংযমপূর্বক সাধনার মাধ্যমে ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

আত্মাকে পরমাত্মার সাথে যুক্ত করে সমাধি লাভকে যোগ বলা হয় ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

যোগের মাধ্যমে ঈশ্বর আরাধনার প্রক্রিয়াকে যোগসাধনা বলে ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

পুরাকালে মুনিঋষিগণের শরীর সুস্থ রাখার মাধ্যম  ছিল যোগসাধনা ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

যোগের আটটি ধাপ নির্দেশ করেছেন মহর্ষি পতঞ্জলি ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

আধ্যাত্মিক কামধেনু যোগ ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

'যোগই হলো আধ্যাত্মিক কামধেনু'-  বলেছেন ডক্টর সম্পূর্ণানন্দ ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

পরমাত্মার সঙ্গে সংযোগের প্রথম সোপান হটযোগ ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

জীবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার সংযোগকে বলে যোগসাধনা ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ব্রহ্মের সাথে সংযোগের প্রচেষ্টাকে বলে যোগসাধনা ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

মুক্তিলাভের জন্য প্রথমে আত্মোপলব্ধি প্রয়োজন ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

এক হয়েও বহু ব্রহ্ম  ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

যোগসাধনা মুক্তির বিশেষ উপায় ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

পাচনতন্ত্র সম্পূর্ণরূপে সুস্থ হয়ে ওঠে যোগ দ্বারা ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

যৌগিক ক্রিয়া দ্বারা মেদের পাচন হয় ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

অষ্টাঙ্গ যোগের প্রবর্তক মহর্ষি পতঞ্জলি।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

শ্বাস গ্রহণ ও শ্বাস ত্যাগ প্রক্রিয়া প্রাণায়াম যোগের অন্তর্গত ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

যোগদর্শনে পদ্মাসন সাধন প্রক্রিয়ায় আসন প্রক্রিয়ার অন্তর্গত ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

অষ্টাঙ্গযোগের প্রথম ধাপ যম ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ঈশ্বরের প্রতি সম্পূর্ণ চিত্ত সমর্পণ করাকে সমাধি  বলে ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

অপরের জিনিস না বলে নেওয়াকে বলে স্তেয় ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

অষ্টাঙ্গ যোগের দ্বিতীয় ধাপের পাঁচটি নিয়মের উল্লেখ করেছেন মহর্ষি পতঞ্জলি মুণি ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

স্থির হয়ে সুখে অধিষ্ঠিত থাকাকে আসন  বলে ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

'অস্তেয়' শব্দটির দ্বারা চুরি না করা বোঝায় ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

মনকে কোনো বিশেষ বিষয়ে আবদ্ধ রাখার নাম ধারণা ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

শ্বাস গ্রহণকে পূরক  বলে ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

মহর্ষি পতঞ্জলি মানুষের আত্মানুসন্ধানে যোগের আটটি ধাপ নির্দেশ করেছেন ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

যম পাঁচ প্রকার ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

অষ্টাঙ্গযোগের দ্বিতীয় আধার নিয়ম ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

নিয়ম পাঁচ প্রকার ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

শৌচ দুই প্রকার ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

আয়াম শব্দের অর্থ বিস্তার ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

শ্বাস-প্রশ্বাসের বিজ্ঞান বলা হয় প্রাণায়ামকে ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ধ্যানের স্বর্ণ শিখরে ওঠে সাধক সমাধি লাভ করে ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

অষ্টাঙ্গ যোগের প্রভাবে মন শান্ত হয় ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

অষ্টাঙ্গযোগ পালন না করে যোগী হওয়া যায় না ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

মানুষের মন শান্ত হয় অষ্টাঙ্গযোগ অনুসরণে ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

অষ্টাঙ্গযোগের আধার যম ও নিয়ম ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

বৃক্ষাসন আসনে যাঁদের হাত-পা কাঁপে, পা দুর্বল -তাদের খুব উপকার হয় ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

পায়ের পেশির দৃঢ়তা ও স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি পায় বৃক্ষাসনে ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

কোমর ও মেরুদন্ডের শক্তি বৃদ্ধি পায় বৃক্ষাসনে ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

বৃক্ষাসনে দাঁড়ানোর জন্য দুই পা জোড়া করে সোজা হয়ে পা রাখতে হবে ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

বৃক্ষাসনের সময় ডান পা হাঁটুতে ভেঙে গোড়ালি বা উরুমূলে রাখতে হবে ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

বৃক্ষাসনে বসার সময় পায়ের আঙুলগুলো নিচের দিকে থাকবে ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

বৃক্ষাসনের সময় শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে নিশ্চল থাকতে হয় ১০ সেকেন্ড ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

শবাসন করতে হয় তিনবার ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

হজম শক্তি বাড়ে অর্ধকূর্মাসনকে ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

অর্ধকূর্মাসন করলে মস্তিষ্কের শান্ত হয় ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

অর্ধকূর্মাসনে বসতে হয় হাঁটু গেড়ে ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

অর্ধকূর্মাসনে বসলে মেরুদণ্ড সোজা থাকবে ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

অর্ধকূর্মাসন করলে পেটের ও নিতম্বের চর্বি কমে ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

'গরুড়' শব্দটি ঈগল পাখি অর্থে প্রয়োগ করা হয় ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

গরুড়াসনে ডান পা দিয়ে বাম পা দিয়ে পেঁচিয়ে রাখতে হবে ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

গরুড়াসনে ৩০ সেকেন্ড থাকতে হবে ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

হল শব্দের অর্থ লাঙ্গল ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

হলাসন অবস্থায় ৩০ সেকেন্ড থাকতে হয় ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

হলাসন অনুশীলনে নিতম্বের মেদ কমে ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

কাঁধ ভালো থাকে হলাসনে .

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

দেহভঙ্গি হলের মতো দেখায় হলাসনে ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

হলাসনে পা সোজা করে রাখতে হবে ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

হলাসন অনুশীলন করতে হয় তিনবার ।  

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

'যোগ' শব্দটি সাধারণত মিলনকেই নির্দেশ করে। একের সঙ্গে অপরের মিলন বা একত্রিত হওয়া বা তাদের একত্রিত করাকে যোগ বলা হয়। কিন্তু সাধন ক্ষেত্রে এর অর্থ আরো গভীরে নিহিত। জীবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার সংযোগই হলো যোগসাধনা। যোগসাধনা মুক্তিলাভের একটি বিশেষ উপায়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

'যোগ' শব্দটি সাধারণত মিলনকেই নির্দেশ করে। একের সঙ্গে অপরের মিলন বা একত্রিত হওয়া বা তাদের একত্রিত করাকে যোগ বলা হয়। কিন্তু সাধন ক্ষেত্রে এর অর্থ আরো গভীরে নিহিত। জীবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার সংযোগই হলো যোগসাধনা। যোগসাধনা মুক্তিলাভের একটি বিশেষ উপায়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

যোগের মাধ্যমে ব্রহ্ম বা ঈশ্বরের আরাধনার প্রক্রিয়াকে বলা হয় যোগসাধনা। মুক্তি লাভের জন্য প্রয়োজন আত্মোপলব্ধির। আর এই আত্মোপলব্ধির জন্য প্রয়োজন শুদ্ধ, স্থির ও প্রশান্ত মন। এজন্য শরীর ও মনকে উপযুক্ত করতে হয়। বিশেষভাবে একে হটযোগ বলে। যা পরমাত্মার সঙ্গে সংযোগের বা মুক্তি লাভের প্রথম সোপান।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

দেহকে সুস্থ ও মনকে শান্ত রাখতে এবং ধর্মসাধনার ক্ষেত্রে যোগের গুরুত্ব অপরিসীম। যোগ দ্বারা পাচনতন্ত্র সম্পূর্ণরূপে সুস্থ হয়ে ওঠে, যার ফলে শরীর সুস্থ, হালকা এবং স্ফূর্তিদায়ক হয়ে ওঠে। যোগ দ্বারা ইন্দ্রিয় এবং মনের নিগ্রহ হয়। পুরাকালে মুণিঋষিগণ যোগসাধনার বলেই শরীরকে সুস্থ সবল রাখতেন। যোগ সাধনার মাধ্যমে নিরোগ থাকা যায় এবং দুশ্চিন্তাহীন মনের অধিকারী হওয়া যায়। তাই যোগসাধনার যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

মহর্ষি পত্রঞ্জলি মানুষের আত্মানুসন্ধানের জন্য যোগের আটটি ধাপ নির্দেশ করেছেন। তিনি বলেছেন, যম, নিয়ম, আসন, প্রাণায়াম, প্রত্যাহার, ধারণা, ধ্যান ও সমাধি এ আটটি যোগের অঙ্গ। এগুলোকে একত্রে অষ্টাঙ্গ যোগ বলা হয়। যার মাধ্যমে নিজেদের জীবন সুখ-শান্তি ও আনন্দে কাটাতে পারবে এবং দেহাবসানে মোক্ষ লাভ সম্ভব হবে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

অষ্টাঙ্গ যোগের প্রথম ধাপ হচ্ছে যম। যম অর্থ সংযম, ইন্দ্রিয় ও মনকে অহিংসা, অশুভভাব ইত্যাদি থেকে সরিয়ে আত্মকেন্দ্রিক করা। মুক্তিলাভের জন্য সাধক দৈনন্দিন জীবনে আচার-আচরণে সংযমী হবেন। অহিংসা, সত্য, অন্তেয়, ব্রহ্মচর্য এবং অপরিগ্রহ- এই পাঁচ প্রকার যমের ধারণা দেওয়া হয়েছে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

অহিংসা শব্দটির অর্থ হচ্ছে কোনো প্রাণীকে মন, কথা এবং কর্ম দ্বারা কষ্ট না দেওয়া। মনে মনেও কারও অনিষ্ট না ভাবা, কাউকে কটু কথা ইত্যাদি দ্বারা কষ্ট না দেয়া এবং কর্ম দ্বারা কোনো অবস্থাতে কারও প্রতি হিংসা ভাব প্রদর্শন না করা। এককথায়, নিখিল বিশ্বের প্রতিটি বস্তুর প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করাই অহিংসা।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

অপরিগ্রহ মানে 'গ্রহণ না করা'। অপ্রয়োজনীয় বস্তু গ্রহণ না করা যেমন, তেমনি প্রয়োজনের অতিরিক্ত বস্তুও গ্রহণ করা যাবে না। জীবনে বেঁচে থাকার জন্য ন্যূনতম ধন, বস্তু ইত্যাদি পদার্থ গ্রহণ করে এবং গৃহে সন্তুষ্ট থেকে জীবনের মুখ্য লক্ষ্য ঈশ্বর আরাধনাই হচ্ছে অপরিগ্রহ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

প্রণিধান অর্থ অর্পণ। সমস্ত কর্ম ও ইচ্ছা ঈশ্বরে অর্পণ করার নাম ঈশ্বর প্রণিধান। ঈশ্বরে সবকিছু অর্পণ করলে অহংকার আসে না, ঈশ্বরে বিশ্বাসের ফলে জীবনে হতাশা আসে না। জীবন তেজে ভরে ওঠে। যোগীরা তার সমস্ত কর্ম ঈশ্বরে অর্পণ করেন। যার ফলে তাঁদের সমস্ত কর্মে ভেতরকার দেবত্ব ফুটে ওঠে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

প্রাণায়াম অর্থ হলো প্রাণের আয়াম। অর্থাৎ শ্বাস-প্রশ্বাসের বিস্তার। প্রাণ হলো শ্বাসরূপে গৃহীত বায়ু আর আয়াম হলো বিস্তার। মানুষের আয়ু দিনগণনায় স্থির হয় না। স্থির হয় শ্বাস গণনায়। যত বেশি শ্বাস গ্রহণ করবেন তত আয়ু ক্ষয় হবে। এজন্য ধীরে ধীরে - গভীর ও ছন্দোবদ্ধভাবে শ্বাস গ্রহণ করতে হয়। যা আমরা প্রাণায়ামের 1. জ্ঞান থেকে জানতে পারি।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

প্রাণায়াম অর্থ হলো প্রাণের আয়াম। অর্থাৎ শ্বাস-প্রশ্বাসের বিস্তার। প্রাণ হলো শ্বাসরূপে গৃহীত বায়ু আর আয়াম হলো বিস্তার। মানুষের আয়ু দিনগণনায় স্থির হয় না। স্থির হয় শ্বাস গণনায়। যত। বেশি শ্বাস গ্রহণ করবেন তত আয়ু ক্ষয় হবে। এজন্য ধীরে ধীরে গভীর ও ছন্দোবদ্ধভাবে শ্বাস গ্রহণ করতে হয়। যা আমরা প্রাণায়ামের জ্ঞান থেকে জানতে পারি।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

সন্তোষ অর্থ সম্যক তৃপ্তি। মনে সন্তোষ না থাকলে কোনো কিছুর প্রতি মনোনিবেশ করা যায় না। এই সন্তোষ হঠাৎ আসে না, একটু একটু করে তাকে মনের মধ্যে জাগাতে হয়। যারা যোগী তাদের অভাববোধ থাকে না। তাই তার মনে কোনো অসন্তোষও থাকে না। মনে সন্তোষ থাকলে স্বর্গসুখ অনুভূত হয়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ব্রহ্মচর্য শব্দের আভিধানিক অর্থ বেদাদি শাস্ত্রানুশীলন এবং পবিত্র সংযত জীবনযাপন। জীবনে ব্রহ্মচর্য প্রতিষ্ঠা করলে দেহে শক্তি পাওয়া যায়, মনে সাহস পাওয়া যায়, বুদ্ধি বিকশিত হয়। ব্রহ্মচর্যে যোগীর জীবনে জ্ঞানের আলো জ্বলে ওঠে; তখন ঈশ্বর দর্শন সহজ হয়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

'শৌচ' অর্থ হলো শুচিতা। শুদ্ধতা ও পবিত্রাকেও শৌচ বলা হয়। এই শৌচ দুই প্রকারের হয় এক বাহ্য এবং দ্বিতীয় অভ্যন্তরীণ। সাধকের প্রতিদিন জল দ্বারা শরীরের শুদ্ধি। সত্যাচরণ দ্বারা মনের শুদ্ধি বিদ্যা আর তপ দ্বারা আত্মার শুদ্ধি এবং জ্ঞান দ্বারা বুদ্ধির শুদ্ধি করা উচিত।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

প্রাণায়াম তিন প্রকার। যথা- রেচক, পূরক ও কুম্ভক। শ্বাস ত্যাগ করে সেটি বাইরে স্থির রাখার নাম রেচক। শ্বাস গ্রহণকে বলা হয় পূরক এবং নিয়মিত গতিরোধ করে শ্বাস ভেতরে ধরে রাখার নাম হলো কুন্ডক। প্রাণায়াম যোগের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। সাধারণত অভিজ্ঞ গুরুর নিকট প্রাণায়াম শিক্ষা গ্রহণ করতে হয়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

দেহমনকে সুস্থ ও স্থির রাখার উদ্দেশ্যে যে বিভিন্ন দেহভঙ্গি বা দেহাবস্থান তাকে আসন বলে। আসনে শরীরে দৃঢ়তা আসে, শরীর নীরোগ ও লঘুভার হয়। আসনে শরীর ও মনের সমন্বয় ঘটে। যোগী আসনে দেহকে জয় করে তাকে আত্মার বাহন হিসেবে গড়ে তোলে। যোগসাধনায় আসন অনুশীলন একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

প্রত্যাহার অর্থ ফিরিয়ে নেওয়া। বাহ্যিক বিষয়বস্তু থেকে ইন্দ্রিয়সমূহকে ভেতরের দিকে ফিরিয়ে নেওয়াকে যোগে প্রত্যাহার বলে। দৃঢ় সংকল্প ও অভ্যাসের দ্বারা ইন্দ্রিয়গুলোকে অন্তর্মুখী করা যায়। ইন্দ্রিয়গুলো অন্তর্মুখী হলে চিত্তে বিষয় আসক্তি নষ্ট হয়। এমতাবস্থায় চিত্ত আরাধ্য বস্তুতে নিবিষ্ট হতে পারে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

মনকে বিশেষ কোনো বিষয়ে স্থির করা বা আবদ্ধ রাখার নাম ধারণা। ধারণা অর্থ একাগ্রতা। একাগ্রতা ছাড়া জগতে কোনো কিছুই আয়ত্ত করা যায় না। ঈশ্বরলাভ করতে গেলেও ঈশ্বরে একাগ্রচিত্ত হতে হয়। আর একাগ্রচিত্ত হতে হলে এক-তত্ত্ব অভ্যাস করতে হয়। আর দীর্ঘ অভ্যাসের ফলে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌছানো সম্ভব হয়। ধারণা হচ্ছে ধ্যানের ভিত্তিস্বরূপ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

যোগ সাধনা সর্বোচ্চ স্তর হলো সমাধি। সমাধি অর্থ সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরে চিত্ত সমর্পণ। সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরে চিত্ত সমর্পণ করতে পারলে পরমাত্মায় জীবাত্মার নিবেশ ঘটে, সাধকের অন্বেষণের শেষ হয়। তখন তিনি মনশূন্য, বুদ্ধিশূন্য, অহংশূন্য নিরাময় অবস্থা প্রাপ্ত হন এবং পরমাত্মার সঙ্গে মিলন ঘটে। সাধক প্রকৃত যোগ লাভ করেন।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ধ্যান অর্থ নিববচ্ছিন্ন গভীর চিন্তা। ধ্যানে যোগীর দেহ শ্বাস-প্রশ্বাস, ইন্দ্রিয়, মন, বিচার শক্তি অহংকার সবকিছু ঈশ্বরে লীন হয়ে যায় এবং তিনি এমন এক সচেতন অতিন্দ্রীয় অবস্থায় চলে যান যা ব্যাখ্যা করা যায় না। তখন পরম আনন্দ ছাড়া তাঁর অন্য অনুভূতি হয় না। তিনি তাঁর অন্তরের আপন আলোও দেখতে পান ধ্যানের মাধ্যমে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

অষ্টাঙ্গযোগ অনুশীলন না করে কোনো ব্যক্তিই যোগী হতে পারে না। যম আর নিয়মে সাধকের ভাব-আবেগ নিয়ন্ত্রিত হয়। আসনে দেহ ও মন সুস্থ, সবল ও সতেজ হয়। প্রাণায়াম ও প্রত্যাহার সাধকের শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করে মানকে বশে আনে। ধারণা, ধ্যান ও সমাধি সাধককে তাঁর আত্মার অন্তরতম প্রদেশে নিয়ে যায়। অবশেষে সাধক মোক্ষলাভ করেন।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

অষ্টাঙ্গযোগ ধর্ম, অধ্যাত্ম, মানবতা, বিজ্ঞানের প্রতি ক্ষেত্রেই নিজেকে প্রয়োজনীয়রূপে প্রমাণ করেছে। পৃথিবী থেকে খুন, সংঘর্ষ যদি কোনো উপায়ে বন্ধ করতে হয়, তাহলে সেটা অষ্টাঙ্গযোগের মাধ্যমেই সম্ভব। যদি কোনো ব্যক্তি নিজের অস্তিত্বের খোঁজ করে এবং জীবনের পূর্ণ সত্যের সঙ্গে পরিচিত হতে চায় তবে তার অষ্টাঙ্গযোগ পালন অবশ্যই উচিত। তাই বর্তমানেও অষ্টাঙ্গযোগের গুরুত্ব অপরিসীম।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

এই আসনে অনুশীলনকারীর দেহ বৃক্ষের ন্যায় হয় বলে একে বৃক্ষাসন বলে। বৃক্ষাসন অনুশীলনের ৪টি প্রভাব হলো-
১. শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতা বাড়ে।
২. কোমরের ও মেরুদন্ডের শক্তি বৃদ্ধি পায়।
৩. যাদের হাত-পা কাঁপে, পা দুর্বল, তাদের খুব উপকার হয়।
৪. হাত ও পায়ের গঠন সুষ্ঠু ও সুন্দর হয়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

অর্ধকূর্মাসন নিয়মিত অনুশীলন করলে-
১. শরীর শিথিল ও মেরুদণ্ড সতেজ হয়।
২. মস্তিষ্ক শান্ত হয়।
৩. যকৃৎ ভালো থাকে ও হজমশক্তি বাড়ে।
৪. হাঁপানি আর ডায়াবেটিসে উপকার হয়।
৫. ভাবাবেগ, ভয়ভীতি আর ক্রোধ আলগা হয়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

এই আসনে দেহভঙ্গি গরুড়-এর মতো হয় বলে একে গরুড়াসন বলে। এ আসনে দুই পা সোজা করে দাঁড়িয়ে ডান হাত কনুইয়ের কাছে ভেঙে বাঁ কনুইয়ের নিচ দিয়ে নিয়ে ডান হাতের তালু বাঁ হাতের তালুতে নমস্কারের ভঙ্গিতে রাখতে হয়। এ অবস্থানে ৩০ সেকেন্ড থাকতে হয়। হাত-পা বদল করে আসনটি ৪ বার অভ্যেস করতে হয়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

গরুড়াসন নিয়মিত অনুশীলনের ফলে-
১. পায়ের ও হাতের গঠন সুন্দর হয়।
২. বাঁকা মেরুদন্ড সোজা হয়।
৩. ব্রহ্মচর্য রক্ষা করা সহজ হয়।
৪. দেহ লম্বা হয় ও দেহের ভারসাম্য ঠিক থাকে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

হল শব্দের অর্থ লাঙ্গল। এই আসনে দেহভঙ্গি অনেকটা হলের অর্থাৎ লাঙ্গলের মতো দেখায় বলে একে হলাসন বলে। নিয়মিত হলাসন অনুশীলন করলে বিভিন্ন রোগের থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তবে যাদের আমাশয়, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ আছে এবং যাদের প্লীহা, যকৃৎ অস্বাভাবিক বড় তাদের আসনটি করা উচিত নয়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

নিয়মিত হলাসন অনুশীলন করলে বিভিন্ন উপকার পাওয়া যায়। যেমন- মেরুদণ্ড সুস্থ ও নমনীয় হয়। থাইরয়েড, প্যারা থাইরয়েড, টনসিল প্রভৃতি গ্রন্থি সবল ও সক্রিয় হয়। পিঠে ব্যথা থাকলে দূর হয়। কোষ্ঠবদ্ধতা, অজীর্ণ, পেট ফাঁপা প্রভৃতি রোগ দূর হয়। ডায়াবেটিস, বাত, সায়টিকা হতে পারে না ইত্যাদিসহ নানা সুফল পাওয়া যায়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

হিন্দুধর্ম শাস্ত্রে 'যোগ' মানে মিলন।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

যোগের মাধ্যমে ব্রহ্ম বা ঈশ্বরের আরাধনার প্রক্রিয়াকে যোগ সাধনা বলে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

যোগসূত্রের প্রণেতা হচ্ছেন মহর্ষি পতঞ্জলি।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

যোগাসন অভ্যাস করার জন্য যেভাবে রাখলে শরীর স্থির থাকে অথচ কোনো কষ্টের কারণ ঘটে না তাকে যোগাসন বলে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

যোগই হলো আধ্যাত্মিক কামধেনু- উক্তিটি ডক্টর সম্পূর্ণানন্দের।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

'যোগই হলো এক অর্থে সমাধি'- বলেছেন ব্যাসদেব।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

যোগের মাধ্যমে ঈশ্বর আরাধনার প্রক্রিয়াকে যোগসাধনা বলে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

হিন্দুধর্মশাস্ত্রে 'যোগ' মানে মিলন। সংযমপূর্বক সাধনার মাধ্যমে আত্মাকে পরমাত্মার সঙ্গে যুক্ত করে সমাধির লাভকে যোগ বলা হয়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ব্যাসদেবের মতে 'যোগ হচ্ছে সমাধি'।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

আত্মোপলব্ধির জন্য প্রয়োজন শুদ্ধ, স্থির ও প্রশান্ত মন ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

মহর্ষি পতঞ্জলি' মানুষের আত্মানুসন্ধানে যোগের আটটি ধাপ নির্দেশ করেছেন।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

শ্বাস গ্রহণকে বলা হয় পূরক ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

অপরের জিনিস না বলে অধিকার করাকে স্তেয় বা চুরি বলে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

তপ হচ্ছে কোনো সংকল্পসিদ্ধির উদ্দেশ্যে কঠোর সাধনা।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

কোনো প্রাণীকে মন, কথা এবং কর্ম দ্বারা কষ্ট না দেওয়াকে অহিংসা বলে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

দেহ এবং মনকে সুদ্ধ ও স্থির রাখার উদ্দেশ্যে যে বিভিন্ন দেহভঙ্গি বা দেহাবস্থান তাকে বলে আসন।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

মহর্ষি পতঞ্জলি মানুষের আত্মানুসন্ধানে যোগের আটটি ধাপ নির্দেশ করেছেন। এগুলোকে একত্রে অষ্টাঙ্গ যোগ বলে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

আসন অর্থ স্থির হয় সুখে অধিষ্ঠিত থাকা।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

'যম' অর্থ হচ্ছে সংযম। অর্থাৎ ইন্দ্রিয় এবং মনকে হিংসা, অশুভভাব ইত্যাদি থেকে সরিয়ে আত্মকেন্দ্রিক করা।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ঈশ্বর প্রণিধান হচ্ছে সমস্ত কর্ম ও ইচ্ছা ঈশ্বরে অপর্ণ করা।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

প্রত্যাহার অর্থ হচ্ছে ফিরিয়ে নেওয়া।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিক গতিকে নিয়ন্ত্রণ এবং নিজ আয়ত্তে আনাকে প্রাণায়াম বলে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ধ্যান শব্দের অর্থ হলো নিরবচ্ছিন্ন গভীর চিন্তা।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

হঠযোগ হচ্ছে পরমাত্মার সাথে সংযোগের প্রথম সোপান।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ব্রহ্মচর্য শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে বেদাদি শাস্ত্রানুশীলন এবং পবিত্র সংযম জীবনযাপন।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

অষ্টাঙ্গ যোগের প্রথম ধাপ হচ্ছে যম।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

অস্তেয় অর্থ চুরি না করা।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

অপরিগ্রহ অর্থ গ্রহণ না করা।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

জীবনে বেঁচে থাকার জন্য ন্যূনতম ধন, বস্ত্র ইত্যাদি পদার্থ এবং গৃহে সন্তুষ্ট থেকে জীবনের মুখ্য লক্ষ্য ঈশ্বর আরাধনা করাকে অপরিগ্রহ বলে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

শুদ্ধি বা পবিত্রতাকে শৌচ বলে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

সন্তোষ অর্থ সম্যক তৃপ্তি।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

'ঘ' অর্থ স্বয়ং আর অধ্যায় অর্থ অধ্যয়ন। সুতরাং স্বাধ্যায় অর্থ নিজেকে জানা।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

প্রণিধান অর্থ অর্পণ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ঈশ্বরে সব অর্পণ করলে অহংকার নাশ হয়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

প্রাণায়াম অর্থ প্রাণের আয়াম।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিক গতিকে নিয়ন্ত্রণ এবং নিজ আয়ত্তে আনাকে প্রাণায়াম বলে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

বাহ্যিক বিষয়বস্তু থেকে ইন্দ্রিয়সমূহকে ভিতরের দিকে ফিরিয়ে নেওয়াকে প্রত্যাহার বলে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ধারণা অর্থ একাগ্রতা ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

মনকে বিশেষ কোনো বিষয়ে স্থির করা বা আবদ্ধ রাখাকে ধারণা বলে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

সমাধি অর্থ সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরে চিত্তসমর্পণ ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

অষ্টাঙ্গযোগের অনুসরণ ও অনুশীলনে মানুষের অশান্ত মন শান্ত হয় ও তার আত্মশক্তি বৃদ্ধি পায়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

কোনো ব্যক্তিকে যোগী হতে হলে অষ্টাঙ্গযোগ পালন করতে হবে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

যে আসনে আসনকারীর দেহ বৃক্ষের ন্যায় হয়, তাকে বৃক্ষাসন বলে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

বৃক্ষাসন অনুশীলন করলে দেহকে বৃক্ষের ন্যায় দেখায়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

বৃক্ষাসন অনুশীলনের ফলে শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতা বাড়ে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

যে আসনে আসনকারীর দেহ দেখতে অনেকটা কচ্ছপের পিঠের ন্যয় হয়, তাকে অর্ধকূর্মাসন বলে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

কৃর্ম অর্থ কচ্ছপ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

অর্ধকূর্মাসনটি দেখতে অনেকটা কচ্ছপের পিঠের মতো।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

অর্ধকূর্মাসন অনুশীলনের ফলে শরীর অনেক শিথিল হয়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

'গরুড়' অর্থ হলো ঈগল পাখি।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

যে আসনে দেহভঙ্গি গরুড়-এর মতো হয়, তাকে গরুড়াসন বলে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

গরুড়াসনে দেহভঙ্গি দেখতে গরুড় এর মতো হয়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

'হল' শব্দের অর্থ লাঙল।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

যে আসনে দেহভঙ্গি অনেকটা হল বা লাঙলের মতো দেখায় তাকে হলাসন বলে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

হলাসন অনুশীলনের সময় দেহভঙ্গি লাঙ্গলের মতো হয়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

যোগ সাধনায় আসন অনুশীলন গুরুত্বপূর্ণ। কেননা দেহকে সুস্থ ও মনকে শান্ত রাখতে এবং ধর্ম সাধনার ক্ষেত্রে যোগের গুরুত্ব অপরিসীম। যোগের মাধ্যমে পাচনতন্ত্র সম্পূর্ণরূপে সুস্থ হয়ে ওঠে, যার ফলে শরীর সুস্থ, হালকা এবং স্ফূর্তিদায়ক হয়ে ওঠে। যোগ সাধনার দ্বারা হৃদ্রোগ, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট, এলার্জি ইত্যাদির হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। যৌগিক ক্রিয়ার দ্বারা মেদের পচন হয়ে শরীরের ওজন কমে এবং সুস্থ ও সুন্দর হয়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ধর্ম সাধনার ক্ষেত্রে যোগের গুরুত্ব অপরিসীম। ড. সম্পূর্ণানন্দ বলেছেন, 'যোগই হলো আধ্যাত্মিক কামধেনু'। যোগ সাধনার মাধ্যমে যা চাওয়া যায় তাই পাওয়া যায়। একমাত্র যোগ সাধনাই পারে সকল আসক্তি ত্যাগ করে মোক্ষলাভে পরিপূর্ণরূপে পরমব্রহ্মে বিলীন হতে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

'যোগ' শব্দটি সাধারণভাবে মিলনের অর্থই ব্যক্ত করে। একের সঙ্গে অপরের মিলন বা একত্রিত হওয়া বা তাদের একত্রিত করাকে যোগ বলা হয়। কিন্তু সাধনক্ষেত্রে এর অর্থ আরও গভীরে নিহিত। জীবাত্মার সাথে পরমাত্মার সংযোগই যোগসাধনা।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

অহিংসা শব্দটির অর্থ হচ্ছে কোনো প্রাণীকে মন, কথা এবং কর্ম দ্বারা কষ্ট না দেওয়া। মনে মনে কারও অনিষ্ট না ভাবা, কাউকে কটু কথা ইত্যাদি দ্বারা কষ্ট না দেওয়া এবং কর্ম দ্বারা কোনো অবস্থাতেই কোনো স্থানে কোনো দিন কোনো প্রাণীর প্রতি হিংসা ভাব প্রদর্শন না করা। এককথায় হলো ভালোবাসা। শুধু জীবের প্রতি ভালোবাসা নয়, এ বিশ্বের প্রতিটি বস্তুর প্রতি ভালোবাসাই হচ্ছে অহিংসা। আমাদের সকলের এই গুণটির অনুশীলন করা উচিত।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

অপরিগ্রহ মানে গ্রহণ না করা। অপ্রয়োজনীয় বস্তু গ্রহণ না করা যেমন, তেমনি প্রয়োজনের অতিরিক্ত বস্তুও গ্রহণ না করা। জীবনে বেঁচে থাকার জন্য ন্যূনতম ধন, বস্ত্র ইত্যাদি পদার্থ গ্রহণ করে এবং গৃহে সন্তুষ্ট থেকে জীবনের মুখ্য লক্ষ্য ঈশ্বর আরাধনা করাই হচ্ছে অপরিগ্রহ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

প্রত্যাহার অর্থ ফিরিয়ে নেওয়া। বাহ্যিক বিষয়বস্তু থেকে হন্দ্রিয়সমূহকে ভিতরের দিকে ফিরিয়ে নেওয়াকে যোগে প্রত্যাহার বলে। দৃঢ় সংকল্প ও অভ্যাসের দ্বারা ইন্দ্রিয়গুলোকে অন্তর্মুখী করা যায়। ইন্দ্রিয়গুলো অন্তর্মুখী হলে চিত্তে বিষয় আসক্তি নষ্ট হয়। এমতাবস্তায় চিত্ত আরাধ্য বস্তুতে নিবিষ্ট হতে পারে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

শ্বাস-প্রশ্বাস সম্পর্কিত বিজ্ঞান হচ্ছে প্রাণায়াম। প্রাণায়াম অর্থ প্রাণের আয়াম। প্রাণ হলো শ্বাসরূপে গৃহীত বায়ু আর আয়াম হলো বিস্তার। সুতরাং প্রাণায়াম বলতে বোঝায় শ্বাস-প্রশ্বাসের বিস্তার। এককথায়, শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিক গতিকে নিয়ন্ত্রণ করে নিজের আয়ত্তে আনাই প্রাণায়াম। প্রাণায়ামের মাধ্যমে শ্বাস-প্রশ্বাস দীর্ঘতর হয়, শ্বসনতন্ত্র বলিষ্ঠ হয় এবং স্নায়ুতন্ত্র শান্ত থাকে। তাই প্রাণায়ামকে শ্বাস-প্রশ্বাসের বিজ্ঞান বলা হয়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ধ্যানের উত্যুঙ্গ শিখরে উঠে সাধক সমাধি লাভ করেন। সমাধি অর্থ সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরের চিত্তসমর্পণ। সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরে চিত্ত সমর্পণ করতে পারলে পরমাত্মার মধ্যে জীবাত্মার নিবেশ ঘটে। সাধকের অন্বেষণের শেষ হয়। সমাধি লাভ করলে তখন একজন 1 মনশূন্য, বুদ্ধিশূন্য, অহংশূন্য নিরাময় অবস্থা প্রাপ্ত হন। তখন পরমাত্মার সঙ্গে তার মিলন ঘটে। তখন তার 'আমি' বা 'আমার'। জ্ঞান থাকে না। কারণ তার দেহ, মন ও বুদ্ধি স্তব্ধ থাকে। সাধক। তখন প্রকৃত যোগ লাভ করেন।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

অষ্টাঙ্গযোগের সর্বশেষ স্তর হচ্ছে সমাধি। এ সমাধির মাধ্যমে সাধক নিজের মনকে সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরে সঁপে দিতে পারে। 'ধারণা' মনকে অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর সুযোগ করে দেয়, আর 'ধ্যানে' সে সুযোগ অবিচ্ছিন্ন থাকে। সমাধিতে এসে যোগীর ধ্যানলব্ধ চিত্তে স্থিরতা আরো গভীর হয়। সমাধিতে যোগীর চিত্ত আরাধ্য বস্তুকে সম্পূর্ণভাবে লীন হয়ে যায়। সে সময় যোগীর চিত্তটি স্থির নিষ্ক্রিয় অবস্থায় উন্নীত হয়। তখন ধ্যান -কর্তা, ধ্যানের বিষয় এবং ধ্যান প্রক্রিয়া এই তিনটি মিশ্রিত হয়ে একাকার হয়ে যায়। এই একাকার অবস্থায় সাধক নিজেকে সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরে সঁপে দেন।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরে চিত্তসমর্পণ করাকে সমাধি বলে।
সমাধি অষ্টাঙ্গযোগের শেষ স্তর। সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বর চিত্ত সমর্পণ করতে পারলে পরমাত্মার মধ্যে জীবাত্মার বিকাশ ঘটে। এ অবস্থায় সাধকের অন্বেষণের শেষ হয়। ধ্যানের সর্বোচ্চ শিখরে ওঠে সাধক সমাধি লাভকরেন। তখন তিনি মন, বুদ্ধি ও অহংশূন্য নিরাময় অবস্থা প্রাপ্ত হন

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

প্রয়োজনের অতিরিক্ত গ্রহণ না করাকে বলে অপরিগ্রহ। অর্থাৎ, অপ্রয়োজনীয় বস্তু গ্রহণ না করা যেমন তেমনি প্রয়োজনের অতিরিক্ত বস্তুও গ্রহণ না করাই হলো অপরিগ্রহ। জীবনে বেঁচে থাকার জন্য নূন্যতম ধন, বস্ত্র ইত্যাদি পদার্থ গ্রহণ করে এবং গৃহে সন্তুষ্ট থেকে জীবনের মূখ্য লক্ষ্য ঈশ্বর লাভ করাই হচ্ছে অপরিগ্রহের মূল কাজ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

সমাজের প্রথম স্তর হচ্ছে পরিবার। আদিকালে প্রথমে মানুষ দলবদ্ধভাবে বসবাস করত। ক্রমান্বয়ে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পরিবারে বিভক্ত হয়।
পরিবার সর্বাপেক্ষা আদিম প্রতিষ্ঠান, একটি স্থায়ী সামাজিক সংগঠন। এ সংগঠন থেকেই মানবজাতির বিকাশ লাভ হয়েছে এবং সাথে সাথে সমাজের অগ্রগতি ও পরিবারের রূপ-কাঠামো পরিবর্তন হয়েছে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ধ্যান অর্থ নিরবচ্ছিন্ন গভীর চিন্তা। মন যদি নিরবচ্ছিভাবে ঈশ্বরের চিন্তা করে তাহলে দীর্ঘ চিন্তনের পর অন্তিমে ঈশ্বরোপম হতে পারে। ধ্যানে যোগীর দেহ শ্বাস-প্রশ্বাস ইন্দ্রিয় মন বিচারশক্তি অহংকার সবকিছু ঈশ্বরে লীন হয়ে যায় এবং তিনি এমন এক সচেতন অতিন্দ্রীয় অবস্থায় চলে যান যা ব্যাখ্যা করা যায় না। তখন পরম আনন্দ ছাড়া তার কোনো অনুভূতি হয় না। তিনি তার আপন অন্তরের আলোও দেখতে পান।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

প্রাণায়ম অনুশীলনের মাধ্যমে মনকে ঈশ্বরের চিন্তায় নিবিষ্ট করা যায়। এজন্য প্রত্যেকের প্রাণায়াম অনুশীলন করা একান্ত প্রয়োজন। প্রাণায়াম অর্থ প্রাণ বা শ্বাস-প্রশ্বাসের আয়াম বা নিয়ন্ত্রণ। শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিক গতিকে নিয়ন্ত্রণ করে নিজের আয়ত্তে আনাই প্রাণায়াম। প্রাণায়াম অনুশীলনের মধ্য দিয়ে যোগী পুরুষ নিজের দেহ এবং মনকে ঈশ্বরের চিন্তায় নিয়োজিত করতে পারেন। প্রাণায়ামের মাধ্যমে মনের ভারসাম্য রক্ষা করা যায়। এসব দিক উপলব্ধি করে প্রাণায়ম অনুশীলন করা উচিত।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ করার পদ্ধতিটি হচ্ছে প্রাণায়ম। প্রাণায়াম বলতে শ্বাস-প্রশ্বাসের বিস্তার বোঝায়। শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিক গতিকে নিয়ন্ত্রণ এবং নিজ আয়ত্তে নিয়ে আসাই হচ্ছে প্রাণায়াম। প্রাণায়ামে শ্বাস-প্রশ্বাস দীর্ঘতর করা হয়। প্রাণায়ামকে শ্বাস-প্রশ্বাসের বিজ্ঞান বলা যেতে পারে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

নিরবচ্ছিন্ন গভীর চিন্তার প্রক্রিয়াটি হচ্ছে ধ্যান।
ধ্যান অর্থ নিরবচ্ছিন্ন গভীর চিন্তা। মন যদি নিরবচ্ছিন্নভাবে ঈশ্বরের চিন্তা করে তাহলে দীর্ঘ চিন্তনের পর অন্তিমে ঈশ্বরোপম হতে পারে। ধ্যানে যোগীর দেহ শ্বাস-প্রশ্বাস ইন্দ্রিয় মন বিচারশক্তি অহংকার সবকিছু ঈশ্বরে লীন হয়ে যায় এবং তিনি এমন এক সচেতন অতিন্দ্রীয় অবস্থায় চলে যান যা ব্যাখ্যা করা যায় না। তখন পরম আনন্দ ছাড়া তার আর কোনো অনুভূতি হয় না। তিনি তার আপন অন্তরের আলোও দেখতে পান।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

যোগের প্রত্যাহার অঙ্গের মাধ্যমে মনের ইচ্ছাকে আয়ত্তে আনা হয়। 'প্রত্যাহার' অর্থ ফিরিয়ে নেওয়া। বাহ্যিক বিষয়বস্তু থেকে ইন্দ্রিয়সমূহকে ভিতরের দিকে ফিরিয়ে নেওয়াকে যোগে প্রত্যাহার বলে। দৃঢ় সংকল্প ও অভ্যাসের দ্বারা ইন্দ্রিয়গুলোকে অন্তর্মুখী করা যায়। ইন্দ্রিয়গুলো অন্তর্মুখী হলে চিত্তে বিষয় আসক্তি নষ্ট হয় এবং মনের ইচ্ছাকে আয়ত্তে আনা যায়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

নিয়মের একটি প্রকাশ হচ্ছে তপ। তপ হচ্ছে কোনো সংকল্প সিদ্ধির উদ্দেশ্যে কঠোর সাধনা। সেই সাধনায় প্রয়োজন আত্মশুদ্ধি। আত্মশাসন ও আত্মসংযম। যোগে তপ বলতে বোঝায় ঈশ্বরের সঙ্গে অন্তিম মিলনের জন্য সচেতন চেষ্টা।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

অষ্টাঙ্গযোগের প্রথম ধাপটি হলো যম। মহর্ষি পতঞ্জলি মানুষের আত্মানুসন্ধানে যোগের যে আটটি ধাপ নির্দেশ করেছেন সেগুলোই অষ্টাঙ্গযোগ বলে পরিচিত। এর মধ্যে প্রথম ধাপ যম যার অর্থ সংযম, ইন্দ্রিয় এবং মনকে হিংসা, অশুভভাব ইত্যাদি থেকে সরিয়ে আত্মকেন্দ্রিক করা। অহিংসা, সত্য, অস্তেয়, ব্রহ্মচর্য এবং অপরিগ্রহ-এই পাঁচ প্রকার যম রয়েছে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বর চিত্ত সমর্পণই সমাধি।
এটি অষ্টাঙ্গযোগের শেষ স্তর। সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বর চিত্ত সমর্পণ করতে পারলে পরমাত্মার মধ্যে জীবাত্মার বিকাশ ঘটে। এ অবস্থায় সাধকের অন্বেষণের শেষ হয়। ধ্যানের সর্বোচ্চ শিখরে ওঠে সাধক সমাধি লাভকরেন। তখন তিনি মন, বুদ্ধি ও অহংশূন্য নিরাময় অবস্থা প্রাপ্ত হন।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

মহর্ষি পতঞ্জলি মানুষের আত্মানুসন্ধানে যোগের আটটি ধাপ নির্দেশ করেছেন। তিনি বলেছেন, যম, নিয়ম, আসন, প্রাণায়াম, প্রত্যাহার, ধারণা, ধ্যান, সমাধি এ আটটি হচ্ছে যোগের অঙ্গ। এগুলোকে একত্রে অষ্টাঙ্গ যোগ নামে পরিচিত।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

আসন অর্থ স্থির হয়ে সুখে অধিষ্ঠিত থাকা স্থির মুখমাসনম্। দেহমনকে সুস্থ ও স্থির রাখার উদ্দেশ্যে যে বিভিন্ন দেহভঙ্গি বা দেহাবস্থান তাকে আসন বলে। আসন নানা প্রকার। যেমন- পদ্মাসন, সুখাসন, গোমুখাসন, হলাসন ইত্যাদি। আসন অনুশীলনের মধ্য দিয়ে যোগীপুরুষ নিজ দেহ ও মনকে ঈশ্বর চিন্তায় নিবিষ্ট করার যোগ্যতা অর্জন করে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

প্রাণায়াম বলতে শ্বাস-প্রশ্বাসের বিস্তার বোঝায়। শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিক গতিকে নিয়ন্ত্রণ এবং নিজ আয়ত্তে আসাই হচ্ছে প্রাণায়াম। প্রাণায়ামে শ্বাস-প্রশ্বাস দীর্ঘতর করা হয়। প্রাণায়ামকে শ্বাস-প্রশ্বাসের বিজ্ঞান বলা যেতে পারে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

ধারণা অর্থ হলো একাগ্রতা। একাগ্রতা ছাড়া জগতে কিছুই আয়ত্ত করা যায় না। একাগ্রতার মাধ্যমে মনকে বিশেষ কোনো বিষয়ে স্থির করা বা আবদ্ধ রাখার নাম ধারণা। একাগ্রচিত্ত হতে হলে নাভি, নাকের অগ্রভাগ বা ভূযুগলের মধ্যস্থানে বা কোনো দেবমূর্তি বা যেকোনো বস্তুতে নির্বিষ্ট হতে হবে। এভাবে মনকে দীর্ঘ সময় নির্দিষ্ট। রাখার অভ্যাস করে যোগীকে অভীষ্ট লক্ষ্যে প্রবেশের যোগ্যতা অর্জন করতে হয়। তাই বলা যায়, একাগ্রতা বা ধারণা হচ্ছে ধ্যানের ভিত্তিস্বরূপ।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

প্রতিটি মানুষই নিজ জীবনে সুখ চায়। আসন অর্থ স্থির হয়ে সুখে অধিষ্ঠিত থাকা। স্থির সুখমআসনম। যোগাসন অনুশীলনের মাধ্যমে মানুষ সুখে থাকতে পারে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

প্রতিটি মানুষই নিজ জীবনে সুখ চায়। এ সুখ প্রাপ্তির জন্যই মহর্ষি পতঞ্জলি প্রতিপাদিত অষ্টাঙ্গযোগের পথ অনুসরণ করতে হয়। যম, নিয়ম, আসন, প্রাণায়াম, প্রত্যাহার, ধারণা, ধ্যান, সমাধি- এ অষ্টাঙ্গযোগ অনুসরণ ও অনুশীলনে মানুষের অশান্ত মন শান্ত হয় ও তার আত্মশক্তি বৃদ্ধি পায়। আর অষ্টাঙ্গযোগ পালন করে অশান্ত  মনকে বশে আনা যায় বলে শান্তির পথ সৃষ্টি হয়। এর ফলে আত্মোন্নয়নে অপরিমেয় শক্তি লাভ করা যায়। অষ্টাঙ্গযোগ কেবলমাত্র যোগীদের জন্যই নয়, বরং এ যোগ যেকোনো ব্যক্তির জীবনে পূর্ণ সুখ আনতে পারে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

বৃক্ষাসন শরীরে ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতা বাড়ায়। পাশাপাশি উরুর সংযোগস্থলের স্পিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। কোমরের ও মেরুদন্ডের শক্তি বৃদ্ধি করে। নিয়মিত বৃক্ষাসন অনুশীলনী করলে হাতের ও পায়ের গঠন সুষ্ঠু ও সুন্দর হয়। হাঁটু, কনুই, বগলসহ সমস্ত স্নায়ুতন্ত্রীতে রক্ত সঞ্চালন ও গ্রন্থি সবল, নমনীয় হয়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

'কূর্ম' অর্থ কচ্ছপ। এ আসনে আসনকারীর দেহ দেখতে অনেকটা কচ্ছপের পিঠের ন্যায় হয় বলে তাকে অর্ধকূর্মাসন বলে। উচ্চরক্তচাপ রোগীদের এ আসন নিষেধ করা হয়েছে। কাজেই অর্ধকূর্মাসন যোগটি অনুশীলন উচ্চরক্তচাপ রোগীদের জন্য সমস্যা হতে পারে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

গরুড়াসনের ৪টি সুবিধা হলো-
১. শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতা বাড়ে।
২. পায়ের পেশির দৃঢ়তা ও স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি পায়।
৩. পায়ে বাত হতে পারে না।
৪. কিডনি ভালো থাকে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

আসন অর্থ স্থির হয়ে সুখে অধিষ্ঠিত থাকা। 'হল' শব্দের অর্থ লাঙল। এই আসন অনুশীলন করলে দেহভঙ্গি অনেকটা হলের অর্থাৎ লাঙলের মতো দেখায় বলে একে হলাসন বলে। এই আসন অনুশীলন করলে মেরুদন্ডের স্থিতিস্থাপকতা বজায় থাকে।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

হলাসন অনুশীলন করলে পেটের পীড়ার সমস্যা দূর হয়। হলাসন অনুশীলনের সময় দেহভঙ্গি লাঙ্গলের মতো দেখায়। এই আসন অনুশীলনের সময় মাটিতে শুয়ে দেহটিকে উল্টো দিকে ঘুরিয়ে নিতে হয়। এতে পেটে ভাঁজ পড়ে। যার ফলে পেটের ব্যায়াম হয় এবং পেটে ব্যথা থাকলে তা দূর হয়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
উত্তরঃ

নিয়মিত হলাসন অনুশীলন করলে-
১. মেরুদন্ডের স্থিতিস্থাপকতা বজায় থাকে।
২. মেরুদণ্ডকে সুদ্ধ ও নমনীয় করে তোলে।
৩. মেরুদণ্ড সংলগ্ন স্নায়ুকেন্দ্র ও মেরুদন্ডের দুপাশের পেশি সতেজ ও সক্রিয় হয়।
৪. হলাসন অনুশীলনের মাধ্যমে কোষ্ঠবদ্ধতা, অজীর্ণ, পেট ফাঁপা প্রভৃতি পেটের যাবতীয় রোগ দূর হয়।
৫. প্লীহা, যকৃৎ, মূত্রাশয় প্রভৃতির কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

Joy Roy
Joy Roy
6 months ago
47

ষষ্ঠ অধ্যায় যোগসাধনা

হিন্দুধর্মশাস্ত্রে ‘যোগ’ মানে মিলন। সংযমপূর্বক সাধনার মাধ্যমে আত্মাকে পরমাত্মার সঙ্গে যুক্ত করে সমাধি লাভকে যোগ বলা হয় । যোগ অভ্যাস করার জন্য যেভাবে রাখলে শরীর স্থির থাকে অথচ কোনো কষ্টের কারণ ঘটে না তাকে যোগাসন বলে । আর যোগের মাধ্যমে ঈশ্বর আরাধনার প্রক্রিয়াকে যোগসাধনা বলে । ঈশ্বর আরাধনার ক্ষেত্রে দেহ ও মন উভয়েরই গুরুত্ব রয়েছে। সুতরাং দেহকে সুস্থ রাখা, মনকে শান্ত রাখা এবং ধর্ম সাধনার জন্য যোগের গুরুত্ব অপরিসীম। এ অধ্যায়ে যোগসাধনা, অষ্টাঙ্গ যোগ ও যোগাসন সম্পর্কে আলোকপাত করা হয়েছে।

এ অধ্যায় শেষে আমরা-

  • ধর্মশাস্ত্র অনুযায়ী যোগসাধনার ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব
  • মানসিক স্বাস্থ্য ও ধর্মানুষ্ঠানে যোগসাধনার গুরুত্ব বর্ণনা করতে পারব
  • অষ্টাঙ্গ যোগের ধারণা ও গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব
  • বৃক্ষাসনের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব
  • বৃক্ষাসন অনুশীলন করতে পারব এবং প্রভাব বর্ণনা করতে পারব
  • অর্ধকূর্মাসনের অনুশীলন করতে পারব এবং প্রভাব বর্ণনা করতে পারব
  • গরুড়াসনের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব
  • গরুড়াসন অনুশীলন করতে পারব এবং প্রভাব বর্ণনা করতে পারব
  • হলাসনের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব
  • হলাসন অনুশীলন করতে পারব এবং প্রভাব বর্ণনা করতে পারব ।

 

 

 

 

পাঠ ১ : যোগসাধনার ধারণা ও গুরুত্ব

যোগসাধনার ধারণা

‘যোগ' শব্দটি সাধারণভাবে মিলনের অর্থই ব্যক্ত করে । একের সঙ্গে অপরের মিলন বা একত্রিত হওয়া বা তাদের একত্রিত করাকে যোগ বলা হয়। কিন্তু সাধন ক্ষেত্রে এর অর্থ আরো গভীরে নিহিত। জীবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার সংযোগই যোগসাধনা ।

ব্রহ্ম এক হয়েও বহু, নির্গুণ হয়েও সগুণ, অরূপ হয়েও রূপময়, নৈর্ব্যক্তিক হয়েও ব্যক্তিস্বরূপ, অব্যক্ত হয়েও চরাচরে ব্যক্ত । ব্রহ্মের সঙ্গে সংযোগের প্রচেষ্টার নাম যোগসাধনা । তাঁর অস্তিত্বও অনন্ত, চেতনাও অনন্ত, আনন্দও অনন্ত । তিনি বিশ্বময়, আবার তিনি বিশ্বাতীত- সচ্চিদানন্দ । এ ব্রহ্মের সঙ্গে চাই যোগ । সুতরাং যোগের মাধ্যমে ব্রহ্ম বা ঈশ্বরের আরাধনার প্রক্রিয়াকে যোগসাধনা বলে ।

যোগসাধনা মুক্তি লাভের একটি বিশেষ উপায়। মুক্তি লাভের জন্য প্রথমে প্রয়োজন আত্মোপলব্ধির । আর এই আত্মোপলব্ধির জন্য প্রয়োজন শুদ্ধ, স্থির ও প্রশান্ত মন। এজন্য শরীর ও মনকে উপযোগী করতে হয় । তাই শরীর সুগঠিত, সুস্থ ও মনকে নিরুদ্বেগ রাখার জন্য যে কৌশল অবলম্বন করা হয় তার নামও যোগ । বিশেষভাবে একে হঠযোগ বলে। হঠযোগ হচ্ছে পরমাত্মার সঙ্গে সংযোগের প্রথম সোপান ।

যোগসাধনার গুরুত্ব

দেহকে সুস্থ ও মনকে শান্ত রাখতে এবং ধর্মসাধনার ক্ষেত্রে যোগের গুরুত্ব অপরিসীম । যোগের মাধ্যমে পাচনতন্ত্র সম্পূর্ণরূপে সুস্থ হয়ে ওঠে, যার ফলে শরীর সুস্থ, হালকা এবং স্ফূর্তিদায়ক হয়ে ওঠে। যোগ সাধনা দ্বারা হৃদরোগ, হাঁপানি, শ্বাসকষ্ট, এ্যালার্জি ইত্যাদির হাত থেকে মুক্তি পাওয়া যায় । যৌগিক ক্রিয়ার দ্বারা মেদের পাচন হয়ে শরীরের ওজন কমে এবং শরীর সুস্থ ও সুন্দর হয়। স্থূলকায় মানুষের শরীর ও মন সুস্থ ও সুন্দর রাখার জন্য যোগের বিকল্প নেই । যোগ দ্বারা ইন্দ্রিয় এবং মনের নিগ্রহ হয়, যম-নিয়মাদি অষ্টাঙ্গ যোগের অভ্যাসের দ্বারা সাধক পরমাত্মা পর্যন্ত পৌঁছতে সক্ষম হয়ে ওঠেন। ব্যাসদেব বলেছেন,- ‘যোগই হলো এক অর্থে সমাধি ।' পুরাকালে মুনিঋষিগণ যোগসাধনার বলেই শরীরকে সুস্থ সবল রাখতেন । যোগাসনের মাধ্যমে তাঁরা নীরোগ থাকতেন ও ধ্যানে, তপ-জপে এবং প্রাণায়ামে নিজেদের দেহ সুস্থ-সবল রাখতেন ও দুশ্চিন্তাহীন মনের অধিকারী হতেন ।

যোগীদের মধ্যে কেউ কেউ যোগসাধনায় কেবল যোগ ঐশ্বর্য লাভ করেই তৃপ্ত হন; আবার কেউ কেউ কঠোর তপস্যায় মায়াপাশ ছিন্ন করে পুনরায় যোগশক্তির মাধ্যমে বিশ্বজনের হিতে কল্যাণ সাধনে ব্রতী হন । তাঁরা আত্মসমাহিত হয়ে মোক্ষলাভ করেন । যোগসাধনাবলে এই আত্মসমাধি ও যোগধারণার সূক্ষ্ম নিদর্শন সম্বন্ধে মহাপ্রাজ্ঞ ভীষ্ম বলেছেন, ধনুর্ধারী যোদ্ধারা যেমন অপ্রমত্ত সমাহিত চিত্তে লক্ষ্যভেদ করে তেমনি যোগীরা অনন্যমনে একনিষ্ঠ সাধনায় মোক্ষলাভ করেন। যোগতত্ত্ববিদ মহাত্মারা একাগ্রচিত্তে সংসারের মায়াতরঙ্গ উত্তীর্ণ হয়ে জীবাত্মাকে পরমাত্মার সঙ্গে এক করে দুর্লভ ব্রহ্মপদ লাভ করেন । যে যোগী অহিংসাব্রত পরায়ণ হয়ে জীবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার সংযোগ করতে পারেন তিনি যোগবলে মুক্তি লাভ করতে পারেন ।

 

 

 

 

মহর্ষি যাজ্ঞবল্ক্য বলেছেন, যোগীরা ইন্দ্রিয়কে মনের মধ্যে সমাহিত করে মনকে অহংকারে, অহংকারকে মহত্ত্বে, মহত্ত্বকে প্রকৃতির রাজ্যে বিলীন করে পরমব্রহ্মের ধ্যানে তন্ময় হন । সেই পরমব্রহ্মের জ্যোতি তাঁর পাপমুক্ত নিত্য শুদ্ধ হৃদয়ে সর্বদা অনুভূত, সে জ্যোতি তাঁর চোখে-মুখে প্রতিভাত ও উদ্ভাসিত হয়ে ওঠে । যোগী পুরুষ সতত প্রসন্নচিত্ত । তিনি প্রগাঢ় নিদ্রাসুখতৃপ্ত ব্যক্তির মতো প্রশান্তিসম্পন্ন হয়ে সর্বদা শান্তির রাজ্যে আনন্দের অমিয়সাগরে ভাসেন। তিনি নির্বাত নিষ্কম্প প্রদীপের মতো স্থির এবং তিনি জগতের কোনো আসক্তি, কোনো মমতাতেই বিচলিত হন না। দেহ অবসানে তিনি মোক্ষ লাভ করে পরমব্রহ্মে বিলীন হন ।

দলীয় কাজ : যোগসাধনার প্রভাব লিখে একটি তালিকা তৈরি কর ।

নতুন শব্দ : স্বতন্ত্রসত্তা, চরিতার্থতা, গতানুগতিক, চরাচর, পাচনতন্ত্র, সুডৌল, নিগ্রহ, জ্যোতির্ময়, আত্মসমাহিত, তন্ময়, অপ্রমত্ত, প্রসন্নচিত্ত, প্রগাঢ়, অমিয়, নির্বাত, নিষ্কম্প, বিলীন ।

পাঠ ২, ৩ ও ৪ : অষ্টাঙ্গযোগের ধারণা ও গুরুত্ব

অষ্টাঙ্গযোগের ধারণা

প্রতিটি মানুষই নিজ জীবনে সুখ চায় । যোগসাধনা এমন এক পথ যাতে প্রতিটি মানুষ নির্ভয়ে পূর্ণ স্বাধীনতার সঙ্গে চলতে পারবে এবং নিজেদের জীবন সম্পূর্ণ সুখ, শান্তি এবং আনন্দের মাধ্যমে কাটাতে পারবে । সেই পথ হচ্ছে মহর্ষি পতঞ্জলি প্রতিপাদিত অষ্টাঙ্গ যোগের পথ ।

মহর্ষি পতঞ্জলি মানুষের আত্মানুসন্ধানে যোগের আটটি ধাপ নির্দেশ করেছেন । তিনি বলেছেন, যম, নিয়ম, আসন, প্রাণায়াম, প্রত্যাহার, ধারণা, ধ্যান, সমাধি এই আটটি যোগের অঙ্গ। এগুলো একত্র অষ্টাঙ্গ যোগ বলে পরিচিত । আমরা এখন অষ্টাঙ্গ যোগের প্রতিটি যোগ সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করছি :

১. যম

অষ্টাঙ্গ যোগের প্রথম ধাপ হচ্ছে যম । যম অর্থ সংযম, ইন্দ্রিয় এবং মনকে হিংসা অশুভভাব ইত্যাদি থেকে সরিয়ে আত্মকেন্দ্রিত করা । অহিংসা, সত্য, অস্তেয়, ব্রহ্মচর্য এবং অপরিগ্রহ- এই পাঁচ প্রকার যম ।

ক. অহিংসা

অহিংসা শব্দটার অর্থ হচ্ছে কোনো প্রাণীকে মন, কথা এবং কর্ম দ্বারা কষ্ট না দেওয়া । মনে মনেও কারও অনিষ্ট না ভাবা, কাউকে কটু কথা ইত্যাদি দ্বারা কষ্ট না দেওয়া এবং কর্ম দ্বারা কোনো অবস্থাতে কোনো স্থানে, কোনো দিন কোনো প্রাণীর প্রতি হিংসা ভাব প্রদর্শন না করা। এক কথায় ভালোবাসা । শুধু জীবের প্রতি ভালোবাসা নয়, নিখিল বিশ্বের প্রতিটি বস্তুর প্রতি ভালোবাসা ।

 

 

 

খ. সত্য

যেমন দেখেছি, যেমন শুনেছি এবং যেমন জেনেছি, ঠিক তেমনটাই মনে, কথায় ও কাজে করাকে সত্য বলে । মন যদি সত্য চিন্তা করে, জিহ্বা যদি সত্য কথা বলে এবং সমগ্র জীবন যদি সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত হয় তাহলে ঈশ্বরের সঙ্গে মিলনের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয় ।

গ. অস্তেয়

অস্তেয় অর্থ চুরি না করা । অপরের জিনিস না বলে অধিকার করাকে স্তেয় (চুরি) বলে । তাই যোগী তাঁর জাগতিক প্রয়োজন সর্বনিম্ন মাত্রায় আবদ্ধ রাখেন । যোগীর একমাত্র আকাঙ্ক্ষা ঈশ্বর সান্নিধ্য ।

ঘ. ব্ৰহ্মচর্য

ব্রহ্মচর্য শব্দের আভিধানিক অর্থ বেদাদি শাস্ত্রানুশীলন এবং পবিত্র সংযত জীবনযাপন । জীবনে ব্রহ্মচর্য প্রতিষ্ঠা করলে দেহে শক্তি পাওয়া যায়, মনে সাহস পাওয়া যায়, বুদ্ধি বিকশিত হয় । ব্রহ্মচর্যে যোগীর জীবনে জ্ঞানের আলো জ্বলে ওঠে, তখন তাঁর ঈশ্বরদর্শন সহজ হয় ।

ঙ. অপরিগ্রহ

অপরিগ্রহ মানে গ্রহণ না করা। অপ্রয়োজনীয় বস্তু গ্রহণ না করা যেমন তেমনি প্রয়োজনের অতিরিক্ত বস্তুও গ্রহণ না করা । জীবনে বেঁচে থাকার জন্য ন্যূনতম ধন, বস্ত্র ইত্যাদি পদার্থ গ্রহণ করে এবং গৃহে সন্তুষ্ট থেকে জীবনের মুখ্য লক্ষ্য ঈশ্বর আরাধনা করাই হচ্ছে অপরিগ্রহ ।

২. নিয়ম

অষ্টাঙ্গযোগের দ্বিতীয় হচ্ছে নিয়ম । মহর্ষি পতঞ্জলি শৌচ, সন্তোষ, তপ, স্বাধ্যায় এবং ঈশ্বর প্রণিধান এই

পাঁচটি নিয়মের উল্লেখ করেছেন ।

ক. শৌচ

শৌচ বলে শুদ্ধিকে, পবিত্রতাকে । এই শৌচ দুই প্রকারের হয় : এক বাহ্য এবং দ্বিতীয় অভ্যন্তরীণ । সাধকের প্রতিদিন জল দ্বারা শরীরের শুদ্ধি, সত্যাচরণ দ্বারা মনের শুদ্ধি, বিদ্যা আর তপ দ্বারা আত্মার শুদ্ধি এবং জ্ঞান দ্বারা বুদ্ধির শুদ্ধি করা উচিত ।

খ. সন্তোষ

সন্তোষ অর্থ সম্যক তৃপ্তি । এই সন্তোষ হঠাৎ আসে না, একটু একটু করে তাকে মনের মধ্যে জাগাতে হয় । মনে সন্তোষ না থাকলে কোনো কিছুর প্রতি মনোনিবেশ করা যায় না। যোগীর অভাব বোধ থাকে না, তাই তাঁর মনে কোনো অসন্তোষও থাকে না । তাঁর মনে যে সন্তোষ থাকে তাতে তিনি স্বর্গসুখ অনুভব করেন ।

গ. তপ

তপ হচ্ছে কোনো সঙ্কল্পসিদ্ধির উদ্দেশ্যে কঠোর সাধনা । সেই সাধনায় প্রয়োজন আত্মশুদ্ধি, আত্মশাসন ও আত্মসংযম । যোগে তপ বলতে বোঝায় ঈশ্বরের সঙ্গে অন্তিম মিলনের জন্য সচেতন চেষ্টা ।

 

 

 

 

ঘ. স্বাধ্যায়

স্বাধ্যায় মানে বেদ-অধ্যয়ন, শাস্ত্র অধ্যয়ন বা ভগবদ্‌বিষয়ক গ্রন্থ অধ্যয়নও বলা যেতে পারে । স্বাধ্যায় থেকে যেসব মহান চিন্তা উদ্ভূত হয় তা স্বাধ্যায়ীর রক্তস্রোতে মিশে যায় এবং তাঁর জীবনে ও সত্তায় অঙ্গীভূত হয়।

ঙ. ঈশ্বর-প্রণিধান

প্রণিধান অর্থ অর্পণ । সমস্ত কর্ম ও ইচ্ছা ঈশ্বরে অর্পণ করার নাম ঈশ্বর প্রণিধান । ঈশ্বরে সব অর্পণ করলে অহং বা অহংকার নাশ হয় । ঈশ্বরে যাঁর বিশ্বাস আছে তাঁর জীবনে কখনও হতাশা আসে না । তাঁর জীবন তেজে ভরে ওঠে । যোগী তাঁর সমস্ত কর্ম ঈশ্বরে অর্পণ করেন । তাই তাঁর সমস্ত কর্মে তাঁর ভিতরকার দেবত্ব ফুটে ওঠে ।

৩. আসন

আসন অর্থ স্থির হয়ে সুখে অধিষ্ঠিত থাকা - স্থিরসুখ আসনম্ । দেহমনকে সুস্থ ও স্থির রাখার উদ্দেশ্যে যে বিভিন্ন দেহভঙ্গি বা দেহাবস্থান তাকে আসন বলে। আসনে শরীরে দৃঢ়তা আসে, শরীর নীরোগ ও লঘুভার হয় । একটা স্থির ও সুখকর ভঙ্গিতে কিছুক্ষণ অবস্থান করলে মানসিক ভারসাম্য সৃষ্টি হয় । আসনে শরীরে ও মনে সমন্বয় ঘটে । যোগী আসনে দেহকে জয় করে তাকে আত্মার বাহন হিসেবে গড়ে তোলেন। আসন নানা প্রকার । যেমন- পদ্মাসন, সুখাসন, গোমুখাসন, হলাসন ইত্যাদি । এই আসন অনুশীলনের মধ্য দিয়ে যোগীপুরুষ নিজ দেহ ও মনকে ঈশ্বর চিন্তায় নিবিষ্ট করার যোগ্যতা অর্জন করেন । যোগসাধনায় আসন অনুশীলন একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার । তবে কোনো গুরু বা যোগীর নিকট এই আসন প্রক্রিয়া শিক্ষা করা দরকার ।

৪. প্রাণায়াম

প্রাণায়াম অর্থ প্রাণের আয়াম । প্রাণ হলো শ্বাসরূপে গৃহীত বায়ু আর আয়াম হলো বিস্তার । সুতরাং প্রাণায়াম বলতে বোঝায় শ্বাস-প্রশ্বাসের বিস্তার। অর্থাৎ শ্বাস-প্রশ্বাসের স্বাভাবিক গতিকে নিয়ন্ত্রণ এবং নিজ আয়ত্তে আনাই প্রাণায়াম । প্রাণায়ামে শ্বাস-প্রশ্বাস বিস্তারিত অর্থাৎ দীর্ঘতর করা হয়। কারণ, যোগীর আয়ু দিনগণনায় স্থির হয় না, স্থির হয় শ্বাস গণনায় । কতবার তিনি শ্বাস গ্রহণ করলেন তা দিয়েই তাঁর আয়ু পরিমাপ করা হয় । যত বেশি তিনি শ্বাস গ্রহণ করবেন তত বেশি তাঁর আয়ুক্ষয় হবে । সেই কারণে তিনি ধীরে ধীরে গভীরভাবে ও ছন্দোবদ্ধভাবে শ্বাস গ্রহণ করেন । এইরকম ছন্দোবদ্ধভাবে শ্বাস গ্রহণ করলে শ্বসনতন্ত্র বলিষ্ঠ হয়, স্নায়ুতন্ত্র শান্ত থাকে এবং কামনাবাসনা হ্রাস পায় । রেচক, পূরক ও কুম্ভক-এই তিন প্রক্রিয়ার দ্বারা প্রাণায়াম সম্পন্ন হয় । শ্বাস গ্রহণকে বলে পূরক, শ্বাসত্যাগকে বলে রেচক এবং শ্বাস ধারণকে বলে কুম্ভক । প্রাণায়ামকে একধরনের বিজ্ঞান বলা যেতে পারে, শ্বাস-প্রশ্বাসের বিজ্ঞান। তবে সদ্‌গুরুর তত্ত্বাবধান ছাড়া কখনও পূরক-রেচক-কুম্ভক সমন্বিত প্রাণায়াম করা উচিত নয় ।

 

 

 

 

 

৫. প্রত্যাহার

প্রত্যাহার অর্থ ফিরিয়ে নেওয়া । বাহ্যিক বিষয়বস্তু থেকে ইন্দ্রিয়সমূহকে ভিতরের দিকে ফিরিয়ে নেওয়াকে যোগে প্রত্যাহার বলে । দৃঢ় সংকল্প ও অভ্যাসের দ্বারা ইন্দ্রিয়গুলোকে অন্তর্মুখী করা যায় । ইন্দ্রিয়গুলো অন্তর্মুখী হলে চিত্তে বিষয় আসক্তি নষ্ট হয় । এমতাবস্থায় চিত্ত আরাধ্য বস্তুতে নিবিষ্ট হতে পারে ।

৬. ধারণা

মনকে বিশেষ কোনো বিষয়ে স্থির করা বা আবদ্ধ রাখার নাম ধারণা । ধারণা অর্থ একাগ্রতা । একাগ্রতা ছাড়া জগতে কিছুই আয়ত্ত করা যায় না । কোনো বিষয় আয়ত্ত করতে হলে চিত্তবৃত্তিকে বিষয়ান্তর থেকে প্রত্যাহৃত করে ঐ বিষয়ে স্থাপন করতে হয় । ঈশ্বর লাভ করতে ঈশ্বরে একাগ্রচিত্ত হতে হয়। একাগ্রচিত্ত হতে হলে এক-তত্ত্ব অভ্যাস করতে হয় । নিজ দেহের অঙ্গবিশেষে যেমন- নাভি, নাকের অগ্রভাগ বা ভ্রূ- যুগলের মধ্যস্থানে অথবা কোনো দেবমূর্তি বা যে কোনো বস্তুতে মনকে নিবিষ্ট করা যেতে পারে । মনকে কোনো বিষয়ে দীর্ঘ সময় ধরে নিবিষ্ট রাখার অভ্যাসের দ্বারা যোগী অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছানোর যোগ্যতা অর্জন করে । ধারণা হচ্ছে ধ্যানের ভিত্তিস্বরূপ ।

৭. ধ্যান

ধ্যান অর্থ নিরবচ্ছিন্ন গভীর চিন্তা । মন যদি নিরবচ্ছিন্নভাবে ঈশ্বরের চিন্তা করে তাহলে দীর্ঘ চিন্তনের পর অন্তিমে ঈশ্বরোপম হতে পারে । ধ্যানে যোগীর দেহ শ্বাস-প্রশ্বাস ইন্দ্রিয় মন বিচারশক্তি অহংকার সবকিছু ঈশ্বরে লীন হয়ে যায় এবং তিনি এমন এক সচেতন অতিন্দ্রীয় অবস্থায় চলে যান যা ব্যাখ্যা করা যায় না। তখন পরম আনন্দ ছাড়া তাঁর আর কোনো অনুভূতি হয় না। তিনি তাঁর আপন অন্তরের আলোও দেখতে পান।

৮. সমাধি

সমাধি অর্থ সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরে চিত্তসমর্পণ । সম্পূর্ণরূপে ঈশ্বরে চিত্ত সমর্পণ করতে পারলে পরমাত্মার মধ্যে জীবাত্মার নিবেশ ঘটে, সাধকের অন্বেষণের শেষ হয় । ধ্যানের উত্যুঙ্গ শিখরে উঠে সাধক সমাধি লাভ করেন। তখন তিনি মনশূন্য, বুদ্ধিশূন্য, অহংশূন্য নিরাময় অবস্থা প্রাপ্ত হন । তখন পরমাত্মার সঙ্গে তাঁর মিলন ঘটে। তখন তাঁর ‘আমি' বা ‘আমার’ জ্ঞান থাকে না, কারণ তখন তাঁর দেহ, মন ও বুদ্ধি স্তব্ধ থাকে । সাধক তখন প্রকৃত যোগ লাভ করেন ।

পাঠ ৫ : অষ্টাঙ্গযোগের গুরুত্ব

অষ্টাঙ্গযোগ অনুসরণ ও অনুশীলনে মানুষের অশান্ত মন শান্ত হয় ও তার আত্মশক্তি বৃদ্ধি পায় ৷ প্ৰমত্তা নদীতে বাঁধ দিয়ে, খাল খনন করে যখন তাকে সঠিকভাবে বশে আনা হয় তখন এক বিশাল জলাধার সৃষ্টি হয়, সেই জলাধারের জলে ফসল ফলে, বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়, মানুষের জীবন সুখ ও সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠে । ঠিক তেমনি অষ্টাঙ্গযোগ পালন করে অশান্ত মনকে বশে আনতে পারা যায় বিধায় শান্তির পারাবার সৃষ্টি হয়, আত্মোন্নয়নে অপরিমেয় শক্তি লাভ করা যায় ।

 

 

 

 

 

অষ্টাঙ্গযোগ পালন না করে কোনো ব্যক্তিই যোগী হতে পারে না । যম এবং নিয়ম হচ্ছে অষ্টাঙ্গযোগের আধার। যম আর নিয়মে সাধকের ভাব আর আবেগ নিয়ন্ত্রিত হয়, জগতের অন্যসব মানুষের সঙ্গে তাঁর একটা ঐকতান সৃষ্টি হয়। আসনে দেহ ও মন সুস্থ সবল ও সতেজ হয়, তখন প্রকৃতির সঙ্গে তাঁর একটা ঐকতান সৃষ্টি হয় । শেষে তাঁর দেহসচেতনতা লুপ্ত হয়ে যায় । দেহকে তিনি জয় করে আত্মার বাহন হিসেবে প্রস্তুত করেন। প্রাণায়াম ও প্রত্যাহার সাধকের শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়মিত করে তাঁর মনকে বশে আনে । তাতে তাঁর ইন্দ্রিয়সমূহ বৈষয়িক আকাঙ্ক্ষার দাসত্ববন্ধন থেকে মুক্ত হয়। ধারণা, ধ্যান ও সমাধি সাধককে তাঁর আত্মার অন্তরতম প্রদেশে নিয়ে যায়। সাধক তখন ঈশ্বরানুসন্ধানে স্বর্গের দিকে তাকান না । তখন তাঁর উপলব্ধি হয় ঈশ্বর আছেন তাঁরই অন্তরে অন্তরাত্মা নামে ।

অষ্টাঙ্গযোগ ধর্ম, আধ্যাত্ম, মানবতা এবং বিজ্ঞানের প্রতি ক্ষেত্রেই নিজেকে প্রয়োজনীয় রূপে প্রমাণ করেছে । পৃথিবী থেকে খুন, সংঘর্ষ যদি কোনো উপায়ে বন্ধ করতে হয়, তাহলে সেটা অষ্টাঙ্গযোগের মাধ্যমেই সম্ভব । যদি পৃথিবীর সব লোক বাস্তবে এই ব্যাপারটা নিয়ে একমত হয় যে, বিশ্বে শান্তি স্থাপিত হওয়া উচিত, তাহলে তার একমাত্র সমাধানই হচ্ছে অষ্টাঙ্গযোগের চর্চা । অষ্টাঙ্গযোগে জীবনের সাধারণ ব্যবহার থেকে শুরু করে ধ্যান এবং সমাধি সহ আধ্যাত্মের উচ্চতম অবস্থাগুলোর অনুপম সমাবেশ রয়েছে । যদি কোনো ব্যক্তি নিজের অস্তিত্বের খোঁজ করে এবং জীবনের পূর্ণ সত্যের সঙ্গে পরিচিত হতে চায়, তাহলে তাঁর অষ্টাঙ্গযোগের পালন অবশ্যই করা উচিত ।

অষ্টাঙ্গযোগ দ্বারাই ব্যক্তিগত এবং সামাজিক একতা, শারীরিক সুস্থতা, বৌদ্ধিক জাগরণ, মানসিক শান্তি

এবং আত্মিক আনন্দের অনুভূতি হতে পারে ।

একক কাজ : অষ্টাঙ্গযোগ পালনের উপকারিতা লিখে একটি তালিকা তৈরি কর ।

নতুন শব্দঃ প্রতিপাদিত, আত্মকেন্দ্রিত, জাগতিক, সম্যক, শ্বসনতন্ত্র, প্রত্যাহৃত, ঈশ্বরোপম, লীন, অন্বেষণ,

উতুঙ্গ, নিরাময়, প্রমত্তা, পারাবার, ঐকতান, বৈষয়িক । পাঠ ৬ : বৃক্ষাসনের ধারণা, পদ্ধতি ও প্রভাব

বৃক্ষাসনের ধারণা ও পদ্ধতি

এই আসনে আসনকারীর দেহ বৃক্ষের ন্যায় হয় বলে, একে বৃক্ষাসন বলে ।

দুইপা জোড়া করে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে, পায়ের পাতা মাটিতে সমানভাবে লেগে থাকবে । এবার ডান পা হাঁটুতে ভেঙ্গে গোড়ালি বাঁ ঊরুমূলে রাখতে হবে, পায়ের পাতা ঊরুর সঙ্গে লেগে থাকবে, পায়ের আঙ্গুলগুলো থাকবে নিচের দিকে ফেরানো । এখন কেবল বাঁ পায়ের উপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে । এবার নমস্কারের ভঙ্গিতে হাতের তালু দুইটি জোড়া করে বুকের কাছে আনতে হবে, তারপর তালু দুটি জোড়া রেখে হাত দুইটি সোজা মাথার উপর নিতে হবে । শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে এইভাবে নিশ্চল হয়ে ১০ সেকেন্ড থাকতে হবে। পরে হাত নামিয়ে হাতের তালু দুইটি ছেড়ে দিয়ে ডান পা সোজা করে আবার আগের মতো দুপায়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে । এবার ঠিক একইভাবে ডান পায়ে দাঁড়িয়ে আসনটি করতে হবে । অর্থাৎ ডান পায়ে দাঁড়িয়ে বাঁ পা হাঁটুতে ভেঙ্গে গোড়ালি ডান ঊরুমূলে রাখতে হবে ।

 

 

 

এবারও শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে এইভাবে নিশ্চল হয়ে ১০ সেকেন্ড থাকতে হবে । আবার আগের মতো দুইপায়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে । শেষে শবাসনে ১০ সেকেন্ড বিশ্রাম নিতে হবে । এই হলো একবার । এই রকম তিনবার করতে হবে। ১০ সেকেন্ডে অভ্যস্ত হয়ে গেলে আস্তে আস্তে বাড়িয়ে ৩০ সেকেন্ড করতে হবে । বাঁ পায়ে যতক্ষণ করা হবে ডান পায়েও ততক্ষণ করতে হবে এবং ততক্ষণই শবাসনে বিশ্রাম নিতে হবে ।

একক কাজ : বৃক্ষাসনটি অনুশীলন করে দেখাও ।

প্রভাব

বৃক্ষাসন নিয়মিত অনুশীলন করলে -

১. শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখার ক্ষমতা বাড়ে ।

২. পায়ের পেশির দৃঢ়তা ও স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি পায় ।

৩. পায়ে জোর পাওয়া যায়, চলাফেরা করার ক্ষমতা বাড়ে । 

৪. উরুর সংযোগস্থলের স্থিতিস্থাপকতা বজায় রাখতে সাহায্য করে ।

৫. কোমরের ও মেরুদণ্ডের শক্তি বৃদ্ধি পায় ।

৬. হাতের ও পায়ের গঠন সুষ্ঠু ও সুন্দর হয় ।

৭. হাঁটু, কনুই, বগল সমস্ত স্নায়ুতন্ত্রীতে রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায় ও গ্রন্থি সবল,

নমনীয় হয় । 

৮. পায়ের ব্যথায় বিশেষ উপকার পাওয়া যায় এবং পায়ে কোনোদিন বাত হতে

পারে না ।

৯ । যাঁদের হাত-পা কাঁপে, পা দুর্বল তাঁদের খুব উপকার হয় ।

১০। রক্তে অত্যধিক কোলেস্টেরল থাকার দরুন বা অন্য কোনো কারণে পায়ের ধমনীতে যে শক্ত হলদে চর্বিজাতীয় পদার্থ জমে, যাকে অ্যাথেরোমা বলে, তা রোধ হয় । ফলে থ্রম্বোসিস হতে পারে না ।

একক কাজ : বৃক্ষাসন অনুশীলনের পাঁচটি উপকারিতা লেখ ।

নতুন শব্দ : বৃক্ষাসন, দৃঢ়তা, স্থিতিস্থাপকতা, স্নায়ুতন্ত্রী, গ্রন্থি, কোলেস্টেরল, ধমনী, অ্যাথেরোমা, থ্রম্বোসিস

 

 

 

 

 

পাঠ ৭ : অর্ধকূর্মাসনের ধারণা, পদ্ধতি ও প্রভাব

অর্ধকূর্মাসনের ধারণা ও পদ্ধতি

‘কূর্ম' অর্থ কচ্ছপ। এই আসনে আসনকারীর দেহ দেখতে অনেকটা কচ্ছপের পিঠের ন্যায় হয় বলে একে অর্ধকূর্মাসন বলে । হাঁটু গেড়ে বসতে হবে । দুই হাঁটু আর দুই পায়ের পাতা জোড়া থাকবে, নিতম্ব থাকবে গোড়ালির উপর । পায়ের তলা উপর দিকে ফেরানো থাকবে । হাত হাঁটুর উপর আরাম করে পাতা থাকবে । হাঁটু থেকে পায়ের আঙ্গুল পর্যন্ত সমস্ত অংশ মাটিতে লেগে থাকবে । এবার হাত দুটো সোজা করে দুই কানের পাশ দিয়ে মাথার উপর তুলতে হবে ।

নমস্কার করার ভঙ্গিতে এক হাতের তালু আর এক হাতের তালুর সঙ্গে লাগিয়ে এক হাতের বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে আর এক হাতের বুড়ো আঙ্গুল জড়িয়ে ধরতে হবে। হাত দুটো দুই কানের সঙ্গে লেগে থাকবে। মেরুদণ্ড সোজা থাকবে। তখন দেখাবে একটা মন্দিরের চূড়ার মতো । এবার হাত সোজা রেখে নিশ্বাস ছাড়তে ছাড়তে কোমর থেকে প্রণাম করার মতো ভঙ্গিতে কপাল মাটিতে ঠেকাতে হবে এবং হাতের সংযুক্ত তালু যতদূর সম্ভব দূরে মাটিতে রাখতে হবে । এ সময় যাতে নিতম্ব গোড়ালি থেকে উঠে না পড়ে এবং পেটে, বুকে, পাঁজরের দুইপাশে ও উরুতে হাল্কা চাপ পড়ে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে এই অবস্থায় নিশ্চল হয়ে ৩০ সেকেন্ড থাকতে হবে। এরপর নিঃশ্বাস নিতে নিতে আগের মতো বসতে হবে । তারপর হাত পা সোজা করে ৩০ সেকেন্ড শবাসনে বিশ্রাম নিতে হবে। এইভাবে তিনবার করতে হবে। উচ্চরক্তচাপ আছে এমন রোগীদের এই আসন করা নিষেধ ।

প্রভাব

অর্ধকূর্মাসন নিয়মিত অনুশীলন করলে-

১. শরীর অনেক শিথিল হয় ।

২. মেরুদণ্ড সতেজ হয় ।

৩. পেটের অভ্যন্তরীণ অংশগুলো সবল ও সক্রিয় হয় ।

৪. আসনকারী অনেক বেশি প্রাণশক্তি ও সুস্বাস্থ্য লাভ করে ।

৫. মস্তিষ্ক শান্ত হয় ।

৬. যকৃৎ ভালো থাকে ।

৭. অজীর্ণ, অম্বল, ক্ষুধামান্দ্য, কোষ্ঠকাঠিন্য, আমাশয় ইত্যাদি দূর হয় ।

৮. হজম শক্তি বাড়ে ।

 

 

 

 

৯. পেটে বায়ু থাকলে তার প্রকোপ কমে । ১০. হাঁপানি আর ডায়াবেটিসে উপকার হয় ।

১১. পায়ের পেশির ব্যথা ও হাড়ের বাত সারে ।

১২. কাঁধের পেশির ব্যথা ভালো হয় ।

১৩. পেটের ও নিতম্বের চর্বি কমে ।

১৪. পেট ও ঊরুর পেশি সবল হয় ।

১৫. মন অনেক ধীর, স্থির ও শান্ত হয় এবং সুখ ও দুঃখ সমানভাবে নিতে পারে ।

১৬. ভাবাবেগ, ভয়-ভীতি আর ক্রোধ আলগা হয় ।

১৭. আসনকারীকে আস্তে আস্তে দুঃখ-যন্ত্রণা থেকে মুক্ত করে, ভোগ-বিলাসের প্রতি উদাসীন করে।

১৮. যোগীকে তাঁর যোগ সাধনায় মনোনিবেশের জন্য প্রস্তুত করে ।

দলীয় কাজ : অর্ধকূর্মাসনের উপকারিতা লিখে পোস্টার তৈরি কর ।

নতুন শব্দ : কুর্ম, শিথিল, অজীর্ণ, অম্বল, কোষ্ঠকাঠিন্য, নিতম্ব, পাঁজর, প্রকোপ, যকৃৎ ।

পাঠ ৮ ও ৯ : গরুড়াসনের ধারণা, পদ্ধতি ও প্রভাব

গরুড়াসনের ধারণা ও পদ্ধতি

এই আসনে দেহভঙ্গী গরুড়-এর মতো হয়। তাই এর নাম গরুড়াসন ।

দুইপা জোড়া করে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে। ডান হাত কনুইয়ের কাছে ভেঙ্গে বাঁ কনুইয়ের নিচ দিয়ে নিয়ে গিয়ে ডান হাতের তালু বাঁ হাতের তালুতে নমস্কারের ভঙ্গিতে রাখতে হবে । এবার বাঁ পা মাটিতে রেখে ডান পা দিয়ে বাঁ পা পেঁচিয়ে ধরতে হবে। তারপর স্বাভাবিকভাবে দম নিতে ও ছাড়তে হবে। এ অবস্থানে ৩০ সেকেন্ড থাকতে হবে। হাত পা বদল করে আসনটি ৪ বার অভ্যাস করতে হবে এবং শবাসনে বিশ্রাম নিতে হবে ।

একক কাজ : গরুড়াসন অনুশীলন করে দেখাও ।

প্রভাব

গরুড়াসন নিয়মিত অনুশীলন করলে-

১. পায়ের ও হাতের গঠন সুন্দর হওয়ার সাথে সাথে তাদের শক্তি বৃদ্ধি পায় ৷

২. পায়ে বাত হতে পারে না ।

৩. পায়ের পেশিতে খিল ধরতে পারে না ।

 

 

 

৪. উরু, নিতম্ব, পেট আর হাতের উপরের দিক মজবুত হয় ।

৫. নিতম্ব, হাঁটু আর গোড়ালির গাঁটের নমনীয়তা বাড়ে ।

৬. কাঁধ শক্ত হয়ে গিয়ে থাকলে তা ভালো হয় ।

৭. বাঁকা মেরুদণ্ড সোজা হয় ।

৮. ব্রহ্মচর্য রক্ষা করা সহজ হয়।

৯. দেহ লম্বা হয়।

১০. দেহের ভারসাম্য ঠিক থাকে ।

১১. কিডনি ভালো থাকে ।

দলীয় কাজ : গরুড়াসনের উপকারিতাগুলো লেখ ।

হলাসনের ধারণা, পদ্ধতি ও প্রভাব

হলাসনের ধারণা ও পদ্ধতি

'হল' শব্দের অর্থ লাঙ্গল । এই আসনে দেহভঙ্গি অনেকটা হলের অর্থাৎ লাঙ্গলের মতো দেখায় বলে একে হলাসন বলে ।

পা দুটো সোজা করে চিৎ হয়ে শুয়ে পড়তে হবে । উরু, হাঁটু ও পায়ের পাতা জোড়া থাকবে। হাত দুটো সোজা করে শরীরের দু পাশে রাখতে হবে। এবার নিঃশ্বাস ছাড়তে ছাড়তে পা দুটো জোড়া ও সোজা অবস্থায় আস্তে আস্তে উপরে তুলতে হবে এবং মাথার পেছনে যতদূর সম্ভব দূরে নিতে হবে যেন পায়ের আঙ্গুলগুলো মাটি স্পর্শ করতে পারে । শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রেখে এই অবস্থায় ৩০ সেকেন্ড থাকতে হবে । এরপর আস্তে আস্তে পা নামিয়ে আগের অবস্থায় ফিরে যেতে হবে এবং শবাসনে ৩০ সেকেন্ড বিশ্রাম

 

 

 

 

নিতে হবে । এভাবে আসনটি তিনবার অনুশীলন করতে হবে। যাদের আমাশয়, হৃদরোগ, উচ্চরক্তচাপ

আছে এবং যাদের প্লীহা, যকৃৎ অস্বাভাবিক বড় তাদের আসনটি করা উচিত নয় ।

একক কাজ : হলাসনটি অনুশীলন করে দেখাও ।

প্রভাব

হলাসন নিয়মিত অনুশীলন করলে -

১. মেরুদণ্ডকে সুস্থ ও নমনীয় করে তোলে ।

২. মেরুদণ্ডের স্থিতি-স্থাপকতা বজায় থাকে ।

৩. মেরুদণ্ড সংলগ্ন স্নায়ুকেন্দ্র ও মেরুদণ্ডের দুপাশের পেশি সতেজ ও সক্রিয় হয় । ৪. কোষ্ঠবদ্ধতা, অজীর্ণ, পেট ফাঁপা প্রভৃতি পেটের যাবতীয় রোগ দূর হয় ।

৫. প্লীহা, যকৃৎ, মূত্রাশয় প্রভৃতির কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে ।

৬. থাইরয়েড, প্যারাথাইরয়েড, টনসিল প্রভৃতি গ্রন্থি সবল ও সক্রিয় হয় । ৭. পেট, কোমর ও নিতম্বের মেদ কমিয়ে দেহকে সুঠাম ও সুন্দর করে গড়ে তোলে ।

৮. ডায়াবেটিস, বাত বা সায়টিকা কোনো দিন হতে পারে না ।

৯. পিঠে ব্যথা থাকলে তা দূর হয় ।

১০. যাদের কাঁধ শক্ত হয়ে গেছে তাদের উপকার হয় ।

নতুন শব্দ : হল, প্লীহা, থাইরয়েড, প্যারাথাইরয়েড, কোষ্ঠবদ্ধতা ।

 

অনুশীলনী

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন :

১। ‘যোগই হলো আধ্যাত্মিক কামধেনু' – কে বলেছেন?

খ. ডক্টর সম্পূর্ণানন্দ

ক. ব্যাসদেব গ. মহর্ষি পতঞ্জলি ঘ. মহর্ষি যাজ্ঞবল্ক্য

২। অস্তেয় অর্থ কী?

ক. সম্যক তৃপ্তি গ. একাগ্রতা

খ. নিজেকে জানা

৩। কোনটি ধ্যানের ভিত্তি স্বরূপ?

ঘ. চুরি না করা

ক. নিয়ম

খ. আসন

গ. ধারণা

ঘ. প্রত্যাহার

 

 

 

নিচের অনুচ্ছেদটি পড় এবং ৪ ও ৫ নং প্রশ্নের উত্তর দাও :

নবম শ্রেণির ছাত্র সৌরভ সহজ-সরল ও সদালাপী। সে কখনো কাউকে কটু কথা বলে না এবং অন্যের ক্ষতির চিন্তা করে না। এমনকি বিড়াল এসে টেবিলে রাখা তার গ্লাসের দুধটুকু পান করতে থাকলে সে রাগ করে না। বরং আদর করে বিড়ালটিকে বাকি দুধটুকু পান করায়।

৪। সৌরভের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে যমের কোনটি লক্ষণীয়?

ক. অস্তেয়

খ. ব্ৰহ্মচর্য

গ. অহিংসা ঘ. অপরিগ্রহ ৫। যমের উক্ত গুণটির গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ এর দ্বারা -

i. আত্মোন্নয়ন ঘটে

ii. সমাজের শান্তি বজায় থাকে iii. বিশ্বের প্রতিটি বস্তুর প্রতি ভালোবাসা জাগ্রত হয়

নিচের কোনটি সঠিক?

ক. i

খ. i ও ii

ঘ. i, ii ও iii

গ. ii ও iii

সৃজনশীল প্রশ্ন :

ক. যোগের মাধ্যমে ঈশ্বর আরাধনার প্রক্রিয়াকে কী বলে?

খ. অষ্টাঙ্গযোগের একটি ধাপ ব্যাখ্যা কর ।

গ. যোগাসনটিতে কী ত্রুটি রয়েছে তা নিরূপণ কর।

ঘ. মানসিক শান্তি এবং শারীরিক সুস্থতা আনয়নে চিত্রের আসনটির সঠিক অনুশীলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ- বিশ্লেষণ

Related Question

View All
উত্তরঃ

অষ্টাঙ্গযোগের একটি ধাপ হলো যম। 'যম' অর্থ সংযত। সংযম হলো ইন্দ্রিয় এবং মনকে হিংসা, অশুভভাব ইত্যাদি থেকে সরিয়ে আত্মকেন্দ্রিক করা। যম পাঁচ প্রকার। যেমন- অহিংসা, সত্য, অস্তেয়, ব্রহ্মচর্য এবং অপরিগ্রহ।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
436
উত্তরঃ

চিত্রে প্রদত্ত যোগাসনটি অর্ধকূর্মাসন। 'কূর্ম' অর্থ কচ্ছপ। এ আসনে আসনকারীর দেহ দেখতে অনেকটা কচ্ছপের পিঠের ন্যায়। হয় বলে তাকে অর্ধকূর্মাসন বলে।

প্রদত্ত অর্ধকূর্মাসনের ত্রুটি হলো- নমস্কার করা হাত দুটো দু কানের সাথে লেগে থাকার কথা। আবার প্রণাম করার মতো ভঙ্গিতে কপাল মাটিতে ঠেকাতে হবে। কিন্তু চিত্রানুযায়ী নমস্কার করা হাত দুটোর উপরে মাথা খাড়া অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া প্রণাম করার মতো ভঙ্গিতে কপাল মাটিতে ঠেকানো নেই। ফলে যোগাসনটি ত্রুটিপূর্ণ। 

 

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
478
উত্তরঃ

চিত্রের আসনটির নাম অর্ধকূর্মাসন। মানসিক শান্তি এবং শারীরিক সুস্থতা আনয়নে অর্ধকূর্মাসন অনুশীলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অর্ধকূর্মাসন নিয়মিত অনুশীলন করলে যেসব উপকারিতা পাওয়া যায় তা হলো-

১. শরীর অনেক শিথিল হয়। 

২. মেরুদণ্ড সতেজ হয়। 

৩. পেটের অভ্যন্তরীণ অংশ সবল ও সক্রিয় হয়। 

৪. আসনকারী অনেক বেশি প্রাণশক্তি ও সুস্বাস্থ্য লাভ করে। 

৫. মস্তিষ্ক শান্ত হয়। ৬. যকৃৎ ভালো থাকে। 

৭. অজীর্ণ, অম্বল, অক্ষুধা, কোষ্ঠকাঠিন্য, আমাশয় ইত্যাদি দূর হয়। 

৮. হজমশক্তি বাড়ে। 

৯. পেটে বায়ু থাকলে তার প্রকোপ কমে। 

১০. হাঁপানি আর ডায়াবেটিসে উপকার হয়। 

১১. পায়ের পেশির ব্যথা ও হাড়ের বাত সারে। 

১২. কাঁধের পেশির ব্যথা ভালো হয়। 

১৩. পেট ও নিতম্বের চর্বি কমে। 

১৪. পেট ও উরুর পেশি সবল হয়। 

১৫. মন অনেক ধীর, স্থির ও শান্ত হয় এবং সুখ-দুঃখ সমানভাবে নিতে পারে। 

১৬. মনের ওপর ভাবাবেগ, ভয়ভীতি আর ক্রোধ আলগা হয়। 

১৭. আসনকারীকে আস্তে আস্তে দুঃখ-যন্ত্রণা থেকে মুক্ত করে, ভোগবিলাসের প্রতি উদাসীন করে। 

১৮. যোগীকে তাঁর যোগসাধনায় মনোনিবেশের জন্য প্রস্তুত করে।

তাই বলা যায়, মানসিক শান্তি ও শারীরিক সুস্থতা আনয়নে অর্ধকূর্মাসন সঠিকভাবে অনুশীলন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
474
উত্তরঃ

অপরের জিনিস না বলে অধিকার করাকে স্তেয় বা চুরি বলে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
257
উত্তরঃ

যোগের প্রত্যাহার অঙ্গের মাধ্যমে মনের ইচ্ছাকে আয়ত্তে আনা হয়। 'প্রত্যাহার' অর্থ ফিরিয়ে নেওয়া। বাহ্যিক বিষয়বস্তু থেকে ইন্দ্রিয়সমূহকে ভিতরের দিকে ফিরিয়ে নেওয়াকে যোগে প্রত্যাহার বলে। দৃঢ় সংকল্প ও অভ্যাসের দ্বারা ইন্দ্রিয়গুলোকে অন্তর্মুখী করা যায়। ইন্দ্রিয়গুলো অন্তর্মুখী হলে চিত্তে বিষয় আসক্তি নষ্ট হয় এবং মনের ইচ্ছাকে আয়ত্তে আনা যায়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
210
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews