উৎপাদন: উৎপাদন বলতে মূলত উপযোগ সৃষ্টি করাকে বুঝায়।
পৃথিবীর সব বস্তু মৌলিকভাবে প্রকৃতি প্রদত্ত। মানুষ নতুন কোনো কিছু সৃষ্টি করতে পারে না। সে কেবল নিজের বুদ্ধি ও কারিগরি জ্ঞানের সাহায্যে কোনো বস্তুতে অতিরিক্ত উপযোগ সংযোজন ঘটাতে পারে। অর্থনীতিতে এ অতিরিক্ত উপযোগ সৃষ্টি করাকে উৎপাদন বলে। সুতরাং প্রাথমিক দ্রব্য ব্যবহার করে নতুন কোনো দ্রব্য বা উপযোগ সৃষ্টি করাকে উৎপাদন বলে।
উপকরণ: কোনো কিছু তৈরি করতে যেসব উপাদান প্রয়োজন হয় সেগুলোকে উপকরণ বলে। যেমন- আটা, লবণ, পানি, বেলুন ইত্যাদি ব্যবহার করে রুটি বানানো হয়। এগুলো হলো রুটি বানানোর উপকরণ। অতএব কোনো কিছু উৎপাদনের জন্যে যেসব দ্রব্য বা সেবাকর্ম প্রয়োজন হয় সেগুলোকে উৎপাদনের উপকরণ বলে।
কৃষি উৎপাদনের জন্যে প্রধান উপকরণ হলো জমি। ফসল উৎপাদনের জন্যে উপকরণ হিসাবে- বীজ, সার, পানি, সেচ, কীটনাশক, ফসল কাটা ও মাড়াইযন্ত্র, শ্রমিক ইত্যাদি উপকরণের প্রয়োজন হয়।
সংগঠককে স্বমন্বয়কারী বলে। যে ব্যক্তি কারবারের পরিকল্পনা প্রণয়ন থেকে শুরু করে নীতি নির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ, কারবার প্রতিষ্ঠা, ব্যবসায়ের তত্ত্বাবধান ও ঝুঁকি বহন প্রভৃতি দায়িত্ব পালন, করেন তাকে সংগঠক, বলে।
উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অন্যান্য উপকরণ স্থির রেখে একটি উপকরণ বৃদ্ধি করা থাকলে মোট উৎপাদন এক পর্যায়ে ক্রমহ্রাসমান হারে রাড়ে তাই প্রান্তিক উৎপাদন ক্রমহ্রাসমান হয়। উৎপাদনের প্রথম দিকে শ্রমের পরিমাণ কম থাকায় প্রান্তিক শ্রম বাড়লে তার জন্য উৎপাদন পর্যাপ্ত থাকে। কিন্তু উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ক্রমাগত বেশি পরিমাণ উপকরণ নিয়োগ করলে প্রান্তিক উৎপাদন কমে যায়। এর কারণে প্রান্তিক উৎপাদন ক্রমহ্রাসমান হয়।
উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অন্যান্য উপকরণ স্থির রেখে একটি উপকরণ বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন প্রাথমিকভাবে ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ে। এক পর্যায়ে 'উপকরণ বাড়ালে উৎপাদন ক্রমহ্রাসমান হারে বাড়ে। উপকরণ ব্যবহারের সাথে উৎপাদন বাড়ার এ নিয়মকে অর্থনীতিতে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধি বলে। ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধিতে নিচের তিনটি অবস্থার সৃষ্টি হয়। যেমন- প্রথম স্তরে মোট উৎপাদন বৃদ্ধি ক্রমবর্ধমান হয়। দ্বিতীয় স্তরে মোট উৎপাদন বৃদ্ধি সর্বোচ্চ হয়। তৃতীয় স্তরে মোট উৎপাদন বৃদ্ধি ক্রমহ্রাসমান হয়। এটাই ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধির মূল কথা।
প্রকাশ্য ব্যয়: কোনো উৎপাদনী প্রতিষ্ঠান ভাড়া বা উপকরণ ক্রয়ের জন্যে দৃশ্যমান যে ব্যয় করেন এদের সমষ্টিকে প্রকাশ্য ব্যয় বলে। যেমন- উৎপাদনী প্রতিষ্ঠান বা ফার্মে কর্মরত মানুষের বেতন ও ভাতাদি, কাঁচামাল, মাধ্যমিক দ্রব্য ক্রয়ের জন্যে ব্যয়, বিভিন্ন ধরনের স্থির ব্যয় যেমন, বাড়ি ভাড়া, মূলধনের সুদ ইত্যাদি প্রকাশ্য ব্যয়।
অপ্রকাশ্য ব্যয়: অপ্রকাশ্য ব্যয় বলতে উদ্যোক্তার নিজের শ্রমের মূল্য ও অন্যান্য ব্যয়, স্ব-নিয়োজিত সম্পদের খরচ যেমন- নিজের বাড়িতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কারখানা স্থাপন, অফিস বানানো ইত্যাদি প্রকাশ করে। এ ধরনের ব্যয় ফার্মের হিসাব বইতে থাকে না।
সামাজিক ব্যয় | ব্যক্তিগত ব্যয় |
উৎপাদন বা ভোগ করতে গেলে উৎপাদন বা ভোগ প্রক্রিয়ার বাইরে সমাজের নানা ব্যক্তি অনেক সময় পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে গেলে যে অর্থের প্রয়োজন পড়ে, তার মোট পরিমাণই হলো সামাজিক ব্যয়। উদাহরণ: মোটরগাড়ির ধোঁয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত সমাজের স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বাবদ ব্যয়। | কোন ফার্ম বা উৎপাদনী প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সম্পদ বা উপকরণ ক্রয়ের জন্য সরাসরি যে পরিমাণ আর্থিক ব্যয় এবং অন্যান্য অপ্রকাশ্য ব্যয় করে তার সমষ্টিকে ব্যক্তিগত ব্যয় বলে। উদাহরণ: উৎপাদন ব্যয়, কারখানা স্থাপন ব্যয় ইত্যাদি। |
সাধারণ অর্থে উৎপাদন বলতে কোনো কিছু সৃষ্টি করাকে বোঝায়। কিন্তু মানুষ কোনো কিছু সৃষ্টি বা ধ্বংস করতে পারে না। মানুষ শুধু নতুন উপযোগ সৃষ্টি করতে পারে। তাই বলা হয়, প্রকৃতি প্রদত্ত বস্তুর সাথে অতিরিক্ত উপযোগ সংযোজনই হলো উৎপাদন। যেমন- কাঠকে না পুড়িয়ে আসবাবপত্র তৈরি করে উপযোগ সৃষ্টি করতে পারে। আসবাবপত্র তৈরি করে যে অতিরিক্ত উপযোগ সৃষ্টি করা হয় তা-ই অর্থনীতিতে উৎপাদন।
কোনো জিনিসের আকার, আকৃতি পরিবর্তন করে যে বাড়তি উপযোগ সৃষ্টি করা হয় তা-ই রূপগত উপযোগ। প্রকৃতপক্ষে মানুষ কোনো কিছু সৃষ্টি বা ধ্বংস করতে পারে না। শুধু দ্রব্যের রূপ পরিবর্তন করে ব্যবহারের উপযোগী করতে পারে। অর্থাৎ, রূপগত উপযোগ সৃষ্টি করতে হলে দ্রব্যের আকৃতি পরিবর্তন আবশ্যক। যেমন: কাঠকে পরিবর্তন করে খাট, চেয়ার, টেবিল বানানো হয়।
প্রকৃতি প্রদত্ত রস্তুর রূপ বা আকার পরিবর্তন করে যে উপযোগ সৃষ্টি করা হয় তাই হলো রূপগত উপযোগ। কোনো বস্তুর রূপ পরিবর্তনের মাধ্যমে তা ব্যবহার উপযোগী হয়। যেমন: চীনামাটির আকার পরিবর্তন করে ব্যবহার উপযোগী বাসন তৈরি করা হয়। তাই চীনামাটি থেকে বাসন-কোসন তৈরি রূপগত উপযোগ।
দ্রব্য ও সেবার মালিকানা পরিবর্তন করে যে অতিরিক্ত উপযোগ সৃষ্টি করা হলো মালিকানাগত উপযোগ। অব্যবহৃত জমি কিনে নিয়েএকজন কৃষক চাষাবাদ করে উৎপাদন করতে পারে। অথবা ব্যবহৃত জমি কিনে আরো ভালোভাবে চাষাবাদের মাধ্যমে উৎপাদন বাড়াতে পারে। এভাবে মালিকানা পরিবর্তন করে অতিরিক্ত উৎপাদন তথা মালিকানাগত উপযোগ সৃষ্টি হয়।
সময়ের ব্যবধানের ফলে, যে অতিরিক্ত উপযোগ সৃষ্টি হয় তাই হলো সময়গত উপযোগ। যেমন- অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসে ধানের মৌসুমে সরবরাহ বেশি হয়। এই সময়ে ধানের দাম কম থাকে। তবে এই ধান ভাদ্র-আশ্বিন মাসে বিক্রি করলে বেশি দাম পাওয়া যায়। ফলে সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে দ্রব্যের উপযোগ বাড়ে। তাই বলা যায়, এক মৌসুমের ধান অন্য মৌসুমে বিক্রি করে সময়গত উপযোগে তৈরি হয়'।
স্থান পরিবর্তন করে দ্রব্যের স্থানগত উপযোগ বাড়ানো যায়। *যেমন: বনের কাঠ বাজারে এনে আকর্ষণীয় আসবাবপত্র তৈরি করা যায়। বনে কাঠের মূল্য কম থাকলেও বাজারে আসবাবপত্রের মূল্য রয়েছে। বনের কাঠ বাজারে আনার ফলে এর উপযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এভাবে স্থান পরিবর্তন করে দ্রব্যের উপযোগ বৃদ্ধি করা যায়।
সাগর থেকে মাছ ধরে শুঁটকি তৈরি করা রূপগত উপযোগ। দ্রব্যের রূপ পরিবর্তনের মাধ্যমে নতুন দ্রব্য উৎপাদন করাই হলো রূপগত উপযোগ। সাগর থেকে মাছ ধরে রোদে শুকিয়ে শুঁটকি তৈরি করা হয়। এতে মাছের রূপ পরিবর্তন হয়ে খাওয়ার উপযোগী হয়। এভাবে শুঁটকি তৈরি করায় রূপগত উপযোগ সৃষ্টি হয়।
উপযোগ সৃষ্টির প্রক্রিয়া হলো উৎপাদন। উপকরণ বা প্রাথমিক দ্রব্য ব্যবহার করে নতুন কোনো দ্রব্য বা উপযোগ সৃষ্টি করাকে উৎপাদন বলে। অর্থাৎ উৎপাদন প্রক্রিয়ায় উপকরণ বা প্রাথমিক দ্রব্য থেকে নতুন উপযোগ সৃষ্টি করা হয়। বিভিন্নভাবে উপযোগ সৃষ্টি করা যায়। যেমন: উপকরণের রূপগত পরিবর্তন সাধন, দ্রব্যের স্থান ও মালিকানা পরিবর্তন প্রভৃতি।
মানুষ তার শ্রম ও সেবা কর্মের মাধ্যমে যে উপযোগ সৃষ্টি করে তাকে সেবাগত উপযোগ বলে। গ্রাহক যখন সেবা পেয়ে তৃপ্ত বা সন্তুষ্ট হয় তখন সেবাগত উপযোগ সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে সেবা দাতা তার সেবার মালিকানা হস্তান্তর না করে অভাব পূরণ করে। পণ্যের মতো সেবাগত উপযোগের বিনিময় মূল্য রয়েছে। যেমন: ডাক্তারের চিকিৎসা, শিক্ষকের পাঠদান, আইনি পরামর্শ গ্রহণ প্রভৃতি সেবাগত উপযোগ।
উৎপাদনে সাহায্য করে এমন সব প্রাকৃতিক সম্পদই হলো অর্থনীতিতে ভূমি। এটি মানুষ সৃষ্টি করতে পারে না। জমি, মাটি, মাটির উর্বরাশক্তি, খনিজ দ্রব্য, বনজ ও জলজসম্পদ, সূর্যকিরণ, বৃষ্টিপাত, আবহাওয়া প্রভৃতি সব রকম প্রাকৃতিক সম্পদ-ভূমির অন্তর্গত। তাই বলা যায়, ভূমি প্রকৃতির দান।
উৎপাদনের উপকরণ বলতে উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত দ্রব্য বা সেবাকর্মকে বোঝায়। কোনো দ্রব্য উৎপাদনের জন্য উৎপাদনের উপকরণ প্রয়োজন। উৎপাদনের উপকরণকে চার ভাগে ভাগ করা হয়। যথা: ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন। এ চারটি উপকরণের যেকোনো একটি উপকরণ না থাকলে উৎপাদন করা সম্ভব নয়।
পেন্সিল তৈরির একটি উপকরণ হলো গ্রাফাইট। এটি একটি খনিজ সম্পদ। এই সম্পদ ভূমি হিসেবে গণ্য। এরপর এটি তৈরি করতে শ্রমিকের শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রমের প্রয়োজন হয়। পেন্সিল উৎপাদন করতে যে যন্ত্রপাতির ব্যবহার প্রয়োজন তা অর্থনীতির ভাষায় মূলধন নামে পরিচিত। সর্বশেষে এসব উপকরণগুলোর সমন্বয়সাধন বা তদারকির জন্য প্রয়োজন হয় সংগঠনের। তাই বলা যায়, পেন্সিল তৈরিতে উৎপাদনের চারটি উপকরণ অর্থাৎ ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠনের ব্যবহার হয়।
মাটি বা ভূমি' বলতে সাধারণভাবে ভূপৃষ্ঠকে বোঝায়। কিন্তু অর্থনীতিতে মাটি বলতে উৎপাদনের সহায়ক সব রকমের প্রাকৃতিক সম্পদকে বোঝায়। যেমন: ভূপৃষ্ঠ, আবহাওয়া, জলবায়ু, বৃষ্টিপাত, উর্বরাশক্তি ইত্যাদি। ভূমি ছাড়া উৎপাদন সম্ভব নয়। তাই মাটিকে উৎপাদনের উপাদান বলা হয়।
অর্থনীতিতে ভূমি বলতে প্রকৃতির সব দানকেই বোঝায়। এগুলো মানুষ সৃষ্টি করতে পারে না এবং এগুলো উৎপাদনে সহায়ক। যেমন-মাটি, মাটির উর্বরা শক্তি, খনিজ দ্রব্য, বনজ ও জলজ সম্পদ, সূর্যকিরণ, বৃষ্টিপাত, আবহাওয়া ইত্যাদি। এসব প্রাকৃতিক সম্পদ ভূমির অন্তর্ভুক্ত। তাই আবহাওয়া উৎপাদনের ভূমি উপকরণ।
মূলধন এমন এক সম্পদকে নির্দেশ করে, যা মানুষসৃষ্ট, প্রকৃতি প্রদত্ত নয়। যেমন- যন্ত্রপাতি, কলকারখানা, কাঁচামাল ইত্যাদি হলো মূলধন। এগুলো সরাসরি ভোগযোগ্য নয়; বরং এগুলো নতুন উৎপাদনে সহায়তা করে। তাই উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত মানুষসৃষ্ট বিভিন্ন দ্রব্যসামগ্রীসহ অর্থের ঐ অংশও মূলধন হিসেবে বিবেচিত হয়। এটি নতুন উৎপাদনের কাজে নিয়োজিত করা হয়। এ কারণে মূলধনকে উৎপাদনের উৎপাদিত উপকরণ বলা হয়।
শ্রমের গতিশীলতা বলতে বোঝায় শ্রমিকের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় কাজের সুযোগ সৃষ্টি। বৃহদায়তন শিল্পের উৎপাদন পদ্ধতিতে শ্রমবিভাগ একটি আধুনিক উৎপাদন পদ্ধতি। এতে উৎপাদন প্রক্রিয়া ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র অংশে বিভক্ত হয়ে পড়ে বলে বিভিন্ন শিল্পে অনেক ধরনের কাজের মিল দেখা যায়। এতে এক শিল্পের শ্রমিক অন্য শিল্পে সহজেই কাজের সুযোগ পায়। এটিই শ্রমের গতিশীলতা।
শ্রম উৎপাদনের একটি জীবন্ত উপকরণ। শ্রমিকের মধ্যেই শ্রম দানের ক্ষমতা নিহিত থাকে। শ্রমিক ও শ্রমকে বিচ্ছিন্ন করার উপায় নেই।
যেমন: একটি পশু ক্রয় করলে তার মালিক হওয়া যায়। কিন্তু মজুরির বদলে, একজন শ্রমিকের সেবাই নেওয়া যায় কিন্তু তার দেহ ও মনের ওপর অধিকার জন্মায় না। সুতরাং, শ্রমিক শ্রম বিক্রয় করে নিজেকে নয়।
উৎপাদনের পরিমাণ প্রকৃতপক্ষে মূলধনের ওপরে নির্ভর করে বলে মূলধন ছাড়া উৎপাদন সম্ভব নয়। উৎপাদনের মৌলিক উপকরণ চারটি।
যেমন: ভূমি, শ্রম, মূলধন ও সংগঠন। এগুলোর মধ্যে যেকোনো একটির অভাব হলে উৎপাদন সম্ভব নয়। উদাহরণস্বরূপ একজন সংগঠকের ভূমি ও শ্রম আছে। কিন্তু মূলধন (যেমন- যন্ত্রপাতি, বীজ) নেই। তাহলে সে কোনো দ্রব্যই উৎপাদন করতে পারবে না। মূলধন ছাড়া ভূমি এবং শ্রমকে সম্পূর্ণরূপে উৎপাদন কাজে নিয়োজিত করা যায় না। তাই বলা যায়, মূলধন ব্যতীত উৎপাদন সম্ভব নয়।
উৎপাদন ক্ষেত্রে ভূমি, শ্রম ও মূলধনকে সমন্বয় করে উৎপাদন পরিচালনা করাই হলো সংগঠন। যে ব্যক্তি এ কাজটি সম্পাদন করে থাকেন তাকে সংগঠক বলা হয়। আর সংগঠকই উৎপাদনের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত সব কাজের দায়িত্ব নেন। তাই, উৎপাদনের চতুর্থ উপাদান সংগঠনকে উদ্যোক্তা বলা হয়।
উৎপাদনে সাহায্য করে এমন সব প্রাকৃতিক সম্পদই হলো ভূমি।
যেমন: মাটি, খনিজ দ্রব্য, সূর্য কিরণ, আবহাওয়া প্রভৃতি সব রকম প্রাকৃতিক সম্পদ ভূমির অন্তর্ভুক্ত। তেমনি বৃষ্টিপাত একটি প্রাকৃতিক সম্পদ। এটি উৎপাদনে সাহায্য করে। এটি উৎপাদনের ভূমি উপকরণের অন্তর্ভুক্ত। তাই, বৃষ্টিপাত হলো উৎপাদনের ভূমি উপকরণ।
বাংলাদেশের উৎপাদন ব্যবস্থা শ্রমনিবিড় বলে মূলধনের তুলনায় ভূমি ও শ্রমের গুরুত্ব বেশি। বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান ও জনবহুল দেশ। দেশের জনসংখ্যা বেশি হওয়ায় কম খরচে শ্রমিক পাওয়া যায়। মূলধন স্বল্পতার কারণে ভূমি ও শ্রমিক ব্যবহার করে উৎপাদন কাজ পরিচালিত হয়। তাই বাংলাদেশের উৎপাদন ব্যবস্থায় মূলধনের তুলনায় ভূমি ও শ্রমের গুরুত্ব বেশি।
উৎপাদন ব্যবস্থা মূলধন নিবিড় হওয়ায় জাপানে ভূমি ও শ্রমের তুলনায় মূলধনের গুরুত্ব বেশি। জাপানে ভূমির পরিমাণ তুলনামূলক কম এবং শ্রমের চাহিদা কম। উৎপাদন বৃদ্ধি করতে জাপান মূলধননিবিড় দ্রব্যে বিনিয়োগ করে থাকে। প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতা কাজে লাগিয়ে মূলধননিবিড় দ্রব্যের উৎপাদন বেশি করে। তাই, জাপানে ভূমি ও শ্রমের তুলনায় মূলধনের গুরুত্ব বেশি।
অর্থনীতিতে ভূমি বলতে উৎপাদনের সহায়ক সব রকমের প্রাকৃতিক সম্পদকে বোঝায়। যেমন: ভূপৃষ্ঠ, আবহাওয়া, জলবায়ু, বৃষ্টিপাত, মাটির উর্বরাশক্তি, খনিজ, পাহাড়, বন ইত্যাদি। কারণ ভূমি প্রকৃতি প্রদত্ত সম্পদ'। ভূমির কোনো একটি বিষয়ও মানুষ তৈরি, সৃষ্টি বা রদবদল করতে পারে না। তাই ভূমিকে উৎপাদনের মৌলিক উপাদান বলা হয়।
উৎপাদন কাজ পরিচালনার জন্য উৎপাদনের উপকরণগুলোর মধ্যে সুষ্ঠু সমন্বয়ের কাজই হচ্ছে সংগঠন। যেমন: 'A' তার কারখানায় সার উৎপাদন করে। এক্ষেত্রে প্রয়োজন কারখানা, কারখানায় কর্মরত শ্রমিক, কাঁচামাল বা যন্ত্রপাতি। ফলে 'A' যে প্রক্রিয়ায় সার উৎপাদন করে সেটি হলো সংগঠন। সুতরাং, উৎপাদন ক্ষেত্রে ভূমি, শ্রম, মূলধন ইত্যাদি উপকরণের মধ্যে উপযুক্ত সমন্বয় ঘটিয়ে উৎপাদন কাজ পরিচালনা করাকে সংগঠন বলে।
উৎপাদনক্ষেত্রে কর্মীর দক্ষতা ও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজের ভার অর্পণ করাকে কর্তব্য বণ্টন বলে। উৎপাদনক্ষেত্রে প্রতিটি কর্মীকে একটি নির্দিষ্ট কাজের ভার অর্পণ করা হয়। অভিজ্ঞতা, দক্ষতা অনুসারে প্রতিটি বিভাগ ও উপবিভাগের কর্মীকে সুনির্দিষ্ট কর্তব্য স্থির করে দেওয়া হয়। যে কর্মী যে কাজে অভিজ্ঞ ও দক্ষ তাকে সেই কাজ দেওয়া হয়। ফলে কর্মীদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পায়।
সংগঠন ব্যবস্থাপনা যত সুন্দর ও সুষ্ঠু হবে, ব্যবসায়ের সাফল্য তত বেশি হবে। সংগঠনই হলো ব্যবসায়ের মালিক ও প্রধান বিষয়। তাছাড়া উৎপাদনের বিভিন্ন উপকরণ যেমন: ভূমি, শ্রম ও মূলধন সংগ্রহ এবং এদের মধ্যে সমন্বয় করে থাকে সংগঠন। সত্যিকার অর্থে, সংগঠন ছাড়া উৎপাদন ও ব্যবসায় নিয়ন্ত্রণ এবং পরিচালনা প্রায় অসম্ভব। অর্থাৎ, সংগঠনই হচ্ছে ব্যবসায় কিংবা উৎপাদনের মূল ভিত্তি।
সংগঠন উৎপাদনের চতুর্থ উপাদান। এর মাধ্যমে উৎপাদনের উপাদানগুলোকে একত্র ও সমন্বয় করা হয়। প্রকৃতপক্ষে সংগঠক উৎপাদনের পরিকল্পনা থেকে শুরু করে নীতি নির্ধারণ, সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। পাশাপাশি উৎপাদন কাজের তত্ত্বাবধান ও ঝুঁকি গ্রহণ প্রভৃতি দায়িত্ব সম্পাদন করেন। এসব কাজ সম্পাদনের জন্য সংগঠককে সমন্বয়কারী বলে।
সাধারণভাবে মোট উৎপাদনকে TP দ্বারা প্রকাশ করা হয়। নির্দিষ্ট পরিমাণ উপকরণ ব্যবহার করে একটি ফার্ম যে পরিমাণ দ্রব্য উৎপাদন করে তাকে মোট উৎপাদন বলে। যেমন: ১ম, ২য় ও ৩য় একক শ্রম নিয়োগ করে উৎপাদন যথাক্রমে ১০ একক, ৯ একক ও ৮ একক পাওয়া যায়। সেক্ষেত্রে TP = ১০ একক +৯ একক +৮ একক = ২৭ একক হয়। এভাবে মোট উৎপাদন (TP) পাওয়া যায়।
উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অন্যান্য উপকরণ স্থির রেখে একটি উপকরণ বৃদ্ধি করা হলে মোট উৎপাদন এক পর্যায়ে ক্রমহ্রাসমান হারে বাড়ে।
যেমন: উৎপাদনের প্রথম দিকে শ্রমের পরিমাণ কম থাকায় প্রান্তিক শ্রম বাড়লে তার জন্য উৎপাদন পর্যাপ্ত থাকে। কিন্তু উৎপাদন বাড়ানোর জন্য ক্রমাগত বেশি পরিমাণ উপকরণ নিয়োগ করলে প্রান্তিক উৎপাদন কমে যায়। এ কারণে প্রান্তিক উৎপাদন ক্রমহ্রাসমান হয়।
গড় ও প্রান্তিক উৎপাদনের মধ্যে ধনাত্মক সম্পর্ক বিদ্যমান। মোট উৎপাদনের পরিমাণকে মোট উপকরণ দিয়ে ভাগ করলে যা পাওয়া যায় তা-ই হলো গড় উৎপাদন। আর অতিরিক্ত এক একক উপকরণ নিয়োগের ফলে যে অতিরিক্ত উৎপাদন পাওয়া যায় তা-ই হলো প্রান্তিক উৎপাদন। প্রান্তিক উৎপাদন বাড়তে থাকলে গড় উৎপাদনও বাড়তে থাকে। আবার প্রান্তিক উৎপাদন যখন কমতে থাকে তখন গড় উৎপাদনও কমতে থাকে। গড় উৎপাদন যখন সবচেয়ে বেশি হয়, তখন গড় ও প্রান্তিক উৎপাদন সমান হয়।
অতিরিক্ত এক একক উপকরণ নিয়োগের ফলে যে অতিরিক্ত উৎপাদন পাওয়া যায় তা-ই হলো প্রান্তিক উৎপাদন। প্রান্তিক উৎপাদন - মূলত উপকরণের সর্বশেষ একক থেকে প্রাপ্ত উৎপাদনের পরিমাণ। উদাহরণস্বরূপ, কোনো উৎপাদনক্ষেত্রে শ্রমিকের সংখ্যা ১০ জন থেকে ১১ জনে উন্নীত করায় উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়ে ৩০ মণ থেকে ৩২ মণ হয়। তাহলে এক্ষেত্রে প্রান্তিক উৎপাদন হলো (৩২-৩০) = ২ মণ।
মোট উৎপাদন ও গড় উৎপাদনের মধ্যে কিছু ভিন্নতা রয়েছে। বিভিন্ন উপকরণ নিয়োগের দ্বারা যে উৎপাদন পাওয়া যায় তা মোট উৎপাদন। আর মোট উৎপাদনের পরিমাণকে মোট উপকরণ দ্বারা ভাগ করলে গড় উৎপাদন পাওয়া যায়। মোট উৎপাদন সাধারণত সব উপকরণ থেকে প্রাপ্ত উৎপাদনের সমষ্টি। আর গড় উৎপাদন হলো উপকরণপ্রতি উৎপাদন। গড় উৎপাদন মোট উৎপাদনের ওপর নির্ভর করে। কিন্তু মোট উৎপাদন গড় উৎপাদনের ওপর নির্ভর করে না।
ভোগের পরিমাণ বৃদ্ধির ফলে প্রান্তিক উপযোগ কমে যাওয়ার প্রবণতা হলো ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদনবিধি। মনে করি, ভূমি ও শ্রম দুটি উপকরণ আছে। উৎপাদনক্ষেত্রে ভূমিকে স্থির রেখে শ্রমের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করা হলে মোট উৎপাদন প্রথম পর্যায়ে ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পায়। পরে ঐ জমিতে আরও শ্রম নিয়োগ করা হলে মোট উৎপাদন ক্রমহ্রাসমান হারে বাড়ে। উপকরণ ব্যবহারের সাথে উৎপাদন বাড়ার এ নিয়মকে অর্থনীতিতে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদনবিধি বলা হয়।
উদ্যোক্তার নিজের শ্রমের মূল্য, অন্যান্য ব্যয় ও স্বনিয়োজিত সম্পদের খরচকে অপ্রকাশ্য ব্যয় বলে। অপ্রকাশ্য ব্যয় দৃশ্যমান থাকে না। তাই এ ব্যয় ফার্মের হিসাব বইয়ে থাকে না। নিজের বাড়িতে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, - কারখানা স্থাপন, অফিস বানানো ইত্যাদি অপ্রকাশ্য ব্যয়।
কোনো উৎপাদনী প্রতিষ্ঠান ভাড়া বা উপকরণ ক্রয়ের জন্য দৃশ্যমান ব্যয়ের সমষ্টিই হলো প্রকাশ্য ব্যয়। যেমন: প্রতিষ্ঠানের ভাড়া, - শ্রমিকের বেতন ও কাঁচামালাবাবদ খরচ। আর অপ্রকাশ্য ব্যয় বলতে - উদ্যোক্তার নিজের শ্রমের মূল্য ও অন্যান্য ব্যয়কে বোঝায়। যেমন: - ব্যক্তিমালিকানাধীন ফার্মের ক্ষেত্রে ব্যক্তির নিজের বেতন পৃথকভাবে হিসাব করে না। তার পারিশ্রমিক মুনাফা হিসেবে গণ্য হয়। এক্ষেত্রে মালিকের যেকোনো ধরনের ভাতাদি অপ্রকাশ্য ব্যয় হিসাবে গণ্য হয়। তাই বলা যায় প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য ব্যয় এক নয়।
কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ দ্রব্য উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন উপকরণ, ব্যবহার বাবদ জন্য যে ব্যয় হয় তা-ই হলো উৎপাদন ব্যয়। কোনো দ্রব্য উৎপাদন করতে গেলে উৎপাদনকারীকে বিভিন্ন উপকরণ সংগ্রহ করতে হয়। যেকোনো দ্রব্য উৎপাদনের জন্য কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি ক্রয়, জমির খাজনা, শ্রমিকের মজুরি, মূলধনের সুদ প্রভৃতি বাবদ অর্থ ব্যয় করতে হয়। উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত সব ব্যয়ই উৎপাদন ব্যয়।
উৎপাদনের যেসব উপকরণের ব্যয় আর্থিক মূল্যে হিসাব করা যায় না তা-ই হলো প্রকৃত উৎপাদন ব্যয়। প্রকৃত উৎপাদন ব্যয় একটি মানসিক ধারণা। এটিকে টাকার অঙ্কে পরিমাপ করা যায় না। যেমন- একজন লেখক বই লেখার সময় আরাম, আনন্দ, বিশ্রাম, ঘুম ইত্যাদি ত্যাগ করে থাকেন। আবার শ্রমিক শ্রম জোগান দিতে বিশ্রাম ও আরাম ত্যাগ করেন। এ ধরনের ব্যয়কে সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রকৃত উৎপাদন ব্যয় বলে।
উদ্যোক্তার নিজের শ্রমের মূল্য, অন্যান্য ব্যয় ও স্বনিয়োজিত সম্পদের খরচকে অপ্রকাশ্য ব্যয় বলে। নিজের বাড়িতে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান, কারখানা স্থাপন, অফিস বানানো ইত্যাদি অপ্রকাশ্য ব্যয়। অপ্রকাশ্য ব্যয় ফার্মের হিসাব বইতে থাকে না। ব্যক্তি মালিকানাধীন ফার্মের ক্ষেত্রে ব্যক্তি নিজের বেতন পৃথকভাবে হিসাব না করে মুনাফাকে তার সেবার পারিশ্রমিক হিসেবে গণনা করে। এক্ষেত্রে মালিকের যেকোনো রকমের ভাতাদি অপ্রকাশ্য ব্যয় হিসেবে বিবেচিত হয়।
কোনো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ভাড়া বা উপকরণ ক্রয়ের জন্য দৃশ্যমান যে ব্যয় করে তাকে প্রকাশ্য ব্যয় বলে। যেমন- ফার্মে কর্মরত মানুষের বেতন ও ভাতাদি, কাঁচামাল, মাধ্যমিক দ্রব্য ক্রয়ের জন্য ব্যয়, বাড়ি ভাড়া, মূলধনের সুদ ইত্যাদি হলো প্রকাশ্য ব্যয়। আর উদ্যোক্তার নিজের শ্রমের মূল্য, স্বনিয়োজিত সম্পদের ব্যয় ও উদ্যোক্তার আনুষঙ্গিক ব্যয় ইত্যাদি হলো অপ্রকাশ্য ব্যয়। এই সকল প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য ব্যয়ের সমষ্টিই হলো ব্যক্তিগত ব্যয়।
উৎপাদন বা ভোগ প্রক্রিয়ার বাইরে সমাজের অন্যান্য ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাদের ক্ষতিপূরণ বাবদ যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়
তা-ই সামাজিক ব্যয়। কোনো দ্রব্য উৎপাদন বা ভোগ করতে গেলে সমাজের নানা ব্যক্তি অনেক সময় পরোক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে গেলে যে অর্থের প্রয়োজন পড়ে সেই অর্থের পরিমাণই হলো সামাজিক ব্যয়। যেমন: ট্যানারি শিল্প এলাকার ২০ জন লোক ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে তাদের ক্ষতিপূরণ বাবদ ২ কোটি টাকা দেওয়া হলো। এই ২ কোটি টাকা হলো সামাজিক ব্যয়।
সামাজিক ব্যয় ব্যক্তিগত ব্যয়ের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকলেও এদের মধ্যে পার্থক্য আছে। উৎপাদনের সাথে জড়িত সব ধরনের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য ব্যয়ের যোগফল হচ্ছে ব্যক্তিগত ব্যয়। অন্যদিকে উৎপাদন প্রক্রিয়ার বাইরে সমাজের নানা ব্যক্তি অনেক সময়। অপ্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাদের ক্ষতিপূরণ দিতে গেলে যে মোট অর্থের প্রয়োজন পড়ে তাকে সামাজিক ব্যয় বলে। সামাজিক ব্যয়ে-ব্যক্তিগত ব্যয় প্রতিফলিত হয়। তবে ব্যক্তিগত ব্যয়ে সামাজিক ব্যয় প্রতিফলিত নাও হতে পারে।
Related Question
View Allউৎপাদন কাজে নিয়োজিত মানুষের সব ধরনের শারীরিক ও মানসিক পরিশ্রম, যার বিনিময়ে অর্থ উপার্জন করা যায় তাকেই অর্থনীতিতে শ্রম বলে।
অন্যান্য অবস্থা অপরিবর্তিত রেখে উৎপাদন ক্ষেত্রে ক্রমাগতভাবে অধিক হারে শ্রম ও মূলধন নিয়োগ বৃদ্ধি করা হলে উৎপাদন যদি উপকরণ নিয়োগের হার অপেক্ষা কম হারে বৃদ্ধি পায়, তাহলে তাকে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধি বলে। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় উৎপাদন কৌশল ও অন্যান্য উপকরণ স্থির রেখে একটি উপকরণ বৃদ্ধির ফলে উৎপাদন প্রাথমিকভাবে ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ে। এক পর্যায়ে উপকরণটির ব্যবহার আরও বাড়ালে উৎপাদন ক্রমহ্রাসমান হারে বাড়ে। মনে করি, ভূমি ও শ্রম দুটি উপকরণ আছে। উৎপাদনক্ষেত্রে ভূমিকে স্থির রেখে শ্রমের পরিমাণ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করা হলে মোট উৎপাদন প্রথম পর্যায়ে ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধি পায় এবং পরে ঐ জমিতে আরও শ্রম নিয়োগ করা হলে মোট উৎপাদন ক্রমহ্রাসমান হারে বাড়ে। উপকরণ ব্যবহারের সাথে উৎপাদন বাড়ার এ নিয়মকে অর্থনীতিতে ক্রমহ্রাসমান প্রান্তিক উৎপাদন বিধি বলা হয়।
কবিরের উপযোগ সৃষ্টির প্রক্রিয়াটি দ্বারা রূপগত ও স্থানগত উপযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
কোনো বস্তুর আকৃতি বা রূপ পরিবর্তনের মাধ্যমে যে নতুন উপযোগ সৃষ্টি হয় তা হলো রূপগত উপযোগ। আবার, কোনো দ্রব্য এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় স্থানান্তর করলে যে উপযোগ সৃষ্টি হয়, তা স্থানগত উপযোগ নামে পরিচিত। যেমন- কাঠকে সুবিধামতো পরিবর্তন করে আসবাবপত্র তৈরি করলে রূপগত উপযোগের সৃষ্টি হয়। আর এইসব আসবাবপত্র এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে বিক্রি করলে স্থানগত উপযোগ সৃষ্টি হয়। কবির একজন আসবাবপত্র ব্যবসায়ী। তিনি কাঠ সংগ্রহ করে বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র তৈরি করেন। কাঠ থেকে আসবাবপত্র তৈরি হলে নতুন উপযোগ সৃষ্টি হয়। আর এটিই হলো রূপগত উপযোগ। তাছাড়া কবিরের তৈরি করা আসবাবপত্র দেশের বিভিন্ন দোকানে বিক্রি হয় এবং তিনি আসবাবপত্রের প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে থাকেন। এভাবে বিভিন্ন এলাকায় আসবাবপত্র পাঠানোর মাধ্যমে এগুলোর স্থানগত উপযোগও বৃদ্ধি পায়। তাই বলা যায়, কবিরের তৈরি আসবাবপত্রের ক্ষেত্রে রূপগত ও স্থানগত উপযোগের সৃষ্টি হয়েছে।
ঘ হ্যাঁ, কবিরকে একজন সফল সংগঠক বলা যায়।
উৎপাদন ব্যবস্থায় যে ব্যক্তি সংগঠনের কাজ করেন তাকে সংগঠক বলে। একজন সফল সংগঠক নিজেই উৎপাদনের সকল পরিকল্পনা প্রণয়ন ও নীতি নির্ধারণ করেন এবং সে অনুযায়ী কারবার গঠন ও পরিচালনা করেন। এছাড়াও তিনি উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহ সংগ্রহ এবং সেগুলোর সমন্বয় করে উৎপাদন কাজে নিয়োজিত করেন। একজন সংগঠক কারবার প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে উৎপাদিত দ্রব্য বাজারজাতকরণ পর্যন্ত সকল দায়িত্ব ও ঝুঁকি বহনের কাজটিও করে থাকেন।
উদ্দীপক অনুসারে কবির নিজেই ব্যবসায়ের সকল নীতি নির্ধারণ ও ব্যবসায় পরিচালনা করেন। তাছাড়া সে উৎপাদনের বিভিন্ন উপকরণ তথা ভূমি, শ্রম ও মূলধনের সুষ্ঠু সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে নিজের আসবাবপত্রের ব্যবসায় সম্প্রসারণ করেন। তিনি প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে তার উৎপাদিত দ্রব্যের নতুন বাজার অনুসন্ধান করেন, যার ফলে দ্রব্যের চাহিদা এবং মুনাফা বৃদ্ধি পায়।
এছাড়াও কবির তার দোকানে অধিক লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করেন।
কাজেই, কবির তার ব্যবসায়ের কার্যাবলি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের মাধ্যমে একজন সফল সংগঠক হতে পেরেছেন বলে আমি মনে করি।s
বিভিন্ন উপকরণ নিয়োগের দ্বারা যে পরিমাণ উৎপাদন পাওয়া যায় তাকে মোট উৎপাদন বলে।
ব্যক্তিগত ব্যয় হচ্ছে (ব্যক্তিমালিকানাধীন ফার্মের) উৎপাদনের সাথে জড়িত সব ধরনের প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য ব্যয়ের যোগফল।
কোনো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ভাড়া বা উপকরণ ক্রয়ের জন্য দৃশ্যমান যে ব্যয় করে তাকে প্রকাশ্য ব্যয় বলে। যেমন- ফার্মে কর্মরত মানুষের বেতন ও ভাতাদি, কাঁচামাল, মাধ্যমিক দ্রব্য ক্রয়ের জন্য ব্যয়, বাড়ি ভাড়া, মূলধনের সুদ ইত্যাদি হলো প্রকাশ্য ব্যয়। আর উদ্যোক্তার নিজের শ্রমের মূল্য, স্ব-নিয়োজিত সম্পদের ব্যয় ও উদ্যোক্তার আনুষঙ্গিক ব্যয় ইত্যাদি হলো অপ্রকাশ্য ব্যয়। এই সকল প্রকাশ্য ও অ-প্রকাশ্য ব্যয়ের সমষ্টিই হলো ব্যক্তিগত ব্যয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!