পারিবারিক লক্ষ্যসমূহ অর্জনের জন্য আমাদের যে সম্পদ আছে তার ব্যবহারে পরিকল্পনা, সংগঠন, নিয়ন্ত্রণ ও মূল্যায়ন করাকে গৃহ ব্যবস্থাপনা বলে। আমাদের চাহিদার তুলনায় সম্পদ সীমিত। আর তাই সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে লক্ষ্য অর্জনের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়।
গৃহ ব্যবস্থাপনা পারিবারিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য কতকগুলো কর্মপদ্ধতির সমষ্টি। আর এ পদ্ধতি কতকগুলো ধারাবাহিক স্তর বা ধাপের সমন্বয়ে গঠিত, যা গৃহ ব্যবস্থাপনার স্তর হিসেবে পরিচিত। লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে গৃহ ব্যবস্থাপনার স্তরগুলো চক্রাকারে আবর্তিত হয়।
গৃহ ব্যবস্থাপনার প্রথম স্তর হলো পরিকল্পনা প্রণয়ন। যেকোনো কাজ করতে গেলে কেন করা হবে, কীভাবে করা হবে ইত্যাদি সম্বন্ধে চিন্তাভাবনা করার নাম পরিকল্পনা। পরিকল্পনাকে অনুসরণ করে পরবর্তী কাজ করা হয়। সেজন্যই পরিকল্পনাকে যেকোনো কাজের মূল ভিত্তি বলা হয়।
পরিকল্পনার বিভিন্ন কাজের সংযোগ সাধন করার নাম সংগঠন। সংগঠন গৃহ ব্যবস্থাপনার দ্বিতীয় স্তর। এই স্তরে কোন কাজ কীভাবে করলে ভালো হবে, কোথায় করা হবে, কে বা কারা করবে, কোন কাজে কাকে নিয়োজিত করা হবে, কী কী সম্পদ ব্যবহার করা হবে এসব বিষয় ঠিক করা হয়। এ কাজ কর্মী ও সম্পদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করাকে সংগঠন বলে।
নিয়ন্ত্রণ গৃহ ব্যবস্থাপনার তৃতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর। গৃহীত পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া ও সংগঠনের বিভিন্ন ধারা কার্যকর করে তোলাকে নিয়ন্ত্রণ বলে। পরিকল্পনা যত ভালোই হোক, তা যদি বাস্তবায়ন না করা যায় তাহলে কখনো লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব না।
নিয়ন্ত্রণ স্তরটি তিনটি পর্যায়ে এগিয়ে চলে। প্রথম পর্যায়ে কাজে সক্রিয় হওয়াকে বোঝায়। অর্থাৎ উদ্যোগ নিয়ে কাজটা শুরু করা। দ্বিতীয় পর্যায়ে কাজের অগ্রগতি লক্ষ করা হয়। অর্থাৎ কাজটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হচ্ছে কি না তা পরীক্ষা করে দেখা। তৃতীয় পর্যায়ে পরিস্থিতির সাথে খাপ খাওয়াতে হয়।
গৃহ ব্যবস্থাপনার সর্বশেষ স্তরের নাম মূল্যায়ন। কাজটি সম্পন্ন হওয়ার পর এর ফলাফল যাচাই করাই মূল্যায়ন। কাজটি লক্ষ্য অর্জন করতে পারল কি না তা মূল্যায়নের মাধ্যমে জানা যায়। মূল্যায়ন ছাড়া কাজের সফলতা বা ব্যর্থতা নিরূপণ করা যায় না। লক্ষ্য অর্জন হলে সফলতা আসে।
পরিবারের লক্ষ্য অর্জনের জন্য বিভিন্ন ধরনের সম্পদ ব্যবহার করা হয়। আমাদের লক্ষ্যগুলো অর্জন করার জন্য বিভিন্ন ধরনের 'সম্পদ ব্যবহার করা হয়। আর এ কাজগুলো সম্পাদন করার জন্য কতকগুলো জিনিসের উপর নির্ভর করতে হয়। এ জিনিসগুলোই হচ্ছে সম্পদ। সম্পদ দিয়ে পরিবারের বিভিন্ন রকম চাহিদা পূরণ করা যায়।
সম্পদের উপযোগিতা, সীমাবদ্ধতা, সম্পদের ব্যবহার পরস্পর সম্পর্কযুক্ত এবং সকল সম্পদই ক্ষমতাধীন এসব সম্পদের মৌলিক বৈশিষ্ট্য। সকল সম্পদেরই 'কমবেশি উপযোগিতা রয়েছে। অর্থাৎ সম্পদের প্রয়োজন মেটানোর ক্ষমতা আছে। সম্পদের একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো, সকল সম্পদই সীমিত।
গৃহ ব্যবস্থাপনার দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পদকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। মানবীয় সম্পদ ও অমানবীয় সম্পদ। সম্পদের শ্রেণিবিভাগের মাধ্যমে আমরা সবরকম সম্পদ সম্পর্কে জানতে পারি এবং আমাদের লক্ষ্যগুলো অর্জনে তার সঠিক ব্যবহার করতে পারি।
একটি পরিবারে একাধিক সদস্য বসবাস করে। একটি পরিবারের সদস্যরা অনেক রকম গুণের অধিকারী। তাদের জ্ঞান, দক্ষতা, শক্তি, আগ্রহ, মনোভাব ইত্যাদি গুণগুলোকে মানবীয় সম্পদ বলা হয়। মানবীয় সম্পদগুলোকে বস্তুগত সম্পদের মতো দেখা বা স্পর্শ করা যায় না।
বাড়িঘর, জমিজমা, অর্থ, গৃহের যাবতীয় সরঞ্জাম হতে শুরু করে আসবাবপত্র সবই বস্তুগত সম্পদের মধ্যে পড়ে। সম্পদগুলো ব্যবহার করে আমরা বিভিন্ন রকম কাজ করি, যা আমাদের লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করে। বস্তুগত সম্পদের মধ্যে অর্থ অর্থাৎ টাকা পয়সা সবচেয়ে মূল্যবান ও কার্যকর সম্পদ।
অমানবীয় বা বস্তুগত সম্পদের নাম হলো অর্থ যেমন- বেতন, মজুরি, সঞ্চয়, পুঁজি, বিনিয়োগ, ব্যবসায় হতে প্রাপ্ত টাকা-পয়সা। বস্তুসামগ্রী যেমন- গাড়ি, গৃহের আসবাবপত্র, সরঞ্জাম, পোশাক পরিচ্ছেদ ইত্যাদি।
অর্থ, সময়, শক্তি এ তিনটিকে মূলত প্রধান গৃহ সম্পদ বলা -হয়। প্রতিটি পরিবারে এসব সম্পদ কমবেশি বিভিন্নরূপে রয়েছে। এ সম্পদগুলো ব্যবহার করে আমরা বিভিন্ন লক্ষ্য অর্জন করে থাকি।
অর্থ হলো বিনিময়ের মাধ্যম অর্থ। বিনিময়ের মাধ্যম। অর্থাৎ অর্থের পরিবর্তে প্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়া যায়। অর্থ মূল্যের পরিমাপক। টাকার অঙ্কে আমরা জিনিসের দাম জানতে পারি। ঋণ পরিশোধের মান, "ঋণের লেনদেন অর্থের মাধ্যমে হয়। অর্থ সঞ্চয়ের ভান্ডার। ভবিষ্যতের জন্য আমরা অর্থ সঞ্চয় করি।
সময় সবচেয়ে সীমিত সম্পদ। সময় পরিমাপ করা খুবই সহজ এর পরিমাণ সবার জন্য সমান। যেমন- সবার জন্যই চব্বিশ ঘণ্টায় একদিন, কখনই একে বাড়ানো যায় না, একে সঞ্চয়ও করা যায় না। তাই সময়ের কাজ সময়ে করতে হয়। সময়ের সঠিক পরিকল্পনা করে আমরা যদি কাজ করি তাহলে সব কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করতে পারব।
শক্তি সম্পদটা আমরা অর্জন করি। শক্তি একটি মানবীয় সম্পদ। শক্তি ব্যবহার করে আমরা বিভিন্ন রকম কাজ করে লক্ষ্যে পৌঁছাই। সবার শক্তি এক রকম নয়। কেউ শক্তি দিয়ে অনেক কাজ করতে পারে, আবার কেউ অল্পতেই শক্তি হারিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
কাজ সহজকরণ বলতে বোঝায় নির্দিষ্ট একটা কাজে অল্প সময় ও শক্তি ব্যয় করা এবং নির্দিষ্ট সময় ও শক্তি ব্যয় করে অধিক কাজ করা। সময় ও শক্তি খুবই সীমিত দুটো সম্পদ। সময় ও শক্তির উপযুক্ত ব্যবহার করে প্রতিদিন অনেক কাজ সহজে করা যায়।
গার্হস্থ্য অর্থনীতিবিদগণ সময় ও শক্তির সদ্ব্যবহার করে কাজ সহজ করার বিভিন্ন কৌশল হিসেবে পাঁচ ধরনের পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেছেন, যথা- দেহের অবস্থান ও গতিতে পরিবর্তন। কাজ করার স্থানের ও কাজের সরঞ্জামের পরিবর্তন, উৎপাদনের বিভিন্ন পর্যায়ের পরিবর্তন, উৎপাদিত দ্রব্যের পরিবর্তন ও কাজে বিভিন্ন উপকরণের পরিবর্তন।
Related Question
View Allপারিবারিক লক্ষ্যসমূহ অর্জনের জন্য আমাদের যে সম্পদ আছে তার ব্যবহারে পরিকল্পনা, সংগঠন, নিয়ন্ত্রণ ও মূল্যায়ন করাকে গৃহ ব্যবস্থাপনা বলে। আমাদের চাহিদার তুলনায় সম্পদ সীমিত। আর তাই সীমিত সম্পদ ব্যবহার করে লক্ষ্য অর্জনের জন্য সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়।
গৃহ ব্যবস্থাপনা পারিবারিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য কতকগুলো কর্মপদ্ধতির সমষ্টি। আর এ পদ্ধতি কতকগুলো ধারাবাহিক স্তর বা ধাপের সমন্বয়ে গঠিত, যা গৃহ ব্যবস্থাপনার স্তর হিসেবে পরিচিত। লক্ষ্যকে কেন্দ্র করে গৃহ ব্যবস্থাপনার স্তরগুলো চক্রাকারে আবর্তিত হয়।
গৃহ ব্যবস্থাপনার প্রথম স্তর হলো পরিকল্পনা প্রণয়ন। যেকোনো কাজ করতে গেলে কেন করা হবে, কীভাবে করা হবে ইত্যাদি সম্বন্ধে চিন্তাভাবনা করার নাম পরিকল্পনা। পরিকল্পনাকে অনুসরণ করে পরবর্তী কাজ করা হয়। সেজন্যই পরিকল্পনাকে যেকোনো কাজের মূল ভিত্তি বলা হয়।
পরিকল্পনার বিভিন্ন কাজের সংযোগ সাধন করার নাম সংগঠন। সংগঠন গৃহ ব্যবস্থাপনার দ্বিতীয় স্তর। এই স্তরে কোন কাজ কীভাবে করলে ভালো হবে, কোথায় করা হবে, কে বা কারা করবে, কোন কাজে কাকে নিয়োজিত করা হবে, কী কী সম্পদ ব্যবহার করা হবে এসব বিষয় ঠিক করা হয়। এ কাজ কর্মী ও সম্পদের মধ্যে সমন্বয় সাধন করাকে সংগঠন বলে।
নিয়ন্ত্রণ গৃহ ব্যবস্থাপনার তৃতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর। গৃহীত পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়া ও সংগঠনের বিভিন্ন ধারা কার্যকর করে তোলাকে নিয়ন্ত্রণ বলে। পরিকল্পনা যত ভালোই হোক, তা যদি বাস্তবায়ন না করা যায় তাহলে কখনো লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব না।
নিয়ন্ত্রণ স্তরটি তিনটি পর্যায়ে এগিয়ে চলে। প্রথম পর্যায়ে কাজে সক্রিয় হওয়াকে বোঝায়। অর্থাৎ উদ্যোগ নিয়ে কাজটা শুরু করা। দ্বিতীয় পর্যায়ে কাজের অগ্রগতি লক্ষ করা হয়। অর্থাৎ কাজটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হচ্ছে কি না তা পরীক্ষা করে দেখা। তৃতীয় পর্যায়ে পরিস্থিতির সাথে খাপ খাওয়াতে হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!