আমরা সবাই জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক ।
বাংলাদেশের এক নম্বর সমস্যা জনসংখ্যা ।
জনসংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ এশিয়ার ৫ম দেশ ।
বাংলাদেশের আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গ কি. মি.
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১১০০ জন লোক বাস করে ।
চীনে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১৪০ জন লোক বাস করে ।
ভারতে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩৬২ জন লোক বাস করে ।
বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৩৭ ।
বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা অপেক্ষাকৃত কম বয়সে যৌবনপ্রাপ্ত ও সন্তান ধারণ ক্ষমতার অধিকারী হয় জলবায়ুর প্রভাবে ।
বাংলাদেশের জনসংখ্যাধিক্যের কারণ বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ ।
বিবাহকে বাংলাদেশে ধর্মীয় কর্তব্য মনে করা হয় ।
আমাদের দেশে দরিদ্র লোক বেশি সন্তান জন্মদান করে ।
সামাজিক মর্যাদা এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনের জন্য বিয়ে বিষয়টিকে একটি অপরিহার্য বিষয় বলে মনে করা হয় ।
অপুষ্টি জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট সমস্যা ।
সাধারণত ছোট পরিবারকে ধরনের পরিবারকে সুখী পরিবার বলা হয় ।
বেশি ঘনত্ব স্থান থেকে অল্প ঘনত্ব জায়গায় জনসংখ্যা সরিয়ে নেওয়াকে জনসংখ্যার পুনর্বণ্টন বলে ।
বাংলাদেশের জনসংখ্যাজনিত সমস্যা সমাধানের উপায় বহুমুখী কর্মসংস্থান .
কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেলে জনগণের আয় ও জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পাবে .
শিক্ষা দ্বারা মানুষ সচেতনতা লাভ করে ।
নিরক্ষরতা বাংলাদেশের অন্যতম নাগরিক সমস্যা ।
নিরক্ষরতা নাগরিক সমস্যা ধরনের সমস্যা ।
সম্পূর্ণ সাক্ষরতা আন্দোলন শুরু করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় মন্ত্রণালয় ।
আমাদের দেশের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীরা দরিদ্রতার কারণে কারণে ঝরে পড়ে ।
'শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য' কর্মসূচির মাধ্যমে প্রধানত কিশোর অপরাধ সমস্যার প্রতিকার করা যায় ।
শিক্ষা মানুষকে সচেতন করে ।
বাংলাদেশের খাদ্যশস্যের মধ্যে চাল প্রাধান্য রয়েছে ।
একজন মানুষের দৈনিক ২,১২২ কিলো ক্যালরি খাদ্য প্রয়োজন ।
খাবারের ক্ষেত্রে সুষম খাদ্য খাওয়া খাবার খাওয়া বেশি প্রয়োজন ।
জনগণের ক্রয়ক্ষমতার স্বল্পতার কারণে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা দেখা দেয় ।
বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার কারণ পুষ্টিজ্ঞানের অভাব ।
খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে একটি সঠিক খাদ্যনীতি দরকার হয় ।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মোট ব্যয়ের ৯৫ শতাংশ ব্যয় হয় খাদ্য বিতরণ কর্মসূচিগুলোতে ।
VGD-এর পূর্ণাঙ্গ রূপ Vulnerable Group Development
VGF এর পূর্ণরূপ Vulnerable Group Feeding
২০০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ৪৪ শতাংশ মানুষ চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করত ।
স্থিতিশীল উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের প্রধান ভিত্তি সুস্থ প্রাকৃতিক পরিবেশ ।
পাহাড়ি অঞ্চলে বন ও গুল্ম ধ্বংস করে জুম চাষ করা হচ্ছে ।
মূলত মানুষের দ্বারা পরিবেশ দূষিত হচ্ছে ।
জৈবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দৃষ্টিকোণ থেকে ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীকে মৃতনদী বলা হয় ।
একটি দেশের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য মোট আয়তনের ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন
বর্তমানে দেশের বনাঞ্চলের পরিধি মোট আয়তনের ২০ শতাংশ হতে কমে ১৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে ।
বাংলাদেশের জন্য আজ সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ জলবায়ুর পরিবর্তন ।
বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে পরিবেশ দূষণ বৃদ্ধি পাচ্ছে ।
বলপ্রয়োগ বা ভীতি প্রদর্শন করে কোনো উদ্দেশ্য সাধনের চেষ্টা করাকে সন্ত্রাস বলে ।
সন্ত্রাস জবরদস্তিমূলক কার্যকলাপ ।
সন্ত্রাসীর কাজ মৃত্যুর হুমকি দেওয়া কার কাজ ।
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর অত্যাচার ও নিপীড়ন রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস ধরনের সন্ত্রাসের উদাহরণ ।
ইসরাইল রাষ্ট্র কর্তৃক প্যালেস্টাইন জনগণের ওপর যে দমনপীড়ন চলছে তা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস জাতীয় সন্ত্রাসের অন্তর্ভুক্ত ।
২টি কারণে সন্ত্রাস সংঘটিত হয় ।
যুবসমাজের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়ানোর কারণ আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে ।
রাজনৈতিক দুর্বলতা সন্ত্রাসের কারণ ।
বাংলাদেশে ৮০০ জন মানুষের নিরাপত্তার জন্য ১ জন পুলিশ সদস্য রয়েছে ।
বাংলাদেশের নারীদের নির্যাতনের অন্যতম কারণ যৌতুক ।
বাংলাদেশের সর্বাধিক অমানবিক ও বেদনাদায়ক সমস্যা নারী নির্যাতন ।
নারী নির্যাতনের যথাযথ কারণ নিরক্ষরতা ও পরনির্ভরশীলতা ।
নারীর ক্ষমতায়ন বলতে জাতীয় উন্নয়নে নারীদের সম্পৃক্তকরণ বোঝায় ।
নারী নির্যাতন প্রতিরোধকল্পে সবচেয়ে বেশি সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন ।
আমাদের সমাজ থেকে নারীদের নির্যাতন বন্ধ করা উচিত তারাও সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে ।
একটি দেশের সম্পদ ও কর্মসংস্থানের তুলনায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেশি হলে যে সমস্যার সৃষ্টি হয় তাকে জনসংখ্যা সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অর্থাৎ বাড়তি জনসংখ্যার চাহিদা দেশের সীমিত সম্পদ দিয়ে পূরণ করা যায় না বিধায় জনসংখ্যা সমস্যা সৃষ্টি হয়।
গ্রামে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় সেখানকার বেকার মানুষ কর্মের সন্ধানে শহরে পাড়ি জমাচ্ছে। এছাড়া নদীভাঙনে সর্বস্বান্ত হয়ে এবং একশ্রেণির মানুষ ভিটা-বাড়ি না থাকায় তারা শহরমুখী হতে বাধ্য হচ্ছে। এভাবে শহরে ক্রমাগত জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাংলাদেশ একটি অতি জনবহুল দেশ। জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে মানুষ আবাদি জমিতে এবং বনভূমি কেটে বসতি গড়ে তুলছে। অতিরিক্ত জনসংখ্যার ফলে খাল-বিল, নদী-নালা, ভরাট হয়ে যাচ্ছে। ফলে মাটি, পানি ও বায়ু দূষিত হচ্ছে। এভাবে পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে।
বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধির দুটি কারণ-
১. দারিদ্র্য ও আর্থসামাজিক নিরাপত্তা: সাধারণভাবে সচেতনতার অভাব ও অধিকতর আয়ের প্রত্যাশায় দরিদ্র মানুষ অধিক সন্তান জন্ম দেন। তাছাড়া ভবিষ্যতের অধিক নিরাপত্তার আশায় তারা একাধিক পুত্র সন্তান কামনা করেন। ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
২ . শিক্ষার অভাব শিক্ষার অভাব ও অজ্ঞতার কারণে কোনো প্রকার পরিকল্পনা না করেই আমাদের দেশের মানুষ অধিক সন্তান জন্ম দিয়ে থাকেন।
বাংলাদেশ গ্রীষ্মমণ্ডলে অবস্থিত। তাই এখানকার জলবায়ু উষ্ণ। আর এ উষ্ণ জলবায়ুর প্রভাবে এখানকার ছেলেমেয়েরা অপেক্ষাকৃত কম বয়সে সাবালক হয় এবং সন্তান ধারণক্ষমতার অধিকারী হয়। সেজন্যই বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেশি।
দরিদ্র মানুষের জীবনমান কম হওয়ার কারণে দারিদ্র্য জনসংখ্যা বাড়ায়। সাধারণত দরিদ্র মানুষের জীবনের মান অনেক কম। তাদের শিক্ষার হার কম, তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ কম এবং তাদের আয় কম। এ কারণে তারা আত্মসচেতন নয়। ফলে পরিবারের ভরণপোষণের কোনো সুদূরপ্রসারী চিন্তা তারা করে না। অন্যদিকে ভবিষ্যতের চিন্তায় তারা অধিক সন্তান জন্মদান করে। ফলে স্বাস্থ্যহীন জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এভাবেই দারিদ্র্য জনসংখ্যা বাড়ায়।
অধিক জনসংখ্যাজনিত কারণে গ্রামে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় সেখানে খাবারের অভাব দেখা দেয়, 'শিক্ষার সুযোগ থাকে না এবং চিকিৎসার অভাব দেখা দেয়। কিন্তু তারা চায় কর্মসংস্থান যা শহরে রয়েছে। আর তাই গ্রমের মানুষ শহরে পাড়ি দিচ্ছে।
অধিক জনসংখ্যার কারণে বাংলাদেশের শহরগুলোতে নাগরিক জীবনযাপন কষ্টকর হয়ে পড়েছে। শহরে জনসংখ্যার চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। তাইতো বিদ্যুতের লোড শেডিং, পানির অপর্যাপ্ত সরবরাহ ও গ্যাসের ব্যবহারে প্রায়ই সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে।
সাধারণভাবে অল্প বয়সী ছেলে-মেয়েদের বিবাহ হলে তাকে বাল্যবিবাহ বলে। বাল্যবিবাহ ছেলে ও মেয়ে উভয়ের জন্য প্রযোজ্য। ছেলে-মেয়েদের বিয়ের নির্দিস্ট বয়স সরকার আইন দ্বারা নির্ধারণ করেছে। প্রকৃতপক্ষে এই বয়সের আগে বিবাহকেই বাল্যবিবাহ বলে।
বিবাহকে আমাদের দেশে একটি ধর্মীয় কর্তব্য বলে মনে করা হয়। এ কর্তব্যবোধের তাড়নায় বিশেষ করে বাবা-মা তাড়াতাড়ি ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিতে তৎপর হন। আর তাই বাল্যবিবাহ আমাদের সমাজে ব্যাপকভাবে প্রচলিত।
উষ্ণ জলবায়ুর প্রভাবে আমাদের দেশের ছেলেমেয়েরা অপেক্ষাকৃত কম বয়সে প্রজনন ক্ষমতার অধিকারী হয়। শিক্ষার অভাব, সামাজিক কুসংস্কারের কারণে এসব ছেলে-মেয়েদের বাল্যকালে বিয়ে হয়। এসব বাল্যদম্পতি অপরিকল্পিতভাবে দীর্ঘকাল সন্তান জন্ম দেন। ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
বহুবিবাহ জনসংখ্যা বৃদ্ধির একটি উল্লেখযোগ্য কারণ। অল্প আয়ের পরিবারের পুরুষগণ সাধারণত একাধিক বিয়ে করে। ফলে একাধিক স্ত্রীর সন্তান-সন্ততির সংখ্যা হয় অনেক বেশি। ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
শিক্ষা মানুষের মৌলিক প্রয়োজন। এর অভাবে মানুষ অজ্ঞ থাকে। আর এসব অজ্ঞ মানুষ কোনো প্রকার ভবিষ্যৎ চিন্তা না করে অধিক সন্তান জন্ম দেয়। এছাড়া কৃষিভিত্তিক পরিবারের অভিভাবকগণ তাদের কাজে সহায়তা করার আশায় অধিক পুত্র সন্তান পেতে চায়। এভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
বাংলাদেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে জলবায়ুর প্রভাব খুব বেশি। উষ্ণ জলবায়ুর কারণে এদেশের ছেলেমেয়েরা অল্প বয়সে সন্তান প্রজনন ক্ষমতার অধিকারী হয়। ফলে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
আমাদের দেশের বিশেষ করে দরিদ্র ও অশিক্ষিত অভিভাবকরা সন্তানের শিক্ষা বা পেশা নিয়ে ভাবতে পারেন না। তারা বিয়েকে সামাজিক মর্যাদার সূচক মনে করে। বিশেষ করে কন্যা সন্তানের। সামাজিক নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনা করে দ্রুত বিয়ে দেন। অনেকে আবার সন্তানকে অল্প বয়সে বিয়ে না দিলে সামাজিকভাবে হেয় হতে হবে এই ভয়ে অভিভাবকগণ অল্প বয়সে ছেলে-মেয়েদের বিয়ে দেন।
একটি দেশের সম্পদ ও কর্মসংস্থানের তুলনায় জনসংখ্যা বেশি হলে জনসংখ্যা তখন সমস্যায় পরিণত হয়। বাড়তি জনসংখ্যার চাহিদা দেশের সীমিত সম্পদ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব হয় না বিধায় অধিক জনসংখ্যা সমস্যায় পরিণত হয়।
জনসংখ্যা সমস্যা ও কর্মসংস্থান এই দুটি শব্দের মধ্যেই উত্তরটি নিহিত। আমরা জানি, কোনো দেশের কর্মসংস্থানের তুলনায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেশি হলে জনসংখ্যা সমস্যার সৃষ্টি হয়। তাই বলা যায়, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি হলে মানুষ বেকার থাকবে না। তখন জনসংখ্যা হবে জনসম্পদ।
বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে জনসংখ্যা কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সুবিধাবঞ্চিত এলাকাসমূহে সেবার মান উন্নত করে এবং গরিব ও দুস্থদেরকে সচেতন করার মাধ্যমে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে উদ্বুদ্ধ করা যায়। এছাড়াও সুবিধাবঞ্চিতদেরকে ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা করে মহিলাদের ঘরের বাইরে এনে নতুন পেশা গ্রহণের সুযোগ প্রদানের মাধ্যমে অধিক সন্তান উৎপাদন করা থেকে বিরত থাকার সুযোগ সৃষ্টি করে সুবিধাবঞ্চিতদের জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে উদ্বুদ্ধ করা যায়।
দেশের সর্বত্র জনসংখ্যার অবস্থান একই রকম নয়। যেখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব বেশি সেখান থেকে অল্প ঘনত্ব এলাকায় জনসংখ্যা সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াই জনসংখ্যার পুনর্বণ্টন। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও জীবনযাত্রার মান বেড়ে যায়।
জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানের একটি উপায়-
জনসংখ্যার পূর্ণবণ্টন: বাংলাদেশের সর্বত্র জনসংখ্যার অবস্থান একই রকম নয়। কাজেই যেখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব খুব বেশি সেখান থেকে অল্প ঘনত্ব এলাকায় জনসংখ্যা সরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে জনসংখ্যার পূর্ণ বণ্টন করতে হবে। এতে জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে আর জীবনযাত্রার মানও বাড়বে।
জনসংখ্যা সমস্যার মূল চাপটা পড়ে মূলত অর্থনীতির ওপর। অর্থনৈতিক উন্নয়ন মানেই মানুষের আয় রোজগার বৃদ্ধি, ক্রয় ক্ষমতা বৃদ্ধি, ভালো আবাস্থল প্রভৃতি। তাই বলা যায়, অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে জনসংখ্যা সমস্যার সমাধান করা যায়।
'শিক্ষাই, শক্তি, শিক্ষাই মুক্তি', শিক্ষা ছাড়া কোনো সমস্যারই সমাধান সম্ভব নয়। শিক্ষা মানুষকে সচেতন করে। শিক্ষিত জনগোষ্ঠী জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সচেষ্ট থাকে। তাই শিক্ষিত মানুষের পক্ষেই সম্ভব জনসংখ্যার বৃদ্ধির হার কমিয়ে এনে এ সমস্যার সমাধান করা।
পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম সফল করার দুটি উপায় হলো-
১. সরকারকে পরিবার পরিকল্পনার কার্যক্রম জোরদার করার জন্য অধিকহারে মাঠকর্মী নিয়োগ দিতে হবে। জন্ম নিয়ন্ত্রণের ওষুধপত্র সহজলভ্য করতে হবে।
২. বিভিন্নভাবে যেমন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্টিং মিডিয়া ব্যবহার করে লিফলেট, পোস্টার বিলি করে পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে গণসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।
পরিবার পরিকল্পনার মূলকথা হলো পরিকল্পিতভাবে পরিবার গঠন। কোনো দম্পতি যখন তাদের আয়-ব্যয়ের দিকে লক্ষ রেখে সন্তানের উন্নত ও সমৃদ্ধ জীবনের পরিকল্পনা করে পরিবার গড়ে তোলে তখন পরিবার পরিকল্পনা কার্যকর হয়। এভাবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে পরিবার পরিকল্পনা সহায়ক ভূমিকা রাখে।
যেকোনো সমস্যায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সহযোগিতা ব্যতীত সমাধান করা সম্ভব নয়। জনসংখ্যা সমস্যা যেহেতু জনগণের সমস্যা তাই জনগণকে অবশ্যই সচেতন হতে হবে এবং সরকারের সাথে কাধে কাধ মিলিয়ে জনসংখ্যা সমস্যা সমাধানে কাজ করতে হবে।
নিরক্ষরতা বলতে অক্ষরজ্ঞানহীনতাকে বোঝায়। আর অক্ষর জ্ঞানহীন ব্যক্তিই নিরক্ষর। নিরক্ষরতা বাংলাদেশের একটি অন্যতম সমস্যা। লেখাপড়া না জানার কারণে নিরক্ষর ব্যক্তি রাষ্ট্র ও সমাজের উপকারে আসে না বরং সে হয় সমাজের বোঝাস্বরূপ।
নিরক্ষরতা বলতে আমরা বুঝি, যারা লিখতে বা পড়তে জানে না। নিরক্ষরতা একটি অন্যতম নাগরিক সমস্যা। লেখাপড়া না জানার কারণে নিরক্ষর ব্যক্তি রাষ্ট্র ও সমাজের উপকারে আসে না। ফলে সে সমাজের বোঝা হিসেবে পরিগণিত হয়। আমাদের দেশের অধিকাংশ লোকই নিরক্ষর। অর্থাৎ অধিকাংশ লোকই দেশের বা সমাজের কোনো কাজে আসে না। তাই আমি বলতে পারি, নিরক্ষরতা একটি অভিশাপ। একে মোকাবিলা করা সকলের দায়িত্ব।
দরিদ্র শ্রেণির মানুষের মধ্যে নিরক্ষরতার হার খুবই বেশি। এর অন্যতম কারণ তাদের অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা। দরিদ্র শ্রেণির সন্তানেরা মেধাবী হওয়া সত্ত্বেও লেখাপড়ার সুযোগ পায় না। এছাড়া এই শ্রেণির লোকদের যাদের সাথে চলাফেরা বা বন্ধুত্ব তারাও শিক্ষার গুরুত্ব বুঝে না। ফলে দরিদ্র শ্রেণির মধ্যে নিরক্ষরতার হার বেশি।
লেখাপড়া না জানার কারণে নিরক্ষর ব্যক্তি রাষ্ট্র ও সমাজের কোনো উপকারে আসে না। বরং নিরক্ষরতার দরুন তারা অজ্ঞতায় নিমজ্জিত থাকে, যা বিভিন্ন সামাজিক ও নাগরিক সমস্যার সৃষ্টি করে। এ কারণেই নিরক্ষর ব্যক্তি সমাজের জন্য বোঝাস্বরূপ।
নিরক্ষরতা দূরীকরণের দুটি উপায়-
১. বয়স্ক শিক্ষা: গ্রামে গ্রামে বয়স্ক শিক্ষা ও খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা দানে সরকারকে বিশেষ কর্মসূচি নিতে হবে।
২. কর্মমুখী শিক্ষা: সাধারণভাবে নিরক্ষর বয়স্করা আনুষ্ঠানিক আগ্রহী হয় না। তাদেরকে তাদের পেশার সাথে সংযুক্ত করে কর্মমুখী শিক্ষার আওতায় আনতে পারলে তারা তাদের অর্জিত শিক্ষা ও অক্ষরজ্ঞান সহজে ভুলবে না-।
নিরক্ষরদের শিক্ষা আনুষ্ঠানিক নয় তবুও তাদের বৃত্তি ও উপবৃত্তি দিলে তারা শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষিত সম্পদশালীদের এগিয়ে আসতে হবে। নিরক্ষরতা দূদ্রীকরণের মাধ্যমে যে মানবতার সেবা হয় আমাদের তা বুঝতে হবে।
নিরক্ষর ব্যক্তি পরিবার ও সমাজের জন্য অভিশাপ। এ বিষয়টি শিক্ষিত লোকদের বোঝা দরকার। আমাদের দেশের প্রত্যেক শিক্ষিত মানুষ যদি ১ জন নিরক্ষর ব্যক্তিকে অক্ষর জ্ঞান দিতে পারে তবে দেশ থেকে নিরক্ষরতা পালাবে। এছাড়া শিক্ষিত লোকেরা বিভিন্নভাবে নিরক্ষর ব্যক্তিদের এই শিক্ষাগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করতে পারে।
নিরক্ষরদের একটি বৃহৎ অংশ দরিদ্র। এসব দরিদ্র লোকজন বিভিন্ন শর্তে বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নেয়। ঋণ পরিশোধের জন্য চিন্তায় থাকে। এক্ষেত্রে শিক্ষাগ্রহণ তাদের কাছে গদ্যময়। তাই এসব লোকদের সহজ শর্তে ঋণ দিলে অন্তত ঋণের আশায় বা ঋণ পেয়ে তারা শিক্ষা গ্রহণ করবে।
বাংলাদেশের নিরক্ষরতা দূর করার জন্য দেশি-বিদেশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা কাজ করে আসছে। যেমন- আহসানিয়া মিশন, ব্র্যাক, স্বনির্ভর বাংলাদেশ, ইউসেপ ইত্যাদি। উল্লেখ্য এসব সংস্থার কার্যক্রম পর্যাপ্ত নয়। এসব সংগঠনের পাশাপাশি আরও সংগঠনকে এগিয়ে আসতে হবে এবং কাজের পরিধি ও গতি বাড়াতে হবে।
নিরক্ষরতা দূরীকরণে আমি যেসব উদ্যোগ নিতে পারি তার দুটি নিম্নরূপ-
১. আমার বাসার গৃহ সহায়ককে অক্ষর জ্ঞান দিব।
২. নিরক্ষরতা দূরীকরণে বন্ধুদের সাথে মিলে ক্লাব গড়ে তুলব। সেখানে নিরক্ষরদের স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে প্রাথমিক অক্ষর জ্ঞান দিব।
খাদ্য নিরাপত্তা বলতে খাদ্যের প্রাপ্যতা, খাদ্য ক্রয় করার ক্ষমতা. এবং খাদ্যের পুষ্টি- এ তিনটি বিষয়কে বুঝানো হয়। বাংলাদেশের মানুষের খাদ্যে যেহেতু খাদ্যশস্য বিশেষ করে চাউলের প্রাধান্য রয়েছে, সেহেতু চাউলের সরবরাহ ও মূল্যের স্থিতিশীলতাই খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের মূল লক্ষ্য। উল্লেখ্য ভেজালমুক্ত খাদ্যের প্রাপ্যতাও খাদ্য নিরাপত্তার মধ্যে পড়ে।
দরিদ্র শিশুর পিতা-মাতাদের প্রকৃতপক্ষে কোন পুষ্টি জ্ঞান নেই। এছাড়া দারিদ্র্যের কারণে অনেকে পুষ্টিমান রক্ষা করতে পারে না। এক্ষেত্রে খাদ্যশস্যই দরিদ্র শিশুদের একমাত্র খাবার হিসেবে সরবরাহ করা হয়। অন্যান্য খাদ্য যেমন- আমিষ, স্নেহ ও ভিটামিনের অভাব থাকায় দরিদ্র শিশুরা পুষ্টিহীনতায় ভোগে।
বাংলাদেশের বিপুল জনগোষ্ঠী খাদ্যভিত্তিক দারিদ্র্যের শিকার। খাদ্যে ক্যালরি ঘাটতি তাদের নিত্যসঙ্গী। তার ওপর দরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য সুষম নয়। তারা যে ক্যালরি গ্রহণ করে তার ৮০ শতাংশই আসে খাদ্যশস্য থেকে। প্রোটিন, চর্বিযুক্ত খাদ্য তারা সামান্যই গ্রহণ করে। এ ধরনের সমতাহীন খাদ্য গ্রহণের ফলে মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।
খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার দুটি কারণ আমার-পাঠ্যবইয়ের আলোকে উল্লেখ করছি-
১. কম খাদ্য উৎপাদন জনসংখ্যার তুলনায় দেশে ফল, ডাল, তৈলবীজ, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ইত্যাদির উৎপাদন কম। অন্যদিকে, জনগণের ক্রয় ক্ষমতা না থাকার কারণে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা দেখা দেয়।
২. জনগণের কম আয়: আমাদের দেশের জনগণের মাথাপিছু আয় বিশ্বের বেশিরভাগ দেশের তুলনায় কম। জনগণের মাথাপিছু আয় কম হলে তাদের পক্ষে প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্য কেনা সম্ভব হয় না। ফলে দেখা দেয় খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা।
বেঁচে থাকতে আমরা খাদ্য খাই। কিন্তু ভালোভাবে বাঁচতে আমাদের দরকার পুঁন্টিসমৃদ্ধ খাদ্য। শরীর সুস্থ, রোগমুক্ত ও রোগ প্রতিরোধের জন্য প্রত্যেক ব্যক্তির বয়স ও ওজন অনুযায়ী কী খাদ্য কতটুকু গ্রহণ করা দরকার তা ভালোভাবে জানাই পুস্টিমান।
খাদ্য নিরাপত্তার 'একটি বিশেষ দিক হচ্ছে খাদ্যের গুণ বা খাদ্যে পুষ্টির উপস্থিতি বিদ্যমান থাকা। কিন্তু জনগণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের মধ্যে পুষ্টিজ্ঞানের অভাব রয়েছে। আর এ জ্ঞানের অভাবের কারণেই তারা সঠিক স্বাস্থ্য উপযোগী খাদ্য বেছে নিতে পারে না। এর ফলে দেখা দেয় খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা।
আমাদের দেশের খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার প্রধান কারণ জনগণের কম আয়। আতঙ্কের বিষয় যে, কোনো কোনো মানুষের আয় এত কম যে সে তার শস্য খাদ্যই যোগাড় করতে পারে না। খাদ্যের অন্যান্য মান তার জন্য কেবলই দুঃস্বপ্ন।
বাংলাদেশ সরকার খাদ্য ঘাটতি মোকাবিলায় বিশেষ করে শস্য জাতীয় খাদ্য ঘাটতি মোকাবেলায় সবসময়ই সচেষ্ট। এজন্য সরকার বিভিন্ন নিরাপত্তা কর্মসূচি গ্রহণ করে। এর মধ্যে রয়েছে ত্রাণ প্রদান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য দক্ষতা বাড়ানো। (VGD) (VGF) (FFE) ইত্যাদি কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার খাদ্য ঘাটতি মোকাবেলায় কাজ করছে।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি বাজার কাঠামো ও বিপণন ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ অতি প্রয়োজন। বিপণন ব্যবস্থা আধুনিক না হলে উৎপাদন করা দ্রব্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়া যায় না। মধ্যস্বত্বভোগীরা ভোগ করতে করতে উৎপাদনকারী শেষ পর্যন্ত ক্ষতির সম্মুখীন হন।
খাদ্যে ভেজাল খাদ্যের নিরাপত্তার একটি বিরাট প্রতিবাধকতা তেমনি প্রাণীর জীবনের জন্য বিরাট হুমকি, মানুষও এর বাইরে নয়। মানব স্বাস্থ্যের জন্যও তা মারাত্মক ক্ষতিকর। ভেজাল খাদ্য সবসময় খাদ্য নিরাপত্তার পরিপন্থি। তাই প্রচলিত আইন ব্যবহার করে এবং প্রয়োজনবোধে আইন সংস্কার করে ও সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টির। মাধ্যমে সরকার কর্তৃক খাদ্যে ভেজাল নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।
খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে নাগরিক হিসেবে আমাদের দুটি কর্তব্য নিচে উল্লেখ করা হলো-
১. খাদ্য নিরাপত্তা সম্পর্কে আমরা ভালোভাবে জানব এবং তা নিশ্চিত করব।
২. বাড়ির আশপাশে খালি জায়গায় আমরা নানা রকম শস্য চাষ করে শস্যের চাহিদা মেটাতে পারি।
খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে আমার দুটি দায়িত্ব নিম্নরূপ-
১. সবাইকে খাদ্য নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন করার চেষ্টা করব।
২. আমি নিজেও বসত বাড়ির আশপাশে খালি জায়গায় বিভিন্ন 'শস্য চাষ করব এবং এর প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করব।
মানুষের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড যখন পরিবেশের স্বাভাবিক অবস্থাকে বিনষ্ট করে তখনই পরিবেশগত দুর্যোগ সৃষ্টি হয়। অন্যভাবে বলা যায়, মানুষ পরিবেশের ওপর আঘাত হানলে পরিবেশও বিভিন্ন দুর্যোগের মধ্য দিয়ে প্রতিঘাত করে। এই প্রতিঘাতই প্রাকৃতিক দুর্যোগ।
আমাদের চারপাশের নদনদী, খাল, বিল পাহাড়-পর্বত, গাছপালা এসব কিছু নিয়েই আমাদের পরিবেশ। সুস্থ প্রাকৃতিক পরিবেশ অব্যাহত রাখা আমাদের স্থিতিশীল উন্নয়ন ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের প্রধান ভিত্তি। কিন্তু মানুষের ইচ্ছাকৃত কর্মকাণ্ড যখন পরিবেশের এ স্বাভাবিক অবস্থাকে বিনষ্ট করে তখনই পরিবেশের দুর্যোগ সৃষ্টি হয়।
পানি দূষণের দুটি কারণ-
১.কলকারখানার বর্জ্য পানিতে মিশে পানি দূষণ হচ্ছে।
২. চিকিৎসা বর্জ্যের বিষাক্ত ও তেজস্ক্রিয় উপাদান পানির সাথে মিশে পানি দূষিত হচ্ছে।
পরিবেশের বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে মাটি পানি বায়ুই প্রধান। এগুলো বিভিন্নভাবে দূষিত হয়। যেমন-
১. মাটি দূষণ: অধিক সার, কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মাটি বান্ধব জীবের মৃত, পলিথিনের ব্যবহার, গাছ কেটে উজাড় করার ফলে মাটি দূষণ হচ্ছে।
২. পানি দূষণ: শিল্প কারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য পানিতে মিশে পানি দূষিত হয়।
৩. বায়ু দূষণ: কলকারখানা, ইটের ভাটা ও পরিবহনের কালো ধোঁয়া বায়ুতে মিশে বায়ু দূষিত হয়।
পরিবেশগত দুর্যোগের দুটি ক্ষতিকর দিক-
১. পরিবেশগত দুর্যোগের কারণে জলধারার জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে।
২. সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ার কারণে লবণাক্ত পানি নদীতে ঢুকছে এবং চাষবাদ ব্যাহত হচ্ছে।
চিকিৎসা বর্জ্য প্রাণীর জন্য অত্যন্ত হুমকিস্বরূপ। চিকিৎসা বর্জ্যের বিষাক্ত ও তেজস্ক্রিয় উপাদান থাকে। এসব উপাদান বিভিন্নভাবে মাটি, পানি এমনকি বায়ুর সাথে মিশে পরিবেশকে দূষিত করছে।
প্লাস্টিক ও পলিথিন এক ভয়ঙ্কর দ্রব্য। এটি পরিবেশকে দিনদিন গিলে ফেলছে। এটি পানিতে ফেললে পানির প্রবাহ বাধা দেয় এবং পুড়ালে জীবননাশক গ্যাস তৈরি হয়।
বাংলাদেশের জলবায়ু পরিবর্তনের দুটি প্রভাব-
১. সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে। ফলে লবণাক্ত পানি নদী হয়ে আবাদি জমিকে গ্রাস করছে।
২. জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিভিন্ন প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেমন- খড়া, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা বাড়ছে।
পরিবেশগত দুর্যোগ মোকাবেলায় চারটি পদক্ষেপ হলো-
১. অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠা কলকারখানা বন্ধ ঘোষণা করা।
২. মানুষের বসতি এলাকায় কলকারখানা স্থাপনের অনুমতি না দেওয়া।
৩. যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা না ফেলা।
৪. বনায়ন বৃদ্ধি করা।
বনাঞ্চল উজাড়ের দুটি কারণ উল্লেখ করছি-
১. গাছ কেটে বসতবাড়ি ও কলকারখানা তৈরি করা।
২. ইটের ভাটা ও আবসবাবপত্র তৈরিতে কাঠের ব্যবহার।
নাগরিক হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণে আমাদের দায়িত্ব রয়েছে। আমাদের উচিত অন্যায়ভাবে কোনো গাছ না কাটা, আঙিনাসহ বাড়ি ও রাস্তার পাশে গাছ লাগানো, ক্ষতিকর পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার না করা, ড্রেনে বর্জ্য না ফেলা এবং সংগঠিত হয়ে সমাজের মানুষকে পরিবেশ দূষণের কুফল সম্পর্কে সচেতন করা।
সন্ত্রাসের মূলকথা হলো বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ভীতি প্রদর্শন করে কোনো উদ্দেশ্য সাধন বা কার্যউদ্ধারের চেষ্টা করা এটা যেমন দুষ্কৃতিকারীরা বা সমাজ বিরোধীরা করতে পারে, তেমনি সমগ্র রাষ্ট্রে তথা সমগ্র বিশ্বের পটভূমিতে এমন চেষ্টা হতে পারে।
সন্ত্রাসের দুটি বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ-
১. কোনো লক্ষ্য অর্জনে সহিংস কর্মপন্থা গ্রহণ।
২. সহিংসতার লক্ষ্যে নিরীহ মানুষের জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতিসাধন অথবা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে আক্রমণের লক্ষ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
কোনো কোনো রাজনৈতিক দল, সংগঠন বা গোষ্ঠী বিশেষ রাজনীতির নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালায়। কখনো কখনো রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালিত হতে দেখা যায়। শ্রেণি সংগ্রামের নামেও কোনো কোনো দল বা সংগঠন সহিংস তৎপরতায় লিপ্ত হয়। এসবই রাজনৈতিক সন্ত্রাস।
কোনো কোনো গোষ্ঠী তাদের আদর্শ প্রতিষ্ঠার জন্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বেজে নিতে পারে। একসময় শ্রেণিশত্রু খতমের নামে আমাদের দেশে শুনেক রাজনৈতিক হত্যা হয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধমকে ব্যবহার করে ধর্মীয় জঙ্গি গোষ্ঠীগুলো সন্ত্রাসী পন্থায় সাধারণ মানুষকে হত্যা করে থাকে।
অনেক সময় রাষ্ট্র নানা অজুহাতে সন্ত্রাসী পন্থা অবলম্বন করে প্রাতষ্ঠান বা জনগোষ্ঠীর ওপর দমন-পীড়ন চালায়। এরূপ অবস্থা হলো রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস, যেমন ইসরাইল রাষ্ট্র প্যালেস্টাইনের জনগণের ওপর বিভিন্ন সময় এ ধরনের তৎপরতা চালিয়ে আসছে।
কোনো সমাজে সম্পদের অসম বণ্টন থাকলে একশ্রেণির লোক অধিক ধনী হয় এবং অন্যশ্রেণি অধিকতর দরিদ্র হয়। এ অবস্থায় বঞ্চিতদের মনে ক্ষোভের সষ্টি হয়। এছাড়া বেকার যুব সমাজ হতাশার কারণে অনৈতিক সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়ে।
সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে যেমন অভ্যন্তরীণ ঘটনাপ্রবাহ কাজ করে। তেমনি এর পিছনে বাইরের প্রভাব থাকতে পারে। অবৈধ অস্ত্রের যোগান, অবৈধ অস্ত্রের সহজলভ্যতাও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পিছনে কাজ করে।
বাংলাদেশে সন্ত্রাস একটি সামাজিক ব্যাধি। এটি দমনের লক্ষ্যে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যথাযথভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে। রাজনৈতিক বা অন্য যেকোনো উদ্দেশ্যে সংঘটিত সন্ত্রাস দমনের জন্য চরম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কমে আসবে।
নাগরিক হিসেবে আমরা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সচেতন থাকব। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের খারাপ দিকগুলোও আমরা জানব। সন্ত্রাসী তৎপরতা রোধে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করব। সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ মেনে চলব।
বেইজিং ঘোষণা অনুযায়ী নারী নির্যাতন বলতে এমন কোনো কাজ বা আচরণকে বোঝায়, যা নারীর বিরুদ্ধে সংঘটিত হয় এবং যা নারীর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি সাধন করে। এছাড়া কোনো ক্ষতি সাধনের হুমকি, জোরপূর্বক অথবা খামখেয়ালীভাবে সমাজ অথবা ব্যক্তিগত জীবনে নারীর স্বাধীনতা হরণ নারী নির্যাতনের অন্তর্ভুক্ত।
বর্তমানে সারাবিশ্বে নারীর ক্ষমতায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। পরিবার, সমাজ ও জাতীয় ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ, মতামত প্রকাশ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাই নারীর ক্ষমতায়ন। ১৯৫২ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা নারীর রাজনৈতিক অধিকারের কথা ঘোষণা করে। তাই আমরা বলতে পারি, অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক; পারিবারিক ও সাংস্কৃতিক সকল ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের অধিকারের সমতা, অংশগ্রহণ, মতামত প্রকাশ ও মূল্যায়নকেই নারীর ক্ষমতায়ন বলে।
বাংলাদেশের নারী নির্যাতনের অন্যতম প্রধান কারণ অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অভাব। অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরশীলতা নারীর অবস্থানকে সমাজে ও পরিবারে শক্ত করে। কিন্তু আমাদের দেশের অধিকাংশ নারী এখনও স্বামীর আয়ের ওপর নির্ভরশীল। ফলে নারীর আত্মশক্তি লোপ পায় এবং নির্যাতনের শিকার হয়।
নারী নির্যাতন রোধের অন্যতম উপায় হলো 'আইনের কঠোর প্রয়োগ'। নারী নির্যাতন রোধে বিদ্যমান আইনের কঠোর বাস্তবায়ন দরকার। আইনের মধ্যে যদি কোনো দুর্বলতা থেকে থাকে তবে তা সংশোধন করে আইনকে আগে শক্তিশালী করা সরকারের দায়িত্ব। পাশাপাশি নারী নির্যাতনকারীদের যথাযথভাবে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।
অনেকক্ষেত্রে নারীরা আদালতে নির্যাতনের সঠিক বিচার পায় না। বিশেষ করে দরিদ্র নারীরা অর্থের অভাবে আদালতে যেতে পারে না। তাই এ ধরনের নারীদের জন্য রাষ্ট্র এবং বেসরকারী সংস্থা কর্তৃক আইনি সহায়তা দিতে এগিয়ে আসতে হবে।
একটি দেশের সম্পদ ও কর্মসংস্থানের তুলনায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেশি হলে তাই ওই দেশের জন্য একটি সমস্যা বা জনসংখ্যা সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হয়।
একটি দেশের সম্পদ ও কর্মসংস্থানের তুলনায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেশি হলে তখন জনসংখ্যা ঐ দেশের জন্য সমস্যায় পরিণত হয়।
জনসংখ্যার দিক থেকে পৃথিবীতে বাংলাদেশের অবস্থান ৮ম।
এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে জনসংখ্যার দিক থেকে রাংলাদেশ পঞ্চম স্থানে।
বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১১০০ লোক বাস করে।
ভারতে প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩৬২ জন লোক বাস করে।
বাংলাদেশে বর্তমানে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৩৭%।
সীমিত সম্পদের কারণে দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা পূরণ করা বাংলাদেশে সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
অধিক জনসংখ্যার কারণে শহরে নাগরিক জীবনযাপন কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
গ্রামে অধিক কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় মানুষ শহরে পাড়ি জমাচ্ছে।
আমাদের দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বনভূমি কেটে এবং আবাদি জমিতে বসতি গড়ে উঠছে।
অতিরিক্ত জনসংখ্যার ফলে খাল-বিল ভরাট হয়ে যাচ্ছে।
সামাজিক মর্যাদা এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনের জন্য বিয়ে বিষয়টিকে অপরিহার্য বলে মনে করা হয়।
জনসংখ্যার দিক থেকে এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম।
কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেলে জনগণের আয় ও- জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধি পাবে।
'ছেলে হোক, মেয়ে হোক দুটি সন্তানই যথেষ্ট' এই শ্লোগান কার্যকর করতে হবে।
সরকার নতুন জনসংখ্যানীতি গ্রহণ করে ২০০৪ সালে।
অক্ষরজ্ঞানহীনতাকে বা লেখাপড়া না জানাকে নিরক্ষরতা বলে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় 'সম্পূর্ণ সাক্ষরতা আন্দোলন' শুরু করে।
বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ১৯৯৭সালে সম্পূর্ণ সাক্ষরতা আন্দোলন শুরু করে।
বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ১৯৯৭ সালে যে আন্দোলন শুরু করে তাই হচ্ছে 'সম্পূর্ণ সাক্ষরতা আন্দোলন'।
দরিদ্র শ্রেণির নিরক্ষরতার পিছনে অন্যতম কারণ অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা।
কর্মমুখী শিক্ষা হলো সেই শিক্ষা যা শিক্ষার্থীকে বাস্তব জীবনের সাথে সংগতি রেখে প্রত্যক্ষ জীবিকা অর্জনে সহায়তা করে।
খাদ্যের প্রাপ্যতা, খাদ্য ক্রয় করার ক্ষমতা এবং খাদ্যের পুষ্টি নিশ্চিত করাই হলো খাদ্য নিরাপত্তা।
আমাদের দেশে শ্রমিকের মজুরি কম।
জনগণের মাথাপিছু আয় কমে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্য কেনা সম্ভব হয় না।
জনগণের ক্রয়ক্ষমতার স্বল্পতার কারণে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা দেখা দেয়।
খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনে একটি সঠিক খাদ্যনীতির দরকার হয়।
VGD-এর পূর্ণরূপ হলো Vulnerable Group Development.
FFE এর পূর্ণরূপ হলো Food For Education.
VOF-এর পূর্ণরূপ হলো- Vulnerable Group Feeding.
২০০০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে ৪৪ শতাংশ মানুষ চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করত।
একটি দেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য শতকরা ২৫ ভাগ বনভূমি থাকা প্রয়োজন।
পরিবেশ দূষণের ফলে পরিবেশের যেসব উপাদান দূষিত হচ্ছে তা হলো মাটি, পানি, বায়ু ইত্যাদি।
দূষণের কারণে ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদী জৈবিক দৃষ্টিকোণ থেকে মৃত।
দূষণের কারণে ঢাকার শীতলক্ষ্যা, তুরাগ ও বালু নদ জৈবিক দৃষ্টিকোণ থেকে-মৃত নদীতে পরিণত হওয়ার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
বাংলাদেশে মোট আয়তনের ১৭ শতাংশ বনভূমি রয়েছে।
বলপ্রয়োগ বা বলপ্রয়োগের ভীতি প্রদর্শন করে কোনো উদ্দেশ্য সাধন বা কার্যোদ্ধারের চেষ্টা করাই সন্ত্রাস।
বাংলাদেশে সন্ত্রাস একটি সামাজিক ব্যাধি।
বাংলাদেশে প্রায় ৮০০ জন মানুষের জন্য একজন পুলিশ সদস্য রয়েছে।
সন্ত্রাস দমনের মহৌষধ হচ্ছে জনগণের সচেতন প্রতিরোধ।
অনেক সময় রাষ্ট্র নানা অজুহাতে সন্ত্রাসী পন্থা অবলম্বন করে প্রতিষ্ঠান বা জনগোষ্ঠীর ওপর দমনপীড়ন চালায়। এরূপ অবস্থাই হলো রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস।
সন্ত্রাস দুটি কারণে সংঘটিত হয়।
বেকারত্ব আমাদের দেশে একটি সামাজিক ব্যাধি হিসেবে আখ্যায়িত হয়।
যেসব কাজ বা আচরণ নারীর বিরুদ্ধে সংঘটিত হয় এবং যা নারীর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি সাধন করে সেসবকে নারী নির্যাতন বলে।
দরিদ্র পরিবারে নারীরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত।
নারী নির্যাতনরোধে যে পদক্ষেপগুলো গুরুত্বপূর্ণ তা হলো আইনের কঠোর প্রয়োগ, সতেনতা বৃদ্ধি এবং আইনি সহায়তা।
জনসংখ্যা সমস্যা বাংলাদেশ ও বিশ্বের একটি অন্যতম প্রধান সমস্যা। মানুষের জন্মহার মৃত্যুহারকে ছাড়িয়ে গেলে এবং এ জন্মহার দেশের সম্পদের বৃদ্ধিকে ছাড়িয়ে গেলে জনসংখ্যা একটি দেশের সমস্যায় পরিণত হয়। কারণ বাড়তি জনসংখ্যার চাহিদা দেশের সীমিত সম্পদ দিয়ে পূরণ করা সম্ভব হয় না। তাই ভবিষ্যৎ বংশধরদের স্বার্থের কথা বিবেচনা করে বিশ্ব জনসংখ্যার বর্তমান বৃদ্ধির হার কমানোর প্রয়োজন রয়েছে।
জনসংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ নিরক্ষরতা। শিক্ষার অভাব ও অজ্ঞতার কারণে ছেলেমেয়েদের খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসস্থান সম্বন্ধে চিন্তাভাবনা না করেই আমাদের দেশের অনেক মানুষ অধিক সন্তান জন্ম দিয়ে থাকে। ফলে জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
জনগণের জীবনের মানোন্নয়নের জন্য জনসংখ্যা পুনর্বণ্টন কুরা প্রয়োজন। বাংলাদেশের সর্বত্র জনসংখ্যার অবস্থান একই রকম নয়। যেখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব খুব বেশি সেখান থেকে অল্প ঘনত্ব এলাকায় জনসংখ্যা সরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে জনসংখ্যা পুনর্বণ্টন করা যায়। এতে জনগণের কর্মসংস্থানও হবে এবং জীবনযাত্রার মানও বাড়বে। অর্থাৎ জনসংখ্যার পুনর্বণ্টন জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক।
বাংলাদেশের সর্বত্র জনসংখ্যার অবস্থান একই রকম নয়। যেখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব খুব বেশি সেখান থেকে অল্প ঘনত্ব এলাকায় জনসংখ্যা সরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে জনসংখ্যা পুনর্বণ্টন করা যায়। এতে জনগণের কর্মসংস্থানও হবে এবং জীবনযাত্রার মানও বাড়বে। অর্থাৎ জনসংখ্যার পুনর্বণ্টন জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক।
স্বামী-স্ত্রী মিলে আলোচনা করে পরিকল্পিতভাবে পরিবার গঠনে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাই পরিবার পরিকল্পনা। পরিবার পরিকল্পনার মাধ্যমে একটি দম্পতি মোট কয়টি সন্তান নেবেন, কত দিনের বিরতি নেবেন ইত্যাদি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন। পরিবার পরিকল্পনার ফলে স্বামী ও স্ত্রীর শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক চাপ কমে যায় এবং সংসারে সুখ-শান্তি বজায় থাকে। পরিবার পরিকল্পনার এ উপযোগিতা জন্মনিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
নিরক্ষরতা নিজে একটি সমস্যার পাশাপাশি আরও অনেক
সমস্যা সৃষ্টি করে। এজন্য নিরক্ষরতা বাংলাদেশের অন্যতম সামাজিক সমস্যা। নিরক্ষরতা বলতে আমরা বুঝি, যারা লিখতে বা পড়তে জানে না। নিরক্ষরতা একটি অন্যতম নাগরিক সমস্যা। লেখাপড়া না জানার কারণে নিরক্ষর ব্যক্তি রাষ্ট্র ও সমাজের উপকারে আসে না। ফলে সে সমাজের বোঝা হিসেবে পরিগণিত হয়। আমাদের দেশের অধিকাংশ লোকই নিরক্ষর। অর্থাৎ অধিকাংশ লোকই দেশের বা সমাজের কোনো কাজে আসে না। তাই আমি বলতে পারি, নিরক্ষরতা একটি অভিশাপ। একে মোকাবিলা করা সকলের দায়িত্ব।
নিরক্ষরতা একটি অভিশাপ। নিরক্ষর ব্যক্তি সমাজ ও রাষ্ট্রের কোনো উপকারে আসে না। লেখাপড়া না জানার কারণে নিরক্ষর যক্তি সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছে বোঝা হিসেবে পরিগণিত হয়। তারা দেশের উন্নয়নে কোনো অবদান রাখতে পারে না এবং তাদের কারণে দেশের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা সফল হতে পারে না। এ কারণে নিরক্ষরতা অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্তরায় হিসেবে পরিগণিত হয়।
নিরক্ষরতা দূরীকরণে সরকারি একটি কর্মসূচির নাম হলো 'সম্পূর্ণ সাক্ষরতা আন্দোলন'। আমাদের দেশে শহর ও গ্রামাঞ্চলে অনেক লোক নিরক্ষর আছে। একারণে সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ১৯৯৭ সালে 'সম্পূর্ণ সাক্ষরতা আন্দোলন' শুরু করে। এর মাধ্যমে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০১৪ সালের মধ্যে দেশ থেকে নিরক্ষরতা দূর করায় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
যে ব্যাংক নিরক্ষরতা দূরীকরণের লক্ষ্যে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষা ঋণ প্রদান করে তাই শিক্ষা ব্যাংক। শিক্ষা ব্যাংকের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধ হবে। এক্ষেত্রে শিক্ষা ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ, যা সরকার আন্তরিক হলে সম্ভব।
কর্মমুখী শিক্ষা হচ্ছে একজন ব্যক্তিকে তার আত্মপ্রতিষ্ঠায় সহায়তা করার লক্ষ্যে বিশেষ কোনো কর্মে প্রশিক্ষিত করে তোলা। অর্থাৎ যে শিক্ষাব্যবস্থার মানুষ কোনো একটি বিষয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা লাভ করে এবং শিক্ষা শেষে জীবিকার্জনের যোগ্যতা অর্জন করে, তাকেই কর্মমুখী শিক্ষা বলে। কর্মমুখী শিক্ষাকে কারিগরি, বা বৃত্তিমূলক শিক্ষাও বলা হয়ে থাকে। কর্মমুখী শিক্ষা আত্মকর্মসংস্থানের নানা সুযোগ সৃষ্টি করে।
কর্মমুখী শিক্ষা এমন একটি শিক্ষা পদ্ধতি যা ছাত্রদের বাস্তব জীবনে কাজে লাগানোর জন্য প্রস্তুত করে। এ ধরনের শিক্ষা তাদের কর্মজীবনে সফল হতে সাহায্য করে, কারণ এটি তাদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করে। কর্মমুখী শিক্ষা ছাত্রদের তাদের পছন্দের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ হতে এবং তাদের ক্যারিয়ান গঠনে সহায়তা করে। এছাড়াও, কর্মমুখী শিক্ষা ছাত্রদের পরবর্তীতে কর্মক্ষেত্রে সহযোগিতা ও যোগাযোগের গুরুত্ব বুঝতে শেখায়। কর্মমুখী শিক্ষা ছাত্রদের নিজেদের ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসী ও স্বাধীন হতে উৎসাহিত করে, যা তাদের কর্মজীবনে সফল হতে সাহায্য করে।
খাদ্য নিরাপত্তা বলতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে পুষ্টিকর খাদ্যের প্রাপ্যতাকে বোঝায়। খাদ্য নিরাপত্তা বলতে কেবল খাদ্য প্রাপ্তিকে বোঝায় না। খাদ্যের প্রাপ্যতা, খাদ্য ক্রয় করার ক্ষমতা এবং খাদ্যের পুষ্টি এ তিনটি বিষয়কেই বোঝানো হয়। অবশ্য বাংলাদেশের খাদ্যে যেহেতু খাদ্যশস্যের বিশেষ করে চালের প্রাধান্য রয়েছে, সেহেতু চালের সরবরাহ এবং মূল্যের স্থিতিশীলতাই খাদ্য নিরাপত্তা অর্জনের মূল বিষয়।
দেশে শাকসবজি, ফল, ডাল, তৈলবীজ, মাছ, মাংস, ডিম, দুধ ইত্যাদির উৎপাদন কম। অন্যদিকে জনগণের স্বল্প আয়, তাদের শস্যজাতীয় খাবারের ওপর নির্ভরশীলতা ইত্যাদি এ স্বল্প উৎপাদনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আর এ প্রভাবই খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মূল কারণ।
আমাদের দেশের জনগণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশের মধ্যে পুষ্টি জ্ঞানের অভাব রয়েছে। এই জ্ঞানের অভাবের কারণে তারা সঠিক স্বাস্থ্য উপযোগী খাদ্য বেছে নিতে পারে না। আবার আমাদের দেশে খাদ্য সরবরাহ ভোগের ক্ষেত্রে খাদ্যের পূর্ণ ও নিরাপত্তার অভাব রয়েছে। ফলে ভেজাল খাদ্য বাজারে প্রবেশ করছে। যা মানব, স্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। আর এভাবেই ব্যক্তিগতভাবে আমরা প্রত্যেকেই খাদ্যভ্যাস সম্পর্কে সচেতন হয়ে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারি।
পরিবেশকে ঘিরেই মানুষ বেড়ে উঠেছে। আবার মানুষের কারণে কোনো না কোনোভাবে প্রতিনিয়তই পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। শিল্প উন্নয়নে গাছপালা কেটে, বন উজাড় করে মানুষ শিল্প-কলকারখানা গড়ে তুলেছে। এর ফলে পরিবেশের বিভিন্ন উপাদান যেমন মাটি, বায়ু, পানি দূষিত হচ্ছে। শিল্প-কলকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য নর্দমার পানিতে ফেলায় তা নদীতে মিশে পানি দূষিত করছে। এছাড়া জমিতে সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলেও পানি দূষিত হচ্ছে। পরিবেশ বিপর্যয়ের জন্য আরেক দৃষ্টান্ত হলো বনাঞ্চল হ্রাস ও এর অবক্ষয়। যেমন- ইটের ভাটার জ্বালানি হিসেবে, বাসাবাড়ির রন্ধন কাজে জ্বালানি হিসেবে এবং আসবাবপত্র তৈরি ইত্যাদি কাজে ব্যাপকহারে কাঠের ব্যবহার হচ্ছে। এছাড়া পাহাড়ি বনাঞ্চল ধ্বংস করে জুম চাষের মাধ্যমেও প্রাকৃতিক পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।
অপরাধী চক্রের দ্বারা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালিত হয়। এ অপরাধী চক্র সংঘটিতভাবে সন্ত্রাস চালায়। এদের এক শীর্ষ নেতা থাকে যিনি লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে তার নিয়োজিত লোক দ্বারা মানুষ খুন, চাঁদাবাজি ইত্যাদি কর্মকান্ডের মাধ্যমে মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
অনেক সময় রাষ্ট্র নানা অজুহাতে সন্ত্রাসী পন্থা অবলম্বন করে প্রতিষ্ঠান বা জনগোষ্ঠীর ওপর দমনপীড়ন চালায়। এরূপ অবস্থা হলো রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। যেমন- 'ইসরাইল রাষ্ট্র প্যালেস্টাইনের জনগণের ওপর বিভিন্ন সময় এ ধরনের তৎপরতা চালিয়ে আসছে। রাষ্ট্রের অভ্যন্তরস্থ সংখ্যালঘু বা ভিন্ন জনগোষ্ঠীর ওপরও এমন আক্রমণ পরিচালিত হতে দেখা যায়। আর এ ধরনের পরিস্থিতিকেই রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস বলে।
সন্ত্রাস বৃদ্ধির কারণসমূহের মধ্যে অর্থনৈতিক বৈষম্য একটি অন্যতম 'সাধারণ কারণ'। কোনো সমাজে সম্পদের অসম বণ্টনের ফলে চরম শ্রেণিবৈষম্য সৃষ্টি হয় যা বঞ্চিতদের মনে ক্ষোভের সৃষ্টি করে। ফলে নিম্ন আয়ের পরিবারে ক্ষুধা নিবৃত্তি, দারিদ্র্য ও বেকারত্ব কাটিয়ে ওঠার জন্য কেউ কেউ অল্প সময়ে বেশি অর্থ উপার্জনের জন্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়। এভাবে অর্থনৈতিক বৈষম্য অনৈতিক সন্ত্রাসী কার্যক্রমের প্রত্যক্ষ ও সাধারণ কারণ হিসেবে প্রতীয়মান হয়।
অপরাধীকে খুঁজে বের করে শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা করা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের দায়িত্ব। কিন্তু প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং রাজনৈতিক চাপের কারণে প্রশাসন অনেক সময় নীরব ভূমিকা পালন করে। এছাড়া আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কাঠামোগত দুর্বলতা রয়েছে। এ কারণে অনেক দুর্বল সন্ত্রাসীরাও শক্তি প্রদর্শনে সক্ষম হয়। আর এভাবে সুশাসনের অভাবে সন্ত্রাস বৃদ্ধি পায়।
বাংলাদেশে সন্ত্রাস একটি সামাজিক ব্যাধি। একে যেমন প্রতিরোধ করা যায়, তেমনি নিরাময়ও করা যেতে পারে। সন্ত্রাস প্রতিরোধের জন্য পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক অস্ত্রে ও যন্ত্রপাতিতে সজ্জিত করতে হবে এবং যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তাছাড়া আমাদের দেশে পুলিশ ও জনসংখ্যার অনুপাতে ব্যাপক ব্যবধান বিদ্যমান। এ অবস্থার নিরসন হওয়া বাঞ্ছনীয়। পুলিশের সংখ্যা, পুলিশ ফাঁড়ি, থানার সংখ্যা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
নারী নির্যাতন বলতে এমন যেকোনো কাজ বা আচরণকে বোঝায় যা নারীর বিরুদ্ধে সংঘটিত করা হয় এবং নারীর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি করে। তাছাড়া কোনো ক্ষতি সাধনের হুমকি অথবা ব্যক্তিগত জীবনে নারীর স্বাধীনতা হরণ করাও নারী নির্যাতনের অন্তর্ভুক্ত।
নারী নির্যাতন বলতে এমন যেকোনো কাজ বা আচরণকে বোঝায়, যা নারীর বিরুদ্ধে সংঘটিত হয় এবং যা নারীর শারীরিক ও মানসিক ক্ষতি সাধন করে। বাংলাদেশে নারী নির্যাতনের প্রধান কারণগুলো হলো- (১) অর্থনৈতিক স্বাধীনতার অভাব ও (২) সচেতনতার অভাব। বাংলাদেশের অধিকাংশ নারী এখনো স্বামী বা পিতার আয়ের ওপর নির্ভরশীল এবং দরিদ্র পরিবারের কারণে শিক্ষা অর্জন করতে না পারার কারণে, সচেতনতার অভাবে বাংলাদেশের নারীরা নির্যাতনের শিকার হয়।
অর্থনৈতিকভাবে একজন স্বনির্ভর নারী সমাজে ও পরিবারে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কারও মুখাপেক্ষী থাকে না। কিন্তু যে নারীরা স্বনির্ভর নয় তারা সংসারের কেনাকাটা, খরচ করা বা শখ পূরণের জন্য পরিবারের বাবা, ভাই ও স্বামীর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে। যার ফলশ্রুতিতে অনেক নারী নির্যাতনের শিকার হয়। এ থেকে বোঝা যায় অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার অভাবই নারী নির্যাতনের কারণ।
Related Question
View Allবর্তমানে বাংলাদেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.৩৭।
খাদ্যনিরাপত্তা বলতে খাদ্যের প্রাপ্যতা, খাদ্য ক্রয় করার ক্ষমতা এবং খাদ্যের পুষ্টি এই তিনটি বিষয়কে বোঝানো হয়।
কোনো রাষ্ট্রে যখন পর্যাপ্ত পরিমাণ খাদ্যের মজুদ থাকে এবং জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ করা হয় তখন সেই রাষ্ট্রে খাদ্যনিরাপত্তা আছে বলে মনে করা হয়। খাদ্যনিরাপত্তার ফলে নাগরিকদের মধ্যে খাদ্য সংকটের আশঙ্কা থাকে না। খাদ্য সংকট মোকাবিলার জন্য সঠিক খাদ্যনীতি বা খাদ্যনিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজন হয়।
সুমির জীবনে প্রথম সমস্যাটি যৌতুক প্রথাকে চিহ্নিত করে।
নারী নির্যাতনের অন্যতম ধরন হচ্ছে যৌতুক। পাত্র বা পাত্রীপক্ষ কর্তৃক পাত্রীকে বা পাত্রকে প্রদেয় অর্থ-সম্পত্তি বা অন্যান্য দ্রব্যসামগ্রীকে যৌতুক বলা হয়। যৌতুক উভয়পক্ষকে প্রদানের রীতি থাকলেও আমাদের সমাজে যৌতুক প্রধানত পাত্রীপক্ষ, পাত্রপক্ষকে বা পাত্রকে প্রদান করে। যৌতুক একটি সামাজিক কু-প্রথা। যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে বিয়ের পর পারিবারিক কলহ, স্ত্রী নির্যাতন ও হত্যা, বিবাহ-বিচ্ছেদ ইত্যাদি ঘটে। নারীদের আত্মহত্যার পেছনে যৌতুকপ্রথা অনেকাংশে দায়ী।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সুমির বিয়ের সময় তার স্বামীকে যে টাকা-পয়সা দেওয়ার কথা ছিল তা দিতে না পারার কারণে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার সাথে খারাপ আচরণ করতে থাকে। যা যৌতুক প্রথার একটি কুফল।
সুমির মতো নারীদের যৌতুক প্রথার সমস্যা থেকে রক্ষা করতে উদ্দীপকে বর্ণিত কাজটি অর্থাৎ অর্থনৈতিক কাজ যথেষ্ট প্রভাব ফেলতে পারে।
আমাদের দেশে অধিকাংশ নারী পরিবারের পুরুষ সদস্যের আয়ের ওপর নির্ভরশীল। ফলে সংসারের যেকোনো বিষয়ে তাদেরকে বাবা, ভাই ও স্বামীর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে হয়। এই নির্ভরশীলতার কারণে সংসারের কোনো সিদ্ধান্তের ব্যাপারে তারা মতামত দিতে পারে না বা তাদের মতামত গ্রহণ করা হয় না। অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরশীলতা নারীর অবস্থানকে সমাজে ও পরিবারে মর্যাদাসম্পন্ন করে। একজন উপার্জনক্ষম নারী শুধু নিজের ওপর নির্ভরশীল নয়, সংসারের বিভিন্ন বিষয়েও তার সিদ্ধান্ত বা মতামত গ্রহণ করা হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, সুমি তার স্বামীর ওপর অর্থনৈতিকভাবে নির্ভরশীল ছিল বিধায় স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির সবাই তার সাথে খারাপ আচরণ করত। যখন সে সেলাই কাজ করে পরিবারের অর্থনীতিতে অবদান রাখা শুরু করে, তখন পরিবারের সবাই তার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে।
আমাদের দেশে যেসব নারী অর্থনৈতিকভাবে স্বামীর ওপর নির্ভরশীল, তারাই নির্যাতনের শিকার বেশি হয়। তবে আত্মনির্ভরশীল নারীরা নির্যাতনের শিকার কম হয়। কেননা তারা নিজেদের অধিকার সম্পর্কেও সচেতন থাকে। সুতরাং বলা যায়, অর্থনৈতিক আত্মনির্ভরশীলতা নারী নির্যাতন রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশের নতুন জনসংখ্যানীতি গৃহীত হয় ২০০৪ সালে।
সন্ত্রাসের অন্যতম ধরন হলো রাজনৈতিক সন্ত্রাস।
রাজনীতির নামে রাজনৈতিক দল, সংগঠন বা গোষ্ঠীবিশেষ যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে তাকে রাজনৈতিক সন্ত্রাস বলে। সন্ত্রাসীরা, শ্রেণি সংগ্রামের নামে আবার কখনো কখনো রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!