পৃথিবীতে প্রচলিত চারটি প্রধান ধর্মের নাম হলো- হিন্দুধর্ম, ইসলাম ধর্ম, বৌদ্ধধর্ম ও. খ্রিষ্টধর্ম।
যে আমাকে যেভাবে উপাসনা করে আমি তাকে সেভাবেই সন্তুষ্ট করি একথাটি শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছিলেন
ধর্মীয় সাম্য রক্ষা করে চললে সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে সকলের মধ্যে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত হবে।
মানুষ মানুষকে অপরের ভালোবাসার মধ্য দিয়ে একে অপরকে
ভাই-এর দৃষ্টিতে দেখবে।
হিন্দুরা সৃষ্টিকর্তাকে বলে ঈশ্বর, মুসলমানেরা বলে আল্লাহ এবং খ্রিষ্টানেরা বলে গড।
পৃথিবীতে অনেক ধর্ম প্রচলিত রয়েছে। বিভিন্ন ধর্মে মত ও পথের বা উপাসনা পদ্ধতির পার্থক্য আছে। কিন্তু সকল ধর্মের মূলকথা এক। তাহলো ঈশ্বর আছেন। ঈশ্বরের কৃপা লাভ করা এবং জীবের মঙ্গল করা। নিজের মুক্তি ও জীবের মঙ্গল করা সকল ধর্মেরই সাধারণ উদ্দেশ্য। সুতরাং কোনো ধর্মকেই অবহেলা করা উচিত নয়। ঈশ্বর নিজেও তা করেন না।
যে যথা মাং প্রপদ্যন্তে তাংস্তথৈব ভজাম্যহম।
মম বানুবর্তন্তে মনুষ্যাঃ পার্থ, সর্বশঃ ।
ব্যাখ্যা: আমাকে যে যেভাবে উপাসনা করে, আমি সেভাবেই তাকে সন্তুষ্ট করি। মানুষ সকল প্রকারে আমার পথই অনুসরণ করে।
আমাদের মনে রাখতে হবে, সকল মানুষ একই ঈশ্বরের সৃষ্টি। কে কোন ধর্মের; কোন জাতির বা কোন বর্ণের আমরা তা বিচার করব না। জার্তি-ধর্ম-বর্ণ ও নারীপুরুষ নির্বিশেষে আমরা সকলের প্রতি সহমর্মী হব। আপদে-বিপদে, আনন্দে-উৎসবে সকলে সকলের পাশে দাঁড়াব। অন্য ধর্মাবলম্বীদের বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করব। আমরা জোর দিয়ে বলব, ধর্মের আচার-আচরণে পার্থক্য থাকলেও সকল ধর্মের মূল লক্ষ্য এক। মানুষে মানুষে কোনো ভেদা-ভেদ নেই।
সমাজ ও ব্যক্তিজীবনে ধর্মীয় সাম্যের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। তাই বলা যায়, ধর্মীয় সাম্য রক্ষা করে চললে পৃথিবীটা খুব সুন্দর হবে। মানুষে মানুষে ভ্রাতৃত্ববোধ জেগে উঠবে। সবাই সবাইকে ভালোবাসবে। কেউ কাউকে হিংসা করবে না। ঈশ্বরের একত্ব ও ধর্মীয় সাম্যে গভীর বিশ্বাস রেখে আমরা বলব-
"সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই"
এ পৃথিবীতে বিভিন্ন ধর্মের লোক বাস করে। মানুষের ধর্মের
পার্থক্য থাকলেও সকলের সৃষ্টিকর্তা এক। একই সৃষ্টিকর্তাকে বিভিন্ন ধর্মের লোক বিভিন্ন নামে ও বিভিন্নভাবে ডাকেন। যেমন- হিন্দুরা সৃষ্টিকর্তাকে বলে ঈশ্বর বা ভগবান। খ্রিষ্টানরা বলে গড। মুসলমানরা বলে আল্লাহ। বৌদ্ধরা বলে ঈশ্বর। সেরকম ধর্মানুযায়ী সাধনারও পথ অনেক। বিভিন্ন ধর্মের লোকেরা বিভিন্নভাবে সাধনা করে। বিভিন্নভাবে সাধনা করলেও মূলত সবাই একই ঈশ্বরের সাধনা করে। কারণ ঈশ্বর এক ও অদ্বিতীয়।
সবাই মানুষ হলেও মানুষে মানুষে ভিন্নতা রয়েছে। মানুষে মানুষেপার্থক্যগুলো হলো-
১. মুসলমানরা সৃষ্টিকর্তাকে বলেন আল্লাহ, খ্রিষ্টানেরা বলেন গড, হিন্দুরা বলেন ঈশ্বর।
২. তাদের সকলের ধর্মমত ও উপাসনা পদ্ধতি ভিন্ন।
৩. তাদের সাধনার পথ একটি নয় বহু।
৪. ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মগ্রন্থ আলাদা।
মানুষে মানুষে কোনো পার্থক্য করা উচিত নয়। সকলকে-সকল মত ও পথের মানুষকে' সমতার দৃষ্টিতে দেখা উচিত। একেই বলা হয় ধর্মীয় সাম্য। সমাজে যেভাবে ধর্মীয় সাম্য বজায় রাখা যায় তা হলো-
১. সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা পোষণ করতে হবে।
২. সকল মানুষের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করতে হবে।
৩. আপদে-বিপদে, আনন্দ-উৎসবে সকলের সঙ্গে সম্প্রীতিপূর্ণ আচরণ করতে হবে।
৪. সকল ধর্মের মানুষকে আপন বলে ভাবতে হবে।
Related Question
View Allসকল মানুষের মধ্যে রয়েছে একই মনুষ্যত্ব1
মুসলমান ধর্মাবলম্বীরা উপাসনালয়কে বলেন মসজিদ।
ধর্মীয় সাম্য আমাদের বিশ্বাস জাগ্রত করে।
মানুষে-মানুষে কোনো পার্থক্য করা উচিত নয়
'সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই।'
সকল মানুষকে সমতার দৃষ্টিতে দেখাই ধর্মীয় সাম্য।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!